জনগণের ক্ষমতায়নের ভিত্তিতেই সমৃদ্ধ-আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নির্মাণ করব

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনগণের ক্ষমতায়নের ভিত্তিতেই আমরা একটি সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নির্মাণ করব।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনে তিনি এ কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, আমি মহান জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, দেশের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, নারী, তরুণ, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, প্রবাসী এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক সংস্কারের সাহসী উদ্যোগ এবং জাতীয় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যয় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সুযোগের দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, উদ্যোগ ও উদ্ভাবন উৎসাহিত হবে, পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে যাবে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ, বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং জনগণের ক্ষমতায়নের ভিত্তিতেই আমরা একটি সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নির্মাণ করব ইনশাআল্লাহ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের শক্তি, সৃজনশীলতা ও উদ্যোগই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেই শক্তিকে বিকশিত করার মধ্য দিয়েই আমরা গণমানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সমস্যার সমাধান করতে চাই, এবং সম্মিলিত প্রয়াসে গড়ে তুলতে চাই গণআকাঙ্ক্ষার এক স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।

এছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানান। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।




ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের

রাজধানী ঢাকা থেকে বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রাম পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া ভবিষ্যৎ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় মুন্সীগঞ্জ সেতু, তৃতীয় ভৈরব সেতুও নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ইলেকট্রনিক টোল আদায় ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল, নিরাপদ ও আধুনিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, মহাসড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরগুলোকে চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোর মাধ্যমে একটি মাল্টিমোডাল পরিবহন হাব গড়ে তোলার কাজ চলছে। সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বর্তমানে ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের কার্যক্রমও পুনরায় চালু করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া অটোমেটেড ফিটনেস সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালু এবং পেশাজীবী চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সম্ভাব্য করিডোর চিহ্নিত করার কাজও চলছে।




জাতীয় সংসদের দেশের ৫৫তম বাজেট উপস্থাপন

দেশের ইতিহাসের রেকর্ড ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার নিট ঘাটতি ও ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় নতুন সরকারের হয়ে প্রথম এবং দেশের ৫৫তম এ মেগা বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বিশাল বাজেটে সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে ৫ বছরের ঐতিহাসিক আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণার পাশাপাশি দেশীয় শিল্প ও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে কর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কর কাঠামোয় বড় ধরনের ওলটপালট আনা হচ্ছে এ মহাপরিকল্পনায়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ ঐতিহাসিক বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটিই প্রথম বাজেট উপস্থাপন। সংসদে ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই বাজেট উত্থাপনের আগে মন্ত্রিপরিষদ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দেয়।




তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু : ৫৫ বছরে কে দিলেন কত বাজেট

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল অত্যন্ত সীমিত। মাত্র ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার এক যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি নিয়ে শুরু হয়েছিল আমাদের পথচলা। অথচ স্বাধীনতার ৫৫ বছরের ব্যবধানে সেই বাংলাদেশ আজ এক অনন্য উচ্চতায় এসে দাঁড়িয়েছে।

১১ জুন (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম বাজেট হিসেবে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।

এবারের বাজেটের মূল ভাবনায় রাখা হয়েছে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা। ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’— এই সম্ভাব্য প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই অর্থমন্ত্রী আগামী এক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করবেন।

বাজেট ইতিহাসের পথপরিক্রমা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট দেওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী প্রয়াত তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৭২ সালে তিনি ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের জন্য দেশের প্রথম বাজেট পেশ করেন। এর আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা। প্রথম তিনটি বাজেটই ছিল তার হাত দিয়ে তৈরি। তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বলছে, এরও আগে ১৯৭১ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনালগ্নে মুজিবনগর সরকার দৈনন্দিন ও অপরিহার্য ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করেছিল।

স্বাধীনতার পর থেকে এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জন অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন মেয়াদে বাজেট পেশ করেছেন। ১১ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হবেন বাংলাদেশের বাজেট পেশকারী ১৫তম ব্যক্তি।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে উপস্থাপিত প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭১৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ৫৫ বছরের ব্যবধানে দেশের বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১,৩০৩ গুণ।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিল, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আগের বছরের তুলনায় ছোট আকারের বাজেট উপস্থাপিত হয়।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এটি ছিল টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মাহমুদ আলীর প্রথম বাজেট।

এর আগে টানা পাঁচটি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার পূর্বসূরি প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা ১০টি বাজেট উপস্থাপন করে একটি অনন্য রেকর্ড গড়েন। এর আগে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া টানা ছয়টি বাজেট পেশ করেছিলেন।

তবে, মোট বাজেট উপস্থাপনের সংখ্যার বিবেচনায় আবুল মাল আবদুল মুহিত ও প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। আবদুল মুহিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা ১০টি বাজেট ছাড়াও এরশাদ সরকারের সময়ে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের দুটি বাজেট পেশ করেছিলেন। ফলে তার উপস্থাপিত মোট বাজেটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২টি। একইভাবে এম সাইফুর রহমানও বিভিন্ন মেয়াদে মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন, যা দেশের বাজেট ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড।

স্বাধীনতার পর যত বাজেট: একনজরে পরিসংখ্যান

স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি অর্থবছরের বাজেট ঘোষক, প্রস্তাবিত এবং সংশোধিত বাজেটের আকারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো—

১৯৭২-৭৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। প্রস্তাবিত বাজেট ৭১৯.৪০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬৮৭.৮০ কোটি টাকা।

১৯৭৩-৭৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। প্রস্তাবিত বাজেট ৮২০.৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৮২৮.২ কোটি টাকা।

১৯৭৪-৭৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। প্রস্তাবিত বাজেট ৯৯৫.২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১০৫৬.১ কোটি টাকা।

১৯৭৫-৭৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী ড. আজিজুর রহমান মল্লিক। প্রস্তাবিত বাজেট ১,৫৪৯.২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১,৫৩৩.৭ কোটি টাকা।

১৯৭৬-৭৭ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ১,৯০৮.২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১,৮৫৭.৬ কোটি টাকা।

১৯৭৭-৭৮ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি ও অর্থমন্ত্রী লে. জেনারেল জিয়াউর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ২,০৯৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,২৮৮.২ কোটি টাকা।

১৯৭৮-৭৯ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ২,৪৯৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,৭৭৬ কোটি টাকা।

১৯৭৯-৮০ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী ড. এম এন হুদা। প্রস্তাবিত বাজেট ৩,৩১৭.৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩,৭৬৮.৯ কোটি টাকা।

১৯৮০-৮১ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৪,২২৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩,৯৫৫.৮ কোটি টাকা।

১৯৮১-৮২ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৪,৭৮৮.৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪,৭২৫.৩ কোটি টাকা।

১৯৮২-৮৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৪,৮৫৪.১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪,৮৫৪.১ কোটি টাকা।

১৯৮৩-৮৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৬,০৫৬.৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬,১৩৬ কোটি টাকা।

১৯৮৪-৮৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা এম সাইদুজ্জামান। প্রস্তাবিত বাজেট ৬,৯৩৩.৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬,৬৪৫.৪ কোটি টাকা।

১৯৮৫-৮৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা এম সাইদুজ্জামান। প্রস্তাবিত বাজেট ৭,২৬৮.৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৭,৬৫৯.৫ কোটি টাকা।

১৯৮৬-৮৭ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান। প্রস্তাবিত বাজেট ৯,১১২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৯,২৭৬.৪ কোটি টাকা।

১৯৮৭-৮৮ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান। প্রস্তাবিত বাজেট ১০,৩০০.৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১০,৩১৯.৬ কোটি টাকা।

১৯৮৮-৮৯ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মুনিম। প্রস্তাবিত বাজেট ১১,০৬০.৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১১,৪৭৯.৭ কোটি টাকা।

১৯৮৯-৯০ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী ড. ওয়াহিদুল হক। প্রস্তাবিত বাজেট ১৩,৪৬২.৩০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১২,৮৭২.৫ কোটি টাকা।

১৯৯০-৯১ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মুনিম। প্রস্তাবিত বাজেট ১৩,৯৮৯.৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১৫,৭৭২.১ কোটি টাকা।

১৯৯১-৯২ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ১৬,৩৭৩.৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১৬,৬৪৩.৩ কোটি টাকা।

১৯৯২-৯৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ১৮,২৮৬.৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১৮,০১৬ কোটি টাকা।

১৯৯৩-৯৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ১৯,৯৫২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২১,৩১৯ কোটি টাকা।

