আগামীর শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের কাছে ঈর্ষণীয় হবে: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামীর শিক্ষাব্যবস্থা পুরো বিশ্বের কাছে ঈর্ষণীয় হবে। সবাই চাইবে তাদের সন্তানদের বাংলাদেশে পাঠাতে, বাংলাদেশের সন্তানরা বিদেশে যেতে উদগ্রীব হবে না। তিনি বলেন, ‘‘এটা আমাদের স্বপ্ন। এটা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করবো।’’

 

বুধবার সচিবালয়ে প্রথম অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে স্বপ্ন ২০ কোটি মানুষকে দেখিয়েছেন, সেই শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা কাজ করবো। শিক্ষার প্রতিটি জায়গায়—প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, ভোকেশনালসহ এমন কোনও জায়গা নেই, যেখানে আবার নতুন করে গড়ে তোলার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। অনেক সমস্যা আছে। সেই সমস্যা সমাধান নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। জনতার ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা এসেছি। আমরা ওই স্বপ্ন বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করছি।’’




৫ বছরে ইউরোপে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাস্টারপ্ল্যান

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ৫ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চারটি প্রবাসী সংগঠনের নেতারা এ ঘোষণা দেন।

ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশী মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এবং বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন মাস্টারপ্ল্যানের প্রধান দিকসমূহ তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে ইউরোপে প্রায় এক কোটি দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে আমরা বিশেষ কিছু প্রস্তাবনা রাখছি। এর মধ্যে রয়েছে- ২০২৬-২০৩১ সালের মধ্যে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও রোমানিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোতে ১০ লাখ লাখ কর্মী প্রেরণ; প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউরোপীয় উইং গঠন করা, যা সরাসরি ইইউ দেশগুলোর সঙ্গে জি-টু-জি চুক্তিতে কাজ করবে; অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা বন্ধ করে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি ও ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করা; হুন্ডি বন্ধে আকর্ষণীয় ইনসেনটিভ ও প্রবাসী বন্ড চালু করা। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, সংসদীয় কোটা এবং ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি শক্তিশালী ও পেশাদার ইউরোপীয় উইং গঠনের দাবি জানান, যেখানে অভিজ্ঞ প্রবাসী পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশনের (বিএমএফ) চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, নতুন বাংলাদেশে দক্ষ ও নিরাপদ শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সিন্ডিকেটমুক্ত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে তা কর্মীবান্ধব করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন ব্যয়ের পূর্ণ অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদানের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।

বাংলাদেশি মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য সারাদেশে বিএমইটির অধীন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো কার্যকরভাবে চালু করা জরুরি। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, পরিকল্পিত ও রাষ্ট্রীয় সহায়তায় বাস্তবায়িত এই মাস্টারপ্ল্যান দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।




স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো অবৈধ তদবির চলবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো প্রকার অবৈধ তদবির চলবে না।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কর্মকর্তাদের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। কোনো প্রকার অবৈধ তদবির চলবে না। আর বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ করতে চাই। মব কালচার শেষ। দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে, স্মারকলিপিও দেওয়া যাবে। আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী বলেন, পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানাতে হবে। পুলিশের যে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা অংশ নেন। এর আগে মন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছলে তাকে গার্ড অব অনার দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়।




রমজানে সিন্ডিকেট নির্মূল ও নিরাপদ খাদ্যের দাবি

রমজান মাসে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাপা, বিসেফ ফাউন্ডেশন, কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমের (শিসউক) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শিসউক-এর নির্বাহী পরিচালক শাকিউল মিল্লাত মোর্শেদ, বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আতাউর রহমান মিটন, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, বিসেফ ফাউন্ডেশনের সিইও রেজাউল করিম সিদ্দিক প্রমুখ।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৩,৬০০ কোটি টাকার খাবার গ্রহণ করেন। কিন্তু এই বিশাল বাজারের বড় অংশই এখন অনিরাপদ এবং সিন্ডিকেটের দখলে। বর্তমানে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে ১০টি সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ করারও জোরালো দাবি জানান।

সাবেক কৃষি সচিব ও বিসেফ ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি আনোয়ার ফারুক বলেন, বাজার সিন্ডিকেটের কারণে বিশেষ করে রোজায় ব্যবহৃত পণ্যের দাম পরিকল্পিতভাবে বাড়ানো হয়। সরকারকে শুধু অভিযান নয়, বরং স্থায়ীভাবে বাজার মনিটরিং ও কৃষকের সরাসরি বাজারে প্রবেশের পথ সুগম করতে হবে।

ক্যাব সভাপতি ও সাবেক সচিব এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে নাগরিক তদারকি কমিটি গঠন জরুরি। বিএসটিআই-এর পাশাপাশি ‘নিরাপদ খাদ্য’ সিল প্রবর্তন করতে হবে, যেন ক্রেতারা আশ্বস্ত হতে পারেন।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হতে অপারগ নাবিল মুস্তাফিজ

নিয়োগ পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান।

গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ব্যাংকের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এমডি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করার বিষয়ে গতকাল চিঠি দিয়েছেন। তার নিয়োগ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল; এখন নতুন এমডি নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

