৫১ ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছালেন ২০,৫৫৩ হজযাত্রী

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৫৫৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৫১টি ফ্লাইটে তারা সেখানে যান। এদিকে হজে গিয়ে নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত হজ বিষয়ক সর্বশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হজ বুলেটিনের আইটি হেল্প ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৯টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৮৫৫ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৫ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

মোট হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ২ হাজার ৮৩০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ১৭ হাজার ৬৯৩ জন।

এদিকে চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত একজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহত নইম উদ্দীন মন্ডলের বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ওই দিন ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

হজ ফ্লাইট পরিচালনা চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। এরপর ৩০ মে থেকে শুরু হবে ফিরতি ফ্লাইট, যা শেষ হবে ৩০ জুন।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অংশ নেবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।




ঈদ ঘিরে শিল্পাঞ্চলে দুষ্কৃতকারী দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার তৎপরতা বাড়িয়েছে। এ লক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলে দুষ্কৃতকারীদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বুধবার (২২ এপ্রিল) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিল্প মালিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা ঢাকা ও গাজীপুরের শ্রমঘন শিল্পাঞ্চলের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে কারখানাগুলোর জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এসময় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু কারখানার জেনারেটরের জন্য ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সহায়তা চান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমমন্ত্রী পেট্রোল পাম্পগুলোতে সংশ্লিষ্ট কারখানার নাম ও প্রাপ্য ডিজেলের পরিমাণ উল্লেখ করে নোটিশ টানানোর নির্দেশ দেন, যেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি শিল্পঘন এলাকায় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

দুর্বল আর্থিক অবস্থায় থাকা কারখানাগুলো চিহ্নিত করে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ভাসমান ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।” শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে কারখানা মালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

 

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মো. ইমরুল মহসিন এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এছাড়া বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং শিল্প মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।




‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আজ (বুধবার) সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথোরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

 

এ ছাড়া, কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কে মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভি-এর সহিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড এবং সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত। উপরন্তু সরকার কর্তৃক সময় সময় যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তা সরকারি নির্দেশনামতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিপালন করে থাকে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।




শিক্ষার্থীদের মাঝে পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ করবে সরকার

দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ করবে সরকার।

আজ সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্কুলে পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন ।

তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তিন মন্ত্রণালয় যথাক্রমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, বস্ত্র ও পাট এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলায় দুটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাটের তৈরি ব্যাগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

দেশীয় পাট শিল্পকে রক্ষা এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে স্কুলে এই কর্মসূচি শুরু হবে। স্কুল নির্বাচন করবে স্থানীয় প্রশাসন।

তিনি বলেন, প্রথম মাসে এক লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস দেয়া হবে। সরকারের এই কার্যক্রমে প্রথম ধাপে প্রতি উপজেলার দুটি স্কুল পাবে। পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, এর মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও ন্যায্যতার বার্তা পৌঁছে দেয়া হবে। ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমাতে এটি ভূমিকা রাখবে।




ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ৯ ঘণ্টায় তিন সড়ক দুর্ঘটনা

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় পৃথক ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোররাত ৩টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এই সমস্ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে একপ্রেসওয়ের শ্রীনগর উপজেলার কামারখোলা সার্ভিস রোডের রেলওভার ব্রিজের ঢালের মাওয়ামুখী লেনে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে প্রাইভেটকারের ড্রাইভার গুরুতর আহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার নাম ঠিকানা জানা যায়নি।

এদিকে একই দিন সকাল ৭টার দিকে একই এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর রেলওয়ে ওভারব্রিজ সংলগ্ন সার্ভিস রোডে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক মেরামত কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও মালামাল বহনকারী একটি পিকআপের চাকা হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি উল্টে যায়। এতে পিকআপে থাকা পাঁচজন শ্রমিক আহত হন।

আহতরা হলেন, আনিচুর রহমান (৪২), রবি মন্ডল (৪৪), ধনঞ্জয় মন্ডল (৪৭), অভি (২২) ও শফিক (৪০)। তাদের সবার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকায়। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

এর আগে রাত ৩টার দিকে শ্রীনগর ফেরিঘাট এলাকায় মাওয়ামুখী লেনে এক পথচারী রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এছাড়া সকালের ও দুপুরের দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, গভীর রাতে মহাসড়ক পার হতে গিয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় এক ব্যক্তির নিয়ত হয়েছে। নিহতের মরদেহ হাইওয়ে থানায় রয়েছে। নিহতের নাম পরিচয় সনাক্তের জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে অবহিত করা হয়েছে।




‘শাহজালাল বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। সোমবার (২০ এপ্রিল) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, “আমরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে চাই। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমাদের সেই লক্ষ্য পূরণ হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা আপনাদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে একটি অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের শুভ উদ্বোধন করছি, যা আমাদের আকাশসীমাকে আরও নিরাপদ, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে।” এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “১৯৮০ সালে এই কুর্মিটোলায় ঢাকার নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভিত্তি রচনা করেছিলেন।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এই নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পরিসরের সমন্বিত আকাশসীমা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”




জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সংসদে প্রশ্নবাণে পড়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অত্যন্ত মডারেট বা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে জানতে চান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে ছিল, যা এখনো খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশের উপরে। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আছে কি না।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি কেন বাড়ছে, সেটি আমাদের বুঝতে হবে। সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম যে অনুপাতে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে সেটি অনেক কম। আমরা জ্বালানির দাম খুবই মডারেট হারে বাড়িয়েছি।

তিনি বলেন, একটি শিল্প কারখানায় মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানির পেছনে। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন খরচের সেই ৭-৮ শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশ প্রভাব পড়েছে, যা খুব বড় কোনো অভিঘাত নয়।

পরিবহন খাতের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলতে ২৫-৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে। এতে খরচ বেড়েছে ৪৫০ টাকা। এই ৩০ লিটার ডিজেলের জ্বালানি দিয়ে যে ট্রাকটি পণ্য পরিবহন করে, সেটি ১০ হাজার কেজি পণ্য বহন করতে পারে। অর্থাৎ, এই ৪৫০ টাকার প্রভাব ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর পড়ে। শুনলে মনে হতে পারে দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু পরিবাহিত পণ্যের ইউনিটের ভিত্তিতে হিসাব করলে এটি মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো বড় উদ্দীপক নয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড)। সেখানে সরকারের আলাদা পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। আমেরিকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে সেখানে গ্যালনপ্রতি দাম ২ ডলার ৭০-৮০ সেন্ট থাকলেও তা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আপনি অর্থনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না, যে জায়গায় ফান্ডামেন্টাল ব্যালেন্স ইমব্যালেন্সে পৌঁছে যায়। সেই ভারসাম্য রক্ষার্থে পৃথিবীর সব দেশ যে নীতি নিয়েছে, আমরাও সেই নীতি অবলম্বন করে মডারেটভাবে মূল্যবৃদ্ধি করেছি।