১৯৯৪-৯৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ২১,৭৩৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৩,০৮৯ কোটি টাকা।

১৯৯৫-৯৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ২৪,৭০৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৩,৬৫৩ কোটি টাকা।

১৯৯৬-৯৭ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ২৫,২৫৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৫,০১১ কোটি টাকা।

১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ২৭,৭৮৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২৭,০০৭ কোটি টাকা।

১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ৩০,০৯৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩০,২০৬ কোটি টাকা।

১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ৩৬,১৭৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩৭,৯৫৩ কোটি টাকা।

২০০০-০১ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ৪২,৮৫৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪১,৯৯৫ কোটি টাকা।

২০০১-০২ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। প্রস্তাবিত বাজেট ৪৪,৭৬৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩৯,৪৯৫ কোটি টাকা।

২০০২-০৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৪৪,৮৫৪ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪৪,৯০৪ কোটি টাকা।

২০০৩-০৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৫১,৯৮০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪৯,৩৬৭ কোটি টাকা।

২০০৪-০৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৫৭,২৪৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫৫,৬৩২ কোটি টাকা।

২০০৫-০৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৬৪,৩৮৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬১,০৫৮ কোটি টাকা।

২০০৬-০৭ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। প্রস্তাবিত বাজেট ৬৯,৭৪০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬৬,৮৩৬ কোটি টাকা।

২০০৭-০৮ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। প্রস্তাবিত বাজেট ৮৭,১৩৭ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৯৩,৬০৮ কোটি টাকা।

২০০৮-০৯ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। প্রস্তাবিত বাজেট ৯৯,৯৬২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৯৪,১৪০ কোটি টাকা।

২০০৯-১০ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ১০ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।

২০১০-১১ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ৩০ হাজার ১১ কোটি টাকা।

২০১১-১২ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ৬১ হাজার ২১৩ কোটি টাকা।

২০১২-১৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

২০১৩-১৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২ লাখ ১৬ হাজার ২২২ কোটি টাকা।

২০১৪-১৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ২,৫০,৫০৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,৩৯,৬৬৮ কোটি টাকা।

২০১৫-১৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ২,৯৫,১০০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ২,৬৪,৫৬৫ কোটি টাকা।

২০১৬-১৭ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩,১৭,১৭৪ কোটি টাকা।

২০১৭-১৮ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৪,৬৪,৫৭৩ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৪,৪২,৫৪১ কোটি টাকা।

২০১৯-২০ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেট ৫,২৩,১৯০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেট ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৫,৯৩,৫০০ কোটি টাকা।

২০২২-২৩ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেট ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৬,৬০,৫০৭ কোটি টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেট ৭,৬১,৭৮৫ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৭ লাখ ১৪ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। প্রস্তাবিত বাজেট ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেট ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছর: বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। প্রস্তাবিত বাজেট ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং চলমান অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৭ লাখ ১৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।

আয়-ব্যয় ও ঘাটতির চিত্র

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বা নিট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

 

বড় অঙ্কের এই ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যাংক ঋণের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

• বাংলাদেশের বাজেট ১৯৭২-২০২৫। তথ্যসূত্র: ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)




বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ চার গুণ বৃদ্ধি করবে এডিবি

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বেসরকারি খাতে তাদের বার্ষিক অর্থায়ন চার গুণ বাড়িয়ে ১৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংকও তাদের প্রকিউরমেন্ট বা ক্রয় নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যেখানে গুণগত মান, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর চীনমৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিজনেস অপরচুনিটি সেমিনারে এডিবি ও বিশ্বব্যাংক তাদের এই পরিকল্পনা তুলে ধরে। এতে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা এবং উন্নয়ন সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৬৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে বেসরকারি খাতকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে এডিবি।

সংস্থাটির মতে, প্রচলিত সরকারি অর্থায়ন নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

সরকার অনুমোদিত ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক’ পরিকল্পনায় আগামী ২০ বছরে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক বিনিয়োগ বেসরকারি খাত থেকে আসার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে বলা হয়, এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

এডিবি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ, সিমেন্ট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল লজিস্টিক খাতে সরাসরি বিনিয়োগ করেছে। সংস্থাটি ঋণের পাশাপাশি ইক্যুইটি বিনিয়োগ এবং ঝুঁকি গ্যারান্টির মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়তা করছে। এতে করে বড় বিনিয়োগ প্রকল্পে ঝুঁকি কমানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

একই সঙ্গে এডিবি তাদের ক্রয় নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ‘সর্বনিম্ন দর’ ভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে ‘সবচেয়ে সুবিধাজনক বিড’ পদ্ধতি চালু হবে। নতুন এই ব্যবস্থায় দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু দাম নয়, বরং কাজের গুণমান, স্থায়িত্ব, উদ্ভাবন এবং অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকও তাদের প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থায় একাধিক সংস্কার এনেছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্রে গুণগত মানের জন্য ন্যূনতম ৫০ শতাংশ মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে শুধু কম দর দিয়ে কাজ পাওয়ার সুযোগ কমে আসবে।

এছাড়া বড় আন্তর্জাতিক প্রকল্পে স্থানীয় কর্মীদের জন্য অন্তত ৩০ শতাংশ শ্রম ব্যয় সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। এতে দেশীয় কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে নারী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ১২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সরাসরি পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অধীনে বর্তমানে ৩৯টি প্রকল্পে ১১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চলছে। ২০২৭ অর্থবছরে নতুন করে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ২৮টি প্রকিউরমেন্ট সুযোগ আসছে। এর মধ্যে বে টার্মিনাল প্রকল্প, ভোমরা স্থলবন্দর সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ এবং যমুনা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর এই নতুন কৌশল বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের মানে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে বে-টার্মিনাল চালু হবে : নৌপরিবহন মন্ত্রী

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে বে-টার্মিনাল চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, বে-টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাদার ভেসেল প্রবেশে জোয়ার-ভাটার নির্ভরতা ও নাব্য সংকট দূর হবে। এর ফলে বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন সম্ভব হবে।

 

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী প্রশ্ন করেন, ২০২৪-২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গড় সময় কত দিন ছিল? কলম্বো, সিঙ্গাপুরের তুলনায় আমাদের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম তিনগুণ বেশি কেন? বে-টার্মিনাল ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল কবে পুরোপুরি চালু হবে এবং তাতে জট কত শতাংশ কমবে?

শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় টার্নঅ্যারাউন্ড সময় ছিল ২ দশমিক ৫৮ দিন। কলম্বো, সিঙ্গাপুর মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট। ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টে কেবলমাত্র বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে পরবর্তীতে ছোট জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। সেখানে কাস্টমস এক্সামিন, ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি কার্যক্রমের প্রয়োজন হয় না।

 

অপরদিকে চট্টগ্রাম বন্দর মূলত একটি ফিডার পোর্ট। এখানে কাস্টমস এক্সামিন, ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয় বিধায় ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টের তুলনায় ফিডার পোর্টের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কিছুটা বেশি হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট কনটেইনারের পরিমাণ নিতান্তই নগণ্য। অর্থাৎ আগত আমদানি-রপ্তানি কনটেইনারের প্রায় ১০০ শতাংশই বাংলাদেশের অভ্যন্তরের জন্য আনা বা বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কনটেইনার বিভিন্ন গন্তব্য পাঠানো হয়, যোগ করেন তিনি।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য আধুনিক ইক্যুইপমেন্ট সংযোজন ও বন্দর ব্যবস্থাপনা গতিশীল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় টার্নঅ্যারাউন্ড সময় এরই মধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে বলে আশা করা যায়।




বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫ শতাংশ প্রণোদনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকর্ষণ করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী ও নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশি কিংবা বিদেশি যে কোনো নাগরিক যদি বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই নিয়ে আসতে পারেন, তবে বিনিয়োগ করা সেই অর্থের ওপর ১.৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা বা কমিশন দেওয়া হবে।

বিদেশে বসবাসরত যোগ্য ও মেধাবী প্রবাসী বাংলাদেশি অর্থাৎ ডায়াসপোরাদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে সরকার এই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসীরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে নারী আসনে সংসদ সদস্য বেগম জহরত আদিব চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী আমলের ভুল নীতি এবং দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব বা ‘স্পিল ওভার ইফেক্ট’ বর্তমান অর্থনীতিকে বহন করতে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার সেসব সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে তাদের অর্জিত লভ্যাংশ বা প্রফিট সহজে নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার ইতোমধ্যে সেই জটিলতার স্থায়ী সমাধান করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং দেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও দেশীয় ব্যবসায়ীদের চাঙ্গা করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে সংসদকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার এবং অতিরিক্ত তারল্য সংক্রান্ত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢালাওভাবে সুদের হার কমালেই যে সবসময় অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়, বিষয়টি তেমন নয়। তবে সরকার পুরো অর্থনৈতিক সমীকরণ এবং সুদের হারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। যদি দেখা যায় যে সুদের হার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কমালে দেশীয় ব্যবসায়ী এবং দেশের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে উপকৃত হবে, তবে সরকার অবশ্যই সে বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে এই বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত বা কনফার্ম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

দেশীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকারের বর্তমান একটি বড় পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান আরও জানান, দেশের যেসব প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়ী বিভিন্ন কারণে বর্তমানে ব্যবসায়িক মন্দা বা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ফান্ড বা তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলের আওতায় যোগ্য ও ঋণখেলাপিহীন প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মাত্র ৯ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সংসদ সদস্যদের পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী ও হালনাগাদ পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন যে, সরকার ডিরেগুলেশন বা পদ্ধতিগত জটিলতা সহজীকরণের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের সমভাবে উৎসাহিত করতে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাচ্ছে।




ভোমরা-বুড়িমারি স্থলবন্দরের উন্নয়নে ৪৭৪ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন

ভোমরা ও বুড়িমারি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৪৭৪ কোটি টাকার দুটি পূর্ত প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মাধ্যমে দুটি বন্দরের পার্কিং ইয়ার্ড, শেড, ওয়্যারহাউজসহ বিভিন্ন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পৃথক এ দুই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্র জানা গেছে, একটি প্রকল্পটি ছিল সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন। প্রকল্পের আওতায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সক্ষমতা বাড়াতে পার্কিং সুবিধা, ট্রান্সশিপমেন্ট শেড, ওয়্যারহাউজসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৩ কোটি ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৪ টাকা।

জানা গেছে, এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে মোট ১৮টি দরপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭টি দরপত্র কারিগরি, আর্থিক ও সমন্বিত মূল্যায়নে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়। টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী যৌথ দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে টিয়ানেন এবং ডিএনকো, ঢাকা।

আর একটি প্রকল্পটি হলো লালমনিরহাটের বুড়িমারি স্থলবন্দরের উন্নয়ন কাজ। একই পদ্ধতিতে আহ্বান করা দরপত্রে ১৮টি প্রস্তাব জমা পড়ে, যার মধ্যে ৭টি রেসপনসিভ বিবেচিত হয়। টিইসির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বোচ্চ স্কোরধারী যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজটি পায় একই দুই প্রতিষ্ঠান।

এই প্রকল্পের আওতায় বুড়িমারি স্থলবন্দরে পার্কিং ইয়ার্ড, শেড, ওয়্যারহাউজ এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২৪১ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার ৬৮১ টাকা।

দুটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৭৪ কোটি ৩৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩৭৫ টাকা। এসব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট স্থলবন্দর দুটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।




১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচিসহ ৫ বছরের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করছে সরকার

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। ইতোমধ্যে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে।

 

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের করা লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শনকে সামনে রেখে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে মাসিক ২,৫০০ টাকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০,০৪৮টি পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা এবং স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধাসহ সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে গত ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম চলছে এবং এ পর্যন্ত ২০,৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ১৫৬৭.৯৬ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে, যার ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় দেশের ৪৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার বা প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে ৫টি জেলা তথা খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীর জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। এই কার্ডটি ইলেকট্রনিক পেশেন্ট রেফারেল সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। ৩১ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৬৬৬টি খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ১৬৩৫.০৪ কিলোমিটার। এছাড়া ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বনায়ন সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে, যা স্থানীয় সরকার ও এনজিওদের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হবে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলে পর্যায়ক্রমে “ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব” পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ চালু করা হবে। তরুণদের উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লক্ষ টাকা হতে ১০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বিশেষ করে জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রাপ্তির পূর্বেই সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি এর ভিত্তিতে এই ঋণ দেওয়া সহজীকরণ করা হয়েছে।

এছাড়া দেশের ক্রীড়া ও বিনোদন খাতের উন্নয়নে সারা দেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে আওতায় আনার পরিকল্পনার মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০০ জনকে ভাতা এবং ৩২৫ জনকে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১২-১৪ বছরের শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত ২ মে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে, যাতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি খেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে হাই-টেক বা সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপ্যাল এর কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং এর মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে শুধুমাত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাসমূহে শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।




ইসলামী ব্যাংকের চলমান অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা

দেশের বৃহত্তম ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্য কয়েকটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি)। তাদের মতে, এ পরিস্থিতি আমানতকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। একইসঙ্গে ব্যাংকটিকে ঘিরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিষয়টির রাজনৈতিকীকরণ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতে, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি এখন আর কেবল ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে। ফলে বিষয়টিকে এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হচ্ছে।

বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকার্স সভায় এই উদ্বেগের কথা জানান সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংকার্স সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এতে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা (সিইও) উপস্থিত ছিলেন।

 

সভা শেষে দেশের শীর্ষ ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)–এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যা নিয়ে ব্যাংকাররা খুবই উদ্বেগে আছেন। গভর্নর ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতিকে এখন কেবল ব্যাংকিং খাতের বিষয় হিসেবে নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার

এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন গভর্নর। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)–তে সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট গ্রোথ বা ঋণের প্রবাহ বাড়াতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্যাকেজ নিয়ে আসছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য নতুন প্যাকেজ থেকে ঋণ পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হবে।

মাসরুর আরেফিন বলেন, গভর্নর জানিয়েছেন, রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে পাঠানো তথ্যে অনেক ভুল থাকে বা বিলম্বে দেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রীয় হিসাব-নিকাশে সমস্যা তৈরি করে। বিশেষ করে আমদানি করা পণ্য দামের ক্ষেত্রে অনেক তারতম্য দেখা যাচ্ছে।

 

বর্তমানে বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দাম যাচাই করে এলসি বা বাণিজ্যে যাওয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছে, যাতে অকারণে বেশি দাম দিয়ে দেশের ক্ষতি না হয়।




অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিতে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা দেবে জাপান

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদারে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মধ্যে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো ঋণচুক্তিতে সই করেন।

‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহ্যান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই’ শীর্ষক এ ঋণ কর্মসূচির আওতায় জাইকা বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে।

 

এই সহায়তা দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। জাপান সরকারের ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া (POWERR Asia)’ উদ্যোগের আওতায় এটি প্রথম সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ঋণ। এ উদ্যোগের লক্ষ্য এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সহায়তা করা।

ঋণচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের পক্ষে নোট বিনিময় (এক্সচেঞ্জ অব নোটস) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মোঃ শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।

 

এই কর্মসূচিটি দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এর একটি হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্যটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন শক্তিশালী করা।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ ও জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপে সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর টেকসই পরিচালনা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নত পরিকল্পনা এবং জ্বালানি সাশ্রয় কার্যক্রম জোরদার করে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহ-অর্থায়নে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনসংক্রান্ত সংস্কার কার্যক্রমেও সহায়তা দেওয়া হবে।

এই উদ্যোগ দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমন একটি সময়ে এ সহায়তা পাওয়া গেল, যখন বাংলাদেশ টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

 

চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে জাইকার অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত হলো।




এসডিজি অর্জনে সব অংশীজনদের সহযোগিতা প্রয়োজন

এসডিজি অর্জনের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন অংশীদার, শিক্ষাঙ্গণ, নাগরিক সমাজ সংগঠন, বেসরকারি খাত এবং যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ-বিআইআইএসএস মিলায়তনের আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা কার্যালায় (ইউএনওপিএস) যৌথভাবে ‘তরুণ নেতৃত্ব, টেকসই ভবিষ্যৎ : একসঙ্গে এসডিজি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করে।

সে‌মিনা‌রে প্রধান অতিথি ছি‌লেন বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে। তি‌নি বলেন, আমাদের তরুণদের কণ্ঠস্বর, ধারণা এবং আকাঙ্ক্ষাগুলো আমাদের সব উন্নয়ন কৌশল এবং উদ্যোগে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। সেটা দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন উদ্যোগ হোক, দেশগুলোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা হোক বা আঞ্চলিক সহযোগিতাই হোক।

