ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা সমীচীন হবে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে আলোচনায় গভর্নর

ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাই সমীচীন হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংক কোনো রাজনৈতিক দলের হবে না। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক ব্যাংকে থাকতে পারে।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গভর্নর এমন মত দেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

বৈঠকে সম্পাদকরা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের চলমান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সেসব প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

মোস্তাকুর রহমান জানান, পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে দুই কোটি ৫০ লাখ ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং তা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। খেলাপি ঋণের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে অর্থঋণ আদালত আইনের সংস্কার এবং আদায় অযোগ্য ঋণ নিষ্পত্তির জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সার্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে গভর্নর দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে সম্পাদকদের অবহিত করেন। ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বৃহৎ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানো-লোন ব্যবস্থা, এআইভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরোর অনুমোদন বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেনটিটি, ওয়ান ওয়ালেট– এই ধারণার মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ব্যবস্থা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া বাংলাকিউআরের ব্যবহার বাড়িয়ে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে আনার কাজ চলছে।

গভর্নর জানান, ব্যাংক একীভূত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনো রাজনৈতিক চাপ এলে তা মোকাবিলা করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানোরও চেষ্টা চলছে বলে সভায় জানান তিনি।

ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ধারা নিয়ে উদ্বেগ
প্রস্তাবিত ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্পাদক পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ধারা কার্যকর হলে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
সভা শেষে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবির সাংবাদিকদের বলেন, বাজেটের আগে  দেশের অর্থনীতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরাও কিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছি। সম্পাদকরা তাদের কিছু উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সম্পাদকদের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ চেয়েছে। মূলত পারস্পরিক আলোচনায় ব্যাংক খাত কীভাবে চলছে এবং এ-সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, ব্যাংক হলো এমন একটি খাত, যা দেশের অর্থনীতির একটা বার্তা দেয়। আলোচনায় ব্যাংক কোম্পানি আইন নিয়েও কথা হয়েছে।

যারা উপস্থিত ছিলেন
সভায় সম্পাদকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী ও দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন।




এবি ব্যাংকের এআই-চালিত ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই-লোন’ এর উদ্বোধন

এবি ব্যাংক পিএলসি. সম্প্রতি ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্‌ম এবি ডিরেক্ট অ্যাপ-এ সংযুক্ত ফ্লেক্সক্রেড পরিচালিত এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই-লোন’-এর পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফিনটেক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানি ফিল্পস লিমিটেড-এর সহযোগিতায় তৈরি এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজ, ঝামেলামুক্ত ও তাৎক্ষণিকভাবে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এ ব্যবস্থায় ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে এবং অনুমোদিত ঋণের অর্থ এবি ডিরেক্ট অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকের হিসাবে জমা হবে।

এবি ব্যাংকের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন উপলক্ষ্যে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মহাদেব সরকার সুমন এফসিএ, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব জেড এম বাবর খান, ফিল্পস লিমিটেড, ইউএই-এর চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জনাব ড্যানিয়েল শ্রেষ্ঠা এবং ফিল্পস লিমিটেড এর কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ) জনাব তুষার হাসান।




মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এর নতুন আধুনিক সুবিধা ‘এমটিবি ট্রেড এক্স’

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) সম্প্রতি এমটিবি ট্রেড এক্স-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে। এটি একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল ওয়েব পোর্টাল, যা ট্রেড লেনদেনের অনুরোধ জমা দেওয়া এবং তার স্বীকৃতি প্রক্রিয়াকে সুগম করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই মাইলফলকটি এমটিবি’র এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল ট্রেড রূপান্তরের যাত্রাপথে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

এমটিবি ট্রেড এক্স হলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি দেশের প্রথম কার্যকর ও অর্থবহ একটি সমাধান। এমটিবি ট্রেড এক্স-এর মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রচলিত, কাগজ-ভিত্তিক ম্যানুয়াল প্রক্রিয়াকরণ থেকে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত হয়েছে। আমাদের ট্রেড গ্রাহকরা এখন যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থানে রিয়েল টাইমে তাদের ট্রেড লেনদেন শুরু করতে এবং তার গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারবেন, যার ফলে কাগজের নথিপত্র এবং শাখায় যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দূর হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটি ট্রেড সমূহকে আরও বেশি দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সুবিধা প্রদান করে। এটি একটি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্ভাবন, যা এমটিবি’র ডিজিটাল ব্যাংকিং বিভাগ বিজনেস এবং ট্রেড অপারেশনস টিমের সাথে নিবিড় সহযোগিতায় পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি করেছে।

অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “এই ডিজিটাল সমাধানটি গ্রাহকদের উন্নত সেবা, দ্রুততর প্রক্রিয়াকরণ এবং নির্বিঘ্ন ট্র্যাকিং সুবিধা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশে এখনও ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ETRs) সংক্রান্ত বিধিমালা পুরোপুরি গ্রহণ করা না হলেও, এমটিবি ট্রেড এক্স-এর মাধ্যমে আমাদের ব্যাংক কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সসহ বাণিজ্য শুরুর পর থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পরিবেশের জন্য ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ (Plug-and-Play) হিসেবে প্রস্তুত থাকল।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার চৌধুরী আখতার আসিফ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ট্রেজারি প্রধান মো. শামসুল ইসলাম এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ট্রেড অপারেশনস বিভাগের প্রধানগণসহ ব্যাংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বক্তারা দেশের ক্রমবর্ধমান ট্রেড ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেম গঠনে “এমটিবি ট্রেড এক্স”-এর কৌশলগত গুরুত্ব ও দূরদর্শী ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।




৪৪ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে, তালিকায় ভালো ব্যাংকগুলোও

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরও চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের ৬১ তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৪টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে। একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এর আগে কখনও হয়নি বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

কেবল দুর্বল ব্যাংক নয়, এবার আর্থিক সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংক,  প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক ও বিদেশি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

মাত্র তিন মাসে এই ৪৪ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। খাতভিত্তিক হিসাবে, মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫.৮৮ লাখ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত বকেয়া ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে এই পরিমাণ ছিল ৫.৫৭ লাখ কোটি টাকা (৩০.৬০ শতাংশ)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ডিসেম্বর প্রান্তিকে অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণ কম দেখিয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে পরে অনেক গোপন খেলাপি ঋণ উদঘাটিত হয়েছে। এছাড়া নানা কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য চাপে থাকায় ঋণ আদায় ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: ছয়টির মধ্যে চারটিরই আরও অবনতি

ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। বর্তমানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৪৫.৮৫ শতাংশ।

গত তিন মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জনতা ব্যাংকে।

২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭৪ শতাংশ।

এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ৬৮৮ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২৮৪ কোটি টাকা ও বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ১১ কোটি টাকা বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি চাপে বেসরকারি ব্যাংকগুলো

গত তিন মাসে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতেই সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ বেড়েছে। মার্চ প্রান্তিক শেষে ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৬ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা বেড়ে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের ৩০.১১ শতাংশ।

