পপুলার লাইফের ব্যবসা পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির বাছাইকৃত উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবসা পর্যালোচনা সভা চট্টগ্রাম পিএইচপি টাওয়ারের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির ফাইন্যান্স ডিরেক্টর ও পিপলস ইন্স্যুরেন্স পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী হোসেন চৌধুরী এবং প্রধান বক্তা ছিলেন কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী।

সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট বি এম ইউসুফ আলী।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং কোম্পানি সচিব মোস্তফা হেলাল কবির। অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ডিএমডিবৃন্দ ও ডিএমডিবৃন্দ, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

অনুষ্ঠানে বর্তমান ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা ও আগামী দিনের অগ্রগতির জন্য ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণ ও গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি, দ্রুত দাবি পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।




এআই প্রযুক্তিতে বাড়ছে বীমা প্রতারণার ঝুঁকি

বীমা খাতে প্রতারণার নতুন ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে ডিপফেক প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও, অডিও ও নথি এতটাই বাস্তবসম্মত হতে পারে যে আসল ও নকলের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে গ্রাহকের দেওয়া তথ্য ও ক্ষতিপূরণ দাবির সত্যতা যাচাইয়ে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

ডিপফেক এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাস্তবের মতো দেখতে ভুয়া ছবি, ভিডিও, অডিও বা তথ্য তৈরি করা যায়। একইভাবে আসল ছবি, ভিডিও কিংবা নথিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বীমা প্রতারণার নতুন পথ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বীমা খাতে ডিপফেকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেখা দিতে পারে ক্ষতিপূরণ দাবির ক্ষেত্রে। প্রতারকরা দুর্ঘটনার ভুয়া ছবি, সাজানো ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ, পরিবর্তিত পরিচয়পত্র, নকল চিকিৎসা প্রতিবেদন কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও ব্যবহার করে বীমার অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে গাড়ির বীমায় এ ধরনের প্রতারণার আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সতর্কতা বাড়ছে।

বর্তমানে গ্রাহকের তথ্য বিশ্লেষণ, পলিসি অনুমোদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন, ক্ষতিপূরণ দাবি যাচাই, গ্রাহকসেবা ও প্রতারণা শনাক্তকরণসহ বীমা খাতের বিভিন্ন কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ইউরোপীয় বীমা ও পেনশন কর্তৃপক্ষের (EIOPA) ২০২৫ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, ইউরোপের ৬৫ শতাংশ বীমা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আরও ২৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আগামী তিন বছরের মধ্যে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং গ্রাহকদের দ্রুত ও উন্নত সেবা দিতে এআইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। তবে প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এআই সব সময় কোনো তথ্য, ছবি বা নথি আসল নাকি কৃত্রিম—তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারে না।

কারণ এআই সাধারণত পূর্ববর্তী তথ্য ও নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল খুঁজে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কোনো ছবি সত্যিই দুর্ঘটনার সময় তোলা হয়েছে কি না, কোনো নথি আসল কি না কিংবা কোনো ভিডিওতে পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন।

এ কারণে অনেক বীমা প্রতিষ্ঠান এআইয়ের পাশাপাশি মানবিক যাচাই ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে। সাধারণ ক্ষতিপূরণ দাবির ক্ষেত্রে এআই দ্রুত প্রাথমিক যাচাই করতে পারলেও বড় অঙ্কের দাবি, সন্দেহজনক নথি কিংবা জটিল মামলার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চূড়ান্ত যাচাইয়ের গুরুত্ব এখনো রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে বীমা প্রতারণার কারণে প্রতিবছর বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বীমা প্রতারণা প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা কোয়ালিশন এগেইনস্ট ইন্স্যুরেন্স ফ্রডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বীমা প্রতারণার কারণে প্রতিবছর প্রায় ৩০৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। এর সঙ্গে এআই ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও নথির অপব্যবহার যুক্ত হওয়ায় প্রতারণার ধরন আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডিপফেক ব্যবহার করে বীমা প্রতারণার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ এ ধরনের অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। তবে বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্প বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করে ভুয়া দুর্ঘটনার ছবি, পরিবর্তিত নথি ও কৃত্রিম পরিচয় তৈরির মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি উঠে আসছে।

ডিপফেক শনাক্ত করতে তথ্যের উৎস যাচাই, পরিবর্তিত ছবি ও নথি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিওর উৎস, সেটিতে পরবর্তীতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না এবং উপস্থাপিত তথ্যের সঙ্গে মূল তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়।

ডিপফেকের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এআই ব্যবহারে নতুন নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইনে ঝুঁকিপূর্ণ এআই ব্যবস্থার জন্য বাড়তি নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও জাপানও এআই ব্যবহারে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও গ্রাহক সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশের বীমা খাতেও ধীরে ধীরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। অনলাইন পলিসি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল গ্রাহকসেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দাবি যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হলেও এআই ব্যবহার করে ডিপফেক শনাক্ত করার সক্ষমতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

দেশের অধিকাংশ বীমা প্রতিষ্ঠানে উন্নত এআইভিত্তিক তথ্য যাচাই ব্যবস্থা এখনো ব্যাপকভাবে চালু হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বীমা খাত আরও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিপফেকভিত্তিক প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত তথ্য যাচাই প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবিক যাচাই ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রমাণের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ের ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

আগামী দিনের বীমা খাতে শুধু দ্রুত ক্ষতিপূরণ দাবি নিষ্পত্তি করাই যথেষ্ট হবে না; বরং আসল ও কৃত্রিম তথ্যের পার্থক্য নির্ভুলভাবে শনাক্ত করাই হয়ে উঠবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা না গেলে ডিপফেক বীমা খাতে নতুন ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।




ব্যবসায়িক অগ্রগতি ও গ্রাহকসেবা নিয়ে পপুলার লাইফের সভা

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবসা পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং বীমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের পিএইচপি টাওয়ারের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির ফাইন্যান্স ডিরেক্টর ও পিপলস ইনস্যুরেন্স পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী হোসেন চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম ইউসুফ আলী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মোস্তফা হেলাল কবির। এছাড়া সিনিয়র ডিএমডি, ডিএমডি, প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আলী হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সততা, পরিশ্রম ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বীমা দাবি দ্রুত ও যথাযথভাবে পরিশোধসহ সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পপুলার লাইফ দেশের বীমা খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।’

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি




অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান

বছরের পর বছর গ্রাহকের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নেওয়া হলেও মেয়াদ শেষে কিংবা দুর্ঘটনা-দুর্যোগে বীমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি, নানা অজুহাত ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে। কোথাও আর্থিক অনিয়ম, কোথাও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, আবার কোথাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বীমা খাতের প্রতি গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনাস্থা। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বীমা খাতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন বলেছেন, বীমা খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের দীর্ঘদিনের সংশয় দূর করতে বীমা কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, দাবি পরিশোধের সামর্থ্য এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (IDRA) সদস্য (নন-লাইফ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে বীমা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন দৈনিক মাতৃভূমির খবরের সহ-সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি দল।
আলোচনায় বীমা খাতে বিদ্যমান সংকট, গ্রাহকসেবা, দাবি পরিশোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিসহ খাতটির উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরানো এখন আইডিআরএর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাবি পরিশোধে বিলম্ব, গ্রাহক হয়রানি, অতিরিক্ত ব্যয়, অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাতের সম্প্রসারণও বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আইডিআরএর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও সম্পদের প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই এবং ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হলে শুধু কাগজে-কলমে নির্দেশনা নয়, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।

বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর প্রিমিয়াম পরিশোধ করেও প্রয়োজনের সময় বীমা দাবি আদায়ে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে একদিকে যেমন গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আস্থাও নষ্ট হয়।

নতুন চেয়ারম্যানের বক্তব্যে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর মতে, গ্রাহকের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো বীমা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। সময়মতো ও ন্যায্যভাবে দাবি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বীমা খাতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, অনিয়মিত কমিশন প্রদান, বিনিয়োগে অসংগতি, আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে গড়িমসির মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সংকটে থাকা বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দায়িত্ব পর্যালোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই পড়ে। তাই বীমা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও গ্রাহকের দাবি পরিশোধের সামর্থ্য নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, কমিশন প্রদান এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

তবে বীমা খাতে দীর্ঘদিনের অনাস্থা একদিনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়মিত তদারকি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি। আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর যে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন বীমা খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির মাধ্যমে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের অনাস্থা কাটিয়ে আবারও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে দেশের বীমা খাত।




আলফা ইসলামী লাইফের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সভা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আলফা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির সেপ্টেম্বর মাসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন মাসের ব্যবসায়িক লক্ষ্য নির্ধারণ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলফা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম ছিদ্দিকী অভি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএমডি (ট্রেনিং) সাজেদুল বারী এবং ডিএমডি (অপারেশন) মোহাম্মদ শাহ আলম মামুন। এতে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

প্রশিক্ষণ পর্বে ব্যবসা সম্প্রসারণ, কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি, গ্রাহকসেবার উন্নয়ন এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এসইভিপি ও হেড অব ট্রেনিং মুত্তাকিন ইসলাম মুক্তা।

সভায় সেপ্টেম্বর মাসের ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি শাখার ব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা ও সদস্যকে আরও দায়িত্বশীল, সৎ, নিষ্ঠাবান ও পেশাদারভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় নতুন মাসকে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করে গ্রাহকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।




সাত লাইফ বীমা কোম্পানির ২,৫৪৯ গ্রাহকের ১৪ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি

সাতটি লাইফ বীমা কোম্পানির ২ হাজার ৫৪৯ জন গ্রাহকের ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আইডিআরএ’র উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন থাকা এসব দাবির অর্থ চেকের মাধ্যমে গ্রাহকদের দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আইডিআরএ’র সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের হাতে বীমা দাবির চেক তুলে দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

এসব দাবি সাতটি লাইফ বীমা কোম্পানির পলিসিধারীদের দেয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো- বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

এর মধ্যে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৮ জন গ্রাহকের ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৫২৮ জন গ্রাহকের ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪ জন গ্রাহকের ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৫ জন গ্রাহকের ১০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে।

 

এ ছাড়া পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬২৪ জন গ্রাহকের ১ কোটি ৯৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১ হাজার ৩৫০ জন গ্রাহকের ৬ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০ জন গ্রাহকের ৫ লাখ ২১ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে।

আইডিআরএ জানিয়েছে, এই সাতটি কোম্পানির মাধ্যমে ৯৪টি চেকের বিপরীতে মোট ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার বীমা দাবির অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করা আইডিআরএ’র প্রধান অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বীমা দাবির অর্থ পরিশোধের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সম্পদ তরলীকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও পর্যায়ক্রমে আরও বীমা দাবি পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে বীমা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গ্রাহকসেবা উন্নয়নে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং ডিজিটাল সেবা চালুর কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই সাতটি লাইফ বীমা কোম্পানির বীমা দাবি অনিষ্পন্ন ছিল। এর মধ্যে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৭ জন গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি, ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩৩ হাজার ১৩১ জন গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ছিল ৭৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৮ হাজার ৩৩১ জন গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবি ছিল ৪৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৫ হাজার ২৬৭ জন গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৭ জন গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ছিল ২৬৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪২ হাজার ১৬২ জন গ্রাহকের ১৬২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮৪ হাজার ৯৪৩ জন গ্রাহকের ২২৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার দাবি অনিষ্পন্ন ছিল।




বীমা কোম্পানির দেওয়া তথ্যই সঠিক নয়

বীমা কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) যে তথ্য দেয়, তা সব সময় প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। একাধিক বা গোপন সার্ভার ব্যবহারের কারণে কোম্পানির ব্যবসা ও আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও নিয়ন্ত্রকের হাতে থাকে না বলে জানিয়েছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বসে ২০২৫ সালের অডিট প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও তা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি কার্যকরভাবে তদারকি করা কঠিন। এর ওপর কোম্পানিগুলো যে তথ্য দিচ্ছে, সেটিই যদি সঠিক না হয়, তাহলে দেড় বছর আগের তথ্য দেখে বর্তমান ঝুঁকি শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

শুক্রবার ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত এক আবাসিক কর্মশালায় এসব কথা বলেন মীর নাদিয়া নিভিন। বীমা খাতের তথ্যের স্বচ্ছতা, ডিজিটাল রূপান্তর, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, গ্রাহকের দাবি পরিশোধ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, শুধু আর্থিক প্রতিবেদন দেখে বীমা খাতের প্রকৃত চিত্র বোঝা সম্ভব নয়। কোম্পানিগুলোকে প্রকৃত তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে আইডিআরএকে তথ্য সরবরাহের বিষয়ে আরও শক্তিশালী বিধান করতে হবে।

কোম্পানিগুলোর একাধিক বা গোপন সার্ভার ব্যবহারের অভিযোগ তুলে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, জীবনবীমা ও সাধারণ বীমা—দুই খাতের কোম্পানির ক্ষেত্রেই এ ধরনের তথ্য ব্যবস্থাপনার বিষয় সামনে এসেছে। এর ফলে কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে যে তথ্য দেয়, তার সঙ্গে প্রকৃত ব্যবসার তথ্যের মিল আছে কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে যেসব কোম্পানির একাধিক বা গোপন সার্ভার রয়েছে, সেগুলো শনাক্ত করে একীভূত করতে ছয় সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, নির্দেশনা না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথায় সার্ভার লুকানো হয়েছে, তা শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা করা আইডিআরের জন্য কঠিন নয়। প্রয়োজনে গ্যারেজ, বিছানার নিচে বা দেশের অন্য যেকোনো জায়গা থেকেও সার্ভার শনাক্ত করা হবে।

বীমা কোম্পানিগুলোর দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বা রিস্ক বেজড সুপারভিশন (আরবিএস) চালুর কথা জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো বীমা খাতে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোন কোম্পানি কী ধরনের তথ্য দিচ্ছে, কোথায় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং কোন প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে আইডিআরএ এ ধরনের ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে।

বীমা খাতের তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ করতে পুরো খাতের জন্য একটি অভিন্ন ‘ইউনিক পলিসি আইডি’ চালুর কথাও জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ব্যাংক হিসাব নম্বরের মতো পুরো বীমা খাতের জন্য একটি ইউনিক পলিসি আইডি চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি কোম্পানির নিজস্ব পলিসি নম্বর রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পুরো খাতে এ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইডিআরের দলগুলো বিভিন্ন কোম্পানিতে গিয়ে আরবিএস ব্যবস্থা স্থাপন, প্রশিক্ষণ এবং ইউনিক পলিসি আইডি চালুর কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মীর নাদিয়া নিভিনের মতে, এ ব্যবস্থা চালু হলে ভুয়া প্রিমিয়াম দেখানো, ব্যবসার তথ্য আংশিকভাবে প্রকাশ করা কিংবা একই ব্যবসার তথ্য গোপন করার সুযোগ কমবে।