সব ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না : সংসদে শিল্পমন্ত্রী

বর্তমানে বিশ্বে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের শিল্পখাতে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের সবগুলো ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দেশীয় সার উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, গ্যাস স্বল্পতার কারণে দেশের অধিকাংশ সার কারখানা বন্ধ থাকলেও বর্তমানে কেবল ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি উৎপাদনে রয়েছে। তবে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস অনুযায়ী আগামী পহেলা মে থেকে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে এবং কারখানাটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির ওপর জোর দিচ্ছে শিল্প মন্ত্রণালয়। জিটুজি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব (সাবিক) হতে ২ লাখ মেট্রিক টন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ফার্টিগ্রোব) হতে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতির মাধ্যমে আরও ৪ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সার কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল যেমন- রক ফসফেট, ফসফরিক এসিড ও সালফারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টেন্ডারের পাশাপাশি সরাসরি উৎপাদনকারী দেশ মরক্কো, জর্ডান, ওমান, ইউএই, চীন ও মালয়েশিয়া হতে জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে এসব কাঁচামাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।




বাস ভাড়া কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির

বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। রোববার (১৯ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে পুঁজি করে বাস মালিক সমিতির সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী নেতারা অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। তারা সরকারের সঙ্গে মিলে একচেটিয়া ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। রাতের আঁধারে ভাড়া বৃদ্ধির গোপন বৈঠক এমন চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আজ রাতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও গণমাধ্যম এড়িয়ে বিআরটিএ সদর দপ্তরে গোপনে ভাড়া বৃদ্ধির বৈঠকের খবর এসেছে। এ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, নিকট অতীতে ৩ দফা জ্বালানি তেলের মূল্য ৩ টাকা হারে কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া কিলোমিটারে ৩ পয়সা হারে কমানো হয়েছে, ২ টাকা কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে ২ পয়সা হারে ভাড়া কমানো হয়েছে। এবার প্রতিলিটার ডিজেলের মূল্য ১৫ টাকা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা হারে বৃদ্ধির জন্য দেশের যাত্রী সাধারণের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, আমলাতন্ত্রকে ম্যানেজ করে এর অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে সরকারের জনপ্রিয়তায় কমবে, জনরোষ তৈরি হবে। তাই বাস মালিক সমিতিকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।




৫ ব্যাংকের সঙ্গে বিডার চুক্তি

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) অনলাইন একক সেবা প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিডার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নির্বাহী সদস্য এয়ার কমোডর মো. শাহারুল হুদা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এয়ার কমোডর মো. শাহারুল হুদা বলেন, বিনিয়োগকারীদের দ্রুত, সহজ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে বিডা ধারাবাহিকভাবে একক সেবা প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংককে এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হলো, যাতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পেতে পারেন।

চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলো হলো—ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। এই সমঝোতার ফলে এখন থেকে বিনিয়োগকারীরা একক সেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে বিডার একক সেবা প্ল্যাটফর্মে ১৪২টি সেবা চালু রয়েছে। এ ব্যবস্থার সঙ্গে বিডাসহ ৪৭টি অংশীজন প্রতিষ্ঠান যুক্ত আছে এবং এখন পর্যন্ত দুই লাখ ১৫ হাজারের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নতুন পাঁচটি ব্যাংক যুক্ত হওয়ায় সেবার পরিধি আরও বাড়বে। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে এখন পর্যন্ত বিডা মোট ৬৮টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

ভবিষ্যতে বিডা একক সেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৬০ প্রতিষ্ঠানের ১৫০টির বেশি সেবা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি সব আইপিএগুলোর সমন্বিত একক প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাবিজ’-এর মাধ্যমেও উল্লেখিত সেবাসমূহ পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিডার পরিচালক (একক সেবা ও তথ্য বিশ্লেষণ) সুনীল কুমার অধিকারী।

এ ছাড়া একক সেবা পদ্ধতি সম্পর্কে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন বিডার মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা রায়।




এসএসসি পরীক্ষায় ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ বাতিল

আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পরিচালনা নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বহুল আলোচিত ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা নীরব বহিষ্কার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ২৯ বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের অনুচ্ছেদ ২৯ অনুযায়ী কোনো পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার করলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ‘নীরব বহিষ্কার’ করা যেত।

একই সঙ্গে পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শকের সুস্পষ্ট বিবরণসহ গোপনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করে উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা ছিল। এক্ষেত্রে উত্তরপত্রের ওএমআর শিটের প্রথম অংশ আলাদা না করার বিষয়টিও উল্লেখ ছিল।

বিজ্ঞাপন

তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই অনুচ্ছেদটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। ফলে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ থেকে এই বিধান আর কার্যকর থাকবে না।

চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।




হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে বিগত সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বিগত দুটি সরকার যথাসময়ে হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমানে টিকা দিয়ে হামের প্রকোপ কিছুটা রোধ করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যখাতে ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করা হবে। সারা দেশে একলাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের ৮০ শতাংশই হবে নারী।’

তারেক রহমান আরও বলেন, বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থার বেশিরভাগ রাজধানীকেন্দ্রিক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সেবা প্রদান নিশ্চিতে চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ করবে সরকার।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত জরুরি সেবা ক্যাটাগরিতে মনোনীত ছয়জন চিকিৎসককে ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।




হজের প্রথম ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল, যাবেন ৪১৯ জন হজযাত্রী

সৌদি সরকার ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনার রোডম্যাপ অনুসারে ১৮ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু হবে। ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী ফ্লাইটে থাকবেন ৪১৯ জন হজযাত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এবছর বাংলাদেশ থেকে হজের উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এদিন মোট ১৪টি ফ্লাইট রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, চারটি সৌদি আরবের সাউদিয়া ও চারটি ফ্লাইনাস পরিবহন করবে।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন জানিয়ে এতে আরও বলা হয়, এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের জন্য যাবেন।

সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হজচুক্তি অনুসারে মোট হজযাত্রীর শতকরা ৫০ ভাগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ ভাগের মধ্যে সৌদি আরবের সাউদিয়া শতকরা ৩৫ ভাগ ও ফ্লাইনাস ১৫ ভাগ হজযাত্রী পরিবহন করবে।

২১ মে প্রি-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। প্রি-হজ ফ্লাইট ২০৭টি, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়ার ৭৫ টি ও ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে হতে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই শেষ হবে।




পোশাক শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের আহ্বান বিজিএমইএর

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এসময় বিজিএমইএ সভাপতি সরকারের প্রতি তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে শিল্পে বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতির সঙ্গে সংগঠনের ১ম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান এবং সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ক্রেতাদের আস্থা ফিরে এলেও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার পুনরায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তায় এগিয়ে থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এক নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, চাহিদা মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে বর্তমানে কারখানাগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ২৫-৩০ শতাংশ কমেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের বিপরীতে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য শিপমেন্ট মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

