মেঘনা লাইফের বার্ষিক সাধারণ সভায় ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর ২৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা আজ ভার্চ্যুয়াল প্লাটফর্ম-এ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারগণের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।

কোম্পানীর চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ (পাভেল), পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, এ.এন.এম. ফজলুল করিম মুন্সী, মোঃ মঈন উদ্দিন, সবিতা ফেরদৌসী, শারমিন নাসির, দিলরুবা শারমিন ও প্রফেসর আনসার আলীসহ অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তারেক এফসিএসহ উর্দ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন। বার্ষিক সাধারণ সভা সঞ্চালন করেন এএমডি ও কোম্পানী সচিব এনামুল হক।

মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি ২০২৪ সালে ৩৩৬ কোটি টাকা মোট প্রিমিয়াম অর্জন করেন। কোম্পানীর বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ ১,৭৯৯ কোটি টাকা। কোম্পানী ২০২৪ সালে ৩৬৩.৫০ কোটি টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করেছে। ২০২৪ সালে কোম্পানীর শেয়ারপ্রতি আয় ১.৬১ টাকা।

বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে কোম্পানীর চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, কার্যক্রম শুরুর পর হতে বিগত বছর সমূহে মেঘনা লাইফ ৪,১৫০ কোটি টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করেছে এবং ২০২৪ সালে গ্রাহকের মৃত্যুদাবী বাবদ ৮.১৮ কোটি টাকা, কিস্তি বীমার সুবিধা বাবদ ১০১.১২ কোটি টাকা, মেয়াদ পূর্তি দাবী বাবদ ১৬৬.০২ কোটি টাকা, সমর্পণ দাবী বাবদ ৮.০৫ কোটি টাকা এবং বোনাস বাবদ ৮০.০২ কোটি টাকাসহ সর্বমোট প্রায় ৩৬৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এই পরিসখ্যানই বলে দেয় মেঘনা লাইফ দাবী পরিশোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পরিশেষে কোম্পানীর চেয়ারম্যান মহোদয় তার বক্তব্যে ২০২৫ সালের জন্য যথাযথ কর্মপরিকল্পনাগ্রহণএবং কোম্পানীর ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এবং কোম্পানীর সকলস্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারী, বীমাকর্মী, পলিসি হোল্ডার ও শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।




‘যতদিন ক্ষমতায়, ততদিন আর্থিক খাতে সংস্কার’

ক্ষমতায় যতদিন থাকবেন, ততদিন পর্যন্ত আর্থিক খাতের সংস্কার করে যাবেন বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন। এই সময়ের মধ্যেই সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে দেশকে যতদূর সম্ভব এগিয়ে নিতে চাই।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুরে কৃষি ব্যাংক স্টাফ কলেজে বৃক্ষরোণন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি।

সালেহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেভাবে টাকা পাচার হয়েছে, যেভাবে ব্যাংকিং খাতে লুটপাট হয়েছে, সেটি পৃথিবীর কোনো দেশে হয়নি। অন্যান্য ব্যাংককে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে সে তুলনায় কৃষি ব্যাংকের অবস্থা বেশ ভালো। এ ছাড়া দেশে কৃষির বিপ্লবে কৃষি ব্যাংকের অবদান সবচেয়ে বেশি।

অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।




রাজশাহীতে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বিষণ্নতা

রাজশাহী শহরের অর্ধেকের বেশি তরুণ বিষণ্নতায় ভুগছেন। এক গবেষণায় এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার।সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজশাহী নগরীর ৫৭ শতাংশের বেশি তরুণ বিষণ্নতায় ভুগছেন। তরুণদের চেয়ে বেশি বিষণ্ন তরুণীরা।
‘থাই জার্নাল অব পাবলিক হেলথ’-এ প্রকাশিত এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের ছয়জন গবেষক। এই গবেষণা চলাকালে রাজশাহী নগরীর কাজলা, তালাইমারী, সাহেববাজার এবং বিন্দুর মোড় থেকে ১৮ বছরের বেশি ৪৫০ জন তরুণ-তরুণীকে অংশগ্রহণকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটান এবং নির্দিষ্ট ধরনের পোস্ট ও পেজ অনুসরণ করেন, তাদের মধ্যে বিষণ্নতার হার বেশি। তরুণদের বিষণ্নতার হার ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ। আর তরুণীদের মধ্যে বিষণ্নতার হার ৬২ দশমিক ১ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি বিষণ্নতা দেখা গেছে ২১ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশই ছিলেন এই বয়সের। পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার নিয়ে বিষণ্ন থাকার কথাও জানিয়েছেন তারা। গবেষণায় বিষণ্নতার মাত্রা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কেল ‘পেশেন্ট হেলথ কুইশ্চেনেয়ার-৯’। ফলাফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ ছিলেন গুরুতর বিষণ্নতায় আক্রান্ত, আর ২০ শতাংশের ছিল মাঝারি ধরনের উপসর্গ। ফেসবুক, এক্স ও পিন্টারেস্ট ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিষণ্নতার মাত্রা অন্যদের তুলনায় বেশি। যারা দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটান, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা বেশি দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ঘুমে ব্যাঘাত, শক্তি হ্রাস, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, ব্যর্থতার অনুভূতি এবং আত্মহত্যার চিন্তার মতো উপসর্গ বেশি পাওয়া গেছে।গবেষণায় প্রায় ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা মনে করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটানো সময় তাদের সুস্থতার জন্য ক্ষতিকর। গবেষণায় আরও দেখা যায়, সেলিব্রেটি, মডেল, গেমিং কনটেন্ট, ফানি ভিডিও এবং পোষা প্রাণীর পেজ অনুসরণকারীদের মধ্যে বিষণ্নতার হার বেশি। অন্যদিকে ফেসবুকের বন্ধু, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সংবাদ কিংবা বিনোদনমূলক পেজ অনুসরণকারীদের মানসিক চাপ তুলনামূলকভাবে কম।গবেষণার প্রধান গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একদিকে যেমন সংযোগের শক্তিশালী মাধ্যম, অন্যদিকে এটি তরুণদের নিঃসঙ্গতাও বাড়ায়।’
তিনি বলেন, ‘তরুণরা অনলাইনে যেসব কনটেন্ট দেখে তারা এর মানসিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন নয়। সামাজিক মাধ্যমে জীবনের সাজানো ছবি দেখে তারা নিজেদের জীবন নিয়ে হতাশ হয় এবং আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।’
রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ফলে ঘুমের সময়সূচি ব্যাহত হয়, যা মানসিক স্থিতিশীলতার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে বলে গবেষকেরা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব রোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল লিটারেসি প্রোগ্রাম, অভিভাবকদের সন্তানদের স্ক্রিন টাইমে নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বাড়ানো; মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচারণা, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সময় ব্যবহারের সতর্কতা, অ্যালগরিদমিক নিয়ন্ত্রণ করার উপায় অবলম্বন করা।
গবেষক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, ‘বাংলাদেশ ডিজিটাল মাধ্যমকে যত বেশি গ্রহণ করছে, তত বেশি মানসিক প্রতিরোধক্ষমতা এবং সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। তা না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই।’



মেয়েরাই নন, পুরুষরাও করে শুধু আলোচনায় আসে না: কাজল

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের পরিচালনায় বলিউড অভিনেত্রী কাজলের নতুন সিনেমা ‘সরজমিন’। এতে অভিনয় করেছেন সাইফ পুত্র ইব্রাহিম আলি খানও।

সম্প্রতি এই সিনেমা নিয়ে দেওয়া এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিককালে চেহারায় নানা ধরনের সার্জারি, ফিলার্স ও বোটক্স করার মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয় কাজলকে। তার কাছে এই বিষয়ে মতামত চাওয়া হলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই প্রশ্নের উত্তর দেন অভিনেত্রী।

কাজল বলেন, আমার মনে হয় এটা যার যার নিজস্ব বিষয়। যে যেভাবে নিজেকে দেখতে ভালোবাসেন ও এই বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তারা চেহারায় নানা পরিবর্তন আনতেই পারেন। এটা একান্তই ব্যাক্তিগত বিষয়।

তিনি বলেন, ছুরি কাঁচি চালিয়ে চেহারা বদলে ফেলাটা এমন কোনও বড় বিষয় নয় বলেই আমার মনে হয়। তার থেকেও আমার যেটা মনে হয়, শুধু মহিলারাই নন পুরুষরাও কিন্তু সার্জারির আশ্রয় নিয়ে নিজের চেহারা বদলান অনেক সময়। তবে তা সেভাবে আলোচনায় আনা হয় না।

আরও যোগ করে বলেন, তারকা হোন বা আমজনতা এটা একেবারেই তাদের নিজস্ব পছন্দ। এটা খুব সাধারণ একটা বিষয়। এটা নিয়ে কটাক্ষ বা কোনও নেতিবাচক আলোচনা হওয়া অর্থহীন।

অন্যদিকে বার্ধক্য নিয়ে বলতে গিয়ে কাজল বলেন, আমার মনে হয় বয়স হওয়া নিয়ে এত ভাবনার কিছু নেই। প্রকৃতির নিয়মে বয়স বাড়বেই এটিকে স্বাভাবিকভাবেই নিতে হবে।

এই অভিনেত্রীর কথায়, জীবনের সমস্ত বয়সকে উপভোগ করতে জানতে হয়। এতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। যারা কম বয়সে প্রয়াত হয়েছে তারা যে জীবনটাকে আরও বেশিদিন দেখতে পেলেন না। বয়স হওয়াটা উপভোগ করতে পারলেন না এটা আমাকে কষ্টই দেয়। তাই আমার মনে হয় বয়স বাড়াটা এমন কোনও ভয়ানক বিষয় নয়।




আবারো গোপালগঞ্জে যাব, গ্রামে-উপজেলায় কর্মসূচি করব: নাহিদ ইসলাম

আবারও গোপালগঞ্জ যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা আবারও গোপালগঞ্জে যাব। আমরা জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রত্যেকটা উপজেলায় প্রত্যেকটা গ্রামে কর্মসূচি করব। গোপালগঞ্জের প্রতিটা ঘরে ঘরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পতাকা উড়বে। গোপালগঞ্জ মুজিববাদীদের হবে না, বাংলাদেশপন্থীদের হবে।

আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

ফেসবুক পোস্টে নাহিদ বলেন, গোপালগঞ্জ নিয়ে আমাদের অবস্থান গতকালের বক্তব্যেই পরিষ্কার বলা হয়েছে। পুরা বাংলাদেশের প্রতি আমাদের যে কমিটমেন্ট, গোপালগঞ্জের প্রতিও আমাদের সে কমিটমেন্ট।

গোপালগঞ্জের অধিবাসীদের প্রতি রাজনৈতিক বৈষম্যের আমরা বিরোধিতা করি। গোপালগঞ্জ ও পুরো বাংলাদেশকে আমরা মুজিববাদী সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করব। আওয়ামী লীগ যুগের পর যুগ ধরে গোপালগঞ্জের মানুষের জীবনকে বিপন্ন করেছে, মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বেইনসাফি করেছে। আমরা বলেছি, আমরা এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাব।

তিনি আরো বলেন, আমরা যুদ্ধের আহ্বান নিয়ে যাইনি। আমাদের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালায় আমাদের ওপর। যে রকমটা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সব সময় একটা গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়।

গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের এত হত্যাযজ্ঞের পরেও ৫ আগস্টের পরে অনেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ আনতে চেয়েছিল। তাদের মনে রাখা উচিত, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয় আর, এটা একটা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। ৫ আগস্টের পরে আমরা বহুবার বলেছি, আমরা আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় জুলাই গণহত্যার বিচার চাই। কিন্তু ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের লোকদের ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গ্রেপ্তার হলেও কোর্ট থেকে জামিন নিচ্ছে, থানা থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদের দোসর এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ঘাপটি মেরে আছে, যাদের টাকা দিয়ে কিনে ফেলা যায় বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পুরো বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার নেতাকর্মীরা গতকাল গোপালগঞ্জে ছিল। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী যেভাবে ইনস্ট্রাকশন দিয়েছে, সকালের নাশকতার পরেও সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পেয়েই আমরা গোপালগঞ্জে প্রবেশ করেছি। পদযাত্রা করিনি, পথসভা করেছি শুধু। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমাদের লোকজনকে আসতে দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। এর পরেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পথসভা শেষ করেছি। যাওয়ার পথে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। নিরাপত্তাবাহিনী যেভাবে ইনস্ট্রাকশন দিয়েছে, আমরা সেভাবে সেখান থেকে বের হয়েছি।

চারজনের মৃত্যুর খবরে নাহিদ বলেন, আমরা চারজনের মৃত্যুর কথা শুনেছি। কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডজ্ঞানকে আমরা সমর্থন করি না, প্রত্যাশা করি না। সন্ত্রাসীদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা যদি সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিত, তাহলে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এ দায়ভার সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে। আমরা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সন্ত্রাসীদের বিচার দাবি করছি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, সারা দেশে এ গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক আরো বলেন,  কমিটমেন্ট করেছিলাম আমরা গোপালগঞ্জে যাব। আমরা গেছি এবং শহীদের রক্তের শপথ নিয়ে ঘোষণা করছি যে মুজিববাদকে গোপালগঞ্জ ও বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়াতে দেব না। আমরা আবারও গোপালগঞ্জে যাব। আমরা জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রতিটা উপজেলায় প্রত্যেক গ্রামে কর্মসূচি করব। গোপালগঞ্জের প্রতিটা ঘরে ঘরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পতাকা উড়বে। গোপালগঞ্জ মুজিববাদীদের হবে না, বাংলাদেশপন্থীদের হবে।

তিনি বলেন, শহীদ বাবু মোল্লার গোপালগঞ্জ, শহীদ রথীন বিশ্বাসের গোপালগঞ্জকে আমরা পুনরুদ্ধার করব। মকসুদপুরে, কোটালীপাড়ায় আমাদের শহীদদের কবর রয়েছে। এ মাটি মুজিববাদীদের হতে দেব না। বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও মুজিববাদীর হবে না ইনশাআল্লাহ।

যারা গতকালের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন, রাস্তায় নেমেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। ফরিদপুরে পদযাত্রায় দেখা হবে, যোগ করেন তিনি।




সূত্রাপুর থানায় অপরাধ দমনে ওসি সাইফুল ইসলামের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গতিশীল পুলিশিং

সূত্রাপুর থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি, অপহরণসহ নানা অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ে যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাতে থানার জনসাধারণের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি ও আস্থা। দালালমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত সেবার যে প্রতিশ্রুতি তিনি শুরুতেই দিয়েছিলেন, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেছে থানার প্রতিটি স্তরে।

ওসি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এখন থানা জুড়ে চলছে অপরাধবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযান, ছিনতাই প্রতিরোধ, দাগি আসামিদের ধরপাকড় ও টহল কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তিনি নিজেই নিয়মিতভাবে প্রতিটি পুলিশ ফাঁড়িতে আকস্মিক পরিদর্শনে যান, মাদক স্পটগুলোতে হানা দেন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে অপরাধচক্রের কার্যক্রম প্রতিহত করতে নির্দেশনা দেন।

থানা থেকে দালাল চক্রকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে ইতিমধ্যে তিনি একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। থানার আশপাশে ও অভ্যন্তরে সন্দেহভাজনদের ওপর বিশেষ নজরদারি বসানো হয়েছে। অভিযোগ জমা, মামলা রেকর্ড কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ক্ষেত্রে কোনো দালালের প্রয়োজন নেই—এমন বার্তা বারবার প্রচার করছেন তিনি।

থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। চুরি-ডাকাতি সহ নানা অপরাধ প্রবণতা রোধে দিনরাত পরিশ্রম করছেন তিনি ও তার টিম। তদ্ব্যতীত, বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, যা তাকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে স্থানীয় জনগণের কাছে।


সূত্রাপুর থানা এলাকায় মাদককে সবচেয়ে বড় সামাজিক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ওসি সাইফুল ইসলাম। তাঁর মতে, মাদক সব ধরনের অপরাধের মূল উৎস। তাই মাদক নির্মূল করলেই অপরাধের অনেকটাই কমে আসবে। এই নীতিতে পরিচালিত হয়ে তিনি পুরো থানা জুড়ে চালাচ্ছেন ধারাবাহিক অভিযান।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “অপরাধীরা যতই শক্তিশালী হোক, ছাড় দেওয়া হবে না। আমার দায়িত্ব পালনে কোনো পেশিশক্তিকে ভয় পাই না। জনগণের সেবাই আমার অঙ্গীকার।”
তিনি বলেন, “মাদকবিরোধী লড়াইয়ে কোনো আপস নয়। যেই জড়িত থাক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের হয়রানি যেন না হয়, সে বিষয়ে ওসি সাইফুল ইসলাম রেখেছেন বিশেষ নজরদারি। থানায় কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের ঠাঁই নেই বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। পুলিশের সেবার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরাতে তিনি থানাকে ঘোষণা করেছেন ‘ঘুষ ও দালালমুক্ত’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে।

একথা স্বীকার করেছেন সেবা নিতে আসা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ওসি সাইফুল ইসলাম একজন ভালো মানুষ। হাসিমুখে কথা বলেন। যেকোনো অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে শুনেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেন। এখন আর আগের মতো হয়রানি নেই।”

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থির সময় ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে ওসি সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন পরিস্থিতি ছিলো উত্তপ্ত ও অনিরাপদ। সেখান থেকে তিনি দৃঢ় মনোবল ও নেতৃত্ব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরিয়ে আনেন। এই কঠিন সময়ে থানা ও ফাঁড়ির পুলিশকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন নতুন এক জনসেবামুখী পুলিশিং কাঠামো।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মিয়া বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা ছিল। ওসি সাহেব ব্যক্তিগত সাহস ও মেধা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন। এখন আমরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছি।”

ওসি সাইফুল ইসলামের পুলিশিং কৌশলের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—সততা ও মানবিকতা। তিনি কখনোই মিথ্যা মামলা বা অনৈতিক পথে কাউকে হয়রানি করেননি। তার বিশ্বাস, পুলিশকে হতে হবে সাধারণ মানুষের রক্ষক, ভয়ের উৎস নয়। তাই তিনি অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর হলেও, ন্যায্যতা ও আইনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন সবসময়।

ওসি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
“সমাজের সব অংশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একযোগে কাজ করতে হবে। পুলিশকে ঘিরে যে পুরোনো ভুল ধারণা ছিল, তা দূর করতে এখন সময় এসেছে,” — বলেন তিনি।

তিনি থানা ও ফাঁড়ির প্রতিটি কর্মকর্তাকে শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে বলেন এবং নিজেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন সব কার্যক্রম। বলেছেন, “পুলিশের শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে জনসেবা সম্ভব নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স।”

 

অপরাধ দমন, জনগণের আস্থা অর্জন এবং থানাকে দালাল ও ঘুষমুক্ত একটি সেবাকেন্দ্রে রূপান্তরের যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যাত্রা ওসি মো. সাইফুল ইসলাম শুরু করেছেন, তা ইতিমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে। তার নেতৃত্বে সূত্রাপুর থানা আজ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তিনি জনগণের সমস্যা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সেখানে হয়রানি বা অপেক্ষা নয়, বরং স্বচ্ছতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে সমাধানই প্রাধান্য পায়।
জনগণ বলছেন, এমন অফিসারদের সুযোগ ও সময় দিতে হবে। যাদের নেতৃত্বে পুলিশ হয় জনবান্ধব, যারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, আর সাধারণ মানুষের বন্ধু হয়ে ওঠে।




বিশ্বজুড়ে তেলের দাম উর্ধ্বমুখী, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ

ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের WTI তেলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ৭৫.৩১ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৮.৫২ ডলারে পৌঁছায়, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের সম্ভাবনা।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ শতাংশ বৈশ্বিক তেল সরবরাহ হয়। ইরানের পার্লামেন্ট এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন, তবুও ঘোষণাটিই বিশ্ববাজারে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র একে ‘অর্থনৈতিক আত্মহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে চীনকেও পরিস্থিতি প্রশমনে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্ববাজারে দামের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দিয়েছে, যদি হরমুজ প্রণালী এক মাসের জন্য ৫০ শতাংশ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ব্রেন্ট তেলের দাম ৯০ থেকে ১১০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। আর পুরোপুরি বন্ধ হলে তা ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র তেল সরবরাহ নয়, পরিবহন খরচ, বীমা ও বৈশ্বিক রাজনীতির চাপও দাম বাড়াচ্ছে।

তেলের বাজারের এই অস্থিরতা বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও প্রভাব ফেলছে। এশিয়ার বাজারে সূচক পতন দেখা গেছে এবং বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে নিরাপদ খাতে সরে যাচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা প্রশমন না হলে সামনের দিনগুলোতে তেলের বাজার আরও অস্থির হতে পারে।




বিজিএমইএ ভোট: ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ’ করার প্রতিশ্রুতি সম্মিলিত পরিষদের

 

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নির্বাচনে জয়ী হলে শিল্প রক্ষায় এ খাতের ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সম্মিলিত পরিষদ।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে প্যানেল পরিচিতির শেষ দিনে এমন প্রতিশ্রুতি দেন প্যানেলের প্রার্থীরা।

৩১ মে বিজিএমইএ নির্বাচন হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ভোট চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে তিনটি প্যানেলে ৭৬ জন প্রতিদ্বন্দিতা করবেন।

বিজিএমইএ নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সাবেক চেয়ারম্যান।

শনিবার থেকে শুরু হয় পাঁচ দিনের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান। প্রথম তিন দিন হল ঢাকায়; পরের দুদিন হবে চট্টগ্রামে।

প্যানেল লিডার ও চৈতি গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম বলেন, “বছরে ১২ হাজার ডলার রপ্তানি করা পোশাক খাত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় রপ্তানিকারক দেশ। ভোটে জিতলে ক্রেতাদের আস্থা ফেরাতে কাজ করব।

“পোশাক খাত এখন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।”

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “নির্বাচনের পর গ্রুপ ভুলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

