রমজানে বাজার স্থিতিশীল থাকবে, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই :বাণিজ্যমন্ত্রী

আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেছেন, রমজান ঘিরে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেছেন, এ মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং আসন্ন রমজানের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। রমজানে পণ্যের ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

তিনি বলেন, আমাদের পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য রয়েছে, তা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। রমজান কিংবা তার আগে-পরে বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য এবং জাহাজ ভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রস্তাব রয়েছে কি না এবং রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এ মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে।

পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এলসি খোলায় সমস্যা হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

তবে কোনো আমদানিকারক এলসি মার্জিন কিংবা অন্য কোনো ব্যাংকিং জটিলতায় পড়লে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের : আইসিটি মন্ত্রী

আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ জন্য আধুনিক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশীয় উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং হুয়াওয়ের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশ টেক কানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ, উচ্চগতির ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ টেক কানেক্ট এখন জাতীয় পর্যায়ের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সরকার, শিল্পখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নীতিনির্ধারক ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ তৈরি করেছে। ডিজিটাল অবকাঠামো সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে সরকার পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো—শক্তিশালী আইনি ও নীতিগত কাঠামো, নির্ভরযোগ্য সংযোগ ব্যবস্থা, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা এবং দেশীয় উৎপাদন। জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।

হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার এবং শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হুয়াওয়ে। সংযোগব্যবস্থা, ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন সেবা উদ্ভাবন এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

 

সম্মেলনে ‘ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও কানেক্টিভিটি’, ‘শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা’ এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : বৈশ্বিক প্রবণতা, প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইভজি, সংযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্পখাতের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।

তৈরি পোশাকশিল্প, বন্দর, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় ফাইভজি, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংযোগসেবার বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি ক্লাউড কম্পিউটিং, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরেন বক্তারা।

সম্মেলনের প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট শিক্ষা, ডিজিটাল বিদ্যুৎব্যবস্থা, স্মার্টফোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সমাধান প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া ডিজিটাল বিদ্যুৎব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ পাঁচ শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।




জমি কিনতে যাওয়ার পথে অটোরিকশা থামিয়ে নারীর ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই

চট্টগ্রামের রাউজানে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক নারীর কাছ থেকে জমি কেনার ২৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কদলপুর নতুনহাট সংযোগ সড়কের বড়ুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জমি নিবন্ধন করতে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার পথে শামসুন নাহার নামের ওই নারী ছিনতাইয়ের শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দুটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা ৮ থেকে ১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে। ওই অটোরিকশায় ছিলেন কদলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শামসুন নাহার। তার ব্যাগে জমি কেনার জন্য রাখা নগদ ২৫ লাখ টাকা ছিল।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার শামসুন নাহার জানান, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেল তাদের অটোরিকশার সামনে এসে পথ রোধ করে। পাশেই আরেকটি মোটরসাইকেল থেকে দুজন নেমে অটোরিকশার চাবি ও চালকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। চালক বাধা দিলে একজন কোমর থেকে পিস্তল বের করেন। এরপর আরেকটি মোটরসাইকেল থেকে আরও দুজন এসে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে তার টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

শামসুন নাহার বলেন, ‘আমি তাদের বলছিলাম, আমাকে মেরে ফেল, তবুও আমার টাকা নিস না। কিন্তু আমার টাকাগুলো নিয়ে গেছে তারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছোট ছেলের অনেক কষ্টের জমানো টাকা। তার টাকা দিয়ে জমি কিনতে যাচ্ছিলাম। এখন আমি কী করব, জানি না।’

এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাউজানজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। রাউজানের মতো নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশের আর কোনো উপজেলায় নেই। এত হত্যাকাণ্ড কোথাও হয়নি। তিনি অবিলম্বে প্রশাসনের কাছে রাউজানের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আমরা জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর কদলপুরের ব্যবসায়ী এনাম হোসেন চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। মদুনাঘাট সেতুর সামনে জিয়াবাজার এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এনাম হোসেন চৌধুরীর অভিযোগ- ইয়াবা ব্যবসায়ী বরকত আলী তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে গ্রামের বাড়ি থেকে শহরে ফেরার পথে মদুনাঘাট সেতু এলাকায় পৌঁছালে বরকত ও মামুনের নেতৃত্বে তার চাচার ওপর এ হামলা চালানো হয়।

উল্লেখ্য, রাউজানে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত এ উপজেলায় ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।




ঋণ প্রতিশ্রুতি বেড়ে ১২৭ কোটি ডলার, অর্থছাড়ের শীর্ষে আইডিএ-এডিবি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেড়ে ১২৭ দশমিক ৩ কোটি ডলার হয়েছে।

একই সময়ে গত বছর যা ছিল মাত্র ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সেই সঙ্গে এডিবি ও আইডিএ অর্থছাড়ের শীর্ষে রয়েছে বলেও জানিয়েছে ইআরডি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থায়নের উদ্যোগ রয়েছে। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ধরনের অর্থায়ন বাস্তবায়ন হলে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে।

ইআরডি জানায়, এই সময়ে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, কর্ডোনেশন অ্যান্ড নরডিকের কাছ থেকে নতুন ঋণ-অনুদান প্রতিশ্রুতি নেই। তবে জাপান ৩ দশমিক ৫১ মিলিয়ন, জাতিসংঘ ১৪ মিলিয়ন, ইউরোপ ৬৬ দশমিক ২৫ মিলিয়ন, এশীয়া ৪১ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুদান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে নতুন বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে পাওয়া নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণ ছিল ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং অনুদান ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের বিদেশি সহায়তা ছাড় হয়েছে। সব থেকে বেশি ঋণ অনুদান ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক ১৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া এডিবি ১৬২, ভারত ১০৪, চীন ১৪, রাশিয়া ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ছাড় হওয়া সহায়তার মধ্যে প্রকল্প সহায়তা ছিল ৬৫ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অনুদান ছিল ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এছাড়া খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ডলারের অনুদান ছাড় হয়েছে।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

ইআরডির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিদেশি ঋণের আসল হিসেবে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ বাবদ ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একই সময়ে সুদ পরিশোধের পরিমাণ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।




ইসলামী ব্যাংকের ৬৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবিলি রোড শাখা থেকে আরামিট সিমেন্ট পিএলসির নামে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আসামিদের মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ও আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমিলা জামান, প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা এবং ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের বহদ্দারহাট শাখায় আরামিট সিমেন্টের নামে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ১৫ মে হিসাবটি জুবিলি রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়।

এরপর ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর আরামিট সিমেন্টের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ওই শাখায় ৫০০ কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন ঋণের আবেদন করেন। একই বছরের ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির ৫১তম সভায় ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটি তা অনুমোদন করে।

দুদকের অভিযোগ, ঋণের অর্থ বিতরণের জন্য ভুয়া বাই-মুরাবাহা ডিল তৈরি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আরামিট সিমেন্টের হিসাব বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। তার নামে ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির নামে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে পণ্য সরবরাহ না করেই সরবরাহের ভুয়া তথ্য ব্যাংকে দাখিল করা হয়। এসব নথির ভিত্তিতে বাই-মুরাবাহা ডিল অনুমোদন ও ঋণের অর্থ বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, আরামিট সিমেন্টের নামে মোট ৫৪টি বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে ২০৫ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণের অর্থ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।

দুদকের অভিযোগ, ঋণের অর্থ আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আরামিট সিমেন্টের চিফ ফাইন্যান্সশিয়াল অফিসার ও ইউসিবির সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ্ আলম, আরামিট সিমেন্ট পিএলসির এজিএম একেএম মারুফ, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ও আরামিটের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দীন, মোহাম্মদ আখতার হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল হক, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আবদুল কাদের, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আবদুল করিম, মো. শহিদুল্লাহ, এফএভিপি মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ মহসীন আলী ও এসপিও রিদওয়ানুল হক।

সাইফুজ্জামান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদকের একটি যৌথ দল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ‍শুরু করে দুদক। অর্থপাচার, অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক।

এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে তার ৩৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং ২৩টি কোম্পানির শেয়ার জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। একই অনুসন্ধানের বিভিন্ন পর্যায়ে তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও ব্যাংক হিসাব ও বিও হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে সাইফুজ্জামানের যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেয় আদালত।

দুদকের হিসাবে, এসব সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কোম্পানিতে তার বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। আর ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।

