চলতি বছরেই স্ক্রিপ নেটিং চালুর লক্ষ্য : ডিএসই চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। বাজারের দৈনন্দিন ওঠানামার চেয়ে কাঠামোগত সংস্কার ও দক্ষতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

 

চলতি বছরের মধ্যেই পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের দাবির স্ক্রিপ নেটিং (ইন্ট্রাডে ট্রেডিং) চালু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য ডিএসইর ম্যাচিং ইঞ্জিন ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (ওএমএস) প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কাজ চলছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ডিএসই টাওয়ারে ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনায় এ কথা বলেন ডিএসই চেয়ারম্যান। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এ আলোচনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত রয়েছেন বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক ও হোসাইন সাদাত এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।

মোমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও ডিরেগুলেশনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএসই দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দেশের পুঁজিবাজার অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত বা ‘ওভার-রেগুলেটেড’। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে বাজার তার স্বাভাবিক নিয়মে ও নিজস্ব গতিতে বিকশিত হতে পারে না।

বিএসইসির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি হলো স্ক্রিপ নেটিং চালু করা। সম্প্রতি বিএসইসি এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়নের জন্য ডিএসইর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বিশেষ করে এক্সচেঞ্জের ম্যাচিং ইঞ্জিন ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে পরিবর্তন করতে হবে। ডিএসই এরইমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এর বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে স্ক্রিপ নেটিং চালুর ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত (অপারেশনাল) চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান মোমিনুল ইসলাম। এসব সমস্যা সমাধানে ট্রেকহোল্ডারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে চলতি বছরের মধ্যেই স্ক্রিপ নেটিং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ডিএসইর ওয়েবসাইট আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডিএসই চেয়ারম্যান।

মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি একজন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইট গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস। অনেক ক্ষেত্রে একটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীর প্রথম ধারণা তৈরি হয় ওয়েবসাইট থেকেই।

চলতি কোয়ার্টারের মধ্যেই ডিএসইর নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নতুন ওয়েবসাইটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাবেন বলে জানান তিনি।

বাজারে বড় অঙ্কের ‘বাই অর্ডার’ দিলেই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে কোয়েরি করা হয়-এমন একটি ধারণা রয়েছে উল্লেখ করে মোমিনুল ইসলাম বলেন, কোয়েরি করা মানেই কোনো বিনিয়োগকারী ভুল করেছেন, এমন নয়। এটি মূলত সম্ভাবনাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাইয়ের জন্য যেকোনো বিনিয়োগকারীকে কোয়েরি করা হতে পারে।

তবে কোয়েরির বর্তমান প্রক্রিয়া কখনো কখনো বাজারে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

এ জন্য সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ নিয়ে কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বাজার পর্যবেক্ষণ এবং বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতা-দুই ক্ষেত্রেই আরও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন নতুন পণ্য চালু, বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন মোমিনুল ইসলাম।

এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু পুনর্গঠন প্রয়োজন বলে জানান তিনি। আগামী সেপ্টেম্বরে সিডিবিএলে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বোর্ড পুনর্গঠনসহ পরবর্তী ধাপে প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা না গেলে বাজারের ছোটখাটো ওঠানামা নিয়েই আরও দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকতে হবে।




নারী উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতে ব্র্যাক ব্যাংককে ৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে আইএফসি

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে ব্র্যাক ব্যাংককে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন সুবিধা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)। নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত ব্যবসা এবং কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিতে এই অর্থ ব্যবহার করবে ব্র্যাক ব্যাংক।দক্ষিণ এশীয় কালচারাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইএফসি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক শাখা। ব্র্যাক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এই অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য এটি আইএফসি থেকে ধারাবাহিকভাবে পাওয়া চতুর্থ অর্থায়ন সুবিধা।
নতুন এই অর্থায়ন ব্র্যাক ব্যাংক ও আইএফসির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ভূমিকা রাখবে। এই তহবিলের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক মাঝারি মেয়াদে মার্কিন ডলারের অর্থ পাবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিসহ বৈদেশিক মুদ্রার বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গ্রাহকদের আরও বেশি সহায়তা দিতে পারবে ব্যাংকটি।

এক বছর মেয়াদের এই অর্থায়ন সুবিধা দুবার নবায়নের সুযোগসহ সর্বোচ্চ তিন বছর ব্যবহার করা যাবে। তহবিলের অন্তত ৫০ শতাংশ বা সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা নারী-নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের জন্য বরাদ্দ করা হবে। আর কমপক্ষে ২৫ শতাংশ দেওয়া হবে কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে।অনলাইন ব্যাঙ্কিং অ্যাকাউন্ট খোলা

এর ফলে নারী উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগও সহজ হবে।

আইএফসির ‘এমএসএমই ফাইন্যান্স প্ল্যাটফর্ম’-এর ‘এসএমই এনভেলাপ’-এর আওতায় এই অর্থায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো উদীয়মান বাজারের সুবিধাবঞ্চিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণ পাওয়ার সুযোগ সহজ করা।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক ও গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সহজ করছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতকে সহায়তা করছে।

এই অর্থায়নের বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “আইএফসির এই বিনিয়োগ ব্র্যাক ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, সুশাসন কাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে আমাদের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের প্রতিফলন। এই অর্থায়ন সুবিধাটি বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ এবং কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করার ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তাদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন পাওয়ার সুবিধাও আরও জোরদার করবে।”

আইএফসির বাংলাদেশ ও নেপালের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ম্যানেজার উইলফ্রিড টামেগ্নন বলেন, “বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাত। নারী-নেতৃত্বাধীন এবং কৃষি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এই সুবিধাটি আরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ করতে, ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এবং দেশজুড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। এই খাতগুলোর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জোরদার করতে ব্র্যাক ব্যাংককে সহায়তা করতে পেরে আমরা গর্বিত।”দক্ষিণ এশীয় কালচারাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া

এই অর্থায়ন সুবিধা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর কাছে শীর্ষস্থানীয় অংশীদার হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যের প্রসার ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈশ্বিক অর্থায়ন সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাংকটির প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করেছে।




মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমটিও ১৫তম ব্যাচের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার বা এমটিও ১৫তম ব্যাচের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মোট ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম, পেশাগত দায়িত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ, গ্রাহকসেবা, পরিপালন, নেতৃত্বসহ ব্যাংকিং-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের সামগ্রিক ধারণা দেওয়া হবে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রধান এস. এম. সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ডিএমডি ও সিআরও মো. জাকির হোসেন, ডিএমডি ও ক্যামেলকো শামীম আহমেদ, ডিএমডি ও সিবিও ড. মো. জাহিদ হোসেন এবং ডিএমডি ও সিসিও মো. সোহেল খুরশিদ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যাংকিং পরিবেশে পেশাদারিত্ব, সততা, শেখার আগ্রহ, সেবা প্রদানের মানসিকতা এবং দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিজেদের দায়িত্বশীল ব্যাংকিং পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে এবং ব্যাংকের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে উৎসাহিত করেন।

