অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়াগত অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জুলফিকার হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন।

সভায় জানানো হয়, এসব কলকারখানায় বিনিয়োগে অনেক বেসরকারি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কোম্পানিগুলো যে ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলোর সম্ভাব্যতা এখন যাচাই করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ এড়িয়ে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু নেই, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে এ সময়ে নতুন করে ১৩৯ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৫০ জন, বরিশাল বিভাগে ৩০ জন, খুলনা বিভাগে ২৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৭ জন রয়েছেন।

চলতি বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ৬ হাজার ৫৯৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯৩ জন এবং গত জুন মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯০৭ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। আক্রান্তদের মধ্যে চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী রয়েছেন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ১৩০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা ছিল উল্লেখযোগ্য। এর আগে ২০২৩ সালে দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন আক্রান্ত ও ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ও মৃত্যুর সংখ্যা ৪১৩ জন।




ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে দেশ, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী

দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রণীত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে বের করে সম্ভাবনার নতুন পথে এগিয়ে নেবে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সেসব সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়।
তিনি বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ-সবই বাংলাদেশে আসছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, কারণ এখানে সমুদ্রবন্দর রয়েছে এবং এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বও অনেক বেশি। এ কারণেই সরকারের পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের হাবে পরিণত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে এবং বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।

মাতারবাড়িতেও বড় ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং সরকার যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করছে।

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সহজ কাজ নয়। আগের সরকারগুলোর রেখে যাওয়া পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তাই প্রথমে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, এরপর সম্ভাবনার পথে এগোতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয় বা চতুর্থ বছর থেকে দেশের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধির পথচলা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হবে। সরকার যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, দেশ ধীরে ধীরে সেদিকেই এগিয়ে যাবে। নতুন নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগও বাড়ছে। তাই বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।




জাদুর নামে প্রতারণা ও পকেটমারের অভয়ারণ্য, দেখার কি কেউ নেই?

দেশের প্রধান এবং সবচেয়ে ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার কমলাপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে জাদুর নামে প্রতারণা, জুয়া এবং পকেটমারদের দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে করে এই স্টেশনে যাতায়াত করেন। সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় কেপিআই (KPI) এলাকা হলেও এখানে এসে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন যাত্রীরা।

​সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও প্রবেশমুখের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে একদল চক্র তথাকথিত ‘জাদুর খেলা’র আসর বসিয়েছে। আসলে জাদুর নামে সেখানে যা চলছে, তা মূলত এক ধরণের সুকৌশলী প্রতারণা ও জুয়া। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ কৌতুহলবশত সেখানে দাঁড়ালেই এই চক্রটি তাদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করে এবং একপর্যায়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।

​অভিযোগ রয়েছে, এই জাদুর আসরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ভিড়ের মধ্যে তীব্রভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পকেটমার ও ছিনতাইকারী চক্র। প্রতিদিন অসংখ্য অসচেতন যাত্রী এখানে পকেট কাটা পড়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

​ভুক্তভোগী যাত্রীদের মতে, প্ল্যাটফর্মের মতো জনাকীর্ণ জায়গায় এভাবে জাদুর আসর বসিয়ে জটলা তৈরি করার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই জাতীয় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের, তাদের এমন নীরব ভূমিকা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— “এখানে কি দেখার কেউ নেই?”

​ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অনতিবিলম্বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এই ধরনের প্রতারণামূলক জাদুর আসর উচ্ছেদ এবং পকেটমার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।




আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে এবং দলটি আর কোনোদিন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবির প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন, নিপাত ও নির্মূল হয়েছে, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। সেই আওয়ামী লীগ আর কোনোদিন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের বিচার দাবি করা হয়েছে, তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। খুব শিগগিরই তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণহত্যার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং তারা জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আন্দোলনকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, “তাদের ভাষ্য অনুযায়ী দেশে জঙ্গি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জাজনক কিছু হতে পারে না। অনুশোচনা বা দোষ স্বীকারের ইতিহাস তাদের নেই। উল্টো বিদেশে বসে তারা গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”

জুলাই আন্দোলনের চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আগে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলত, তারা এখন দিল্লিতে চলে গেছে। যারা চেতনা বিক্রি করবে, তাদের পরিণতিও ভালো হবে না।”

জুলাই আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাসনে ছিলেন। তাদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক উপস্থিতি না থাকলেও আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তখন আমরা কোনো দিন ঘুমাইনি। ২৪ ঘণ্টা সমন্বয়ের মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে জুলাই যোদ্ধাদের সম্মুখে রেখে অরাজনৈতিক পরিচয়ে আন্দোলনকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।”

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।




ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১০ অঞ্চলে একযোগে ডিএসসিসির ‘ক্লিনিং ডে’

পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত নগর গঠনে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ১০টি অঞ্চলে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতামূলক র‍্যালি এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ি’ প্রতিপাদ্যে এ কর্মসূচি আয়োজন করে ডিএসসিসি। এ সময় নগর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

শান্তিনগরে অঞ্চল-১ ও অঞ্চল-২-এর যৌথ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

ডিএসসিসি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা দিবসকে আরও কার্যকর করতে প্রতি মাসের প্রথম শনিবার সংস্থাটির আওতাধীন এলাকায় ‘ক্লিনিং ডে’ পালন করা হচ্ছে।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক র‍্যালি, লিফলেট বিতরণ এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, শপিং কমপ্লেক্স এবং আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাই নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেললে নগর যেমন পরিচ্ছন্ন থাকবে, তেমনি খাল ও ড্রেন সচল থাকায় জলাবদ্ধতাও হ্রাস পাবে। পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে জনসচেতনতা ও আচরণগত পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।l

কর্মসূচিতে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সচিব মো. জয়নুল আবেদীন, বিভিন্ন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।




