দুবাই থেকে আসা নিষিদ্ধ প্রসাধনী ও ই-সিগারেটের চালান জব্দ

দুবাই থেকে আসা এক টন আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি প্রসাধনী ও ই-সিগারেটের লিকুইড জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর ফকিরহাটের বৈদেশিক ডাকঘর থেকে চালানটি জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, চালানটিতে বিপুল পরিমাণ ত্বক ফর্সাকারী বিউটি ক্রিম ও ই-সিগারেটের লিকুইড রয়েছে, যা দেশে আমদানি নিষিদ্ধ। আকাশপথে পণ্যগুলো দেশে আসার পর রেলপথে চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল। এরপর বৈদেশিক ডাকঘর থেকে খালাসের আগেই তা জব্দ করা হয়।

তবে চালানটি কোন বিমানবন্দর হয়ে এসেছে বা এর আমদানিকারক কে—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি কাস্টম হাউসের এই কর্মকর্তা।




১১ দিনে এলো ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনে দেশে প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১১৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা দেশীয় মুদ্রায় ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত রবিবার প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৭৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৯৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাস আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।




পেশাগত স্বার্থরক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রবিবার ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা-এর সভাপতি মানিক মুনতাসির ও সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সংগঠনটির ৪৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতনকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা কঠিন।

তিনি সাংবাদিকদের যথাযথ কল্যাণ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে না পারা সমাজের জন্য দুর্ভাগ্যজনক এ কথা উল্লেখ করে পেশাগত স্বার্থরক্ষায় সকল বিভাজন ভুলে গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের নির্ভীক ও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায় জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।

একইসাথে তিনি অপসাংবাদিকতা, অপতথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার প্রতিরোধেও মূলধারার গণমাধ্যম ও পেশাদার সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মমত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি যে শিকড় থেকে এসেছি, যে শিকড় থেকে আমার বেড়ে ওঠা, সেই শিকড়কে আমি ধরে রাখতে চাই।’

ঠাকুরগাঁওকে সাম্প্রদায়িকতা ও মাদকমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য ফোরামের সদস্যদের অভিনন্দন জানান  এসবং দেশ ও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পাশে থাকার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম এসময় সংগঠনটির সদস্যদেরকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলায় গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে সজাগ থাকা এবং জেলার সাফল্য ও অর্জনগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।

তারা পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয় এবং গুরুতর অসুস্থ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সংগঠনটির সমৃদ্ধি ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।

এসময় ফোরামের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ঢাকা স্ট্রিমের সিইও সোহেল রানা, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মানিকুল আজাদ, প্রথম আলোর সাংবাদিক তুহিন সাইফুল্লাহ, বাসসের সাংবাদিক মাহাবুর আলম সোহাগ, স্টার নিউজের সিনিয়র প্রডিউসার মাহবুব আলম রাজ, কালবেলার সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম ও চ্যানেল-২৪ এর সাংবাদিক মাসউদুর রহমান রানা।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




সরকারি উদ্যোগে বাড়বে ইলিশের উৎপাদন

জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, জাটকা নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান জোরদার, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, গবেষণা বৃদ্ধি, সরকারিভাবে জেলেদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ)-এর পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

পাশাপাশি ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত ও নাব্যতা বজায় রাখা, ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ, মোহনা ও উপকূলীয় পরিবেশের সুরক্ষা, বৈজ্ঞানিকভাবে মৎস্য আহরণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন,  এসবের পাশাপাশি জেলেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তাদের জীবিকা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলেই বাড়বে ইলিশের উৎপাদন।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের মতো বিভিন্ন প্রাণিজ ও উদ্ভিদ উৎপাদনে উত্থান-পতন হতে পারে। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। এতে আইনের প্রয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব শিগ্গিরই প্রকল্পটি চালু হবে। একই সাথে সরকার এবার ভিজিএফ কার্ড বা জেলেদের জন্য বরাদ্দের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।

ইলিশ গবেষকরা বলছেন, ভারতের গুজরাটের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণে আরও গবেষণা এবং বাংলাদেশ-গুজরাটের নদী ও মোহনা পরিবেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণও প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক প্রজনন ও চলাচলের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে নানান উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে’র মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, খুব শিগগিরই নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হলে এর কাজ শুরু হবে। ‘মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণে এবার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দেওয়া এবং ভিজিএফ এর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ভিজিএফ সুবিধা প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৬ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার করা হয়েছে।

চলতি বছরও ইলিশ আহরণ কমের দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের উৎপাদন এবারও নিচের দিকে। তবে সরকারি নানা উদ্যোগের কারণে আগামী বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবে।

তিনি বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো মূল্যেই হোক নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ করতে হবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদ রানা ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ দায়ী নয় বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জাটকা আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা, ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার, নদীর নাব্য হ্রাস, পানি দূষণ, পানি প্রবাহের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং সমুদ্রে অতিরিক্ত মাছ ধরার চাপ সব মিলিয়েই ইলিশসম্পদের ওপর চাপ তৈরি করছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরাতে তিনি বলেন, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫.২৯ লাখ টন, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে প্রায় ৫ লাখ টন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম, কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়ার পর সর্বশেষ হিসাবে তা কমে যাওয়ায় ইলিশসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সরকারি নথিতে শিল্প ট্রলারের জন্য ৪০ মিটার গভীরতার বাইরে মাছ ধরার বিধান রয়েছে উল্লখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় নির্ধারিত গভীরতা অঞ্চলের ভেতরে ট্রলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল বা অনুপযুক্ত জাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মাছ ধরা পড়তে পারে। এতে ইলিশের ছোট বয়সের মাছসহ অন্যান্য মাছও প্রজননক্ষম হওয়ার আগেই আহরিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মা ইলিশ রক্ষায় কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন ড. মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একটি প্রজননক্ষম মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে তার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক ইলিশ জন্ম নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় টহল, নৌযান পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। নদীতে পানি দূষণ, বর্জ্য ফেলা, নাব্য হ্রাস এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

তার মতে, কোথায় ইলিশ বেশি ডিম ছাড়ছে, কোন সময় বেশি আসে এবং কোন পরিবেশগত পরিবর্তন তার প্রজননে প্রভাব ফেলছে এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা উচিত।

স্যাটেলাইট ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের বিচরণ, প্রজনন ও নার্সারি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, নদীর প্রবাহ, ক্লোরোফিল ও অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ইলিশের গতিবিধি ও সম্ভাব্য সমাগমের পূর্বাভাস দেয়া, নদী ও মোহনায় ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) সেন্সরের মাধ্যমে পানির গুণাগুণ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, ডিএনএ ও হাইড্রোএকাউট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের উপস্থিতি ও মজুত নির্ণয় এবং ড্রোন ও এআই-ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

পাশাপাশি জিপিএস-ভিত্তিক নৌযান পর্যবেক্ষণ, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় স্মার্ট ফিশিং গিয়ার, ডিজিটাল ক্যাচ ডেটাবেজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করা হলে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। এসব প্রযুক্তিকে সমন্বিত করে একটি ‘স্মার্ট হিলসা ম্যানেজমেন্ট’ গড়ে তুলতে পারলে ইলিশের প্রাকৃতিক মজুত সংরক্ষণ, অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের নর্মদা নদীর মোহনা ও ভরুচ অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে, যা বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। গুজরাটে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অতিবৃষ্টির ফলে নর্মদা নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধি, মোহনা অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিবর্তন, ইলিশের চলাচল অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মৌসুমি মাছের প্রাপ্যতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গুজরাটের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পদ্মা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদী অববাহিকার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ এবং মোহনার পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন ড. মাসুদ রানা।

বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন দুই বছর ধরে কমছে। ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টন ইলিশ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে উত্থান শুরু হয়। এরপর প্রতি অর্থবছরে উৎপাদন ১০ থেকে ২০ হাজার টন করে বাড়ে। গত দু’বছর ধরে উৎপাদন কমের দিকে। দেশে টেকসই উৎপাদন প্রতিবছর সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টন ইলিশ আহরণ করলে সেটি টেকসই উৎপাদনের সীমার মধ্যে থাকবে।

তার বিবেচনায় ইলিশের উৎপাদন কমার পেছনে সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হলো প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা এবং নির্বিচার জাটকা নিধন। মা ইলিশ রক্ষার জন্য অক্টোবরে যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটি এখনো ঠিক আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সময়টা কিছুটা পিছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা গবেষণা করে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, অতীতে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছিল কয়েকটি উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে। এর মধ্যে ছিল ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষা, ৮ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ রাখা, মার্চ ও এপ্রিলে অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা, সাড়ে ৬ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ করা এবং বন্ধের সময়ে জেলেদের চালসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া। এছাড়া পাঁচটি অভয়াশ্রম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। অভয়াশ্রমগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ এখন জরুরি।

অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ইলিশ ডিম ছাড়ার পর মার্চ-এপ্রিলে জাটকা ঝাঁকে ঝাঁকে সাগরের দিকে যেতে থাকে। এ সময় নদ-নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে এবং উপকূলীয় সাগরে আর্টিসানাল ট্রলারের (যেগুলো ৪০ মিটারের কম গভীরতায় মাছ ধরে) মাধ্যমে ব্যাপক হারে জাটকা নিধন করা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। জাটকা নিধনে ‘জিরো টলারেন্স’ এর পরামর্শ দেন সরকারকে। পাশাপাশি দখলদূষণের ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট এবং নাব্যতা সংকটের কারণেও ইলিশ ঠিকমতো বড় হচ্ছে না।

মৎস্যবিজ্ঞানীদের বক্তব্যের প্রতিফলন পাওয়া যায় উপকূলের জেলেদের মুখ থেকেও। বিষখালী নদীতে ইলিশ মাছ ধরা কয়েকজন জেলের নাম হলো মো. লিটন হোসেন, মো. কাইয়ুম এবং নিরু খান।

তাদের বক্তব্য, ইলিশের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পরই ছাঁকনির মতো সূক্ষ্ম জাল দিয়ে সেগুলো ধরে ফেলা হয়। জাটকানিধনের প্রথম ধাপে একেবারে ছোট বাচ্চা, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাপিলা মাছ’ নামে বাজারে বিক্রি হয়, পরে ধাপে তুলনামূলক বড় ফাঁসের কারেন্ট জালে নির্বিচারে ধরা হয়। শেষের ধাপে বড় ট্রলিং ট্রলার এবং কাঠের রূপান্তরিত ট্রলিং ট্রলারে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগই পাচ্ছে না। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ছাড়াও নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে জেলেরা ছোট ইলিশ ধরে আনছেন।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ইলিশের খাদ্যতালিকায় ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদকণা (জুপ্ল্যাংকটন) ও ১২ প্রজাতির প্রাণিকণা (ফাইটোপ্ল্যাংটন) রয়েছে। এসব প্ল্যাংকটনের পরিমাণ মেঘনা নদীতে ৬৮ শতাংশ কমেছে। এর বড় কারণ নদীদূষণ। ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এক গবেষণা করে দেখিয়েছেন, পদ্মা ও মেঘনার মোহনায় ইলিশের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্ল্যাংকটন আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে, যার প্রভাব পড়ছে ইলিশের আকৃতিতেও।

উল্লেখ্য, ইলিশ শুধু জাতীয় অর্থনীতির জন্য নয়, উপকূলীয় জেলে, মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠী এবং উপকূলের সাধারণ মানুষের জীবিকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে নিয়োজিত, আর পরিবহন, বাজারজাতকরণ, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা কার্যক্রমে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।

ইলিশে উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে এবং  ইলিশ আহরণে প্রথম স্থান দখল করে আছে। এছাড়া ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট ইলিশ মাছকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।




একদিনেই ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ ও আইফোন আটক, মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা!

ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একই দিনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (CIID) পৃথক দুটি সফল অভিযানে ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ, যার মধ্যে রয়েছে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি আইফোন আটক করা হয়েছে। আটককৃত পণ্যের শুল্ককরাদিসহ প্রদত্ত আনুমানিক মোট মূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ১৬৭ টাকা।

গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামে পরিচালিত পৃথক অভিযানে এসব পণ্য আটক করা হয়। চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার অব্যাহত নজরদারি ও তৎপরতায় একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

শাহজালালে গ্রিন চ্যানেলে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: ৬১ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও আইফোন আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের বি-শিফটের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।

এ সময় কুয়ালালামপুর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর BS-0316 যোগে আগত যাত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে তাঁর ব্যাগেজ সন্দেহজনক মনে হলে কর্মকর্তারা বিধি মোতাবেক ইনভেন্টরি ও পরীক্ষা করেন।

পরীক্ষাকালে ২৯৯ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি iPhone 18 Pro Max আটক করা হয়। আটককৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা।

চট্টগ্রামে জুতার ভেতরে স্বর্ণ লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না: দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ আটক

অন্যদিকে, একই দিনে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেলে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেন।

সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে দুবাই থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের BG-148 ফ্লাইটের যাত্রী তানবীর হাসান রিফাত শুল্ক ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বর্ণ বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

পরবর্তীতে অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে তল্লাশিকালে তাঁর জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং দেহ তল্লাশিতে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার পাওয়া যায়।

একই ফ্লাইটে আগত অপর যাত্রী মো. হাবিবুর রহমানের ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করে আরও ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট যাত্রীর পাসপোর্টে ২০২৬ সালে পূর্বে ব্যাগেজ সুবিধায় স্বর্ণ আনার তথ্যও লিপিবদ্ধ রয়েছে।

এ অভিযানে মোট ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়, যার শুল্ককরাদিসহ আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৮ লাখ ১২ হাজার টাকা।

এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ আটক: চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক সাফল্য

উল্লেখ্য, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক নজরদারির ফলে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে ৭০২ গ্রাম স্বর্ণবার এবং ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ ডি.এম. মূলে আটক করা হয়েছে।

চোরাচালানের বিরুদ্ধে কাস্টমস গোয়েন্দার কঠোর অবস্থান

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মনে করে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ ও উচ্চমূল্যের পণ্যের অবৈধ প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি, ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী শনাক্তকরণ এবং তাৎক্ষণিক অভিযানের গুরুত্ব অপরিসীম।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একই দিনে পরিচালিত এই দুটি সফল অভিযান কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তাদের সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও দক্ষতার প্রতিফলন।

রাজস্ব সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তকরণে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।




এনসিটি-সিসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত বন্দর ভবনসংলগ্ন বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট গেট এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিক্ষোভে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিন ড্রাইভার (প্রথম শ্রেণি) ইব্রাহিম খোকন, সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, তপন দত্ত, তসলিম হোসেন সেলিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আল কাদেরী জয় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে এর প্রভাব শ্রমিকদের পাশাপাশি বন্দরের স্বার্থের ওপর পড়তে পারে। তাই ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সংগঠনের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় ১২ অক্টোবর বেলা ১১টায় অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি। ওই অনশন কর্মসূচি থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।

পরে বন্দর ভবনসংলগ্ন বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নিমতলা বিশ্বরোড ঘুরে পুনরায় শুরুর স্থানে এসে শেষ হয়। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন বিক্ষোভকারীরা।




বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রতিবাদে ঢাকায় সড়ক অবরোধ অটোরিকশাচালকদের

বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিদ্যুৎসংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন, তাই এই বিক্ষোভ করছেন বলে জানিয়েছেন।

অটোচালকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় অটোরিকশা চার্জ দিতে পারছেন না তারা। এতে গাড়ি চালাতে না পেরে আয়-রোজগারও বন্ধ হওয়ার অবস্থা দাঁড়িয়েছে।

প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধের ফলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। আশপাশের সড়কেও যানজট তৈরি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

অটোরিকশাচালকরা বলেন, তারা বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তাদের কর্মজীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন না করলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

বর্তমানে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে অটোরিকশাচালকরা বিক্ষোভ করছেন।




যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত তা দূর করা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং কাজ শেষ করতে একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বলেন তিনি।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্যের বাজারে ২০ বছর ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার

খাঁটি ও প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করেছিল ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি ছোট পরিসরের কার্যক্রম থেকে শুরু করে দুই দশকে প্রতিষ্ঠানটি শ্যামলী, ধানমন্ডি হয়ে বর্তমানে মিরপুরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ক্রেতা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

২০০৬ সালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কাটাবন কনকর্ড টাওয়ারের নিচতলায় ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই প্রাকৃতিক ও অর্গানিক খাদ্যপণ্য সরবরাহকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যাত্রার দুই বছর পর শ্যামলী মেইন রোডে, শ্যামলী শাহী মসজিদের মূল গেটের বিপরীতে কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় আট বছর কার্যক্রম পরিচালনার পর ২০১৯ সালের এপ্রিলে ধানমন্ডিতে নতুন শোরুম চালু করা হয়।

বর্তমানে মিরপুর ৬০ ফুট রোডের আমতলা বাজারে, গ্রীন সুপার শপের পাশে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

‘আমাদের চাল-ডালে পোকা দৌড়ায়’

ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের উদ্যোক্তা হাকিম এ.বি.এম. রাসেল বলেন, ভেজাল ও কৃত্রিম উপাদানের ভিড়ে মানুষের কাছে প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা।

এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের চাল-ডালে পোকা দৌড়ায়—কারণ আমরা প্রাকৃতিক।’

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ এড়িয়ে পণ্যের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে গ্রাহকের সন্তুষ্টিকে গুরুত্ব দিতে ‘বিক্রিত মাল হাসিমুখে ফেরত নেওয়া হয়’—এমন নীতিও অনুসরণ করা হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

যেসব পণ্য পাওয়া যায়

ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের শোরুমে কাঠের ঘানিতে ভাঙানো দেশি সরিষার তেল, ঘি, সুন্দরবনের মধু, বিভিন্ন ধরনের ভেষজ চা, আমলকী ও তেঁতুলের আচার, লাল গম ও চালের ছাতুসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য পাওয়া যায় বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া মৌসুমি ফলমূল এবং বিভিন্ন ভেষজ উপাদান থেকে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও পথ্যও রয়েছে তাদের পণ্যের তালিকায়।

শোরুমে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে শাহি শরবত ও ভেষজ নাশতার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দুই দশকের পথচলা

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দশকের পথচলায় সবচেয়ে বড় অর্জন গ্রাহকদের আস্থা ও সমর্থন। সেই আস্থা ধরে রেখে আগামী দিনেও প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্য সরবরাহের পরিধি বাড়াতে চায় ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার।

২০ বছর পূর্তিতে প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গীকার, প্রাকৃতিক খাদ্যপণ্য ও গ্রাহকসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। তাদের ভাষায়, গত ২০ বছরের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য তারা ক্রেতাদের কাছে কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতেও সেই সম্পর্ক ধরে রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




বান্দরবানে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর ফুফুর কক্ষে বাক্সে মিলল শিশুর মরদেহ

বান্দরবানের সদর উপজেলায় সকাল থেকে নিখোঁজ তিন বছরের শিশু তায়িফা সুলতানার মরদেহ ফুফুর কক্ষের একটি বাক্স থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির ফুফু নার্গিস সুলতানাকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুয়ালক বাজারসংলগ্ন ময়দার মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তায়িফা সুলতানা ওই এলাকার ইলিয়াস খানের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল থেকে তায়িফাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে বাবা ইলিয়াস খান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।

পরে শিশুটির পরিবারের বাড়িতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে নার্গিস সুলতানাকে তায়িফাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যেতে দেখা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তার কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে একটি বাক্সের ভেতর শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নার্গিস সুলতানা ভাতিজিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কী কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের এক সদস্যের ভাষ্য, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নার্গিস সুলতানা তার ভাই ইলিয়াস খানের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। পরিবারের ধারণা, শিশুটির মায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে নার্গিস সুলতানার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে নার্গিস সুলতানার কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।

ঘটনার কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




নির্মাণকাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ শহরের পুরানথানা এলাকায় নির্মাণকাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরানথানা ইসলামি মার্কেটের সামনে সামাদ প্লাজায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জিনারাইল গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আফাজুল (৩৪) এবং হোসেনপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের সাব্বির (২৫)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুরে সামাদ প্লাজার নির্মাণকাজে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এ সময় ভবনের ওপরের অংশে রড টেনে নেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে রডটি ভবনের বাইরের অংশে থাকা একটি খোলা এসির বৈদ্যুতিক সংযোগে স্পর্শ করলে আফাজুল ও সাব্বির বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ২ শ্রমিককে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত লোহার রড ভবনের বাইরে থাকা এসির বৈদ্যুতিক সংযোগের সংস্পর্শে আসায় ২ শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. পলাশ মিয়া বলেন, নির্মাণকাজ শুরুর আগে ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপদ করা প্রয়োজন ছিল। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে নির্মাণকাজে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে উদ্বুদ্ধকরণ সভা

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন পিপিএম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু, সাধারণ সম্পাদক মো. গোলজার হোসেনসহ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও হজযাত্রীরা।

সভায় বক্তারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রায় আগ্রহী করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় হজযাত্রীদের সঠিক তথ্য প্রদান, হজ পালনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের সুবিধাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী হজযাত্রীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।




বনজমি দখলে নেপথ্যে অর্থ লেনদেন, ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের

> ডিমার্কেশন ছাড়াই বনভূমিতে গোডাউন-বাড়ি, উচ্ছেদের পর ফের ৮৬ ঘর নির্মাণের অভিযোগ

> বনজমি দখলে নেপথ্যে অর্থ লেনদেন, ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের

> ২৪ ঘণ্টায় বাড়ি ভাঙার নির্দেশ, সপ্তাহ পেরোলেও বহাল স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

গাজীপুরে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটে বন বিভাগের জমি দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও সুবিশাল টাইলসের গোডাউন, কোথাও চারতলা ভবন, আবার কোথাও ছয়তলা ভবনের ভিত্তির ওপর নির্মাণকাজ চলছে। অভিযোগের বড় অংশই হলো—বনভূমির সীমানা নির্ধারণ বা ডিমার্কেশন না করেই এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

শুধু নতুন স্থাপনা নির্মাণ নয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে সরিয়ে দেওয়া ঘরও ফের নির্মাণ করা হয়েছে বলে সরেজমিনে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে এই প্রতিবেদক। স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের পর আশ্রমচালা এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া ঘরগুলোর জায়গায় গত দুই মাসে প্রায় ৮৬টি ঘর নতুন করে নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘর নির্মাণে ঘরপ্রতি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এভাবে প্রায় ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া এত ব্যাপকভাবে বনভূমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্য বিদায়ী মনিপুর বিট কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বনভূমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণে সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিটের ক্যাশিয়ার ও বনপ্রহরী মাসুমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

ডিমার্কেশন ছাড়াই টাইলসের বিশাল গোডাউন:

মনিপুর বিটের জেসন গেইটসংলগ্ন নৌলাপাড়া পুরনো মসজিদের বিপরীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ব্রিজের পূর্ব পাশে টাইলস ব্যবসায়ী রওশনের একটি বড় গোডাউন নির্মাণের কাজ চলছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রওশনের আদি বাড়ি সিলেটে এবং তিনি স্থানীয় জিয়াদের পরিবারের ঘরজামাই।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগে মনিপুর বিট কর্তৃপক্ষ তাকে ওই স্থানে কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেয়নি। কিন্তু বর্তমানে অর্থের বিনিময়ে বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান তাকে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, বিট কর্মকর্তা মান্নানের পরামর্শেই দিনের বেলা নির্মাণকাজ না করে রাতভর বিপুলসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে গোডাউনটির নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিটের ক্যাশিয়ার ও বনপ্রহরী মাসুমের বিরুদ্ধেও অর্থের বিনিময়ে নির্মাণকাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। গোডাউন নির্মাণে জোতের পাশাপাশি বনেরজমিও যুক্ত করেছেন রওশন,দাবি বিশেষ সূত্রের।

তবে এ অভিযোগের পাশাপাশি জমির সীমানা নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একই দাগের জমির ডিমার্কেশনের জন্য বন বিভাগের কাছে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ হয়নি। অথচ ডিমার্কেশন সম্পন্ন হওয়ার আগেই বনভূমি-সংলগ্ন বনের জমিসহ বিশাল স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।

জমির বিবরণ অনুযায়ী—এসএ দাগ ৫৭৪ ও ৫৭৫; আরএস দাগ ১৬৭৯ ও ১৬৮৩। সরেজমিনে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট জমির দুই পাশেই ভাওয়াল গড়ের বনভূমি রয়েছে। ফলে সীমানা নির্ধারণ না করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে সরকারি বনভূমির অংশ স্থায়ীভাবে দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

সংরক্ষিত বনভূমির মাঝখানে চারতলা ভবন:

মনিপুর বিটের কাতলামারা এলাকার মন্দিরের বিপরীতে দক্ষিণ দিকে মনিপুরমুখী রাস্তার পাশে সংরক্ষিত বনভূমির মাঝখানে চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সরেজমিনে তা প্রত্যক্ষও করা গেছে।

কুমিল্লার সোহেল নামের এক ব্যক্তি জমিটির মালিকানা দাবি করে ভবন নির্মাণ করছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ভবনটির দক্ষিণাংশের কিছু অংশ সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে চলে গেছে।

যথাযথ জরিপ ও ডিমার্কেশন ছাড়া নির্মাণকাজ চলতে থাকলে সরকারি বনভূমি স্থায়ীভাবে দখল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

হোতাপাড়ায় ছয়তলা ফাউন্ডেশন:

হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডের অটোস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে বাক্কির বাড়ি সংলগ্নও একই ধরনের অভিযোগ। চারদিকে ভাওয়াল গড়ের বনভূমি থাকা সত্ত্বেও ডিমার্কেশন ছাড়াই জালাল উদ্দিন মাস্টার নামে এক ব্যক্তির ছয়তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দুইতলা নির্মাণকাজ চলছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। বাড়ি নির্মাণে জোতের পাশাপাশি বনের জমি যুক্ত করেছেন জালালউদ্দিন,দাবি এলাকাবাসীর।

এর আগে হোতাপাড়া থেকে মনিপুরগামী মূল রাস্তার উত্তর পাশে ভাওয়ালগড় কেটে বনের জমিতে রাস্তা নির্মাণ করেছেন জালাল উদ্দিন মাস্টার। রাস্তাটি তাঁর বাড়িতে যাওয়ার জন্য নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিট রহস্যময় কারণে বাধা প্রদান করেনি, আইনগত ব্যবস্থাও নেয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনভূমির সীমানা নির্ধারণ না করেই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

প্রায় ৮ কাঠা জমিতে বাউন্ডারি, ডিমার্কেশন নেই:

মনিপুরে প্রয়াত সবুর মাস্টারের বাড়ির বিপরীতে এবং কফি হাউজের পূর্ব পাশে কয়েকদিন আগে প্রায় আট কাঠা জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ প্রত্যক্ষ করেছেন এই প্রতিবেদক। বাউন্ডারির ভেতরে বন বিভাগের জমির অংশও ঢুকে গেছে।

এ ঘটনায় ‘বনের দালাল’ নামে খ্যাত ইদুম আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বনভূমি দখলে মধ্যস্থতা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইদুম আলীর মধ্যস্থতায় জনৈক কহিনুর বেগম বায়নাসূত্রে ওই জমি কিনেছেন।

জমির বিবরণ—পরিমাণ ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ; খতিয়ান: সিএস-১৩১, এসএ-৩৪২, আরএস-১৯০; দাগ: এসএ-৩১০, আরএস-১০৩৮।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, জমির সীমানা নির্ধারণ না করেই কীভাবে এত বড় বাউন্ডারি নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলো?

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, সপ্তাহ পেরিয়েও বহাল বাড়ি:

বেগমপুর কাজী মার্কেটের পশ্চিম পাশে পল্লী চিকিৎসক ডা. খোরশেদ আলমের একটি সুবিশাল বাড়ি নির্মাণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন ও জমির নথির সূত্রে দেখা গেছে, বাড়িটি বন বিভাগের জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে।

বার্তা পেয়ে মনিপুর বিট কর্মকর্তা ও রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের কর্মকর্তারা বিটের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর বাড়িটি ভেঙে ফেলার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

কিন্তু এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও বাড়িটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। এরপর এ বিষয়ে বন বিভাগের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

 

 

 

উচ্ছেদ হলো, আবারও উঠল ঘর:

মনিপুর বিটের নয়াপাড়ার আশ্রমচালা এলাকায় বনভূমি দখলের চিত্র আরও উদ্বেগজনক।

৫ আগস্টের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে বেশ কিছু ঘর সরিয়ে দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্ছেদের পর গত দুই মাসে একই এলাকায় প্রায় ৮৬টি ঘর নতুন করে নির্মাণ অথবা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিটি ঘর নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণের জন্য ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি বিশেষ চক্রের বিরুদ্ধে বনভূমিতে ঘর নির্মাণে মধ্যস্থতার অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে মনিপুর বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের উচ্ছেদ অভিযানের জন্য বিট কর্মকর্তা মান্নান সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ বাবদ গ্রহণ করেছিলেন।

একদিকে উচ্ছেদ অভিযান, অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে একই এলাকায় ফের ঘর নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

উচ্ছেদের পর ফের নির্মাণের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে

স্থানীয়দের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, উচ্ছেদ অভিযানে ঘর সরিয়ে নেওয়ার পর পুনরায় ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে—উজ্জল, শ্রী সুবল, মো. সাদ্দাম, শ্রী সত্যেন, বলাই চন্দ্র বর্মন, জিয়া, সত্যেন্দ্র, কিবরিয়া, তোফাজ্জল হোসেন মন্টে, মো. হেলাল ও আবু তালেব।

এ ছাড়া উচ্ছেদের সময় ঘর খুলে রাখার পর একই এলাকায় পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে মো. আসাদ মাঝি, মো. সুমন, মো. হামিদ, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. শেফালী রানী, মো. সাদেক, শ্রী গোবিন্দ দেবনাথ, রতন রাজশাহী, শ্রী নিরঞ্জন ও লিপির বিরুদ্ধে। এদের ঘরবাড়ি আশ্রমচালা এলাকায়।

বনভূমিতে ঘরবাড়ির দীর্ঘ তালিকা:

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে আশ্রমচালা এলাকায় আরও যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বনভূমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে (এবং সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করা গেছে)  তারা হলেন—হারুন, আল আমিন, শুকুর আলী, বিল্লাল (তালা মেকার), মিজান, নজরুল, ইসলাম উদ্দিন, মনির, ফখরুদ্দিন, রুবেল, রাজশাহী জহির, জহির, নিত্য, লিটন রাজশাহী, অর্জুন, সমরঞ্জন, বোঝ, মর্জিনা, সুজন বংশী, আনন্দ, রঞ্জিত বংশী, রিপন বংশী, নিতাই, ফাতেমা, বিল্লাল, হানিফা, সাগর রাজশাহী, সুবল চন্দ্র বর্মন, নবী হোসেন, হযরত, যতীন বংশী, রিয়াজ, সুলতান, শরিফ, ফরিদ, মারফতের স্ত্রী, মহি, আব্দুর রহিম, নিতাই বংশী, স্বপন, রবীন্দ্র, সবিতা, চৈতি, লুৎফর বেপারী, ফরহাদ, ফওসিউল, রিয়াজুল, আব্দুল আউয়াল, খুশি, গৌরাঙ্গ, ইউনুস, লায়লা, ববিতা, রোকেয়া, হামিদ, ইসমাইল, গিয়াস উদ্দিন, শেফালী রানী, ফরিদ, জামির হোসেন, আশিক ও তাইজুল ইসলাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘর নির্মাণ-পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে ঘরপ্রতি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এসব টাকা স্থানীয় চিহ্নিত দালাল ও বিট কর্মকর্তা মান্নান এবং বিট ক্যাশিয়ার মাসুমের পকেটে গেছে বলে সূত্রের দাবি।

আইন কী বলছে:

বনভূমি নিয়ে এমন অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় বিদ্যমান আইনি কাঠামোর কারণে। বন আইন, ১৯২৭-এর ২৬ ধারায় সংরক্ষিত বনে অনুমতি ছাড়া ভূমি পরিষ্কার, চাষাবাদ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জমি ব্যবহারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে। একই আইনের ২৩ ধারায় লিখিত সরকারি অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনে কোনো নতুন অধিকার অর্জনের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

বন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনে জমি জরিপ, ডিমার্কেশন ও মানচিত্র তৈরির ক্ষমতাও আইনে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বনভূমির সীমানা নিয়ে বিরোধ বা অনিশ্চয়তা থাকলে যথাযথ জরিপ ও সীমানা নির্ধারণের গুরুত্ব রয়েছে। নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ডিমার্কেশনের বিধানও আইনে রয়েছে।

বনভূমি কমলে শুধু গাছ নয়, বিপন্ন হয় পুরো প্রতিবেশ:

পরিবেশবিদদের মতে, বনভূমির প্রান্তে একের পর এক বসতি, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও পাকা ভবন গড়ে উঠলে ক্ষতি শুধু জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বনভূমির খণ্ডীকরণে বন্যপ্রাণীর চলাচল ও আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মানুষের প্রবেশ বাড়ে এবং ভবিষ্যতে আরও দখলের পথ তৈরি হয়।

ভাওয়াল গড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলের ক্ষেত্রে তাই কোনো জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি দাগ, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ, আরএস/এসএ রেকর্ড এবং বন বিভাগের নিজস্ব সীমানা—সবকিছু মিলিয়ে যৌথ জরিপ করা জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশসংশ্লিষ্টরা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

অভিযোগের বিষয়ে সদ্য বিদায়ী মনিপুর বিট কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল বারী বলেন, ‘এতদিন বিট কর্মকর্তা বিটে ছিলেন, তখন আপনারা কেন কিছু জানাননি? এখন বদলি হয়ে যাওয়ার পর কেন বলছেন?’

অনুসন্ধান চলাকালে কোনো কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আগের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান বা ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না—এমন কোনো সরকারি বিধান আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি থাকাকালীন অভিযোগগুলো করলে ভালো হতো, তাই বললাম।’

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারপরও যদি এ ধরনের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল মামুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

একই বিষয়ে ঢাকা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ শামসুল আরেফীনের সঙ্গেও একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়ে তাঁর বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তিনিও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।




চট্টগ্রামে মাদকের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৩৮০

চট্টগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান ও নিয়মিত মামলায় ৩৮০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ১৩৩ জন। তাদের মধ্যে ৫২ জন মাদক কারবারি ও ৮১ জন মাদক সেবনকারী।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, নিয়মিত মামলায় ১০৬ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ১৭ জন, পরোয়ানামূলে ১০৪ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসময় অর্থদণ্ড করা হয়েছে ২১ হাজার ১০০ টাকা।

 

অভিযানে ৩৮টি মাদক মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৭ হাজার ২৬১ ইয়াবা, ৩৩ কেজি ৫৫৮ গ্রাম গাঁজা, ১৬৯ লিটার চোলাইমদ ও ৫০ বোতল স্কাফ সিরাপ।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, জনস্বার্থে পরিচালিত মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




খুলনা বিভাগে এক দিনে রেকর্ড ৩৩৪ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগজুড়ে নতুন করে রেকর্ড ৩৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা। এর মধ্যে কেবল খুলনা জেলা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ২০৯ জন রোগী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৮৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ১৬৪ জন (সরকারি হাসপাতালে ১১৭ ও বেসরকারিতে ৪৭) এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হন।

অন্যান্য জেলার মধ্যে যশোরে ৩৭ জন, বাগেরহাটে ১৯ জন, ঝিনাইদহে ১৬ জন, মাগুরায় ১৪ জন, সাতক্ষীরায় ১৫ জন (জেলা হাসপাতালে ৯ ও মেডিকেলে ৬), কুষ্টিয়ায় ৯ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৭ জন, নড়াইলে ৬ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৮৩ জনে। চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ১১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৮৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিভাগে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন, খুলনা জেলা হাসপাতালে ২ জন এবং বাগেরহাটে ১ জন মারা গেছেন।




কুকুর নিখোঁজের পর বিড়ালপ্রেমীদের ওপর হামলা: বিচার দাবিতে মানববন্ধন

রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে বেওয়ারিশ বিড়ালকে খাবার দিতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের হামলার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও প্রাণীপ্রেমীরা। শনিবার তারা হামলায় জড়িতদের বিচার, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এ সময় ডিওএইচএস পরিষদের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এম আব্দুল হাইয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

গত ২৭ আগস্ট দিবাগত রাতে ডিওএইচএস পার্কসংলগ্ন এলাকায় বেওয়ারিশ বিড়ালকে খাবার দিতে গেলে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে পরিষদের নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরিষদের প্রায় ২০ জন নিরাপত্তারক্ষী তাদের ওপর হামলা চালান। এতে এক নারীসহ অন্তত চারজন আহত হন।

ভুক্তভোগী আকিবুর রহমান খান অভিযোগ করেন, নিরাপত্তারক্ষীরা তার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করেন এবং তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। বুট দিয়ে পা মাড়িয়ে দেওয়ায় তার পায়ের একটি আঙুল ফ্র্যাকচার হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার সময় কয়েকজনের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরদিন ফোনগুলো ফেরত দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলার পর পরিষদ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বললেও এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়নি। তাদের প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ থাকলে ঘটনার ভিডিওচিত্র জনসমক্ষে আনতে বাধা কোথায়।

সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন বারিধারা ডিওএইচএস থেকে ১২টি কুকুর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। পরিষদের পক্ষ থেকে কুকুরগুলো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিয়ে গেছে বলে দাবি করা হলেও ডিএনসিসি লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা ওই এলাকা থেকে কোনো কুকুর অপসারণ করেনি।

কুকুর নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক ইকবাল খন্দকারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, যার নম্বর ৩৭৭। সাংবাদিকের দাবি, পরিষদ সভাপতি এম আব্দুল হাইয়ের নম্বর থেকে তার ব্যক্তিগত তথ্য উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠানো হয়, যা তিনি হুমকি হিসেবে দেখছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, কুকুর নিখোঁজ, সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ এবং সর্বশেষ প্রাণীদের খাবার দিতে গিয়ে বাসিন্দাদের ওপর হামলা—এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, বারিধারা ডিওএইচএসে প্রাণী ও প্রাণীপ্রেমীদের ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এখন সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে এনেছে।

এ বিষয়ে বারিধারা ডিওএইচএস পরিষদের সভাপতি কর্নেল (অব.) এম আব্দুল হাইয়ের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




চট্টগ্রামে অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কা, বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি

আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে আগামী তিন দিন রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং এসব অঞ্চলের উজানে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বেড়েছে। আগামী পাঁচ দিনও এ নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মার পানি সমতল বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, গঙ্গার পানি আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এরপর চার দিন পানি বাড়তে পারে। পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। তবে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। গোমতী, ফেনী, সেলোনিয়া, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে মুহুরী নদীর পানি কমেছে।

আগামী এক দিনে চট্টগ্রাম বিভাগের এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। পরবর্তী দুই দিন পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী তিন দিনও এ দুই নদীর পানি বাড়তে পারে।




কুড়িগ্রামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু

​কুড়িগ্রামে আগামী ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা পর্যায়ে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন (মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি) জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বছর প্রতিযোগিতায় কাবাডি, হ্যান্ডবল, দাবা ও সাঁতার—এই চার টি ইভেন্টে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।
​প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আজ বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
​সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়া চর্চার কোনো বিকল্প নেই। গ্রীষ্মকালীন এই জাতীয় প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং তাদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।” তিনি প্রতিযোগিতাটি সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
​অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মোঃ নাজির হোসেনের পরিচালনায় সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার আশ্বাস দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান।
​সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নূর বখত।
​এ সময় জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তুতি সভায় খেলার ভেন্যু নির্বাচন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




দখলচেষ্টা ও কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ: জমির মালিককে ফাঁসানোর দাবি

নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী শেখের চর (বাবুরহাট) কাপড়ের বাজারে প্রতারণামূলক পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলকে কেন্দ্র করে জমি দখলচেষ্টা ও প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্ত ও বিচার চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের মামলা গ্রহণ না করে উল্টো জমির মালিককে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
​আজ সকালে নরসিংদীর ভগীরথপুরস্থ নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন জমির মালিক শাহীন ভূইয়ার মেয়ে সাদিকা আক্তার সাথী।
​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, বিতর্কিত ওই ভূমির ওপর দেওয়ানী আদালত থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে। তবে আদালতের স্পষ্ট আদেশ অমান্য করে বিবাদী শহীদুল্লাহ বাহার ও তার সহযোগীরা স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বুরহানকে সঙ্গে নিয়ে অন্যায্যভাবে জমি দখলের পাঁয়তারা চালায়। দখলের একপর্যায়ে ভাড়াটিয়াদের একাধিক দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা প্রায় ১ কোটি টাকার মালামাল ও কাপড় লুট করে নিয়ে যায় দখলকারীরা।
​সাদিকা আক্তার সাথী অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনার পর আমরা ন্যায়বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। উল্টো বিবাদীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমার নিরীহ বাবা (জমির মালিক)-এর বিরুদ্ধেই মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার ও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সায়মা আক্তার, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান-ভাড়াটিয়া গোলাপ মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা অবিলম্বে মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জমির মালিক শাহীন ভূইয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোড় দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।




শরীয়তপুরে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ণবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৮,৫০০ টাকা

শরীয়তপুর: অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার বন্ধে শরীয়তপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সদর উপজেলার মনোহর বাজার মোড় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে চারটি মামলায় মোট ৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ব্যবহৃত আটটি হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, শরীয়তপুরের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল নোমান।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ণের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।




কালকিনিতে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

মাদারীপুর: মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি বাসায় চুরির ঘটনায় চোরাইকৃত স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, চুরি কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি জুয়েলারি দোকান থেকে বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ২৮ আগস্ট সকাল ৯টার মধ্যে কোনো এক সময় কালকিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকায় জান্নাতুল হুসনার স্বামীর তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা ব্যালকনি ও জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার ও রুপার নুপুর নিয়ে যায়।

চুরির ঘটনায় কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মো. সুজন সরদার (৩৪)-কে শনাক্ত করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালকিনি উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বসতঘর থেকে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং চুরি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে সুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালকিনি বাজারের বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে দোকানের মালিক এনামুল হক (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি স্বর্ণের গলার হার, এক জোড়া কানের দুল, একটি টিকলি, একটি ব্রেসলেট এবং একটি গলিত স্বর্ণের টুকরাসহ বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কালকিনি থানায় ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এফআইআর নং-২৩, জিআর নং-১৫৪ এবং দণ্ডবিধির ৪৫৪/৩৮০/৪১১ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তারে সাফল্য, এএসআই তৌহিদুল ইসলামকে সম্মাননা

নওগাঁ: সাজাপ্রাপ্ত একাধিক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় পোরশা থানায় কর্মরত এএসআই (নিরস্ত্র) মো. তৌহিদুল ইসলামকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাকে এ সম্মাননা প্রদান করেন।

পুলিশের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে এ ধরনের সম্মাননা অন্যান্য পুলিশ সদস্যদেরও আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




ফরিদপুরে হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন অপু, তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মতবিনিময়

ফরিদপুর, ৩১ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এমপি ফরিদপুর জেলা সফর করেছেন। এ সময় ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী ফরিদপুরে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী হুইপকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

পরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

সভায় তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।May be an image of dais and text

এ সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট নাগরিক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।




হবিগঞ্জে বিজিবির পৃথক অভিযান, কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ও গাঁজা জব্দ

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস ও গাঁজাসহ একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা এসব ভারতীয় পণ্য ও মাদক জব্দ করা হয়। অভিযানে জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।

চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।




লিংক রোডে বাড়ছে নজরদারি, বসছে সিসি ক্যামেরা

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMEA) ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (NCCI)-এর পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশকে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে লিংক রোডে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিল্পাঞ্চল ও ব্যস্ততম এই সড়কে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গতি আসবে এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে।




সততা ও দক্ষতার স্বীকৃতি, দ্বিতীয়বার পুরস্কৃত হুমায়ুন কবির

নারায়ণগঞ্জ: সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দ্বিতীয়বারের মতো পুরস্কার পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ডিএসবি ফতুল্লা জোনের সদস্য হুমায়ুন কবির।

দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, পেশাগত দক্ষতা এবং ভালো কাজের ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর আগে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি প্রথমবারও পুরস্কৃত হয়েছিলেন।

দ্বিতীয়বারের মতো পুরস্কার অর্জন করায় হুমায়ুন কবিরের সহকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার এ অর্জন দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা অন্য সদস্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।




থানায় এসে সেই রাতের ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন তরুণী নিজেই

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে বসা যে তরুণীকে ‘নিথর’ অবস্থায় দেখা যায়, তিনি নিজেই মদ্যপ অবস্থায় থাকার কথা জানিয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ওই তরুণী বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিজেই মদ খেয়েছি। কেউ তো খাওয়ায় দেয় নাই। ওই লোকগুলো (বাইকের) আসছে আমাকে সাহায্য করতে।’

এ দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই তরুণীকে তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলের দুই আরোহীকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আমরা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যায় মানসিক চাপে ছিল। সে নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে মদ্যপ অবস্থায় ওই তরুণদের সঙ্গে যায়। আমরা মোটরসাইকেলে থাকা দুইজনকে খুঁজছি। তারা হয়তো ভয়ে সামনে আসছে না। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

ডিসি শফিকুল ইসলাম আরও জানান, তরুণীটিকে আপাতত তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তার দাবি, তিনি পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার কারণে মানসিক চাপে ছিলেন। সেই মানসিক অশান্তি থেকেই তিনি নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করেন। পরে মদ্যপ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে তিনি তার চাচা হিসেবে চিনতেন। অচেতন হয়ে পড়ার পর তাদের দেখতে পেয়ে তিনি তাদের ফোন করেন। ফোন পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বর্তমানে টঙ্গীতে থাকেন বলেও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া তার একাধিক বিয়ের তথ্যকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

তরুণীর দাবি, তার সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে অশান্তিতে ছিলেন বলেও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলের মাঝখানে এক তরুণীকে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ওই তরুণীকে মৃত কিংবা গুরুতর অসুস্থ বলে ধারণা করে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করেন। পরে জানা যায়, তরুণীটি জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সবকটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে তরুণীকে কেন ওই অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি কারা, তারা কোথা থেকে তাকে নিয়ে যাত্রা করেছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তরুণীটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলটির নম্বর শনাক্ত করেছে। মোটরসাইকেলটির মালিক ও দুই আরোহীর পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, মোটরসাইকেলের মালিকানা, ভিডিওর উৎস, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং অন্যান্য বিষয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণীটি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে তদন্তে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির বক্তব্য। তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ওই রাতের ঘটনার বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

এদিকে তরুণীটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং তাকে তার বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে কোনো অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, নাকি এটি অসুস্থ অবস্থায় একজন তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনা- তা নিশ্চিত হতে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।




কদমতলী থানা প্রেসক্লাবে, ঢাকার উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেহানা প্লাজায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দৈনিক দিন প্রতিদিনের সহকারী সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান পিন্টুর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক প্রতিদিনের খবরের সম্পাদক সরকার জামাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশের আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ও কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার প্রধান উপদেষ্টা সুমন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাইম ২৪-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং দৈনিক দিন প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি আয়শা আক্তার জেসিকা, শনিআখড়া পপুলার হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হুদা শামীম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হালিম শিকদার ও হাজী মো. নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়-নীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের একপর্যায়ে স্থানীয় মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও পবিত্র কুরআনের হাফেজদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মিলাদ শেষে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনের সদস্যদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
প্রস্তুতি কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—
সভাপতি: সরকার জামাল, দৈনিক প্রতিদিনের খবর
সাধারণ সম্পাদক: মো. জাহিদ হাসান পিন্টু, দৈনিক দিন প্রতিদিন
সাংগঠনিক সম্পাদক: আশিকুর রহমান, দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা
সিনিয়র সহসভাপতি: কবির হোসেন মঞ্জু, দৈনিক প্রতিদিনের খবর
সহসভাপতি: হালিম শিকদার, দৈনিক বাংলা ভূমি; এস কে সবুজ আহমেদ, দৈনিক মুক্তির লড়াই; মাকসুদুর রহমান, টাইম ২৪
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শামীম হোসেন অর্নব, প্রথম আলো; নাছির সরদার, দৈনিক রূপবানী
সহসাধারণ সম্পাদক: সামাদ সরওয়ার, নাগরিক টিভি; সোহেল আহমেদ, চ্যানেল এস
দপ্তর সম্পাদক: এস এম সোহাগ রানা, টাইম ২৪
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: ইভা রহমান, দৈনিক বাংলা ভূমি
অর্থ সম্পাদক: তাহের শেখ, প্রতিদিনের খবর
প্রচার সম্পাদক: লিটন গাজী, সাহারা টিভি
সাংস্কৃতিক সম্পাদক: এম এ এইচ মাসুদ, বার্তা বিচিত্রা
তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক: মো. শাওন, দৈনিক আলোর সময়
সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: মো. মাইনুদ্দিন, বাংলাদেশের আলো
ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক: দিপু ভূঁইয়া, আওয়ার বাংলাদেশ
পাঠাগার সম্পাদক: রুহুল আমীন হাওলাদার, দৈনিক সবার আগে
কার্যকরী সদস্য: মো. জসিমউদ্দিন, সাহারা টিভি; নাছির মোল্লা, দৈনিক মাতৃভূমি; চৌধুরী ওহেদুন্নবী সানী, দৈনিক স্বাধীন কাগজ; শরিফুল হক, তথ্যবাণী; মো. হাকিম, দৈনিক ভোরের কথা; বাদল, রাজধানী টিভি; শাওন, প্রতিদিনের আলো এবং শাহারীয়া ইসলাম বাপ্পি।


আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তুতি কমিটির মূল লক্ষ্য হলো সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা এবং সকল সদস্যের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা।
অনুষ্ঠানের পরিশেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং সর্বস্তরের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




চট্টগ্রামে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রাম, ২১ আগস্ট ২০২৬: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএমের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন সাইজের ১৩ টন লোহার রড ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানোর সময় চালানটি চুরি হয়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিমের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, এসআই (নিঃ) মোঃ সাদ্দাম হোসেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ ইসমাইলসহ পুলিশের একটি দল আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট বারইয়ারহাট এলাকা থেকে মোঃ রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকের হেলপার মোঃ হাদিছ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার মহম্মদপুর থানাধীন জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল বাশার ওরফে বাঁশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশারের দেওয়া তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই চক্রের মূলহোতা জাহাঙ্গীরের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মহম্মদপুর বাজারের ‘আয়ান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ফরিদপুরের মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আন্তঃজেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।




‘ভুল চিকিৎসায়’ মৃত্যু: সেই নারীর বা‌ড়ি‌তে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এক নারীর পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির কনিকা মণ্ডল।

নিহত কনিকা উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

নিহত কনিকা মণ্ডলের স্বামী অশান্ত মণ্ডল বলেন, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার পেটে গজ রেখেই সেলাই করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ১৯ আগস্ট দিনগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

ছেলে পার্থ মণ্ডল বলেন, আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।আর যেন কোনো মা মারা না যায়, সেজন্য ওই হাসপাতাল বন্ধসহ ডাক্তারের শাস্তির দাবি জানাই।

 

স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণেই কনিকার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার তদন্তে গত রাতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। এগুলো এখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলো একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে

গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর কনিকার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ আগস্ট রাতে তার মৃত্যু হয়।




টঙ্গীতে ডিএমপি, নৌ পুলিশ ও জিএমপির যৌথ মাদকবিরোধী অভিযান

টঙ্গী, ২০ আগস্ট ২০২৬: রাজধানীর তুরাগ নদীর তীরবর্তী টঙ্গী এলাকায় মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), নৌ পুলিশ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আনুমানিক বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নৌ পুলিশের দুটি দল অংশ নেয়। নৌ পুলিশ, ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে চারটি নৌ থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর, উপপরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবলরা অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যরা সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম—উভয়ভাবেই মাঠে ছিলেন।

যৌথ অভিযানে তুরাগ নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




হবিগঞ্জে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কাটা-বিক্রি: বিএনপি নেতাসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা, চুরি ও বিক্রির অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চুনারুঘাট থানায় সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে ১৯২৭ সালের বন আইনের (২০০০ সালে সংশোধিত) ২৬(১ক)-এর (খ) ও (ঘ) ধারায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৩৪।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে তা চুরি ও কেনাবেচা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বন বিভাগের অনুসন্ধানে এ ঘটনায় ২০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

সাতছড়ির মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ মিয়াকে। অন্য আসামিরা হলেন- মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম আবুল, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, চুনারুঘাট উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান, চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার এবং মিরাশী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ।

এ ছাড়া সাতছড়ির মামলায় আরও যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ গ্রামের মনান মিয়ার পুত্র কালা মিয়া; কাঠালবাড়ি গ্রামের আরজু মিয়ার পুত্র আব্দুল কুদ্দুস; মাবিস্তাপুর গ্রামের মোস্তফার পুত্র জসিম; গাজীপুর গ্রামের ওযায়ছ উল্লাহর পুত্র তাহির মিয়া; বদরগাজী গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর পুত্র আঃ জলিল মিয়া; করমপুর গ্রামের মৃত মকছুদ আলীর পুত্র রফিক মিয়া; করমপুর গ্রামের মৃত মকছুদ আলীর পুত্র হেলাল মিয়া; করমপুর গ্রামের মৃত মকছুদ আলীর পুত্র মকবুল মিয়া; এবং মাধবপুর উপজেলার ইটখোলা গ্রামের মৃত সানা উল্লাহর পুত্র মাসুম বিল্লাহ।

অন্যদিকে, একই দিনে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে গাছ কাটা, চুরি ও বিক্রির অভিযোগে বন কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় ৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ৪২ জনের মধ্যে প্রথমে মূল হোতা হিসেবে সুমনের নাম রয়েছে। তিনি চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের পীরেরগাঁও (পীরপুর) গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। অন্য আসামিরা হলেন—রুবেল মিয়া, আব্দুর রহিমের ছেলে শাহীন, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কাছম আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫), সাহিদ মিয়া (৩০), সফিক মিয়া (২৭), তৈয়ব আলীর ছেলে রুবেল মিয়া (৩৫), মিশন মিয়া (২৫), আক্তার মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (২৮), আবু তাহেরের ছেলে পারভেজ মিয়া (২৪), অলি মিয়ার ছেলে সামিল মিয়া (২৫), ছলিম মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (২৪), তোলারজুম গ্রামের আব্দুল নুরের ছেলে আব্দুল করিম, মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে তাজুল ইসলাম আঞ্জাস (৩৫), মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে সিদ্দিক মিয়া (৩৮), মনাই মিয়ার ছেলে আরজু মিয়া (৩৫), সামসু মিয়ার ছেলে জাবির মিয়া (৩২), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে কাজল মিয়া (৩২), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে তাজুল মিয়া (৩০), জসিম আলীর ছেলে নূর আলী (২৬), আলপি মিয়ার ছেলে তৌকির মিয়া (৩২), মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে মিজানুর রহমান কয়াল (৩২), লুতু মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া (২৭), আব্দুল মালেকের ছেলে বিল্লাল মিয়া (৩৩), মৃত সুগা মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়া (৩৫), মৃত আব্দুল জাহিরের ছেলে আব্দুল খালেক (৪০), ছাদু মিয়ার ছেলে মোশাহিদ মিয়া ওরফে কালে, মৃত আলতা মিয়ার ছেলে ফয়সাল আহমেদ তুহিন, লাল মিয়ার ছেলে মোতাব্বির, জাহাঙ্গীরের ছেলে আজাদ, আফছিরের ছেলে রুবেল, মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে একলাছ মিয়া, লাল মিয়ার ছেলে মাসুক এবং জানু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন ও চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, ‘গাছ চুরির বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

এদিকে স্থানীয় এক বন্যপ্রাণী ও পরিবেশকর্মীরা সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি। তবে তদন্তের সময় কোনো নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

তবে মামলার আসামি করিম সরকার, শফিক মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইমজা নিউজকে তারা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাদের মামলায় জড়িয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




নরসিংদীর শ্রেষ্ঠ ওসি এ আর এম আল-মামুন

নরসিংদী প্রতিনিধি: মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল-মামুনকে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখায় তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ওসি এ আর এম আল-মামুন।

এ সম্মাননা তার দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশের চলমান অপরাধবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।




সিরাজদিখানে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ পরিবারের মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত বিনামূল্যে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা ঘোষ।

অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে বিনামূল্যে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

স্থান: উপজেলা পরিষদ চত্বর, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ
আয়োজনে: উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ।




কাহালুতে অবৈধ করাতকলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার কাহালু উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি করাতকলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার কাহালু-মালঞ্চা সড়ক এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন কাহালুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব কুমার বিশ্বাস ও কাহালুর ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মো. হাসান আল তারিক।

অভিযানকালে মিরাজুল স মিলের মালিক মো. মিরাজুল ইসলামকে প্রয়োজনীয় বৈধ অনুমোদন ছাড়াই করাতকল পরিচালনার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এ কারণে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মালিককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশ ও বন আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পরিচালিত করাতকলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কুষ্টিয়ায় নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলামের যোগদান ও দায়িত্বভার গ্রহণ

কুষ্টিয়া জেলার নবাগত পুলিশ সুপার হিসেবে জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম যোগদান করে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

সম্প্রতি তিনি কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশি সেবার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দায়িত্বভার গ্রহণকালে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নবাগত পুলিশ সুপারকে স্বাগত জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।




কপিরাইট নিয়ে অভিযোগ: চ্যানেল আইকে নোটিস এক সাংবাদিকের

ফেইসবুক লাইভের ভিডিও নিজেদের কনটেন্ট হিসেবে দাবি করে কপিরাইট দাবি করার অভিযোগে চ্যানেল আইয়ের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস দিয়েছেন আরেকটি টেলিভিশন স্টেশনের একজন উপজেলা প্রতিনিধি।

বুধবার নোটিস পাঠিয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি জি এম মশিউর রহমান মিলন।

নোটিসে সাত দিনের মধ্যে ‘কপিরাইট ক্লেইম’ প্রত্যাহার, লিখিত ক্ষমা এবং পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

নোটিসদাতার আইনজীবী মোজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেছেন, তার মক্কেলের দাবি পূরণ করা না হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে যাবেন তারা।

এ বিষয়ে চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তারা এখনো মিলনের পাঠানো আইনি নোটিস পাননি।

“যেহেতু আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রথমে আমাদের সেটি পেতে হবে। নোটিস পাওয়ার পর আমরা দেখব আসলে আমাদের কোনো সমস্যা আছে কি না। তার অভিযোগটি সঠিক হলে আমরা সে অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করব।”

সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও রুচির বিষয়টিকে চ্যানেল আই গুরুত্ব দেয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, সেটি আমরা চাই না। তাই নোটিসটি পাওয়ার পর পর্যালোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহীন চ্যানেল আইয়ের প্রকাশক শাইখ সিরাজকে উদ্দেশ করে ওই আইনি নোটিস পাঠান।

নোটিসে মিলনকে ৭১ টেলিভিশন ও দৈনিক খবরের কাগজের বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়।

নোটিসে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই বাউফলের দাশপাড়া এলাকায় একটি পরিবারের কাছ থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মিলন। ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য নেওয়ার পর সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার ঘটনাটি তিনি নিজের ফেইসবুক পেইজে লাইভ করেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, এরপর চ্যানেল আই একই ভিডিও তাদের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশ করে। পরে ৮ আগস্ট মিলনের মূল ভিডিওটির ৩৩ সেকেন্ড থেকে ৬ মিনিট ৩ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশে ফেইসবুকের রাইটস ম্যানেজার ব্যবস্থার মাধ্যমে কপিরাইট ক্লেইম করে।

নোটিশে চ্যানেল আইয়ের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে তুলে ধরা হয়।

মিলনের দাবি, কপিরাইট ক্লেইমের কারণে তার ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী ব্লক হয়ে যায়। এতে ফেইসবুক থেকে তার আয়ের সুবিধা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পেশাগত সুনাম, মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।




টেকনাফে আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে ফেরত আনলো বিজিবি

টেকনাফে আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে ফেরত আনলো বিজিবি

টেকনাফ(কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর উদ্যোগ ও মানবিক তৎপরতায় মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জন জেলেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি এবং ৬ জন এফডিএমএন সদস্য।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্যলাইন থেকে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ২৪ জেলেকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসে।

বিজিবি জানায়, ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন বেশ কয়েকজন জেলে। এ সময় তাদের আটক করে আরাকান আর্মি। পরে তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত এলাকা কিংবা কারাগারে রাখা হয়।

মানবিক বিবেচনায় বিজিবির উদ্যোগে আটক জেলেদের ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ২৪ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

ফেরত আসা জেলেদের পরিচয় যাচাইয়ের কার্যক্রম স্থানীয় উপজেলা প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে চলমান রয়েছে। যাচাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মি মোট ৪৩৪ জন বাংলাদেশি ও এফডিএমএন জেলেকে আটক করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি ২২২ জন এবং এফডিএমএন ২১২ জন।

এ সময়ে মোট ৩৪৮ জন জেলে দেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ১৫৭ জন এবং এফডিএমএন ১৯১ জন। এখনো ৮৬ জন জেলে ফেরত আসেননি—যাদের মধ্যে বাংলাদেশি ৬৫ জন এবং এফডিএমএন ২১ জন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট আটক জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।




ঘাটাইলে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক কমিউনিটি সভা

জেলা তথ্য অফিস, টাঙ্গাইল-এর ব্যবস্থাপনায় ঘাটাইল উপজেলায় “শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম” শীর্ষক প্রকল্পের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ১ম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬) সময়কালের জিওবি খাতের আওতায় একটি কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তারা শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, মাদক, যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, নারী প্রতিনিধি, কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীর অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।