অনিবন্ধিত হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেছেন, লাইসেন্স ছাড়া হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিকগুলোকে নিজেদেরই বন্ধ করতে হবে। নয়তো কঠিন পদক্ষেপ নেবে মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বলেন, ‘মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবৈধ হাসপাতাল ক্লিনিকের বিপক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে আদালতের যে নির্দেশনা আছে তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সময় পাশে থাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবীর বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৮ হাজার ও ক্লিনিক ৯ হাজার। এর বাইরে যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক এখনও নিবন্ধিত হয়নি তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।




এসএমই পণ্য মেলা শুরু ২৯ ফেব্রুয়ারি

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের অন্যতম বড় সম্মেলন জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা। মেলার ১১তম আসর আগামী বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে।

এক নোটিশে এ তথ্য জানিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সপ্তাহব্যাপী এ মেলা চলবে ৬ মার্চ পর্যন্ত।

চলতি বছরের ৫ থেকে ১১ নভেম্বরে ১১তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনকে বিবেচনায় রেখে এ মেলার তারিখ পেছানো হয়।

এদিকে নোটিশে বলা হয়, মেলায় স্টলের জন্য নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের তালিকা এসএমই ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে জানিয়ে দেওয়া হবে। এবার স্টল ফি কেবলমাত্র পে-অর্ডারের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে।

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মাসুদুর রহমান বলেন, নভেম্বরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাপনী পরীক্ষা থাকায় উদ্যোক্তারা মেলার সময় পেছানোর অনুরোধ জানান। এরপর জাতীয় নির্বাচনের বাস্তবতা ও বাণিজ্যমেলার সময়ের কথা চিন্তা করে এসএমই মেলার সময় পিছিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষে করা হয়েছে।




চীনকে পেছনে ফেলে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষে

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে গেছে বাংলাদেশ। দাম ও পরিমাণ, উভয় ক্ষেত্রেই এখন ইইউতে শীর্ষ নিট পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ।

ইইউ’র পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাট সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করে। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) ইইউ’র পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন (বিজিএমইএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলো ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারের নিট পোশাক নিয়েছে। একই সময়ে চীন থেকে তারা ৮৯৬ কোটি ডলারের নিট পোশাক আমদানি করে। বছরের ৯ মাস বিবেচনায় এই প্রথমবারের মতো ইইউতে বাংলাদেশের নিট পোশাক রপ্তানি চীনকে ছাড়িয়ে গেল। একই সঙ্গে পরিমাণের দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ৯ মাসে ইইউ বাংলাদেশ থেকে ৫৭ কোটি ১০ লাখ কেজি নিট পোশাক আমদানি করেছে। একই সময়ে চীন থেকে তাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ কেজি।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সোমবার এক চিঠির মাধ্যমে সংগঠনটির সদস্য ও সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

চিঠিতে তিনি বলেন, গত বছর ইইউতে পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশ নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত বছর ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩৩ কোটি কেজি। একই সময়ে ইইউতে চীনের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩১ কোটি কেজি। ওই বছর ইইউতে বাংলাদেশ ৭৩০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল, যা ছিল চীনের চেয়ে কম। কিন্তু এ বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রথমবারের মতো নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে গেছে বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়।

বিজিএমইএ সভাপতি তার চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ আগামী বছরগুলোয় আরও কিছু তৈরি পোশাকপণ্যে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ কয়েকটি গন্তব্যের অন্যতম হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়লে সামগ্রিকভাবে তা রপ্তানির প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে, ইউরোস্ট্যাটের তথ্য মতে, নিট রপ্তানিতে বাংলাদেশ চীনকে টপকে ইইউতে শীর্ষ স্থান দখল করলেও সামগ্রিক পোশাক রপ্তানিতে চীন এখনো শীর্ষ স্থান দখলে রেখেছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ইইউতে চীনের সামগ্রিক তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল পোশাকের মূল্যের দিক থেকে ১৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি; অন্যদিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিল ১৪ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের তুলনায় চীন প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক বেশি রপ্তানি করেছে।

জানা গেছে, গত বছরেও বাংলাদেশ নিট পোশাকের পরিমাণের দিক থেকে চীনকে ছাড়িয়ে যায়। ২০২২ সালে ইইউতে পরিমাণের দিক থেকে মোট পোশাকের রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন কেজি।

অন্যদিকে চীন রপ্তানি করেছে ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন কেজি পোশাক। পরিমাণের দিক দিয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করার পরও মূল্যের দিক থেকে বাংলাদেশ চীনের চেয়ে ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কম রপ্তানি আয় করতে পেরেছে।

 




গ্রিন ফ্যাক্টরির তালিকায় যোগ হলো আরও ২ ফ্যাক্টরি

দিন যতই যাচ্ছে দেশে গ্রিন ফ্যাক্টরি বা পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা ততই বাড়ছে। এ তালিকায় সর্বশেষ যোগ হয়েছে আরও দুটি কোম্পানি। নতুন যোগ হওয়া কোম্পানিগুলো নিয়ে দেশে সবুজ কারাখনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৪টি।

শনিবার (২ ডিসেম্বর) তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যমতে, গ্রিন ফ্যাক্টরির তালিকায় যুক্ত হওয়া নতুন দুটি কোম্পানিই গাজীপুর অবস্থিত। এরমধ্যে গাজীপুর পূবাইলের ইন্টিগ্রা ড্রেসেস লিমিটেড। কোম্পানিটি ৯৯ পয়েন্ট পেয়ে প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। কোম্পানিটি বিশ্বের প্রথম ১০টি সবুজ কারখানার মধ্যে ৪ নম্বরে অবস্থান করছে। এছাড়া গাজীপুর শ্রীপুরের এস এম এক্সেসরিজ পেয়েছে সবুজ কারখানার সনদ। কোম্পানিটি গোল্ড সনদ অর্জন করেছে।

বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম একটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। তারা এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিজাইন-‘এলইইডি’ বা ‘লিড’ নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তৈরি পোশাক খাতের বিদেশি ক্রেতারা কোনো কারখানা থেকে পোশাকপণ্য কেনার সময় এলইইডির গ্রিন ফ্যাক্টরির সার্টিফিকেটকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে থাকে।

বিজিএমইএ’র তথ্যমতে, বাংলাদেশে সুবজ কারখানা বা গ্রিন ফ্যাক্টরির সংখ্যা ২০৪টি। এর মধ্যে প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে সনদ রয়েছে ৭৪টি। এছাড়া গোল্ড ক্যাটাগরিতে ১১৬টি, সিলভারে ১০টি। আর সার্টিফাইড চারটি। তাছাড়া এখনো গ্রিন ফ্যাক্টরি হতে রেজিস্ট্রেশন বা পাইপলাইনে রয়েছে অনেক কারখানা। মোট ১১০ এর মধ্যে যেসব কোম্পানি ৮০ বা তার চেয়ে বেশি নম্বর পায় তারা প্লাটিনাম সনদ লাভ করে। কোনো কারখানা ৬০ থেকে ৭৯ নম্বর পেলে গোল্ড সনদ পায়, ৫০ থেকে ৫৯ পেলে পায় সিলভার সনদ আর ৪০ থেকে ৪৯ পেলে পায় সার্টিফায়েড সনদ।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি- বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, গ্রিন ফ্যাক্টরিতে আমাদের দেশ এখনো শীর্ষে রয়েছে। নতুন সনদ পাওয়া দুটিসহ এ বছর গ্রিন ফ্যাক্টরির তালিকায় যুক্ত হয়েছে ২৩টি কোম্পানি। সব মিলিয়ে দেশে এখন গ্রিন ফ্যাক্টরির সংখ্যা ২০৪টি। নতুন প্লাটিনাম সনদ পাওয়া ইন্টিগ্রা ড্রেসেস লিমিটেড বিশ্বের প্রথম ১০টি কারখানার মধ্যে ৪ নম্বরে অবস্থান করছে।

তিনি জানান, আমাদের পোশাক কারখানাগুলো সবুজ বিপ্লায়নে ক্রমাগতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অর্ডার কমে যাওয়া ও বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও সবুজ কারখানায় বিনিয়োগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছি আমরা। এতে বহি:বিশ্বে আমাদের ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা করছে। গ্রিন ফ্যাক্টরি করতে স্বল্প সময়ে বিনিয়োগ বেশি লাগলেও দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যাবে।




বেনাপোলে ৪ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৩২৮ কোটি টাকা

ডলার সংকটে এলসি খোলায় নানান ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। ফলে কমেছে পণ্য আমদানি। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউজেও কমেছে আমদানি বাণিজ্য। এতে ধস নেমেছে রাজস্ব আদায়ে। গত চার মাসেই ৩২৮ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে এ বন্দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ ছাড়াও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং কাস্টম কর্তৃপক্ষের হয়রানি এ বন্দরে আমদানি কমার কারণ। তারা আরও বলেন, কয়েক বছর ধরেই এ অবস্থা চললেও কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়নি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাস্টম কর্তৃপক্ষ বর্তমানে অতীতের তুলনায় কড়াকড়ি করছে অনেক বেশি। নিত্যনতুন হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া কর্তৃপক্ষের মনমতো এইচএস কোড (পণ্য শনাক্তকরণ ও ট্যাক্স নির্ধারণ কোড) পরিবর্তনের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা অন্য বন্দরে ঝুঁকছেন। কতিপয় কর্মকর্তার অনিয়ম ও হয়রানির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সরকারের রাজস্ব আয় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। লোকসান গুনছেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে কাস্টম কর্তৃপক্ষ বলছে, শুল্ক ফাঁকি রোধে কড়াকড়ি আরোপ করায় রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধাগুলো বাড়াতে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ওয়্যারহাউজিং করপোরেশনের অধীনে বেনাপোল দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০২ সালে মর্যাদা পায় স্থলবন্দরের। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় মোটর পার্টস, ফেব্রিকস, আয়রন, স্টিল, মোটরগাড়ি, ফল আমদানিতে মুখর থাকতো বেনাপোল স্থলবন্দর। কিন্তু এখন এসব আমদানিকারকের আনাগোনা নেই এ বন্দরে। এতে কমেছে আমদানি, কমেছে রাজস্ব আয়ও।

আমদানিকারকরা অভিযোগ করেন, ডকুমেন্ট ঠিক মতো সাবমিট করছেন তারা। এরপরও এইচএস কোড ও আমদানি মূল্য নিয়ে প্রতিনিয়ত জটিলতা তৈরি করছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি মাছ ও ফলমূলের মতো উচ্চ পচনশীল পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। আগে আপেল আমদানিতে শুল্ক ছিল ৬১.৬৫ টাকা, যা চলতি অর্থবছর দাঁড়িয়েছে ৮৯.২২ টাকা। তাদের মতে, এসব কারণে আমদানি কমেছে।

চলতি অর্থবছর এ কাস্টম হাউজে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ছয় হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। প্রতি মাসে গড় লক্ষ্যমাত্রা ৫১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে (জুলাই-অক্টোবর) চার মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৭৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে এক হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম চারমাসে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩২৮ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮০ কোটি টাকা কম হয়।