স্বাস্থ্যসেবার গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী

শুধু বাজেট বরাদ্দ বা বিনিয়োগ বাড়ালেই স্বাস্থ্যসেবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে এবং গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। এ জন্য চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজেদের দায়িত্ব ও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয়তা, অগ্রাধিকার, কার্যকারিতা ও পরিবেশগত বিবেচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অতীতের মতো দুর্নীতি বা ব্যক্তিস্বার্থের ভিত্তিতে নয়, বরং যেসব প্রকল্প থেকে জনগণ সর্বোচ্চ উপকৃত হবে, সেসব প্রকল্পেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সরকার এক লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমে আসবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে কিছু খারাপ চর্চা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। কীভাবে স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনা যায়, সে বিষয়ে চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজস্ব পরিকল্পনা সরকারের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত। স্বাস্থ্যখাতে এবার অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বৈশ্বিক সেরা চর্চা অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রশাসনিক ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন দায়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সরকার সাহসী বাজেট দিয়েছে। বাজেট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকার তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।

 

মতবিনিময় সভায় চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন চাহিদা নিয়েও আলোচনা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ইতিবাচক বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থাপিত ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ব্লকের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী।




কৃষি কার্ডের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ বন্ধ হবে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এর ফলে কোন এলাকায় কী পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, কোথায় কত চাহিদা রয়েছে— এসব তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। এতে উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করা সহজ হবে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের আওতায় শুধু ধান, গম বা পাটচাষিরাই নন; লবণ, সুপারি, নারিকেল, পান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা, উৎপাদনের ধরন এবং ফসলভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তাও এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় অনেক সময় কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েন। এ সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন পর্যায়ে সৌরশক্তিচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষক উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারবেন।

আমিন উর রশিদ জানান, সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি খাল পুনঃখনন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ভর্তুকি ও কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পরও আমদানির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের আবাদযোগ্য জমি সীমিত। এছাড়া হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিবছর কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় আগাম পরিপক্ব ধানের জাত উদ্ভাবন এবং পানিবেষ্টিত এলাকায় ধান কাটার উপযোগী প্রযুক্তি ও যন্ত্র নিয়ে গবেষণা চলছে।

 

চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়া ও দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ঝাটকা সংরক্ষণ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকার জেলেদের সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দাদননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানি বাড়ানো।

তিনি আরও বলেন, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, চর অপসারণ এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য কোস্টগার্ডের জনবলও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মতবিনিময় সভায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।

ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।

ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।

পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।

এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।

রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে।

 

মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।




সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ইতিহাস

রেকর্ড দিয়ে শেষ হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছর। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি।

আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এদিকে অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগের বছরের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠান। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে যাওয়ায় জুন মাসে রেমিট্যান্সেও কিছুটা স্বাভাবিক নিম্নগতি দেখা দিয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।




জন্মহার বাড়াতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স

দেশের ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া জন্মহার বাড়াতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ‘জনসংখ্যাগত পুনর্গঠন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১ জুন থেকে নতুন এই অতিরিক্ত বেতনসহ অভিভাবকত্ব ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী সন্তানের মা এবং বাবা—উভয়ই এই ছুটির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

এর আগে ফ্রান্সে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েদের জন্য প্রায় চার মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং বাবাদের জন্য ২৮ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান ছিল। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পূর্বের বিদ্যমান ছুটির পাশাপাশি বাবা-মা চাইলে অতিরিক্ত আরও এক বা দুই মাসের ছুটি ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন।

এই অতিরিক্ত ছুটির প্রথম মাসে অভিভাবকেরা তাদের মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় মাসে ৬০ শতাংশ অর্থ ভাতা হিসেবে পাবেন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের মা-বাবা এবং দত্তক গ্রহণকারী অভিভাবকেরা এই নতুন সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।

পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়েই বর্তমানে জন্মহার কমছে। ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, গত বছর দেশটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার মানুষের মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে শিশুর জন্মহার কম রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৪ সালেই প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ দেশের এই নিম্নমুখী জন্মহার এবং বন্ধ্যাত্ব সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা উন্মোচন করেছিলেন, যারই ধারাবাহিকতায় এই নতুন নীতি বাস্তবায়ন করা হলো।

তবে সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগকে পুরোপুরি স্বাগত জানাতে পারছে না দেশটির নারী অধিকারবাদী সংগঠনগুলো। ফেমিনিস্ট গ্রুপগুলোর মতে, এই সংস্কার লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খুব একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না।

তাদের দাবি, সাধারণত পরিবারগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীদের আয় কম থাকে। ফলে অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে এই অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীরাই বেশি এগিয়ে থাকবেন, যা কর্মক্ষেত্রে তাদের আরও পিছিয়ে দিতে পারে।

সূত্র: জিও নিউজ।




পলাতক থেকেও ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে সাঈদ খোকনের দাপট

ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে করপোরেট গভর্ন্যান্স লঙ্ঘন, বোর্ড পরিচালনায় অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পৃথক তদন্ত শেষ হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পক্ষ থেকে দীর্ঘ দিনেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বীমা খাতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন সাঈদ খোকন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে না গেলেও অজ্ঞাত স্থান থেকে কোম্পানির কার্যক্রমে তার প্রভাব বজায় রেখেছেন। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনি অনলাইনে যুক্ত হয়ে অংশ নেন। ওই সভায় ১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইডিআরএ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালকদের সভায় সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক হওয়ায়, সাঈদ খোকনের ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ এবং ওই সভার সিদ্ধান্তগুলোর আইনি বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় সাঈদ খোকনের হয়ে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন তার চাচা ও কোম্পানিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ঈসমাইল নওয়াব।

এই অনিয়মের সূত্র ধরে কোম্পানির সাতজন উদ্যোক্তা পরিচালকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ নভেম্বর বিএসইসি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তদন্ত শেষ হওয়ার পরও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তে চেয়ারম্যান হিসেবে সাঈদ খোকনের দীর্ঘ ১৩ বছরের একছত্র দায়িত্ব পালন, বোর্ড অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্যোক্তা পরিচালক অপসারণ করে নিজের পরিবারের সদস্যদের পরিচালক নিয়োগ, কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিমতো নিয়োগ ও অপসারণ এবং আইন লঙ্ঘন করে আত্মগোপনে থেকে কোম্পানি পরিচালনার মতো গুরুতর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়।