বেসরকারি খাতের ৪৩টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৪টিতেই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা অনেক ব্যাংকেরও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে শীর্ষে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকায় (মোট ঋণের ৬৩ শতাংশ)। এরপর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের বেড়েছে ৩ হাজার ৩২০ কোটি টাকা ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ১৬২ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংকের ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।

মূলধন সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে এ সময়ে সিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪২২ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়ার ৬৬২ কোটি টাকা, উত্তরা ব্যাংকের ৪০৬ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ৩৯২ কোটি টাকা ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি বেড়েছে ২১৬ কোটি টাকা।

এছাড়া আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৯১৭ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৭২৬ কোটি টাকা, ঢাকা ব্যাংকের ৪৫৩ কোটি টাকা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ২১৮ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের ২১১ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৯৩ কোটি টাকা, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৩১ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ১৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

কেবল বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়, মার্চ প্রান্তিকে বিশেষায়িত তিন ব্যাংকেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তিন মাসে কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৯৬ কোটি টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ৩৪ কোটি টাকা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৯৯ কোটি টাকা।

এছাড়া বিদেশি এইচএসবিসি বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশ ও স্টেট ব্যাংক অভ ইন্ডিয়ারও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

ব্যাংকাররা যা বলছেন

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে ব্যবসার প্রসার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে কিছু বড় ঋণগ্রহীতা ক্রমবর্ধমানভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. তৌহিদুল আলম খান খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে পাঁচটি মূল কারণ চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, কঠোর নজরদারির কারণে আগে গোপন রাখা খেলাপি ঋণগুলো এখন প্রকাশ্যে আসছে। একইসঙ্গে ঋণ স্থগিতাদেশ ও বিলম্বে পরিশোধ সুবিধার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো চাপে থাকা হিসাবগুলোকে আবার শ্রেণিকরণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি, ঋণের সুদহার বৃদ্ধি ও বিশ্ব বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার কারণে নগদ প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ঋণ মূল্যায়ন ও জামানতের অবমূল্যায়নের ক্ষেত্রে সুশাসনের দুর্বলতাও একটি বড় কারণ। তাছাড়া ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।




সিলেটে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কর্মসংস্থান ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি-র অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন সকল আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, শাখা ব্যবস্থাপক ও দ্বিতীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ৬ জুন ২০২৬ তারিখ, শনিবার ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা-২০২৬ রেইনবো গেস্ট হাউজ, সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ড. এ এফ এম মতিউর রহমান সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী ও মহাব্যবস্থাপক মো: আমিরুল ইসলাম। সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক খালেদ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান কার্যালয়ের আইন, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মনোজ রায়।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে গুণগত ঋণ বিতরণ ও টেকসই উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সিলেট বিভাগাীয় কার্যালয়ের আওতাধীন শাখাসমূহের ব্যবসায়িক সকল সূচকের পারফরম্যান্স বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৃহীত কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঋণ আদায়ের হার ও ঋণস্থিতি বৃদ্ধি, শ্রেণিকৃত, খেলাপি ঋণ এবং অবলোপনকৃত ঋণ আদায় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করে প্রধান কার্যালয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ৮ দিন বন্ধ থাকার পর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, সোনামসজিদ আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপ এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বন্দরের সকল ধরনের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিলো। তবে এ সময় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ খোলা ছিল।

তিনি আরও জানান, ছুটি শেষে আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত শুরু হয়েছে এবং বন্দরে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।




তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা : বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংক খাতে গত তিন মাসে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এছাড়া দেশে চলতি মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। নীতি সহায়তা ও নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ঋণ পুনঃতপশিল করে নেওয়ার পরেও খেলাপি ঋণ বাড়ার ঘটনা ঘটল।

মার্চ শেষে দেশে মোট খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপির হার বেড়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপির হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।

 




প্রথম প্রান্তিকে রূপালী ব্যাংকের লোকসান ৩৯৬ কোটি টাকা

চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির তিনশ ৯৬ কোটি টাকা নিট লোকসান হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ২১ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল ব্যাংকটির। মূলত সুদ আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যয় বাড়ার কারণে ব্যাংকটিকে লোকসান গুনতে হয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে। গত রোববার (১৬ মে) ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে রূপালী ব্যাংকের সুদ আয় হয়েছে ছয়শ ৫৮ কোটি টাকা এবং এ সময়ে ব্যাংকটিকে প্রায় ১ হাজার ৩০৪ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আটশ ৫৯ কোটি টাকা সুদ আয়ের বিপরীতে ১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করা হয়েছিল।

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকটির শুধুমাত্র পরিচালন লোকসান হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে তিনশ ৬ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা হয়েছিল।

এদিকে আলোচ্য প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে আট টাকা ১২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছিল ১৩ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৫ পয়সায়।

সর্বশেষ, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে, বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি রূপালী ব্যাংক। আলোচ্য হিসাব বছরে, ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল, ২৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ২ পয়সায়।

১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন চারশ ৮৭ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে পাঁচশ ৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৮ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৫। এর ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশই রয়েছে সরকারের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৩২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




৯% সুদে অন্য ব্যাংকের বাড়ি–গাড়ির ঋণ কিনবে ব্যাংক এশিয়া

যাঁরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে গত তিন বছরে ব্যক্তিগত, আবাসন ও গাড়ি কিনতে ঋণ করেছেন, তাঁদের সবারই সুদের হার ৯ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া এসব ঋণে কারও কারও সুদহার ১৪-১৫ শতাংশ। তাঁদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া।

ব্যাংকটি তাদের ভোক্তা ঋণ কার্যক্রম পুনর্গঠন করছে। এর অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার ঋণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ, এসব ঋণখেলাপির হার কম। এ ছাড়া জামানত থাকায় এসব ঋণ তুলনামূলক নিরাপদ। এ জন্য ব্যাংকটি তুলনামুলক কম সুদে এই ঋণে ঝুঁকছে।

ব্যাংকটি ঘোষণা দিয়েছে, অন্য ব্যাংকে থাকা ব্যক্তিগত, ফ্ল্যাট ও গাড়ি ঋণ ৯ শতাংশ সুদে টেকওভার বা কিনে নেবে ব্যাংকটি। এসব ক্ষেত্রে নতুন ঋণে সুদহার হবে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

এর ফলে এখন যাঁদের ৯ শতাংশের বেশি সুদে অন্য ব্যাংকে ঋণ রয়েছে, তাঁরা ৯ শতাংশ সুদে তাঁদের ঋণ ব্যাংক এশিয়ায় নিতে পারবে। ব্যাংকটির যেকোনো শাখায় যোগাযোগ করলে দ্রুত সময়ে এই ঋণ স্থানান্তর করা যাবে। এ জন্য আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এই সুবিধা কার্যকর হলে গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি কমে আসবে।

জানা যায়, ব্যাংকটি সামনে আরও বড় আকারে এই সেবায় ঝুঁকবে। ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় শীর্ষে। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহক ৭২ লাখ। এসব গ্রাহকের সরকারের স্বল্প সুদে আবাসন ঋণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে ব্যাংকটি।

জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের ঋণ আমরা ৯ শতাংশ সুদে টেকওভার শুরু করেছি। এর ফলে যাঁদের ঋণে এর চেয়ে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে, তাঁদের ওপর সুদের চাপ কিছুটা কমে আসবে। সামনে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকদের জন্য আমরা এই সেবা চালু করব। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকেরা সরকারের স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাবেন। নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ সহায়তা করবে।’

ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৩৩ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৪১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা।

সেই হিসাবে এক বছরে আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে ব্যাংকটি ঋণ আদায়ে জোর দেয়, ফলে ঋণ খুব বেশি বাড়েনি। ২০২৩ সালে ব্যাংকটি পরিচালন মুনাফা করেছিল ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে যা বেড়ে হয় ১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরে পরিচালন মুনাফা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। তবে নিট মুনাফা হয়েছে ৪৪৪ কোটি টাকা।

এদিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ২০২৩ সালে ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ থাকলেও ২০২৪ সাল শেষে বেড়ে হয় ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত বছরের মাঝামাঝি তা বেড়ে ১৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে গত বছর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।




ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিন ব্যাংক বন্ধ, ২৫-২৬ মে সীমিত পরিসরে খোলা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫-৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে। তবে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে নির্দিষ্ট শিল্পাঞ্চলে ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৩ মে শনিবার ও ২৪ মে রোববার তফসিলি ব্যাংকসমূহের সব শাখা ও উপ-শাখা স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে। এরপর ২৫ মে সোমবার থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত ব্যাংকসমূহ বন্ধ থাকবে।

তবে ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। এসব শাখায় অফিস সময় হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এবং লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপ-শাখা ও বুথসমূহে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন বলে জানানো হয় নির্দেশনায়।




রূপালী ব্যাংকের পরিচালক পদে যোগ দিলেন সাইফুল ইসলাম

রূপালী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের ১২৮৭তম সভায় পরিচালক সাইফুল ইসলামকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়/ছবি: জাগো নিউজ

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন সাবেক ব্যাংকার সাইফুল ইসলাম।

গত ২৭ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে তিন বছরের জন্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে। পরে গত ১১ মে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিয়োগ অনুমোদন দেয়।

 

রোববার (১৭ মে) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১২৮৭তম সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। এ সময় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল হুদা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

সভায় ব্যাংকের পরিচালক মো. আবু ইউসুফ মিয়া, মুজিব আহমদ সিদ্দিকী, এ এইচ এম মঈন উদ্দীন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার, হাসান তানভীর, মো. হারুনুর রশীদ এবং কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

 

সাইফুল ইসলাম এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যাংকিং খাতে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা।




ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে

ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দখল, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সুশাসনের অভাব এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি করেছে। এসব কারণে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা আস্থার প্রতীক থেকে এখন বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের যে সংকট চলছে, তার সমাধান না হলে অর্থনীতির ধস ঠেকানোর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

‘দেশের ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়: প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং খাত: জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ’ শিরোনামের এক সেমিনারে গতকাল শনিবার এমন মত দিয়েছেন বিশিষ্ট জন। তারা জাতীয় অর্থনীতির বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যাংক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর জোর তাগিদ দিয়েছেন। ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮ (ক) ধারা বাতিলের সুপারিশ করেছেন তারা। এই ধারায় একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডার, যাদের কারণে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল, তাদের আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বক্তারা।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে সংগঠনের ব্যানারে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। আরও বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি ফারুক মঈনউদ্দীন, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি আবুল কাসেম হায়দার প্রমুখ।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, যারা ব্যাংক খাতে সমস্যা তৈরি করেছে, তাদের ফেরত আনতে আইনে নতুন ধারা কেন? ব্যাংক রেজল্যুশন আইনটির পুনর্বিবেচনা করতে সরকারকে অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমানতকারীসহ সব ধরনের গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তার সংস্থান করতে হবে। অনেক আমানতকারী ব্যাংক থেকে তাদের জমানো টাকা তুলতে পারছেন না। এর সমাধান দরকার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নৈতিকতার মানদণ্ডে দাঁড়াতে পারছে কিনা, তাও দেখতে হবে। সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন অত্যন্ত জরুরি।
হোসেন জিল্লুর বলেন, অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত রয়েছে। তবে কয়েকটি বিষয়ে সবাই একমত। এগুলো হচ্ছে– অর্থনীতিতে বিপর্যয় হয়েছে এবং কলুষিত নীতি প্রক্রিয়া অর্থনীতির সংকট ত্বরান্বিত করেছে, যা এখনও চলছে। আমানতকারীরা নীরবে দুঃখকষ্ট ভোগ করছেন। অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় আছে। বিনিয়োগ নেই, বেকারত্ব বাড়ছে। দেশের বড় পরিবর্তন সংকট সমাধানের সুযোগ হিসেবে এসেছে। সব সংকটের টেকসই সমাধান প্রয়োজন।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাত অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। এ খাতে লুট হলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসে। ব্যাংক দখল নিয়ে যেসব খবর বেরোচ্ছে, তা দিয়ে থ্রিলার সিনেমা হতে পারে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি দখল করা ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ব্যাংকটি থেকে টাকা তোলার লাইন পড়েছে। তিনিও ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের নতুন ধারা বাতিল করার দাবি জানান।
ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। ব্যাংক খাতে বিগত দিনে যে লুটপাট হয়েছে, তা মন্দ ঋণ হিসেবে মূল ব্যালান্সশিট থেকে আলাদা হিসাব অর্থাৎ ঋণ অবলোপনের পরামর্শ দেন তিনি।




প্রিমিয়ার ব্যাংকের অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ পোশাক কারখানা

