ফ্রি ইন্টারনেট ডে’ আজ, যেভাবে বিনামূল্যে পাবেন ১ জিবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে দেশের সব মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বিনামূল্যে ১ জিবি ইন্টারনেট দেয়া হচ্ছে আজ। ‘ফ্রি ইন্টারনেট ডে’ উপলক্ষে সম্প্রতি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে ফ্রিতে ইন্টারনেট দেয়ার এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই ডাটার মেয়াদ থাকবে ৫ দিন।

এ বিষয়ে বিটিআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ ও জনস্বার্থে ১৮ জুলাই ফ্রি ইন্টারনেট ডে ঘোষণা উপলক্ষে গ্রাহকদের ফ্রি ইন্টারনেট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ৯ জুলাই মোবাইল ফোন অপারেটরদের এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ১৮ জুলাই স্মরণে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের গত ৩ জুলাইয়ের নির্দেশনা এবং ৮ জুলাই কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯ জুলাই মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই দেশের সব মোবাইল ফোন গ্রাহককে ৫ দিন মেয়াদি এক জিবি ইন্টারনেট বিনামূল্যে দিতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, ফ্রি ইন্টারনেট পেতে গ্রাহকদের ডায়াল করতে হবে- গ্রামীণফোন *121*1807#, রবি *4*1807#, বাংলালিংক *121*1807 এবং টেলিটক *111*1807# নম্বরে।




এনসিপির গাড়িবহরে ফের আ.লীগ-ছাত্রলীগের হামলা, রণক্ষেত্র গোপালগঞ্জ, ১৪৪ ধারা

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ শেষে ফিরে আসার সময় সড়ক অবরোধ করে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনার পর গোপালগ‌ঞ্জে ১৪৪ জারি ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসন এ ঘোষণা দেন।

বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

গোপালগঞ্জ শহর থেকে সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, শহরের পৌর পার্ক ও লঞ্চঘাট এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

দুপুর আড়াইটার দিকে যখন এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর ওই এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করে, সেই সময় তাদের ওপর ইট-পাটকেল হামলা শুরু হয়।

ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস ছুড়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেনি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের সাথে হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

সমাবেশস্থলের মঞ্চের পাশাপাশি চেয়ারগুলো রাস্তায় এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং যানচলাচলও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।




ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: ডিএমপি

রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ নতুন তথ্য দিয়েছে।

পুলিশের দাবি, চাঁদাবাজি নয়, ভাঙারি ব্যবসা এবং একটি দোকানে কারা ব্যবসা করবে তা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। হত্যাকাণ্ডের শিকার সোহাগ এবং হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে তাদের একসঙ্গে ব্যবসাও ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১২ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ভাঙারি ব্যবসা এবং দোকানে কারা ব্যবসা করবে সেটা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। হত্যাকাণ্ডের শিকার সোহাগ এবং যারা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে তারা একসঙ্গে কিছুদিন ব্যবসা করেছে। যখন ব্যবসা লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় তখনই তারা বিবাদে লিপ্ত হয়। এর ফলে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লালবাগ বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ জসীম বলেন, গত বুধবার বিকেল ৬টার দিকে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে একদল লোক লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ নামের এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর কোতয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ১০ জুলাই এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

গত ১১ জুলাই পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন (৪১) ও তারেক রহমান রবিনকে (২২) গ্রেপ্তার করে। এ সময় গ্রেপ্তার তারেক রহমান রবিনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র‍্যাব আলমগীর (২৮) ও মনির ওরফে ছোট মনির (২৫) নামের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এছাড়া আজ শুক্রবার রাতে মো. টিটন গাজী (৩২) নামে আরও এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।

লালবাগ বিভাগের ডিসি আরও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল রহস্য উৎঘাটন, সংশ্লিষ্ট সব অপরাধী গ্রেপ্তার এবং সোহাগ কেন এই ঘটনার শিকার হলো তা উদঘাটনের জন্য একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




কাজে ফিরলেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

যৌক্তিক সংস্কার ও চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করার পর স্বাভাবিক হয়ে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রম। সোমবার সকাল থেকেই কাজে যোগ দিয়েছেন সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। কয়েকদিনের স্থবিরতার পর আবারও এনবিআরে তৈরি হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য।

ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় রোববার রাতে ‘মার্চ ফর এনবিআর’ এবং ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।

সোমবার (৩০ জুন) সকাল ৯টার আগেই কর্মস্থলে প্রবেশ করতে শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকাল ৮টার দিকে অফিসে আসেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। রাজস্ব ভবনের সামনে আইনশৃঙ্খালা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, সকাল থেকেই আমাদের সব দপ্তরে কাজ শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ উপস্থিতি আছে। সব কাস্টমস হাউজ, আইসিডি, ভ্যাট ও কর অফিস সবাই কাজ করছে। যেহেতু আজ ৩০ জুন (অর্থবছরের শেষ দিন), আজকে আমাদের একটা বড় ড্রাইভ থাকে। রেভিনিউগুলো যেগুলো পাইপলাইনে আছে সেগুলো ট্রেজারিতে নিয়ে আসার একটা ক্রমাগত চেষ্টা থাকে। সেই চেষ্টাটা চলছে।

এর আগে, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের আর্থিক ক্ষতিসহ বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা কমপ্লিট শাটডাউন আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। রোববার (২৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নেতারা।

রাজস্ব ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার ও এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করে আসছিল এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। গত দুইদিন মার্চ টু এনবিআর ও কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন তারা। গত ১২ মে মধ্যরাতে এনবিআর বিলুপ্ত করে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এর বিরুদ্ধে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের কর্মসূচির ফলে সরকার গত ২৫ মে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে এনবিআর বিলুপ্ত না করে বরং এটিকে সরকারের একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত বিভাগের মর্যাদায় আরও শক্তিশালী করা, রাজস্ব নীতি প্রণয়ণের লক্ষ্যে আলাদা একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠন করা এবং প্রয়োজনীয় সব সংশোধনের আগ পর্যন্ত জারিকৃত অধ্যাদেশটি কার্যকর করা হবে না বলে জানায়। তার প্রেক্ষিতে ঐক্য পরিষদ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।

এরপর কাজে যোগ দিলেও আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় অফিসে ফেরেন এনবিআর চেয়ারম্যান।




সাজ্জাদুল মিরাজের আশ্বাসে থানা ত্যাগ করলেন বিক্ষোভকারীরা

৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠে শাহ আলী থানা এলাকাবাসী। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কর্মী এবং সাধারণ জনগণ জাকির হোসেনের মিথ্যা মামলা ও ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে রাত ১২ টা থেকে শাহ আলী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে।

এ সময় বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করা সকলেই শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের দোসর উল্লেখ করে নানা স্লোগান দিতে থাকে এলাকাবাসী।

বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। এক পর্যায়ে উপস্থিত হন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। তিনি পুলিশের অনুরোধে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন সবাইকে ।তার আশ্বাসে ভরসা রেখে বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে থানা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে।

এ সময় সাজ্জাদুল মিরাজ বিক্ষোভ কারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন – আপনারা দ্রুত থানা স্থান ত্যাগ করেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি ঘটনাটির সুষ্ঠু একটি সমাধান পাবেন। সমাধান না পেলে আপনারা আবার আমার নিজের অফিস ঘেরাও করবেন।

ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানা গেছে।




সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বেজা ও এডিবির চুক্তি সই

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পিপিপি পদ্ধতিতে সর্বপ্রথম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বেজা ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ফেনী অংশে সোনাগাজী উপজেলায় ১০০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

রোববার (২৯ জুন) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এ তথ্য জানায়। বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং। এছাড়া সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বেজা জানায়, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পিপিপি পদ্ধতিতে গ্রাউন্ড মাউন্টেড সোলার (১০০-২০০ এমডব্লিউ) পিভি প্রকল্প স্থাপনের লক্ষ্যে টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের জন্য বাংলাদেশ বেজা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে আজ একটি ট্রান্সসেকশন অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস অ্যাগ্রিমেন্ট (টিএএসএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়াও এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাথে উভয়পক্ষের একটি সারসংক্ষেপ স্বাক্ষরিত হয়। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে একটি পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই ‘গ্রিন ইকোনমিক জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই চুক্তির আওতায় জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ফেনী অংশে সোনাগাজী উপজেলায় ১০০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর ফটোভোল্টেইক (পিভি) এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) সমন্বিত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

বেজা আরও জানায়, এই প্রকল্পটি হবে বাংলাদেশে বাস্তবায়িত প্রথম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোতে পরিচালিত হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫ অনুসরণে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। যা দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এই প্রকল্পটি বেজা তথা বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। এটি পিপিপি কাঠামো অনুসরণে দেশের প্রথম সোলার প্রকল্প। যা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে সফলভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এডিবিকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। তিনি এডিবিকে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমীক্ষা সমাপ্ত করে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরার জন্য অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সরকার ঘোষিত ‘জিরো নেট কার্বন এমিশন’ বাস্তবায়নে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করেই শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পথ তৈরির জন্য বেজা সচেষ্ট হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে। যেখানে এদেশে প্রথমবারের মত ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এটি বিদ্যুৎ গ্রিডে ক্লিন এনার্জি সরবরাহ করবে এবং সেই সাথে একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে।

এর ফলে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




অগাস্টেই ঢাকার দুই এলাকায় ই-রিকশা

আগামী অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই অঞ্চলে চলাচল শুরু করবে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা বা ই-রিকশা।

ওইসব রিকশা সড়কে নামার পর অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা তুলে দেওয়া হবে।

শনিবার ঢাকা উত্তর সিটির নগর ভবনে ই-রিকশা প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

তিনি বলেন, অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২ এ এই রিকশা চলাচল শুরু হবে।

“আমরা এই স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটা ধীরে ধীরে শুরু করব। প্রাথমিকভাবে আমরা ওই অঞ্চল থেকে বর্তমানে যেসব অননুমোদিত রিকশা চলছে, সেগুলো তুলে দিব। এই রিকশাগুলো আমরা গ্র্যাজুয়ালি সরাব, মানে কোনো হেভি এভিকশন ড্রাইভ দিয়ে সরিয়ে দেব তা না।

“নতুন রিকশাগুলো যারা কিনবেন তারা নামতে থাকবেন, পুরোনোগুলো ফেইজআউট হবে। পুরো বিষয়টি আমরা সায়েন্টিফিক ও গ্রাজুয়াল প্রসিডিউর মেনে করব, কোনো জোর-জবরদস্তির পথে আমরা যাব না।”

মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নির্ধারিত টাইমলাইন ধরে তারা কাজ করছেন না। ধীরে ধীরে ই-রিকশা নামানোর প্রক্রিয়াটি হবে।

“কমপ্লিট ডেটলাইন ধরে ফেজআউট করলে বিষয়টি নিয়ে আবার নানা কথাবার্তা হবে। আমরা আস্তে আস্তে মার্কটে যাবে, কারণ যারা কিনবেন তাদেরও প্রস্তুতির একটা ব্যাপার আছে। টার্গেট হচ্ছে অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমরা এগুলো মার্কেটে দেওয়া শুরু করব।”

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “ওইসব অঞ্চলে যারা রিকশা চালাচ্ছেন, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রিকশাও দেওয়া হবে তাদেরই।

“চার্জিং পয়েন্টের বিষয়ে আমরা কাজ করছি, দেখি কিছু চার্জিং পয়েন্ট তৈরি করা যায় কি না। ডেসকোর সঙ্গে আমরা আলাপ করে সেটা ঠিক করব।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ই-রিকশা এবং চালকের নিবন্ধন করতে হবে। দুর্নীতি এড়াতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে করা হবে।

“যাতে করে এখানে হাতের কোনো সংস্পর্শ না থাকে। কারণ হাতের সংস্পর্শ আর লাইসেন্সের বিষয় হলেই আমাদের এখানে অবৈধ লেনদেনের একটা সুযোগ তৈরি হয়। ঢাকায় রিকশার এই রূপান্তরটা যারা করবেন, সেই রিকশাচালকদের ওপর যেন বাড়তি চাপ তৈরি না হয় সেটা নিশ্চিত করতে চাই।”

উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় রিকশা থাকবে। আর রিকশাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটিতে কিউআর কোড থাকবে।

“এখন যেমন আনলিমিটেড রিকশা নামানো হচ্ছে, তখন তা হবে না। চাইলেই কেউ রিকশা নামিয়ে ফেলতে পারবে না। একটি এলাকায় একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা থাকবে। রিকশাগুলো ওই জোনেই চলবে। কিউআর কোড রিকশাগুলোকে রেগুলেশনে আনতে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করবে।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাহজাহান মিয়া, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা আব্দুল হাফিজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।




আন্তর্জাতিক শ্রম মান নিশ্চিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক শ্রম মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে ত্রিপক্ষীয় সামাজিক সংলাপের তাৎপর্য ও গুরুত্ব বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ জুন) ঢাকার সাভারের ব্র্যাক সিডিএম অডিটরিয়ামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এ কর্মশালা উদ্বোধন করেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের অর্থায়নে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজিত হয়। ৩০ জনেরও বেশি সদস্য এই কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন, যা ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

আইটিসি-আইএলও-এর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে কর্মশালার কারিগরি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে ন্যায্য শ্রম নীতি প্রণয়ন ও শ্রমিক-মালিক সমন্বয় জোরদার করা সম্ভব। এই কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংলাপ প্রক্রিয়া জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শ্রম সচিব আরএলো বলেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শদাতা পরিষদ (এনটিসিসি), তৈরি পোশাক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শদাতা পরিষদ (আরএমজি টিসিসি) এবং বাংলাদেশ ন্যূনতম মজুরি বোর্ড (বিএমডব্লিউবি)-এর সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

আইএলওর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নীরন রামজুথান বাংলাদেশে শ্রম শাসন শক্তিশালীকরণে সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিকেএমইএর পরিচালক মো. বেলায়েত হোসেন রিপন নিয়োগকর্তাদের গঠনমূলক ভূমিকার কথা করেন। জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির দাবি জানান।

এ সময় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, মলিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




মাদক বিরোধী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় পপুলার লাইফ প্রথম পুরস্কারে ভূষিত

মাদক বিরোধী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড প্রথম পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ জুন) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য বি এম ইউসুফ আলীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মানসূচক ক্রেস্ট তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “মাদক একটি জাতীয় সমস্যা। এটি আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই শুধু সরকার নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি পপুলার লাইফের প্রশংসা করে বলেন, “মাদকবিরোধী জনসচেতনতায় বেসরকারি খাতের মধ্যে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স যেভাবে ভূমিকা রাখছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এই ধরনের কার্যক্রম সমাজের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের, পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী (ওএসপি, বিএসপি, এসইউপি, বিজিবিএম, এনডিসি, পিএসসি, এমফিল)।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরোয়ার ফরিদ, এনটিএমসির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল কাইয়ুম মোল্লা, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।
পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য বি এম ইউসুফ  আলী বলেন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার প্রতিরোধে মাদক বিরোধী কার্যক্রমে দেশব্যাপী সক্রিয় ভূমিকা রাখায় আজকের এ পুরস্কার আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে ভবিষ্যতে আমরা  মাদক বিরোধী কর্মকান্ডে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখবো। আমরা এক যুগের বেশি সময় ধরে এ পুরস্কার পেয়ে আসছি।
পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী দীর্ঘদিন ধরেই সমাজ সচেতনতা, বিশেষ করে যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় বিভিন্ন ক্যাম্পেইন, সেমিনার ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব উদ্যোগকে মূল্যায়ন করেই প্রতিষ্ঠানটিকে এবার দেশের সর্বোচ্চ মাদকবিরোধী পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



সেই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার

মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় দেরি হওয়ায় সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি আনিসা আহমেদ নামে এক এইচএসসি শিক্ষার্থী। এতে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

তবে মানবিক দিক বিবেচনায় তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (২৭ জুন) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় দেরি হওয়ায় রাজধানীর সরকারি মিরপুর বাংলা কলেজ কেন্দ্রের ওই শিক্ষার্থী বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধির আলোকে সমাধানের চেষ্টা চলছে। আমরা তার এই দুঃসময়ে সহমর্মী। পরীক্ষার্থীকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।




নতুন আতঙ্কে অস্থির দেশ’, ভয়ে আছেন সাবেক আমলাসহ অনেকে

‘মব জাস্টিস’ এখন নতুন এক আতঙ্কের নাম। সংঘবদ্ধ কিছু মানুষের নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘মব জাস্টিস’ বলা হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই মব জাস্টিসের নামে কাউকে গণপিটুনি দেওয়া হচ্ছে। যখন-তখন কারও বাড়িতে ঢুকে লুটপাট করা হচ্ছে। কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। কোথাও আবার কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনিক কাউকে জুতার মালা পরিয়ে কান ধরে উঠবস করানো হচ্ছে। বেড়েছে দলবদ্ধ হয়ে বিচারবহির্ভূতভাবে কাউকে হত্যা করার ঘটনাও। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। মব জাস্টিসের শিকার হচ্ছেন রাজনীতিবিদ, পুলিশ, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক থেকে শুরু করে চোর-ডাকাত-ছিনতাইকারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সর্বত্র এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় তাৎক্ষণিক এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। প্রয়োজনে এলাকাভিত্তিক পাড়ায়-মহল্লায় টহল বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর বিগত কয়েক মাসে মব জাস্টিসের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ঘটা এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ক্রমাগত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের কারণে দেশজুড়ে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম না হলে রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা আছে। এভাবে মব জাস্টিস বেড়ে যাওয়ার পিছনে বিগত সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসন বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। গত দেড় দশকে জনমানসে যে ব্যাপক মাত্রার ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, বর্তমানের ঘটনাগুলো এরই বহিঃপ্রকাশ।

