অভিনয়কে বিদায় জানিয়ে চাকরি খুঁজছেন হাসান মাসুদ

টিভি পর্দার একসময়ের জনপ্রিয় মুখ অভিনেতা হাসান মাসুদ। একের পর এক দর্শকপ্রিয় নাটকে দেখা গেছে তাকে। কাজ করেছেন চলচ্চিত্রেও। তবে হঠাৎ করেই শোবিজ অঙ্গন থেকে হারিয়ে যান এ অভিনেতা।

এখন আর পর্দায় তেমন দেখা মেলে না তার। সম্প্রতি হানিয়া আমিরকে নিয়ে মন্তব্য করে এসেছেন আলোচনায়। এবার জানালেন, একটা চাকরির খোঁজে রয়েছেন তিনি। আর অভিনয়ে ফিরতে চান না।

সম্প্রতি দেশের এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন হাসান মাসুদ। চাকরি প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, আমি এখন একটা জব খুঁজছি। একটা জব পেলেই আমি জবে ঢুকে যাবো। সেটা যে ক্ষেত্রেই হোক। সেটা সাংবাদিকতা হতে পারে। এডমিনিস্ট্রেশন হতে পারে। আমি চেষ্টা করছি। হারিয়ে যাবো একেবারে।

একসময় সাংবাদিকতা করা হাসান মাসুদ পুরনো পেশায় ফেরার ইঙ্গিতও দেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকতায় ফেরার ইচ্ছে আছে, যদি সে রকম ভালো অফার পাই।

দর্শকদের উদ্দেশে হাসান মাসুদ বলেন, আমার শুধু একটাই অনুরোধ দর্শকদের কাছে, আপনারা সবসময় অনেস্ট থাকবেন। সত্য কথা বলবেন। একটা প্রবণতা এখন খুব বেড়েছে পরকীয়া করার। এটা থেকে আপনারা বিরত থাকবেন। তাহলেই আপনারা ভালো থাকবেন। সুখে থাকবেন।

প্রসঙ্গত, হাসান মাসুদ ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে মাত্র ৭ বছরের মাথায় ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর নেন। এরপর তিনি ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিবিসির বাংলা বিভাগে কাজ করেছেন।

সাংবাদিকতা ছাড়ার পর মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শোবিজে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর তিনি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সিনেমায় অভিনয় করেন। সেই সঙ্গে টেলিভিশন নাটকে কাজ শুরু করেন। এ অভিনেতার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হাউস ফুল’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘এফডিসি’, ‘বউ’, ‘খুনসুটি’, ‘গ্রাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘আমাদের সংসার’, ‘গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন’, ‘বাতাশের ঘর’ ও ‘প্রভাতী সবুজ সংঘ’।




সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান ও এএমএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুনর্নিয়োগ অনুমোদন

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স ও ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ নবায়ন অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পৃথক দু’টি চিঠি ইস্যু করেছে সংস্থাটি। উপ-পরিচালক (নন-লাইফ) মো. সোলায়মান চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।

তথ্য অনুসারে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে পুনর্নিয়োগ পেয়েছে সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান। ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের ১ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ ৬৭ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার নিয়োগ নবায়ন অনুমোদন করা হয়েছে।

অপরদিকে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে পুনর্নিয়োগ পেয়েছে এ এম এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। নিয়োগপত্রের শর্তাদি পরিপালন সাপেক্ষে ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য তার নিয়োগ নবায়ন অনুমোদন করা হয়েছে।




যুবশক্তিকে অন্তর্ভুক্ত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধান উপদেষ্টা

বেকারত্ব টেকসই উন্নয়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘যুবকদের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া টেকসই বৈশ্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এর সুফল যেন লোভের প্রাচীরে বন্ধ রাখা না হয়।’

প্রধান উপদেষ্টা বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে ‘যুবদের জন্য বিশ্ব কর্মসূচি’র ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন।

তিনি অনুষ্ঠানে ‘বিশ্ব যুব কর্মসূচি’র চেয়ারপার্সনকে উচ্চ পর্যায়ের এই যুব বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘পঁচাশি বছর বয়সে এসে আজকের আলোচ্য বিষয় ‘অন্তঃপ্রজন্মীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা’-এর গভীরতা আমি অনুভব করছি। গত বছর বাংলাদেশে আমরা দেখেছি যুবশক্তির অসাধারণ ক্ষমতা। তারা সাহসের সঙ্গে বহু বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে, আমাদের জাতির পথ পুনঃনির্ধারণ করেছে এবং আমাকে সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দায়িত্ব দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যুবরা বিশ্বে পরিবর্তনের এজেন্ট। কিন্তু তারা প্রথমেই ভোগেন বৈষম্য, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, সংরক্ষণবাদ এবং ডিজিটাল বিভাজনের নেতিবাচক প্রভাব।’