প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের নারায়ণগঞ্জ শাখার বিরুদ্ধে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি জালিয়াতি, অবৈধ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং গ্রাহকদের নামে ভুয়া ঋণ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন ২৬টি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার মালিকরা। তাদের দাবি, ব্যাংকের এসব অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ উপস্থাপন করেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডয়েস ল্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ভুয়া আইডি ব্যবহার করে জাল সেলস কন্ট্রাক্ট তৈরি করেন। পরে এসব কৃত্রিম কন্ট্রাক্টের বিপরীতে একাধিক ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা হয়, যদিও বাস্তবে কোনো কাঁচামাল সরবরাহ হয়নি। এলসির দায় নিষ্পত্তির নামে চলতি হিসাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার থেকে ডলার কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের দাবি, বাজারদরের তুলনায় প্রতি ডলারে ১২ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডলার কিনতে বাধ্য করা হয়, ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে চলতি হিসাবে অর্থ জমা দেখিয়ে পরে সেই অর্থ দিয়ে কথিত এলসির দায় সমন্বয় করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক গ্রাহকদের অজান্তে ফোর্সড লোন ও ডিমান্ড লোন সৃষ্টি করে বিপুল সুদ আরোপ করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, bb.org.bd⁠-এর ফরেন এক্সচেঞ্জ গাইডলাইন লঙ্ঘন করে চলতি হিসাব, নগদ জমা ও ঋণের মাধ্যমে এলসি সমন্বয় করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাওয়া হলেও ব্যাংক তা দেয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে ফাঁকা চেক ব্যবহার করে অর্থঋণ আদালতে মামলাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুনঃতফসিলের শর্তে স্বাক্ষর না করলে এলসি ও অন্যান্য ঋণ সুবিধা বাতিলের হুমকি দেওয়া হতো। এতে কারখানার কার্যক্রম, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং সামগ্রিক উৎপাদন কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে পুনঃতফসিলে রাজি হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা বাতিল করে দেয়। এর ফলে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ব্যাংকের চাপ ও ঋণসংক্রান্ত মানসিক উদ্বেগে দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারা গেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, টোটাল ফ্যাশন লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসিবউদ্দিন মিয়াকে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর একদিনে ৩৭ বার ফোন করে স্বাক্ষরের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মানসিক চাপে তিনি ২৭ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া ওয়েস্ট অ্যাপারেল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকও দুদকে অভিযোগ ও ঋণচাপজনিত মানসিক অস্থিরতায় ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে দাবি করেন তারা। আরও একটি প্রতিষ্ঠানের এমডি স্ট্রোক করে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, ব্যাংকের দেখানো ঋণের পরিমাণ প্রকৃত দায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত কোনো বড় অস্বাভাবিক দায় না থাকলেও ২০২৪ সালে হঠাৎ করেই বিপুল অঙ্কের ঋণ দেখানো হয়, যা অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে ঋণ পরিশোধের পথও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে এবং দেশের রপ্তানি আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ব্যবসা সচল রেখে প্রকৃত দায় পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

একই সঙ্গে bb.org.bd⁠, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং স্বনামধন্য অডিট ফার্মের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরীক্ষার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে গত ৬ এপ্রিল গভর্নরের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টোটাল ফ্যাশন লিমিটেড-এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহরাব বিন হাসিব এবং জননী ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌতম পোদ্দারসহ।




ওয়ান ব্যাংকের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ওয়ান ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ৩৪ পয়সা আয় (ইপিএস) হয়েছে। গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি ৬১ পয়সা আয় হয়েছিল।
প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশফ্লো ছিল ১ টাকা ৮৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২১ পয়সা।

গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২২ টাকা ৮৫ পয়সা।




প্রথম প্রান্তিকে ইসলামী ব্যাংকের লোকসান ২৮৮ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এই তিন মাসে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে প্রায় ২৮৮ কোটি টাকা।

 

গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচ্য প্রান্তিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।

বুধবার (১৩ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে ব্যাংকটি তাদের আর্থিক অবস্থার এই চিত্র প্রকাশ করেছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ইসলামী ব্যাংকের সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা, এই হিসেবে ব্যাংকের মোট শেয়ারের বিপরীতে নিট লোকসান প্রায় ২৮৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। গত বছরের (২০২৫) একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ১৮ পয়সা, এই হারে মোট শেয়ারের বিপরীতে নিট মুনাফা হয়েছিল ২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতের বিপরীতে মুনাফা দেওয়ার পরিমাণ ও খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে টাকা খাটিয়ে সেখান থেকেও আশানুরূপ মুনাফা করতে পারেনি তারা। সব মিলিয়েই এই বড় লোকসান।

এদিকে মুনাফায় ধস নামলেও ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএসে বড় উন্নতি দেখা গেছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১৬ টাকা ১৬ পয়সা নগদ ঘাটতি ছিল, এবার তা ইতিবাচক ধারায় ফিরে ১ টাকা ৩৫ পয়সা হয়েছে। মূলত চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে নতুন ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ার ফলে নগদ প্রবাহের এই উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

 

তবে সর্বশেষ প্রান্তিকে বড় অঙ্কের লোকসান হওয়ায় ব্যাংকের মূল সম্পদে প্রভাব পড়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪৪ টাকা ৩১ পয়সা, ২০২৬ সালের একই সময় শেষে যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা ৫৬ পয়সায়। লোকসানের কারণেই মূলত সম্পদমূল্যে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।




মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের ২৫ কোটি টাকার ইউনিট বিক্রি

মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের গ্রোথ ফান্ডের প্রাথমিক ইউনিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। ফান্ডের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ২৫ কোটি টাকার মধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে মিডল্যান্ড ব্যাংক আড়াই কোটি টাকার ইউনিট কিনেছে। বাকি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফান্ডটির উদ্যোক্তা মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি। ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও কাস্টডিয়ান কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি এ মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি।

মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামির উদ্দিন বলেন, মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের প্রতি আস্থা রাখার জন্য বিনিয়োগকারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই সফল সাবস্ক্রিপশন বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পেশাদারভাবে পরিচালিত বিনিয়োগ উপকরণের প্রতি আগ্রহ ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

ফান্ডটির সাবস্ক্রিপশন পর্বে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। এটি পেশাদার ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ড এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

২৫ কোটি টাকা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ফান্ডটি চালু করা হয়। এর মধ্যে স্পন্সর হিসেবে মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এবং অবশিষ্ট অর্থ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড’ মূলত শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন তালিকাভুক্ত শেয়ার, সরকারি সিকিউরিটিজ, মানি মার্কেট ইনস্ট্রুমেন্ট এবং অনুমোদিত অন্যান্য আর্থিক সম্পদে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হবে। ফান্ডটি টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগের বহুমুখীকরণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে গবেষণাভিত্তিক বিনিয়োগ কৌশল অনুসরণ করবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত জানুয়ারিতে বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড হিসেবে ‘মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড’ অনুমোদন দেয়।




ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অর্থপাচারের বিচার দাবিতে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি

দেশের ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারের বিচার দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন ‘ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশ’। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সংঘবদ্ধভাবে দুর্নীতি ও অর্থপাচার হয়েছে, যার ফলে সাধারণ আমানতকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত এক বক্তব্যে সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে অনেক সংকটের মধ্যে রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা নিজেদের আমানতের টাকা তুলতে পারছেন না। কেউ ২ হাজার টাকা, কেউ ৫ হাজার টাকা পাচ্ছেন, আবার অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের কোনো টাকাই দিতে পারছে না।’

 

তিনি বলেন, ‘একজন ক্যানসার রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে চাইলেও নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে দেড় কোটি টাকা তুলতে পারেননি। ব্যাংক তাকে মাত্র ৫ হাজার টাকা নিতে বলেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করা হলেও তারা সাক্ষাৎ করতে পারেননি। তবে তাদের স্মারকলিপি গভর্নরের কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

 

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে নিয়োগ দিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়। সেই সিন্ডিকেট ব্যাংকের টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে।

তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ভয়েস অব লয়ার্স বাংলাদেশের চিফ কোঅর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আশরাফুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি একটি বিশেষ গোষ্ঠী সরকারের প্রভাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দখল করে নেয়। এরপর ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়।

