সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ দিতে এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি

দেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং প্রাইম ব্যাংক একটি পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সরকারের ৩০০ কোটি টাকার ‘রিভলভিং ফান্ড’-এর আওতায় এবং ক্রেডিট হোলসেলিং নির্দেশিকা অনুসরণ করে তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই চুক্তির অধীনে, প্রাইম ব্যাংক যোগ্য উদ্যোক্তাদের বার্ষিক সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে স্বল্পমূল্যের ঋণ প্রদান করবে। এই অর্থায়ন সুবিধাটি অত্যন্ত সহজলভ্য করা হয়েছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক চাপ কমাতে এই কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের সময়সীমা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ছয় মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক সাম্য নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তহবিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারী উদ্যোক্তা এবং নির্দিষ্ট শিল্প ক্লাস্টারে কর্মরত উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়াও আইসিটি খাতের তরুণ উদ্ভাবক, আমদানি-বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ বা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক জামানত বা স্থাবর সম্পত্তির বাধ্যবাধকতা না থাকায়, যাদের পর্যাপ্ত সম্পদ নেই তারাও নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে পারবেন।

উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব জাতীয় অর্থনীতিতে এই তহবিলের প্রভাব নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কেবল ঋণ প্রদানের মধ্যেই এই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উৎসাহিত করার মাধ্যমে টেকসই শিল্পায়ন এবং বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে যুক্ত করার লক্ষ্যও রাখে। এম. নাজিম এ. চৌধুরী এবং আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন যে, এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব কেবল কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করবে না, বরং বাংলাদেশের সিএমএসএমই খাতের সামগ্রিক সক্ষমতাকেও আরও শক্তিশালী করবে।




বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে বিজিএমইএ-এর শোক

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর সভাপতি জনাব মাহমুদ হাসান খান।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক শোকবার্তায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, মরহুম মাহবুবুর রহমান ছিলেন একজন অত্যন্ত মেধাবী, কর্মনিষ্ঠ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ও প্রতিকূলতা নিরসনে তার অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি প্রণয়নে মাহবুবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) বিষয়ক আলোচনা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বহুপাক্ষিক সম্মেলনসমূহে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তার প্রজ্ঞা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে তার দক্ষ দরকষাকষি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং পোশাক শিল্পের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিজিএমইএ মনে করে, তার এই অকাল প্রয়াণে দেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাকে হারালো, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

সংগঠনটি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।




কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সময় আরও ১ মাস বৃদ্ধি

আবারও কোম্পানি করদাতাদের কর জমার সময় বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক আদেশে কোম্পানির ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার সময় বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

এর আগে সময় বৃদ্ধি করে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৫ মার্চ ও ১৫ মে পর্যন্ত কোম্পানি করদাতারদের রিটার্ন জমার সময় নির্ধারিত করেছিল এনবিআর। এ নিয়ে চতুর্থ দফায় কোম্পানি রিটার্নের সময় বৃদ্ধি করা হলো।

করনীতির দ্বিতীয় সচিব একরামুল হক স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ এর দফা (খ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আয়কর আইন, ২০২৩ এ সংজ্ঞায়িত কোম্পানি করদাতাদের ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বৃদ্ধি করা হলো। সম্প্রতি কোম্পানির রিটার্ন জমার সময় বাড়াতে এনবিআরে চিঠি পাঠায় ব্যবসায়ীদের কয়েকটি সংগঠন।




বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী জার্মানি-সুইডেন

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি ও সুইডেন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক এই আগ্রহের কথা জানান।

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের একটি প্রধান গন্তব্য। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে, যা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

এসময় তিনি জার্মানিকে বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ও লেদার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি বাজারমুখী খাতে দক্ষতা উন্নয়ন (স্কিল ডেভেলপমেন্ট) এবং সম্ভাবনাময় বাজার উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) প্রত্যাশা করেন।

এরপর বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তিনি জানান, সুইডেনের সঙ্গে নন-ট্যারিফ বাধা অপসারণে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, টেলিকম খাতে সুইডেন বিশ্বে অগ্রণী দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ খাতে তাদের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান বৈঠকগুলোতে উপস্থিত ছিলেন।




এপ্রিলে ৭ দিনেই রেমিট্যান্স এলো ১০০৪০ কোটি টাকা

চলতি বছরের মার্চে বৈশ্বিক রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ওই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার এবং একই বছরের ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে চলতি এপ্রিল মাসেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিলের প্রথম সাতদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৮৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে) যার পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৪০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ১৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ২ হাজার ২৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চে। ওই সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের মার্চে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।

এছাড়া তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, যখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আর চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে প্রবাসী আয় ছিল ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বেড়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।




১০ বছরে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ

২০২৪ সালে দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। এ হিসাবে ১০ বছরের ব্যবধানে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছে ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ২২৭টি, অর্থাৎ ৪৯.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুমারি অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে নিয়োজিত মোট জনবল এখন ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। অর্থাৎ জনবল বেড়েছে ২৫.০৩ শতাংশ।

মোট জনবলের মধ্যে ৮৩.২৮ শতাংশ পুরুষ এবং ১৬.৭১ শতাংশ নারী। এছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) অংশগ্রহণ (০.০১ শতাংশ) রেকর্ড করা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সর্বোচ্চ ২৭.০৮ শতাংশ ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম (১৭.৫১ শতাংশ) এবং রাজশাহী (১৪.৩৬ শতাংশ)। সবচেয়ে কম অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে সিলেট বিভাগে (৪.৬৭ শতাংশ)। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় ১২.৭৩ শতাংশ, রংপুরে ১১.৪১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৬.৬৩ শতাংশ এবং বরিশালে ৫.৬১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে।

দেশের মোট ইউনিটের মধ্যে বড় অংশই মাইক্রো ও কুটির শিল্প। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাইক্রো শিল্পে রয়েছে ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৮২টি (৫৬.৬৭ শতাংশ), কুটির শিল্পে ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯টি (৩৮.৭৪ শতাংশ), ক্ষুদ্র শিল্পে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩২৩টি (৪.২০ শতাংশ), মাঝারি শিল্পে ৩৬ হাজার ১১২টি (০.৩১ শতাংশ) এবং বৃহৎ শিল্পে ৯ হাজার ২৮৬টি (০.০৮ শতাংশ)।

দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোর ৯০.০২ শতাংশই সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত, যার সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৩টি। অন্যদিকে শিল্প খাতের ইউনিট মাত্র ৯.৯৮ শতাংশ। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ‘পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান মেরামত’ খাত সর্বোচ্চ ৪১.৮২ শতাংশ দখল করে আছে।

 

মালিকানার ভিত্তিতে দেখা যায়, দেশের ৮৭.৩৬ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মালিকানাধীন। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে ১.৮২ শতাংশ এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে ১.৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

শুমারির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে পল্লী এলাকায় মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮টি এবং শহর এলাকায় ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৪টি। ২০১৩ সালের তুলনায় উভয় এলাকাতেই উল্লেখযোগ্য হারে ইউনিট বেড়েছে।

এদিকে, মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে ৫৩.৫৭ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠান, ৪.৯১ শতাংশ অস্থায়ী এবং ৪১.৫২ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসম্পন্ন খানা।

অর্থনৈতিক ইউনিট বলতে পণ্য উৎপাদন বা সেবা প্রদানের মাধ্যমে আয়সংশ্লিষ্ট যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক সত্তাকে বোঝায়। যেখানে অর্থনৈতিক কাজ হয় সেটাই অর্থনৈতিক ইউনিট। অর্থনৈতিক ইউনিট হতে পারে—একজন ব্যক্তি (যেমন: ফ্রিল্যান্সার, দর্জি), একটি দোকান বা ব্যবসা, একটি কোম্পানি বা কারখানা, যে কোনো প্রতিষ্ঠান, যেখানে পণ্য তৈরি হয় বা সেবা দেওয়া হয় এবং এর মাধ্যমে আয় হয়।




দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানির সঙ্গে ২৪.০৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করলো বেপজা

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) বহুমুখী শিল্প উৎপাদনে আরেকটি বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান এ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকাস্থ বেপজা কমপ্লেক্সে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান পিএইচ ক্রিয়েটিভ (বিডি) লিমিটেডের সঙ্গে বেপজার এ চুক্তি সই সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন এ বিনিয়োগের আওতায় ২৪ দশমিক শূন্য ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ এবং ব্যাগ ও লাগেজ উৎপাদন করা হবে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে এ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৯৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) তানভীর হোসেন এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জিন হো বে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত থেকে চুক্তি সই কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

 

প্রতিষ্ঠানটি স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও আয়রন ফ্রেম, ফাইবারগ্লাস পোল, তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, ক্যাম্পিং চেয়ারসহ বিভিন্ন ক্যাম্পিং সামগ্রী উৎপাদন করবে। পাশাপাশি পিভিসিওয়্যার কভার, ক্যাপ, চেয়ার প্যাচ, হ্যাঙ্গার, হ্যামারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করা হবে।

এছাড়া ট্রলি ব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ এবং গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ যেমন টগল ও বিড উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ায় পিএইচ ক্রিয়েটিভ (বিডি) লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক পণ্যের মতো উচ্চপ্রযুক্তি খাতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) খুরশিদ আলম, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




নগদ লেনদেনে নির্ভরতা কমাতে কার্ড লেনদেনে প্রণোদনা চান ব্যবসায়ীরা

নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণে কার্ডভিত্তিক লেনদেনে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

 

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর এনবিআর ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমন প্রস্তাব দেয়।

সংগঠনটি জানায়, প্রস্তাবিত প্রণোদনার মধ্যে ৩ শতাংশ গ্রাহক এবং ২ শতাংশ ব্যবসায়ীরা পেতে পারেন। এর ফলে নগদের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

আলোচনাটি সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এনবিআর ও সংগঠনগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটি বলছে, ই-কমার্স খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে, নগদের ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং লেনদেনের স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য অর্থ স্থানান্তর আরও সহজ হচ্ছে। এখন ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার আরও বাড়াতে নগদ প্রণোদনা দিলে ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তার ঘটাবে, স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং একটি নগদনির্ভরতা কম অর্থনীতির (ক্যাশ-লাইট ইকোনমি) বিকাশে সহায়তা করবে।

প্রাথমিকভাবে এই প্রণোদনা ব্যাংক, ব্যবসায়ী বা এমএফএস সেবাদাতারা প্রদান করতে পারে এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার মাধ্যমে সমন্বয় করা যেতে পারে।

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নে একাধিক সুপারিশ তুলে ধরে অ্যামচ্যাম। যার মধ্যে করনীতি সহজীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উৎসে কর কর্তনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। তারা বলছে, রুল ৩৯ অনুযায়ী কর্পোরেট কর নির্ধারণ করলে উৎসে কর ৪.১২৫ শতাংশ এবং অন্যথায় ৫.২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদেশি ও স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য সমান করহার ৩৭ শমিক ৫ শতাংশ বজায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে স্মার্ট কার্ড ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশের নিচে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে কার্বনেটেড পানীয়ের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার সুপারিশ করে অ্যামচ্যাম।

অ্যামচ্যামের মতে, বর্তমানে পানীয় খাতে মোট করভার ৫৪ শতাংশ হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, ভোক্তা চাহিদা কমছে এবং বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করহার কমানো হলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব—তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের বর্জ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতির আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে পুনর্ব্যবহার শিল্প শক্তিশালী হয়। বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বাড়াতে অ-বাসিন্দা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য করহার কমানোর সুপারিশও করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার ২০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর সারচার্জ মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা গার্মেন্টস শিল্পে ৫০ শতাংশ কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও করে। সংগঠনটির পক্ষে সভাপতি খোরশেদ আলম এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যক্তিগত আয়কর সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ, ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫০ শতাংশ কমানো এবং নারী উদ্যোক্তাদের শোরুমে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দেয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সংগঠন ইউরোচ্যাম বিনিয়োগবান্ধব করনীতি, প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ওপর জোর দেয়।




বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ শ্রমিকদের আরও দুই ঘণ্টা ওভারটাইমের অনুমতি

কারখানা শ্রমিকদের আরও দুই ঘণ্টা ওভারটাইম করানোর অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।

এই অনুমতি চলতি মাসের ১৭ এপ্রিল আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, অর্থাৎ এটি মোট ছয় মাসের জন্য প্রযোজ্য হবে। গত ৩০ মার্চ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জারি এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

প্রজ্ঞাপনে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের জন্য শ্রম আইনের ১০০, ১০২ ও ১০৫ ধারার প্রয়োগ ছয় মাসের জন্য স্থগিত (ওয়েভ) করা হয়। ফলে তৈরি পোষাক শিল্পের মালিকরা এ ধারার যে বিধিনিষেধ রয়েছে তার বাইরে থাকে।

শ্রম আইনের ১০০ ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিককে সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানে দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করতে বলা বা অনুমতি দেওয়া যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে, ১০৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে, কোনো শ্রমিককে একটি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো যেতে পারে।

অন্যদিকে শ্রম আইন অনুযায়ী কোনো প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিককে সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে বলা বা অনুমতি দেওয়া যাবে না। তবে ১০৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিককে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যেতে পারে, শর্ত থাকে যে কোনো সপ্তাহে মোট কাজের সময় ৬০ ঘণ্টার বেশি হবে না, এবং বছরে গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৫৬ ঘণ্টার বেশি হবে না।

আরও উল্লেখ্য, সরকার যদি জনস্বার্থ বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করে, তাহলে নির্দিষ্ট শর্তে লিখিত আদেশের মাধ্যমে কোনো কোনো শিল্পে এই ধারার বিধান শিথিল করতে বা একবারে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য এ ধারার প্রয়োগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।




বীমা খাতে প্রফেশনালিজম নেই, আছে শুধু অব্যবস্থাপনা ও তদবির : এনবিআর চেয়ারম্যান

দেশের বীমা খাতের নানাবিধ দুর্বলতা তুলে ধরে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের কঠোর তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, বীমা খাতে পেশাদারত্বের অভাব এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খাত নিয়ে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘মোটর বীমা আগে আবশ্যিক ছিল, যা করতে মাত্র ২০০-২৫০ টাকা লাগে। সেটিও এখন উঠে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো পেশাদারত্ব গড়ে ওঠেনি। পুরো বীমা খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা এখন চরমে।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘একদিকে আপনারা বলছেন ব্যবসা নেই, অন্যদিকে বীমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য এখনও বহু লোক তদবির করছেন।’

বীমা খাতে দক্ষ জনবলের তীব্র অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বীমা কোম্পানি আছে অথচ কোথাও কোনো ‘অ্যাকচুয়ারি’ (বীমা গাণনিক) নেই— পৃথিবীর কোথাও এমনটা দেখা যায় না। আমাদের দেশে অ্যাকচুয়ারি নিয়ে পড়াশোনা বা বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে মাত্র দুজন অ্যাকচুয়ারি আছেন, যার মধ্যে একজনের বয়স ৮৮ বছর পার হয়েছে। আরেকজন ইয়ং, আমার মেয়ে। এমন অবস্থায় এই খাতে শৃঙ্খলা আনা কীভাবে সম্ভব?’

