এমটিবির লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (এমটিবি) গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত বছরের জন্য ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদেরকে ১০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দেবে।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (Consolidated EPS) হয়েছে ২ টাকা ৯১ পয়সা। আগের অর্থবছরের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৪১ পয়সা।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২৪ টাকা নিয়ে ৫২ পয়সা।

আগামী ৩ জুন ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৯ মে।




শিগগিরই গোল্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা হচ্ছে

গোল্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই) এবং বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মধ্যে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বসুন্ধরার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে বাজুসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মো. রিপনুল হাসান, সহ সভাপতি মাসুদুর রহমান, সহ-সম্পাদক উত্তম ঘোষ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য জয়দেব সাহা।

বৈঠকে সিএসইর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর ররহমান এবং ডেপুটি ম্যানেজার ফয়সাল হুদা। এ সময় সিএসইর কমোডিটি বিষয়ক কনসালটেন্ট পার্টনার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (এমসিএক্স),ইন্ডিয়া এর হেড অফ রিসার্চ দেবজ্যোতি দে এবং চিফ বিজনেস অফিসার রিশি মাথানি ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে উক্ত সভায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও বাজুস ও সিএসই-এর অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সিএসই প্রথমবারের মত বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে । সে লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্টেকদের সাথে আলোচনার অংশ হিসেবে বাজুস নেতৃবৃন্দের পরামর্শ ও মতামত গ্রহনের লক্ষ্যে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশের গোল্ড ও জুয়েলার্স ব্যবসার ভেল্যু চেইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান বাজুসকে গোল্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জের যাত্রার কথা অবহিত করেন এবং গোল্ড এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য এক সাথে কাজ করার আহবান জানান। এছাড়াও উক্ত সভায় বাংলাদেশে অন্যান্য উন্নত দেশের মত একটি ভাইব্রেন্ট কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় স্ট্রেটিজি যেমন সাস্টেইনেবল প্রাইস ডিসকভারি, প্রোডাক্ট এডভাইজরি কমিটি ফরমেশন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাজুসের প্রতিনিধিগণ সিএসইর সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ব্যাপারে তাদের সম্মতি প্রদান করেন। একটি সমৃদ্ধ কমোডিটি মার্কেট প্রতিষ্ঠার জন্য সিএসই এবং বাজুস এর সমন্বিত উদ্যোগ বাজুস মেম্বারসহ স্বর্ণের বাজার সংশ্লিষ্ট সকলকে উপকৃত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে উপস্থিত সকলে আশা ব্যক্ত করেন।




সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার লিমিটেড গত ৩০ জুন, ২০২৩ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ বছরে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা, যা আগের বছর ৩ টাকা ৮৭ পয়সা ছিল।

আলোচিত বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের প্রবাহ ছিল ৭ টাকা ৪ পয়সা, যা আগের বছর ৫ টাকা ৯১ পয়সা ছিল।

গত ৩০ জুন, ২০২৩ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩৮ টাকা ২ পয়সা।

আগামী ১৮ এপ্রিল কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ মার্চ।

সামিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূলতঃ টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের (National Forex Reserves) প্রভাবে কোম্পানির নিট মুনাফা ও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ব্যাপকভাবে কমে গেছে।




বিজিআইসি’র এজিএম অনুষ্ঠিত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নন-লাইফ বীমা খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিআইসি) ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বৃহস্পতিবার (০৩ আগস্ট) সকাল ১১ টায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান তওহিদ সামাদ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান মো. সেলিম ভূঁইয়া, পরিচালক মো. শাকিল রিজভী, মনোনীত পরিচালক অরুণাংশ দত্ত, মোহাম্মদ মনজুর মাহমুদ, কায়সার ইসলাম, স্বতন্ত্র পরিচালক মোস্তফা জামান আব্বাসী, উপদেষ্টা এ কে আজিজুল হক চৌধুরীসহ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী মিন্টু ও কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যাক শেয়ারহোল্ডার।

সভা সঞ্চালনা করেন কোম্পানি সচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ।

বার্ষিক সাধারণ সভায় কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সমাপ্ত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, আলোচ্য বছরে প্রতিষ্ঠানটির গ্রস প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা ২০২১ সালে ছিল ৮০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা প্রায়। গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের নিট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা গত বছর থেকে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বেশি। গত বছর নিট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৩৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। দাবি পরিশোধ বিগত বছরের তুলনায় কমেছে। আলোচ্য বছরে প্রতিষ্ঠানটি ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকার দাবি পরিশোধ করেছে, যা গত বছর থেকে ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা কম। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটি দাবি পরিশোধ করেছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আলোচ্য বছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৭৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। যা ২০২১ সালে ছিল ১৭০ কোটি ৬২ লাখ টাকা প্রায়। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। যা ২০২১ সালে ছিল ৩৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এছাড়া, অবলিখন মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বিনিয়োগ ও অন্যান্য খাত থেকে আয় হয়েছে ১৩ কোটি ০৮ লাখ টাকা। শেয়ারহোল্ডারর্স ইকুইটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বিদায়ী বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫৩ পয়সা। আগের বছর ইপিএস ছিল ১ টাকা ৯২ পয়সা। এছাড়া, গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৯ টাকা ১৭ পয়সা। যা ২০২১ সালে ছিল ১৯ টাকা ৬৩ পয়সা।

তিনি আরো বলেন, প্রতিযোগিতামূলক এ বাজারে আমরা আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারিনি। তবে আমরা আশাবাদী আগামীতে উল্লেখযোগ্য হারে ব্যবসা করতে পারবো যদি বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করা যায়। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ ও বীমা শিল্পকে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বীমা খাতকে নন ট্যারিফ মার্কেট করা প্রয়োজন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বীমা খাত যদি নন ট্যারিফ মার্কেটের আওতায় আসে এবং সেই সাথে বীমা নীতির পরিবর্তন ও সংযোজন করা হয় তাহলে দেশের বীমা খাত জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারবে। পরিশেষে তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আমরা ব্যবসা করে এসেছি, ব্যবসা করছি, আগামীতেও ব্যবসা করে যাবো। এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। বিজিআইসি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি বলেন আগামীতে আমরা আপনাদের সহযোগিতায় কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো। পরে তিনি শেয়ারহোল্ডারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

বার্ষিক সাধারণ সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২২তারিখে সমাপ্ত অর্থ বছরের আর্থিক বিবরণী, নিরীক্ষিত স্থিতিপত্র ও লাভ লোকসান হিসাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাসহ উক্ত বছরের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়। এছাড়া, ২০২২ সালের জন্য অডিটর, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও কমপ্লায়েন্স অডিটর, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের পুনঃনিয়োগ অনুমোদন করা হয়।

সবশেষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তওহিদ সামাদ ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিতির জন্য সকলকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বলেন, ইতিমধ্যে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, আলোচ্যসূচি, শেয়ারহোল্ডারদের মতামত দেয়া হয়েছে। ভার্চুয়ালি মিটিং থেকে ফিজিক্যালি মিটিং করা যায় কিনা শেয়ারহোল্ডারদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কোভিডকালীন থেকে আমরা ভার্চুয়ালি সম্মেলন করে আসছি। তবে এখন আমার মনে হয় সম্মিলিতভাবে মিটিং করায় কোন সমস্যা নেই। আগামী বছর থেকে আমরা যদি সবাই সুস্থ থাকি অবশ্যই সকলের সাথে সম্মিলিতভাবে মিটিং করবো। পরে তিনি অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার বক্তব্যের জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, বিজিআইসি টিম নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। যেহেতু বিজিআইসি’র কোন ক্যাপটিভ ক্লায়েন্ট নেই সেক্ষেত্রে বিজিআইটি টিম তাদের কর্মদক্ষতা ও মার্কেটিংয়ের জোরে ব্যবসা করে যাচ্ছে। তার মধ্যেও উত্থান পতন রয়েছে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি বিজিআইটি টিম কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আগামী আরো ভালো করবে এটা আমার বিশ্বাস।




গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল’২৩-জুন’২৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ডিএসই সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ১৪ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ২ টাকা ৬ পয়সা আয় হয়েছিল।

অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে বা ৬ মাসে (জানুয়ারি’২৩-জুন,২৩) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৮৮ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ৮৪ পয়সা।

গত ৩০ জুন, ২০২৩ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৬৯ টাকা ৯০ পয়সা।

 




আইপিডিসি ফাইন্যান্সের মুনাফায় ধস

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন, ২০২৩) ও অর্ধবার্ষিক (জানুয়ারি-জুন, ২০২৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচ্য হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফায় (ইপিএস) বড় ধস লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানিটি চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.২২ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ০.৪৯ টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ০.৩৭ টাকা বা ৬২.৭১ শতাংশ কমেছে।

এদিকে, কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.২৬ টাকা। আগের হিসাব বছর একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১.১৯ টাকা। সে হিসাবে এ সময়ের ব্যবধানে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ০.৯৩ টাকা বা ৭৮.১৫ শতাংশ।

২০২৩ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭.৫১ টাকায়।




ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৩ জুলাই। বৃহস্পতিবার কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কোনো সীমা থাকছে না।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.৩০ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ১.৮২ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭.০১ টাকা।

এর আগের হিসাব বছরে ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।




সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই বাড়ছে ৩ কোম্পানির শেয়ারদর

কোনো প্রকার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে। উভয় পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই-সিএসই) এমন তথ্য জানিয়েছে কোম্পানি তিনটির কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৫ জুন) ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

কোম্পানি তিনটি হলো-পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড।

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স
কোনো প্রকার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই পুঁজিবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে। শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই ও সিএসই সম্প্রতি ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডস লিমিটেডকে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হযয়েছে, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কোম্পানির শেয়ারের দাম এভাবে বাড়ছে। তাদের কাছে শেয়ারের দাম বাড়ার কারণ জানা নেই।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিএসইতে গত ২২ মে কোম্পানির শেয়ার দর ছিল ৬৭.৬০ টাকা। আর ৪ জুন কোম্পানির শেয়ার দর ৯১.৬০ টাকায় উন্নীত হয়। এভাবে কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ডিএসই ও সিএসই কর্তৃপক্ষ।

মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স
কোনো প্রকার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই পুঁজিবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে। শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই ও সিএসই সম্প্রতি ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডকে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হযয়েছে, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কোম্পানির শেয়ারের দাম এভাবে বাড়ছে। তাদের কাছে শেয়ারের দাম বাড়ার কারণ জানা নেই।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিএসইতে গত ৩১ মে কোম্পানির শেয়ার দর ছিল ৮৫.৩০ টাকা। আর ৪ জুন কোম্পানির শেয়ার দর ১০৩.১০ টাকায় উন্নীত হয়। এভাবে কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ডিএসই ও সিএসই কর্তৃপক্ষ।

ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ
কোনো প্রকার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই পুঁজিবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে। শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই ও সিএসই সম্প্রতি সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠির জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হযয়েছে, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কোম্পানির শেয়ারের দাম এভাবে বাড়ছে। তাদের কাছে শেয়ারের দাম বাড়ার কারণ জানা নেই।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিএসইতে গত ১ মাসে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর ৩৯.৮০ টাকা থেকে ৫৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এভাবে কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।




এমারেল্ড অয়েলের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে খাদ‌্য ও আনুষঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদেরকে ২ শতাংশ হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ লভ‌্যাংশ। শুধুমাত্র সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ জুন) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১ জুন) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তথ্য মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য এমারেল্ড অয়েল লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১২ জুলাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৬ জুন।

২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.১৭ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ০.৫৮ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২.৮৫ টাকা।

এর আগের হিসাব বছরে এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

প্রসঙ্গত, কোম্পানিটি ২০২০ ও ২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।




বোনাস লভ্যাংশ প্রদানেস ম্মতি পায়নি ঢাকা ব্যাংক

পুঁজিবাজারে ব্যাংকখাতে তালিকাভুক্ত ঢাকা ব্যাংকের সমাপ্ত হিসাব বছরের (৩১ ডিসেম্বর, ২০২২) ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ সংক্রান্ত সম্মতি এখনো দেয়নি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, সর্বশেষ সমাপ্ত বছরের জন্য ঢাকা ব্যাংক ১২ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিলো। যার মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে। কোম্পানিটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড তারিখ আগামি ২২ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বোনাস লভ্যাংশ সংক্রান্ত সম্মতি এখনো দেয়নি বিএসইসি। এর ফলে পূর্ব ঘোষিত কোম্পানিটির নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে। কিন্তু সম্মতি না পাওয়ায় বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারছে না ব্যাংকটি।

আইন অনুযায়ী বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে না। তাই বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা প্রদানের লক্ষ্যে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করে।




আল-মদিনা ফার্মার কিউআইওর আবেদন শুরু ৭ মে

স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য গঠিত এসএমই প্ল্যাটফর্মে আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) তারিখ নির্ধারণ করেছে। কোম্পানিটির কিউআইওতে আবেদন গ্রহণ আগামী ৭ মে (রোববার) থেকে শুরু হয়ে চলবে ১১ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ করবে ব্রোকার হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিটি ১০ টাকা মূল্যে ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করে পুঁজিবাজার থেকে ৫ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করবে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি বিএসইসির ৮৪৫তম কমিশন সভায় কোম্পানিটির এ কিউআইও অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এসএমই খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মূলধন উত্তোলনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ বিদ্যমান ব্যবসা প্রসারিতকরণ, ঋণ পরিশোধ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খরচ খাতে ব্যয় করবে আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস।

আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, সর্বশেষ হিসাব বছরে (৩০ জুন, ২০২২) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা। আর শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৬৫ পয়সায় (পুনঃমূল্যায়নসহ)।

বিএসইসির শর্ত অনুযায়ী, লেনদেন শুরুর পর থেকে তিন বছর কোম্পানিটি কোন বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারবে না। প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।




ব্র্যাক ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৭.৫০ শতাংশ নগদ ও ৭.৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ০.৭৫ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডাররা।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৩১ মে বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৯ মে।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৪.০২ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৩.৬৫ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪০.৮৬ টাকা।

এর আগের হিসাব বছরে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে ৭.৫০ শতাংশ নগদ ও ৭.৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।




ইস্টার্ন ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ (নগদ ও বোনাস) লভ্যাংশ দেবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড।

বুধবার (৫এপ্রিল) কোম্পানির পর্ষদ সভায় জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানির তথ্যমতে, ব্যাংকটির সর্বশেষ বছর ২০২২ সালে শেয়ার প্রতি আয়(ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৭৭ পয়সা। সেখান থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হবে। আর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেবে কোম্পানিটি।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৪ টাকা ৪৭ পয়সা। সেই বছরও শেয়ার প্রতি ১২ দশমিক ৫০ পয়সা নগদ আর ১২ দশমিক ৫০ পয়সা বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল।

অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে কোম্পানির মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ায়নি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ১০৭ কোটি ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ৫২৫টি।

ঘোষিত লভ্যাংশ এই শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মে। ওইদিন সকাল ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাংকটির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩মে।

বিদায়ী বছরে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩৩ টাকা ৩৩ পয়সা। যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৯ টাকা ৪৮ পয়সা।

১৯৯৩ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার আজ বুধবার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৩১ টাকা ৮০ পয়সায়। বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেনে কোনো সীমা রেখা থাকবে না।




১৩ শর্তে সিএমএসএফের ঋণ পাবে পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারীরা

দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে (মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকার ও ডিলার) ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) থেকে ঋণ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ‘এ’ ক্যাটাগরি শেয়ারে পাঁচ বছর বিনিয়োগসহ ১৩ শর্তে এ ঋণ দেওয়া হবে। পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়িয়ে গতিশীল করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি এ বিষয়টি অনুমোদন দিয়ে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে বিএসইসি (ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেবিলাইজেশন ফান্ড) বিধিমালা, ২০২১ এর বিধি ৭(৪)(২) অনুযায়ী সিএমএসএফ ফান্ড পুনঃঅর্থায়নের জন্য গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ হিসাবে বাজার মধ্যস্থতাকারীকে ঋণ প্রদানের অনুমতি দেওয়া হলো।

বিএসইসির দেওয়া শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে, সিএমএসএফ বিএসইসি (ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেবিলাইজেশন ফান্ড) বিধিমালা, ২০২১ এর বিধি ৫(১৫) অনুযায়ী বাজার মধ্যস্থতাকারী এবং মার্কেট মেকারকে ঋণ বা সহায়তা প্রদানের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করবে। সিএমএসএফ কোনো বাজার মধ্যস্থতাকারীর কাছে ঋণ অনুমোদনের আগে ক্রেডিট ঝুঁকি মূল্যায়ন করবে। তাদের গ্রাহক মার্জিন ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ প্রদান করতে পারবে। ঋণটি ডিলার কোড বা নিজস্ব পোর্টফোলিওতে ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে শুধু ‘এ’ ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজে একটানা ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগের করতে হবে। এ বিষয়ে সিএমএসএফ পাক্ষিক (১৫ দিন) ভিত্তিতে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ ব্যবহারের রিপোর্ট সংগ্রহ করবে এবং মাসিক (৩০ দিন) ভিত্তিতে (প্রতি মাসের ৭ দিনের মধ্যে) কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে।

শর্তে আরও বলা হয়েছে, বাজার মধ্যস্থতাকারীরা তাদের নিজের কাছ থেকে ডিলার অ্যাকাউন্ট বা নিজস্ব পোর্টফোলিও অ্যাকাউন্টে ঋণের পরিমাণের সমতুল্য অর্থ জমা নিশ্চিত করবে। মার্জিন ঋণের জন্য শতভাগ জামানত থাকতে হবে এবং সেটা শুধু বিজি বা অন্য যেকোন ডিসপোজেবল সিকিউরিটিজ ফর্মে উল্লেখ থাকবে। সিএমএসএফের বোর্ড অব গভর্নর দ্বারা সুদের হার নির্ধারণ করা হবে, যা ৩ মাসের গড় থেকে কম হবে না। সেক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতে প্রচলিত এফডিআর হারের সর্বোচ্চ হার থেকে নির্ধারণ করা হবে। ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১৮০ দিন, যা নবায়নযোগ্য।

 

শর্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পুনঃঅর্থায়নের জন্য বাজার মধ্যস্থতাকারীর ঋণের জন্য একক ঋণগ্রহীতার এক্সপোজার, মোট তহবিলের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হবে। সেসব স্টক ব্রোকারকে ঋণের অনুমতি দেওয়া যাবে না, যার সমন্বিত গ্রাহক অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) ঘাটতি রয়েছে বা ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা (আরবিসিএ) রয়েছে বা বিগত ৫ বছরে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

সিএমএসএফ ঋণের আইটি মডিউল, যেমন: ঋণ আবেদন মডিউল, ঋণের অবস্থা মডিউল (পরিমাণ, মেয়াদ, সুদ, পরিশোধ ইত্যাদি), ডকুমেন্টেশন মডিউল ইত্যাদি উন্নয়নের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া, ঋণ আবেদন প্রাপ্তির ২১ দিনের মধ্যে সিএমএসএফ যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের ঋণ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করবে। মোট ঋণের পরিমাণ একবারে ২০ কোটির বেশি বা ৫ কোটির কম হবে না।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূর করার জন্য কাজ করছে সংস্থা বিএসইসি। এবার পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূর করতে সিএমএসএফকে কাজে লাগাতে চায় কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সিএমএসএফ থেকে ঋণ দেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারে কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে ২০২১ সালের ২২ আগস্ট ২০ হাজার কোটি টাকার ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের ১১ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরস অনুমোদন দেয় বিএসইসি। এ বোর্ড অব গভর্নরসের মধ্যে ৪টি পদে নিয়োগ দেয় বিএসইসি। এর মধ্যে একটি চেয়ারম্যান পদ ও বাকি তিনটি সদস্য পদ। এ ফান্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।




দুই কোম্পানির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুইটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২ এপ্রিল) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানি দুইটি হলো-সিটি ব্যাংক লিমিটেড ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

 

সিটি ব্যাংক লিমিটেড: ইনটেক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ সভা আগামী ১১ এপ্রিল বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কোম্পানির ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ সদস্যরা এই প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি। আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড: কোম্পানির পর্ষদ সভা আগামী ৯ এপ্রিল দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কোম্পানির ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ সদস্যরা এই প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি। আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।




পুঁজিবাজার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

শুক্রবার (৩১মার্চ) রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজার তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই বাজারের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য বিভিন্ন দেশে যে রোড শো আয়োজন করা হয়েছিল, সেগুলোর সুফল আসতে শুরু করেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নানা বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। এভাবে এগোতে থাকলে অবশ্যই আমরা উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হব।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহাম্মাদ হাসান বাবু বলেন, আমাদের বাজারে বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। তাই আমরা আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আমাদের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা যুক্ত করার চেষ্টা করব। অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী যারা এখনো বাজারকে পর্যবেক্ষণ করছেন, আমরা তাদের কাছে যাব। আমরা তাদের পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার চেষ্টা করব। তাদের পুঁজিবাজারে আসতে যেসব সহযোগিতা দরকার আমরা তা করব।

ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সব সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থাপনায় সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল সিকিউরিটিজ আইন বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা জরুরি।

রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার প্রফেসর ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, রুবাবা দৌলা, শাকিল রিজভী, শরীফ আনোয়ার, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ফরহাদ আহমেদ ও বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিমসহ আরও অনেকে।




ইউনাইটেড এয়ারের আগের পর্ষদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা বিএসইসি’র

পুঁজিবাজারের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরে অপেক্ষায় থাকা ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারের আগের পরিচালনা পর্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বিএসইসির চেয়ারম্যান আধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৮৬২তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ইউনাইটেড এয়ারের পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্যদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) কার্যক্রমের উপর সংগঠিত অনুসন্ধান পরবর্তী দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত কমিটির সুপারিশ মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।




লোকসানে ইনটেক লিমিটেড

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইনটেক লিমিটেড ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (২০২১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের মার্চ) লোকসান করেছে। সেই সঙ্গে কমেছে সম্পদের পরিমাণ। পাশাপাশি ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।

কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ডিএসই জানিয়েছে, ২০২১ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয় ৮ পয়সা।

হিসাব বছরটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ ২০২১ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয় ১০ পয়সা।

আর তৃতীয় প্রান্তিকে বা ২০২২ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয় ১ পয়সা।

এতে ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫৪ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয় ১৯ পয়সা।

লোকসানের পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২২ সালের মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ১৩ পয়সা, যা ২০২১ সালের জুন শেষে ছিল ১ টাকা ৬৭ পয়সা।

এদিকে অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি অপারিটিং ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ছিল ৭৫ পয়সা।




ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর এজিএম অনুষ্ঠিত

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের ৫০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কোম্পানির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারহোল্ডারদের উপস্থিতিতে বুধবার (২৯ মার্চ) সকাল ১১টায় ভার্চুয়ালি এই এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএটি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান গোলাম মইন উদ্দীন।

বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা সর্বসম্মতিক্রমে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের আর্থিক বিবরণীর অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন, শেয়ার প্রতি ২০ টাকা (২০০ শতাংশ) নগদ লভ্যাংশ (১০ টাকা বা ১০০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ) অনুমোদন, সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক নিয়োগ এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স অডিটরদের নিয়োগ।

সভায় কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক আফতাব উল ইসলাম এফসিএ, অ-নির্বাহী পরিচালক জনাব স্টুয়ার্ট কিড, অ-নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া সুলতানা, স্বতন্ত্র পরিচালক কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, অ-নির্বাহী পরিচালক সিরাজুন নূর চৌধুরী, অ-নির্বাহী পরিচাল আবুল হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব শেহজাদ মুনীম, অর্থ পরিচালক আমান মুস্তাফিজ ও কোম্পানি সচিব মো. আজিজুর রহমান এফসিএস উপস্থিত ছিলেন।

২০২২ সালে কোম্পানিটি মূল্যসংযোজন কর বা ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও অন্যান্য কর হিসাবে জাতীয় কোষাগারে ২৯ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করে যা বিএটি বাংলাদেশকে দেশের সর্বোচ্চ করদাতার সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।




রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের সিইও’র নিয়োগ নবায়ন

রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালেদ মামুনের নিয়োগ নবায়ন করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

গত ১৩ মার্চ আইডিআরএ’র ১৫৬ সভায় আগামী ৩ বছরের জন্য মাসিক বেতন-ভাতাদি বাবদ সর্বমোট ১২ লাখ টাকায় খালেদ মানুনের নিয়োগ নবায়ন করা হয়। আইডিআরএ’র সংশ্লিষ্ট দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র মতে, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী পদে মো. খালেদ মামুনের নিয়োগ নবায়ন অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ আবেদন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে করা আবেদনে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে সর্বসাকুল্যে ১৫ লাখ ১১ হাজার টাকা প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়। আইডিআরএ উক্ত সভায় পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ১৯ মার্চ ২০২৩ থেকে ১৮ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য খালেদ মামুনের মাসিক বেতন ভাতাদি সর্বমোট ১২ লাখ টাকা ধার্য্য করে নিয়োগ নবায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য ইতোপূর্বে গত ১৯ মার্চ ২০১৭ থেকে ১৮ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার মাসিক বেতন ভাতাদি ছিলো ৯ লাখ টাকা এবং ১৯ মার্চ ২০২০ থেকে ১৮ মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত মাসিক বেতন ভাতাদি ছিলো ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।




কোটিপতির কারখানা রাজউক

বাংলাদেশে অনেক ধরনের কারখানা চালু আছে। তবে দ্রুত কোটিপতি বাননোর কারখানার সন্ধান এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে এবার আলোচনায় এসেছে উঠে এসেছে ‘কোটিপতি বানানোর কারখানা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিষয়টি’। জাতীয় দৈনিকে এই বিষয়টি নিয়ে বেশ গুরুত্বের সাথে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। রাজউকের প্রভাবশালী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরির সুবাধে দ্রুত কোটিপতি হচ্ছেন। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘রাতারাতি ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা, কোটিপতি বানানোর কারখানা রাজউক’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

অপরদিকে নগরবাসী রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছেন রাজউকের কাছে। এই পরিস্থিতিতে মহামান্য হাইকোর্ট আগামী দুই মাসের মধ্যে রাজউকের কোটিপতি কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এরআগেও হাইকোর্ট একাধিকবার রাজউকের চিহ্নিত প্রভাবশালী কোটিপতি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক দুদকের পক্ষ থেকে জোরালো অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে রাজউকে ঘুষ, দুর্নীতি এবং নগরবাসীর অমানবিক হয়রানি বহুগুণে বেড়েছে।

সোমবার (২৭ মার্চ) ওই প্রতিবেদনটি বিচারপতি মো. সেলিম ও মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মাজু মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম গোলাম মোস্তফা। পরে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে জনস্বার্থে রাজউকের কোটিপতি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধরতে দুদককে অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে দুদককে বলা হয়েছে।

গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মাজু মিয়া।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘রাতারাতি ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা, কোটিপতি বানানোর কারখানা রাজউক’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মাজু মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম গোলাম মোস্তফা।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজউক যেন কোটিপতি বানানোর এক কারখানায় পরিণত হয়েছে। এখানে চাকরি করলে রাতারাতি ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা। বড় পদ নয়, একেবারে কেরানি পদে চাকরি করেও কোটিপতি বনে গেছেন অনেকে। স্বল্প বেতনের চাকরি করে যাদের সাধারণ জীবনযাপনের কথা, তাদের কেউ কেউ রীতিমতো রাজা-বাদশাহ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন। খোদ রাজধানীতে তাদের একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। আছে নামিদামি ব্র্যান্ডের একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, তাদের অনেকেই অবৈধ অর্থের জোরে এখন সমাজপতিও বটে। হতে চান এমপি-মন্ত্রীও। তাই চাকরির পাশাপাশি রাজনীতির মাঠেও সক্রিয় তাদের কয়েকজন।

জাতীয় ‘দৈনিক যুগান্তরের’ দীর্ঘ অনুসন্ধানে রাজউকের এসব সৌভাগ্যবান কর্মচারীর অঢেল অর্থবিত্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। লাগামহীন অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং কোটিপতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজউক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা ১২ মার্চ তার কার্যালয়ে যুগান্তরকে বলেছিলেন, দুর্নীতিবাজ হিসাবে পরিচিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে যাদের নাম এসেছে, তাদের তদন্তের মুখে পড়তে হবে। এছাড়া দুর্নীতিবাজদের অনেকে দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় আছেন। ফলে অবৈধ পথে যারা অঢেল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন, তারা স্বস্তিতে নেই। তাদের অনেকেই আর বেশি দিন রাজউকে টিকে থাকতে পারবেন না।




২ কোম্পানির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুইটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

কোম্পানি দুইটি হলো- ইনটেক লিমিটেড ও উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড।

ইনটেক লিমিটেড: ইনটেক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ সভা আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। কোম্পানিটির সভা যথাক্রমে- দুপুর ২টা ৩০, ৩টা এবং সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কোম্পানিটির ২০২১ সালের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ আলোচিত প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।

উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড: কোম্পানিটির পর্ষদ সভা আগামী ৩ এপ্রিল, দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কোম্পানিটির ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ সদস্যরা এই প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি। আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ২৮ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল।




২ কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুইটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ মার্চ) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

কোম্পানি দুইটি হলো, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

তথ্য মতে, পুঁজিবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৯ মে দুপুর ১২টায় ডিজিটাল প্ল্যটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৭ এপ্রিল।

এদিকে, পুঁজিবাজারের আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৫ মে বেলা সাড়ে ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ এপ্রিল।

 

সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৬ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ১.১৯ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭.০৬ টাকা।




বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ পাঠিয়েছে যমুনা অয়েল

পুঁজিবাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে।

২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের কাছে এ লভ্যাংশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানিটির নগদ লভ্যাংশ বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস্ ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) সিস্টেমসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে।

২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১২ টাকা নগদ লভ্যাংশ পান শেয়ারহোল্ডারা।




ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের বীমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। যার পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৯ মার্চ) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৮ মে সকাল ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৯ এপ্রিল।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.৭৫ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিলো ১.৬৫ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩২.৬৮ টাকা।

 

এর আগের হিসাব বছরে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিলো।




কর অব্যাহতি সুবিধা চায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো

দেশের ই-কমার্স ব্যবসায় অনেক সম্ভাবনা থাকলেও এখনো এই খাত তেমন বিকশিত হয়নি। এ কারণে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১০ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা চেয়েছে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। একই সঙ্গে তারা পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে আরোপিত ১৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় গতকাল মঙ্গলবার ই-ক্যাব নেতারা এসব প্রস্তাব দেন। ঢাকার আগারগাঁওয়ের নতুন রাজস্ব ভবনে গতকাল বিকেলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। একই সময়ে আলোচনায় অংশ নেয় বাংলাদেশ রুটি বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি, বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনসহ কয়েকটি সংগঠন।

আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশ উন্নত হচ্ছে, আমাদেরও মনের দিক থেকেও উন্নত হতে হবে। কর-ভ্যাট সুবিধা না পেলে কোম্পানি ভালো করতে পারবে না—এমন মনোভাব পরিহার করা দরকার। যারা কর-ভ্যাট দিতে পারবে না, সেসব ব্যবসা আমাদের দরকার নেই।’

বাজেট আলোচনায় ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিনিয়োগস্বল্পতা ও লোকসানি পর্যায়ে রয়েছে। তাই এই খাতের বিকাশে ১০ বছরের কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ই-ক্যাব।

ই-ক্যাব আরও জানিয়েছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ই-কমার্সভিত্তিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ খরচ অনেক বেড়ে গেছে। যার প্রভাব পড়ছে অনলাইন কেনাকাটায়। তাই সরবরাহ পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে ই-ক্যাব। পাশাপাশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদামসহ বিভিন্ন সহায়ক কার্যালয় ভাড়ার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির দাবিও জানানো হয়। এ ছাড়া ই-কমার্সের বিভিন্ন খাতের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণেরও অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে সব ধরনের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় হস্তনির্মিত রুটি, বিস্কুট ও কেকের দাম বেড়ে গেছে। ফলে কর্মজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর তার প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও ধুঁকে ধুঁকে চলছে। বর্তমানে হাতে তৈরি পাউরুটি, বনরুটি, বিস্কুটে উৎপাদন পর্যায়ে প্রতি কেজিতে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। এই সীমা ২০০ টাকা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রুটি বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পেইন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমএ) বলেছে, দেশে রঙের ব্যবহার বাড়াতে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা দরকার। বর্তমানে রং উৎপাদনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএফপিআইএ) দাবি করেছে, গ্রাহক পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর না কেটে বছর শেষে একবারে করের হিসাব করার। কারণ হিসেবে সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এ খাতের কাঁচামাল আমদানির সময় ৫ শতাংশ অগ্রিম কর দিতে হয়। বিক্রির সময়ও আবার ৭ শতাংশ অগ্রিম আয়কর কেটে রাখা হয়। এতে বছর শেষে দেখা যায়, যে পরিমাণ আয়কর তাঁদের হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি অগ্রিম আয়কর কেটে নেওয়া হয়েছে। কর কর্মকর্তারা সেটি সমন্বয়ের কথা বললেও বাস্তবে তা পাওয়া যায় কম।

এর আগে সকালে এনবিআরের সঙ্গে প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় অংশ নেয় পাঁচটি সংগঠন। তাদের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জড়িত সব প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ বছরের কর মওকুফ সুবিধার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিপিজিএমইএ)। এ ছাড়া প্লাস্টিক খেলনায় ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানানো হয়।

রপ্তানিমুখী আসবাবসামগ্রী উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর কমিয়ে বস্ত্র খাতের মতো নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ আসবাব রপ্তানিকারক সমিতি। একই সঙ্গে আমদানি করা কাঁচামালের ওপর থেকে শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতিরও প্রস্তাব করে তারা।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বন্ড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর করা ও বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের আমদানি প্রাপ্যতা তিন বছরে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)।

হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ)। একই সঙ্গে অগ্রিম আয়কর থেকেও অব্যাহতি চেয়েছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ছয় লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান)।




বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে : পিটার হাস

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে, এই ধারা অব্যাহত থাকবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তবে রেগুলেটরি বডি শক্তিশালী হওয়া খুবই দরকার।

বুধবার (১৫ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেডের ( ইউএমপিএল) ৫৮৪ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রধান জোসেফ গিবলিন, ইউএমপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহির উদ্দিন মোল্লা এবং জিই (জেনারেল ইলেকট্রিক) গ্যাস পাওয়ারের দক্ষিণ এশিয়ার সিইও দীপেশ নন্দা এ সফরে পিটার হাসের সঙ্গে ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগে নম্বর ওয়ান।আগামীতেও আমরা বিনিয়োগের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পিটার হাস হেলিকপ্টারে করে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে গিয়ে পৌঁছান। সেখানে চৌধুরী নাফিজ সরাফাত তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। প্রকল্প অফিস প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা টিম পিটার হাস ও অন্যান্য অতিথিদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান করেন।




অর্ধবার্ষিকে সোনালী আঁশের মুনাফা বেড়েছে ৮১.১০ শতাংশ

পুঁজিবাজারে পাট খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সোনালী আঁশ লিমিটেডের চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২২) ও অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকের (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২২) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ৮১.১০ শতাংশ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের ৬ মাস বা অর্ধবার্ষিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২.৩০ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ১.২৭ টাকা। এ হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ১.০৩ টাকা বা ৮১.১০ শতাংশ।

এদিকে, কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.১০ টাকা হয়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ০.০৩ টাকা। এ হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ০.০৭ টাকা বা ৩৬.১৪ শতাংশ।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩০.৬১ টাকা।




লোকসানে ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোড কোম্পানি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়াইমেক্স ইলেক্ট্রোড লিমিটেড চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২২) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটি লোকসানে আছে।

সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০২২ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ২৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান ছিলো ৩৫ পয়সা।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপি) ছিলো ১১ টাকা ৪৪ পয়সা।




আন্ডার সাবস্ক্রিপশন মিডল্যান্ড ব্যাংকের আইপিও

নানা অনিয়ম, জালিয়াতি এবং লাগামহীন ঋণ খেলাপিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক খবরে বিপাকে পড়েছে ব্যাংক খাত। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আস্থার সংকট। যার প্রতিফল দেখা গেছে পুঁজিবাজারে। ফলে আইপিওর শেয়ার কেনার লোক পাচ্ছে না চতুর্থ প্রজন্মের মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড।

ব্যাংকটির আইপিওতে আন্ডার সাবস্ক্রিপশন হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম বিনিয়োগকারী কোম্পানির শেয়ার পেতে আবেদন করেছেন, যা ব্যাংক খাতের কোম্পানির ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ঘটনা। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসির তথ্য মতে, ব্যাংকটি ৭ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৭০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের আবেদন গ্রহণ করে। এসময়ে ব্যক্তি-প্রাতিষ্ঠানিক এবং দেশি-বিদেশিসহ মোট ১৫ হাজার ৩৩৮টি বিনিয়োগকারীর আবেদন জমা পড়েছে। এই বিনিয়োগকারীরা ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংকটির ৫ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার ১৫০টি শেয়ার কিনতে আবেদন করেন। যা কোম্পানির ৭ কোটি শেয়ারের ৭৪ শতাংশ। এটি পুঁজিবাজারে ইতিহাসে আইপিওর বাজারের মন্দার রেকর্ড। তবে আইপিও বাতিল হচ্ছে না।

