যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে যেসব বাংলাদেশি অবৈধভাবে বাস করছেন, তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক হয়। বৈঠক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে মন্ত্রী একথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বৈধ কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশি, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাদের ফিরিরে আনার ব্যাপারেও কথা বলেছি। প্রসেসটা যাতে সহজ হয় এবং সম্মানের সঙ্গে তারা যাতে আসতে পারেন, সেই নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমেরিকান রাষ্ট্রদূত এই বিষয়ে আগে কথা বলেছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পল কাপুর। আগামী দিনগুলোতে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার ও বিস্তৃত হবে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আরও সাতজন আহত হয়েছেন, যা আমি তার কাছে উল্লেখ করেছি। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে এই যুদ্ধের যে অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া হবে, তা আমাদের মতো দেশের পক্ষে বহন করা দুঃসাধ্য।

তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে এই সংঘাত ও সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছি। তবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে এই মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, সেটি আমার দফতরের কাজও নয়। পাল্টা শুল্ক নিয়ে তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন যে, বাংলাদেশ সরকার এর বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে। আমি আশাবাদী, এই শুল্ক ১৯ শতাংশ থেকে কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।




এখন সরকারের কাছে পৌঁছানো যায়, আগে সম্ভব ছিল না: বিজিএমইএ সভাপতি

নতুন সরকারের প্রথম ১৫ দিনে ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বুধবার (৪ মার্চ) সিপিডির আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “দেড় বছর ক্ষমতায় থাকা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দেশের কোনও ব্যবসায়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন না। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ১৫ দিন হলেও আমরা এখন সরকারের সঙ্গে সহজে পৌঁছাতে পারছি, যা আগে সম্ভব ছিল না। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সমিতির অভিজ্ঞতা দু’টোই পজিটিভ।”

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ, বিটিএমএ, ডিসিসিআই, বেসিস ও বিডিজবসের বিশিষ্ট নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

বিজিএমইএ সভাপতি সরকারের নির্বাচনি মেনিফেস্টোর ‘ডি-রেগুলেশন’ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্ভাব্য মনে করেন। তিনি বলেন, “নীতিমালা প্রণয়নে স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পলিসি যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মতামত নিয়ে তৈরি করা হয়, তবে তা টেকসই হবে। একই সঙ্গে ব্যুরোক্রেসি এবং এন্টারপ্রেনারদের মাইন্ডসেটও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।”

এনবিআরের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “ব্যবসা সহজ হলে খরচ কমে। আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত, বিশেষত এনবিআরের বিষয়গুলো নিয়ে।”

বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্স প্রসঙ্গে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘‘অনেক উদ্যোক্তা লাইসেন্সের খরচ বহন করতে না পারায় তা গ্রহণ করে না, অথচ নিয়ম অনুযায়ী নন-বন্ডেড ফ্যাক্টরি বন্ডেড ফ্যাক্টরি থেকে কাঁচামাল কিনতে পারবে না।’’

পোশাক খাতে দেশীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, “নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করলে তা আন্তর্জাতিকভাবে ভালো বিক্রি হবে এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। ব্র্যান্ডের সাফল্য কান্ট্রি রেটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের কান্ট্রি রেটিং উন্নয়ন করতে হবে এবং ডিজাইন হাউজের মাধ্যমে বায়ারের কাছে সরাসরি ডিজাইন পৌঁছে দিতে হবে।”




পহেলা বৈশাখের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ দেবে সরকার

আসন্ন পহেলা বৈশাখের মধ্যেই দেশে প্রথমবারের মতো ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে গঠিত কমিটির সভা শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ এই তথ্য জানান।

সারা দেশে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে কি না?সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি প্রাথমিকভাবে পাইলট আকারে শুরু হবে। বর্তমানে ৮ থেকে ৯টি উপজেলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে।’ এই প্রাথমিক পর্যায়ের সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের আদলে প্রান্তিক ও অতি দরিদ্র কৃষকদের বিশেষ কিছু সুবিধা বা ‘বেনিফিট’ দেয়া হবে।

কার্ডটির মূল উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন, ভোক্তা, কৃষি জমি, পণ্যের ধরন ও জাতসহ যাবতীয় তথ্য একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় আনা।

পাশাপাশি এর মাধ্যমে সরকারের কাছে কৃষিখাতের প্রকৃত ও সঠিক তথ্য পৌঁছাবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করবে।