প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বেকারত্ব। যুব বেকারত্ব প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় চারগুণ বেশি, বিশেষত নিম্ন আয়ের দেশে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা একটি জাতীয় যুব উদ্যোক্তা নীতি চালু করেছি, যা অর্থ, দক্ষতা ও বাজার প্রবেশ নিশ্চিত করে। এর ফলে যুবরা চাকরি প্রার্থী নয়, চাকরি সৃষ্টিকারী হয়ে উঠবে। আমরা স্বাধীন সংস্কার কমিশনগুলোতে যুব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি এবং একটি জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতা চালু করেছি, যাতে যুবদের কণ্ঠস্বর গণতান্ত্রিক নবায়নে অন্তর্ভুক্ত হয়।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে ‘যুবদের জন্য বিশ্ব কর্মসূচি’, ‘ভবিষ্যতের জন্য চুক্তি’, ‘জাতিসংঘের যুব নীতি ২০৩০’ এবং ‘যুব, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডাকে সমর্থন করে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “কোনো দেশ একা যুবশক্তিকে ক্ষমতায়িত করতে পারে না। বাধা দূর করতে, ন্যায় নিশ্চিত করতে এবং অন্তঃপ্রজন্মীয় নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। নয়তো হতাশা অশান্তিতে রূপ নিতে পারে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘মূল কথা খুব সহজ— আমাদের ভবিষ্যৎ একা বহন করতে হবে না। আমাদের শুধু যুবদের তাদের অধিকার, নিরাপদ স্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তারা সঠিকভাবে নির্বাচন করবে — নিজেদের জন্য, পৃথিবীর জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।’




বিধিবহির্ভূত বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগ, আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে দুদকে তলব

‘গৃহায়ন ধানমন্ডি’ প্রকল্পের আওতায় বিধিবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমকে তলব করেছে দুদক।

আগামী বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’র প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।

দুদক বলছে, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ‘গৃহায়ণ ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় নীতিমালা ভেঙে উচ্চ মূল্যের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হয়। ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ১৩ নম্বর (নতুন ৬/এ) সড়কের ৭১১ নম্বর (নতুন ৬৩) প্লটে নির্মিত ১৪ তলা ভবনে মোট ১৮টি ফ্ল্যাট ছিল।

এর মধ্যে ৬০ শতাংশ (১২টি) সরকারি ও ৪০ শতাংশ (৬টি) বেসরকারি কোটায় বরাদ্দ হওয়ার কথা থাকলেও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। এই সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম।

এ ছাড়াও সরকারের সচিব পদমর্যাদার আরো ১১ কর্মকর্তাকে এই সুবিধা নেয়ার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযুক্ত অপর কর্মকর্তারা হলেন- দুদকের সাবেক দুই কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান ও মো. জহুরুল হক, সাবেক সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, সাবেক সচিব এম এ কাদের সরকার, সাবেক সচিব আকতারী মমতাজ, সাবেক সচিব মো. সিরাজুল হক খান;

সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ, সাবেক রেজিষ্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, সাবেক সচিব মো. আনিছুর রহমান এবং সাবেক সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক।

আগামী ১৭, ১৮ ও ২১ সেপ্টেম্বর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা অনুসন্ধান দলের রুটিন কাজ। বিস্তারিত জানতে ধারাবাহিকভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানিয়েছেন দুদকের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে আইডিআরএ’র পরামর্শক (মিডিয়া এবং যোগাযোগ) ও মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি’কে বলেন, মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে যে, কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমকে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে তলব করা হযেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি (ড. এম আসলাম আলম) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তার (ড. এম আসলাম আলম) জানা মতে, তিনি নিয়ম বহির্ভুত কোন কাজ করেননি এবং অবৈধ কোন সুবিধা গ্রহণ করেননি।




গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের সিইও পদে ফারজানা চৌধুরীর পুনর্নিয়োগ অনুমোদন

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বীমা প্রতিষ্ঠান গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে ফারজানা চৌধুরীকে পুনর্নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)

এক চিঠির মাধ্যমে আইডিআরএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য, অর্থাৎ ২৩ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে। আইডিআরএর উপ-পরিচালক (নন-লাইফ) মো. সোলায়মান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাফল্য: সিইও’র বার্তা

শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় ফারজানা চৌধুরী বলেন, “২০২৫ সাল ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা একটি বছর। ডলার সংকট, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবে বীমা খাত জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়ে। বিশেষ করে পুনর্বীমার প্রিমিয়াম বিদেশে পাঠানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”

তবে তিনি জানান, কৌশলগত পদক্ষেপ, আন্তরিক অংশীদারিত্ব, এবং নবায়নযোগ্য উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সব বাধা অতিক্রম করেছে।

মূল আর্থিক ও কর্মক্ষম তথ্য

  • মোট সম্পদ: ১৪২৪ কোটি টাকা

  • মোট দায়: ৭৪০ কোটি টাকা

  • বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনিয়োগ পোর্টফোলিও: ৬০৬ কোটি টাকা

  • দাবি নিষ্পত্তি অনুপাত: ৭৯%

  • ROE: ৯%, ROA: ৪%

  • পলিসিধারক: ১ লাখের বেশি

  • দাবির পরিমাণ (পরিশোধিত): ৭০ কোটি টাকার বেশি

  • দাবির পরিমাণ (বকেয়া): ২৬৬ কোটি টাকার বেশি

  • শাখা সংখ্যা: ৩৭টি

টানা ১১ বছর ধরে CRAB-এর AAA রেটিং ধরে রাখা, এবং ICAB-এর সেরা উপস্থাপিত বার্ষিক প্রতিবেদন পুরস্কারে ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণপদক প্রাপ্তি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা প্রমাণ করে।

ডিজিটাল রূপান্তর ও উদ্ভাবনমুখী পরিকল্পনা

ফারজানা চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল হাব গড়ে তুলেছে, যা স্টার্ট-আপ ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনে সহায়তা করছে। এই উদ্যোগ ESG লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও অবদান রাখছে।

একইসঙ্গে বিনিময় হারের ক্ষতি কমাতে ডলারে অর্থপ্রদান গ্রহণ, কিছু শাখা একীভূতকরণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

টেকসইতা ও সামাজিক উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা

মাত্র ছয় বছরে ১৪ লাখের বেশি কৃষককে ক্ষুদ্রবীমা প্রদান, এসএমই বীমা খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতায় কাজ, এবং SDG ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি টেকসই উন্নয়নের প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে।

এছাড়া, ACCA-এর ট্রেইনি ডেভেলপমেন্ট গোল্ড স্ট্যাটাস অর্জন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বৃহৎ করদাতা হিসেবে স্বীকৃতি, প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

ভবিষ্যতে ব্যয়ের দক্ষতা, অনুপ্রাণিত কর্মীবাহিনী, ডিজিটাল সম্প্রসারণ এবং ব্যাংকাসিউরেন্স ও নতুন বীমা পণ্য চালু করার উপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। এছাড়াও, পোষা প্রাণীর বীমা, ওষুধ বীমা ও মোটর বীমা খাতে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।

EPZ খাতে কৌশলগত অবস্থান

রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (EPZ) বীমা সমাধান প্রদানের মাধ্যমে গ্রীন ডেল্টা সেখানে নিজস্ব অবস্থান শক্তিশালী করেছে। মিরসরাই EPZ-এ প্রতিষ্ঠানটির নিবেদিত শাখা কাজ করছে, যা ব্যবসায়িক প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

সবশেষে, ফারজানা চৌধুরী বলেন, “আমরা আমাদের অংশীদার, গ্রাহক, কর্মী এবং নিয়ন্ত্রকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী—উদ্ভাবন, দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”




স্বপদে ফিরতে চান বৈষম্যের শিকার খালেক মিয়া

চাকরির অবসান, বাধ্যতামূলক ছুটি, কারণ দর্শানো ও তদন্ত নোটিশ প্রত্যাহার চেয়ে স্বপদে ফিরতে চান বৈষম্যের শিকার আব্দুল খালেক মিয়া। ইসলামী ইন্সুরেন্সের ‘মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা’ দাবি করে- তিনি কোম্পানির ‘সিইও পদে’ যোগদানে সুযোগের জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

১৪ সেপ্টেম্বর আইডিআরএর কাছে পাঠানো চিঠিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদবী ব্যবহার করেন খালেক মিয়া। জানান, অসুস্থতার কারণে ১৭ আগস্ট ইসলামী ইন্সুরেন্স থেকে ছুটি নেন। ছুটিতে থাকা অবস্থায় ২০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ তাকে চাকরি থেকে অবসান করে চিঠি দেন।

কিন্তু বীমা আইন যথাযথ পরিপালন না করায় চাকরির অবসানের সিদ্ধান্ত অকার্যকর এবং সিইও পদ বহাল করে ২৫ আগস্ট ইসলামী ইন্স্যুরেন্সকে নির্দেশনা দেয় আইডিআরএ।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, আইডিআরএর নির্দেশনা ভঙ্গ করে ওই দিনই ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। একসাথে বেআইনি ও অমানবিকভাবে বিভিন্ন মনগড়া অভিযোগ উত্থাপন করে শোকজ করা হয়।

