তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ বিকালে রাজধানীর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর আওতাধীন তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী থানার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা পাওয়ার মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে৷

এ সময় মন্ত্রী থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি থানা ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে অবস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কক্ষ, ডিউটি অফিসারের কক্ষ, তদন্ত কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ, হাজতখানা এবং পুলিশ সদস্যদের আবাসন ব্যারাক ও ডাইনিং স্পেস (মেস) ঘুরে দেখেন।

ব্যারাক পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের আবাসন ব্যবস্থা, মেসের সার্বিক খাদ্যের মান এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের নাইট ডিউটি ও শিফটিং ডিউটির সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী তেজগাঁও থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন। জিডি (সাধারণ ডায়েরি) বা অভিযোগ জমা দিতে আসা ভুক্তভোগীদের সমস্যার কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং তাদের অভিযোগগুলো দ্রুততম সময়ে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্পত্তির জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-সহ সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের মূল কাজই হলো : জনগণের সুরক্ষা ও সেবা দেওয়া। থানাকে প্রতিটি মানুষের আস্থা ও ভরসাস্থল হতে হবে। নাগরিকরা যেন নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে থানায় আসতে পারেন এবং কোনো মাধ্যম ছাড়া নিজের সমস্যা সরাসরি জানাতে পারেন— আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




চট্টগ্রামে অবৈধ বালু উত্তোলনে ৯ শ্যালো মেশিন ধ্বংস

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৯টি শ্যালো মেশিন ও প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে উত্তোলন করা বালু জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর মোল্লারঘাট ও চৌধুরীঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের।

অভিযানকালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত আনুমানিক ১ হাজার ২০০ ফুট পাইপ ও ৯টি শ্যালো মেশিন ধ্বংস করা হয়। এছাড়া উত্তোলন করা বালু জব্দ করা হয়েছে।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীরুল কাদের বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 




চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলে তাদের তালিকাও করছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সন্ত্রাসী হামলায় আহত ঢামেকের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারাদেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শুধু চাঁদাবাজদেরই নয়, যেসব পুলিশ সদস্য এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদেরও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢামেকের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজরা রাতারাতি কোটিপতি হতে চায়। চাঁদাবাজরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগি আসামি এবং গডফাদারদের নাম ব্যবহার করে। আমরা শুধু চাঁদাবাজদের তালিকা করছি না, চাঁদাবাজদের সঙ্গে যদি পুলিশ সদস্য জড়িত থাকে তাদের তালিকাও করছি।

তিনি বলেন, আজই একটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিশেষ করে মেট্রো এলাকায়। ডিএমপিসহ দেশের সব মেট্রোপলিটন এলাকায় চাঁদাবাজ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের ধরতে যারা যারা ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের মতো হাইভ্যালু মানুষদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সর্বশেষ আঘাত করে। চাঁদাবাজিরও একটা উদ্দেশ্য ছিল। ২০ তারিখের মধ্যে চক্রের সাতজনের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রশংসা করি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূলহোতা তাকে ধরতে পেরেছে। কিন্তু পুলিশের আরও কাজ করা বাকি। এসব সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ যারা আছে সবগুলোকে নির্মূল করতে চাই।




দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারো বাড়লো

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এবার প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানায় বাজুস। নতুন এ দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

এ ছাড়া নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

এর আগে সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সেদিন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫১ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

বারবার দাম বাড়ার ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য নতুন নতুন রেকর্ড স্পর্শ করছে, যা ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।




কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি, ব্যস্ততা এবং গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের সুবিধার্থে এবং গতি আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই সরকার এখানে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘পলিটিক্স ল্যাব : বাংলাদেশে তরুণ নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক পাবলিক ডায়ালগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ছয় মাসে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিগত ১৭ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কাজ হয়েছে। আমরা তিনটির মতো নতুন উইং চালু করেছি। অভিবাসন ও অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কাজ করছি। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ, সংস্কৃতি, শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল পয়েন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে যেগুলো আগে ছিল না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী এক বছর তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন। ফলে কাজের সুবিধার্থে এবং গতি বাড়াতে সরকার যে সিদ্ধান্তই নেবে, সে অনুযায়ী টিমওয়ার্ক হিসেবে আমরা কাজ করব।

মক্কা প্যাক্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো বহুপাক্ষিক সংস্থায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো বহুপাক্ষিক সংস্থায় বা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি হবে না, তার সিদ্ধান্ত নেবে সরকার নিজেই। আর এ ধরনের যেকোনো সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমই তা আগে জানতে পারবে। বিদেশি কোনো দেশের গণমাধ্যমে কী আসছে, তা দেখে আমাদের প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তাকে এ দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।




আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না চট্টগ্রাম মেডিকেলে, রোগীদের ভোগান্তি

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে থাকা ছয়টি এক্স-রে মেশিন চালানো সম্ভব হয়নি। একই কারণে আলট্রাসনোগ্রাফির মেশিনও চালু রাখা যায়নি। ফলে এসব পরীক্ষা করাতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারসহ বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন সেবাতেও বিঘ্ন ঘটে।

এক্স-রে করাতে চমেক হাসপাতালে আসা মোজাম্মেল হোসেন নামে এক রোগী বলেন, সকালে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। বিদ্যুৎ না থাকায় এক্স-রে করা হচ্ছিল না। কখন বিদ্যুৎ আসবে, সেটিও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন না। দূর থেকে এসে এভাবে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে খুব ভোগান্তি হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও বড় মেশিনগুলো জেনারেটরের মাধ্যমে চালানো সম্ভব নয়। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যাহত হয়। অবশ্য জেনারেটর চালু রেখে কিছু জরুরি সেবা অব্যাহত রাখা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন ঘোষণা দিয়ে স্টেডিয়াম এলাকার একটি ফিডারের আওতায় মেরামতকাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত স্টেডিয়াম এলাকার আরও কয়েকটি ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা ছিল। চমেক হাসপাতালও ওই ফিডারের আওতাধীন।

পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, স্টেডিয়ামের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, জরুরি মেরামতকাজের জন্য আগে থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ফোন করে রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি জানালে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়। এখন হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, রোগীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগে ফোন করা হয়েছিল। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। এখন হাসপাতালে বিদ্যুৎ আছে। হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো হয়েছে।




তথ্য মন্ত্রণালয়ে এখন দুই মন্ত্রী!