একই বিষয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আইডিআরএ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানিকে বিশেষ তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও এখন পর্যন্ত সেই তদন্তের ফলাফল বা পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের কথা অন্ধকারেই রয়ে গেছে। বিএসইসিতে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিচালকেরা দাবি করেন, ২০১২ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর সাঈদ খোকন কোম্পানিতে একক রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সাতজন স্পন্সর পরিচালককে অন্যায়ভাবে অপসারণ করে নিজের পরিবারের সদস্য ও নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বসিয়েছেন, যারা বর্তমানে প্রায় ৩০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন, যা সম্পূর্ণ প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। এছাড়া নিজের সিদ্ধান্তে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিব নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রে কোম্পানির সচিব ও পরিচালক নুর মোহাম্মদ মামুন তাকে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অপসারিত উদ্যোক্তা পরিচালকদের পুনর্বহাল এবং পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আইডিআরএ-এর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এবং বিএসইসি-এর চেয়ারম্যান মাসুদ খানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী পরিচালকেরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএ-এর উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন শীর্ষ পদ খালি থাকায় অনেক বিষয়েই এতদিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যেহেতু সম্প্রতি নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়েছে, তাই কর্তৃপক্ষ এখন এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।




৫৪৬ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনছে ভারত

সামরিক বাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৫৪৬ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫২০ বিলিয়ন রুপি) মূল্যের বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই বিশাল চুক্তির আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র, কামিকাজে ড্রোন, ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি) এই ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে এই সরঞ্জামগুলো কতদিনের মধ্যে কেনা হবে কিংবা এগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে নাকি ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তৈরি করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এই চুক্তির আওতায় ড্রোন বিধ্বংসী ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, মাঝারি পাল্লার ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি অত্যাধুনিক জেট-ভিত্তিক কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম কেনা হবে।
সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রসীমার নজরদারি জোরদার করতে নতুন নৌ-মাইন ও যুদ্ধজাহাজে ব্যবহারযোগ্য ড্রোন ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এছাড়া দেশটির বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং রিমোট সেন্সিংয়ের কাজের জন্য একটি উচ্চ-উচ্চতার চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) প্ল্যাটফর্ম কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে এই তালিকায়।

গত এক দশক ধরে ভারত তার ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি একদিকে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ব্যাপক জোর দিচ্ছে।

বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ৮৫ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বরে ভারত অন্তত ৭৫টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের অর্ডার দেওয়া শুরু করে, যার বেশিরভাগই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে শীর্ষ কর্মকর্তারা ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানসহ ৩৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছিলেন।

সূত্র: জিও নিউজ।




৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে শেষ হলো অর্থবছর

শেষ মুহূর্তের জোরালো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।

যদিও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা ছিল, চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে কঠোর নজরদারি, কর ফাঁকি রোধে অভিযান, উন্নত পরিকল্পনা এবং কর পরিপালন (কমপ্লায়েন্স) জোরদারের ফলে সম্ভাব্য ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।

গত বুধবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের টাস্কফোর্সগুলোর সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী তিন বছরের জন্য একটি মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশল প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী তিন বছরের জন্য এমন একটি রাজস্ব কৌশল তৈরি করা হবে, যেখানে রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য উৎস এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে।

নবনিযুক্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, বুধবার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষ দিনের হিসাব সমন্বয়ের পর আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হবে। ফলে মোট রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই এনবিআর কাজ শুরু করেছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লিখিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং গত তিন মাসে টাস্কফোর্সগুলোর কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগ ইতোমধ্যে তাদের রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আয়কর বিভাগও শিগগিরই তাদের কৌশল চূড়ান্ত করবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, নতুন বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টার্নওভারভিত্তিক ভ্যাটব্যবস্থা, খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর ০.২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবির ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাভেহ লতফোল্লাহ আফরাসিয়াবি এ মামলা করেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আফরাসিয়াবি দাবি করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মিশরের বিপক্ষে ইরানের শেষ মুহূর্তের একটি গোল বিতর্কিতভাবে বাতিল করে দলটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে শেষ ৩২ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তিনি কোটি কোটি ইরানি নাগরিক ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকের পক্ষে ক্লাস-অ্যাকশন মামলা করার অনুমতিও চেয়েছেন। তার অভিযোগ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ব্যবহার করে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে জয় ও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা।

ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে শোজা খলিলজাদেহ ইরানের হয়ে যে গোলটি করেছিলেন, তা ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের পরই ইরানের বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। সে সময় বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছিল, ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতে গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফিফা ইরানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে এবং দলটির জন্য ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে এ মামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।




ঈশ্বরদীতে অগ্রদূত সংস্থার নতুন অফিসে প্রশিক্ষণ (TOT) কার্যক্রমের উদ্বোধন

পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অগ্রদূত সংস্থা’-এর নতুন অফিস এবং প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (TOT) কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ দুপুর ১২টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন অফিস ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন অগ্রদূত সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা এবং ‘আধুনিক বাংলাদেশ’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মো. নিয়ামত আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংস্থার ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং সংস্থার সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করেন।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অগ্রদূত সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির চৌধুরী। তিনি সংস্থার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং ঈশ্বরদীতে নতুন অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে TOT (Training of Trainers) প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। উদ্বোধন শেষে নির্বাহী পরিচালক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও উপস্থিত সকলের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিগত ১৯ বছর ধরে অগ্রদূত সংস্থা মানবকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঈশ্বরদীতে এই নতুন শাখা ও প্রশিক্ষক তৈরি কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার বেকার যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী ও মতবিনিময় সভায় সংস্থার কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ অনলাইনে ও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।



যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিবের খোঁজ নিলেন যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা

হৃদরোগে আক্রান্ত বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের সিকদার, দপ্তর সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়াসহ অন্যান্য নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে তার আশু রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, যাত্রী অধিকার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর দীর্ঘদিনের অবদান অনস্বীকার্য। তারা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং দেশবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক ও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন করা হয়েছে হয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়।




রাজশাহীতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু, হাসপাতালে বাড়ছে আক্রান্ত রোগী

মাঝ আষাঢ়েও রাজশাহীতে বৃষ্টির দাপট সেই অর্থে নেই। মাঝেমধ্যে আকাশে মেঘের ভেলা ভাসলেও তা বৃষ্টি নামাতে পারেনি। বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা না হলেও এর মধ্যে নগরীতে ডেঙ্গুবাহক এডিস মশার উপদ্রব বেড়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন নতুন ডেঙ্গু রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে উঠে এসেছে, নগরীতে এডিস মশার ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত ঝুঁকিমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও চারজন ডেঙ্গু রোগী।

রামেক হাসপাতালের দেওয়া তথ্য মতে, জুন মাসের শেষ ২০ দিন ও জুলাই মাসের প্রথম দুই দিনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর না থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ১৮ মাস বয়সী এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই দিন হাসপাতালটিতে আরও দুইজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১০ জুন থেকে ১২ জুন নতুন ডেঙ্গু রোগী না থাকলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুইজন। এ ছাড়াও ১৩ ও ২৪ জুন একজন রোগী ভর্তি হন। ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন নতুন রোগী ভর্তি না হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুইজন। ১৮ ও ১৯ জুন রোগী ভর্তি না হলেও ২০ জুন একজন ভর্তি হন। ২১ জুন রোগী ভর্তি না হলেও ২২ জুন একজন নতুন রোগী ভর্তি হন। পরের দিন ২৩ জুন তিনজন এবং ২৪ জুন দুইজন ভর্তি হয়েছেন। এতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচজনে।

২৫ জুন দুইজন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হলেও ছাড়া পেয়েছেন দুইজন। ২৪ জুন ভর্তি না থাকলেও ২৭ জুন একজন ভর্তি হয়েছেন। এদিন একজন ছুটি পেয়েছেন। ২৮ জুন নতুন রোগী না থাকলেও ২৯ জুন একজন ভর্তি হন। এদিন ছুটি হয় দুইজনের। ৩০ জুন নতুন করে তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন এবং চিকিৎসাধীন থাকেন তিনজন। ১ জুলাই নতুন একজন রোগী ভর্তি হলেও ছাড়া পেয়েছেন দুইজন, চিকিৎসাধীন থাকেন দুইজন। সবশেষ ২ জুলাই নতুন করে দুইজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন রামেক হাসপাতালে।

বিষয়টি নিয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকরকে বিশ্বাসের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত মে মাসে পরিচালিত জরিপে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এলাকায় ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৬৬। ডব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুযায়ী, এই সূচক ২০ বেশি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকাকে ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জরিপে নগরীর ৭৫টি বাড়ির ১৫টিতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ফলে হাউস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে বিশ শতাংশ। একই সঙ্গে পরীক্ষা করা ৫২টি পানিধারণকারী পাত্রের মধ্যে ২৩টিতে লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি পাঁচটি বাড়ির একটিতে এবং প্রায় অর্ধেক পানিধারণকারী পাত্রে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব স্থানে আরও পানি জমলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের এন্টো-টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী বলেন, নিয়মিত প্রাক-বর্ষা নজরদারির অংশ হিসেবে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, নগরীতে লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক এডিস মশার উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

রাজশাহী জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা জানান, এডিস মশা এখন শুধু প্রচলিত পানির উৎসে নয়, মানুষের অসচেতনতার কারণেও বংশবিস্তার করছে। জরিপে ফুলের টব, ছাদবাগান, খোলা নারকেলের খোসা, দইয়ের পাত্র, শিশুদের খেলনা, পরিত্যক্ত টায়ারসহ নানা ধরনের পানিধারণকারী সামগ্রীতে লার্ভা পাওয়া গেছে।

রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন জানান, বর্ষা সামনে রেখে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং মশা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে।




এসএসসির পর ভর্তি না হওয়ার হার উদ্বেগজনক: শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসি পাসের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি না হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হরে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘‘আগে এসএসসির পর সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ত। কিন্তু এবার মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং সাধারণ শিক্ষায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আমাদের জন্য বড় প্রশ্ন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু কারণ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এবার অনেক শিক্ষার্থী ফরম পূরণই করেনি। সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করে সেটি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর না ঘটে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আমাদের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপনাদের প্রতিবেদন আমরা গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করি এবং সেগুলোর ভিত্তিতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পদোন্নতি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পথ খুলে দিয়েছে আপিল বিভাগের রায়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি মামলায় রাষ্ট্রের করা আপিল মঞ্জুর করে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মামলাটি সরকারের পক্ষে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরবে এবং একই সঙ্গে শিক্ষা খাতের অন্যান্য শূন্য পদ পূরণেও দ্রুত অগ্রগতি হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, আদালতের রায়ের ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর হয়েছে। এখন দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আপিল বিভাগের রায়ের ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যাবে। প্রধান শিক্ষক পদে বদলি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ জন সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির সুযোগ পাবেন। পদোন্নতির ফলে সৃষ্ট শূন্য পদে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে। বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে শিক্ষক সমাজে কর্মোদ্দীপনা বাড়বে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৭ সালে জাতীয়করণ হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৬৩ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। তারা ২০১৩ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী কার্যকর চাকরিকালের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন-স্কেল এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আর্থিক সুবিধা দাবি করেন। পরে হাইকোর্ট আংশিকভাবে রুল অ্যাবসোলিউট করে নিয়োগবিধির একটি বিধানকে বেআইনি ঘোষণা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্ট্যাটাস কো বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এর ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০টি প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা, পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে দায়িত্ব চালাতে হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আদালতের রায়ের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা কীভাবে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে রিকুইজিশন পেলেই আইনগতভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।’’

