জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আলজেরিয়ার সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলজেরিয়ার সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি।

এ সময় তারা বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। সাক্ষাৎকালে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ূন কবিরকে অভিনন্দন জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধশিল্প, কৃষি, জাহাজ নির্মাণ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার খাতে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ছাড়া দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে উচ্চপর্যায়ের সফর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

জবাবে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করতে জ্বালানি, ওষুধ, সার, জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক নৌপরিবহন লাইন এবং উচ্চপর্যায়ের সফরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।




রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোস্টগার্ড মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতি এ সময় উপকূলীয় এলাকার আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা, মাদক, চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা ও পানি দূষণ রোধে কোস্টগার্ডকে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় কোস্টগার্ডকে একটি আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে সরকার বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এসময় দেশের সমুদ্র সীমায় অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে কোস্টগার্ডকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রম এবং বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন পেট্রোল বোট ও আধুনিক রেসকিউ হেলিকপ্টার সংগ্রহ এবং এভিয়েশন উইং স্থাপনের অগ্রগতি বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ানকুমার তুলশিদাস বাধে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভারতীয় হাইকমিশন দুই দেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা করছে।

এ ক্ষেত্রে এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সহযোগিতাও চান তিনি।

পাওয়ানকুমার তুলশিদাস বাধে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ভিসা ইস্যু করছে বলেও জানান তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদারে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি দুই দেশের উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




বিগত ১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা হয়েছে: রিজভী

বিগত ১৭ বছর ধরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, শুধু বড় বড় ভবন বা অবকাঠামো গড়ে তুললেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয় না, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে না পড়ে, সেদিকেও কড়া নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করায় কেরানীগঞ্জ উপজেলার ১১৪ জন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও ৫ হাজার টাকা করে বৃত্তি দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, কৃতি শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান অত্যন্ত ভালো। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, শিক্ষা যে একটি জাতির জন্য কতটা জরুরি, অতীতে সেটি সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বিগত ১৭ বছর ধরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করা হয়েছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে সে সময়ে জাতির মানবীয় মেরুদণ্ডকে ‘প্লাস্টিক মেরুদণ্ডে’ পরিণত করা হয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে।

বর্তমান সরকারের শিক্ষা ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, এখন আর কোনো স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম নয় বরং মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

নারী শিক্ষার প্রসারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিগগির বিএ অনার্স পর্যন্ত ছাত্রীদের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হবে।




সেন্টমার্টিনে ইউরিয়া সারসহ রোহিঙ্গাসহ ১০ পাচারকারী আটক

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা ১২ টন ইউরিয়া সার ও বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ একটি বোট জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় একজন রোহিঙ্গাসহ ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিন। এ সময় সন্দেহজনক একটি বোটের গতিবিধি নজরে এলে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়।

তবে বোটটি সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল ধাওয়া করে গভীর সমুদ্র থেকে বোটটি আটক করে। এরপর বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২৪০ বস্তা ইউরিয়া সার, ১৯০ বস্তা রসুন ও ৯০ বস্তা পেঁয়াজ পাওয়া যায়।

কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা ইউরিয়া সারের পরিমাণ ১২ হাজার কেজি, রসুন ৩ হাজার ৮০০ কেজি এবং পেঁয়াজ ৪ হাজার ৫০০ কেজি। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

জব্দ করা পণ্য, বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।




বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সাথে ভিয়েতনামের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের এই সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী ও উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণ করার জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং আজ সকালে বঙ্গভবনে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে আসলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন এবং ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তাঁকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মাঝে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর ভিয়েতনাম সফরের কথা স্মরণ করেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

এসময় তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, বাইসাইকেল, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির জন্য ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান।

বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে তাঁর সফল কর্মকাল এবং বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্ক উন্নয়নে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরেও তিনি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখবেন বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন এবং ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভিয়েতনাম দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত ও অধিকতর প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসি সানাউল্লাহ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান এই কমিশনার। অংশগ্রহণকারী সবাই একমত হয়েছেন যে, আগামী বছরের জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। এবারের বন্যায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ব্যাঘাত ঘটেছে, তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে যেন কোনোভাবেই পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

নির্বাচনে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কমিশনার জানান, প্রশিক্ষণের সমন্বয় ও নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলো যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। কমিশন এসব উদ্বেগকে অত্যন্ত যৌক্তিক বলে বিবেচনা করছে এবং তা যথাযথভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার বিষয়ে ইসি সানাউল্লাহ জানান, কমিশন বাজেট পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আরও কিছু পার্শ্ববর্তী সমন্বয় বা সাইডলাইন ওয়ার্ক দ্রুত সম্পন্ন করবে। স্টাফ লেভেল এবং সাচিবিক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ করে কমিশন বৈঠকে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হলেই তা প্রকাশ করা হবে।

ইউপি নির্বাচন ঠিক কবে থেকে শুরু হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই ঘোষণা না করলেও সমাপ্তির সময়সীমা হিসেবে আগামী ৬ জুনের আগের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। কমিশন আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করছে, তবে আইন অনুযায়ী অন্যান্য নির্বাচনের সময় এলে সেগুলোও যথাসময়ে সম্পন্ন করা হবে।

নির্বাচনের উপযুক্ত সময় খুঁজে পাওয়া প্রসঙ্গে কমিশনার বিস্তৃত সময়সূচির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বর জুড়েই বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলায় সময় পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। জানুয়ারিতে কিছুটা ফাঁকা সময় মিললেও ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রোজা। রোজা শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পর থেকে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা।

অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়া এবং ৬ জুনে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে আবার কিছুটা সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের অত্যন্ত আঁটসাঁট বা টাইট শিডিউলের কারণে সব প্রক্রিয়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আগের প্রারম্ভিক পরিকল্পনা থেকে নির্বাচন কমিশন পিছিয়ে আসছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান।

সংবাদমাধ্যমের খবরের প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে যা বলা হয়েছিল তা ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে তৈরি একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। আগামী ১৭ তারিখের সমন্বয় সভার পর সকল উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। ফলে পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে কমিশন বিন্দুমাত্র সরে আসেনি বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রাপ্ত উপাত্তসমূহ পর্যালোচনা করে কমিশন বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।




রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি বন্ধ, চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ

রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাড়ি আমদানিকারকরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নগরের সবকটি গাড়ির শোরুম বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে কোনো পেমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না এবং বন্দর থেকে গাড়ি খালাসও নেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে, আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রহিত করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের লালখানবাজারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) নেতারা।

বারভিডার নেতারা বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আনার সুযোগ রহিত করে মূলত পুরনো আদলেই নতুন প্রযুক্তির মোটরযান আমদানিকে উৎসাহিত করেছে সরকার। এতে পরিবেশবান্ধব গাড়ি আমদানি থমকে যাবে। পাশাপাশি গ্রাহকদেরও বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তারা বলেন, রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানির সুযোগ বন্ধ হলে দেশের পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানান তারা।

ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, মানুষ যে গাড়ি পছন্দ করে, যে গাড়ি ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তারা সে গাড়ি কিনুক। আমাদের তাতে আপত্তি নেই। তারা আমাদের কাছ থেকে গাড়ি না কিনলে আমরা ব্যবসা করব না। কিন্তু কোনো বিধিনিষেধের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। আমরা সরকারের বিপক্ষে যেতে চাই না।




গুলশান-ধানমণ্ডি-নিকেতন লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ

রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি লেকের দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে লেকে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ করছে। সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ উপস্থাপন করে।

লেকের দূষণ রোধে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ, ভবন ভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা পানি সংগ্রহের জন্য এলাকা তৈরির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করা হয়।বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ানোর যন্ত্র (এরেটর) স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদী স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিতে ইতোমধ্যেই ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম নিয়োজিত করা হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




নরওয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, শক্তিশালী ও জনবান্ধব করে তুলতে নরওয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খা।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে নরওয়ের বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হেড আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




হজযাত্রী পরিবহন করবে ৩ এয়ারলাইন্স, বিমান বাংলাদেশ ৫০ শতাংশ

 

২০২৭ সালের হজযাত্রী পরিবহনে তিনটি এয়ারলাইন্সকে কোটা বরাদ্দ দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে কোটা বরাদ্দ সংক্রান্ত চিঠি তিন এয়ারলাইন্সের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সৌদি সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ২০২৭ সালের দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি আগামী ৬ থেকে ১১ নভেম্বর সই হবে। হজ চুক্তির পর বাংলাদেশের হজযাত্রীর চূড়ান্ত সংখ্যা জানা যাবে। এর আগে হজযাত্রী পরিবহনের জন্য তিনটি এয়ারলাইন্সের অনুকূলে কোটা বরাদ্দ দেওয়া হলো।

বরাদ্দ অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫০ শতাংশ, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে।

চিঠিতে বলা হয়, হজযাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোকে বরাদ্দ করা পোর্ট কোটা অনুযায়ী সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দর দিয়ে ৮০ শতাংশ এবং মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে ২০ শতাংশ হজযাত্রীর গমনাগমন নিশ্চিত করতে হবে।

এয়ারলাইন্সগুলোকে সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজে নির্ধারিত বিমান ভাড়ায় ডেডিকেটেড ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন করতে হবে। ডেডিকেটেড ফ্লাইটে বিজনেস ক্লাসের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না।

হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সগুলোকে ফ্লাইট সিডিউলের খসড়া ন্যায্যতার ভিত্তিতে তৈরি করে অনুমোদনের জন্য জিএসিএতে পাঠাতে হবে। এর অনুলিপি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়েও দিতে হবে।

জিএসিএ (সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন) ও বেবিচকের অনুমোদিত ফ্লাইট সিডিউল এয়ারলাইন্সগুলোকে নিজেদের ওয়েবসাইট ও হজ পোর্টালে আপলোড করতে হবে।

এজেন্সির কাছ থেকে টিকিটের চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিকিট দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। পে-অর্ডার পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে হজযাত্রীর নামে টিকিট ইস্যু করতে হবে।
আরও পড়ুন
হজ এজেন্সির কাছে জমা দেওয়া টাকার জাকাত দিতে হবে?

এজেন্সির অনুকূলে টিকিট ইস্যুর পর এয়ারলাইন্সগুলোকে নিজেদের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ই-হজ সিস্টেমে তা এন্ট্রি করতে হবে। টিকিট ইস্যুর সঙ্গে সঙ্গে পিএনআর, টিকিট নম্বর ও ফ্লাইট নম্বর উল্লেখ করে হজযাত্রীকে এসএমএস দিতে হবে।

ই-হজ সিস্টেমে তথ্য প্রদান, হজযাত্রীর অনুকূলে টিকিট বিক্রির এসএমএস এবং অন্যান্য সেবা প্রস্তুতির বিষয়টি হজ ফ্লাইট শুরুর এক মাস আগে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

চিঠিতে হজযাত্রীর মৃত্যু হলে টিকিটের অর্থ ফেরতের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হজে যাওয়ার আগে কোনো হজযাত্রীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে টিকিটের পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে। মৃত হজযাত্রীর সঙ্গে সহগামী হিসেবে নিবন্ধিত পরিবারের কোনো সদস্য হজে না গেলে তার বা তাদের বিমান ভাড়ার অর্থও ফেরত দিতে হবে। সৌদি আরবে হজযাত্রীর মৃত্যু হলে তার পরিবারকে টিকিটের ৫০ শতাংশ ভাড়া ফেরত দিতে হবে।

দুর্ঘটনা, গুরুতর অসুস্থতা, ভিসা জটিলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে কোনো হজযাত্রী যেতে না পারলে এয়ারলাইন্সগুলোকে প্রতিস্থাপনের সুবিধা দিতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর ক্ষেত্রে হজ অফিস, ঢাকা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে অন্তত ৩৬ ঘণ্টা আগে এয়ারলাইন্সকে জানাতে হবে।

হজ পরবর্তী ফ্লাইটে হজযাত্রীর টিকিট পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নীতিমালা অন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে অনুসরণ করতে হবে।

এছাড়া হজের নিয়মকানুন নিয়ে তৈরি ভিডিও এয়ারলাইন্সগুলোকে হজে যাওয়ার সময় বিমানে প্রদর্শন করতে হবে। ভিডিও প্রদর্শন না করলে সেটিকে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অসহযোগিতা বা অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হবে।