আন্দালিভ রহমানকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর মন্ত্রণালয়টিতে এখন পূর্ণ মন্ত্রী দুইজন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান। এরপর মধ্যরাতে তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্দালিভ রহমান ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে আসছেন জহির উদ্দিন স্বপন। ফলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এখন দুজন।

তবে শোনা যাচ্ছে জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জহির উদ্দিন স্বপন বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নির্বাচনের পর চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন গঠন করা সরকারে তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ছয় মাসের মাথায় সেখানে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হলো।




চট্টগ্রামে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রাম, ২১ আগস্ট ২০২৬: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএমের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন সাইজের ১৩ টন লোহার রড ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানোর সময় চালানটি চুরি হয়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিমের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, এসআই (নিঃ) মোঃ সাদ্দাম হোসেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ ইসমাইলসহ পুলিশের একটি দল আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট বারইয়ারহাট এলাকা থেকে মোঃ রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকের হেলপার মোঃ হাদিছ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার মহম্মদপুর থানাধীন জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল বাশার ওরফে বাঁশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশারের দেওয়া তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই চক্রের মূলহোতা জাহাঙ্গীরের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মহম্মদপুর বাজারের ‘আয়ান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ফরিদপুরের মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আন্তঃজেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।




টঙ্গীতে ডিএমপি, নৌ পুলিশ ও জিএমপির যৌথ মাদকবিরোধী অভিযান

টঙ্গী, ২০ আগস্ট ২০২৬: রাজধানীর তুরাগ নদীর তীরবর্তী টঙ্গী এলাকায় মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), নৌ পুলিশ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আনুমানিক বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নৌ পুলিশের দুটি দল অংশ নেয়। নৌ পুলিশ, ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে চারটি নৌ থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর, উপপরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবলরা অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যরা সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম—উভয়ভাবেই মাঠে ছিলেন।

যৌথ অভিযানে তুরাগ নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




হানিফ ফ্লাইওভারে যাতায়াত করা সব বাসে ই-টোল ট্যাগ লাগানোর সিদ্ধান্ত

ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী সব ধরনের বাসে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ‘ই-টোল ট্যাগ’ লাগানো নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এবং ওরিয়েন্ট গ্রুপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী সব এসি, নন-এসি বাস কোম্পানির মালিকরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, ই-টোল ট্যাগ নিশ্চিত করা গেলে ফ্লাইওভারে ওঠা-নামার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা যানজট সৃষ্টি হবে না। যানজট নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম।

এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আজাদুর রহমান, লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মফিজুল ইসলাম, ওরিয়েন্ট গ্রুপের সিইও মো. নাঈম প্রমুখ।

 




কলকাতার হোটেলে আগুন, মরদেহের অপেক্ষায় সাতক্ষীরার দুই পরিবার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের দুজন নিহত হন। মরদেহের অপেক্ষায় দুই পরিবার।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বরেয়া গ্রামে নিহত আলিমুজ্জামান সাজুর (৪৫) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। কয়েক দিন আগেও যে বাড়িতে ছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, সেখানে এখন শুধুই শোক আর অপেক্ষা।

আলিমুজ্জামান সাজু মৃত ইউনুচ সরদারের ছেলে। পেশায় তিনি ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে যান। কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, পাঁচ-ছয়দিন আগে আমার ভাই চিকিৎসার জন্য ভারতে যায়। হঠাৎ টেলিভিশনে দেখি কলকাতার একটি হোটেলে আগুন লেগেছে। পরে জানতে পারি, ওই হোটেলেই আমার ভাই অবস্থান করছিল। একজন আত্মীয়কে সেখানে পাঠানো হয়। পরে ছবির সঙ্গে মরদেহের মিল পাওয়ার পর নিশ্চিত হই, আমার ছোট ভাই আর নেই।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আমার ভাইয়ের মরদেহটা যেন দ্রুত দেশে এনে আমাদের কাছে দেওয়া হয়। আমরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চাই।

অন্যদিকে, একই অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার (৩৬)। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে তালা ঝুলছে। চারপাশে নীরবতা। পরিবারের সদস্যরা ভারতে অবস্থান করায় বাড়িটি যেন আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে।

রেবতীর স্বামী ভবেশ সরকার। তাদের ছেলে অনিক সরকার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে এবং মেয়ে ত্রিশা সরকার ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। তারা বর্তমানে উত্তরাখণ্ডে অবস্থান করছেন।

রেবতীর স্বজন তপন সরকার বলেন, রেবতী আমার বৌদি। গতকাল রাতে বৌদির ছেলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে একটি হোটেলে আগুন লেগে বৌদি মারা গেছেন। দাদা বাংলাদেশে ছিলেন, তবে এখন তার সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, দাদা-বৌদির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, তারাও ভারতে আছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি কীভাবে এই শোক সামলাবে, সেটাই এখন বড় চিন্তার বিষয়।

চিকিৎসার জন্য প্রিয়জনদের ছেড়ে ভারতে গিয়েছিলেন সাজু ও রেবতী। পরিবারের আশা ছিল, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরবেন তারা। কিন্তু সেই অপেক্ষা এখন পরিণত হয়েছে মরদেহ ফেরার অপেক্ষায়।

স্বজনদের কান্না আর আহাজারির মধ্যে এখন একটাই দাবি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে কলকাতা থেকে তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দিক। শেষবারের মতো মুখটি দেখে, নিজ হাতে মাটি দিয়ে আপনজনকে বিদায় দিতে চান তারা।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে মরদেহ দুটি দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।




পোশাক কারখানার ছাদে মিলতে পারে ২ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ : সিপিডি

তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর ছাদে প্রায় ২ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতকে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির গবেষণা বলছে, ওই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ। যা দিয়ে পোশাক খাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত ‘পোশাক খাতের শিল্প কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ: চীনা প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রুফটপ সোলার ইন আরএমজি সেক্টর’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট আবরার আহমেদ ভূইয়া ও প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট নূর ইয়ানা জান্নাত।

গবেষণায় দেশের ৩ হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ৩৫০টি কারখানায় সরাসরি সমীক্ষা চালানো হয়েছে, যা দেশের মোট পোশাক কারখানার প্রায় ১০ দশমিক ৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

গবেষণায় বলা হয়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অথচ তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে পোশাক খাতে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্র ৩ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসছে।

সিপিডির গবেষণা অনুযায়ী, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সম্ভাবনা ২ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের ৮৭৮টি কারখানার ওপর চালানো সমীক্ষায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার খুবই সীমিত বলে উঠে এসেছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, রুফটপ সোলারের মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ১২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ। ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটের গড় খরচ মাত্র ৩ টাকা ৪ পয়সা। যা জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দামের অর্ধেকেরও কম।

এ কারণে দীর্ঘমেয়াদে শিল্প কারখানার বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানো এবং উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ রয়েছে।

গবেষণায় ৩০০ কিলোওয়াট বা তার বেশি সক্ষমতার ২ হাজার ৩০৩টি কারখানাকে রুফটপ সোলারের জন্য সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কারখানায় সৌর প্যানেল স্থাপনে প্রায় ১৮৮ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প খাত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের মধ্যে রয়েছে। অনেক আগে থেকেই শিল্প কারখানায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা গেলে বর্তমান সংকট আরও কমানো সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, পোশাক খাত ধীরে ধীরে রুফটপ সোলারের দিকে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। একদিকে এটি জ্বালানি চাপ কমাচ্ছে, অন্যদিকে ডিকার্বনাইজেশনের প্রতিশ্রুতি পূরণেও সহায়তা করছে।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পোশাক খাতে সব মিলিয়ে প্রায় ৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন বর্গমিটার জায়গা রয়েছে, যেখানে রুফটপ সোলার বসানোর সুযোগ রয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মাত্র ১৮৮ মিলিয়ন ডলার হলেই চলবে। খুব বেশি টাকা দরকার নেই। রুফটপকে সোলারভিত্তিক জেনারেশনে রূপান্তরের জন্য আমাদের আরও বেশি রিসোর্স প্রয়োজন নেই।’

তার মতে, সব কারখানা এখনই সৌরবিদ্যুতে যেতে প্রস্তুত নয়। প্রায় ৫০০ কারখানা এখনই বিনিয়োগ করতে পারে। আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০ কারখানা প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এ খাতে যেতে পারবে। তবে ৪০০টির বেশি কারখানায় আরও বেশি ধরনের সহায়তা ও নীতিগত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

গবেষণায় আরও বলা হয়, বাণিজ্যিক ঋণের সুদহার সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি হলে শিল্পের রুফটপ সোলার প্রকল্পগুলো ব্যাংকের কাছে বিনিয়োগযোগ্যতা হারায়। ফলে এ খাতে সবুজ অর্থায়ন বা রেয়াতি ঋণের ধারাবাহিকতা জরুরি। বিনিয়োগের শর্তগুলো পরিবর্তন করা গেলে সৌর বিদ্যুতে যেতে প্রস্তুত কারখানার সংখ্যা আরও বাড়বে। বিশেষ করে সাড়ে ৬ শতাংশের কাছাকাছি সুদে গ্রিন ফাইন্যান্স পাওয়া গেলে তা সবচেয়ে ভালো হবে।

সিপিডির গবেষণায় বলা হয়, এইচঅ্যান্ডএম, ইনডিটেক্স, ওয়ালমার্ট, গ্যাপ ও এমঅ্যান্ডএসের মতো বৈশ্বিক ক্রেতারা পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ওপর জোর দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

গ্রিড বিপর্যয় ও গ্যাস সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার জন্যও পোশাক খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে হা-মীম গ্রুপের পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি বিভাগের প্রধান তনুল চক্রবর্তী বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৯ দশমিক ২ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপন করা হয়েছে। এতে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পুরো জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, কারখানার ছাদ দিয়ে পুরো জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। অধিকাংশ কারখানা বহুতল হওয়ায় ছাদের জায়গা সীমিত।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, জিরানি বাজারে তাদের একটি কারখানার ছাদে মাত্র ২৭২ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ পাওয়া গেছে। অথচ ওই কারখানার বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় দেড় মেগাওয়াট।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য শক্তি ফোরামে পোশাক খাতের রুফটপ সোলারে চীনা প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। যেখানে বলা হয়, চীনের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও সহজ অর্থায়ন কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের শিল্প খাতে রুফটপ সোলারের বিস্তার আরও দ্রুত করা সম্ভব। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা, উৎপাদন ব্যয় কমানো, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবেশগত শর্ত পূরণসব মিলিয়ে পোশাক খাতে রুফটপ সোলার এখন কেবল বিকল্প জ্বালানি নয়, বরং ভবিষ্যৎ শিল্প প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কান্ট্রি লিয়াজোঁ নুসরাত জাহান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও অপারেশন) স্বপন বনিক, বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির (বিএসআর) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক মিনহাজুল হকসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




রাজধানীতে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা লুট: মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৪৮ লাখ টাকা

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৪৮ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০ টায় রাজধানীর ডিএল ফিলিং স্টেশনের এক কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে লাল রঙের ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সশস্ত্র ডাকাত দল পথরোধ করে এই অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর র‍্যাবের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারিতে এই সংঘবদ্ধ ডাকাতির নেপথ্যের সব তথ্য বেরিয়ে আসে। ডাকাত দলের সদস্য কাওসার গাড়িতে তেল তোলার কাজে ডিএল ফিলিং স্টেশনে যাওয়া-আসার সুবাদে সেখানকার এক কর্মীর মাধ্যমে একটি বড় অংকের টাকা ব্যাংকের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে পারে। ।

ডাকাতির পরিকল্পনার বিষয়ে উইং কমান্ডার বলেন, পূর্বে কুমিল্লায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় জেলে থাকাকালীন সময়ে ১৮টি মামলার আসামি ডাকাত হাকিমের সঙ্গে কাওসারের পরিচয় হয়। হাকিম জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে তারা ডাকাতির পুরো পরিকল্পনা তৈরি করে। ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ গত ২ আগস্ট মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, কাওসার ও ডাকাতি বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা একসঙ্গে ডিএল ফিলিং স্টেশনে যায় এবং পুরো এলাকাটি নিখুঁতভাবে রেকি করে।

মাঠপর্যায়ে এই ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য হাকিম ও কাওসার ছাড়াও আরও ৭ জন জড়িত ছিল। যাদের মধ্যে ৬ জন তিনটি মোটরসাইকেলে করে সরাসরি ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে এবং ফিলিং স্টেশনের কাছে ১ জন তথ্যদাতা হিসেবে উপস্থিত থাকে।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, মুস্তাফিজ নামের ওই তথ্যদাতা ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। টাকা নিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে গাড়ি রওনা দিয়ে দিয়েছে এই তথ্যটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সে বাকি ডাকাত দলকে জানায়। পরে রাজধানীর বিমানবন্দর থানাধীন ক্রাউন প্লাজার সামনে গাড়িটি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ডাকাত দল তিনটি মোটরসাইকেলে করে গাড়ি আটকায় এবং গাড়িতে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ডাকাত দল এক কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতি করে। ডাকাতি সফল হওয়ার পর তারা নিজেদের মধ্যেই টাকাগুলো ভাগ করে নেয়।

তিনি বলেন, ডাকাতির মূল সর্দার জলিল মোল্লা ৫৩ লাখ টাকা তার কাছে রাখে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ডাকাতির সময় সে মোটরসাইকেলে ছিল এবং তার হাতে একটি পিস্তল ছিল। তার আরেকজন সহযোগী ছিল সাগর বোরাক। সে ১৪ লাখ টাকা নেয়, ডাকাতির সময় তার হাতেও পিস্তল ছিল। ইতোমধ্যে ডিবি তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডাকাতির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে উইং কমান্ডার বলেন, মুস্তাফিজের কাছে ১৪ লাখ টাকা ছিল। ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অপর সহযোগীদের মধ্যে শওকত হোসেন দিপু, সোহেল, আলী ও অজ্ঞাতপরিচয় একজন সহযোগীসহ প্রত্যেকে ১০ লাখ টাকা করে পায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ঘটনার সময় আলীর হাতে চাপাতি ছিল। অজ্ঞাতপরিচয় ওই সহযোগীকে শওকত হোসেন দিপু ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, হাকিম এবং কাওসারের টাকার ভাগ জলিলের কাছে ছিল। পরে জলিল সেই টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ সংক্রান্ত তথ্যগুলো জলিলের কাছ থেকে পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য পরিপূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ডাকাতির তদন্ত চলাকালীন পূর্বের দুটি মামলার নথি যাচাইয়ের ভিত্তিতে হাকিমকে গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তার বাসা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের ব্যবহৃত দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়ারলেস সেট উদ্ধার করে র‍্যাব। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাওসারকে এবং ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জলিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারবাগ মধ্যপাড়া এলাকা থেকে জলিলের কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্য থেকে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জলিল স্বীকার করে, প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে সংগঠিত ১৭ লাখ টাকার একটি ডলার ডাকাতির ঘটনাতেও সে এবং তার চক্র জড়িত ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৯ আগস্ট তুরাগ থানার কামারপাড়া ফলের আড়তে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত চক্রের ১২ সদস্যকে চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে র‍্যাব জানতে পারে, চক্রটি প্রতিদিন ফল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করত। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ভ্যান, রিকশা ও কাভার্ডভ্যান আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। অভিযানের সময় চাঁদা হিসেবে আদায় করা ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, গত এক মাসে র‍্যাব দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৪টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এসব ঘটনায় ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে ৬৫টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৯টি বিদেশি অস্ত্র রয়েছে।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, মানবাধিকার রক্ষা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ চিহ্নিত ও প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব ভবিষ্যতেও আরও দৃঢ়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।




মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমটিও ১৫তম ব্যাচের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার বা এমটিও ১৫তম ব্যাচের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মোট ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম, পেশাগত দায়িত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ, গ্রাহকসেবা, পরিপালন, নেতৃত্বসহ ব্যাংকিং-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের সামগ্রিক ধারণা দেওয়া হবে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রধান এস. এম. সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ডিএমডি ও সিআরও মো. জাকির হোসেন, ডিএমডি ও ক্যামেলকো শামীম আহমেদ, ডিএমডি ও সিবিও ড. মো. জাহিদ হোসেন এবং ডিএমডি ও সিসিও মো. সোহেল খুরশিদ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যাংকিং পরিবেশে পেশাদারিত্ব, সততা, শেখার আগ্রহ, সেবা প্রদানের মানসিকতা এবং দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিজেদের দায়িত্বশীল ব্যাংকিং পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে এবং ব্যাংকের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে উৎসাহিত করেন।

অন্যান্য অতিথিরা তাদের বক্তব্যে পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিজেদের প্রস্তুত করতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব ব্যাংকিং পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন তারা।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ফ্যাকাল্টি শাহিন আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফ্যাকাল্টি মুহাম্মদ মিরাজ হোসেন গাজী।

 




রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শুরুতে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নিয়ম জানিয়ে দেন। এরপর ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন। এরপর সংসদ সদস্যরা একের পর এক ভোট দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৩৪৯ জন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণ শেষে কোন প্রার্থী কতটি ভোট পেলেন, কতটি ভোট বাতিল বা নষ্ট হলো, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। যিনি বিজয়ী হবেন বা যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর গেজেট প্রকাশ করা হবে।