 

কারা পাবেন এই কার্ড

কৃষক হিসেবে কাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে–এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যারা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, মূলত তারাই এই প্রকল্পের আওতায় কৃষক হিসেবে গণ্য হবেন।

বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বিনা মূল্যে সার দেয়ার বিষয়টি সম্ভবত প্রান্তিক বা অত্যন্ত দরিদ্র কৃষকদের জন্য বিবেচনার তালিকায় ছিল। তবে আজকের আলোচনায় এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’




স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়; প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

তিনি বলেছেন, চুক্তিতে এমন উপাদান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি। ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে বাণিজ্য ছাড়াও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। এসব বিষয় নিয়ে সাধারণ আলাপ হয়েছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি যে চুক্তিটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হলো, আপনার সঙ্গে প্রথম বৈঠকে এই বিষয়ে কী আলোচনা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নিয়ে এমন বিশেষ কোনো কথা হয়নি। এটি তো ৯ তারিখে স্বাক্ষর হয়েছে, এটি নিয়ে আলাদা করে কোনো আলাপ হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে যে কনগ্র্যাচুলেশন লেটার দিয়েছিলেন ট্রাম্প সেখানে বলেছিল যে বাণিজ্য চুক্তি প্লাস সামরিক যে বিষয়গুলো যাতে মেনে চলে বাংলাদেশ সেই বিষয়টা এখানে আলোচনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চুক্তির বিষয়টি আজকে আলোচনার বিষয় হিসেবে আসেনি। আর সামরিক বিষয় তো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেখানে বাংলাদেশ স্বার্থরক্ষা হয়নি, সেক্ষেত্রে আপনার সরকারের পদক্ষেপ কি থাকবে আপনি কি পদক্ষেপ নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো স্বাক্ষর হয়েছে, সেই চুক্তিটি বলবৎ হওয়ার জন্য কিছু ফরমালাইজেশনের প্রক্রিয়া আছে। আর যেকোনো চুক্তিতেই সাধারণভাবে দুটো পক্ষ থাকে। কয়েকটি ধারা একপক্ষের খুব অনুকূলে হয়। আরো কয়েকটি ধারা আরেক পক্ষের খুব অনুকূলে হয়। দুই পক্ষই চেষ্টা করে আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে যেখানে উভয়ের জন্য একটা উইন-উইন সিচুয়েশন হয়। এই চুক্তির মধ্যে অনেক ধারা আছে যেগুলোর উপরে আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্কটাকে আগামী দিনে জোরদার করতে পারি। আমি এটিকে হোলসেল নেগেটিভ বা হোলসেল পজিটিভ এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো এভাবে দেখছি না। একটা চুক্তি হয়েছে এটি একটি বাস্তবতা আমরা আজকের দিনে এই পর্যন্ত।

তিনি বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি, আমি যেটা বলেছিলাম সেটি হলো যে, আমেরিকান উচ্চতর আদালতে ট্যারিফের যে ধারাটি ইমারজেন্সি পাওয়ারের যে ধারায় ট্যারিফ ধার্য করা হয়েছিল, সেই ধারা এই ট্যারিফ ধার্য করাকে সমর্থন করে না বলার পরে পরিস্থিতিটা বিকাশমান। আমরা বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, এটি ছিল আমার কথা।

চুক্তি নিয়ে আপনার সরকারের সিদ্ধান্ত কী, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো একটা হয়েছে এখানে তো সিদ্ধান্তের কিছু নেই। এই চুক্তি তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ দুই সরকারের মধ্যে হয়েছে, এটা তো রাষ্ট্রীয় চুক্তি। সুতরাং এই চুক্তিতে যদি আপনারা কোনো কিছু দেখেন, খারাপ দেখেন সেটা আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আরেকটা জিনিস আমি বলি, কোন চুক্তি অ্যান্ড অফ লাইফ না, জীবনের সর্বশেষ কিছু না। প্রত্যেকটা চুক্তিতে সেলফ কেয়ারিংয়ের জন্য তার নিজস্ব কিছু ধারা থাকে। সেখানে এরকম যদি আমাদের কাছে কিছু প্রতীয়মান হয় যে, এই ধারাটার সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন দরকার। সেখানে ফারদার নেগোসিয়েশনের স্কোপ তো সবসময় রয়েছে। এজন্য আমার অনুরোধ হচ্ছে এটি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন না।