কোনো এয়ারলাইন্স তার নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত হজযাত্রীর পে-অর্ডার গ্রহণ ও হজযাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এর ব্যত্যয় হলে তা হজ ব্যবস্থাপনায় অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, হজযাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত উড়োজাহাজ ওয়াইড বডি ও মানসম্পন্ন হতে হবে। তবে প্রয়োজনে হজযাত্রীর কোটা কমানো, বাড়ানো, পরিবর্তন ও সংশোধনের এখতিয়ার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংরক্ষণ করেছে।




মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে : সচিব

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ ব‌লে‌ছেন, মালয়েশিয়ার বন্ধ থাকা শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত করতে কাজ করছে সরকার।

বুধবার (১৬ সে‌প্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সচিবের কা‌ছে অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক সদস্যরা মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ইস্যুতে তাদের দাবির পক্ষে স্মারকলিপি দেন। প‌রে এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এ তথ্য জানায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

সচিব জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে এই সুযোগে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে দালাল ও প্রতারক চক্রের হাত থেকে সাধারণ কর্মীদের রক্ষা করতে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তি‌নি আরও জানান, ইতোমধ্যে এরকম অবৈধ ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘ত্রিপল এ ওভারসিজ’ এর অফিস সিলগালা করা হয়েছে, জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং ৩ বক্স পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি প্রেরণ শুরু হবে, তার প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে নিশ্চিত ও সঠিক তথ্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় বায়রার সাবেক প্রতিনিধিরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন।

তাদের দাবিসমূহ হলো—তালিকাভুক্ত ৩১২টি এজেন্সিসহ সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া, সিন্ডিকেট ও একচেটিয়া আধিপত্য নিরসন, অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, সব যোগ্য মেডিকেল সেন্টারকে উন্মুক্তকরণ এবং বোয়েসেলের মাধ্যমে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুকরণ।

বায়রা প্রতিনিধিদের উত্থাপিত দাবিসমূহ মনোযোগসহকারে শোনেন প্রবাসী কল্যাণ সচিব মো. মোখতার আহমেদ। তিনি তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং তা পর্যালোচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করার আশ্বাস দেন।




ইতালির বিনিয়োগ আকর্ষণে চামড়া খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা

বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে ইতালির বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্ভাব্য ইতালি সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন৷

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সম্ভাব্য ইতালি সফরের মূল লক্ষ্য হবে নতুন বিনিয়োগকারী আকর্ষণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ।

বৈঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের সক্ষমতা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা ইতালির ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরতে মিলান, ফ্লোরেন্স ও রোম সফরের প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, মিলানে ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক, ফ্লোরেন্সে টাসকানি অঞ্চলের চামড়া শিল্প এলাকা পরিদর্শন এবং রোমে সরকারি পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দুই দেশের কোম্পানির মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব আরও বাড়বে।

সাভার চামড়া শিল্প নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বড় কারখানাগুলোকে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হবে এবং ছোট কারখানার জন্য কেন্দ্রীয় সুবিধা বজায় রাখা হবে। পাশাপাশি শিল্পবর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইতালি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




ভুটানের গ্যালেফু সিটির উন্নয়নে জনশক্তি দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

ভুটানের গ্যালেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি) উন্নয়নে বাংলাদেশ অবদান রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে এ প্রকল্পে সহযোগিতা করতে চায় ঢাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কার্মা হামু দর্জির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এসব তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

আলোচনায় হুমায়ুন কবির বলেন, ভুটানের গ্যালেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির উন্নয়নে বাংলাদেশ অবদান রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে এ প্রকল্পে সহযোগিতা করা যেতে পারে।

এ সময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্যোগের কথা স্মরণ করে সার্ক পুনরুজ্জীবনে ভুটানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে এ অঞ্চলের দেশ ও জনগণ সম্মিলিতভাবে উপকৃত হবে।

সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূত গত ২৬ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের রাজাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ওই সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে ভুটানের রাজাকে অভ্যর্থনা জানান।

এ ছাড়া বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত।




মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা, দ্রুত এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ-ইইউ

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে উভয় পক্ষ। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, বিমান চলাচল এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ ডেলিগেশনের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

এসময় দায়িত্ব গ্রহণ করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ইইউর দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইইউকে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বহুপাক্ষিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি দেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইইউর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। বিশেষ করে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ইইউর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এফটিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুত শুরু করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, বিমান চলাচল ও টেকসই উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ফাঁকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ।

রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ইউএনজিএর সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।




বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী ডেনমার্ক

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ডেনমার্ক।

এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতের অভিন্ন অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ডেনমার্ক দূতাবাস জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ই-হেলথ সিস্টেম উন্নয়ন এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ ই-হেলথ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে ডেনমার্কের ই-হেলথ ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এগুলো হলো— ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য পুনর্বাসন সেবা জোরদার ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, বিশেষ করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবিলায় সহযোগিতা।

বৈঠকে জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

ডেনমার্ক বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করে আসছে। লবণাক্ততার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব মোকাবিলায় এ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারের সম্প্রসারণ প্রকল্পে ডেনমার্ক ইউরো ৩০০ মিলিয়ন অর্থায়নে অংশ নিচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ৭০ থেকে ৯০ লাখ মানুষের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহে সহায়তা করবে।

বৈঠকে দুই পক্ষ স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরবর্তী কার্যক্রম সমন্বয়ের বিষয়ে একমত হয়।

বাংলাদেশ-ডেনমার্ক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে বাস্তবভিত্তিক সমাধান নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।




গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

 

তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সাক্ষাৎকালে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

আন্দালিভ রহমান বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়। নাগরিকরা যাতে এসব মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ করেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।




দেশে সারের সংকট নেই: মাহ্দী আমিন

দেশে সারের কোনও সংকট নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সার মজুত রয়েছে। অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং সংসদকেই সমস্যা সমাধানের পথ মনে করে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই সরকারেরও দাবি।

জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরই মধ্যে সাতজনের ফাঁসি হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপরও লংমার্চের প্রয়োজন কেন, তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে সরকার সহযোগিতা করেছে। তারপরও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সরকার বিশ্বাসী। বিরোধী দলের দাবিগুলো নিয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন জানান, ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ চালুর জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। জুলাই শহিদদের পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার ও বিরোধী দলের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সংসদ কার্যকর রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল রাষ্ট্র: মাহ্দী আমিনবিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল রাষ্ট্র: মাহ্দী আমিন
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমবাজার চালু হলে প্রথম দফায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর জন্য আবেদন করা হবে।

তেল-গ্যাসের দাবিতে বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার যেসব বিষয়কে নির্বাচনি অঙ্গীকার হিসেবে বাস্তবায়নে কাজ করছে, সেগুলো নিয়েই আবার আন্দোলন কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মাহদী আমিন আরও বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য আগের সরকারের নীতির দায় রয়েছে—বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এ বক্তব্যের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজন মাহমুদ এবং সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।




চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়াল

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে চার বছর বয়সি তাসমিন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। একই সময়ে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৮ জন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ১ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ মাসে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন আটজন। এর মধ্যে মহানগরে চারজন, বিভিন্ন উপজেলায় তিনজন এবং অন্যান্য জেলার একজন রয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ১ হাজার ৩১৮ জন, বিভিন্ন উপজেলায় ১ হাজার ৩৫৪ জন এবং অন্যান্য জেলার ৩৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ে মহানগরে পাঁচজন, উপজেলায় সাতজন এবং অন্যান্য জেলার একজনসহ মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৩৪ জন। আগস্টে নতুন করে ১ হাজার ২০২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। ওই মাসে মৃত্যু হয় দুজনের।

সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে। মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ১ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ মাসে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে।

এর আগে জুলাইয়ে চট্টগ্রামে ৫৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং মারা যান দুজন। জুনে আক্রান্ত হন ১২২ জন। মে মাসে ৩৭, এপ্রিলে ২৯, মার্চে ২০, ফেব্রুয়ারিতে ২২ এবং জানুয়ারিতে ৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন সীতাকুণ্ডে। উপজেলাটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১৫ জন।

এছাড়া কর্ণফুলীতে ২০২, বাঁশখালীতে ৯৮, রাঙ্গুনিয়ায় ৯৬, আনোয়ারায় ৭১, পটিয়ায় ৬৮, সাতকানিয়ায় ৬১, লোহাগাড়ায় ৫৪, বোয়ালখালীতে ৫৪, মিরসরাইয়ে ৪২, হাটহাজারীতে ৪০, চন্দনাইশে ৩৪, ফটিকছড়িতে ৩১ এবং সন্দ্বীপে ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ, ২৮ জন নারী ও ২৫ জন শিশু।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৫৬৪ জন, নারী ৮৫৪ জন এবং শিশু ৬৩০ জন। মৃত্যুর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে তিনজন পুরুষ, সাতজন নারী ও তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে একজন শিশুর মৃত্যুর তথ্যও রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এ সময় বাসাবাড়ির আঙিনাসহ আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি হলো সচেতনতা এবং নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কেউ আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ সিভিল সার্জনের।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৮৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ২৭ জনের।




হাম উপসর্গে ঝরলো আরও ৬ শিশুর প্রাণ

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৯৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০০ জন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে ছয়জন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৬ জনে।

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে চারজন, সিলেট বিভাগে একজন ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ২৩৯ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১৬২ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে গেছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন ভর্তি হয়েছে। আর ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছে।




যানজট নিরসনে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাস্তবায়নে সময় লাগবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকায় যানজট নিরসনে সরকার অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা শহরের মেগা প্রজেক্টের কারণে উদ্ভূত যানজট রোধ সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই সমস্ত সমন্বয়ের জন্য। যেমন বাস স্ট্যান্ডগুলো আমরা শিফটিং করছি। গ্যাপ টাইমের মধ্যে বাসগুলো কোথায় থাকবে সেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং সেটার একটা ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। মহাখালী বাস স্ট্যান্ড নিয়ে, ফুলবাড়িয়াটা নিয়ে এবং আমরা এই বাস স্ট্যান্ডগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যাব, সেই জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো অ্যাকুইজিশন হবে, ডেভেলপমেন্ট হবে, এগুলো সারফেসে আসছে। দৃশ্যমান হতে কিছু সময় লাগবে। কিন্তু আমরা পরিকল্পনাটা এখন ফাইনালাইজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ মাঝেমধ্যে তাদের কিছু কিছু অপতৎপরতা চালায়, সেটা দৃশ্যমান। তার অংশ হিসেবে ফজরের নামাজের পরেও মাঝেমধ্যে দুই একটা মিছিল করে ভিডিও-টিডিও করে, সেটা আমরা দেখেছি অল্পসংখ্যক লোক নিয়ে।

তিনি বলেন, গুলশানে যেটা হয়েছে দিনের বেলা ১১টার সময় জুমার নামাজ আদায় করার নাম দিয়ে ওখানে কিছু লোক জড়ো হয়ে হয়ত মিছিল করেছে। এখানে আমরা পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। হয়ত আমাদের গোয়েন্দা তথ্য ছিল কিন্তু আমাদের পুলিশ বাহিনী শুক্রবারে আন্দাজ করতে সক্ষম হয়নি। ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এরকম একটা কিছু করতে পারে। সেটাকে ব্যর্থতা বলার কোনো সুযোগ নেই, আমরা পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন অনুসারে চলে। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দুটা দায়িত্ব। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এর বাইরে বলা আছে, আইনে প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ববলি প্রদান, পালন করা, নির্বাচন সংক্রান্ত।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুসারে স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে। এখানে আইনের মধ্যে এমন কিছু নেই যে, সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ব্যতিরেকে করতে পারে। এটা সমন্বয়ের ব্যাপার। নির্বাচন কমিশন কালকে যেটা টেন্টেটিভ একটা পরিকল্পনা দিয়েছে, আমি ভিডিওটা দেখেছি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, টেন্টেটিভ মানে হচ্ছে একটা সম্ভাব্য সূচি তারা দিয়েছে। এটাকে মিডিয়াতে একটু অন্যভাবে হয়ত স্ক্রল নিয়ে এসেছে যে, নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে এত তারিখ, এত তারিখ, এত তারিখ নির্বাচন হবে।




কর্মস্থলে অনুপস্থিত ২৫% কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সেবা কার্যক্রমে গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার প্রটোকল ছাড়াই আঞ্চলিক কার্যালয়-৫ এ ঝটিকা পরিদর্শন চালিয়েছেন প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। পরিদর্শনকালে ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

​মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) পরিদর্শনের গোপনীয়তা রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি সচক্ষে দেখতে প্রশাসক কেবল তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালককে নিয়ে বের হন। তিনি আঞ্চলিক কার্যালয়-৫ এ পৌঁছান এবং বাইরে অবস্থান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগমন পর্যবেক্ষণ করেন।

এরপর কার্যালয়ে প্রবেশ করে মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন, যাতে কোনো বিলম্বকারী প্রবেশ করতে না পারেন।

​প্রশাসক কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ পর্যবেক্ষণ করেন এবং হাজিরা খাতা যাচাই করে দেখতে পান যে প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত। এই অনিয়ম ও অবহেলার বিষয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলীকে নির্দেশ দেন।

​আঞ্চলিক কার্যালয় পরিদর্শনের পর প্রশাসক ডিএসসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাহানপুর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উপস্থিতি ও হাজিরা খাতা তদারকি করেন। সেখানেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অনুপস্থিতি দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

​পরবর্তীকালে প্রশাসক মতিঝিল পীর জঙ্গির মাজার থেকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও দৈনিক বাংলা হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত এলাকাকে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরাসরি উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় অবৈধ দোকানপাট ও সাময়িক স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের পথ সুগম করা হয়।

​অভিযান ও পরিদর্শনের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, নাগরিক সেবা প্রদানে যেকোনো ধরণের গাফিলতি বা অবহেলা বিন্দুমাত্র বরদাশত করা হবে না। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কর্মচারী কিংবা বাইরের কোনো পক্ষ-জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ফুটপাত দখল মুক্ত রাখার পাশাপাশি সেবা প্রদানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ও পরিদর্শনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।




লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি

লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৬৮ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে এনেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে এসব বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৬৮ জন স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবাসনেচ্ছুক অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক বুরাক এয়ার (ইউ‌জেড- ২২২) ফ্লাইট যোগে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএম-এর কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়। আইওএম-এর পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

 

লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর একস‌ঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।




রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ৬৪ পরিবার পেল সোয়া ২ কোটি টাকা

রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত ৬৪ জনের পরিবারকে দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসন কার্যালয় মিলনায়তনে এ আর্থিক সহায়তা করেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান।

এতে রংপুর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩০ জনের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট দেড় কোটি, গুরুতর আহত ১৮ জনকে এক লাখ টাকা করে মোট ১৮ লাখ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি এমন ১৬ জন ভুক্তভোগীকে তিন লাখ করে মোট ৪৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিএ, রংপুর অফিসের সহকারী পরিচালক শফিকুল আলম সরকার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারের করা আর্থিক সহায়তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ নিয়মিত আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করছে। যাদের আজ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলো তাদের বেশিরভাগই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার। অনেকের স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বা শরীরের কোনো অঙ্গ হারিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। তাদের পরিবারের এখন করুণ অবস্থা। সেই পরিবারগুলোকে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে যাতে করে তারা এটিকে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে পারেন।

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, একটি পরিবারের যখন কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়ে যায় বা আহত হয়, সেই ক্ষতিটি কোনোভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও সরকারের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী গড়ে তুলতে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। সরকার প্রত্যাশা করে এই আর্থিক সহায়তা দিয়ে প্রতিটি পরিবার বিনিয়োগ বা ব্যাবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বাবলম্বী হবে।




পুলিশে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সের ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে অ্যাডহক ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিট এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক অ্যানালাইসিস পরিচালনা করছে। তবে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সাইবার অপরাধের ধরন ও পরিধি ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পুলিশকে সাইবার স্পেসসহ যে কোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের উচ্চতর ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে অথবা আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তুলে পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।

এর আগে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পিএসসির ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশের জন্য অর্থ বরাদ্দ, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ‌‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা, পিএসসির বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন এবং বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অ্যাসোসিয়েশন অব পুলিশ একাডেমিজের সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন ও বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো, পিএসসির অবকাঠামো উন্নয়ন, ‘মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স’ এবং ‘মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ কোর্স চালু, পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।




৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ

প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে দেশব্যাপী ইলিশ পরিবহন ও মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধকালে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হবে। এ সময় ইলিশ আহরণে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।

সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ধরা মাছ বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ৎ ও বাজারেও নজরদারি বাড়াতে হবে। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের প্রণোদনা দিচ্ছে। এই সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে- এটি উদ্বেগের বিষয়। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।




রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে: শামা ওবায়েদ

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরডাপ ভবনে ‘পারস্যুইং ক্লাইমেট জাস্টিস: রোড টু ইউএনজিএ’ শীর্ষক আলোচনায় এ কথা জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ওপর বাড়তি পরিবেশগত চাপ তৈরি হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘আসন্ন কপ সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন আরও অনুদানভিত্তিক করাসহ চারটি দাবি তুলে ধরবে বাংলাদেশ।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, ‘জলবায়ু অর্থায়ন ঋণ হিসেবে নয়, কার্যকর সহায়তা হিসেবে চায় বাংলাদেশ।’ এ ছাড়া পাটজাত পণ্যকে পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল ন্যাচারাল ফাইবার হিসেবে বিশ্বে তুলে ধরার কথা জানান তিনি। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের চারটি প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রতিশ্রুতি নয়, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড ও ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থ বাস্তবে পৌঁছানো; জলবায়ু অর্থায়ন আরও সহজ, অনুদানভিত্তিক ও ঋণের বোঝামুক্ত করা; শ্রমিক ও জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু নীতিতে জেন্ডারভিত্তিক বা নারী-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা।




পরিবেশ রক্ষায় তরুণ-উদ্যোক্তাদের সহায়তা করবে সরকার : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

 

পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসা তরুণ ও উদ্যোক্তাদের সরকার সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, কোনো উদ্যোগের সফলতার জন্য শুধু পরিকল্পনা, তথ্য বা উপস্থাপনা যথেষ্ট নয়; এর বাস্তবায়নে কাজের প্রতি ভালোবাসা, আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও নিবেদন থাকতে হবে। তরুণদের নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। শুধু মুখে কোনো উদ্যোগের কথা বললে হবে না, বাস্তবে সেটি করে দেখাতে হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘ফ্রম ক্লাইমেট ভালনারেবিলিটি টু ইনোভেশন লিডারশিপ : বাংলাদেশ রেজিলিয়েন্স অপরচুনিটি’ বা ‘জলবায়ু ঝুঁকি থেকে উদ্ভাবনী নেতৃত্ব : বাংলাদেশের সহনশীলতার সুযোগ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কমিটমেন্ট থাকলে প্রোগ্রেস করা সম্ভব। সাফল্যের একমাত্র গোপন বিষয় হচ্ছে কঠোর পরিশ্রম। আপনার উদ্ভাবন, আপনার ব্যবসা কিংবা আপনার আকাঙ্ক্ষা- সবকিছুর জন্যই কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির কারণে বর্তমানে অনেক কিছু সহজ হয়ে এসেছে। কিন্তু প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি পরিশ্রমও করতে হবে৷ কোনো কাজকে সফল করতে হলে সেটির প্রতি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা থাকা জরুরি।

তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট খাতে ভালো করছেন বলেই অন্য একজন সেখানে গেলেই ভালো করবেন- বিষয়টি এমন নয়। প্রত্যেকের নিজস্ব দক্ষতা ও সক্ষমতার জায়গা রয়েছে। তাই অন্যের সাফল্য দেখে একই জায়গায় গিয়ে সফল হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। নিজের সক্ষমতার জায়গাটি চিহ্নিত করে সেখানে কাজ করতে হবে।

পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ছাড়পত্র দেওয়া কিংবা কোনো প্রকল্প বিবেচনার ক্ষেত্রে শুধু একটি বিষয় দেখা হচ্ছে না। একটি উদ্যোগে কতটুকু পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এবং কতটুকু ক্ষতি কমানো সম্ভব হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো উদ্যোগে যদি ১০০ ভাগ ক্ষতির সম্ভাবনার মধ্যে কেউ ৮০ ভাগ ক্ষতি কমিয়ে ২০ ভাগ ক্ষতি রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহলে এমন উদ্যোগকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ এর মাধ্যমে পরিবেশের বড় ধরনের সাশ্রয় হচ্ছে।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ নিয়ে ব্যক্তিগত আয় বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, পরিবেশ রক্ষার নামে কারো ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি বা ধান্দাবাজির সুযোগ নেই।

সরকার নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন জব জেনারেশন বা কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টি সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। কোনো উদ্যোগের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও সম্ভাবনা থাকলে সরকার সেখানে সহায়তা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে।

সম্প্রতি ইটভাটা ও দূষণসংক্রান্ত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে দূষণ কমানোর জন্য ব্লককে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্লকের ক্ষেত্রে ভ্যাট, কর এবং সরকারি ক্রয়ের মূল্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বা সবুজ প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাজেটে সরকারের বিনিয়োগের অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় বিবেচনা করা হবে। এগুলো হলো- অর্থের যথাযথ ব্যবহার, মুনাফা বা লাভজনকতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং পরিবেশ। এই চারটি বিষয় ঠিক থাকলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও সুযোগ তৈরি করা হবে।

তরুণদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লিড বাই এক্সাম্পল’ অর্থাৎ নিজের কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করতে হবে। একজন তরুণকে দেখাতে হবে, তিনি কী করতে পারেন এবং কী করেছেন। একই সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। শুধু পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা দিয়ে কাউকে নিজের সক্ষমতার বিষয়ে বিশ্বাস করানো সম্ভব নয়।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন) ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হলেও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম। এটিই বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে তিনি একটি ‘ল্যাবরেটরি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কমিউনিটিভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবিলা, ভাসমান ও উঁচু জমিতে কৃষি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের চাষ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের অন্যান্য জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ‘উদ্যোগ’ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর আওতায় ২৮ বছরের কম বয়সি উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ প্রকল্প ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া স্থানীয় পণ্যকে সামনে এনে বৈশ্বিক বাজারে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই বিশেষ সহকারী।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় পণ্যকে কেন্দ্র করে এমন উদ্যোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও স্থানীয় পণ্য ও পণ্যভিত্তিক উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে।

জলবায়ু অর্থায়নের ঘাটতি পূরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বে যেসব জলবায়ু তহবিল রয়েছে, সেগুলো থেকে বাংলাদেশে যতটা সম্ভব অর্থায়ন আনার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় জলবায়ু তহবিল অর্থায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থায়ন, সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা, উদ্ভাবন, তরুণদের নেতৃত্ব, সবুজ প্রযুক্তি, জলবায়ু অর্থায়ন এবং পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।




সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ২ মামলার অনুমোদন

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক ও তার ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

অনুমোদিত মামলার এজাহারে বলা হয়, রুহুল হকের নামে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৮৬২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩০ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ টাকা।

এছাড়া তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ১১২ টাকা। সব মিলিয়ে রুহুল হকের নিট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ কোটি ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৭ টাকা। এর বিপরীতে তার নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ২৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। অর্থাৎ তার নামে ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুদক।

সেই সঙ্গে দুদক জানায়, রুহুল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ৩৯টি হিসাবে ৬৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৯ টাকা জমা এবং ৫১ কোটি ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৮০ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে হিসাবগুলোতে ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯৯ টাকা স্থিতি রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব অর্থের বৈধ উৎসের তথ্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বারবার অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রুহুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

অন্যদিকে, জিয়াউল হকের নামে ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৩ টাকা। তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৪২ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৫ টাকা।

এছাড়া দুদক জানায়, ব্যয়সহ জিয়াউল হকের নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৮ টাকা। তার নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১৬ কোটি ৬৩ লাখ ৫ হাজার ৬৩৮ টাকা। এতে ৮ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৮২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুদক।

জিয়াউল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ১৫টি হিসাবে ১৭ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৭ টাকা জমা এবং ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ১ হাজার ৪৭৬ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩৬১ টাকা স্থিতি রয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, জিয়াউল হকও অর্থের বৈধ উৎসের তথ্য দিতে পারেননি। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।




শিক্ষা, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দুদেশের মধ্যকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার। ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্রিটেন ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধন জোরদার ও উন্নয়নে প্রভূত অবদান রাখছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন ও অভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এসময় সারাহ কুক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনপত্রের জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনারের মাধ্যমে রাজার প্রতি শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ হবে।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ, কমনওয়েলথের শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। এ ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এসময় ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্র চর্চায় যুক্তরাজ্যের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দুদেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় হাইকমিশনার জানান, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ পণ্য এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আরও তিন বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত অবাধ প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। রাষ্ট্রপতি এ সুবিধাকে দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ডিজিটাল ক্লাইমেট ডাটা বিনিময়ের উদ্যোগের বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দুদেশের মধ্যে আবহাওয়া ও জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রেস সচিব, ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।