আবদুর রহমান খান অভিযোগ করেন, অনেক বীমা কোম্পানি গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাওনা টাকা পেতে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি বলেন, ‘মানুষ সারা জীবন প্রিমিয়াম দেয়, কিন্তু ম্যাচিউরিটির পর টাকা পায় না। এমনকি বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অবসরে যাওয়ার পর তাদের পাওনা সুবিধাদি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার কাছে এমনও তদবির আসে যে, কোনো কোম্পানির বড় ভাই অবসরে গেছেন কিন্তু তার বেনিফিট দেওয়া হচ্ছে না। এই পর্যায়ের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এনবিআর চেয়ারম্যান সতর্ক করে বলেন, বীমা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে করদাতাদের আস্থা ফিরে আসবে না। সুশাসন নিশ্চিত না হলে মানুষ ভাববে, সরকার জোর করে বীমা কোম্পানিগুলোকে লাভবান করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।




১০ মাস ধরে বন্ধ টেকনাফ স্থলবন্দর, আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত

নিরাপত্তা শঙ্কাসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার টেকনাফ স্থলবন্দর প্রায় ১০ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। যার ফলে দুই দেশের মধ্যকার আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, এই রুটে বেড়েছে চোরাচালান। এমন অবস্থায় স্থলবন্দরটি পুরোদমে চালু করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) উদ্যোগ নিতে বলেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।

কমিশনারেট থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দেওয়া এক চিঠিতে এভাবে সংকটের চিত্র তুলে ধরে বন্দরটি দ্রুত সচল করতে ৬টি সুপারিশ করেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৪ সালের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় পরিচালিত এই বন্দর দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রামের অধীনে জারি করা বিভিন্ন আদেশ অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে এখানে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলমান ছিল।

বর্তমান আমদানি নীতি আদেশ (২০২১-২০২৪) অনুযায়ী, ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এলসি ছাড়াই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে চাল, ডাল, ভুট্টা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হতো। তবে মিয়ানমার অংশে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বন্দরনির্ভর শ্রমজীবী মানুষ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছেন। একই সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য বন্ধ থাকায় সীমান্তে চোরাচালান বেড়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও পরের বছর তা কমে ৪০৪ কোটিতে নেমে আসে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাণিজ্য স্থবিরতার কারণে রাজস্ব আরও কমে প্রায় ১১০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ৬.৫ লাখ মার্কিন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২.২৫ লাখ মার্কিন ডলার ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ১০ লাখ মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করেছে।

চিঠিতে বলা হয়, আমদানিকারকরা এই বন্দর থেকে একক চালানে অনধিক ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে একক চালানে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যে পণ্য আমদানি করে থাকে।

নিবন্ধিত আমদানি-রপ্তানিকারকরা তাদের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির মাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তির অধীনে ব্যাংক ড্রাফট (বৈধ ব্যাংক ট্রানজেকশন) পদ্ধতিতে আমদানি-রপ্তানি আদেশ মোতাবেক পণ্য আমদানি করেন। এছাড়া প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করে থাকেন।

চিঠিতে বলা হয়, এক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশ অংশে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু মিয়ানমার অংশে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে বিধায় নিরাপত্তার স্বার্থে আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যার ফলে রাজস্ব বিভাগ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বন্দর কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমারের অংশের সমস্যা চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জনিত সমস্যা নিরসন করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে।

বৈধপথে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, বন্দরের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী লক্ষাধিক জনগণ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনৈতিকভাবে চোরাচালানে জড়িয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে মিয়ানমারে পণ্য সরবরাহের উপস্থিতিতে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যার দরুন রাজস্ব ক্ষতি দিন দিন বেড়েই চলছে। কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও সমন্বিত টাস্কফোর্সের মাধ্যম চোরাচালান নিরোধের পাশাপাশি নিরাপত্তার নিশ্চিত করণের মধ্যদিয়ে ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলমান রাখা যেতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছয়টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করা, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন এবং অনুমোদিত পণ্যের তালিকা হালনাগাদ করা। এছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে বন্দর চালু করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রাথমিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা প্রচার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করে চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বন্দরের অনেক অবকাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো সংস্কার করা জরুরি। অতি দ্রুত বিগত বছরগুলোতে ইস্যু করা ব্যাংক ড্রাফটের বিপরীতে মিয়ানমারে আটকে থাকা পণ্যগুলো নিরাপদে দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা দরকার।




ঈদে ৩৪ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ ও ঈদের কেনাকাটা মেটাতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একটু বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে মার্চ মাসজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব তৈরি হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে এসেছে ২৮৩ কোটি (২.৮৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) ধরে যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে দেশে পরিবার-পরিজনের জন্য বাড়তি খরচের চাপ থাকে। এ সময় প্রবাসীরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অর্থ পাঠান। এর প্রভাবই এখন রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রতিফলিত হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, চলমান এই ধারা অব্যাহত থাকলে মার্চ শেষে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০২ কোটি (৩.০২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫২ কোটি ডলার।

এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ডলার।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এ রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

এক বছর আগে, অর্থাৎ গত বছরের মার্চে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।




ব্যাংক-এমএফএস কোম্পানিতে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ

নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে এই ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা দেয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে এসব প্রতিষ্ঠানে পৃথক ইউনিট গঠন করতে হবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইউনিটটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা ইউনিটটির তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

ইউনিট প্রধান ছাড়াও ব্যাংকের ক্ষেত্রে কমপক্ষে চারজন কর্মকর্তা এবং এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুজন কর্মকর্তাকে এই ইউনিটে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে উপমহাব্যবস্থাপক বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবেন।

 

সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতির জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে সহকারী ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তিন ধাপ নিচের কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করবেন।

ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিটকে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে বাংলা কিউআর, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), অনলাইন ও কার্ড পেমেন্ট সম্প্রসারণ, দেশব্যাপী বাংলা কিউআর চ্যানেলে মার্চেন্ট অনবোর্ডিং জোরদার করা এবং শাখা পর্যায়ে গ্রাহক নিবন্ধন কার্যক্রম তদারকি করা।

এছাড়া কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা, ডিজিটাল লেনদেন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাহক সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করাসহ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাজও এই ইউনিটের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে সাপ্লাই চেইনভিত্তিক পেমেন্ট মডেল উদ্ভাবন ও বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করার কথাও সার্কুলারে বলা হয়েছে।

 

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রতি বছর একটি স্বতন্ত্র প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যবিবরণী প্রতি বছরের মার্চ মাসের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে।
জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন
Jagonews24 Google News Channel

আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে ইউনিটসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।




ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয়ে চাঙাভাব

চলছে পবিত্র রমজান মাস। আসছে খুশির ঈদ। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র ক‌রে বাড়‌ছে বিভিন্ন কেনাকাটা। তাই পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচের কথা মাথায় রেখে বেশি বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

রোববার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের বাড়তি কেনাকাটা ও খরচ মেটাতে দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে প্রবাসীদের মধ্যে। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে ২ কো‌টি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) ধ‌রে এই অঙ্ক ২৭ হাজার ১২১ কোটি টাকার বেশি। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাসের শেষে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গেল ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩০২ কোটি বা ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫২ কোটি ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে দুই হাজার রেমিট্যান্স এসেছে ৬৫৮ কোটি মার্কিন ডলার; যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল দুই হাজার ১১ কোটি মার্কিন ডলার।




পোশাক শিল্পের প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ প্রতি মাসেই ছাড় : গভর্নর

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধিদল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান বহুমুখী সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং মাহিন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ মাহিন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের পোশাক শিল্প বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। অনেক ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহ করছে না, ফলে কারখানা সচল রাখা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ উভয়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজিএমইএ নেতারা বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে নীতি সহায়তার আওতায় নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধি ও তা বহাল রাখার জোরালো আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদল বিশেষ নগদ সহায়তার হার শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ, শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাংকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের জন্য ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।

তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, প্রণোদনার অর্থ দ্রুততম সময়ে ও নিয়মিত ছাড় করা না হলে অনেক কারখানা অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে, যা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এছাড়া শিল্পকে সহায়তাস্বরূপ প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা এবং এই তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে রপ্তানি ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনা এবং এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুপারিশ করা হয়।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবনা ও শিল্পের সংকটের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নগদ সহায়তার বিষয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, এখন থেকে কোনো আবেদন পেন্ডিং রাখা হবে না। রপ্তানিকারকদের তারল্য সংকট নিরসনে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় প্রতিনিধিদল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকগুলোতে (সাবেক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য) জমা করা স্থায়ী আমানত ও রপ্তানি মূল্যের অর্থ নগদায়ন করতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তারা জানান, তারল্য সংকটের কারণে অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। গভর্নর এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকির আশ্বাস দেন।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তড়িৎ পদক্ষেপগুলো পোশাক শিল্পকে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।