অন্যান্য অতিথিরা তাদের বক্তব্যে পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিজেদের প্রস্তুত করতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব ব্যাংকিং পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন তারা।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ফ্যাকাল্টি শাহিন আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফ্যাকাল্টি মুহাম্মদ মিরাজ হোসেন গাজী।

 




প্রচলিত ২০ শাখাকে ইসলামীতে রূপান্তর করবে এনসিসি ব্যাংক

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এনসিসি ব্যাংক পিএলসির ২০টি প্রচলিত ব্যাংকিং শাখাকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিং শাখায় রূপান্তরের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৭ আগস্ট এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত ও বিধিবিধান পরিপালন করে এসব শাখাকে ইসলামী ব্যাংকিং শাখায় রূপান্তর করা হবে। সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকার সেকশন-২-এর ক্লজ-সি অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এনসিসি ব্যাংক। এরপর অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান অনুসরণ করে রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

এদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এনসিসি ব্যাংকের চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন ২০২৬) শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ১২ শতাংশ বেড়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৮৬ পয়সা। ফলে ইপিএস বেড়েছে ২২ পয়সা বা ১২ শতাংশ।

অন্যদিকে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৬ পয়সা। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ৫ পয়সা বা ৫ শতাংশ।

ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিনিয়োগ থেকে আয় বৃদ্ধি এবং শেয়ারে রাখা প্রভিশনের একটি অংশ পুনরুদ্ধার হওয়ায় চলতি সময়ে ইপিএস বেড়েছে। গত ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৩৯ পয়সা।




যে শর্তে এলসি খোলার অনুমতি পেলো এসএস পাওয়ার

বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে কেন্দ্রটির জন্য ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে এলসি খোলা যাবে। তবে এ সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনও দায় থাকবে না এবং ভবিষ্যতে এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তাও চাইতে পারবে না রূপালী ব্যাংক।

রবিবার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ বিষয়ে পৃথক দুটি নির্দেশনা জারি করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংক ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করে আমদানি এলসি খুলতে পারবে। এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্য একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের আমদানি এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭(কক)(৩) ধারার বিধান আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর হবে না।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সুবিধার সঙ্গে কঠোর শর্তও দিয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১-এর অনুকূলে দেওয়া এ ধরনের ঋণ সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে এ সুবিধার কারণে রূপালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা পুনঃঅর্থায়ন দাবি করতে পারবে না।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় অবস্থিত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বড় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মালিকানায় এস আলম গ্রুপের অংশীদারিত্ব ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক চীনের কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচটিজি।

কেন্দ্রটিতে ৬৬০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। এর প্রথম ইউনিট থেকে ২০২২ সালের ২৪ মে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। একই বছরের ২৮ জুন দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয়।

পরে ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। দুই ইউনিট মিলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।

এসএস পাওয়ার-১-এর মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনায় নিয়মিত কয়লা, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি করতে হয়। এসব আমদানির জন্য এলসি খোলার সুযোগ কেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের শর্ত থাকায় এলসি খোলার পুরো অর্থ আগেই ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। ফলে রূপালী ব্যাংকের জন্য এ সুবিধায় ঋণঝুঁকি তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে এ সুবিধার কারণে রূপালী ব্যাংকের কোনো আর্থিক সংকট তৈরি হলে তার দায় বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে না।

এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকঋণ, আমদানি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা ও নজরদারির মধ্যে এসএস পাওয়ার-১-এর জন্য এলসি খোলার এ অনুমতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তবে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায় না নেওয়ার শর্তের কারণে এ সুবিধাকে সরাসরি কোনও ঋণ ছাড় বা বিশেষ আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।




সিটি ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক পিএলসি। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালকের সর্বোচ্চ সংখ্যা ৮ জন থেকে বাড়িয়ে ১০ জন করার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ।

রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা করা হবে। এই মূলধন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩০০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত থাকবে।

এ ছাড়া ব্যাংকের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোতে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে আগামী ৪ অক্টোবর বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিকেল ৩টায় সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। ইজিএমে অংশগ্রহণের জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অনাপত্তি পাওয়ার পর এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এদিকে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) সিটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। আলোচ্য ছয় মাসে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৭২ পয়সা। আলোচিত সময়ে ব্যাংকটির নিট মুনাফা হয়েছে ৫২৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩০১ কোটি টাকা। ফলে নিট মুনাফা বেড়েছে ২২৭ কোটি টাকা বা ৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ১৯ পয়সা। এ হিসাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ইপিএস বেড়েছে ৪৪ পয়সা বা ৩৭ শতাংশ। গত ৩০ জুন শেষে সিটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৬০ পয়সায়।




বিদেশে শিক্ষার ফি ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডে পরিশোধের সুযোগ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য টিউশন ফি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় পরিশোধের প্রক্রিয়া আরো সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট কিংবা প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করেই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও ভর্তি প্ল্যাটফর্মগুলোতে সরাসরি ফি মেটাতে পারবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১০ আগস্ট) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও অনলাইন ভর্তি প্ল্যাটফর্মগুলোতে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে টিউশন ফি ও আনুষঙ্গিক ব্যয় পরিশোধের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় মেটাতে আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

​এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য একটি বড় সুবিধা হচ্ছে, এ ধরনের লেনদেনকে ব্যাংকের প্রচলিত বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটা বা অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা সুবিধার সীমার বাইরে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, শিক্ষা খাতে পরিশোধ করা অর্থ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত সাধারণ ডলার কোটার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় আরো বলা হয়, এই কার্ড সরাসরি শিক্ষার্থীর নামে কিংবা তার শিক্ষার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনকারী অভিভাবক বা ব্যক্তির নামে ইস্যু করা যাবে। তবে কার্ডের অপব্যবহার রুখতে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রক আনুষ্ঠানিকতা মেনে চলতে বলা হয়েছে। ইস্যু করা কার্ড দিয়ে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যেন শুধুমাত্র শিক্ষা-সংক্রান্ত অনুমোদিত ব্যয়ই পরিশোধ করা হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ব্যাংকগুলোর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং নির্দিষ্ট পারপাস কোড ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত তথ্য বা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