দুদকের আবেদনে এসব সম্পদের মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড দেখানো হয়েছে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ২৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা এক মামলায় চলতি বছরের মার্চে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় চট্টগ্রামের একটি আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।




পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার টাকা করার দাবি

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে চারটি জোটের ৩৫টি শ্রমিক ফেডারেশন। একই সঙ্গে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে তিন বছরের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং সেখানে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিকে সদস্য করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জোট ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) শীর্ষ নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের নেতা খালেকুজ্জামান লিপন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন নাহিদুল ইসলাম নয়ন। সূচনা বক্তব্য দেন আবুল হোসেন।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে শ্রমিক নেতারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদেও এ বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৪১ ধারায় মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ১১টি বিষয় বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মান, উৎপাদন খরচ, উৎপাদনশীলতা, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য, মুদ্রাস্ফীতি, কাজের ধরন ও ঝুঁকি, কাজের মান, ব্যবসায়িক সক্ষমতা, দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়। এসব মানদণ্ড বিশ্লেষণ করেই ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান নেতারা।

তারা বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮১ শতাংশ।

শ্রমিক নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৩১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছিল ২৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। গত ১০ বছরে এ খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।

তাদের দাবি, এ সময়ে তৈরি পোশাক কারখানা ও শ্রমিকের সংখ্যা কমলেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। ফলে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাতের উৎপাদনে সরাসরি যুক্ত শ্রমিকদের মজুরি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার হিসাব, মাথাপিছু আয় এবং দারিদ্র্যসীমার ওপরে জীবনযাপনের ব্যয় বিবেচনায় নিলে একজন শ্রমিকের পরিবারের মাসিক ব্যয় অনেক বেশি দাঁড়ায়। বিভিন্ন হিসাবে এ ব্যয় ৫৭ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।

নেতারা বলেন, একটি পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ব্যক্তি যদি পরিবারের মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশ বহন করেন, তাহলেও তার মাসিক আয় ৩৭ থেকে ৩৮ হাজার টাকা হওয়া প্রয়োজন। অথচ বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন, বিনোদন, আকস্মিক অসুস্থতা, ঈদ-পূজার খরচ এবং বাড়িতে যাতায়াতের ব্যয় এসব হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি।

নেতারা আরও বলেন, অনেক অর্থনীতিবিদ পরিবারের খাদ্য ব্যয় ও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় সমান ধরে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের হিসাব করেন। চার সদস্যের একটি পরিবারের খাবারের খরচ ৩৫ হাজার ৮০ টাকা হলে মোট মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এ বাস্তবতায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণ করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা সরকারি বেতনকাঠামো, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের বিশেষ জরিপ, বাজারদর, জীবনযাত্রার ব্যয়, মাথাপিছু আয়, উৎপাদনশীলতা, মূল্য সংযোজন, প্রতিযোগী দেশগুলোর ন্যূনতম মজুরি এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, মালিকদের আর্থিক সক্ষমতা ও শিল্পের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পোশাকশ্রমিকদের সহকারী অপারেটর পদে বা চাকরির শুরুতে ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ জন্য দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠন এবং সেখানে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিকে মনোনয়ন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে নঈমুল আহসান জুয়েল, লাভলী ইয়াসমীন, বাচ্চু মিয়া, রফিকুল ইসলাম সুজন, আসাদ চৌধুরী, সালেহা ইসলাম সান্ত্বনা, সুমাইয়া ইসলাম, শামীমা আক্তার ও বাপ্পী দেব বর্মণসহ চারটি জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী : তারো আসো

জাপানে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে সহযোগিতা চেয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারো আসোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের নেতৃত্বে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে অব্যাহত অবদানের জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ২০০৬ সালে জাপান সফরকালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন জাপানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশই তরুণ। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয়পক্ষ।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে তার সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে তার সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোও প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ সময় জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাপানের সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি সহ দেশটির সংসদের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা৷




২৪ দিনে ২৪ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স এলো দেশে

চলতি মাস অক্টোবরের ২৪ দিনে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ (২.১৩ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ২৪ হাজার ২৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, অক্টোবর মাসের ২৪ দিনে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের মাসের একই সময়ে এসেছিল ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের চেয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি এসেছে এখন পর্যন্ত।

এদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১০৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।

এর আগে সদ্য বিদায় সেপ্টেম্বর মাসের পুরো সময়ে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থবছরের পরের মাস আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।




বিদেশিদের ডলারের ১৫% রাখতে পারবে হোটেল-রেস্তোরাঁ

বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া ডলারের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের হিসাবে রাখতে পারবে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিং মলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বাকি ৮৫ শতাংশ অর্থ টাকায় ভাঙিয়ে নিতে হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) এ সুযোগ দিয়ে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলার অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগ দিতে পারবে। বিদেশি পর্যটকদের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রির বিপরীতে আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড এবং অনুমোদিত অন্যান্য পেমেন্ট উপকরণের মাধ্যমে পাওয়া অর্থের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংরক্ষিত ডলার দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ বৈদেশিক লেনদেনের খরচ মেটাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমেও এসব খরচ পরিশোধ করা যাবে।

এ ছাড়া, বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ড ও অনুমোদিত অন্যান্য পেমেন্ট উপকরণের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এডি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে বিদেশি পর্যটকদের সেবা দেওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ বৈধ প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে। এতে আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎসাহিত হবে।




ইউরোপে ডেনিম রফতানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেনিম বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রফতানির মূল্য কমেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য গেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম।

তবে আগস্টে রফতানিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ডেনিম রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। এতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) সংকলিত ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো মোট ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩০৯ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাজারটির মোট আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

শীর্ষে বাংলাদেশ, কমেছে বাজার হিস্যা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও প্রথম। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর মোট ডেনিম আমদানির ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এ সময়ে বাংলাদেশ রফতানি করেছে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য।

তবে গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা ছিল ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ রফতানি আয় কমার পাশাপাশি বাজারে বাংলাদেশের অংশও কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশের পর ইইউর ডেনিম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে পাকিস্তান থেকে ৫২ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ইউরো এবং তুরস্ক থেকে ৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে ইইউ।

বাংলাদেশের রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক ডেনিম আমদানি হ্রাসের তুলনায় বেশি। ফলে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখলেও বাজারে নিজেদের অংশ বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

আগস্টে বাড়লো রফতানি

বছরের প্রথম সাত মাসে দুর্বল অবস্থানের পর আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রফতানিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজারের কাছাকাছি—সুনির্দিষ্ট হিসাবে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম রফতানি হয়েছে। আগের বছরের আগস্টের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ।

আগস্টে ইইউর মোট ডেনিম আমদানিও বেড়েছে। এ মাসে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার ইউরো, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ আগস্টে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক বাজারের প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি ছিল। ওই মাসে ইইউর ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে এ হার ছিল ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগস্টে ইইউর ডেনিম আমদানিতে যে অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার প্রায় ৩৫ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে। এ প্রবৃদ্ধির ফলে জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের রফতানি আয়ে যে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ পতন ছিল, আট মাস শেষে তা কমে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

তুরস্ক বাজার হারালো, এগিয়েছে চীন ও মিসর

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্কের রফতানি কমে যাওয়ায় বাজারটিতে উল্লেখযোগ্য শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে তুরস্ক থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি কমেছে ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ। অর্থের হিসাবে কমেছে প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক ডেনিম আমদানি কমার পেছনে তুরস্কের রফতানি হ্রাস বড় ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে মরক্কো থেকে আমদানি কমেছে ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। পাকিস্তানের কমেছে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং তিউনিসিয়ার ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এর বিপরীতে কয়েকটি দেশের ডেনিম রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মিসরের রফতানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, চীনের ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

পরিমাণগত হিসাবে মিসরের রফতানি বেড়েছে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, চীনের ৩ কোটি ইউরো এবং ভিয়েতনামের ১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো।

অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রচলিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের কয়েকটি দেশ ইউরোপের বাজারে পিছিয়ে পড়লেও চীন, মিসর ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো রফতানি বাড়াতে পেরেছে। তবে তুরস্কের রফতানি কমে যাওয়ায় যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশ তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।