 

এ পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল সংকট মোকাবেলায় কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:-

জরুরি জ্বালানি সরবরাহ : তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান।

গ্যাস সংযোগ ও সমবণ্টন : বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য (যাদের বয়লার সক্ষমতা ৩০০-৫০০ কেজি) জরুরি গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী সব শিল্প অঞ্চলে সমতার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানানো হয়।

 

অবকাঠামো উন্নয়ন ও অটোমেশন : দ্রুততম সময়ে অন্তত ২টি অতিরিক্ত এফএসআরইউ স্থাপন এবং শিল্পখাতে ইভিসি মিটার স্থাপন প্রক্রিয়া সহজতর করার অনুরোধ করা হয়।

শুল্ক ও কর হ্রাস : আমদানিকৃত জ্বালানির উপর আমদানি ও ভোক্তা পর্যায়ে সব প্রকার ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করে উৎপাদন খরচ কমানোর এবং সরকারের ভর্তুকি চাপ কমানোর প্রস্তাব করা হয়।

বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাক শিল্পে সোলার পিভি সিস্টেমের সরঞ্জামাদি আমদানিতে বিশেষ শুল্ক রেয়াতি সুবিধার আবেদন জানানো হয়েছে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি ক্যাবল এবং বিইএসএস (বিইএসএস) এর মতো অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতির উপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক (২৮.৭৩% থেকে ৬১.৮০%) কমিয়ে ১%এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন, দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদানের কথা বিবেচনা করে সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ করার জন্য বিজিএমইএ এর প্রদত্ত ফরমেট অনুমোদন করেন।




রাজধানীতে ৭ দিনব্যাপী এসএমই বৈশাখী মেলা শুরু

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রচার ও বিকাশে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ৭ দিনব্যাপী ‘এসএমই বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকালে মেলার উদ্বোধন করেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মেলা চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সামিম আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এসএমই খাত। এ খাতের বিকাশে সরকারের সহায়তা আরও বাড়ানো হবে। তিনি জানান, এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির তহবিল বর্তমান ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মেলায় ১৫০টিরও বেশি স্টলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে হস্ত ও কারুশিল্প, পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ পণ্য, প্রস্তুত খাবার ও স্ট্রিট ফুড, কৃত্রিম গয়না, চামড়াজাত পণ্য এবং বিভিন্ন লাইফস্টাইল পণ্য।

আয়োজকরা জানান, বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পরিবার ও দর্শনার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করাই এ মেলার লক্ষ্য। এটি শুধু কেনাকাটার আয়োজন নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উৎসব।

মেলায় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে। প্রতিদিন থাকছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন। উদ্বোধনী দিন ১২ এপ্রিল মনিপুরি নৃত্য ও গম্ভীরা গান পরিবেশিত হয়। ১৩ এপ্রিল শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা এবং কুদ্দুস বয়াতির গান থাকছে। পহেলা বৈশাখে থাকছে সোহান আলী, ওশান মিউজিক ক্রু, নৃত্যছায়া ও বাউল সংগীতের পরিবেশনা।

এছাড়া মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, ফেস পেইন্টিং, টিয়া পাখির মাধ্যমে ভাগ্য গণনা, বানর খেলা, কিডস জোন, বেলুন শুটিং, রণপা, লোকজ নৃত্য, লাইভ টি-শার্ট পেইন্টিং এবং ঢাক-ঢোলের পরিবেশনা। টোকাই গ্রুপের লাইভ স্ট্রিট পারফরম্যান্সও মেলার একটি বিশেষ আকর্ষণ।

খাদ্যপ্রেমীদের জন্য রাখা হয়েছে ‘টেস্ট অব বাংলাদেশ’ কর্নার, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছে দেশের আটটি জেলার খাবারের স্টল।

মেলায় প্রবেশের জন্য সাধারণ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। এছাড়া ৭ দিনের জন্য এক্সপ্রেস টিকিট রাখা হয়েছে ২০০ টাকা, যার সঙ্গে পার্কিং সুবিধা রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতভুক্ত। শিল্প খাতে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এ খাতে, যেখানে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি মানুষ কর্মরত।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২১ লাখ উদ্যোক্তা উপকৃত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী।




চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজিবাহী দুই জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি বোঝাই দুটি জাহাজ পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি এলএনজি ও এলপিজিবাহী জাহাজ পর্যায়ক্রমে দেশে আসছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ডিএল লিলি এবং ভারত থেকে গ্যাস ক্যারেজ জাহাজ দুটি বন্দরে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে কংটং জাহাজ আসার কথা রয়েছে। সোমবার মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে পল জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে। এছাড়া আগামী ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে দেশে পৌঁছাবে মারান গ্যাস হাইড্রা এবং ১৮ এপ্রিল আসবে এলএনজিবাহী লবিটো।

এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ, যা সিলিন্ডারে ভরে বাসাবাড়ি ও রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে এবং যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি বহনযোগ্য হওয়ায় পাইপলাইন বিহীন এলাকায় গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র শিল্পের তাপ উৎপাদনে প্রধান ভরসা।

অন্যদিকে এলএনজি হলো অতিশীতল প্রাকৃতিক গ্যাস যা মূলত বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বড় বড় শিল্প কারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সার কারখানা, টেক্সটাইল ও সিরামিকের মতো ভারী শিল্পে উচ্চ তাপ নিশ্চিত করতে পাইপলাইনের মাধ্যমে এটি সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রগামী জাহাজ ও দূরপাল্লার ভারী ট্রাকের জ্বালানি হিসেবেও এলএনজির ব্যবহার হয়।




বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জার্মানি-সুইডেন

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি ও সুইডেন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক এই আগ্রহের কথা জানান।

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের একটি প্রধান গন্তব্য। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে, যা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

এসময় তিনি জার্মানিকে বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ও লেদার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি বাজারমুখী খাতে দক্ষতা উন্নয়ন (স্কিল ডেভেলপমেন্ট) এবং সম্ভাবনাময় বাজার উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) প্রত্যাশা করেন।

এরপর বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তিনি জানান, সুইডেনের সঙ্গে নন-ট্যারিফ বাধা অপসারণে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, টেলিকম খাতে সুইডেন বিশ্বে অগ্রণী দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ খাতে তাদের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান বৈঠকগুলোতে উপস্থিত ছিলেন।




মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে কাজ করছে সরকার

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা চাই স্বল্প খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যেন আমাদের মানুষ যেতে পারেন। মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছি এই প্রক্রিয়াটাকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন সেটি যেন করে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন আন্তরিক, তেমনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।

শ্রমিক পাঠানো কবে শুরু হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি উন্মোচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

‘বাংলাদেশে এখন যে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। বিচার বিভাগ তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যারা অপরাধী, যারা দুর্নীতি বা অপকর্মে যুক্ত, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি পাবে। একইভাবে যারা নির্দোষ, তারাও সুবিচার পাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ বলেন তিনি।