বীমা কোম্পানিগুলোর তথ্য গোপনের সুযোগ বন্ধ করতে অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংক হিসাব শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে যৌথ অডিটের পরিকল্পনা চলছে।

বর্তমানে কোনো কোম্পানির তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আলাদাভাবে চিঠি দেওয়া ও জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এতে কোনো একটি সংস্থার চেয়ারম্যান বা কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।

Space for ads

নন-লাইফ বীমা খাতে এলসি ব্যবস্থায়ও ডিজিটাল নজরদারি চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মীর নাদিয়া নিভিন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আইডিআরএ থেকে দেওয়া ইউনিক কভার নোট আইডি ছাড়া কোনো ব্যাংক এলসি খুলতে পারবে না। এলসি খোলার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক আইডিআরের সিস্টেম থেকে কভার নোট যাচাই করবে।

এর ফলে প্রতিটি এলসির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বীমা ব্যবসার তথ্য আইডিআরের কাছে থাকবে। এতে ব্যবসার প্রকৃত পরিমাণ গোপন করার সুযোগ কমবে।

বকেয়া দাবি পরিশোধে সংকটে থাকা কয়েকটি বীমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি ও অন্যান্য সম্পদ নগদায়ন করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বলে জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে সাত-আটটি কোম্পানিকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এসব কোম্পানির জমি, ট্রেজারি বন্ড, এফডিআরসহ বিভিন্ন সম্পদ নগদায়নের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ আইডিআরের তদারকিতে পৃথক ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করা হবে।

দাবি পরিশোধে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ (এফআইএফও) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ যে গ্রাহকের দাবি আগে এসেছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাঁর দাবি আগে পরিশোধ করা হবে।

কোম্পানিগুলোর ব্যাংক হিসাবে আইডিআরের তদারকি ও নিরীক্ষকের উপস্থিতি থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোর সরাসরি ওই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। গ্রাহকদের দাবির তালিকাও নিরীক্ষকদের দিয়ে যাচাই করা হয়েছে।

বকেয়া দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কথা উল্লেখ করে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার দাবি পরিশোধ না করার বিষয় রয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটির নতুন প্রথমবর্ষের প্রিমিয়াম নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে নবায়ন প্রিমিয়াম নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, ফারইস্টের ফেনীতে থাকা একটি জমি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ এবং কিছু বন্ড নগদায়নের অর্থ গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েক শ কোটি টাকা দিয়ে পরিশোধ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। আরও কয়েকটি সম্পত্তি বিক্রির জন্য দরপত্র দেওয়া হচ্ছে।

ফারইস্টের সব সম্পদ ও বন্ড নগদায়ন করা হলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে বলে জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান। ওই অর্থ দিয়ে বড় একটি অংশের দাবি নিষ্পত্তির পর কোম্পানিটির ব্যবসার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে।

আইডিআরের জনবল সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যেখানে প্রায় ৭ হাজার কর্মী দিয়ে ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে আইডিআরএকে প্রায় ১৫০ জন জনবল দিয়ে ৮২টি বীমা কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।

আইডিআরের আইনগত দুর্বলতাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, ২০১০ সালের বীমা আইন বর্তমান আর্থিক খাতের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সময়ের সঙ্গে আইন হালনাগাদ ও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারের মতো কাজ করতে চান জানিয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, নিয়ন্ত্রক হিসেবে কোম্পানিগুলোকে আইডিআরের নির্দেশনা মানতে হবে।

কোনো কোম্পানি নিয়ন্ত্রকের নির্দেশনা না মানলে তাদের জন্য ব্যবসা করা কঠিন করে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। সামনে আইডিআরএকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, তার মূল দায়িত্ব পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করা। বীমা খাতকে শক্তিশালী আর্থিক খাতে পরিণত করতে হলে প্রথমে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, বীমা খাতের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণের পাশাপাশি সেগুলো প্রকৃত তথ্য কি না, সেই প্রশ্নও করতে হবে। জনগণের কাছ থেকে পাওয়া বাস্তব চিত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তুলে ধরলে সংস্কার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইআরএফ সভাপতি গোলাম মাওলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাজিম উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইআরএফ সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন।




স্বদেশ লাইফের সিইও পদে নিয়োগ নামঞ্জুর

শিক্ষাগত যোগ্যতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করায় স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সাজিদ হোসেনের নিয়োগ প্রস্তাব বাতিল করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। একই সঙ্গে বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তার নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর কারণ জানতে চেয়ে কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আইডিআরএর পরিচালক (লাইফ) ও উপসচিব দেবপ্রসাদ পাল স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। চিঠি দুটির স্মারক নম্বর যথাক্রমে ৮২ ও ৮৩।

আইডিআরএর চিঠিতে বলা হয়, স্বদেশ ইসলামী লাইফ তাদের সিইও হিসেবে মো. সাজিদ হোসেনের নিয়োগ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিল। আবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণির (থার্ড ক্লাস)। ‘বীমা কোম্পানি (মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ) প্রবিধানমালা, ২০১২ (সংশোধিতসহ)’ অনুযায়ী এ ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা সিইও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

Space for ads
আইডিআরএর ২০০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না হওয়ায় সাজিদ হোসেনের নিয়োগ প্রস্তাব নামঞ্জুর করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবিধানমালা অনুযায়ী যোগ্য একজন প্রার্থীকে সিইও পদে নিয়োগের জন্য দ্রুত আবেদন করতে কোম্পানিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্য চিঠিতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কেন সাজিদ হোসেনের নিয়োগের প্রস্তাব কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ জন্য কোম্পানিটির চেয়ারম্যানকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে আইডিআরের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ২৮ জুন সাজিদ হোসেনকে সিইও পদে নিয়োগের অনুমোদন চেয়ে আইডিআরে আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনটি পর্যালোচনার পর তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিধিমালার শর্ত পূরণ না করায় নিয়োগ প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।




পুনঃবীমা নিয়ে আইডিআরএ-বিআইএর বৈঠক

দেশের বীমা খাতে পুনঃবীমা ব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সঙ্গে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আইডিআরের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিআইএর সভাপতি সাঈদ আহমেদ এমপির নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। আইডিআরের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের পুনঃবীমা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে সম্ভাব্য করণীয় এবং বীমা খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।

এ সময় দেশের বীমা খাতের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে আইডিআরের পক্ষ থেকে বীমা খাতকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় রেগু‌লেট‌রি উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়।

বিআইএর প্রতিনিধি দল পুনঃবীমা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিল্পসংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন বিষয় ও উদ্বেগ তুলে ধরে। এসব বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।




সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স্যের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা সম্প্রতি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির ভাইস-চেয়ারপার্সন শহিদুল ইসলাম নিরু। সভায় ২০২৫ইং সালের নিরীক্ষিত হিসাবের ভিত্তিতে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫% নগদ এবং ৫% স্টক ডিভিডেন্ট অনুমোদন করা হয়।

সভায় অংশগ্রহণ করেন কোম্পানির সম্মানিত পরিচালক, আল-হাজ্ব মো. রুহুল আমিন, আলহাজ্ব মো. শামসুল হক, আবুল কালাম আজাদ, মি. কৈলাশ চৈন্দ্র বাড়ৈ, মি. গঙ্গাচরণ মালাকার, মি. সুমিত কুমার বাড়ৈ, এ.এন.এম. রেজওয়ানুল কাইউম, ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুনুর রশীদ মোল্লা, মিসেস ফাহমিদা ওয়ালিউল্লাহ, ইনডিপেনডেন্ট পরিচালক ও এনআরসি এর চেয়ারপার্সন ড. শরীফ এনামুল কবির এবং নারী ইনডিপেনডেন্ট পরিচালক বদরুন নেসা।

