প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীকে পুঁজিবাজারের সমস্যা-সম্ভাবনা জানাল বিএসইসি

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) তানভীর গনির সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৈঠকে পুঁজিবাজারের সমস্যাগুলো ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক বিশেষ সহকারীর কাছে উপস্থাপন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। এছাড়াও কমিশনের কমিশনারবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিএসইসির পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে কমিশনের ভূমিকা, সামগ্রিক কার্যক্রম, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সক্ষমতা, পুঁজিবাজারে ইকোসিস্টেম ও রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক, পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিএসইসি কর্তৃক বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও অর্জিত সাফল্য এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বিএসইসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসমূহ তুলে ধরা হয়।

এছাড়া পুঁজিবাজারের সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নে সাম্প্রতিক সময়ে বিএসসিসি কর্তৃক যে এসব পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারীকে অবহিত করা হয়।

পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন এবং বাজারের টেকসই উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




সিটি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি সিটি ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১৫ শতাংশ বোনাস। আগের বছর ব্যাংকটি ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল, এর মধ্যে ছিল ১২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১২.৫০ শতাংশ বোনাস।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিদায়ী বছরে সিটি ব্যাংকের নীট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয়ে বড় ধরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ৮ টাকা ৭১ পয়সা আয় (ইপিএস) হয়েছে। আগের বছর শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৭ পয়সা আয় হয়েছিল। তার আগের বছর ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৭৪ পয়সা।

বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

সর্বশেষ বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৪৭ টাকা, যা আগের বছর ৫৮ টাকা ৮৪ পয়সা ছিল।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪০ টাকা ৬৭ পয়সা।

আগামী ৭ জুন, রোববার বিকাল ৩ টায় ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ৩ মে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।




ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন সৈয়দ আশিকুর রহমান

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছেন ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান, এসপিপি, পিবিজিএম, এনডব্লিউসি, পিএসসি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ডিএসইর ১ হাজার ১১২তম পর্ষদ সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

এর আগে গত ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় তাকে ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বর্তমান দায়িত্বে যোগদানের আগে তিনি ২০২২, ২০২৩-২৪ এবং ২০২৬ সালে তিনটি পদাতিক ব্রিগেডে কমান্ডার হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

স্টাফ পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি একটি পদাতিক ব্রিগেডে জেনারেল স্টাফ অফিসার (অপারেশনস)-৩ এবং ব্রিগেড মেজর (চিফ অপারেশন অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে পরিচালক (পরিকল্পনা), একটি পদাতিক ডিভিশনে কর্নেল স্টাফ (চিফ অপারেশন অফিসার) এবং রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে মাননীয় রাষ্ট্রপতির সহকারী সামরিক সচিব (এএমএসপি) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক ক্ষেত্রেও তিনি সমানভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি), মিরপুরে ডিরেক্টিং স্টাফ এবং সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (ক্লাস ‘এ’) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি ডিএসসিএসসি, মিরপুর থেকে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স, চীনের নানজিং আর্মি কমান্ড কলেজ থেকে আর্মি কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল ওয়ার কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে আইভরি কোস্টে BANBAT-4-এ কোম্পানি সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে একবার এবং সিরিয়ার UNSMIS ও আইভরি কোস্টের UNOCI মিশনে দুবার মিলিটারি অবজারভার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।




ডিএসইর নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান। আগামী তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ডিএসইর প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, “ডিএসইর নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি। তিনি মঙ্গলবার কাজে যোগদান করবেন।”

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে মনোনীত প্রার্থীর ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ মানদণ্ড যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন এ নিয়োগে সম্মতি দেয়।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মফিজুল ইসলাম রাশেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি পূর্বে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএসইর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনাপূর্বক, উপযুক্ত ও সঠিক মানদণ্ড যাচাই করে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইর বোর্ডে অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি করপোরেট সুশাসন জোরদার করবে। এতে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরো শক্তিশালী হবে।

বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।




পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বাজেটে ডিবিএর একগুচ্ছ প্রস্তাব

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে কেন্দ্র একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

বুধবার (১ এপ্রিল) সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, এফসিএমএ বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সাইফুল ইসলাম।

চিঠিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত করনীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়বে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালী হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।পণ্যবাজার প্রতিবেদন

ডিবিএর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর কাটার পর আবার আয়কর রিটার্নে কর দিতে হয়, ফলে কার্যকর করহার অনেক ক্ষেত্রে ৪০.৫ শতাংশে পৌঁছে যায়। এতে স্পন্সর-পরিচালকরা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীরাও লভ্যাংশভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে সরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের ওপর উৎসে কর্তিত করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এতে কর কাঠামো সহজ হবে এবং দ্বৈত করের বোঝা কমবে বলে মনে করছে তারা।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কর বৈষম্য দূর করার ওপরও জোর দিয়েছে ডিবিএ। বর্তমানে কর রেয়াত সুবিধার জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ সীমা থাকায় খুচরা বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এই সীমা তুলে দিয়ে যেকোনো পরিমাণ বিনিয়োগকে কর রেয়াতের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীল তহবিল প্রবাহ নিশ্চিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে মূলধনী আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ করহার থাকলেও মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজে ভিন্ন করহার প্রযোজ্য হওয়ায় বিনিয়োগে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করে সব তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ও ফান্ড ইউনিটের ক্ষেত্রে একই করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ।

শেয়ার লেনদেনের টার্নওভারের ওপর কাটা উৎসে কর (TDS) বর্তমানে মিনিমাম ট্যাক্স হিসেবে গণ্য হওয়ায় লোকসান হলেও ব্রোকারেজ হাউসকে কর দিতে হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তন চেয়ে ডিবিএ বলেছে, TDS-কে মিনিমাম ট্যাক্স না ধরে অ্যাডভান্স ট্যাক্স হিসেবে গণ্য করা হোক, যাতে প্রকৃত আয় অনুযায়ী কর সমন্বয়ের সুযোগ থাকে। এতে কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর চাপ কমবে।

লোকসানগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্টে কর ছাড়ের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। ইন্টারেস্ট ওয়েভার, ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং ক্যাপিটাল গেইনের ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি এবং বিদ্যমান ১০ লাখ টাকার সীমা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আবার বাজারে সক্রিয় হতে পারবেন বলে মনে করছে ডিবিএ।

পুঁজিবাজারে বড় কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘ডিমড-টু-বি লিস্টেড কোম্পানি’ কাঠামো চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন, টার্নওভার বা ব্যাংক ঋণ থাকা কোম্পানিগুলোকে এই কাঠামোর আওতায় আনা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট শর্তে নীতিগত প্রণোদনার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিষ্ক্রিয় তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ডিবিএ। যেসব কোম্পানি টানা তিন বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) করেনি বা লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি, তাদের অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সমান করহার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিবিএ মনে করছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও গভীরতা বাড়বে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে আস্থা ফিরবে।




সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড

বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধি লঙ্ঘনের দায়ে পাঁচ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠনকে মোট ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ চলতি মাসে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।

আদেশে আরো বলা হয়েছে, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তথ্যানুসারে, বিএসইসির একটি পরিদর্শন দল ইনডেক্স এগ্রোর চারটি কারখানা ও প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন সময়ে কোম্পানির জমা দেয়া নথি ও রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইনডেক্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকার একটি সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন হয়েছে। যেখানে ইনডেক্স এগ্রোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) উভয়েই ইনডেক্স কনস্ট্রাকশনের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এ ধরনের লেনদেন প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ৩০ জুন ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানি তাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, আলোচ্য হিসাব বছরে ইনডেক্স এগ্রোর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন হয়নি। কিন্তু পরিদর্শনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া নির্মাণ ও সিভিল ওয়ার্ক-সংক্রান্ত কিছু কাজের আদেশ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। যেসব কাজের আদেশ ইনডেক্স এগ্রোর অনুমোদিত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরে হওয়ার কথা ছিল, তার কিছুতে ইনডেক্স কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির এমডি মাহিন বিন মাজহারকে ৫ লাখ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ইকবাল আহমেদকে ১ লাখ ও সেক্রেটারি আবু জাফর আলীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন।

অন্যদিকে আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারির একটি চিঠির পর ব্রোকারেজ হাউজ প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেডের অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। চিঠিতে রবি আজিয়াটার এক লাখ শেয়ারের ক্ষেত্রে ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী হিসাব এবং ব্রোকারেজ হাউজের ব্যাক-অফিস সিস্টেমের মধ্যে গরমিলের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালের মাধ্যমে আভা দত্ত নামে এক বিনিয়োগকারীর জন্য ওই শেয়ার কেনা হয়। পরে শেয়ারগুলো আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানির ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারীর অধীনে একটি বিও হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) রেকর্ড পর্যালোচনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মনিটরিং টিম দেখতে পায়, প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালের অধীনে আভা দত্তর নামে বিও হিসাব খোলা হয় ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ, যা শেয়ার কেনার প্রায় দুই মাস পরে। এটিও সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজাউল ইসলামকে ৫ লাখ এবং সাবেক কমপ্লায়েন্স অফিসার এওয়াই জোবায়েরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়ে।

এছাড়া সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় নাভানা সিএনজি লিমিটেড ও কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান, তিন পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দুই স্বতন্ত্র পরিচালক, কোম্পানি সেক্রেটারি ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তাকে সতর্ক করে বিএসইসি। তবে তাদের কোনো জরিমানা করা হয়নি।




ডেসকোর ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তালিকাভুক্ত ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানিকে ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে ক্রেডিট রেটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।

রবিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ক্রেডিট রেটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এ-’। আর স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-৩’।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত পাশাপাশি গুণগত তথ্য অনুযায়ী এই রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৬ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৪টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, সরকারের হাতে ৬৭.৬৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৩.৪৮ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৮.৮২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ক্রেডিট রেটিং হলো কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের একটি পদ্ধতি, যা বিশেষ এজেন্সি দ্বারা নির্ধারণ করা হযয়ে থাকে। এটি মূলত ‘এএএ’ (সর্বোচ্চ নিরাপত্তা) থেকে ‘ডি’ (খেলাপি) পর্যন্ত স্কেলে রেটিং প্রদান করা হয়। ভালো রেটিংয়ের মাধ্যমে সহজে ও কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায়।




অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পুঁজিবাজারে আলোচিত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের অর্থ অপব্যবহার এবং তহবিল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে একজন অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নথিপত্র সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দিয়েছেন। রেকর্ডপত্র সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া অনিয়ম ও আর্থিক অসংগতির ভিত্তিতে কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুসন্ধানে মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা কীভাবে, কার নির্দেশে এবং কোন খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল পরিচালিত একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড থেকে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফান্ডের অর্থ নির্ধারিত বিনিয়োগ খাতের বাইরে ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত বা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রবাহের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে বিএসইসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।বাংলাদেশি খাবারএর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে চিঠি পাঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যেখানে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা লোপাটের দুর্নীতির ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের দুই ফান্ডে অনিয়ম ও ইউনিটহোল্ডারদের ৫৫ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য অবগতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হলো।

গণমাধ্যমকে দুদকের সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ, শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 




এসইএমএল লেকচার ইকুইটিকে বেমেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে রূপান্তরের অনুমোদন

এসএইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডকে (SEML Lecture Equity Management Fund) ১০ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে ইউনিট হোল্ডারদের সম্মতিক্রমে একটি বে-মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে রূপান্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাংলাদেশ ভ্রমণ

বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এর সভাপতিত্বে ১০০২তম কমিশন সভা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কমিশনের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বর্ণিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অদ্যকার সভায় কমিশন মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ‘এসএইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড’ (SEML Lecture Equity Management Fund) এর মেয়াদ ১০ বছর পূর্ণ হওয়ায় ইউনিট হোল্ডারদের মতামত সহ ফান্ডটির ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি (Bangladesh General Insurance Company PLC) এর আবেদনের প্রেক্ষিতে, ‘এসএইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড’ কে মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ড হতে বে-মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে রূপান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