‘ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, এটি কোনো নতুন সিন্ডিকেট তৈরির উদ্যোগ নয়। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, মালয়েশিয়ার সব সেন্ডিং কান্ট্রির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাদের নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড রয়েছে, সেই অনুযায়ী তারা এজেন্সি নির্বাচন করে।

বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমরা ক্রেডিবল বা কোয়ালিফাইড বলতে তাদেরই বোঝাবো, যারা দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটমেন্ট পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে চাই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বেশি সংখ্যক মানুষ বিদেশে যেতে পারবে, অভিবাসন ব্যয় কমবে এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি।




মালয়েশিয়া থেকে আসছে ৬০ হাজার টন ডিজেল

মালয়েশিয়া থেকে ৭ কোটি লিটার ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ আসছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ও রাতে ৩ ঘণ্টা বিরতিতে ‍‘এমটি টর্ম দামিনি’ এবং ‘এমটি লুসিয়া সোলিস’ নামের জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

বিপিসির এক উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিপিসির নিয়মিত সরবরাহকারী ইউনিপেক (সিঙ্গাপুর) পিটিই লিমিটেড চায়না এবং পিটি বুমি সিয়াক পুসাকু (বিএসপি)-জাপিন ইন্দোনেশিয়া ডিজেলগুলো সরবরাহ দিচ্ছে।

জানা গেছে, ডেনমার্কের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজ এমটি টর্ম দামিনি মালয়েশিয়ার জোহর বন্দর এবং ইন্দোনেশিয়ান পতাকাবাহী এমটি লুসিয়া সোলিস মালয়েশিয়ার তানজুং পেলেপাস বন্দর থেকে গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। জাহাজ দুটি ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। জাহাজ দুটিতে ৩০ হাজার টন করে ৬০ হাজার টন ডিজেল থাকবে। যা লিটারে প্রায় ৭ কোটি ১১ লাখ লিটার।




বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু উপলক্ষ্যে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংহাই, চাংক্রান ও পাতা। এসব উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছর পাহাড়ে তৈরি উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিজ নিজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরে। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় মেতে ওঠে, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো বলি খেলা।

‎শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে রাঙামাটির চিং হ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে বিজু উৎসব উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী এই বলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বলি খেলা শেষে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সংস্কৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

‎খেলা দেখতে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শকরা খেলা শুরুর আগেই গ্যালারিতে জড়ো হন। পাহাড়ি- বাঙালি, নারী-পুরুষ, কিশোর- বয়োজ্যেষ্ঠ সব শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিততে স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

‎ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিন বিভাগে অনুষ্ঠিত বলি খেলায় তিন পার্বত্য জেলা থেকে প্রতিযোগীরা অংশ নেন। বড়দের বলিখেলায় টানা ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন খাগড়াছড়ির সৃজন বলিকে পরাজিত করে রাঙামাটির দিপু বলি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

‎অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহিত সমিতি (জেএসএস) এর সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংহাই, চাংক্রান ও পাতা ২০২৬ উদযাপন খেলাধুলা উপ কমিটির আহ্বায়ক শুক্র কুমার চাকমা।

‎ঊষাতন তালুকদার বলেন, বলি খেলা আমাদের একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা যা আমরা ধরে রাখতে চাই। তিনি বলেন, নিয়মিত আয়োজন না হলে নতুন বলি খেলোয়াড়রা উঠে আসবে না। বলি খেলোয়াড় উঠে আসার জন্য একটি ক্ষেত্র প্রয়োজন, তাই আমাদের এই প্রচেষ্টা।

‎গত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে চির দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিন বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা ও ভাষা প্রতিযোগিতা দ্বিতীয় দিন চিত্রাংকন এবং তৃতীয় দিন ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১২ এপ্রিল পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি হবে।

‎আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটির চিং হ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাই মৈত্রী জল উৎসব (জলকেলি-২০২৬) আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের বর্ষবরণের এবারের আয়োজন শেষ হবে।




বৈশ্বিক সংকটের আঁচ বাংলাদেশকেও স্পর্শ করেছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, এ মুহূর্তে জ্বালানি তেল বৈশ্বিক সংকট। সেই সংকটের আঁচ বাংলাদেশকেও স্পর্শ করেছে। কিন্তু জনগণ যাতে ভোগান্তির শিকার না হয়, সেজন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর পরিদর্শনকালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সেই কাজের অগ্রগতি দেখতে এসেছিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, এখন ইরিগেশন চলছে, কৃষক যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য আমরা কাজ করছি। কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোরে আগমন বিষয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এই আগমন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মাধ্যমে বিগত ১৭ বছর যশোরে যে উন্নয়নের চাকা থমকে গিয়েছিল তা নতুন করে সচল হবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে খনন করা উলাশী খাল পুনঃখননের জন্য আগামী ২৭ তারিখ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে আসছেন। যেটা যশোরবাসীর জন্য অনেক বড় সুসংবাদ।

প্রধানমন্ত্রী যশোর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উলাশী গিয়ে খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন। এরপর সেখান থেকে ফিরে মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে তৈরি যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যা হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। পরে তিনি জনসভায় যোগ দেবেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শনিবার সকালে যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে দপ্তরপ্রধানদের সাথে সভা করেছেন। সভায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্বোধনী স্থল পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শার্শার উলাশী খাল পুনঃখননস্থল পরিদর্শন করেন।




ঢাকায় টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী নিয়ে সমঝোতা স্মারক

ঢাকায় যৌথভাবে আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী আয়োজনের লক্ষ্যে শাংহাই টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশন, লিংক ওয়েল এক্সিবিশন কোম্পানি লিমিটেড এবং ইকো এক্সপো বাংলাদেশ-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। শনিবার (১১ এপ্রিল) ঢাকায় এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এই সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে বিটিএমএ’র পক্ষ থেকে বিটিএমএ’র সাবেক সহ-সভাপতি এবং বিটিএমএ’র ঢাকা আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন সই করেন। অন্য তিনটি পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে যথাক্রমে ফ্যান শেং বিন, লু শাও ইং এবং এমডি রাজওয়ানুর রহমান সই করেন।

দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যৌথভাবে প্রদর্শনীর পরিকল্পনা, আয়োজন, প্রচার এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে কাজ করবে।

জানা গেছে, এই সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে প্রতি বছর যৌথভাবে এই প্রদর্শনী আয়োজন করা হবে। প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের যন্ত্রপাতি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সর্বশেষ উদ্ভাবনসমূহ উপস্থাপন করা।

এই কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ঢাকা আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস যন্ত্রপাতি প্রদর্শনীকে একটি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যা শিল্পখাতে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে, বাণিজ্যিক সুযোগ বৃদ্ধি করবে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন দেবে।

আগামী ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর এই প্রদর্শনী ঢাকার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বিটিএমএ দেশীয় প্রস্তুতকারকদের বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের আধুনিকায়ন ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।




