৩ লাখ ২৬ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট এখন দেশে পৌঁছেছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৩ লাখ ২৬ হাজার ২০টি পোস্টাল ব্যালট ইতিমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।

আজ বুধবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসস’কে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পৌঁছেছে।

এর মধ্যে, ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৯ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১০ জন।

এ ছাড়া, ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।

ইতমধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটগুলোর মধ্যে ৪১ হাজার ১৭৮টি গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সারাদেশের ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৯ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৯১ জন ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন এবং ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৫ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।

সালীম আহমাদ খান আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।




সরকারি অর্থ আত্মসাৎ : নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান সাময়িক বরখাস্ত

৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির কারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. সাইফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার তথ্য জানানো হয়েছে।

সাইফুজ্জামান বর্তমানে লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ওই সময় তিনি ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্প’-এর মূলধন অংশের (ডব্লিউ-১ প্যাকেজ) ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে কাজ বাস্তবায়নে ডিপিপি, আরডিপিপি বা এইচওপিইর কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একটি প্যাকেজকে অবৈধভাবে আটটি প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং এ কাজে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভাজিত আটটি প্যাকেজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে, তার বিপরীতে বাস্তবে কাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের ডব্লিউ-১ প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ছাড়া অন্য আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয় এবং কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল। এ কারণে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ধারা ৩৯(১) অনুযায়ী সাইফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকী ভাতা প্রাপ্য হবেন বলেও এতে জানানো হয়েছে।




সিএসই ও ইউএনজিসিএনবির উদ্যোগে যৌথ কর্মশালা

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও জাতিসংঘের গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (ইউএনজিসিএনবি) যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) মানদণ্ড এবং বাজারের অখণ্ডতা জোরদার করতে এ উচ্চপর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত সিএসই ভবনের কনফারেন্স হলে ‘ইএসজি ও বাজারের অখণ্ডতা এগিয়ে নেওয়া : বাংলাদেশের জন্য সুযোগ’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে কর্মশালার সমাপনী পর্বে সিএসই ও ইউএনজিসিএনবির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। দুই বছর মেয়াদি এ এমওইউর আওতায় ইএসজি, করপোরেট গভর্নেন্স, টেকসইতা ও ব্যবসায়িক অখণ্ডতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনার যৌথভাবে আয়োজন, দায়িত্বশীল ব্যবসা চর্চা প্রসারে সচেতনতা ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম, পুঁজিবাজার উপযোগী টেকসইতা প্রতিবেদন ও দুর্নীতিবিরোধী নির্দেশিকা প্রণয়নে যৌথ গবেষণা ও প্রকাশনা, এবং সাসটেইনেবিলিটি ডে ও ইন্টেগ্রিটি ডে’র মতো জাতীয় আয়োজনে অংশীদারিত্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কর্মশালায় শিল্পখাতের শীর্ষ নেতৃত্ব, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন বলে সিএসই’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। কর্মশালায় নৈতিক স্বচ্ছতা, টেকসইতা ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চার সঙ্গে করপোরেট প্রবৃদ্ধির সমন্বয় সাধনের কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শাহামিন এস জামান। তিনি পুঁজিবাজারে জাতিসংঘ গ্লোবাল কম্প্যাক্টের দশটি নীতি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাইফুর রহমান মজুমদার।

উল্লেখ্য, ইউএনজিসিএনবি হলো জাতিসংঘ গ্লোবাল কম্প্যাক্টের স্থানীয় নেটওয়ার্ক, যা বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দশটি নীতি ও এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে। কর্মশালার এক পর্বে গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাবরুর এম চৌধুরী দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা ও টেকসই অর্থায়নের কাঠামো নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

এছাড়া গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট কো-অর্ডিনেটর জুলিয়ানা আও কুইস্ট লসনের নেতৃত্বে একটি উন্মুক্ত প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল বিনিয়োগের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।

এমওইউ অনুযায়ী, সিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সহজতর করবে এবং ইউএনজিসিএনবি টেকসই সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তার জন্য কারিগরি দক্ষতা, সম্পদ ও কাঠামো সরবরাহ করবে।

কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে সিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাদী হাসান বলেন, “আজ ইউএন গ্লোবাল কম্প্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা পুঁজিবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইএসজি নীতি ও বাজারের অখণ্ডতার মাধ্যমে আমরা শুধু নিয়ন্ত্রক কাঠামোই শক্তিশালী করছি না, বরং টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বাংলাদেশের জন্য আরো স্থিতিশীল অর্থনীতির পথও সুগম করছি।”




গ্রামীণফোনের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিকমিউনিকেশন খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড গত ৩১ শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত বছরের জন্য কোম্পানিটি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, সর্বশেষ হিসাববছরে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ২১ টাকা ৯০ পয়সা আয় হয়েছে। আগের বছর আয় হয়েছিল ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা।

গত ৩১ শে ডিসেম্বর,২০২৫ তারিখে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৪১ টাকা ৪৯ পয়সা।

আগামী ২০ এপ্রিল হাইব্রিড পদ্ধতিতে মাধ্যমে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ মার্চ।