ট্রেজারি বন্ড জামানত রেখে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক

গ্রাহকদের ট্রেজারি বন্ড জামানত রেখে ঋণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। এ বিষয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, লিয়েনকৃত সরকারি বন্ডকে যোগ্য জামানত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে গ্রাহকদের ঋণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে ট্রেজারি বন্ড জামানত হিসেবে রেখে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে গ্রাহকদের ওভারড্রাফট বা মেয়াদি ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংককে ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (এফএমআই) সিস্টেমে সংশ্লিষ্ট বন্ডে লিয়েন মার্ক করতে হবে।

বন্ডের অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালুর সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে। তবে সুদসহ ঋণের স্থিতি কোনো অবস্থাতেই বন্ডের অভিহিত মূল্য অতিক্রম করতে পারবে না।

এছাড়া ঋণের মেয়াদ কোনোভাবেই বন্ডের মেয়াদের বেশি হতে পারবে না এবং বন্ড কেনার উদ্দেশ্যে ব্যাংক কোনো ঋণ দিতে পারবে না বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ সাল পর্যন্ত সংশোধিত) এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।




রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে চায় যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের (বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক) জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে চায় বলে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

রোববার (৮ মার্চ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি মন্ত্রীকে এ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে চারটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হলো- ক্যাম্পের নিরাপত্তা, শরণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রত্যাবাসন ও ক্যাম্পে মাদক সহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ। আমরা এসব বিষয়ে কাজ করছি। যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে একমত উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিয়মিত বিতর্ক বা আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পটলাইটে রাখতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আমরাও বিশ্বাসী, তবে তা নিরাপদ হতে হবে।

বৈঠকে দুদেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, রোহিঙ্গা ইস্যু, পুলিশ সংস্কার, অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসন, সন্ত্রাসবাদ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং হাইকমিশনার মন্ত্রীকে তাঁর নতুন পোর্টফোলিও’তে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি বলেন, ভিসা প্রতারণা বন্ধ করতে দু’দেশের মধ্যে শীঘ্রই একটি চুক্তি সই করা হবে। যুক্তরাজ্য চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করে পাঠিয়েছে। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে চাই। এসময় হাইকমিশনার বলেন, দুদেশের মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসন রোধে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দু’দেশের বিশেষজ্ঞ ও উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মিটিং আয়োজন করা হবে।

মন্ত্রী পুলিশ সংস্কারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন। তাছাড়া দু’দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও বন্দি প্রত্যর্পণ বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত পোষণ করেন। তাছাড়া দু’দেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এ সময় হাইকমিশনার আগামী ১৬-১৭ মার্চ, ২০২৬ তারিখে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিতব্য international Fraud Summit এর সাইডলাইনে দুদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান।

বৈঠকে ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার পলিটিক্যাল কাউন্সিলর Tim Duckett, জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স বিষয় কাউন্সিলর Ryan Duncanson, ইন্টারন্যাশনাল লিঁয়াজো অ্যান্ড মাইগ্রেশন অফিসার আব্দুল ওয়াহিদ প্রমুখ।




অর্থনৈতিক সংস্কারে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহী ভারত: প্রণয় ভার্মা

বাংলাদেশে কর ব্যবস্থা সংস্কার, ব্যবসা করার পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়নে ভারতের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয়, বিশেষ করে কর সংস্কার, ব্যবসা করার পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবস্থার অভিজ্ঞতাও আলোচনায় উঠে এসেছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত কীভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়েছে।

তার মতে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি মানুষকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে।

ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে ভারতের দেওয়া বিভিন্ন ঋণ সহায়তা কর্মসূচি বা এলওসি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিতে দুই পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। শুরুতে কিছু ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও এখন প্রকল্পগুলো ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংযোগ বা যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে প্রণয় ভার্মা বলেন, সমুদ্রপথ, স্থলপথ ও আকাশপথে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বন্দর ব্যবহারের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করাই দুই দেশের লক্ষ্য। নতুন চিন্তা, প্রযুক্তি এবং জনবান্ধব সহযোগিতার মাধ্যমে এই অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় দেশ কাজ করছে।




ঈদের ছুটিতে কাস্টমস ও ব্যাংক খোলা রাখার দাবি পোশাক রপ্তানিকারকদের

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসসহ দেশের সব কাস্টমস স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা।

রপ্তানি বাণিজ্যের গতি সচল রাখা এবং নির্ধারিত ‘লিড টাইম’-এর মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ওই দাবি জানানো হয়েছে। দাবিতে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত খোলা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সম্প্রতি পাঠানো চিঠিতে এমন অনুরোধ করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

 

সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এক চিঠিতে ওই অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, তৈরি পোশাক খাত সম্পূর্ণভাবে ফ্যাশন ও সময়ের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশি ক্রেতাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পণ্য জাহাজীকরণ করতে ব্যর্থ হলে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে উদ্যোক্তারা যেমন বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন, তেমনি দেশ হারায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে রপ্তানি বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে বন্দর, কাস্টমস ও ব্যাংকের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

চিঠিতে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সব সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসসহ দেশের অন্যান্য কাস্টমস স্টেশন, ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কার্যক্রম চালু রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ছাড়া এই খাতের রপ্তানি সক্ষমতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট করতে না পারলে শুধু রপ্তানি আদেশই বাতিল হবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ভয় থাকে। এই সংকটকালীন সময়ে এমন ক্ষতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিগত বছরগুলোতেও ঈদের ছুটিতে কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম চালু রেখে পোশাক রপ্তানিতে যে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবারও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বিজিএমইএ।

 




এখন সরকারের কাছে পৌঁছানো যায়, আগে সম্ভব ছিল না: বিজিএমইএ সভাপতি

নতুন সরকারের প্রথম ১৫ দিনে ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বুধবার (৪ মার্চ) সিপিডির আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “দেড় বছর ক্ষমতায় থাকা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দেশের কোনও ব্যবসায়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন না। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ১৫ দিন হলেও আমরা এখন সরকারের সঙ্গে সহজে পৌঁছাতে পারছি, যা আগে সম্ভব ছিল না। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সমিতির অভিজ্ঞতা দু’টোই পজিটিভ।”

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ, বিটিএমএ, ডিসিসিআই, বেসিস ও বিডিজবসের বিশিষ্ট নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

বিজিএমইএ সভাপতি সরকারের নির্বাচনি মেনিফেস্টোর ‘ডি-রেগুলেশন’ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্ভাব্য মনে করেন। তিনি বলেন, “নীতিমালা প্রণয়নে স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পলিসি যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মতামত নিয়ে তৈরি করা হয়, তবে তা টেকসই হবে। একই সঙ্গে ব্যুরোক্রেসি এবং এন্টারপ্রেনারদের মাইন্ডসেটও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।”

এনবিআরের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “ব্যবসা সহজ হলে খরচ কমে। আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত, বিশেষত এনবিআরের বিষয়গুলো নিয়ে।”

বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্স প্রসঙ্গে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘‘অনেক উদ্যোক্তা লাইসেন্সের খরচ বহন করতে না পারায় তা গ্রহণ করে না, অথচ নিয়ম অনুযায়ী নন-বন্ডেড ফ্যাক্টরি বন্ডেড ফ্যাক্টরি থেকে কাঁচামাল কিনতে পারবে না।’’