ভিসা বন্ডের আওতা বাংলাদেশ পড়েছে, ব্যবসায়ীরা বলছেন যে তারা যেন ভিসা বন্ডের আওতায় না আসে সে বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবেন সেটা ব্যবসায়ীদের বিষয় হ্যাঁ কিন্তু এটি নিয়ে কাজ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা তো সবসময় অনুরোধ করব যেন আমাদের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগকারীরা এবং তাদের দেশের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগকারীরা যেন স্বচ্ছন্দে সহজভাবে দুই দেশে আসা যাওয়া করতে পারে। এটির মধ্যে যেন কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। এটির অনুরোধ তো আমাদের সবসময় থাকবে।

নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে চায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, অবশ্যই নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান তারা। আগামী দিনে কীভাবে আমেরিকান বিনিয়োগ এই দেশে আসবে সেটার জন্য দুই একটা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছেন আজকে। যে এগুলো দূর করলে আমেরিকান বিনিয়োগের জন্য সেটি সহজতর হবে। বাংলাদেশ একটা উর্বর ভূমি, আমাদের কিছু নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার আছে, যেগুলো দূর করা গেলে তাদের ডেভেলপমেন্ট যেটা আছে সেটা বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশ এলিজিবল হবে।

চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগ না ছড়াতে। আপনারা যদি কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন দেখেন, আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আমরা বিষয়টি দেখব। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।




ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহীন ইকবাল ও আহমেদ রশীদ

ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ মো. শাহীন ইকবাল, সিএফএ এবং আহমেদ রশীদ জয়কে ব্যাংকটির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে পদোন্নতি দিয়েছে। এই দুই কর্মকর্তার পদোন্নতি ১ মার্চ ২০২৬ থেকে কার্যকর।

মো. শাহীন ইকবাল এখন ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি কর্পোরেট, কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং, ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং, স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স, রেমিটেন্স ও প্রবাসী ব্যাংকিং এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসহ মূল বিজনেস সেগমেন্টগুলো দেখবেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০০৪ সালে ব্র্যাক ব্যাংকে যোগদানের পর থেকে তিনি ট্রেজারি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টে বিস্তর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ফরেন এক্সচেঞ্জ (foreign exchange), মানি মার্কেট (money market), ক্যাপিটাল মার্কেট (capital market), ডেরিভেটিভস (derivatives), অ্যাসেট-লায়বিলিটি ম্যানেজমেন্ট (asset-liability management) এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টে তাঁর দক্ষতা উল্লেখযোগ্য।

মো. শাহীন ইকবাল বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত সিএফএ (CFA) ইনস্টিটিউট থেকে মর্যাদাপূর্ণ চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট সার্টিফিকেশন অর্জন করেছেন।

তিনি সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং সিএফএ ইনস্টিটিউট, ভার্জিনিয়ার সদস্য। তাঁর পদোন্নতির বিষয়ে মন্তব্য করে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “শাহীন ইকবাল গত ২১ বছর ধরে ব্র্যাক ব্যাংকের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে কাজ করে আসছেন। তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট নিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা আমাদের হোলসেল ব্যাংকিং বিজনেসকে আরও শক্তিশালী করবে।”

পদোন্নতিপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তা আহমেদ রশীদ জয় ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড চিফ রিস্ক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে হেড অব ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকে যোগদান করেন এবং ব্যাংকটির রিস্ক কমপ্লায়েন্স ও অ্যাসেট কোয়ালিটি শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আহমেদ রশীদ জয় তাঁর ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ইস্টার্ন ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি আইএফসি (IFC), মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (Mutual Trust Bank) ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সে কাজ করেছেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (BIBM) থেকে মাস্টার্স ইন ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (MBM) সম্পন্ন করেছেন।

রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে তাঁর ব্যাপক দক্ষতা ও কৌশলগত জ্ঞানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রেগুলেটরি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রেফাত উল্লাহ খান আরও বলেন, “আহমেদ রশীদ ব্র্যাক ব্যাংকের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছেন। তাঁর প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস অনুশীলনের বিষয়ে অঙ্গীকার ব্র্যাক ব্যাংকের পোর্টফোলিও কোয়ালিটি উন্নতকরণ এবং শক্তিশালী ক্রেডিট অবস্থান নিশ্চিতে সহায়তা করেছে।”