শোকজের জবাবও দেন খালেক মিয়া। এছাড়াও অসুস্থতার কারণে আবারও ৩১ আগষ্ট ছুটির আবেদন করেন। এই ছুটির মেয়াদ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।

খালেদ মিয়া এখন কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন। ইতোমধ্যেই চিকিৎসক তাকে কাজে যোগদানের পরামর্শ দিয়েছেন। এখন চাকরির অবসান, বাধ্যতামুলক ছুটি, শোকজ এবং ৩ সেপ্টেম্বরের তদন্ত নোটিশ প্রত্যাহার চেয়ে ইসলামী ইন্সুরেন্সে নিয়মিত অফিস করার অনুমতির আবেদন করেন।

এছাড়াও চিঠিতে বীমা আইন, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা, কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি এবং আইডিআরএর নিয়োগপত্র অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আব্দুল খালেক।

এর আগে ইসলামী ইন্সুরেন্স থেকে অপসারিত হন মো. আব্দুল খালেক মিয়া।

এ প্রসঙ্গে তিনি অর্থবাংলাকে বলেন, “কোম্পানির নানা অবৈধ কর্মকান্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছেন। অপরাধে যুক্ত না হওয়ায় পরিচালনা পর্ষদের একটি অংশ, ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি ও সিএফওসহ চিহ্নিত সংঘবদ্ধ চক্র ক্ষিপ্ত হয়। কোন রকম আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে  তাকে অপসারণের নির্দেশ দেয়। বিষয়টি আইনের লংঘন হওয়ায় তিনি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কাছে সহায়তা চাচ্ছেন।”




বরিশালে DYDF-এর আয়োজনে “COP30 Road to Belém” আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত

বরিশাল নগরীর মীর কনভেনশন হলে আজ অনুষ্ঠিত হলো “COP30 Road to Belém: Community Voices for Climate Action – Regional Dialogues ahead of COP30”। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (DYDF) এবং সহযোগিতা প্রদান করে Global Greengrants Fund (GGF)।

DYDF বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি হৃদয় হাওলাদার বলেন, “আমরা স্থানীয় জনগণের মতামত ও অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেছি। আশা করি এগুলো ব্রাজিলের Belém-এ অনুষ্ঠিতব্য COP30 সম্মেলনে প্রতিফলিত হবে।”

সংবাদকর্মী মনিরুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয় মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা যদি COP30-এ উপস্থাপিত হয়, তবে কার্যকর জলবায়ু সমাধান পাওয়া সহজ হবে।”

এনিমেল ওয়েলফেয়ার অফ বাংলাদেশ-এর রেসকিউয়ার অর্থি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শুধু মানুষ নয়, প্রাণীর জীবনও ঝুঁকির মুখে। তাই আমাদের অভিজ্ঞতাও বৈশ্বিক আলোচনায় স্থান পাওয়া উচিত।”

সিপিপি, বরিশাল সিটি টিম লিডার মোঃ শামীম বলেন, “আমরা দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জগুলো এই আলোচনায় তুলে ধরেছি। এগুলো যদি COP30-এ প্রতিফলিত হয় তবে আরও কার্যকর অভিযোজন কৌশল নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।”

এছাড়া খেলাঘর কর্মী মোঃ হোসেইন শিকদার নোমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তাই আমাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত বৈশ্বিক আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া জরুরি।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন যুবনেতৃতাধীন সংগঠন, অন্যান্য উন্নয়নকর্মী ও নাগরিকবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বরিশালের এই সংলাপের বিষয়বস্তু ব্রাজিলের COP30 সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।




আজহারুল ইসলাম অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের নতুন মুখ্য নির্বাহী

অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে মোঃ আজহারুল ইসলামের নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ( আইডিআরএ)।

নিয়োগপত্রের শর্তাদি পরিপালন সাপেক্ষে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৮ তারিখ পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য তার নিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ।

কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (নন-লাইফ) মো. সোলায়মান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে এই নিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে।




স্বদেশ ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও হলেন এ জেড কাওছার

স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তরুণ বীমা সংগঠক এ জেড কাওছার। সম্প্রতি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ৫১তম সভায় তাকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ২০ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০৩ সালে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে যোগদানের মাধ্যমে বীমা খাতে যাত্রা শুরু করেন এ জেড কাওছার। এরপর দেশের বিভিন্ন জীবন বীমা কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২১ সালে স্বদেশ ইসলামী লাইফে যোগদানের পর ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে সর্বশেষ অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শিক্ষাজীবনেও তিনি রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি ইসলামিক আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি অর্জন করে কামিল (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। পরে আইএবিআইটি থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় (এইচআরএম) এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।