তিনি জানান, ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে প্রয়োজনীয় রিকুইজিশন দ্রুত প্রস্তুত করে পিএসসিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘শুধু প্রাথমিক শিক্ষা নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও প্রায় চার হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়েও আরও প্রায় চার হাজার শিক্ষক প্রয়োজন। এই সংকট সাম্প্রতিক সময়ের নয়, দীর্ঘদিনের। আমরা দ্রুত এসব শূন্যপদ পূরণে কাজ করছি।’’

বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদেরই প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নই প্রধান লক্ষ্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়া এবং কিন্ডারগার্টেনমুখী হওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়ানো। আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিক শিক্ষা ও বিতর্কচর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’’




কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অপু গ্রেফতার

গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী ইথানের বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে আবু হানিফ অপুকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ডিবি ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোরে অপুকে গ্রেফতার করা হয়

কুমিল্লা নগরীতে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্কুলছাত্র আহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আবু হানিফ অপুকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গতকাল ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন নগরীর কাটাবিল এলাকায় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে গোলাগুলির সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরো কয়েকজন।

ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী ইথানের বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে আবু হানিফ অপুকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ডিবি ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নামে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোরে অপুকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর জগন্নাথপুর এলাকা থেকে সংঘর্ষে ব্যবহৃত একটি বিদেশী পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের আরো জানায়, আবু হানিফ অপু একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৫টি মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরো একটি অস্ত্র মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় কমেছে দশমিক ৫৮ শতাংশ

২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, চলমান যুদ্ধ ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ব্যাহত করায় রপ্তানিতে এ পতন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের পণ্য রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। আয় হয়েছেল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগে ছিল ৪৮.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য সরকার ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে ইপিবি।




শাহজালালে বিমানের ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

আবারও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণের চালান জব্দ করেছে গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, এভসেক ও কাস্টমস হাউস সহ বিভিন্ন সংস্থা।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ওই ফ্লাইট থেকে এসব স্বর্ণ জব্দ করা হয়।

সূত্র জানায়, ডিজিএফআইয়ের একটি চৌকস দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানের কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালায়। এভসেকের সহায়তায় ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

 

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই ধরনের একটি ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল।




১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমলো ৩৫৭ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫২৮ টাকা। জুন মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৮৮৫ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নতুন এ দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে এ দর। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার পর থেকেই বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম নিম্নমুখী।

বিইআরসি জানিয়েছে, চলতি জুলাই মাসে অটোগ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এ মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা। যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা।

 

এদিকে, সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।




কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।

তিনি বলেন,  ‘প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন,  যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ,  সামাজিক দর্শন  ও আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। কবি নজরুল তেমনই একজন ক্ষণজন্মা  ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের  জীবনের সকল পর্যায়েই তাঁর প্রভাব অপরিসীম।’

আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে আয়োজিত এক সভায় (জুম প্ল্যাটফর্ম) বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ছবি : পিএমও

ছবি : পিএমও

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে  তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।’

তিনি বলেন,  ‘পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য,  বৈষম্য, কুসংস্কার, তথা যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ কিংবা রণ-সঙ্গীত,  ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান  অথবা ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামা সংগীত,  প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ,  কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল প্রকাশ ছিল শুদ্ধ ।’

মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম প্রধান দিশারি এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সকল কালের, সকল মানুষের।’

তিনি বলেন, ‘অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা।  তাঁর প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন ফুরানোর নয়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,  ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনি আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা।’

তিনি বলেন, ‘শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্য, এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরো গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ’ শুরু হয়েছে।’

তিনি ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,’ আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাগণ, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পীগণ যারা  অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন।’

তিনি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে নজরুল গবেষক ও নজরুলপ্রেমীদের প্রাধান্য দেয়ার ইঙ্গিত করে বলেন,  ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে যেমন নজরুল গবেষকদের উপস্থিতি মানায় না, তেমনি নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠানেও আমলাদের চেয়ে নজরুল অনুরাগীদের অংশগ্রহণই বেশি কাম্য।’

নতুন প্রজন্মের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান জটিল বাস্তবতায় আমাদের উদীয়মান প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘর’-এর মতো নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’

তিনি বলেন, নজরুল আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। নজরুল কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন  ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন, যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টানের কোনো ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ এবং এমনকি প্রতিটি প্রাণীও নিরাপদে থাকবে।’

এ সময় সারাদেশে নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুল প্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে বর্তমান জটিল বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে কবির নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যকে আলোকবর্তিকা হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি।

পরিশেষে, জাতীয় কবির জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও মানবিক চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-ু২০২৭’ এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পী যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।

ছবি: পিএমও

ছবি: পিএমও

সংস্কৃতি মন্ত্রী  নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,  তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।




গোপন কায়দায় আনা ১৮ কেজিরও বেশি স্বর্ণ জব্দ শাহজালালে

আবারও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার, এভসেক ও কাস্টমস হাউসসহ বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণের চালান জব্দ করা হয়েছে।

দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইট থেকে এই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, ডিজি এফ আই য়ের একটি চৌকস দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানের কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালায়। এসময় এভসেকের সহায়তায় ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই ধরনের একটি ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল।




ন্যাশনাল লাইফের ৩৭% নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। কোম্পানির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সভায় বিপুল সংখ্যক শেয়ারহোল্ডার অংশ নেন।

সভায় কোম্পানির পরিচালক মতিউর রহমান, এস আই চৌধুরী, ব্রিগিডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাসুদ হোসেন, মামুনুর রশিদ, ডা. শামীম খান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন, ডিএমডি খসরু চৌধুরী, ডিএমডি এন্ড সিএফও প্রবীর চন্দ্র দাস এফসিএ উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত শেয়ার হোল্ডারগণ তাদের বক্তব্যে কোম্পানির বর্তমান অগ্রগতি ও সাফল্যের জন্য পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সভায় শেয়ারহোল্ডারগণ সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৫ সালের ব্যালেন্সসীট ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যমানের শেয়ারের বিপরীতে ৩৭% নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন।

সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন অংশগ্রহণকারী শেযারহোল্ডার, পরিচালক ও উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতে কোম্পানির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




সিটিজেনস ব্যাংকের ডিজিটাল লেনদেন ৩১ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে

ডেটা সেন্টার স্থানান্তরের কাজের কারণে সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। আগামী ৩ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) রাত ১টা থেকে ৪ জুলাই (শনিবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত, মোট ৩১ ঘণ্টা ব্যাংকটির কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেন-সংক্রান্ত সেবা ব্যবহার করা যাবে না।

বুধবার (১ জুলাই) এ বিষয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সিটিজেনস ব্যাংক তাদের ডেটা সেন্টার স্থানান্তরের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এই সময়ের জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা স্থগিত রাখবে।

এ সময় ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ব্যাংকিং এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এ কারণে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় লেনদেন আগেই সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি অন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যাতে আন্তঃব্যাংক লেনদেন বা গ্রাহকসেবায় কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ডেটা সেন্টার স্থানান্তরের কাজ শেষ হলে সিটিজেনস ব্যাংকের ডিজিটাল সেবাগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হবে।




শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ভারতে ১১০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে আম পাঠানো হয়েছে। দেশটির এই দুই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে মোট ১১০০ কেজি আম। বেনাপোল ও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পাঠানো এই আম ভারতের বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

জানা যায়, শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী ও ডা. মানিক সাহার কাছে পাঠানো হয়েছে আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আম। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমগুলো কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

এর মধ্যে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের জন্য ১০০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি এবং আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের জন্য ১২০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৬০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে।

 

এসবের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য ১০০ কেজি করে আম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৯০০ কেজি আম দুই রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে দেয়া হবে।




চাকরি বহালের দাবিতে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে তালা

বাগেরহাটে চাকরি বহালের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৮ টায় হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দোতলায় প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা দিয়ে করিডোরে অবস্থান নিয়েছেন তারা। কর্মসূচি চলবে দিনব্যাপী।

অবস্থানকারীদের দাবি, দুই বছর ধরে তারা সরকারি সব নিয়মকানুন মেনে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু নবনিযুক্ত ঠিকাদার এইচ আর ডি অ্যান্ড ই এজেন্সি‘র স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুর রহমান অজানা কারণে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ কর্মচারীদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। চাকরি ফিরে পেতে ৬৬ জন কর্মচারী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনও করেছেন। চাকরিতে বহাল না করলে, আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আউটসোর্সিং কর্মচারীরা।

 

 

আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি মো. আল আমিন বলেন, ‘আমাদের নিয়োগ দুই বছরের মতো হলেও, এখানে অনেক কর্মচারী আছেন যারা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে সেবা দিচ্ছেন। অনেকে আরও বেশি সময় ধরে সেবা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন নাম মাত্র বেতন এমনকি বিনা বেতনে সেবা দিতে দিতে দক্ষ হয়েছেন তারা। এসব কর্মচারীদের উপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সেবা গ্রহীতারা অনেক খুশি, তারপরও আমাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা চাকরি বহাল চাই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী যোগদান করেন। যোগদানের সময় তাদের কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু নবনিযুক্ত ঠিকাদারের চুক্তি অনুযায়ী, হাসপাতালে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন কর্মচারীদের নিয়োগপত্র দিয়েছে ঠিকাদার।

 

এদিকে নতুন নিযুক্ত কর্মচারীরা হাসপাতালে যোগদান করতে আসলে হট্টগোল হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সৌরভ কুমার মন্ডল ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তবে এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. সাইদুর রহমানকে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘পুরোনো কর্মচারীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালত যে আদেশ দেবে আমরা তা বাস্তবায়ন করব। সবাইকে আপাতত ধৈর্যধারণ করতে বলা হয়েছে।’




নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জুটের গুদামে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি জুটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় অবস্থিত মা মারজান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি জুটের গুদামে আগুন লাগে। খবর পেয়ে শিবু মার্কেট মডার্ন ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ জুটের গুদামটি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনের তাপ ও বিস্তারের কারণে আশপাশের কয়েকটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আগুনের ভয়াবহতা দেখে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। এ সময় আশপাশের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।




জেলা পর্যায়ে ক্রিটিক্যাল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি ডা. জুবাইদার

প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, চিকিৎসায় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ে ক্রিটিক্যাল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে‘ জাতীয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন’ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘‘ক্রিটিক্যাল চিকিৎসার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ট্রেনিং ও চিকিৎসা সরঞ্জাম জরুরি।’’ তিনি সব জেলায় ক্রিটিক্যাল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের দাবি জানান

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চিকিৎসকরা দায়িত্বশীল না হলে সরকার স্বাস্থ্য খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও লাভ হবে না।’’

তিনি বলেন, ‘‘দেশে চিকিৎসকদের অপচিকিৎসা কিংবা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ প্রায়ই গণমাধ্যমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে আদ্ব দীন হাসপাতালের ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।’’




আতিউরসহ ১৫ বছরের বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্যদের নথি তলব

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ গত ১৫ বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়মের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসব নথি চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো আকতারুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব নথি পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছে দুদক টিম।

তলব করা নথিপত্র বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদসহ পরবর্তী অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ অনুসন্ধানে উপ-পরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার ও উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লার সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়।

দুদকের তলবকৃত চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিতে নীতিমালা প্রণয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম ও জালিয়াতির সুযোগ সৃষ্টি করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নাম, ঠিকানা, দায়িত্বকালসহ বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে দুদক। পাশাপাশি ওই সময়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথিও তলব করা হয়েছে।