জুলাইয়ে এলো ৩৫ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা ধরে)।

রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

এর আগে গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়।

এদিকে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।




ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া: বিকেবি চেয়ারম্যান

গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যকার সম্পর্কের মূল ভিত্তি ‘বিশ্বাস ও আস্থা’ উল্লেখ করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন বলেছেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা মূলত আস্থার সম্পর্কের ওপর টিকে থাকে। গ্রাহক যখন ব্যাংকের ওপর বিশ্বাস রেখে তার কষ্টার্জিত অর্থ আমানত রাখেন, তখন সেই আমানতের নিরাপত্তা দেওয়া এবং দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা ব্যাংকারের প্রধান দায়িত্ব।

শনিবার (১ আগস্ট) মিরপুর টেকনিক্যাল সংলগ্ন আইসিসি লিমিটেডে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সঞ্চিয়া বিনতে আলী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), মো. আ. রহিম, মোহা. খালেদুজ্জামান, মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) আশরাফুজ্জামান খান, মহাব্যবস্থাপক গোলাম মো. আরিফ।

চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন বলেন, যে কোনো ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বা কর্মকর্তা যে আমানত পান তা ১ কোটি টাকাই হোক আর ১০০ কোটি টাকাই হোক তার চাবিকাঠি ও জিম্মাদারি তার কাছেই থাকে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী এই জিম্মাদারি যদি কর্মকর্তা সঠিকভাবে না মানতেন, তবে ব্যাংকিং ব্যবস্থাই টিকে থাকতো না।

দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট তুলে ধরে চেয়ারম্যান আরও বলেন, বর্তমানে আস্থার ঘাটতির কারণেই অনেক ব্যাংক সংকট বা অসুবিধায় পড়েছে। ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের অন্যান্য ব্যাংকে মানুষের যে আস্থার ঘাটতি বা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।
আরও পড়ুন
জনতা ব্যাংকে পদবঞ্চনা দূর করার আহ্বান কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের

সম্মেলনের পরিবেশ ও আয়োজন প্রসঙ্গে সন্তোষ প্রকাশ করে নুরুল আমিন বলেন, ব্যবসায়িক বা বার্ষিক সম্মেলনগুলো এমন সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে হওয়া উচিত, যা কর্মকর্তাদের কাজের উদ্দীপনা বাড়ায়। প্রাইভেট ব্যাংকগুলো সাধারণত শহরের বাইরে বা কোনো ভালো রিসোর্টে সুন্দর পরিবেশে টাউন হল মিটিং বা সম্মেলন করে থাকে। ভবিষ্যতে বিকেবির আঞ্চলিক সম্মেলনগুলোও যেন এমন মানসম্মত ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।

সম্মেলনে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ঢাকা ডিভিশনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রধানরা এবং মহাব্যবস্থাপকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ব্যাংকের বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।




স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডে বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি নাবিকরা

বাংলাদেশি নাবিকদের পেশাগত ও আর্থিক চাহিদার কথা বিবেচনায় বিশেষায়িত ব্যাংকিং সুবিধা চালু করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে ব্যাংকটি।

বুধবার (২৯ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাবিকদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কিংবা দেশের বাইরে অবস্থান করতে হয়। এ সময় তাদের পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য সহজ, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকিং সেবার প্রয়োজন হয়। সেই প্রয়োজন পূরণে বিশেষ সুবিধাসমৃদ্ধ এই সেবা চালু করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ।

এই উদ্যোগের আওতায় যোগ্য বাংলাদেশি নাবিকরা প্রায়োরিটি ব্যাংকিং সুবিধা, ঋণে বিশেষ সুদহার, নির্বাচিত ঋণসেবায় প্রসেসিং ফি মওকুফ, নির্দিষ্ট ক্রেডিট কার্ডে বার্ষিক ফি মওকুফসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। এছাড়া নতুন ও বিদ্যমান যোগ্য গ্রাহকদের জন্য থাকবে বিশেষ অনবোর্ডিং সুবিধা। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নতুন গ্রাহকরা ক্যাশব্যাক সুবিধাও পাবেন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান লুৎফুল হাবিব বলেন, ‘মানুষের প্রয়োজন বোঝার মধ্য দিয়েই অর্থবহ ব্যাংকিং সেবা শুরু হয়। নাবিকরা দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকলেও তাদের পরিবারের আর্থিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বিএমএমওএ’র সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তাদের পেশাগত বাস্তবতা ও আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতে পারছি।’

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী বলেন, ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ নাবিকদের পেশাগত বাস্তবতা ও বিশেষ প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েছে। এই সহযোগিতার ফলে আমাদের সদস্যরা এমন ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন, যা তাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও লাভজনক করবে।’

সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রায়োরিটি অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান ফয়সাল হক, ডিপোজিটস অ্যান্ড ডিজিটাল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান রাণা শহীদ হাসান, সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার রাহানুমা তাসরিয়ান অমি, চট্টগ্রাম প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক আজিজুর রহমান এবং নাসিরাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক সজিব কাজী উপস্থিত ছিলেন।

বিএমএমওএ’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত হোসেন, সিনিয়র সদস্য ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ জানায়, বিভিন্ন পেশাজীবী ও গ্রাহকগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত আর্থিক সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতায় বিএমএমওএ’র সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য আরও সহজ, লাভজনক ও প্রয়োজনভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করবে।




সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেফতারের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

 

বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পল্টনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির সুশাসন, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই শেয়ার কেলেঙ্কারি, ব্যাংক দখল ও আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় না আনলে এ খাতে আস্থা ফিরবে না। এ সময় তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ জনপরিসরে এসেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নয়তো আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ দেখিয়ে দায়মুক্তির দাবি করলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো কর্মকাণ্ড এ সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। ফলে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পালনের সময় শেয়ার কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত, মামলাসহ গ্রেফতারের সুযোগ রয়েছে। অতএব রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেই তিনি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এজন্য তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।




দুর্বল ব্যাংক সংস্কারে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংকট মোকাবিলায় একযোগে নয়, বরং ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় নিজস্ব কৌশল অনুসরণ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপত্র আরিফ হোসেন খান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকের এসব কথা বলেন আরিফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে সবচেয়ে সংকটাপন্ন পাঁচটি ব্যাংককে একীভূতকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে যেসব ব্যাংক এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোর বিষয়েও পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিতে পারে। তবে সব পরামর্শ হুবহু বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই। দেশের আর্থিক কাঠামো, আইনগত পরিবেশ ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত কাজ করছে। এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

পদ্মা ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসঙ্গে অনেক ব্যাংকের আর্থিক সংকট তৈরি হওয়ায় সব সমস্যার সমাধান একই সময়ে করা সম্ভব হয়নি। এজন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী ধাপে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আমানতকারী, গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিদ্ধান্ত হলে তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে। একই সঙ্গে দুর্বল ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির উন্নয়নের অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।

