উখিয়ায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮, জীবিত উদ্ধার ১৪

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহেতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই ১২-১৩ বছর বয়সী কিশোরী। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

এর আগে ঘটনার পরপর তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও ক্যাম্প প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় চলা উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ৮ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা সহোদর বোন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অপর দুজন ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা।

হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস এবং ক্যাম্প প্রশাসনের আওতাধীন সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় পুরো উদ্ধার কার্যক্রম ও দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি করছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন বলছে, ওই মাদরাসায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড় ধসের আশঙ্কায় অনেকে বেরিয়ে যায়। তবে একেবারেই পাহাড়-লাগোয়া একটি কক্ষে হঠাৎ মাটি এসে পড়ে। ফলে ওই কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা আটকা পড়ে এবং মাটিচাপা পড়ে। যাদের অধিকাংশই মারা গেছে।

ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসা ছুটি হওয়ার সময় বাকি ছিল আর কয়েক মিনিট, এর মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। মাটি ভরাট করে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ভারী বর্ষণের কারণে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী শিশুসহ প্রাণ হারান ৮ জন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত গত তিন দিনে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণের ফলে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।




চিকিৎসা সহায়তায় বাকপ্রতিবন্ধীর পাশে তথ্য সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বাকপ্রতিবন্ধী মো. বায়েজীদ মিয়ার (১৩) চিকিৎসা সহায়তায় পাশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বায়েজীদ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। বাকপ্রতিবন্ধী বায়েজিদ মিয়া উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বাহাদুরনগর গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার পুত্র। সে আয়েশা ছফির উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র।

সম্প্রতি বাকপ্রতিবন্ধী বায়েজিদ মিয়া ফুটবল খেলতে গিয়ে পাকস্থলীর এক পাশে ছিঁড়ে যায়। পরিবারের আর্থিক সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা নিতে অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারটি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিক বাকপ্রতিবন্ধী বায়েজিদ মিয়ার চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেন।

প্রতিমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন,তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সদস্য নজরুল ইসলাম,মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম সহ প্রমুখ।

বাকপ্রতিবন্ধী বায়েজিদ মিয়ার পিতা আবুল কাশেম বলেন- আমার দু:সময়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা কখনও তার সহযোগিতার কথা ভুলবনা।




হামলার পর এবার সাংবাদিক ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

গাজীপুরে সরকারি খাসজমি ও সংরক্ষিত বনভূমি দখলের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া দৈনিক নয়া দিগন্তের জয়দেবপুর প্রতিনিধি আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে এবার আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় শুধু সাংবাদিকই নন, তার বৃদ্ধ বাবা মো. আব্দুর রব ও মা ছকিনা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। এর আগে সাংবাদিকের দায়ের করা হামলা ও অপহরণের চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি আরাফাত হোসেন রাসেল আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর এ মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, আরাফাত হোসেন রাসেল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ (দ্বিতীয়) ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৫ জুন সাংবাদিক আব্দুল আজিজ তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করলে স্থানীয় লোকজন তা উদ্ধার করেন এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাংবাদিক আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, সরকারি খাসজমি ও সংরক্ষিত বনভূমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসা শেষে জয়দেবপুর থানায় হামলা ও অপহরণের চেষ্টা মামলা দায়ের করলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং তারা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছেন।