সহকারী কমিশনারদের জন্য ৪৮তম ও ৪৯তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: সহকারী কমিশনার (ভূমি)দের জন্য আয়োজিত পাঁচ সপ্তাহব্যাপী ‘৪৮তম ও ৪৯তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স’ শুরু হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ কোর্স দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব এ এস এম সালেহ আহমেদ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক (যুগ্মসচিব) জনাব মোহাম্মদ আবুল খায়ের

পাঁচ সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কোর্সে সহকারী কমিশনার (ভূমি)দের ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রম আরও দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি নাগরিকদের ভূমিসেবা প্রদানের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।




ঢাকায় অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকায় অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব যানবাহনে ব্যবহৃত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেয়।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ চুরি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।




বদলিজনিত বিদায়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে আরএমপি পুলিশ কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাজশাহী প্রতিনিধি: বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির

বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১২টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে আরএমপি পুলিশ কমিশনার বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।

সৌজন্য সাক্ষাতে রাজশাহী রেঞ্জের রেঞ্জ ডিআইজি জনাব মোঃ আশিক সাঈদ, আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) জনাব মোঃ ফারুক হোসেন, রাজশাহী জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানসহ রাজশাহী রেঞ্জ ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে বিদায়ী বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্বকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। পরে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষ হয়।




ইসলামপুর সার্কেল অফিস পরিদর্শনে জামালপুরের পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর জেলার ইসলামপুর সার্কেল অফিস পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার সার্কেল অফিসের সার্বিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

এ সময় তিনি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে ইসলামপুর সার্কেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




জৈন্তাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অভিযান, ৪ নৌকা বিনষ্ট

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়া আদর্শগ্রামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে টাস্কফোর্স। অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৪টি নৌকা বিনষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে ৭ হাজার ৯১৯ ঘনফুট বালু

বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টায় আসামপাড়া আদর্শগ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু জব্দের পর ঘটনাস্থলেই স্পট নিলামের মাধ্যমে তা বিক্রি করা হয়।

অভিযানকালে ৪৮ বিজিবি, পুলিশ, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশের ভারসাম্য ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ভালোবাসা ও সম্মাননায় বিদায় নিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: বিদায়ী সংবর্ধনা ও সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেলা থেকে বিদায় নিলেন সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিপিএম (বার)

দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশি সেবার মানোন্নয়নে তাঁর ভূমিকা ও নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন জেলা পুলিশের সদস্যরা।

বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাঁর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শুভকামনা জানান। সহকর্মীদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে তাঁকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এ সময় বিদায়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন সহকর্মীদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সবার দোয়া ও শুভকামনা কামনা করেন।

বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভালোবাসা ও সম্মানের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন তিনি।




কেমিক্যাল দিয়ে কেওড়া ও গোলাপ জল তৈরি, বিএসটিআইয়ের অভিযানে ২ লাখ টাকা জরিমানা

কেমিক্যাল ব্যবহার করে কেওড়া জল ও গোলাপ জল তৈরি এবং বাজারজাতের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসটিআই। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে।May be an image of text

কি/ড/নি ডা’য়া’লা’ই’সি’সে’র কে’মিক্যাল দিয়ে কেওড়া জল এবং গোলাপ জল তৈরি বিএসটিআইয়ের অ/ভি/যা/নে ২ লক্ষ টাকা জ/রি/মা/না প্রতিষ্ঠান সি/ল/গা/লা

অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অনুমোদন ও মাননিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অনিয়মের পাশাপাশি কেমিক্যাল ব্যবহার করে কেওড়া জল ও গোলাপ জল তৈরির বিষয়টি ধরা পড়ে।

পণ্যের গুণগত মান ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিএসটিআইয়ের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




সুরের মূর্ছনায় মুখরিত সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ, অনুষ্ঠিত হলো মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সুরের মূর্ছনা, নাচ-গান ও প্রাণবন্ত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ। বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) জেলা পুলিশ, সিরাজগঞ্জের আয়োজনে পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি জনাব মোঃ আশিক সাঈদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুনাক, রাজশাহী রেঞ্জের সভানেত্রী মিসেস শামীম আরা হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির হাতে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেন পুলিশ সুপার, সিরাজগঞ্জ।

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় বিভিন্ন শিল্পীর মনোমুগ্ধকর গান ও অন্যান্য পরিবেশনা উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে। কর্মব্যস্ততার মাঝে এমন আয়োজন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সৃজনশীলতা ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে অধিনায়ক, র‍্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ; কমান্ড্যান্ট, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিরাজগঞ্জ; পুলিশ সুপার, রাজশাহী; বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, সিরাজগঞ্জসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, তাঁদের পরিবার, জেলা পুনাকের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক প্রাণবন্ত আবহে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।




কুষ্টিয়ায় নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলামের যোগদান

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া জেলার নবাগত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম। তিনি কুষ্টিয়া জেলায় যোগদান করে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সুপারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবাগত পুলিশ সুপার জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা এবং পুলিশি সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের সকল সদস্যকে পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক আরও জোরদার করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবাগত পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালনে কুষ্টিয়াবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।




‘স্মার্টফোনের দাম ৫০-৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার’

সরকার দেশের মানুষের হাতে সাশ্রয়ী দামে ডেটা-নির্ভর স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেছেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব স্মার্টফোনের দাম ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘পাওয়ারিং দ্য ফিউচার: রবি কমপ্লিটস ঢাকা মডার্নাইজেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্মার্টফোনের দাম কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বাজেটের আগে স্থানীয় মোবাইল ফোন নির্মাতা, মোবাইল ফোন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সরকার আলোচনা করেছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনের কাঁচামালে আগে যে ২৬ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কর, ভ্যাট ও শুল্ক ছিল, তার অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষেত্রে তা শূন্য করা হয়েছে এবং কোথাও ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, কম দামে মানুষের হাতে ভালো ডিভাইস পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। স্থানীয় মোবাইল ফোন নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক ডেটা স্মার্টফোন তৈরি করা সম্ভব হতে পারে বলে তারা জানিয়েছে। এ ধরনের ফোন তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার আগ্রহও দেখিয়েছে তারা।

কম দামে স্মার্টফোন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কিস্তি সুবিধা চালুর কথা উল্লেখ করে রেহান আসিফ বলেন, মোবাইল ফোনকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইএমআই কর্মসূচির আওতায় আনা এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে কিস্তি সুবিধা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রেহান আসিফ বলেন, দেশে এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী ফিচার ফোন ব্যবহার করে। অর্থাৎ মোট মোবাইল গ্রাহক প্রায় ১৪ কোটি হলে এর অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ৭ কোটি মানুষ এখনো ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন। বর্তমান সময়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। আপনারা (রবি) বাংলাদেশের সেরা ডেটা নেটওয়ার্ক তৈরি করছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফিচার ফোন ব্যবহারকারী ৫০ শতাংশ মানুষকে একটি উন্নত নেটওয়ার্কের আওতায় ডেটা মোবাইল ফোনে নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনাদের সহায়তা ও সহযোগিতা করার জন্য আমরা সবকিছু করব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রবি আজিয়াটা পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াদ সাতারা এবং রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম।




আগস্টের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার

২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট একদিনেই দেশে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৪৮২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের ৩৯৮ কোটি ডলারের তুলনায় ২১.৩ শতাংশ বেশি।




মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পূর্নবাসন কেন্দ্র প্রয়াসে মোঃ ফোরকান (২৯) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে উঠেছে। এখানে ভর্তি করার মাত্র ৫ দিনের মাথায় ওই যুবক লাশ উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। তবে পরিবারের অভিযোগ ফোরকানকে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পূর্নবাসন কেন্দ্রের লোকজন মারধোর করে হত্যা করেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন “প্রয়াস” মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পূর্নবাসন কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। মৃত মোঃ ফোরকান মিয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের মোঃ রশিদ মিয়ার ছেলে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ফোরকানের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
মৃত ফোরকান মিয়ার বড় ভাই মোঃ ইমন মিয়া জানান, তার ভাই ফোরকান মিয়া কাতার প্রবাসী। কয়েক মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে আসেন। আসার কিছুদিন পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। গত শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাসের জন্য ফোরকান মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন “প্রয়াস” নামে একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পূর্নবাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তি করার সময় তাদেরকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়। বাকী টাকা পর্যায়ক্রমে দেয়ার কথা ছিলো। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার সময় প্রয়াস থেকে ফোনে জানানো হয় ফোরকান অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে ফোরকানকে পাওয়া যায়নি। পরে সেখান থেকে প্রয়াস  মাদক চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি লাশবাহী গাড়িতে আমার ভাইয়ের লাশ। অফিসে বাহির থেকে তালা দিয়ে পুর্নবাসন কেন্দ্রের সবাই চলে গেছে। পরে ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তায় লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। তিনি বলেন, আমার ভাইকে কোন চিকিৎসা না দিয়ে পুর্নবাসন কেন্দ্রের লোকজন তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমরা শুনেছি এর আগেও এখানে নাকি এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।
প্রয়াস  মাদক চিকিৎসা ও পুর্নবাসন কেন্দ্রের পরিচালক মোঃ রুবেল জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হয়। আমরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নাজমুল হক রনি জানান, ফোরকানকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য কয়েকদফা ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর সেই জটিলতা কেটে গেছে। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ফলে সহকারী শিক্ষকদের যেসব পদ শূন্য হবে, সেসব পদে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।

বুধবার বিকালে চট্টগ্রামের পিটিআইয়ের কনফারেন্স রুমে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তন প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম।

ববি হাজ্জাজ বলেন, নিবন্ধন ছাড়া কোনো কিন্ডারগার্টেন বা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা যাবে না। নিবন্ধনের সুযোগ সহজ করার পরও কেউ তা না মানলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনিভাবে সব প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি তদারকির আওতায় থাকার কথা থাকলেও এত দিন কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল না। এখন এই ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আমরা প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে চাই, স্কুল খোলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চাই না। তবে নিবন্ধনের সহজ সুযোগ দেওয়ার পরও কেউ তা না নিলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। নতুন মনিটরিং নীতিমালায় বিদ্যালয়ের আয়তন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। ছোট পরিসরে বিদ্যালয় পরিচালনা করলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সে অনুযায়ী সীমিত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয় তদারকিতে মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ইউপিটিসি ইন্সট্রাক্টর ও পিটিআই ইন্সট্রাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে শূন্যতা রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে কিছু নিয়োগ ও পদায়ন আটকে থাকলেও শিগ্‌গির এসব পদ পূরণের কাজ শেষ করা হবে। এতে বিদ্যালয়গুলোর মনিটরিং আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। রায় পাওয়া গেলে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




মাইক্রোএন্টারপ্রাইজে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল, দুই লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ ও মো. আনিছুর রহমান এবং এসএমই অ্যান্ড এসপিডির পরিচালক নওশাদ মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক ড. একেএম নুরুজ্জামানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ মে দেশের কর্মসংস্থান বাড়াতে পিকেএসএফের মাধ্যমে বিশেষায়িত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে পিকেএসএফ।

কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো দেশের সম্ভাবনাময় মাইক্রোএন্টারপ্রাইজগুলোতে বাড়তি অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে এ খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো। কর্মসূচিটি তিনটি প্রধান উপাদানের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে। এগুলো হলো আর্থিক পরিষেবা প্রদান, ব্যবসাগুচ্ছভিত্তিক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন।

পিকেএসএফ জানিয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা সম্ভাবনাময় ব্যবসাগুচ্ছের উন্নয়নে কাজ করা হবে। এর মাধ্যমে মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং তহবিলের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলটি আবর্তক তহবিল বা ‘রিভলভিং ফান্ড’ হিসেবে পরিচালিত হবে। ফলে একবার অর্থায়ন করার পর ঋণের অর্থ ফেরত এলে তা আবার নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায় অর্থায়নে ব্যবহার করা যাবে।