চাওয়া নথির মধ্যে আরও রয়েছে, ২০১৬ এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন (ডিওএস) ও ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) থেকে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট এবং বড় ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনসংক্রান্ত জারি করা সব অনাপত্তিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।

এ ছাড়া ২০২০ সালের বিআরপিডি সার্কুলার-৮ অনুযায়ী শিল্প ও সেবা খাতে বিতরণ করা প্রণোদনা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও প্রণোদনার পরিমাণ চাওয়া হয়েছে।

কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা দেওয়ার অনুমোদনপত্র, এ-সংক্রান্ত নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপি এবং সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময় বিশেষ গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত নথিও




কর্ণফুলী নদীতে ফিশিং ট্রলারে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ দুই নাবিকের মৃত্যু

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা একটি ফিশিং ট্রলারে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ছয়জনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

‎নিহতরা হলেন, ট্রলার এফবি দেশের দুই নাবিক রুবেল ও শাহ আলম।

 

রুবেলের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় এবং শাহ আলমের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। বুধবার সকালে নিজ নিজ এলাকায় তাদের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

‎‎ট্রলারের ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ জানান, গুরুতর দগ্ধদের ঢাকায় নেওয়ার পথে রুবেল ও শাহ আলম মারা যান। পরে পরিবারের ইচ্ছায় তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

‎দগ্ধ অন্য চারজনের মধ্যে ক্যাডেট ইঞ্জিনিয়ার আশিকুজ্জামান তামিম ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপরদিকে উইন্স অপারেটর নিজাম উদ্দিন, ডুবুরি রাসেল ও নাবিক সিদ্দিক আহমেদ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

‎মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট সাম্পানঘাট সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করা এফবি দেশ ট্রলারের ইঞ্জিন কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ট্রলারে থাকা ছয়জন দগ্ধ হন।

‎ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ জানান, সাগর থেকে মাছ ধরা শেষে সোমবার দুপুরে ট্রলারটি কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জেনারেটরের বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

‎এ ঘটনায় ট্রলারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের সদরঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির কারণ খতিয়ে দেখছে।




আনসার বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের কার্যক্রম তুলে ধরবে ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’

আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিডিয়া সেল ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’। ৬০ লাখের বেশি সদস্যের এই বাহিনীর নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং গুজব-অপপ্রচার মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মকে সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরে ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ অনলাইন নিউজ পোর্টালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আজ ৬০ লাখের বেশি সদস্যের একটি বিশাল পরিবার। ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) এবং নগর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তাদের এই নীরব আত্মত্যাগ ও সাফল্যের গল্প জনগণের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবে।

তিনি বলেন, ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ। ডিজিটাল রূপান্তরের এ সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ যেমন তথ্যপ্রবাহকে সহজ করেছে; তেমনি গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ বাস্তবতায় একটি বৃহৎ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের মাধ্যমে গুজব, ভুয়া খবর ও ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে ছড়ানো গুজব ও অপপ্রচারের দ্রুত জবাব দিতে বাহিনীর ওয়েব পোর্টাল prantikkonthoshor.gov.bd-এ নিয়মিত প্রেস রিলিজ প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু তার সক্ষমতা নয়, বরং জনগণের আস্থা। আর সেই আস্থা গড়ে ওঠে সঠিক, নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের মাধ্যমে। তিনি জানান, মিডিয়া সেলের আওতায় অনলাইন নিউজ পোর্টালের পাশাপাশি ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল চালু করা হয়েছে, যা বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে আরও স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও সহজলভ্য করে তুলবে।

তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আলোকে স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বাহিনীর সদস্যদের কমিউনিটি জার্নালিজমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবন, সংগ্রাম, সাফল্য ও সম্ভাবনার গল্প জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পরিশেষে তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর সার্বিক সফলতা কামনা করে বলেন, সত্য, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের আদর্শ ধারণ করে এই প্ল্যাটফর্ম গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করবে।

এসময় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ৬০ লক্ষাধিক সদস্যের এই সুশৃঙ্খল বাহিনী দীর্ঘকাল ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাতীয় উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নিজেদের কার্যক্রমকে আরও অধিকতর স্বচ্ছ, গতিশীল এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে আমরা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছি আমাদের নিজস্ব মিডিয়া সেল-‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’।

​তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একটি অনলাইন পোর্টাল নয়, বরং এটি আমাদের মাঠ পর্যায়ের অকুতোভয় সদস্যদের শ্রম, ত্যাগ এবং সাফল্যের একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আমরা আমাদের অফিসিয়াল অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করছি। সারাদেশে বিস্তৃত আমাদের ৪৭টি ব্যাটালিয়নের সদস্য, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ৫০ হাজারেরও বেশি অঙ্গীভূত আনসার এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত গ্রাম ও নগর প্রতিরক্ষা দলের সদস্যদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন ঘটানোই এই বহুমুখী প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নির্ভুল, বস্তুনিষ্ঠ ও সময়োপযোগী তথ্য প্রচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, প্রান্তিক কণ্ঠস্বর বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম, সাফল্য এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ জনগণের সামনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আনসার বাহিনী দেশের নিরাপত্তা, নির্বাচন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করে আসছে। এই প্ল্যাটফর্ম তাদের অবদানকে আরও ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেবে।




অনুমোদন পেলো তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি নতুন থানা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নতুন উপজেলা তিনটি হলো— চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর, কুমিল্লার বাঙ্গরা এবং ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও। নতুন থানা হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে চট্টগ্রামের হালদা থানা।

বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত অংশগুলো ঢাকা জেলার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা বিভক্ত করে বাঙ্গরা উপজেলা এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা গঠন করা হবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রারের হাটহাজারী থানা বিভক্ত করে হালদা থানা গঠন করা হয়েছে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।