‘হেয়ারকাট’ বাতিলে চলছে কারিগরি প্রস্তুতি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের দাবির মুখে ‘হেয়ারকাট’ বাতিল এবং এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

তার ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের পরপরই সার্কুলার জারি করা সম্ভব হয় না। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদ্ধতি, আইনগত কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রস্তুত করতে হয়। বর্তমানে সেই কারিগরি কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। কারিগরি প্রস্তুতি শেষ হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।




চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মীদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এদিকে, তাদের উপস্থিতির মাঝেই অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের চায়না রোড এলাকায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের নিয়মনীতি অনুসরণ বা যথাযথ নোটিশ ছাড়াই জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

তাদের আরও অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ ও পদোন্নতি দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হবে এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সসম্মানে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।

চাকরিচ্যুত কর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা কর্মহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রী চট্টগ্রামে একটি বড় অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রকল্পের উদ্বোধনে আসায় নিজেদের দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আনতেই তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ভিআইপি সফর ও জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিক্ষোভের পর সিইআইজেডের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুরু হয়। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




ছয় মাসে রূপালী ব্যাংকের লোকসান ৬৪১ কোটি টাকা

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আর্থিকভাবে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালি ব্যাংক পিএলসির ব্যবসায়। আলোচিত সময়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির নিট লোকসান হয়েছে প্রায় ৬৪১ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির সামান্য মুনাফা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত ব্যাংকটির চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ১৩ টাকা ১৩ পয়সা। এ সময়ে মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অথচ ২০২৫ সালের একই সময়ে ব্যাংকটি ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল। এতে শেয়ারপ্রতি মুনাফার হার ছিল ২০ পয়সা।

অন্যদিকে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ১ পয়সা। এ সময়ে নিট লোকসানের পরিমাণ ছিল ২৪৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের বছরের একই প্রান্তিকে ব্যাংকটি ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল, যা ছিল শেয়ারপ্রতি ৭ পয়সা মুনাফা হারে। গত ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৪৩ পয়সা।




নান্দাইলে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের উদ্যোগে এক গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল— “আপনার হাতের মুঠোয়, আপনার দোরগোড়ায়, আপনার বিশ্বস্ত সহযোগী ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংক।”
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ময়মনসিংহ জোনের জোনাল ম্যানেজার মো. মাহবুবুর আলম। বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নান্দাইল শাখার সভাপতি আঃ হান্নান আল আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এন এস মেডিকেল হলের মাস্টার এজেন্ট মো. শাহীনুল ইসলাম শাহীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের নান্দাইলের মনিটরিং অফিসার নাহিদ হাসান, নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক বাবুল এবং ঈশ্বরগঞ্জের মনিটরিং অফিসার রুহুল আমিন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন নান্দাইল পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুক্তা এবং গ্রাহকদের পক্ষে আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মিজানুল ইসলাম মিজান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রয়েল বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী মো. দিলোয়ার হোসেন (কালীগঞ্জ বাজার), মেসার্স মাহিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আল আমিন (চৌরাস্তা), বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আসাদুজ্জামান খান (গাংগাইল বাজার), মেসার্স জাকির হোসেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন (দেওয়ানগঞ্জ বাজার), মা-টেলিকম অ্যান্ড লাবীব স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. নাজির আহম্মেদ (পাঁচরুখী বাজার)সহ নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধীজন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের আধুনিক ও সহজলভ্য ব্যাংকিং সেবা, নিরাপদ লেনদেন, সঞ্চয়, অর্থ প্রেরণ, ঋণসহ বিভিন্ন সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথিরাও গ্রাহকদের আরও বেশি এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মো. শাহীনুল ইসলাম শাহীন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল গ্রাহক, সাংবাদিক, শিক্ষক, সুধীজন ও বিভিন্ন পেশাজীবীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভবিষ্যতেও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। পরে সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বসেই জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেন, কর্মকর্তা বরখাস্ত

অনলাইন জুয়া, অনিয়ম ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া ওই কর্মকর্তার নাম মো. রকিবুল হাসান খান রকি। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী তিনি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খোরপোশ ভাতা পাবেন বলে ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়। আদেশের পরপরই এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও জুয়াসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করলে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত রাখার নিয়ম রয়েছে, সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে অভিযান চালায়। তবে আগে থেকেই খবর পেয়ে তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ওই কর্মকর্তা একাধিক ব্যাংকে বেশ কয়েকটি হিসাব পরিচালনা করতেন। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে, যার একটি বড় অংশ অবৈধ জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই মামলা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত এর বেশি তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সহকর্মীরা জানান, অফিসে তিনি সবসময় চুপচাপ থাকতেন। সহকর্মীদের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা বা কথাবার্তা বলতেন না। নিজের মতো করেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. রকিবুল হাসান খান রকির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়ম সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্রিল্যান্সাররা এখন ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতেই বিদেশ থেকে আয়ের অর্থ দেশে আনতে পারবেন। পাশাপাশি ছোট অঙ্কের রেমিট্যান্স গ্রহণ, ডুয়াল-কারেন্সি ফ্রিল্যান্সার কার্ড এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও দেওয়া হয়েছে নতুন সুবিধা।

বুধবার (২২ জুলাই) জারি করা এ নির্দেশনার মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি ক্রেতা বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে প্রচলিত রপ্তানি নথির পরিবর্তে প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, ইনভয়েস এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে বিদেশ থেকে আয়ের অর্থ দেশে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্ষুদ্র অঙ্কের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে।

এ ছাড়া অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ করতে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ ইস্যুর সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের সেবা রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খাতে ব্যয় নির্বাহ ও বৈদেশিক লেনদেনে তারা আরও বেশি নমনীয়তা পাবেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ করবে, আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স প্রবাহকে উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশের সেবা রপ্তানিকে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে আরও সংযুক্ত করবে। একই সঙ্গে এটি একটি জ্ঞানভিত্তিক ও ডিজিটাল-চালিত রপ্তানি খাত গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে।




আমানত ফেরতের রোডম্যাপ চাইলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা

আমানতের ওপর ঘোষিত ‘হেয়ারকাট’ ব্যবস্থা দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাতিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীন একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস, এমটিডিআরসহ সব ধরনের আমানত মুনাফাসহ ফেরতের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন আমানতকারীরা। পরে মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। সেখান থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় হেয়ারকাট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। তাই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি। পাশাপাশি আমানতের মুনাফা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাবও বাতিল করে অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমানতকারীদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে তারা নিজেদের অর্থ তুলতে পারছেন না। ফলে চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন অনেক পরিবার।