একই সাথে কমিশন ফান্ড সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দলিলাদিও অনুমোদন প্রদান করেন। রূপান্তরিত বে-মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ড ‘এসএইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড’ এর প্রাথমিক আকার হবে ৫০.০০ কোটি টাকা। উক্ত ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (Strategic Equity Management Limited) এবং এর ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করছে যথাক্রমে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি এবং কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিলন পিএলসি (Commercial Bank of Ceylon PLC)।




পুঁজিবাজার শক্তিশালী না হলে শিল্পায়ন সম্ভব নয়: এনবিআর চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী না করে কোনো দেশ শিল্পায়নের পথে এগোতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিকাশের জন্য পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশে আইনের অভাব নেই, সমস্যা হচ্ছে বাস্তবায়নে।

নতুন সরকারের জন্য শেয়ারবাজারে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে রোববার (৮ মার্চ) পুঁজিবাজার বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে শিল্প বিপ্লবের সময় পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ধারণা এসেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ ছোট ছোট অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগ করে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তি গড়ে তোলে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই ধারণা অনুযায়ী পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ব্যাংকের আমানত সাধারণত স্বল্পমেয়াদি হলেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন দীর্ঘমেয়াদি। ফলে ব্যাংক থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শিল্পকে সমর্থন দেওয়া কঠিন। অন্যদিকে পুঁজিবাজার থেকে ইকুইটির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করলে সেই অর্থ ফেরত দিতে হয় না, কোম্পানি লাভ করলে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ পান।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফার আশায় আসেন। তাই এখানে কেবল সেসব কোম্পানির তালিকাভুক্ত হওয়া উচিত, যাদের দীর্ঘমেয়াদি লাভের সক্ষমতা ও সুস্পষ্ট ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে অনেক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও তারা প্রত্যাশিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি কাটাতে হলে তালিকাভুক্তির পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শতভাগ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের ভুল তথ্য, মিথ্যা ঘোষণা বা ভ্রান্ত হিসাব দেওয়া চলবে না।

ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা গেলে অনিয়মের সুযোগ অনেক কমে যাবে।

পুঁজিবাজারে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার অতীতে বিভিন্ন ধরনের কর ছাড় ও প্রণোদনা দিয়েছে। এমনকি ক্যাপিটাল গেইন কর কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, তাও ৫০ লাখ টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে। কিন্তু তাতেও বাজারে স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

এনবিআর চেয়ারম্যানের মতে, কেবল প্রণোদনা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। বাজারে শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

পুঁজিবাজারকে ‘জুয়ার বাজার’ হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশ শক্তিশালী পুঁজিবাজার ছাড়া শিল্পায়নে যেতে পারেনি।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তাত্ত্বিকভাবে মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে দক্ষ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর পারফরম্যান্সই সবচেয়ে খারাপ।

তিনি বলেন, আইন ও বিধিমালা থাকা সত্ত্বেও যারা অনিয়ম করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেই বড় ঘাটতি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর দায়িত্ব মাথায় রেখেই কাজ করে। তবে একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে তারা প্রস্তুত আছেন।

আগে অনেক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি, এই অভিজ্ঞতাটিও মনে রাখতে হবে- বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।




বিনিয়োগকারীর অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ডিএসইর নতুন প্রবিধান

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন প্রবিধানমালা প্রণয়ন করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি। ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (সেটেলমেন্ট অব ডিস্পুট) রেগুলেশনস, ২০২৬’ শিরোনামে প্রণীত এ বিশেষ বিধিমালা গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় প্রকাশনা সংস্থা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

ডিএসই জানিয়েছে, তাদের ট্রেকহোল্ডার কোম্পানি ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির জন্য এই প্রবিধানমালা কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ, পর্যালোচনা এবং নিষ্পত্তির একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় ফরমসমূহ ডিএসইর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযোগ দাখিল ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সেখান থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

নতুন প্রবিধানমালা ও এই সংশ্লিষ্ট ফরম নিম্নোক্ত ওয়েব লিংকে পাওয়া যাবে- https://www.dsebd.org/SettlementofDisputeRegulationse.php




এশিয়া‌টিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ার ‘লক-ইন’—এ নতুন নির্দেশনা

এশিয়া‌টিক ল্যাবরেটরি‌জ লিমিটেডের উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডাদের (প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত ১৮৩ জন/প্রতিষ্ঠান) ধারণ করা শেয়ারের ‘লক-ইন’ এর বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করা অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক-ইন সময়ে শেয়ার বিক্রি করা যায় না।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যমান লক-ইন অবমুক্তির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ বছর বা প্রস্তাবিত ৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজের সমাপ্তি ও বাণিজ্যিক ব্যবহার চালু করার (রাজউকের অকুপেন্সি সার্টিফিকেটসহ) মধ্যে যেটি পরে সম্পন্ন হবে ততদিন পর্যন্ত লক-ইন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিদর্শন প্রতিবেদনের সুপারিশ, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৮৩৭তম কমিশন সভায় এশিয়া‌টিক ল্যাবরেটরি‌জ লিমিটেডের ৯৫ কোটি টাকা প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের মাধ্যমে উত্তোলন করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই আইপিও’র মাধ্যমে ৯৫ কোটি টাকা পুঁজি উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যবসায় সম্প্রসারণ (যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ইনস্টলেশন), ফ্যাক্টরি ভবন নির্মাণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করবে মর্মে কোম্পানিটির প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলন করা অর্থ বা আইপিও ফান্ডের ব্যবহার সম্পন্ন করতে পারেনি বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে, আইপিও ফান্ডের ব্যবহার সম্পন্ন না করেই প্রকল্প মূল্যায়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন (রাজউক কর্তৃক বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ইত্যাদি) ব্যতিরেকে এবং পূর্বঅভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছাড়াই কোম্পানিটি ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণের উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন প্রকাশ করে।

৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণ তথা রিয়েল এস্টেট/হোটেল ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও কোম্পানিটির সংঘস্মারকের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না। এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পরিদর্শন পরিচালিত হয় এবং ওই পরিদর্শন প্রতিবেদনেও উপরোল্লিখিত অসংগতি উদঘাটিত হয় বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