বাজার ধরে রাখতে দ্রুত সরবরাহে গুরুত্ব

ইউরোপের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান এখনো শক্তিশালী। আগস্টের প্রবৃদ্ধিও রফতানির সম্ভাবনা সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে শুধু কম দামে পণ্য সরবরাহ করলেই এ বাজারে অবস্থান ধরে রাখা যাবে না।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরোপের ক্রেতাদের নতুন ক্রয়াদেশ পেতে দ্রুত পণ্য সরবরাহ, ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন এবং অল্প সময়ে নকশা ও পণ্যে পরিবর্তন আনার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি সরবরাহকারী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রফতানির গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত ও নমনীয়ভাবে পণ্য সরবরাহ করা। আগস্টের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।




উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হলো ভূমিমন্ত্রীকে

উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুকে ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক ডিকেন বলেন, মন্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী থেকে বিএমইউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানেই তার চিকিৎসা করা হবে।

এর আগে, বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মিজানুর রহমান মিনুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সকাল থেকে হাসপাতালের কেবিনে তার চিকিৎসা চলছিল। রক্তশূন্যতা হওয়ায় তাকে একাধিক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।

তিনি নিজের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

এদিকে, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা ও চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে এক নজর দেখতে হাসপাতালে ভিড় করেন। সবার কাছেই তিনি নিজের সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।

সূত্র : বাসস




কমলো সোনার দাম

দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯ টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা।

​সোনার দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা।




ব্যবসার লাইসেন্স অনলাইনে, মেয়াদ ৩-৫ বছর: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমানোর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহী করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন লাইসেন্স সেবা সম্পূর্ণ অনলাইনে পাওয়া এবং সেগুলোর মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন-পাঁচ বছর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ইআরএফ এর যৌথভাবে আয়োজিত ‌‌`Bangladesh’s LDC Graduation Trajectory: Critical Challenges and Exploring Policy Options’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, সহজ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া এবং বিরোধের স্বচ্ছ আইনি সমাধান প্রয়োজন। দেশে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং রপ্তানির জন্য বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার—দুটিই নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যবসা শুরুর দীর্ঘসূত্রতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব ও প্রাথমিক ছাড়পত্র নেওয়ার পর আমদানি নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে যন্ত্রপাতির ঋণপত্র খোলা পর্যন্ত গড়ে ৩৫৫ দিন লেগে যায়। এত সময় ব্যয় হলে উদ্যোক্তার উদ্যম ধরে রাখা কঠিন।
বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতি বদলাতে একক অনলাইন পোর্টাল থেকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও ফি পরিশোধ করে দেশ-বিদেশের যে কোনো স্থান থেকে লাইসেন্স নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাছে ফি পৌঁছে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) সেবা পুরোপুরি অনলাইনে আনা এবং বিভিন্ন লাইসেন্সের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের বদলে সমন্বিত পরিদর্শন চালুর কথাও বলেন তিনি।

এসব সংস্কারের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে লাইসেন্স ও অনুমতির জন্য উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় ব্যয়ের পরিস্থিতি থেকে বের করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

জ্বালানি সংকটকে নতুন বিনিয়োগের বড় বাধা উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরবরাহ বাড়াতে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাসকূপ খননে কাজ চলছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতেও সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এলএনজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুতব্যবস্থা না থাকায় আন্তর্জাতিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে বাংলাদেশ চাপে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য কৌশলগত মজুত ও সংরক্ষণসক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো, ব্যবসা সহজ করা এবং বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার তৈরির সমন্বিত লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএসএম মঈনুল হকের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মোস্তফা আবিদ খান।




প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে তারা কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন।’

শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো সরকার ও সমাজের দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের অংশ। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে অতীতে যেসব ঘাটতি ছিল, তা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।’

তিনি এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগাযোগের অসুবিধা দূর করতে হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষা জানা ব্যক্তির ব্যবস্থা করার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একইভাবে প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সঠিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরিতে তাদের প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তারেক রহমান।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘গণপরিবহনে তাদের যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের জন্য পিংক বাসসেবা আরও উপযোগী করার পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশ ও চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি সাংবিধানিক বিবেচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশুবিষয়ক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতে অগ্রগতি হবে।

সরকার সর্বাত্মকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব সমস্যা অনুধাবন করে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে স্বাবলম্বী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

এ সময় মো. মহসিন নামের এক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ক্যাপ উপহার এনেছেন জানালে মঞ্চ থেকে নেমে এসে তা গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এ সময় বিদেশে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তার দলকে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত বক্তাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।




মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের দুর্ভোগ কমাবে ফ্যামিলি কার্ড: তিতুমীর

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী চাপে থাকলেও সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার পাশাপাশি নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আজ ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

 

ড. তিতুমীর বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার এসব চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ যতটা সম্ভব সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এ

ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় দুর্বলতা ছিল উপকারভোগী বাছাইয়ে ত্রুটি। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তাদের অনেকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। অন্যদিকে, যাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা নয়, তারাও তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়।

তিনি বলেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে। সরকারের এসব কর্মসূচি কোনো কল্পনাপ্রসূত পরিকল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কারও জরুরি। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা। এ লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা কাজের ফলাফলের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে।

আইএমএফের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন পূর্বাভাসের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শর্ত ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সেই প্রেক্ষাপটেও দেখতে হবে। অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সংস্কারের মাধ্যমে তা দূর করতে চায়।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন। আমানত উত্তোলনের পাশাপাশি অনেকেই অর্থ জমা রাখছেন, যা আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাও আর্থিক খাতে পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সংকটের কারণে সৃষ্ট বাড়তি ব্যয়ের হিসাব করলেই অর্থনীতির ওপর এর পূর্ণ প্রভাব বোঝা যাবে না। কৃষকদের ওপর চাপ কমাতে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের ভূমিকা না থাকলেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরকার এর প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করছে।

তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করা।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও আর্থিক খাতের সংস্কার সভার আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ সভা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন ও নিজস্ব অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।




যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: এনবিআরের ২ কর্মী বরখাস্ত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে পৃথক পৃথক অফিস আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে।

তারা হলেন এনবিআরের কেন্দ্রীয় কর জরীপ অঞ্চলের অধীনে কর্মরত অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটে কর্মরত অফিস সহায়ক মো. নুর মোহাম্মদ।

গতকাল শুক্রবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেফতারের কথা বলা হয়। সেখানে এই দুইজন এনবিআরের কর্মী ছিলেন।

গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে।




দেশে অফশোর ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড চালু করল পূবালী ব্যাংক ও মাস্টারকার্ড

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন মাইলফলক হিসেবে দেশের প্রথম অফশোর ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড চালু করেছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি ও মাস্টারকার্ড।

পূবালী ব্যাংক মাস্টারকার্ড অফশোর ব্যাংকিং ওয়ার্ল্ড ডেবিট কার্ড-এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) ও বিদেশি নাগরিকেরা এখন তাদের অফশোর ব্যাংকিং হিসাবের অর্থ আরও সহজ, নিরাপদ ও সুবিধাজনকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে, অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় আন্তর্জাতিক লেনদেন, কেনাকাটা ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধাও পাবেন।

বাংলাদেশে অফশোর ব্যাংকিং সেবায় প্রথমবারের মতো এমন একটি আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড যুক্ত হওয়ায়, গ্রাহকেরা তাদের অফশোর হিসাবের অর্থ সরাসরি দৈনন্দিন আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে অফশোর ব্যাংকিং সেবা আরও ডিজিটাল, ব্যবহারবান্ধব ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের পরিবর্তিত আর্থিক চাহিদা পূরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

পূবালী ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে চালু করা হয়েছে ওয়ার্ল্ড মাস্টারকার্ড ডেবিট কার্ড। এটি মার্কিন ডলারসহ অন্যান্য অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় পরিচালিত অফশোর সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। কার্ডটি দিয়ে নিরাপদে অনলাইন কেনাকাটা, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনে পেমেন্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক লেনদেন করা যাবে।

কার্ডহোল্ডাররা আন্তর্জাতিক ভ্রমণেও বিশেষ সুবিধা পাবেন। মাস্টারকার্ডের ‘লাউঞ্জ কী’ প্রোগ্রামের আওতায় একজন অতিথিসহ বছরে তিনবার বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন।

এ ছাড়া ঢাকার বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জে একজন অতিথিসহ বছরে দুবার বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর লাউঞ্জে সারা বছর একজন অতিথিসহ বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।

