কৃষিখাতে বাণিজ্য আরও সুদৃঢ় করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

কৃষিখাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের সঙ্গে এক সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, পারস্পরিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বিষয়ে আলোকপাত হয়। এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে কৃষিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দীর্ঘ সময়ের বন্ধু ও উন্নয়ন অংশীদার। উভয় দেশের মধ্যে খুবই চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও বেগবান করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি প্রযুক্তিসহ সহযোগিতার মনোভাবকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে অভিবাদন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তার দেশ কৃষিখাতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী। মন্ত্রীও এ বিষয় নিয়ে কাজ করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।




কুড়িগ্রাম ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকট মোকাবেলায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শতাধিক কৃষক।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাইকেরছড়া ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকায় ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন কৃষকেরা। এতে সোনাহাট সেতুর দুই প্রান্তে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষকেরা জানান, চলতি আমন মৌসুমে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দোকান ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ সার পাচ্ছেন না তারা। কোথাও সার মিললেও তা অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে, যা তাদের নাগালের বাইরে।

এক কৃষক বলেন, “এই সময় ধান গাছে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রয়োগের সময়। কিন্তু বাজারে সার নেই। এতে ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাবে।”

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি গুদামে সার থাকলেও ডিলারদের অনিয়ম, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ জন মিত্র, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল হেলাল মাহমুদ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ইউএনও দীপ জন মিত্র বলেন, “কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কৃষকরাও প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন।”

এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ফলন কমে যাবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।




লালমনিরহাটে জমির আইলে অহরহ গাছ কালাইয়ের চাষ হচ্ছে

লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকাতে জমির আইলে অহরহ গাছ কালাইয়ে চাষ করছে কৃষক-কৃষাণীরা। সময়ের আবর্তনে এই গাছ কালাইয়ের চাষ কমে গেলেও আবারও জমির আইল, গ্রামীণ মেঠো পথের ধারে, জাতীয় মহাসড়কের পাশে ও সাথী ফসল হিসেবে কচু ও হলুদ এবং আদার জমির মাঝে চাষ করছেন।
মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ গ্রামের কৃষক মোঃ হযরত আলী বলেন, অহরহ বীজ থেকে গাছ কালাইয়ে চাষ হয়। জাত ভেদে গাছ কালাইয়ে গাছ ১০থেকে ১২হাত লম্বা ও ৫০ থেকে ৬০টি শাখা প্রশাখা যুক্ত হয়ে থাকে। ডালপালা জ্বালানী, পাতা ও ডগা পচিয়ে জৈব সার তৈরি করা যায়। ঘন করে লাগানোর ফলে বাড়ির বেড়া, মাটির ক্ষয় রোধ হয় বলে পুকুর এবং জমির আইলে লাগানো হয়। গাছ কালাই পতিত জমি, জমির আইলে, বাড়ির আশেপাশে, ধান বা সবজি ক্ষেতে পাশে, গ্রামীণ ও জাতীয় মহাসড়কের দু’পাশে খুব সহজে চাষ করা যায়। অহরহ গাছ শুকানোর পর উৎকৃষ্ট মানের খড়ি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে মোঃ আব্দুর রহমান, আমিনুর ইসলাম ও কমল কান্তি বর্মনসহ অন্যান্য কৃষকরা বলেন, লাঙ্গল টেনে বা ২ইঞ্চি পরিমাণ গর্ত করে বীজ বোপণ করলেই চারা গাছ হয়ে যায়। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফুল এবং তার কিছুদিন পর থেকেই ফল আসে। দু’একবার কীটনাশক স্প্রে করলেই চলে। এর জন্য আলাদা কোন খরচ করতে হয় না।
সরেজমিনে লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ও ২টি (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমিগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, হলুদ, কচু, এবং কপির জমির আইল ও রাস্তার ধারে অহরহ গাছ কালাইয়ের গাছ শোভা পাচ্ছে।
এলাকার কৃষকরা বলেন, গ্রামাঞ্চলে আঞ্চলিক ভাষায় এটি গাছ কালাই বলে পরিচিত। এটি কাচা অবস্থায় খিচুড়ি, সবজি এবং শুকনো হলে ডাল হিসেবে খাওয়া হয় বলে একটি গরীবের ডালও বলা হয়ে থাকে।
চিকিৎসকরা বলেন, প্রোটিন সমৃদ্ধ শরীর গঠনের জন্য অহরহ গাছ কালাই খুবই উপকারী। এর পাতার রস জন্ডিস রোগ নিরাময়েও কার্যকর। এছাড়া এর পাতা ও ডগা পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, এই এলাকার কৃষকরা আগে থেকেই জমির আইলে অহরহ গাছ কালাই চাষ করে। এতে একদিকে যেন ক্ষেতের বেড়া হিসেবে কাজ করে অন্যদিকে এই গাছে পাতা জমিতে সবুজ সার তৈরী করে। অহরহ ডাল খেতেও যেমন পুষ্টিগুন, তেমনি কৃষকের ফসল ও জ্বালানী হিসেবেও গাছটি উপকারী।



কুড়িগ্রামে বন্যা সহনশীল ধান পাইলটিং গবেষণা-ফলাফল প্রচার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামে বন্যা সহনশীল ধান পাইলটিং গবেষণা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে বেসরকারি সংস্থা বিএমজেড-পিটি প্রকল্প এবং আফাদ এর আয়োজনে তাদের নিজস্ব মিলনায়তনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
আফাদ এর নির্বাহী পরিচালক সাইদা ইয়াসমিন এর সভাপতিত্ব বক্তব্য রাখেন,কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণের অতিরিক্ত উপপরিচালক আসাদুজ্জামান,বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক ডক্টর নাজিমুদ্দিন,সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা যুনায়েদ হাবিব,বিএমজেড-পিটি প্রকল্পের টেকনিকেল অফিসার মাহমুদুল হক,প্রকল্প সম্বনয়কারী রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
কর্মশালায় জানানো হয়,কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ও পাঁচগাছি ইউনিয়নের ২০টি দলে ৪৮০জন নারী কৃষাণীকে বন্যা সহনশীল ধান পাইলটিং গবেষণা প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। গবেষণায় ব্রি-৫২ধান, গানজিয়া, মালশিরা, গুটি স্বর্ণা চাষ করা হয়েছে। চাষকৃত এসব ধানে কোন ধরনের রাসায়নিক সার-কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। শুধু জৈব সার দিয়ে চাষ করা হয়েছে। বিঘায় ৩দফায় প্রায় চারশ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করা হয়। এই জৈব সার ব্যবহারের কারণে ধানের ফলন ভালো পাওয়া গেছে। ধানের দানা পুস্ট,আকার-আকৃতি সমান এবং চিটা কম। পাশাপাশি জমির উর্বরতা ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়াও জমিতে পানি ধারণ ক্ষমতা পেয়েছে। ধানের বীজতলা ট্রেতে করে উৎপাদন করা হয়। এতে করে ধানের অপচয় কমেছে। চারার স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং নির্দিষ্ট বয়সে চারা জমিতে রোপন করা যায়। কর্মশালায় নারী কৃষক, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করে।
বাংলাদেশের উত্তর,পশ্চিম এবং পূর্বে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালীকরণ করার লক্ষ্যে ৫টি অংশীদার সংস্থা (বিএমজেড-পিটি) নেটওয়ার্ক পদ্ধতির মাধ্যমে কুড়িগ্রামে ধান পাইলটিং গবেষণা-ফলাফল বাস্তবায়ন হচ্ছে।
বেসরকারি সংস্থা ম্যালটেজার ইন্টারন্যাশনাল এবং বিএমজেড এর সহায়তায় কুড়িগ্রামে অ্যাসোসিয়শন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট (এএফএডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।



দুর্গাপুরে আষাঢ়ে বৃষ্টিতে রোপা আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষক-কৃষানীরা 

আষাঢ়ের পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে রোপা আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কৃষক-কৃষানীরা।
রাজশাহীর ৯টি উপজেলাতেই চলছে রোপা আমন রোপণ কাজ। এবার আষাঢ় মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টি হওয়ার কারণে বিনা সেচে আমন রোপণ করতে পেরে খুশি চাষীরা।
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন বিল ঘুরে সরেজমিনে এ সব চিত্র দেখা যায়। এ অঞ্চলে আমন ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করা এবং চারা রোপণের কাজ পুরোদমে চলছে। শ্রমিক ও সার সংকট থাকলেও কৃষকরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বৃষ্টির কারণে সেচ বাবদ খরচ না থাকায়, স্বস্তি পেয়েছেন কৃষকরা। অনেক কৃষক শুকনো জমি চাষ করে রেখেছেন আগে থেকেই এবং বৃষ্টির পর পরই চারা রোপণ শুরু করেছেন।
এই উপজেলার কোনো কোনো বিলে ধান চাষীর সব জমিতে আমন রোপণ শেষ হয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো বিলে কৃষকের জমিতে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জমে আছে হাঁটু পানি যে কারণে সঠিক সময়ে ধান রোপণ করতে না পারায় কৃষকেরা পড়েছে লোকসানে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজশাহী জেলায় ৮৪ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুর্গাপুর উপজেলায় ৫ হাজার ৬২০ হেক্টর, জমিতে আমন রোপণ করা হবে।
ইতোমধ্যেই ৩০ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ করা হয়েছে। এবার প্রায় ৩০ জাতের রোপা আমন রোপণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ব্রি-৭৫, ব্রি-৫১, ব্রি-৮৭, স্বর্ণা উল্লেখযোগ্য।
উপজেলার নওপাড়া ইউপির ক্ষৃদ্র কাশিপুর মোরা বিল এলাকার কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রতি বছরই বৃষ্টির অভাবে ধান লাগাতে কষ্ট পেতে হয়। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে সেচ দিয়েই জমি চাষ করে ধান লাগাতে হয়। এজন্য খরচও বেশি হয়।
কিন্তু এবার আষাঢ় মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টি হওয়ার কারণে সেচ বাবদ কোনো খরচ হয়নি। বরং চারা তৈরি হওয়ার আগেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কৃষকরা ধান লাগানো শুরু করতে পারেনি।
তিনি আরো বলেন, এখন পুরোদমে ধান লাগানোর কাজ চলছে। কিছুটা কৃষি-শ্রমিক ও সার সংকট রয়েছে। কিন্ত এবার আমরা স্বস্তিতে আছি।
শুধু এই কৃষকই নয় আরো কৃষকের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।  একই উপজেলার দেবিপুর পৌর এলাকার কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, আমরা খুব খুশিতে আছি। কারণ এবার সেচ বাবদ অতিরিক্ত খরচ লাগেনি। আগাম ধান রোপণ করা শুরু হয়েছে। আশা করি এ কারণে ফলন ভালো হবে। অন্য বছরগুলোতে খুব ঝামেলায় পড়তে হতো। এবার সেটি হয়নি।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) শারমিন সুলতানা বলেন, এবার রাজশাহী জেলায় ৮৪ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশ জমিতে রোপা আমন রোপণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আষাঢ়ের বৃষ্টিতে এবার কৃষকরা রোপণ আমন রোপণ করতে পারায় সেচ খরচ লাগেনি। আশা করছি, এবার আমন চাষে লাভবান হবেন কৃষকরা।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, এবছর উপজেলায় আমন রোপনের জন্য প্রায় ১১শ কৃষককে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে।
এবারে প্রচুর বৃষ্টিপাত অনেক চাষিরা এতিমধ্যে আমন ধান রোপণ করেছেন। আবার অনেক ফসলের মাঠ পানিতে ডুবেও গেছে। তবে পুরো আগস্ট মাস জুড়ে আমন ধান রোপণ চলবে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কোনো ম্যাসেস পাইনি। তবে এধরনের সমস্যা ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি।



সোনালী পাট চাষে সুদিন ফিরেছে গাইবান্ধায়

গাইবান্ধার মাঠজুড়ে আবারও দুলছে সোনালী আঁশের সবুজ ঢেউ। লোকসান ও দামের অস্থিরতায় পাট চাষে আগ্রহ হারানো কৃষকেরা এবার নতুন করে আশাবাদী। গত কয়েক মৌসুমে ভালো দাম, সরকারি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধিই তাদের এই প্রত্যাবর্তনের মূল কারণ।
 গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় , চলতি মৌসুমে গাইবান্ধার সাত উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার হেক্টর যার মধ্যে অর্জিত হয়েছে ১৩৮২২ হেক্টর। ইতিমধ্যে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমির পাট কেটে তা জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত বীজ ব্যবহারের ফলে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হতে পারে ১২–১৩ মণ।
পাট চাষে খরচ তুলনামূলক কম। এক বিঘা জমিতে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক মজুরি ও রেটিংসহ মোট খরচ প্রায় ১৪ হাজার টাকা। গড় ফলন ১০–১২ মণ ধরে এবং মণপ্রতি বাজারদর গড়ে ২,৫০০ টাকা হলে আয় দাঁড়ায় ৩০হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাভ থাকে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। পাটকাঠি বিক্রি থেকেও অতিরিক্ত দুই থেকে তিন হাজার টাকা পাওয়া যায়।
পাট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত নগদ অর্থ কৃষকেরা সংসারের খরচ, সন্তানের শিক্ষায় ব্যয় করছেন এবং কৃষিজ সরঞ্জাম কিনছেন। পাটকাঠির আলাদা বাজারও তৈরি হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি যোগ করছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খামার বল্লমঝড় গ্রামের পাটচাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা বংশ পরম্পরায় পাট চাষ করে আসছি ।ইরি ও আমনের মাঝে যে সময়ে জমি ফাঁকা পড়ে থাকে তখন এই ফসল থেকে বাড়তি আয় করার সুযোগ আছে। এ বছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি । আশা করছি খরচ উঠিয়ে বিঘা প্রতি ২০ হাজার টাকা লাভ হবে।
গাইবান্ধা জেলার অন্যতম বৃহৎ পাটের আড়ৎ খ্যাত কামারজানি ঘাট এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শুকনো পাটের বর্তমান বাজার দর ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা। পাট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভালো পাট চাষ হয় । প্রতিদিন চাষীরা পাট নিয়ে আসছে অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি পাওয়ায় চাষিদের লাভের পরিমাণ বাড়বে।
অন্যদিকে গাইবান্ধার ভৌগলিক অবস্থান পাট চাষের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করেছে । বিশেষ করে নদীভাঙন ও মৌসুমের শুরুতে জলাবদ্ধতায় কিছু জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । এছাড়া বাজারে দরের ওঠানামা নিয়ে উদ্বেগ আছে।
ব্যবসায়ীদের মতে , সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে এবং পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারিত হলে আগামী কয়েক বছরে গাইবান্ধার পাট চাষ দ্বিগুণ হতে পারে। পরিবেশবান্ধব এই ফসল দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আশা করছেন।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, গাইবান্ধার আবহাওয়া ও মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী। দাম ভালো থাকায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে আমরাও তাদের বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করছি ।



চলতি অর্থবছরে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৩৯ হাজার কোটি টাকা

কৃষিখাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা এ বছর ২.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় সব ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান, চিফ ইকোনমিস্ট, নির্বাহী পরিচালকসহ তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৩৯ হাজার কোটি টাকার কৃষি ও পল্লীঋণের মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ও বিশেষায়িত ব্যাংকের বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা আর বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ হাজার ১২০ কোটি টাকা।

এর আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করতে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কৃষিখাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

নীতিমালায় নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে— প্রাণিসম্পদ খাতে বরাদ্দ ২০ শতাংশ করা, সেচ ও কৃষিযন্ত্রপাতি খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের সিআইবি সার্ভিস চার্জ মওকুফ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতা বৃদ্ধি, খিরা, কচুর লতি, বিটরুট, কালোজিরা, আদা, রসুন, হলুদ, খেজুরগুড় ইত্যাদি নতুন ফসল ঋণ নীতিতে অন্তর্ভুক্ত এবং অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদন সম্ভাবনা অনুযায়ী ঋণ বিতরণের নির্দেশনা।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, কৃষি ও পল্লীখাতে পর্যাপ্ত ঋণ সরবরাহের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনীতি গঠনে এ নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




দুম্বার ভিন্নধর্মী খামার এখন সাদুল্লাপুরে

মরুভূমির প্রাণী দুম্বার ভিন্নধর্মী খামার এখন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে। একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরির পাশাপাশি নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গড়ে তোলেন দুম্বার খামার। সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের দড়ি জামালপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদ সৌখিনতা থেকেই খামার শুরু করলেও এখন তার স্বপ্ন-দেশব্যাপী দুম্বা ছড়িয়ে দেওয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহিরুল ইসলাম জাহিদ দিনাজপুর সদর উপজেলায় ব্র্যাক এনজিওতে চাকরি করছেন। সেখানকার বোচাগঞ্জের হান্নান মিয়া নামের এক উদ্যোক্তার দুম্বার খামার ভিজিট করেন। সেই থেকে নিজেও এই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এরপর প্রাথমিক অভিজ্ঞতায় গত সাতমাস আগে এজেন্টের মাধ্যমে ভারত থেকে তুর্কি জাতের একটি পাঠাসহ পাঁচটি দুম্বা কিনেছেন। তার দাম সাড়ে ৮ লাখ টাকা। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী মাচা পদ্ধতি এপশু পালন শুরু করেন জাহিদ। এরই মধ্যে পেয়েছেন একটি বাচ্চা। আরও তিনটি গাভিন (গর্ভ) হয়েছে। আর কিছুদিন পরই সেগুলো প্রসব করবে। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে খামার সম্প্রসারণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ থেকে নিজে স্বাবলম্বী হওয়াসহ অন্যদেরও কর্মসংস্থানের আশা করছেন এ তরুণ উদ্যোক্তা জাহিদ মণ্ডল।
বর্তমানে তার খামারে থাকা একেকটি দুম্বার ওজন ৭৫ থেকে ১২০ কেজি পর্যন্ত। এসব দুম্বার প্রতিটির বাজারমূল্য আড়াই লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ছয় মাস বয়সী একটি বাচ্চা দুম্বার দাম পড়ে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। খামারে প্রতিদিন রুটিন মাফিক দুম্বাদের খাওয়ানো হয় ঘাস, খড়, পাতা, ভূষি ও সরিষা খৈল। শান্ত স্বভাবের প্রাণী হওয়ায় দুম্বা পালন বেশ সহজ বলে জানান জাহিদ ও তার ভাই জিন্নাহ। তারা বলেন, দুম্বার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা খরচও খুব কম।
স্থানীয়রা বলছেন, দুম্বা মরু অঞ্চলের প্রাণী হলেও বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা পালন শুরু হয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় কয়েক মাস আগে পাঁচটি দিয়ে খামার শুরু করেছেন জাহিদ মণ্ডল। এখানে প্রতিদিন উৎসুক জনতা আসেন। এই প্রথম নিজ চোখে দুম্বা দেখতে পেয়ে অনেকটা আনন্দিত ও পালনে আগ্রহ জাগছে তাদের। বর্তমানে জাহিদ মণ্ডলের ব্যবস্থাপনায় খামার দেখাশুনা করছেন-তার মা পারভীন বেগম ও ছোট ভাই জিন্না মণ্ডল। তারা নিয়ম অনুযায়ী দুম্বাগুলোকে খাদ্য ও গোসল দেওয়াসহ সার্বিকভাবে লালন-পালন করছেন।
এ বিষয়ে পারভীন বেগম বলেন, ছেলে জাহিদের দিকনির্দেশনায় মাসে দুইবার দুম্বাগুলোকে গোসলা করানো হয়। সেডঘরের বাইরে আবদ্ধ প্রাচীর মধ্যে আঙ্গিনায় দলবদ্ধ হয়ে ঘুরে বেড়ায় এ প্রাণীগুলো। তা সার্বক্ষণিক দেখাশুনো করতে হয়। খাদ্য সম্পর্কে জিন্না মণ্ডল বলেন, দুম্বাকে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করতে খাবারের ব্যবস্থাপনা জরুরি। এ প্রাণীকে দানাদার খাবার যেমন- খড়, ভুসি, ঘাস প্রভৃতি দিতে। পরিমাণভাবে দিনে ৩ বার খাবার দিতে হয়। তবে গরু-ছাগলের চেয়ে সহজে দুম্বা পালন করা যায়।
এ প্রসঙ্গে নতুন এই উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদ বলেন, শখ ছিল যে আমি ব্যতিক্রম কিছু একটা করব। আমি যদি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে সবাই এ দুম্বা কিনে কোরবানি ঈদে কোরবানি দিতে পারবে। যেহেতু এটা সুন্নতি প্রাণী, এ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার যাত্রা করা। তিনি আরও বলেন, আমি দুম্বা পালন করলেও এখন পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ অফিসের কোনো সহযোগিতা পাইনি। সরকারিভাবেভাবে সহযোগিতা পেলে আমার এই খামারটি সম্প্রসারণ করে যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পাতাম। উদ্যোক্তা জাহিদের বিশ্বাস, প্রান্তিক পর্যায়ে দুম্বা ছড়িয়ে দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে দেশে দুম্বার চাহিদা ও বাজার আরও সমৃদ্ধ হবে। যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিচর্যা থাকলে দুম্বা খামার গড়ে তোলা এক লাভজনক উদ্যোগ হতে পারে।
এ ব্যাপারে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুম্বা পালন বেশ লাভজনক। জাহিদ নামের যুবক দুম্বার খামার করেছে সেটি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে তাকে সহযোগিতা চেষ্টা করা হবে। জাহিদ সফল হোক। তার দেখাদেখি অনেকে উদ্যোক্তা এখানে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




লালমনিরহাটে কলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

লালমনিরহাটে অন্যান্য ফসলের চেয়েও বেশ লাভবান হওয়ায় দিনের পর দিন বাড়ছে কলা চাষীদের সংখ্যা।
লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন, ২টি (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভায় মালভোগ, চিনিচম্পা, মেহের, সাগর, রঙ্গিনসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের কলার চাষাবাদ করা হয় উল্লেখ্যযোগ্য এলাকা গুলোতে।
লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষযোগ্য জমির পাশাপাশি পতিত জমিতে করা হয়েছে অসংখ্য কলার বাগান। আর কলা চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন চাষীরাও। ফলে অন্যের জমি বর্গা নিয়েও অনেকে কলা বাগান করেছেন। আবার অনেকে পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির পাশের পতিত জমিতেও কলার বাগান করেছেন।
যেখানে অন্যান্য ফসল করে লাভবান হতে পারছে না স্থানীয় চাষীরা, সেখানে কলা চাষে সফল হচ্ছেন। ফলে দিন দিন বাড়ছে কলার বাগানের সংখ্যা। এতে সম্পৃক্ত হচ্ছেন নতুন নতুন চাষী। একরের পর একর কলার বাগান করে বছর শেষে মোটা অংকের টাকা উপার্জন করতে পারায় স্থানীয় অনেক যুবকেরা পেশাও বদলাচ্ছেন। অন্য পেশা ছেড়ে আসছেন কলা চাষে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তৃত জমিতে কলার বাগান। পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগানের মালিক-কর্মচারীরা। এ উপজেলার পতিত জমির বেশির ভাগেই বালু মাটির আস্তরণ। অন্যান্য ফসল যেখানে তেমন ভালো হচ্ছে না, সেখানে কলা বাগান করে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছেন অনেকেই।
সুধীর চন্দ্র রায়, আতিকুল ইসলাম, আবুল হোসেনসহ কয়েকজন কলা চাষী জানান, অন্যান্য ফসল উৎপাদনের চেয়ে কলা চাষে খরচ কম, লাভও বেশি। এ এলাকার যেসব জমিতে আগে ধান চাষ হতো, এখন সেখানে করা হচ্ছে কলা বাগান।
তারা জানান, গত মৌসুমে কলা বিক্রি করে অনেক টাকা লাভ হয়েছিল।
মুদির দোকানদার মোঃ ইসরাইল হোসেন বলেন, আমি পাকা কলা এক হালা (৪টি) খুচরা বিক্রয় করি ২০টাকা হতে ৬০টাকা দরে। কলা চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে।
ফুলগাছ ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, আমরা কলা চাষীদের নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এতে করে তারা কলা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ সাইখুল আরিফিন বলেন, কলা বর্ষজীবী উদ্ভিদ। কলা চাষে খরচ কম, ঝুঁকি ও রোগবালাই কম থাকায় লালমনিরহাটে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কলা চাষ। একবার কলা চারা রোপণ করলে তা কয়েক বছর পর্যন্ত জমিতে রাখা যায়। সেই সাথে আবাদে পর্যাপ্ত লাভের কারণে জেলার চর আঞ্চলের জমিগুলোতে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বিভিন্ন জাতের কলা চাষ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে।



খরিপের পর রবি সবজিতে স্বপ্ন দেখছেন লালমনিরহাটের চাষিরা

লালমনিরহাটে খরিপের পর এবার রবি মৌসুমের সবজিতে স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় রবি সবজি চাষের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রবি মৌসুম আসতে এখনও প্রায় ৩ মাস সময় থাকলেও চাষিরা আগাম জাতের সবজি চাষে মাঠে নেমেছেন। আগাম জাতের রবি সবজি ফলাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ভাল ফলনের আশা করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শীত (রবি) ও গ্রীষ্মকালীন (খরিপ) সবজি চাষাবাদ করা হয়। গ্রীষ্মকালীন সবজি উত্তোলন এখনো শেষ হয়নি। এর পাশাপাশি কৃষকরা এখনই আগাম জাতের রবি সবজি চাষে মাঠে নেমেছে।
উপ-সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা বলছেন, নানা জাতের সবজি বীজতলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
কৃষকরা বলছেন, আগাম জাতের সবজি চাষে যেমন লাভ রয়েছে তেমনি ঝুঁকিও আছে। বীজতলার ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বেশি। কমবেশি বৃষ্টি লেগেই আছে। পাশাপাশি রোদের সঙ্গে রয়েছে ভ্যাপসা গরম। এতে বীজতলা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ গ্রামের চাষি হযরত আলী জানান, সবজির বীজতলার জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর জাত ভেদে নিয়মানুযায়ী সবজির বীজ বপন করতে হয়। তার আগে বীজতলার জন্য বাঁশ ও প্লাস্টিকের ছাউনি তৈরি করে নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, সারা দেশেই লালমনিরহাটের সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রবি মৌসুমের জন্য কৃষকরা পুরো প্রস্তুতি নিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শিয়ালখাওয়া, চাপারহাট, ভোটমারী, দৈখাওয়া, সিঙ্গিমারী, কুমড়িরহাট, চন্দনপাট, বড়কমলাবাড়ী, হাজীগঞ্জ, চন্ডীমারি, কর্ণপুর, দুড়াকুটি, ফুলগাছ, কোদালখাতায় বছরের বারো মাস সবজি চাষ হয়ে থাকে।



লালমনিরহাটে ফসল রক্ষায় কাকতাড়ুয়া

আবহমান কাল থেকে গ্রাম বাংলায় কৃষকেরা ক্ষেতের ফসলকে পশু-পাখি, ইঁদুর ও মানুষের কু-নজরের হাত থেকে রক্ষা করার কৌশলের জন্য অদ্ভূত ও এক অভিনব পদ্ধতির আবিষ্কার করেন। আদিকাল হতে এ রকম এক প্রহরীকে ফসলের ক্ষেতে দেখতে পাওয়া যায়। যার নাম কাকতাড়ুয়া। গ্রাম বাংলার এই গ্রামীণ জনপদে ফসলের ক্ষেতের অতি পরিচিত দৃশ্য হলো এই কাকতাড়ুয়া। কালের প্রবাহে ফসল রক্ষার এই সনাতন পদ্ধতিটি গ্রাম বাংলার বিমূর্ত প্রতীক হয়ে উঠে আসে গল্প, কবিতা, নাটক, উপন্যাস, সিনেমায়। এরপর কাকতাড়ুয়া আধুনিক সভ্য সমাজে পৌছে যায় শিল্পীর চিত্রকর্মে বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদে প্রচ্ছদে।
গ্রাম বাংলার গ্রামীণ জনপদে আজও একটি প্রবাদ আছে- “যাবার পথে কালো বিড়াল অতিক্রম করলে যাত্রা অশুভ হবে”। “পরীক্ষার আগে ডিম খেলে ফলাফল খারাপ হবে”। গ্রামাঞ্চলে এখনো মায়েরা ছোট্ট শিশুর কপালে কালো টিপ এঁকে দেন, যাতে কারো নজর না লাগে। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও এমন অদ্ভুত বিশ্বাসের লোকের অভাব নেই গ্রামীণ জনপদে! তেমনই এক আত্মবিশ্বাস নিয়ে কৃষকেরা ক্ষেতের ফসল রক্ষার্থে কাকতাড়ুয়া (মানুষের প্রতীক) ব্যবহার করছেন। কৃষকদের আত্মবিশ্বাস, কাকতাড়ুয়া স্থাপন করলে ক্ষেতের ফসল দেখে কেউ ঈর্ষা করবে না বা ফসলে কারো নজর লাগবে না। পশু-পাখি বা ইঁদুর ফসল নষ্ট করতে পারবে না। ক্ষেতের ফসল ভাল হবে।
লম্বা খাড়া দন্ডায়মান একটি খুটি এবং দুই বা তিন ফুট উপরে আড়াআড়ি আরেকটি খুটি বেঁধে তাতে ছন বা খড় পেচিয়ে মোটাসোটা করা হয়। তারপর আড়াআড়ি বাঁধানো অংশের সামান্য উপরে ছন বা খড়কুটো দিয়ে ডিম্বাকৃতি বা মাথার মতো বস্তু বানানো হয়। এরপর বাড়ি থেকে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত ছেঁড়া জামা বা পাঞ্জাবি পরিয়ে দেয়া হয় এটিকে। ডিম্বাকৃতির অংশটিকে ঢেকে দেয়া হয় মাটির হাড়ি দিয়ে। সেই হাড়িতে চোখ- নাক-মুখ এঁকে দেয়া হয় চুন বা চক দিয়ে। ফলে এক অদ্ভূত অভিনব সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়। যা দেখে ভয় পাওয়ার মতো একটা ব্যাপার ঘটে। এই কাকতাড়ুয়াকে ফসলি জমির মাঝখানে দন্ডায়মান পুতে রাখা হয়।
অনেকের বিশ্বাস কাকতাড়ুয়া বাড়ন্ত ফসলের দিকে পথচারির কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চাষাবাদের ধরন বদলে গেলেও লালমনিরহাট জেলার ৫টি (লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম) উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন ২টি ও (লালমনিরহাট, পাটগ্রাম) পৌরসভায় বিভিন্ন ক্ষেতের ফসল রক্ষায় কৃষকেরা সনাতন পদ্ধতির কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার করছেন।
খড়ের কাঠামোর মাথায় মাটির হাঁড়ি আর তাতে চুন দিয়ে কাঁচা হাতে এঁকে দেয়া হয় নাক, চোখ-মুখ। পরিত্যক্ত জামা গায়ে জড়িয়ে জমিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। নাম তার কাকতাড়ুয়া। কাকতাড়ুয়া হচ্ছে কাক কিংবা অন্যান্য পশু-পাখিকে ভয় দেখানোর জন্য জমিতে রক্ষিত মানুষের প্রতিকৃতি বিশেষ। এর মাধ্যমে পশু-পাখিকে ক্ষেতের ফসল কিংবা বীজের রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যে নিরুৎসাহিত করা হয়। দেখা যায়, ফসলি জমিতে পশু-পাখি তাড়ানোর জন্য কাকতাড়ুয়া জমির মাঝখানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। দূর থেকে দেখলে যেন মনে হয় মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।
এই কাকতাড়ুয়া দেখে ক্ষেতে পশু-পাখির উপদ্রব ঘটে না। ফলে ফসলও নষ্ট হয় না। এ মৌসুমে জমিতে বেগুন, খিরা, মরিচ, আলু, পেঁয়াজ, শসা, টমেটো, ধান জাতীয় ফসল রোপণ করা হয় তখনই এই কাকতাড়ুয়াদের ব্যবহার করা হয়।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ গ্রামের হরিপদ রায় হরিসহ একাধিক কৃষকেরা জানান, কাকতাড়ুয়া পশু-পাখিকে ভয় দেখানোর জন্যে জমিতে রক্ষিত মানুষের প্রতিকৃতি বিশেষ।
ক্ষতিকর পাখির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার উদ্দেশ্যে জমিতে কাকতাড়ুয়া দাঁড় করে রাখা হয়। এটি এক প্রকার ফাঁদ হিসেবে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। সনাতন ধারায় এটি মানুষের দেহের গঠনের সঙ্গে মিল রেখে পরিত্যক্ত কাপড় দিয়ে সঙ্গের ন্যায় সাজানো হয়। তারপর জমির মাঝামাঝি স্থানে খুঁটি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখে। এটি বাতাসে দুলতে থাকায় পাখির উৎপাত ও তাদের খাদ্য সংগ্রহ করা থেকে বিরত রাখার প্রয়াস চালানো হয়।
ফুলগাছ ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না এমন আত্মবিশ্বাস থেকেই প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকরা ক্ষেতে কাকতাড়ুয়া স্থাপন করে।
চাষাবাদে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কৃষক আগের মত আর কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করছে না। দিন দিন প্রতিটি এলাকায় কৃষকের কাছে পার্চিং ও আলোকফাঁদ পদ্ধতির ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অপরদিকে লালমনিরহাট জেলার কৃষিপ্রেমীরা মনে করেছেন গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে কাকতাড়ুয়া হাজার বছর বেঁচে থাকুক তাদের ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে এমনটি প্রত্যাশা করছেন তারা।



লালমনিরহাটে নার্সারী বাগান করে তরুণ উদ্যোক্তারা স্বাবলম্বী

লালমনিরহাটের কোদালখাতা, ভাটিবাড়ী, কাকেয়া টেপা, ফুলগাছ গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তারা নার্সারী বাগান করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা সদর থেকে উত্তর দিকে এ গ্রামগুলো অবস্থিত। উক্ত গ্রামগুলো ১নং মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভূক্ত। কয়েক হাজার পরিবারের লোকজন গ্রামগুলোতে বসবাস করে। সেখানকার অনেকেই নার্সারী বাগান করেছে।
ওই সব গ্রামগুলোতে গিয়ে লক্ষ্য করা গেছে, অনেক নার্সারী বাগান। প্রায় প্রতিটি বাগানের মালিক ও শ্রমিকরা ঘাস নিড়ানী ও গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত আছেন। নার্সারী বাগান করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।
উক্ত গ্রামের লোকজন জানান, যে জমিতে নার্সারী বাগান দেখা যাচ্ছে, সেই জমিতে আগে ফসল করা হতো। ফসল উৎপাদনের চেয়ে নার্সারী বাগানে বেশি লাভ। তাই গ্রামের উদ্যোক্তা ফসলের পরিবর্তন করে নার্সারীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। বিভিন্ন ফলজ, সুপারি, নারিকেল ও কাঠ এবং ঔষুধী জাতীয় ছাড়া অনেক ধরনের বাহারি গাছ নার্সারী বাগানে পাওয়া যায়।
তাদের দাবী নার্সারী বাগান করার ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সামাজিক বনায়ন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর লালমনিরহাটের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সাইফুল নার্সারীর প্রোঃ মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, গাছ লাগিয়ে গড়ুন দেশ, সুন্দর করুন পরিবেশ।
তারা আরও বলেন, আমার নার্সারীতে বিভিন্ন প্রকার দেশি-বিদেশি ফুল-ফল, হাইব্রীড কলম, ফলজ, বনজ, ঔষধী চারা গাছ পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় করে থাকি।
বিসমিল্লাহ নার্সারীর প্রোঃ মোঃ ইসরাইল হোসেন বলেন, আমি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে এক সপ্তাহ ব্যাপি নার্সারীর প্রশিক্ষন গ্রহণ করি। এতে করে আধুনিক নার্সারী ব্যবসায় উক্ত প্রশিক্ষণ আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। আমি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কাছে কৃতজ্ঞ।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সাধ্যমত সহায়তা করা চেষ্টা করি। তারা যখনই আমাদের ডাকেন আমরা সরেজমিনে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এতে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান হয়।



লালমনিরহাটে পরিকল্পনাহীন নগরায়ণের ছোবলে ফুরিয়ে যাচ্ছে কৃষি জমি

প্রতিনিয়ত ফুরিয়ে যাচ্ছে সোনা ফলানো কৃষি জমি। অপরিকল্পিত বাড়ি-ঘর নির্মাণ, নগরায়ণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ইটভাটা, পুকুর খনন, মাছ চাষ ও নদী ভাঙনের ফলে বছরে কমছে দেশে ২ লাখ একর কৃষি জমি। আবার নগদ টাকার লোভে জমি বিক্রি করে বাস্তুহারা হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে বাসগৃহ-দালানকোঠা, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট।
পরিকল্পনাহীন নগরায়ণের ছোবলে কৃষি হারাচ্ছে বৈচিত্র্যও। কোথাও গড়ে উঠছে আবাসন, কোথাও হচ্ছে শিল্প কারখানা। এমনকি ইটভাটার জন্যও প্রতি বছর হাজার হাজার একর আবাদি জমি অনাবাদিতে পরিণত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দশকে দেশে কৃষি জমির ব্যাপক সংকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট সব গবেষণার ফলাফলেই কৃষি জমি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এবং অচিরেই বিপন্নতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়েছে। কিন্তু সেই বিপন্নতা মোকাবিলার সরকারের কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ নেই। নেই আধুনিক বাস্তব সম্মত কোনো আইন।
স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে ঘর-বাড়ি তৈরির প্রয়োজন পড়ছে। তার প্রভাব পড়ছে ফসলি জমির ওপর। পরিবার বিভক্ত হলে তার প্রথম ধকলটিই পড়ে কৃষিজমিতে
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বছরে যে পরিমাণ কৃষিজমি কমছে তার অর্ধেকই যাচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফলে ৬৫ শতাংশ জমির উর্বরা শক্তিও হারিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এখনই কৃষিজমি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের তাগিদ বিশষজ্ঞদের। সরকারি উদ্যোগেও কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে? শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে তা নয়, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কারণেও কমছে কৃষিজমি।
গ্রামাঞ্চলে কৃষিজমির সবচেয়ে বড় সর্বনাশ ঘটাচ্ছে ইটভাটাগুলো। ৮ থেকে ১০ একর জমি ধ্বংস করেই এসব ইটভাটা গড়ে ওঠে। ইটভাটার জন্য মাটিও কেটে নেওয়া হয় আবাদি জমি থেকে।
উল্লেখ্য, রংপুর বিভাগে ৮ হাজার ৭শত ৮১ হেক্টর প্রতি বছর অকৃষি জমিতে পরিণত হচ্ছে।




 চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনে ঢাকায় জ্বালানি পরিবহন শুরু আজ

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহনে নেওয়া প্রকল্পের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ২৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হয়েছে। আজ থেকেই পাইপলাইনে তেল পরিবহন শুরু হচ্ছে।

সোমবার (৫ মে) বিকেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) এবং সরকারের যুগ্মসচিব ড. এ কে এম আজাদুর রহমান বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আগামী ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে তেল পরিবহন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আজ থেকেই জ্বালানি তেল পরিবহন শুরু হচ্ছে। এটা পরীক্ষামূলক পরিবহন। আগামী সাত থেকে ১০ দিন এভাবে পরীক্ষামূলক পরিবহন চলবে। এর মধ্যে কিছু ভুল-ত্রুটি হবে, সেগুলো সংশোধন করে পাইপলাইনের উদ্বোধন করা হবে। তারপর মূলত পুরোদমে তেল পরিবহন শুরু হবে।

জ্বালানি তেল পরিবহনের এই পাইপলাইনের দুটি অংশ রয়েছে। একটি অংশ চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থেকে ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো পর্যন্ত। আরেকটি অংশ গোদনাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত।

পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহনের এই প্রকল্পটি ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে অনুমোদন পায়। শুরুতে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল। কিন্তু কাজ শুরু করতেই ২০২০ সাল লেগে যায়। পরে প্রথম দফায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় আবারও ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। বিপিসির এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকায়।

বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সরবরাহ করা হবে ২৭ লাখ টন ডিজেল। পাইপে পরিবহন শুরু হলে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিবছর প্রকল্প থেকে ৩২৬ কোটি টাকা আয় হবে। পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ, ফুয়েল, বিদ্যুৎ বিল, জমির ভাড়াসহ আরও কিছু খাতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি টাকা। এতে প্রতিবছর সাশ্রয় হবে ২৩৬ কোটি টাকা। আগামী ১৬ বছরের মধ্যে প্রকল্পের বিনিয়োগ উঠে আসবে।
জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের গড় চাহিদা বছরে ৬৫ লাখ টন। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরবরাহ করা হয়েছে ৬৭ লাখ টন। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশই ডিজেল। ঢাকা বিভাগেই জ্বালানি তেলের ব্যবহার মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ। বর্তমানে ঢাকায় তেল পরিবহনের জন্য প্রথমে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নদীপথে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা ডিপোতে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে ঢাকায় তেল পরিবহন করা হয়। পরিবহনে ব্যবহৃত হয় প্রতি মাসে প্রায় ১৫০টি ছোট-বড় জাহাজ। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে। খরচ আর ভোগান্তি কমাতেই এই পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছে।




চট্টগ্রাম কাস্টমসে চার মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস। তবে গত বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২ হাজার ৪১৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে গত চার মাসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৬৩৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৪ হাজার ২২২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে ২ হাজার ৪১৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২২ হাজার ৫৬১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ একই সময়ে গত বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে এক হাজার ৬৬১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশে ডলার সংকট চলছে। এতে অনেক পণ্যের আমদানি কমেছে। তবে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে তা অনেকটা কাটিয়ে ওঠার ফলে পণ্য আমদানি বেড়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আয়ও গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় বেড়েছে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে দেশে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা আসতে শুরু করেছে। তবে এই রাজনৈতিকর অস্থির সময়ের মধ্যেও দেশে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে দেশে বন্যার কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সারা দেশে পণ্য পরিবহনে ব্যাপক বেগ পোহাতে হয়। যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আহরণেও। যে কারণে বিগত চার মাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে অর্থবছরের এক তৃতীয়াংশ সময় (জুলাই-অক্টোবর) শেষে আহরণ হয়েছে ২৪ হাজার ২২২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসকে আগামী ৮ মাসে আরও ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি ২৮ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করতে হবে।




তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ড তদন্তের নির্দেশ উপদেষ্টার

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) এমটি বাংলার সৌরভ জাহাজে অগ্নিকাণ্ড তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (৫ অক্টোবর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, উপদেষ্টা আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশনা দিয়েছেন।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় মধ্যসাগরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জাহাজটি বিএসসির তেল পরিবহনের ট্যাংকার। এ সময় ৪৭ জন ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দল। সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়া আহত একজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন উপদেষ্টা। এক শোকবার্তায় উপদেষ্টা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানান। শোকাহত পরিবারের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

উপদেষ্টা অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধার ও আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন এবং রাতভর দুর্ঘটনা পরবর্তী কার্যক্রম তদারকি করেন।




অফডকের ৩৮ পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অনুমতি

বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে বেসরকারি ডিপোতে খালাসযোগ্য ৩৮ ধরনের পণ্য বন্দর অভ্যন্তর থেকে খালাসের অনুমতি দিয়েছে কাস্টমস। চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস এ অনুমতি দেয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ-কমিশনার এ কে এম খায়রুল বাসার এক চিঠিতে অফডকগামী ৩৮ ধরনের পণ্য ডিপোর পাশাপাশি বন্দর অভ্যন্তর থেকে খালাসের অনুমতি দেন। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানিকারকরা এ সুবিধা পাবেন বলে ওই চিঠিতে জানানো হয়।

এসব পণ্য হলো- চাল, মসুর ডাল, গম, ছোলা, সরিষা, পশুখাদ্য, কাঁচা তুলা, ওয়েস্ট পেপার, স্ক্র্যাপ, আদা, পেঁয়াজ, রসুন, সার, হার্ড কোক, কার্বন ব্ল্যাক, মার্বেল চিপস, বল ক্লে, সোডা অ্যাশ, পিভিসি রেজিন, স্টাপল ফাইবার, খেজুর, চিনি, বিটুমিন, বেভারেজের খালি ক্যান, মার্বেল পাথর, সোডিয়াম সালফেট, গ্লোবার সল্ট, উড পাল্প, রাউন্ড লগ, সয়াবিন মিল এক্সট্রাকশন, ডিডিজিএস, রাইচ বিন, কর্ন গ্লাটার মিল, রেপ সিড এক্সট্রাকশন, পাম ক্যামেলস, মাইজ, সয়াবিন এবং কার্বন ব্লক।

 




২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস

সদ্য সমাপ্ত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস। টাকার হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ হাজার ৫৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় কম হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস বলছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৭৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬৮ হাজার ৫৬২ কোটি ৭২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

তবে আদায়ের ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫ হাজার ৯০৪ কোটি ৯১ লাখ রাজস্ব আয় বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস। এতে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পরিকল্পনামাফিক রাজস্ব আদায় করতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের জুলাই এবং মে মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হলেও অন্য ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমসে ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরের জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৪ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা, তবে আদায় হয় ৫ হাজার ৪৭২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগস্ট মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৭ কোটি টাকা। ওই মাসে আদায় হয় ৫ হাজার ৭১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৫০ কোটি টাকা, আদায় হয় ৫ হাজার ২৯০ কোটি ২১ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫ হাজার ৬৬১ কোটি ১১ লাখ টাকা আদায় হয়। নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৬ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। ওই মাসে আদায় হয় ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৬ হাজার ৯১০ কোটি টাকা, তবে আদায় হয় ৫ হাজার ১০৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

জানুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়ে ছিল ৬ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা, আদায় হয় ৫ হাজার ৯১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসেও ৫ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আদায় হয়। মার্চ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭ হাজার ৯১ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয় ৫ হাজার ৬৩২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এপ্রিল মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৭ হাজার ৭১ কোটি টাকা। তবে ওই মাসে আদায় হয় ৫ হাজার ৯৬৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। মে মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৪ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। তবে ওই মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক তৃতীয়াংশ বেশি আদায় হয়েছে। মে মাসে ৬ হাজার ৫০২ কোটি ৫০ লাখ টাকা আদায় হয়। জুন মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭ হাজার ৪৩ কোটি টাকা এর মধ্যে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৭৩৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

কাস্টমস কর্তারা বলছেন, চট্টগ্রাম কাস্টমসে প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার ৯০৪ কোটি ৯১ লাখ রাজস্ব আয় বেড়েছে। মূলত কাস্টমসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখার তৎপরতায় আটককৃত পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কায়ন মূল্যের দ্বিগুণ জরিমানা আদায়ের কারণে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। তবে ডলার সংকটের কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারা, বিলাসী পণ্য আমদানিতে উচ্চ শুল্কসহ বিধি আরোপ করার কারণেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের উপ কমিশনার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমসে সমাপ্ত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৫৬২ কোটি ৭২ লাখ রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি আয় হয়েছে। এটি ইতিবাচক। তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব এখনো অনাদায়ী রয়েছে। এসব রাজস্ব সন্নিবেশ হলে রাজস্ব আয় প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতো বলে জানান তিনি।




পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের ব্যাপারে আগ্রহী চীন

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের ব্যাপারে আগ্রহী চীন। বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরের ভূমিকা যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে তাতে আমাদের যে তিনটা বন্দর আছে, এই তিনটাতে এত বড় অর্থনীতিক কর্মকাণ্ড সামলানো খুব কঠিন। কাজেই এই বন্দরগুলো আরো সম্প্রসারণ করা দরকার। এই জায়গায় যদি বাংলাদেশ সহযোগিতা চায়, তাহলে চীন সহযোগিতা করতে রাজি।

আজ মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

এদিন সকাল ১১টায় সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। পায়রা পোর্টের ব্যাপারে চীন আগ্রহ দেখিয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রা পোর্টের ফার্স্ট টার্মিনাল যেটা আছে, সেটার ব্যাপারে তারা আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা বলেছি যে পায়রা পোর্টের সঙ্গে আমরা কথা বলে কিভাবে প্রস্তাব দেয়া যায় সে ব্যাপারে আমরা পরে পদক্ষেপ নেব।

মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুটা মেরিটাইম সংস্থা যেটা আমরা উন্নয়ন করেছি সেটার বিষয়ে তারা অভিনন্দন জানিয়েছে।




পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে আসছে সৌদি প্রতিষ্ঠান

পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর আওতায় সাপ্লাই-অপারেট-ট্রান্সফার ভিত্তিতে ২২ বছর মেয়াদে টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে সৌদি আরব সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান ‘রেড সী গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল’ (আরএসজিটিআই)।

প্রকল্পে সৌদি প্রতিষ্ঠানের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ইক্যুইটি’র পরিমাণ ৩০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ ঋণ। আপফ্রন্ট ফি ২ কোটি ডলার, কনসেশন ফি ১৮ ডলার, ট্যারিফ রেভিনিউ উভয়পক্ষ ৫০ শতাংশ হারে। এছাড়া বাৎসরিক কনসেশনেয়ার ফি হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পাবে ২৫০ ডলার। যা প্রতি বছর ২ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে। সব মিলিয়ে ২২ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় হবে ৩৩ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ডলার (বর্তমান ডলার দর ১১০.১৯ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি টাকায় ৩ হাজার ৭০৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা)।

সূত্র জানায়, টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে আরএসজিটিআই কর্তৃক গঠিত স্পেশাল পারপোজ ভেহিক্যাল (এসপিভি) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি ‘কনসেশন এগ্রিমেন্ট’ সই করা হবে। ইতোমধ্যেই চুক্তির একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। আজ বুধবার অনুষ্ঠেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সম্পাদিতব্য চুক্তির খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে সৌদি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পর্যায়ে পিপিপির আওতাধীন প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালার আওতায় সৌদি আরব এর মিনিস্ট্রি অব ইনভেস্টমেন্ট এবং বাংলাদেশ এর পিপিপি কর্তৃপক্ষ এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। ওই সমঝোতা স্মারকের আলোকে বাংলাদেশ-সৌদি আরবের প্রথম প্ল্যাটফর্ম সভায় পিপিপির আওতায় সাপ্লাই-অপারেট-ট্রান্সফার ভিত্তিতে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয় এবং সৌদি আরব প্রকল্পটিতে অর্থায়ন ও পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করে। সে লক্ষ্যে প্রথমে ‘রেড সী গেটওয়ে টার্মিনাল’ (আরএসজিটি) এবং পরবর্তীতে ‘রেড সী গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল’ (আরএসজিটিআই)-কে মনোনয়ন দেয়।

সূত্র জানায়, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় পিপিপির আওতায় আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের লক্ষ্যে ইতোপূর্বে ২০২১ সালের মার্চে ‘ইক্যুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইন্টেন্যান্স অব পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল অন পিপিপি মডেল’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ-সৌদি আরবের প্রথম প্ল্যাটফর্ম বৈঠকের পর বেসরকারি অপারেটর হিসেবে সৌদি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ প্রদানে পিপিপির আওতায় কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তাব পাঠায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে প্রকল্পের ‘বিজনেস মডেল’ ও ‘আরএফপি’ প্রণয়নে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন’ (আইএফসি)-কে ‘ট্রানজেকশন পরামর্শক’ হিসেবে নিয়োগ দেয় পিপিপি কর্তৃপক্ষ। আইএফসির তৈরিকৃত আরএফপি পরবর্তীতে পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও সৌদি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত হয়।

সূত্র জানায়, প্রণীত আরএফপির আলোকে সৌদি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ ও পরিচালন প্রস্তাব পাঠালে তা দরপ্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক নেগোসিয়েশনের পর গৃহীত হয়। এখন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে অনুমোদন হলেই প্রকল্পের বিষয়ে সৌদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক চুক্তি সই করা হবে।




সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু

ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাব কেটে যাওয়ায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। এতে দ্বীপে আটকা চার শতাধিক পর্যটক দুদিন পর ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে এ রুটে। এদিকে শনিবার সকালে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে কেয়ারি সিন্দাবাদ ও বারো আউলিয়া নামের দুটি পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব কেটে যাওয়ায় সমুদ্র বন্দর থেকে সর্তক সংকেত প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের ট্রাফিক সুপারভাইজার মো. জহির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আবহাওয়ার সতর্ক বার্তায় বৃহস্পতিবার থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে আবহাওয়া বৈরী হলে সতর্ক সংকেত জারির পর বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। দ্বীপে অবস্থান করা পর্যটকদের খোঁজ খবর রাখা হয়েছিল। সকালে খবর পেয়েছি টেকনাফ থেকে দুটি জাহাজ আসছে। জাহাজ দুটি এলে, আটকা পড়া পর্যটকরা ফিরে যাবেন।

 




হরতালের প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসে

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতালে অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক এ প্রতিষ্ঠানের কার্গো-কনটেইনার-জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে কোনো প্রভাব পড়েনি। সকালে বন্দর ইয়ার্ড থেকে পণ্য খালাস কিছুটা কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে মালামাল খালাস ছিল। জেটিতে কনটেইনার ও অন্যান্য পণ্য খালাসও স্বাভাবিক ছিল। তবে বন্দর ইয়ার্ড থেকে খালাসের কার্যক্রম সকালে একটু কম ছিল। তবে দুপুরের পর থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এদিকে হরতালের মধ্যেও দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। প্রতিদিনের মতো আজও শুল্কায়নের কার্যক্রম হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, হরতালের কোনো প্রভাব কাস্টমস হাউসে পড়েনি। প্রতিদিনের ন্যায় স্বাভাবিক ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, হরতালের কোনো প্রভাব বন্দরে পড়েনি। সকালে পণ্য খালাস একটু কম হলেও দুপুরের পর তা স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এদিকে, রোববার হরতালে চট্টগ্রামে তেমন কোনো উত্তাপ দেখা যায়নি। এদিন সড়কে যানবাহন চলেছে, তবে অন্য দিনের তুলনায় কম। যদিও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। সকালে দোকানপাট কম খুললেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। নগরজুড়ে পিকেটিং, গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড কিংবা অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সড়কে এদিন দাপট ছিল রিকশা, অটোরিকশা, টেম্পু ও মিনিবাসের। দূরপাল্লার বাস হাতেগোনা কয়েকটি ছেড়ে গেলেও যাত্রী ছিল কম। হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে। যথাসময়ে ছেড়ে গেছে সবকটি ট্রেন। একইসঙ্গে স্টেশনে পৌঁছেছে সবকটি ট্রেনও।

এর আগে গতকাল (শনিবার) রাজধানীতে সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে বিএনপি। একইদিন সরকারের পদত্যাগ, কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী।




সিএসই’র সাবেক এমডি মামুন-উর-রশিদ’র ইন্তেকাল

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মামুন-উর-রশিদ (৬৬) মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। সিএসই থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, ভাই-বোনসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

ঢাকার গুলশান সোসাইটি মসজিদ প্রাঙ্গণে বাদ এশা মরহুমের প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াস খাঁর বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগ দেন মামুন-উর-রশিদ। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন মামুন-উর-রশিদ। তার আগে তিনি প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।




নন-বাসমতী চাল রফতানির অনুমতি দিল ভারত

ভারত সরকার ২০ জুলাই নন-বাসমতী সাদা চাল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দেশটির বন্দরগুলোয় অনেক চাল আটকা পড়ে। এসব চাল রফতানির অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। গতকাল এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়।

ভারত নন-বাসমতী চালের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা খায় শস্যটির আন্তর্জাতিক বাজার। এ নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। এর আগে গত বছর ভারত ভাঙা চাল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে হাজার হাজার টন নন-বাসমতী সাদা চাল দেশটির বিভিন্ন বন্দরে আটকে আছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক জানান, ২০ জুলাই পর্যন্ত যেসব ব্যবসায়ী রফতানি শুল্ক পরিশোধ করেছেন, তাদের আটকে থাকা কার্গোগুলোকে রফতানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

জুলাইয়ে দেয়া নিষেধাজ্ঞার আগে নন-বাসমতী সাদা চাল রফতানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ভারতীয় চাল রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রেম গার্গ বলেন, ‘বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের আদেশের পর ভারতের বিভিন্ন বন্দর থেকে রফতানি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে প্রায় দেড় লাখ টন চাল বোঝাই জাহাজ।’

তিনি আরো বলেন, ‘কান্ডলা বন্দরে তিনটি জাহাজ আটকে আছে। অনেক কনটেইনার আটকে আছে বিভিন্ন বন্দরে। এর ফলে চাল শিল্প ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়েছে।’

বৈশ্বিক চাল রফতানির ৪০ শতাংশ অবদানই ভারতের। আফ্রিকা ও এশিয়ার দরিদ্র কিছু দেশসহ দেড়শরও বেশি দেশে ভারত শস্যটি রফতানি করে। ২০২২ সালে নয়াদিল্লি ২ কোটি ২২ লাখ টন চাল রফতানি করেছিল।

এদিকে নন-বাসমতী সাদা চাল রফতানি বন্ধের পর গত শুক্রবার সেদ্ধ চালের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। অন্যদিকে বাসমতী চালের ন্যূনতম মূল্য বেঁধে দেয়া হয়। সরকারসংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক ব্যবসায়ী বাসমতী চালের নামে নন-বাসমতী চাল রফতানি করছিলেন। এটি বন্ধের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

এদিকে ভারতের চাল রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। শস্যটির দাম বর্তমানে ১৫ বছরের সর্বোচ্চে অবস্থান করছে।

প্রেম গার্গ বলেন, ‘বন্দরে আটকে থাকা জাহাজগুলো ছাড়ার অনুমতি দেয়ায় শুধু ভারতের সরবরাহকারীরাই নয়, বরং যেসব দেশে চালের ব্যাপক আমদানি চাহিদা রয়েছে, তারাও উপকৃত হবে। আটকে থাকা এসব চালবাহী জাহাজের বেশির ভাগেরই গন্তব্য পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো।’




সমুদ্র বন্দর থেকে নামানো হলো সতর্ক সংকেত

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

তাপমাত্রায় বিষয়ে বলা হয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সে. বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, এই সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কুতুবদিয়ায়, বান্দরবানে হয়েছে ১০২ মিলিমিটার। আর ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৭ মিলিমিটার।




চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি ওমর হাজ্জাজ

দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ২০২৩-২০২৫ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ওমর হাজ্জাজ। তিনি রিলায়েন্স ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. লতিফের ছেলে। মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে তরফদার মো. রুহুল আমিন সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রাইসা মাহবুব সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। তাদের মধ্যে রুহুল আমিন সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রাইসা মাহবুব রাইসা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও এফবিসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি মাহবুবুল আলমের মেয়ে।

চেম্বারের পরিচালকমণ্ডলী নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৫ জুন তফসিল ঘোষণা হয়। সে অনুযায়ী আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চেম্বার পরিচালক পর্ষদ নির্বাচনের সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু মনোনয়নপত্র দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ৬ আগস্ট বিকেল ৩ টায় অর্ডিনারি ক্যাটাগরিতে ১২টি পদের বিপরীতে ১২জন প্রার্থী, অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে ৬টির বিপরীতে ৬জন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে ৩টি পদের বিপরীতে ৩জন এবং ট্রেড গ্রুপে ৩টি পদের বিপরীতে ৩জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ বলে গৃহীত হয়। ফলে প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা সমান হওয়ায় ২৪ জন পরিচালকই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এতে করে নির্বাচন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চেম্বারের নবনির্বাচিত বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সর সভার মাধ্যমে এই প্রেসিডিয়াম নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত অন্যান্য পরিচালকরা হলেন, প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, সিলভার সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, এ. এস. শিপিং লাইন্সের স্বত্বাধিকারী অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), জে.এন. শিপিং লাইন্সের স্বত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), আর.এস.বি. ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, নাহার পোল্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রকিবুর রহমান (টুটুল), হোসেন ফিশারিজের স্বত্বাধিকারী মাহফুজুল হক শাহ, গোল্ডেন কন্টেইনার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেনাজির চৌধুরী (নিশান), আর.এম. এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলমগীর পারভেজ, পাওয়ার বাংলা কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন, সিপিডিএল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন, ফোর এইচ এ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাওহার সিরাজ জামিল, মডার্ন হ্যাচারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরী, চয়েস মোটরস এর স্বত্বাধিকারী মাহবুবুল হক, পিএইচপি মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আক্তার পারভেজ, আজাদ সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. রেজাউল করিম আজাদ, এফ. এ. ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম, এম. এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, সেরি মেচান ট্রাভেলের স্বত্বাধিকারী আখতার উদ্দিন মাহমুদ, অর্কিড ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ ও স্পেকট্রাম সলিউশন্সের স্বত্বাধিকারী ওমর মুক্তাদির।




ওয়েস্টার্ন মেরিনের শেয়ারদর বেড়েছে কোনো সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া

কোনো প্রকার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া বা বিনা কারণেই পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। দেশের উভয় পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই-সিএসই) এমন তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, শেয়ার দর অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে গত ১৬ জুলাই ডিএসই ও সিএসই কোম্পানিটিকে নোটিশ পাঠায়। ওই নোটিশের জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কোম্পানির শেয়ারের দাম এভাবে বাড়ছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে গত ৬ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১১ টাকা। ১৭ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ার দর ১৫.১০ টাকায় উন্নীত হয়। এভাবে অস্বাভাবিক শেয়ার দর বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ডিএসই ও সিএসই কর্তৃপক্ষ।




চট্টগ্রাম বন্দরে কমেছে কনটেইনার হ্যান্ডলিং

গত অর্থবছরে (২০২২-২৩) চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে বেড়েছে কার্গো হ্যান্ডলিং। একই সময়ে বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিংও বেড়েছে। তবে কমেছে কনটেইনার হ্যান্ডলিং। বিলাসদ্রব্যের চেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বেশি আমদানি হওয়ায় এ পরিস্থিতি হয়েছে বলে মনে করেন বন্দরের কর্মকর্তারা। কারণ কনটেইনারে বেশিরভাগ বিলাসদ্রব্য এবং কার্গোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি হয়।

এছাড়া একই অর্থবছরে দেশের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে আয় বেড়েছে। এটি ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে ওঠা-নামা মিলিয়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে ৩০ লাখ ৭ হাজার ৩৪৪ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক)। এর আগের অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল ৩২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৮ টিইইউস। সে হিসাবে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দুই লাখ ৪৮ হাজার ১৪ টিইইউস কনটেইনার কম হ্যান্ডলিং করা হয়।

গেল অর্থবছরে বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে ১১ কোটি ৮২ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৩ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ অর্থ বছরে এই পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৮১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬০ টন। অর্থাৎ এক বছরে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে এক লাখ ২২ হাজার ৫৮৩ টন।

এছাড়া বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২৫৩টি। তার আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২৩১টি। সে হিসাবে বিদায়ী অর্থবছরে বন্দরে ২২টি জাহাজ বেশি আগমন করে।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক ঢাকা পোস্টকে বলেন, কার্গোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বেশি আসে এবং কনটেইনারে বেশিরভাগ আসে বিলাসবহুল পণ্য। গত অর্থবছরে বিলাসবহুল পণ্যের চেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বেশি এসেছে। ডলার সংকটের কারণে এবার কনটেইনার আমদানি কমেছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ করা হয়েছে ৬১ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। যদিও লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের। এর আগের অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ করা হয়েছিল ৫৯ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ২ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ করা হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, বিলাসবহুল আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপের কারণে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায় কম ছিল। তবে শেষের কয়েক মাসে অর্থাৎ বাজেটের আগে গাড়িসহ কিছু পণ্যের আমদানি হঠাৎ বেড়ে যায়। এ কারণে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। এছাড়া চোরাচালান এবং শুল্ক ফাঁকি বন্ধে কার্যকর নানা পদক্ষেপও রাজস্ব আদায় বাড়ার কারণ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সী বলেন, বিলাসবহুল দ্রব্য আমদানি কম ছিল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি হয়েছে। সবমিলিয়ে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।




সাড়ে ৩৬ হাজার টন কয়লা নিয়ে পায়রায় এমভি পাভো ব্রেভ

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সাড়ে ৩৬ হাজার টন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরে ভিড়েছে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি পাভো ব্রেভ।

শনিবার রাতে পায়রা বন্দরের আউটারেজে এসে নোঙর করে জাহাজটি। আজ রোববার সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান।

উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, ইন্দোনেশিয়ার বালিকপানান বন্দর থেকে ৩৬ হাজার ৫৭০ টন কয়লা নিয়ে এমভি পাভো ব্রেভ নামের একটি জাহাজ পায়রা বন্দরের আউটারেজে পৌঁছেছে। এখন জাহাজটিকে ইনার অ্যাঙ্কোরেজে নিয়ে আসা হচ্ছে। পরে লাইটারের মাধ্যমে কয়লা খালাস করা শুরু হবে।

গত ৫ জুন কয়লা সংকটের কারণে এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে দীর্ঘ প্রায় এক মাস পর গত মাসে আবারও চালু হয় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত ২২ জুন ৪১ হাজার ২০৭ টন কয়লা নিয়ে এমভি অ্যাথেনা নামে একটি জাহাজ বন্দরে এলে ওই কয়লা দিয়ে ২৫ জুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে যায়। বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালুর পর কয়লা নিয়ে আসা এটি দ্বিতীয় জাহাজ।

জানা গেছে, কয়লার বাকি চালান নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে একে একে আরও ১৬টি জাহাজ আসবে। সম্প্রতি ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ও চীনা বিনিয়োগে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য কয়লা কেনার বিল সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।




ঘূর্ণিঝড় মোখার আশঙ্কা কেটে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যক্রম শুরু

ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে সাময়িক বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামা শুরু হয়েছে। জেটিতে ফিরেছে জাহাজগুলো। ঘূর্ণিঝড় মোখার আশঙ্কা কেটে গেলে রোববার রাতেই কার্যক্রম চালু হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, রোববার ৮ নম্বর মহা বিপৎসংকেত তুলে নেওয়ার পর রাত ৮টার দিকে কার্যত বন্দরের অপারেশন শুরু হয়েছে। তখন জেটিতে জাহাজ না থাকলেও ইয়ার্ড থেকে পণ্য ও কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে। রোববার রাতের জোয়ারে জেটিতে জাহাজ ভিড়েছে। সোমবার সকাল থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে কাজ। জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার খালাস ও বোঝাই করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড় মোখা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ৮ নম্বর মহা বিপদসংকেত ঘোষণার পর চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব সর্বোচ্চ অ্যালার্ট ৮ জারি করে। একই সঙ্গে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।




চট্টগ্রাম বন্দরে জাপানের দুই যুদ্ধজাহাজ

শুভেচ্ছা সফরে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জাপান মেরিটাইম সেলফ ডিফেন্স ফোর্সের (জেএমএসডিএফ) দুটি যুদ্ধজাহাজ ‘উরাগা’ ও ‘আওয়াজি’। রোববার (৯ এপ্রিল) নৌ-বাহিনীর সুসজ্জিত বাদক দল ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনের মাধ্যমে জাহাজ দুটিকে স্বাগত জানায়।

পরে চট্টগ্রাম নৌ-অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন ফয়েজ জাহাজ দুটির অধিনায়কদের স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ নৌ-বাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নৌ-বাহিনী জানায়, বাংলাদেশে অবস্থানকালে সফরকারী জাহাজ দুটির অধিনায়ক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ একটি প্রতিনিধিদল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল এবং কমান্ডার বিএন ফ্লিটের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া জাহাজ দুটির কর্মকর্তা ও নাবিকরা চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ নেভাল অ্যাকাডেমি, স্কুল অব মেরিটাইম ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (এসএমডব্লিউটি) এবং নৌ-বাহিনী মেরিটাইম মিউজিয়ামসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন করবেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকরা জাহাজ দুটি পরিদর্শন করবেন। ১৪১ মিটার এবং ৬৭ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ দুটির অধিনায়ক কমান্ডার মাতসুনাগা আকিহিতু এবং কমান্ডার তাগুছি তাকুমার নেতৃত্বে কর্মকর্তাসহ মোট ১৮৮ জন সদস্য এ শুভেচ্ছা সফরে অংশগ্রহণ করছেন।

এর আগে বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘প্রত্যাশা’ সফরকারী জাহাজ দুটিকে স্বাগত জানায়। জাহাজ দুটির শুভেচ্ছা সফর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

তিন দিনের শুভেচ্ছা সফর শেষে জাহাজ দুটি আগামী ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ ত্যাগ করার কথা রয়েছে।




মানিলন্ডারিং মামলায় চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর ৫ বছর কারাদণ্ড

মানিলন্ডারিং মামলায় লিয়াকত আলী নামে এক ব্যবসায়ীর পাঁচ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। রোববার (২ এপ্রিল) বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুনসী আবদুল মজিদ এ রায় দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় একই সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে ৯ কোটি টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছানোয়ার আহমেদ জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিয়াকত আলী আদালতে হাজির ছিলেন না। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাধীন এস এম চর কাকরা গ্রামে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ব্যাংকের এক কর্মকর্তার যোগসাজশে লিয়াকত আলী, মা সবজি বিতান ও মা ইলেকট্রনিক্স নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে চকরিয়া ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শাখা থেকে ৯ কোটি ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৫ টাকা ঋণ নেন। এরমধ্যে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯২ টাকা তোলেন। পরবর্তীতে তিনি ৮ কোটি ৮৯ লাখ ২৩ হাজার ৪৬৫ টাকা স্থানান্তর করেন। ২০১৩ সালে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বাদী হয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৭ সালে লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।




পায়রা বন্দরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাহাজ ভিড়বে

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী মাসে (এপ্রিলের) প্রথম সপ্তাহে পায়রা বন্দরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাহাজ ভিড়বে।

বুধবার (২২ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাসমূহের ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের এডিপিভূক্ত জিওবি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত সময়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।

 

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল, পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম সোহায়েলসহ সংস্থা প্রধানগণ সরাসরি ও অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পায়রা বন্দরের ‘প্রথম টার্মিনাল’ উদ্বোধন করা হবে। ১০.৫ মিটার ড্রাফটের এবং ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ আসবে। এ সপ্তাহের মধ্যে সাতটি জাহাজ আসবে। পায়রা বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ ২৬ মার্চ সম্পন্ন হবে। তখন পোর্টটি আরো বেশি ভায়েবল হবে। বড় বড় জাহাজ আসবে। ইনার ও আউটারবারে মার্কিং, বয়া বাতি বসানো হয়েছে। ইনারবারে ১৫টি জাহাজ রাখা যাবে । সেখানে লোডিং আনলোডিং কার্যক্রম চলবে। পায়রা বন্দরের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ৪,২০০টি পরিবারকে ২৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাটি দিয়ে এক হাজার একর জমি ভরাট করা হয়েছে।




এবার সুইজারল্যান্ড থেকে এলএনজি কিনছে সরকার

জাপানের পর এবার সুইজারল্যান্ড থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশটি থেকে এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি করা হবে। এতে খরচ হবে ৬১৮ কোটি টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, আজকের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সুইজারল্যান্ডের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬১৮ কোটি ২১ লাখ ১৯ হাজার ৪১৯ টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানি করা হবে।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জাপানের জেরা কোম্পানি এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া। সে সময় ব্যয় ধরা হয় ৬৯০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৩১২ টাকা। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) স্বাক্ষর করা প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে খরচ ধরা হয় ১৬ দশমিক ৫০ ডলার।

তার আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) স্বাক্ষর করা প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তার আগে ২০২১ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়।

চলতি বছরের আগে পেট্রোবাংলা খোলাবাজার থেকে সর্বশেষ এলএনজি কিনেছিল গত বছরের মে মাসে। তখন প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়েছিল ২৬ ডলার ৪ সেন্ট।

জানা গেছে, এলএনজি আমদানির জন্য বেশকিছু দেশের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সরকার খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে এলএনজি আমাদিন করতে চাই। এ জন্য ২০১৯ সালে খোলা বাজার থেকে এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে এমএসপিএ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে ২০২১ সালে জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং দুবাই- এর চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে গত কয়েক বছর বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পেও নতুন সংযোগ বন্ধ রেখেছে সরকার। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট বিবেচনায় ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। সামিট এলএনজি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলারেট এনার্জির স্থাপন করা ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দেশে দৈনিক প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে কম-বেশি ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০-৪২ কোটি ঘনফুট এলএনজি থেকে রূপান্তরিত গ্যাস। তবে দেশে দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রূপান্তরের সক্ষমতা রয়েছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে দেশে ২৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে।

গত জুনে সিএনজি বাদে সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্য গ্রাহকদের জন্য ফের গ্যাসের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।




চট্টগ্রামের এনএইচটি ফ্যাশন লিড প্লাটিনামে উন্নীত

পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা স্থাপনে একের পর এক নতুন রেকর্ড করছে বাংলাদেশ। গত সপ্তাহেই বিশ্বের ১ নম্বর পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত গ্রিন টেক্সটাইল লিমিটেডের চতুর্থ ইউনিট। নতুন খবর হচ্ছে, চট্টগ্রামের প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের এনএইচটি ফ্যাশনস উন্নীত হয়েছে লিড প্লাটিনামে। এত দিন এই পোশাক কারখানাটি ছিল লিড গোল্ড সনদপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব কারখানা।
এনএইচটি ফ্যাশন লিড প্লাটিনামে উন্নীত হওয়ার সনদ পেয়েছে গত বুধবার। আজ শুক্রবার তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বি

জিএমইএ বিষয়টি জানিয়েছে। তারা বলছে, পরিবেশবান্ধব কারখানার এমন মানোন্নয়ন এটিই প্রথম।
২০১৭ সালে এনএইচটি ফ্যাশনস ১১০ নম্বরের মধ্যে ৬৪ নম্বর পেয়ে লিড গোল্ড সনদ পেয়ে পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি পায়। আর এখন কারখানাটি মানোন্নয়ন করে ১১০ নম্বরের মধ্যে ৮৪ পেয়ে লিড প্লাটিনাম সনদ পেল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন নতুন পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কারখানার রিসার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। এনএইচটি ফ্যাশনস তারই প্রথম উদাহরণ। তার মানে আমরা দ্বিতীয় পরিবেশবান্ধব কারখানার দ্বিতীয় পর্যায়ে পদযাত্রাও শুরু করলাম। এর মাধ্যমে আমাদের উদ্যোক্তারা দেখিয়ে দিলেন, পরিবেশবান্ধব কারখানার উন্নয়নেও কাজ করছেন।’

সারা বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। প্রতিষ্ঠানটি ‘লিড’ নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। সনদটি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। ভবন নির্মাণের পরে কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করেও ইউএসজিবিসির আবেদন করা যায়।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএসজিবিসি। সংস্থাটির অধীন কলকারখানার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বাড়ি, বিক্রয়কেন্দ্র, প্রার্থনাকেন্দ্র ইত্যাদি পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা যায়। গত বছরের নভেম্বরে লিড সনদ পাওয়া বাণিজ্যিক স্থাপনার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। লিড সনদের জন্য ৯টি শর্ত পরিপালনে মোট ১১০ পয়েন্ট আছে। এর মধ্যে ৮০ পয়েন্টের ওপরে হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ হলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ হলে ‘লিড সিলভার’ ও ৪০-৪৯ হলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ মেলে।

বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব স্থাপনাগুলোর প্রায় সব কটিই ইউএসজিবিসির সনদ নিয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের ২১১টি স্থাপনা লিড সনদ পেয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টি পোশাক ও বস্ত্র খাতের কারখানা। এসব কারখানার মধ্যে লিড প্লাটিনাম ৬৬টি ও লিড গোল্ড ১০৯ টি।

ইউএসজিবিসির সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১০ পরিবেশবান্ধব কারখানার ৮টিই বাংলাদেশের। বাকি দুটির একটি ইন্দোনেশিয়ার ও একটি শ্রীলঙ্কার। ২০১৮ সাল থেকে বিশ্বের সেরা পরিবেশবান্ধব কারখানাটি ছিল ইন্দোনেশিয়ায়। কারখানাটি ১১০ নম্বরের মধ্যে ১০১ পেয়েছিল। এখন শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে গ্রিন টেক্সটাইল। এ ছাড়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় থাকা বাংলাদেশি বাকি ৭টি কারখানার মধ্যে রয়েছে-রেমি হোল্ডিংস, ফতুল্লা অ্যাপারেলস, তারাসিমা অ্যাপারেলস, প্লামি ফ্যাশনস, সিল্কেন সুইং, মিথেলা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ। এ তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশি কারখানাটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। শুধু দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে ২০১২ সালে দেশে পরিবেশবান্ধব কারখানার যাত্রা শুরু হয়। পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও প্রথম এই মর্যাদা লাভ করে। বর্তমানে বিশ্বে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব পোশাক ও বস্ত্রকল রয়েছে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের পাশাপাশি শিপইয়ার্ড, জুতা ও ইলেকট্রনিক পণ্য খাতেও আছে পরিবেশবান্ধব কারখানা। বাণিজ্যিক ভবনও হচ্ছে পরিবেশবান্ধব, তবে সংখ্যায় কম।




৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলায় আরও এক জাহাজ

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে আরও একটি জাহাজ।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বন্দরের ফেয়ারওয়েতে ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রটোকলভুক্ত ‘এপিজে কাইস’ জাহাজে করে এই কয়লা আসে।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিংয়ের খুলনার ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিয়ে জাহাজটি ১৬ ফেব্রুয়ারি মোংলা বন্দরে আসার কথা থাকলেও শিডিউল জটিলতার কারণে দুদিন পর আজ মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ায় জাহাজটি নোঙর করে। বিকেলে ছোট লাইটার জাহাজে খালাস প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং এই কয়লা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।

আগামি ২৫ ফেব্রুয়ারি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আরও ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরও একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে আসবে বলেও জানান তিনি।

মোংলা বন্দরের হারবার সূত্র জানায়, এপিজে কাইস জাহাজটি ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকলের বাল্ক কার্গো। এই কার্গোটি বিশেষভাবে শস্য, কয়লা এবং সিমেন্টের মত পণ্য পরিবহনের জন্য তৈরি করা। এতে পণ্য বোঝাইয়ের জটিলতায় পরিবর্তিত, পণ্যসম্ভার জাহাজে তোলা এবং খালাস করতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগে।

এদিকে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই ইউনিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হওয়ার ১০ বছর পর গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু কয়লার অভাবে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রেটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মূলত ডলার সংকটে এলসি খুলতে না পারায় কয়লা আমদানিতে জটিলতা দেখা দেয়। এর জেরে কয়লার অভাব দেখা দেয়। পরে এই সমস্যার সমাধান হলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ৩০ হাজার টন কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে এইটি জাহাজ মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দিনে পাঁচ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে এখন থেকে নিয়মিত কয়লা আসবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।




ই-কমার্সে ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণে ‘সিসিএমএস’ সেবা চালু

ই-কমার্সের ভোক্তাদের অভিযোগ দাখিল আরও সহজ করতে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘সেন্ট্রাল কম্পেলেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (সিসিএমএস) সেবা। বিশেষায়িত এ প্ল্যাটফর্মটি ভোক্তা, নিয়ন্ত্রক, সমন্বয়ক এবং ই-কমার্স স্টেকহোল্ডারদের মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করবে।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিশেষায়িত এ সেবার উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামানসহ অনেকে।

সেন্ট্রাল কম্পেলেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম। এখানে একজন ভোক্তা ই-কমার্স সংক্রান্ত যেকোনো যৌক্তিক অভিযোগ করে প্রতিকার পাবেন। প্ল্যাটফর্মটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ই-কমার্স স্টেকহোল্ডার, নথি সিস্টেম এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। অ্যাপটি বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির গ্রাহকসেবা নিশ্চিতকরণে এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

সিসিএমএস ব্যবহারে ইন্টিগ্রেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং উইজেট মডিউলের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন করা যাবে। ভোক্তাদের মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অভিযোগটি নেওয়া হয়।

অভিযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহক সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাখিল করার মাধ্যমে অভিযোগ ভেরিফাই করা হবে। অভিযোগ দায়ের করার আগে সংশ্লিষ্ট ই-কমার্সে অভিযোগ করা হয়েছে কি না এবং কোনো প্রতিকার পেয়েছে কিনা সেটি যাচাই করা সহজ হবে।

অভিযোগ দায়েরের আগে ই-কমার্স নীতিমালা শর্তসমূহ অনুসরণ করা হয়েছে কি না সেটি যাচাই করা সম্ভব হবে। ভোক্তার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে অবহিত করা ও সমাধানের সুযোগ দেওয়া হবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, অভিযোগের বিস্তারিত ও যাচাই করতে পারে। গ্রাহক যেকোনো সময়ে তার অভিযোগের বিস্তারিত ও অগ্রগতি পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি গ্রাহক এসএমএস ও ইমেইল নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানতে পারবেন।

অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সেটি সমাধানের চেষ্টা না করলে বা দু’পক্ষের মধ্যে মতের অমিল হলে সিস্টেম সেটি ডিটেক্ট এবং নোটিফিকেশন জারি করে এবং নিয়ন্ত্রণকারীকে জানিয়ে দেওয়াসহ একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে।




চট্টগ্রামে রিহ্যাব ফেয়ার শুরু ২৩ ফেব্রুয়ারি

আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০২৩। পাঁচ তারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু, চট্টগ্রাম বে-ভিউতে এই মেলা চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দুটি গোল্ড-স্পন্সর ও ১৭টি কো-স্পন্সর প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৪৮টি স্বনামধন্য রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান এবং বিল্ডিং ম্যাটারিয়ালস নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে স্টল বরাদ্দ দিয়েছে রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, ’মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা বাসস্থান নিশ্চিত করাই রিহ্যাবের মূল লক্ষ্য। কোভিড ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা বিরাজ করলেও বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম অনেক বৃদ্ধি পেলেও আবাসন ব্যবসাও আগের চেয়ে এখন অনেক চাঙ্গা হয়েছে। এবারের রিহ্যাব ফেয়ার আগের সব ফেয়ারের চেয়ে আরও অধিক জাঁকজমকপূর্ণ হবে। চার দিনব্যাপী এবারের রিহ্যাব ফেয়ারে রিয়েল এস্টেট, ব্যাংক, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানসহ ৪৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। একই ছাদের নিচে রিহ্যাব ফেয়ার থেকে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের ফ্ল্যাট ও প্লট বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

 

এদিকে রিহ্যাব ফেয়ার উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই স্টল বরাদ্দ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন রিহ্যাবের পরিচালক ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (১) ইঞ্জিনিয়ার দিদারুল হক চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রিহ্যাবের পরিচালক ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (২) মাহবুব সোবহান জালাল তানভীর।

এ সময় রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০২৩-এর বিধিমালা (কোড অব কন্ডাক্ট) উপস্থাপন করেন রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটি ও রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০২৩-এর আয়োজক কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন, এএসএম আবদুল গাফফার মিয়াজী, রেজাউল করিম, আশীষ রায় চৌধুরী, মো. নূর উদ্দিন আহমদ, মো. মাঈনুল হাসান এবং ফেয়ারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

 




দখল-চাঁদাবাজ চক্রের কয়লা আয়ান শর্মা : ভোক্তভোগীদের দেখান পত্রিকার ভয়

মোটরসাইকেল আটকে রেখে এক লাখ ২০ হাজার টাকা আদায়ের সময় ইমতিয়াজ সিয়াম ও তার সহযোগী জয়নালকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমতিয়াজ নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ হামজা খাঁ লেনের আক্তার হোসেনের ছেলে। আবাসিক এলাকার একটি সড়ক নির্মাণে বাধা দেন আক্তার হোসেন ও তার স্ত্রী রিনা আক্তার। এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত এই দম্পতির পক্ষ হয়ে পুরো এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন সাংবাদিক নামধারী আয়ান শর্মা।

জানা গেছে, মামলার রায়, ভূমি কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও রেকর্ডে সড়ক থাকার পরও সেটি আক্তার-রিনা দম্পতি তাদের জায়গা দাবি করে। আর তাদের দাবির ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম প্রতিদিন নিউজ প্রকাশ করে। এর প্রতিবাদে এলাকার মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে প্রতারক আয়ান শর্মার শাস্তি দাবি করেন। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার (সিএমপি) বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন হযরত শাহ আমানত আবাসিক এলাকার সভাপতি শাহেদ আলী রানা। একই অভিযোগ সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) বরাবর দেওয়া হয়েছে; সেটির তদন্ত করছে পাঁচলাইশ থানা।

গত বছরের ২২ ডিসেম্বর দেওয়া অভিযোগে আয়ান শর্মাকে ৪ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়। অন্য অভিযুক্তরা হলেন আক্তার হোসেন ও তার স্ত্রী রিনা আক্তার এবং নুরুল বশর বিপলু। বিপলু মোটরসাইকেল আটকের ঘটনায় গ্রেপ্তার আক্তারের ছেলের সহযোগী হিসেবে মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পাঁচলাইশ থানার ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদার।

হযরত শাহ আমানত আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম আমাদের সময়কে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা আবাসিকের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছি। রাস্তার নিচ দিয়ে পানি ও গ্যাসের লাইন এবং ওপরে বিদ্যুতের লাইন আছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সড়কের উন্নয়ন করতে গেলে রাস্তার সামনের কিছু অংশ দাবি করে আক্তার ও রিনা। তারা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেন। বিষয়টি আদালত ও ভূমি অফিসে নিষ্পত্তির পরও বাধা দিয়ে যাচ্ছেন। আর এসব ভূমিদস্যুর পক্ষ হয়ে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়ান চট্টগ্রাম প্রতিদিনের আয়ান শর্মা। তার বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন মানববন্ধন করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন ঘটনার পর চট্টগ্রাম প্রতিদিনে নিউজ করে ফয়সালার প্রস্তাব দেন আয়ান শর্মা।

ওই আবাসিক এলাকার প্লট মালিকরা জানান, আক্তার ও রিনা লোকজনের কাছে বলে বেড়াচ্ছেন যে সড়কের জায়গাটি প্লট বানিয়ে মালিকদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা আদায় করবেন। সেই টাকার বড় একটি অংশ আয়ান শর্মাকে দেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়েছে। ভূমিদস্যু আক্তারের বিভিন্ন অপকর্ম ঢাকতে আয়ান শর্মা তার পত্রিকার প্রভাব খাটিয়ে থানায় তদবির করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, আক্তার-রিনা দম্পতি রাস্তার যে অংশকে তাদের অংশ দাবি করছেন, সেটিকে দুটি প্লট দেখিয়ে বিক্রি করেছেন। ওই দুটি প্লট বিক্রি দলিলের কপি আমাদের সময়ের হাতে রয়েছে। মূলত আয়ান শর্মার ভয় দেখিয়ে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেই চলাচলের রাস্তা নিজেদের বলে দাবি করছে।

চট্টগ্রাম প্রতিদিনের আয়ান শর্মা একই রাস্তা নিয়ে একাধিক নিউজ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি হাস্যকর মন্তব্য করে একজন প্লট মালিক বলেন, যে বিষয়ের কোনো ভিত্তি নেই, আদালতের রায় ও ভূমি অফিসের নথিকে অস্বীকার করে কীভাবে নিউজ করে বুঝি না। ভূমিদস্যুদের পক্ষ হয়ে পত্রিকায় নিউজ ছাপিয়ে হেনস্তা করার ভয়ভীতি দেখায়। এতে ওই সাংবাদিকের উদ্দেশ্য আমাদের কাছে সম্পূর্ণ পরিষ্কার।

হযরত শাহ আমানত আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসা চাঁদা না পেয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে রাতের আঁধারে জমি ভরাট করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে অন্তত ১৫ বছর ধরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া যে মামলার স্থিতাবস্থার কথা বলা হয়েছে, তার বাদী আয়ান গং নয়। চট্টগ্রাম তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের ওই মামলার বাদী বাবুল কুমার শীলের পক্ষে নিযুক্ত আমমোক্তার সামশুল হুদা এবং বিবাদী সাধন শীল।

আবাসিকের প্লট মালিক ও বাক প্রতিবন্ধী মুক্তিযোদ্ধা মো. সুলতান আহমদ এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, মিথ্যা অভিযোগকারীদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১৮ সালে পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। আক্তার হোসেন আবাসিকের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। ফলে আবাসিকের হাজারো মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে আয়ান শর্মা বলেন, আমি কারও পক্ষ নিয়ে নিউজ করে কারও কাছে চাঁদা দাবি করিনি কখনো। আর আমার বিরুদ্ধে কমিশনারের কাছে কেউ অভিযোগও করেনি। আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ বা মামলা হলে আমি তো জানতাম। এগুলো সব বানোয়াট কথা। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এগুলোর বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনার থেকেই প্রথম শুনলাম।