 

তারা আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দ্রুত আমানত ফেরতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে। একই সঙ্গে ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে প্রোভিশন করা অর্থ সম্পূর্ণভাবে আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, তাদের দাবি বাস্তবায়ন হলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারা আবারও স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকটির সঙ্গে লেনদেন করবেন।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন প্রায় ৭৬ লাখ গ্রাহক ও তাদের প্রায় তিন কোটি পরিবারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এ বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা। অন্যথায় দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।




রূপালী ব্যাংকের ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

রাষ্ট্র মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক পিএলসির ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে হাইব্রিড পদ্ধতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল হুদা।

সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব কামরুল হক মারুফ সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এ এইচ এম মঈন উদ্দীন বক্তব্য রাখেন।

সভায় ব্যাংকের ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করা হয়। আলোচ্যসূচিতে থাকা সব প্রস্তাব শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।

এ সময় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. আবু ইউসুফ মিয়া, এ বি এম শওকত ইকবাল শাহীন ও সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার, হাসান তানভীর ও মো. হারুনুর রশীদ সভায় অংশ নেন।

ব্যাংকের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ শাহেদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারহোল্ডার সরাসরি ও ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।




জুলাইয়ের ১৮ দিনে এলো ১৮০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে দেশে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এ সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার বেশি।

রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ (এক দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ১৬ থেকে ১৮ জুলাই— এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। এর আগে চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মাথায় মোট প্রবাসী আয় পৌঁছেছে ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সুশাসনের ভিত্তি

বাংলাদেশে ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা নয়, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি মৌলিক পরিবর্তন বলে মন্তব্য করেছেন এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ১২তম আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ১৫ থেকে ১৭ জুলাই তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ইন অ্যাকশন : ক্যাশলেস ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. তৌহিদুল আলম খান।

এছাড়া টেকসই উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. মো. তৌহিদুল আলম খানকে ‘এসডিসি-২০২৬’ এর সায়েন্টিফিক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।

প্রবন্ধে ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অন্যতম কার্যকর উদ্যোগ। নিরাপদ, সহজলভ্য ও দক্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর শুধু প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়, এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং অর্থনীতিতে মানুষের অংশগ্রহণের বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন, সবুজ প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে কলম্বিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, ফিজি, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, নীতিনির্ধারক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।




আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্বে বদিউর রহমান ও সেলিম রহমান

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বদিউর রহমান এবং নির্বাহী কমিটির (ইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে সেলিম রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৪৬৪তম (জরুরি) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারা নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি সফলভাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি, এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড, সেন্ট্রাল হসপিটাল লিমিটেড, হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সল্যুশন লিমিটেড এবং হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ দেশে-বিদেশের বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বদিউর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরবর্তীতে আমার দায়িত্বের ৮ বছরে আমরা এই ব্যাংকটিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হই। বর্তমানে ২০২৬ সালে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে আবারও যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তেমনই কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে আমাকে পুনরায় পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আমার উপরে অর্পিত দায়িত্ব আমি যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করবো। ইনশাল্লাহ, অতীতের মতো অচিরেই আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, নির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সেলিম রহমান দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি।

এর আগে তিনি ২০২১ এবং ২০২৪ সালে দুই মেয়াদে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।




ইউসিবির ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির ৭৭৫ কোটি টাকার বেশি মূলধন সংগ্রহে রাইটস শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১ হাজার ১৯তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ইউসিবি কর্তৃপক্ষের রাইটস শেয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ টাকা মূল্যের ৭৭ কোটি ৫১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৯৪৯টি সাধারণ শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকটির বিদ্যমান দুটি শেয়ারের বিপরীতে নতুন করে একটি শেয়ার ইস্যু করা হবে।

বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা প্রতি ২টি বিদ্যমান শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইটস শেয়ার (১ : ২ অনুপাতে) কেনার সুযোগ পাবেন। এই শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকটি শেয়ার বাজার থেকে মোট ৭৭৫ কোটি ১৮ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে।

ইউসিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাইটস শেয়ার ইস্যু থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে।

 




ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ফের কর্মসূচি ঘোষণা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একইসঙ্গে ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ফোরামের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহসহ বিপুলসংখ্যক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, গত ২৪ মে থেকে গ্রাহকরা ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। একইসঙ্গে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে অপসারণ করেছে এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও দাবি করেন তারা।

গ্রাহক ফোরাম তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সৎ, যোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটপাটের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার।

ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ জুলাই জেলা শহরের বিভিন্ন শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৮ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গ্রাহক মহাসমাবেশ।




সিটিজেনস ব্যাংকের ডিজিটাল লেনদেন ৩১ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে

ডেটা সেন্টার স্থানান্তরের কাজের কারণে সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। আগামী ৩ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) রাত ১টা থেকে ৪ জুলাই (শনিবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত, মোট ৩১ ঘণ্টা ব্যাংকটির কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেন-সংক্রান্ত সেবা ব্যবহার করা যাবে না।

বুধবার (১ জুলাই) এ বিষয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সিটিজেনস ব্যাংক তাদের ডেটা সেন্টার স্থানান্তরের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এই সময়ের জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা স্থগিত রাখবে।

এ সময় ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ব্যাংকিং এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এ কারণে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় লেনদেন আগেই সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি অন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যাতে আন্তঃব্যাংক লেনদেন বা গ্রাহকসেবায় কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ডেটা সেন্টার স্থানান্তরের কাজ শেষ হলে সিটিজেনস ব্যাংকের ডিজিটাল সেবাগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হবে।




শিল্প-উৎপাদন চাঙা করতে বড় উদ্যোগ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিসুদ ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে অর্থনীতির গতি ফেরাতে শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে। শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এসময় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতিসুদ (পলিসি রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।

 

গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭ শতাংশে ওঠা মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে তা এখরো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারের কাঠামোগত সমস্যা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতিও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

মুদ্রানীতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি ও সারের সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নিরীক্ষা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আইএফআরএস-৯ ভিত্তিক এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস (ইসিএল) কাঠামো বাস্তবায়ন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (আরবিএস) জোরদার এবং নতুন ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ ও ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন-২০২৬ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরা হয়।

এছাড়া খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (ডামা) প্রণয়ন এবং অর্থঋণ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে আন্তঃপরিচালনযোগ্য ‌‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর মাধ্যমে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহজ ও নির্বিঘ্ন ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ এবং নতুন প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাড়বে। তবে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, আর্থিক খাতের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে।




