সিটি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি সিটি ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১৫ শতাংশ বোনাস। আগের বছর ব্যাংকটি ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল, এর মধ্যে ছিল ১২.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ১২.৫০ শতাংশ বোনাস।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিদায়ী বছরে সিটি ব্যাংকের নীট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয়ে বড় ধরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি ৮ টাকা ৭১ পয়সা আয় (ইপিএস) হয়েছে। আগের বছর শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৭ পয়সা আয় হয়েছিল। তার আগের বছর ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৭৪ পয়সা।

বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

সর্বশেষ বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৪৭ টাকা, যা আগের বছর ৫৮ টাকা ৮৪ পয়সা ছিল।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪০ টাকা ৬৭ পয়সা।

আগামী ৭ জুন, রোববার বিকাল ৩ টায় ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ৩ মে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।




যুক্তরাজ্যের বিসিআইয়ের সদস্য পদ পেল বাংলাদেশ ব্যাংক

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিজনেস কনটিনিউটি ইনস্টিটিউটের (বিসিআই) কর্পোরেট সদস্যপদ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার পথে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক তার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকি সহনশীলতা আর জোরদার করতে বিদ্যমান বিজনেস কনটিনিউটি প্ল্যান (বিসিপি) ভার্সন ২.০ বাস্তবায়নে এটি বড় সহায়তা করবে। এর ফলে যেকোনো সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতেও ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

বিসিআই হলো একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান, যা ব্যবসা পরিচালনার ধারাবাহিকতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সর্বাধুনিক জ্ঞান, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে।

এছাড়া এই সদস্যপদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, পেশাগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে দেশের আর্থিক খাত আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই অর্জন দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরাতে বিশেষ স্কিম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে বিশেষ স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত নিয়মে ধাপে ধাপে ২১ মাসে পুরো আমানত উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ আমানতকারীদের ক্ষেত্রে প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছেন। এ ছাড়া উত্তোলনে বাধা পেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করার সুযোগও থাকছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এসব কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী।

অন্যদিকে, এদিন সকাল থেকে আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আন্দোলন করেন প্রায় অর্ধশত মানুষ। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

এসব বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। এ স্কিমে প্রথম দিন থেকেই সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপর তিন মাস পর ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি তিন মাস পর আরও ১ লাখ টাকা করে ধাপে ধাপে প্রায় ২১ মাসে পুরো আমানত উত্তোলন করা যাবে।

শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, আমানত হিসাবের পাশাপাশি এফডিআর ও ডিপিএস হিসাবধারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব আমানত মেয়াদপূর্তির পর প্রথমে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। অবশিষ্ট অর্থ নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়নের মাধ্যমে তোলা যাবে। প্রতিবার নবায়নের সময় মুনাফা উত্তোলনের সুযোগও থাকবে।

বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিডনি রোগী বা গুরুতর অসুস্থ আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সীমাহীন অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন, তবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে হবে। অন্য যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এর বেশি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা বিবেচনা করবে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়মে টাকা উত্তোলনে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানানো যাবে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এদিকে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে আবেদন সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ায় প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সমন্বয়ের কাজও এগিয়ে চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক শাখা একীভূত করে একটি শাখায় রূপান্তর করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ভাড়া করা প্রধান কার্যালয় ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও সমন্বয়ের কাজ চলছে এবং ভিন্ন ভিন্ন কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনবল ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম আরও দক্ষ করতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে। আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।




মার্চে এলো পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স

দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছে সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে। এ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার। একক মাসে এতো পরিমাণ প্রবাসী আয় ইতিহাসে কখনো আসেনি।

বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, পবিত্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভালো প্রভাব ফেলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা) অনুযায়ী, এর পরিমাণ ৪৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটিই দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছর একই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৪ শতাংশ। গত বছর মার্চে রেমিট্যান্স ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে মোট ২ হাজার ৬২১ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১৭৮ কোটি ডলার।

এদিকে প্রবাসী আয় বাড়ায়, বিভিন্ন আমদানির দায় পরিশোধের পরও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দিন শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।




‘সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পুনরুদ্ধারে অন্তত ৮ বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন’

গত সাত থেকে আট বছরে একটি লাভজনক ব্যাংককে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হকের (অব.) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য জানা থাকার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব থেকেছে। অথচ এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যাংকারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি।

মাহমুদুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সই করিয়ে ব্যাংকের মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। জীবননাশের ভয়ে তখন কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উদ্যোক্তাদের আশা ছিল অতীতের লুটপাট বন্ধ করে ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অসহযোগিতার কারণে তারল্য সহায়তা পাওয়ার পরও ব্যাংকটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। গত দেড় বছরে তারা ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাতেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন। একদিনে এত বড় দায় পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তার দাবি, আইডিবিসহ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংকটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত অর্থ ছাপানো ছাড়াই পর্যাপ্ত সময় পেলে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে তারা আশা করছেন।

লিখিত বক্তব্যে সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হক (অব.) বলেন, গত দেড় বছরে যারা স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ডে ব্যাংকটি আরও সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে শেয়ার শূন্যে নামিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং এস আলম গ্রুপের দুর্নীতির দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে স্যোশাল ইসলামী ব্যাংককে মার্জার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিলে তারা ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না।

 

এ সময় তিনি ব্যাংক রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০২৫ পাস না করারও আহ্বান জানান। তার দাবি, নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ব্যাংকের স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং লুটপাটের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। তাই তারা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান এবং ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের হাজার হাজার আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় তাদের ব্যবসা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অনেকেই শ্রেণিকৃত হয়ে পড়ায় অন্য প্রতিষ্ঠান থেকেও ঋণ নিতে পারছেন না এবং ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।




বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আজ ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর পরের দিন ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের নির্ধারিত ছুটি। সাধারণ ছুটির কারণে এই সময়ে ব্যাংক বন্ধ থাকার কথা থাকলেও পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাসসহ অন্যান্য ভাতা পরিশোধ এবং রপ্তানি বিল বিক্রয়ের সুবিধার্থে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ ও ১৯ মার্চ পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যাংক শাখাগুলো সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। ওই দুই দিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে নির্ধারিত সময়ে লেনদেন চলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ সাইট সুপারভিশন থেকে গত ১০ মার্চ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জা‌রি করে।

নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তৈরি পােশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সরকারি ছুটির দিন ১৮ ও ১৯ মার্চ সীমিত পরিসরে খােলা থাকবে। ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরিপােশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।

 

ছুটির দিন ব্যাংক লেনদেন সূচি—

সকাল ১০টা থে‌কে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেন‌দেন হ‌বে আর অ‌ফিস চল‌বে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এর ম‌ধ্যে দুপুর ১টা ১৫ মি‌নিট থে‌কে দেড়টা পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাক‌বে। ছুটির মধ্যে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন তাদের বিধি মোতাবেক ভাতা দিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।