তি‌নি ব‌লেন, সব তরুণ অংশগ্রহণকারীকে আমি গতানুগতিক চিন্তাভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করা অব্যাহত রাখতে, উদ্ভাবনকে গ্রহণ করতে এবং বিভিন্ন খাত ও সীমান্তের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করছি।

ইন্দ্র মণি পান্ডে বিমসটেক অঞ্চল জুড়ে অভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং যুব সম্পৃক্ততার পুরুত্ব তুলে ধরেন।

সেমিনারে নীতি নির্ধারক, উন্নয়ন কর্মী, শিক্ষাবিদ, যুব নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদাররা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তরুণরা কীভাবে একটি রূপান্তরমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিআইআইএসএস-এর রিসার্চ ফেলো রাফিদ আবরার মিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ও বাজেট ও নীতি কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম তাদের উপস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি অর্জনে যুব-নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবন এবং নীতি নির্ধারণী সম্পৃক্ততার ভূমিকার ওপর আলোচনা করেন।

বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব‌্য দেন। তিনি বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন যাত্রায় মূল অংশীদার হিসেবে তরুণদের ক্ষমতায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোচনা করেন, যেখানে তরুণরা নীতি আলোচনা, উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি উভয়ান অর্থপূর্ণ অন্যদান রাখাতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর (এসডিজি অ্যাফেয়ার্স) অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল।

ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরণ স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি টেকসই উন্নয়নের জন্য যুব সম্পৃক্ততা, এসডিজি স্থানীয়করণ এবং বহু-অংশীজন অংশীদারিত্বকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ইউএনওপিএস-এর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মুরালিধরণ তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, তরুণরা কেবল উন্নয়নের সুবিধাভোগীই নয়, বরং পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার এবং চালিকাশক্তি।

তিনি ২০৩০ অ্যাজেন্ডার অভিমুখে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে যুব নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তারা এখানে অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অধ্যাপক এস এম আব্দুল-আওয়াল এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত অঙ্গীকার এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুব দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন।

এসডিজি স্থানীয়করণ প্রচেষ্টায় যুবকদের অংশগ্রহণ জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নের নেতা হিসেবে তরুণদের ক্ষমতায়নকারী সহযোগিতামূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।




যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ, শিগগির দেশে আনা হবে: গভর্নর

বিদেশে পাচার হওয়া বাংলাদেশের অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে গভর্নর এ তথ্য জানান।

বৈঠকে তিনি ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রম, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে সম্পাদকদের অবহিত করেন।

গভর্নর বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে এরই মধ্যে বেশকিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) উন্নয়ন ও সমন্বয় কার্যক্রম সম্পন্ন হলে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ কয়েকটি বড় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, শামসুল হক জাহিদ, মতিউর রহমান চৌধুরী, মতিউর রহমান, এএমএম বাহাউদ্দীন, শাহেদ মুহাম্মদ আলী এবং মোস্তফা মামুন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররাও এতে অংশ নেন।

বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সংস্কার উদ্যোগ এবং পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।




বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

বার বার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি কার জন্য হচ্ছে তাকে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মঙ্গলবার (৯ জুন) ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। যে কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কার কারণে প্রকল্পটিতে বার বার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে সেই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভায় প্রকল্পের খরচ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া প্রকল্পের অধিকাংশ খরচ বা ব্যয় অস্বাভাবিক বলে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এলজিইডি-পিডাব্লিউডিসহ সব বিভাগের রেট সিডিউল এক না হওয়ায় বিরক্ত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য দ্রুত সময়ে রেট সিডিউল একীভূত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক গাছ ছিল যা দেখে ভালো লাগতো।ঢাকা-বগুড়া সড়কেও গাছ নেই। নগরায়ন নয় গ্রামীণ পরিবেশ পছন্দ প্রধানমন্ত্রীর। সড়কের পাশে যেন ইউক্লিপটাস-ইপিলি-ইপিল গাছ না লাগানো হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
একনেক সভায় অনুমোদিত ১০টি প্রকল্প হলো

‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’, ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’, ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ’, ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) (আর-১৭০) আঞ্চলিক মহাসড়ক (কালাবিবির দিঘী থেকে ঈদমনি) যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ)’ প্রকল্প।

এছাড়া ‘দেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও এ লিফট সংযোজন’, ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ’, ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়)’, ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’, ‘দেশের ৬৫৩টি মাদরাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন’, ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।




বেক্সিমকো-ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারে আস্থা ফিরবে বাজারে : ডিবিএ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

সংগঠনটির মতে, এ সিদ্ধান্ত বাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর করে স্বাভাবিক লেনদেন পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিবিএ জানায়, পুঁজিবাজারে ফ্লোর প্রাইসজনিত অচলাবস্থা দূর করে স্বাভাবিক লেনদেন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে গত ৪ মে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করেছিল তারা।

ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে বলা হয়, বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোর প্রাইস বহাল থাকায় স্বাভাবিক লেনদেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল এবং বাজারে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছিল।

সংগঠনটির দাবি, ফ্লোর প্রাইসের কারণে মার্জিন ঋণগ্রহীতা বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক ইক্যুইটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছিল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছিল।

ডিবিএ জানায়, তাদের আবেদন এবং বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিএসইসির নবনিযুক্ত কমিশন বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা নিরসন, স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও গতিশীল করবে।

ডিবিএ আশা প্রকাশ করেছে, নতুন কমিশনের নেতৃত্বে বাজারের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের পরিপন্থি বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ, আধুনিক, টেকসই ও আস্থাভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংগঠনটি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।




বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার নাম ‘হালাল অর্থনীতি’

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার প্রচলিত পণ্য বাণিজ্যের বাইরে এবার নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে ‘হালাল অর্থনীতি’।

প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফ্যাশন, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, হালাল অর্থায়ন ও পর্যটনসহ নানা খাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি।

আজ (সোমবার) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ও ইন্দোনেশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, হালাল অর্থনীতি শুধু হালাল খাদ্য বা মাংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সরঞ্জাম, হালাল অর্থায়ন এবং পর্যটনের মতো বিস্তৃত খাত অন্তর্ভুক্ত। এসব খাতে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে কাজ করলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন গতি আসতে পারে।

তিনি জানান, আগামী ৮ থেকে ১২ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’। এতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল এক্সপোতে অংশ নেবে। এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ডি-৮ হালাল এক্সপো কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ডি-৮ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে হালাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম।

সভায় ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’ নিয়ে উপস্থাপনা করেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল কমিটি ফর ইসলামিক ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্সের (কেএনইকেএস) ডিরেক্টর জেনারেল পুতু রাহউইধিয়াসা। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিতে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ‘হালাল ভ্যালু চেইন’ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ করতে পারে।

তার উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। গ্লোবাল হালাল ইকোনমি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনডেক্সে দেশটি বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। হালাল খাদ্য খাতে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান চতুর্থ এবং ফ্যাশন ও পোশাক খাতে ষষ্ঠ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হালাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত হলো হালাল খাদ্য। ২০২৩ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে হালাল পোশাক খাতে ব্যয় ছিল ২৭৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যার সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি এবং এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী বলেন, ডি-৮ভুক্ত দেশগুলো কীভাবে তাদের বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনে হালাল পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তা জানার অন্যতম সুযোগ এই এক্সপো। পাশাপাশি বাংলাদেশের হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও এটি সহায়ক হতে পারে।

এর আগে সভায় স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে বাণিজ্যের ভারসাম্যে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। তিনি মনে করেন, ডি-৮ হালাল এক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বহুমুখী হবে এবং হালাল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল যাতে ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬-এ অংশ নিতে পারে, সে লক্ষ্যে এফবিসিসিআই আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।




ঈদের ১০ম দিনে যমুনা সেতুতে টোল আদায় ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা

পবিত্র ঈদুল আজহার ১০ম দিনেও যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে একদিকে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কারণে সেতুতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন চলাচল করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর দুই প্রান্ত দিয়ে ৩০ হাজার ৮২০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৭ জুন) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে অর্থাৎ উত্তরবঙ্গমুখী লেনে ১৪ হাজার ৫৬০টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে অর্থাৎ ঢাকামুখী লেনে পারাপার হয়েছে ১৬ হাজার ২৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩০ হাজার ৮২০টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনো অনেক মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করছেন। ফলে যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি রয়েছে। তবে, আগের কয়েক দিনগুলোর তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কমেছে।