সংসদে পাস হওয়া শ্রম বিল সংশোধনের আহ্বান বিকেএমইএর

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম (সংশোধন) বিল ২০২৬-কে স্বাগত জানিয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। তবে সময় স্বল্পতার কারণে আইনের কিছু ধারায় যে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি রয়ে গেছে, সেগুলো ভবিষ্যতে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সই করা এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শ্রম আইনের কিছু ধারায় কৌশলে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। বিকেএমইএর মতে, এসব পদক্ষেপ শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদে শ্রম অসন্তোষের বীজ বপন করতে পারত।

সংগঠনটির দাবি, ওই ধরনের অস্পষ্টতা অব্যাহত থাকলে শিল্প কল-কারখানা ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারত।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকার সংশোধিত শ্রম আইনের কিছু ধারা পরিবর্তন করে আইনটি পাস করলেও কিছু ক্ষেত্রে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে শ্রম অসন্তোষের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিকেএমইএ।
সংগঠনটির মতে, এসব অস্পষ্টতা দূর না হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

শিল্প কারখানায় শান্তিপূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতে শ্রমবিধি ও শ্রম আইনের পরবর্তী সংশোধনের সময় এসব অস্পষ্টতা দূর করার জন্য সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে বিকেএমইএ।

বিবৃতিতে শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করার বিধানকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি শ্রমিকের পরিচয়ে আইনবহির্ভূত দাবি তুলে শিল্প কারখানায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিম্মি করা, অবৈধ ধর্মঘট বা অন্য শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তাহলে সেগুলোও অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা প্রয়োজন।

বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কার ও সংশোধনে যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাস নির্দেশনামূলক ভূমিকা রেখেছে, তাদের প্রতি সংগঠনের আহ্বান—আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদের ন্যায্য ও নৈতিক মূল্য (ফেয়ার অ্যান্ড এথিক্যাল প্রাইস) দিচ্ছেন কি না, সেটিও যেন তারা নজরদারিতে রাখেন।

অন্যথায়, দিন শেষে শিল্প কারখানা ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

 




চামড়া শিল্পের সংকট উত্তরণে ৪৩ কেমিক্যালে কর-ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

চামড়া শিল্পের সংকট উত্তরণে ট্যানারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ৪৩ প্রকারের কেমিক্যাল আমদানিতে কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন চামড়া শিল্প উদ্যোক্তারা।

 

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকতে বাংলাদেশ ফিনিশড্ লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) এই প্রস্তাব দেয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় উৎপাদন ব্যয় কমাতে না পারলে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। শতভাগ রপ্তানিমুখী ট্যানারি প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল উৎপাদনে ব্যবহৃত ৪৩ প্রকারের কেমিক্যাল এবং প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রে উৎস কর ও মূসক সম্পূর্ণরুপে প্রত্যাহার করা জরুরি।

ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচা চামড়া একটি পচনশীল কৃষিজাত পণ্য। গত বছরের ২৬ মে প্রকাশিত এসআরও অনুযায়ী, কাঁচা চামড়া সরবরাহের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ হারে উৎস কর ধার্য করা হয়। এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়াকে পুনরায় করমুক্ত করার দাবি তুলেছেন তারা।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের এনবিআরের পরিপত্র অনুযায়ী শিল্প কারখানায় বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে কোনো প্রকার মূসক ব্যতিরেকে বিল পরিশোধের সুবিধা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন মালিকরা। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি বা দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফিনিশড্ লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

তারা বলছেন, আধুনিক চামড়া শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠা করে পণ্য বহুমুখীকরণে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য এই নীতিগত সহায়তাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই বিশাল ক্ষেত্রটি ঝুঁকির মুখে পড়বে।

একইভাবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, জাতীয় প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও মূল্য সংযোজনের নিরিখে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ব্যবহৃত কেমিক্যালের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর দাবি জানিয়ে ট্যানারি শিল্প মালিকরা আরও কিছু দাবি উপস্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামাল কাঁচা চামড়া পচনশীল হওয়ায় দ্রুত সংরক্ষণ প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে কেমিক্যাল একটি অপরিহার্য উপাদান। তবে পানি, লবণ ও কিছু অ্যাসিড ছাড়া অধিকাংশ কেমিক্যাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও এক্সেসরিজ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে এসব কেমিক্যাল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স, অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট ও সোর্স ট্যাক্সসহ মোট ট্যাক্স ইনসিডেন্ট ৩০ শতাংশের বেশি। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, কেমিক্যাল আমদানিতে মূল্যভিত্তিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত শুল্ক শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি পাওয়া যায়। তবে এ খাতে ভ্যাট হার এখনও ১৫ শতাংশ রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন এসআরও জারি করে মূল্যভিত্তিক ৩ শতাংশের বেশি শুল্ক অংশ অব্যাহতি এবং কেমিক্যাল আমদানিতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে নন-বন্ড ট্যানারি শিল্প প্রতিযোগিতামূলক হবে, অনিয়মিত বা ঘুরপথে কেমিক্যাল আমদানির প্রবণতা কমবে, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।




চাহিদা মেটাতে ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার নীতিগত অনুমোদন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করেছে সরকার। এই ডিজেল আমদানি করতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তিনটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করবে। এর মধ্যে—ইয়ার এনার্জির (এজি) কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল, কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানির কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ১০-৫০ পিপিএম ডিজেল এবং এম/এস সিকদার ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম মাত্রার সালফারযুক্ত ডিজেল কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবগুলো আমদানিই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

এর আগে, গত ৪ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।

ওই বৈঠকে কাজাখস্তানভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে্এক লাখ মেট্রিক টন ৫০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অ্যাক্ট, ১৯৭৪ এবং পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী দেশে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আমদানি, মজুত, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিপিসি ৫০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করে আসছে।

বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। বিপিসি বিভিন্ন গ্রেডের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করে ইস্টার্ন রিফাইনারী পিএলসিতে পরিশোধন করে থাকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য, প্রিমিয়াম ও পরিবহন খরচে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দেয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক রপ্তানিকারক দেশ সরবরাহ সীমিত করে।

একই সময়ে কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়ে যায় এবং বিকল্প হিসেবে তরল জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ও মূল্যচাপ আরও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জ্বালানি রেশনিং, ভর্তুকি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বিপিসির বিদ্যমান চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহে সমস্যায় পড়েছে। এরই মধ্যে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান কোম্পানি লিমিটেড চলতি বছরের এপ্রিল মাসের কিছু পার্সেল সরবরাহে অপারগতা জানিয়ে ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি হয়।

এই প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ধারা ৬৮(১) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের সুযোগ রয়েছে।




দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে গভীর সংকট, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

টানা তিন বছর ধরে মন্থর প্রবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। তারওপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত বৈশ্বিক প্রতিকূলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতির এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, প্রবৃদ্ধি টেকসই করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অবিলম্বে সাহসী ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি ও দারিদ্র্য বিস্তারের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে;

ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য : জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭% থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২১.৪% এ দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালে আরও ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি : ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশে অবস্থান করছে। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

রাজস্ব সংকট : ২০২৫ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন (৭ শতাংশের নিচে) পর্যায়ে নেমে এসেছে।

ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত ও খেলাপি ঋণের বোঝা দেশের আর্থিক খাত বর্তমানে বেশ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩০.৬% এ পৌঁছেছে। মূলধন পর্যাপ্ততা বা ক্যাপিটাল অ্যাডিকুয়েসি রেশিও নিয়ন্ত্রক সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক ব্যাংক লোকসান সামাল দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বাংলাদেশের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধি, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কম থাকায় এবং কঠোর মুদ্রানীতির কারণে এই ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের জন্য সীমিত।

এই সংকট থেকে উত্তরণের বিষয়ে সংস্থাটির, বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসম বলেন, স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি। কিন্তু রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাত এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে সুদূরপ্রসারী সংস্কার ছাড়া এই স্থিতিশীলতা স্থায়ী হতে পারে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কাঠামোগত সংস্কারের দ্রুত অগ্রগতি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে কর আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো, আর্থিক খাতের সুরক্ষায় ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন সহজ করা এবং নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা কমানো এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করা।

বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ অনুযায়ী, বৈশ্বিক অস্থিরতায় পুরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৬.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে দক্ষিণ এশিয়া এখনও বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চল বলে মনে করে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োহানেস জুট এবং প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসোর্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাজারভিত্তিক সংস্কার এবং দক্ষ শিল্পনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।




ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়ানোর উপায় খুঁজতে বিজ্ঞানীদের গবেষণার আহ্বান

ইলিশের স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে উৎপাদন আরও বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা করতে আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

 

বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে “ইলিশ গবেষণা : অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়” —শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ইলিশের স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে উৎপাদন আরও বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা করতে হবে। এমন কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবন করা প্রয়োজন, যাতে ইলিশের স্বাভাবিক স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য নষ্ট না হয়, কিন্তু উৎপাদন বাড়ে এবং দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, ইলিশ না পাওয়ার সমস্যা এখন পুরো দেশের, তাই উৎপাদন বাড়িয়ে এই মূল্যবান মাছকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

 

তিনি বলেন, জাটকা সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞানীদের আরও সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত হতে হবে। কীভাবে জাটকার উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া যায় এবং ইলিশ মাছের ডিমের সঠিক পরিস্ফুটন ঘটিয়ে জাটকার সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব, এসব বিষয় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা জরুরি।

জেলেদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, জাল ও নদী আপনাদের-তাই জাটকা ধরা বন্ধ করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আপনারাই সরকারকে কার্যকর প্রস্তাবনা দিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

 

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন। এসময় আরও বক্তব্য করেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবীব, মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. মোতালেব হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।




সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় অবৈধ কাউন্টার অপসারণ

রাজধানীর সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও যানজট নিরসনে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। টিটিপাড়া মোড় থেকে ধোলাইপাড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় অনুমোদনহীন ও অবৈধ বাস কাউন্টারসমূহ উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

 

বুধবার (৮ এপ্রিল) ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ডিএসসিসি জানায়, গত ১০ মার্চ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক কমিটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

প্রাথমিক জরিপে টিটিপাড়া মোড় থেকে ধোলাইপাড় পর্যন্ত সায়েদাবাদ কাউন্টারকেন্দ্রিক মোট ২৪০টি অবৈধ বাস কাউন্টার চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে চিহ্নিত অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে সড়ক বা ফুটপাত দখল না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। এই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পর্যায়ক্রমে ২৪০টি অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে জানানো হয়েছে, সায়েদাবাদের পাশাপাশি রাজধানীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। মগবাজার মোড় থেকে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি হয়ে কাকরাইল মসজিদ, মৎস্য ভবন ও আব্দুল গনি রোড হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন এলাকা এবং বাংলামোটর থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, হেয়ার রোড ও শিক্ষা ভবন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে সায়েদাবাদ এলাকায় অবৈধ বাস কাউন্টার স্থাপনের ফলে তীব্র যানজট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। জনস্বার্থে এবং নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ডিএসসিসি এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। অবৈধ কাউন্টারসমূহ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা প্রসারিত করার অঙ্গীকার ইতালির

বাংলাদেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ইতালি। বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ অঙ্গীকারের কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো।

তিনি আজ সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ও প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইতালির আস্থার কথা জানান ইতালির রাষ্ট্রদূত।

উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্কের ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, চামড়া ও সিরামিক শিল্প, উৎপাদন, দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান, বেসরকারী ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা প্রসারিত করার বিষয়ে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

প্রতিমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে ইতালির ভূমিকার ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থীতায় ইতালির সমর্থন কামনা করেন।

ইতালির রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এজেন্ডা সম্পর্কে ইতালির অবস্থান অবহিত করেন। সাক্ষাতে অভিবাসন এবং গতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী কার্যকর অভিবাসন সুশাসন নিশ্চিত করতে ইতালি ও অন্যান্য ইউরোপীয় অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিবাসন চ্যানেলের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত অভিবাসন রোধে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং ইতালিয়ান সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক অবদানের কথা স্বীকার করেন।

উভয় পক্ষই নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসনের প্রসারের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনি পথ, দক্ষতা অংশীদারিত্ব এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রমিকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বর্ধিত সহযোগিতা।




শাহজালাল বিমানবন্দরে অর্ধকোটি টাকার সিগারেট জব্দ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অভিযানে প্রায় ৫৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকার ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ শলাকা অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

এতে বলা হয়, দুবাই থেকে আগত ফ্লাইট এফজেড-৫০১, বিজি-১৪৮ ও বিএস-৩৪২-এর যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় সাত যাত্রীর কাছ থেকে এসব সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এসব সিগারেটের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৫৩ কার্টুন।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ৫ এপ্রিল দুবাই থেকে আগত ফ্লাইট এফজেড-৫২৩-এর একটি পরিত্যক্ত লাগেজ, যা বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে সংরক্ষিত ছিল, সেখান থেকে আরও ২৪৪ কার্টুন অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ৪৯৭ কার্টুন সিগারেট পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাস্টম হাউস ঢাকায় জমা দেওয়া হয়েছে।

 

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আরও জানায়, অর্থপাচার, অবৈধ আমদানি, চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে সরকারের চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান রাজস্ব ফাঁকি রোধ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বৈধ বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন

সংস্থাটি আরও জানায়, ভবিষ্যতেও চোরাচালান ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রণীত কর্মপরিক্রম বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, সিশেলস, পর্তুগাল, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক/চুক্তি সই হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মী প্রেরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে নানাবিধ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এরইমধ্যে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ/সংকুচিত শ্রমবাজার- মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, সিশেলস, পর্তুগাল, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণের বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক/চুক্তি সই হয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও ইন্টারন্যাশনাল ম্যানপাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং অধিকহারে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে এ মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ নামে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ফেরত আসা কর্মীদের পুনরায় বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পূর্ববর্তী শিক্ষা কাজের স্বীকৃতি এবং তার সনদ দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিদেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এক লাখ ড্রাইভার তৈরির জন্য সরকার ‘দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভি প্রশিক্ষণ প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা সফলভাবে চলমান। কম্বোডিয়ার সঙ্গে, জাপানের সঙ্গে স্পেশালাইজ স্কিলড ওয়ার্কার প্রেরণের জন্য মেমোরেন্ডাম অব কো অপারেশন এবং সিশেলস এর সঙ্গে এগ্রিমেন্ট অন লেবার করপোরেশন স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপান স্পেশালাইজড স্কিলড ওয়ার্কার সেন্ডিং এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৯ম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬টি ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে (আইএমটি) ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব দক্ষ জনবলের দেশ এবং বিদেশে কর্মসংস্থান হচ্ছে। বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় বিএমইটির আওতায় ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ডিটিটিআই) এ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যন্ড স্টিলস সেন্টারের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের গন্তব্য দেশের ভাষাগত সমস্যা দূরীকরণে জাপানিজ, কোরিয়ান, ইংরেজি, চাইনিজ (ক্যান্টনিজ ও ম্যান্ডারিন), আরবি, ইতালিয়ান, জার্মান ইত্যাদি ভাষার নেটিভ স্পিকার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




চীনকে টপকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর শীর্ষ অবস্থান থেকে ছিটকে গেছে দেশটি।

 

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে উঠে এসেছে ভিয়েতনাম। দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা চীন এখন তৃতীয়।

অটেক্সার পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। অবশ্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের এই রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।

 

অন্যদিকে, একই সময়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। বছরের প্রথম দুই মাসে তাদের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করতে পেরেছে।

সার্বিকভাবে বিশ্ববাজার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। আলোচ্য দুই মাসে দেশটি মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।




মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট না ভাঙলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি বায়রার সদস্যদের

 

হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটকারী সিন্ডিকেটের জিম্মি দশা থেকে মালয়েশিয়া শ্রমবাজারকে মুক্ত করে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজারটি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সিন্ডিকেট বিরোধী সদস্যবৃন্দ।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বায়রার কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মোস্তফা মাহমুদ বলেন, আপনারা সিন্ডিকেট না ভাঙলে আমরা আমরণ অনশনে যাবো। বারবার এই বাজারকে সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে দিব না। আমরা সবার জন্য ব্যবসা চাচ্ছি। নির্দিষ্ট ১০০ জন কেন ব্যবসা করবে? সিন্ডিকেটের এই ১০০ জন চাচ্ছে, শুধু তারাই ব্যবসা করুক। এই সিন্ডিকেট ২৪ হাজার কোটি লোপাট করেছে। আমাদের দাবি দেশে তাদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা।

এ সময় তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি পুনরায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে এফডব্লিউসিএমএস নামক একটি সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিন্ডিকেটের প্রধান দাতো মোহাম্মদ আমিন নুর ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপন বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি, এফডব্লিউসিএমএস, এসপিপিএ নামক টুলসগুলো ব্যবহার করে তারা সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠা করেছে। এই টুলসগুলো হচ্ছে অভিবাসী কর্মীদের শোষণ করার হাতিয়ার। এই নামগুলো নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। আইএলও, আইএমওসহ আন্তর্জাতিক বহু সংস্থা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলো। বাংলাদেশের প্রতিটি মিডিয়াতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সচিত্র প্রতিবেদন বহুবার প্রকাশ হয়েছে। তদানীন্তন স্বৈরাচারী সরকার সিন্ডিকেটের পক্ষে থাকার কারণে সিন্ডিকেটকে বিলুপ্ত করা যায়নি এবং তাদের কোনো শাস্তি হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত দুই সরকারের আমলে সরকারের নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ফি ছিল ২০১৬ সালে ৪৭ হাজার এবং ২০২১ সালে ৭৯ হাজার টাকা। দুর্ভাগ্যবশত প্রতিটি কর্মীকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য চার থেকে ছয় লাখ টাকা দিতে হয়েছে সিন্ডিকেটের শিকার হয়ে।

মোস্তফা মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, পুরোনো পদ্ধতির ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদনামের কারণে তারা এই বার নতুন সফটওয়্যার তুরাপ ব্যবহার করছে কর্মী রিক্রুট করা, টাকা নেওয়া ও এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারের নাম দিয়ে একটা ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে এজেন্সি ও কর্মী নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এবার তাদের আর্কষণীয় স্লোগান হলো জিরো কস্টে কর্মী প্রেরণ। বিগত দুইবার যেই টাকা নেওয়ার কথা ছিলো তার থেকে অনেক গুণ বেশি টাকা নেওয়ার কারণে এবার জিরো কস্টের প্রস্তাব দিচ্ছে। জিরো কস্টে বাজার উন্মুক্ত করা তাদের একটি কৌশল মাত্র। তাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে কর্মী রপ্তানি হলে প্রতিটি কর্মীকে এইবার দিতে হবে ছয়-সাত লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি জিরো কস্টে কর্মী রপ্তানির আড়ালে তারা ২৫টি এজেন্সি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ২৫ এজেন্সির বাইরে অন্য কোনো এজেন্সি কোনো কর্মী রপ্তানি করতে পারবে না বলেও সিন্ডিকেটের সদস্যদের তারা নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। যারা সিন্ডিকেটের সদস্য হতে আগ্রহী তাদের থেকে ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম নিচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে। একদিকে তারা সরকারকে জিরো কস্টের কথা বলছে, অন্যদিকে সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকা নিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা মাহমুদ বলেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী রিক্রুট করার জন্য বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব সফটওয়্যার সিস্টেম প্রয়োগ করবে তবু সিন্ডিকেট প্রণীত তুরাপের মাধ্যমে করবো না। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী মহোদয়কে জানাচ্ছি যে আমরা যেন কিছুতেই সিন্ডিকেটের হোতাদের পাতানো ফাঁদ তুরাপের ফাঁদে পা না দেই। দাতো আমিন ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপনেরা দীর্ঘ অনেক বছর থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের জিম্মি দশা থেকে বাজারটি মুক্ত করে সব বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।




নগদ লেনদেনে নির্ভরতা কমাতে কার্ড লেনদেনে প্রণোদনা চান ব্যবসায়ীরা

নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণে কার্ডভিত্তিক লেনদেনে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

 

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর এনবিআর ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমন প্রস্তাব দেয়।

সংগঠনটি জানায়, প্রস্তাবিত প্রণোদনার মধ্যে ৩ শতাংশ গ্রাহক এবং ২ শতাংশ ব্যবসায়ীরা পেতে পারেন। এর ফলে নগদের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