বিদেশিদের নিয়ে বিনিয়োগ সম্মেলন করার পর সরকারের কাছে দেশিয় উদ্যোক্তাদের নিয়ে ‘কিছু একটা করার’ আহ্বান করেন বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন।

ভোটের মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল মিলিয়ে ৩৫ পরিচালক নির্বাচিত হবেন। তারা আগামী ২০২৫-২৭ মেয়াদে বিজিএমইএ পর্ষদের দায়িত্ব ঠিক করবেন।




কান উৎসবে প্রথম টেলিভিশন নারী সাংবাদিক শাহরিন জেবিন

১৮ মে ফ্রান্সের সাগরপাড়ে চলছে ‘৭৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসব’। বিশ্ব সিখপ্তরা আমাকে যোগ্য মনে করেছেন বলেই, কানের মতো আসরে আমি যোগ দিতে পেরেছি। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এরই মধ্যে জেবিনের ক্যামেরায় যেমন ধরা পরেছেন হলিউড তারকা টম ক্রুজ, তেমনি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বলিউড অভিনেতা অনুপম খেরের।
এছাড়া সাগরপারের শহরটিতে যারাই যাচ্ছেন, তারা হচ্ছেন জেবিনের মুখোমুখি। যে খবরগুলো প্রতি মুহুর্তে চ্যানেল
টোয়েন্টিফোরের বিভিন্ন সংবাদে সরাসরি জানানোর পাশাপাশি, তিনি অনলাইন প্লাটফর্মেও দেখাচ্ছেন। জেবিন বলেন, এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বিভিন্ন দেশের তারকাদের মিলনমেলা ঘটে ১২ দিনের এই আয়োজনে। যে আয়োজন সফল করতে বছরব্যাপী প্রস্তুতি নেয় উৎসব কর্তৃপক্ষ। এবারের কান আসরে আছে বাংলাদেশের উপস্থিতি।
উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কারস্বর্ণপামের জন্য লড়ছে বাংলাদেশের ছবি আলী। স্বল্পদৈর্ঘ্য যে সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আদনান আল রাজীব। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এবার যোগ দিয়েছেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও প্রযোজক, খাদিজা পারভীন বর্ষা। আসরের ওয়ার্ল্ড ওমেন কান এজেন্ডা ডিসকাশন বিভাগে অংশ নিয়েছেন তিনি। যেখানে ইসাবেল, মারিয়ানি ও নোরা আরমানীর মতো শিল্পী-লেখকদের সাথে বসেছেন তিনি।
১৪ এবং ১৫ মে হয়েছে এই বিভাগের আলোচনা পর্ব। এর পাশাপাশি মার্শে দ্যু ফিল্মে প্রদর্শিত হয়েছে, ‘বাঙালি বিলাস’। জেবিন বলেন, একজন বাঙালি সংবাদকর্মী হিসেবে আমি গর্বিত হয়েছি এবার। কারণ ছবি আর আলোচক দিয়ে ৭৮তম আসরে রয়েছে বাংলাদেশের নাম। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমি বিশ্বাস করি, আগামীতে কান-সহ আন্তর্জাতিক উৎসবগুলোতে আরও দাপটের সাথে থাকবে বাংলাদেশ।
দেশের প্রথমসারির জনপ্রিয় নিউজভিত্তিক টেলিভিশন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে শাহরিন জেবিনের শুরুটা ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে। তার সঞ্চালনায় কালার্স টোয়েন্টিফোর মানেই, দর্শকদের কাছে আলাদা জনপ্রিয়তা। এরই মধ্যে সেলিব্রিটি টক-শো কেন্দ্রীক এই অনুষ্ঠানটি অতিক্রম করেছে, দুই’শ পর্ব। চলচ্চিত্র থেকে সংগীত, টিভি নাটক থেকে মঞ্চ, সব মাধ্যমের শিল্পীরাই এসেছেন তার অতিথি হয়ে।
জেবিন বলেন, তারকাদের কাছে সাধারণের অনেক কিছুই জানার আগ্রহ থাকে। হটসিটে বসে আমি সে কাজটাই করি। চেষ্টা করি, আলাদা কিছু দর্শকদের জন্য বের করে আনার। বিনোদনের উপস্থাপক মানেই এক এক সময়ে এক এক চ্যানেলে নিজেকে উপস্থাপন।
এক্ষেত্রে জেবিন কেন এক চ্যানেলেই বেঁধে রেখেছেন নিজেকে? প্রশ্ন করতেই এই উপস্থাপক বলেন, এখন অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং করছে, যারা করছে তাদের সবার প্রতি আমার সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা। তবে আমি নিজেকে এভাবে দর্শকদের সামনে আনতে চাই না। কারণ, এতে আইডেন্টিটি ক্রাইসিস তৈরি হয়। আমি চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময়ে বিনোদনের সব খবর নিয়ে হাজির হই। আমি দেখেছি, দর্শকরা সারাদিন অপেক্ষা করে, আমার এই আয়োজনের জন্য। কারণ, বুলেটিন শুরু হতেই ইনবক্স আর কমেন্ট আসা শুরু হয়।
গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও, বাবা নেয়ামত আলি ও মা সাবিনা ইয়াসমিন নিলুর একমাত্র সন্তান শাহরিন মাহফুজা জেবিনের বেড়ে ওঠা ঢাকায়। পড়াশোনা ঢাকা সিটি কলেজে। শিক্ষা জীবনেই অনুষ্ঠান উপস্থাপনা শুরু করেন ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি উঁচ্চতার এই তরুণী। শুরুটা এটিএন বাংলায় প্রচারিত বাণিজ্যমেলা প্রতিদিন দিয়ে। এরপর এনটিভিতে প্রেজেন্টার হান্টের সুবাদে চ্যানেলটিতে প্রচারিত শুভ সন্ধ্যা, সাপ্তাহিক রান্নার অনুষ্ঠান, গানের লাইভ-সহ একাধিক আয়োজনে দেখা যায় তাকে। পরবর্তীতে যমুনা টেলিভিশনে স্পোর্টস বিভাগের সাথে যুক্ত হন। সেখান থেকে একাত্তর টিভি হয়ে ২০১৯ সালে যোগ দেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে। জেবিন জানান, এক দশকের সাংবাদিকতা জীবনে অনেক কিছুই শিখেছি। আরও শিখতে চাই। দর্শকদের একজন আস্থার মানুষ হয়ে উঠতে চাই।
বর্তমানে টেলিভিশনের বিনোদন বিভাগের সাংবাদিকতা ও উপস্থাপনার পাশাপাশি দেশ বিদেশের বিভিন্ন কর্পোরেট শো হোষ্ট করছেন জেবিন। সম্প্রতি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সভা উপস্থাপনা করেছেন তিনি। এছাড়া নিয়মিত করছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত ইভেন্টে।




বিএনপির রাজনীতি চলে আওয়ামী লীগের টাকায়: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আমরা নিষিদ্ধ করতে পেরেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগের অর্থ ব্যবস্থা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। কুমিল্লায় অনেক উপজেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতি যেমন আওয়ামী লীগের টাকায় চলে, তেমনি বিএনপির রাজনীতিও আওয়ামী লীগের টাকায় চলে। এখানে যারা বিএনপির নেতা রয়েছেন আপনারা আমাদেরকে শত্রু মনে করবেন না। এটা আপনাদের ভালোর জন্য বলছি। কুমিল্লায় অনেক উপজেলা আছে যেখানে সব দলের রাজনীতি এখন আওয়ামী লীগের টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুমিল্লায় আহত, শহীদ ও বীর সন্তানদের সম্মানে জুলাই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তারা যখন কোর্টে যায় কোন বিচারক জামিন দেয়? সেগুলোর পিছনে কাদের ইন্ধন রয়েছে সেগুলো আপনি আমাদের সামনে প্রকাশ করুন। আপনি বারবার বলছেন, আপনাকে ভিলেন বানানো হচ্ছে, আপনাকে যদি কেউ কাজ করতে না দেয় কেউ বাধা দেয় কেউ যদি কোন ধরণের প্রেশারে রাখে সেটা আপনি জাতির সামনে উপস্থাপন করুন।

হাসনাত আইন উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্যে করে আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তারা জামিনে বের হয়ে শহীদদের বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করছে- এটা যেমন আমাদের ব্যর্থতা তেমনি আসিফ নজরুল স্যারেরও ব্যর্থতা। আমরা আপনার কাছে জানতে চাই, কথা ছিল জানুয়ারি মাসেই দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এখন মে মাস, এখন পর্যন্ত কেন ট্রাইব্যুনাল গঠন হয় নাই। খুনিদের বিচার হচ্ছে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ও প্রথম সংস্কার।

হাসনাত আরও বলেন, আমরা সংস্কার ও নির্বাচন দুটাই চাই, তবে বিচার হবে সংস্কারও হবে। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের নির্বাচন হবে।

মানবিক করিডর নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমান  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মানবিক করিডোর বিষয় অবস্থান সুস্পষ্ট করতে হবে। আমরা কোন ধোঁয়াশার মধ্যে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব কোন পরাশক্তির কাছে বন্ধক দিব না। এখানে ভারতের আধিপত্য থাকবে না, পিণ্ডির আধিপত্য থাকবে না। এখানে কোন মার্কিন আধিপত্য থাকবে না। বাংলাদেশকে কোন পরাশক্তির আধিপত্যে আমরা থাকতে দিব না।

আওয়ামী লীগের সহযোগী ১৪ দলের বিষয়েও অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ১৪ দলের বিষয়ে এ সরকারের কি চিন্তা সেটি স্পষ্ট করতে হবে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আমরা আশাহত। অনেক কাজে আমরা এখনো বিচার দেখছি না, আহতদের এখনো পর্যন্ত পুনর্বাসন হয়নি,  কর্মসংস্থান হয়নি, এখনো পর্যন্ত বিচারের কোন অগ্রগতি হচ্ছে না। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত না রাস্তায় নেমে এসেছি ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাদের কোন পদক্ষেপ দেখি নি।

কুমিল্লা জেলা ও মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে জুলাই সমাবেশে যোগ দেন এনসিপি, বিএনপি, খেলাফতে মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।




এশিয়াটিকের আইপিও অর্থের ব্যবহার তদন্তে কমিটি গঠন

পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার এবং বিগত ৬ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. আল মাসুম মৃধা, বিএসইসির সহকারী পরিচালক মোসাব্বির আল আশিক এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক স্নেহাশিষ চক্রবর্তী।

বিএসইসির নির্বাহী মুখপাত্র বলেন, গঠিত তদন্ত কমিটি ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের আর্থিক রেকর্ড পর্যালোচনা করবে এবং আইপিওর অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল তা তদন্ত করবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্য মতে, মিথ্যা জমির মালিকানা দাবি, ভুল আর্থিক এবং জালিয়াতি শেয়ার মানি ডিপোজিটের অভিযোগ উঠায় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আইপিও সাবস্ক্রিপশন প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তদন্তে জাল জমির মালিকানা নথি, ভুল আর্থিক বিবরণী এবং জালিয়াতি শেয়ার মানি ডিপোজিটের প্রমাণ পাওয় যায়। এরই ধরাবাহিকতায় বিএসইসি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরির প্রত্যেক পরিচালক ও ইস্যু ম্যানেজারকে ৫০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে। এছাড়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদ, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিবকে ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহিত অর্থে কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন ভবন নির্মাণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করবে বলে জানিয়ে ছিল কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছে শাহজালাল ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।




এডিস মশার প্রকোপ, ডিসিদের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ

এডিস মশার প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা জানিয়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন, সামনে এডিস মশার প্রকোপ বাড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার (৬ মার্চ) সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনের প্রথম কার্য অধিবেশন শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত আলোচনার নানা দিক তুলে ধরেন মন্ত্রী। সেখানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

 

জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এডিস মশার প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছি। এর আগে কিন্তু আরবান এরিয়াতে এডিস মশার আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে। কারণ গ্রামেও এখন নতুন ভবন, অনেক বাড়িঘর হয়েছে। পানি জমে থাকার সুযোগ আছে। সেজন্য গ্রামাঞ্চলেও কিন্তু এডিস মশার প্রজনন হতে পারে।

 

তাজুল ইসলাম বলেন, এর আগেও একটি ভার্চুয়াল সভায় জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের অনেকগুলো নির্দেশনা দিয়েছিলাম, যেখানে নির্দেশনা অনুযায়ী কাজও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, সারা পৃথিবী অনুধাবন করছে যে এডিস মশা মোকাবিলা করতে হলে সবচেয়ে বেশি দরকার বা হাতিয়ার ৯০ শতাংশ সচেতনতা। আর বাকি ১০ শতাংশ টেকনিক্যাল বা মেডিটেশন। প্রতি তিন দিনের একদিন জমা পানি ফেলে দিন। এটা যদি সম্ভব হয় তাহলে এডিস মশার প্রজননটা আমরা রোধ করতে পারবো।

 

সাংবাদিকদের উদ্দেশে ঢাকা শহরের অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আগে যদি আমরা ঢাকার বাইরে এক পারসেন্ট এডিস মশার প্রকোপ দেখতাম, বাকি ৯৯ শতাংশই কিন্তু দেখা যেত ঢাকা শহরে। গত বছর এডিস মশার প্রকোপ ঢাকায় কমে নেমেছে ২০ শতাংশের নিচে। কিন্তু ঢাকার বাইরে হয়েছে ৮০ শতাংশ। প্রতিদিন আগে যে পরিমাণ আমাদের সন্তান বা মানুষ ঢাকায় আক্রান্ত হতো, এখন তা হচ্ছে ঢাকার বাইরে অর্থাৎ ঢাকার মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছে। এডিস মশা মোকাবিলা করার জন্য আমরা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য টিভিসি প্রচার করেছি, মানুষ সেটা দেখে দায়িত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। যে কারণে ঢাকায় এডিস মশার প্রকোপ কমেছে ও সফলতা এসেছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

 

এ ব্যাপারে ডিসিদের কী বলেছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা এই অবস্থাটা জানিয়েছি। তাদের বলা হয়েছে এ ব্যাপারে এখনই ইনিশিয়েটিভ নেওয়ার জন্য। তারা জনসচেতনতার জন্য লিফলেট বিতরণ করছেন। তাছাড়া মন্ত্রণালয় থেকে যেসব সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে তাতেও গ্রামাঞ্চলের মানুষও সচেতন হচ্ছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সঠিকভাবে দেখভাল করা হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে মন তো ডিসিদের মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

 

মন্ত্রী বলেন, ডিসিরা তো তদারকি করবেন। আর রিপোর্ট করবেন। আর কার কী দায়িত্ব সেটা তো বণ্টন করে দেওয়াই আছে। আমরা কিন্তু গত জানুয়ারিতেই সভা করেছি। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকা ধরে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। গত বুধবারে সভা করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য পাঁচ কোটি টাকার ওষুধ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তুতিগুলো চলমান। মন্ত্রণালয় তথা সরকারের পক্ষ থেকে যে সমস্ত পদক্ষেপ, জনসচেতনতায় প্রচারণা দরকার তা করা হচ্ছে।

 

সামনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচন কেন্দ্রীক কোনো নির্দেশনা ডিসিদের দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন তো হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন যেসব সহযোগিতা চায় তা করবো। তবে নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের কোনো ইন্টারভেনশন বা ইন্টারফেয়ার নেই। নির্বাচনের ব্যাপারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অংশ নয়। এটা নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে পুরো ক্ষমতা দেওয়ার আছে। নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দেবে সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসকরা ব্যবস্থা নেবেন, মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে। তবে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে বাড়তি কোনো নির্দেশনা থাকাটা নির্বাচন কমিশনারের জন্য সহায়ক বলে আমি মনে করি না।

 

ডিসি সম্মেলনে ২৫৬টি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন ডিসিরা। বেশিরভাগই হচ্ছে রাস্তাঘাট সংস্কারের ২২টি। পৌরসভা ও উপজেলার যেসব রাস্তা সংস্কার করার বিষয় রয়েছে, ডিসিরা এসব বিষয়ে কোনো সুপারিশ করেছেন কি না বা আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এসব তো আলোচনায় অনুপস্থিত থাকার কথা নয়। জাতীয়ভাবে একটা লক্ষ্যমাত্র স্থির করা আছে। আমরা বাংলাদেশকে উন্নত বাংলাদেশ বানাবো। উন্নত বাংলাদেশ বানাতে হলে তো আমাদের উন্নত রাস্তাঘাট বা যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। ধারাবাহিক, উত্তরোত্তর প্রবৃদ্ধ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে স্পেসিফিক কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে যদি কোনো অসামঞ্জস্য থাকে তবে তা সমাধান করা হবে, এ ব্যাপারে ডিসিদের রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

 

সমবায়ভিত্তিক কৃষিকে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সমবায়ভিত্তিক কৃষি, সমবায়ভিত্তির ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। সমবায়ের ব্যাপারে আমরা কাজ করার কথা বলেছি। সমবায় ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি গতিশীল ও শক্তিশালী করার ব্যাপারে বলেছি।

 

স্থানীয় জলাশয় ও পানি সংরক্ষণ করার বিষয়ে ডিসিদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, কারণ গত বছর এই আবহাওয়ায় পানি সংকট তৈরি হয়েছিল। তখন প্রধানমন্ত্রী জলাশয়গুলো সংরক্ষণে নির্দেশনা দিয়েছিলেন- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আজও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি নিজে প্রয়োজনে নির্দেশনা দিয়েছি। পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। পানি ব্যবহারে আমাদের সঠিক বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের যেসব পানির জলাশয় আছে তা সংরক্ষণ করতে হবে। নদী-নালা-খাল-বিল যাতে ভরাট না হয় সেজন্যও উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে।




দামে পেঁয়াজের আবার সেঞ্চুরি

এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে আরও পাঁচ টাকা বেড়ে সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। খুচরা ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। তাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে তিন-চার দিন ধরে দাম বেড়েছে।

গত ১৯ আগস্ট পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ভারত সরকারের ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপের খবরে হু হু করে দাম বাড়ে এই নিত্যপণ্যের। অস্বাভাবিক দর বেড়ে শতক ছুঁয়েছিল দেশি পেঁয়াজ।

ভারতীয় পেঁয়াজের কেজিও ৮০ টাকায় পৌঁছায়। ১৩ সেপ্টেম্বর দেশি পেঁয়াজের দর ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা বেঁধে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই সময় পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ৩৩ থেকে ৪১ টাকা বিবেচনায় পাইকারিতে ৫৩ টাকা এবং খুচরায় সর্বোচ্চ ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ দর কার্যকর করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিদিনই বাজারে অভিযান চালাচ্ছে। জরিমানা করছে লাখ লাখ টাকা। তবুও নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না পেঁয়াজ।

শুক্রবার মগবাজার, মোহাম্মদপুর, বনানী ডিএনসিসি কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে জানা যায়, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়; যা সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ৩১ থেকে ৩৫ টাকা বেশি। গত বৃহস্পতিবার এই পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজের দামও চড়া। আমদানি করা এ পেঁয়াজের কেজি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, এক বছরের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১১৩ শতাংশ, আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১১৪ শতাংশ।

এদিকে, বেঁধে দেওয়া পেঁয়াজের দাম কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শুক্রবার রংপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘আমরা যে টার্গেট নির্ধারণ করেছিলাম, তা অ্যাচিভ (অর্জন) করা যায়নি। তারপরও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে মন্ত্রণালয় থেকে বেঁধে দেওয়া পণ্যের দাম কার্যকর করা যায়।’




দুদিন ধরে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখিতা

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সংকটের প্রভাবে পুঁজিবাজারেও মন্দা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তাও আগের তুলনায় কমে গেছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস থেকেই পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন ছিল নিম্নমুখী। তবে গত দুদিন ধরে সূচক ও লেনদেনে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যাচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল সকালে লেনদেন শুরুর পর প্রথম ৮ মিনিট পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। এর পর থেকে অস্থিরতা দেখা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত গতকাল দিন শেষে আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬ হাজার ৩০১ পয়েন্ট। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ গতকাল ৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৩৪ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে প্রায় ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৬৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৩৬৪ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, সি পার্ল বিচ রিসোর্টস অ্যান্ড স্পা, জেমিনি সি ফুড, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি ও গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের।

ডিএসইতে গতকাল ৬৬৩ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫২৩ কোটি টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩১৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৮৪টির, কমেছে ৭৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৬২টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ৬ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জীবন বীমা খাত। মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৭ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। বিবিধ খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। গতকাল ডিএসইর ইতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল সাধারণ বীমা, ভ্রমণ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাত। এ তিন খাতে যথাক্রমে ২ দশমিক ৭, ২ দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ১ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল কাগজ, জীবন বীমা ও সেবা খাত। এ তিন খাতে রিটার্ন কমেছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৩, দশমিক ৫ ও দশমিক ৩ শতাংশ।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ১৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১১ হাজার ১৩০ পয়েন্ট। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৬৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৮ হাজার ৬১৭ পয়েন্ট। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৮৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৬টির, কমেছে ৪৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৮৪টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে।




রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট হবে না: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘রোজার মাসের জন্য সরকার সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনও সংকট হবে না।’ শনিবার (১৮ ফ্রেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর পাইস্কা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফোরামের আয়োজনে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রমজানে পণ্যমূল্য বাড়ানো অসাধু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন মন্ত্রী বলেন, ‘অবৈধভাবে ধনসম্পদ উপার্জন করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। কত টাকা আমাদের দরকার, কতটুকু বিলাসিতা প্রয়োজন সেটি ভেবে দেখতে হবে। অন্যের প্রয়োজন ও জীবনযাত্রার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে আর কোনোদিন নির্বাচন হবে না। বিএনপির মনের আশা কোনোদিন পূরণ হবে না। আমাদের সরকারের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই। বর্তমান সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির পায়ের নিচে মাটি নেই। তাদের দ্বারা আর উন্নয়ন সম্ভব নয়।

‘আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আবার পাঁয়তারা করছে। তাদের মনের আশা কোনোদিন পূরণ হবে না। এ সরকারের আমলে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমান সরকারের কোনও বিকল্প নেই।’

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ৭৫ বছরের পুরনো বিদ্যালয়টির দুই হাজারের বেশি নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।