ব্যাংক খাতে ৩২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউসিবি ব্যাংকে যোগ দেন। এর আগে তিনি হাবিব ব্যাংক লিমিটেড (এইচবিএল) বাংলাদেশে ‘কান্ট্রি চিফ রিস্ক অফিসার’ ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ইউসিবির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ইসলামিক ব্যাংকিং এবং ট্রানজেকশন ব্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিগত সরকারের সময় ডজনখানেক ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় ব্যাংকগুলো সংকটে পড়ে। এই সংকট নিরসনে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একত্র করে গঠিত হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। ব্যাংকগুলো হলো– এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে সংগৃহীত হবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

 




স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ৩২৬৬ টাকা

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমেছে তিন হাজার ২৬৬ টাকা। এর ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকায়।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই সারা দেশে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস।

নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি এক লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকায় বিক্রি হবে।

স্বর্ণের নির্ধারিত দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ছয় শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩০ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ দফা কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়।

এদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও পরিবর্তন হয়নি রুপার দামে। আগের দামেই বিক্রি হবে এ ধাতব।




পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি আমরা চলতে দিতে পারি না: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু

দেশে পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি আর চলতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সাধারণ মানুষের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে যাতে সবাই অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং এর সুফল সবার কাছে পৌঁছায়।

আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন খুবই খারাপ অবস্থায় আছে এবং এগুলোকে পুনরুদ্ধার করাই হবে বর্তমান সরকারের প্রাথমিক কাজ। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছাড়া বড় কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করলেও তা সফল হবে না।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি করতে গিয়ে দেশ এখন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের জালে আটকে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার প্রক্রিয়া বা ডিরেগুলেশন শুরু করতে হবে। বাজার ব্যবস্থাকে উদার করার পাশাপাশি সবার জন্য সমান ক্ষেত্র তৈরি করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরো বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি বন্ধ করে একটি উদার ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। যেখানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রাধান্য পাবে। জনগণের দোরগোড়ায় অর্থনীতির সুফল পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এই সময়ের চ্যালেঞ্জ, সরকারের চ্যালেঞ্জটা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসছি আমরা। চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে— টু বিল্ড দ্য নেশন (দেশকে গড়ে তোলা)। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যিনি আমাদের এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার প্রথম কথাটি ছিল বাংলাদেশের জন্য, আই হ্যাভ এ প্ল্যান (আমার একটা পরিকল্পনা আছে)। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। মন্ত্রিসভা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, বাংলাদেশের মানুষের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে।’

ফখরুল বলেন, ‘ডেমোক্রেসি হচ্ছে আমাদের প্রধান… ইনগ্রেডিয়েন্ট (উপাদান), যাকে নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের সবকিছুর মধ্যেই গণতন্ত্র থাকবে। আমরা সেই গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এটার পুরোপুরি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, একেবারে গ্রাসরুট (তৃণমূল) মানুষের সঙ্গে। আমার একটা অ্যাডভান্টেজ আছে, আমি কিন্তু একসময় নিজে লোকাল গভর্নমেন্টে ছিলাম।’

‘তো আমরা এই জিনিসগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখি। আমি বিশ্বাস করি যে আপনাদের এই মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত ডাইনামিক (গতিময়) একটা মন্ত্রণালয়ে পরিণত করতে পারব। মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব।’

দেশের ‘আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি ভঙ্গুর’ দাবি করে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না না, অতটা খারাপ না। আপনারা যতটা খারাপভাবে দেখছেন, অতটা খারাপ না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ইমপ্রুভ (উন্নত) হয়েছে। অর্থনীতি, ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি (ব্যাষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা) এটা অনেক ফিরে এসেছে। ব্যাংক তো অনেকটা কন্ট্রোলে এসেছে। এগুলো তো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমরা মনে করি, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটাকে আরও ভালো করতে পারব।’

‘গেল দেড় বছর ব্যাপক মবজাস্টিস হয়েছে,’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অবশ্যই। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে। একটা বড় ঝড় গেছে আমাদের। একটা বিপ্লব হয়েছে, বিদ্রোহ হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এসব মুহূর্তের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে, এটা মনে করার কারণ নেই। এক-দেড় বছর আমরা পার হয়েছি একটা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের অধীনে। তারা একটা ইলেকশন দিয়ে গেছে। ইলেকশন করে একটা গভর্নমেন্ট হয়েছে, ইলেকটেড গভর্নমেন্ট হয়েছে। এটাই তো একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন)। আমি তো মনে করি, দ্যাটস অলসো এ ভেরি বিগ অ্যাচিভমেন্ট (এটা একটা ভালো অর্জন)।’

‘আওয়ামীলীগ বিহীন’ নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কিনা, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, এটা কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সবাই বলছে, এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন (অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন) হয়েছে। এবং এটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন হয়েছে বলেই আজকে এটা একসেপ্টেবল টু অল (গ্রহণযোগ্য) হয়েছে, সকলের কাছে।’

আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে, প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমরা পলিটিক্যালি পরে আপনাদের জানাব। আমাদের গভর্নমেন্টের আলোচনার পরে জানাব।’

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্ক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন কিনা, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রয়োজন নেই। কারণ তারা একটা বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সময়, আমি মনে করি, আমার দলও মনে করে যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তারা সেই কাজের সিংহভাগ করতে পেরেছে। মূল সমস্যাটা কী ছিল? ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি। সেটা তো তারা করে দিয়ে গেছে। সুতরাং ইউ মাস্ট গিভ ক্রেডিট টু দেম (তাদের সেই কৃতিত্ব)। দিতেই হবে। তারা অনেক ভালো কাজ করেছে।