পিকেএসএফের প্রত্যাশা, এর ফলে তহবিলের ধারাবাহিক প্রবাহ বজায় থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অর্থায়নের আওতায় আসবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ খাতকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এই খাত অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।




মধুপুরে মনসাপূজা ও বেহুলা গান উৎসব অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের শালিকা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুদিনব্যাপী গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বেহুলা গান উৎসব এবং শ্রী শ্রী মনসাদেবী ও অষ্টনাগ পূজা। প্রয়াত ওস্তাদ নুরুল আমিন আকন্দের স্মরণে গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট শালিকা বাজারের খালেক প্রি-ক্যাডেট স্কুল মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের পরিচালক শ্রী শ্যামল চন্দ্র সরকার জানান, প্রয়াত ওঝা নুরুল আমিন ফকির তাঁর জীবদ্দশায় প্রতিবছর বাংলা সনের শ্রাবণ মাসের শেষ দিন নিজ বাড়িতে বেহুলা গানের আসর জমাতেন এবং আমৃত্যু মানবসেবা করে গেছেন। ২০১৭ সালের ১লা জুন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সে সময় গ্রামের হিন্দু-মুসলিম সকলে মিলে তাঁর অন্তিম যাত্রায় শরিক হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর ছোট ছেলে রুহুল আমিনকে এসবের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। এরপর থেকে বাবার দেখানো পথে ছেলে রুহুল আমিন প্রতিবছর শ্রাবণ মাসের শেষদিন এই বেহুলা গানের আয়োজন করে আসছেন এবং মনসার ডালা ভাসাচ্ছেন।

বাবার সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই রুহুল আমিন আকন্দের উদ্যোগে এবারের এই বড় আয়োজন, যেখানে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এ বিষয়ে আয়োজক রুহুল আমিন আকন্দ বলেন, “এ অনুষ্ঠান আমার রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। আমার বাবা প্রয়াত ওস্তাদ নুরুল আমিন আকন্দ এ এলাকার বেহুলা গানের ওস্তাদ ছিলেন, সবাই তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতি ধরে রাখা এবং এ অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতায় আমি এ আয়োজন করে আসছি।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি ডাঃ মোঃ হাফিজ উদ্দিন দলগত ঐক্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ঢলুয়াপাড়া, গর্জনাপাড়া ও গড়ানচালা এবং মধুপুরের শালিকা গ্রাম মিলে আমাদের এই দল। আমাদের এই ঐক্যের কারণেই আমরা অনেক বছর ধরে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে করে আসছি। এটি মূলত গ্রামীণ চিকিৎসা পদ্ধতি ও ঐতিহ্য।”

এলাকাবাসীরা জানান, বেহুলা গান পরিবেশনের পাশাপাশি উৎসবের শেষ পর্বে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে সাপে কাটা ও বিভিন্ন বিষে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই আয়োজন এখন স্থানীয়দের কাছে অন্যতম একটি বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হচ্ছে।




সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে : ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকারি তথ্য ও উন্নয়নমূলক বার্তা জনগণের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

একই সঙ্গে তিনি ভুল তথ্য প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্কিং ও ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন।

আজ বুধবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রচলিত প্রচার পদ্ধতির পাশাপাশি ফেইসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইন্সট্রাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সরকারি তথ্য প্রচার করা হলে তা অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। স্থানীয় কার্যক্রমের ভিডিও বা লাইভ প্রচারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

ভুল তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ডিজিটাল লিটারেসির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

সভায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের কিছু বাস্তব ও আইনি ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের তথ্য প্রচারে যাতে দ্বিধায় পড়তে না হয়, সেজন্য আইনি কাঠামোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ছয় মাসে মাঠপর্যায়ে পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, জেলা তথ্য কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসের কর্মকর্তা এসময় উপস্থিত ছিলেন।




বেরিয়ে এলো হারুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে যেন গড়ে উঠেছিল একেকটি বন্দিশালা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হক গ্রুপের কর্ণধার আদম তমিজী হককে গ্রেফতারের পর কারাগারে না পাঠিয়ে রাজধানীর একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, শুধু আটকে রাখাই নয়, তাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টাও করা হয়েছিল। এ ঘটনায় নিরাময়কেন্দ্রটির ভূমিকা, অর্থ আদায় এবং তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কীভাবে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা নিয়ে সামনে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর। ওই দিন হক গ্রুপের কর্ণধার ব্যবসায়ী আদম তমিজী হক ফেসবুক লাইভে এসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেন। এর পরই তার ওপর নজরদারি শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। একপর্যায়ে তাকে গ্রেফতার করা হলেও কারাগারে পাঠানো হয়নি। বরং রাজধানীর বীকন পয়েন্ট নামের একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে তাকে রাখা হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সেখানে আটকে রাখার পাশাপাশি তমিজীর পরিবারের কাছ থেকেও কয়েক দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। এ কাজে তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ ও তার সহযোগীদের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তমিজীকে অবৈধভাবে আটকে রাখার বিনিময়ে বীকন পয়েন্টও কয়েক লাখ টাকা ‘সার্ভিস চার্জ’ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

একপর্যায়ে তমিজী হককে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণ করতে বাইরে থেকে কয়েকজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে সেখানে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের কেউ তাকে মানসিক রোগী হিসেবে সনদ দিতে রাজি হননি। বরং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মধ্যে মানসিক রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসকদের একজনের দাবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসক দলের এক সদস্য সম্প্রতি গণমাধ্যমে জানান, বীকন পয়েন্টে গিয়ে তমিজীকে পরীক্ষা করার পর তাকে মানসিক রোগী বলে মনে হয়নি। এরপরও তাকে সেখানে আটকে রাখার চেষ্টা চলতে থাকে। চিকিৎসকরা নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে আদালতের আদেশ দেখাতে বললে তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ ক্ষুব্ধ হন। এ সময় বীকন পয়েন্টের কয়েকজন কর্মকর্তাও চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রের দাবি, শেষ পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা সনদ ছাড়াই তমিজীকে সেখানে বেশ কিছুদিন আটকে রাখা হয়। বিষয়টি গোপন রাখতে নিরাময়কেন্দ্রটির একটি ফ্লোরও ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ ব্যবস্থায় সেখানে তিনি একাই থাকতেন। তার জন্য আলাদা খাবার, পানীয় এবং বিনোদনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারকোটিক্সের এক উপপরিচালক বলেন, বীকন পয়েন্টে তমিজী হককে অবৈধভাবে আটকে রাখার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানা থাকলেও সে সময় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ডিবি হারুনের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি ছিল অনেকেরই জানা। ফলে হারুনের কর্মকাণ্ডের পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন রয়েছে—এমন ধারণাই তৈরি হয়েছিল সংশ্লিষ্ট মহলে।