আরও অংশগ্রহণ করেন কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুল হুদা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সভা পরিচালনা করেন কোম্পানি সচিব আব্দুর রউফ গোমস্তা।




জীবন বিমা কোম্পানির সিইওদের যোগ্যতা ও নিয়োগের তথ্য চায় আইডিআরএ

দেশের সব জীবন বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগের বৈধতা যাচাই করতে নথিপত্র তলব করেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

এ জন্য সিইওদের হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র এবং সিইও হিসেবে নিয়োগ অনুমোদনের প্রমাণক জমা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আইডিআরএর পরিচালক (লাইফ) ও উপসচিব দেবপ্রসাদ পাল স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে দেশের সব লাইফ বিমা প্রতিষ্ঠানের মুখ্য নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের এসব নথি জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব লাইফ বিমাকারীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিয়োগ অনুমোদনের সব প্রমাণক আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে।

নথিপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট গুগল ফরমের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদ করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সিইওদের তথ্যের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আইডিআরএ।

বিমা খাত–সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিইওদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং নিয়োগ অনুমোদনের তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিইও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে পূরণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।




আইডিআরএর সদস্য পদে সিরাজুল ইসলাম

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক (ইডি) মো. সিরাজুল ইসলামকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সদস্য (প্রশাসন) পদে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বিমা অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী মো. সিরাজুল ইসলামকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে তিন বছর মেয়াদে আইডিআরএর সদস্য (প্রশাসন) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের পর তার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বিমা অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন।

মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আইডিআরএর সদস্য (প্রশাসন) হিসেবে নতুন দায়িত্বে তার এই অভিজ্ঞতা দেশের বিমা খাতের নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কাজে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




সোনালী ব্যাংকের পাঁচ শাখার ঋণসীমা তুলে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট শাখার ওপর দীর্ঘদিনের ঋণ বিতরণে আরোপিত সীমা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে এসব শাখাসহ ব্যাংকটির সব শাখা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ফলে সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়, ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট, শিল্প ভবন করপোরেট, শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ করপোরেট এবং চট্টগ্রামের লালদীঘি করপোরেট শাখায় ঋণ বিতরণের নির্ধারিত সীমা আর থাকছে না। এর আগে শাখাভেদে সর্বোচ্চ ৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণে বিধিনিষেধ ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বড় গ্রাহকদের অর্থায়নের সুবিধার্থে এই সীমা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিল সোনালী ব্যাংক। আবেদনে ব্যাংকটি জানায়, অধিকাংশ বড় ও ভালো গ্রাহক এসব শাখার সঙ্গে লেনদেন করলেও সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই আবেদন অনুমোদন করে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিতর্কিত বা ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পাঁচটি শাখায় ঋণসীমা থাকায় অনেক যোগ্য গ্রাহককে অর্থায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। সীমা তুলে নেওয়ায় এখন নিয়ম অনুযায়ী ভালো গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় ঋণ দেওয়া যাবে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে কয়েক বছর আগে সোনালী ব্যাংকের এসব শাখায় ঋণ বিতরণে সীমা আরোপ করা হয়। পরে হল-মার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকটির ঋণ কার্যক্রমে নজরদারি আরও কঠোর করা হয়।

এর আগে গত জুনে স্থানীয় কার্যালয় শাখার ঋণসীমা ৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ গত জুলাইয়ে পাঠানো আবেদনের পর বাকি বিধিনিষেধও প্রত্যাহার করা হয়।




ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দাবি নিষ্পত্তিতে ধারাবাহিক অগ্রগতি গার্ডিয়ান লাইফের

ব্যবস্থাপনা ব্যয় ধারাবাহিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি বিমা দাবি নিষ্পত্তিতেও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। এর ফলে গ্রাহকেরা আরও উন্নত ও সময়োপযোগী সেবা পাচ্ছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) কোম্পানিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সীমার তুলনায় দেশের সব বিমা কোম্পানির মধ্যে সর্বোচ্চ সাশ্রয় করেছে গার্ডিয়ান।আইডিআরএর নিয়ম অনুযায়ী, এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সীমা ছিল ৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫০ কোটি ১ লাখ টাকা। অর্থাৎ অনুমোদিত সীমার তুলনায় ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা কম ব্যয় করেছে গার্ডিয়ান।

গার্ডিয়ান বরাবরই ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়ে আসছে। ২০২৫ সালেও প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সীমা ছিল ২২৬ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা। সে সময় ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়েছিল ১৯২ দশমিক ৩১ কোটি টাকা এবং অনুমোদিত ব্যয়সীমার বিপরীতে সাশ্রয় হয়েছিল ৩৪ দশমিক ০৫ কোটি টাকা।

একই সময়ে পলিসিধারীদের প্রতি অঙ্গীকার বাস্তবায়নেও ইতিবাচক অগ্রগতি ধরে রেখেছে গার্ডিয়ান। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ৫৬ হাজার ৪৭৮টি বিমা দাবি পরিশোধ করেছে, যা টাকার মূল্যে দাঁড়ায় ১৫০ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১২৯ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত বিমা দাবির সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ১৩৪টি। ফলে দাবি নিষ্পত্তির পরিমাণ এক বছরে বেড়েছে ১৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সময়মতো দাবি নিষ্পত্তি এবং গ্রাহকসেবার প্রতি ধারাবাহিক গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটেছে প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ আর্থিক পরিসংখ্যানে। আইডিআরএ-এর নির্ধারিত ব্যয়সীমার অনেক নিচে ব্যবস্থাপনা ব্যয় বজায় রেখে গার্ডিয়ান একদিকে বিচক্ষণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে, অন্যদিকে দাবি নিষ্পত্তিতে প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে পলিসিধারীদের আরও সময়োপযোগী সহায়তা এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে।

এ বিষয়ে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রকিবুল করিম, এফসিএ বলেন, “আর্থিক শৃঙ্খলা ধরে রাখার প্রকৃত তাৎপর্য তখনই তৈরি হয়, যখন পলিসিধারীরা তার সুফল পান। আমরা দায়িত্বশীলভাবে আমাদের সম্পদ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় গ্রাহকেরা যেন দ্রুত সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করছে এবং একই সঙ্গে ধারাবাহিকতা ও যত্নের সঙ্গে গ্রাহকদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পূরণে সহায়তা করছে।”

ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি গ্রাহকসংখ্যাও বাড়িয়েছে গার্ডিয়ান লাইফ। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিমা সুরক্ষার আওতায় থাকা ব্যক্তিগত পলিসিধারীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখে।




ছয় মাসে মেটলাইফের ১৩৮৪ কোটি টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) এক হাজার ৩৮৪ কোটি টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। গ্রাহকের বীমা সুবিধা হিসেবে পরিশোধ করা অর্থের পাশাপাশি চিকিৎসা ও মৃত্যু দাবি হিসেবে পরিশোধ করা অর্থ এর অন্তর্ভুক্ত। কোম্পানিটি গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, ‘বছরের প্রথম ছয় মাসে নিষ্পত্তি হওয়া বীমা দাবির পরিমাণই প্রমাণ করে, গ্রাহক ও তাদের পরিবারের প্রয়োজনে পাশে থাকার ব্যাপারে আমরা কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করার মাধ্যমে আমরা গ্রাহকের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এবং দেশের বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে চাই।’