ব্যাংক-এমএফএস কোম্পানিতে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ

নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে এই ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা দেয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে এসব প্রতিষ্ঠানে পৃথক ইউনিট গঠন করতে হবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইউনিটটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা ইউনিটটির তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

ইউনিট প্রধান ছাড়াও ব্যাংকের ক্ষেত্রে কমপক্ষে চারজন কর্মকর্তা এবং এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুজন কর্মকর্তাকে এই ইউনিটে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে উপমহাব্যবস্থাপক বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবেন।

 

সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতির জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে সহকারী ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তিন ধাপ নিচের কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করবেন।

ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিটকে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে বাংলা কিউআর, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), অনলাইন ও কার্ড পেমেন্ট সম্প্রসারণ, দেশব্যাপী বাংলা কিউআর চ্যানেলে মার্চেন্ট অনবোর্ডিং জোরদার করা এবং শাখা পর্যায়ে গ্রাহক নিবন্ধন কার্যক্রম তদারকি করা।

এছাড়া কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা, ডিজিটাল লেনদেন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাহক সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করাসহ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাজও এই ইউনিটের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে সাপ্লাই চেইনভিত্তিক পেমেন্ট মডেল উদ্ভাবন ও বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করার কথাও সার্কুলারে বলা হয়েছে।

 

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রতি বছর একটি স্বতন্ত্র প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যবিবরণী প্রতি বছরের মার্চ মাসের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে।
জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন
Jagonews24 Google News Channel

আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে ইউনিটসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।




ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশে কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনার সিদ্ধান্ত স্থগিত

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পা‌নি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমক্যাশ লিমিটেডে বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই (ডিউ ডিলিজেন্স) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

রবিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ যথাযথ আলোচনার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র সম্পন্ন করার জন্য এমক্যাশ লিমিটেডে কৌশলগত ইক্যুইটি বিনিয়োগকারী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বি১০০ হোল্ডিংস এলএলসির অন্তর্ভুক্তি করার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার হয়েছে। গত ১২ মার্চ দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৩৯৬তম সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৯ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায়, এমক্যাশে কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির জন্য পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছিল। সে সময় জানানো হয়, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ পর্ষদ সভায় বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডিউ ডিলিজেন্স সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া না পর্যন্ত আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৫ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬০৯ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা/পরিচালকের হাতে ০.১৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৭৫.০৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৭.৯১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬.৮৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহীন ইকবাল ও আহমেদ রশীদ

ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ মো. শাহীন ইকবাল, সিএফএ এবং আহমেদ রশীদ জয়কে ব্যাংকটির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে পদোন্নতি দিয়েছে। এই দুই কর্মকর্তার পদোন্নতি ১ মার্চ ২০২৬ থেকে কার্যকর।

মো. শাহীন ইকবাল এখন ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি কর্পোরেট, কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং, ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং, স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স, রেমিটেন্স ও প্রবাসী ব্যাংকিং এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনসহ মূল বিজনেস সেগমেন্টগুলো দেখবেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০০৪ সালে ব্র্যাক ব্যাংকে যোগদানের পর থেকে তিনি ট্রেজারি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টে বিস্তর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ফরেন এক্সচেঞ্জ (foreign exchange), মানি মার্কেট (money market), ক্যাপিটাল মার্কেট (capital market), ডেরিভেটিভস (derivatives), অ্যাসেট-লায়বিলিটি ম্যানেজমেন্ট (asset-liability management) এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টে তাঁর দক্ষতা উল্লেখযোগ্য।

মো. শাহীন ইকবাল বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (বর্তমানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত সিএফএ (CFA) ইনস্টিটিউট থেকে মর্যাদাপূর্ণ চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট সার্টিফিকেশন অর্জন করেছেন।

তিনি সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং সিএফএ ইনস্টিটিউট, ভার্জিনিয়ার সদস্য। তাঁর পদোন্নতির বিষয়ে মন্তব্য করে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “শাহীন ইকবাল গত ২১ বছর ধরে ব্র্যাক ব্যাংকের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে কাজ করে আসছেন। তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট নিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা আমাদের হোলসেল ব্যাংকিং বিজনেসকে আরও শক্তিশালী করবে।”

পদোন্নতিপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তা আহমেদ রশীদ জয় ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড চিফ রিস্ক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে হেড অব ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকে যোগদান করেন এবং ব্যাংকটির রিস্ক কমপ্লায়েন্স ও অ্যাসেট কোয়ালিটি শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আহমেদ রশীদ জয় তাঁর ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ইস্টার্ন ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি আইএফসি (IFC), মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (Mutual Trust Bank) ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সে কাজ করেছেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (BIBM) থেকে মাস্টার্স ইন ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (MBM) সম্পন্ন করেছেন।

রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে তাঁর ব্যাপক দক্ষতা ও কৌশলগত জ্ঞানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রেগুলেটরি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। তারেক রেফাত উল্লাহ খান আরও বলেন, “আহমেদ রশীদ ব্র্যাক ব্যাংকের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছেন। তাঁর প্রযুক্তিগত দক্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস অনুশীলনের বিষয়ে অঙ্গীকার ব্র্যাক ব্যাংকের পোর্টফোলিও কোয়ালিটি উন্নতকরণ এবং শক্তিশালী ক্রেডিট অবস্থান নিশ্চিতে সহায়তা করেছে।”




ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশের সভাপতি রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক রশীদ

ব্যাংকারদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সর্বাধিক ভোটে মোঃ রাশেদ আকতার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রশীদ-উন-নবী নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হয়।

নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ব্যাংকার্স ঐক্য পরিষদ ও সার্বজনীন ব্যাংকার্স পরিষদ এই দুটি প্যানেলের মোট ৪৬ জন প্রার্থী এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।

সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ মোট ১৯টি পদে ব্যাংকার্স ঐক্য পরিষদ প্যানেল এবং সমাজসেবা সম্পাদকসহ তিনটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সার্বজনীন ব্যাংকার পরিষদ প্যানেল বিজয়ী হয়।

অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি সুবীর কুমার কুন্ডু, সহ-সভাপতি মোঃ মোফাজ্জাল মামুন খান ও মোঃ শফিকুল ইসলাম ফকির পিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খায়রুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিন মোঃ মেহেদী হাসান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম পিন্টু, কোষাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম মাসুদ, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ মাহমুদুল হাসান রানা, সমাজসেবা সম্পাদক হাসিনা ফেরদৌস এবং সংস্কৃতি সম্পাদক কাজী আজিজুর রহমান।

এছাড়াও কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ লুৎফুল হাবিব, এম. এম. সাইফুল ইসলাম, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, আ. ক. ম. রোকনুজ্জামান খন্দকার, শারমিন আক্তার, মোঃ শাহিন উদ্দিন, আবেদ-উর-রহমান, ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এবং আজমেরী সুলতানা।

আগামী দুই বছরের জন্য নির্বাচিত এ কার্যনির্বাহী কমিটি ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডে দায়িত্ব পালন করবে।