এ নিয়ে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বলেন, ভারতের নাসিক থেকে আসা আপেলসহ অন্য উচ্চ পচনশীল পণ্যের চালান আসতে প্রায় তিনদিন লাগে। ফলে অধিকাংশ কার্টনেই ২-৫ কেজি ফল পচে যায়। কিন্তু কাস্টম কর্তৃপক্ষকে এ পচামালেরও রাজস্ব দিতে হয়, যা আগে ছিল না। এ ধরনের পচনশীল পণ্যের রাজস্ব আদায় করায় অধিকাংশ আমদানিকারক বেনাপোল বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ও বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান বলেন, রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বড় ধসের কারণ হলো কাস্টম হাউজে অতিরিক্ত হয়রানি। কাস্টম হাউজে ডকুমেন্ট সাবমিট করার পর নিচের অফিসারদের অতিরিক্ত হয়রানির কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘোষণা ঠিক থাকলেও পণ্যের এইচএস কোড, ভ্যালু ও টেস্ট করা নিয়ে জটিলতায় পড়তে হয়। মনে হয় আমদানিকারকরা আমদানি করে যেন দায়ে পড়েছেন। বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতির এটাই মূল কারণ।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, রাজস্ব আদায়ে মূলত ঘাটতি হয়েছে উচ্চশুল্কের পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায়। বিশেষ করে মোটরগাড়ি ও মোটর পার্টস থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। আপেল আমদানিতে ২৪ কোটি ও ফেব্রিকস আমদানিতে ২১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। মোট ৩২৮ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে। ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধা বাড়াতে কাস্টম কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।




স্মারক স্বর্ণ মুদ্রার দাম আরও বাড়লো

২২ ক্যারেট মানের ১০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম ৫ হাজার টাকা বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে প্রতিটি মুদ্রা কিনতে হবে ৯৫ হাজার টাকায়, এত দিন যা ৯০ হাজার টাকা ছিল।

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে দর বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২২ নভেম্বর) থেকে নতুন দামে স্বর্ণমুদ্রা বিক্রি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০০০’, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ১৯২০-২০২০’ এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ১৯৭১-২০২১’ শীর্ষক স্মারক স্বর্ণ মুদ্রার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

২২ ক্যারেট স্বর্ণ দ্বারা প্রস্তুত করা ১০ গ্রাম ওজনের ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০০০’, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ১৯২০-২০২০’ এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ১৯৭১-২০২১’ শীর্ষক স্মারক স্বর্ণ মুদ্রা (বাক্সসহ) প্রতিটির বিক্রয়মূল্য ৯৫ হাজার টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

গত ১৯ নভেম্বর থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৭৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৩৯৯ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ১৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা বাড়িয়ে ৭২ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




মরণোত্তর ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পুরস্কার’ পেলেন লুনা শামসুদ্দোহা

বাংলাদেশে ছবি এবং আঙুলের ছাপযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব লুনা শামসুদ্দোহা মরণোত্তর আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পুরস্কার ‘মেরিটোরিয়াস অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সা‌বেক চেয়ারম্যান ও দোহাটেক নিউ মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পার্লামেন্টারি স্টাডিজ (আইসিপিএস) এবং পর্তুগিজ জাতীয় নির্বাচন কমিশন গত ১৫ নভেম্বর লিসবনে ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে লুনা শামসুদ্দোহার একমাত্র কন্যা রীম শামসুদ্দোহার হাতে ‘মেরিটোরিয়াস অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৩’ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে পর্তুগিজ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রেসিডেন্ট সোরেতো ডি ব্যারোসসহ বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তা, ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসিম জাহিদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব লুনা শামসুদ্দোহা ২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। আইসিপিএস উল্লেখ করেছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় অমূল্য অবদান রাখার জন্য লুনাকে এবার নির্বাচনী পুরস্কার ‘মেরিটোরিয়াস অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হলো। নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তার অসাধারণ অবদান ভবিষ্যতের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পুরস্কার বৈশ্বিক নির্বাচনী ডোমেনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সংস্থাগুলোর জন্য প্রশংসনীয় সাফল্যের একটি উজ্জ্বল প্ল্যাটফরম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পার্লামেন্টারি স্টাডিজের (আইসিপিএস) প্রধান নির্বাহী ম্যাট গোখুলের নেতৃত্বে গঠিত বিচারক প্যানেল আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পুরস্কার ২০২৩ বাছাইয়ের কাজ করেছেন। বিচারক প্যানেলে আরও ছিলেন পর্তুগিজ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রেসিডেন্ট সোরেতো ডি ব্যারোস, ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসিম জাহিদী, মার্কিন নির্বাচন সহায়তা কমিশনের সদস্য টমাস হিকস, ইলেক্টোরাল সাইকোলজি অবজারভেটরির ডিরেক্টর মাইকেল ব্রুটার, মেক্সিকোর ফেডারেল জুডিশিয়ারির ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনালের সাবেক ডিরেক্টর আলবার্তো গুয়েভারা, ইলেক্টোরাল ইন্টিগ্রিটি প্রজেক্টের ডিরেক্টর টবি জেমস, দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচন কমিশনের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার জন হলিন্স, অন্টারিওর সাবেক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা সাই মামাবোলো, লিথুয়ানিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান লরা মাতজোসাইটে এবং সেন্টার ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস ডেভেলপমেন্ট, রিফর্মস অ্যান্ড ট্রেনিং অব জর্জিয়ার ডিরেক্টর নাটিয়া জালিশভিলি।

লুনা শামসুদ্দোহার স্বামী ও দোহাটেক নিউ মিডিয়ার প্রেসিডেন্ট এ কে এম শামসুদ্দোহা বলেন, মরণোত্তর আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পুরস্কার অর্জন অত্যন্ত গর্বের। কেননা, বৈশ্বিক নির্বাচনী ডোমেনে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জায়গা। তিনি এই পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য দোহাটেক নিউ মিডিয়ার সব প্রকৌশলী এবং কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা স্মরণ করেন।

উল্লেখ্য, লুনা শামসুদ্দোহা বাংলাদেশে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের জন্য ছবি এবং আঙুলের ছাপযুক্ত ভোটার নিবন্ধনে ব্যবহৃত সফটওয়্যার উদ্ভাবনে যুক্ত ছিলেন। লুনার প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দোহাটেক নিউ মিডিয়া এই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে পার্টনার ছিল। মাল্টি-বায়োমেট্রিকসহ এই ভোটার নিবন্ধন সফটওয়্যার বিশ্বে প্রথম এবং বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার হচ্ছে।




সাত দিনে রিজার্ভ কমল ১১৮ কোটি ডলার

প্রায় দেড় বছর ধরে ডলার সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। দিনে দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় বাজারে প্রতিদিনই ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমছে।

এ মাসের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার। ব্যাংকগুলো বেশি দামে রেমিট্যান্স কেনায় মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর পেমেন্ট দেওয়ার পরও রিজার্ভ বেড়ে ২ হাজার ৭৮ কোটি ডলারে উঠেছিল। কিন্তু ডলার বিক্রি অব্যাহত থাকায় রিজার্ভ আবারও কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১১৮ কোটি ডলার কমে রিজার্ভ এখন দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৬০ কোটি ৩৭ লাখ ডলারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে রিজার্ভের এ চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫২৬ কোটি (২৫ দশমিক ২৬ বিলিয়ন) ডলার। তবে আইএমএফের শর্ত ও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিপিএম-৬ ম্যাথডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের সঙ্গে ৫.৬৬ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী গ্রস রিজার্ভ এক হাজার ৯৬০ কোটি ৩৭ লাখ ডলার বা ১৯ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরুতে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমকি ৭৩ বিলিয়ন ডলার আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। মাত্র ৫ মাসে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ কমে গেছে।

বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী, রিজার্ভ গণনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন তহবিলের পাশাপাশি বিমানকে দেওয়া ঋণ গ্যারান্টি, পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ঋণ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকে আমানত এবং নির্দিষ্ট গ্রেডের নিচে থাকা সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে এগুলোকেও রিজার্ভ হিসেবে দেখিয়ে আসছিল। এসব হিসাব বাদ দেওয়ার কারণে রিজার্ভ থেকে ৫ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার কমে যায়।

তবে বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেওয়া হয়। প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৬ বিলিয়ন ডলারের নেমে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এখন যে পরিমাণ প্রকৃত রিজার্ভ আছে, তা দিয়ে শুধু তিন মাসের আমদানি খরচ মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন শেষ প্রান্তে রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংকটের কারণে রিজার্ভ থেকে বাজারে প্রচুর ডলার বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া এ মাসে আকুর বিলও পরিশোধ হয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ কম এসব কারণেই মূলত রিজার্ভ কমছে।

কীভাবে তৈরি হয় রিজার্ভ

রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ থেকে যে ডলার পাওয়া যায় তা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তৈরি হয়। আবার আমদানি ব্যয়, ঋণের সুদ বা কিস্তি পরিশোধ, বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা, পর্যটক বা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসহ বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় হয়, তার মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা চলে যায়। এভাবে আয় ও ব্যয়ের পর যে ডলার থেকে যায় সেটাই রিজার্ভে যোগ হয়। আর বেশি খরচ হলে রিজার্ভ কমে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি থাকায় আমদানি ব্যয় কমেনি। এছাড়া করোনার পর বৈশ্বিক বাণিজ্য আগের অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত বছরের মার্চ থেকে দেশে ডলার-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে; যা এখনো অব্যাহত আছে। এ সংকট দিন দিন বাড়ছে। বাজারে ‘স্থিতিশীলতা’ আনতে রিজার্ভ থেকে নিয়মিত ডলার বিক্রি করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫২০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে কমছে অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এ সূচকটি ধারাবাহিকতা কমছে।

দেশের বিভিন্ন খাতে শর্ত পূরণের লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে দিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে। এই ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার গত ফেব্রুয়ারিতে পায় বাংলাদেশ। এই শর্তের মধ্যে অন্যতম ছিল জুনে প্রকৃত রিজার্ভ ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে তা ২ হাজার ৫৩০ ডলার এবং ডিসেম্বরে ২ হাজার ৬৮০ ডলারে রাখার কথা ছিল। কিন্তু পরে এসব শর্ত শিথিল করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর থেকে রিজার্ভ কমে এ পর্যায়ে নেমেছে। এর আগে ধারাবাহিকভাবে যা বাড়ছিল। ১০ বছর আগে ২০১৩ সালের জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। পাঁচ বছর আগে ছিল ৩৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে বেড়ে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছায়। ওই বছরের ৮ অক্টোবর ৪০ বিলিয়ন ডলারের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করে। এরপর তা বেড়ে ক‌রোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ রেকর্ড গড়ে ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট। ওইদিন রিজার্ভ ৪৮ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার বা চার হাজার ৮০৪ কোটি ডলারে উঠে। এরপর ডলার সংকটে গত বছর থেকে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমছে।




আজীবন সম্মাননার অনুভূতি জানিয়ে যা বললেন চিত্রনায়িকা রোজিনা

দেশীয় চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার হচ্ছে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। আজ (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২২’ বিজয়ীদের হাতে তুলেন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এতে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন চিত্রনায়িকা রওশন আরা রোজিনা। দেশীয় চলচ্চিত্রে অবদান রাখার জন্য তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।

রোজিনা এ সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘এমন সম্মান পেয়ে আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে প্রথমেই শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তার জন্ম না হলে আমরা এই দেশ পেতাম না। তিনি দেশ স্বাধীন করেছেন বলেই আমি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের রেনু থেকে আপনাদের প্রিয় রোজিনা হয়েছি। এমন সম্মাননা পেয়ে আমি এই পর্যন্ত আসায় যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে স্মরণ করছি। তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে তাদের সবার প্রতি এ সম্মাননা উৎসর্গ করছি।

রোজিনা আরও বলেন, ‘আমাকে এই সম্মাননায় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্যসচিব মো. হুমায়ুন কবির খন্দকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

 

এবার ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সুচিন্ত্য চৌধুরী (চঞ্চল চৌধুরী) শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছে ‘বিউটি সার্কাস’র জন্য জয়া আহসান ও ‘শিমু’র জন্য রিকিতা নন্দিনী শিমু।

যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে মুহাম্মদ আব্দুর কাইউম প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’ ও মো. তামজিদ উল আলম প্রযোজিত ‘পরাণ’।




যে শর্তে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন মেসি!

আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পর থেকেই একটি প্রশ্ন বারবারই আলোচনার জায়গা করে নিচ্ছে। আর তা হলো— পরবর্তী ২০২৬ বিশ্বকাপে দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি খেলবেন কি না! এ প্রশ্ন যেমন এই মহাতারকা সামনে করা হয়েছিল, তেমনি আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি থেকে শুরু করে তার সতীর্থদের এখনও সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে। মেসি পরবর্তী আসরে খেলবেন কি না সেটি তার ফিটনেস ও ফর্মের ওপর নির্ভর করছে। তবে একটি শর্ত পূরণ হলে নাকি তার খেলার বিষয়টা অনেকটাই নিশ্চিত!

মেসিরা বর্তমানে পরবর্তী বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে এখনও শীর্ষে আছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। যেখানে মাঠের পারফরম্যান্সে তাদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মেসি। অনেকের মতে আগামী কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট দিয়ে হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে তিনি বিদায় জানাবেন। তবে ভক্তরা মনের কোণে লুকিয়ে রেখেছে পরবর্তী বিশ্বকাপেও এলএমটেনকে খেলতে দেখার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা।

কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর এখন পর্যন্ত অপরাজিত আছেন স্কালোনির শিষ্যরা। বাছাইয়ের চার ম্যাচে তার সবকটিতেই জিতেছেন। ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যে আসন্ন দুটি ম্যাচে মাঠে নামবে। আগামী ২২ নভেম্বর ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিকে ঘিরে আরও আগেই উন্মাদনা শুরু হয়ে গেছে। এর আগে আরেক সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে ১৭ নভেম্বর খেলবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ দুটির জন্য আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা এখন ক্যাম্প করছেন। সেখানেই মূলত আলবিসেলেস্তে লেফট ব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকোর সামনে মেসির বিশ্বকাপ খেলার প্রসঙ্গ তোলে সংবাদমাধ্যম ‘লা ন্যাসিওন’।

তাদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তালিয়াফিকো জানান, ‘তুমি কী জানো তাকে (মেসি) কোন জিনিসটা জাতীয় দলের খেলায় ধরে রাখবে? সেটি হচ্ছে— আগামী বছরের কোপা আমেরিকায় জয়। যদি আমরা সেখানে শিরোপা জিততে পারি, আমার মনে হয় মেসিকে এটি বিশ্বকাপ খেলার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যদি আমরা কাতারে বিশ্বকাপ না জিততাম তাহলে সে আর খেলতো না। কিন্তু সে এটি জয় করে নিয়েছে এবং পরবর্তী মুহূর্তগুলোও দারুণ উপভোগ করছে।’

বিশ্বকাপের আগে-পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছিলেন, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন না। অনেকে মনে করেন, আগামী বছরের কোপা আমেরিকা খেলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। তবে আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনির বিশ্বাস– মেসি আগামী বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন। এমনকি মেসির জন্য নাম্বার টেন জার্সি তুলে রাখবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ নিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা তালিয়াফিকো আরও বলেন, ‘আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কোপা জিতি, মেসি খেলা চালিয়ে যেতে চাইবে। আমরাও তাকে যতটা সম্ভব আমাদের সঙ্গে পেতে চাই। বিশ্বকাপের পর থেকে দলে যে দারুণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং উপভোগের এই অভিজ্ঞতা আরও দীর্ঘায়িত করতে চাই। ক্যাপ্টেন মেসি আমাদের দলের প্রধান প্রতীক। শেষ ম্যাচেও সে তার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে, অল্প সময় খেলেও তার উপস্থিতির জানান দিয়েছিল ভালোভাবেই। আমরাও এই সুবিধাটা যতটা সম্ভব নিতে চাই। পাশাপাশি যখনই প্রয়োজন বিশ্রামে দেওয়া হবে তাকে। সবসময় একই বিষয় নিয়ে মেসির কাছ থেকে কথা শুনতে চাওয়া হাস্যকর, কিন্তু তার মানবিক যোগ্যতা অসাধারণ। সে আমাদের সঙ্গে জাতীয় দলে থাকা উপভোগ করে।’

সাম্প্রতিক সময়ে যখনই মাঠে নেমেছেন, প্রায়শ জ্বলে উঠতে দেখা গেছে মেসিকে। তবে টানা খেলার ধকল ও লম্বা জার্নির কারণে ক্লান্ত মেসিকে মাঝে কিছুদিন চোট ও বিশ্রাম মিলিয়ে মাঠের বাইরে থাকতে দেখা যায়। আর্জেন্টাইন মহাতারকার বয়স ইতোমধ্যে ৩৬ বছর হয়ে গেছে। বিশ্বকাপ জিতে সোনালি ক্যারিয়ারের সকল অপ্রাপ্তিও ঘুচিয়েছেন তিনি। এরপর মেসি নিজেও বলেছেন, ক্যারিয়ারে তার আর কিছু চাওয়ার বা পাওয়ার নেই।




সাইফকে কেন বিয়ে করেছিলেন কারিনা, জানা গেল আসল সত‍্য

২০১২ সালে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন বলিউডের অন‍্যতম সেরা জুটি সাইফ আলি খান এবং কারিনা কাপুর খান। যদিও তার আগে পাঁচ বছর লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন দু’জনে। কারিনার কথায় সেই সম্পর্কে বেশ ভালোই ছিলেন তারা। তবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন কেন তারা? সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বিয়ে নিয়ে গোপন কথা ফাঁস করেছেন বেবো।

ভারতীয় একটি সংবাদমাধ‍্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্‍কারে কারিনা জানিয়েছেন সাইফ এবং তার বিয়ে করার কারণ ছিল সন্তান। তারা দু’জনে সন্তান নিতে চেয়েছিলেন। তাই মূলত সেই কারণেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া।

কারিনার কথায়, সাইফ আর আমি পাঁচ বছর একসঙ্গে ছিলাম। আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কারণ আমরা সন্তান চেয়েছিলাম।

২০১৬ সালে সাইফ এবং কারিনার প্রথম সন্তান তৈমুরের জন্ম হয়।

সাক্ষাত্‍কারে বেবো এও জানান তিনি এবং তার স্বামী সাইফ কীভাবে তাদের সন্তানদের বড় করে তুলছেন। কারিনা বলেন, তিনি তাঁর সন্তানদের যথেষ্ট সম্মান করেন। তাদের কথারও সমান গুরুত্ব দেন। তৈমুর এবং জেহর ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেন না বেবো।




চট্টগ্রাম বন্দরে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ

বন্ধুত্বপূর্ণ সফরে বাংলাদেশে এসেছে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের তিনটি জাহাজ। গত ৫০ বছরে এই প্রথম কোনো রুশ যুদ্ধজাহাজ বাংলাদেশের বন্দরে এলো।

প্যাসিফিক ফ্লিট নামে এই নৌবহরে অ্যাডমিরাল ট্রাইবাটস ও অ্যাডমিরাল প্যান্টেলেভ নামে দুটি সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। পেচেঙ্গা নামে একটি ট্যাঙ্কারও আছে এই বহরে।

ঢাকায় অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, রাশিয়ান প্যাসিফিক ফ্লিট স্কোয়াড্রন চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করছে, যা রাশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। ৫০ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) নৌবাহিনীর জাহাজ শেষবার বাংলাদেশের বন্দর পরিদর্শন করেছিল।

রাশিয়ান দূতাবাস আরও জানায়, ৫ দশক আগে রুশ নৌবহর এসেছিল মূলত সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি দেশকে মানবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বন্দরে অনেক মাইন বসানো হয়েছিল। এ কারণে অনেক জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। সে সময় এই মাইন সমস্যা সমাধানে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার অনেক দেশের কাছেই আবেদন জানিয়েছিল। কিছু দেশ সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছিল। কিন্তু বিনিময়ে অনেক অর্থ দাবি করেছিল তারা; যা বাংলাদেশের ছিল না। তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) একমাত্র দেশ হিসেবে মানবিক কারণে সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছিল। এরপর সমস্যা সমাধানে মাইন ক্লিয়ারিং অপারেশন নামে একটি অভিযান চালানো হয়। সোভিয়েত নৌবাহিনীর ৮ শতাধিক নাবিক ২৬ মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চট্টগ্রাম বন্দরের মাইন অপসারণ করে; যা ১৯৭২ সালের এপ্রিলে শুরু হয়ে ১৯৭৪ সালের জুন পর্যন্ত চলে। সেই অভিযানে এক রুশ নৌডুবুরি মারা যান। তবে শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত নৌসেনারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করে এবং চট্টগ্রাম বন্দরে সারা বিশ্ব থেকে জাহাজ আসা-যাওয়ার পথ সুগম হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের মার্চে আসা সোভিয়েত নৌবাহিনীর প্রতিনিধি দলটি ভাইস অ্যাডমিরাল সের্গেই জুয়েঙ্কোর নেতৃত্বে ১ হাজার নাবিকের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স মাইন অপসারণের কাজ শুরু করে। ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিল দেশটির ২৪টি জাহাজ।




৫০ বছর পর বাংলাদেশ পরিদর্শন করল রাশিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ

রাশিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ প্যাসিফিক ফ্লিট স্কোয়াড্রন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছে। ৫০ বছর পর রাশিয়ার নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ বাংলাদেশ পরিদর্শন করল।

রোববার (১২ নভেম্বর) ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাস তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এ তথ্য জানায়। তবে কবে জাহাজটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা উল্লেখ করা হয়নি।

চট্টগ্রাম বন্ধরে ফ্যাসিফিক ফ্লিট স্কোয়াড্রনের তিনটি ছবি পোস্ট করে দূতাবাস জানায়, রাশিয়ান প্যাসিফিক ফ্লিট স্কোয়াড্রন চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করছে। যা রাশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। ৫০ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) নৌবাহিনীর জাহাজ শেষবার বাংলাদেশের বন্দর পরিদর্শন করেছিল।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭২ সালের ২১শে মার্চ সোভিয়েত নৌবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। ভাইস অ্যাডমিরাল সের্গেই যুয়েঙ্কোর নেতৃত্বে এক হাজার নাবিকের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স মাইন অপসারণের কাজ শুরু করে। ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিল দেশটির ২৪টি জাহাজ। তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনী বঙ্গোপসাগর থেকে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছিল এপ্রিল মাসে। যদিও জুলাই মাসের মধ্যে জাহাজ চলাচলের একটি প্রণালি বের করে ফেলেছিল টাস্কফোর্স, কিন্তু মাইন এবং ডুবে থাকা জাহাজ অপসারণ করে পুরো কাজ শেষ করতে বিশেষ টাস্কফোর্সের সময় লেগেছিল ১৯৭৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত।




দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে গভীর সমুদ্রবন্দর: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই গভীর সমুদ্রবন্দর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে। এই বন্দর দেশের অর্থনীতিতে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে। গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বড় জাহাজ সরাসরি বিদেশি সমুদ্রবন্দরে যেতে পারবে এবং পণ্য লোড-অফলোড করা আরও সহজ ও সস্তা হবে এবং সময় সাশ্রয় হবে।