আলোচনাটি সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এনবিআর ও সংগঠনগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটি বলছে, ই-কমার্স খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে, নগদের ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং লেনদেনের স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য অর্থ স্থানান্তর আরও সহজ হচ্ছে। এখন ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার আরও বাড়াতে নগদ প্রণোদনা দিলে ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার ঘটাবে, স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং একটি নগদনির্ভরতা কম অর্থনীতির (ক্যাশ-লাইট ইকোনমি) বিকাশে সহায়তা করবে।

প্রাথমিকভাবে এই প্রণোদনা ব্যাংক, ব্যবসায়ী বা এমএফএস সেবাদাতারা প্রদান করতে পারে এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার মাধ্যমে সমন্বয় করা যেতে পারে।

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নে একাধিক সুপারিশ তুলে ধরে অ্যামচ্যাম। যার মধ্যে করনীতি সহজীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উৎসে কর কর্তনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। তারা বলছে, রুল ৩৯ অনুযায়ী কর্পোরেট কর নির্ধারণ করলে উৎসে কর ৪.১২৫ শতাংশ এবং অন্যথায় ৫.২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদেশি ও স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য সমান করহার ৩৭ শমিক ৫ শতাংশ বজায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে স্মার্ট কার্ড ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশের নিচে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে কার্বনেটেড পানীয়ের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার সুপারিশ করে অ্যামচ্যাম।

অ্যামচ্যামের মতে, বর্তমানে পানীয় খাতে মোট করভার ৫৪ শতাংশ হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, ভোক্তা চাহিদা কমছে এবং বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করহার কমানো হলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব—তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের বর্জ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতির আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে পুনর্ব্যবহার শিল্প শক্তিশালী হয়। বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বাড়াতে অ-বাসিন্দা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য করহার কমানোর সুপারিশও করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার ২০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর সারচার্জ মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা গার্মেন্টস শিল্পে ৫০ শতাংশ কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও করে। সংগঠনটির পক্ষে সভাপতি খোরশেদ আলম এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যক্তিগত আয়কর সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ, ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫০ শতাংশ কমানো এবং নারী উদ্যোক্তাদের শোরুমে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দেয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সংগঠন ইউরোচ্যাম বিনিয়োগবান্ধব করনীতি, প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ওপর জোর দেয়।




দ্রব্যমূল্য বাড়বে, এতে সন্দেহ নেই: অর্থমন্ত্রী

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শুধু জ্বালানি নয়, এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। ফলে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

রবিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল মাল্টিস্টেকহোল্ডার কনসাল্টেশন কর্মশালা’ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট কোনও একক দেশের সমস্যা নয়; বরং বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশে এখনও দাম বাড়ানো হয়নি, তবে কতদিন তা সম্ভব হবে, এখনই বলা যাচ্ছে না।

অর্থমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের ওপর চাপ কম রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে একসময় এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যদি সরকারি তহবিল এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বিষয়টি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




আখাউড়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৫৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ আখাউড়া বিওপির টহলদল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী দেবগ্রাম এলাকায় বিশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লে.কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, শনিবার বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ আখাউড়া বিওপির টহলদল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী দেবগ্রাম এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিজিবি টহলদল ২ হাজার ৭৬১ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ করা শাড়ির আনুমানিক সিজারমূল্য ২ কোটি ৫৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। জব্দ করা শাড়িগুলো যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে জমা প্রদানের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক বর্তমান বিজিবি মহাপরিচালকের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বদা তৎপর রয়েছে। এলক্ষ্যে সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।




জ্বালানি সংকট-অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা দেবে এআইআইবি

দেশের জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে এশীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিদল। সাক্ষাৎ শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এআইআইবি বাজেট সাপোর্ট দেবে। বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে তারা বিনিয়োগ করবে।

তিনি বলেন, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, মোট বিদ্যুতের ২০-৩০ শতাংশ সৌর শক্তি থেকে উৎপাদন করা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিকসময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরোনো প্রকল্পগুলো সচল করেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, দেশীয় সম্পদ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার সমন্বয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে জ্বালানির দাম বা আসন্ন বাজেটের আকার নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।




কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইটার কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোল চত্বর এলাকার গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আজ শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১টা ১১ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের সাত ইউনিটের চেষ্টায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইটার তৈরির টিনশেড কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এর আগে রোজিনা আক্তার বলেন, দুপুর ১টা ১০ মিনিটে কেরানীগঞ্জের একটি গ্যাস লাইটার তৈরির টিনশেড কারখানায় আগুন লাগে। আমরা ১টা ১১ মিটিটে তথ্য পেয়ে ১টা ১৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে আরও দুই ইউনিট কাজ শুরু করে।

আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।




বাউল গানসহ দেশীয় সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন

বাউল গানসহ দেশীয় সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, ‘আগে বিভিন্ন এলাকায় নাটক, যাত্রা, বাউল গান হতো। কিন্তু আজ সেই সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। এই সংস্কৃতি যদি ফিরিয়ে আনতে চাই, সামাজিকভাবে আমরা যদি সেই আন্দোলনটা করতে পারি, তাহলে কিন্তু সেটা সম্ভব।’

 

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও সেই সঙ্গে প্রতিবাদী সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাউল দলের আহ্বায়ক আরিফ দেওয়ানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) জাতীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, বাউল দলের উপদেষ্টা কণ্ঠশিল্পী মজিব পরদেশী, তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আজকে যে কৃষ্টি, যে সংস্কৃতি, এগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো যদি আমরা ফিরিয়ে না আনতে পারি, তাহলে জনগণের মধ্যে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেই সংকট আমরা মোকাবিলা করতে পারবো না।’

‘বিভিন্ন এলাকায় আমরা দেখেছি, সে সময় নাটক হতো, যাত্রা হতো, বাউল গান হতো। কিন্তু আজকে সেই সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। আগে মেলা মানেই বাউল গান ছিল। কিন্তু আজকের মেলাগুলোর মধ্যে বিদেশি কালচার চলে আসছে। আজকে নৃত্য বলতে যা বুঝায় সেগুলো কি নৃত্য? সেগুলো দিয়ে হয়তো আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আজকে বিভিন্ন জায়গায় মেলা মানেই অন্য কিছু। সেই কারণে মেলাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো যদি ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে আমাদের সবার সচেষ্ট হতে হবে, উদ্যোগী হতে হবে, যারা সংস্কৃতিবান মানুষ,’ যোগ করেন তিনি।

নাটক, বাউল গান, মেলা ও যাত্রা করতে হবে জানিয়ে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আরও বলেন, ‘এর জন্য যে পরিবেশ, পরিস্থিতি সেটা কিন্তু আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এর জন্য সামাজিকভাবে আমরা যদি আন্দোলন করতে পারি তাহলে কিন্তু সেটা সম্ভব।’