মেটলাইফ ধারাবাহিকভাবে সময়মতো বীমা দাবির অর্থ পরিশোধের রেকর্ড বজায় রেখে আসছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে মেটলাইফ দুই হাজার ৮৯৫ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে, যা বাংলাদেশের সব জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছরে প্রতিষ্ঠানটি ৯৮% দাবি নিষ্পত্তির হার বজায় রেখেছে।




ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে ৯০৪ কোটি টাকা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে গত এক বছরে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে প্রায় ৯০৪ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে কোম্পানিটি।

আর্থিক প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির সমন্বিত জীবন বিমা তহবিলের (লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফান্ড) স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১০২ কোটি ৬ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময় শেষে এ তহবিলের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ১৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে ৯০৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মোট আয় থেকে মোট ব্যয় ও দাবি (ক্লেইম) পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত (সারপ্লাস) দাঁড়িয়েছে ২০৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ উদ্বৃত্ত ছিল ১৬৯ কোটি ৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটির মোট আয় থেকে মোট ব্যয় ও দাবি পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত হয়েছে ৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে যা ছিল ২০১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এছাড়া, ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (কনসোলিডেটেড এনওসিএফপিএস) হয়েছে ২৩ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৩ টাকা ১৯ পয়সা।




১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ব্যবসায় অর্জিত মুনাফার বিপরীতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ লভ্যাংশের ঘোষণা দেয় বিমা কোম্পানিটি।

ঘোষিত লভ্যাংশসহ অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ আগস্ট।

এদিকে আজ ডিএসইর মাধ্যমে কোম্পানির চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির জীবন বিমা হিসাবে (দাবি পরিশোধসহ) ১৫ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকার ঘাটতি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, শুধুমাত্র দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির জীবন বিমা হিসাবে (দাবি পরিশোধসহ) হিসাবে ৮ কোটি ১১ লাখ টাকার ঘাটতি হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের একই সময়ে কোম্পানিটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার উদ্বৃত্ত অর্জন করেছিল।

এদিকে, ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৮৫ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে যা ছিল ৪৭৯ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিল ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি ১ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার। সোমবার (২০ জুলাই) লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ৯০ টাকা ৬০ পয়সা।




প্রথমার্ধে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস বেড়েছে ৩৮ শতাংশ

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রগতি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ৩৮ শতাংশ বেড়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ১১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ এ সময়ে ইপিএস বেড়েছে ৮৫ পয়সা বা ৩৮ শতাংশ।

এদিকে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা। ফলে প্রান্তিক ভিত্তিতে ইপিএস বেড়েছে ২৯ পয়সা বা প্রায় ২৪ শতাংশ। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ৪৩ পয়সা।

 

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিচালন আয় এবং অন্যান্য আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ইপিএসে এ প্রবৃদ্ধি এসেছে। এছাড়া প্রিমিয়াম সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য আয় বাড়ার কারণে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় উন্নত হয়েছে।

২০২৫ অর্থবছরে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ৫ টাকা ৩১ পয়সা। ওই বছরের আর্থিক ফলাফলের ভিত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৭ শতাংশ নগদ এবং ৩ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

 

ঘোষিত লভ্যাংশসহ অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে।




প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর ও গৌরবময় সাফল্য উৎসব করেছে ন্যাশনাল লাইফ

দেশের শীর্ষস্থানীয় জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি ‘প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর ও গৌরবময় সাফল্য উৎসব’ উদযাপন করেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আগত ন্যাশনাল লাইফের প্রায় দুই হাজার সফল উন্নয়নকর্মী, বীমা শিল্প ও আর্থিক খাতের সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ এমপি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন। এছাড়া কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ ও নির্বাহীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসা উন্নয়নে কর্মকর্তাদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দাবি পরিশোধ, করপোরেট সুশাসন পরিপালন এবং বীমা শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য অর্জিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার নিয়ে প্রধান অতিথিসহ সবাই উৎসব ও ফটোসেশনে অংশ নেন।
এছাড়া ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বীমা দাবির চেক হস্তান্তরের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ এরিয়া ও জোন প্রধানসহ সফল বীমাকর্মীদের মধ্যে গোল্ড মেডেল ও বিশেষ প্রণোদনা পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সারা দেশের উন্নয়ন কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে, যা কোম্পানির ব্যবসা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ও সিইওদের নিয়ে সভা ডেকেছে বিআইএ

দেশের বীমা শিল্পের চলমান সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং করণীয় নির্ধারণে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) নিয়ে উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)।

আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিআইএর সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক (এনডিসি) স্বাক্ষরিত ৫ জুলাইয়ের এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বীমা শিল্পের চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ।

বিআইএ সভাটিকে বীমা খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে কোনো কারণে চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকতে অপারগ হলে কোম্পানির ভাইস-চেয়ারম্যান অথবা পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যকে অবশ্যই সভায় অংশ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির চেয়ারম্যানকে যথাযথভাবে অবহিত করার জন্যও সিইওদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বীমা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, অনিষ্পন্ন দাবি নিষ্পত্তি, নিয়ন্ত্রক সংস্কার এবং শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে বিআইএর এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




পলাতক থেকেও ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে সাঈদ খোকনের দাপট

ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে করপোরেট গভর্ন্যান্স লঙ্ঘন, বোর্ড পরিচালনায় অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পৃথক তদন্ত শেষ হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পক্ষ থেকে দীর্ঘ দিনেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বীমা খাতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন সাঈদ খোকন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে না গেলেও অজ্ঞাত স্থান থেকে কোম্পানির কার্যক্রমে তার প্রভাব বজায় রেখেছেন। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনি অনলাইনে যুক্ত হয়ে অংশ নেন। ওই সভায় ১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইডিআরএ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালকদের সভায় সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক হওয়ায়, সাঈদ খোকনের ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ এবং ওই সভার সিদ্ধান্তগুলোর আইনি বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় সাঈদ খোকনের হয়ে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন তার চাচা ও কোম্পানিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ঈসমাইল নওয়াব।

এই অনিয়মের সূত্র ধরে কোম্পানির সাতজন উদ্যোক্তা পরিচালকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ নভেম্বর বিএসইসি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তদন্ত শেষ হওয়ার পরও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তে চেয়ারম্যান হিসেবে সাঈদ খোকনের দীর্ঘ ১৩ বছরের একছত্র দায়িত্ব পালন, বোর্ড অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্যোক্তা পরিচালক অপসারণ করে নিজের পরিবারের সদস্যদের পরিচালক নিয়োগ, কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিমতো নিয়োগ ও অপসারণ এবং আইন লঙ্ঘন করে আত্মগোপনে থেকে কোম্পানি পরিচালনার মতো গুরুতর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়।

একই বিষয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আইডিআরএ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানিকে বিশেষ তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও এখন পর্যন্ত সেই তদন্তের ফলাফল বা পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের কথা অন্ধকারেই রয়ে গেছে। বিএসইসিতে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিচালকেরা দাবি করেন, ২০১২ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর সাঈদ খোকন কোম্পানিতে একক রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সাতজন স্পন্সর পরিচালককে অন্যায়ভাবে অপসারণ করে নিজের পরিবারের সদস্য ও নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বসিয়েছেন, যারা বর্তমানে প্রায় ৩০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন, যা সম্পূর্ণ প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। এছাড়া নিজের সিদ্ধান্তে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিব নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রে কোম্পানির সচিব ও পরিচালক নুর মোহাম্মদ মামুন তাকে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অপসারিত উদ্যোক্তা পরিচালকদের পুনর্বহাল এবং পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আইডিআরএ-এর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এবং বিএসইসি-এর চেয়ারম্যান মাসুদ খানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী পরিচালকেরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএ-এর উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন শীর্ষ পদ খালি থাকায় অনেক বিষয়েই এতদিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যেহেতু সম্প্রতি নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়েছে, তাই কর্তৃপক্ষ এখন এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।




ন্যাশনাল লাইফের ৩৭% নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। কোম্পানির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সভায় বিপুল সংখ্যক শেয়ারহোল্ডার অংশ নেন।

সভায় কোম্পানির পরিচালক মতিউর রহমান, এস আই চৌধুরী, ব্রিগিডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাসুদ হোসেন, মামুনুর রশিদ, ডা. শামীম খান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন, ডিএমডি খসরু চৌধুরী, ডিএমডি এন্ড সিএফও প্রবীর চন্দ্র দাস এফসিএ উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত শেয়ার হোল্ডারগণ তাদের বক্তব্যে কোম্পানির বর্তমান অগ্রগতি ও সাফল্যের জন্য পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সভায় শেয়ারহোল্ডারগণ সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৫ সালের ব্যালেন্সসীট ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যমানের শেয়ারের বিপরীতে ৩৭% নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন।

সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন অংশগ্রহণকারী শেযারহোল্ডার, পরিচালক ও উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতে কোম্পানির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




আইডিআরএর প্রথম নারী চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান হিসেবে মীর নাদিয়া নিভিনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাকে কার্যভার নেওয়ার তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি সংস্থাটির প্রথম নারী চেয়ারম্যান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী মীর নাদিয়া নিভিনকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে আইডিআরএর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগের মেয়াদ হবে কার্যভার নেওয়ার দিন থেকে তিন বছর।

 

এতে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান হিসেবে তার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজন চেয়ারম্যান পেয়েছে আইডিআরএ। সবশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সচিব এম আসলাম আলম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। চলতি বছরের মার্চে তাকে চলে যেতে হয়।




ঝুলে আছে ৬০ বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৬০টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন বেআইনিভাবে আটকে রেখেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমাদানকারী কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি আইডিআরএ। উল্টো সংশোধিত বিধিমালার আলোকে আরোপিত ২ টাকা ৫০ পয়সা হারে বর্ধিত নবায়ন ফি আদায়ের নির্দেশনা চেয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

২০২৬ সালের ফি নির্ধারণের সুবিধার্থে সংশোধিত বিধিমালা নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট প্রস্তাব চাওয়ার প্রেক্ষিতে ৩ জুন আইডিআরএ এ চিঠি দেয়। এতে বলা হয়, “ইতিমধ্যে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে বীমা আইন ২০১০ এর ১১(২)(৩) ধারার বিধান মতে ২০১৮ সনে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকা হারে বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায়পূর্বক বর্ণিত লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোন কোন বীমাকারী বর্ধিত (১.৫০ টাকা) ফি প্রদান হতে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় তারা সরকার হতে এ বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

ইতিমধ্যে ০৬ টি লাইফ বীমা কোম্পানি এবং ১৪ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা হারে নবায়ন ফি জমা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সনের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করে নিয়েছে।
এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ৩(২) এর সর্বশেষ ২০২৬ সনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত হারে (প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা) নবায়ন ফি আদায়ের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”

যদিও এর আগে কয়েক দফায় ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন ফি জমাদানকারী বীমা কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে প্রয়োজন হলে সরকারি গেজেট সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে খাতের অংশীজনদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমূহূর্তে তাড়াহুড়ো করে আইডিআরএ’র বিদায়ী চেয়ারম্যান এম আসলাম আলমের প্রস্তাবে নবায়ন ফি বাড়িয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধি ৩(২) এ ২০২৬ সাল থেকে ২০৩২ ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন ফি বর্ধিত করার বিধান যুক্ত করা রয়েছে।

তবে সংশোধিত ওই বর্ধিত ফি দিতে অস্বীকৃতি জানায় বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি। নতুন করে আরোপ করা বর্ধিত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৬০টি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স এখনো নবায়ন হয়নি।

বিরোধের মূল কোথায়: বীমা আইন অনুযায়ী, পরবর্তী বছরের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন ও ফি জমা দিতে হয় আগের বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। সে অনুযায়ী বীমা কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের মধ্যেই ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেয়।
তবে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালায় নবায়ন ফি বাড়িয়ে প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা থেকে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এই নতুন হারই এখন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।

বীমা কোম্পানিগুলোর যুক্তি যে সময় তারা ফি জমা দিয়েছে, তখন পুরনো বিধিমালাই কার্যকর ছিল। তাই পরবর্তীতে সংশোধিত হার প্রয়োগ করে অতিরিক্ত ফি দাবি করা আইনসম্মত নয়। আইডিআরএ’র পক্ষ থেকেও চিঠিতে আইন লঙ্ঘন করে ইচ্ছাকৃতভাবে নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। বীমা আইন, ২০১০ এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো বীমা কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট বছরের লাইসেন্স নবায়নের জন্য পূর্ববর্তী বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন ও নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। একই আইনের ১১(৩) ধারা অনুযায়ী, আবেদন ও ফি গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন করতে বাধ্য।

অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (৩০ নভেম্বর ২০২৫) নিবন্ধন ফি জমা দেয়ার পরও আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে লেখা আইডিআরএ’র চিঠিতেই স্পষ্ট হয়েছে- চিঠিরে একাংশে বলা হয়েছে-
“সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করায় সংস্থাটির ব্যয়ের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ০১-০৭-২০২৫ তারিখে উক্ত বিধিমালার বিধি ৩(২) এ নির্ধারিত বীমাকারী নিবন্ধন নবায়নের ফি সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা ২০২৬ সন হতে কার্যকর করার প্রস্তাব করায় নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখা হয়। বিধিমালা সংশোধনের ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে একাধিকবার এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ব্যাপক পরামর্শকমূলক সভা করে ঐক্যমতে পৌঁছার পর সর্বশেষ ০৪-০২-২০২৬ তারিখে আইনের ধারা ১১ (২) এর রেফারেন্সে উক্ত বিধিমালার সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করা হয়। ”

বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন- কোনো সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সেবা স্থগিত রাখা কতটা আইনসম্মত। আইন সংশোধন হওয়ার আগেই একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজস্ব স্বার্থে কোনোভাবেই বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করতে পারে কি না? বিষয়টি মূলত- রেট্রোস্পেকটিভ অ্যাপ্লিকেশন’ বা পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন বিধান প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

যেখানে আইডিআরএ নিজেই বলেছে-প্রায় সকল বীমাকারী আইনের উপরোক্ত ধারা অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ (এক) টাকা হারে নবায়ন ফি পরিশোধ করে ২০২৬ সনের জন্য নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করেছে। তবে ফি নির্ধারণে বিলম্ব ও অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে সময়মতো লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারির সংশোধনী বাতিল এবং ২০১৮ সালের ফি কাঠামো বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ মূলত “রেট্রোস্পেকটিভ প্রয়োগ” (পূর্ববর্তী সময়ের ওপর নতুন আইন প্রয়োগ) নিয়ে। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দেওয়ার পর নতুন হার চাপিয়ে দেওয়া হলে তা আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তারা আরও বলছেন, দ্রুত সমাধান না এলে বীমা খাতে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

আইডিআরএ’র চিঠিতে যা আছে:
দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন -বিআইএ এই বর্ধিত ফি ছাড়াই লাইসেন্স নবায়ন করে দিতে আইডিআরএকে চিঠি দিলেও তা রক্ষা করেনি। বরং সংশোধিনীর আলোকে বর্ধিত ফি নিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা চেয়ে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। গত ৩ জুন আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে উপপরিচালক (নন লাইফ) মোঃ সোলায়মান সচিব বরাবর এই চিঠি দিয়েছেন।

নন-লাইফ ও লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন প্রসঙ্গে দেয়া ওই চিঠিতে বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করার পর বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্রোক্ত স্মারকের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয় হতে সকল ব্যয় মিটাতে হয়। বীমাকারী লাইসেন্স নবায়ন ফি এ সংস্থার আয়ের প্রধান উৎস। বীমা আইন, ২০১০ এর এতদসংক্রান্ত ধারা ১১(২) এর রেফারেন্সে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ জারী করা হয় এবং এর বিধি ৩(২) অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ৩.৫০ টাকা নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়। ২০১৮ সনে হঠাৎ করে এ লাইসেন্স নবায়ন ফি উক্ত ৩.৫০ টাকা হতে কমিয়ে ১.০০ টাকায় নামিয়ে আনলে এ সংস্থার আয় দারুণভাবে কমে যাওয়ায় ব্যয় নির্বাহ কষ্টকর হয়ে পড়ে।

২. তাছাড়া ২০২৫ সনে এ সংস্থার জনবল বৃদ্ধি, কমপ্লিট ডিজিটাইজেশন, ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশন, বাংলাদেশ একচ্যুয়ারিয়াল ইন্সটিটিউট এবং বাংলাদেশ চার্টার্ড ইন্স্যুরেন্স ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি যুগোপযোগী সংস্কারমূলক কার্যক্রম শুরু করায় সংস্থাটির ব্যয়ের মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ০১-০৭-২০২৫ তারিখে উক্ত বিধিমালার বিধি ৩(২) এ নির্ধারিত বীমাকারী নিবন্ধন নবায়নের ফি সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয় এবং তা ২০২৬ সন হতে কার্যকর করার প্রস্তাব করায় নিবন্ধন নবায়ন স্থগিত রাখা হয়। বিধিমালা সংশোধনের ব্যাপারে অংশীজনদের সাথে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে একাধিকবার এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ব্যাপক পরামর্শকমূলক (Consultation) সভা করে ঐক্যমতে পৌঁছার পর সর্বশেষ ০৪-০২-২০২৬ তারিখে আইনের ধারা ১১ (২) এর রেফারেন্সে উক্ত বিধিমালার সংশোধনী বাংলাদেশ গেজেটে প্রজ্ঞাপন আকারে জারী করা হয়। সর্বশেষ সংশোধিত এ বিধিমালায় ২০২৬, ২০২৭ এবং ২০২৮ সনের বীমা ব্যবসার নিবন্ধন নবায়ন ফি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

৩. ইতিমধ্যে গত ০৮-০৩-২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশন সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে বীমা আইন ২০১০ এর ১১(২)(৩) ধারার বিধান মতে ২০১৮ সনে সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১.০০ টাকা হারে বীমাকারীর লাইসেন্স নবায়ন ফি আদায়পূর্বক বর্ণিত লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে এবং কোন কোন বীমাকারী বর্ধিত (১.৫০ টাকা) ফি প্রদান হতে বিরত রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনায় তারা সরকার হতে এ বিষয়ে নির্দেশনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ৪. ইতিমধ্যে ০৬ টি লাইফ বীমা কোম্পানি এবং ১৪ টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানি প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা হারে নবায়ন ফি জমা প্রদান করে কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সনের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করে
নিয়েছে।

৫. এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ৩(২) এর সর্বশেষ ২০২৬ সনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত হারে (প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ২.৫০ টাকা) নবায়ন ফি আদায়ের জন্য সদয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।”




প্রথম প্রান্তিকে ৩ বীমা কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের চার কোম্পানি চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আলোচ্য সময়ে তিনটি কোম্পানির মুনাফা বাড়লেও একটির কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

যেসব কোম্পানির প্রথম প্রান্তিক অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেগুলোর মধ্যে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা কমেছে। মুনাফা বেড়েছে- বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির (বিজিআইসি), প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ও ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের।

রূপালী ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিটির জানুয়ারি থেকে মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪০ পয়সা। আলোচ্য সময়ে ইপিএস কমেছে ৭ পয়সা বা ১৮ শতাংশ।

গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৭০ পয়সা।

বিজিআইসি
কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৬৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল ৬৭ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটর ইপিএস বেড়েছে ২ পয়সা বা ৩ শতাংশ।

গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৩১ পয়সা।

প্রাইম ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৭৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৬১ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির ইপিএস বেড়েছে ১৮ পয়সা বা ৩০ শতাংশ।

গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৫৫ পয়সা।

ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৭৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ৬৩ পয়সা। আলোচ্য সময়ে ইপিএস বেড়েছে ১১ পয়সা বা ১৭ শতাংশ।

গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ৭১ পয়সা।




প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।
কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ৭৯ পয়সা আয় (ইপিএস) হয়েছে। গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ৬১ পয়সা আয় হয়েছিল।

প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশফ্লো ছিল মাইনাস ১ টাকা ১ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল মাইনাস ৯২ পয়সা।

গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৩ টাকা ৫৫ পয়সা।

 




বিজিআইসির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি (বিজিআইসি) গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।
কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ৬৯ পয়সা আয় (ইপিএস) হয়েছে। গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ৬৭ পয়সা আয় হয়েছিল।

প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশফ্লো ছিল ৪০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩৯ পয়সা।

গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২০ টাকা ৩১ পয়সা।




গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানূয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (EPS) হয়েছে ৭৩ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছিল ১ টাকা ৩ পয়সা।

আলোচিত সময়ে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের প্রবাহ ছিল ১ টাকা ৮১ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ১ টাকা ৩৮ পয়সা ছিল।

গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৭০ টাকা ৪৩ পয়সা।




পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

 

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আলোচিত প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (EPS) হয়েছে ৪৩ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ৩৩ পয়সা।

গত ৩১ মার্চ ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৪ টাকা ৭৫ পয়সা।




‘হেয়ার কাট’ বাতিলসহ তিন দাবিতে চট্টগ্রামে গ্রাহকদের অবস্থান

‘হেয়ার কাট’ বাতিল, লেনদেন স্বাভাবিক করা এবং কষ্টার্জিত আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে চট্টগ্রামে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা।

সোমবার (১১ মে) নগরীর এনায়েত বাজার এলাকার গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন শাখায় এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমাকৃত অর্থ তুলতে না পেরে তারা মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। সকালে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের শাখায় অবস্থান নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন তারা। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন। পরে আরও কয়েকটি একীভূত ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার কথাও জানান তারা।

ভুক্তভোগী আমানতকারীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচিত সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

তাদের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতকারীদের মাত্র ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে লাখ লাখ আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এক ভুক্তভোগী আমানতকারী বলেন, আমাদের কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে রেখে আজ আমরা বিপদের মধ্যে আছি। বাংলাদেশ ব্যাংককে এর দায় নিতে হবে। আমরা চাই সরকার আমাদের বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে কথা বলুক।