কাল ব্যাংক হলিডে, বন্ধ থাকবে সব ধরনের লেনদেন

আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে দেশের সব ব্যাংকে গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে দেশের দুই শেয়ারবাজারের লেনদেনও।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক, তফশিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এসব কার্যালয়ে শুধুমাত্র প্রশাসনিক ও হিসাবসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গ্রাহকদের কোনো ধরনের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ১ জুলাই অর্ধবার্ষিক সমাপনী উপলক্ষে ব্যাংক হলিডে পালন করা হয়। এ সময় ব্যাংকগুলো জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করে এবং অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করে।

ফলে এদিন কোনো ব্যাংক শাখা থেকে টাকা জমা বা উত্তোলন করা যাবে না। এছাড়া চেক নিষ্পত্তি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডারসহ শাখাভিত্তিক সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে গ্রাহকরা এটিএম বুথ, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক লেনদেন এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) সেবা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। যদিও আন্তঃব্যাংক নিষ্পত্তিনির্ভর কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর ‘ব্যাংক হলিডে’ পালন করা হয়। ব্যাংকগুলো এ দুই দিনে গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন বন্ধ রেখে অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে।




ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগে মনোনয়ন চূড়ান্ত: সংসদে অর্থমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে মনোনয়ন চূড়ান্ত, দ্রুতই এই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর এবং সচল করতে আপনার (অর্থমন্ত্রী) মন্ত্রণালয়ের কী কী পরিকল্পনা রয়েছে।

জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫ অনুসারে রেজল্যুশনের আওতাধীন পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকরা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারছেন। এরই মধ্যে সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়েছে এবং তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া পর্ষদে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। নতুনভাবে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ এ বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ব্যাংকটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যকর ও পূর্ণ লেনদেন চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামো এবং চাকরি প্রবিধানমালা প্রস্তুতকরণ, আইটি, সিবিএস, জনবল এবং শাখাসমূহ একীভূতকরণ, কোম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। এসব সম্পন্ন করার মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।




এমডির অপসারণ দাবির পর রূপালী ব্যাংকে জিয়া পরিষদের তিন নেতা বদলি

রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের অপসারণ দাবি করে স্মারকলিপি দেওয়ার পর জাতীয়তাবাদী ঘরানার সংগঠন ‘জিয়া পরিষদ’-এর শীর্ষ তিন নেতাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংগঠনটির সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া স্মারকলিপি এবং তা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন নেতার বদলির আদেশ জারি করে।

বদলিকৃত নেতারা হলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার, যাকে ফরিদপুরে বদলি করা হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এস এম নিয়াজ মোর্শেদকে ময়মনসিংহে এবং সদস্যসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে।

জিয়া পরিষদের অভিযোগ, একই আদেশে মোট ১১ জন কর্মকর্তার বদলি করা হলেও অন্যদের অবমুক্তির সময়সীমা ১৮ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংগঠনটির এই তিন নেতাকে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, একই বদলি আদেশে স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক মীর আবু নাসের জয়কে ঢাকার মতিঝিল করপোরেট শাখায় পদায়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৪ জুন অর্থমন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এবং কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনে জিয়া পরিষদ। একইসঙ্গে তার অপসারণের দাবিও জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করা হয়, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ একাডেমি ও ক্রীড়া কার্যক্রমের ব্যয়, পদোন্নতি ও পদায়ন প্রক্রিয়া এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

তবে এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।




সিটি ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নারী-পুরুষ উভয়ে আবেদন করুন

সিটি ব্যাংক পিএলসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকটি ব্রাঞ্চ, রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগ ট্রানজেকশন সার্ভিস পদে জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। গতকাল ১৭ জুন থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এক নজরে সিটি ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম
সিটি ব্যাংক পিএলসি
চাকরির ধরন
প্রকাশের তারিখ
১৭ জুন ২০২৬
পদ সংখ্যা
১টি
লোকবল নিয়োগ
নির্ধারিত নয়
চাকরির খবর
আবেদন করার মাধ্যম
অনলাইন
আবেদন শুরুর তারিখ
১৭ জুন ২০২৬
আবেদনের শেষ তারিখ
২৩ জুন ২০২৬
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
আবেদন করার লিংক
অফিশিয়াল নোটিশের নিচে

প্রতিষ্ঠানের নাম: সিটি ব্যাংক পিএলসি
পদের নাম: ট্রানজেকশন সার্ভিস
বিভাগ: ব্রাঞ্চ, রিটেইল ব্যাংকিং
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ২ বছর

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: ২৫ থেকে ৩২ বছর

কর্মস্থল: যেকোনো জায়গায়
বেতন: ৩০,০০০ টাকা (মাসিক)
অন্যান্য সুবিধা: ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আবেদনের শেষ সময়: ২৩ জুন ২০২৬




বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক আশিকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ব্যাংকটির নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। রোববার তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।

আশিকুর রহমান ১৯৯৯ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং সুপারভিশন, সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট (সিবিএসপি), ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ও এসএমই বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এলায়েন্স ফর ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুসনের (এএফআই) জেন্ডার ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স কমিটিতে ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদে ‘ভাইস চেয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আশিকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত দক্ষতার অংশ হিসেবে তিনি ‘দি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স  বাংলাদেশ থেকে ডিএআইবিবি এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট থেকে কম্পিউটার এপ্লিকেশন্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী গ্রামে তার জন্ম।




যোগ্য পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠনের দাবি গ্রাহকদের

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

একই সঙ্গে ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রাহকদের দাবি ছিল এস আলমের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল এবং ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পুনরায় এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছে, যা একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপদ নয়।

তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্রাহকেরা ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং বিভিন্ন বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ জোরপূর্বক ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন করে এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঋণের নামে বের করে নেয়। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-অনতিবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, জোরপূর্বক নেওয়া শেয়ার প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ করা এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দেওয়া ‘অসত্য বক্তব্য’ প্রত্যাহার।

অধ্যাপক নুরনবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়। এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকের স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দাবি পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে গ্রাহকেরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে গতকাল রোববার আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাতিল করা হয়েছে সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়া চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমসহ পরিচালকদের নিয়োগও। পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে।




আরও ২,৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার পেল ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব বুঝে নিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। এ দিন ব্যাংকটিকে আরও আড়াই হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে টাকা উত্তোলনের চাপ কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন।

দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। আমানতকারীদের নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।

তিনি জানান, যোগ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে যাচাই-বাছাই চলছে। ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ ব্রিফিংয়ের সময় ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকে পর্ষদ গঠন বিষয়ে মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, পাঁচ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, আমরা এখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ লোক দিতে চাই, যাঁরা এই ব্যাংকটিকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন। আশা করি, খুব শিগগির আপনারা একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ বোর্ড পাবেন।