বীমা খাত দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে থাকলেও তরুণ নেতৃত্বের উত্থান নতুন আশার সঞ্চার করছে। বীমা শিল্পের বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ নির্বাহীরা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল ও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে এই খাতকে আরও প্রাণবন্ত করতে পারবেন।
স্বদেশ ইসলামী লাইফের পরিচালনা পর্ষদ আশা করছে, এ জেড কাওছারের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব গুণ কোম্পানির উন্নতি ও প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বের এ ধারা দেশের বীমা খাতের সামগ্রিক উন্নয়নেও দিকনির্দেশক হয়ে উঠতে পারে।




পবার হরিয়ান ইউনিয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন

তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা আজ আর কেবল শহরের সীমিত গন্ডিতে আটকে নেই। রাজশাহীর পবা উপজেলায় এবার ইউনিয়ন পর্যায়ে ছয়টি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর মধ্য দিয়ে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটেছে। নিজ এলাকায় এ ধরনের সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রত্যাশা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নতুন সংযোজন হরিয়ান ইউনিয়ন, যেখানে সোমবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় এক অনাড়ম্বর আয়োজনে কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ তরুণদের আত্মনির্ভর করে গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শুধু একটি দক্ষতা নয়, এটি বর্তমান সময়ের মৌলিক চাহিদার মতো। এই দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শুধু চাকরি নয়, তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, অনলাইন মার্কেটিংয়ের মতো খাতে দক্ষ হয়ে অনেকেই ঘরে বসেই আয় করতে পারে। এই প্রকল্প সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পবা উপজেলার হরিপুর, পারিলা, হড়গ্রাম, দর্শনপাড়া, দামকুড়া ও হরিয়ান- এই ছয়টি ইউনিয়নে চালু হয়েছে ইউনিয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ভবিষ্যতে বাকি দুটি ইউনিয়নেও স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং গ্রামের তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরির একটি মডেল। আমরা চাই, প্রযুক্তির সুযোগ যাতে কারও জন্য সীমাবদ্ধ না থাকে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু বাশির। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, এটি একটি সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প। আমরা মনে করি, প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা সম্ভব। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপিত এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তেমনই এক বাস্তব রূপরেখা।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির অর্থায়নে এই কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একসঙ্গে ১১ জন শিক্ষার্থীর জন্য আধুনিক কম্পিউটার, দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দক্ষ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের, যারা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবেন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পড়ুয়া যেকোনো শিক্ষার্থী এই কেন্দ্রে ভর্তি হতে পারবেন। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুর মধ্যে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন (এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট), ইন্টারনেট, ই-মেইল, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বর্তমান সময়ের চাহিদাসম্পন্ন গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এবিষয়ে হরিয়ান ইউনিয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক সাদ্দাম হোসেন জানান, ‘আগের কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই ইতিবাচক। আমরা কোর্স চালানোর সময় শুধু বইনির্ভর শিক্ষা দিই না, হাতে-কলমে কাজ শেখানোর দিকেও গুরুত্ব দিই। শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও আগ্রহ দেখে আমরা উৎসাহ পাচ্ছি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাবের আলী, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, জামায়াত ইসলামী হরিয়ান ইউনিয়ন আমির করিম-উজ-জামান সহ প্রশিক্ষণার্থী, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, ইউপি সচিব, সদস্যবৃন্দ, উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।




পোশাক নিয়ে দেওয়া নির্দেশনা প্রত্যাহার করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পোশাক সংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে গভর্নরের নির্দেশে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক ক্ষুদেবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিভিন্ন বিভাগীয় সভায় কর্মীদের পোশাক নিয়ে একটি পরামর্শমূলক আলোচনা হয়। সেখানে নারী কর্মীদের জন্য শালীন পোশাক, যেমন সালোয়ার-কামিজ বা শাড়ির সঙ্গে স্কার্ফ এবং পুরুষদের জন্য ফর্মাল পোশাক পরার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া অতিরিক্ত কারুকার্যপূর্ণ, আঁটসাঁট বা অফিসের পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক নিরুৎসাহিত করার কথাও বলা হয়।

তবে বিষয়টি নিয়ে গতকাল সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই মন্তব্য করেন, এমন নির্দেশনা ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল।

গতকাল যে সার্কুলারটি জারি করা হয়েছিল, সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আরও একটি বিবৃতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুখপাত্রের দপ্তর থেকে জানানো হয়, এটি পরামর্শমূলক সার্কুলার ছিল। নারী সহকর্মীদের বোরকা ও হিজাব পরিধানের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা বা নির্দেশনা আরোপ করা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার সরাসরি নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে এই সার্কুলার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অফিসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে সৌহার্দ্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে ভবিষ্যতে আরও পরিমিত ও সংবেদনশীলভাবে যেকোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই ধরনের আলোচনার ফলে কর্মীদের পোশাক পরিধানের স্বাধীনতা খর্ব করা হবে না।




এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন সাড়ে ১৩ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

স্নাতকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে এক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন ১৩ হাজার ৫৬৩ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এসব তথ্য জানায়।

মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ২০২৩ ওপেন ডোরস রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল এক্সচেঞ্জ এর বরাতে এ কথা ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত যে, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ১৩ হাজার ৫৬৩ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আমেরিকাকে বেছে নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের এই সংখ্যা আগের শিক্ষাবর্ষের (২০২১-২০২২) চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি এবং সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।

দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশি আন্ডারগ্রাজুয়েট বা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী আন্ডারগ্রাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।

প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি স্নাতক শিক্ষার্থী আমেরিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যয়ন করায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে সপ্তম স্থানে রয়েছে।

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০০ শতাংশ বাড়ায় ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষের ৩ হাজার ৩১৪ জন শিক্ষার্থী থেকে বেড়ে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৫৬৩ জন হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এ প্রসঙ্গে বলেন, বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ায় আমরা উচ্ছ্বসিত। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যুগান্তকারী গবেষণায় জড়িত হওয়া থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের জীবনকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো জুড়ে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করে চলেছে।

মার্কিন দূতাবাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ইন্সটিটিউট যৌথভাবে বার্ষিক ওপেন ডোরস রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ও প্রি-একাডেমিক ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নথিভুক্ত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়েছে এবং মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা করোনা মহামারির আগের পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দ্রুততম বৃদ্ধির হার গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।




ব্যাংকে বাড়ছে নারী কর্মীর সংখ্যা

সামাজিক স্বীকৃতি, নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ, চাকরির নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও ভালো বেতন কাঠামোর কারণে ব্যাংকিং পেশায় বাড়ছে নারী কর্মীর সংখ্যা। শুধু চাকরিই করছেন তা নয়, ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও এমডিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে বসে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এক সময় মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ১০ শতাংশের নিচে। এখন তা ১৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জুন শেষে দেশের ৬১টি ব্যাংকে জনবল রয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০৬ জন। এর মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা ৩২ হাজার ৫৬৭ জন। ২০২২ সালের একই সময় নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৫৪৮। ২০২১ সালের জুনে ছিল ২৯ হাজার ৭৭১ জন।

বর্তমানে ব্যাংকে নারী কর্মকর্তার হার ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, ২০২২ সালের জুনে ছিল ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২০২১ সালে ছিল ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। ব্যাংকে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসাবেও নারীদের দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে বেসরকারি ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হুমায়রা আজম। তিনি বর্তমানে একমাত্র নারী এমডি। মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন নিলুফার জাফরুল্লাহ।

 

ব্যাংকিং পেশায় নারীদের আগ্রহ বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বেসরকারি এবি ব্যাংকে কর্মরত সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার (এসএভিপি) দিলরুবা স্মৃতি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ব্যাংকের চাকরিতে শুধু নারীরা নয়, সবাই আগ্রহী। কারণ বেসরকারি খাতে যেসব চাকরির সুযোগ রয়েছে তার মধ্যে ব্যাংকের চাকরিতে নিরাপত্তা একটু বেশি, এটাই ধরে নেওয়া যায়। সামাজিক অবস্থানে গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। দেশে যেসব চাকরিকে মর্যাদাপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয় তার মধ্যে ব্যাংকিং জব অন্যতম। ব্যাংকে নারীদের কাজ করার পরিবেশ যেমন ভালো তেমনই ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও রয়েছে। যা একজন নারীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে যেকোনো বিষয় পড়ালেখা করেও ব্যাংকে ক্যারিয়ার গঠন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য, নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ, চাকরির নিরাপত্তা ও ভালো বেতন কাঠামোর কারণে নারীরা ব্যাংকিং পেশায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এ কারণেই ব্যাংকিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।

 

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নারীরা এখন শিক্ষা, ব্যবসা, চাকরিসহ বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকের চাকরিতে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। একটি সময় এসব ক্ষেত্রে নারীর অংশ ছিল খুব কম। যে কারণে এখন ব্যাংকের ৫০ বছরের বেশি বয়সী কর্মীর মধ্যে নারী ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে ৩০ বছরের কম বয়সী যেসব কর্মী রয়েছেন তাদের মধ্যে ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ নারী। ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কর্মীদের মধ্যে নারীর হার ১৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এ হার ৯ দশমিক ২২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকে যারা ক্যারিয়ার শুরু করছেন, তাদের মধ্যে ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ নারী। ব্যবস্থাপনার মধ্যম স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ ১৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে নারী রয়েছেন ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

বেসরকারি খাতে যেসব চাকরির সুযোগ রয়েছে তার মধ্যে ব্যাংকের চাকরিতে নিরাপত্তা একটু বেশি, এটাই ধরে নেওয়া যায়। সামাজিক অবস্থানে গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। দেশে যেসব চাকরিকে মর্যাদাপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয় তার মধ্যে ব্যাংকিং জব অন্যতম। ব্যাংকে নারীদের কাজ করার পরিবেশ যেমন ভালো তেমনই ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও রয়েছে। যা একজন নারীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এবি ব্যাংকে কর্মরত সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার দিলরুবা স্মৃতি
ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে, ব্যাংক খাত বড় হচ্ছে ফলে এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নারীরা এগিয়ে আসছেন। তাদের দক্ষতা বেড়েছে। প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করছেন। ব্যাংকগুলোও তাদের জন্য কর্ম-পরিবেশ তৈরি করেছে। আগামীতে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, নারীরা কাজের প্রতি মনোযোগী হয়ে থাকেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন, তাদের মধ্যে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ বেশি। ফলে এখন নীতি নির্ধারণী থেকে শুরু করে ব্যাংকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও ব্যাংক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে পরিচালনা পর্ষদ। সেখানে নারীর উপস্থিতি ১৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকের পর্ষদে নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। বেসরকারি ব্যাংকে পরিচালক পর্ষদে নারীদের উপস্থিতি ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ হলেও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে তা ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে এ হার ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

সরকার গত বছরের ডিসেম্বরে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করে। সেখানে বলা হয়, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের এক-তৃতীয়াংশই থাকবেন নারী। এছাড়া, সরকারের শেয়ার রয়েছে, এমন বেসরকারি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এ নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

নারীরা কাজের প্রতি মনোযোগী হয়ে থাকেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন, তাদের মধ্যে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ বেশি। ফলে এখন নীতি নির্ধারণী থেকে শুরু করে ব্যাংকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

দেশে কার্যরত ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে নারী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে সব ব্যাংক সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করেছে। লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে ৬০টি ব্যাংক। সব ব্যাংকের মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্যাংকে নিজস্ব পরিবহন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ৩৬টি ব্যাংকে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শিশু দিবা-যত্ন স্থাপন করেছে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নের ১৭টি অভীষ্টের পঞ্চম হচ্ছে লৈঙ্গিক সমতা। এ সমতা সূচকে ওয়ার্ল্ড ইকোনিক ফোরামের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৪৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৯তম।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লৈঙ্গিক সমতা জরুরি বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




৩০ হাজার বেতনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে চাকরির সুযোগ

‘এক্সিকিউটিভ’ পদে জনবল নিয়োগ দেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড। আগ্রহীরা আগামী ৩১ মে পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেড
বিভাগের নাম: রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট

পদের নাম: এক্সিকিউটিভ
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিবিএ/এমবিএ (অ্যাকাউন্টিং/ফাইন্যান্স/ব্যাংকিং/স্ট্যাটিসটিকস)
অভিজ্ঞতা: ০১ (এক) বছর
বেতন: ৩০,০০০/- টাকা

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: ২৬ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ৩১ মে ২০২৩

সূত্র: বিডিজবস ডটকম




ঢাকার বাইরে চাকরির সুযোগ, বেতন ৬০০০০

কারিতাস বাংলাদেশ সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইনফরমেশন অ্যান্ড রিপোর্টিং বিভাগে লোকবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

পদের নাম : ইনফরমেশন অ্যান্ড রির্পোটিং অফিসার। পদের সংখ্যা : ১ জন। আবেদন যোগ্যতা : স্ট্যাটিস্টিকস, ইকোনমিক্স, সোশ্যাল সায়েন্স, ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স পাস করতে হবে।

পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। এনজিও আইএনজিওতে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

ডাটা ম্যানেজমেন্ট, ইংরেজি কমিউনিকেশন স্কিল থাকতে হবে। যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে। ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি ও ভিডিও এডিটিং স্কিল থাকতে হবে।

ইংরেজি ভাষায় সাবলীল হতে হবে। ইন্টারপারসোনাল স্কিল থাকতে হবে। কক্সবাজারে চাকরির আগ্রহ থাকতে হবে।

বেতন ও সুযোগ সুবিধা : মাসিক বেতন ৬০,০০০ টাকা।

আবেদন যেভাবে : আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ তারিখ : ২০ মে, ২০২৩