শনিবার (১১ নভেম্বর) বিকালে কক্সবাজারের মাতারবাড়ির ১৪.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ কৃত্রিম নৌ চলাচল চ্যানেলের গভীর সমুদ্রবন্দর উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই অনুষ্ঠানে গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, নেপাল, ভুটান ও ভারতও এই বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। এতে আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে গভীর সমুদ্রবন্দরকে আরও কার্যকর করতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার সমুদ্র সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ব্লু ইকোনমি নীতি গ্রহণ করেছি এবং আমরা নীতিটিকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে সমুদ্র আইন প্রণয়ন করেন এবং জাতিসংঘ প্রণয়ন করে ১৯৮২ সালে। সরকার সেই আইনের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে বিশাল সামুদ্রিক এলাকা সফলভাবে অর্জন করেছে।

আওয়ামী লীগ ছাড়া আগের কোনও সরকার এ বিষয়ে কিছুই করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সহযোগিতার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়নকাঠামো ও সেখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করা হবে। এলাকাটি জাতীয় বাণিজ্য ও ব্যবসা বাড়াতে সাহায্য করবে। সরকার গভীর সমুদ্রবন্দর পরিচালনার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠন করবে।

একসময় এলাকাটিকে শুধু লবণ আহরণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল কিন্তু এখন এলাকাটির উন্নয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে উন্নয়নের মডেল হিসেবে বিবেচিত এবং এর নাগরিকরা এখন সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, সেই গতি বজায় রেখে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা নারী ও শিশুদের ওপর অমানবিক নিপীড়নের অবসানের পাশাপাশি জনগণের শান্তিতে বসবাস নিশ্চিত করতে বিশ্ব নেতাদের কাছে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। সংঘাতে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা চাই বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যরাও একই কাজ করবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (সিপিএ) রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মাদ সোহাইলের স্বাগত বক্তৃতা করেন।

উল্লেখ্য, ৪৬০ মিটার দীর্ঘ কন্টেইনার জেটি, ৩০০ মিটার দীর্ঘ বহুমুখী জেটি নির্মাণসহ ১৮ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফ্ট (জাহাজের পানির নিচের অংশ) এবং কন্টেইনার ইয়ার্ডসহ বন্দরের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে শনিবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে।

এই উন্নয়নকাজ শেষ হলে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কন্টেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি জেটিতে প্রবেশ করতে সক্ষম করবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিপিজিসিবিএল ইতোমধ্যে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশ হিসাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য দুটি জেটি নির্মাণ করেছে এবং এই চ্যানেলের মাধ্যমে ১২০টি জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

প্রায় ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ দেশের প্রথম এবং একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদকাল ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ারড পাওয়ার প্রজেক্টের অধীনে তৈরি হওয়ার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর চ্যানেলটির দায়িত্ব সিপিএকে হস্তান্তর করে।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার এখান থেকে যোগ হবে এবং সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমবে। বন্দরটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি ভিত্তিপ্রস্তর হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করবে।

বন্দরটি বঙ্গোপসাগরের তীরে ১ হাজার ৩১ একর জায়গার ওপর নির্মিত হচ্ছে, যাতে ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার কন্টেইনার বহনকারী জাহাজ নোঙর করতে পারবে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় একটি পণ্য শিপমেন্ট পাঠাতে ৪৫ দিন সময় লাগে, বন্দরটি চালুর পরে গন্তব্যে পৌঁছাতে মাত্র ২৩ দিন লাগবে।

দেশের প্রথম ও একমাত্র গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনের জন্য ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রবন্দর নির্মাণে ব্যয় হবে ৮ হাজার ৯৫৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এর আগে শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বহুল প্রতীক্ষিত ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রামের দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন উদ্বোধন করেছেন, যা রেল যোগাযোগের একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে, যা দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য, পর্যটন, শিল্প ব্যবসা, ব্যবসা বৃদ্ধির সঙ্গে একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদানে নতুন আশার সূচনা করেছে।




মুগদা মেডিকেলের অবকাঠামো নির্মাণে ৫৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ

অবকাঠামো নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা বাড়াতে মুগদা মেডিকেল কলেজের জন্য ৫৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।

প্রকল্পটি চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৫টি আবাসিক ভবন (ছাত্র/ছাত্রী হোস্টেল, ডাক্তার ডরমিটরি, স্টুডিও এপার্টমেন্ট ও নার্সিং কলেজ কাম হোস্টেল); অনাবাসিক ভবন (৫টি) (একাডেমিক ভবন, মরচুয়ারি ও মর্গ, মসজিদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পাওয়ার সাপ্লাই); ১টি খেলার মাঠ; শিক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ; মেডিকেল যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ক্রয় এবং ১টি মোটরযান ক্রয়।

প্রকল্পটি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৫৮০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষ ও মানসম্মত চিকিৎসক ও নার্স তৈরিসহ ঢাকা নগরীর পূর্বাঞ্চল ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জনসাধারণের বিশেষায়িত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মুগদা মেডিকেল ও নার্সিং কলেজে মানসম্মত ও যুগোপযোগী মেডিকেল ও নার্সিং শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুবিধাদিসহ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।




ডেঙ্গুতে একদিনে ১৭ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এ সময়ের মধ্যে মশাবাহিত ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৭৩৪ জন।

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেঙ্গুতে ঢাকায় ৪ ও ঢাকার বাইরে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৬ হাজার ৩৬০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ৬৪৯ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪ হাজার ৭১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ২ হাজার ৫৯১ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৮ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৩০ জন। ঢাকায় ১ লাখ ৮৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৪৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।




সমুদ্রে গবেষণায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

গভীর সমুদ্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় অগ্রাধিকার দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত গভীর সমুদ্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র তলদেশ কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মূল বক্তব্য দেন কুক আইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক ব্রাউন। স্বাগত বক্তব্য দেন ড. মোমেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র তলদেশ কর্তৃপক্ষের সেক্রেটারি জেনারেল মাইকেল ডব্লিউ লজ এবং টোঙ্গার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেকিটামোলা উটোইকামানু।

গভীর সমুদ্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে জাতিসংঘ উন্নয়ন অভিষ্ট লক্ষ্যগুলো অর্জন আরও ত্বরান্বিত করতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার উদ্দেশ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মোমেন বলেন, গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য, এর সম্পদরাজি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা জাতিসংঘ উন্নয়ন অভিষ্ট লক্ষ্যগুলো অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য এবং এর সম্পদরাজির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের প্রয়োজনীয় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্র আমাদের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই গভীর সমুদ্রের টেকসই ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলো গভীর সমুদ্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত একটি ‘গ্লোবাল কল’-এ যোগদান করে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গভীর সমুদ্র বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা এবং অজানা তথ্য অবহিত করাসহ অন্যান্য বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।




কক্সবাজারের হোটেলে সায়ন্তিকার সঙ্গে চার ঘণ্টা কী করেছিলেন জায়েদ খান!

সম্প্রতি বাংলাদেশি সিনেমার শুটিং ছেড়ে কলকাতায় ফিরে গেছেন সেখানকার নায়িকা সায়ন্তিকা ব্যানার্জি। এরপর অভিযোগ ওঠে, ঢালিউডের নৃত্যপরিচালক মাইকেল বাবু নাকি গানের শুটিংয়ের সময়ে তাকে বাজেভাবে স্পর্শ করেন। সে কারণে শুটিং শেষ না করেই সায়ন্তিকা কলকাতায় চলে গেছেন।

বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় এবং নানা সমালোচনা হয়। তখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন টালিউড নায়িকা সায়ন্তিকা। তিনি জানান, কলকাতা যাওয়ার পেছনে মাইকেল নয়, প্রযোজক মনিরুল ইসলাম দায়ী। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই সিনেমার শুটিং শুরু করেছেন প্রযোজক। বারবার বলার পরও টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধান করতে পারেননি প্রযোজক।

সায়ন্তিকার এ মন্তব্য নিয়ে শুরু হয় ফের সমালোচনা। ফলে বিষয়টি নিয়ে সঙ্গে কথা বলেন প্রযোজক মনিরুল ইসলাম। রবিবার সংবাদমাধ্যমে তিনি সায়ন্তিকার অপেশাদার আচরণসহ অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘মাইকেলের নির্দেশনায় গানের শুটিংয়ের সময় ড্রেস পরিবর্তনের জন্য বেলা ২টায় হোটেলে যান নায়ক-নায়িকা। তারা ফিরে আসেন সন্ধ্যা ৬টায়। ড্রেস চেঞ্জ করার জন্য তাদের চার ঘণ্টা সময় লাগে—এমনটা দেখিনি কখনো।’

প্রযোজক আরও বলেন, ‘আবার যেদিন শুটিং প্যাকআপ করে পুরো ইউনিট নিয়ে চলে আসি, সেদিনও নায়ক-নায়িকা হোটেলে থেকে যান। ওই দিন সেখানে কী করছিলেন তারা? এ প্রশ্নের জবাব কী দেবেন তারা? কথাগুলো আমি সামনে আনতে চাইনি। কিন্তু এখন আর চুপ করে থাকতে পারলাম না।’

এ নিয়ে সংবাদপ্রকাশ হলে হইচই শুরু হয় নানা মহলে। এরপর হোটেলে নায়িকার সঙ্গে চার ঘণ্টা সময় কাটানো নিয়ে কথা বলেন নায়ক জায়েদ খান।

অভিনেতা বলেন, ‘সায়ন্তিকা যখন প্রথম পার্টের শুটিং শেষ করল তখন যাওয়ার আগে আমাকে ও পরিচালককে স্পষ্ট বলেছে, আমার ছেলেদের (ড্রেস, মেকআপ) টাকা দেয়ার কথা। তিন-চার দিন হলো তাদের টাকা দেয়া হচ্ছে না। প্রযোজক সামনে আসছে না। এই টাকা যদি রুমে না পাঠায় তাহলে আমি কিন্তু শুটিংয়ে আসব না। এটা বলে সায়ন্তিকা সবার সামনে থেকে চলে গেছে।’

জায়েদ খান আরও বলেন, ‘পরিচালক-প্রযোজক এই টাকা দিতেছি দিতেছি বলে দেরি করেছে। টাকা যখন হাতে পেয়েছে, সেটিও বাংলা টাকা, টাকা হিসাব করে বুঝিয়ে দেয়ার পর শুটিং এসেছে সায়ন্তিকা। ফলে দেরি হয়েছে। এছাড়া কিছুই না। টাকা হাতে পেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে, তাই দেরি হয়েছে।’

‘ছায়াবাজ’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার একসঙ্গে জুটি বেঁধেছেন জায়েদ খান ও সায়ন্তিকা। এটি নির্মাণ করছেন তাজু কামরুল। সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে গত ৩১ আগস্ট ঢাকায় আসেন কলকাতার নায়িকা সায়ন্তিকা। একটানা ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুটিংয়ের কথা থাকলেও বেশ কিছু সিকোয়েন্স ও একটি গানের শুটিংয়ের পর মাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে গত ৭ সেপ্টেম্বর চলে যান সায়ন্তিকা।




দুই কোম্পানির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুইটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১০ জুলাই) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানি দুইটি হলো-পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড।

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স: কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভা আগামী ১৭ জুলাই, বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কোম্পানির ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ সদস্যরা এই প্রতিবেদন অনুমোদন শেষে সবার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা দিতে পারে। আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

ট্রাস্ট ব্যাংক: কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভা আগামী আগামী ১৫ জুলাই, দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ সদস্যরা এই প্রতিবেদন অনুমোদন শেষে সবার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হবে।