আরেক আমানতকারী বলেন, তিন-চার মাস নয়, প্রায় এক বছর ধরে আমরা ব্যাংকে ব্যাংকে ঘুরছি। কোনো আশ্বাস পাচ্ছি না। সন্তানদের সেমিস্টার ফি দিতে পারছি না, ঈদের কেনাকাটা করতে পারছি না। আমাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাই। আমরা ব্যাংক ছেড়ে যেতে চাই না। ধীরে ধীরে টাকা দিলেও হবে, কিন্তু লেনদেন স্বাভাবিক করতে হবে। আমাদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রাহকেরা জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের পর থেকেই তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তাদের অভিযোগ, আমানতের অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি ‘হেয়ার কাট’ নামে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমা টাকার নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গ্রাহকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ।

প্রসঙ্গত, তিন দফা দাবিতে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শাখায় শাখায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ব্যাংকের গ্রাহকেরা। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে আমানতের টাকা ফেরত দিতে হবে, ‘হেয়ার কাট’ বাতিল করতে হবে এবং সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক করতে হবে।




প্রথম প্রান্তিকে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা কমেছে 

চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মুনাফা অর্ধেকে নেমেছে বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের। আলোচিত তিন মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৩৩ পয়সা। শতকরা হিসাবে বছরের ব্যবধানে তিন মাসের মুনাফা কমার হার ৪৮ শতাংশের বেশি।

রোববার অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচিত প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়। সোমবার (১১ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে ওই প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়।

সার সংক্ষেপ অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন মাসে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ঋণাত্মক ১৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ধনাত্মক ৮ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৫৯ পয়সা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে মুনাফা তলানীতে নামায় বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশের সুপারিশ করেনি কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাৎ আলোচিত বছরে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ বঞ্চিত হয়েছেন।




প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ১৩ মে বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আলোচিত সভায় ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-২৬ থেকে মার্চ-২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।




বেস্ট লাইফের ব্যবসা পরিকল্পনা ও কৌশলগত সভা 

বেস্ট ইসলামী লাইফের ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ময়মনসিংহ বিভাগীয় ম্যানেজার কনফারেন্স, ব্যবসা পরিকল্পনা ও কৌশলগত সভা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রধানমাসুম হাসান জামাল।a

এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির এজেন্সি ডিরেক্টর  শিবলু মিয়া,  হাবিবুর রহমান এবং সহকারী এজেন্সি ডিরেক্টর মেহেদী হাসান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এজেন্সি ডিরেক্টর শাহিন মিয়া।

সভায় আগামী দিনের ব্যবসায়িক লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রথম কোয়ার্টারে অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।




এনআরবি ইসলামিক লাইফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করেছে।

সম্প্রতি এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. শাহ্ জামাল হাওলাদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনআরবি ইসলামিক লাইফের চেয়ারম্যান কিবরিয়া গোলাম মোহামাদ।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে কোম্পানির উত্তরোত্তর সাফল্যের জন্য সকল কর্মী ও গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, স্বচ্ছতা ও আধুনিক সেবার মাধ্যমে কোম্পানিটি খুব দ্রুতই দেশের বীমা খাতে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির পরিচালক আফতাব আহমেদ, বিএম ইউছুফ আলী, মো. জামাল উদ্দিন, মোস্তফা হেলাল কবির এবং নুরুল আজিম রিফাত। এ ছাড়াও এই আনন্দঘন আয়োজনে যোগ দেন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার মাহফুজুর রহমান এবং শুভানুধ্যায়ী একেএম মুস্তাফিজুর রহমান ও হোসনে আরা বেগম।

আমন্ত্রিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শরিয়াহ ভিত্তিক বীমা ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং এনআরবি ইসলামিক লাইফের ব্যবসায়িক সুশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই আয়োজনে কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিরা মিলে কেক কেটে কোম্পানির ষষ্ঠ বছরে পদার্পণের মুহূর্তটি উদযাপন করেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই বর্ণিল অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।




প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা অর্ধেকে নামলো ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত তিন মাসে কোম্পানিটির মুনাফা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

বুধবার (৬ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে।

সার সংক্ষেপ অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা প্রায় ৪৭ শতাংশ বা অর্ধেক কমে গেছে।

আলোচিত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ঋণাত্মক ২ টাকা ৭৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ধনাত্মক ১১ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ১১ পয়সা।




ইন্তেকাল করেছেন মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ইন্তেকাল করেছেন মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম ।

তার মৃত্যুতে বীমা খাতে এবং কোম্পানির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ এক শোকবার্তায় জানান, “তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।” তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মো. নজরুল ইসলাম কর্মজীবনে একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে সহকর্মীরা একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে হারালেন।




কক্সবাজারে সন্ধানী লাইফের বার্ষিক সম্মেলন

সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬ সম্প্রতি কক্সবাজারের হোটেল ওশান প্যারাডাইস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিমাই কুমার সাহার সভাপতিত্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কর্মকর্তা ও উন্নয়ন কর্মীরা অংশ নেন।

সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফাতেমা তাহেরা খানম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান মজিবুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিচালক শাফাফ রহমান সাদ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক কর্ণেল (অবসরপ্রাপ্ত) ওয়েস হুদা, পরিচালক শাহেদুজ্জামান চৌধুরী (এফসিএ), অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ ইদ্রিস মিয়া তালুকদার এবং সন্ধানী লাইফ হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্ণেল (অবসরপ্রাপ্ত) সালেহ আহমেদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 




ব্র্যাক ব্যাংকের চলতি-সঞ্চয়ী হিসাবে আমানত বেড়েছে ২১০০ কোটি টাকা

ব্র্যাক ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চলতি হিসাব ও সঞ্চয়ী হিসাব (সিএএসএ) খাতে দুই হাজার ১০০ কোটি টাকার নিট আমানত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ব্যাংকটির ইতিহাসে এ খাতে এটি অন্যতম শক্তিশালী পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) ব্যাংকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রাহকদের ধারাবাহিক আস্থা, সম্পর্কভিত্তিক ব্যাংকিং এবং একটি স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় তহবিল কাঠামো গড়ে তোলার কৌশলের ফলেই এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশজুড়ে বিস্তৃত ৩১০টি শাখা ও উপ-শাখার নেটওয়ার্ক এবং নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাও এ সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এই সিএএসএ আমানত প্রবাহের ফলে স্বল্প খরচের তহবিল সংগ্রহে ব্যাংকের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর মাধ্যমে শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ সাফল্য উদ্‌যাপন উপলক্ষে সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক প্রধান শেখ মোহাম্মদ আশফাক এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান মো. মাহানীয়ুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জোনাল হেড (নর্থ) এ কে এম তারেক, সিনিয়র জোনাল হেড (সাউথ) তাহের হাসান আল মামুনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের রিজিওনাল, ক্লাস্টার ও শাখা ব্যবস্থাপকরা।

অনুষ্ঠানে সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, শক্তিশালী সিএএসএ প্রবৃদ্ধি একটি স্থিতিশীল ব্যালান্স শিট গঠনের অন্যতম ভিত্তি। এই অর্জন গ্রাহকদের আস্থা এবং ব্যাংকের টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে তহবিল ভিত্তি আরও শক্তিশালী করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, ব্রাঞ্চ নেটওয়ার্ক টিমের পেশাদারিত্ব, গ্রাহককেন্দ্রিকতা ও সেবার উৎকর্ষ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই এ সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

 




পদত্যাগ করলেন সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান

সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী পদত্যাগ করেছেন।

সোমবার (২ মার্চ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। ঢাকা পোস্টকে তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ব্যক্তিগত কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এর আগে সোমবার সকালে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান আসলাম আলমও পদত্যাগপত্র জমা দেন।