নকশাবহির্ভূত স্থাপনা: চট্টগ্রামে ৮ ভবন সিলগালা, ১৩ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় নকশাবহির্ভূত ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আটটি স্থাপনা সিলগালা করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। একই সঙ্গে তিন ভবন মালিককে মোট ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) চউকের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত করা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযানে কল্পলোক আবাসিক এলাকার নির্মাণাধীন ভবনগুলো পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ভবন নির্মাণে বাধ্যতামূলক সেটব্যাক না রাখা, অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি এবং অন্যান্য অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় মোট ১১টি স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত সাতটি বহুতল ভবন ও একটি অনুমোদনহীন গুদাম সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে সিলগালা করা স্থাপনাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া তিন ভবন মালিককে মোট ১৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

চউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, কোনো অবস্থাতেই নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা যাবে না। নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত স্থাপনার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে চউক জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে চউকের অথরাইজড অফিসার-২ কাজী কাদের নেওয়াজ, সহকারী অথরাইজড অফিসার আসাদ বিন আনোয়ার, সহকারী অথরাইজড অফিসার ফারুক আহাম্মদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করলো চসিক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে এই বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বাজেট বক্তৃতায় চসিক মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বাজেটে আগামী অর্থবছরে ১০ লাখ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হকার সমস্যা সমাধানে ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এ বিষয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মেয়র।

নগরবাসীর অভিযোগ জানতে ও সেবা সহজ করতে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে একটি ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ চালুর কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরা হয়। অ্যাপের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।

মেয়র বলেন, বিএফআইডিসি রোডে চসিকের ৮ একর জমিতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়াতে ৪৪টি আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে চসিকের অনুমোদিত জনবল ৪ হাজার ২২৬ জন, যা প্রায় ৭০ লাখ নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত নয়। এজন্য নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদনের উদ্যোগ চলছে। ইতোমধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ১২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। মেয়রের ভাষ্য, এতে অনিয়ম কমবে এবং নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে কর পরিশোধ করতে পারবেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, চট্টগ্রামে প্রায় ১০ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে দেড় লাখেরও কম। এ সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে চসিক।

নগরীর স্মার্ট সিটি উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১৩৫ কিলোমিটার সড়কে ৫ হাজার ৫০০টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন, ৫৩টি মোড়ে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সোলার স্ট্রিট লাইট ও ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

পরিচ্ছন্নতা খাতে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং মশক নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম জোরদারের কথা উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি বলেন, প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের ৮১ শতাংশ বর্তমানে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় চসিকের আর্থিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় করপোরেশনের দেনা ছিল ৫৯৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ৩৮০ কোটিতে নেমে এসেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ এবং অবসরপ্রাপ্তদের আনুতোষিক নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।




শিল্প-উৎপাদন চাঙা করতে বড় উদ্যোগ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিসুদ ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে অর্থনীতির গতি ফেরাতে শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে। শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এসময় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতিসুদ (পলিসি রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।

 

গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭ শতাংশে ওঠা মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে তা এখরো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারের কাঠামোগত সমস্যা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতিও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

মুদ্রানীতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি ও সারের সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নিরীক্ষা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আইএফআরএস-৯ ভিত্তিক এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস (ইসিএল) কাঠামো বাস্তবায়ন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (আরবিএস) জোরদার এবং নতুন ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ ও ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন-২০২৬ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরা হয়।

এছাড়া খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (ডামা) প্রণয়ন এবং অর্থঋণ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে আন্তঃপরিচালনযোগ্য ‌‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর মাধ্যমে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহজ ও নির্বিঘ্ন ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ এবং নতুন প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাড়বে। তবে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, আর্থিক খাতের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে।




১ টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাবে: আইনমন্ত্রী

১ টাকায় আইন ও বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব নয়, এমনটা হলে দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

অধিবেশনে আইনমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের জন্য ২,১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মঞ্জুরির দাবি পেশ করেন। এরপর বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য এই দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং বিচার বিভাগের নানা সংকট তুলে ধরেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, নিম্ন আদালত পৃথক করা হলেও পদোন্নতি ও বদলিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি বিচারক সংকট, মামলাজট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করেন।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বিচার বিভাগের জন্য এই বরাদ্দকে ‘অত্যন্ত অপ্রতুল’ উল্লেখ করে বলেন, দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং। কিন্তু বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট স্থাপন বা পেপারলেস জুডিশিয়ারি করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কেরামত আলী থানা ও পুলিশের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, বিচার বিভাগের বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ, যা বিটিভির বরাদ্দের চেয়েও কম।

তিনি দেশে ৫০ লাখের বেশি মামলাজটের কথা উল্লেখ করে প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্যদের এসব প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, অন্য দাবির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই যুক্তি দিয়েছেন, তবে এই দাবির ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে তারা পোশাক পরিহিত আইনজীবী হায়ার করে এনেছেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর স্ববিরোধিতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে দুই ধরনের দাবি এসেছে। একজন বলছেন বরাদ্দ বেশি হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক, আরেকজন বলছেন বরাদ্দ অনেক কম হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক! ১ টাকা দিয়ে যদি আইন বিভাগ চালাতে বলা হয়, তাহলে তো বিচার বিভাগের দরকার নাই, এটা একটা পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাক।

সংসদ সদস্যদের দাবিগুলোকে ‘জনপ্রিয়’ কিন্তু কার্যপ্রণালী বিধির ১১৮ বিধির পরিপন্থি (মিসকনসিভড) বলে আখ্যায়িত করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১ টাকা দিয়ে কীভাবে গোটা বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব, তার কোনো বিকল্প নীতি ছাঁটাই প্রস্তাবে দেওয়া হয়নি।

 

বর্তমান বাস্তবতায় এই বরাদ্দ বিচার বিভাগের জন্য অপ্রতুল হলেও আপাতত এর কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে আইনমন্ত্রী ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ করে মূল বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য সংসদের কাছে আহ্বান জানান।