 

তার দাবি, ‘প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা নয়টি দেশে পাচার করা হয়েছে। সেই অর্থ ফেরত এনে আমানতকারীদের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’-এরও সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে অতীতে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তারা আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবি জানান।

 

এসময় বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বিতর্কিত ও অকার্যকর করার জন্য দেশীয়-আন্তর্জাতিক একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তারা চান ইসলামী ব্যাংকিং খাত আগের মতো স্বাভাবিক হোক, আমানতকারীরা নির্বিঘ্নে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারুক এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলুক।

স্মারকলিপিতে ব্যাংক লুটপাটের বিচার, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।




কোরবানির হাটে জাল নোট ঠেকাতে ব্যাংকের বুথ বাধ্যতামূলক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদের আগে পশু কেনাবেচায় বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেন হওয়ায় জাল নোটের ঝুঁকি মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) জারি করা এক সার্কুলারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। একইসঙ্গে প্রতিটি ব্যাংককে একজন করে সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর আগামী ১৭ মের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে কোন ব্যাংক দায়িত্ব পালন করবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আর ঢাকার বাইরের পশুর হাটগুলোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস ঠিক করবে। যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের কাজ করবে সোনালী ব্যাংক।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের আগের রাত পর্যন্ত রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বিরতিহীনভাবে নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সুষ্ঠুভাবে বুথ পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পশুর হাটে দায়িত্ব পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংক। এছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক বিভিন্ন হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি পশুর হাটে দায়িত্ব পালন করবে ১৯টি ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক। এছাড়া মধুমতি ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও বিভিন্ন হাটে বুথ পরিচালনা করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোনও জাল নোট শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে কোরবানির পশুর হাটে নিরাপদ ও সুষ্ঠু লেনদেন নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




‘এসআইবিএলকে একীভূত নয়, প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিন’

‘সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) মারাত্মক ক্ষতি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর’-এমন অভিযোগ ঢাকা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের। তার মতে, প্রায় দেড় বছর ধরে অনভিজ্ঞ পর্ষদ দিয়ে এসআইবিএল পরিচালনা করা হয়। এতে গ্রাহক অনাস্থায় প্রায় অর্থশূন্য হয়ে পড়ে ব্যাংকটি। সে কারণে এসআইবিএলকে একীভূত না করে দখলের আগে যাদের হাতে ছিল সেই মূল মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানান। চিঠির একটি অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সংসদ-সদস্য চিঠিতে দাবি করেন, ২০১৭ সালে শেখ হাসিনার নির্দেশে একটি সরকারি গোয়েন্দা বাহিনীর সহায়তায় অস্ত্রের মুখে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সাইফুল আলম (এস আলম)। এর আগে ধারাবাহিকভাবে ভালো আর্থিক পারফরম্যান্স ছিল এবং শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি বছর ২০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দেওয়া হতো। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এস আলম নিয়ন্ত্রিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি প্রকৃত মালিকদের হাতে ব্যাংক ফেরত না দিয়ে কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং মাত্র একজন উদ্যোক্তা পরিচালকের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। যা ছিল ব্যাংকটিতে আর্থিক দুরবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অনেক উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারের পরিচালক হওয়ার যাবতীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদে তাদের যুক্ত করা হয়নি। তাদের যুক্ত করতে বারবার অনুরোধ করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বিষয়টি আমলে নেননি। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করলেও প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের অন্তর্ভুক্ত না করায় গ্রাহকদের আস্থা কমে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়ায় আরও অনাস্থা সৃষ্টি হয়। এতে জমানো টাকা তুলতে শুরু করেন আমানতকারীরা। ফলে গভীর সংকটে পড়ে ব্যাংকটি। বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট অর্থের জোগান দিলেও ব্যাংকটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

চিঠিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যাদেরকে পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছে, তারা কেউ এর আগে কোনো ব্যাংক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। প্রায় দেড় বছরে ধরে অনভিজ্ঞ পর্ষদ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ব্যাংকটি পরিচালনা করেছেন। এতে ব্যাংকটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংসদ-সদস্য অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাংকটিকে অকার্যকর ঘোষণা করে ব্যাংক রেজ্যুলেশন স্কিমের আওতায় নেওয়া হয়। যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। আদালত রুল জারি করলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষ তার জবাব না দিয়েই একতরফাভাবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ব্যাংকটির প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে দিলে এবং নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত করা হলে এসআইবিএল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এবং আবারও একটি লাভজনক ব্যাংকে পরিণত হবে। এসআইবিএলকে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর শরিয়াহভিত্তিক দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে এসআইবিএল কার্যক্রম শুরু করে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস ব্যাংকটি উদ্বোধন করেন। যা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। ব্যাংকটি মূলত যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে অন্যতম হলেন-সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান; নাইজারের সাবেক অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং ওআইসির সাবেক মহাসচিব ড. হামিদ আল গাবিদ; সৌদি পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার এবং ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগের মহাসচিব ড. আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ। আরও যুক্ত ছিলেন সৌদি আরবের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আহমেদ এম সালাহ জামজুম। যুক্ত ছিল সৌদি আরবের রিলিফ ফান্ড- ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ড, ইসলামিক চ্যারিটেবল সোসাইটি এবং হামদর্দ ল্যাবরেটেরিজ বাংলাদেশসহ দেশি-বিদেশি নামি দামি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান। ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ব্যাংকটি। বর্তমানে এই ব্যাংকের ১৮১টি শাখা, ২৪০টি উপশাখা এবং ৩৭০টি এজেন্ট আউটলেট রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং দক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত না হলে এমন সংকট আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।




মেঘনা ব্যাংকের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

মেঘনা ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি তাদের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশের সব শাখা ও উপশাখায় কেক কাটা হয়। পাশাপাশি নানান আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

 

এসময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংকের সব শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি তাদের অব্যাহত সহযোগিতা, আস্থা ও সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 




জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ৫ কর্মকর্তার কারাদণ্ড

চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যাংকের সাবেক পাঁচ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধারায় আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় পাঁচ আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার সাবেক কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন এবং জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক এসপিও (আইডি রিকন) মো. সাঈদ হোসেন।

এ মামলায় একই শাখার সাবেক কর্মকর্তা নুরুল হুদাকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরেক আসামি আবু বকর সিদ্দিকীর রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

দুদক চট্টগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত পাঁচ আসামিকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় পাঁচ বছর, ৪২০ ধারায় দুই বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

তিনি আরও জানান, আদালত প্রত্যেক আসামিকে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত সময়ে জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও গ্রাহক যোগসাজশে ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেন। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন চলতি ও এসটিডি হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

এ ঘটনায় বিশেষ পরিদর্শন দলের তদন্তে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ২০০০ সালের ৬ এপ্রিল জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ওই শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কাসেম মিয়া নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।




ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ক্ষুদ্র আমানত সংগ্রহ ক্যাম্পেইন শুরু

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র আওতাধীন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে ৩ মে ২০২৬, রবিবার থেকে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র আমানত সংগ্রহ ক্যাম্পেইন-২০২৬ শুরু হয়েছে। ব্যাংকের প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ. কে. মোহাম্মদ জাওয়াদুল হক এতে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় এ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক বিশ্বজিৎ কুমার দে, মুহাম্মদ আনছারুল কবির ও মোহাম্মদ ফয়সল খান, এ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোঃ ওমর ফারুকসহ ব্যাংকের উর্ধ্বতন নির্বাহী, জোন প্রধান ও শাখাব্যবস্থাপকগণ উপস্থিত ছিলেন।
মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে ব্যাংকের ফান্ড ফ্লো বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাভাবিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং সকল মানুষের নিকট ব্যাংকের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ক্যাম্পেইন-এর আয়োজন করা হয়েছে। এসময় তিনি ব্যাংকের সকল কর্মকর্তাদের আরো আন্তরিক ও মানসম্মত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশ প্রদান করেন। দেশের একমাত্র রাষ্ট্র মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকদেরকে আস্থার সাথে নির্বিঘ্নে সকল ধরণের ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
এই ক্যাম্পেইনের আওতায় গ্রাহকগণ আকর্ষণীয় মুনাফায় সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা থেকে যেকোনো পরিমাণের মেয়াদি সঞ্চয় করতে পারবেন।




চট্টগ্রামে ব্যাংক আমানতকারীদের বিক্ষোভ, এক্সিম ব্যাংকে তালা

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় আমানত ফেরত ও ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন একাধিক ব্যাংকের গ্রাহক।

সোমবার (৪ মে) বেলা ১১ থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে কয়েকশ আমানতকারী অংশ নেন।

বিক্ষোভ চলাকালে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা আগ্রাবাদের এক্সিম ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে আগ্রাবাদ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে অবস্থান নিয়েছে ব্যাংক গ্রাহকরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজেদের জমা করা অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না। স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেনও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই আমানত ভাঙতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি ২০২৮ সালের আগে টাকা উত্তোলন সম্ভব নয় বলেও জানানো হচ্ছে।

তাদের আরও অভিযোগ, ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতির মাধ্যমে আমানতের মুনাফা বা মূলধনের একটি অংশ কেটে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা তারা কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছেন না। এ কারণে তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা দ্রুত আমানতের পুরো টাকা ফেরত, মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ব্যাংক গ্রাহকদের কর্মসূচি চলমান আছে। আমাদের টিম সেখানে রয়েছে।’




এপ্রিলে এলো ৩৮ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি মাসের শেষেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রবাসী বাংলাদেশিরা আগেভাগেই দেশে অর্থ পাঠাতে শুরু করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলজুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

রোববার (৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু কেনা এবং পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তুলনামূলক বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে একটি চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বাড়তি প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মনে করছেন তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাং‌কের সবশেষ তথ্য বলছে, গেল এপ্রিলে ৩১২ কো‌টি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭০ পয়সা ধরে) এই অঙ্ক ৩৮ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকার বে‌শি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গেল মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এটিই দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। তার আগে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছিলেন ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে দুই হাজার ৯৩৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে; যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল দুই হাজার ৪৫৪ কোটি মার্কিন ডলার।




এনসিসি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এনসিসি ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ২১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের এ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১.৭০ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্য মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিতে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৪ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করা হয়েছে। আর শেয়ারহোল্ডারদের ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণের জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২১ মে।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৪.২৯ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৩.৯৪ টাকা।

আলোচ্য সময়ে সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১৪.১৫ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির এনওসিএফপিএ ছিল ২.৮৩ টাকা।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭.২০ টাকা।

এই করপোরেট ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেনের কোনো মূল্য সীমা থাকবে না।




সিটি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি সিটি ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১৫ শতাংশ বোনাস। আগের বছর ব্যাংকটি ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল, এর মধ্যে ছিল ১২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১২.৫০ শতাংশ বোনাস।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিদায়ী বছরে সিটি ব্যাংকের নীট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয়ে বড় ধরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ৮ টাকা ৭১ পয়সা আয় (ইপিএস) হয়েছে। আগের বছর শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৭ পয়সা আয় হয়েছিল। তার আগের বছর ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৭৪ পয়সা।

বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

সর্বশেষ বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৪৭ টাকা, যা আগের বছর ৫৮ টাকা ৮৪ পয়সা ছিল।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪০ টাকা ৬৭ পয়সা।

আগামী ৭ জুন, রোববার বিকাল ৩ টায় ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ৩ মে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।




যুক্তরাজ্যের বিসিআইয়ের সদস্য পদ পেল বাংলাদেশ ব্যাংক

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিজনেস কনটিনিউটি ইনস্টিটিউটের (বিসিআই) কর্পোরেট সদস্যপদ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার পথে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক তার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকি সহনশীলতা আর জোরদার করতে বিদ্যমান বিজনেস কনটিনিউটি প্ল্যান (বিসিপি) ভার্সন ২.০ বাস্তবায়নে এটি বড় সহায়তা করবে। এর ফলে যেকোনো সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতেও ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

বিসিআই হলো একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান, যা ব্যবসা পরিচালনার ধারাবাহিকতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সর্বাধুনিক জ্ঞান, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে।

এছাড়া এই সদস্যপদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, পেশাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে দেশের আর্থিক খাত আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই অর্জন দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরাতে বিশেষ স্কিম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে বিশেষ স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত নিয়মে ধাপে ধাপে ২১ মাসে পুরো আমানত উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ আমানতকারীদের ক্ষেত্রে প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছেন। এ ছাড়া উত্তোলনে বাধা পেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করার সুযোগও থাকছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এসব কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী।

অন্যদিকে, এদিন সকাল থেকে আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আন্দোলন করেন প্রায় অর্ধশত মানুষ। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

এসব বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। এ স্কিমে প্রথম দিন থেকেই সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপর তিন মাস পর ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি তিন মাস পর আরও ১ লাখ টাকা করে ধাপে ধাপে প্রায় ২১ মাসে পুরো আমানত উত্তোলন করা যাবে।

শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, আমানত হিসাবের পাশাপাশি এফডিআর ও ডিপিএস হিসাবধারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব আমানত মেয়াদপূর্তির পর প্রথমে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। অবশিষ্ট অর্থ নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়নের মাধ্যমে তোলা যাবে। প্রতিবার নবায়নের সময় মুনাফা উত্তোলনের সুযোগও থাকবে।

বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিডনি রোগী বা গুরুতর অসুস্থ আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সীমাহীন অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন, তবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে হবে। অন্য যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এর বেশি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়মে টাকা উত্তোলনে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানানো যাবে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এদিকে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে আবেদন সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ায় প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সমন্বয়ের কাজও এগিয়ে চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক শাখা একীভূত করে একটি শাখায় রূপান্তর করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ভাড়া করা প্রধান কার্যালয় ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও সমন্বয়ের কাজ চলছে এবং ভিন্ন ভিন্ন কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনবল ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম আরও দক্ষ করতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে। আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।