অবৈধ সম্পদ: সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন

প্রায় ১৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের নামে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আয়কর ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আ জ ম নাছির উদ্দিনের ২ কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৯১০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ১ হাজার ২৮৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। একই সময়ে তার ৬ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮ টাকার দায়দেনার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়।

দায়দেনা বাদ দিলে ওই সময় পর্যন্ত তার নিট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ২২ কোটি ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ১৮৭ টাকা। এছাড়া তিনি পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে ব্যয় করেন ১৮ কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। ফলে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তার মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৪০ কোটি ৬১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৫ টাকা।

অন্যদিকে একই সময় পর্যন্ত আ জ ম নাছির উদ্দিনের গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২৬ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ২৬৫ টাকা বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসাবে তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মূল্য ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ টাকা।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আ জ ম নাছির উদ্দিন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে অর্জিত ওই সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। অনুমোদিত মামলায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।




শিল্প-কারখানায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

শিল্প কারখানায় চাহিদা অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ২০টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে চলমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় গণমাধ্যমের সিনিয়র ব্যক্তিত্বরাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চায়।একইসঙ্গে, সরকারের পক্ষ থেকে যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা চায়।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই আমাদের নতুন করে তৈরি হওয়া সংকট থাকবে না। আগে গ্যাস, বিদ্যুৎ নিয়ে যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, সেই অবস্থায় ফিরে যেতে পারবো—এমনটিই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অন্যদিকে, ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, ২০২৮ সালের আগে নতুন আরেকটি এফএসআরসি চালু নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এটি এবং আগের দুটিসহ সরকারের মোট ৫টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনাও করছে সরকার।




অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের আরও ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থপাচারকারী চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, টাঙ্গাইল সদর থানার বড় বাশালিয়া এলাকার বাবলু মিয়া (২৮), বাগীল এলাকার মো. মনির হোসেন (৩০), সখিপুরের জেলখানা মোড় এলাকার নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) এবং তালেপাবাদ এলাকার শামীম আল মামুন (২৯)।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি আভিযানিক দল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনলাইন জুয়া সাইটে নিজ নামীয় এজেন্ট সিম সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট চক্রের অ্যাডমিন সদস্যদের কাছে সরবরাহ করত। এসব সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিআইডি দেখতে পায়, দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইট সক্রিয় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছিল।

পরে বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করে। গত ১৭ মে মামলাটি করা হয়।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে বেটিং সাইটে ব্যবহার করছিল।

জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থপাচার করা হতো বলেও তথ্য পাওয়া যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে একই মামলায় গত ৭ জুন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) ও মো. জুয়েল রানা (৩২) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

গত ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূইয়া (২৩) ও আবু জোবায়ের সানি (৩৬) নামে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া গত ১২ জুলাই নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জসিম উদ্দীন (৩৩) ও সুমন রায় (২৮) এবং ১৯ আগস্ট রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে সৈয়দ জামান (২৭) ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী (২৮) নামে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি দেশের জনগণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করার এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে।




অনিয়ম রুখতে মুখোমুখি রাজস্ব যোগাযোগ বন্ধের উদ্যোগ, আসছে আধুনিক কর ব্যবস্থা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও দুর্নীতি বন্ধে করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। কর আদায়ে অনিয়ম ও হয়রানি কমাতে শিগগিরই একটি আধুনিক, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় নতুন কর ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো আহসান হাবিব এসব তথ্য জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে করদাতার সঙ্গে কর কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন হবে না। করদাতা বাসায় বসে রিটার্ন দাখিল করবেন, নিরীক্ষার জবাব দেবেন এবং কোনো ভুল থাকলে অনলাইনেই তার ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, এর ফলে করদাতার হয়রানি ও অনিয়মের শিকার হওয়ার সুযোগ কমবে। করব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা চালুর জন্য এনবিআর কাজ করছে।

আহসান হাবিব বলেন, চলতি বাজেটে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল লক্ষ্য পূরণে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি কর আইনজীবীদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। দেশের বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এখনো করজালের বাইরে রয়েছে। তাদের করজালের আওতায় আনার পাশাপাশি সঠিকভাবে কর আদায়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র জনগণের করের অর্থে সড়ক, সেতু, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সেবা তৈরি করে। তাই রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে। দেশের প্রতি ভালোবাসার অর্থ শুধু আবেগ নয়; প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সততা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করাই প্রকৃত দেশপ্রেম।

ব্যবসায়ী ও করদাতাদের ঘুষ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিকে ঘুষ দেওয়া যাবে না। করব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কর আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আহরণের বড় দায়িত্ব রয়েছে। দেশের ৪২ হাজার কর আইনজীবী সম্মিলিতভাবে কাজ করলে রাজস্ব আয় ১০ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করজালের আওতায় আনতে কর আইনজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে করদাতাদের হয়রানি বন্ধ, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও তাঁদের দায়িত্বশীল হতে হবে।

ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরামের (নীল প্যানেল) পূর্ণ বিজয় লাভ করে। যেখানে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান (দুলাল)। সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এ কে এম শহীদুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. আবুল কালাম মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন খান।

নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, জাতীয় রাজস্ব আহরণে কর আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের কাজের পরিবেশও উন্নত করা প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৪২ জন কর আইনজীবীর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। মাত্র ১০ বাই ১২ ফুটের একটি কক্ষে তাঁদের বসতে হচ্ছে।

কর আইনজীবীদের জন্য নির্ধারিত একটি কক্ষ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত জায়গা পেলে আইনজীবীদের কাজের পরিবেশ ও পেশাগত কার্যক্রম আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর আইনজীবী এবং ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা।




সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা, কয়েকদিনেই পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে : কৃষিমন্ত্রী

দেশে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। কয়েকদিনের মধ্যে সারের পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‌‘সারের কোনো সংকট নেই। কিছু লোক চেষ্টা করছিল সারের ইমিটেশন ক্রাইসিস (কৃত্রিম সংকট) তৈরি করার। আপনি নিজেই বলেন, আপনি নিজেই দেখছেন সার পাওয়া যাইতেছে। বর্ডারে সার পাওয়া যাইতেছে, রাইস মিলে সার পাওয়া যাইতেছে, অন্য গুদামঘরে পাওয়া যাইতেছে, যেখানে সার থাকার কথা না।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই কাজটা করেছে তারা ইনটেনশনালি করেছে, এখানে একটা ইমিটেশন ক্রাইসিস তৈরি করার জন্য। মানুষ সচেতন হয়ে গেছে। প্রায় প্রতিটা উপজেলাতেই সার মনিটরিং বা জেলা পর্যায়ে সার মনিটরিং কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ কয়েকদিনের ভিতরে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

সারের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘লাখ টন সার বেশি আছে। প্লাস, সারের টোটাল নিয়মটাই হলো এভরি উইকেই জাহাজ আসে। আমাদের একটা রিজার্ভ থাকে ১০ থেকে ১২ লাখ টন। কোনো কোনো সময় পিক সিজনের আগে ওইটা ১৫ লাখ টনও আমরা করে ফেলি।’

তিনি বলেন, ‘বাকি সময়টুকু এভরি ডে, এভরি উইকে এক বা একাধিক জাহাজ আসে। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী ওই ইনপুটগুলো করা হয়। আর স্টোরেজে যেটা রাখা, ওইটা রিজার্ভ সার। এটা হলো ইন কেস অব ইমার্জেন্সি। আল্লাহ না করুন, একটা জাহাজ ডুবে গেলো, একটা জাহাজের প্রবলেম হলো, তখন কী হবে? তখন যেন প্রবলেম না হয়, এই জন্য আমরা মিনিমাম দুই থেকে তিন মাসের স্টোরেজ আমাদের কাছে রাখি।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় রিলেটেড যেসব কাজ অতীতে হয়েছে, এখন হচ্ছে এবং আগামী দিনে হবে- এগুলো সম্পর্কে উনি জানতে চেয়েছেন। নতুন আরও কিছু কী কী অ্যাড করা যায় এবং আমরা কী কী অ্যাড করছি, দেশে কিসের শর্ট আছে, কোন বিষয় নিয়ে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি- সব বিষয়ে উনি আলোচনা করেছেন।’




জেলখানায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র করা হবে: খাদ্যমন্ত্রী

জেলখানায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের মিলনায়তনে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, মাদকসেবীকে ধরলেন, আবার তিনি জামিনে বের হয়ে এলেন। বের হওয়ার পর আবার মাদক সেবনে যুক্ত হলেন। এতে কোনো লাভ হয় না। এ জন্য এর একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। আমরা সবাই মিলে চিন্তা করলাম, জেলখানায় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র করব। সেখানে ডাক্তার থাকবে, তারা মাদকাসক্তদের চিকিৎসা দেবেন। চিকিৎসার মাধ্যমে তারা পরিবর্তিত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসবেন। বিষয়টি আমরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী এর অনুমোদন দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই মিলে ভালো কিছু করার চেষ্টা করি। কিন্তু কিছু কিছু কাজ করতে সময় লাগে। একটি ব্রিজ ভেঙে গেলে তা দ্রুত তৈরি করা যায়। কিন্তু মানুষের চরিত্রে নেশার যে আসক্তি তৈরি হয়, সেখান থেকে বের হতে সময় লাগে। আগে আমরা পরিবর্তিত হলে আমাদের সন্তানদের ভালো রাখতে পারব।

সভায় উপস্থিত মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর খান বলেন, মাদকাসক্ত কারাবন্দিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য কারাগারে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য মানিকগঞ্জ জেলা কারাগার ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ এই দুটি কারাগারকে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি টিম এসে আমাদের কারাগার পরিদর্শন করে গেছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুল আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই : আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত সংক্রান্ত ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআইজি (ট্রেনিং) একরামুল হাবিব।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণ রোডম্যাপ এবং বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন। এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের অনুষদ সদস্য এবং রিসোর্স পার্সনরা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি একদিকে যেমন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবারভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি, ডিজিটাল চাঁদাবাজি ইত্যাদি অপরাধ ঘটাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় তদন্তের সক্ষমতা অর্জন আধুনিক পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অপরিহার্য।

প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, এ কোর্সের মাধ্যমে আপনারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনেও সক্ষম হবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্যান্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে‌। আপনারা কার্যকরভাবে অন্যান্য তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দিলে আমাদের সাইবার মামলা তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি এ ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং উইং এবং পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ ও মডিউলসমূহ হালনাগাদ করতে হবে।




চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, আক্রান্ত ২৮৮৩

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।

একই সময়ে নতুন করে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৩ জনে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগীর দৈনিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনের একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিএমসিএইচ) এবং অন্যজন এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সিএমসিএইচে মারা যাওয়া অর্পিতার (২৬) বাড়ি কোতোয়ালি এলাকায়। তিনি ১০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান। পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাল্টিপল অর্গান ফেইলিউর (এমওএফ), ডিআইসি, সেপসিস ও আইইউডি-সহ এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমে তার মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যাওয়া শামসুন নাহার খানমের বয়স ৫০ বছর। তিনি আগ্রাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকার বাসিন্দা। ১১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেদিনই জরুরি বিভাগে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ভর্তির আগে করা পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ হিসেবে অপরিবর্তনীয় কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিউর, হাইপোভোলেমিক শক, এআরডিএস ও টাইপ-১ রেসপিরেটরি ফেইলিউরের কথা উল্লেখ করা হয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে ৭৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১০ জন। এর মধ্যে সিএমসিএইচে ১০৫, বিআইটিআইডিতে ৩৫, ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৭, সিএমএইচে ৪, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২৪ এবং বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চলতি বছর এ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২ হাজার ৪৫৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ৪২৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৬৭৩ জন।

এদিকে, চট্টগ্রামে হাম পরিস্থিতিও অব্যাহত রয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৭৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন ৭ হাজার ৭৮২ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৭৪৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে শনাক্ত হয়েছেন ৪৮৬ জন এবং ১৫ উপজেলায় ২৫৭ জন। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হামে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ১৩ জন এবং উপজেলায় দুজন।




বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে চায় শেভরন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরনের উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল। প্রতিষ্ঠানটির বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশ-বিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা।

এসময় পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আগ্রহের কথা জানায় শেভরন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।