কাস্টমস আইনের পরিবর্তন চায় বিজিএপিএমইএ

কাস্টমস আইনের সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের পরিবর্তন চেয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস্ এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)। বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানিকরা পণ্যের হারমোনাইজড কমডিটি ডেসক্রিপশন অ্যান্ড কোডিং সিস্টেমস এইচএসকোডের বর্ণনায় ভূলজনিত কারণে দণ্ড আরোপ ও আপিল দায়ের সংক্রান্তে এ কাস্টমস আইনের পরিবর্বতন চাওয়া হয়।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটির মোস্তফা সেলিম জানান, অনিচ্ছাকৃত বা সামান্য ভুলের কারণে আমদানিকরাককে পুরো চালানের ওপর জরিমানা দিতে হয়। এর ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বন্ডেড প্রতিষ্ঠান বন্ড লাইসেন্স এবং আমদানি প্রাপ্যতায় বর্ণিত কাঁচামাল বিনা শুল্কে আমদানি করে ইউপি গ্রহণপূর্বক তা ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করে। আমদানিকৃত কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিশ্চিৎ করা হয়। আমদানি করা কাঁচামালের বর্ণনায় ও এইচএসকোডে কোনো ভুল হলেও সেটি প্রকৃত প্রস্তাবে যে পণ্য উৎপাদনের জন্য আমদানি করা হয় সেটির উৎপাদনেই ব্যবহার করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত কাঁচামালের ক্ষেত্রেও পণ্যের বর্ণনায় ও এইচএসকোডের গরমিলের কারণে দি কাস্টমস্ এ্যাক্ট ১৯৬৯ এর ধারা ১৫৬ (১) এর ১৪ নম্বর ক্রমিকের ২ নম্বর কলামের (দি কাস্টমস্ অ্যাক্টের ধারা ৩২) অধীনে আমদানিকরা কাঁচামালের মূল্যের সর্বনিম্ন দ্বিগুণ ও সর্বোচ্চ চারগুণ দণ্ড আরোপ করে থাকে। এমনকি কোনো চালানে ৫ প্রকার কাঁচামালের আমদানি করা হলে তার মধ্যে যে কোনো একটির ক্ষেত্রে বর্ণনায় এইচএসকোডের গরমিল হলে সম্পূর্ণ চালানের মূল্যের ওপর জরিমানার পরিমাণ ধার্য্য করা হয়।

এতে বলা হয়, কাস্টমস আইনের বর্ণিত ধারা অনুযায়ী দণ্ডারোপ বিশেষ করে ছোটখাটো বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ড বাণিজ্য সহায়ক না হতে পারে এরূপ বিবেচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০২০ সালে একটি পত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রদান করে যে, ভুলটি অবৈধ অভিপ্রায় না অসাবধানতাবশত: সেটি বিচারিক প্রজ্ঞায় বিবেচনা করবেন ন্যায় নির্ণয়কারী কর্মকর্তা। ফলে দেখা যাচ্ছে উক্তরূপ দণ্ড আরোপ সম্পূর্ণভাবে ন্যায় নির্ণয়কারীর ওপর বর্তিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পূর্বে দত্ত আরোপের সুনির্দিষ্টতা ছিল এবং ন্যায় নির্ণায়কের বিবেচনার ওপর সিদ্ধান্ত ছিল না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়রানি হওয়ার সুযোগ কম ছিল। দি কাস্টমস্ অ্যাক্টের আওতায় আরোপিত কোনো দণ্ড/শুদ্ধ সম্পর্কিত কোনো আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৩ বা ১৯৬ (এ) ধারা মোতাবেক আরোপিত জরিমানা বা দণ্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশ জমা দান করে আপিল দায়ের করতে হয়। জরিমানা বা দণ্ডেরর পরিমাণ আপিল আদালত নির্ধারণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রেও বিষয়টি আপিল আদালতের বিচারকের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। দণ্ড বা জরিমানার অর্থ জমাদানপূর্বক আপিল দায়ের ন্যায়নীতির পরিপন্থি যা বাংলাদেশ সংবিধানও সমর্থন করে না।

আপিল দায়ের হওয়ার অর্থই হলো বিষয়টি বিচারধীন। চূড়ান্ত বিচারে দণ্ড বা জরিমানা বহাল না হওয়া পর্যন্ত দোষী হিসেবে গণ্য করে দণ্ড বা জরিমানার অর্থ জমা দান করে আপিল দায়ের করার বিধান বাতিল করা ন্যায় বিচারের জন্য একান্তভাবে আবশ্যক।

এ অবস্থায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে দি কাস্টমস্ অ্যাক্ট ১৯৬৯ এর ১৫৬ (১) উপানুচ্ছেদ এবং ১৯৬ (এ) উপানুচ্ছেদে ওপরের বর্ণনার আলোকে সংশোধন বা পরিবর্তন আনয়নের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।




প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের বীমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুলাই। বৃহস্পতিবার কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কোনো সীমা থাকছে না।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২.৩৮ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ২.০১ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯.৫১ টাকা।

এর আগের হিসাব বছরে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।




বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং গ্রিসের হেলেনিক ক্যাপিটাল মার্কেট কমিশনের (এইচসিএমসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এ এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় গ্রিসের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরা হয়।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিএসইসি ও গ্রিসের এইচসিএমসি মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। বিএসইসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) ও আইওএসকো-এপিআরসির ভাইস চেয়ার অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং এইচসিএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. ভাসিলিকি লাজারাকাউ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। ২০২২ সালের ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিএসইসির চেয়ারম্যান গ্রিস সফরকালে উক্ত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া প্রস্তুত করে উভয় কর্তৃপক্ষ এমওইউ স্বাক্ষরে সম্মত হয়। পরবর্তীতে উভয় দেশের সরকারের অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইওএসকোর বার্ষিক সভা চলাকালে উক্ত এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ বাজার তত্ত্বাবধান সংক্রান্ত পারস্পরিক সহায়তা ও তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়, যেখানে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গ্রিসের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার দিকগুলোও আলোচনা করেন।

এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের (আইওএসকো) এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটির (এপিআরসি) সভা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জুন) সকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

আইওএসসিওর উদ্যোগে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন থাইল্যান্ডের আয়োজনে ব্যাংককে ১৩ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত আইওএসসিও’র বার্ষিক সভা হবে। এ সভার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল কমিটির (এপিআরসি) একটি সভা হয়েছে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

শুরুতে আইওএসসিও’র ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল তাজিনদার সিং বোর্ড সভার আলোচনার ওপর আলোকপাত করেন। এরপর আইওএসসিও’র বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বেলজিয়ামের ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যান্ড মার্কেটিং অথরিটির চেয়ারম্যান জিয়ান পার্ল সার্ভাইস সভায় উপস্থিত এপিআরসি’র সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তার মতামত তুলে ধরেন।

এবারের এপিআরসি সভায় সিঙ্গাপুর, চীন, হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, চাইনিজ তাইপে, মালদ্বীপ, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাসহ তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম আইওএসকোর বার্ষিক সভায় যোগ দিতে বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন৷




সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ জুন) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ জুলাই। বুধবার কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কোনো সীমা থাকছে না।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২.৩০ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ২.০৫ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১.৯৩ টাকা।

এর আগের হিসাব বছরে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।




আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের বন্ডে আবেদনের সময় বাড়ল

আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে বন্ড ইন্স্যু করে ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য আরও ছয় মাস সময় দিয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির বন্ড ইস্যুর জন্য আবেদনের সময় আগামী ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের বন্ডে আবেদনের মেয়াদ ছিল গত ২৫ মে পর্যন্ত। কোম্পানিটি সেই সময়ের আগেই আরও ৬ মাস সময়ে চেয়ে আবেদন করে। কোম্পানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৬ মাস সময় বাড়িয়ে দিয়েছে বিএসইসি।

বন্ডটির বৈশিষ্ট হচ্ছে- কনভার্টেবল, ফেসভ্যালু ১ লাখ টাকা, সুদহার ৭ শতাংশ। এছাড়া বন্ডটি ১০ শতাংশ হারে নগদ ও বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে।

বন্ডটির ইন্টারেস্ট বছরে ২ বার বণ্টন করা হবে। একটি ৩০ জুন সমাপ্ত সময়ে। আরেকটি ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত সময়ে। বন্ডটির লভ্যাংশ বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) অনুমোদন করা হবে। বন্ডটির মেয়াদ হবে ৬ বছর।

বন্ডটিতে আবেদন করতে হলে ইউনিট হোল্ডারদের ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা। কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের সর্বশেষ ২০২২ সালে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। তার আগের বছর ২০২১ সালে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৪২ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৯টি।

৪৪ কোটি ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধিত কোম্পানির বাজার মূল্য ৩৪৩ কোটি ৩৯ লাখ ২৯ হাজার ৫১৪ টাকা।




দেশে ১২ বছরে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাবের কারণে চলতি অর্থবছরের মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে গড়ে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে, যা ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরআগে ২০১১ সালের মে মাসে ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি।

সোমবার (৫ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্যে এমনটা বলা হয়েছে।

যদিও ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মার্চ মাসে আবারও মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ হয়। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা আশাব্যঞ্জক ছিল না। তখন সার্বিক বা সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়েছে। গত মাসে যা ছিল ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস।

এছাড়া বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম বাড়তি। মে মাসে এখাতে মূল্যস্ফীতিরে হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, গত মাসে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ ছিল।




বিলুপ্ত জাতের গাছ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিল ব্র্যাক ব্যাংক

বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় জাতের গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘তরুপল্লব’ এর সাথে অংশীদারিত্ব করে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের বিভিন্ন স্থানে এক হাজার ৩০০টি চারা রোপণ করবে।

সোমবার (৫ জুন) ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সাথে মিল রেখে ৫ জুন ২০২৩ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এনএএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০টি চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমটি শুরু হয়। মাসব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ব্র্যাক ব্যাংক চট্টগ্রামের জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর ও পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বগুড়ার পুণ্ড্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চারা রোপণ করবে।

এই কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশের দেশীয় জাতের এবং কয়েকটি পাহাড়ি জাতের গাছ লাগানো হবে। বাংলাদেশের এসব গাছের অধিকাংশই বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির। এগুলো হলো উদল, লাল উদল, সোনালু, ধরমারা, জারুল, চালতা, গোলাপজাম, দোই গুটা, কাঞ্চন, গাব, হরতোকি, বুদ্ধ নারিকেল এবং কৃষ্ণচূড়া।

এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিওও মো. সাব্বির হোসেন, হেড অব কমিউনিকেশনস ইকরাম কবীর, তরুপল্লবের সেক্রেটারি মোকারম হোসেন, এনএএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ উপলক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিওও মো. সাব্বির হোসেন বলেন, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুজের গর্বিত সদস্য হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক মানুষ, পৃথিবী এবং সমৃদ্ধির নীতিগুলোকে ধারণ করে। আমরা নির্মল পরিবেশের উন্নয়নে এবং অধিকতর টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা প্রত্যেকের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।

তিনি আরও বলেন, তরুপল্লবের সাথে আমাদের অংশীদারিত্ব টেকসই উন্নয়ন এবং পৃথিবীর প্রতি যত্ন নেওয়ায় আমরা যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তারই বহিঃপ্রকাশ ৷ নতুন প্রজন্মের মাঝে গাছের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতে এবং পরিবেশ রক্ষায় সকলকে যত্নবান করতে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছ লাগাচ্ছি।

তরুপল্লবের সেক্রেটারি মোকারম হোসেন বলেন, স্থানীয় বৈচিত্র্যময় গাছ নির্বাচনের বিষয়টি আমাদের লক্ষ্য পরিবেশগত সম্প্রীতি এবং একটি টেকসই পরিবেশের প্রসারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা এই গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করব। ব্র্যাক ব্যাংকের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করতে চাই।




মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি আয়

গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের রপ্তানি আয়। মে মাসে মোট ৪৮৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৫১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।

রোববার (৪ জুন) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের এ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

যদিও রপ্তানির এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। মে মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫১২ কোটি ডলার। আর ২০২২ সালের মে মাসে রপ্তানি থেকে ৩৮৩ কোটি ডলার আয় হয়েছিল।

ডলার সংকটের কারণে গত মার্চে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, একইভাবে পরের মাস এপ্রিলে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৫ হাজার ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৭১৭ কোটি ডলারের পণ্য।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। অন্যদিকে পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৪ হাজার ২৬৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে রপ্তানিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। যেখানে রপ্তানি হয়েছে ১১২ কোটি ডলারের পণ্য। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১০২ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ খাতের রপ্তানি কমেছে ৩০ শতাংশ।




বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার: এফবিসিসিআই

শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো দরকার বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। পাশাপাশি কলকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (৩ জুন) এফবিসিসিআইয়ের বোর্ড রুমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আর্থিক বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রয়োজনে যাতায়াত খাতের বরাদ্দ থেকে কিছুটা কাটছাঁট করে হলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার।

এসময় তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিয়ে এর কাঁচামালের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, সরকারের রাজস্ব আহরণ নিশ্চিতে শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে হবে। আর এজন্য সাশ্রয়ী এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প নেই। বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আর্থিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও বেশি কৌশলী হতে হবে।

বাজেটের ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা নেবে সরকার। এরমধ্যে এক লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা নেওয়া হবে ব্যাংক খাত থেকে। যা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করবে বলে উল্লেখ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

এ অবস্থায় ব্যাংক খাতের পরিবর্তে সরকারকে কস্ট অব ফান্ড বিবেচনা করে যথাসম্ভব সুলভ সুদে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান তিনি।

বাজেটে টেক্সটাইল এবং রপ্তানি ও এসএমই খাতের জন্য তেমন কিছু দেখা যায়নি উল্লেখ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি। এসময় তিনি টেক্সটাইল খাতের উন্নয়নে ম্যান মেড ফাইবার থেকে ভ্যাটসহ সব ধরনের কর প্রত্যাহার এবং রপ্তানির উৎস কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার জন্য সুপারিশ করেন।

ব্যক্তি করসীমার বিষয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় ব্যক্তি শ্রেণির আয়করের সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩.৫ লাখ করা হয়েছে। বর্তমান মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় এই করমুক্ত সীমা চার লাখ করার জন্য আমরা প্রস্তাব করেছিলাম।

বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেন মো. জসিম উদ্দিন।

অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এবং আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর (এটি) ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআইটি এবং অগ্রিম কর বিলুপ্ত করার জন্য প্রস্তাব করেছিলাম কিন্তু এ বিষয়ে বাজেটে কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। অগ্রিম আয়কর যথাযথ সমন্বয়/রিফান্ড না হওয়ায় পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।




বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এই বাজেটে কিছু পণ্যে আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট অথবা সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে লেখার কলম থেকে শুরু করে ফেসিয়াল টিস্যু, টয়লেট টিস্যু, সিমেন্ট, কাজু বাদাম, বাসমতি চাল, চশমা, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার, প্লাস্টিকের পাত্র, অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, সিগারেট, জর্দা-গুল, খেজুর, বিদেশি টাইলস ও মোবাইল ফোনসহ বেশকিছু নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে।

শুধু নিত্যপণ্যই নয়, আগামীতে সংসার খরচের পাশাপাশি বাড়তে পারে ভ্রমণ খরচও। কারণ, নতুন অর্থবছরের বাজেটে বিমানের টিকিটের ওপর ভ্রমণ কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকেল ৩ টায় জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫২তম বাজেট। এটি বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের পঞ্চম বাজেট, টানা ১৫তম এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে:
কলম: শিক্ষার্থীদের লেখার প্রধান উপকরণ কলমের দামও নতুন অর্থবছরে বাড়তে পারে। কলম উৎপাদনে বর্তমানে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে, সেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কারখানা থেকে বাজারে কলম সরবরাহের সময় এই কর আরোপ করা হবে। এতে কলমের দাম বাড়তে পারে।
চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস: ফ্রেম ও সানগ্লাস আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে সামনে এসব পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

দামি গাড়ি: আগামী অর্থবছরের বাজেটে দামি গাড়ির ওপর নতুন করে আরোপ হতে পারে। ফলে বাজেটে দামি গাড়ি আরও দামি হতে পারে। ২০০১ সিসি থেকে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি আমদানিতে এখন ২০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসে, যা বাড়িয়ে ২৫০ শতাংশ এবং ৩০০১ থেকে ৪০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করে ৫০০ শতাংশ করা হতে পারে। ২০০০ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতাবিশিষ্ট গাড়ি সাধারণত জিপগাড়ি হয়। এখন দেশে বিপুলসংখ্যক জিপগাড়ি কিংবা এসইউভি মডেলের গাড়ি আসছে। জনপ্রিয় হচ্ছে জিপগাড়ির ব্যবহার। টয়োটা, মিতসুবিশি, নিশান, টাটাসহ নানা খ্যাতনামা কোম্পানির গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে।

নির্মাণ সামগ্রী: বাড়ি নির্মাণের প্রধান উপকরণ সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিঙ্কার আমদানিতে বর্তমানে টনপ্রতি ৫০০ টাকা শুল্ক রয়েছে, নতুন অর্থবছরে এটি বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। এ কারণে সিমেন্টের দাম বাড়তে পারে। বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত বিদেশি টাইলস আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ফলে বিদেশি টাইলসের দামও বাড়তে পারে।

ভূমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (সিডিএ) এলাকায় জমি নিবন্ধনের ট্যাক্স বিদ্যমান ৩ শতাংশ ও ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে যথাক্রমে ৪ শতাংশ ও ৫ শতাংশ হতে পারে। এ ছাড়া ফ্ল্যাট বিক্রিতে বিদ্যমান গেইন ট্যাক্স বাড়তে পারে। ফলে আগামী অর্থবছর থেকে উভয় ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ গুনতে হবে।

সিগারেট: বাড়তি বাজেট বরাদ্দ করতে হবে ধূমপায়ীদের। কারণ প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নিম্নস্তরের এক প্যাকেট (২০ শলাকার) সিগারেটের (যেমন-হলিউড, ডার্বি) দাম ৯০ টাকা, মধ্যম স্তরের (স্টার, নেভি) ১৩৪, উচ্চস্তরের (গোল্ডলিফ) ২২৬ এবং অতি উচ্চস্তরের (বেনসন, মার্লবোরো) সিগারেটের দাম ৩০০ টাকা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে জর্দা-গুলের দামও। তবে বিড়ির দাম অপরিবর্তিত থাকবে।

বাসমতি চাল: নতুন অর্থবছরে বাসমতি চাল আমদানিতে ভ্যাট বসানোর হয়েছে। ফলে বিরিয়ানি-তেহারির অন্যতম প্রধান উপকরণ এ চালের দাম আরও বাড়বে। এতে যারা শখ করে উৎসব-পার্বণে বিরিয়ানি বা তেহারি খেতে পছন্দ করেন, খরচ বাবদ তাদের গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

খেজুর ও কাজুবাদাম: সুস্বাস্থ্যের জন্য কাজুবাদাম অনেকের কাছেই জনপ্রিয়। দেশে বাদাম চাষকে উৎসাহিত করতে কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৩ শতাংশ করা হচ্ছে। তাই আমদানি করা কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া নতুন অর্থবছরের বাজেটে তাজা ও শুকনা খেজুর আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তৈজসপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী: বাড়তি অর্থ গুনতে হবে প্লাস্টিকের তৈরি সব ধরনের টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালি সামগ্রীতেও। কারণ এসব পণ্যের উৎপাদনে ভ্যাট বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে।

এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী ও তৈজসপত্রের (হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন) ক্ষেত্রেও ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু/পকেট টিস্যু ও পেপার টাওয়াল উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, এটি বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে আগামীতে এসব পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

শুল্ক ফাঁকি রোধে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের ওভেন আমদানির শুল্ক ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট করভার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়তে পারে। অবশ্য দেশে ওভেন উৎপাদনের ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া আছে। ফলে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়লেও দেশি ওভেনের দাম না-ও বাড়তে পারে।

সিলিন্ডার: বর্তমানে সারাদেশে রান্নার কাজে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যাপক হারে ব্যবহার হয়। প্রস্তাবিত অর্থবছরের বাজেটে সিলিন্ডার উৎপাদনে ব্যবহৃত স্টিল ও ওয়েল্ডিং ওয়্যার আমদানিতে শুল্ক আরোপ এবং উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আগামীতে রান্নার চুলার জন্যও গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

মোবাইল ফোন: মোবাইল ফোনকে বিলাসী পণ্য বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি আছে, সেখানে ২ শতাংশ ভ্যাট বসানো হচ্ছে। আর সংযোজন পর্যায়ে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে মোবাইল ফোনের দাম বাড়তে পারে।

সাইকেল: নতুন অর্থবছরে সাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিরিশ কাগজ আমদানিতেও শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। ভাঙা জিনিস জোড়া দেওয়ার আঠা বা সুপার গ্লু সংরক্ষণমূলক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

বিমানের টিকিট: শুধু নিত্যপণ্যই নয়, আগামীতে সংসার খরচের পাশাপাশি বাড়বে ভ্রমণ খরচও। কারণ, নতুন অর্থবছরের বাজেটে বিমানের টিকিটের ওপর ভ্রমণ কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আবার অধিক সংখ্যক মানুষকে করজালের আওতায় আনতে এবার শূন্য আয় (করযোগ্য সীমার নিচে বার্ষিক আয়) দেখিয়ে রিটার্ন জমার স্লিপ (প্রাপ্তি স্বীকারপত্র) নিতে ন্যূনতম দুই হাজার টাকা কর আরোপের পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার।

এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো- ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। এই স্লোগান নিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। নতুন এ বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে রাখার কথা বলা হচ্ছে।




মূলধন ৫ হাজার কোটিতে উন্নীত করবে ব্র্যাক ব্যাংক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড তাদের অনুমোদিত মূলধন ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়াবে। ফলে ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

ব্যাংকটির সর্বশেষ বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির পূর্ব ষোষিত এজিএমে ২০২২ সালের জন্য পর্ষদ ঘোষিত ১৫ শতাংশ (৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার) ও অনুমোদিত মূলধন অনুমোদন করা হয়।

এর আগের পরিচালনা পর্ষদ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর ফলে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে ১১২ কোটি ২৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯৬ টাকা দেবে। পাশাপাশি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করে বোনাস শেয়ারও দেওয়া হবে।

এর আগের বছরও শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ (সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ আর সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার) লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি। তার আগের বছর ২০২০ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ, আর ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল।

জানানো হয়, ২০২২ সালে সামষ্টিকভাবে ব্র্যাক ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৬১২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ২০২১ সালে ছিল ৪৬৫ কোটি টাকা। ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবে ২০২২ সালে ৫৭৬ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা ২০২১ সালের ৫৫৫ কোটি টাকার তুলনায় ৩.৯০ শতাংশ বেশি।




‘জ্বালানি তেলে সরকার কোনও ভর্তুকি দেয় না’

সরকার বর্তমানে জ্বালানি তেলে সরাসরি কোনও ভর্তুকি দেয় না বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বুধবার (৩১ মে) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

নসরুল হামিদ বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করে। এরপরেও ওই অর্থবছরে বিপিসি প্রায় দুই হাজার ৭০৫ কোটি টাকার লোকসান দিয়েছে। এখানে বিপিসি সরকার থেকে কোনও ভর্তুকি না নিয়েও আগের মুনাফা থেকে এ লোকসান বহন করছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকায় ২০২২-২৩ অর্থবছরেও বিপিসির লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। এ অর্থবছরেও বিপিসি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়নি। আগের মুনাফা থেকে লোকসান বহন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি চালু হওয়ার পর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত সব ধরনের ট্যাক্স দিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে তিন হাজার ৫১৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের উত্তরে নসরুল হামিদ জানান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ ৯ হাজার টাকা মুনাফা করেছে। যা ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা বেশি। ওই অর্থবছরে সরকারের মুনাফা অর্জন করেছিল ৩২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, গ্যাস খাতের উন্নয়নে গত ১৪ বছরে বিদেশি কোম্পানিগুলো ৩ হাজার ৪৮৩ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ বাংলাদেশে করেছে।

সাতটি বিদেশি কোম্পানি দেশে বিনিয়োগ করেছে বলে জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এর মধ্যে আমেরিকার তেল- গ্যাস কোম্পানি শেভরন সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে বলে জানান তিনি। কোম্পানিটি ২ হাজার ৯৪১ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে উল্লেখ করেন নসরুল হামিদ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি তাল্লো ২৩৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলার, একই দেশের কেয়ার্ন এনার্জির বিনিয়োগ ২৪২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। চতুর্থ সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে ভারতীয় ওএনজিসি কোম্পানি ৪৫ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনোকোফিলিপস ৬ দশমিক ২২ মিলিয়ন, অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস ৫ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন বাংলাদেশে ৫ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

নসরুল হামিদ বলেন, দেশের গ্যাস চাহিদা মেটানোর জন্য এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এর আলোকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি স্থাপন করা হয়। এক্ষেত্রে সরকার/পেট্রোবাংলার কোনও অর্থ ব্যয় হয়নি। তবে এলএনজি ব্যবহারের জন্য পেট্রোবাংলার নির্ধারিত ফ্রি দিয়েছে। ১৫ বছর পর এলএনজি টার্মিনাল দুটির মালিকানা সরকার/পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শাহে আলমের প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১ হাজার ১৬৯ দশমিক ৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যার মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ থেকে অফ গ্রিডে ৩৫৭ দশমিক ৯ মেগাওয়াট এবং অন-গ্রিডে ৫৭৮ দশমিক ৬৬ মেগাওয়াটসহ মোট ৯৩৫ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।




রিং সাইন টেক্সটাইলসের এমডি মকবুল হোসেন

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এ.এইচ.এম মকবুল হোসেন।

মঙ্গলবার (২৩ মে) কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাকে এই পদের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। বুধবার (২৪ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রিং সাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ.এইচ.এম মকবুল হোসেনের নিয়োগ বুধবার (২৪ মে) থেকে কার্যকর করা হবে। এর আগে সোমবার (২২ মে) প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে পদত্যাগ করেন সাং ওয়াই মিন। ওই দিনই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ তার এই পদত্যাগ গ্রহণ করেছে।

জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ.এইচ.এম মকবুল হোসেন, এনডিসি, পিএসসি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েল টিউলিপ ফ্রাঞ্চাইজ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।




সাউথইস্ট ব্যাংককে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানে সম্মতি দিল বিএসইসি

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার (২৪ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৬ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে।

আইন অনুযায়ী বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে না। তাই বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা প্রদানের লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডকে বোনাস লভ্যাংশ প্রদাণের সম্মতি দিয়েছে।

বোনাস লভ্যাংশ বিতরণে কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে ২৭ জুন।




ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সামিট শুরু

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ট্রাসফরমেশন সামিটের আয়োজন করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রবৃদ্ধি অর্জনের মূল গতিধারা নিয়ে মূল্যবান পর্যবেক্ষণে ‘ব্যাংকিং অন ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে এবিবি।

বুধবার (২৪ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার প্রধান অতিথি হিসেবে এ সামিটের উদ্বোধন করেন। এসময় এবিবির চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও সেলিম আরএফ হোসেন, এবিবির বোর্ড অব গভর্নর এবং বিভিন্ন ব্যাংকের এমডি ও সিইওরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল রূপান্তর যাত্রা নিয়ে আলোচনা করার লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী এ সামিটে বাংলাদেশের ৪৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৫০ জনের বেশি কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলন উপলক্ষে এবিবি এবং পিডব্লিউসি যৌথভাবে ‘ব্যাংকিং ইভল্যুশন: ড্রিভেন বাই ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য গৃহীত কৌশলগুলো বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন ব্যাংকের সিএক্সও পর্যায়ের নির্বাহীদের নিয়ে একটি জরিপ স্থান পেয়েছে।

সম্মেলনে ডিবিএস সিঙ্গাপুর, ইঅ্যান্ডওয়াই, আইবিএম, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রামীণফোন, ইউনিলিভার, হুয়াওয়ে, ওরাকল, আইটি কনসালট্যান্ট লিমিটেড, লেন্ট্রা, থাকরাল, ওরোজেনিক, মাস্টারকার্ড, কেপিএমজি, ডেলয়েট, এটুআই, বিআইবিএমসহ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি এবং সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করছেন।

সম্মেলনের লক্ষ্য বাংলাদশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা প্রধান গতিধারাগুলোর ওপর আলোকপাত করা। দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্যে পথ চলতে ব্যাংকগুলো যে কৌশলগুলি গ্রহণ করতে পারে তা বিশ্লেষণ করে মূল্যবান পর্যবেক্ষণ প্রদান করা সম্মেলনের লক্ষ্য। এছাড়া এর লক্ষ্য আর্থিক সেবা খাতকে প্রভাবিত করে এমন বিদ্যমান নীতি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে গবেষণা করা। এ শিল্পের স্টকহোল্ডার, ইকোসিস্টেম এনাবেলার্স ও নীতি নির্ধারকদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সুপারিশ দিয়ে এ সম্মেলন সহযোগিতা এবং একীভূত লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধি করেছে।

এই সম্মেলন নিয়ে এবিবির চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, এবিবি-এর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সামিট বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা প্রধান গতিধারাগুলো সম্পর্কে মূল্যবান পর্যবেক্ষণ দেবে। এটি দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্যে পথচলার জন্য ব্যাংকগুলো যে কৌশল নিতে পারে তা বিশ্লেষণ করবে এবং আর্থিকসেবা খাতকে প্রভাবিত করে এমন বিদ্যমান নীতি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোগুলো নিয়ে গবেষণা করবে। এ ছাড়াও এ সম্মেলন এ খাতের স্টেকহোল্ডার, ইকোসিস্টেম এনাবেলার্স ও নীতি নির্ধারকদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সুপারিশ করবে। একটি একীভূত লক্ষ্যের দিকে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক সেবা খাত একটি টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারে যা সব স্টেকহোল্ডারের উপকারে আসবে।

সম্মেলনে ব্যাংকিং সেক্টরে ডিজিটাল রূপান্তরের গুরুত্ব অনুধাবনকারী সম্মানিত স্পন্সরদের কাছ থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইভেন্টের প্ল্যাটিনাম স্পন্সর হুয়াওয়ে, পাওয়ার্ড বাই স্মার্ট। গোল্ড স্পনসরগুলোর মধ্যে রয়েছে— ওরাকল, পাওয়ার্ড বাই রেডিংটন গ্রুপ এবং আইবিএম, পাওয়ার্ড বাই থাকরাল ও লেন্ট্রা। সিলভার স্পন্সর হলো মাস্টারকার্ড, ডকুওয়্যার পাওয়ার্ড বাই ওরোজেনিক, আইটি কনসালটেন্ট লিমিটেড, পেলজিক এবং মোডফিন পাওয়ার্ড বাই থাকরাল।

‘ব্যাংকিং অন ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন’ সম্মেলনটি শিল্পে অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ আলোচনা, ইন্ডাস্ট্রির অন্তর্বর্তী মূল্যবান তথ্য আদান-প্রদান এবং নেটওয়ার্কিং সুযোগের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি জ্ঞান বণ্টন, সহযোগিতা এবং ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়ার পথ আরও সহজ করবে।




বিজিএমইএ সভাপতির সঙ্গে ওইসিডি ও এডিবি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ

অরগানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) এবং এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করছে। রোববার (২১ মে) ঢাকায় বিজিএমইএ পরিদর্শন এবং বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন এ প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন ওইসিডি ডিএএফ ইনভেস্টমেন্ট ইউনিটের ইকোনমিস্ট (পলিসি অ্যানালিস্ট) ফার্নান্দো মিস্টুরা, ওইসিডি ডিএএফ ইনভেস্টমেন্ট ইউনিটের পলিসি অ্যানালিস্ট আইরিস ম্যানটোভানি, ওইসিডি আরবিসি সেন্টারের পলিসি অ্যানালিস্ট সেবাস্টিয়ান ওয়েবার, ওইসিডি আরবিসি সেন্টারে সিনিয়র পলিসি অ্যানালিস্ট ম্যাথিয়াস অল্টম্যান, এডিবির সিনিয়র কান্ট্রি স্পেশালিস্ট সুন চ্যান হং, এডিবির সিনিয়র ইকোনমিক অফিসার মাহবুব রব্বানী এবং এডিবি কনসালটেন্ট মাসরুর রিয়াজ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ এর সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।

তারা পোশাক শিল্প ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এফডিআই (বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ) এর ভূমিকাসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং ২০২৬ সালে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তোরণের পর অর্থনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তারা রপ্তানির আরও বৈচিত্র্যকরণ এবং পোশাক শিল্পের ভেতরে এবং বাইরে এফডিআই আকর্ষণের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ডিউ ডিলিজেন্স শর্তগুলোর প্রভাবও গুরুত্ব পেয়েছে।

তারা বাংলাদেশে ওইসিডি বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার বিষয়েও কথা বলেন। পর্যালোচনাটি দেশে স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ বিষয়ে মূল্যায়ন করবে এবং বিনিয়োগের কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করবে। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য সংগঠন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তৈরি পোশাক শিল্পের মুখপাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিজিএমইএ পর্যালোচনাটি রচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শক অংশীদারের ভূমিকা পালন করেছে।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা, শিল্পের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা ও সুযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি প্রতিনিধিদলকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে শিল্পের রূপকল্প এবং প্রস্তুতি, বিশেষ করে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, প্রযুক্তির মানোন্নয়ন ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পের প্রস্তুতি গ্রহণ বিষয়ে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প উচ্চমূল্যের পোশাকের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন ও নন-কটন টেক্সটাইলের মতো বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং ডিউ ডিলিজেন্স প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও কাজ করছে।

ওইসিডি-এডিবি প্রতিনিধিদল কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ব্যাপক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, এ অর্জনগুলো অন্যান্য শিল্প খাতের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তারা অন্যান্য খাতগুলো যাতে করে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পোশাক শিল্পের মডেল অনুসরণ করতে পারে, সেজন্য বিজিএমইএকে সহযোগিতা প্রদানের আহবান করে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এ বিষয়ে প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, শিল্প ও বিজিএমইএ এর অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে বিজিএমইএ অন্যান্য খাতগুলোকে সহযোগিতা প্রদান করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে।




মোখায় ক্ষ‌তিগ্রস্থ‌দের আড়াই লাখ ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ঘূর্ণিঝড় মোখায় ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে আড়াই লাখ ডলার দেবে মা‌র্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৭ মে) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, মোখায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

উল্লেখ্য, রোববার (১৪ মে) বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজার ও মিয়ানমার উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মোখা। মোখার তাণ্ডবে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনে ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সেন্টমার্টিনেই ১২০০ ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে।




ঘূর্ণিঝড় মোখার উপকূল অতিক্রমের পর নামলো সতর্ক সংকেত

সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আর ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা নেই। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।

সোমবার (১৫ মে) সকালে দেওয়া আবহাওয়ার সর্বশেষ বার্তায় এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আবহাওয়ার বার্তায় অধিদপ্তর আরও বলেছে, ১৫ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হলো।

এর আগে রোববার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৬টার ২২ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে অধিদপ্তর জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উপকূল অতিক্রম করার পর ক্রমশ শক্তি হারাতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রোববার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৬টায় উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে একটি দুর্বল হয়ে রাখাইন রাজ্যের সিটুয়ে, মিয়ানমারে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। মোখা স্থলভাগের অভ্যন্তরে আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।




মুস্তাফিজ-হাসানের তোপে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

বোলিংয়ে অনিয়মিত নাজমুল হোসেন শান্তকে এনে যেন বাজি ধরেছিলেন তামিম ইকবাল। আগের ম্যাচের বিধ্বংসী ব্যাটার হ্যারি টেক্টরকে অফ-স্পিনের ভেলকিতে বাউন্ডারিতে ধরাশায়ী করেছেন শান্ত। লিটন দাসের তালুবন্দি হওয়ার আগে টেক্টরের সংগ্রহ ৪৫ রান। এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে ক্রমাগত হারের দ্বারপ্রান্তে চলে যেতে থাকে আইরিশরা। শেষ দিকে আলো ছড়িয়েছেন সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের একাদশে জায়গা না পাওয়া মুস্তাফিজুর রহমান। তার ৪ শিকারে টানা দ্বিতীয় সিরিজে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

যদিও আইরিশ ইনিংসের ৩৭তম ওভারটাই বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিতে পারত। অভিষিক্ত মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর করা ওই ওভারে আইরিশরা তোলে ২১ রান। অথচ এর আগে স্বাগতিকদের দরকার ছিল ৭৪ বলে ১০১ রান। সেই ধাক্কা সামলে ব্রেক-থ্রু চাওয়া ছিল টাইগারদের। বোলিংয়ে এসে সেটাই নিশ্চিত করেছেন শান্ত। এরপর মুস্তাফিজ ও হাসানের আগুন ঝরানো বোলিং আইরিশদের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার মতো কাজ করেছে।

তখনও নাটকীয়তার কিছুটা বাকি। টাইগারদের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন উইকেটে থাকা মার্ক অ্যাডায়ার ও অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। তার ওপর বাড়তি পাওনা হিসেবে আসে বাউন্ডারিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাত ফসকানো ক্যাচ।

এরপর হাসান মাহমুদ যখন শেষ ওভার করতে আসেন, তখন জয় থেকে মাত্র ১০ রান দূরে আয়ারল্যান্ড। তবে এবার আর স্বপ্নভঙ্গ নয়, সময়ের দাবি পূরণ করেছেন তরুণ এই পেসার। দুর্দান্ত স্লোয়ারে ওভারের প্রথম বলেই হুমকি হয়ে ওঠা অ্যাডায়ারকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর তৃতীয় বলে অলরাউন্ডার ম্যাকব্রাইনকে ফাঁদে ফেলে স্লিপারের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। সব মিলিয়ে ম্যাচের শেষ ওভারে কেবল ৪ রান তুলতে পারে আইরিশরা। আর এতেই ৪ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে টাইগাররা।

এর আগে বাংলাদেশের দেওয়া ২৭৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দেখে-শুনে শুরু করেন দুই আইরিশ ওপেনার স্টার্লিং ও স্টিফেন ডোহেনি। তবে বাংলাদেশি পেসারদের তোপের মুখে খুব বেশি দূর এগোয়নি এই জুটি। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে আইরিশ শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন মুস্তাফিজ। ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে লেন্থ ডেলিভারিতে করেন এই বাঁহাতি পেসার। সেখানে কাট করতে গিয়ে লিটনের হাতে ধরা পড়েন ডোহেনি। সাজঘরে ফেরার আগে এই ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ৪ রান।

ডোহেনিকে দ্রুত ফেরালেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন আইরিশ ব্যাটাররা। শুরুতে ধীরগতির ব্যাটিং করলেও উইকেটে থিতু হওয়ার পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন স্টার্লিং। তিনে নামা অ্যান্ডি বালবার্নিকে সঙ্গে নিয়ে শক্ত ভীত গড়েন এই ওপেনার। তাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২১ ওভারে শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করে আইরিশরা। এর মধ্যেই ৫৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন স্টার্লিং। এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন বালবির্নিও। ফিফটি করতে অধিনায়কের প্রয়োজন হয়েছে ৭১ বল।

হাফ সেঞ্চুরির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বালবার্নি। ২৭তম ওভারের প্রথম বলটি শর্ট লেন্থে রেখেছিলেন এবাদত, সেখানে ঘুরে দাঁড়িয়ে পুল করেন আইরিশ অধিনায়ক। টাইমিং না হওয়ায় শুধুই উচ্চতা পেয়েছে বল, কিন্তু বেশি দূরত্ব পায়নি। তাতে রনি তালুকদারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৮ বলে ৫৩ রান। এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের উইকেট এমন মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা স্পষ্ট ছিল টাইগারদের উদযাপনে। বিশেষ করে, এই উইকেটটি ট্রেডমার্ক ‘স্যালুট’ দিয়ে উদযাপন করেন এবাদত।

অধিনায়কের পর বাংলাদেশের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ান স্টার্লিং। উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া এই অভিজ্ঞ ওপেনারকে সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। ৩২তম ওভারের প্রথম বলে এই স্পিনারের বাড়তি বাউন্সে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি স্টার্লিং। তাতে আউটসাইড এইডজে বল চলে যায় মৃত্যুঞ্জয়ের হাতে। ৭৩ বলে ৬০ রান করা স্টার্লিং সাজঘরে ফেরায় ভালোভাবেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

এরপর অবশ্য আতঙ্ক ছড়িয়েছেন দুই আইরিশ ব্যাটার টেক্টর ও লরকান টাকার। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান টেক্টর ৪৮ বলে ৪৫ এবং টাকার করেন ৫৩ বলে ৫০ রান। এছাড়া টাইগারদের ব্যাটিংয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট পাওয়া অ্যাডায়ার শেষদিকে করেন ১০ বলে ২০ রান।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট পান মুস্তাফিজ। এছাড়া হাসান দুটিটি এবং একটি করে উইকেট নিয়েছেন মিরাজ, এবাদত ও শান্ত।

এদিন ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই খেলতে নামে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মূলত সাকিবের চোটে কপাল খুলেছিল রনি তালুকদারের। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ এই ওপেনার। ওয়ানডে অভিষেকে নিজের খেলা প্রথম ১২ বলে কোনো রান তুলতে পারেননি তিনি। তবে ১৩তম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ওয়ানডেতে রানের খাতা খোলেন তিনি। কিন্তু পরের বলেই ফিরতে হয়েছে সাজঘরে।

চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে গুড লেন্থে করেছিলেন মার্ক অ্যাডায়ার। সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি। তাতে ৪ রানে থামেন অভিষিক্ত এই ওপেনার।

আইরিশদের পেসের সামনে রনি ব্যর্থ হলেও তিনে নেমে কাউন্টার অ্যাটাকে সফলতা পান শান্ত। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬২ রান তোলে বাংলাদেশ। তবে উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক। ১১তম ওভারের পঞ্চম বলটি অফ স্টাম্প থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় শান্তর ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় প্রথম স্লিপে। কোনো ভুল করেননি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বার্লবার্নি। তাতে ৭ চারে ৩২ বলে ৩৫ রানে থামতে হয় শান্তকে।

৬৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর দলকে কক্ষপথে রাখেন লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। তাদের ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথেই হাঁটছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৩৫ রান করে লিটন বিদায় নিলে ভাঙে ৭০ রানের তৃতীয় উইকেটের জুটি। ২৪তম ওভারের তৃতীয় বলটি পঞ্চম স্টাম্প বরাবর খানিকটা শট লেন্থে করেছিলেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। সেখানে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে অফ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন লিটন, কিন্তু ঠিকমতো টাইমিং না হওয়ায় মিড অফে ধরা পড়েন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

এদিন ব্যর্থ আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে প্রশংসা কুড়ানো তাওহীদ হৃদয়। ২৮তম ওভারের শেষ বলে জজ ডকরেলকে ব্যকফুটে কাট করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। তাতে বল আঘাত হানে তার উইকেটে। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৬ বলে ১৩ রান।

হৃদয় ফেরার পর মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন তামিম। তবে আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে উল্টো বিপদ ডেকে আনেন তিনি। ৩৪তম ওভারের তৃতীয় বলে ডকরেলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে এডজ হয়ে বল উপরে উঠে যায়, তাতে ৮২ বলে ৬৯ রান করে থামেন তামিম।

১৮৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৭৫ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। এদিন হাফ সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে থাকা এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ৪৫ রান করা মুশফিক লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লে ভাঙে সেই জুটি। এরপর বেশিক্ষণ আর টিকতে পারেননি না মিরাজও। ৪৭তম ওভারের তৃতীয় বলে অ্যাডায়ারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাম্পারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৩৯ বলে ৩৭ রান করেছেন এই ডানহাতি।

মিরাজ যখন ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটছেন তখন অলআউটের শঙ্কায় বাংলাদেশ। সেই শঙ্কার মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে পরের ওভারেই। ৪৮তম ওভারের তৃতীয় বলে রান আউটে কাটা পড়েন হাসান মাহমুদ।

তার বিদায়ের ঠিক ৩ বল পর গোল্ডেন ডাক খেয়ে ফেরেন মুস্তাফিজ। ইনিংস শেষ করে আসতে পারেননি অভিষিক্ত মৃত্যুঞ্জয়ও। তাতে ২৭৪ রান তুলে অলআউট হয় বাংলাদেশ।




না ফেরার দেশে চিত্র নায়ক ফারুক

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মিয়াভাই’ খ্যাত নায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক (৭৪) মারা গেছেন।

সোমবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগামীকাল তার মরদেহ দেশে আনা হবে।

২০২১ সালের ৪ মার্চ নিয়মিত চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুর যান অভিনেতা ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ফারুক। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিস্ক, স্নায়ুতন্ত্রের নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। চার মাস ছিলেন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। সেমি কোমায় কেটেছে আরও চার মাস।

তবে দীর্ঘ অসুস্থতা কাটিয়ে চলতি বছরের শুরুর দিকে কিছুটা সুস্থ হয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন তার স্ত্রী ফারহানা পাঠান। গত মার্চে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।

১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফারুক। এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে ঢাকাই সিনেমার তার অভিষেক হয়। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘সুজন সখী’, ‘নয়নমনি’, ‘সারেং বৌ’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সাহেব’, ‘আলোর মিছিল’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘মিয়া ভাই’সহ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

ফারুক ১৯৭৫ সালে ‘লাঠিয়াল’ সিনেমা জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এছাড়া ২০১৬ সালে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন।