সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনেও কাটছে জটিলতা

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সেবা সহজীকরণ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এসএসসি বা সমমানের পাবলিক পরীক্ষার সনদের ওপর ভিত্তি করে মাঠ পর্যায় থেকেই সরাসরি জন্ম তারিখ সংশোধন করা যাবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার জটিলতা নিরসনে বিদ্যমান দুই ধাপের তদন্ত প্রক্রিয়া কমিয়ে এক ধাপে নামিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব এনআইডি সংক্রান্ত সংস্কার উদ্যোগের কথা জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সচিব জানান, এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি কমাতে মাঠ পর্যায়ে ডেলিগেশন বা ক্ষমতা হস্তান্তরের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদ দিয়ে জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করলে তা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে মাঠ পর্যায় থেকেই নিষ্পত্তি করা হবে।

এ ছাড়া, এনআইডি স্থানান্তর বা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যেখানে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ সাপেক্ষে নাগরিকরা সেবা পাবেন। ১৫ বছর পর পর এনআইডি নবায়নের ক্ষেত্রে পারিবারিক তথ্যের সঠিকতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে হবে, যেখানে আবেদনকারীকে তার ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক পরিচয়ের তথ্য দিতে হবে।

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার কথা জানান সচিব। তিনি উল্লেখ করেন, আগে প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক ও আবেদন পাওয়ার পর দেশে তদন্তে পাঠানো হতো এবং তদন্ত প্রতিবেদন পজিটিভ আসলে তা সিস্টেমে আপলোড করা হতো। নতুন নিয়মে প্রবাসীরা বায়োমেট্রিক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা অনলাইনে আপলোড হয়ে যাবে এবং ঢাকায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে তথ্যের সঠিকতা মিললেই এনআইডির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। ফলে অতিরিক্ত একটি ধাপ কমে গিয়ে প্রবাসীদের এনআইডি পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক দ্রুত ও সহজ হবে।

অনলাইনে ও মাঠ পর্যায়ে এই সেবাদান কাঠামোর পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা পরিবর্তনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কমিশন আলোচনা করেছে। সচিব জানান, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের এনআইডি ও ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় সক্রিয় হয়। এই তথ্য সংগ্রহের সময়সীমা আরও কমিয়ে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স পর্যন্ত নামিয়ে আনা যায় কি না, তা নিয়ে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কমিশন সভায় এনআইডি সেবার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের একাধিক প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শীঘ্রই পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, এনআইডি নবায়ন ও সংশোধন পদ্ধতিগুলো আরও বেশি নাগরিকবান্ধব ও পরিশোধিত করতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা ও সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে।




সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মদশক (২০২১-২০৩০)-এর বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে মহাসড়কে লক্ষ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবন্ধ।

সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।

তিনি সকল সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা

সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজ পালনের জন্য দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে নির্ধারিত এ দুই প্যাকেজের মধ্যে সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) হজের প্যাকেজ দুটির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর আওতায় থাকা হজযাত্রীরা মক্কায় পবিত্র হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে আবাসন সুবিধা পাবেন। মদিনায় তাদের থাকার ব্যবস্থা হবে মারকাজিয়া এলাকায়। এছাড়া মিনায় জোন-২-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে এবং মিনা ও আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সেবার পাশাপাশি মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে।

এ প্যাকেজের হজযাত্রীরা সাধারণত সৌদি আরবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন অবস্থান করবেন। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেডেশন এবং স্বল্পমেয়াদি বা শর্ট প্যাকেজ সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে। এ প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।

অন্যদিকে, ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’ তুলনামূলক কম খরচের একটি প্যাকেজ। এ প্যাকেজে মক্কায় হজযাত্রীদের আবাসন হবে হারাম শরীফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে। মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

সাশ্রয়ী প্যাকেজের হজযাত্রীদের জন্য মিনায় জোন-৫-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া মিনা ও আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেল হারাম শরীফ থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সালাওয়াত বাসের সুবিধা দেওয়া হবে।

সরকার নির্ধারিত এ সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত প্যাকেজগুলোর মাধ্যমে হজযাত্রীরা তুলনামূলক উন্নত ও সুশৃঙ্খল সেবা পাবেন এবং হজ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।




আগামী এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি।

তিনি দেশে বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন) কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১ অনুযায়ী অত্যাবশ্যক বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন জেলার জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিচারকের স্বল্পতার বিপরীতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, এই বিপুল সংখ্যক মামলার চাপ সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা ও অধস্তন আদালত পর্যন্ত পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর একটি বিরাট বোঝা সৃষ্টি করেছে।

তাই প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমে অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত আইনে ২০২৫ সালের একই সময়ে যেখানে ৩ হাজার ৫৫৯টি মামলা দায়ের হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলা নেমে এসেছে ১ হাজার ৭৪৪টিতে। অর্থাৎ মামলার সংখ্যা প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে।

একইভাবে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ২৪টি থেকে কমে ১৮টিতে নেমেছে এবং সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টনসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ২ হাজার ১টি থেকে কমে ৬৬১টিতে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৬৭ শতাংশ হ্রাস।

স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রি-এম্পশন সংক্রান্ত মামলা ১৭টি থেকে কমে মাত্র ২টিতে এসেছে, যা ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ হ্রাসের নজির সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া নন-অ্যাগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনের মামলায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস ও পিতামাতার ভরণপোষণ আইনের মামলায় প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাসের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যৌতুক নিরোধ আইনে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে যেখানে ৫ হাজার ৬০৫টি মামলা দায়ের হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১০টিতে। অর্থাৎ ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ মামলা কমেছে, যা বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের কার্যকারিতার একটি বড় প্রমাণ।

মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পাওয়া গেছে। এটি বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে ও আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে প্রতিদিন নতুন করে যে বিপুলসংখ্যক মামলা আদালতে জমা হচ্ছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়েই মধ্যস্থতার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিস কিংবা অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের পরও যদি সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়, তাহলে বিচারপ্রার্থী জনগণের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে, আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমানে বিচারাধীন প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনার কারণে সাধারণ মানুষ শুধু মানসিকভাবেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।’

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত এই মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে আরও বেশি সচেতন করতে হবে।

সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যত বেশি জানবে, তত বেশি মানুষ আদালতের বাইরে আইনি উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ গ্রহণ করবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শুধু মামলাই কমাতে চায় না, সরকার অসহায়, দরিদ্র ও বিচারপ্রার্থী মানুষের পাশেও দাঁড়াতে চায়। তাদের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তাই গণমাধ্যমকে এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ব্যাপক প্রচারে এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি কক্সবাজার জেলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে সেখানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা উদ্বেগজনক।

এ সময় আইনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কম খরচে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে আজ দেশের ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়া বিচারব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, অতীতে অনেক প্রকল্প পরীক্ষামূলক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থেকেছে। কিন্তু বর্তমান উদ্যোগের ইতিবাচক ফলাফল বিশ্লেষণ করে, সরকার দ্রুত এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এতে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি মামলা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

এ সময় মহাপরিচালক আরও বলেন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তর বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে দ্রুত, সুষম ও টেকসই বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই কার্যক্রম আরও সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল— এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।




সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ফ্ল্যাটে মিলল দেড় হাজার বিলাসবহুল পণ্য

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আলোচিত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে দুই দিনব্যাপী অভিযান শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ টিম।

গুলশানের ৬৬ নম্বর রোডে নর্থওয়েস্ট বি ব্লকের ১১ নম্বর প্লটের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোট ২৬৯ ধরনের পণ্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে দুদকের টিম। সংখ্যা হিসাবে যার পরিমাণ দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ফ্ল্যাট এ-৭ থেকে প্রায় ১ হাজার ১৩৫টি ও ফ্ল্যাট বি-৭ থেকে প্রায় ৪০০টি পণ্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুদকের প্রাধান কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মেনে গতকাল ও আজ ইনভেন্টরি কাজ করেছে। অভিযানে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ইনভেন্টরি কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২৬৯ আইটেমের পণ্য পাওয়া গেছে।

উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ৮টি ঘড়ির বক্স (এর মধ্যে রোলেক্সের ৪টি), প্রায় ১০০টি কামিজ, মুক্তার (পার্ল) গয়না, ঝাড়বাতি, বেড, সোফা, এসি, সিলিং ফ্যান, ট্রেড মিল, ফ্রিজ, সুটকেস, চেয়ার ও টেবিল ইত্যাদি। বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়ির ক্রয় রসিদ অনুযায়ী, প্রতিটি ঘড়ির দাম হতে পারে ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।

২০২৪ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক। মামলাগুলোতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানকে আসামি করা হয়েছে। যার সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকের অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।

গত ২ জুলাই আদালতের আদেশ দেওয়ার পর সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রণে নেয় দুদক। আদালতের চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামীয় সম্পদ ঢাকার গুলশানের রোড নম্বর-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নম্বর-১১, ফ্ল্যাট নম্বর-এ-৭ এর ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ফ্ল্যাট এবং গুলশানের রোড নম্বর-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নম্বর-১১, ফ্ল্যাট নম্বর-বি-৭ এর ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার হিসেবে দুদক পরিচালককে (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ এবং মালামালের ইনভেন্টরি করার সময় দায়িত্ব পালনের জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।




উৎসে কর মনিটরিংয়ে উদ্যোক্তাদের হয়রানি না করার আহ্বান ঢাকা চেম্বারের

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উৎসে কর কর্তন জমা, মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় উদ্যোক্তাদের অযথা হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই জানায়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারার আওতায় ব্যবসায়িক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর মনিটরিং কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও করজাল সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে কর-অনুগত (কমপ্লায়েন্ট) ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদের প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং করজাল সম্প্রসারণে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এর মাধ্যমে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

ঢাকা চেম্বার বিশ্বাস করে, রাজস্ব আহরণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ-এই দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব, তবে এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের কিভাবে কর ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার-বেসরকারিখাতের একযোগে কাজের বিকল্প নেই।




এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেলো ওয়ালটন

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস এর চতুর্থ সংস্করণেও (২০২৬) তিনটি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট ও সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। টেকসই নেট জিরো ইনিশিয়েটিভ এবং এনার্জি ইফিশিয়েন্সি প্রোগ্রামের জন্য সাশ্রয়ী ও ক্লিন এনার্জি ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন অর্জন করেছে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’।

 

পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় টেকসই সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জলবায়ু সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জলবায়ু ও পরিবেশ ক্যাটাগরিতেও ওয়ালটনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া বর্ষসেরা সবচেয়ে টেকসই ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতেও এই পুরস্কার পেয়েছে ওয়ালটন। গত বছর একই অ্যাওয়ার্ডের তৃতীয় আসরেও তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছিল ওয়ালটন।

১৮ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ওয়ালটনকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ দেওয়া হয়।

পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) মো. ইউসুফ আলী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, শাহজালাল হোসেন লিমন, তানভীর আঞ্জুম ও প্রতীক কুমার মদক, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, ইএইচএস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু প্রমুখ।

 

পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেকের এএমডি মো. ইউসুফ আলী বলেন, তিন ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করায় ওয়ালটন পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ওয়ালটনকে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়নে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি এবং সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির আলোকে ওয়ালটন কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া, কর্মক্ষেত্রসহ সর্বত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ উন্নয়ন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। জিরো কার্বন নিঃসরণ, সাশ্রয়ী জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে নবায়নযোগ্য বিভিন্ন ক্লিন ও গ্রিন এনার্জি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ওয়ালটন। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে নিজস্ব অর্থায়নে ওয়ালটন মোট ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

ইতোমধ্যে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে স্থাপন করা হয়েছে ১৯.২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট। যার মধ্যে রয়েছে রুফটফ সোলার প্ল্যান্ট, গ্রাউন্ড মাউন্টেড সোলার প্ল্যান্ট এবং দেশের সর্ববৃহৎ ফ্লোটিং বা ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট। এসব সোলার প্ল্যান্ট থেকে বছরে প্রায় ২২ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা ওয়ালটনের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১৭ শতাংশ পূরণ করছে।

 

তিনি আরও বলেন, শিল্প প্রক্রিয়ায় পানি সাশ্রয় ও পুনঃব্যবহারে ইটিপির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাতকৃত পানির প্রায় ৭৫ শতাংশ নিরাপদভাবে পুনঃব্যবহার করা হচ্ছে। ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্লাস্টিক পুনঃর্ব্যবহার ও আপসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বর্জ্য কমিয়ে সম্পদের পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করছে ওয়ালটন। ওয়ালটনের এই অগ্রগতি প্রমাণ করে, ওয়ালটন কেবল পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণই করেনি, বরং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই শিল্প ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি মডেল তৈরি করেছে।

সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া।

এ বছর ১৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। যেখান থেকে কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’সহ ৫৯টি টেকসই উদ্যোগকে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ দেওয়া হয়।




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইসলামিক রিসার্চ মেথোডলজি’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গবেষণায় ইসলামী জ্ঞানচর্চার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক গবেষণা পদ্ধতির সঙ্গে গবেষকদের পরিচিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার-এর উদ্যোগে ১৮ জুলাই ২০২৬, শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কনফারেন্স রুম, কলা ভবনে ‘ইসলামিক রিসার্চ মেথডোলজি’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ আবুল কালাম সরকার। প্রধান অতিথির ভাষণে আবুল কালাম সরকার বলেন, ইসলামি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গবেষণার পদ্ধতিগত উৎকর্ষ, একাডেমিক সততা এবং নতুন গবেষক তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এরই ধারায় আজকের এ ওয়ার্কশপ ইসলামি গবেষণা প্রশিক্ষণে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তিনি আরো বলেন, ইসলামি গবেষণার মাধ্যমে সঠিক ইসলামি নীতি, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির পুনর্জীবন দিতে হবে। ছব্বিশোত্তর বাংলাদেশে স্বাধীন মুক্ত পরিবেশে ইসলামি গবেষণার মাধ্যমে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচার ও প্রসার করতে হবে।
সমাপনি অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ড. কামরুজ্জামান শামীম বলেন, ইসলামি গবেষণাকে সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নতুন প্রজন্মের গবেষকদের দক্ষ করে তোলা সময়ের দাবি। এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সমাপনি অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট ও বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, জ্ঞানের সর্বক্ষেত্রেই গবেষণা ছাড়া উৎকর্ষ সাধন সম্ভব নয়। আধুনিক এই যুগে ইসলামের সামগ্রিক কল্যাণের দাওয়াত দিতে হলে গবেষণা অপরিহার্য। দেশে ইসলামি গবেষণার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ গবেষক তৈরির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার ধারাবাহিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
এর আগে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাঃ মিজানুর রহমান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মো. শামসুল আলম, তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, একটি জাতির জ্ঞানভিত্তিক অগ্রগতির জন্য মৌলিক ও মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামি গবেষণাকে সমকালীন চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত করে নতুন প্রজন্মের গবেষকদের দক্ষ করে তুলতে হবে। আজকের এই কর্মশালায় তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ইসলামি গবেষণার প্রতি তাদের আগ্রহ আমাকে অত্যন্ত আশাবাদী করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এ উৎসাহই দেশে ইসলামি গবেষণার সোনালি দিনের আগমনের পূর্বাভাস বহন করছে।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন রব্বানী ও ড. মোহাম্মদ নাছের উদ্দিন। প্রশিক্ষকরা গবেষণার বিষয় নির্বাচন, তথ্যসূত্রের যথাযথ ব্যবহার, একাডেমিক লেখার কৌশল, গবেষণা প্রস্তাবনা প্রণয়ন এবং গবেষণা প্রবন্ধ প্রস্তুতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উক্ত কর্মশালার দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও সংস্থার বিপুল সংখ্যক গবেষক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা কর্মশালাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ, সময়োপযোগী এবং গবেষকদের জন্য পথনির্দেশক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করে আরো বিস্তৃত আকারে আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। এ প্রেক্ষিতে সংস্থার নিবার্হী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সেন্টারের কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন।




মশা নিধনে দেশীয় উদ্ভাবন পরীক্ষামূলক প্রয়োগের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

মশা নিধনে দেশীয় উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিয়ে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কাজে লাগাতে সিটি করপোরেশনগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইয়ুথ টু ওয়ার্ল্ড আয়োজিত ‘মশা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত যে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খুব একটা কাজে আসছে না। তবে দেশীয় রাসায়নিক ব্যবহার করে যে প্রযুক্তি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি সম্ভাবনাময়।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া বিস্তারের বর্তমান মৌসুমে মশার লার্ভা নিধন করাই প্রধান কাজ। নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কাজ করা গেলে মশা নিধনে সিটি করপোরেশন এবং উদ্ভাবকদের যৌথ কর্মসূচি সফল হবে।




বেনজীরকে ফেরাতে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল দুবাই পুলিশ

দুর্নীতির একাধিক মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে প্রত্যর্পণের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পর্কে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

আ জ কের পত্রি কার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ দিন আগে দুবাই পুলিশের ওই চিঠি বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় চিঠির জবাব প্রস্তুত করছে দুদক।

বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথিপত্র সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বলেন, দুবাই পুলিশের চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত জবাব পাঠানো গেলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি বাংলাদেশ সরকারকে ই-মেইলে জানায় যে, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।

পরে বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবিতে অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। ওই নথিতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় আইনি দলিল সংযুক্ত ছিল। প্রায় এক মাস পর সেই আবেদনের জবাব দিয়েছে দুবাই পুলিশ। বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুবাই পুলিশের চিঠিতে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—বাংলাদেশ কোন আইনের আওতায় এবং কী প্রক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদকে প্রত্যর্পণ করতে চায়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ বিষয়ে কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই। এ ছাড়া আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি, পরোয়ানার কার্যকারিতা এবং পুরো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন সমন্বয় করছে এসব বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে ২০২৪ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক। আদালতের নির্দেশে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়। তদন্ত চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ মে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন।

পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পেছনে তার কয়েকজন সাবেক সহযোগীর দেওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যবসায়িক ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা দুবাই পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেন। পরে একটি শপিং মল থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ক্ষেত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও দুবাই পুলিশের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।




দেশে সারের কোনো সংকট নেই: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। বিগত সরকারের মতো কেউ কারসাজির চেষ্টা করলে সে যে দলেরই হোক তাকে আইনের হাতে তুলে দিন।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষি ঋণ মওকুফের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে কিনা, বিষয়টি খতিয়ে দেখুন। কৃষিকাজ ছাড়া আমাদের কিছুই নাই। বর্তমান সরকার প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ১০ হাজার করে কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে কৃষকদের জন্য কাজ শুরু করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া পাঁচ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিলেন। কিন্তু বিগত দিনের সরকার গুলো কৃষকের কথা চিন্তা করেনি। শুধু নিজেদের এবং দলের স্বার্থের কথা চিন্তা করেছে। আমরা ঋণ মওকুফের ক্ষেত্রে দল মত দেখিনি। এই ঋণ নিয়ে অনেক কৃষক হয়রানির স্বীকার হয়েছেন, মামলার স্বীকার হয়েছেন আজ তারা ঋণমুক্ত হলেন।

পরে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ মওকুফ সনদ বিতরণ করেন। সঙ্গে প্রতি কৃষককে তুলে দেওয়া হয় পাঁচটি করে গাছের চারা। উপজেলার পাঁচ হাজার ৮৯২ জন কৃষককে এই ঋণ মওকুফ সনদ দেওয়া হয়। জেলার ২০ হাজার ৬৭১ জন পাবেন এই সুবিধা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, পুলিশ সুপার আবু সাইম, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধি, সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




বক্সখাটের ভেতর লুকানো খাদ্য অধিদফতরের চাল, ৯৯৯ ফোনকলে উদ্ধার

পাচারের উদ্দেশ্যে ভোলার লালমোহনের কিশোরগঞ্জে জসিম সর্দার নামের একজনের বাড়িতে বক্সখাটের ভেতর লুকানো চাল ৯৯৯ নম্বরে ফোনকলে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সোয়া ১টার দিকে ভোলার লালমোহন থানাধীন কিশোরগঞ্জ থেকে একজন কলার ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে জানান, তাদের গ্রামে জসিম সর্দারের বাড়িতে খাদ্য অধিদফতরের সরকারি চাল আত্মসাৎ করে পাচারের উদ্দেশ্যে বক্সখাটের ভেতর লুকিয়ে রেখেছে।

আনোয়ার সাত্তার বলেন, ৯৯৯ থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লালমোহন থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে লালমোহন থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জসিম সর্দারের বাড়ি থেকে ৩০ কেজির ২৪ বস্তা চাল এবং ৫০ কেজির ৯ বস্তা চালসহ মোট ১১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থল থেকে রোকেয়া বেগম (৩৫) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত জসিম সর্দার পলাতক রয়েছেন। এ সংক্রান্তে একটি মামলা করা হয়েছে।




বিশ্বকাপ দেখানোর নামে ২০২২ সালে লুটপাট, এবার ঘাটতি মাত্র ৪-৫ কোটি টাকা

২০২২ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট হয়েছে। অথচ এবার সরকার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচার স্বত্ব কিনে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় পুরো খরচই তুলে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

এবার স্বত্ব কিনে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানোর ক্ষেত্রে সরকারের ঘাটতি মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা, সেটিও আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

 

রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মিডিয়া রাইটস ফিফার কাছ থেকে সরাসরি ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে কিনেছে। পরে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে অধিকাংশ অর্থ আদায় করা হয়েছে। ফলে, সরকারের প্রকৃত ঘাটতি মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। এই ঘাটতিও রাজস্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে পূরণ করার চেষ্টা চলছে।

 

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ ছিল দেশের মানুষকে বিশ্বকাপের খেলা দেখাতে হবে, তবে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো যাবে না। সে লক্ষ্যেই ফিফার সঙ্গে সরাসরি দরকষাকষি করে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা হয়েছে।

২০২২ সালের বিশ্বকাপের সঙ্গে এবারের ব্যবস্থার তুলনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সে সময় ফিফার কাছ থেকে একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি সম্প্রচার স্বত্ব কেনে। পরে বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান সেই স্বত্ব কিনে বিটিভির কাছে ৯৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট সম্প্রচার স্বত্ব ২২ কোটি টাকা এবং ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।

তিনি বলেন, ফিফা পেয়েছিল মাত্র ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। বাকি অর্থ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে গেছে। জনগণের করের ৯৮ কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার সেই সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল। এটি ছিল বিশ্বকাপ দেখানোর নামে দুর্নীতির একটি উদাহরণ।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচার এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যয়ের তুলনা করলেই বোঝা যাবে আগের সরকারের সময়ে কীভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হয়েছে। আর বর্তমান সরকার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কিনে নামমাত্র ব্যয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করেছে। ২০২২ সালের এই তুলনাটা সামনে আনলেই বোঝা যাবে যে, শেখ হাসিনার আমলের কীভাবে বিশ্বকাপ দেখানোর নামে দুর্নীতি হয়েছে, টাকা লুটপাট হয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা ব্যবহার করেছে, রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রে যেভাবে লুটপাট হয়েছে, এখানেও কীভাবে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিটিভি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এ প্রক্রিয়া সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনকভাবে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বিটিভির ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রায় নামমাত্র ব্যয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে। এখনও রাজস্ব ভাগাভাগির কিছু বিষয় বাকি রয়েছে। সেগুলো সম্পন্ন হলে সরকারের আর কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, সম্প্রচারকালীন বিটিভির নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার না হওয়ায় যে সময় ব্যয় হয়েছে, সেটির অর্থমূল্য হিসাব করলে পুরো আয়োজন লাভজনক অবস্থানে চলে যাবে। বিটিভির প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা সফলভাবে সম্প্রচার পরিচালনা করেছেন এবং বিটিভির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, সেটিও ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

সচিবের দায়িত্বে থাকা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম বলেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সময় বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিটিভি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা তা সফলভাবে প্রতিরোধ করেছেন। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছিল, তারাই কেবল সম্প্রচার করতে পেরেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং চলবে। সরকার আইনি প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করবে।

 

বিটিভির মহাপরিচালক বলেন, এ বিষয়ে বিটিভির অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দুদকেও একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে বলে তার জানা আছে।

পরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজন হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বা বিটিভির পক্ষ থেকে দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে বাংলাদেশে এনে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি ভালো প্রস্তাব। বিষয়টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।

 

খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্রীড়াকে পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ছোটবেলা থেকেই চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে কৃতী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা এবং স্পোর্টস কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিটিভির ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনমত গঠন এবং ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিষয়গুলো নিয়ে বিটিভিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।




প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস ডিএসসিসি প্রশাসকের

প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করেপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

তিনি বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও মানুষ। এ রাষ্ট্রে তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে। কিন্তু বিভিন্নভাবে তারা বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হন। রাষ্ট্রের উচিত তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুস সালাম বলেন, বিএনপি সবসময় এ বিষয়ে এগিয়ে এসেছে। আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়গুলোতে অত্যন্ত সচেষ্ট। তার সহধর্মিণীও এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, যখনই প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা আসে, তখন তাদের এগিয়ে আনতে তারা সবসময় সচেষ্ট থাকেন। আমাদের সমাজে যেসব প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন ও দেখাশোনার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; আমরা যারা সমাজে বসবাস করি, আমাদের সবারই সমান দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি তাদের পাশে দাঁড়াই, তাহলে এই পিছিয়ে থাকা মানুষগুলো আর পিছিয়ে থাকবে না। কারণ তাদেরও মেধা আছে। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও রাষ্ট্রকে অনেক কিছু দিতে সক্ষম। যদি তারা বেঁচে থাকার সুযোগ পায়, পড়াশোনার সুযোগ পায়, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পায়, চাকরি করার সুযোগ পায়—তাহলে অবশ্যই তারা তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমি অন্তত এটুকু বলতে পারি যে, আমাদের সরকার এ ব্যাপারে সচেষ্ট। ঢাকা মহানগরের প্রশাসক হিসেবে বলতে পারি, আমরাও এ বিষয়ে আন্তরিক। যে কোনো সময়, যে কোনো প্রয়োজনে আপনারা আমাদের কাছে আসবেন। আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করবো।

 




ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতিই বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিসিএফএ আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস
ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভূ-রাজনীতি নয়, বরং আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও জনশক্তি রপ্তানির মতো অর্থনৈতিক নিয়ামকগুলোই বাংলাদেশের বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতির মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে চীন।’

আজ (শনিবার) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

বাংলাদেশ-চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি মূলত অর্থনীতিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। সংগত কারণেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বহুলাংশে চীন নির্ভর। আমাদের মোট এফডিআই (সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ) স্টকের মধ্যে চীনের অবস্থান দ্বিতীয়।’

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই আমদানি নির্ভর। বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ এখনও ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। তবে বাংলাদেশের এই রপ্তানি সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য চীন সরকারের আগ্রহ রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আমাদের অর্থনীতির গতিকে আরও বেগবান করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী চিন্তার আলোকে চীন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হতে পারে।

যোগাযোগ ছাড়া কোনো অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সফর সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহাসিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে একমত হয়েছে।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরও জানান, দীর্ঘদিনের কিছু জটিলতা কাটিয়ে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে এই উদ্যোগে ভারতসহ অন্য যেকোনো দেশকে স্বাগত জানানো হবে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক বিশাল কৌশলগত বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সমস্যাকে একটি অন্যতম বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী উত্তরণে চীনের পক্ষ থেকে শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা আমাদের সরকার প্রত্যাশা করে।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি স্পষ্ট করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি বাস্তবসম্মত নীতিতে বিশ্বাসী। ভূ-রাজনীতি আমাদের প্রধান লক্ষ্য নয়, আমাদের অগ্রাধিকার হলো অর্থনীতি। আমরা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করি, আমেরিকা ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স আয় করি। এই অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয়। চীন আমাদের এই অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে।’

তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই মৈত্রী ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেমকে আরও ফলপ্রসূ ও গতিশীল করতে চীনা রাষ্ট্রদূতকে এই সম্পর্কের অন্যতম রূপকার বলেও মন্তব্য করেন।




শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কিছু শিক্ষার্থীর আন্দোলনের পেছনে সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে কিছু মহল সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

তিনি বলেন, যারা আন্দোলন করছে তাদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থী নন। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন ইস্যুতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারকে বিব্রত করতে চায় এমন কিছু মহল তো আছেই। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন ইস্যুতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বা ব্যর্থ হয়েছে, তাদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় তদন্ত করবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুল হওয়া দুটি প্রশ্নের নম্বর পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী সংসদে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে আর বেশি কিছু বলার নেই।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সরকার কীভাবে দেখছে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো আমরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। দুই-একটি জেলা এবং ঢাকার কয়েকটি স্পটে সীমিতসংখ্যক মানুষকে এ বিষয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। মিডিয়ায় আসায় বিষয়টি বেশি আলোচনায় এসেছে।

শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে জনভোগান্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সচিবালয়ে গিয়ে দাবি আদায়, পরীক্ষা স্থগিত বা বিনা পরীক্ষায় পাসের মতো একটি অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। সেই প্রবণতার ধারাবাহিকতাই এখনো কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হতে দেব না। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে চাই। বাংলাদেশের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করে জ্ঞানসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক একটি জাতি গড়ে তুলতে চাই।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অটোপাস, অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া এবং ঢালাওভাবে জিপিএ-৫ দেওয়ার সংস্কৃতির সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এসবের কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে।

সম্প্রতি আন্দোলনে পুলিশের হামলার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো ডিসইনফরমেশন। প্রকৃত ঘটনা, ছবি ও ভিডিও সবার সামনে রয়েছে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।

আন্দোলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পেছনে যেই থাকুক, সামনে তো আমরা আছি।




মানবপাচার দমনে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে প্রণীত নতুন আইন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় নতুন আইনটি সময়োপযোগী এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও আধুনিক করা হয়েছে। নতুন আইনটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে এবং এসব অপরাধ দমন ও বিচারের জন্য সমন্বিত আইনগত কাঠামো গড়ে তুলেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আইনটিতে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতির আলোকে ভুক্তভোগীদের শাস্তির আওতার বাইরে রাখার বিধানও রাখা হয়েছে, যাতে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি নতুন আইন বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে আইনটির মূল বিধান, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং তদন্ত থেকে বিচার পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় সমন্বয় জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, কূটনৈতিক মিশন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।




বন্যাকবলিত‌দের জন‌্য যুক্তরাজ্যের ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা সহায়তা ঘোষণা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৩৫৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা) মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