পোশাক খাতে দেশীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, “নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করলে তা আন্তর্জাতিকভাবে ভালো বিক্রি হবে এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। ব্র্যান্ডের সাফল্য কান্ট্রি রেটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই আমাদের কান্ট্রি রেটিং উন্নয়ন করতে হবে এবং ডিজাইন হাউজের মাধ্যমে বায়ারের কাছে সরাসরি ডিজাইন পৌঁছে দিতে হবে।”




পহেলা বৈশাখের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ দেবে সরকার

আসন্ন পহেলা বৈশাখের মধ্যেই দেশে প্রথমবারের মতো ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে গঠিত কমিটির সভা শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ এই তথ্য জানান।

সারা দেশে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে কি না?সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি প্রাথমিকভাবে পাইলট আকারে শুরু হবে। বর্তমানে ৮ থেকে ৯টি উপজেলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে।’ এই প্রাথমিক পর্যায়ের সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের আদলে প্রান্তিক ও অতি দরিদ্র কৃষকদের বিশেষ কিছু সুবিধা বা ‘বেনিফিট’ দেয়া হবে।

কার্ডটির মূল উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন, ভোক্তা, কৃষি জমি, পণ্যের ধরন ও জাতসহ যাবতীয় তথ্য একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় আনা।

পাশাপাশি এর মাধ্যমে সরকারের কাছে কৃষিখাতের প্রকৃত ও সঠিক তথ্য পৌঁছাবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করবে।

 

কারা পাবেন এই কার্ড

কৃষক হিসেবে কাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে–এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যারা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, মূলত তারাই এই প্রকল্পের আওতায় কৃষক হিসেবে গণ্য হবেন।

বিনা মূল্যে সার ও বীজ বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বিনা মূল্যে সার দেয়ার বিষয়টি সম্ভবত প্রান্তিক বা অত্যন্ত দরিদ্র কৃষকদের জন্য বিবেচনার তালিকায় ছিল। তবে আজকের আলোচনায় এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’




স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়; প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

তিনি বলেছেন, চুক্তিতে এমন উপাদান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি। ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে বাণিজ্য ছাড়াও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। এসব বিষয় নিয়ে সাধারণ আলাপ হয়েছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি যে চুক্তিটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হলো, আপনার সঙ্গে প্রথম বৈঠকে এই বিষয়ে কী আলোচনা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি নিয়ে এমন বিশেষ কোনো কথা হয়নি। এটি তো ৯ তারিখে স্বাক্ষর হয়েছে, এটি নিয়ে আলাদা করে কোনো আলাপ হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে যে কনগ্র্যাচুলেশন লেটার দিয়েছিলেন ট্রাম্প সেখানে বলেছিল যে বাণিজ্য চুক্তি প্লাস সামরিক যে বিষয়গুলো যাতে মেনে চলে বাংলাদেশ সেই বিষয়টা এখানে আলোচনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চুক্তির বিষয়টি আজকে আলোচনার বিষয় হিসেবে আসেনি। আর সামরিক বিষয় তো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেখানে বাংলাদেশ স্বার্থরক্ষা হয়নি, সেক্ষেত্রে আপনার সরকারের পদক্ষেপ কি থাকবে আপনি কি পদক্ষেপ নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো স্বাক্ষর হয়েছে, সেই চুক্তিটি বলবৎ হওয়ার জন্য কিছু ফরমালাইজেশনের প্রক্রিয়া আছে। আর যেকোনো চুক্তিতেই সাধারণভাবে দুটো পক্ষ থাকে। কয়েকটি ধারা একপক্ষের খুব অনুকূলে হয়। আরো কয়েকটি ধারা আরেক পক্ষের খুব অনুকূলে হয়। দুই পক্ষই চেষ্টা করে আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে যেখানে উভয়ের জন্য একটা উইন-উইন সিচুয়েশন হয়। এই চুক্তির মধ্যে অনেক ধারা আছে যেগুলোর উপরে আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্কটাকে আগামী দিনে জোরদার করতে পারি। আমি এটিকে হোলসেল নেগেটিভ বা হোলসেল পজিটিভ এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো এভাবে দেখছি না। একটা চুক্তি হয়েছে এটি একটি বাস্তবতা আমরা আজকের দিনে এই পর্যন্ত।

তিনি বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি, আমি যেটা বলেছিলাম সেটি হলো যে, আমেরিকান উচ্চতর আদালতে ট্যারিফের যে ধারাটি ইমারজেন্সি পাওয়ারের যে ধারায় ট্যারিফ ধার্য করা হয়েছিল, সেই ধারা এই ট্যারিফ ধার্য করাকে সমর্থন করে না বলার পরে পরিস্থিতিটা বিকাশমান। আমরা বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, এটি ছিল আমার কথা।

চুক্তি নিয়ে আপনার সরকারের সিদ্ধান্ত কী, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো একটা হয়েছে এখানে তো সিদ্ধান্তের কিছু নেই। এই চুক্তি তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ দুই সরকারের মধ্যে হয়েছে, এটা তো রাষ্ট্রীয় চুক্তি। সুতরাং এই চুক্তিতে যদি আপনারা কোনো কিছু দেখেন, খারাপ দেখেন সেটা আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আরেকটা জিনিস আমি বলি, কোন চুক্তি অ্যান্ড অফ লাইফ না, জীবনের সর্বশেষ কিছু না। প্রত্যেকটা চুক্তিতে সেলফ কেয়ারিংয়ের জন্য তার নিজস্ব কিছু ধারা থাকে। সেখানে এরকম যদি আমাদের কাছে কিছু প্রতীয়মান হয় যে, এই ধারাটার সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন দরকার। সেখানে ফারদার নেগোসিয়েশনের স্কোপ তো সবসময় রয়েছে। এজন্য আমার অনুরোধ হচ্ছে এটি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন না।

ভিসা বন্ডের আওতা বাংলাদেশ পড়েছে, ব্যবসায়ীরা বলছেন যে তারা যেন ভিসা বন্ডের আওতায় না আসে সে বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবেন সেটা ব্যবসায়ীদের বিষয় হ্যাঁ কিন্তু এটি নিয়ে কাজ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা তো সবসময় অনুরোধ করব যেন আমাদের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগকারীরা এবং তাদের দেশের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগকারীরা যেন স্বচ্ছন্দে সহজভাবে দুই দেশে আসা যাওয়া করতে পারে। এটির মধ্যে যেন কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। এটির অনুরোধ তো আমাদের সবসময় থাকবে।

নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে চায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, অবশ্যই নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান তারা। আগামী দিনে কীভাবে আমেরিকান বিনিয়োগ এই দেশে আসবে সেটার জন্য দুই একটা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছেন আজকে। যে এগুলো দূর করলে আমেরিকান বিনিয়োগের জন্য সেটি সহজতর হবে। বাংলাদেশ একটা উর্বর ভূমি, আমাদের কিছু নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার আছে, যেগুলো দূর করা গেলে তাদের ডেভেলপমেন্ট যেটা আছে সেটা বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশ এলিজিবল হবে।

চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগ না ছড়াতে। আপনারা যদি কোনো নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন দেখেন, আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আমরা বিষয়টি দেখব। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।




গভর্নর পদে পরিবর্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে ড. আহসান এইচ মনসুর সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। অনেক কিছুরই পরিবর্তন হবে। এখানেও পরিবর্তন হয়েছে। এটা নতুন কিছু না। আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হবে। এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া৷

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

‘গভর্নর পদে এত দ্রুত পরিবর্তন? বিশেষ কোনো কারণ আছে কিনা?’ সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হবে। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।




অর্থমন্ত্রীর কাছে বিএসইসি পুনর্গঠনের দাবি

দেশের পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)।

নবনির্বাচিত সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মানিক স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আবেদন জানানো হয়।

অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে পুঁজিবাজার উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এর প্রতিফলন দেখা যায়, নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে, যখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এর প্রধান সূচক উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটায় এবং লেনদেনের পরিমাণও সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

তবে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে বাজারে প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা ও আস্থা তৈরি হয়নি। সংগঠনটির মতে, ২০২৪ সালের পর গঠিত কমিশনের কর্মকাণ্ডে বাজারে আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত হয়নি।

বিসিএমআইএ দাবি করেছে, পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে পুনর্গঠন করে সেখানে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। এতে একটি জ্ঞাননির্ভর, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব বাজার গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, একটি শক্তিশালী ও আধুনিক পুঁজিবাজার দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অর্থমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে কমিশন পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, সরকারের সক্রিয় উদ্যোগে পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাজার নতুন গতি পাবে।




সবুজ কারখানার সনদ পেল আরও দুই পোশাক কারখানা

তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে টেকসই উৎপাদনের অগ্রযাত্রায় আরও এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। দেশে নতুন করে আরও দুইটি কারখানা পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা বা গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন’ (এলইইডি) সনদ অর্জন করেছে।

এর ফলে বাংলাদেশে এলইইডি সনদপ্রাপ্ত আরএমজি কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৫-টিতে। এর মধ্যে ১১৬টি প্লাটিনাম, ১৪০টি গোল্ড ও ১৫টি সিলভার রেটিংপ্রাপ্ত কারখানা রয়েছে। এছাড়া চারটি শুধু এলইইডি সনদপ্রাপ্ত কারখানা।

গোল্ড সনদ পেল ফ্যাশন ফ্লোর বিডি লিমিটেড

ফ্যাশন ফ্লোর বিডি লিমিটেড ‘এলইইডি বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪’ রেটিং সিস্টেমে ৭১ পয়েন্ট অর্জন করে গোল্ড সনদ লাভ করেছে।

কারখানাটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণ, এনার্জি দক্ষতা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করে এ স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

প্লাটিনাম অর্জন এমএনআর সুইটার্স লিমিটেডের

এমএনআর সুইটার্স লিমিটেড ‘এলইইডি ও+এম: এক্সিস্টিং বিল্ডিংস ভি৪.১’ রেটিং সিস্টেমে ৮৫ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে।

বিদ্যমান ভবনের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে উচ্চ মানের এনভায়রনমেন্টাল দক্ষতা, শক্তি সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই কার্যক্রম নিশ্চিত করায় প্রতিষ্ঠানটি এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

বৈশ্বিক স্বীকৃতিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০ এলইইডি কারখানার মধ্যে বর্তমানে ৭০টি বাংলাদেশের, যা টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে দেশের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

নতুন দুই কারখানার সংযোজন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি, শক্তি ব্যয় সাশ্রয় এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে গ্রিন ফ্যাক্টরি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় এই ধারাবাহিক অগ্রগতি বাংলাদেশের আরএমজি খাতকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করবে।




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি ডিসিসিআই’র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের হওয়া ‘বাণিজ্য চুক্তি’ পুনর্বিবেচনা করতে নতুন সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সংগঠনটি বলছে, ‘চুক্তির বিষয়টি একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ছিলো যুক্তিযুক্ত। তড়িঘড়ি করে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) করে চুক্তি স্বাক্ষরের কারণে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। নতুন সরকারকে চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে দুই দেশের জন্যই তা উইন-উইন হয়।’

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অডিটরিয়ামে আয়োজিত বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে ঢাকা চেম্বারের প্রত্যাশা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না। তারা যুক্তরাষ্ট্রপন্থি চুক্তি সই করেছে। এ চুক্তির কারণে আমরা বিস্মিত। আমরা বিচলিত। আমরা বারবার সরকারের কাছে জানতে চেয়েছি—প্রাইভেট সেক্টরের জন্য করা এই ট্রেড ডিলে কী আছে। না জেনে আমরা কীভাবে সমর্থন দেব?

 

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, নন ডিসক্লোজার এই চুক্তির অনেক বিষয়ই অস্পষ্ট। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন না করেই করা হয়েছে। সংবিধানের ১৪৫(ক) ধারা অনুযায়ী সংসদে উপস্থাপনের বিষয়টি এখানে মানা হয়নি। চুক্তিতে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমানোর কথা বলা হলেও কত শতাংশ কটন ব্যবহার করলে শুল্ক ছাড় মিলবে—তা স্পষ্ট নয়। এমনকি রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ শূন্য হলেও নিয়মিত সাড়ে ১৬ শতাংশ ট্যারিফ বহাল থাকবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দাবি করা হচ্ছে, চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি কিনতে হতে পারে। কিন্তু কোন দামে, কী শর্তে কেনা হবে—তা পরিষ্কার নয়। ওমান বা কাতার থেকে আমদানি করলে সময় ও খরচ কম হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনতে লিড টাইম ও ব্যয়—দুটোই বেশি হতে পারে।

চুক্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মন্তব্য করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, কৃষিখাতে দীর্ঘদিন ধরে সারের, ডিজেল ও কেরোসিনে ভর্তুকি দেওয়া হয়। কিন্তু চুক্তিতে নাকি বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাজারে পণ্য বিক্রিতে ভর্তুকি দিতে পারবে না—এমন শর্ত থাকলে তা কৃষি ও উৎপাদন খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস আমাদের রপ্তানির লাইফলাইন হলেও জিডিপিতে এর অবদান মাত্র ১৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যও মোট বাণিজ্যের ২ শতাংশের কম। তাই বড় অংশীদার চীন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মারাত্মক হবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে নিষেধাজ্ঞা দিলে সেই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ বাণিজ্য করতে পারবে না—এমন শর্ত থাকলে তা ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) করার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তাই কৌশলগতভাবে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। চুক্তি বহাল থাকলে অবিলম্বে পুনরায় আলোচনায় বসে রিনিগোশিয়েট করা উচিত। চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে দুই দেশের জন্যই তা উইন-উইন হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রেসিপ্রোকাল ট্যারিফকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কী হবে সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেছেন, চুক্তিটি যদি বাদ হয়ে যায় সেটি বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক। আর চুক্তিটি বাদ না হয়, তবে নতুন সরকারকে বুঝেশুনে উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো তড়িঘড়ি করে নয়। এক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বার্থ যাতে রক্ষা পায় সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।




৩ সপ্তাহে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৮ হাজার ১৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বেশি। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রেমিট্যান্স আহরণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

তাছাড়া, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাবে গত ১ জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসেছে ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি) যা ছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি পাওয়া গেছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিদায়ী জানুয়ারি মাসের পুরো সময়ে ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।




এক বছরে বাংলাদেশিদের জন্য ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি

২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসাসহ ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি সরকার।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ক‌রে এই তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

রাষ্ট্রদূত আরব-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি স্মরণ করেন যে, ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বের সময় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়া ১৯৭৭ সালে সৌদি আরবে একটি ঐতিহাসিক সফরও করেছিলেন। উভয়পক্ষই মুসলিম ঐক্য প্রচারে তার ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্বীকার করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম উম্মাহজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীকে কাজের সুযোগ দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উভয় দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ১৯৭৯ সালে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে সৌদি আরবের সহায়তার কথা স্মরণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য সৌদি আরবের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য তার সমর্থন কামনা করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেন এবং বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি বিস্তৃত সম্পর্কের দিকে এগিয়ে নিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার ওয়ার্ক ভিসা এবং সবমিলিয়ে ১৪ লাখ ভিসা জারি করেছে। সৌদি আরবে অনেক উন্নয়ন কাজ চলছে বলে দক্ষ ও আধা-দক্ষকর্মীদের কাজের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া, রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিমন্ত্রী সৌদি ভিশন ২০৩০ -এর অধীনে ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বাধীন সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। উভয়পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।




উত্তরা ইপিজেডে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ

তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ টেক্সটাইলের কারখানাটি ২৪ হাজার বর্গমিটার জায়গার ওপর নির্মিত হবে। এখানে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বাজারে রফতানি হবে বলে জানানো হয়েছে

উত্তরা ইপিজেডে পোশাক কারখানা স্থাপনের লক্ষে বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে হংকংভিত্তিক তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ টেক্সটাইল কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ১৯ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ৩ হাজার ২৫৪টি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ঢাকাস্থ বেপজা কমপ্লেক্সে আজ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বেপজার পক্ষে নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং বিনিয়োগকারী কোম্পানির পক্ষে তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ টেক্সটাইল কোম্পানি লিমিটেডের মনোনীত পরিচালক জি ঝেনিউ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।

তিয়ানফোর্ড বাংলাদেশ টেক্সটাইলের কারখানাটি ২৪ হাজার বর্গমিটার জায়গার ওপর নির্মিত হবে। এখানে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বাজারে রফতানি হবে বলে জানানো হয়েছে।

এ কারখানায় বছরে ৭০ লাখ পিস বিভিন্ন ধরনের ওভেন ও নিট গার্মেন্টস যথা বটম, টপ, শার্ট, জিন্স, জ্যাকেট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, স্পোর্টসওয়্যার, সোয়েটার, হুডিসহ সব প্রকার জার্সি উৎপাদন হবে।

বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে সব ধরনের সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ প্রদানে বেপজার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান। তিনি উল্লেখ করেন, আগের তুলনায় আরো দক্ষ, আধুনিক ও বিনিয়োগকারী-সহায়ক সেবা প্রদানে বেপজা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। রফতানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পখাতকে শক্তিশালী করতে প্রতিষ্ঠানটিকে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে মানসম্মত কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহের আহ্বান জানান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।




৫ বছরে ইউরোপে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মাস্টারপ্ল্যান

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ৫ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চারটি প্রবাসী সংগঠনের নেতারা এ ঘোষণা দেন।

ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশী মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এবং বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন মাস্টারপ্ল্যানের প্রধান দিকসমূহ তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে ইউরোপে প্রায় এক কোটি দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে আমরা বিশেষ কিছু প্রস্তাবনা রাখছি। এর মধ্যে রয়েছে- ২০২৬-২০৩১ সালের মধ্যে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও রোমানিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোতে ১০ লাখ লাখ কর্মী প্রেরণ; প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউরোপীয় উইং গঠন করা, যা সরাসরি ইইউ দেশগুলোর সঙ্গে জি-টু-জি চুক্তিতে কাজ করবে; অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা বন্ধ করে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি ও ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করা; হুন্ডি বন্ধে আকর্ষণীয় ইনসেনটিভ ও প্রবাসী বন্ড চালু করা। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, সংসদীয় কোটা এবং ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি শক্তিশালী ও পেশাদার ইউরোপীয় উইং গঠনের দাবি জানান, যেখানে অভিজ্ঞ প্রবাসী পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশনের (বিএমএফ) চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, নতুন বাংলাদেশে দক্ষ ও নিরাপদ শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সিন্ডিকেটমুক্ত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে তা কর্মীবান্ধব করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন ব্যয়ের পূর্ণ অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদানের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।

বাংলাদেশি মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য সারাদেশে বিএমইটির অধীন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো কার্যকরভাবে চালু করা জরুরি। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, পরিকল্পিত ও রাষ্ট্রীয় সহায়তায় বাস্তবায়িত এই মাস্টারপ্ল্যান দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।




পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি আমরা চলতে দিতে পারি না: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু

দেশে পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি আর চলতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সাধারণ মানুষের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে যাতে সবাই অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং এর সুফল সবার কাছে পৌঁছায়।

আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো এখন খুবই খারাপ অবস্থায় আছে এবং এগুলোকে পুনরুদ্ধার করাই হবে বর্তমান সরকারের প্রাথমিক কাজ। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছাড়া বড় কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করলেও তা সফল হবে না।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি করতে গিয়ে দেশ এখন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের জালে আটকে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার প্রক্রিয়া বা ডিরেগুলেশন শুরু করতে হবে। বাজার ব্যবস্থাকে উদার করার পাশাপাশি সবার জন্য সমান ক্ষেত্র তৈরি করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরো বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি বন্ধ করে একটি উদার ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। যেখানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রাধান্য পাবে। জনগণের দোরগোড়ায় অর্থনীতির সুফল পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




জুলাই-জানুয়ারিতে এডিপি বাস্তবায়ন ২১ শতাংশ

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদায় প্রকল্প অনুমোদন দিলেও বাস্তবায়নে অগ্রগতি আনতে পারেনি পরিকল্পনা কমিশন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জুলাই থেকে জানুয়ারি মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এতে দেখা যায়, এ সাত মাসে এডিপি হার মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। যা গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আইএমইডির তথ্যমতে, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সরকার পতন, প্রশাসনের স্থবিরতার পরও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয় প্রায় ৫৯ হাজার ৮৭৬ কোটি ৮৭ লাখ ব্যয় করে। যা মোট বরাদ্দের ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম এ হার আরো কমেছে। সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। অথচ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে এডিপির অর্থ ব্যয় হয়েছিল ৩৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এডিপি বরাদ্দ প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা।

আইএমইডির তথ্যমতে, বিগত বছরগুলোতেও বাস্তবায়নের হার বর্তমানের চেয়ে সন্তোষজনক ছিল। সর্বশেষ পাঁচ বছরে এ সময়ে (জুলাই-জানুয়ারি) এত কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়নি। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩০ দশমিক ২১ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে এ হার ছিল ৩০ দশমিক ২১ শতাংশ।




ঢাকার নদ-নদী রক্ষায় ৩৭ কোটি ডলার অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার পানি দূষণ রোধ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩৭ কোটি ডলার (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি) ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী পরিচালকদের সভায় এই অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়।

বিশ্বব্যাংক জানায়, ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকার বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নদ-নদী ও খালের পানি দূষণ কমিয়ে সেগুলোর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা এবং ৫ লাখ মানুষ উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার আওতায় আসবে। বিশেষ করে দূষণ ও সেবা বঞ্চিত এলাকাগুলোকে এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, জলাশয়গুলো ঢাকার কোটি মানুষের জীবনরেখা। কিন্তু দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই প্রকল্প ঢাকার নদী ও খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করবে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঢাকার মাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দা পাইপযুক্ত স্যুয়ারেজ সিস্টেমের আওতায় আছে। অন্যদিকে, ৮০ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য সরাসরি শহরের জলাশয় ও নদীতে গিয়ে পড়ছে। এছাড়া ঢাকার অর্ধেকের বেশি খাল বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে বা বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের মোট রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার ৮০ শতাংশই ঢাকা ও এর আশেপাশে অবস্থিত। প্রায় ৭ হাজার কারখানা প্রতিদিন ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলছে। এর ফলে চর্মরোগ ও ডায়রিয়াসহ নানা স্নায়বিক জটিলতা বাড়ছে। এই প্রকল্পে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে শিল্পবর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) এবং পানির পুনঃব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ওয়াটার স্পেশালিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার হর্ষ গোয়েল জানান, এই কর্মসূচিটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। প্রথম ধাপে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ শুরু হবে। নদীগুলোর পানি পরীক্ষার জন্য ‘ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং’ এবং সমন্বিত নদী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রিসাইক্লিং পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে যাতে সরাসরি ড্রেন বা নদীতে কেউ বর্জ্য না ফেলে।




শ্রমবাজারে সুনাম বজায় রাখতে সার্টিফিকেশন জালিয়াতি রোধে কাজ করার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় প্রধান উপদেষ্টা এই নির্দেশনা দেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা। এর আগে ২০২২ সালে গভর্নিং বডির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ খুবই ভালো ফ্রেমওয়ার্ক। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক। কিন্ত দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার জন্য আমাদের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো বিফল হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরির ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চাকরিদাতারা যেন বলেন যে, বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী এসেছে, নিশ্চয়ই তারা ভালো করবে।

প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে একটি অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে তা এ ধরনের জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্ম অনেক সৃজনশীল এবং সম্ভাবনাময়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের জন্য সম্ভাবনার দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া। প্রধান উপদেষ্টা এক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরো স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।

সভায় বিগত সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোর অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় কমবে, সেই সঙ্গে শিল্প খাতে শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণ ও শ্রমশক্তির উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সহজ হবে, সভায় জানানো হয়।

এছাড়া গভর্নিং বডির এই সভায় এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় এনএসডিএ-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যসমূহ অনুমোদন করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, উদীয়মান সেক্টরগুলোতে ‘স্কিলস গ্যাপ অ্যানালাইসিস’ করা, সকল উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল জনবলকে ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’র মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




উত্তরা ফাইন্যান্সের পর্ষদ পুনর্গঠন করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ঋণ অনিয়মের কারণে সংকটে পড়া ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি।

তথ্য অনুযায়ী, ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী নতুন উত্তরা ফাইন্যান্সের বোর্ড পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন বোর্ডে পাঁচজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মুখতার হোসেন। অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন— মোহাম্মদ শাফিউল আজম, মো. নিয়ামুল কবির এবং মো. রফিকুল ইসলাম (এফসিএস)। এছাড়া পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মাহবুব আলম।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুশাসন ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে উত্তরা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের বিধান থাকলেও উত্তরা ফাইন্যান্স ২০১৯ সালের পর থেকে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। তবে, গত বছরের ৬ অক্টোবর কোম্পানির নিরীক্ষক ২০২০ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানির সুদ বাবদ লোকসান হয়েছে ৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আর ওই বছরে পরিচালন লোকসান হয়েছে ১০৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সব ব্যয় বহন শেষে কর পরবর্তী নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এছাড়া, ২০২০ হিসাব বছর শেষে কোম্পানির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে যোগ্য মূলধন ঘাটতি ৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় মূলধন ঘাটতি ৬৫২ কোটি ২১ লাখ টাকা।




সরকারি অর্থ আত্মসাৎ : নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান সাময়িক বরখাস্ত

৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির কারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. সাইফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার তথ্য জানানো হয়েছে।

সাইফুজ্জামান বর্তমানে লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ওই সময় তিনি ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্প’-এর মূলধন অংশের (ডব্লিউ-১ প্যাকেজ) ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে কাজ বাস্তবায়নে ডিপিপি, আরডিপিপি বা এইচওপিইর কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একটি প্যাকেজকে অবৈধভাবে আটটি প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং এ কাজে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভাজিত আটটি প্যাকেজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে, তার বিপরীতে বাস্তবে কাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের ডব্লিউ-১ প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ছাড়া অন্য আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয় এবং কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল। এ কারণে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ধারা ৩৯(১) অনুযায়ী সাইফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকী ভাতা প্রাপ্য হবেন বলেও এতে জানানো হয়েছে।




নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে আসছে ৩ ফেব্রুয়ারি

নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নোট বাজারে ছাড়া হবে।

‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন সিরিজের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকা মূল্যমানের নোট মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে। এবার এ ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে নতুন ১০ টাকার নোট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর স্বাক্ষরিত এ নোটটি ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথমবারের মতো প্রচলনে আসবে। শুরুতে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও তা সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ডিজাইনের ১০ টাকার নোট চালুর পরও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতো বৈধ থাকবে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের কথা বিবেচনায় রেখে নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ১০ টাকার বিশেষ নমুনা (স্পেসিমেন) নোটও ছাপানো হয়েছে, যা বিনিময়যোগ্য নয়। আগ্রহীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের মিরপুরস্থ টাকা জাদুঘর বিভাগ থেকে নির্ধারিত মূল্যে এসব নোট সংগ্রহ করতে পারবেন।

নতুন ১০ টাকার নোটটির দৈর্ঘ্য ১২৩ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৬০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নোটের সামনের বাম পাশে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ছবি রয়েছে। মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। নোটের পেছনে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর চিত্র। পুরো নোটে গোলাপি রঙের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।

নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের অংশ হিসেবে নোটটিতে জলছাপে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, তার নিচে ইলেকট্রোটাইপে ‘১০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম রয়েছে। সম্মুখভাগে ২ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যাতে ‘$10 দশ টাকা’ লেখা আছে-যা আলোর বিপরীতে ধরলে স্পষ্ট দেখা যায়। নোটটি নাড়াচাড়া করলে এই সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়।

এছাড়া গভর্নর স্বাক্ষরের ডান পাশে ‘সি-থ্রু ইমেজ’ প্রযুক্তিতে একটি প্যাটার্ন রাখা হয়েছে, যা আলোয় ধরলে ‘১০’ অঙ্কটি দৃশ্যমান হয়। সম্মুখভাগে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ লেখার নিচে এবং পেছনভাগের নির্দিষ্ট অংশে মাইক্রোপ্রিন্টিংও যুক্ত করা হয়েছে।




সবুজ কারখানায় তৈরি পোশাকের সঠিক মূল্যায়ন প্রয়োজন

সবুজ কারখানায় বিশ্বে বাংলাদেশ নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙছে। প্রতিনিয়ত গড়ছে নিত্য নতুন রেকর্ড। এটি দেশের পোশাক খাতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তবে সবুজ কারখানাগুলো ক্রয়াদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। ক্রেতাদের এটি ভাবা উচিৎ। আর কারখানাগুলোর পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজ করা উচিত।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিশ্বের শীর্ষ গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি অর্জনের জন্য হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই সম্মান অর্জন করায় শীর্ষ এই সবুজ কারখানাকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড ইউএসজিবিসি লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেশনে ১১০ এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করে একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছে। এটি কেবল একটি সংখ্যার বিচার নয়, বরং এটি বর্তমানে বিশ্বের যে কোনো গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর।

তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য সারাবিশ্বের কাছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি ‘গ্লোবাল বেঞ্চমার্ক’ তৈরি করেছে।

স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএ এর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ১১০ এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা তারা সফলভাবে করেছে। কারখানার পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজতর করতে হবে।

বিজিএমইএ’র পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ লিড সার্টিফিকেশনে সর্বোচ্চ স্কোর করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙছে। এটি শিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তবে গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো কার্যাদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের মূল্যের সঠিক প্রতিফলন এখনও দেখা যাচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে ইউএসজিবিসি এর কনসালটেন্ট ও ৩৬০ টিএসএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনন্ত আহমেদ এই অর্জনের কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধুমাত্র যে সাসটেইনিবিলিটির পথে এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে তা নয়, বরং নতুন বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক তৈরি করছে।

হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে কারখানার সাকসেস স্টোরি তুলে ধরেন। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বিজিএমইএ’র বর্তমান পর্ষদ যেভাবে শিল্পের প্রতিটি অর্জনকে মূল্যায়ন করছে এবং বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ’র এই সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ শিল্পমালিকদের টেকসই শিল্পায়নের পথে আরও সাহসী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন, ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড টেকনোলজিস্টসের (আইটিইটি) ইনটেরিম কমিটির কনভেনর প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার এবং হ্যামস গার্মেন্টস এর পরিচালকগন ও উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭৩টি লিড সার্টিফাইড গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম এবং ১৩৯টি গোল্ড মানের। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে অবস্থিত।




ড্রাইভার আবেদ আলীর স্ত্রীর ফ্ল্যাট-জমি জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর নামে থাকা ১৪৮ শতাংশ জমি ও দুটি ফ্ল্যাট (মিরপুর) জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৬৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। একইসঙ্গে তার নামে থাকা ৩৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ও চারটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে ১১ লাখ ১৩ হাজার ২০৮ টাকা রয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন স্থাবর সম্পদ জব্দ ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি শাহরিন আক্তার শিল্পীর নামে স্থাবর সম্পদ এবং অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। তার নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর, দলিল সম্পাদন বা অন্য কোন পন্থায় মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তর সম্ভাবনা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার নামে অর্জিত স্থাবর সম্পদ জব্দ এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা আবশ্যক।