তাদের আরও অভিমত-তবে বাংলাদেশে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আগেও দেখা গেছে। তবে সেটা কথিত চোর-ডাকাতকে পিটুনি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার পুলিশ, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কর্মকর্তাদের জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা, মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া, আদালত এলাকায় আসামিদের ওপর হামলা, আবার কোথাও কোথাও পিটিয়ে, কুপিয়ে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়াও হামলা এবং ভাঙচুর হয়েছে ভাস্কর্য, মাজার, স্থাপনা ও শিল্প-কারখানায়। এ ধরনের ঘটনা ছাত্র-জনতার গোটা গণ-অভ্যুত্থানকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

শুরুর দিকের অনেক ঘটনায় ‘কার্যত’ চুপ থাকলেও এখন মব জাস্টিসের বিরুদ্ধে সরকার বেশ সরব। মব জাস্টিসের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও শুরু করেছে তারা। মবের নামে সরকারকে বিব্রত করার কারও কোনো প্রচেষ্টা আছে কি না তাও এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

সাবেক সিইসি নুরুল হুদার সঙ্গে মবের ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘গ্রেপ্তারের সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও অভিযুক্তকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা বেআইনি, আইনের শাসনের পরিপন্থি ও ফৌজদারি অপরাধ।’এ ঘটনায় হওয়া মামলায় রাজধানীর উত্তরা থানা পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং নানা পর্যায়ে মানুষের যে ক্ষোভ, এগুলোর একটা আউটকাম হচ্ছে এই ধরনের সংঘবদ্ধ ঘটনাগুলো। তবে যত ক্ষোভই থাকুক না কেন, এসব ঘটনা (মব) কোনোভাবেই সমাজের জন্য, সুশাসনের জন্য ইতিবাচক নয়। এসব ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা এটা করে তারা অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। আইনের চোখে এদের পলিটিক্যাল আইডেন্টিটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সরকার এই ব্যাপারে একেবারে জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে। আইনি ভিত্তিতে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্ব দেওয়া হবে না।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার সঙ্গে হওয়া ‘মব’-এর ঘটনায় ভয ও আতঙ্কে আছেন সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের অন্যান্য বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের আমলারা। তারা অশঙ্কা করছেন মব প্রশ্রয় দেওয়া হলে তারাও যেকোনো সময় আক্রান্ত হতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক সচিব বলেন, ‘আমরা সরকারের কর্মচারী ছিলাম। সরকারের এমপি-মন্ত্রী যারা ছিলেন তাদের হুকুম পালন করেছি। দীর্ঘদিন চাকরি শেষে যদি মবের শিকার হতে হয় তাহলে মান-সম্মান তো আর কিছুই থাকল না। যারা অন্যায় করেছে, আইনের মাধ্যমে বিচার হবে। আইনের বিচারের আগে এখন মব জাস্টিসের মাধ্যমে বিচার করা হচ্ছে; হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। আমরা ভয়ে আছি, আতঙ্কে আছি।’

৫ আগস্ট-এর পর আওয়মী লীগের নেতারা বেশিরভাগ আত্মগোপনে চলে গেছেন। কেউ দেশে লুকিয়ে আছেন, কেউ দেশের বাইরে চলে গেছেন। এদিকে সরকারও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যেও মাঝে মধ্যে আওয়ামী নেতাকর্মীদের ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার খবর আসে। অনেক জায়গায় মব জাস্টিসের নামে নির্যাতন করে তারপর পুলিশে সোপর্দ করা হচ্ছে। এই ভয়ে এখন আওয়ামী লীগের একেবারে ‘গড়পড়তা’ বা গুরুত্বহীন নেতারাও লুকিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা মব জাস্টিসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন, এখনও বলছেন। তারা তাদের কর্মীদের সর্তক করেছেন মব না করতে। তারপরও এটি থামানো যাচ্ছে না।

নুরুল হুদার সঙ্গে মবের ঘটনায় দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ‘ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন’ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, আমরা মব কালচারে বিশ্বাস করি না, আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য অবিরাম সংগ্রাম করে যাচ্ছি। আমরা চাই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদালতের রায় বাস্তবায়ন হবে, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকবে। সালাহ উদ্দিন বলেন, আমরা চাই, কোনো ব্যক্তি যতবড় অপরাধীই হোন না কেনো তার আইনি এবং সাংবিধানিক অধিকার যেন ভোগ করার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, অপরাধী যত বড়ই হোক, ‘মব জাস্টিস’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার বিচার সমর্থনযোগ্য নয়। গত তিনটি নির্বাচন ছিল শেখ হাসিনার একক নাটকীয় নির্বাচন। এসব নির্বাচনের সময়কার সকল নির্বাচন কমিশনারই ফ্যাসিবাদের অংশ। তবে তারা যত বড় অপরাধীই হোক, বিচার হবে আইনের মাধ্যমেই, মব জাস্টিসের মাধ্যমে নয়। মব জাস্টিস সমর্থনযোগ্য নয়।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন বলেন, ‘মবোক্রেসির মাধ্যমে লাঞ্ছিত হওয়ার পর বিতর্কিত সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার গ্রেপ্তার হয়েছেন। মবোক্রেসি ও লাঞ্ছনার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। সরকার মবের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— এই মব উৎপাদনের সাথে সরকার জড়িত নয় কি?’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যতদিন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হবে, ততদিন সমাজ থেকে মবোক্রেসি বন্ধ হবে না। মব উৎপাদনের দায় পুরোপুরি সরকারের। সরকারের দুর্বলতার কারণেই বারবার মবের ঘটনা ঘটছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২২ জুন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে আটক করা হয়। আটকের আগে কিছু লোক তার বাসায় ঢুকে তাকে নানাভাবে অপদস্থ করেন। ওই সময় হেনস্থাকারীরা কেউ কেউ ফেইসবুকে লাইভও করেন। এমন একটি লাইভে দেখা যায় নূরুল হুদার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি।




এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ, অংশ নিচ্ছে সাড়ে ১২ লাখ শিক্ষার্থী

সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।  বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল ১০টা থেকে এ পরীক্ষা শুরু হয়েছে শেষ হবে দুপুর ১টায়।

তাদের মধ্যে ছয় লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ছয় লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। দেশের দুই হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রথম দিনে সকাল ১০টা থেকে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদরাসা বোর্ডের অধীন আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

করোনার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ায় কেন্দ্রে সবার জন্য মাস্ক বাধ্যতামূলক করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থী দুই লাখ ৯১ হাজার ২৪১ জন, রাজশাহীতে এক লাখ ৩৩ হাজার ২৪২ জন, কুমিল্লায় এক লাখ এক হাজার ৭৫০ জন, যশোরে এক লাখ ১৬ হাজার ৩১৭, চট্টগ্রামে এক লাখ ৩৫ জন, বরিশালে ৬১ হাজার ২৫, সিলেটে ৬৯ হাজার ৬৮৩, দিনাজপুরে এক লাখ ৩ হাজার ৮৩২, ময়মনসিংহে ৭৮ হাজার ২৭৩ জন।

মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষার্থী ৮৬ হাজার ১০২ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ নয় হাজার ৬১১ জন।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গতবারের চেয়ে ৮১ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী কমেছে।

করোনার মধ্যে পরীক্ষার কেন্দ্রে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি কেন্দ্রে মেডিকেল টিম সক্রিয় রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কেন্দ্রের সামনে যেন জটলা না থাকে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেন্দ্রের অভ্যন্তর ও আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরীক্ষা শুরুর আগে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।




মাদক ও দুর্নীতি আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদক ও দুর্নীতি সরকার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে বুধবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় দাবি করা হয় মাদকের বিস্তার কমে আসছে। এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান আছে কি না- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি কিন্তু কোনোদিন এটা দাবি করিনি। দুটি জিনিস আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি- একটি হলো মাদক আরেকটি দুর্নীতি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো, কিন্তু মাদক আমরা কমিয়ে এনেছি এটা আমি কোনোদিন বলিনি। আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতা দরকার, এটা কমিয়ে আনতে হবে।’




ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্য বন্ধের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার বন্ধ করতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক পরিবেশের বিষ। এটি পৃথিবীর সব প্রাণীর জন্য বিষ, শুধু মানুষের জন্য নয়। ঘটনাটি ধীরে ধীরে হচ্ছে বলে আমরা আমলে নিচ্ছি না। পৃথিবীতে মানুষ বাড়ছে, বাংলাদেশেও মানুষ বাড়ছে। তার সঙ্গে জনপ্রতি প্লাস্টিক বিষের পরিমাণও বাড়ছে। তাই প্লাস্টিকের বিষ থেকে মুক্তি পেতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৫ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে আনার প্রধান উপায় বর্জন করা। এর উৎপাদন বন্ধ করলে দুনিয়া অচল হয়ে যাবে এমন নয়। অর্থনৈতিক লাভের জন্য পরিবেশের ক্ষতি করে যাব এমন আত্মবিধ্বংসী চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্ত হতে হবে। জীবন বাঁচাতে হলে পরিবেশকে বাঁচাতে হবে এর কোনো বিকল্প নাই।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহারের কারণে জলবায়ু, প্রকৃতিগত ও জীববৈচিত্র ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রাত্যহিক জীবন যাপনে পরিবর্তন আনতে হবে।




 সোনার ভরি কমে ১৭২৮৬০ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনায় ১ হাজার ৬৬৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৮৬০ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। বুধবার (২৫ জুন) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ১৪ ও ৬ জুন এবং ২২ মে ও ১৮ মে দেশের বাজারে চার দফা সোনার দাম বাড়ানো হয়। চার দফা দাম বাড়ানোর পর এখন দাম কমানোর কারণ হিসেবে বাজুস বলছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমেছে, তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৬৬৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৮৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১ হাজার ৩৭৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৪১ হাজার ৪২৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২ টাকা।

এর আগে গত ১৪ জুন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ১৮২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৫২৮ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬৮ টাকা। আজ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রূপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৮১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রূপার দাম ১ হাজার ৭২৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




টিউলিপ সিদ্দিক ও তার আইনজীবী বাংলাদেশকে ছোট করছেন : দুদক

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক এবং তার আইনজীবী নিজেদের দেশকে ছোট করছেন বলে মনে করছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক ব্রিটেনের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে না উল্লেখ করে আবদুল মোমেন বলেন, ব্রিটেনের রাজনীতি কি এতই ভঙ্গুর যে তার দেশের একজনের নামে মামলা হলে; আর তাতেই ব্রিটেন সরকার, রাজনীতি একেবারে ধসে পড়বে— এটা কি হতে পারে?

টিউলিপের আইনজীবীকে শব্দ চয়নে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা নিজেদের দেশকে ছোট করছেন। প্রমাণ করছেন ব্রিটেনের রাজনীতি ভঙ্গুর। আমাদের হস্তক্ষেপের কী আছে? দুদকের কার্যপরিধিতে রাজনীতিতে যাওয়ার সুযোগ নেই।

চিঠি আদান-প্রদান নয়, অন্যান্য অভিযুক্তদের মতোই আদালতে এসে টিউলিপকে মামলা মোকাবেলার আহ্বান জানান দুদক চেয়ারম্যান।

সম্প্রতি টিউলিপের আইনজীবী দুদককে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও দুদক ব্রিটেনের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমার সহজ একটা প্রশ্ন, টিউলিপ সিদ্দিকীর কেইসটা কি এমন কোনো কেইস যেটা ব্রিটেনের ভঙ্গুর রাজনীতিকে আরও ভঙ্গুর করবে। বিষয়টিকে আমরা অন্যভাবেও দেখতে পারি।

চিঠিপত্রের মাধ্যমে টিউলিপ মামলা নিষ্পত্তি করতে চাইছেন জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অপরাধী যে দেশে অপরাধ করবে তাকে সেই দেশেই তা মোকাবেলা করতে হবে। এখন মনে হচ্ছে সম্ভবত চিঠিপত্রের মাধ্যমে তিনি মামলা নিষ্পত্তি করতে চাইছেন। এটা তো হওয়ার কথা নয়। কোর্টে মামলা হচ্ছে, টিউলিপ সিদ্দিকীকে কোর্টে হাজির হয়ে মামলা মোকাবেলা করতে হবে।

টিউলিপ সিদ্দিকীর মামলা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এটা কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা নয়। কাউকে ছোট করার মামলা নয়। অনেক আসামির মতো টিউলিপ সিদ্দিকীও একজন অভিযুক্ত। আমাদের এর চেয়েও অনেক বড় মামলা আছে।

তিনি আরও বলেন, টিউলিপ আমাদের কাছে বাংলাদেশি নাগরিক। তার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। তার টিআইএন আছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা করেছি। আমার বিশ্বাস টিউলিপ বাংলাদেশের আইন মেনে মামলা মোকাবেলা করবেন।

টিউলিপ গোড়া থেকেই সব জানতেন, এজন্য মন্ত্রীর পদ থেকে তাকে সরে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা আছে। তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে।

এর আগে ২৩ জুন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দুদক ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। ইউনূস ও দুদক বরাবর পাঠানো এক উকিল নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ন করাই তাদের উদ্দেশ্য।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন লেবার এমপি টিউলিপ। তিনি যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসনের এমপি। ঢাকার গুলশানের একটি প্লট অবৈধভাবে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করিয়ে দিয়ে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ‘ঘুষ’ হিসেবে একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে টিউলিপের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল মামলা করে দুদক।

পরে গত ১৫ জুন টিউলিপকে দ্বিতীয় দফায় ২২ জুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। এর আগে ১৪ মে টিউলিপকে তলব করেছিল দুদক। তবে সেই তলবি চিঠি পাচ্ছেন না বলে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন টিউলিপ।




গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড পেল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ২ প্রতিষ্ঠান

গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড বা পরিবেশবান্ধব কারখানা পুরস্কার পেয়েছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠান দুটির শীর্ষ নির্বাহীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

মঙ্গলবার ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড নীতিমালা-২০২০’ এর আওতায় ১৬টি খাতের ৩০টি শিল্প-কারখানাকে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের নরসিংদীর পলাশের চরকা টেক্সটাইল লিমিটেড তৈরি পোশাক (নিট) খাতে পুরস্কার পেয়েছে। চরকা টেক্সটাইলের নির্বাহী পরিচালক শাহীন শাহ আজাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন ও আদিলুর রহমান খান। এ ক্যাটাগরিতে আরও পুরস্কার পেয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ইকোটেক্স লিমিটেড ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ফকির ফ্যাশন লিমিটেড।

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে পুরস্কার পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (কর্পোরেট ফিন্যান্স) উজমা চৌধুরীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন ও আদিলুর রহমান খান। ধামরাইয়ের আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে পুরস্কার পেয়েছে।

পুরস্কার হিসেবে একটি ক্রেস্ট, সনদ এবং এক লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।

চরকা টেক্সটাইলের বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, চরকা টেক্সটাইল বাংলাদেশের একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী নিট গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, যা ২০১৩ সালে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা, কাজীরচর এলাকায় অবস্থিত এবং এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। চরকা টেক্সটাইল নিট কাপড় থেকে পোশাক তৈরি করে থাকে এবং এর শতভাগ পণ্যই আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়।

প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী কাজ করছেন, যারা প্রতিদিন গুণগত মান বজায় রেখে বিশাল পরিমাণ পোশাক উৎপাদনে ভূমিকা রাখছেন। আধুনিক মেশিনারিজ, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ ভার্টিক্যালি ইন্টিগ্রেটেড কাঠামোর মাধ্যমে চরকা টেক্সটাইল দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করে। বিশ্বের নামকরা ব্র্যান্ডগুলোর জন্য পণ্য উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে। পাশাপাশি শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় চরকার প্রতিশ্রুতি উল্লেখযোগ্য। গুণ, নৈতিকতা ও টেকসই ভবিষ্যতের লক্ষ্যে চরকা টেক্সটাইল বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে এগিয়ে নিতে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

হবিগঞ্জ এগ্রোর অবদানের বিষয়ে বলা হয়েছে, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য ও প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠান, যা প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ওলিপুর এলাকায় অবস্থিত এই আধুনিক কারখানাটি দেশের খাদ্যশিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে কারখানাতে ৭ হাজার ৩২৮ জন শ্রমিক কর্মরত। এখানে উন্নত প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিস্কুট, কেক, পাস্তা, রুটি, জুস, কার্বনেটেড পানীয়সহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য উৎপাদিত হয়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি ১৪৫টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়।

কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া এইচএসিসিপি, আইএসও আইএমএস, হালাল, বিআরসিসহ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হয়, ফলে স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাজারে পণ্যগুলোর প্রতি ক্রেতাদের আস্থা ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশকে খাদ্যশিল্পে বৈশ্বিকভাবে তুলে ধরতে হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলে জানানো হয়েছে।




১ জুলাই থেকে বিশেষ সুবিধা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা

আগামী ১ জুলাই থেকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি মাদরাসা ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা বিশেষ সুবিধা পাবেন। এ বিশেষ সুবিধা হবে মূল বেতনের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।

সোমবার (২৩ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি মাদরাসা ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত জাতীয় বেতন স্কেলের তুলনীয় গ্রেড-৯ থেকে তদূর্ধ্ব গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতিবছর ১ জুলাই প্রাপ্য মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাবেন। আর গ্রেড-১০ থেকে তদনিম্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকে প্রতিবছর ১ জুলাই প্রাপ্য মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে (১ হাজার ৫০০ টাকার কম নয়) বিশেষ সুবিধা পাবেন।

এর আগে গতকাল রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘোষিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা চাকরিরতদের জন্য ন্যূনতম ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭৫০ টাকা করা হয়েছে। নিট পেনশন ১৭ হাজার ৩৮৮ টাকার ঊর্ধ্বে প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং তার কমের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিচারপতি এবং এমপিওভুক্তদের ক্ষেত্রে পৃথক আদেশের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

তার আগে গত ২ জুন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতির সামনে তুলে ধরেন অর্থ উপদেষ্টা। পরের দিন ৩ জুন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানানো হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী ১ জুলাই থেকে বিশেষ সুবিধা পাবেন।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রথম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রতিবছর তাদের মূল বেতনের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পাবেন এবং দশম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন ১৫ শতাংশ।

কর্মচারীদের জন্য সর্বনিম্ন প্রদেয় পরিমাণ হবে এক হাজার টাকা। পেনশনভোগীদের জন্য ৫০০ টাকা। অর্থাৎ এখন চাকরিরতের ন্যূনতম বিশেষ সুবিধা ৫০০ টাকা এবং পেনশনভোগীদের ন্যূনতম বিশেষ সুবিধা ২৫০ টাকা বাড়িয়ে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৩ জুনের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা (পিআরএল), বরখাস্তকৃত কর্মচারী (তাদের শেষ মূল বেতনের ৫০ শতাংশ) ও কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

তবে যারা বিনা বেতনে ছুটিতে আছেন বা যাদের পেনশনের সম্পূর্ণ অংশ সমর্পণ করে এককালীন আনুতোষিক নিয়েছেন, তারা এ সুবিধার আওতায় আসবেন না। রাজস্ব বাজেটের বাইরে স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এ সুবিধার খরচ তাদের নিজস্ব বাজেট থেকেই বহন করতে হবে।




বাজেট সহায়তা হিসেবে ৪০ কোটি ডলার ঋণ দিলো এআইআইবি

এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ক্লাইমেট রেসিলেন্স ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায় ৪০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে। দেশীয় মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.২০ টাকা ধরে)। এই ঋণ মূলত বাজেট সহায়তা হিসেবে ব্যবহার হবে।

সোমবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ ও এআইআইবির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিরানা মাহরুখ এআইআইবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রজত মিশ্রা ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশের পরিবর্তন প্রতিরোধকল্পে মজবুত ভিত্তি তৈরি। জলবায়ু নীতিমালা সংস্কারের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অভিযোজন এবং প্রশমনমূলক কার্যক্রমকে আরও অগ্রসর করা। যাতে টেকসই, সহনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করে। গৃহীত এ ঋণ পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৫ বছরে পরিশোধযোগ্য। ঋণের সুদের হার এককালীন ০.২৫ শতাংশ পরিশোধ করা হবে।




রাজধানীতে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ

এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সোমবার (২৩ জুন) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও আলিম পরীক্ষা আগামী ২৬ জুন থেকে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

যেহেতু পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন, সেহেতু আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/১৯৭৬) এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ২০০ (দুইশত) গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত জনসাধারণের অনধিকার প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি।

এই আদেশ আগামী ২৬ জুন থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনগুলোতে পরীক্ষা চলা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।




এবার ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন নিলা ইসরাফিল

জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা তুষার সারোয়ারের সঙ্গে কথোপকথন প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নিলা ইসরাফিল।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পাশে না দাঁড়িয়ে ক্ষমতার পাশে দাঁড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রবিবার রাতে এ নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

নিলা ইসরাফিল তার পোস্টে বলেন, ‘একজন ব্যারিস্টার যখন আইনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠেন, তখন ন্যায়বিচার হুমকির মুখে পড়ে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ – যিনি আজ “সত্য”র মুখোশ পরে একজন নিপীড়িত নারীর লড়াইকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। একজন নারী যখন সাহস করে মুখ খুলে, তখন সমাজ তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু যখন একজন ব্যারিস্টার সেই প্রশ্নের অংশ হয়ে ওঠেন, তখন বুঝে নিতে হয় — আইনের লোকেরাও কখনো কখনো ক্ষমতার পাশে দাঁড়ায়, ন্যায়ের পাশে নয়।’

তিনি বলেন, ‘যিনি আইন জানেন, কিন্তু নারী অধিকার বোঝেন না — তার অবস্থান কাদের পক্ষে, সেটি সময়ই বলে দেবে। আমি জানতে চাই, ব্যারিস্টার ফুয়াদ কার পক্ষে? একজন অভিযুক্ত পুরুষের, নাকি সেই নারীর – যিনি নিজের সম্মান রক্ষায় একা দাঁড়িয়েছে? আইনের অপব্যবহার নয়, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্যারিস্টার সাহেব, আপনি বলেছেন (আমি নাকি ফোন আলাপ বিক্রি করেছি ) আপনি যেহেতু গণমাধ্যমে এটা বলেছেন তার মানে আপনার কাছে প্রমাণ আছে। অনুগ্রহ করে সে প্রমাণটিও প্রকাশিত করুন। যদি সত্যিই ন্যায় চান, তাহলে নারীর কণ্ঠকে থামাতে নয়, শুনতে শিখুন।’

এদিকে, পোস্টটি দেওয়ার প্রায় আধাঘণ্টা পর সেটি সরিয়ে নিয়েছেন নিলা ইসরাফিল।




বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন ও পরিবেশ মেলার উদ্বোধন ২৫ জুন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের পাশাপাশি পরিবেশ মেলার উদ্বোধন করা হবে বুধবার (২৫ জুন)। এছাড়াও এদিন জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করা হবে।

সোমবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ এ তথ্য জানান। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার ঈদের ছুটি থাকায় এটি ২৫ জুন পালিত হবে।

সচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং বনজ সম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের বাস উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। এসব কাজে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়, বন্ধ করার এখনি সময়’ স্লোগানে এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং ‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে এবারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান পালন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ফারহিনা আহমেদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ২৫ জুন সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে‌ সম্মতি দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫, জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৪, বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৪ এবং সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হবে। শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিতব্য পরিবেশ মেলা চলবে ২৫ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত এবং বৃক্ষমেলা চলবে ২৫ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন মেলা চলবে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৯টা পর্যন্ত।

দেশের সব জেলা ও উপজেলায় এবং ঢাকা মহানগরীর ১০০টি এবং সব জেলায় ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হবে। পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে শিশু চিত্রাঙ্কন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিতর্ক ও স্লোগান প্রতিযোগিতা, পরিবেশ বিষয়ক সেমিনার এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের জন্য সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান সচিব।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজনে করা হবে। এ উপলক্ষে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হবে। ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যানার স্থাপন এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হবে।




বাংলাদেশের স্কাউটরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের স্কাউটরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ও নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য চারজন স্কাউট আত্মহুতি দিয়েছেন। স্কাউটিংয়ের ইতিহাসে এমন নজির বিশ্বের আর কোথাও নেই।

সোমবার (২৩ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের দেশব্যাপী আয়োজিত কাব কার্নিভালের উদ্বোধন ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দুনিয়া ও নিজেকে আবিষ্কারের সুযোগ তৈরি করে স্কাউটসের কার্যক্রম।‌ গৎবাঁধা ছাত্রজীবনে নিজের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আর সুযোগ থাকে না। তোমাকে তোমার সঙ্গে পরিচিত করে দেওয়ার জন্য স্কাউটিং একটা বড় দরজা খুলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু নিজে নয়, অন্যদেরও নিজেকে চেনার সুযোগ করে দেওয়া যায়।




উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন

আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এবারের বাজেটে বাতিল করা হয়েছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ। রবিবার (২২ জুন) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বাজেট প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার সংসদ ছাড়াই আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গত ২ জুন সোমবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভি এবং অন্যান্য বেসরকারি গণমাধ্যমে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার এই নতুন বাজেট একযোগে প্রচারিত হয়।

প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গত ১৯ জুন পর্যন্ত নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করা হয়। এরপর কিছু সংযোজন-বিয়োজন কর বাজেটের খসড়া চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

বাজেটের এ চূড়ান্ত খসড়া আজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে তা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে। এক্ষেত্রে আজই বরাদ্দ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ এবং শুল্ক-কর সংক্রান্ত আরেকটি অধ্যাদেশ জারি করার কথা রয়েছে।

নির্বাচিত সরকারের আমলে বাজেট জাতীয় সংসদেই উপস্থাপন করা হয়। পরে মাসজুড়ে সেই প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা হতো সংসদে। জুন মাসের শেষ দিকে সংসদে পাস হতো নতুন অর্থবছরের বাজেট। এবার সংসদ না থাকায় সংসদের আলোচনা বা বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। তবে বাজেট ঘোষণার পর প্রস্তাবিত বাজেটের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে মতামত নেওয়া হয়।




সৌদি আরবে আরও ২ হাজির মৃত্যু

সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন হাজিরা। হজ পালন করতে গিয়ে শুক্রবার (২০ জুন) পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল ফিরোজা বেগম (৬৩) ও ফাতেমা খাতুন (৪৪) নামে দুই নারী হাজি মারা গেছেন।

শনিবার (২১ জুন) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের মৃত্যু সংবাদে এসব তথ্য জানা গেছে। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে মক্কায় মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের, মদিনায় ১১ জন, জেদ্দা ও আরাফায় ১ জন করে।

হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের তথ্য মতে, এ বছর হজে গিয়ে গত ২৯ এপ্রিল প্রথম মারা যান রাজবাড়ীর পাংশার মো. খলিলুর রহমান (৭০)। এরপর ২ মে মারা যান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের মো. ফরিদুজ্জামান (৫৭), ৫ মে মারা যান পঞ্চগড় সদরের আল হামিদা বানু (৫৮), ৭ মে মারা যান ঢাকার মোহাম্মদপুরের মো. শাহজাহান কবির (৬০) এবং ৯ মে মারা যান জামালপুরের বকশিগঞ্জের হাফেজ উদ্দিন (৭৩), ১০ মে মারা যান নীলফামারী সদরের বয়েজ উদ্দিন (৭২), ১৪ মে মারা যান চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মো. অহিদুর রহমান (৭২), ১৭ মে মারা যান গাজীপুর সদরের মো. জয়নাল হোসেন (৬১) এবং ১৯ মে মারা যান চাঁদপুরের মতলবের আ. হান্নান মোল্লা (৬৩) ও ২৪ মে রংপুরের পীরগঞ্জের মো. সাহেব উদ্দিন।

এছাড়া ২৫ মে মারা গেছেন চাঁদপুরের কচুয়ার বশির হোসাইন (৭৪), ২৭ মে মারা যান চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের শাহাদাত হোসেন, ২৯ মে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মো. মোস্তাফিজুর রহমান(৫৩), একই দিন মাদারীপুর সদরের মোজলেম হাওলাদার (৬৩), গাজীপুরের টঙ্গীর পূর্ব থানার আবুল কালাম আজাদ (৬২), গত ১ জুন মারা যান, গাজীপুরের পুবাইলের মো. মফিজ উদ্দিন দেওয়ান (৬০) ও নীলফামারীর সৈয়দপুরের মো. জাহিদুল ইসলাম (৫৯), ৫ জুন মারা যান ঢাকার কেরানীগঞ্জের মনোয়ারা বেগম মুনিয়া, ৬ জুন খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকার শেখ মো. ইমারুল ইসলাম, ৭ জুন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মো. মুজিব উল্যা, ৯ জুন মারা যান গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের এ টি এম খায়রুল বাসার মন্ডল, ১০ জুন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার গোলাম মোস্তফা, ১২ জুন লালমনিরহাট পাটগ্রামের আমির হামজা, ময়মনসিংহের কোতয়ালি এলাকার মো. মনিরুজ্জামান (৬৬) ও নোয়াখালীর চাটখিল এলাকার খাতিজা বেগম (৪১)। ১৪ জুন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার রোকেয়া বেগম (৬২) ও যশোরের মনিরামপুর এলাকার মনজুয়ারা বেগম (৫৯)। ১৬ জুন ঢাকার রামপুরার মোজাহিদ আলী (৫১) ও কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার বেগম সামছুন্নাহার (৭৬)। ১৭ জুন ঢাকা উত্তর সিটির নাজমা রানা (৪২), ১৮ জুন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার আফিয়া খাতুন (৬৩) এবং ঢাকার শাহাজাহানপুরের মনোয়ারা ছিদ্দিকা (৫৮)। ১৯ জুন গাজীপুরের আফজাল হোসাইন (৬৮), ২০ জুন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফাতেমা খাতুন (৪৫) এবং নাটোরের সিংড়া উপজেলার ফিরোজা বেগম (৬৪)।

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে শুক্রবার (২০ জুন) রাত পর্যন্ত ৪০ হাজার ৫২০ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ০৬ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৩৫ হাজার ৫১৪ জন দেশে ফিরেছেন।

এ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ১৬ হাজার ২৬২, সৌদি পতাকাবাহী সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ১৬ হাজার ৯৩৩ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ৭ হাজার ৩২৫ জন দেশে ফিরেছেন। মোট ১০৩টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের, ৪৩টি সাউদিয়ার এবং ১৯টি ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের।

হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট ছিল ২৯ এপ্রিল আর শেষ ফ্লাইট ৩১ মে। প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ১০ জুন এবং শেষ হবে ১০ জুলাই।




জ্বালানি নিরাপত্তা ও বায়ু দূষণ কমাতে ৬৪০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বায়ুর মান উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দুটি নতুন প্রকল্পে মোট ৬৪০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছে। দেশীয় মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৮২২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.২২ টাকা ধরে)। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর (অন্তর্বর্তীকালীন) গেইল মার্টিন বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানো এবং বায়ু দূষণ কমানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকার। গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং শহুরে বায়ু দূষণের মূল কারণগুলো সমাধান করে, এই দুটি প্রকল্প বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে, উৎপাদনশীলতা উন্নত করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।

৩৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে পেট্রোবাংলার ‘জ্বালানি খাত নিরাপত্তা উন্নয়ন প্রকল্পের’ জন্য। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোবাংলার জন্য ব্যয় সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করে গ্যাস সরবরাহের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি আইডিএ গ্যারান্টি ব্যবহার করে আগামী সাত বছরে নতুন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য ২.১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করা হবে। এই আইডিএ গ্যারান্টি পেট্রোবাংলার ঋণ যোগ্যতা বাড়াবে। যা তাদের এলএনজি সরবরাহ সুরক্ষিত করতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে মোট গ্যাস ব্যবহারের এক-চতুর্থাংশের বেশি আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে। মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত হয়। গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রায়শই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অধীনে এলএনজি আমদানি সহজ করার জন্য অর্থ প্রদানের নিরাপত্তা এবং কার্যনির্বাহী মূলধনের সমাধান দেবে। যার ফলে ব্যয় বহুল স্পট মার্কেট গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং এই প্রোগ্রামের টাস্ক টিম লিডার ওলাঙ্কা বিসিরিয়ু ইডেবিরি বলেন, এই প্রকল্পটি বাংলাদেশকে সাশ্রয়ী উপায়ে গ্যাস সরবরাহের নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করবে। যা শিল্প এবং গার্হস্থ্য ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতে অবদান রাখবে। নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে, প্রকল্পটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

বায়ু দূষণ কমাতে ২৯০ মিলিয়ন ডলারের ক্লিন এয়ার প্রকল্প।

দ্বিতীয় প্রকল্পটি হলো ‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রকল্প’, যার জন্য ২৯০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাংলাদেশে মারাত্মক বায়ু দূষণ মোকাবিলায় একটি ব্যাপক পদক্ষেপ নেবে। ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম যেখানে বার্ষিক ফাইন পার্টিকুলেট ম্যাটার এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বায়ু মানের নির্দেশিকা থেকে ১৮ গুণ বেশি।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ু মান পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক নতুন ও উন্নত স্টেশনগুলোর মাধ্যমে শক্তিশালী করা হবে। এটি বায়ু দূষণের প্রধান শিল্প উৎসগুলোর রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য কন্টিনিউয়াস এমিশনস মনিটরিং প্রোগ্রাম চালু করতেও সহায়তা করবে। স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ সিস্টেমের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে, এই পর্যবেক্ষণ প্রোগ্রামটি নির্গমনের সীমা প্রয়োগ এবং প্রধান উৎসগুলো থেকে সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেবে।

প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ উন্নত করা এবং পুরোনো, দূষণকারী ডিজেল বাসের পরিবর্তে ৪০০টি শূন্য-নির্গমন বৈদ্যুতিক বাসের একটি বহর চালু করা। এই বৈদ্যুতিক বাসগুলো উন্নত পরিষেবা মানের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ “প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একক অপারেটর” মডেলের অধীনে পরিচালিত হবে। প্রকল্পটি বৈদ্যুতিক বাসগুলোর চার্জিং, পার্কিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট ডিপো স্থাপন করবে।

এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি নতুন যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। দুটি অকার্যকর কেন্দ্রকে আপগ্রেড করা হবে এবং মোবাইল যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র ও ২০টি মোবাইল যানবাহন নির্গমন পরীক্ষা ইউনিট মোতায়েন করা হবে। পরিবহন খাতে এই সম্মিলিত পদক্ষেপগুলো বার্ষিক প্রায় ২ হাজার ৭৩৪ মেট্রিক টন প্রাথমিক পিএম২.৫ নির্গমন কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং এই প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার আনা লুইসা গোমস লিমা বলেন, এটি দেশের বায়ু মানের উন্নতির জন্য নতুন প্রকল্পের একটি সিরিজের প্রথম হবে। যেহেতু বায়ু সীমানা অতিক্রম করে, কোনো একক দেশ একা বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এই প্রকল্পটি বায়ু দূষণ কমাতে আঞ্চলিক সংলাপ এবং তথ্য আদান-প্রদান সহজ করবে।

 




ডেঙ্গু  প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে দুই সিটির ১৩ ওয়ার্ড

রাজধানীতে মৌসুম শুরুর আগেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রভাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকার দুই সিটির ১৩টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট মানদণ্ডের থেকেও বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার আওতাধীন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীন গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে চালানো প্রাক-বর্ষা জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (১৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত মৌসুম পূর্ব এডিস সার্ভে-২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচক ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ নামে পরিচিত। সাধারণত এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের স্বীকৃত পদ্ধতি ‘ব্রুটো ইনডেক্স’র মানদণ্ডে লার্ভার ঘনত্ব ২০ শতাংশের বেশি হওয়া মানেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

দুই সিটির ৯৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টিতে ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। এর অর্থ হচ্ছে, এসব এলাকার ১০০টির মধ্যে ২০টির বেশি পাত্রে মশা বা লার্ভা পাওয়া গেছে। এই এলাকাগুলো ডেঙ্গুর বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ঝুঁকিতে থাকা ওয়ার্ডগুলো হলো- ১২, ২, ৮, ৩৪, ১৩, ২২ নং ওয়ার্ড। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো- ৩১, ৪১, ৩, ৪৬, ৪৭, ৪, ২৩ নং ওয়ার্ড।




আগামী দুই শনিবার এনবিআরের সব অফিস খোলা

আগামী দুই শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়করসহ রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য সব দফতর খোলা থাকবে।

বুধবার (১৮ জুন) এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (বোর্ড প্রশাসন-১) উম্মে আয়মান কাশেমীর সই করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে জানানো হয়, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট কার্যক্রম চলমান থাকায় আগামী ২১ ও ২৮ জুন, পরপর দুই শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং এর অধীনস্থ কাস্টমস ও ভ্যাট এবং আয়করসহ রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য সব দপ্তর খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ এরইমধ্যে সব দফতরে পাঠানো হয়েছে৷




দেড় বছরে ২০ শতাংশ প্লাস্টিক কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত : বিপিজিএমইএ সভাপতি 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে প্লাস্টিক শিল্পের ৬ হাজার কারখানার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি সামিম আহমেদ।

তিনি বলেন, এই ২০ শতাংশের মধ্যে সিংহভাগ বন্ধ হয়েছে বাকিগুলো বন্ধের পর্যায়ে রয়েছে।

বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর বিপিজিএমইএ কার্যালয়ে প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ এর ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। এ সময় বিপিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সামিম আহমেদ বলেন, আমাদের শিল্প কোভিড-১৯ সময়ে ক্ষতির মুখে পড়েছিল। অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছিল। পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীনও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এখন কোভিড আবার শুরু হয়েছে। এর মাঝে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ আরও শঙ্কা তৈরি করেছে। যুদ্ধের ফলে এলএনজিসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির খরচ বাড়বে, এতে আবারও ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের প্লাস্টিক খাত।

সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক শিল্প বর্তমানে দেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত। এই খাতে দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যন্ত্রপাতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। অথচ শুল্ক ও ভ্যাট জটিলতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন যন্ত্রপাতি আমদানিতে নিরুৎসাহিত হয়।




নিরীক্ষা দুর্বলতায় অর্থপাচার ও ঋণ খেলাপি সহজ হয়েছে

নিরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দেশ থেকে কয়েক লাখ কোটি টাকা পাচার এবং ঋণ খেলাপি সহজ হয়েছে বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) অডিটরিয়ামে আইসিএমএবি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি দাবি করেন, ব্যাংকগুলোর লাখ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের দায়ও নিরীক্ষকরা এড়াতে পারে না।

‘অডিট আওতা সম্প্রসারণে সংস্কার প্রস্তাব’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে আইসিএমএবি সভাপতি বলেন, দেশের অডিট বা নিরীক্ষা প্রতিবেদন ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগেই ব্যাংক, আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া সহজ হয়। নিম্নমানের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের কারণে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। একই কারণে দেশি ভালো প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে ভয় পায়।

তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের নিরীক্ষা ইকোসিস্টেম সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। আনুমানিক ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের নিরীক্ষা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে। এর ফলে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, মানসম্মত নিরীক্ষা ব্যবস্থা থাকলে দেশের খেলাপি ঋণ চার লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতো না। বাংলাদেশে নিরীক্ষা করতে পারে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। যেখানে প্রতিবেশী দেশ নেপালে তা ৯ হাজার, পাকিস্তানে ১০ হাজারের বেশি।

এ অবস্থায় কোম্পানি আইনে যেসব প্রতিষ্ঠানে সিএ এবং সিএমএ প্রতিষ্ঠান অডিট বা নিরীক্ষা করে না সেসব প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষার সুযোগ দাবি করে আইসিএমএবি। এজন্য অর্থবিল পাস হওয়ার আগেই দেশের নিরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে আইন সংশোধনের দাবি জানানো হয়।

আইসিএমএবি সভাপতি বলেন, দেশের আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এফআরসি কর্তৃক সংজ্ঞায়িত প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টেন্ট (সিএ ও সিএমএ) দ্বারা লিমিটেড কোম্পানি ব্যতীত সব প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষা করানোর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু একটি স্বার্থন্বেষী মহলের প্ররোচণায় অর্থবিল থেকে সিএমএ-দের বাদ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় স্বার্থে এবং আর্থিক সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে সিএমএ-দের সুযোগ দিয়ে বিধানটি ফের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।




বিজিএমইএ’র নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সোমবার (১৬ জুন) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন নবনির্বাচিত সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

দুই পর্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী প্রশাসক আনোয়ার হোসেন। দ্বিতীয় পর্বে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নতুন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ফারুক হাসান, ড. রুবানা হক, এস এম ফজলুল হক, কাজী মনিরুজ্জামান ও আনিসুর রহমান সিনহা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারাসহ সাধারণ সদস্যরা অংশ নেন।

নতুন পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা হলেন— সিনিয়র সহ-সভাপতি: ইনামুল হক খান (বাবলু) , প্রথম সহ-সভাপতি: সেলিম রহমান, সহ-সভাপতি: মো. রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ): মিজানুর রহমান, সহসভাপতি: ভিদিয়া অমৃত খান, সহসভাপতি: মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহসভাপতি: মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী।

ঢাকা অঞ্চল থেকে নির্বাচিত পরিচালকরা হলেন— শাহ রাঈদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ফয়সাল সামাদ, মো. হাসিব উদ্দিন, মো. আবদুস সালাম, নাফিস-উদ-দৌলা, সুমাইয়া ইসলাম, ফাহিমা আক্তার, মজুমদার আরিফুর রহমান, আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, কাজী মিজানুর রহমান, জোয়ারদার মো. হোসনে কমার আলম, এবিএম সামছুদ্দিন, আসেফ কামাল পাশা, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, ফারুক হাসান, রুমানা রশীদ, মোহাম্মদ সোহেল এবং সামিহা আজিম।

চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নির্বাচিত পরিচালকরা হলেন— এমডি এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, সাকিফ আহমেদ সালাম, মো. সাইফ উল্যাহ মনসুর, এনামুল আজিজ চৌধুরী, এস এম আবু তৈয়ব এবং রাকিবুল আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে সম্মিলিত পরিষদের পক্ষে সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সেক্রেটারি ও চৈতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম নতুন পরিচালনা পর্ষদকে শুভেচ্ছা জানান। অপরদিকে, ঐক্য পরিষদের পক্ষে রোমো গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন (সিআইপি) নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানান।

এ ছাড়া বিকেএমইএ’র পক্ষে নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং নন-বন্ডেড এসএমই উদ্যোক্তাদের পক্ষে আরএল অ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান নবনির্বাচিত কমিটিকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।




শেখ হাসিনাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি ট্রাইব্যুনালের

জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার। পত্রিকায় এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে।

এর আগে, সোমবার (১৬ জুন) জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে এক সপ্তাহের মধ্যে হাজির হতে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৪ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

মামলার আরেক আসামি সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ওইদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী মামুন। একইসঙ্গে এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামা কামালের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

সেদিন আদালতে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার, মিজানুল ইসলাম। যা সব গণমাধ্যমে সম্প্রচার করা যায়।

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

গত ১২ মে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। তদন্ত প্রতিবেদনে জুলাই গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত চিফ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি, হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বিচারে হত্যা চালায়। প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারায় এই আন্দোলনে।




জ্বালানির দাম বাড়বে কি না, জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

ইরান ও ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও দেশে এখনো দাম বাড়ানোর চিন্তাভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সার ও জ্বালানির দামসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আমদানিকৃত মালামাল হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কোনো প্রভাব নেই বাণিজ্যে। আপাতত আগের দামেই জ্বালানিসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হচ্ছে; তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী হলে বাংলাদেশেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থ উপদেষ্টা।

যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে দেশের প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে এখনই প্রস্তুত থাকতে হবে বলে মনে করছে না উপদেষ্টা পরিষদ। ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চায়।

এছাড়াও হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, তবে সরকার আশা করে এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে না বলেও জানান অর্থ উপদেষ্টা।




রাজধানীতে ফল মেলা শুরু বৃহস্পতিবার

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) চত্বরে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা। ‘দেশি ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ মেলা শেষ হবে শনিবার (২১ জুন)।

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের ফল মেলায় ২৬টি সরকারি ও ৪৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মোট ৭৫টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের ফল ও ফল চাষের প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কেআইবি চত্বরে মেলা উদ্বোধন করবেন কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এরপর কেআইবি মিলনায়তনে ‘স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও বাণিজ্যিকীকরণে দেশী ফল: বর্তমান প্রেক্ষিত, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার হবে। কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষি উপদেষ্টা। সমাপনী দিন শনিবার বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে সেরা স্টলকে পুরস্কার দেওয়া হবে।

মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। দর্শনার্থীরা ফল চাষের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে ও রাসায়নিকমুক্ত বিভিন্ন জাতের ফল কিনতে পারবেন।




কাগজপত্র দেখে টিউলিপকে বাংলাদেশি মনে হচ্ছে: দুদক চেয়ারম্যান

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক নিজেকে ব্রিটিশ পরিচয় দিলেও কাগজপত্র দেখে তাকে ‘বাংলাদেশি মনে হচ্ছে’ বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান এবং আরেকটি তদন্তাধীন। যতই বলুক না কেন তিনি ব্রিটিশ, আমরা যখন আমাদের কাগজপত্র দেখছি তাকে বাংলাদেশি মনে হচ্ছে। এখন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিজের সুবিধার জন্য কখনো ব্রিটিশ, কখনো বাংলাদেশি বলেন; এটি বলা সমীচীন কি না তা আপনারা (সাংবাদিকদের উদ্দেশে) বিবেচনা করবেন।

সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

টিউলিপ সিদ্দিক যদি নির্দোষই হয়ে থাকেন তবে তিনি সিটি মিনিস্টার পদ বা মন্ত্রিত্ব কেন ছাড়লেন—এ প্রশ্নও তুলেছেন দুদক চেয়ারম্যান। বলেন, টিউলিপ নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে, তার আইনজীবী দুদকে চিঠি লিখলেন কেন? তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন কেন?

এসময় তিনি টিউলিপকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, টিউলিপের ব্যাপারে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সঠিক ঠিকানায় তলবগুলো পাঠানো হচ্ছে। রাজউকের প্লট, গুলশানের প্লট বিতরণের অনিয়মসহ আরও অভিযোগ আছে। তার আয়কর রিটার্ন ঘেটে দেখলাম, সেখানে তার স্বর্ণ ১০ ভরি থেকে হঠাৎ লাফ দিয়ে ৩০ ভরি হয়ে গেছে। দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

‘বাংলাদেশের আইনের বিধান অনুযায়ী টিউলিপকে আদালতে মোকাবিলা করতে হবে। আমরা তার আইনজীবীকে এটা জানিয়েছি’- যোগ করেন দুদক চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক। এর মধ্যে লন্ডনে শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ফ্ল্যাট টিউলিপ ব্যবহার করেছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবরে বেরিয়ে আসে।

এসব নিয়ে সমালোচনার মুখে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য সরকারের সিটি মিনিস্টারের (ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টার) পদ থেকে পদত্যাগ করেন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি গত বছর দেশটির সাধারণ নির্বাচনে লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে টানা চতুর্থবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর জুলাইয়ে তাকে লেবার পার্টি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার করা হয়েছিল।

এরই মধ্যে রাজধানীর গুলশানের একটি প্লট অবৈধভাবে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করিয়ে দিয়ে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ‘ঘুষ’ হিসেবে একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে টিউলিপের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল মামলা করে দুদক।

টিউলিপকে গত ১৫ জুন দ্বিতীয় দফা তলব করে দুদক। এর আগে গত ১৪ মে তাকে তলব করেছিল দুদক। তবে সেই তলবের কোনো চিঠি পাচ্ছেন না বলে বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করছেন তিনি।




ঈদের ছুটির পর চালু ৯২ শতাংশ গার্মেন্টস কারখানা

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৫ জুন) পর্যন্ত সংস্থার আওতাধীন ২ হাজার ৮৮টি সক্রিয় গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৯৯৮টি চালু রয়েছে। অর্থাৎ ছুটি শেষে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসেছে।

বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলভিত্তিক এ পরিসংখ্যান বলছে, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ কারখানা চালু রয়েছে। এখানকার ৮৪৭টি কারখানার মধ্যে ৮১০টি খোলা রয়েছে। সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় চালু আছে ৩৬০টি কারখানা, যা মোট ৩৯৫টির মধ্যে ৯১ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জে খোলা আছে ২০০টি কারখানা, যা ৯৮ শতাংশেরও বেশি। ঢাকার ডিএমপি এলাকায় চালু আছে ২৯০টি কারখানা, যা ৯৫ শতাংশ।

তবে ব্যতিক্রম চট্টগ্রাম অঞ্চল। সেখানে বিজিএমইএ-এর আওতাধীন সবগুলো ৩৩৮টি কারখানাই আজ খোলা ছিল।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় বন্ধের হার প্রায় ৯ শতাংশ, ঢাকার ডিএমপি এলাকায় প্রায় ৫ শতাংশ এবং গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রায় ৪ শতাংশ কারখানা বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে কম বন্ধের হার নারায়ণগঞ্জে, যেখানে মাত্র ২ শতাংশ কারখানা বন্ধ রয়েছে। তবে যেসব কারখানা এখনো বন্ধ সেগুলোতে ঈদের ছুটি চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিজিএমইএ বলছে, ঈদের পর শ্রমিকরা দলে দলে কাজে ফিরছেন। অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন পুরোদমে শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরাও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ফলে খুব অল্প সময়েই অধিকাংশ ইউনিট কার্যক্রমে ফিরে এসেছে।

প্রসঙ্গত, এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গত ৩ জুন ৯ শতাংশ এবং ৪ জুন ৪১ শতাংশ গার্মেন্টসের শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। সবশেষ ৫ জুন বাকি ৫০ শতাংশ শ্রমিক ছুটিতে বাড়ি যান।




এবার ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এবারের ঈদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল।

তিনি বলেন, আপনারাও (সাংবাদিকরা) লিখেছেন এবার ঈদুল আজহা উদযাপনের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো ছিল। ঈদে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে বাড়ি ফিরেছে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করেছে। এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে সবাই নিরাপদে ফিরছে এবং যার যার কর্মস্থলে যোগদান করছেন।

রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যু নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। ইন্ডিয়ার হাইকমিশনার আমাদের অফিসে এসেছিলেন। তার সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। ভারতে যদি কোনো বাংলাদেশি থেকে থাকে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের পাঠালে গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের ডেট (তারিখ) তো ফিক্সড করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন যখনই ডেট ফিক্সড করবে বা যখনই নির্বাচন হোক, তার জন্য প্রস্তুত আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ মানবিক পুলিশ দেখতে চায়। তারা আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সক্রিয় রয়েছে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শনিবার উত্তরায় টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বিজিএমইএর নতুন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি–বিজিএমইএর ২০২৫-২৭ মেয়াদের জন্য মাহমুদ হাসান খান সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (১৪ জুন) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পদ বণ্টন নির্বাচনে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি ঘোষণা করে নির্বাচন বোর্ড। একইসঙ্গে কমিটির অন্যান্য পদের জন্যও আটজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন এবং প্রত্যেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

বিজিএমইএ নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন ও আশরাফ আহমেদ।

তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল না করায় বৈধভাবে জমা পড়া সব মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে অফিস বেয়ারার পদে মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করা হয়।

বিজিএমইএর নবনির্বাচিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন– প্রথম সহ সভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং সহ সভাপতি মো. রফিক চৌধুরী।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজিএমইএর প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন নবনির্বাচিত কমিটির সব সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিজিএমইএর নতুন নেতৃত্ব দেশীয় গার্মেন্টস খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ মে বিজিএমইএর ২০২৫-২৭ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে আজ পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আগামী ১৬ জুন উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনির্বাচিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে।




একসঙ্গে ছয় বিসিএস পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ছয়টি বিসিএস পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এতে চলমান ৪৪তম বিসিএস থেকে শুরু করে আসন্ন ৪৯তম বিসিএস পর্যন্ত প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৪৯তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে আগামী ১ নভেম্বর। আবেদন গ্রহণ চলবে ওই মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত। এ ছাড়া বিশেষ ৪৮তম বিসিএসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সময়সূচি অনুযায়ী, ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হবে আগামী ৩০ জুন। ৪৫তম বিসিএসের লিখিত ফল প্রকাশ হবে ১৯ জুন, আর চূড়ান্ত ফলাফল দেওয়া হবে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে ২৪ জুলাই, এবং ফল প্রকাশ হবে ১৮ ডিসেম্বর।

অন্যদিকে, ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া হবে ১৯ সেপ্টেম্বর, যার ফল প্রকাশ করা হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। এরপর লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে ২৭ নভেম্বর।

বিশেষ ৪৮তম বিসিএসে সময় ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ জুলাই, ফল ২১ জুলাই, আর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ হবে ২২ সেপ্টেম্বর— মাত্র দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পিএসসি জানিয়েছে, নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রিলিমিনারি নেওয়া হবে বিজ্ঞপ্তির কমপক্ষে দুই মাস পর এবং লিখিত পরীক্ষা হবে প্রিলিমিনারির ফল ঘোষণার দুই মাস পর। প্রার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে মৌখিক পরীক্ষাগুলো এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যাতে এক বিসিএসের সঙ্গে আরেকটির সময় মিলে না যায় এবং কমপক্ষে এক মাসের ব্যবধান থাকে।

কমিশন আরও জানায়, প্রকাশিত সময়সূচি প্রয়োজনে পরিবর্তন হতে পারে, তবে নির্ধারিত সময়মতো তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবে তারা। এছাড়া, সামনের ডিসেম্বর মাসে পরবর্তী বিসিএস পরীক্ষাগুলোর সময়সূচিও পর্যায়ক্রমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।