দুর্বল ব্যাংক সংস্কারে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোর সংকট মোকাবিলায় একযোগে নয়, বরং ধাপে ধাপে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় নিজস্ব কৌশল অনুসরণ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপত্র আরিফ হোসেন খান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকের এসব কথা বলেন আরিফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে সবচেয়ে সংকটাপন্ন পাঁচটি ব্যাংককে একীভূতকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে যেসব ব্যাংক এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোর বিষয়েও পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিতে পারে। তবে সব পরামর্শ হুবহু বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই। দেশের আর্থিক কাঠামো, আইনগত পরিবেশ ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত কাজ করছে। এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

পদ্মা ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসঙ্গে অনেক ব্যাংকের আর্থিক সংকট তৈরি হওয়ায় সব সমস্যার সমাধান একই সময়ে করা সম্ভব হয়নি। এজন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী ধাপে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আমানতকারী, গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিদ্ধান্ত হলে তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে। একই সঙ্গে দুর্বল ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির উন্নয়নের অপেক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।

‘হেয়ারকাট’ বাতিলে চলছে কারিগরি প্রস্তুতি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের দাবির মুখে ‘হেয়ারকাট’ বাতিল এবং এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

তার ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের পরপরই সার্কুলার জারি করা সম্ভব হয় না। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদ্ধতি, আইনগত কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রস্তুত করতে হয়। বর্তমানে সেই কারিগরি কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। কারিগরি প্রস্তুতি শেষ হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।




বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর আরও বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জাপানি প্রতিনিধিদলের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মতো আরও একটি শিল্প পার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন এবং চলমান ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলবিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো, জাপানের সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।




নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ স্থগিত, আগের অব্যবস্থাপনার খেসারত দিচ্ছে দেশ : তথ্য উপদেষ্টা

দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, লুটপাট ও জ্বালানি খাতে ভুল নীতির কারণে সৃষ্ট সংকটের প্রভাব এখনো দেশের বিনিয়োগ ও শিল্পখাতে পড়ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০২১-২২ সালের দিকে বৈশ্বিকভাবে কোভিড-পরবর্তী সংকট থাকলেও দেশের নিজস্ব নানা সমস্যাও অর্থনীতিকে বড় ধরনের চাপে ফেলে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লুটপাট এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেই পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে আপাতত নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। একটি দেশের শিল্পায়নের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশের স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ চলছে। পাশাপাশি সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

এ সময়ের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানো এবং ভোলার গ্যাস সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

 

তিনি বলেন, এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি, তাই এর সমাধানও রাতারাতি সম্ভব নয়। অতীতের ভুলের কিছু মূল্য দেশকে দিতেই হচ্ছে। তবে সরকার সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগের দিনের সব সমস্যার দায় শুধু অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং বাস্তবতা তুলে ধরাই সরকারের উদ্দেশ্য। যে কেউ চাইলে এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আলোচনা করতে পারেন।

সরকারের আন্তরিকতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রের সম্পাদকদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, অতীতে প্রায় সব খাতেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সব কাজ নিখুঁতভাবে করা সম্ভব না হলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে এবং জনগণও সেই প্রচেষ্টা উপলব্ধি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।




আগস্টে শুরু হচ্ছে ৪ দিনব্যাপী ‘আবাসন মেলা’

দেশের আবাসন খাতের বড় আয়োজন ‘রিহ্যাব সামার ফেয়ার-২০২৬’ আগামী ১২ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। চার দিনব্যাপী এই মেলা চলবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত।

সোমবার (২৭ জুলাই) রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) স্ট্যান্ডিং কমিটি ফর প্রেস অ্যান্ড মিডিয়ার (২০২৬-২০২৮) প্রথম সভা শেষে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হয়।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেলায় স্থান পাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, আবাসন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্প এবং আর্থিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের স্টল।

আবাসন প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা একই ছাদের নিচে বিভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাট, প্লট, গৃহঋণ সুবিধা এবং প্রপার্টি বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সার্বিক তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ পাবেন।

 

এর আগে রিহ্যাব সচিবালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও রিহ্যাব পরিচালক তাসনোভা মাহবুব সালাম। তিনি রিহ্যাবের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের সঙ্গে সুদৃঢ় সমন্বয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং যেকোনো ধরনের গুজব প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সভায় রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট এ. এফ. এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা মেলার সুনির্দিষ্ট প্রচার-প্রচারণা এবং সার্বিক সাফল্য নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নানা গঠনমূলক পরামর্শ ও মতামত তুলে ধরেন।




চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মীদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এদিকে, তাদের উপস্থিতির মাঝেই অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের চায়না রোড এলাকায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের নিয়মনীতি অনুসরণ বা যথাযথ নোটিশ ছাড়াই জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

তাদের আরও অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ ও পদোন্নতি দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হবে এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সসম্মানে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।

চাকরিচ্যুত কর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা কর্মহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রী চট্টগ্রামে একটি বড় অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রকল্পের উদ্বোধনে আসায় নিজেদের দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আনতেই তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ভিআইপি সফর ও জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নিরাপদে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিক্ষোভের পর সিইআইজেডের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুরু হয়। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




ট্রাস্ট ব্যাংক ও মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপের মধ্যে চুক্তি

ট্রাস্ট ব্যাংক তাদের ব্যাংকের কার্ডধারী ও কর্মীদের জন্য বিশেষ অটোমোটিভ সেবা নিশ্চিত করতে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সম্প্রতি ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুক্তির আওতায় ট্রাস্ট ব্যাংকের কার্ডধারীরা তাঁদের গাড়ির সার্ভিস ও প্রি-পারচেজ ইন্সপেকশন সেবায় বিশেষ মূল্যছাড় এবং কুইক সার্ভিস টিমের মাধ্যমে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা পাবেন। আর এ জন্য মাল্টিব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে এই সেবা নিশ্চিত করতে একজন কর্মকর্তা নিযুক্ত থাকবে।

এ–সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাস্ট ব্যাংকের হেড অব বিজনেস মো. মাহবুব হোসেন ও মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মাসুদ করিম চৌধুরী। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাস্ট ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. কামাল হোসেন সরকারসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান: প্রধানমন্ত্রী

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিতে কাজ চলমান ও সরকার বদ্ধ পরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২ টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক হয়ে কাজ করতে চাই।’

এসময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে কাজ করছে। আর দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার বদ্ধ পরিকর।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে ভ্যাট ট্যাক্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনসহ বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে সরকার।’




সোনাহাট স্থলবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন‍্য বন্ধ

দাম বৃদ্ধি ও নিম্নমানের পাথর সরবরাহের অভিযোগে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। গত ১৮ জুলাই থেকে এ আমদানি বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাহাট স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউস প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। বন্দরে কোনো ভারতীয় পাথরবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত। তবে গত ১৮ জুলাই থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় ৪ দিন ধরে ১টি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কয়েক দিন ধরে নিম্নমানের ও ছোট আকারের পাথর সরবরাহ করছেন। রিভার স্টোন বোল্ডারের পরিবর্তে ছোট পাথর দেওয়া হচ্ছে, যা অটো ক্রাশিং মেশিনে ভাঙার পর প্রয়োজনীয় মাপ পাওয়া যায় না। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব পাথর কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) শুক্কুর আলী বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১৫ ট্রাক পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতাম। কিন্তু আমদানি বন্ধ থাকায় গত ৪ দিনে ১টি ট্রাকও পাঠাতে পারিনি।

আমদানিকারক আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, কয়েক দিন আগেও প্রতি টন পাথরের দাম ছিল ১ হাজার রুপি। এখন তা বেড়ে ১ হাজার ৩০০ রুপিতে পৌঁছেছে। অথচ প্রতিদিন প্রায় ১০০ ট্রাক পাথরের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ ট্রাক। তার ওপর দেওয়া হচ্ছে ছোট আকারের ও ময়লাযুক্ত নিম্নমানের পাথর। এ কারণে আপাতত আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে যে পাথর দিচ্ছেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এসব পাথর দিয়ে নির্মাণকাজের মান ঠিক থাকে না। তাই ঠিকাদাররাও কিনতে চাইছেন না।

এ বিষয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বলেন, দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যার কারণে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।




বস্ত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। বৈঠকে বস্ত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

বৈঠকে টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা দেশের অর্থনীতিতে বস্ত্র শিল্পের অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা চান। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে বস্ত্র শিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি এ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

পরে বৈঠকে বস্ত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সহ-সভাপতি শামীম ইসলাম, সাবেক সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক সৈয়দ এনায়েত কবির, ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার, বর্তমান পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, বাদশা মিয়া ছাড়াও আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া, মুন্নু ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।




অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।

অন্যদিকে, ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

বুধবার (২২ জুলাই) থেকে করদাতারা ওই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে এনবিআর। এ বিষয়ে আজ এনবিআর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিবের নেতৃত্ব একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এনবিআর জানায়, ২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিশেষ করে, গত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা সফলভাবে ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতি করদাতাদের এই ব্যাপক আগ্রহই এই পদ্ধতিতে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার মূল কারণ।

নতুন করবর্ষে সকল স্বাভাবিক ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে করদাতারা পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন। ওই তালিকায় রয়েছে : ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক। এছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে সমর্থ নন, তারা সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
হ্বান

এনবিআর আরও জানায়, করদাতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.etaxnbr.gov.bd) তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারবেন। এই সিস্টেমে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট ও নগদসহ অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। রিটার্ন জমা দেওয়ার পরপরই করদাতারা তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে অফিস চলাকালীন সময়ে কল সেন্টারের (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে, করদাতাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর। চলতি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে, নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) প্রণোদনা পাবেন করদাতারা। তবে ডিসেম্বর পরবর্তী সময়ে রিটার্ন দাখিল করলে এই প্রণোদনা পাওয়া যাবে না, বরং অতিরিক্ত কর দিতে হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।




সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা

সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজ পালনের জন্য দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে নির্ধারিত এ দুই প্যাকেজের মধ্যে সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) হজের প্যাকেজ দুটির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর আওতায় থাকা হজযাত্রীরা মক্কায় পবিত্র হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে আবাসন সুবিধা পাবেন। মদিনায় তাদের থাকার ব্যবস্থা হবে মারকাজিয়া এলাকায়। এছাড়া মিনায় জোন-২-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে এবং মিনা ও আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সেবার পাশাপাশি মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে।

এ প্যাকেজের হজযাত্রীরা সাধারণত সৌদি আরবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন অবস্থান করবেন। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেডেশন এবং স্বল্পমেয়াদি বা শর্ট প্যাকেজ সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে। এ প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।

অন্যদিকে, ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’ তুলনামূলক কম খরচের একটি প্যাকেজ। এ প্যাকেজে মক্কায় হজযাত্রীদের আবাসন হবে হারাম শরীফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে। মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

সাশ্রয়ী প্যাকেজের হজযাত্রীদের জন্য মিনায় জোন-৫-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া মিনা ও আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেল হারাম শরীফ থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সালাওয়াত বাসের সুবিধা দেওয়া হবে।

সরকার নির্ধারিত এ সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত প্যাকেজগুলোর মাধ্যমে হজযাত্রীরা তুলনামূলক উন্নত ও সুশৃঙ্খল সেবা পাবেন এবং হজ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।




এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেলো ওয়ালটন

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস এর চতুর্থ সংস্করণেও (২০২৬) তিনটি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট ও সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। টেকসই নেট জিরো ইনিশিয়েটিভ এবং এনার্জি ইফিশিয়েন্সি প্রোগ্রামের জন্য সাশ্রয়ী ও ক্লিন এনার্জি ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন অর্জন করেছে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’।

 

পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় টেকসই সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জলবায়ু সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জলবায়ু ও পরিবেশ ক্যাটাগরিতেও ওয়ালটনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া বর্ষসেরা সবচেয়ে টেকসই ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতেও এই পুরস্কার পেয়েছে ওয়ালটন। গত বছর একই অ্যাওয়ার্ডের তৃতীয় আসরেও তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছিল ওয়ালটন।

১৮ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ওয়ালটনকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ দেওয়া হয়।

পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) মো. ইউসুফ আলী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, শাহজালাল হোসেন লিমন, তানভীর আঞ্জুম ও প্রতীক কুমার মদক, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, ইএইচএস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু প্রমুখ।

 

পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেকের এএমডি মো. ইউসুফ আলী বলেন, তিন ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করায় ওয়ালটন পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ওয়ালটনকে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়নে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি এবং সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির আলোকে ওয়ালটন কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া, কর্মক্ষেত্রসহ সর্বত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ উন্নয়ন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। জিরো কার্বন নিঃসরণ, সাশ্রয়ী জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে নবায়নযোগ্য বিভিন্ন ক্লিন ও গ্রিন এনার্জি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ওয়ালটন। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে নিজস্ব অর্থায়নে ওয়ালটন মোট ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

ইতোমধ্যে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে স্থাপন করা হয়েছে ১৯.২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট। যার মধ্যে রয়েছে রুফটফ সোলার প্ল্যান্ট, গ্রাউন্ড মাউন্টেড সোলার প্ল্যান্ট এবং দেশের সর্ববৃহৎ ফ্লোটিং বা ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট। এসব সোলার প্ল্যান্ট থেকে বছরে প্রায় ২২ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা ওয়ালটনের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১৭ শতাংশ পূরণ করছে।

 

তিনি আরও বলেন, শিল্প প্রক্রিয়ায় পানি সাশ্রয় ও পুনঃব্যবহারে ইটিপির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাতকৃত পানির প্রায় ৭৫ শতাংশ নিরাপদভাবে পুনঃব্যবহার করা হচ্ছে। ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্লাস্টিক পুনঃর্ব্যবহার ও আপসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বর্জ্য কমিয়ে সম্পদের পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করছে ওয়ালটন। ওয়ালটনের এই অগ্রগতি প্রমাণ করে, ওয়ালটন কেবল পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণই করেনি, বরং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই শিল্প ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি মডেল তৈরি করেছে।

সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া।

এ বছর ১৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। যেখান থেকে কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’সহ ৫৯টি টেকসই উদ্যোগকে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ দেওয়া হয়।




রূপালী ব্যাংকের ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

রাষ্ট্র মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক পিএলসির ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে হাইব্রিড পদ্ধতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল হুদা।

সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্মসচিব কামরুল হক মারুফ সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এ এইচ এম মঈন উদ্দীন বক্তব্য রাখেন।

সভায় ব্যাংকের ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করা হয়। আলোচ্যসূচিতে থাকা সব প্রস্তাব শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।

এ সময় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. আবু ইউসুফ মিয়া, এ বি এম শওকত ইকবাল শাহীন ও সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহমিনা আখতার, হাসান তানভীর ও মো. হারুনুর রশীদ সভায় অংশ নেন।

ব্যাংকের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ শাহেদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারহোল্ডার সরাসরি ও ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।




এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে: বাণিজ্য সচিব

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্কের (ইআইএফ) তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রফতানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইআইএফ এর আগের ফেজগুলোয় যে সুপারিশ দিয়ে আসছে, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে সেই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যার প্রতিটিই বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাণিজ্য সচিব বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, এর সফল বাস্তবায়নই মূল বিষয়। তিনি বলেন, স্টাডির পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কীভাবে সংস্কারগুলো কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এসব সংস্কারের সুফল পৌঁছাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ) কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসি দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেয়া হয়। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে থাকে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ইআইএফের আওতায় ইতোমধ্যে দুটি পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে এবং শেষ হয় ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে, যা ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রম চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও ইআইএফের পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতি, কৌশল ও পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিটিআইএস, রফতানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ক উদ্যোগ থেকে প্রাধান্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে।এসব কার্যক্রমের মধ্যে রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।




২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা

বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলওয়ে মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করেছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো অর্থবছরে রেলওয়ের আয় তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমানের পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে গেলো অর্থবছরে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যাত্রী খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা।

তবে ইঞ্জিনের অভাবে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে।

অন্যদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে ভেন্ডিং লাইসেন্স ও বিবিধ আয়সহ মোট আয় কমেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টক রক্ষণাবেক্ষণসহ—মোট ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১। গত অর্থবছরে এ অনুপাত ছিল ২ দশমিক ০৯। অর্থাৎ রেলওয়ের আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য কমেছে।

বার্তায় বলা হয়, তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় করে, যা পরিচালন ব্যয় হিসেবে গণ্য করা সমীচীন নয়। পেনশন ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও বা ব্যয় ও আয়ের অনুপাত দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৩। অর্থাৎ পেনশন ব্যতীত রেলওয়ে আয়ের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা। রেলওয়ের ভাড়া রেয়াতি হারে নির্ধারিত। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। এ সময়ে রেলওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত মালামাল, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য, ডলার রেটের কারণে ব্যয়, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

বর্তমান ভাড়া গত ১০ বছরেও বৃদ্ধি করা হয়নি উল্লেখ করে বলা হয়, অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম ও বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলভাড়া যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য অনেক কমে আসবে।

এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয় বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।




জুলাইয়ের ১৮ দিনে এলো ১৮০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে দেশে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এ সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার বেশি।

রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ (এক দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ১৬ থেকে ১৮ জুলাই— এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। এর আগে চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মাথায় মোট প্রবাসী আয় পৌঁছেছে ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সুশাসনের ভিত্তি

বাংলাদেশে ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা নয়, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি মৌলিক পরিবর্তন বলে মন্তব্য করেছেন এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ১২তম আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ১৫ থেকে ১৭ জুলাই তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ইন অ্যাকশন : ক্যাশলেস ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. তৌহিদুল আলম খান।

এছাড়া টেকসই উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. মো. তৌহিদুল আলম খানকে ‘এসডিসি-২০২৬’ এর সায়েন্টিফিক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।

প্রবন্ধে ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অন্যতম কার্যকর উদ্যোগ। নিরাপদ, সহজলভ্য ও দক্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর শুধু প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়, এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং অর্থনীতিতে মানুষের অংশগ্রহণের বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন, সবুজ প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে কলম্বিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, ফিজি, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, নীতিনির্ধারক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।




আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্বে বদিউর রহমান ও সেলিম রহমান

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বদিউর রহমান এবং নির্বাহী কমিটির (ইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে সেলিম রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৪৬৪তম (জরুরি) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারা নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি সফলভাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি, এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড, সেন্ট্রাল হসপিটাল লিমিটেড, হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সল্যুশন লিমিটেড এবং হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ দেশে-বিদেশের বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বদিউর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরবর্তীতে আমার দায়িত্বের ৮ বছরে আমরা এই ব্যাংকটিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হই। বর্তমানে ২০২৬ সালে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে আবারও যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তেমনই কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে আমাকে পুনরায় পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আমার উপরে অর্পিত দায়িত্ব আমি যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করবো। ইনশাল্লাহ, অতীতের মতো অচিরেই আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, নির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সেলিম রহমান দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি।

এর আগে তিনি ২০২১ এবং ২০২৪ সালে দুই মেয়াদে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।




নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী হবে সংস্কারের ধারাবাহিকতা : অর্থমন্ত্রী

নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচির (প্রোগ্রাম) ভিত্তি কী হবে, তা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আগে যেসব নীতিগত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর ওপরই এই কর্মসূচির ভিত্তি দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মান (রেসপেক্ট টু দ্য ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট) বজায় রেখেই সংস্কারের কাজ পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে (সিকোয়েন্সিং) পরিবর্তন আনা হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যখন যেটা প্রয়োজন হবে, তখন সেটাই করা হবে। এরই মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বাকি পরিবর্তনগুলোও সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, অর্থনৈতিক সংস্কার একবারে নয় বরং পরিস্থিতি, অগ্রাধিকার এবং নির্বাচিত সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।




ছয় মাসে সেনা ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা কমেছে

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সেনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানিটির চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৩৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৪৭ পয়সা। ফলে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৮ পয়সা বা প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ৫৫ পয়সা। আগের বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। সে হিসাবে প্রান্তিকভিত্তিক মুনাফা ২ পয়সা বা প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।

চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৪৩ পয়সা।

এর আগে ২০২৫ সালের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওইবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছিল ২৮ টাকা ৫৮ পয়সা।




বন্যাকবলিত‌দের জন‌্য যুক্তরাজ্যের ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা সহায়তা ঘোষণা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৩৫৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা) মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

এই সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৫ হাজারের বেশি মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

হাইক‌মিশনার জানায়, আন্তর্জাতিক সংস্থা স্টার্ট নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনায় এবং স্থানীয় ও জাতীয় বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ছয়টি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলায়– কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

আগে চলতি বছরের মে মাসে সিলেট অঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার ২ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা) জরুরি সহায়তা দিয়েছিল। নতুন সহায়তা মিলিয়ে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি (প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা)।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া জরুরি তহবিলের (ডিআরইএফ) মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১০টি জেলার মানুষের জন্য আরও ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৮ পাউন্ড (প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা) সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ হাইড্রো-মেট পার্টনারশিপের আওতায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের তথ্য ব্যবহারে সহায়তা করছে।




আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ফিরলেন পুরোনো উদ্যোক্তারা

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদ্যমান পর্ষদ বিলুপ্ত করে ব্যাংকটির পুরোনো উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে ১৪ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এটি আবারও পুরোনো উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, যেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই মূল উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। মূল উদ্যোক্তারা সক্রিয় থাকায় তাদের সমন্বয়েই নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

 

নতুন ১৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন— বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী, এনায়েত উল্লাহ, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কে ওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।




বড় লোকসানের আশঙ্কায় অতিরিক্ত চার্জ মওকুফসহ ৯ দাবি ব্যবসায়ীদের

টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরসহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভয়াবহ স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্য খালাস ও পরিবহনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।

সংকটময় এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত চার্জ মওকুফ এবং জরুরি সহায়তা চেয়ে ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন পোশাক ও শিল্প খাতের শীর্ষ নেতারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পাঠানো এক যৌথ স্মারকলিপিতে ওই দাবিগুলো জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন– বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমইএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বন্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না, আবার তৈরি পণ্যও বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। একদিকে শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে জাহাজ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কন্টেইনার ডেমারেজ ও অতিরিক্ত চার্জের বোঝা চাপানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় এভাবে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

বর্তমান এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শিল্প খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংগঠনগুলোর নেতারা। তাই জাতীয় স্বার্থে বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা ও ব্যবসায়ীদের ওপর আরোপিত বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ কমানোর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা

ব্যবসায়ীদের ৯ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– চট্টগ্রাম বন্দর এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও রেলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান; ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা, যারা ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবে; পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে উদ্ভূত কন্টেইনার ডেমারেজ, পোর্ট রেট, শিপিং চার্জ এবং অন্যান্য সব ধরনের বাড়তি চার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ করা; পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো চার্জ আরোপ থেকে বিরত থাকা; দ্রুত পণ্য খালাসে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ও তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করা; কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা।

এছাড়া, বন্যা ও দুর্যোগজনিত কারণে এলসি, ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো এবং বিলম্বজনিত জরিমানা মওকুফ করা; ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পখাত পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনা বা সরকারি সহায়তা তহবিল গঠন করা এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্য খালাসে কাস্টমস এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সার্বক্ষণিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবিও জানান।




এনসিটি-সিসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। সংগঠনটির দাবি, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দেশের অন্যতম কৌশলগত এই দুটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ উদ্বেগজনক এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংসদে আলোচনা, বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা উচিত।

সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন।

নেতারা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চাইলেও দেশব্যাপী গণপ্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে তা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। কিন্তু বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনমতের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে শুধু এনসিটি নয়, সিসিটিও ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এতদিন আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। তবে এখন এনসিটির পাশাপাশি সিসিটিও ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের খবর জনমনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একটি নবনির্বাচিত সরকারের সামনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক কাজ থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ দুটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট একটি কৌশলগত অবকাঠামো। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল কয়েকজন মন্ত্রী বা আমলার অনুমোদনের বিষয় হতে পারে না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা, বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ এবং সর্বোপরি জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নেতারা অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দেশের কৌশলগত সম্পদ নিয়ে কোনো চুক্তি সম্পাদিত হলে দেশপ্রেমিক জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং ইতিহাসে এমন চুক্তি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, কমরেড মো. শাহ আলম, বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু, অ্যাডভোকেট মনিরুল আলম, অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, শ্রমিকনেতা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ অন্যান্য নেতারা।




অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইএমএফের সঙ্গে নতুন প্রোগ্রাম হবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনস্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইএমএফের সঙ্গে নতুন প্রোগ্রাম হবে। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের নেওয়া আইএমএফ-এর আগের প্রোগ্রামটি ছিল সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী। সেই কর্মসূচিতে এমন অনেকগুলো শর্ত ছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণেই বর্তমান সরকার পূর্বের প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসেছে।

রোববার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের চলমান রাজনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের মূল চিন্তা টাকা পাওয়া নিয়ে নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করে, এমন একটি নতুন প্রোগ্রামে আমরা যাচ্ছি। যে কর্মসূচিতেই আমরা যাই না কেন, সেখানে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।

প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ, প্রবীণ আইনজীবী, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার একজন অত্যন্ত সৎ ও যোগ্য মানুষ ছিলেন। আমাদের রাজনীতিতে তাঁর অবদান অপরিসীম। তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই চলে যাওয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা বাড়াতে বর্তমান ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের বর্তমান ভিসা নীতি রিভাইজ বা সংশোধন করা দরকার। এই নীতিকে আরও সহজ ও আধুনিক করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভিসা নীতি আধুনিকীকরণের ফলে দেশে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হবে।




শিগগিরই বন্ধ কোম্পানি তালিকাচ্যুত হচ্ছে না : বিএসইসি

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বন্ধ কোম্পানিগুলোকে ডিলিস্টিং (তালিকাচ্যুত) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে সেটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে এসব কোম্পানিকে এক বছরের মধ্যে কার্যক্রমে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।

রোববার (১২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের বিষয়ে কমিশনের স্পষ্টীকরণ করা হয়।

এতে দাবি করা হয়, সম্প্রতি শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে বন্ধ কোম্পানি ডিলিস্টিংয়ের বিষয়ে যে বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন এবং চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সঠিক প্রতিফলন নয়।

স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যান তার বলেন যে, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন বন্ধ বা কার্যক্রমহীন কোম্পানিগুলোকে অনির্দিষ্টকাল তালিকাভুক্ত অবস্থায় রাখা হয় না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রম, যেখানে দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকা কিছু কোম্পানি এখনও তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিতে পড়ছেন।

চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে এ ধরনের কোম্পানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে একটি যৌক্তিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আলোচনার অংশ হিসেবে কার্যক্রমহীন কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময়, যেমন- এক বছরের মধ্যে কার্যক্রমে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে; অন্যথায় বিদ্যমান আইন, বিধি, লিস্টিং রেগুলেশনস ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করা হতে পারে।

তবে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও কল্যাণ বিবেচনায় কমিশন মনে করে, দীর্ঘদিন বন্ধ বা কার্যক্রমহীন বা গোয়িং কনসার্ন থ্রেট রয়েছে কিংবা নিয়মিত এজিএম করে না কিংবা লভ্যাংশ দেয় না, এমন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগে অধিকতর সতর্ক হওয়া উচিত।




ব্যবসা পরিচালনা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে

বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এ অবস্থা উত্তরণে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাস, ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য সরকারি সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া অটোমেশন প্রবর্তন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাস ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণ করাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সার্বিক স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সমস্যা চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে ধানমন্ডি কনভেনশন হলে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ওই এলাকার ১৫টি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও প্রায় শতাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ নীতি বিভাগ) মাহমুদুন নবী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (রাজস্ব নীতি) নুসরাত ফারজানা, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (পশ্চিম) অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম বিভাগ) মো. তারেক জুবায়ের এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখলেও প্রশাসনিক জটিলতা, কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলো তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীদের বিক্রয় বা টার্নওভার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। যা সামগ্রিক ব্যবসা প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় বাজেটে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর হ্রাস, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল কর কাঠামো ঘোষণা ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তবে, রাজস্ব আহরণে বড় লক্ষ্যমাত্রা এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করছে যা বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে জানান তাসকীন আহমেদ।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বলেন, ট্যাক্স লাইসেন্সসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য সেবা প্রাপ্তিতে জনগণের হয়রানি কমাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, ফলে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় রোধ হবে।

তিনি জানান, ডিসিসিআই’র প্রস্তাবের ভিত্তিতে শিগগিরই দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সপ্তাহ ঢাকা চেম্বারে আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যা উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা কার্যক্রম আরও সহজতর হবে। তবে হোল্ডিং ট্যাক্সসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য ফি সময়মতো পরিশোধে নগরবাসীকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

 

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তারেক জুবায়ের বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকাকে চলমান রাখতে উদ্যোক্তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। চাঁদাবাজির হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ হতে চিহ্নিত চাঁদাবাজদের গ্রেফতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যানজট নিরসনে রাজধানীর বেশকয়েকটি সড়কে এরই মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নগরবাসীকে স্বস্তি দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সারা ঢাকা শহরে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিতে ‘স্মার্ট পুলিশিং-স্মার্ট সিটি’ বিষয়ক একটি প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে।

ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক সাপ্লাইচেইনে অস্থিরতা ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার ঘাটতির কারণে দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে কিছুটা মন্থর গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে ৩ মাস অন্তর অন্তর ভ্যাট রিটার্ন প্রদানের গৃহীত উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনায় মূলধন বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে তিনি মত প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে এগিয়ে আসার ওপর তিনি জোরারোপ করেন।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (রাজস্ব নীতি) নুসরাত ফারজানা বলেন, কর আহরণ ও কর বিষয়ক প্রণোদনা প্রদান দুটোই সরকারের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও এনবিআর দুটোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণের জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছে| সম্প্রতি পাস হওয়া অর্থ আইন ২০২৬-এ ব্যবসা পরিচালন প্রক্রিয়া সহজীকরণে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার সুফল দেশের উদ্যোক্তারা অতিদ্রুত লাভ করতে পারবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে শর্তসাপেক্ষে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভার মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা চশমা খাতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানি সহজীকরণে নীতিমালা প্রণয়ন, রিয়েল এস্টেট খাতে সাইনিং মানির ওপর আরোপিত কর হার হ্রাস, ফ্রিলেন্সার প্রমোটার এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন, ঢাকা আইডিসি কনটেইনার ডিপোতে নিয়মিত ভিত্তিতে বন্দর থেকে কনটেইনার ওয়াগন আনা ও দ্রুততার সঙ্গে খালাস প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নতুন উদ্যোক্তাদের এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও সহযোগিতা মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা, নারী উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে প্রণোদনা প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং নবায়নের সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে ডিসিসিআই’র সদস্যপদ প্রদান করা হয় ও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির হাতে ডিসিসিআই’র মেম্বারশিপ সার্টিফিকেট হস্তান্তর করেন। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মো. সালেম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে কার্যকর নীতি ও মানসিকতার পরিবর্তনের তাগিদ

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে সৃজনশীল অর্থনীতিকে (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) গড়ে তুলতে শুধু বাজেট বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি মানসিকতার পরিবর্তন, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১১ জুলাই) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ফেসবুক লাইভে অনুষ্ঠিত ‘আজকের অ্যাজেন্ডা’ শীর্ষক আলোচনায় এ কথা বলেন তারা। ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: স্লোগান অর আনট্যাপড পটেনশিয়াল’ শীর্ষক এ আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

আলোচনায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য জিডিপিতে এ খাতের অবদান বাড়ানো, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চলচ্চিত্র, সংগীত, প্রকাশনা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ডিজাইনসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সৃজনশীল খাতগুলো প্রতিভানির্ভর হলেও এগুলোকে অর্থনৈতিক খাত হিসেবে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নীতিগত সহায়তার পরিবর্তে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ভালোবাসার ওপর নির্ভর করেই অধিকাংশ ক্ষেত্র এগিয়েছে। একই সঙ্গে করনীতি, কপিরাইট, প্রকাশনা ও ওটিটি-সংক্রান্ত নীতিমালার সীমাবদ্ধতাও এ খাতের বিকাশে বাধা হয়ে রয়েছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও উদ্যোক্তা তানিম নূর বলেন, সৃজনশীল শিল্পের জন্য পৃথক করনীতি প্রণয়ন করা হলে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র শিল্পে কর অব্যাহতি দিলে দেশীয় সিনেমায় নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে সাধারণ করপোরেট কাঠামোর আওতায় কর দিচ্ছে, অথচ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো একই ধরনের কর কাঠামোর মধ্যে নেই। এতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। তিনি অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর ও লাইসেন্সিং নীতির সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, দেশে সৃজনশীল প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু সেই প্রতিভাকে বিকাশ ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠেনি। এ জন্য সরকারকে কাঠামোগত সংস্কার এবং শিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীবাহিনীর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

নাট্যকার ও তারুয়ার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বাকার বকুল বলেন, নাটক ও শিল্পকলাকে এখনো অর্থনৈতিক মূল্যসম্পন্ন খাত হিসেবে দেখা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ব্যক্তিগত ভালোবাসার জায়গা থেকে পরিচালিত হয়। বিনা পারিশ্রমিকের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় একটি পেশাদার ও টেকসই শিল্পখাত গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, প্রকাশনা শিল্প দেশের অন্যতম অবহেলিত খাত। জাতীয় গ্রন্থনীতি হালনাগাদ না হওয়া এবং কপিরাইট আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে প্রকাশনা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডিজিটাল ও মুদ্রণ পাইরেসিকেও তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের (সিএইচপি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম বলেন, হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে মান সনদ, কমপ্লায়েন্স এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমাপনী বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কার্যকর নীতি, টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব। করনীতি, রয়্যালটি বণ্টন, কপিরাইট সুরক্ষা ও লাইসেন্সিংকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের আগ্রহ ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। এখন টেকসই ফলাফল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করে সৃজনশীল অর্থনীতির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।




উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল এডিবি

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি কর্মক্ষমতা, শ্লথ বেসরকারি বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থার সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া আগামী ২০২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থার বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের অফিসার-ইন-চার্জ আকিরা মাতসুনাগা বলেন, প্রতিকূল বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং স্থিতিশীল সেবা খাতের ওপর ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখেছে। তবে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পুনরুদ্ধারের জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সংকট দূরীকরণে ধারাবাহিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। এই সংস্কারগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতির বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে, যা গত এপ্রিলের পূর্বাভাসের সমান। সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের কারণে পরিবহন, ইউটিলিটি এবং অন্যান্য ভোক্তা পণ্যের ওপর এর প্রভাব অব্যাহত থাকবে। ২০২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নামতে পারে, যা এপ্রিলের প্রাক্কলিত ৮ দশমিক ৫ শতাংশের চেয়ে বেশি। উচ্চ জ্বালানি ও পরিবহন খরচ, বিনিময় হারের প্রভাব এবং খাদ্য ও সেবা খাতের ক্রমাগত মূল্যস্ফীতির কারণে বাজারে স্বস্তি ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের ইতিবাচক ধারা প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং ব্যক্তিগত ভোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। রপ্তানিতে দুর্বলতা এবং আমদানির ধীর গতি দেশের দুর্বল বাহ্যিক চাহিদা ও শ্লথ বেসরকারি বিনিয়োগের দিকেই ইঙ্গিত করছে। উৎপাদন খাতের ওপর উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও কাঠামোগত সমস্যার চাপ রয়েছে এবং কৃষি খাত সার সংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে ২০২৭ অর্থবছরে গিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা সহজীকরণ, সুশাসন নিশ্চিত এবং কর প্রশাসনের সংস্কারের ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। অবশ্য ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং জ্বালানি সংকট দূর না হলে এই প্রবৃদ্ধির গতি খুব বেশি শক্তিশালী হবে না।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ কিছু বড় ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে এডিবি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে জ্বালানি ও শিপিং খরচ বেড়ে যেতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে।

এছাড়া, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়বে। বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে শুল্ক বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য বিধিনিষেধের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি চাহিদা আরও কমতে পারে। পাশাপাশি মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর ক্রমাগত চাপ, বৈশ্বিক অর্থায়নের কঠিন শর্তাবলি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে বহাল রয়েছে।




তাজিকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ই-ভিসা ও সরাসরি ফ্লাইট চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে ই-ভিসা সুবিধা, ব্যাংকিং সংযোগ সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বিমান চলাচল চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিআইএস-বিসিসিআই)।

বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশে সফররত তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার ও তার সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সিআইএস-বিসিসিআইয়ের সভাপতি যাদব দেবনাথ ও তার পরিচালনা পর্ষদের ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে এক বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকে দুদেশের চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যও হয়েছে।

সিআইএস-বিসিসিআই সভাপতি যাদব দেবনাথের নেতৃত্বে চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এতে অংশ নেন।

সিআইএস-বিসিসিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সিআইএস-বিসিসিআই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ, দ্রুত এবং ব্যবসাবান্ধব ই-ভিসা সুবিধা চালুর জন্য তাজিকিস্তান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে আরও সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে তাজিকিস্তানের ব্যাংকসমূহের শাখা বা প্রতিনিধি কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাংকিং সংযোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া সিআইএস-বিসিসিআই তাজিকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুরও প্রস্তাব দেয়। এতে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মতপ্রকাশ করা হয়।

পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়, বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সিআইএস-বিসিসিআই এবং তাজিকিস্তানের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয়পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হন।

যাদব দেবনাথ বলেন, বাংলাদেশে সিআইএসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করা একমাত্র চেম্বার হলো সিআইএস-বিসিসিআই।

তিনি পর্যটন, ওষুধ শিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, হসপিটালিটি, জ্বালানি, তুলা এবং কৃষিজাত প্রক্রিয়াজাত পণ্যের খাতে তাজিকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণে চেম্বারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে তাজিকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাজিকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস. এম. মাহবুবুল আলম, সিআইএস-বিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি তৌহিদা সুলতানা, উপদেষ্টা মাহবুব ইসলাম রুনু ও এম. এস. সিদ্দিকীসহ সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




মোংলায় চীন-বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনে.. ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলাকে ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগের এক নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিতে শুরু করেছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এ বন্দরকে যুগোপযোগী ও অত্যাধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় পারস্পরিক উন্নয়ন সহযোগিতা ও জনশক্তি রপ্তানিতে ইতিবাচক আলোচনা সফল হওয়ার পর চীন সফর করেন তিনি। বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে পারষ্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলে দেয় চীন।

চীন সরকারের সাথে মোংলা বন্দর নিয়েও একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ। গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সেমিনারে জানানো হয় মোংলা বন্দরের পাশে চীন-বাংলাদেশ মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের বিষয়ে চীন সরকার বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা করবে। সমঝোতা স্মারক সইয়ের চুক্তি অনুযায়ী মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। একসময় ভারতের জন্য বরাদ্দ রাখা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১১০ একর জমি এবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হল। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার অংশ হিসেবে একই জমি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারতের মনোনীত ডেভেলপার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু করতে না পারায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটির বরাদ্দ বাতিল করে।

মোংলা বন্দরের উর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপক (এসডিএম) মো. মাকরুজ্জামান বলেন, চীন সরকারের এ পদক্ষেপ আমাদেশ দেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ কৌশলে নতুন দিকের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে চীনা বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। এতে মোংলা বন্দর আরো গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরীর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জানা গেছে, চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং আধুনিক লজিস্টিকস হাব নির্মাণে ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারি হিসাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক রপ্তানি, কোল্ড-চেইন, গুদামজাতকরণ ও পরিবহন খাতেও ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বেড়েছে পোশাক রপ্তানি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের (আরএমজি) প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে দেশের পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে ২০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।

 

একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এই তিনটি বাজারে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশের বেশি গেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব আংশিকভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে ইইউর অংশীদারিত্ব আগের অর্থবছরের ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

 

অন্যদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশসহ অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি কমেছে। এসব বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে মোট রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও টানা সংকোচন দেখা গেছে।

পণ্যের ধরন অনুযায়ীও রপ্তানিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নিটওয়্যার রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমলেও ওভেন পোশাক তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। এ খাতে রপ্তানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ, যা পুরো অর্থবছর জুড়েই নিটওয়্যারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভালো প্রবণতা ধরে রেখেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন ক্রেতা আকর্ষণ এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 




জুলাইয়ের  প্রথম ছয় দিনে এলো ৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ছয় দিনে দেশে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৫৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই এক দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫৮৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৬২ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে।




বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে নাহিদ রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন নাহিদ রহমান। সম্প্রতি তিনি এ পদে পদোন্নতি পান।

এর আগে তিনি প্রেষণে দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডে মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

নাহিদ রহমান ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে এমকম (ফাইন্যান্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে প্রেষণে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) থেকে এমবিএম ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া জাপান সরকারের জেডিএস স্কলারশিপের আওতায় জাপানের রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি থেকে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তামাদি হিসাব নিয়ে নতুন নির্দেশনা

নাহিদ রহমান ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের একজন ডিপ্লোমেইড অ্যাসোসিয়েট। পাশাপাশি ডিএফআই ও দ্য ফ্লেচার স্কুল অ্যাট টাফটস ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সিডিএফপি বিষয়ে উচ্চতর পেশাগত সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেছেন। ব্যাংক খাতের বিভিন্ন বিষয়ে তার একাধিক গবেষণাপত্র ও প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি পেশাগত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

খুলনা জেলায় জন্ম নেওয়া নাহিদ রহমানের বাবা আতিকুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার এবং মা সেলিমা রহমান গৃহিণী। তার স্বামী মো. আলমগীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যাসন্তানের জননী।




এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতি প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের রাজনীতিকে যদি অর্থনীতি-বান্ধব কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বাণিজ্যের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কেবল তাত্ত্বিক তর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে। যেকোনো তাত্ত্বিক আলোচনাকে জনগণের কল্যাণে রূপান্তর করতে হলে একটি রাজনৈতিক শক্তির কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন।

আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ (র‌্যাপিড) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর দেশের সামনে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, তা কমবে না; বরং বাড়বে। সরকার ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এই উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে নেওয়ার যে অনুরোধ জানিয়েছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো এই বর্ধিত সময়কে নিজেদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে আমাদের বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ হয়তো কম, কিন্তু অন্যান্য রফতানি গন্তব্যে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই বর্ধিত তিন বছরের মধ্যে আমাদের নীতি সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বা পথনকশা তৈরি করতে হবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরো বলেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’র ১৫৭টি পদক্ষেপের মধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে দেশের মানবসম্পদকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দক্ষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের কল্যাণে রাজনীতির অবকাঠামোগত সংস্কার ও মেরামত করা।

র‌্যাপিডের এই কর্মশালার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামতসমূহ সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী।

র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ।

কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা অংশগ্রহণ করেন।




শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, সেবা পৌঁছাতে বাড়াতে হবে জনসচেতনতা: অর্থমন্ত্রী

বর্তমানে অনেক সরকারি ও আর্থিক সেবা ঘরে বসেই পাওয়া সম্ভব জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এসব সেবা সম্পর্কে জনগণকে জানাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেসব সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগও নিতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে সময়ের সদ্ব্যবহার এবং জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। তাই দেশের সব শ্রেণির মানুষকে ধীরে ধীরে ডিজিটাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঘরে বসে সেবা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের সময় ও অর্থ; দুই-ই সাশ্রয় হবে। শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেসব সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগও নিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন খাতে সরাসরি গিয়ে সেবা নেয়ার পরিবর্তে মানুষ যাতে অনলাইনে সহজেই সেবা পেতে পারে, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।




বাংলাদেশ ও জাইকার সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও জনসেবামূলক বিভিন্ন খাতে জাইকার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যকার সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

রবিবার (৫ জুলাই) সচিবালয়ে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাইকার চলমান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে চান। আমরা সবাই তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে জাইকার অভিজ্ঞতা, কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, এনডিসি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাইকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্বকে আরও সুসংহত করবে এবং স্থানীয় সরকার খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।




নির্ভরযোগ্য ডাটা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি: অর্থমন্ত্রী

নির্ভরযোগ্য ডাটা সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ, ল্যাব গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গভীরতর বিশ্লেষণের সুযোগ থাকবে, যা গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সরকারি ডাটা নতুন নতুন আঙ্গিকে গবেষণা বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

রোববার (৫ জুলাই) আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিবিএস নিয়মিতভাবে জাতীয় শুমারি ও জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাইক্রোডাটা উৎপাদন করে। এই ল্যাবের মাধ্যমে সেই ডাটা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও গবেষণাবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা যাবে। ডাটা থেকে জ্ঞান, জ্ঞান থেকে উন্নয়ন—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিবিএস মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব উপাত্ত-ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে জনসাধারণকে সরকারি ডাটা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য মন্ত্রী বিবিএসকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বিবিএসে মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় ডাটার ব্যবহার আরও কার্যকর হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

সভা শেষে মন্ত্রী বিবিএসের প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব বিবিএসের একটি নিরাপদ অনসাইট গবেষণা সুবিধা, যার মাধ্যমে অনুমোদিত শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং অন্যান্য ব্যবহারকারী জাতীয় শুমারি ও জরিপসমূহের নাম-পরিচয়বিহীন মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন। ল্যাবটি গবেষণা, থিসিস, নীতি বিশ্লেষণ, কর্মসূচি মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়াগত অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জুলফিকার হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন।

সভায় জানানো হয়, এসব কলকারখানায় বিনিয়োগে অনেক বেসরকারি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কোম্পানিগুলো যে ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলোর সম্ভাব্যতা এখন যাচাই করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ এড়িয়ে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।