এই সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৫ হাজারের বেশি মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

হাইক‌মিশনার জানায়, আন্তর্জাতিক সংস্থা স্টার্ট নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনায় এবং স্থানীয় ও জাতীয় বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ছয়টি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলায়– কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

আগে চলতি বছরের মে মাসে সিলেট অঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার ২ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা) জরুরি সহায়তা দিয়েছিল। নতুন সহায়তা মিলিয়ে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি (প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা)।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া জরুরি তহবিলের (ডিআরইএফ) মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১০টি জেলার মানুষের জন্য আরও ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৮ পাউন্ড (প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা) সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ হাইড্রো-মেট পার্টনারশিপের আওতায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের তথ্য ব্যবহারে সহায়তা করছে।




শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের ফের বিক্ষোভ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে নেমেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ’দফা এক, দাবি এক-শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’ স্লোগান দেন।

তারা বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। এ কারণে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।

 

তারা আরও বলেন, এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ও নগরীর ২ নম্বর গেট থেকে। এর ন্যায্য সমাপ্তিও এখানেই হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায় করুন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে নগরীর মুরাদপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরা। তারা বন্যাকবলিত এলাকায় অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও পুনর্নির্ধারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে বিকেল ৩টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক খুলে ফেলেন। এ সময় ফটকের সামনে থাকা কয়েকটি ব্যারিকেড ও স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে শিক্ষা বোর্ড এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।




ঢাকাকে রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল

বিশ্বের তৃতীয় বসবাস অযোগ্য শহর হিসেবে পরিচিত ঢাকাকে রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আপনার-আমার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, নগরের মেয়র বা প্রশাসক অনেক ক্ষেত্রেই অসহায় অবস্থায় থাকেন। কারণ, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এই সমন্বয়হীনতার কারণে নগরবাসীকে নানান ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

রাজধানী ঢাকার পুঞ্জীভূত নাগরিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গভর্নমেন্টে’ রূপান্তর করা প্রয়োজন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোকে যদি একটি স্বশাসিত সরকারে পরিণত করা না যায়— যা ঢাকা শহরের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়, অন্যান্য বিভাগ ও সেবা সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করবে, তাহলে এই মেগাসিটির দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ সব ধরনের নাগরিক সেবায় গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এজন্য সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।




জানুয়ারিতে এসএসসি ও জুনে এইচএসসি পরীক্ষা : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

আগামী ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক সময় সাশ্রয় এবং শিক্ষাবর্ষকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টা থেকে সংসদের এই বৈঠক শুরু হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবর্ষকে সময়োপযোগী করতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্গঠনের কাজ করছে। এই নতুন পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার মধ্যকার সামঞ্জস্য ফিরবে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। সরকার পর্যায়ক্রমে পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সংসদের একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক পদগুলো খুব শিগগিরই পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

খায়রুল কবির খোকন তার প্রশ্নে জানতে চান, বর্তমানে দেশের ৩৪ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে কিনা এবং এই শূন্য পদগুলো কবে নাগাদ পূরণ হবে।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে। আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ায় এখন খুব দ্রুতই যোগ্য শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদগুলো পূরণ হয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, আগের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী এখন থেকে ৮০ শতাংশ পদই পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। নতুন এই বিধিমালা তৈরির পর মামলাজনিত কারণে এতদিন পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এখন যেহেতু মামলার রায় চলে এসেছে, তাই সম্পূর্ণ নীতিমালা মেনে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে ৮০ শতাংশ পদেই দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া হবে।




একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত সেই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে একজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিত ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন। তিনি বলেন, মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন। রায়ে সাইফুর রহমানকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের মো. তাহিদ মিয়ার ছেলে।

এ ছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপর একটি ধারায় তাদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রবিউল হাসান ওরফে ইসলাম, মাহফুজ রহমান মাসুম, মো. আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল এবং মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার আগে বিচারক ৯১ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ পড়ে শোনান।

এর আগে গত ৮ জুলাই আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন নির্যাতিত তরুণী ও তার স্বামী, আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের এক অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববিবাহিত এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে কয়েকজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ডিএনএ পরীক্ষায় ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।




৩ দাবিতে চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নগরের ষোলশহর শিক্ষাবোর্ডের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

এসময় তারা দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি জানান।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের দাবি শুধু চট্টগ্রামের নয়, দেশের সব এইচএসসি পরীক্ষার্থীর স্বার্থে উত্থাপন করা হয়েছে। চলমান বন্যা, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ সংকটের কারণে অনেক জেলার শিক্ষার্থীর পক্ষে নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা স্থগিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব পরীক্ষার্থী ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে তার দায় শিক্ষার্থীর ওপর বর্তায় না।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে অনেকেই চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কোথাও হাঁটু কিংবা কোমরসমান পানি, কোথাও তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থীরা আরও বেশি সংকটে রয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন।

সমাবেশে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা পরীক্ষার বিরোধিতা করছি না। আমরা চাই দুর্যোগকালীন সময়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে পরীক্ষা নিলে অনেক শিক্ষার্থী অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, বন্যা, জলাবদ্ধতা কিংবা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে কোনো পরীক্ষার্থী যেন ভবিষ্যতে পিছিয়ে না পড়ে। দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরীক্ষা নেওয়াই যৌক্তিক হবে।

বিক্ষোভ মিছিলে ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভে শিক্ষামন্ত্রী মিলনের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

বিক্ষোভ শেষে দাবি পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।




ছয় বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ঢাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের ছয় বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৩ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সোমবার সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) এবং অতি ভারী (১৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকা ও নগরীর স্বাভাবিক জনজীবনেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

সতর্কবার্তাটি আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক পরিচালকের পক্ষে স্বাক্ষর করে প্রকাশ করেন।




জনগণ পাশে থাকলে দেশ পুনর্গঠনে সরকার কোনো বাধাই মানবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

আজ সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের ডেকে জানতে চান, ‘আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?’

এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, ‘এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এরকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরও অনেক পরিবার আছে, যারা এখনও কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সকল পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ মা-বোনদের কাছে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে সংসারের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও তাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের প্রয়োজন।’

বিএনপি সরকারকে পাশে থাকতে দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশেই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সমাজে বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। ধীরে ধীরে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও তারা শক্তিশালী হবে।’

দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সকল নাগরিক এবং সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। আমরা ধৈর্যশীল হলে এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মের অনুসারীই হই, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সকল ধর্মের মানুষ মিলে শান্তিতে বসবাস করার। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ভেদাভেদ না করেই চলতে চাই। সবাইকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই আমরা।’

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি কথা বলে থাকি, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। এবার আরেকটি কথা বলতে চাই, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”। আগামী দিনে সবাই যাতে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে চলতে পারি সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।

এরপর প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি সেখানে ত্রিশ গোডাউনের বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।




কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ২শ’ মেগাওয়াট

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধিতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২শ’ মেগাওয়াট।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সোমবার বেলা ১১ টায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বাসস’কে বলেন, গতকাল রোববার পর্যন্ত লেকের পানি ১শ’ ফুট মিন সি লেভেল এর নীচে থাকলেও আজ সোমবার সকাল হতে লেকের পানি ১শ’ ফুট মিন সি লেভেল অতিক্রম করেছে। সেই সাথে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২শ’ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।

 

তিনি জানান, আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল ছিল ১০০.৬০ ফুট মিন সি লেভেল। যেখানে গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত পানির লেভেল ছিল ৯৯.১৫ ফুট মিন সি লেভেল।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২শ’ ৬ মেগাওয়াট। যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন।

এদিকে, কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বাসস’কে জানান, আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের ১ নং, ৩ নং, ৪ নং এবং ৫ নং ইউনিট হতে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে ১শ’ ৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নং ইউনিট হতে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ৫টি ইউনিট এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই লেকে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রে উৎপাদন বেড়েছে। পানি সংকটের কারণে দীর্ঘ ৩ মাস ধরে সচল থাকার পরও কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট এক সাথে চালু করা সম্ভব হয়নি।

তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই লেকের পানি বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন আরও বাড়বে।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এসময় রুলকার্ভ অনুযায়ী লেকে পানি থাকার কথা ৯০ দশমিক ৩১ ফুট মীন সী লেভেল (এমএসএল)। বর্তমানে পানি আছে ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট এমএসএল। লেকে সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

উল্রেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ প্রকৃতির উপর নির্ভর। কাপ্তাই লেকে পানি বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট এক সাথে চালু থাকলে ২৩০ থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে।




সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।

সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।

একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




ঢাকায় সর্বোচ্চ ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকাসহ ছয় বিভাগে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এস কে এম নাজমুল হক-এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের মালিক খায়রুলের ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

 

বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশারের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সিআইডির আবেদনের পর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ আদেশ দেন।

রোববার (১২ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশার বাহার ও তার সহযোগীরা পারস্পরিক যোগসাজশে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বল্প খরচে ও দ্রুত সময়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকালে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে গত বছরের ১৪ জুলাই ধানমন্ডি থানা এলাকা থেকে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।

তিনি আরও জানান, তদন্তে উঠে এসেছে প্রতারণার অর্থ দিয়ে খায়রুল বাশার রাজধানীর ভাটারা এলাকায় বড় স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট, দ্বিতীয় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ডোনার নামে শেলটেক বিথীকা প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট, নিজের নামে রাজাবাজার এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট এবং আজিজ সড়কে জি+৭ তলা ও জি+৬ তলা বিশিষ্ট দুটি বাড়ি কিনেছেন। এছাড়া তার নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৩ হাজার ৪৮২ দশমিক ৫ শতাংশ জমিও রয়েছে। এসব সম্পদের দলিলমূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের পর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত আসামির নামে থাকা এসব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, খায়রুল বাশার নিজেকে শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সহযোগিতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে তার নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা আরও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান করছে সিআইডি।




পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলছে ট্রেন

ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে টানা কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়েছে।

রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ হওয়ায় রোববার (১২ জুলাই) থেকে এ রুটের সব ট্রেন নিয়মিত চলাচল শুরু করেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা) রেজাউল করিম সিদ্দিকীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত কয়েকদিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশের রেললাইন প্লাবিত হয়। এতে ট্রেন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ায় গত ৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীসময়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ষোলশহর-জানআলীহাট সেকশনের রেললাইন ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটের পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, আজ রোববার থেকে ঢাকা-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার-ঢাকা রুটের সব ট্রেন নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।




২০ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদী বন্দরে সতর্ক সংকেত

রাতের মধ্যে দেশের ২০ অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড় ও বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার (১২ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক-এর দেওয়া অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ রাত ১টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি ৭ নির্দেশনা

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে সাতটি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

শনিবার অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরুরী ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ যুক্ত ছিলেন।

এছাড়াও সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), পরিচালক (প্রশাসন), সকল বিভাগীয় পরিচালক, সকল জেলার সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচাল অনুমোদনক্রমে ৭টি সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন মনোয়ন প্রদান করতে হবে।

 

ফোকাল পারসন কন্ট্রোল রুম এবং অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করবেন। প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ফোকাল পারসনের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের সরবরাহ করতে হবে।

বন্যা দুর্গত জনগোষ্ঠীর জরুরী স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সদস্যদের সমন্বয়ে বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে।

 

বন্যা দুর্গতদের জরুরী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কার্যক্রম সম্পর্কে ফোকাল পারসন নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং, প্রেস নোট প্রদানের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন। রবিবার (১২ জুলাই) তারিখে বন্যা দুর্গতদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করণের জন্য জরুরী প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় জরুরী স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য সকল প্রকার জরুরি ঔষধ, ওআরএস/স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এর পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রাখতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রযোজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিকে হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।

বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলা এবং জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য সকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য সকল কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।




শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানের বাতিঘর : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানের বাতিঘর। এই বাতিঘর থেকে জ্ঞানের আলো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। আর শিক্ষকরা হলেন সেই আলোর বাহক।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সমাজ উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী আজ সকাল ১০টায় গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত শিক্ষা হলো মুক্ত চিন্তার শিক্ষা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের যোগ্যতা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘সুনাগরিক তৈরি করতে পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা প্রদান করতে হবে।’

পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হতে আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া নিয়মিত খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও দলগত কাজের মানসিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল কাজে লাগাতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তথ্যমন্ত্রী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আলমের সভাপতিত্বে বরিশাল শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ মো. আফজাল হোসেন, নলচিড়া স্কুলের সাবেক সভাপতি আব্দুল ছাত্তার মৃধা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আল মামুন স্বপন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




পর্যটন শিল্পের বিকাশে ঢাকায় হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট

আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং বৈশ্বিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংযোগ সম্প্রসারণে দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ট্রেড মার্কেটপ্লেস বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টের (বিটিএম) আয়োজন হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (বোটোয়া) উদ্যোগে ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এই ট্রাভেল মার্ট অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশসহ ২০টি দেশের ১৩০টির বেশি প্রদর্শক, শতাধিক পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থীর অংশগ্রহণের আশা করছেন আয়োজকরা।

 

শনিবার (১১ জুলাই) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বোটোয়ার সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বর্তমানে সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। সরকারের নীতিগত সহায়তা, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ জানান, দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও আন্তরিক আতিথেয়তা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে ক্রমেই আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। এই সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে বোটোয়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট আয়োজন করছে। ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের এ আয়োজন দেশের পর্যটন, ভ্রমণ ও এভিয়েশন শিল্পের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, সংগঠনটি মূলত দেশের আউটবাউন্ড পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করলেও একই সঙ্গে ইনবাউন্ড পর্যটনের সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে।

ট্রাভেল মার্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর মহসিন ইকবাল জানান, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট-২০২৬ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, এয়ারলাইন্স, হোটেল, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (ডিএমসি), ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতাদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে, যা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টে প্রথমবারের মতো বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) এবং বিজনেস-টু-কনজ্যুমার (বিটুসি) কার্যক্রম পৃথক দুটি প্রদর্শনী হলে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দেশের ট্রাভেল ফেয়ারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হোস্টেড বায়ার প্রোগ্রাম আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও প্রদর্শকদের মধ্যে নির্ধারিত ব্যবসায়িক বৈঠকের ব্যবস্থা থাকবে।

আয়োজকদের মতে, বিটুবি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক বায়ার-সেলার মিটিং, বিজনেস নেটওয়ার্কিং ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতে নতুন বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ, সীমান্ত-অতিক্রমী পর্যটন সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যদিকে, বিটুসি প্ল্যাটফর্মে দর্শনার্থীরা দেশি-বিদেশি ভ্রমণ প্যাকেজ, বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সেবা, বিভিন্ন গন্তব্য-সংক্রান্ত তথ্য ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ভ্রমণ অফার সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও সেবা নিতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বোটোয়ার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মহসিন ইকবাল, সহ-সভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামানসহ সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে : আইনমন্ত্রী

আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ওপর হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

তবে নির্বাচনকালীন এ সরকার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা রায় দেখলে বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এরপরে যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে? এটি আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আপনারা জানেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। কীভাবে? ৯১ সালে যে নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের ফসল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই কনসেপ্ট থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়ায় গিয়েছি।

‘৯৬ সালে বিএনপি পার্লামেন্টে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল এনেছিল। এনে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল’, বলেন আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি এটির জন্য বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ যে স্লোগান দিয়ে আমরা নিরন্তর সংগ্রামের পথে হেঁটেছিলাম, সেই পথে হাঁটার মুখ্য লক্ষ্য ছিল যে— ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। সেই প্রক্রিয়ায় ফেরার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। আমরা সেই জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।




পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ দুটি কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ প্রদান করেন। পাশাপাশি সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এবার রাজধানীতে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশ নিয়েছে ১২০টি স্টল।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃক্ষরোপণকে জাতীয় আন্দোলনে রূপ দিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৭৯ সালে তাঁর উদ্যোগে দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করা হয়। পরে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন এবং সামাজিক বনায়ন সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখেন।

এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বনায়ন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

এর আগে গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ’ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) আয়োজিত জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের প্রমাণভিত্তিক ফলাফল, বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা এবং এ কার্যক্রম থেকে অর্জিত শিক্ষাগুলো তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় জানানো হয়, এসব অভিজ্ঞতা নগর এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সরকার জনস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজ করছে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দেশের দুর্গম এলাকায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে দ্রুত পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স এবং ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমমানুয়েল আব্রিউ বক্তব্য দেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, নগর জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও এখনো অনেক শিশু ও পরিবার সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এ প্রেক্ষাপটে ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে স্থাপিত ছয়টি ‘আলো ক্লিনিক’ জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজের আওতায় বিনামূল্যে, সমন্বিত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

 

আলো ক্লিনিকের মাধ্যমে মাতৃ, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি স্ক্রিনিং, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী এসব সেবা গ্রহণ করছেন। এছাড়া চারটি ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টা ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সেখানে এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা দেওয়া হয়েছে।




উখিয়ায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮, জীবিত উদ্ধার ১৪

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহেতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই ১২-১৩ বছর বয়সী কিশোরী। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

এর আগে ঘটনার পরপর তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও ক্যাম্প প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় চলা উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ৮ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা সহোদর বোন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অপর দুজন ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা।

হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস এবং ক্যাম্প প্রশাসনের আওতাধীন সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় পুরো উদ্ধার কার্যক্রম ও দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন বলছে, ওই মাদরাসায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড় ধসের আশঙ্কায় অনেকে বেরিয়ে যায়। তবে একেবারেই পাহাড়-লাগোয়া একটি কক্ষে হঠাৎ মাটি এসে পড়ে। ফলে ওই কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে এবং মাটিচাপা পড়ে। যাদের অধিকাংশই মারা গেছে।

ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসা ছুটি হওয়ার সময় বাকি ছিল আর কয়েক মিনিট, এর মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। মাটি ভরাট করে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ভারী বর্ষণের কারণে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী শিশুসহ প্রাণ হারান ৮ জন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত গত তিন দিনে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণের ফলে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।




প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, দেশের সরকারি ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।

শিক্ষা খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু মানবসম্পদ উন্নয়নে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কৃষি খাত নিয়ে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক বন্ধ কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। পাশাপাশি সনাতনী কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল রপ্তানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে দেশের পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে ইতিবাচক অবস্থায় ফিরছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।