জিনিসপত্রের দাম কমানোর উপায় বের করুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোভিড-১৯-এর অভিঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক অবরোধ ও পাল্টা অবরোধ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নকামী দেশগুলোকে কঠিন সমস্যার মুখোমুখি করেছে। এমনকি উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার উপায় খুঁজে বের করতে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে বলেন। তিনি বলেন, তা না হলে নিজেরা নিজেদের বাজার হারাবেন।

শনিবার (১১ মার্চ) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট ২০২৩’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এই সম্মেলন হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সহযোগিতায় (বিডা) এফবিসিসিআই এই সম্মেলনের আয়োজন করছে।

সরকারপ্রধান বলেন, সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আমরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছি। সমৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আমাদের বর্তমান প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করতে হবে যেখানে ব্যর্থ হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

আমাদের প্রতিজ্ঞা নিতে হবে যে আমরা কোনমতেই ব্যর্থ হবো না। যে কোনও ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই সফল হবো প্রতিবন্ধকতার উত্তরণ ঘটাতে। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী একটি দেশ, আমরা বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবেই আমাদের দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। তাই সবার সহযোগিতা আমাদের একান্তভাবে দরকার, বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী ড.মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাবি, ভুটানের শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী কর্মা দরজি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উপ-মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত জিয়াংচেন ঝাং, বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র ও প্রদর্শিত হয়।




ই-কমার্সে ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণে ‘সিসিএমএস’ সেবা চালু

ই-কমার্সের ভোক্তাদের অভিযোগ দাখিল আরও সহজ করতে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘সেন্ট্রাল কম্পেলেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (সিসিএমএস) সেবা। বিশেষায়িত এ প্ল্যাটফর্মটি ভোক্তা, নিয়ন্ত্রক, সমন্বয়ক এবং ই-কমার্স স্টেকহোল্ডারদের মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করবে।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিশেষায়িত এ সেবার উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামানসহ অনেকে।

সেন্ট্রাল কম্পেলেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম। এখানে একজন ভোক্তা ই-কমার্স সংক্রান্ত যেকোনো যৌক্তিক অভিযোগ করে প্রতিকার পাবেন। প্ল্যাটফর্মটি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ই-কমার্স স্টেকহোল্ডার, নথি সিস্টেম এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। অ্যাপটি বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির গ্রাহকসেবা নিশ্চিতকরণে এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

সিসিএমএস ব্যবহারে ইন্টিগ্রেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং উইজেট মডিউলের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন করা যাবে। ভোক্তাদের মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অভিযোগটি নেওয়া হয়।

অভিযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহক সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাখিল করার মাধ্যমে অভিযোগ ভেরিফাই করা হবে। অভিযোগ দায়ের করার আগে সংশ্লিষ্ট ই-কমার্সে অভিযোগ করা হয়েছে কি না এবং কোনো প্রতিকার পেয়েছে কিনা সেটি যাচাই করা সহজ হবে।

অভিযোগ দায়েরের আগে ই-কমার্স নীতিমালা শর্তসমূহ অনুসরণ করা হয়েছে কি না সেটি যাচাই করা সম্ভব হবে। ভোক্তার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে অবহিত করা ও সমাধানের সুযোগ দেওয়া হবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, অভিযোগের বিস্তারিত ও যাচাই করতে পারে। গ্রাহক যেকোনো সময়ে তার অভিযোগের বিস্তারিত ও অগ্রগতি পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি গ্রাহক এসএমএস ও ইমেইল নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানতে পারবেন।

অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সেটি সমাধানের চেষ্টা না করলে বা দু’পক্ষের মধ্যে মতের অমিল হলে সিস্টেম সেটি ডিটেক্ট এবং নোটিফিকেশন জারি করে এবং নিয়ন্ত্রণকারীকে জানিয়ে দেওয়াসহ একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে।




৮৯ লাখ টাকা আত্মসাতে রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

গ্রাহকের এফডিআরের সাড়ে ৮৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র অফিসার বাহাউদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) মোহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি বাহাউদ্দিন আহমেদ সিনিয়র অফিসার (দ্বিতীয় কর্মকর্তা) হিসেবে খুলনার বয়রার মহিলা শাখায় দায়িত্ব পালনকালে শাখার কর্মকর্তাদের আইডি ব্যবহার করে এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সাড়ে ৮৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

বাহাউদ্দীন প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক শাখায় দায়িত্বশীল পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ৭টি লেনদেনের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ওই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত আরও ১৪ লাখ টাকাসহ মোট ওই টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়াও চালানে প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ টাকার গড়মিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে তিনি ব্যাংক ব্যবস্থাপকের আইডি কৌশলে ব্যবহার করেছেন।

তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪৩০/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭(ক) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।