নবনির্বাচিত কমিটি সদস্যদের আস্থা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ক্লাবের সার্বিক উন্নয়ন, সদস্য কল্যাণ ও ঐক্যভিত্তিক শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।




 নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনুসরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ১৩ আগস্ট, ২০২৪ তারিখের ৫৩.০০.০০০০.৩১১.১১.০১৬.১৭-৬০ সংখ্যক প্রজ্ঞাপনমূলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগকৃত ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এতদ্বারা বাতিল করা হলো।’

পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে, মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

এতে আরও বলা হয়, গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনকালে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্যান্য বিষয়াদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য ও হিরা সোয়েটারের মালিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে, ‘সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে’—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ত্যাগ করেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

চলে যাওয়ার সময় নতুন গভর্নর নিয়োগ ও তার পদত্যাগের বিষযয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা পোস্টকে গভর্নর বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবরে শুনেছি।’ এর বাইরে আর কিছু বলেননি তিনি।

সূত্র জানায়, সকালে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে কার্যালয়ে আসেন আহসান এইচ মনসুর। এর মধ্যেই তার অপসারণের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

এ খবর শোনার পর তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা না বলে তাৎক্ষণিক অফিস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থান ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে কিছুটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার (৯ আগস্ট বিকেলে) পদত্যাগ করেন। এরপর ওই বছরের ১৩ আগস্ট আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়।




৩ সপ্তাহে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৮ হাজার ১৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বেশি। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রেমিট্যান্স আহরণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

তাছাড়া, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাবে গত ১ জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসেছে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি) যা ছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি পাওয়া গেছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিদায়ী জানুয়ারি মাসের পুরো সময়ে ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হতে অপারগ নাবিল মুস্তাফিজ

নিয়োগ পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান।

গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ব্যাংকের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এমডি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করার বিষয়ে গতকাল চিঠি দিয়েছেন। তার নিয়োগ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল; এখন নতুন এমডি নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

ব্যাংক খাতে ৩২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউসিবি ব্যাংকে যোগ দেন। এর আগে তিনি হাবিব ব্যাংক লিমিটেড (এইচবিএল) বাংলাদেশে ‘কান্ট্রি চিফ রিস্ক অফিসার’ ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ইউসিবির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ইসলামিক ব্যাংকিং এবং ট্রানজেকশন ব্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিগত সরকারের সময় ডজনখানেক ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় ব্যাংকগুলো সংকটে পড়ে। এই সংকট নিরসনে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একত্র করে গঠিত হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। ব্যাংকগুলো হলো– এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে সংগৃহীত হবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

 




কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভা স্থগিত চেয়েছে কর্মকর্তারা

নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান অবস্থার মধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন বিষয়ক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভা স্থগিত চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সময় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

আজ (সোমবার) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিল নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ ও সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহসহ বিভিন্ন বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় অল্প নোটিশে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা আহ্বান করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি ওই সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে, যা আরও বিস্তৃত ও স্বচ্ছ আলোচনার দাবি রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়। কাউন্সিল নেতারা বলেন, লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্কের অবকাশ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যক্তিগত পরিচয় বা প্রভাবের বিষয় থাকলে তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মত দেন।

তারা আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী মালিকানা কাঠামো ও শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সময়ে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলেও তারা মনে করেন।

কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও বহু আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চহার এবং কিছু ব্যাংকের তারল্যসংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদনের আগে এর প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য প্রভাব ও ঝুঁকি গভীরভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা, ১৬ ফেব্রুয়ারির জরুরি পর্ষদ সভা পুনর্বিবেচনা ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

তারা বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য, এবং স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াই এ ক্ষেত্রে আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে পারে।




জাহাজ নির্মাণ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও সম্ভাবনাময় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও গতিশীল করতে ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে, এ স্কিমে আবেদন করার শেষ সময় ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুন। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং রপ্তানি আয়ে এ খাতের অবদান বাড়ানোর লক্ষ্যে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সুবিধা নিতে পারবে। তবে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ এর সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। স্কিমটির সার্বিক তদারকি ও পরিচালনার দায়িত্বও এ বিভাগের ওপর থাকবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, পুনঃঅর্থায়নের আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। নিজস্ব নীতিমালার আওতায় গ্রাহকদের ঋণ বা বিনিয়োগ অনুমোদনের সুযোগ থাকলেও, তহবিলের আওতায় ঋণ মঞ্জুরের আগে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ থেকে অর্থের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

তহবিল প্রাপ্যতার জন্য আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণ বিতরণ ও পরিশোধসূচি সংযুক্ত করার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাংকগুলো ধাপে ধাপে গ্রাহকদের অর্থ বিতরণ করতে পারবে। ঋণ বিতরণের পর পুনঃঅর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করা যাবে। প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন কিস্তির বিপরীতেও পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া ইসলামি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় অনুমোদিত বিনিয়োগও এই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নিজস্ব শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে তহবিল ব্যবহার করতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সময়সীমা বৃদ্ধির বাইরে পূর্বের সার্কুলারে উল্লিখিত অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বাড়বে, নতুন উদ্যোক্তা উৎসাহিত হবে এবং রপ্তানিমুখী এ খাত আরও শক্তিশালী হবে।




বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে অর্থ উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব বাতিল করায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ চেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ ভবনের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় অর্থ উপদেষ্টার এ পদত্যাগের দাবি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংগঠন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গত বছরের অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন প্রস্তাব অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই এটি বাতিল করা হয়েছে। বর্তমান উপদেষ্টা যখন গভর্নর ছিলেন তখন তিনিও এ প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু আমরা দেখলাম তিনি তা প্রয়োজন নেই বলে গভর্নরকে এক চিঠিতে জানান। এ দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে তার পদত্যাগ চাচ্ছি। সেটা যদি একদিনও হয় সেটাও আমরা চাই।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে এগিয়ে থাকা দুটি রাজনৈতিক দল তাদের ইশতেহারে স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমরা চাই যে দলই সরকার গঠন করুক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন দ্রুত সময়ে বাস্তবায়ন করবে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের পর সর্বস্থরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, আপনারা অবগত আছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত এবং আইনি কাঠামো সুংসহত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল পক্ষ থেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালীকরণের বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ, আর্থিক খাতের সংস্কার ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি স্বাধীন ও সক্ষম কেন্দ্রীয় ব্যাংক অপরিহার্য।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নানাবিধ মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও বহুল প্রত্যাশিত ও কাঙ্খিত বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন অধ্যাদেশ প্রণীত না হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষেভের সৃষ্টি হয়েছে।




বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ ব্যাংক থেকে ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪১৫ কোটি মার্কিন ডলার (৪.১৫ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

জানা গেছে, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী তা রয়েছে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।




রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দাবিতে মানববন্ধন

রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক—সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণীর—কর্মকর্তারা ন্যায্য ও নিয়মিত পদোন্নতির দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থবির থাকায় কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা এবং বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মানববন্ধনে কর্মকর্তারা বলেন, গত ১৪ অক্টোবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা একটি স্মারকের কারণে নিয়মিত পদোন্নতি কার্যত বন্ধ রয়েছে। স্মারকে বলা হয়েছে, সুপার নিউমারারি পদোন্নতি আত্মীকরণ বা সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত কোনো নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো ১৫ অক্টোবর সুপার নিউমারারি পদোন্নতি সমন্বয় করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, তবু পদোন্নতি কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কর্মকর্তারা বলেন, সুপার নিউমারারি পদোন্নতি নিয়মিত পদোন্নতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। দেশের অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সুপার নিউমারারি পদোন্নতি চালু থাকলেও নিয়মিত পদোন্নতি বন্ধ রাখা হয় না। শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে “সমন্বয়”-এর অজুহাতে পদোন্নতি বন্ধ রাখাকে তারা বৈষম্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

মানববন্ধনে তাদের দাবি ছিল, ২০২৪ সালের পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট বছরের শূন্য পদ অনুযায়ী এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ কাট-অফ তারিখ ধরে প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী কার্যকর করতে হবে। এছাড়া নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের পর সুপার নিউমারারি পদোন্নতি তিন ধাপে আত্মীকরণ বা সমন্বয় এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ কাট-অফ ধরে দ্বিতীয় দফা নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়ারও দাবি জানানো হয়। পদোন্নতি কার্যকরতার তারিখ ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করতে হবে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।

মানববন্ধনে মো. মোতাহের হোসেন বক্তব্য রাখেন। কর্মকর্তারা আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের কর্মচারীদের পদোন্নতি নীতিমালা–২০২৫’-এর কিছু ধারা বৈষম্য সৃষ্টি করছে। তারা নীতিমালাটি সংশোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদলে একটি ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন, যা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।




এনআরবিসি ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন ‘বিজকন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন ‘বিজকন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘লিডিং দ্য চেঞ্জ’ স্লোগানে আয়োজিত এই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবুল বশর ও মো.আনোয়ার হোসেন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান নুরুল হক, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ এবং সিওও মুহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জোনাল প্রধানসহ সারা দেশের শাখা ও উপশাখার প্রধানগণ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে ২০২৫ সালের ব্যাংকের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি ২০২৬ সালের সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা এবং কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া এনআরবিসি ব্যাংককে টেকসই, সুশাসিত ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি সুশাসন জোরদার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়তা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সর্বোত্তম কর্পোরেট গভর্ন্যান্সকে ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের মূল উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।

সিএমএসএমই অর্থায়নের বিষয়ে তিনি জানান, ডিজিটাল চ্যানেল ও ন্যানো-ক্রেডিটসহ বিশেষায়িত পণ্যের মাধ্যমে এ খাতে ঋণ সম্প্রসারণে ব্যাংক ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত ও ভবিষ্যতমুখী কৌশল প্রণয়ন করেছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান ২০২৫ সালের ব্যবসায়িক ফলাফল উপস্থাপন করেন এবং খেলাপি ঋণ কমানো ও অবলোপন করা ঋণ আদায়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬ সালের রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

এছাড়া শাখা ও উপশাখার বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এমএসএমই অর্থায়ন সম্প্রসারণ, বিনা ও স্বল্প খরচের আমানত সংগ্রহ এবং ব্যাংকিং সেবা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভূক্তির ওপর গুরুত্ব দেন। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সামষ্টিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি, যা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করবে।

বিজকন-২০২৬ সম্মেলনে এনআরবিসি ব্যাংকের কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং টেকসই ও গ্রাহককেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধির দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।




চট্টগ্রামে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চট্টগ্রামে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লুর সামনে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তখন ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন।

সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী হোটেলের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তাদের পরনে ‘চাকরিচ্যুত ব্যাংকার’ লেখা টিশার্ট দেখা যায়।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে তারা “তারেক রহমানের আহ্বান, শুভেচ্ছা স্বাগতম”, “ভোট দিবে কিসে, ধানের শীষে”, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস”–এমন সব স্লোগান দিতে থাকেন।

বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে তারেক রহমান হোটেল থেকে জনসভার উদ্দেশে বের হওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

আন্দোলনরতদের দাবি, তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা, যাতে নিজেদের হারানো অধিকার ফিরে পান।

ইলিয়াস হোসেন নামে এক চাকরিচ্যুত ব্যাংকার বলেন, ‘আমাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান যেন আমাদের বিষয়টি সমাধান করেন, সেজন্য চাকরিচ্যুতরা এখানে এসেছেন।’




নিরাপত্তা শঙ্কায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকায় নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। আজ  সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাঠানো এক খুদেবার্তায় অনুষ্ঠানটি স্থগিতের তথ্য জানানো হয়।

পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত এই নতুন ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ উচ্চপদস্থ ব্যাংকার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে একীভূত ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের মধ্যে লাভ-লোকসান নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের কিছু স্থানে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণেই অনুষ্ঠানটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্তায় অবশ্য একে ‘অনিবার্য কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর থেকেই আমানতকারীদের মধ্যে মুনাফা না পাওয়া এবং টাকা উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। গত কয়েক দিনে ব্যাংকটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত উত্তোলন করা হলেও কিছু নতুন আমানতও জমা হয়েছে। এর আগে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে আংশিক মুনাফা দেওয়ার কথা জানানো হলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি আমানতকারীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী, নতুন এই ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ (২০ হাজার কোটি টাকা) সরবরাহ করেছে সরকার। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্যান্য স্থায়ী আমানত থেকে শেয়ারে রূপান্তর করা হবে।

নতুন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হবে মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে। টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত যেকোনো সময় তোলা যাবে। তবে এর বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ দুই বছরে উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া স্থায়ী আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণসুবিধা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।




পাঁচ ব্যাংকের অডিটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : অর্থ উপদেষ্টা

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন, সেটা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই পাঁচ ব্যাংকের অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার আগে আপনি বলেছিলেন সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, ইতোমধ্যে পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য করে নতুন একটি ব্যাংক করা হয়েছে। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আপনারা কী ভাবছেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি কমপ্লিকেটেড (জটিল)। বললেই তো হবে না, এত সহজে কিন্তু এসব জিনিসের ডিসিশন নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, আমরা যেটা বলছি ডিপোজিটররা টাকা পাবেন, এটা ভেরি সিমপল। যার টাকা জমা আছে, তিনি টাকা পাবেন। আর শেয়ারহোল্ডাররা শেয়ার কিনেছেন, কোন কনটেক্সটে কিনেছেন, মার্কেট প্রাইসে কিনেছেন, শেয়ারহোল্ডার ওয়ান্টেড টু বি ওনার। ওরা ভলান্টারি তো বোঝে।

শেয়ারহোল্ডাররা তো বলছেন— তারা আর্থিক প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনেছেন এবং ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) আগের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলো মুনাফা দেখিয়েছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সেটা তো আমরা দেখব। ওইটা তো এক্সামিন (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) করছি, কোন কনটেক্সটে কিনেছে এবং দেখি কী করা যায়।