আব্দুল আজিজের ভাষ্য, রাষ্ট্রের খাসজমি ও বন বিভাগের সংরক্ষিত সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তিনি তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন। এ কারণে প্রথমে তাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। পরে তার পকেটে টাকা ঢুকিয়ে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে চাঁদাবাজির নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে তাকে অপহরণেরও চেষ্টা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলা ও অপহরণ চেষ্টার মামলা দায়েরের পরও আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন এবং রাজি না হলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তার পাশাপাশি তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। আব্দুল আজিজ বলেন, “আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু আমাকে ভয় দেখানো, মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বন্ধ করতেই তাদের আসামি করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে আরাফাত হোসেন রাসেল বলেন, তিনি ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং রড-সিমেন্ট ব্যবসা ও ঠিকাদারির সঙ্গে জড়িত। তার দাবি, বন বিভাগের সীমানা-সংক্রান্ত একটি নির্মাণকাজ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার জন্য সাংবাদিক আব্দুল আজিজ তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন। পরে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ভিডিও ধারণ করেন বলেও তিনি দাবি করেন।
সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগও অস্বীকার করেন রাসেল। তিনি বলেন, “আমরা কেউ তাকে মারধর করিনি। তিনি নিজেই সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে যান। পরে হাসপাতালে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।”
এর আগে সরকারি খাসজমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুল আজিজ জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আরাফাত হোসেন রাসেলকে প্রধান আসামি করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিককে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর হামলা এবং পরে পাল্টা মামলা—পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উভয় মামলার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গাজীপুর প্রেসক্লাবের তত্ত্বাবধায়ক মণ্ডলীর সদস্য ও সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “একজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর উল্টো তার বিরুদ্ধেই মামলা হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো সাংবাদিক অপরাধ করলে অবশ্যই তার আইনগত বিচার হবে। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে যদি সাংবাদিক বা তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়ে থাকে, তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। হামলার অভিযোগ, পাল্টা মামলা এবং উভয় পক্ষের অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভয়ভীতি বা হয়রানির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দেওয়ার কোনো অপচেষ্টাই গ্রহণযোগ্য নয়।”




মোংলায় চীন-বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনে.. ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলাকে ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগের এক নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিতে শুরু করেছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এ বন্দরকে যুগোপযোগী ও অত্যাধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় পারস্পরিক উন্নয়ন সহযোগিতা ও জনশক্তি রপ্তানিতে ইতিবাচক আলোচনা সফল হওয়ার পর চীন সফর করেন তিনি। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে পারষ্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলে দেয় চীন।

চীন সরকারের সাথে মোংলা বন্দর নিয়েও একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ। গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সেমিনারে জানানো হয় মোংলা বন্দরের পাশে চীন-বাংলাদেশ মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের বিষয়ে চীন সরকার বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা করবে। সমঝোতা স্মারক সইয়ের চুক্তি অনুযায়ী মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একসময় ভারতের জন্য বরাদ্দ রাখা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১১০ একর জমি এবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হল। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার অংশ হিসেবে একই জমি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারতের মনোনীত ডেভেলপার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু করতে না পারায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটির বরাদ্দ বাতিল করে।

মোংলা বন্দরের উর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপক (এসডিএম) মো. মাকরুজ্জামান বলেন, চীন সরকারের এ পদক্ষেপ আমাদেশ দেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ কৌশলে নতুন দিকের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে চীনা বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। এতে মোংলা বন্দর আরো গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরীর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জানা গেছে, চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং আধুনিক লজিস্টিকস হাব নির্মাণে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারি হিসাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক রপ্তানি, কোল্ড-চেইন, গুদামজাতকরণ ও পরিবহন খাতেও ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




ভারি বৃষ্টিতে ধসে পড়ল চট্টগ্রামের আউটার রিং রোডের একাংশ

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে পতেঙ্গা এলাকায় আউটার রিং রোডের একাংশ ধসে পড়েছে। এ কারণে সড়কটির এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে অন্য পাশ দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্সসংলগ্ন অংশে এ ধসের ঘটনা ঘটে।

এই সড়কটি চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী যানবাহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। ফলে দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ না হলে বন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং বিমানবন্দরগামী যান চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

উড়ালসড়ক নির্মাণের জন্য ওই বাইপাস সড়কটি তৈরি করা হয়েছিল। ভারী বৃষ্টিতে গতকাল রাতে সড়কটি ভেঙে যায়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল জানান, পতেঙ্গায় আউটার রিং রোডের সঙ্গে একটি উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ চলছে। এ জন্য একটি বাইপাস সড়ক করা হয়েছিল। সেটি ভেঙে গেছে। তবে এখন মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, সড়কের এক পাশে ধস হওয়ায় অন্য পাশ দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল করানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

এদিকে টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট ও কাপাসগোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।




বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে মাইকিং

চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে আবারও পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পাহাড়সংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে রোববার রাতেও সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল থাকায় এবং টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, শনিবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ নিজ এলাকায় তদারকি করছেন।

তিনি বলেন, আকবরশাহ এলাকার ঝিল-১, ঝিল-২ ও ঝিল-৩, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড় এবং বেলতলীঘোনা পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, সমসাময়িক গৃহ নির্মাণ এলাকা, মিয়ার পাহাড় এবং মুরাদপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এসব এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান বলেন, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগানসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা এবং উত্তর হালিশহর সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায়ও মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এর মধ্যে রোববার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনার পর চট্টগ্রামেও সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও ঢালের নিচে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




জাদুর নামে প্রতারণা ও পকেটমারের অভয়ারণ্য, দেখার কি কেউ নেই?

দেশের প্রধান এবং সবচেয়ে ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার কমলাপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে জাদুর নামে প্রতারণা, জুয়া এবং পকেটমারদের দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে করে এই স্টেশনে যাতায়াত করেন। সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় কেপিআই (KPI) এলাকা হলেও এখানে এসে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন যাত্রীরা।

​সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও প্রবেশমুখের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে একদল চক্র তথাকথিত ‘জাদুর খেলা’র আসর বসিয়েছে। আসলে জাদুর নামে সেখানে যা চলছে, তা মূলত এক ধরণের সুকৌশলী প্রতারণা ও জুয়া। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ কৌতুহলবশত সেখানে দাঁড়ালেই এই চক্রটি তাদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করে এবং একপর্যায়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।

​অভিযোগ রয়েছে, এই জাদুর আসরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ভিড়ের মধ্যে তীব্রভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পকেটমার ও ছিনতাইকারী চক্র। প্রতিদিন অসংখ্য অসচেতন যাত্রী এখানে পকেট কাটা পড়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

​ভুক্তভোগী যাত্রীদের মতে, প্ল্যাটফর্মের মতো জনাকীর্ণ জায়গায় এভাবে জাদুর আসর বসিয়ে জটলা তৈরি করার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই জাতীয় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের, তাদের এমন নীরব ভূমিকা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— “এখানে কি দেখার কেউ নেই?”

​ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অনতিবিলম্বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এই ধরনের প্রতারণামূলক জাদুর আসর উচ্ছেদ এবং পকেটমার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।




ঈশ্বরদীতে অগ্রদূত সংস্থার নতুন অফিসে প্রশিক্ষণ (TOT) কার্যক্রমের উদ্বোধন

পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অগ্রদূত সংস্থা’-এর নতুন অফিস এবং প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (TOT) কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ দুপুর ১২টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন অফিস ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন অগ্রদূত সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা এবং ‘আধুনিক বাংলাদেশ’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মো. নিয়ামত আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংস্থার ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং সংস্থার সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করেন।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অগ্রদূত সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির চৌধুরী। তিনি সংস্থার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং ঈশ্বরদীতে নতুন অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে TOT (Training of Trainers) প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। উদ্বোধন শেষে নির্বাহী পরিচালক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও উপস্থিত সকলের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিগত ১৯ বছর ধরে অগ্রদূত সংস্থা মানবকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঈশ্বরদীতে এই নতুন শাখা ও প্রশিক্ষক তৈরি কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার বেকার যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী ও মতবিনিময় সভায় সংস্থার কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ অনলাইনে ও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।



কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অপু গ্রেফতার

গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী ইথানের বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে আবু হানিফ অপুকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ডিবি ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোরে অপুকে গ্রেফতার করা হয়

কুমিল্লা নগরীতে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্কুলছাত্র আহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আবু হানিফ অপুকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গতকাল ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন নগরীর কাটাবিল এলাকায় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে গোলাগুলির সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরো কয়েকজন।

ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী ইথানের বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে আবু হানিফ অপুকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ডিবি ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোরে অপুকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর জগন্নাথপুর এলাকা থেকে সংঘর্ষে ব্যবহৃত একটি বিদেশী পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের আরো জানায়, আবু হানিফ অপু একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৫টি মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরো একটি অস্ত্র মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জুটের গুদামে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি জুটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় অবস্থিত মা মারজান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি জুটের গুদামে আগুন লাগে। খবর পেয়ে শিবু মার্কেট মডার্ন ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ জুটের গুদামটি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনের তাপ ও বিস্তারের কারণে আশপাশের কয়েকটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আগুনের ভয়াবহতা দেখে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। এ সময় আশপাশের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।




ডেমরার বড় ভাঙায় রুবেলের বিরুদ্ধে মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

রাজধানীর ডেমরা থানাধীন বড় ভাঙা ও মহাকাশ রোড এলাকায় রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, হামলা এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, স্থানীয় ছাত্র দলের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মুক্তার ও তার ছোট ভাই রুবেল ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভাসমান ভ্যানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণকারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

মুক্তার

এলাকাবাসীর ভাষ্য, কিছুদিন আগে এক ভ্যানচালকের কাছে চাঁদা দাবি করা হলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। এছাড়া পাচ্চি রুবেল কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা আরও দাবি করেন, তিনি নিজেকে মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের এক নেতার ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পাচ্চি রুবেল আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে রাখেন। ফলে অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, রুবেলের বিরুদ্ধে ডেমরাসহ বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের আশ্রয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি অন্য রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুবেলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর একাংশ তাকে গণপিটুনি দেয়।

এলাকাবাসীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনার কারণে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা শিথিলতা দেখা দিয়েছে। সেই সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে রুবেল বা তার সহযোগীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।




সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগে চলা দুই চুনা কারখানা উচ্ছেদ ও জরিমানা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত দুটি চুনা কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে কারখানা দুটির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি স্থাপনাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সোনারগাঁ পৌরসভার টিপুরদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনিম সোহানা। এ সময় অবৈধ সংযোগে ব্যবহৃত পাইপ, বার্নারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

তিতাস গ্যাসের মেঘনাঘাট অঞ্চলের ব্যবস্থাপক সুরজিত কুমার জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে এলাকায় চুন কারখানা পরিচালনা করছিল। এর ফলে সরকার প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুটি কারখানার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং কারখানার স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয়।

অভিযান চলাকালে কারখানার মালিককে সহযোগিতা করার অভিযোগে কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে তিতাসের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অভিযানে তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান, জহুরুল ইসলাম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




মাধবদীতে প্রবাসীর বাড়িতে তাণ্ডব: চাঁদাবাজ ‘বোমা সেলিম’ ও তার বাহিনীর বিচারের দাবিতে উত্তাল নরসিংদী

​নরসিংদীর মাধবদীতে এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং নারীসহ ১২ জনকে গুরুতর আহত করার ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ‘বোমা সেলিম’ এবং তার বাহিনীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রোববার (২৮ জুন) সকালের দিকে আয়োজিত এই মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় শতশত এলাকাবাসী অংশ নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সন্ত্রাসী সেলিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।

​চাঁদা না পেয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরতা

​মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয়ভাবে ‘বোমা সেলিম’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভূমি দস্যুতা ও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (২৬ জুন) মাধবদীর ছোট মাধবদী এলাকায় এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে গিয়ে সেলিম ও তার দলবল পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবাসীর বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায় সন্ত্রাসী বাহিনী।

​লুটপাটের বিবরণ:

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং একটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​থানায় বাধা, অতঃপর আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগীরা

​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—

​ঘটনার পর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তারা মাধবদী থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন।

​কিন্তু থানা চত্বরের বাইরে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ‘বোমা সেলিম’-এর ক্যাডার বাহিনী তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং থানায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

​স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা না পেয়ে পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে নরসিংদী আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন ভুক্তভোগীরা।

​প্রশাসনের প্রতি আলটিমেটাম

​মানববন্ধন শেষে বক্তারা নরসিংদীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “একটি স্বাধীন দেশে একজন কুখ্যাত অপরাধীর ভয়ে পুরো এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।” তারা এই মামলার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে মূল হোতা সেলিমসহ হামলার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান। অন্যথায় পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।




গাজীপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলার পর অভিযুক্ত রাসেলকে ঘিরে বন দখল ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ

গাজীপুরে সরকারি খাসজমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর জয়দেবপুর প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ চিকিৎসা শেষে গত শনিবার (২৭ জুন) রাতে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় যুবদল নেতা আরাফাত রহমান রাসেলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া তার সহযোগী হিসেবে ৮-১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের পরও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরে ২৯ জুন (সোমবার) আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আরাফাত রহমান রাসেল পুনরায় সাংবাদিক আব্দুল আজিজকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
এর আগে জেলা প্রশাসকের খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন আব্দুল আজিজ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

বনভূমি দখল, অবৈধ বসতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
মামলার পর স্থানীয় বাসিন্দা, বন বিভাগের একাধিক সূত্র এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরাফাত রহমান রাসেলের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনভূমি দখল, সরকারি জমি জবরদখল, অবৈধ বসতি স্থাপন, চাঁদাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বারুইপাড়া বিটের বারুইপাড়া মৌজার এসএ ১৭১১ ও আরএস ৩৭৪৯ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ছয় একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে সেখানে ‘খাসপাড়া’ নামে একটি অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় অপরাধচক্রের সদস্যদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসে।


এছাড়া বারুইপাড়া মৌজার এক নম্বর খাস খতিয়ানের আরএস ৪২৯৮ নম্বর দাগের প্রায় ১২৫ শতাংশ সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজেন্দ্রপুর পশ্চিম বিটের আওতায় আল-আকসা মসজিদসংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল করে ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও বন বিভাগের ডিমারকেশনকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে রাসেলের বিরুদ্ধে।


‘রাজনৈতিক প্রভাবে গড়ে উঠেছে দখলচক্র’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করা হয়। সেই অর্থের প্রভাবে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং জমি দখলের একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে ওঠে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আরাফাত রহমান রাসেল একসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
বন বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অতীতেও বন আইনে রাসেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারুইপাড়া ও রাজেন্দ্রপুর পশ্চিম বিটের কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং অর্থ লেনদেনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে।

সরকারি খাসজমি দখলের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সোহেল রানা বলেন, সম্প্রতি দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক অবগত আছেন এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংরক্ষিত বনভূমি দখলের অভিযোগ সম্পর্কে ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তারা তথ্য পেয়েছেন। শিগগিরই সরেজমিন তদন্ত করে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তদন্তে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে আরাফাত রহমান রাসেলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলা, হত্যার হুমকি এবং সরকারি খাসজমি ও সংরক্ষিত বনভূমি দখলের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।




পরকীয়ার জেরে ফতুল্লায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক বিরোধ ও স্বামীর পরকীয়ার জের ধরে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেলপাড়া মির্জাবাড়ি মোড় (চানাচুর ফ্যাক্টরি সংলগ্ন) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি জাহাঙ্গীর আলম জনি (৪২)। অভিযুক্ত তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগে জনিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা, হাতের রগসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার মুন্নি নিজেই আশপাশের লোকজনকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানিয়েছেন বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন।

খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার মুন্নিকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধ ও স্বামীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।




সীমান্তে ২.২১ কোটি টাকার স্বর্ণসহ চোরাকারবারি আটক

গত ২৬ জুন ২০২৬: যশোর–বেনাপোল মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের ১৩টি স্বর্ণবারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণবারগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।

আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।




র‍্যালি ও আলোচনা সভায় কুমিল্লায় মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি

গত ২৬ জুন ২০২৬ বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান

জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইউমুল হক রিঙ্কু, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাফর সাদিক চৌধুরী, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, অজিতগুহ কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বজলুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুধীজন।




ভোলায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালিত, সচেতনতার আহ্বান

গত ২৬ জুন ২০২৬ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং উপস্থিত অতিথিরা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার, মাদকমুক্ত পরিবার”—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই মাদককে ‘না’ বলার এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




যাত্রাবাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

গত ২৬ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যাত্রাবাড়ী দক্ষিণ থানার উদ্যোগে এবং ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

থানা আমীর নওশেদ আলম ফারুক-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও কদমতলী জোনের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহিম জীবন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে এবং জনগণের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, জনসেবামূলক এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।




অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানা ১ লাখ টাকা

গত ২৫ জুন ২০২৬ শরীয়তপুর সদর উপজেলার কোটাপাড়া খিলগাঁও এলাকায় অবস্থিত মেসার্স খান ব্রিকস ফিল্ড-০১ নামের একটি অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আংশিকভাবে ভেঙে অকার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ইটভাটাটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুর রহমান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে ইটভাটার অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, শরীয়তপুরের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল নোমান

অভিযান পরিচালনায় জেলা পুলিশ, শরীয়তপুর, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




তাজিয়া মিছিলে লাঠি-সোটা ও আতশবাজি নিষিদ্ধ: আরপিএমপি

রংপুর, গত ২১ জুন ২০২৬ পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাজিয়া মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছে।

রোববার দুপুরে আরপিএমপি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা। সভায় পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাজিয়া মিছিল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মিছিল চলাকালে কোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোটা বহন, পটকা বা আতশবাজি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করা হবে।

সভায় বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিরা নিজ নিজ কর্মসূচির সময়সূচি ও রুট সম্পর্কে অবহিত করেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাজিয়া মিছিল আয়োজনের আশ্বাস দেন। পুলিশ জানায়, নির্ধারিত নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সমন্বয়ের অভাব বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে রুট পারমিট দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মিছিল শুরু ও শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় বক্তারা পবিত্র আশুরা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে পালনের আহ্বান জানান। আরপিএমপি জানায়, মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের সকল ইউনিট সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।




মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, আসছে নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গত ২৬ জুন ২০২৬ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে। সংশোধিত আইনে অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো, কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র প্রদান, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক কেমিক্যাল ল্যাব স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইন জুয়া, সাইবারভিত্তিক মাদক পাচার এবং অর্থপাচার রোধে আইন আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধানও নতুন আইনে যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অপরাধী নয়, বরং রোগী হিসেবে বিবেচনা করে বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা সম্প্রসারণ এবং কাউন্সেলিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শন, বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও স্মারক উন্মোচন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।




খাগড়াছড়িতে মাদকবিরোধী দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

গত ২৬ জুন ২০২৬, ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান সমস্যা, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী সমাধান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বর্ণাঢ্য মানববন্ধন ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান, পিপিএম (সেবা)

কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সচেতনতামূলক চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। তারা যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।




নিজস্ব বাগানের কাঁঠাল বিতরণ করল দিনাজপুর জেলা কারাগার

দিনাজপুর জেলা কারাগারের নিজস্ব বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি কাঁঠাল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

আত্মনির্ভরশীলতা, সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।




মাদকবিরোধী দিবসে নোয়াখালীতে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

গত ২৬ জুন ২০২৬ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগই নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার মতো সৃজনশীল উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদকের ভয়াবহতা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাদকমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।




৯ম জাতীয় বেসবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর পর্দা উঠল আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে

গত ২৬ জুন ২০২৬ দেশের বেসবল অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ৯ম জাতীয় বেসবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। বাংলাদেশ বেসবল ফেডারেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ

“বেসবলের শক্তি, তারুণ্যের অঙ্গীকার; ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১৪টি দল অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশ বেসবল ফেডারেশনের নিজস্ব মাঠ না থাকায় প্রতিযোগিতাটি বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, দেশের যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে বেসবলের মতো আধুনিক ও সম্ভাবনাময় খেলাধুলার আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির তৃণমূলভিত্তিক সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বেসবলের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং এটি যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ক্রীড়ার উন্নয়নে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সম্পৃক্ততা তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং ক্রীড়াবান্ধব অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই খেলাটি বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, সম্মিলিত উদ্যোগে ভবিষ্যতে এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ এবং বাংলাদেশ বেসবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। এ সময় বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে বেসবলের বিকাশ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে খেলাটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।




আপিল মঞ্জুর, ডেন্টাল ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না

ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন সনদ ইস্যু ও তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালিয়ে যাওয়ার অনুমতির নির্দেশ–সংবলিত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

১০ বছর আগে হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুধবার এ রায় দেন। ফলে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, রেজিস্ট্রেশন সনদ ইস্যুসহ ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি প্রদানে পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের পক্ষে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৩ জুন হাইকোর্ট রায় দেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ২০১৭ সালে আপিল করে। এই আপিল সমর্থন করে বিডিএস পাস করা ডেন্টিস্টদের পক্ষে একজন চিকিৎসক বিবাদী হিসেবে যুক্ত হন। শুনানি শেষে আপিল মঞ্জুর করে বুধবার রায় দেওয়া হয়।

আদালতে মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল আলম। বিডিএস পাস করা ডেন্টিস্টদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) দিতে বিএমডিসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতির নির্দেশ ছিল। আপিল বিভাগ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন। হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়েছে। ফলে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।




রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরিচয়পত্র গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

এ সময় বঙ্গভবন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।




বাংলাদেশিদের জন্য আবার ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা চালু, আবেদন শুরু ২৮ জুন

বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিরা ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

বৃহস্পতিবার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমরা ট্যুরিস্ট ভিসার স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করছি, যা আগামী ২৮ জুন রবিবার থেকে জমা দেওয়া যাবে।” তিনি জানান, মানবিক বিবেচনায় জরুরি মেডিকেল ভিসা সেবা অব্যাহত থাকবে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।

এর আগে একই দিনে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।




চরপাতায় মা সমাবেশ, গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় সচেতনতামূলক উদ্যোগ

ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের লেজপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গর্ভবতী নারীদের নিয়ে ‘মা সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পিএইচডি’র আয়োজনে এবং ইউএনএফপিএ (UNFPA)-এর সহযোগিতায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাতৃস্বাস্থ্য, নিরাপদ গর্ভাবস্থা, পুষ্টি সচেতনতা এবং প্রসবকালীন যত্ন বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়।

অনুষ্ঠানে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের গুরুত্ব, নিয়মিত চেকআপ, সঠিক পুষ্টি গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমাতে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আয়োজন গ্রামের নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।




মাদকবিরোধী আইন আরও কঠোর হচ্ছে, দ্রুতই সংসদে উঠছে সংশোধনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও যুগোপযোগী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিদ্যমান ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এটি দ্রুতই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এবং বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন ও অর্থপাচারের মাধ্যমে অপরাধ চালাচ্ছে। এ কারণে শুধু প্রচলিত আইন দিয়ে এই অপরাধ দমন সম্ভব নয়। তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও আধুনিক আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক অস্ত্র, পরিবহন সুবিধা ও ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও পৃথক আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়া দমনে নতুন আইন প্রণয়ন এবং সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় আইনি সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকার।

ডিএনসির একটি জাতীয় গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। সিনথেটিক ও নতুন ধরনের মাদকের বিস্তারে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ৭টি বিভাগে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে।

তিনি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে বাণিজ্যিক মনোভাব পরিহার করে মানবিক সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং চলতি অর্থবছরে নির্বাচিত ৭৩টি কেন্দ্রকে সরকারি অনুদান প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান।




ঝিনাইদহে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৮২ কেজি জব্দ ও জরিমানা

গত ২৪ জুন ২০২৬ পরিবেশ অধিদপ্তর, ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন মজুদ ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

বুধবার ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন।

অভিযানে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬ক(খ) ধারা অনুযায়ী নিষিদ্ধ পলিথিন মজুদ ও বিক্রয়ের অপরাধে দুইটি দোকান মালিককে মোট ৭,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আনুমানিক ৮২ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ জব্দ করা হয়।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মুন্তাছির রহমান প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া হিসাবরক্ষক মো. আকরাম হোসেন ও নমুনা সংগ্রহকারী মো. কামরুজ্জামান অভিযানে সহায়তা করেন।

অভিযান চলাকালে ব্যাটালিয়ন আনসার ও ব্যাটালিয়ন-৬ এর দুটি চৌকস দল নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান করে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, পরিবেশ দূষণকারী ও আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




রাজারবাগ কলেজে ডিএমপি কমিশনারের আগমন, শিক্ষার মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনা

গত ২৪ মে ২০২৬ বুধবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা এর আগমন উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা ৩০ মিনিটে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নবনিযুক্ত সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

সভায় ডিএমপি কমিশনার প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার মানোন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সবাইকে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিমসহ ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




পিস্তল পাচ্ছেন মাদকের কর্মকর্তারা, অনুমোদন রয়েছে ৫৯৫টি অস্ত্র

মাদকবিরোধী অভিযানে ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবার আধুনিক অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নিরস্ত্র অবস্থায় অভিযান পরিচালনা করলেও শিগগিরই নাইন এমএম আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল নিয়ে মাঠে নামবেন ডিএনসি কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে অস্ত্র সংগ্রহের প্রায় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে।

এ লক্ষ্যে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ৩৫ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ চলছে। এতে উপপরিদর্শক থেকে শুরু করে পরিদর্শক, সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালকসহ মোট ৫৭৯ জন কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ২৬০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।

প্রশিক্ষণে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ ব্যবহার এবং অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বাকি কর্মকর্তারাও প্রশিক্ষণ শেষে মাঠ পর্যায়ের অভিযানে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আপাতত ২৭৫টি ৯ এমএম আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল কেনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে মোট ৫৯৫টি অস্ত্র কেনার অনুমোদন রয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হবে শুধুমাত্র “সর্বশেষ পন্থা” হিসেবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ, এরপর প্রয়োজন হলে ফাঁকা গুলি এবং সর্বশেষ ক্ষেত্রে সীমিত লক্ষ্যভিত্তিক গুলি ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি গুলির ব্যবহার পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা ও নথিভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক কারবারিরা এখন সশস্ত্র হওয়ায় অভিযান পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অস্ত্র সংযোজন হলে আত্মরক্ষা ও অভিযানের সক্ষমতা বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।

ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান বলেন, “মাদক কারবারিরা এখন অস্ত্রসজ্জিত। আমাদের কর্মকর্তারা প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়েন। অস্ত্র যুক্ত হলে আমরা আরও কার্যকরভাবে অভিযান চালাতে পারবো।”

ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ বলেন, “অস্ত্র ছাড়া অভিযানে অনেক সময় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থাকে। এখন আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়বে এবং অভিযান আরও শক্তিশালী হবে।”

ডিএনসি আশা করছে, নতুন এই সক্ষমতা মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করবে।




চট্টগ্রামে গণধর্ষণের পর নির্মম হত্যা, ৯ মাস পর ডিএনএতে মিলল পরিচয়—২ জন গ্রেফতার

গত ২১ জুন ২০২৬ চট্টগ্রামে এক নৃশংস গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজের প্রায় ৯ মাস পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই বিকেলে “জুলাই আন্দোলন” চলাকালে চট্টগ্রামের ভূজপুর এলাকায় ভিকটিম রিনা আক্তারকে (ছদ্মনাম) জোরপূর্বক আব্দুল মান্নানের টিলার টিনের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পরবর্তীতে ৪ আগস্ট স্থানীয় মসজিদের ইমামের মাধ্যমে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে ৫ আগস্ট মান্নানের টিলার বাগান থেকে ভিকটিমের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে ভূজপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা রুজু হয়।

পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ আদালতের নির্দেশে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০ জুন ২০২৬ রাতে ফেনী সদর থেকে মো. আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ জুন ২০২৬ হাটহাজারী থেকে মো. রামজান আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন ভিকটিমকে জোরপূর্বক আটক রেখে নাচ-গান করানোর পর একাধিক আসামি মিলে গণধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি প্রকাশের ভয় দেখালে তাকে হত্যা করা হয় এবং লাশ টুকরো করে টিলার পাশে ফেলে রাখা হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়, দোয়া ও শুভকামনায় মুখর অনুষ্ঠান

গত ২০ জুন ২০২৬ শনিবার বর্ণমালা আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সম্মানিত সদস্য সচিব জনাব তানভীর আহমেদ রবিন।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভকামনা জানানো হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনায় দোয়া পরিচালনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যায়ে অধ্যবসায়, নৈতিকতা ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিদায়ী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতি ও অনুভূতি ভাগ করে নেন।

আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।




বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী, যানজট কমাতে কঠোর নির্দেশনা

গত ২৪ জুন ২০২৬ রাজধানীর যানজট নিরসন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বাস টার্মিনালগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বাসস্ট্যান্ড পরিদর্শন করেছেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ হাবিব।

বৃহস্পতিবার এ পরিদর্শনকালে তিনি ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড ও কাঞ্চপুর বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব জনাব জিয়াউল হক এবং প্রধান প্রকৌশলী জনাব মঈনুল হক।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যানজট নিরসন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বাস টার্মিনালগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত ও আধুনিক করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনা জরুরি।

এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা পরিবহন খাতে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।




বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে অভিযান, ২ ইটভাটাকে ১.৫ লাখ টাকা জরিমানা

গত ২৩ জুন ২০২৬ বায়ুদূষণ রোধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে দুটি অবৈধ ইটভাটাকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কেওঢালা এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল মাহমুদ প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযানে খান ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারারকে ৭০ হাজার টাকা এবং মেসার্স আল্লাহ মহান ব্রিকসকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তর আরও জানায়, অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া ও নির্গমন বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। এ ধরনের কার্যক্রম রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এইচ এম রাশেদ বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অবৈধ ইটভাটা বা পরিবেশদূষণকারী কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।




চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা, নারায়ণগঞ্জে ‘জব ফেয়ার ২০২৬’

গত ২৪ জুন ২০২৬ তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব ফেয়ার ২০২৬’।

বুধবার চাষাড়ার হীরা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ জব ফেয়ারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জব ফেয়ার নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মেলায় অংশগ্রহণকারী চাকরিপ্রত্যাশীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার, জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার এবং চাকরির বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।

আয়োজকরা জানান, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।