ভোটাররা আনন্দের সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন : চট্টগ্রাম ডিসি

ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও ভোটারদের মনোভাব ছিল ইতিবাচক— এমন দাবি করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেছেন, দুটি ব্যালটে ভোটগ্রহণ এবং বিশেষ করে বোরকা পরিহিত নারী ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে অতিরিক্ত সময় লাগায় লাইনে অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হয়েছে। তবে ভোটাররা এতে বিরক্ত না হয়ে আনন্দের সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হয়েছে, ফলে স্বাভাবিকভাবে সময় বেশি লেগেছে। বিশেষ করে বোরকা পরিহিত নারী ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়েছে। এসব কারণে লাইনে অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হয়েছে।

ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজনের দাবি করে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রামে ভোট সম্পন্ন করা হয়েছে। এই সরকারের একটি ঘোষণা ছিল যে তারা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দিতে চায়। সেই লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশে ইতোপূর্বে কখনো হয়নি।

নির্বাচন পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে যারা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতে এসেছেন, তারা প্রত্যেকেই একদম নতুন। তাদের এ অঞ্চলের জল, মাটি, গাছপালা, মানুষ বা প্রকৃতির সঙ্গে কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না।

তিনি আরও বলেন, তবে তারা এটিকে শুধু চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেননি। তারা দেখেছেন, এবারের নির্বাচন রাষ্ট্রের ইমেজের প্রশ্ন। নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য।

অতীতের নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে বারবার সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা দেশের মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে পারেননি। কিন্তু এবারের পরিবেশ ছিল ভিন্ন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে আন্তরিক ছিল।

তিনি জানান, কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দিতে হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে, তাদের পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




 নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন 

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। এজন্য স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সৌন্দর্য বর্ধন ও নিরাপত্তাজনিত কারণে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের প্রবেশে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

রোববার ( ১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে সকাল থেকে সর্ব সাধারণের জন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে এমপি ও বিকেল ৪টার দিকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। সেজন্য সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বিভিন্ন প্রাঙ্গণ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু ঢাকা পোস্টকে বলেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। সে কারণে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ শ্রদ্ধা জানানোর পরেই সর্ব সাধারণের জন্য আবার স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাক্রমে ভর্তি নিষিদ্ধ: মার্কিন দূতাবাস

ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিট দেয় এমন কোনো শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, বি১ বা বি২ ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ডিগ্রি বা ক্রেডিট দেওয়া শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অল্প সময়ের জন্য হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার অননুমোদিত ব্যবহার ভবিষ্যতে সে দেশে প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে।




আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি : পরিবেশ উপদেষ্টা

সরকারে থেকে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন তথ্য এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক এক প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ১৮ মাসে সফলতা বলারও কিছু নাই ব্যর্থতা বলারও কিছু নাই। ১৮ মাসেই যদি সবাই সফল আর ব্যর্থ হয় তাহলে একটা দাবি তুলতে হবে। কোনো নির্বাচিত সরকার ১৮ মাসের ওপরে থাকতে পারবে না তা কি বলা হবে? নির্বাচিত সরকাররা পাঁচ বছর সময় নেয় কেন? একটা কাজ পরিকল্পনা করে শুরু করতেই তো সময় লাগে ছয় সাত মাস, ছোট ছোট কাজ বড় কাজ তো দেড় দুই বছরের আগে বাংলাদেশের যে সিস্টেমটাতে শুরুই সম্ভব না।

 

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, আমি আমার সর্বোচ্চটুকু করেছি। সফলতা-ব্যর্থতার খতিয়ান আমি নিজের থেকে দেব না। জনগণ যেভাবে মূল্যায়ন করে সেভাবে মূল্যায়ন করবে। আমরা এসেছিলাম আসলে একটা দুর্যোগপূর্ণ সময়ে, সংকটময় সময়, আমাদেরকে বলা হয়েছিল দায়িত্ব নিতে। ফলে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, আমরা দায়িত্ব পালন করেছি। দেড় বছর আমাদের মধ্যে অনেকেরই দুইটা মন্ত্রণালয় তিনটা মন্ত্রণালয় সামলাতে হয়েছে। কারণ আমরা একটা আপদকালীন সংকটময় হাল ধরার জন্য হাল ধরেছিলাম। আমরা আমাদের সামর্থ্য মতো চেষ্টা করেছি।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা একটা ডিগ্রী অব স্যাটিসফ্যাকশন নিয়ে যাচ্ছি। যে আমরা বাড়তি কোনো ঝামেলার সৃষ্টি করিনি। আমরা কিছু ঝামেলা, কিছু কাটা দূর করতে পেরেছি। সব তো আর দেড় বছরের সম্ভব না। বাকি কাজগুলো নিশ্চয়ই পরের সরকার করবে এবং আমরা তাদের শুভকামনা করি।




৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি ১১ দলীয় জোটের

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘জালিয়াতি’ করে অন্তত ৩২টি আসনে অল্প ব্যবধানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ইসিতে অভিযোগ দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটটি।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের মুখপাত্র হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন-অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০০ পিস্তল এখনও উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।

জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে- আমরা লক্ষ্য করেছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট তড়িঘড়ি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হামিদুর রহমানের দাবি, দ্রুত গেজেট প্রকাশের কারণে অনেক প্রার্থী যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে পারেননি।

ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।

ফলাফল শিটে ঘষামাজার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনে তাদের প্রার্থীর একজন এজেন্ট মুসলিম হলেও ফলাফল শিটে একজন হিন্দুর স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু স্থানে পেনসিল দিয়ে ফলাফল লেখা হয়েছে। এসবের মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে কারচুপি করা হয়েছে।

১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ৩২টি আসনে পুনঃগণনা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

পুনঃগণনার আবেদন করা হবে যে ৩০টি আসনে— ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪।




রোজায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি

আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে সারা দেশে ট্রাক করে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

গত মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর পাশাপাশি রমজান মাসে বিশেষ ট্রাকসেলের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।

টিসিবি জানায়, রোজায় নিয়মিত পণ্য হিসেবে তেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হবে। তবে ট্রাকসেলের আওতায় পণ্যের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য পরে জানানো হবে।

টিসিবি আরো জানায়, রমজান মাস শুরুর আগের দিন থেকেই ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্য নিয়েছে টিসিবি।




টাঙ্গাইলে প্রাইভেটকার-ভ্যানের সংঘর্ষ : নিহত ২

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রাইভেটকার ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের উপজেলার জোকারচর গোহালিয়া বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়া বাড়ি এলাকার বাসিন্দা আমজাদ আলীর ছেলে ভ্যানচালক মোহাম্মদ আমির আলী (৪০) এবং একই এলাকার মান্নানের ছেলে শরীফ উদ্দিন (৪১)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি প্রাইভেটকার জোকারচর এলাকায় পৌঁছালে রাস্তা পারাপারের সময় একটি ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক ও এক যাত্রী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীফ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে অন্যজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার এসআই ফজলুল হক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আছে।




আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে : ইসি আনোয়ারুল

আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪৮ আর্টিকেল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে তিন দিনের মধ্যে যদি স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার শপথ না পড়ান তাহলে চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন। আরও যে আইনগত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছেন, তারা হয়তো করবেন। তবে, এর বাইরে বেশি কিছু বলা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। কারণ কবে, কখন এই শপথ অনুষ্ঠিত হবে সেটি এখনো আমরা অফিশিয়ালি অবগত নই। সংসদ সচিবালয়ের প্রশাসন থেকে আমাদের কাছে কোনো অফিশিয়াল চিঠিপত্র আসেনি।

তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যারা এসেছেন, তাদের বক্তব্য আমরা শুনেছি। তারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। তড়িঘড়ি করে ফলাফল প্রকাশের কোনো প্রশ্ন আসে না। নিয়ম অনুযায়ী আমরা চেষ্টা করেছি আরও স্মার্টলি কীভাবে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা যায়। গেজেট প্রকাশের সময়কাল আরও আগে দেওয়া গেলে ভালো হতো। আমাদের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন, তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই ফলাফল তৈরির কাজটি করেছেন।

 

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ১১ দলীয় জোটের দাবিগুলোর বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। আইন তাদেরকে এই সুযোগ দিয়েছে যে, যদি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে, সেটা নিয়ে হাইকোর্টের কাছে গেলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত পাবে। একজন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমার বিশ্বাস ছিল যে একটি ভালো নির্বাচন হবে। আল্লাহ সরাসরি আমাদেরকে সহায়তা করার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।




পুরো রমজান মাসে হাইস্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে হাইকোর্ট

রমজান মাসজুড়ে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

এর আগে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি।

নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।