তিনি সীমিত সময়ের জন্য এক সদস্য বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসাইন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে আরও ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে ব্যাংকটি।

তিনি বলেন, গতকালও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছি। সেই অর্থের পুরোটা এখনো ব্যবহার করতে হয়নি। আশা করি, যাঁরা আতঙ্কে টাকা তুলে নিয়েছেন, তাঁরা আবারও ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে আসবেন।

আলতাফ হুসাইন আরও জানান, দেশের একটি বড় শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, আগের তুলনায় হিসাব বন্ধের (অ্যাকাউন্ট ক্লোজড) পরিমাণ প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে, যা গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যান একটি গাড়ি ব্যবহার করেন। তাঁকে অপসারণের চিঠি হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িটি ফেরত নেওয়া হবে।

সাবেক এমডি ওমর ফারুককে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান যে, তিনি ইতিমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং পরিচালনা পর্ষদ তা গ্রহণ করেছে। ফলে তাঁকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই।




ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলন, নগদ টাকার সংকট এবং চলমান আস্থার চাপে পড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো জানায়, ব্যাংকটির শাখা ও এটিএম নেটওয়ার্কে নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক তারল্য চাপ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের নগদ উত্তোলন এবং দৈনন্দিন লেনদেন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছিল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা তখন জানিয়েছিলেন, গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগের কারণে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়েছে এবং নগদ অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা প্রয়োজন।

কেন তারল্য সহায়তা

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি মূলত দেউলিয়াত্বের সংকট নয়; বরং নগদ অর্থের সাময়িক সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ। কোনও ব্যাংকের সম্পদ বা বিনিয়োগ পর্যাপ্ত থাকলেও স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক টাকা তুলতে এলে তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে।

ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিতর্ক, গ্রাহকদের আন্দোলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজবের কারণে অনেক আমানতকারী টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে ব্যাংকটির ওপর নগদ অর্থের চাপ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যাংকটি থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্তা কী

বিশ্লেষকদের মতে, দুই হাজার কোটি টাকার এই সহায়তা শুধু ইসলামী ব্যাংকের জন্য অর্থ জোগান নয়, বরং আমানতকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখাতে চায় যে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমর্থন রয়েছে এবং গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অতীতেও বিভিন্ন ব্যাংককে রেপো, বিশেষ তারল্য সহায়তা এবং অন্যান্য ব্যবস্থার মাধ্যমে নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংক খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়মিত বড় অঙ্কের সহায়তা দিতে হয়েছে।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু তারল্য সহায়তা দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের সংকট পুরোপুরি সমাধান হবে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। যদি আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত থাকে এবং অর্থ উত্তোলনের চাপ চলতে থাকে, তাহলে ব্যাংকটিকে আরও সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সহায়তার ফলে স্বল্পমেয়াদে শাখা ও এটিএমে নগদ অর্থ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা কাঠামো, সুশাসন এবং গ্রাহক আস্থা পুনর্গঠনের বিষয়গুলো আগামী দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ আমানতভিত্তিক ব্যাংক। ফলে এর স্থিতিশীলতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; বরং সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের আস্থা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ পদক্ষেপকে অনেকেই প্রতিরোধমূলক এবং আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

 




ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা সমীচীন হবে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে আলোচনায় গভর্নর

ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাই সমীচীন হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংক কোনো রাজনৈতিক দলের হবে না। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক ব্যাংকে থাকতে পারে।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গভর্নর এমন মত দেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

বৈঠকে সম্পাদকরা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের চলমান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সেসব প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

মোস্তাকুর রহমান জানান, পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে দুই কোটি ৫০ লাখ ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং তা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। খেলাপি ঋণের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে অর্থঋণ আদালত আইনের সংস্কার এবং আদায় অযোগ্য ঋণ নিষ্পত্তির জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে গভর্নর দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে সম্পাদকদের অবহিত করেন। ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বৃহৎ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানো-লোন ব্যবস্থা, এআইভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরোর অনুমোদন বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেনটিটি, ওয়ান ওয়ালেট– এই ধারণার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ব্যবস্থা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া বাংলাকিউআরের ব্যবহার বাড়িয়ে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে আনার কাজ চলছে।

গভর্নর জানান, ব্যাংক একীভূত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনো রাজনৈতিক চাপ এলে তা মোকাবিলা করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানোরও চেষ্টা চলছে বলে সভায় জানান তিনি।

ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ধারা নিয়ে উদ্বেগ
প্রস্তাবিত ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্পাদক পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ধারা কার্যকর হলে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
সভা শেষে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবির সাংবাদিকদের বলেন, বাজেটের আগে  দেশের অর্থনীতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরাও কিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছি। সম্পাদকরা তাদের কিছু উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সম্পাদকদের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ চেয়েছে। মূলত পারস্পরিক আলোচনায় ব্যাংক খাত কীভাবে চলছে এবং এ-সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, ব্যাংক হলো এমন একটি খাত, যা দেশের অর্থনীতির একটা বার্তা দেয়। আলোচনায় ব্যাংক কোম্পানি আইন নিয়েও কথা হয়েছে।

যারা উপস্থিত ছিলেন
সভায় সম্পাদকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী ও দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন।




এবি ব্যাংকের এআই-চালিত ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই-লোন’ এর উদ্বোধন

এবি ব্যাংক পিএলসি. সম্প্রতি ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্‌ম এবি ডিরেক্ট অ্যাপ-এ সংযুক্ত ফ্লেক্সক্রেড পরিচালিত এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই-লোন’-এর পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফিনটেক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানি ফিল্পস লিমিটেড-এর সহযোগিতায় তৈরি এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজ, ঝামেলামুক্ত ও তাৎক্ষণিকভাবে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এ ব্যবস্থায় ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে এবং অনুমোদিত ঋণের অর্থ এবি ডিরেক্ট অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকের হিসাবে জমা হবে।

এবি ব্যাংকের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন উপলক্ষ্যে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মহাদেব সরকার সুমন এফসিএ, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব জেড এম বাবর খান, ফিল্পস লিমিটেড, ইউএই-এর চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জনাব ড্যানিয়েল শ্রেষ্ঠা এবং ফিল্পস লিমিটেড এর কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ) জনাব তুষার হাসান।




মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এর নতুন আধুনিক সুবিধা ‘এমটিবি ট্রেড এক্স’

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) সম্প্রতি এমটিবি ট্রেড এক্স-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে। এটি একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল ওয়েব পোর্টাল, যা ট্রেড লেনদেনের অনুরোধ জমা দেওয়া এবং তার স্বীকৃতি প্রক্রিয়াকে সুগম করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই মাইলফলকটি এমটিবি’র এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল ট্রেড রূপান্তরের যাত্রাপথে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

এমটিবি ট্রেড এক্স হলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি দেশের প্রথম কার্যকর ও অর্থবহ একটি সমাধান। এমটিবি ট্রেড এক্স-এর মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রচলিত, কাগজ-ভিত্তিক ম্যানুয়াল প্রক্রিয়াকরণ থেকে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত হয়েছে। আমাদের ট্রেড গ্রাহকরা এখন যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থানে রিয়েল টাইমে তাদের ট্রেড লেনদেন শুরু করতে এবং তার গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারবেন, যার ফলে কাগজের নথিপত্র এবং শাখায় যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দূর হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটি ট্রেড সমূহকে আরও বেশি দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সুবিধা প্রদান করে। এটি একটি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্ভাবন, যা এমটিবি’র ডিজিটাল ব্যাংকিং বিভাগ বিজনেস এবং ট্রেড অপারেশনস টিমের সাথে নিবিড় সহযোগিতায় পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি করেছে।

অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “এই ডিজিটাল সমাধানটি গ্রাহকদের উন্নত সেবা, দ্রুততর প্রক্রিয়াকরণ এবং নির্বিঘ্ন ট্র্যাকিং সুবিধা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশে এখনও ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ETRs) সংক্রান্ত বিধিমালা পুরোপুরি গ্রহণ করা না হলেও, এমটিবি ট্রেড এক্স-এর মাধ্যমে আমাদের ব্যাংক কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ বাণিজ্য শুরুর পর থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পরিবেশের জন্য ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ (Plug-and-Play) হিসেবে প্রস্তুত থাকল।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার চৌধুরী আখতার আসিফ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ট্রেজারি প্রধান মো. শামসুল ইসলাম এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ট্রেড অপারেশনস বিভাগের প্রধানগণসহ ব্যাংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বক্তারা দেশের ক্রমবর্ধমান ট্রেড ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেম গঠনে “এমটিবি ট্রেড এক্স”-এর কৌশলগত গুরুত্ব ও দূরদর্শী ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।




৪৪ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে, তালিকায় ভালো ব্যাংকগুলোও

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরও চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১ তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এর আগে কখনও হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

কেবল দুর্বল ব্যাংক নয়, এবার আর্থিক সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংক,  প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক ও বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

মাত্র তিন মাসে এই ৪৪ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। খাতভিত্তিক হিসাবে, মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫.৮৮ লাখ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত বকেয়া ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ৫.৫৭ লাখ কোটি টাকা (৩০.৬০ শতাংশ)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ডিসেম্বর প্রান্তিকে অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণ কম দেখিয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে পরে অনেক গোপন খেলাপি ঋণ উদঘাটিত হয়েছে। এছাড়া নানা কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য চাপে থাকায় ঋণ আদায় ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: ছয়টির মধ্যে চারটিরই আরও অবনতি

ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। বর্তমানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৪৫.৮৫ শতাংশ।

গত তিন মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জনতা ব্যাংকে।

২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭৪ শতাংশ।

এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ৬৮৮ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২৮৪ কোটি টাকা ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ১১ কোটি টাকা বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি চাপে বেসরকারি ব্যাংকগুলো

গত তিন মাসে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতেই সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ বেড়েছে। মার্চ প্রান্তিক শেষে ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৬ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা বেড়ে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের ৩০.১১ শতাংশ।

বেসরকারি খাতের ৪৩টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৪টিতেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা অনেক ব্যাংকেরও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে শীর্ষে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকায় (মোট ঋণের ৬৩ শতাংশ)। এরপর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের বেড়েছে ৩ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ১৬২ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংকের ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।

মূলধন সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে এ সময়ে সিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪২২ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়ার ৬৬২ কোটি টাকা, উত্তরা ব্যাংকের ৪০৬ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ৩৯২ কোটি টাকা ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি বেড়েছে ২১৬ কোটি টাকা।

এছাড়া আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৯১৭ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৭২৬ কোটি টাকা, ঢাকা ব্যাংকের ৪৫৩ কোটি টাকা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ২১৮ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের ২১১ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৯৩ কোটি টাকা, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৩১ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ১৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

কেবল বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়, মার্চ প্রান্তিকে বিশেষায়িত তিন ব্যাংকেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তিন মাসে কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৯৬ কোটি টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ৩৪ কোটি টাকা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৯৯ কোটি টাকা।

এছাড়া বিদেশি এইচএসবিসি বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশ ও স্টেট ব্যাংক অভ ইন্ডিয়ারও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

ব্যাংকাররা যা বলছেন

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে ব্যবসার প্রসার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে কিছু বড় ঋণগ্রহীতা ক্রমবর্ধমানভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. তৌহিদুল আলম খান খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে পাঁচটি মূল কারণ চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, কঠোর নজরদারির কারণে আগে গোপন রাখা খেলাপি ঋণগুলো এখন প্রকাশ্যে আসছে। একইসঙ্গে ঋণ স্থগিতাদেশ ও বিলম্বে পরিশোধ সুবিধার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো চাপে থাকা হিসাবগুলোকে আবার শ্রেণিকরণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি, ঋণের সুদহার বৃদ্ধি ও বিশ্ব বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার কারণে নগদ প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ঋণ মূল্যায়ন ও জামানতের অবমূল্যায়নের ক্ষেত্রে সুশাসনের দুর্বলতাও একটি বড় কারণ। তাছাড়া ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।




সিলেটে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কর্মসংস্থান ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি-র অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন সকল আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, শাখা ব্যবস্থাপক ও দ্বিতীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ৬ জুন ২০২৬ তারিখ, শনিবার ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা-২০২৬ রেইনবো গেস্ট হাউজ, সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ড. এ এফ এম মতিউর রহমান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী ও মহাব্যবস্থাপক মো: আমিরুল ইসলাম। সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক খালেদ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান কার্যালয়ের আইন, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মনোজ রায়।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে গুণগত ঋণ বিতরণ ও টেকসই উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সিলেট বিভাগাীয় কার্যালয়ের আওতাধীন শাখাসমূহের ব্যবসায়িক সকল সূচকের পারফরম্যান্স বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৃহীত কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঋণ আদায়ের হার ও ঋণস্থিতি বৃদ্ধি, শ্রেণিকৃত, খেলাপি ঋণ এবং অবলোপনকৃত ঋণ আদায় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করে প্রধান কার্যালয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।