তবে তমিজী হকের ঘটনাই একমাত্র উদাহরণ নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। রাজধানীর বিভিন্ন মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বিরোধ মেটানো, প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা কিংবা কাউকে জোর করে ‘মাদকাসক্ত’ সাজানোর অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিকের সহযোগিতায় এক নারী তার স্বামীকে মাদকাসক্ত সাজিয়ে দীর্ঘদিন একটি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখেন। অন্য ঘটনায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ভাই আরেক ভাইকে নিরাময়কেন্দ্রে বন্দি করে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমনকি এসব প্রতিষ্ঠানের ভেতর গুরুতর অপরাধের অভিযোগও উঠেছে। একটি নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় তার পরিবার বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর পর দীর্ঘসময় তার লাশ গোপন রাখার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের পর অভিযোগ থাকলেও এসব ঘটনার অধিকাংশই থেকে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে। কেন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, কারা এর পেছনে ছিল এবং কীভাবে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নিরাময়কেন্দ্রগুলোকে অবৈধভাবে মানুষ আটকে রাখার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর আজও অনেকটাই অজানা। ফলে অভিযোগ অনুযায়ী, অপরাধীরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।




ধনবাড়ীতে বিএসটিআইয়ের মোবাইল কোর্ট, তিন মামলায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে মানহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া মানচিহ্ন ব্যবহারের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে বিএসটিআই, গাজীপুর। অভিযানে তিনটি মামলা দায়ের করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

১৭ আগস্ট ২০২৬ উপজেলা প্রশাসন, ধনবাড়ী ও বিএসটিআই, গাজীপুরের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মোবাইল কোর্টের নেতৃত্ব দেন ধনবাড়ীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিল আফরোজ।

অভিযানে ধনবাড়ীর চালাস, টাকুরিয়া এলাকার গাজীস্টার ফুড প্রোডাক্টস-এ ব্রেড ও কেক উৎপাদনে সিএম লাইসেন্স ছাড়াই বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে বিএসটিআই আইন-২০১৮ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী আরও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকার আল আকসা লাইভ বেকারী অ্যান্ড ফাস্টফুড-এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লেবেলবিহীন ব্রেড, বিস্কুট ও কেক উৎপাদনের অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানকালে প্রতিষ্ঠান দুটিকে দ্রুত বিএসটিআইয়ের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআইয়ের ফিল্ড অফিসার (সিএম) প্রকৌশলী সুজন রানা।

জনস্বার্থে খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে বিএসটিআই, গাজীপুরের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।




পাটকেলঘাটা থানা পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানা পরিদর্শন করেছেন জেলার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার থানার সার্বিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন। তিনি থানার নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় পুলিশ সুপার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ও কাঙ্ক্ষিত পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে পাটকেলঘাটা থানার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




নোয়াখালীতে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি: সেবা-বান্ধব ও জনমুখী পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে নোয়াখালীতে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, নোয়াখালীতে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিদর্শন করেন নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার এন. এম. নাসিরুদ্দিন

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন এবং অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও জনবান্ধব আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে জনগণকে আরও কার্যকর, দ্রুত ও মানসম্মত সেবা প্রদানে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




খাগড়াছড়িতে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার ৫

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে খাগড়াছড়িতে পৃথক তিনটি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। এসব অভিযানে ৫ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাঁজা ও ১০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খাগড়াছড়ি সদর, রামগড় ও গুইমারা থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার অভিযান:
১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টা ৩৫ মিনিটে সদর থানা পুলিশের একটি দল জিরোমাইল এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে। এ সময় পাঁচ কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রামগড় থানার অভিযান:
একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামগড় থানার পুলিশ ১ নম্বর রামগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বলিপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে ১০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গুইমারা থানার অভিযান:
১৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে গুইমারা থানার একটি দল ২ নম্বর হাফছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী হাজীপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৪৫০ গ্রাম গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে জেলা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




ধামরাইয়ে শিশু-কিশোর ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন

ধামরাই প্রতিনিধি: শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীর উন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকার ধামরাইয়ে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রথম প্রান্তিকের জিওবি খাতের আওতায় এ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের শোলধন প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিশু, কিশোর-কিশোরী, নারীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং নারীর অধিকার ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিভাগীয় তথ্য অফিস, ঢাকা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সংশ্লিষ্টরা জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে চলচ্চিত্র ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।




ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে মৎস্যজীবীদের ক্রীড়া ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৎস্যজীবীদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মৎস্য পক্ষের অংশ হিসেবে আয়োজিত কার্যক্রমে মৎস্যজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল।

কর্মসূচির মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট দেশব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ পালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।




অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের প্রতি কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন হাবিবুর রশিদ হাবিব

অবৈধ কর্মকাণ্ড ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের প্রতি নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

তিনি বলেন, “যারা অবৈধ কর্মকাণ্ড ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের আমি ঘৃণাও করি না, ভালোবাসিও না। আমার আচরণ ও ব্যবহারের মাধ্যমেই তারা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে—অন্যায় ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের প্রতি আমার অবস্থান কী।”

তার এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনিয়ম, অবৈধ কর্মকাণ্ড ও অপকর্মের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। অন্যায়কারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করার বার্তাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।