মার্চে এলো পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স

দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছে সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে। এ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার। একক মাসে এতো পরিমাণ প্রবাসী আয় ইতিহাসে কখনো আসেনি।

বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, পবিত্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভালো প্রভাব ফেলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা) অনুযায়ী, এর পরিমাণ ৪৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটিই দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর একই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৪ শতাংশ। গত বছর মার্চে রেমিট্যান্স ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে মোট ২ হাজার ৬২১ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১৭৮ কোটি ডলার।

এদিকে প্রবাসী আয় বাড়ায়, বিভিন্ন আমদানির দায় পরিশোধের পরও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দিন শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।




‘সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পুনরুদ্ধারে অন্তত ৮ বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন’

গত সাত থেকে আট বছরে একটি লাভজনক ব্যাংককে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হকের (অব.) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য জানা থাকার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব থেকেছে। অথচ এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যাংকারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি।

মাহমুদুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সই করিয়ে ব্যাংকের মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। জীবননাশের ভয়ে তখন কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উদ্যোক্তাদের আশা ছিল অতীতের লুটপাট বন্ধ করে ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অসহযোগিতার কারণে তারল্য সহায়তা পাওয়ার পরও ব্যাংকটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। গত দেড় বছরে তারা ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাতেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন। একদিনে এত বড় দায় পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তার দাবি, আইডিবিসহ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংকটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত অর্থ ছাপানো ছাড়াই পর্যাপ্ত সময় পেলে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে তারা আশা করছেন।

লিখিত বক্তব্যে সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হক (অব.) বলেন, গত দেড় বছরে যারা স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ডে ব্যাংকটি আরও সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে শেয়ার শূন্যে নামিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং এস আলম গ্রুপের দুর্নীতির দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে স্যোশাল ইসলামী ব্যাংককে মার্জার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিলে তারা ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না।

 

এ সময় তিনি ব্যাংক রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০২৫ পাস না করারও আহ্বান জানান। তার দাবি, নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ব্যাংকের স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং লুটপাটের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। তাই তারা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান এবং ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের হাজার হাজার আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় তাদের ব্যবসা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অনেকেই শ্রেণিকৃত হয়ে পড়ায় অন্য প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ নিতে পারছেন না এবং ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।




বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আজ ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর পরের দিন ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের নির্ধারিত ছুটি। সাধারণ ছুটির কারণে এই সময়ে ব্যাংক বন্ধ থাকার কথা থাকলেও পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ এবং রপ্তানি বিল বিক্রয়ের সুবিধার্থে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ ও ১৯ মার্চ পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যাংক শাখাগুলো সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ওই দুই দিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে নির্ধারিত সময়ে লেনদেন চলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন থেকে গত ১০ মার্চ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জা‌রি করে।

নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তৈরি পােশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সরকারি ছুটির দিন ১৮ ও ১৯ মার্চ সীমিত পরিসরে খােলা থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরিপােশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।

 

ছুটির দিন ব্যাংক লেনদেন সূচি—

সকাল ১০টা থে‌কে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেন‌দেন হ‌বে আর অ‌ফিস চল‌বে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এর ম‌ধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মি‌নিট থে‌কে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাক‌বে। ছুটির মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন তাদের বিধি মোতাবেক ভাতা দিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।




ব্যাংক-এমএফএস কোম্পানিতে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ

নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে এই ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা দেয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে এসব প্রতিষ্ঠানে পৃথক ইউনিট গঠন করতে হবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইউনিটটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা ইউনিটটির তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

ইউনিট প্রধান ছাড়াও ব্যাংকের ক্ষেত্রে কমপক্ষে চারজন কর্মকর্তা এবং এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুজন কর্মকর্তাকে এই ইউনিটে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে উপমহাব্যবস্থাপক বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবেন।

 

সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতির জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে সহকারী ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তিন ধাপ নিচের কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করবেন।

ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিটকে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে বাংলা কিউআর, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), অনলাইন ও কার্ড পেমেন্ট সম্প্রসারণ, দেশব্যাপী বাংলা কিউআর চ্যানেলে মার্চেন্ট অনবোর্ডিং জোরদার করা এবং শাখা পর্যায়ে গ্রাহক নিবন্ধন কার্যক্রম তদারকি করা।

এছাড়া কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা, ডিজিটাল লেনদেন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাহক সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করাসহ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাজও এই ইউনিটের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে সাপ্লাই চেইনভিত্তিক পেমেন্ট মডেল উদ্ভাবন ও বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করার কথাও সার্কুলারে বলা হয়েছে।

 

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রতি বছর একটি স্বতন্ত্র প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যবিবরণী প্রতি বছরের মার্চ মাসের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে।
জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন
Jagonews24 Google News Channel

আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে ইউনিটসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।




ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশে কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনার সিদ্ধান্ত স্থগিত

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পা‌নি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমক্যাশ লিমিটেডে বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই (ডিউ ডিলিজেন্স) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

রবিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ যথাযথ আলোচনার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র সম্পন্ন করার জন্য এমক্যাশ লিমিটেডে কৌশলগত ইক্যুইটি বিনিয়োগকারী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসির অন্তর্ভুক্তি করার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার হয়েছে। গত ১২ মার্চ দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৩৯৬তম সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৯ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায়, এমক্যাশে কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির জন্য পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছিল। সে সময় জানানো হয়, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ পর্ষদ সভায় বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডিউ ডিলিজেন্স সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া না পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৫ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬০৯ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা/পরিচালকের হাতে ০.১৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭৫.০৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৭.৯১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬.৮৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহীন ইকবাল ও আহমেদ রশীদ

ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ মো. শাহীন ইকবাল, সিএফএ এবং আহমেদ রশীদ জয়কে ব্যাংকটির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে পদোন্নতি দিয়েছে। এই দুই কর্মকর্তার পদোন্নতি ১ মার্চ ২০২৬ থেকে কার্যকর।

মো. শাহীন ইকবাল এখন ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি কর্পোরেট, কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং, ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং, স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স, রেমিটেন্স ও প্রবাসী ব্যাংকিং এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসহ মূল বিজনেস সেগমেন্টগুলো দেখবেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০০৪ সালে ব্র্যাক ব্যাংকে যোগদানের পর থেকে তিনি ট্রেজারি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টে বিস্তর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ফরেন এক্সচেঞ্জ (foreign exchange), মানি মার্কেট (money market), ক্যাপিটাল মার্কেট (capital market), ডেরিভেটিভস (derivatives), অ্যাসেট-লায়বিলিটি ম্যানেজমেন্ট (asset-liability management) এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টে তাঁর দক্ষতা উল্লেখযোগ্য।

মো. শাহীন ইকবাল বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত সিএফএ (CFA) ইনস্টিটিউট থেকে মর্যাদাপূর্ণ চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট সার্টিফিকেশন অর্জন করেছেন।