প্রসঙ্গত, দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম যমুনা সেতু। ঈদ উপলক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে সেতুতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।




শিগগিরই দুই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস উঠে যাচ্ছে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস (শেয়ারদরের সর্বনিম্ন সীমা) শিগগিরই তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের গতি ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় পর এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার অথবা আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিশেষ কমিশন সভা আয়োজন করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ১১০ দশমিক ১০ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস ৩২ দশমিক ৬০ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ‘শিগগিরই দুই কোম্পানির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হবে। সেটি আজ সোমবার বা মঙ্গলবারও হতে পারে।’

এদিকে রোববার (৭ জুন) বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। ওই বৈঠকে তিনি জানান, শেয়ারবাজারে আর কোনো ফ্লোর প্রাইস রাখা হবে না; শিগগিরই তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে।

ফ্লোর প্রাইস হলো শেয়ারের দামের সর্বনিম্ন সীমা, যার নিচে কোনো শেয়ারের দাম নামতে পারে না। করোনা মহামারির শুরুতে শেয়ারদরের অস্বাভাবিক পতন ঠেকাতে এ ব্যবস্থা চালু করে বিএসইসি। ২০২০ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হলেও ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্ষেত্রে তা বহাল ছিল। তবে সোমবারের বিশেষ কমিশন সভায় এ দুই কোম্পানির ফ্লোর প্রাইসও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




ব্যবসা সহজ করতে সব কর্মকাণ্ড ডিজিটালাইজেশন হবে: অর্থমন্ত্রী

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে ও হয়রানি কমাতে সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড ডিজিটালাইজেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হচ্ছে কর ব্যবস্থায়। এজন্য আমরা ওখানে খুব জোর দিচ্ছি, কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং অন্যান্য জায়গায়ও। ধীরে ধীরে সব কর্মকাণ্ড ডিজিটালাইজেশন করা হবে।’

 

বুধবার (৩ জুন) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ (ডিএফআই) আয়োজিত প্রাক-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় বন্দরের খরচ কমানো এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের দুর্নীতির প্রসঙ্গও টানেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বন্দরে যে খরচ হয় মানুষের, মাল আসার পর থেকে রিলিজ করা পর্যন্ত, এই খরচ আমরা মেনে নিতে পারি না। তাই ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমিয়ে আনা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

 

ব্যবসায়ীদের অনেক কাঁচামাল এনে সেসব যাচাইয়ের জন্য ঢাকায় পাঠাতে এবং পরে ফল পেতে অনেক সময় লেগে যাওয়ায় বন্দর এবং ব্যাংকের খরচ বাড়ে। সেই সঙ্গে সেসব কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি উল্লেখ করেন, এছাড়া কাস্টম হাউসে পণ্য যাচাইয়ের স্ক্যানিং মেশিন নষ্ট থাকায়ও একই ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের।




আইএমএফের কাছে নতুন করে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমকে সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আবেদন করেছে সরকার। বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচি বিবেচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্কার পরিকল্পনা ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করছেন।

ইভো ক্রজনার বলেন, ‘‘২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় চলমান কর্মসূচিগুলো একটি কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে নতুন বাস্তবতার আলোকে আরও গভীর ও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’’

আইএমএফের বিবৃতিতে ‘‘ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং নিম্ন রাজস্ব আহরণকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’’

সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘‘নতুন কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশের আবেদন আইএমএফ ও সরকারের মধ্যে এমন একটি নতুন কাঠামো তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা প্রতিফলিত করবে এবং সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করবে।’’

‘‘তবে সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির অনুমোদন দেশের বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজন, শক্তিশালী নীতিগত প্রতিশ্রুতি, বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার পরিকল্পনা এবং আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে’’, বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নের জন্য শিগগিরই একটি আইএমএফ স্টাফ মিশন ঢাকা সফর করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ওই সফরের পর সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির আকার, অর্থায়নের পরিমাণ এবং সংস্কারসংক্রান্ত শর্তাবলি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

বিবৃতিতে আইএমএফ বাংলাদেশের প্রতি তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, ‘‘টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তারা বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাবে।’’

অন্যদিকে, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের শীর্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোংয়ের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও বিভিন্ন শিল্প খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মিতসুইয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, বৃহৎ ভোক্তা বাজার এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে সম্ভাবনার প্রশংসা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আইএমএফের নতুন সহায়তা কর্মসূচির উদ্যোগ এবং অন্যদিকে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের অন্যতম বৃহৎ ট্রেডিং ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর একটি প্রতিনিধিদল।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

মিতসুই বৈশ্বিক পর্যায়ে লজিস্টিকস, অবকাঠামো, ধাতু, জ্বালানি ও খাদ্য বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বৈঠকে খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সরকার প্রতিনিধিদলকে জানায়, বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।

পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সেবা ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’-এর আওতায় একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। এর ফলে বিনিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

সাক্ষাৎকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

মিতসুই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো।

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন, এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ইউনিটের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তাকানোবু মুরায়ামা, মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান।

 




দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাজেট ভালো হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে চিন্তায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে। আমাদের খারাপ সময়, ভঙ্গুর অর্থনীতি তার মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেছি, সবাইকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

সরকারের ওপর প্রচুর ঋণের বোঝা জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, সবদিক থেকে অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও এই অবস্থার মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এরপরও বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া চেষ্টা করেছি। কারণ বাজেটের এই অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ যাতে নিশ্চিত করতে পারি এবং অর্থনীতির সুফল যাতে প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে যায় সেগুলো মাথায় রেখে প্রণয়ন করার চেষ্টা করেছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা খুব একটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে আছি। বিগত সরকারগুলো থেকে আশা করি এটা একটা ভালো শুরু হবে। একটু সময় দিতে হবে। শুরুটা আশা করি ভালো হবে। এখান থেকে আমরা সামনের দিকে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব।

গত দুই বছর মানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ একেবারেই শূন্য ছিল, এখন আপনাদের সরকারের তিন মাস পার হলো। বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বা বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো আশ্বাস রয়েছেন কিনা? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। বাংলাদেশের বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে বিনিয়োগ ভিত্তিক অর্থনীতি। টাকা ছাপিয়ে এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেশকে ঋণাত্মক একটা অবস্থায় নিয়ে গেছে। আমাদের এই ঋণের সুদের বাজেট একটা বিরাট অংশ চলে যায়। বাংলাদেশকে যে ঋণ নির্ভর অর্থনীতির দিকে যাচ্ছিলাম, সেখান থেকে আগামী দিনে ফিরে আসার জন্য যে পাবলিক ফাইনান্স ম্যানেজমেন্ট দরকার, আমরা সেভাবেই করার চেষ্টা করছি। যাতে করে ক্রমান্বয়ে ঋণ ওপর নির্ভর কম করে বিনিয়োগের উপর বেশি নির্ভর করতে হবে। আমাদের পরিচালন ব্যয় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে, বিনিয়োগ বেশি বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যে অর্থনীতি বাংলাদেশের মানুষের বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারবে এবং যে উন্নয়নের স্বপ্ন আমরা দেখাতে চেষ্টা করছি, ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির দিকে আমরা যাচ্ছি। সেটা যাতে বাস্তবায়ন হতে পারে। সেই চেষ্টা করছি।




নিলামে উঠছে ফ্রিজার ও জেনারেটরসহ ১০২ কনটেইনার পণ্য

ফ্রিজার, জেনারেটর ও ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন পণ্যের ১০২ কনটেইনার পণ্য অনলাইন নিলাম পদ্ধতিতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।

বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালের মাধ্যমে মোট ৪৪টি লটে ১০২ কনটেইনার পণ্যের নিলামে অংশ নেওয়া যাবে ঘরে বসেই।

মঙ্গলবার (২ জুন) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, কনটেইনার জট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার অংশ হিসেবে অখালাস করা ও নিলামযোগ্য বিভিন্ন পণ্য নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চলতি জুন মাসে ১০২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশন বা অনলাইন নিলাম পদ্ধতিতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘ই-অকশন-৬/২০২৬’ এর আওতায় মোট ৪৪টি লটে এই ১০২ কনটেইনার পণ্য বিক্রি করা হবে। নিলামে ওঠা পণ্যের মধ্যে রয়েছে-বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ,কাগজ, ফেব্রিক্স ও গৃহস্থালি পণ্য, ফ্রিজার, জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার ও লাইম স্টোন ও কোয়ার্টজ পাউডার ইত্যাদি।

আর নিলাম কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় এই নিলাম পরিচালিত হবে। বিডারদের (দরদাতা) সুবিধার্থে সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শন করে অনলাইনে বিড করার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে (http://auction.nbr.gov.bd/auction/301) নিবন্ধন করে অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। তবে অনলাইনের পাশাপাশি জামানতের পে-অর্ডার ও প্রয়োজনীয় আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে দাখিল করতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪’ এর প্রযোজ্য শর্তাবলি মেনে পণ্য খালাস করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ১৮ জুন বেলা ১১টায় ‘ই-অকশন-৬/২০২৬’ এর দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম সংক্রান্ত যেকোনো বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহীদের কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টাল ভিজিট করার অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর।




নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ গড়ে তোলা। যেন দেশের সব মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। একইসঙ্গে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারেন। এজন্য নিয়ন্ত্রণমূলক অর্থনৈতিক কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে এসে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত দেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭ : প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসা। কেননা বাংলাদেশের বাজেটে নিম্ন আয়ের মানুষরাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন। তাই আমরা বাজেটে প্রথমেই দরিদ্র, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং গৃহিণীদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।

তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে বাজেট প্রণয়ন বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ব্যাংকগুলো আন্ডার ক্যাপিটালাইজড। ব্যাংকের টাকা সব লুটে নিয়ে গেছে। ভঙ্গুর এ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে সরকার।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, এ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না। বর্তমানে বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় দারিদ্র্য আরও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় বর্তমানে নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত ব্যয় করছেন মানুষ। এ কারণে ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ প্রদান, ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা দেওয়া হবে। কেননা জিডিপি শুধু শিল্প-কারখানা থেকে আসে না। সংস্কৃতি, ক্রীড়া, কারুশিল্পসহ সৃজনশীল খাতও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।




তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা : বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংক খাতে গত তিন মাসে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এছাড়া দেশে চলতি মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। নীতি সহায়তা ও নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ঋণ পুনঃতপশিল করে নেওয়ার পরেও খেলাপি ঋণ বাড়ার ঘটনা ঘটল।

মার্চ শেষে দেশে মোট খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপির হার বেড়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপির হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।

 




দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, বাংলাদেশে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে দুধ উৎপাদনের পরিধি বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল—‘দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারি: উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। নারীরা শক্তিশালী হলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। দুগ্ধ খামারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বর্তমান সমাজের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, দুগ্ধ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ শুধু প্রশংসনীয়ই নয়, তাদের দক্ষতা উন্নয়নে আরও প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। খামারিদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তা সফল হলে দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হয়।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এ প্রত্যয়কে ধারণ করে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

 

এর আগে প্রতিমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে দুধ বিতরণ করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে শুরু হয়ে খামারবাড়ি মোড় হয়ে কেআইবি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। ভেটেরিনারি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব) কর্তৃক প্রাণিসম্পদ ভবনের সামনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে দুধ বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় ভ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. আব্দুর রহিম ও মহাসচিব ডা. কবির উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইমাম উদ্দীন কবীর। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. বয়জার রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ।

এরপর প্রতিমন্ত্রী দুপুরে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কারওয়ান বাজারস্থ প্রধান কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

এসময় তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, করপোরেশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও সক্ষম হবে।




খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

সরকার দেশের সব খেলাপি ঋণ আদায় করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো পূরণ করার উদ্যোগ নিয়েছি।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ২০ বছরে বাংলাদেশের যত টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ খেলাপি হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটা দেখে বোঝা যায় বিগত সরকার ব্যাংক লুট করার জন্য সহযোগিতা করেছে। আর সেই ঋণের বোঝা এখন জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, লোকদের ভয় দেখানো, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জোর করে নির্বাচন করা হয়েছে। আগস্ট মাসে পালিয়ে গেছে। এত অপমান আর অসম্মানজনকভাবে পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রনায়ককে পালিয়ে যেতে হয়নি।

আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিকদার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে যুক্ত হতে আগ্রহী এডিবি

উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বাস্তবায়িত হতে যাওয়া ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে যুক্ত হতে আগ্রহী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশ সফররত সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

সোমবার (২৫ মে) প্রতিনিধিদলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনার পর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবির প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও এডিবির মধ্যে বিদ্যমান অংশীদারত্বকে আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়।

আমির খসরু বলেন, এরই মধ্যে বাজেট সহায়তাসহ কয়েকটি প্রকল্পে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে একাধিক গ্রোথ সেন্টার, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ডিজিটাল উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার সঙ্গে বাইরের উৎস থেকেও সমপরিমাণ অর্থায়ন আসতে পারে।

এছাড়া, দেশের পুঁজিবাজারে এডিবির সহযোগিতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা খাতেও সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে বলে জানান তিনি।




অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা

বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুসহ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল পুনঃঅর্থায়ন ও সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

 

তিনি জানান, গত তিন বছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। আগে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, পরে তা ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে এটি ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতে চাপ বেড়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে ও আমানতকারীদের আস্থা কমে গেছে। উচ্চ সুদের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এ বিশেষ স্কিম নেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় দেওয়া হবে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মধ্যে রয়েছে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা এবং সিএমএসএমই (কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ) খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা থাকছে। সেই সঙ্গে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব সহায়তা তহবিলের মধ্যে রয়েছে- প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সে ৫ হাজার কোটি টাকা, কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২ হাজার কোটি টাকা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১ হাজার কোটি টাকা, হিমায়িত মাছ ও মাছ রপ্তানিতে ২ হাজার কোটি টাকা, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বিনিয়োগে ১ হাজার কোটি টাকা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ৫০০ কোটি টাকা।

গভর্নর জানান, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য দেওয়া ৫০০ কোটি টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। এটি ঋণ নয়।
২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থান

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ তহবিল পুরোপুরি কার্যকর হলে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার কোটি থেকে প্রায় এক লাখ মানুষের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া হবে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে। এতে আনসার ও ভিডিপির লাখো সদস্য উপকৃত হবেন বলে জানানো হয়।
সুদের হার কত হবে?

গভর্নর বলেন, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ স্প্রেড রাখতে পারবে। ফলে বড় ঋণগ্রহীতারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি হওয়ায় সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ছোট ঋণগুলোর ক্ষেত্রে এ হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু হবে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়বে, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরে আসবে।




মালয়েশিয়ায় ফার্মাসিউটিক্যালস প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদর্শনী ‘এসইএকেয়ার ২০২৬’-এ প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের সক্রিয় উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় এই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৃহস্প‌তিবার (২১ মে) কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ‌্য জা‌নি‌য়েছে।

বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হয়, ২০–২২ মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথ দাতো হাজা হানিফা হাজার তৈয়ব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্বের নয়টি দেশের ১০৫টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

ডেপুটি মিনিস্টারকে বাংলাদেশ হাই কমিশনের বুথে স্বাগত জানান হাইকমিশনার এবং বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

 

হাইকমিশনার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ওষুধপণ্যের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের বুথে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনীর ব‍্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া, এরেবা ক্যাপসুলস লিমিটেড পৃথক বুথে ওষুধপণ্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করছে।

মালয়েশিয়ার ডেপুটি মিনিস্টার অব হেলথ বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো মালয়েশিয়ার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।

পরবর্তী সময়ে হাইকমিশনার এরেবা ক্যাপসুলস লিমিটেডের বুথ পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি বলেন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে পণ্যের বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ হাইকমিশন নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, এ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ঔষধশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বাজারে প্রবেশাধিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

মেলার প্রথম দিনে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ঔষধশিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও অংশীজন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশিগণ বাংলাদেশের বুথসমূহ পরিদর্শন করেন।

এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মালয়েশিয়াসহ সমগ্র আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশে উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধপণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানির নতুন বাজার সম্প্রসারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




বাজেটে ব্যাংক খাতের জন্য নীতিসহায়তা চায় বিএবি

দেশের নাজুক ব্যাংকিং খাতের পুনরুদ্ধারে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে নীতি সহায়তা চেয়েছে ব্যাংক খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ সহায়তা চেয়েছে। সাক্ষাতকালে তারা আসন্ন জাতীয় বাজেট ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা দেশের ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় রাজস্ব, নিয়ন্ত্রণমূলক ও কাঠামোগত পদক্ষেপ সম্পর্কে তাদের সুপারিশ তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে বিএবি নেতৃবৃন্দ ব্যাংকিং শিল্পের বর্তমান গুরুতর সংকটগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ (এনপিএল), মূলধন পর্যাপ্ততায় চাপ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা এবং শাসন ব্যর্থতা, দীর্ঘস্থায়ী আইনি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জনআস্থা হ্রাস।

বিএবি অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করে যে ব্যাংকিং শিল্পের সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) প্রায় ৩%-এ নেমে এসেছে, যা খাতজুড়ে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে এবং শিল্প প্রবৃদ্ধি, এসএমই অর্থায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতাকে সীমিত করেছে।

বিএবি জোর দিয়ে বলে যে ব্যাংকিং খাতের অর্থবহ পুনঃমূলধন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং যেসব মালিক ও গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে অর্থ লুট করেছে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় শেয়ার ও সম্পদ ধরে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিএবি দ্রুত আইনি পুনরুদ্ধার, অবৈধভাবে অর্জিত শেয়ার ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় উন্নত প্রয়োগমূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে।

সমিতি প্রস্তাবিত ব্যাংকিং রেজোলিউশন কাঠামোর ধারা ১৮কে-র কিছু বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং জানায় যে বিতর্কিত সাবেক স্পনসর বা বড় ঋণখেলাপিদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসার কোনো সুযোগ রাখা হলে তা আমানতকারীদের আস্থা, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত প্রধান সুপারিশসমূহ:

অভ্যন্তরীণ মূলধন গঠন ও বাসেল III সম্মতি সমর্থনে ব্যাংকগুলোর জন্য কর্পোরেট কর ৩০%-এ হ্রাস করা।
পাঁচ বছরের জন্য ঋণ ক্ষতির বিধানের সম্পূর্ণ কর কর্তনযোগ্যতা।

মূলধন সংরক্ষণকে উৎসাহিত করতে স্টক লভ্যাংশের উপর অতিরিক্ত কর অপসারণ।
রাইটস শেয়ার ইস্যু ও পুনঃমূলধন উদ্যোগের দ্রুত অনুমোদন।

অনুমোদিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার আওতায় পরিচালিত ব্যাংকগুলোর জন্য এসএমই পুনর্অর্থায়ন, সবুজ অর্থায়ন, এলটিটিএফ ও অন্যান্য পুনর্অর্থায়ন প্রকল্পে অব্যাহত প্রবেশাধিকার।

পুনরুদ্ধার ও মূলধন সংগ্রহে সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয়।
দ্রুত নিষ্পত্তি ও বিপদগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আর্থিক আদালত এবং একটি কেন্দ্রীভূত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) প্রতিষ্ঠা।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের অধীনে পরিবারের সংজ্ঞা স্ত্রী/স্বামী, নির্ভরশীল সন্তান ও আর্থিকভাবে নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সীমিত রেখে শাসন বিধানের যৌক্তিকীকরণ।

একটি আধুনিক নগদবিহীন আর্থিক ইকোসিস্টেম সমর্থনে ডিজিটাল ইন্টারঅপারেবিলিটি এবং বাংলা কিউআর গ্রহণের প্রসার।

বিএবি সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করে এবং আস্থা পুনরুদ্ধার, শাসন শক্তিশালীকরণ ও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকল স্টেকহোল্ডারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-র চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার এবং বিএবি-র ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দ— ব্যাংক এশিয়া পিএলসির চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহীর, পূবালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান রাশেদ আহমেদ চৌধুরী। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ




৬ ব্যাংক থেকে আরও ৮৫ মিলিয়ন ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে মার্কিন ডলার কেনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ছয়টি ব্যাংক থেকে ৮৫ মিলিয়ন বা সাড়ে আট কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

 

এর আগে সোমবার (১৮ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমপিএ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়েও প্রতি ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ছয় দশমিক ০৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয় প্রেরণকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। সে কারণে ডলারের দর একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকাতেই কেনার এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরেই বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ডলার কেনাবেচা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বড় অঙ্কের ডলার বিক্রি করা হলেও, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধীরে ধীরে কেনার মাধ্যমে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, সর্বশেষ এ ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কিছুটা শক্তিশালী হবে। তারা বলেন, রিজার্ভের চাপ ও বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতির কারণে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিটি পদক্ষেপই মুদ্রাবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। ফলে ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ধরনের হস্তক্ষেপ আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে।




৫ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়লো সরকার

দেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যকে তুলে ধরে নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ৫ টাকা মূল্যমানের কারেন্সি নোট বাজারে ছেড়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে নতুন এ নোট প্রচলনে আনা হয়েছে। অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের এই ৫ টাকার নোট মুদ্রণ করা হয়েছে।

 

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও এটি সরবরাহ করা হবে।

নতুন নোটটির আকার ১১৭ মিলিমিটার × ৬০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নোটের সম্মুখভাগের বাম পাশে ঢাকার ঐতিহাসিক তারা মসজিদের ছবি রয়েছে। এছাড়া মাঝখানে জাতীয় ফুল শাপলার প্রস্ফুটিত নকশা সংযোজন করা হয়েছে। নোটের পিছনভাগে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর ছবি।

 

নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ সম্বলিত জলছাপ, যার নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ ‘৫’ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম রয়েছে।

নোটের বাম পাশে ২ মিলিমিটার প্রশস্ত নিরাপত্তা সুতা সংযুক্ত করা হয়েছে, যা আলোর বিপরীতে স্পষ্ট দেখা যাবে। এছাড়া সম্মুখভাগের নিচের অংশে মাইক্রোপ্রিন্ট হিসেবে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ লেখা মুদ্রিত রয়েছে।

নতুন ৫ টাকার নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা যথারীতি চালু থাকবে।

এদিকে, মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ৫ টাকার ‘স্পেসিমেন’ বা নমুনা নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে। বিনিময়যোগ্য নয় এমন এ নমুনা নোট বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।




আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের আওতা ও নেটওয়ার্ক বাড়ানো হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের আওতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যে জায়গাগুলো এতদিন রাজস্ব আদায়ের বাইরে ছিল, সেগুলোকে এবার আওতার মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান যে, সরকার এখন সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

সোমবার (১৮ মে) শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাজস্ব আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে আমাদের রাজস্ব আদায়ের হার একেবারেই নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, যা কোনোভাবেই এই অবস্থায় রাখা যাবে না। একটি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে অর্থায়ন প্রয়োজন, সেটি অবশ্যই বাড়াতে হবে। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি রিফর্ম বা সংস্কার প্রোগ্রামে যাওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের নেটওয়ার্ক বড় করা হবে।

তিনি বলেন, বহুদিন ধরে নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তা বড় হয়নি। ফলে ঘুরেফিরে যারা কর দিচ্ছেন, তাদের ওপরই বারবার চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেকে হয়তো ন্যূনতম ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে হলেও নেটওয়ার্কের আওতায় আসবেন এবং এ বিষয়ে সবাইকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, যত বেশি মানুষকে করের নেটওয়ার্কে আনা যাবে, সেটি শেষ পর্যন্ত জনগণের জন্যই সুবিধাজনক হবে। কারণ রাজস্ব আদায় যত বেশি হবে, তার সুফল দেশের মানুষের কাছেই পৌঁছাবে।

বর্তমান সরকারকে একটি নির্বাচিত সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে যেখানে সুফল কিছু নির্দিষ্ট লোকের পকেটে যেত, এখন তা যাবে সরাসরি বাংলাদেশের মানুষের কাছে। ফলে এখানে জনগণের জন্য একটি ইনসেনটিভ থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে এখনই বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির দাবি না করলেও, এই প্রবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে আসবে। কতটুকু প্রবৃদ্ধি হতে পারে তা মাথায় রেখেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে এবং আগামী দিনে রাজস্ব যত বাড়বে, প্রবৃদ্ধির হারের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও তত বৃদ্ধি পাবে।

এবারের বাজেটের মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধি, পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন কৌশলকে সামনে রেখে এবারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিগত সময়ে কিছু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, দুর্নীতি কিংবা অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যেসব প্রকল্প এসেছে, সেগুলো আইএমইডি (বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) আইডেন্টিফাই বা চিহ্নিত করবে। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার প্রতিফলন আগামী দিনের বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্রে দেখা যাবে।

নতুন প্রকল্পের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার মনে করে প্রকল্পগুলো নতুনভাবে হওয়া উচিত, কারণ সেগুলো সময়মতো শেষ করতে হবে। আর বিগত দিন থেকে যে অসমাপ্ত কাজগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো কতটুকু সমাপ্ত করা হবে তা রিভিউ বা পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে যেসব প্রকল্পের আসলে কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই, সেগুলো সরাসরি বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়কর প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

আসন্ন ২০২৬-২৭ বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে মানববন্ধন করেছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

রোববার (১৭ মে) দুপুর ১২টার দিকে মোটরসাইকেল চালকরা এনবিআর ভবনের সামনের সড়কে সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল রেখে কর্মসূচি পালন করেন।

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চালকরা জানান, আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করে অগ্রিম কর (এআইটি) বা বাড়তি শুল্ক আরোপের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা রাস্তায় নেমেছেন।

তাদের দাবি, মোটরসাইকেল এখন আর কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

 

এ কে এম ইমন নামের একজন চালক বলেন, ‘একটি মোটরসাইকেল কেনার সময়ই আমাদের মোটা অঙ্কের শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয়। এরপর নতুন করে আবার কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা চাই এই সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুক।’

চালকরা জানান, গত কয়েক মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। নতুন করে কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তাই মোটরসাইকেল করমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তারা।




ঈদের আগে চামড়া শিল্প নগরীতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ শিল্পমন্ত্রীর

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সাভারের হেমায়েতপুরের চামড়া শিল্প নগরীতে পুলিশের বাড়তি টহলদারির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

রোববার (১৭ মে) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে টাস্কফোর্সের ৯ম সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সাভারে চামড়া শিল্প নগরীর ২০০ একর জমিতে কোনো বাউন্ডারি নেই। এখানে প্রায়ই চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ আসে। শিল্প অঞ্চলের নিরাপত্তা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রয়োজনে আর্ম ব্যাটালিয়ন আনসার বাহিনীর দুই-একটা ইউনিটকে কাজে লাগাতে হবে। ঈদের আগে আরও কিছু বাড়তি টহলের ব্যবস্থা করতে হবে। ওখানের ব্যবসায়ীরা চান নিরাপত্তা জোরাদার করা হোক। প্রয়োজনে তারা প্রশাসনের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতেও প্রস্তুত রয়েছেন।

সভায় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিবেশ অধিদপ্তর, বেজা, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (রেপিড) এবং চামড়া শিল্পের মালিকদের সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




নারী উদ্যোক্তাদের সফল্যই বাংলাদেশের সাফল্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নারী উদ্যোক্তাদের সফল্যই বাংলাদেশের সাফল্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, কী ভয়ংকরভাবে শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ হ্রাস পেয়েছে। আমাদের সরকারের সময়ও এমন সংকট দেখেছি। তখন আমাদের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেখিয়েছেন সংকটকে কীভাবে সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হয়।

 

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘একসেলেরাটিং ওমেনস এন্টারপ্রেনিউরশিপ ফর ইনক্লুসিভে গ্রোথ: রেকমেন্ডেশন রিপোর্ট শেয়ারিং ফর ন্যাশনাল বাজেট ২৬-২৭’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নারী উদ্যোক্তারা যেসব নীতি উপস্থাপন করেন তা শুধু আলোচনা করলে হবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে। নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কৃষিবান্ধব ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সময় কৃষকদের ১২ লাখ পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছিল। তেমনি আমাদের বর্তমান সরকার মনে করে নারীবান্ধব হতে হবে, নারীর মাধ্যমেই অগ্রগতি পরিমাপ করতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বজনীন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিকার্ড চালু করা হয়েছে, যা শুধু এশিয়া না পুরো বিশ্বে প্রথম। নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য সহজ লাইসেন্স পাস, সহজ এসএমই লোনের জন্য নতুন নীতিমালা করবে সরকার। কারণ সরকার মনে করে, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি কুটিরশিল্প হচ্ছে বাংলাদেশের প্রাণ। এদের সাফল্য মানেই বাংলাদেশের সাফল্য।

তিনি আরও বলেন, নারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। সরকার দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করছে।

ওয়েব-এর প্রেসিডেন্ট নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল হাই সরকার এবং জাতীয় সংসদের সদস্য হেলেন জেরিন খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যও রাখেন নাসরিন ফাতেমা আউয়াল।




লুটপাটের ঋণ আলাদা শ্রেণিতে রাখার পরামর্শ, কমতে পারে খেলাপি ঋণ

ব্যাংকিং খাতে যেসব ঋণ সরাসরি লুটপাট বা অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ হয়েছে, সেগুলোকে সাধারণ খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে আলাদা করার পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ ধরনের ঋণ পৃথক শ্রেণিতে রাখলে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত খেলাপি ঋণের চাপ কমবে এবং দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়, প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টর: জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ মত তুলে ধরেন। ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

 

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্র্যাক ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ বলেন, যেসব ঋণ লুটপাটের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোকে খেলাপি হিসাবের বাইরে রাখা গেলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এতে নতুন করে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বাড়বে এবং তারা পুনরায় কার্যকরভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো থেকে তুলনামূলক বেশি ঋণ বিতরণের সুযোগ থাকায় লুটপাটকারীরা এসব ব্যাংককে টার্গেট করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে ১৯৯৩ সালেই খেলাপি ঋণসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হলেও বাংলাদেশে এ ধরনের আইন এসেছে অনেক পরে, ২০২৩ সালে। তার ভাষ্য, দেশের বিদ্যমান খেলাপি ঋণ আইনে এখনো বিভিন্ন দুর্বলতা রয়ে গেছে, যা অনিয়মের সুযোগ তৈরি করেছে।

 

ফারুক মঈনউদ্দীনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, লুট হওয়া ঋণকে সাধারণ খেলাপি ঋণের তালিকায় না রেখে আলাদা স্লটে নেওয়া হলে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের চাপ কমবে। তিনি এটিকে ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি “উদ্ভাবনী সিদ্ধান্ত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এতে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম হায়দার বলেন, গত ১৫ বছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের ব্যাংক থেকেই ব্যাপক লুণ্ঠন হয়েছে, যার প্রভাব এখন পুরো ব্যাংকিং খাতে স্পষ্ট। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু উদ্যোগ নিলেও তার দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনো দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের কিছু শিল্পগ্রুপ বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তুললেও সেই অর্থের বড় অংশ এসেছে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে লুটপাটের মাধ্যমে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। গত দুই বছরে নতুন বিনিয়োগ সম্প্রসারণ হয়নি, বরং পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও কলামিস্ট ড. মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ইসলামী ব্যাংকিং জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ওই সময় থেকেই ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাংক খাতে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের দুর্বলতা, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ ও ব্যবসায়িক প্রভাব বাড়তে থাকে।

তার মতে, ২০০১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে পারিবারিক মালিকানা, স্বজনপ্রীতি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং করপোরেট-রাজনৈতিক দখলদারিত্ব বেড়ে যায়। আর চতুর্থ প্রজন্মে রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান, তারল্য সংকট, অর্থপাচার, আস্থাহীনতা ও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় ইসলামী ব্যাংকগুলোও ব্যাপকভাবে দখলদারিত্বের শিকার হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।




সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার হচ্ছে তা গালগল্প: অর্থ উপদেষ্টা

সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তাকে গালগল্প হিসেবে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, ‘সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার হচ্ছে তা গালগল্প। এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিগত সময়ে ঘরে, ব্যবসায় ও সরকারে আয়ের টান পড়েছিল। সেই টান এতটাই ব্যাপক ছিল যে নিম্ন-মধ্যবিত্ত অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে, যা খুবই মর্মান্তিক। এর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সমাজে ভাঙন ধরেছে। সে সময় ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে গিয়ে পুঁজি পায়নি।’

আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে শনিবার (১৬ মে) প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘পতিত সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করতো। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার এরকম কোনো সিন্ডিকেটের কাছে কোনো খাতকেই ইজারা দিতে চায় না, বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়। বিগত সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ ঋণ করে লুটপাট করেছে। অতীতে ধমকাধমকির মাধ্যমে তথ্য জালিয়াতি করে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে। বর্তমান সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোর সব তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।’

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি জানান, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়া ছাড়াও আমদানি খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে সীমিত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ।

‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ বিতর্কে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (নিটার) বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম ও গোলাম কাদির রবু। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।