৫ আগস্টের আগে এই পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যারা অডিট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যবস্থা তো নেওয়া হবে, সেটা দেখা হচ্ছে। যাই হোক এখন সব কথা বলা যাবে না।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে উত্তোলন ১০৭ কোটি, জমা ৪৪ কোটি টাকা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়ার পর প্রথম দুই দিনে গ্রাহকদের মধ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বরং এ সময়ে ব্যাংকটি থেকে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলনের বিপরীতে ৪৪ কোটি টাকা নতুন আমানত এসেছে, যা গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, নুরুন নাহার, নির্বাহী পরিচালক, রফিকুল ইসলাম, আরিফ হোসেন খান ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান আইয়ুব ভুঁইয়া প্রমুখ।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সাধারণভাবে একটি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই), ক্যাপিটালাইজেশন, সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। নতুন করে প্রণীত ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্সের আওতায় ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানান, ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ইতোমধ্যে রেজুলেশন স্কিম জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুসারে আমানতকারীদের সঙ্গে ব্যাংকের লেনদেন চলছে। নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি প্রতিনিধিদের দিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালকসহ একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, একজন ব্যাংকার ও একজন আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠিত হবে।

দুই দিনের লেনদেনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে গভর্নর বলেন, ১ ও ৪ জানুয়ারি মোট ১৩ হাজার ৩১৪টি উত্তোলন হয়েছে। এতে মোট উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি উত্তোলন হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে—৬ হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক ৬৬ কোটি টাকা তুলেছেন। তবে একই সময়ে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত জমা পড়েছে। ফলে নেট হিসাবে পরিস্থিতি সন্তোষজনক।

গভর্নর জানান, সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—একটি হলো সমন্বিত আইটি সিস্টেম চালু করা, যেটির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম কাজ করছে। অন্যটি হলো পাঁচটি ব্যাংকের অতীত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক অডিট। তবে একই সঙ্গে দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তারা যেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, পাঁচ ব্যাংকের দুরবস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু ব্যাংক নয়, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা

তিনি আরও জানান, ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া গেলে জানা যাবে টাকা কীভাবে, কোন কোন হিসাবে গেছে এবং কারা এর সুবিধাভোগী।

তিনি জানান, আমরা কাউকে ছাঁটাই করতে চাই না। তবে কেউ কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মুনাফার হার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, শরিয়াহভিত্তিক মুনাফার হার বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ও নতুন পণ্য একীভূত করে গ্রাহকদের জন্য নতুন নতুন শরিয়াহসম্মত প্রোডাক্ট চালু করা হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আগামী ১৯ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত লাভজনক করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত আস্থার জায়গায় নিয়ে গিয়ে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘নতুন নতুন গ্রাহক যুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। গত দুদিনে নতুন করে ৪৪ কোটি টাকা আমানত এসেছে। এসব নতুন আমানতকারী ইচ্ছামতো যে কোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন। তারা বাজারে চলমান ইসলামী ব্যাংকিং রেট অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক মুনাফাও পাবেন।”

গভর্নর বলেন, দুদিনে পাঁচটি ব্যাংকে মোট ৪৪ কোটি টাকার বেশি নতুন আমানত জমা পড়েছে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকে ২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংকে ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা, এসআইবিএলে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৪৮ লাখ টাকা এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ৬২ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের শঙ্কা ও ভয়ভীতি ছিল। দেশ-বিদেশের অনেক পরামর্শক নানা আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমরা সেগুলো অতিক্রম করতে পেরেছি। আমাদের গল্পটা ইতিবাচক, এবং যে ডাটা পাচ্ছি, তা আমাদের আস্থা আরও বাড়াচ্ছে।’

ব্যাংকটির সামনে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো, রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রমে গতি ফেরানো এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধসহ সব ধরনের ডিজিটাল সেবা নির্বিঘ্ন করা। একই সঙ্গে খরচ কমানো ও আয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।

গভর্নর আরও বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকলেও পরিচালিত হবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। “এটি কোনো সরকারি পে-স্কেলে চলবে না। নতুন ও বিদ্যমান কর্মকর্তাদের বেতন হবে বেসরকারি ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায়। পাঁচটি ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন বেতন কাঠামো একীভূত করে একটি ইউনিফাইড স্কেলে নেওয়া হবে।”

ফরেনসিক অডিট প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, পাঁচটি ব্যাংককেই ফরেনসিক অডিটের আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোথায় কীভাবে টাকা গেছে এবং কারা দায়ী— তা চিহ্নিত করা হবে। অপরাধের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে, তিনি কর্মকর্তা হোন বা উদ্যোক্তা— কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর গণমাধ্যমের ভূমিকাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, ‘গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে মিডিয়ার সহযোগিতা আমরা পেয়েছি এবং ভবিষ্যতেও তা প্রত্যাশা করি।’

তিনি আরও জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই তা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




ব্যাংক হলিডেতে লেনদেন বন্ধ থাকবে আগামীকাল

ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের লেনদেন হবে না। একই কারণে বন্ধ থাকবে দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজার-ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ছুটির তালিকা অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর-এই দুই দিন ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে পালিত হয়। আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা ও বার্ষিক হিসাবনিকাশ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে এ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথা অনুযায়ী অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই এবং পঞ্জিকা বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকে। তবে এ সময় ব্যাংকের নিজস্ব দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকে। আর্থিক হিসাব মেলানোর প্রয়োজনে সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকলেও কোনো গ্রাহক লেনদেন সম্পন্ন করা হয় না।

ব্যাংক হলিডেতে বাংলাদেশ ব্যাংকও কোনো ব্যাংকের সঙ্গে কিংবা ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে লেনদেন পরিচালনা করে না। তবে গ্রাহকরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে এটিএম কার্ড ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

অন্যদিকে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচার নিষ্পত্তি ব্যাংকের মাধ্যমে হওয়ায় ব্যাংক বন্ধ থাকলে শেয়ারবাজারেও লেনদেন স্থগিত থাকে। সে অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার ডিএসই ও সিএসইতে শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। তবে এদিনও পুঁজিবাজারে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু থাকবে।




ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয়

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে। কোম্পানিকে ক্রেডিট রেটিং দিয়েছে এমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানিটির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এ’ এবং স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-২’।

কোম্পানিটির গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্য অনুযায়ী এ ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




৩ বিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

চলতি বছরে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত ডলার জমা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে, বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ধারাবাহিক ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে আজ (রোববার) তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১১ কোটি ডলার কিনেছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত ক‌রে‌ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, শুধু চলতি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ৯২ কোটি ডলার কিনেছে। আর সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৬ মিলিয়ন বা ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

 

এদিকে এ মাসে অর্থাৎ ১ থেকে ২০ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ২১৭ কোটি ২১ লাখ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে প্রবাসী আয় বেড়েছে সাড়ে ৯ শতাংশ।

 

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৩১২ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও স্বস্তিতে আছে।