কার্ডটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে আমরা অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছি। বাংলাদেশের প্রথম অফশোর ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড চালু হওয়া এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পূবালী ব্যাংক মাস্টারকার্ড, অফশোর ব্যাংকিং ওয়ার্ল্ড ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকেরা বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা, সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। এর ফলে, অফশোর ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব হবে।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, ভ্রমণ ও আর্থিক যোগাযোগ ক্রমেই আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে গ্রাহকেরাও এমন ব্যাংকিং সেবা চান, যার মাধ্যমে সহজে এক দেশ থেকে অন্য দেশে লেনদেন করা যায়। বাংলাদেশের প্রথম অফশোর ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড চালু করতে সহযোগিতা করা আরও সহজ, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার প্রতি মাস্টারকার্ডের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। মাস্টারকার্ডের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, আধুনিক প্রযুক্তি ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্ডহোল্ডাররা বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন, আরও সহজে তাদের অর্থ ব্যবহার ও পরিচালনা করতে পারবেন।

পূবালী ব্যাংক ও মাস্টারকার্ডের এই যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের অফশোর ব্যাংকিং সেবায় কার্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক লেনদেনের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য আধুনিক, সহজ ও বিশ্বব্যাপী ব্যবহারযোগ্য ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে নতুন মাত্রা যোগ হলো।




৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি

 

চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১-এ দ্বিতীয় উৎপাদন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৭ দশমিক ০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।

এ লক্ষ্যে বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকায় বেপজা কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) একটি ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড নামের নতুন প্রকল্পটি বেপজার প্রতি প্রতিষ্ঠানটির অব্যাহত আস্থা এবং বেপজার বিনিয়োগবান্ধব সেবা ও সহযোগিতার প্রতিফলন। নতুন এই কারখানায় ফুটওয়্যার এক্সেসরিজ, ব্যাগ ও লাগেজ কম্পোনেন্টস, পেপার প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্রিন্টেড ম্যাটেরিয়ালসসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্য তৈরি করা হবে, যেখানে প্রায় ২০০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ঝ্যাং ইউগিউ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন

কেপিএসটি বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ এ সাত হাজার ২০০ বর্গমিটার জমিতে কারখানা নির্মাণ করবে। নতুন কারখানাটি বার্ষিক ১১ মিলিয়ন জোড়া ফুটওয়্যার অ্যাক্সেসরিজ, ২৪ হাজার ঘনমিটার ফোম, ব্যাগ ও লাগেজ কম্পোনেন্টস, দুই লাখ পিস কাটিং বোর্ড এবং দুই লাখ ৫০ হাজার পিস কাটিং ডাইস/মোল্ড তৈরি করবে। এখানে উৎপাদিত পণ্য ভারত ও কম্বোডিয়ার জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী জুতা কারখানাগুলোতে সরবরাহ করা হবে।

একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি স্যুজ (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ থেকে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করা প্রথম প্রতিষ্ঠান। তারা ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদন চালু করেছে। একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দ্বিতীয় প্রকল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বেপজার প্রতি বিনিয়োগকারীর আস্থার প্রতিফলন।

এ বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বেপজার ওপর অব্যাহত আস্থা রাখার জন্য কেপিএসটিকে ধন্যবাদ জানান।

কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ঝ্যাং ইউগিউ বলেন, ‘আমাদের প্রথম কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা ও ক্রয়াদেশ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা নতুন আরেকটি কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সার্বিক বিনিয়োগ পরিবেশ বিবেচনায় আমরা এ সম্প্রসারণের জন্য বেপজাকে বেছে নিয়েছি। আমরা আশাবাদী, এ নতুন উদ্যোগ আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে আরও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।’ তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনায় ধারাবাহিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বেপজাকে ধন্যবাদ জানান।

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে পরবর্তীতে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ নামে দুটি পৃথক জোনে বিভক্ত করা হয়। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১-এ ১৪টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে এবং ৩৩টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন। এ পর্যন্ত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ থেকে মোট রপ্তানি হয়েছে ৬৮ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য, মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৯৮ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কর্মসংস্থান হয়েছে চার হাজার ৪২৮ জন বাংলাদেশির।




সোনালী ব্যাংকের সব সেবা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে

কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের (সিবিএস) আপগ্রেডেশন কার্যক্রমের কারণে টানা দুই দিন বা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা। এ সময়ে ব্যাংকটির নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটবে। আগামী ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টা থেকে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) রাত ১১টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ব্যাংকটির কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের ডেটাবেজ সংস্করণ উন্নীত করার কাজ করা হবে। এ জন্য সফটওয়্যারের ডেটাবেজ সংস্করণ ‘ওরাকল ১১জি’ থেকে ‘ওরাকল ১৯সি’-তে উন্নীত করা হবে।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় আপগ্রেডেশন কার্যক্রম শুরু হবে। শনিবার রাত ১১টায় এ কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় ব্যাংকটির সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম ও সেবা বন্ধ থাকবে।

ফলে এ সময়ে ব্যাংকিং সেবা নিতে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। এ কারণে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাজ আগেই সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




থাইল্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি সমুদ্রপথ চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ও থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে দুই দেশ। এ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিটিপর্ন চিরাসাওয়াদির সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ জানান, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেই নয়, বরং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতের আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়িয়ে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমাতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। পাশাপাশি বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো এবং দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেল্লি। এসময় বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে এমওইউ স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিমান চলাচল, এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগ, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) সুবিধা উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইতালি সরকারের ঢাকা–রোম ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির আগ্রহের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইউরোপে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনায় নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের পরে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ইতালীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল হাব তৈরিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে ইতালির সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও উদ্বোধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোতে যাতায়াত আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ ‘রেড জোন’ গঠনের বিষয়টি উঠে আসে, যার উদ্দেশ্য হবে পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও উন্নত পর্যটন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশে ইতালীয় পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে পর্যটন বিনিময় সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। পর্যটন আকর্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে এ সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে মত প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিমান চলাচল, এভিয়েশন বিনিয়োগ এবং পর্যটন উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।




এলপিজি নিয়ে কারসাজি করলে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউ যদি বাজার কারসাজি, বাজারব্যবস্থার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কোনো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন, সরকার তা কঠোর হাতে দমন করবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকার সহ্য করবে না উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কারণ, এলপিজির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত।

কবে নাগাদ এলপিজি সমস্যার সমাধান হবে, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলপিজি বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য নয়, এটি আমদানি নির্ভর। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা যেসব উৎস থেকে সাধারণত এলপিজি আমদানি করেন, সেসব অঞ্চলে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ কারণে আমদানিকারকদেরও বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি না হওয়া, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং আগামী বছরজুড়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশল প্রণয়ন করতেই আজকে বৈঠক হয়েছে।

এর সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের ধর্মঘটের হুমকির বিষয়টি যুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। বিইআরসির সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যকে কেন্দ্র করে দেশকে জিম্মি করার কোনো প্রচেষ্টা সরকার মেনে নেবে না বলেও এসময় সতর্ক করে দেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলার মাধ্যমে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। এলপিজি ডিলাররা তাদের কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরে এলপিজির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে সেই কৌশল বিস্তারিত জানানোর সময় এখনো আসেনি।

তিনি বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হতে পারে। লাভ-লোকসানের হিসাব কিংবা কমিশন কমবেশি হওয়া নিয়ে বিরোধও দেখা দিতে পারে। তবে এ ধরনের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধৈর্যের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কথা শুনতে এবং তাদের সমস্যার সমাধানে প্রস্তুত রয়েছে।




বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: তিতুমীর

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় (ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট)। এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে সরকার। এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব। তবে এ সংকট মোকাবিলা ও সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা জানান।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছে। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে এসব সহযোগিতার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সহযোগিতার বিষয়ে তিতুমীর বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ তেমন কিছু পায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দু’দেশের সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশিত। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষও একমত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ঋণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, সহায়তার ধরন কিংবা পরিমাণ সম্পর্কে বৈঠক-পরবর্তী বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এদিকে, আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের তৃতীয় দিনে গ্লোবাল পলিসি এজেন্ডা প্রেস ব্রিফিংয়ে আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থাটির কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে সহায়তা তিন গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারির পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় সংকটের মুখে পড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি নতুন করে সংকট তৈরি করেছে জ্বালানির অনিশ্চয়তা। অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আগেই রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি।

এ ছাড়া জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সুনির্দিষ্ট ও সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইএমএফ প্রধান।