নিয়ম অনুযায়ী, আইপিওতে আসা কোম্পানির শেয়ারে যদি বিনিয়োগকারীদের আবেদন ৬৫ শতাংশ জমা পড়ে। তবে বাকি ৩৫ শতাংশ শেয়ার আন্ডার রাইটারকে কিনতে হবে। ফলে কোম্পানির আন্ডার রাইটারকে ২৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার অর্থাৎ ১ কোটি ৮১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০টি শেয়ার বা ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকার শেয়ার কিনতে হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের মন্দা অবস্থা ও ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম হওয়া আন্ডার সাবস্ক্রিপশন হয়েছে। তবে ইস্যু বাতিল হয়নি। বাকি শেয়ার আন্ডার রাইটার কিনে নেবে।




সাপ্তাহিক গেইনার তালিকার শীর্ষে এডিএন টেলিকম

 

বিদায়ী সপ্তাহে (২৬ ফেব্রুয়ারি’২৩-০২ মার্চ’২৩) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এডিএন টেলিকমের। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির বা গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।
ডিএসই সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, সপ্তাহের শুরুতে কোম্পানিটির উদ্বোধনী দর ছিল ১১৬ টাকা ৪০ পয়সা। আর শেষ কার্যদিবসে ক্লোজিং দর হয়েছে ১৪১ টাকায়। আগের সপ্তাহের চেয়েও কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৪ টাকা ৬০ পয়সা বা ১৮.৫৯ শতাংশ।

ডিএসইতে সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ১৭.৪৬ শতাংশ, আলহ্বাজ টেক্সটাইলের ১০.৪৭ শতাংশ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৯.৮৫ শতাংশ, আমরা টেকনোলজির ৯.০৬ শতাংশ, জেমিনী সী ফুডের ৮.১০ শতাংশ, ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ৭.৪৫ শতাংশ, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৬.৯৬ শতাংশ, বেঙ্গল উইনসোরের ৬.০১ শতাংশ এবং প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ৫.৮৫ শতাংশ দর বেড়েছে।




সপ্তাহজুড়ে চার কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা

সপ্তাহজুড়ে (২৬ ফেব্রুয়ারি’২৩-০২ মার্চ’২৩)  বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪ কোম্পানি। কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- লাফার্জহোলসিম, ফু ওয়াং ফুড, আইপিডিসি ফাই্যান্স এবং গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

লাফার্জহোলসিম: কোম্পানিটি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ চুড়ান্ত ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বয় আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৮৩ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে সমন্বিত ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৩৪ পয়সা।

কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ০৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ মার্চ ২০২৩।

ফু ওয়াং ফুড: কোম্পানিটি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ০.৫০ শতাংশ ক্যাশ অন্তর্র্বতীকালীন ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিলো ৯ পয়সা।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৭৪ পয়সা। ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ মার্চ ২০২৩।

আইপিডিসি ফাইন্যান্স: কোম্পানিটি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৪৩ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৩৭ পয়সা।

আগামী ২৭ এপ্রিল কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২১ মার্চ।

গ্রীণডেল্টা ইন্স্যুরেন্স: কোম্পানিটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৩০ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৮ টাকা ৪৩ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির এনএভি হয়েছে ৬৮ টাকা ৯৬ পয়সা।

এই ডিভিডেন্ড অনুমোদনের জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে গ্রীণডেল্টা ইন্স্যুরেন্সে। এর জন্য আগামী ২২ মার্চ রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ।




আবারও শেয়ার কারসাজির তদন্তে  সাকিবের নাম

শেয়ার কারসাজির তদন্তে আবারও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নাম উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কারসাজির তদন্ত করে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাতে রয়েছে সাকিবের নাম। তবে সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিএসইসি।

এর আগে আরও অন্তত পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার কারসাজির তদন্তে সাকিবের নাম উঠে আসে। কারসাজির তদন্ত প্রতিবেদনে সাকিবের নাম থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিএসইসি। তবে বারবার একই কারসাজি চক্রের সঙ্গে সাকিবের নাম উঠে আসছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

এই চক্রের মূল হোতা আবুল খায়ের। শেয়ারবাজারে যিনি হিরু নামে পরিচিত। শেয়ার কারসাজির যে কয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে সাকিবের নাম জড়িয়েছে তার সবগুলোতেই রয়েছে আবুল খায়ের হিরু এবং হিরুর বাবা, বোন ও স্ত্রীর নাম।

সর্বশেষ বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কারসাজি নিয়ে বিএসইসির করা তদন্তে উঠে এসেছে সাকির নাম। কারসাজির মাধ্যমে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বাড়ার অপরাধে আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি। এছাড়া সাইফ উল্লাহকে ৫০ লাখ, এজি মাহমুদ এবং ডিআইটি কো-অপারেটিভকে ৩০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান ও তার সহযোগীরা সিরিজ লেনদেনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম বাড়িয়েছে। এতে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্সের শেয়ারের দাম বাড়ে ৬১ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এভাবে দাম বাড়িয়ে আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান ও তার সহযোগীরা এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার বিক্রি করে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৭৬ হাজার ৩০৩ টাকা মুনাফা তুলে নেন। এছাড়া তাদের কাছে থাকা শেয়ারে আরও ৫৬ লাখ ৭ হাজার ৯৬৩ টাকা মুনাফা রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শেয়ার ক্রেতার তালিকায় চার নম্বরে রয়েছেন সাকিব। এই তারকা ক্রিকেটার ইবিএল সিকিউরিটিজে থাকা তার বিও হিসাবের মাধ্যমে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৬টি শেয়ার কিনে ৪৪ হাজার ২৩৭টি বিক্রি করে দিয়েছেন।

অপরদিকে এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্সের শেয়ারের সর্বোচ্চ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান। সাদিয়া ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮টি শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি করেন ২৬ লাখ ৪৩ হাজার ৮০০টি।

আইন লঙ্ঘন করে শেয়ার লেনদেন করার প্রমাণ পাওয়ায় বিএসইসি আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানকে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। তবে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার কারসাজির তদন্ত প্রতিবেদনে আরও নাম এসেছে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আলমগীরের। এছাড়া সাইফ উল্লাহ, এজি মাহমুদ, হোসাম মো. সিরাজ, মো. সাইদুর রহমান মনির, কবির আহমেদ, নওয়াফেল বিন রেজা, মো. হাবিবুর রহমান (বাশার), আলহাজ সাঈদ আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, মাকসুদা বেগম, মো. আবদুল কাদির, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং ডিআইটি কো-অপারেটিভ লিমিটেডের নাম উঠে এসেছে কারসাজির তদন্ত প্রতিবেদনে।

এদিকে সম্প্রতি আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ফরচুন সুজ, বিডিকম অনলাইন, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির বিষয়ে করা তদন্ত প্রতিবেদনেও সাকিব আল হাসানের নাম জড়ায়।

বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আবুল খায়ের ও তার সহযোগীরা সিরিজ লেনদেনের মাধ্যমে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারের দাম বাড়ান। গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারের দাম বাড়ানো হয় ৬০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ সময়ে ৩৪ টাকা থেকে বেড়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৫৪ টাকা ৭০ পয়সায় ওঠে।

আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীরা এ সময়ের মধ্যে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার বিক্রি করে ৬ কোটি ৬১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭ টাকা মুনাফা তুলে নেন। এছাড়া তাদের কাছে থাকা শেয়ারে আরও ১২ কোটি ৯৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৩৬ টাকা মুনাফা ছিল।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শেয়ার বিক্রির তালিকায় রয়েছেন সাকিব। এই ক্রিকেটার ইবিএল সিকিউরিটিজে থাকা তার বিও হিসাবের মাধ্যমে ১১ লাখ শেয়ার কিনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৪৩৩টি শেয়ার বিক্রি করেন।

অপরদিকে এই সময়ের মধ্যে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারের সর্বোচ্চ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় আবুল খায়ের হিরু। তিনি এক কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ২৯২টি শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি করেন এক কোটি ৪ লাখ ৬১ হাজার ১৮৪টি।

আইন লঙ্ঘন করে শেয়ার লেনদেন করার প্রমাণ পাওয়ায় আবুল খায়ের ও তার সহযোগীদের এক কোটি ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। তবে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।

এছাড়া বিএসইসির তদন্তে গত ২ বছরে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার কারসাজির জন্য মোনার্ক হোল্ডিংসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়। মোনার্ক হোল্ডিংস ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর ব্রোকারেজ হাউস হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাকিব আল হাসান। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী সাদিয়া হাসান।

বিএসইসির তদন্তে উঠে আসে, আবুল খায়ের ২০২১ সালের ২০ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত তার সহযোগীদের মধ্যে শেয়ার বেচাকেনা করে ফরচুন সুজের শেয়ারের মূল্যকে প্রভাবিত করেন। এতে ২০ দিনে ফরচুনের শেয়ারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়। ওই সময় ফরচুনের শেয়ারের শীর্ষ ক্রেতাদের মধ্যে সাকিবের নাম ছিল। তিনি তার বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার শেয়ার কিনেছিলেন। একই সময়ে ৩ লাখ ৮৩ হাজার শেয়ার বিক্রি করেন।

এছাড়া, ২০২১ সালের ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর আবুল খায়ের ও তার সহযোগীরা সিরিজ লেনদেন করে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দাম প্রভাবিত করেন। সে সময় সাকিব ওয়ান ব্যাংকের ৭৫ লাখ শেয়ার কেনেন এবং ১০ লাখ ২০ হাজার শেয়ার বিক্রি করেন। ওই ১৫ দিনে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিএসইসির আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ৫ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ারের দাম ১৭২ শতাংশ বেড়েছিল। সাকিব ওই ব্যাংকের ২৭ লাখ শেয়ার কেনেন এবং এক লাখ শেয়ার বিক্রি করেন। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য কারসাজিতে ভূমিকা রেখেছিল ডিআইটি কো-অপারেটিভ। আবুল খায়ের ডিআইটি কো-অপারেটিভের চেয়ারম্যান।

এছাড়া বিডিকম অনলাইনের শেয়ারের মূল্য কারসাজিতে সাকিবের মোনার্ক হোল্ডিংসের নাম জড়ায়। বিএসইসির তদন্তে উঠে আসে, গত বছরের মার্চে মাত্র চার দিনে বিডিকম অনলাইনের শেয়ারের দাম ৪৫ শতাংশ বাড়ে। এ কোম্পানির ২৫ লাখ শেয়ার কিনে সাকিবের মোনার্ক হোল্ডিংস, যা শীর্ষ ক্রেতার তালিকায় পঞ্চম।

মোনার্ক হোল্ডিংস ওই ৪ দিনে ৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ‘আনরিয়েলাইজড গেইন’ করে। কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার পরও শেয়ারহোল্ডার যখন তা বিক্রি না করে রেখে দেয়, তখন ওই শেয়ারের বাড়তি দামকে ‘আনরিয়েলাইজড গেইন’ বলে। অর্থাৎ একজন ১০ টাকা দিয়ে কোনো শেয়ার কেনার পর তার দাম ১৩ টাকা হওয়ার পরও যদি তিন তা বিক্রি না করেন তাহলে আনরিয়েলাইজড গেইন হবে ৩ টাকা।

এভাবে বার বার শেয়ার কারসাজির তদন্তে সাকিবের নাম আসলেও তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।




টানা ৪ মাসে বাড়ল রপ্তানি আয়

বিশ্বমন্দার মধ্যেও জানুয়ারির পর ফেব্রুয়ারিতেও রপ্তানি আয়ে বইছে সুবাতাস। ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন (ইউএস) ডলার। যা শতকরা হিসেবে ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগের মাস জানুয়ারিতে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় ২৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার বেশি রপ্তানি আয় বেড়েছে। যা শতাংশের হিসেবে বেড়েছিল ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এর পরে গত অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয় কমার পর নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৪ মাসে বাড়ল রপ্তানি আয়।

ইপিবির সূত্র মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৬৩ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ইউএস ডলার।

এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যা হয়েছিল ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। শতাংশের হিসেবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ।

২০২২ সালের তুলনায় রপ্তানি আয় বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে রপ্তানি আয়। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর রপ্তানি হয়েছে ৪৬৩ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

ফলে চলতি অর্থ বছরে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট আট মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৭০৭৭ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৩৩৮৪৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২৩৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় বেড়েছে। যা শতাংশের হিসেবে আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

তবে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬৬ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন (ইউএস) ডলার কমেছে রপ্তানি আয়।




রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম পুনর্নির্ধারণ

রপ্তানিকারকদের রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে রপ্তানি আয় প্রতি ডলারের বিপরীতে ১০৪ টাকা পাবেন রপ্তানিকারকরা। এতদিন তারা ডলার প্রতি ১০৩ টাকা পেতেন। বুধবার (১ মার্চ) থেকে নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক বৈঠকে রপ্তানিকারকদের রপ্তানি আয়ে ডলারের নতুন দাম নির্ধারণ করে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)।

Aনতুন দাম নির্ধারণের পর বুধবার সব ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বাফেদা জানায়, এখন থেকে রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের জন্য প্রতি ডলারের দাম ১০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রপ্তানিকারকদের আয় আগের তুলনায় বাড়বে।

এদিকে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম ১০৭ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। প্রবাসীরা বৈধ পথে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১০৭ টাকা করে পাবেন। এছাড়া আমদানির দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের মূল্য হবে প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের জন্য ঠিক করা দামের গড়ের চেয়ে ৫০ পয়সা বেশি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে ডলার-সংকট শুরু হয়। সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তাতে ডলারের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে গত বছর সেপ্টেম্বরে এবিবি ও বাফেদার ওপর ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর যৌথভাবে ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দুই সংগঠন।




রোজায় দাম নিয়ন্ত্রণে নিত্যপণ্যে উৎসে কর প্রত্যাহার চায় এমসিসিআই

রমজান মাস সামনে রেখে চাল, গম, আলু, পিঁয়াজ, রসুন, ছোলা, বুট, ডাল, হলুদ, মরিচ, ভুট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনিসহ সব ধরনের ফল সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই)।

বুধবার (১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক বাজেট আলোচনায় এমন সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।

এমসিসিআই বলছে, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫২ এর বিধি ১৬ ১(বি) অনুসারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য সামগ্রী যেমন- চাল, গম, আলু, পিঁয়াজ, রসুন, ছোলা, বুট, ডাল, হলুদ, মরিচ, ভুট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি, সব ধরনের ফল ইত্যাদির সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে ২ শতাংশ হারে কর কর্তনের বিধান রয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, কৃষিজাত পণ্য মূলত ব্যবসায়ী ও প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়। ফলে তাদের কাছ থেকে উৎসে কর কর্তন করা সরকারের রাজস্ব প্রক্রিয়াগতভাবে একটি অসম্ভব কাজ। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যে করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সব ধরনের কৃষিজাত নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যকে উৎসে কর কর্তনের আওতা বহির্ভূত রাখার প্রস্তাব করছি।

সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের অধিকাংশ সদস্যই এমসিসিআইয়ের সদস্য। সামগ্রিক জাতীয় রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি আসে এমসিসিআইর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। এমসিসিআই বরাবরই রাজস্ব সংগ্রহ এবং নীতি বাস্তবায়নে এনবিআরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। বাজেট প্রস্তাবনার মধ্যে সবসময়ই বাজেট ব্যবস্থাপনা অধিকতর গতিশীল করার দিকে জোর থাকে। আমাদের বাজেট প্রস্তাবনায় সামগ্রিক কল্যাণ তথা
দেশের কল্যাণ ও বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসা চিন্তা করে থাকি।

কর্পোরেট কর হার হ্রাসের সুপারিশ করে এমসিসিআই সভাপতি বলেন, বিগত অর্থবছরে কিছু শর্ত সাপেক্ষে প্রায় সবক্ষেত্রে কর্পোরেট কর হার ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় হ্রাসকৃত কোম্পানি করহার সুবিধা কেউই ভোগ করতে পারছে না। অর্থ আইন, ২০২২ অনুযায়ী নগদ লেনদেনের শর্তাবলীর প্রযোজ্যতার কারণে হ্রাসকৃত কর হার সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয়ে উঠছে না। আমাদের দেশে কার্যকরী করপোরেট কর হার অনেক বেশি।

এমসিসিআই ভ্যাট ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় সব কোম্পানিগুলো মাসিক ভ্যাট রিটার্ন দিয়ে থাকে। তবে এই ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে অটোমেশন নয়। ই-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে এই অটোমেশন ব্যবস্থা গতিশীল হবে বলে এমসিসিআই মনে করে।

এছাড়া সময়ের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে কর নির্ধারণ ব্যবস্থা, আপিল, ট্রাইবুনাল, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পর্যায়ে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে অনলাইনে শুনানি গ্রহণের বিধান দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআরের পক্ষ থেকে শুল্ক বিভাগের সদস্য মো. মাসুদ সাদেক, ভ্যাট নীতির সদস্য জাকিয়া সুলতানা ও আয়কর নীতির সদস্য সামস উদ্দিন আহমেদ ও এমসিসিআই’র ট্যারিফ ও ট্যাক্সেশন কমিটির চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদসহ সংগঠনটি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




জাতীয় বীমা দিবস উদ্বোধন

বীমা খাতের আরও উন্নয়ন এবং বীমা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় বীমা দিবস-২০২৩ এর উদ্বোধন করেছেন।

আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দিবসটির উদ্বোধন করেন।

অর্থমন্ত্রণালয় এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
‘বীমায় সুরক্ষিত থাকলে, এগিয়ে যাবো সবাই মিলে’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জাতীয় বীমা দিবস উপলক্ষে বীমা কোম্পানি এবং সাধারণ মানুষসহ বীমা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে, তাঁরা তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দেন এবং দিবসটির প্রতিপাদ্যকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন।

অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান জয়নুল বারী এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বীমা খাতের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

১৯৬০ সালের ১ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। তারপর থেকেই তাঁঁর সরকার প্রতিবছর ১ মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে সরকার গত বছর ‘জাতীয় বীমা দিবস’কে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করে।




পুঁজিবাজারে মার্চ থেকে সুখবর আসবে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারে মার্চ মাস থেকে সুখবর আসবে বলে প্রত্যাশা করেছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যভুক্ত ব্রোকার হাউস ট্রাস্ট রিজিওনাল ইকুইটি লিমিটেডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শিবলী রুবাইয়াত বলেন, আইপিও মার্কেট ও বন্ড মার্কেট ভালো চলছে। আগামী মার্চ মাস থেকে ব্যাংকগুলো ভালো ডিভিডেন্ট দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ডকে এক্সপোজার লিমিটেড বাইরে রাখা হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলো নতুন করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ পাবে। সব মিলিয়ে আগামী মার্চ মাস থেকে পুঁজিবাজার ভালো হবে।

তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইস উঠানো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফ্লোর প্রাইস উঠে যাচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়েছে। এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী তা শুনে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। তারা লোকসানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা ফ্লোর প্রাইস উঠানো নিয়ে কোনো চিন্তা করিনি।




ইউনিলিভারের কমিউনিটি সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন  করলো ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দূরবর্তী চর এলাকায় অবস্থিত লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল)-এর সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাভেদ আখতার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ফ্রেন্ডশিপ-এর নির্বাহী পরিচালক রুনা খানসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।

ইউনিলিভার বাংলাদেশ, অলাভজনক সামাজিক উদ্দেশ্যমুখী প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডশিপ’কে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০০১ সালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা উপকরণসহ একটি ভাসমান আবাসিক হাসপাতাল নির্মাণ করে। লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে রয়েছে একটি পরিপূর্ণ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট।

এ হেলথ কেয়ার ইউনিটে দুটি অপারেশন থিয়েটার, একটি প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি এবং একটি ডিজিটালাইজড এক্স-রেরুমসহ সেকেন্ডারি হেলথ কেয়ারের সুবিধা সমূহ রয়েছে। লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স এবং অন্যান্য মেডিকেল স্টাফরা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন এবং তারা ‘গাইনোকোলজি’, ‘ডেন্টিস্ট্রি’, ‘অপথালমোলজি’, ‘পেডিয়াট্রিক্স’, এবং ‘জেনারেলমেডিসিন’ ইত্যাদি বিষয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।

সেবাদানের ক্ষেত্রে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়। বিগত ২০ বছরে এ হাসপাতাল ৬ লাখ ৫৭ হাজার ১৮২ জন রোগীকে ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭১টির অধিক সেবা প্রদান করেছে। নিয়মিত বহিরাগত রোগীদের চিকিৎসা (আউটপেশেন্ট সার্ভিস) ছাড়াও লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল টিমের সমন্বয়ে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের জন্য ৪১৬টি বিশেষায়িত হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করেছে এবং এসব ক্যাম্পের মাধ্যমে রোগীদের জীবন বদলে দেওয়ার মতো ১৬ হাজার ৩৮৫টি সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল চরাঞ্চলের ১৫ লাখের বেশি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসনের সামনে এ দুর্গম চরাঞ্চলে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধি দল এ মহৎ উদ্যোগের অব্যাহত পথচলা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বিগত দুই দশকে কাজে সম্পৃক্ত সবারসঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রোগী ও উপকারভোগী সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল ‘সামাজিক ব্যবসা’, ‘গভর্ন্যান্স’, ‘শিক্ষা’, ‘নারী ক্ষমতায়ন’ ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে ঘুরে দেখেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ইউনিলিভারের লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল আশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে বেড়ে উঠছে। বিগত ২০ বছরে প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণের মাধ্যমে ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর সঙ্গে ইউনিলিভারের এ অংশীদারত্ব অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এটি সবসময় উপলব্ধি করতে পারা আনন্দের যে-একটি ব্রিটিশ বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসায়ের মাধ্যমে কেবল অর্থনীতিরভিত ই শক্ত করছে না, পাশাপাশি একটি দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে যুক্ত হচ্ছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশ (ইউবিএল) এর সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাভেদ আখতার বলেন, গত ২০ বছর ধরে ৬ লাখ ৫৭ হাজার রোগীর জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া দেশ-বিদেশের স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদেরপরিশ্রম ও তাদের দায়বদ্ধতার প্রশংসা করছি।