এদিকে গত নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।




পর্যায়ক্রমে টাকা ফেরত পাবেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারী : বাংলাদেশ ব্যাংক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইসলামী ব্যাংক, ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী) আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ব্যাংকটি সদ্য কার্যক্রম শুরু করায় এই মুহূর্তে সীমিত পরিসরে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে কারও আমানত হারিয়ে যাবে না—এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নিজ দপ্তরে এসব তথ্য জানান তিনি।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে প্রতি আমানতকারী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ নিজ নিজ হিসাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রচলিত হারে মুনাফা যোগ হতে থাকবে। ব্যাংকটি আর্থিকভাবে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ালে পর্যায়ক্রমে বাকি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

 

তিনি জানান, পৃথিবীর কোনো ব্যাংকের পক্ষেই একসঙ্গে সব আমানতকারীর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। আধুনিক ব্যাংকিং কাঠামো অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেই উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়, যা ডিপোজিট প্রোটেকশন আইনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ালে বাড়বে উত্তোলনের সুযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে মুনাফা অর্জন করবে, খেলাপি ঋণ আদায় করবে এবং নতুন আমানত সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমেই ব্যাংক ধীরে ধীরে সচ্ছল হবে। যত দ্রুত ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবে, তত দ্রুত আমানতকারীরা বাকি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।

মার্জার ও আইনি ভিত্তি নিয়ে ব্যাখ্যা

পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে রূপ নেওয়ার আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্নের জবাব দেন আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, অধিগ্রহণ ও সম্পদ-দায় (অ্যাসেট ও লাইয়াবিলিটি) স্থানান্তরের মাধ্যমে পুরোনো ব্যাংকগুলো নতুন ব্যাংকে বিলীন হচ্ছে।

এক্ষেত্রে গ্রাহকদের নতুন করে হিসাব খোলার প্রয়োজন নেই। পূর্ববর্তী ব্যাংকের হিসাব, ঋণ ও আমানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ব্যাংকে স্থানান্তরিত হবে, যা আইনগতভাবে বৈধ।

তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, বাংলাদেশে এর আগেও ব্যাংক মার্জারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নতুন করে চুক্তি বা হিসাব খোলার প্রয়োজন হয়নি।

চেক ও হিসাব পরিচালনা

দুই লাখ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা নিজ নিজ পুরোনো শাখায় গিয়ে বিদ্যমান চেক বই ব্যবহার করেই টাকা তুলতে পারবেন। নতুন চেক বই ইস্যু একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও, এতে গ্রাহকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না।

বড় আমানতকারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে

বড় অঙ্কের আমানত শেয়ারে রূপান্তরের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, এটি এখনো আইডিয়া পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং ঐচ্ছিক হবে। কেউ চাইলে অপশন হিসেবে নিতে পারবেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের লোগো বাংলাদেশ ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হবে বলেও জানান মুখপাত্র।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অ্যাকাউন্টসমূহ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে

মার্জারের আওতাভুক্ত ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টসমূহ নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, আগামী সপ্তাহের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হলে বিদ্যমান ৫টি ব্যাংকের গ্রাহকগণের ব্যাংক হিসাবের আমানত নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত হবে। এর ফলে আমানতকারীরা তাদের বিদ্যমান চেক বইয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। অবশিষ্ট আমানত (যদি থাকে) তাদের ব্যাংক হিসাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং ওই আমানতের উপর প্রচলিত হারে মুনাফা প্রদান করা হবে।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক হওয়ায় নবগঠিত এ ব্যাংকের উপর জনগণের আস্থা সৃষ্টি হবে এবং এর ফলে আমানতকারীদের টাকা উত্তোলনের চাহিদা অনেকাংশে কমে আসবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আশা করা হয়েছে।




আজ খোলা থাকবে সব ব্যাংক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সুবিধার্থে আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সারাদেশের সব তফসিলি ব্যাংক খোলা থাকবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, প্রার্থীদের জামানতের অর্থ জমা ও ভোটার তালিকার সিডি কেনার সুবিধায় শনিবার সব ব্যাংকের সব শাখা খোলা থাকবে।

ইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এর আগে টানা তিন দিনের ছুটি থাকায় (২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটি, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি) ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলে প্রার্থীদের পক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জামানত ও ভোটার তালিকার সিডি ক্রয়ের অর্থ ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। এ সংকট নিরসনে আগামী শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার অনুরোধ জানায় নির্বাচন কমিশন।

 

গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।




শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা একীভূত পাঁচ ব্যাংকের

একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এসব ব্যাংকের ওপর মালিকদের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটলো।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সম্পদ ও দায় (অ্যাসেট ও লাইবিলিটি) হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধা রইলো না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগির ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে সম্পদ ও দায় হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি সই হবে।l

গত ৫ নভেম্বর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলে বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা তখন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল।




ব্যাংক এশিয়া ফার্স্ট পারপেচুয়াল বন্ডের কুপন রেট ঘোষণা

পুঁজিবাজারে বন্ড খাতে তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়া ফার্স্ট পারপেচুয়াল বন্ডের অর্ধবার্ষিক সময়ের জন্য মুনাফা বা কুপন রেট ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৭ জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য বন্ডটির ইউনিটধারীদেরকে কুপন প্রদান করা হবে। আলোচ্য সময়ের জন্য বন্ডহোল্ডাদের বছরে ১০ শতাংশ কুপন হারে রিটার্ন (মুনাফা) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাস্টি কমিটি।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বন্ডের ট্রাস্টি কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। করপোরেট বন্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে গ্রিন ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেড।

তথ্য মতে, ব্যাংক এশিয়া ফার্স্ট পারপেচুয়াল বন্ডের ট্রাস্টি কমিটি ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৭ জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ১০ শতাংশ হারে অর্ধবার্ষিক কুপন রেট ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ উল্লিখিত হারে রিটার্ন পাবেন ব্যংক এশিয়া ফার্স্ট পারপেচুয়াল বন্ডের ইউনিটধারীরা।

ব্যাংক এশিয়া ফার্স্ট পারপেচুয়াল বন্ডের মুনাফাপ্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণের লক্ষ্যে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

কুপন রেট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এদিন পারপেচুয়াল বন্ডটির লেনদেনে কোনো দরসীমা থাকছে না।




পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানত ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরতের নির্দেশ

সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যে পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানত ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, এই সময়সীমার মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ নিশ্চিতভাবে ফেরত দেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

গভর্নরের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ব্যাংকের প্রথম পরিচালনা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। সভায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমিন ও শেখ ফরিদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ, বিআরডি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক ও কর্মকর্তা এবং রেজল্যুশনের আওতাধীন পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রথমে পরিচালকদের রেজল্যুশনের আওতায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা পদক্ষেপ জানানো হয়। এরপর গভর্নর উপস্থিতদের দ্রুত আইটি সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের কাজ সম্পূর্ণ করতে বলেন, যাতে করে আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়াসহ কোনো পদক্ষেপ নিতে যেন কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা না হয়।