এদিকে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্যপ্রকাশকারীর সুরক্ষা প্রদান) বিধিমালা, ২০২৬’ এর খসড়া কমিশন সভায় অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুমোদিত খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ও কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে।




রমজানে পুঁজিবাজারে লেনদেন হবে পৌনে ৪ ঘণ্টা

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময় প্রায় ১ ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হবে সকাল ১০ থেকে, চলবে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। বর্তমানে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন হয়। রোজার পর ঈদের ছুটি শেষে আবার এই সময় অনুযায়ী লেনদেন হবে।

রমজানে লেনদেনের সময়সূচির বিষয়ে ডিএসই জানায়, শেয়ারবাজারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন হবে। আর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে।

পোস্ট ক্লোজিং সেশনে নতুন দাম প্রস্তাব করা যাবে না। তবে দিনের ক্লোজিং দামে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ও ইউনিট ক্রয় বা বিক্রয় করতে পারবেন।

এদিকে, রমজান মাসে ডিএসইর অফিসিয়াল কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।




গ্রামীণফোনের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিকমিউনিকেশন খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড গত ৩১ শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত বছরের জন্য কোম্পানিটি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, সর্বশেষ হিসাববছরে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ২১ টাকা ৯০ পয়সা আয় হয়েছে। আগের বছর আয় হয়েছিল ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা।

গত ৩১ শে ডিসেম্বর,২০২৫ তারিখে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৪১ টাকা ৪৯ পয়সা।

আগামী ২০ এপ্রিল হাইব্রিড পদ্ধতিতে মাধ্যমে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ মার্চ।




অর্ধবার্ষিকে লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে এসিআই

পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এসিআই পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৫) ও অর্ধবার্ষিক (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ২৯.৯৭ শতাংশ।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

তথ্য মতে, এদিকে আলোচ্য অর্থবছরে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৪ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (৩.১৭) টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে।

অপরদিকে, ৬ মাস বা অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.৭৩ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (৭.৯৯) টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৯০.৭০ টাকা।




দুই কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুইটি কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানি দুটি হলো- সোনালী পেপার বোর্ড মিলস লিমিটেড এবং কাট্টালি টেক্সটাইল লিমিটেড।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, সোনালী পেপার বোর্ড মিলস লিমিটেড এবং কাট্টালি টেক্সটাইল লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএরবি)।

সোনালী পেপার: ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী ‘বিবিবি৩’ এবং স্বল্পমেয়াদী ‘এসটি-৩’ রেটিং হয়েছে। কোম্পানিটির ৩০ জুন, ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং তারিখ পর্যন্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এ রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।

কাট্টালি টেক্সটাইল: ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদী ‘বিবি-’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৪’ রেটিং হয়েছে। কোম্পানিটির ৩০ জুন, ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং তারিখ পর্যন্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এ রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




আমান ফিডের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আমান ফিড লিমিটেড গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৫ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ২১ পয়সা আয় হয়েছিল।

হিসাববছরের প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৬ মাসে (জুলাই’২৫-ডিসেম্বর’২৫) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪৬ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিলো ৫৩ পয়সা।

আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের প্রবাহ ছিল ৪৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে মাইনাস ৬৮ পয়সা ছিল।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৮ টাকা ৭ পয়সা।




ডিবিএ’র সঙ্গে সিএমজেএফ’র নবনির্বাচিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সঙ্গে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) নবনির্বাচিত কমিটির এক সৌজন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারে ডিবিএর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ডিবিএর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান (সিএফএ), ভাইস প্রেসিডেন্ট নাফিজ আল তারিক (সিএফএ), পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান, নাঈম মো. কাইয়ুম, আলহাজা নাহিদ আহমেদ এবং সেক্রেটারি দিদারুল গনীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সিএমজেএফ’র পক্ষ থেকে সভায় অংশগ্রহণ করেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট মো. মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল, সহ-সভাপতি বাবুল বর্মণ, অর্থ সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম এবং নির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ও এস এম জাকির হোসেন।

বৈঠকে দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি নিয়ে উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়। এ সময় ডিবিএর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম সিএমজেএফ-এর নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং পুঁজিবাজারের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, সিএমজেএফ-এর প্রেসিডেন্ট মো. মনির হোসেন ডিবিএর প্রেসিডেন্টসহ পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কল্যাণে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ডিবিএর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




দ্রুত সময়ের মধ্যে কমোডিটি মার্কেট চালু করতে যাচ্ছে সিএসই

দেশের পুঁজিবাজারে পণ্য কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম বা ‘কমোডিটি মার্কেট’ চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এই বাজার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছে। এখন কেবল বাজারসংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও একটি শক্তিশালী ‘ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার অপেক্ষা।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সিএসই।

এর আগে রাজধানীর কাওরান বাজারে এনএলআই সিকিউরিটিজের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট: এ নিউ ফ্রন্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম সাইফুর রহমান মজুমদার এই অগ্রগতির কথা জানান। ক্যাপিটাল মার্কেট সিইও ফোরাম ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘কমোডিটি মার্কেটের জন্য টেকনোলজিক্যাল কাঠামো স্থাপনের পাশাপাশি আমরা আমাদের পুরো ট্রেডিং সিস্টেমও আপডেট করেছি। নতুন এই কাঠামোতে বর্তমান ইকুইটি মার্কেট, ডেরিভেটিভস মার্কেট এবং ইকুইটি ডেরিভেটিভস মার্কেটকে যুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি কমোডিটি মার্কেট স্থাপনের জন্য তিনটি কাঠামো প্রয়োজন– রেগুলেটরি (নিয়ন্ত্রক), টেকনোলজিক্যাল (প্রযুক্তিগত) এবং ইকোসিস্টেম। সিএসই ইতোমধ্যে প্রথম দুটি স্তরের কাজ সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে ইকোসিস্টেম তৈরির কাজ চলছে। সবার সহযোগিতা পেলে খুব দ্রুত এই বাজার চালু করা সম্ভব হবে।

সিএসইর এমডি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমাদের ইকুইটি মার্কেট এখনও পরিপূর্ণ নয়। বিশ্বে বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট লেনদেনের বড় অংশই হয় ডেরিভেটিভস মার্কেটে। সেই তুলনায় আমাদের বাজার অনেক পিছিয়ে। যত দ্রুত কমোডিটি মার্কেট চালু হবে, অর্থনীতিতে এর সুফল তত দ্রুত পাওয়া যাবে।’

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ক্যাপিটাল মার্কেট সিইও ফোরামের ডিরেক্টর মো. আলী বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বা প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন নেই বললেই চলে। নতুন নতুন পণ্যের আগমনকে সফল করতে সিইও ফোরাম কাজ করে যাবে।

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কমোডিটি মার্কেট চালু হলে অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, সিইও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস সিএসইর স্বচ্ছতা ও আধুনিক সেবার প্রশংসা করে বলেন, কমোডিটি মার্কেটের মাধ্যমে বাজার আরও প্রাণবন্ত হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর এজিএম ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রজেক্টের মেম্বার সেক্রেটারি ফয়সাল হুদা। এতে বিভিন্ন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।




আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস দাবি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে পুঁজিবাজারের ষ্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানায়।

চিঠিতে সাইফুল ইসলাম বলেন, ডিএসই বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ২২টি খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুসরণ করছে—যার মধ্যে সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ড অন্তর্ভুক্ত, তা বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাজার বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

তিনি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজার এখন গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড (জিআইসিএস) অথবা ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন বেঞ্চমার্ক (আইসিবি) অনুসরণ করছে; যা খাতভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণকে অধিক স্বচ্ছ, তুলনাযোগ্য ও কার্যকর করে তোলে।

ডিবিএ চিঠিতে বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাসের কয়েকটি অসংগতির উদাহরণ তুলে ধরে। যেমন— ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বর্তমানে ‘ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস’ খাতে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ‘ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড’ খাতে তালিকাভুক্ত, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উভয় কোম্পানি ‘কনজ্যুমার স্ট্যাপলস’ খাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যৌক্তিক। একইভাবে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটা ও এপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি’ খাতে শ্রেণিবদ্ধ করা হলে তাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক চরিত্র ও ভোক্তা চাহিদা নির্ভরতা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।

ডিবিএর মতে, খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক প্রবণতা, ভোক্তা আচরণ ও আয় বৃদ্ধির ধারা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি পুরোনো বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো এসব বিশ্লেষণের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করে। ডিবিএ আরও উল্লেখ করে যে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস গ্রহণ করলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তুলনাযোগ্যতা তৈরি হবে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের পুঁজিবাজার একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।

ডিবিএ বিএসইসির কাছে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা, আস্থা, বিশ্লেষণগত গভীরতা ও বৈশ্বিক সংযুক্তি আরও সুদৃঢ় করবে।




পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিআইসিএমের সঙ্গে কাজ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর বিআইসিএম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ইনস্টিটিউটের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন এনরিকো লরেঞ্জোন (টিম লিডার- ইনক্লুসিভ গভর্ন্যান্স), মিরোস্লাভ স্ক্রিয়েচকা (অ্যাটাচি- প্রোগ্রাম অফিসার, ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স, ম্যাক্রোইকোনমি ও পিএফএম) এবং কিশোয়ার আমীন (প্রোগ্রাম ম্যানেজার- ইনক্লুসিভ গভর্ন্যান্স)।

বিআইসিএমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন– প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুছ সালেহীন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আসিফ ইমরান, সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহিল ওয়ারিশ এবং নির্বাহী প্রেসিডেন্টের একান্ত সচিব হুমায়রা আলম।

বৈঠকে বিআইসিএমের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইনস্টিটিউটের সামগ্রিক কার্যক্রম প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন। ইইউ কীভাবে এসব শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়ে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার বিশদ আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে ইইউ প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে বিআইসিএমের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা এই খাতের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার এবং আগামীতে সব ধরনের সহযোগিতা চলমান রাখার আশ্বাস দেন।




পরিপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য পুঁজিবাজারের গুরুত্ব অপরিসীম: আমির খসরু

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু বলেছেন, আমি মাঝে মাঝে ভাবি পুঁজিবাজার ছাড়া কিভাবে অর্থনীতি চলছে। পরিপূর্ণ অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য পুঁজিবাজার অপরিহার্য।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিপথ, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও কাঠামোগত রূপান্তর নিয়ে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী ২০২৬ দিগন্ত: অর্থনীতি, রাজনীতি এবং পুঁজিবাজার’ (Post Election 2026 Horizon: Economy, Politics & Capital Market) শীর্ষক একটি সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, ভারতের বাজার মূলধন তার জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ। পাকিস্তানের ৪০ শতাংশ। আমরা যদি একটি ফাংশনাল পুঁজিবাজার তৈরি করতে পারি তবে শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই না সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও বড় বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারে আসবে।

তিনি বলেন, তবে শধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, ভালো ভালো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাজারে আনার দিকে মনযোগী হতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। যদি বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস অর্জনে পুঁজিবাজার ব্যর্থ হয় তবে বাজারে ভালো কোম্পানি আসতে চাইবে না।

তিনি আরও বলেন, একটি দেশের ধ্বংসের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ভুলগুলোই যথেষ্ট। তাই গুড ইন্সটিটিউশন বা ভালো প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। পুজিবাজারের ক্ষেত্রে বিএসইসিকে পরিপূর্ণভাবে তৈরি করতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য ভালো পে স্কেল করতে হবে। যে ওয়ালস্ট্রিটসহ গ্লোবাল মার্কেট নিয়ে জ্ঞান রাখে তাকে নূন্যতম বেতন পরিশোধ না করলে তার থেকে পরিপূর্ণ আউটপুট পাওয়া যাবেনা।

জামায়াতে নেতা অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, আমরা সরকার গঠন করলে শরিয়া ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিলেও, বর্তমানে প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বহাল থাকবে৷ পুঁজিবাজার যেহেতু অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাই পুঁজিবাজারের অগ্রগতির জন্য কাজ অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সিএফএ বলেন, বাজারের সংস্কারের জন্য শুধু পুজিবাজারের নয় পুরো বাজার কেন্দ্রীক ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আরও আধুনিক এবং ইন্টেলিজেন্ট হতে হবে।

 

এবিবির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য পারটিকুলার কিছু ডকুমেন্টস অর্থ মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে গিয়েছে। এগুলো প্রধান উপদেষ্টার কাছে যাবে, এবং ভবিষ্যতে নতুন সংসদেও যাবে। একটা নির্বাচন আসছে সামনে। এটি অবশ্যই একটি সচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।




৭ কোম্পানির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য পর্ষদ সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, ২০২৫) ও অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকের (জুলাই থেকে ডিসেম্বর, ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিগুলো হলো- ই-জেনারেশন পিএলসি, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড, মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারিজ লিমিটেড, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসি, শাহজিবাজার পাওয়ার লিমিটেড ও রেনাটা পিএলসি।

তথ্য মতে, কোম্পানিগুলোর মধ্যে আগামী ২৫ জানুয়ারি শাহজিবাজার পাওয়ারের, ২৬ জানুয়ারি ইউনিক হোটেলের, ২৭ জানুয়ারি মুন্নু ফেব্রিক্স ও মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারিজ, ২৮ জানুয়ারি নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস ও ই-জেনারেশনের এবং ২৯ জানুয়ারি রেনাটার এ সংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক ও অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকের ব্যবসায়িক অবস্থান অনুমোদন করা হবে। একইসঙ্গে স্টেকহোল্ডারদের জন্য তা প্রকাশ করা হবে।




ওয়ালটন হাই-টেকের পর্ষদ সভা ২২ জানুয়ারি

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, আলোচিত সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, ২০২৫) ও অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকের (জুলাই থেকে ডিসেম্বর, ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৯ সালে। ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩৩৩ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৩ কোটি ৩২ লাখ ২১ হাজার ১৭৭টি। এর মধ্যে, সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৬১.০৯ শতাংশ, প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.৭৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৮.১৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




পুঁজিবাজারের হৃৎপিণ্ড আইপিও: রাশেদ মাকসুদ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেছেন, পুঁজিবাজারের হৃৎপিণ্ড আইপিও। পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫ এর মাধ্যমে বাজারে নতুন আইপিও আসার পথ সুগম হবে। এই সুযোগকে স্বদব্যবহারের সময় এখনই। এ জন্য বাজার সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত পুঁজিবাজার অংশীজনদের পঞ্চম মাসিক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসির সহকারী পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র মো. মোহাইমিনুল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বিএসইসির কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ, মো. সাইফুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নে কমিশনের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, মার্জিন বিধিমালা, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস- এই তিনটি বিধিমালা পুঁজিবাজার সংস্কারের প্রধান ভিত্তি। ২০২৫ সালের মধ্যেই এগুলো সম্পন্ন হয়েছে।

সভায় পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। বিএসইসিকে অধিকতর শক্তিশালীকরণ ও পুঁজিবাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গঠিত কমিটির সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী সভায় বলেন, চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যাগুলো সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বিগত বছরে সম্পন্ন সংস্কার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পুঁজিবাজার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও সংস্কার উদ্যোগ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫, পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫, পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, নতুন পণ্য সংযোজন, রোড শো, ই-কেওয়াইসি, অনলাইনে বিও অ্যাকাউন্ট খোলা, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু, এপিআই কানেকটিভিটি বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তকরণ, মার্জার ও একুইজিশন, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, সিসিবিএল কার্যক্রম, মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যপরিধি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল মোতালেব, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আ স ম খায়রুজ্জামান, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ইফতেখার আলম, সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার ও কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ রাশেদ হুসাইন, ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসির সিইও মো. আল আমিন তালুকদার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




পুঁজিবাজার সংস্কারের ৩ বিধিমালা সম্পন্ন

মার্জিন বিধিমালা, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস এই তিনটি বিধিমালা পুঁজিবাজার সংস্কারের প্রধান ভিত্তি এবং ২০২৫ সালের মধ্যেই এগুলো সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। রোববার (১৮ জানুয়ারি) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে পুঁজিবাজার অংশীজনদের ৫ম মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে বেলা ১০টা ৩০ মিনিটে সভাটি শুরু হয়।

বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করেছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মুঃ মোহসিন চৌধুরী, মোঃ আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ, মোঃ সাইফুদ্দিন, সিএফএ এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
সভায় পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।

বিএসইসি-কে অধিকতর শক্তিশালীকরণ ও পুঁজিবাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গঠিত কমিটির সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী সভায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যাগুলো সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অংশীজনদের সহযোগিতায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিগত বছরে সম্পন্ন সংস্কার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পুঁজিবাজার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও সংস্কার উদ্যোগ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫, পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫, পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, নতুন পণ্য সংযোজন, রোড শো, ব-কণঈ, অনলাইনে বিও অ্যাকাউন্ট খোলা, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু, এপিআই কানেকটিভিটি বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তকরণ, মার্জার ও একুইজিশন, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, সিসিবিএল কার্যক্রম, মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যপরিধি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নে কমিশনের উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মার্জিন বিধিমালা, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস—এই তিনটি বিধিমালা পুঁজিবাজার সংস্কারের প্রধান ভিত্তি এবং ২০২৫ সালের মধ্যেই এগুলো সম্পন্ন হয়েছে। আইপিওকে পুঁজিবাজারের হৃদপিণ্ড উল্লেখ করে তিনি নতুন আইপিও আনয়নে বাজার সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, ডিএসই, সিডিবিএল, সিসিবিএল, বিএমবিএ, সিএসইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিএসইসির নির্বাহী ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।




দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান চালু করবে এসিআই

ব্যবসায় নতুনত্ব আনতে যাচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি অ্যাডভান্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি। কোম্পানিটি আবাসন ও সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে এসিআই প্রপার্টিজ লিমিটেড ও এসিআই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড- নামে দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান চালু করা হবে। ওই প্রতিষ্ঠান দুটির মাধ্যমে নতুন এই ব্যবসা পরিচালনা করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন ব্যবসা শুরুর বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। রোবাবর (১৮ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে এসিআই পিএলসি।

তথ্য অনুযায়ী, এসিআই প্রপার্টিজ লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন হবে ১০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের ৮৫ শতাংশ শেয়ার এসিআইয়ের কাছে থাকবে।

দেশে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে থাকায় আবাসন খাতের বাজার বড় হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রায় দুই হাজারের বেশি আবাসন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে উঠেছে দুই থেকে তিন ডজন প্রতিষ্ঠান।

এসিআই প্রপার্টিজের মতো এসিআই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডেরও অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা হবে। এটিরও ৮৫ শতাংশ শেয়ার এসিআইয়ের কাছে থাকবে।

স্মার্টফোন থেকে ইন্টারনেট, গাড়ি থেকে কাপড় ধোয়ার মেশিন, ফ্রিজ থেকে তালি দিয়ে বাতি নেভানোর ব্যবস্থা—সবই এখন ট্রানজিস্টর, আইসি ও মাইক্রোপ্রসেসরের দখলে। এগুলোর প্রাণভোমরা কোনো না কোনো মাইক্রোপ্রসেসর, আইসি বা ইন্টিগ্রেটেড বোর্ড। এসব যন্ত্রপাতির এক বিরাট বাজার তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টরের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৭৭২ বিলিয়ন ডলারের। সম্ভাবনাময় এই ব্যবসায়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। নতুন নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সোলারিক, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, উল্কাসেমি, প্রাইম সিলিকন, টেটোন ইলেকট্রনিকস, ডিবিএল ডিজিটাল ইত্যাদি। এই খাতে সবশেষ যুক্ত হতে যাচ্ছে এসিআই।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে এসিআই গ্রুপের ওষুধ, কৃষি, অটোমোবাইল, ভোগ্যপণ্য, সুপার স্টোর ও এভিয়েশনের ব্যবসা আছে। অনেক পণ্যের বাজারেই তারা শীর্ষস্থানীয়। সব মিলিয়ে এসিআইয়ের কোম্পানির সংখ্যা ১৮। তারা যৌথ বিনিয়োগে আছে পাঁচটি কোম্পানিতে।




সেমিকন্ডাক্টর ও আবাসন ব্যবসায় নামছে এসিআই

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অ্যাডভান্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি তার ব্যবসা আরও বহুমুখীকরণ ও সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে। এবার নতুন করে আবাসন ও সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।সূত্র অনুসারে, নতুন দুই ব্যবসা শুরু করতে এসিআই প্রপার্টিজ লিমিটেড ও এসিআই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড নামের দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদ।

এসিআই প্রপার্টিজ লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন হবে ১০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। এসিআই পিএলসি নতুন এই প্রতিষ্ঠানের ৮৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে।

এসিআই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডেরও অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা হবে। এটিরও ৮৫ শতাংশ শেয়ার এসিআইয়ের কাছে থাকবে।

দেশে হাউজহোল্ড প্রোডাক্টসের চাহিদা বাড়তে থাকায় এই খাতে নতুন নতুন কোম্পানি ও কারখানা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আর এসব পণ্যের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে সেমিকন্ডাক্টরের। এই বিপুল চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসিআই। সেমিকন্ডাক্টরের আন্তর্জাতিক বাজারের আকারও অনেক বড়। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টরের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৭৭২ বিলিয়ন ডলারের।




পাবলিক অফার অব ইকুইটি রুলস বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন বুধবার

পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫ এর বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আগামী বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১০টায় বিএসইসির মাল্টিপারপাস হল (লেভেল-২)-এ সংবাদ সম্মেলন হবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিএসইসি থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসইসি পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫ গত ৩০ ডিসেম্বর গেজেট হওয়ার মাধ্যমে কার্যকর হয়। সংবাদ সম্মেলনে রুলসের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।




আইডিএলসি ফাইন্যান্সের নতুন চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের নতুন নেতৃত্ব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশের আর্থিক খাতের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব কাজী মাহমুদ সাত্তার। এর আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নমিনেটেড ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

আর্থিক খাতে কাজী মাহমুদ সাত্তারের রয়েছে ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। ১৯৮১ সালে এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে (মুম্বাই ও মেলবোর্ন) দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কর্পোরেট ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাকে দেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং কাঠামোর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

কাজী মাহমুদ সাত্তার দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক— ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশ এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ছাপ রয়েছে। বর্তমানে তিনি আরএসএ অ্যাডভাইজরি ও ব্লু-ওয়েলথ অ্যাসেটসসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আসীন রয়েছেন।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের আধুনিকায়নে কাজী মাহমুদ সাত্তারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্পোরেট ব্যাংকিং ও ট্রেজারি অপারেশনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণে তিনি পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন।

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এম জামাল উদ্দিন বলেন, কাজী মাহমুদ সাত্তারের মতো অভিজ্ঞ একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। তার হাত ধরে আইডিএলসি উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।




জিকিউ বলপেনের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জিকিউ বলপেন লিমিটডের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানিটির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসির রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানিটির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘বিবি’। আর স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-৪’।

২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত সময়ের অনিরিক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




বন্ধ ও লভ্যাংশহীন কোম্পানির জন্য ‘আর’ ক্যাটাগরি গঠনের প্রস্তাব

দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ, লোকসানি ও লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিগুলোকে মূল বোর্ড থেকে সরিয়ে আলাদা প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি। প্রস্তাবিত এই নতুন প্ল্যাটফর্মের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর’ ক্যাটাগরি। পুঁজিবাজারে দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার ঘিরে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও কারসাজি ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয় ও বিএসইস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের কমিটি গত নভেম্বরে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়াতে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘আর’ ক্যাটাগরির শেয়ারে লেনদেনে থাকবে কঠোর বিধিনিষেধ। এসব শেয়ার কেনার পর অন্তত এক মাস বিক্রি করা যাবে না। পাশাপাশি লেনদেন নিষ্পত্তির সময়ও বাড়িয়ে সাত দিন করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বিএসইসি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে দ্রুত এসব নিয়ম বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ডিএসইতে ৩৯৭টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ২০৫টি ‘এ’, ৮২টি ‘বি’ এবং ১১০টি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। কমিটি মনে করছে, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা অনেক কোম্পানি বছরের পর বছর বন্ধ থাকলেও মাঝেমধ্যেই এগুলোর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। বর্তমানে অন্তত ৩২টি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। কমিটির মতে, এসব কোম্পানির জন্য একটি সুশৃঙ্খল ‘এক্সিট প্ল্যান’ প্রয়োজন। নতুন আর-ক্যাটাগরি চালু হলে মূল বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।




ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে। কোম্পানিকে ক্রেডিট রেটিং দিয়েছে এমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানিটির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এ’ এবং স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-২’।

কোম্পানিটির গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্য অনুযায়ী এ ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের নাম পরিবর্তনে ডিএসইর সম্মতি

পুঁজিবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রগতি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির কাছে নাম পরিবর্তনের অনুমতি চেয়েছে। কোম্পানিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক দিক বিবেচনায় নাম পরিবর্তন করার অনুমতি দিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানির নাম ‘প্রগতি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড’ এর পরিবর্তে ‘প্রগতি ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’ রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ডিএসই। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে কোম্পানিটির নতুন নাম কার্যকর হয়েছে।

নাম সংশোধন ছাড়া কোম্পানির অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে।




আলহাজ্ব টেক্সটাইলের ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৩৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ০.৫০ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্য মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। আর ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ জানুয়ারি।

২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১০.০৭ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (০.৭৮) টাকা।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮.৫২ টাকা।

এই করপোরেট ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেনের কোনো মূল্য সীমা থাকবে না।




আর্গন ডেনিমসের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আর্গন ডেনিমস লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানিটির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যমতে, ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানিটির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এএ-’। আর স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-৩’।

কোম্পানিটির গত ৩০ জুন ২০২৫ সালের সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের সমাপ্ত প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে এ রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




সাফকো স্পিনিংয়ে অস্তিত্ব নিয়ে নিরীক্ষকের শঙ্কা

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেডের নিয়মিত লোকসানের কারণে অস্তিত্ব টিকে থাকা হুমকির মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতি থেমে নেই। ফলে আর্থিক হিসাবে দেখানো কোটি কোটি টাকার সত্যতা পায়নি কোম্পানিটির সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক।

কোম্পানিটির সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, সাফকো স্পিনিং কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার মজুদ পণ্য ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রমাণাদির অভাবে ওই সম্পদের সত্যতা খুঁজে পায়নি নিরীক্ষক। এছাড়া কোম্পানিটির ব্যাংক এশিয়া থেকে ১১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ নেওয়া রয়েছে। এরমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এক টাকাও পরিশোধ করেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ওই ঋণের উপর সুদ ব্যয় হিসাব করা হয়নি বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক।

এদিকে কোম্পানিটির ২০২৪ সালের ৩০ জুন ৬ কোটি ১২ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান হিসেবে সম্পদ ছিল। এর মধ্যে সুতা প্রদানকারীকে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ও প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়ালস সরবরাহকারীকে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করা হয়েছিল। এসব অর্থ আদায় হয়েছে বলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিরীক্ষককে মানি রিসিপ্ট ছাড়া প্রমাণ হিসেবে অন্য কোন ধরনের সহায়ক প্রমাণাদি দেখাতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে অবন্টিত লভ্যাংশ হস্তান্তর করেনি সাফকো স্পিনিং কর্তৃপক্ষ। কোম্পানিটিতে ১১ লাখ টাকার অবন্টিত লভ্যাংশ রয়েছে।

এরই ধরাবাহিকতায় কোম্পানিটির ঋণ, দায়, নিয়মিত আয় বা বিক্রি হ্রাস, দেনাদারের থেকে টাকা আদায় কমে আসা এবং লোকসানের কারণে ব্যবসায় অস্তিত্ব নিয়ে অনেক ঝুঁকি দেখেছেন সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক।

উল্লেখ্য, সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০০ সালে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২৯ কোটি ৯৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮১ হাজার ৭১৬। এর মধ্যে, সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৩০ শতাংশ, প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪.২৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬৫.৬৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




আড়াই মাস পর উৎপাদনে ফিরছে আরএকে সিরামিকের তৃতীয় ইউনিট

টানা আড়াই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরএকে সিরামিক লিমিটেডের তৃতীয় টাইলস উৎপাদন ইউনিটে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে সিরামিক উৎপাদক কোম্পানিটি।

তথ্য অনুয়ায়ী, আরএকে সিরামিকের মোট ৪টি টাইলস উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় উৎপাদন ইউনিটের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও অন্য তিনটি ইউনিটের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কোম্পানির পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, উৎপাদন লাইন-৩ এর যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য এটি গত ৮ অক্টোবর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন হওয়া নির্ধারিত সময়ের পরেই কোম্পানিটির তৃতীয় এই ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরবে।




ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে

‎দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (২১ থেকে ২৫ ডিসেম্বর) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য এ সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.৯৩ শতাংশ।

‎শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

‎তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৮.৫৫ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৮.৬৩ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.০৮ পয়েন্ট বা ০.৯৩ শতাংশ।

‎এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (১৪ থেকে ১৮ ডিসেম্বর) পিই রেশিও ছিল ৮.৭৬ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৮.৫৫ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.২১ পয়েন্ট বা ২.৪০ শতাংশ।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩.৩৫ পয়েন্টে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৪.২৪ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬.০৩ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৯.০৬ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ৯.৬২ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতে ১০.৭৪ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১১.০৯ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ১২.০৬ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১২.৩৯ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১২.৭১ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১২.৯৪ পয়েন্ট, সাধারণ বিমা খাতে ১৩.১৩ পয়েন্টে, আইটি খাতে ১৪.৪৪ পয়েন্টে, বিবিধ খাতে ১৫.১২ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১৬.০২ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ২১.৯৮ পয়েন্টে, পাট খাতে ২৬.৪৭ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৬০.১২ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ৮৬.৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।