তিনি সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং সিএফএ ইনস্টিটিউট, ভার্জিনিয়ার সদস্য। তাঁর পদোন্নতির বিষয়ে মন্তব্য করে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “শাহীন ইকবাল গত ২১ বছর ধরে ব্র্যাক ব্যাংকের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে কাজ করে আসছেন। তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট নিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা আমাদের হোলসেল ব্যাংকিং বিজনেসকে আরও শক্তিশালী করবে।”

পদোন্নতিপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তা আহমেদ রশীদ জয় ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড চিফ রিস্ক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে হেড অব ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকে যোগদান করেন এবং ব্যাংকটির রিস্ক কমপ্লায়েন্স ও অ্যাসেট কোয়ালিটি শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আহমেদ রশীদ জয় তাঁর ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ইস্টার্ন ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি আইএফসি (IFC), মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (Mutual Trust Bank) ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সে কাজ করেছেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (BIBM) থেকে মাস্টার্স ইন ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (MBM) সম্পন্ন করেছেন।

রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে তাঁর ব্যাপক দক্ষতা ও কৌশলগত জ্ঞানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রেগুলেটরি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রেফাত উল্লাহ খান আরও বলেন, “আহমেদ রশীদ ব্র্যাক ব্যাংকের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছেন। তাঁর প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস অনুশীলনের বিষয়ে অঙ্গীকার ব্র্যাক ব্যাংকের পোর্টফোলিও কোয়ালিটি উন্নতকরণ এবং শক্তিশালী ক্রেডিট অবস্থান নিশ্চিতে সহায়তা করেছে।”




ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশের সভাপতি রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক রশীদ

ব্যাংকারদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সর্বাধিক ভোটে মোঃ রাশেদ আকতার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রশীদ-উন-নবী নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়।

নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ব্যাংকার্স ঐক্য পরিষদ ও সার্বজনীন ব্যাংকার্স পরিষদ এই দুটি প্যানেলের মোট ৪৬ জন প্রার্থী এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।

সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ মোট ১৯টি পদে ব্যাংকার্স ঐক্য পরিষদ প্যানেল এবং সমাজসেবা সম্পাদকসহ তিনটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সার্বজনীন ব্যাংকার পরিষদ প্যানেল বিজয়ী হয়।

অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি সুবীর কুমার কুন্ডু, সহ-সভাপতি মোঃ মোফাজ্জাল মামুন খান ও মোঃ শফিকুল ইসলাম ফকির পিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খায়রুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিন মোঃ মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম পিন্টু, কোষাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম মাসুদ, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ মাহমুদুল হাসান রানা, সমাজসেবা সম্পাদক হাসিনা ফেরদৌস এবং সংস্কৃতি সম্পাদক কাজী আজিজুর রহমান।

এছাড়াও কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ লুৎফুল হাবিব, এম. এম. সাইফুল ইসলাম, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, আ. ক. ম. রোকনুজ্জামান খন্দকার, শারমিন আক্তার, মোঃ শাহিন উদ্দিন, আবেদ-উর-রহমান, ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এবং আজমেরী সুলতানা।

আগামী দুই বছরের জন্য নির্বাচিত এ কার্যনির্বাহী কমিটি ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডে দায়িত্ব পালন করবে।

নবনির্বাচিত কমিটি সদস্যদের আস্থা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ক্লাবের সার্বিক উন্নয়ন, সদস্য কল্যাণ ও ঐক্যভিত্তিক শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।




 নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনুসরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ১৩ আগস্ট, ২০২৪ তারিখের ৫৩.০০.০০০০.৩১১.১১.০১৬.১৭-৬০ সংখ্যক প্রজ্ঞাপনমূলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগকৃত ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এতদ্বারা বাতিল করা হলো।’

পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে, মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

এতে আরও বলা হয়, গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্যান্য বিষয়াদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য ও হিরা সোয়েটারের মালিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে, ‘সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে’—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ত্যাগ করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

চলে যাওয়ার সময় নতুন গভর্নর নিয়োগ ও তার পদত্যাগের বিষযয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা পোস্টকে গভর্নর বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবরে শুনেছি।’ এর বাইরে আর কিছু বলেননি তিনি।

সূত্র জানায়, সকালে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে কার্যালয়ে আসেন আহসান এইচ মনসুর। এর মধ্যেই তার অপসারণের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

এ খবর শোনার পর তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা না বলে তাৎক্ষণিক অফিস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থান ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে কিছুটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার (৯ আগস্ট বিকেলে) পদত্যাগ করেন। এরপর ওই বছরের ১৩ আগস্ট আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়।




৩ সপ্তাহে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৮ হাজার ১৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বেশি। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রেমিট্যান্স আহরণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

তাছাড়া, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাবে গত ১ জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসেছে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি) যা ছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি পাওয়া গেছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিদায়ী জানুয়ারি মাসের পুরো সময়ে ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হতে অপারগ নাবিল মুস্তাফিজ

নিয়োগ পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান।

গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ব্যাংকের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এমডি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করার বিষয়ে গতকাল চিঠি দিয়েছেন। তার নিয়োগ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল; এখন নতুন এমডি নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

ব্যাংক খাতে ৩২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউসিবি ব্যাংকে যোগ দেন। এর আগে তিনি হাবিব ব্যাংক লিমিটেড (এইচবিএল) বাংলাদেশে ‘কান্ট্রি চিফ রিস্ক অফিসার’ ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ইউসিবির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ইসলামিক ব্যাংকিং এবং ট্রানজেকশন ব্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিগত সরকারের সময় ডজনখানেক ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় ব্যাংকগুলো সংকটে পড়ে। এই সংকট নিরসনে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একত্র করে গঠিত হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। ব্যাংকগুলো হলো– এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে সংগৃহীত হবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

 




কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভা স্থগিত চেয়েছে কর্মকর্তারা

নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান অবস্থার মধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন বিষয়ক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভা স্থগিত চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সময় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

আজ (সোমবার) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিল নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ ও সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহসহ বিভিন্ন বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় অল্প নোটিশে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা আহ্বান করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি ওই সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে, যা আরও বিস্তৃত ও স্বচ্ছ আলোচনার দাবি রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়। কাউন্সিল নেতারা বলেন, লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্কের অবকাশ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যক্তিগত পরিচয় বা প্রভাবের বিষয় থাকলে তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মত দেন।

তারা আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী মালিকানা কাঠামো ও শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সময়ে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলেও তারা মনে করেন।

কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও বহু আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চহার এবং কিছু ব্যাংকের তারল্যসংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদনের আগে এর প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য প্রভাব ও ঝুঁকি গভীরভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা, ১৬ ফেব্রুয়ারির জরুরি পর্ষদ সভা পুনর্বিবেচনা ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

তারা বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য, এবং স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াই এ ক্ষেত্রে আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে পারে।