নতুন করে গঠিত ব্যাংকের জন্য একটি একক ও সমন্বিত এইচআর নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশও দেওয়া হয়। বর্তমানে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকে পদবি, গ্রেড ও পদোন্নতি ব্যবস্থায় ভিন্নতা থাকায় এসব বিষয় একক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। পাঁচ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য একটি অভিন্ন পদবি কাঠামো, স্বচ্ছ পদোন্নতি ব্যবস্থা ও বেতন-গ্রেড সিস্টেম চালু করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালা বাস্তবায়নে নজরদারি করবে।

সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকরা যেন আগের ইস্যু করা চেক ব্যবহার করেই টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী জানুয়ারিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। তবে উদ্বোধনের আগেই আমানতকারীরা অর্থ ফেরত পাবেন বলে জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত পর্ষদ গভর্নরের সঙ্গে একমত পোষণ করে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলে অঙ্গীকার করেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকটি প্রভাবশালী গ্রুপ জালিয়াতির মাধ্যমে ডজনখানেক ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ তুলে নেয়। এসব অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির চাপেই ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে গভীর সংকটে পড়ে। এরমধ্যে সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংক একত্রিত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠনের অনুমতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাঁচ ব্যাংক হলো– এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ এরইমধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে।

সারা দেশে এসব ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর একই এলাকার একাধিক শাখা মিলে একটি বা দুটি করা হবে। ব্যাংকগুলোর পরিচালন খরচ কমাতে এরই মধ্যে কর্মীদের বেতন–ভাতা ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য প্রাথমিকভাবে রাজধানীর মতিঝিল সেনা কল্যাণ ভবনে অফিস নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়েছে। শিগগিরই পরিচালনা পর্ষদ গঠন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর আগে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ৫ নভেম্বর প্রশাসক নিয়োগ ও ব্যাংকগুলোর শেয়ার শূন্য ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




১৩ ব্যাংক থেকে কেনা হলো আরও ১৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহে সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ১৩টি ব্যাংক থেকে আরও প্রায় ১৪ কোটি ১৫ লাখ মার্কিন ডলার (১৪১.৫ মিলিয়ন ডলার) কেনা হয়েছে।

এদিন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.২৯ টাকা থেকে ১২২.৩০ টাকা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ছিল ১২২.৩০ টাকা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ১৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার (১৪৯ মিলিয়ন ডলার) কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.২৫ টাকা থেকে ১২২.২৯ টাকা পর্যন্ত। আর কাট-অফ রেট ছিল ১২২.২৯ টাকা।

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে মোট ২৮০ কোটি ৪৫ লাখ (২.৮০ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সোমবার ১৩টি ব্যাংক থেকে মোট প্রায় ১৪ কোটি ১৫ লাখ মার্কিন ডলার (১৪১.৫ মিলিয়ন ডলার) কেনা হয়েছে। এসময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.২৯ টাকা থেকে ১২২.৩০ টাকা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ছিল ১২২.৩০ টাকা।




এবি ব্যাংক পারপেচ্যুয়াল বন্ডের কুপন রেট ঘোষণা

পুঁজিবাজারে বন্ড খাতে তালিকাভুক্ত এবি ব্যাংক পারপেচ্যুয়াল বন্ডের ট্রাস্টি কমিটি চলতি বছরের অর্ধবার্ষিকী পর্যন্ত কুপন রেট ঘোষণা করেছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই রেট থাকবে।

আলোচ্য সময়ের জন্য বন্ডহোল্ডাদের বছরে ১০ শতাংশ কুপন হারে রিটার্ন (মুনাফা) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাস্টি কমিটি।

 

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বন্ডের ট্রাস্টি কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। করপোরেট বন্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে গ্রিন ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেড।

কুপন রেট ঘোষণা করলেও এই মুনাফাপ্রাপ্তিতে যোগ্য বন্ডহোল্ডার নির্ধারণ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।

বুধবার এবি ব্যাংক পারপেচ্যুয়াল বন্ডের লেনদেনের ওপর কোনো মূল্য সীমা থাকবে না।




কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ই-ডেস্ক সিস্টেমের উদ্বোধন : ডিজিটাইজেশনের নতুন যুগে প্রবেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাইলাইজেশন উদ্যোগে যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন “ই-ডেস্ক সিস্টেম”—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোটিং ও দাফতরিক কার্যক্রমকে অনলাইনভিত্তিক, দ্রুততর ও আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সব ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক এবং বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এইচআরডি-১ এবং আইসিটি বিভাগ যৌথভাবে এ সিস্টেমটি ডেভেলপ ও বাস্তবায়ন করেছে।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ই-ডেস্ক চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন যুগে প্রবেশ করলো। তিনি সিস্টেমটি সফলভাবে তৈরি ও বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং সেবা দ্রুত ও নির্ভুল করার লক্ষে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

প্রাথমিকভাবে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ই-ডেস্ক সিস্টেম চালু করা হলেও ধাপে ধাপে এটি দেশের সব অফিসে কার্যকর করা হবে।

আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিরেক্টর লেভেল পর্যন্ত সব নিষ্পত্তিযোগ্য নোটিং ই-ডেস্কের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সব পর্যায়ের নোটিং একই সিস্টেমের আওতায় আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, ই-ডেস্ক সিস্টেম চালুর ফলে নোটিং প্রক্রিয়া হবে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত, নিরাপদ ও কাগজবিহীন—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করবে।




ব্যাংক ঋণ পেতে নারী উদ্যোক্তারা এখনো অবহেলিত

দেশের এসএসমই খাতে পুরোনো সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। নারী উদ্যোক্তারা এখনো ঋণ পাচ্ছেন না। বড় প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া হলেও নারী উদ্যোক্তারা অবহেলিত। এসএমই খাত নিয়ে বিভিন্ন নীতিমালা হলেও তার বাস্তবায়ন নেই।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া ৮ দিনের এসএমই মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ: নারী উদ্যোক্তাদের ভূমিকা ও প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘এসএমই শক্তি, দেশের অগ্রগতি’ স্লোগানে শুরু হওয়া শতভাগ দেশীয় পণ্যের এ মেলা চলবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এসএমই ফাউন্ডেশন এ মেলার আয়োজন করেছে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মুসফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবীন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ূব মিয়া। আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) ও ব্যাংক এশিয়া পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে ২.৮ মিলিয়ন এসএমই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা নারী, যা এসএমই খাতের ২৪.৬ শতাংশ। ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এ খাতে পিছিয়ে রয়েছে দেশ। মাত্র ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা রপ্তানিমুখী খাতে যুক্ত। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে নীতি ও প্রণোদনা ব্যবস্থায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, নারী উদ্যোক্তাদের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে অর্থায়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কঠোর তদারকি ও নতুন সুবিধা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত এসএমই খাতে ১৫ শতাংশ ঋণ ও রিফাইন্যান্স স্কিমের ১০ শতাংশ কোটা বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংকের নিয়মিতভাবে প্রতিবেদনে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ূব মিয়া বলেন, ১৭ বছর পরেও এসএমই খাত নিয়ে একই সমস্যা রয়ে গেছে। নীতি আছে, বাস্তবায়ন নেই। দেশের অর্থনীতিকে এসএমই-বান্ধব করতে আপনাদের (নারী উদ্যোক্তা) আওয়াজ তুলতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ঋণ প্রদানের নীতি সহজ করা হবে।

তিনি বলেন, ১৭ বছর পরও নারী উদ্যোক্তাদের একই ধরনের সংকট শুনে অবাক লাগে। তবে স্বীকৃতি বেড়েছে। সরকার, সমাজ ও ব্যাংকগুলো এখন নারী উদ্যোক্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আগে নীতি ছিল না; এখন নীতি আছে। কিন্তু সেই নীতি বাস্তবায়নে সমস্যা রয়ে গেছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, এখনো ব্যাংকে গেলে নারী উদ্যোক্তাদের অন্য চোখে দেখা হয়। লাইসেন্স বা টিন নিতে গেলেও হেলাফেলা করা হয়। এ ধরনের আচরণ বদলাতে হবে। জাতীয় পর্যায় থেকে জেলা পর্যায়ে সব জায়গায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য হেল্পডেস্ক থাকা উচিত।

তিনি বলেন, অনেক নারী এখনো প্রকাশ্যে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন। পরিবার ও সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনও জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) শুল্কের প্রভাবে পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে গেছে। গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্ট্রিতে নতুন করে খুব বেশি কর্মসংস্থান হবে না। এসএমইএ এবং কৃষি খাতে কর্মসংস্থান হবে। এ খাতগুলোকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।

আনোয়ার-উল আলম বলেন, দিন দিন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমছে। বেকারত্ব বাড়ছে। চাকরি নেই। যাদের সক্ষমতা আছে (এসএমই) তাদের যদি সুযোগ না দিলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে না।

সভাপতির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ালে শুধু ব্যবসাই বড় হবে না, সামগ্রিক অর্থনীতিও দ্বিগুণ গতিতে এগিয়ে যাবে। নারী উদ্যোক্তারা শক্তিশালী হলে দেশের জন্যও লাভ হবে। এসএমই ফাউন্ডেশন সবসময় নারী উদ্যোক্তাদের পাশে ছিল ও থাকবে। প্রয়োজন হলে যেকোনো সহায়তায় আমরা এগিয়ে আসবো।

উন্মুক্ত আলোচনায় একজন নারী উদ্যোক্তা বলেন, ব্যাংক ঋণ আমার অধিকার। সুদের হার অন্যদের ক্ষেত্রে যা আমাদের ক্ষেত্রে তা-ই হতে পারে। পেপার সহজীকরণ করতে হবে।

অন্য একজন নারী উদ্যোক্তা বলেন, যারা কোটিপতি তারাই ব্যাংক ঋণ পান। যারা ছোট তারা ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ঋণ পান না। ৫ লাখ টাকায় যারা ব্যবসা করছেন মেলায় স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে তাদের ভাড়া আর ১৫ কোটি টাকার উদ্যোক্তার ক্ষেত্রেও ভাড়া একই। এ বৈষম্য নিরসন জরুরি।




উদ্যোক্তাদের জন্য নানা সেবা নিয়ে এসএমই মেলায় ইসলামী ব্যাংক

উদ্যোক্তাদের জন্য নানা সেবা নিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ৭ দিনব্যাপী মেলায় অংশ নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ১২তম জাতীয় এসএমই পণ্যমেলা-২০২৫ এ ফিতা কেটে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির স্টলের উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. ওমর ফারুক খাঁন।

এ সময় ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এসএমই ইনভেস্টমেন্ট উইং প্রধান আবু সাঈদ মো. ইদ্রিস, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মিজানুর রহমান ভুঁইয়া, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মজনুজ্জামান ও মোহাম্মদ জাকির হোসাইন এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলামসহ নির্বাহী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের এ স্টলে মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থী, গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাংকের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানান সেবা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে।




ক্ষতিপূরণসহ সার্ভিস চালুর দাবি অগ্রণী ব্যাংক এজেন্টদের

হঠাৎ করে অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় সারাদেশে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এজেন্ট মালিকরা। ক্ষতিপূরণসহ দ্রুত সেবা চালুর দাবি জানিয়ে এজেন্ট ঐক্য পরিষদ বুধবার (৩ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংগঠনের আহ্বায়ক মো. আবু সাইদের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম, আসেকে রাসুল, প্রকৌশলী মেজবাহ, সাহিদা আক্তার, নাসরিন সুলতানা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২০ জুন ২০২৫ কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক তাদের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক ও পাঁচ লাখ অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহারকারী। বিশেষ করে ভাতাভোগী, কৃষক, শ্রমিক, প্রবাসী এবং রেমিট্যান্স গ্রহণকারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

‘২০১৬ সাল থেকে অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পরিচালিত হলেও হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ৫৬৭টি এজেন্ট আউটলেট এবং প্রায় তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। এজেন্ট মালিকদের দাবি-এই সেবায় কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ আজ ঝুঁকির মুখে।’

এ জেড ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আবু সাইদ বলেন, দীর্ঘদিনের বকেয়া বিল পরিশোধ এবং সার্ভার চালুর দাবিতে ২৪ নভেম্বর থেকে টানা দশ দিন ধরে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আমরণ অবস্থান করছেন এজেন্ট মালিকরা। এটি তাদের পঞ্চম দফা আন্দোলন।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-

১. অনতিবিলম্বে সব বকেয়া পরিশোধ ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে এজেন্ট সেবা চালু করতে হবে। হাইকোর্টের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং আপিল বিভাগে করা আপত্তি প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

২. নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের দুর্দশার জন্য দায়ী চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৩. চলমান আরবিট্রেশন মামলা বারবার পেছানো বন্ধ করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

এজেন্ট ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পুনরায় চালু করার জন্য অনুরোধ জানান তারা। আহ্বায়ক আবু সাইদ অভিযোগ করেন, প্রতিটি আউটলেট চালাতে মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচ হয়। সেবা বন্ধ থাকায় এখন এই ব্যয় আমাদের ব্যক্তিগত অর্থ থেকে বহন করতে হচ্ছে। আমরা উদ্যোক্তারা নিঃস্ব হয়ে পথের ভিখারি হয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের এমডি বা চেয়ারম্যান কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তারা নাকি জানিয়ে দেন, ‘এজেন্ট উদ্যোক্তারা গেটে মারা গেলেও সমাধান নেই।’ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও জিএম রাউফা হক সফটওয়্যার আপগ্রেড করে নতুনভাবে চুক্তি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তারা সেই প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করছেন। ক্ষমতাবান কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থে সফল একটি সেবা নেটওয়ার্ক ধ্বংস করছেন।

সংগঠনের নেতারা বলেন, সারাদেশের নারী ও তরুণ গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমাদের উদ্যোগ, বিনিয়োগ ও স্বপ্ন আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এই অসাধু চক্রের দ্রুত বিচার চাই।