চামড়াশিল্পের সংকট কাটাতে আর সময় নষ্ট করতে চাই না : বিসিক চেয়ারম্যান

বিগত সরকারের আমলে দেশের চামড়াশিল্পের অধঃপতন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেছেন, সরকার চামড়াশিল্পকে আবার জাগিয়ে তুলতে চায়। এ খাতের সমস্যা সমাধানে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এখন আর সময় নষ্ট করতে চায় না বিসিক।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিসিক আয়োজিত জব অ্যান্ড ক্যারিয়ার ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, দেশে শিল্পায়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে বিসিক কাজ করছে। সারা দেশে সংস্থাটির ৮৪টি শিল্পনগরী রয়েছে। এসব শিল্পনগরীতে উদ্যোক্তাদের কারখানা স্থাপনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ বাড়াতে প্রতি মাসে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে বড় পরিসরে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে বেনজীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ একসময় কৃষিনির্ভর দেশ ছিল। ঘরে ঘরে কুটিরশিল্প গড়ে উঠেছিল। ১৯৫৭ সালে ইপসিক প্রতিষ্ঠিত হয়, যা স্বাধীনতার পর বিসিকে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিল্পায়নে ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, আগে দেশে কম দামের শ্রমিক ও গ্যাসের সুবিধা ছিল। এখন গ্যাসের সংকট রয়েছে। তাই নিজস্ব কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন এবং দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। বিসিকও দেশীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিসিক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ঢাকার চামড়া, প্লাস্টিক ও মুদ্রণশিল্পের কারখানাগুলো বিসিকের শিল্প পার্কে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম নগরকে আরও বাসযোগ্য ও যানজটমুক্ত করতে নগরের বিভিন্ন কারখানা পরিকল্পিত শিল্পনগরে স্থানান্তর করা যেতে পারে।

চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিসিক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখতে চায়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্টলে চাকরিপ্রার্থীরা জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগপত্রও পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, দেশে বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে বিসিকের এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিসিকও কাজ করছে। তরুণদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরিতে তিনি নিজ অবস্থান থেকে বিসিককে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বেলায়েত হোসেন বলেন, বিগত সরকারের আমলে একটি নান্দনিক শহর জলাবদ্ধতার শহরে পরিণত হয়েছে। আগ্রাবাদ এলাকায় ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেরও বড় অংশ হকারদের দখলে চলে গেছে। সড়কের দুই পাশে গাড়ি রাখার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যানজটের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। নগরের এসব সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পের বিকাশে সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় প্রয়োজন। বিসিকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও চাকরি মেলায় চিটাগং চেম্বার যুক্ত থাকতে চায়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনা করে। দেশের অর্থনীতিতে এ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বেকারত্ব বাড়তে থাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।

বিসিকের পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বিসিক একটি সুপ্রাচীন প্রতিষ্ঠান। দেশের শিল্পায়নে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎমিলা ফরিদ বলেন, জব ফেয়ার শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করছে। চাকরিপ্রার্থীরা এ আয়োজনের মাধ্যমে চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে জানতে পারছেন। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। মেলা থেকে পাওয়া মতামত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছানো গেলে পাঠ্যক্রম যুগোপযোগী করা এবং দক্ষতার ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

বিসিক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক খালেদ মাহমুদ বলেন, বিসিকের মূল কাজ উদ্যোক্তা তৈরি করা। এ মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের সাফল্য দেখে তরুণরা চাকরির পাশাপাশি নিজের উদ্যোগ গড়ে তোলার ব্যাপারেও উৎসাহিত হবেন। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলে আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক এস এম আলকাদেরী।




দুবাই থেকে আসা নিষিদ্ধ প্রসাধনী ও ই-সিগারেটের চালান জব্দ

দুবাই থেকে আসা এক টন আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি প্রসাধনী ও ই-সিগারেটের লিকুইড জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর ফকিরহাটের বৈদেশিক ডাকঘর থেকে চালানটি জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, চালানটিতে বিপুল পরিমাণ ত্বক ফর্সাকারী বিউটি ক্রিম ও ই-সিগারেটের লিকুইড রয়েছে, যা দেশে আমদানি নিষিদ্ধ। আকাশপথে পণ্যগুলো দেশে আসার পর রেলপথে চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল। এরপর বৈদেশিক ডাকঘর থেকে খালাসের আগেই তা জব্দ করা হয়।

তবে চালানটি কোন বিমানবন্দর হয়ে এসেছে বা এর আমদানিকারক কে—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি কাস্টম হাউসের এই কর্মকর্তা।




১১ দিনে এলো ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনে দেশে প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১১৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা দেশীয় মুদ্রায় ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত রবিবার প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৭৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৯৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাস আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।




সরকারি উদ্যোগে বাড়বে ইলিশের উৎপাদন

জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, জাটকা নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান জোরদার, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, গবেষণা বৃদ্ধি, সরকারিভাবে জেলেদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ)-এর পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

পাশাপাশি ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত ও নাব্যতা বজায় রাখা, ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ, মোহনা ও উপকূলীয় পরিবেশের সুরক্ষা, বৈজ্ঞানিকভাবে মৎস্য আহরণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন,  এসবের পাশাপাশি জেলেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তাদের জীবিকা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলেই বাড়বে ইলিশের উৎপাদন।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের মতো বিভিন্ন প্রাণিজ ও উদ্ভিদ উৎপাদনে উত্থান-পতন হতে পারে। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। এতে আইনের প্রয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব শিগ্গিরই প্রকল্পটি চালু হবে। একই সাথে সরকার এবার ভিজিএফ কার্ড বা জেলেদের জন্য বরাদ্দের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।

ইলিশ গবেষকরা বলছেন, ভারতের গুজরাটের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণে আরও গবেষণা এবং বাংলাদেশ-গুজরাটের নদী ও মোহনা পরিবেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণও প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক প্রজনন ও চলাচলের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে নানান উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে’র মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, খুব শিগগিরই নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হলে এর কাজ শুরু হবে। ‘মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণে এবার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দেওয়া এবং ভিজিএফ এর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ভিজিএফ সুবিধা প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৬ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার করা হয়েছে।

চলতি বছরও ইলিশ আহরণ কমের দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের উৎপাদন এবারও নিচের দিকে। তবে সরকারি নানা উদ্যোগের কারণে আগামী বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবে।

তিনি বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো মূল্যেই হোক নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ করতে হবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদ রানা ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ দায়ী নয় বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জাটকা আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা, ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার, নদীর নাব্য হ্রাস, পানি দূষণ, পানি প্রবাহের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং সমুদ্রে অতিরিক্ত মাছ ধরার চাপ সব মিলিয়েই ইলিশসম্পদের ওপর চাপ তৈরি করছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরাতে তিনি বলেন, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫.২৯ লাখ টন, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে প্রায় ৫ লাখ টন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম, কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়ার পর সর্বশেষ হিসাবে তা কমে যাওয়ায় ইলিশসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সরকারি নথিতে শিল্প ট্রলারের জন্য ৪০ মিটার গভীরতার বাইরে মাছ ধরার বিধান রয়েছে উল্লখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় নির্ধারিত গভীরতা অঞ্চলের ভেতরে ট্রলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল বা অনুপযুক্ত জাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মাছ ধরা পড়তে পারে। এতে ইলিশের ছোট বয়সের মাছসহ অন্যান্য মাছও প্রজননক্ষম হওয়ার আগেই আহরিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মা ইলিশ রক্ষায় কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন ড. মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একটি প্রজননক্ষম মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে তার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক ইলিশ জন্ম নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় টহল, নৌযান পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। নদীতে পানি দূষণ, বর্জ্য ফেলা, নাব্য হ্রাস এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

তার মতে, কোথায় ইলিশ বেশি ডিম ছাড়ছে, কোন সময় বেশি আসে এবং কোন পরিবেশগত পরিবর্তন তার প্রজননে প্রভাব ফেলছে এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা উচিত।

স্যাটেলাইট ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের বিচরণ, প্রজনন ও নার্সারি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, নদীর প্রবাহ, ক্লোরোফিল ও অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ইলিশের গতিবিধি ও সম্ভাব্য সমাগমের পূর্বাভাস দেয়া, নদী ও মোহনায় ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) সেন্সরের মাধ্যমে পানির গুণাগুণ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, ডিএনএ ও হাইড্রোএকাউট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের উপস্থিতি ও মজুত নির্ণয় এবং ড্রোন ও এআই-ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

পাশাপাশি জিপিএস-ভিত্তিক নৌযান পর্যবেক্ষণ, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় স্মার্ট ফিশিং গিয়ার, ডিজিটাল ক্যাচ ডেটাবেজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করা হলে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। এসব প্রযুক্তিকে সমন্বিত করে একটি ‘স্মার্ট হিলসা ম্যানেজমেন্ট’ গড়ে তুলতে পারলে ইলিশের প্রাকৃতিক মজুত সংরক্ষণ, অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের নর্মদা নদীর মোহনা ও ভরুচ অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে, যা বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। গুজরাটে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অতিবৃষ্টির ফলে নর্মদা নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধি, মোহনা অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিবর্তন, ইলিশের চলাচল অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মৌসুমি মাছের প্রাপ্যতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গুজরাটের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পদ্মা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদী অববাহিকার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ এবং মোহনার পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন ড. মাসুদ রানা।

বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন দুই বছর ধরে কমছে। ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টন ইলিশ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে উত্থান শুরু হয়। এরপর প্রতি অর্থবছরে উৎপাদন ১০ থেকে ২০ হাজার টন করে বাড়ে। গত দু’বছর ধরে উৎপাদন কমের দিকে। দেশে টেকসই উৎপাদন প্রতিবছর সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টন ইলিশ আহরণ করলে সেটি টেকসই উৎপাদনের সীমার মধ্যে থাকবে।

তার বিবেচনায় ইলিশের উৎপাদন কমার পেছনে সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হলো প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা এবং নির্বিচার জাটকা নিধন। মা ইলিশ রক্ষার জন্য অক্টোবরে যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটি এখনো ঠিক আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সময়টা কিছুটা পিছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা গবেষণা করে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, অতীতে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছিল কয়েকটি উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে। এর মধ্যে ছিল ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষা, ৮ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ রাখা, মার্চ ও এপ্রিলে অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা, সাড়ে ৬ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ করা এবং বন্ধের সময়ে জেলেদের চালসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া। এছাড়া পাঁচটি অভয়াশ্রম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। অভয়াশ্রমগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ এখন জরুরি।

অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ইলিশ ডিম ছাড়ার পর মার্চ-এপ্রিলে জাটকা ঝাঁকে ঝাঁকে সাগরের দিকে যেতে থাকে। এ সময় নদ-নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে এবং উপকূলীয় সাগরে আর্টিসানাল ট্রলারের (যেগুলো ৪০ মিটারের কম গভীরতায় মাছ ধরে) মাধ্যমে ব্যাপক হারে জাটকা নিধন করা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। জাটকা নিধনে ‘জিরো টলারেন্স’ এর পরামর্শ দেন সরকারকে। পাশাপাশি দখলদূষণের ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট এবং নাব্যতা সংকটের কারণেও ইলিশ ঠিকমতো বড় হচ্ছে না।

মৎস্যবিজ্ঞানীদের বক্তব্যের প্রতিফলন পাওয়া যায় উপকূলের জেলেদের মুখ থেকেও। বিষখালী নদীতে ইলিশ মাছ ধরা কয়েকজন জেলের নাম হলো মো. লিটন হোসেন, মো. কাইয়ুম এবং নিরু খান।

তাদের বক্তব্য, ইলিশের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পরই ছাঁকনির মতো সূক্ষ্ম জাল দিয়ে সেগুলো ধরে ফেলা হয়। জাটকানিধনের প্রথম ধাপে একেবারে ছোট বাচ্চা, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাপিলা মাছ’ নামে বাজারে বিক্রি হয়, পরে ধাপে তুলনামূলক বড় ফাঁসের কারেন্ট জালে নির্বিচারে ধরা হয়। শেষের ধাপে বড় ট্রলিং ট্রলার এবং কাঠের রূপান্তরিত ট্রলিং ট্রলারে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগই পাচ্ছে না। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ছাড়াও নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে জেলেরা ছোট ইলিশ ধরে আনছেন।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ইলিশের খাদ্যতালিকায় ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদকণা (জুপ্ল্যাংকটন) ও ১২ প্রজাতির প্রাণিকণা (ফাইটোপ্ল্যাংটন) রয়েছে। এসব প্ল্যাংকটনের পরিমাণ মেঘনা নদীতে ৬৮ শতাংশ কমেছে। এর বড় কারণ নদীদূষণ। ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এক গবেষণা করে দেখিয়েছেন, পদ্মা ও মেঘনার মোহনায় ইলিশের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্ল্যাংকটন আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে, যার প্রভাব পড়ছে ইলিশের আকৃতিতেও।

উল্লেখ্য, ইলিশ শুধু জাতীয় অর্থনীতির জন্য নয়, উপকূলীয় জেলে, মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠী এবং উপকূলের সাধারণ মানুষের জীবিকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে নিয়োজিত, আর পরিবহন, বাজারজাতকরণ, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা কার্যক্রমে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।

ইলিশে উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে এবং  ইলিশ আহরণে প্রথম স্থান দখল করে আছে। এছাড়া ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট ইলিশ মাছকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।




মোংলা ইপিজেডে ১৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (মোংলা ইপিজেড) তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনে ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।

আজ ঢাকায় এ লক্ষ্যে বেপজা কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটির একটি ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।

বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান লি কিয়াংকিয়াং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চীনা প্রতিষ্ঠানটি মোংলা ইপিজেডে ১৬ হাজার ৪২৬ দশমিক ৩৭ বর্গমিটার জমিতে কারখানা স্থাপন করবে। কারখানাটিতে বছরে ৬০ লাখ পিস অন্তর্বাস ও ব্রা উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদিত পণ্যগুলো এয়ারি, ক্যালভিন ক্লেইন, জারা, ফ্লোরেন্স অ্যান্ড ফ্রেড (টেসকো), এএসওএস এবং প্রাইমার্কের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের জন্য রপ্তানির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে এইচঅ্যান্ডএম, ওয়ালমার্ট, এমঅ্যান্ডএস ও গ্যাপ।

প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, আলজেরিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, মেক্সিকো, ইরাক, জাপান ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা করছে।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ও বেপজার ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মসিহউদ্দিন বিন মেসবাহ, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজ, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) ফজলুল হক মজুমদারসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোংলা ইপিজেডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে এবং ১০টি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ইপিজেডটি থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এখানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭১ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কর্মসংস্থান হয়েছে ১৬ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশির।




জ্বালানি খাতের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি খাতে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলা এবং বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের শুরুতে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এ চাপ সামাল দিতে এক ধরনের আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে সহযোগিতার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ভবিষ্যতেও সংস্থাটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয়টি শুধু বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতে চলমান সংকটের প্রভাব মোকাবিলায়ও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও প্রক্রিয়াগত কাজ চলছে। দুই পক্ষের অংশীদারত্বের আওতায় কীভাবে সহযোগিতা আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান উদ্যোগগুলোর সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।




ছাত্রীদের সাইবার সুরক্ষা ও নিরাপদ লেনদেন সচেতনে সিআইডি-বিকাশের কর্মশালা

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া ও শামসুন নাহার হলের ছাত্রীদের নিয়ে সাইবার সুরক্ষা ও নিরাপদ লেনদেন বিষয়ক ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করলো সিআইডি ও বিকাশ। ১,১০০ জন ছাত্রীর অংশগ্রহণে কর্মশালাগুলোতে ভার্চ্যুয়াল জগতে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবায় প্রতারণার ফাঁদ এড়ানোর কৌশল বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন সিআইডি-র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ও বিকাশ-এর এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স-এর কর্মকর্তারা।

কর্মশালাগুলোতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নিরাপদ ব্যবহারের নিয়মাবলি এবং সাইবার ঝুঁকির বিভিন্ন বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে পিন ও ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করা, লোভনীয় অফারের ফিশিং লিংক চেনার উপায় এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত অফিশিয়াল চ্যানেলে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া ইন্টারনেটে যেকোনো তথ্য বা খবর শেয়ার করার আগে তা যাচাই করে গুজব প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ধারাবাহিক এই কর্মসূচির প্রথম সেশনটি অনুষ্ঠিত হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে, যেখানে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬৫০ ছাত্রী। এতে সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডির অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা, সাইবার অপরাধের ধরন, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, প্রতারণা ও ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিসি, সিআইডির ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিকাশ-এর ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স মেজর এ কে এম মনিরুল করিম (অব.)।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া ও শামসুন নাহার হলে পৃথক দুটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৪৫০ ছাত্রী অংশ নেন। দুটি কর্মশালাতেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. সাইফউদ্দিন শাহীন। সেশন দুটিতে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম এবং শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা।

পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মশালা পরিচালনা করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।

কেবল প্রযুক্তি বা আইন প্রয়োগ নয়, নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর গড়তে সবার আগে প্রয়োজন সচেতন ব্যবহারকারী। এই লক্ষ্যে ২০১৭ সাল থেকেই পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই-এর মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং তাদের সহযোগিতায় দেশজুড়ে এজেন্টদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মশালা করে আসছে বিকাশ। একটি নিরাপদ ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবার তরুণ শিক্ষার্থীদের সচেতন করার বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অব্যাহত থাকবে।




বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী জাপানের মারুবেনি

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা দেবে।

রোববার ( ১১ অক্টোবর ) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাইউকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশন বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্প এবং জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাণসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি, পাটশিল্পের বহুমুখীকরণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে জাপানের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার, অটোমোবাইল, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, পাটশিল্পকে প্রচলিত পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তুলা, ভিসকস ও পলিয়েস্টারের সঙ্গে পাটের আঁশ মিশিয়ে নতুন পণ্য উৎপাদন, উন্নত বীজ উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে চায় সরকার।

বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসাইউকি ওমোতো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে কাফকোর আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার এবং সার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনেও নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে মারুবেনির সিইও জানান, যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত বিজেআইটির শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দিচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইটি অফশোরিং খাতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে পরিবেশসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ, টয়োটা গাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) প্রযুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা, সিইপিএর সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানো এবং শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।




দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। আসন্ন রমজানে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। পরে তিনি নগরীর দেওয়ানহাট সিএসডির গুদাম পরিদর্শন এবং হালিশহর সিএসডির সম্মেলনকক্ষ উদ্বোধন করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জনগণের কাছে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য সংরক্ষণ, মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে।

রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, রমজান সামনে রেখে সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকায় এ সময়ে সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সুলভ মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দেশের বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমদানি প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খাদ্য বিভাগের জনবলসংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাগের কার্যক্রম গতিশীল করতে জনবলসংকট নিরসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগলেও সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সাইলো পরিদর্শনের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা গেলে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়বে বলেও জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।




ওয়ালটনের সোলার ইকো-সিস্টেম উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী

দেশে সৌরবিদ্যুৎনির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম’ চালু করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটনের করপোরেট অফিসে এ ইকো-সিস্টেমের উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আজকে পাওয়ার সেক্টরে একটি গুণগত পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। আমরা ঐতিহ্যগতভাবে ফুয়েল অয়েল, গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছি। এতে একদিকে প্রচুর আমদানি ব্যয় হয়, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এখন বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের পরনির্ভরশীল হতে হচ্ছে। এ কারণে আজকে জনগণের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে ব্যবস্থা, সেটি হচ্ছে সোলার। ওয়ালটন সোলারের মাধ্যমে যে কাজ করছে, আমরা তা দেশের জনগণকে জানাতে চাই। এটি সারা বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। আমরা চাই, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে সোলারের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, জনগণের চাহিদা মেটানো যাবে এবং কম খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে যে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়, সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং আমাদের পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, শুধু বাতি নয়, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন থেকে শুরু করে কুকারসহ সবকিছু চালানো যাবে। সুতরাং, পুরোপুরি আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর ভিত্তি করে আমাদের বিদ্যুৎ খাত এত দিন চলেছে, আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। সোলারের মাধ্যমে আগামী দিনে বিদ্যুতের সরবরাহ ও চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করতে আমরা সক্ষম হব। প্রধানমন্ত্রীর এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ইনসেনটিভ দেওয়া হয়েছে। যারা রুফটপে সোলার স্থাপন করবেন, তারা নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। এ জন্য একটি প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, দেশের সব মানুষ এগিয়ে আসবে। যত তাড়াতাড়ি আমরা এই সোলার সিস্টেমকে সফল করতে পারব, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যা তত কমে যাবে, খরচ কমবে, আমদানি ব্যয় কমবে এবং আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, আমাদের দেশে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি। কর্মসংস্থান বলেন, শিল্পায়ন বলেন, আমরা যা-ই করতে যাই, সবকিছুর মূলে দাঁড়ায় আমাদের জ্বালানি সক্ষমতা কতটুকু। আমাদের দেশে বেকারত্ব অনেক বেশি। ওয়ালটন যত ধরনের গৃহস্থালি পণ্য তৈরি ও উৎপাদন করে, প্রতিটি পণ্য সোলার সিস্টেমে চালানো সম্ভব। আমার বিশ্বাস, এতগুলো পণ্য একত্রে সোলারে চলে, এমন ব্যবস্থা কোনো একক কোম্পানি তৈরি করেছে কি না, আমার জানা নেই। সেই সক্ষমতা ওয়ালটনের রয়েছে এবং তারা বাংলাদেশের মতো একটি দেশে তা তৈরি করেছে। আমরা অসংখ্য সহযোগিতা পাচ্ছি।

তিনি বলেন, আপনারা যারা আছেন, রাষ্ট্রের প্রধান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সব কাঠামোর কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। তিনি তাঁর নিজের ব্যবহৃত বাসার ছাদে ওয়ালটনের সোলার ব্যবহার করছেন। এই আস্থা শুধু আমাদের একার জন্য তৈরি হয়নি। আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান সাহেব বলে গেলেন, আমাদের মিডিয়া আসলেই আমাদের বন্ধু। আমরা যখন বাংলাদেশে একটি মাত্র পণ্য—মেড ইন বাংলাদেশ—নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, তখন সব ইলেকট্রনিকস পণ্য আমদানি করে বিক্রি করা হতো। সেই সময় মিডিয়ার কর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। বাংলাদেশে একটি কোম্পানি পণ্য তৈরি করছে, করবে—এই অবস্থায় তাঁরা ওয়ালটনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। সেই সহযোগিতার ফলেই মানুষের মনে আস্থা তৈরি হয়েছে। তখন ফ্রিজের মতো এত দামি একটি পণ্য মেড ইন বাংলাদেশ থেকে কিনতে অনেকেই সাহস করতেন না। এটি ব্যবহারযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। সেই সময়ে মিডিয়ার ভাইদের যে ভূমিকা ছিল, তার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে আবারও ধন্যবাদ জানাই। সেই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক সহায়ক হয়েছে।

ওয়াল্টন চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কারখানার প্রতিটি ছাদে আমরা সোলার ব্যবহার করছি। আমাদের যেসব জলাশয় রয়েছে, সেখানে মৎস্য খামারের ওপরও সোলার ব্যবহার করছি। এভাবে আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা জাতীয় গ্রিডে আরও বিদ্যুৎ দিতে পারব। আমরা এখনই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। হয়তো এমন একটি অবস্থায় আমরা সক্ষম হব, যখন বিদ্যুৎ লাইন থেকে বিদ্যুৎ না নিলেও আমাদের চলতে পারে। সবার অক্লান্ত পরিশ্রম, আপনাদের সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে শিল্পায়ন হোক, বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হোক, সবাই গ্রিন এনার্জি ব্যবহার করুক, সবাই ভালো থাকুক এবং পরিবেশ ভালো থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) এস এম মাহবুবুল আলম প্রমুখ।

ওয়ালটনের সোলার ইকো-সিস্টেমে রয়েছে সোলার ইনভার্টার, সোলার প্যানেল, স্টোরেজ ব্যাটারি ও সোলার কেবল। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎনির্ভর হাইব্রিড এসি, চার দরজার ইনভার্টার ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, বিএলডিসি সিলিং ফ্যান, স্ট্রিট লাইট, এলইডি বাল্ব ও ইলেকট্রিক স্টোভও প্রদর্শন করা হয়।




সকালে রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়ে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ২ নারীর

লালমনিরহাট সদরে সকালে রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়ে ট্রাকচাপায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার ফকিরের তকেয়া বালাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই নারী লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের মোস্তাফি ধুমেরকুঠি এলাকার বাসিন্দা। তারা ওই এলাকার ফজলুল হকের মেয়ে ফজিলা বেগম (৪৫) এবং আজিমউদ্দিনের মেয়ে জমিলা বেগম ( ৪৮)

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফজরের নামাজ শেষে দুই নারী সকালে হাঁটতে বের হলে রংপুর থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘাতক ট্রাকটি আটক করে খবর দিলে পুলিশে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, সকালে ওই দুই নারী হাঁটতে বের হয়েছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহম্মেদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। আলোচিত সময়ে এসব বাজারে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে এই রপ্তানি আয় হয়েছিল ১৬৫ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।

আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবার আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ সময়ে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় হয়েছিল ৯৯৭ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। মোট পোশাক রপ্তানির ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এসেছে এ বাজার থেকে। এ সময়ে ইইউতে পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪৯০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।

দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেও আয় বেড়েছে। দেশটিতে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২২২ কোটি ডলারের পোশাক। মোট পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ১২৯ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা মোট পোশাক রপ্তানির ১২ দশমিক ২১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

কানাডায় তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশ ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কানাডায় রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

নিট পোশাকে প্রবৃদ্ধি বেশি

পোশাকের ধরন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, এ সময়ে নিট পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ওভেন পোশাকের তুলনায় বেশি ছিল।

সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রচলিত বড় বাজারগুলোর পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে মোট রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অবদান ছিলো ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।




রিকশাচালক-মুচিরাও লেনদেন করতে পারবেন বাংলা কিউআর দিয়ে: গভর্নর

রিকশাচালক থেকে মুচি কিংবা ছোট-বড় সব শ্রেণিপেশার মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের সুযোগ চালু হচ্ছে। এতে রিকশাচালক-মুচিসহ যে কেউ নিজস্ব কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাংলা কিউআর কোড দিয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআরের বাস্তবায়ন চারটি ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর প্রথম ধাপ ছিল নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কার্যকর করা। ১ জুলাই থেকে সবার জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করা হয়। চালুর পর দ্বিতীয় ধাপে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়। এ ধরনের আন্তঃসংযোগভিত্তিক লেনদেনব্যবস্থায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক লেনদেন সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। কেননা মাস্টারকার্ডের ব্যবস্থা প্রতি সেকেন্ডে এক হাজার লেনদেন সম্পন্ন করতে পারলেও দেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৩০০টি লেনদেনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, একসঙ্গে প্রায় ১০০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এ আন্তঃসংযোগভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। ফলে হঠাৎ করে বাংলা কিউআর সবার জন্য বাধ্যতামূলক করলে ব্যবস্থাটির কার্যক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে প্রায় দেড়-দুই মাসের মধ্যে এর কার্যক্ষমতা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো অগ্রগতি দেখা যায়। এরপর বাংলা কিউআরের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে গত ১ অক্টোবর থেকে এ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের ক্ষেত্রে যে চার্জ ছিল, তা শূন্য করা হয়েছে। শুধু দুই হাজার টাকা নয়, পাঁচ হাজার, এক লাখ কিংবা দুই লাখ টাকা; যেকোনো অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রেই এ চার্জ প্রযোজ্য হবে না।

আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের চতুর্থ ধাপ শুরু হবে জানিয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, এ পর্যায়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে লেনদেনের সুযোগ চালু করা হবে। তখন একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারবেন। এ ব্যবস্থায় রিকশাচালক, মুচি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ; সবার নিজস্ব কিউআর কোড থাকবে।

বাংলা কিউআরের অগ্রগতি তুলে ধরে গভর্নর বলেন, জুনের প্রথম সপ্তাহে এ ব্যবস্থায় প্রতি সপ্তাহের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণ চার গুণের বেশি বেড়েছে। তবে এ অগ্রগতিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বাংলা কিউআরের যাত্রায় এখনও সামান্য পথ অতিক্রম করা হয়েছে। দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা লেনদেন হলে এ ব্যবস্থাকে একটি যুক্তিসংগত অবস্থানে পৌঁছেছে বলে বিবেচনা করা যাবে।

বাংলা কিউআরের পাশাপাশি সরকারের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। প্রথমটি ডিজিটাল পরিচয়, দ্বিতীয়টি ডিজিটাল লেনদেন এবং তৃতীয়টি তথ্য বিনিময়। ডিজিটাল পরিচয় মানে জন্মের পর একজন মানুষের যে পরিচয় তৈরি হবে, তা মৃত্যুর আগপর্যন্ত বহাল থাকবে। আর তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়া কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করতে হবে না। পরিচয় নম্বরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সনদ ও তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টার ঘোষণার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে।

বাংলা কিউআরকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে গভর্নর মোস্তাকুর বলেন, এ উদ্যোগের যাত্রায় গণমাধ্যম অনেক সহযোগিতা করেছে। ফলে এ নিয়ে এখন শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময়ও বাংলা কিউআর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। আর এ উদ্যোগকে জনপ্রিয় করার পেছনে গণমাধ্যমের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।




দেশের সব খামারিকে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে

দেশের সব খামারিকে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো হাঁস-মুরগি উৎপাদনের খামার আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। হাঁস প্রজনন খামারের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা গেলে একদিকে যেমন কর্মংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভারতা অর্জনেও ভূমিকা রাখবে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কৃষি ও খামারভিত্তিক উদ্যোক্তায় পরিণত করা গেলে বেকারত্বের হার কমানোর পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা আরো সুদৃঢ় হবে। প্রতিমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের খামারের প্রতি উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে তিনি আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক-সংলগ্ন ঝিলপুকুরে (লেক) মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং বিকেলে রূপসা উপজেলার জাবুসা টোটাল সি ফুড প্রসেসিং ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন।




বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানির অনুরোধ লিথুয়ানিয়াকে

বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পণ্য, বায়ো-ডিগ্রেডেবল পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য আমদানির জন্য লিথুয়ানিয়াকে অনুরোধ ক‌রে‌ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ভিদমন্তস ভারবিকাস প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষা‌তে এ‌লে তি‌নি এই অনু‌রোধ ক‌রেন।

সাক্ষাৎকালে তারা শিক্ষা, দ্বিমুখী লভ্যতা, জনবল ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় গভীর সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন খাত ও ইস্যুতে সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সম্পর্ক আরও প্রশস্ত করার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী সফট কূটনীতি সম্প্রসারণ এবং তথ্য প্রযুক্তিতে সহযোগিতা জোরদার করা এবং অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাণিজ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে ওষুধ পণ্য, বায়ো-ডিগ্রেডেবল পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি আমদানির জন্য লিথুয়ানিয়ার প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, সাইবার নিরাপত্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের জন্য লিথুয়ানিয়ার বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান।

তারা পরিবেশের অবক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন।

সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য মন্ত্রীরা উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়, ব্যবসায়ী চেম্বারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, যুব ও শিক্ষার্থী বিনিময়, সাংস্কৃতিক দল ও ক্রীড়া দল বিনিময়, পর্যটন খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে অব্যবহৃত সম্ভাবনা খুঁজে বের করার জন্য জনগণের মধ্যে যোগাযোগ গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি করবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

বাংলাদেশে ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং (ডব্লিউআরবি) ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। তবে, এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অন্তত ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে। একইসঙ্গে যে কোনো বিক্রয় কার্যক্রমের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গ্রাহকদের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে তাদের ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, এ ঘোষণার ফলে গ্রাহকদের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না।

গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে ব্যাংকটি বলেছে, ডব্লিউআরবি ব্যবসা বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ন্যূনতম ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগবে এবং পুরো প্রক্রিয়াই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষ। এ সময়ে গ্রাহকরা স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে। তবে, ব্যাংকটি এখন করপোরেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং (সিআইবি) ব্যবসা সম্প্রসারণে বেশি গুরুত্ব দেবে।

গ্রাহকদের উদ্দেশে ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে ১২০ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, আন্তঃসীমান্ত ব্যাংকিং সক্ষমতা ও বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে ব্যাংকটি।

বার্তায় বলা হয়, এ পরিবর্তনের পুরো সময়জুড়ে গ্রাহকদের আগের মতোই সেবা ও সহায়তা দেওয়া হবে। গ্রাহকদের আমানত ও বিনিয়োগ নিরাপদ রয়েছে এবং তারা স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাংকিং লেনদেন চালিয়ে যেতে পারবেন।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি যেন সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কোনো অগ্রগতি হলে গ্রাহকদের জানানো হবে।

এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন বা সহায়তার প্রয়োজন হলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের কন্টাক্ট সেন্টার ১৬২৩৩ অথবা সংশ্লিষ্ট রিলেশনশিপ ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান লুৎফুল হাবিব গ্রাহকদের পাঠানো বার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছেন।