উৎসে কর মনিটরিংয়ে উদ্যোক্তাদের হয়রানি না করার আহ্বান ঢাকা চেম্বারের

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উৎসে কর কর্তন জমা, মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় উদ্যোক্তাদের অযথা হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই জানায়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারার আওতায় ব্যবসায়িক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর মনিটরিং কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও করজাল সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে কর-অনুগত (কমপ্লায়েন্ট) ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদের প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং করজাল সম্প্রসারণে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এর মাধ্যমে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

ঢাকা চেম্বার বিশ্বাস করে, রাজস্ব আহরণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ-এই দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব, তবে এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের কিভাবে কর ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার-বেসরকারিখাতের একযোগে কাজের বিকল্প নেই।




এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেলো ওয়ালটন

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস এর চতুর্থ সংস্করণেও (২০২৬) তিনটি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট ও সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। টেকসই নেট জিরো ইনিশিয়েটিভ এবং এনার্জি ইফিশিয়েন্সি প্রোগ্রামের জন্য সাশ্রয়ী ও ক্লিন এনার্জি ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন অর্জন করেছে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’।

 

পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় টেকসই সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জলবায়ু সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জলবায়ু ও পরিবেশ ক্যাটাগরিতেও ওয়ালটনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া বর্ষসেরা সবচেয়ে টেকসই ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতেও এই পুরস্কার পেয়েছে ওয়ালটন। গত বছর একই অ্যাওয়ার্ডের তৃতীয় আসরেও তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছিল ওয়ালটন।

১৮ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ওয়ালটনকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ দেওয়া হয়।

পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) মো. ইউসুফ আলী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, শাহজালাল হোসেন লিমন, তানভীর আঞ্জুম ও প্রতীক কুমার মদক, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, ইএইচএস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু প্রমুখ।

 

পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেকের এএমডি মো. ইউসুফ আলী বলেন, তিন ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করায় ওয়ালটন পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ওয়ালটনকে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়নে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি এবং সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির আলোকে ওয়ালটন কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া, কর্মক্ষেত্রসহ সর্বত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ উন্নয়ন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। জিরো কার্বন নিঃসরণ, সাশ্রয়ী জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে নবায়নযোগ্য বিভিন্ন ক্লিন ও গ্রিন এনার্জি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ওয়ালটন। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে নিজস্ব অর্থায়নে ওয়ালটন মোট ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

ইতোমধ্যে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে স্থাপন করা হয়েছে ১৯.২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট। যার মধ্যে রয়েছে রুফটফ সোলার প্ল্যান্ট, গ্রাউন্ড মাউন্টেড সোলার প্ল্যান্ট এবং দেশের সর্ববৃহৎ ফ্লোটিং বা ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট। এসব সোলার প্ল্যান্ট থেকে বছরে প্রায় ২২ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা ওয়ালটনের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১৭ শতাংশ পূরণ করছে।

 

তিনি আরও বলেন, শিল্প প্রক্রিয়ায় পানি সাশ্রয় ও পুনঃব্যবহারে ইটিপির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাতকৃত পানির প্রায় ৭৫ শতাংশ নিরাপদভাবে পুনঃব্যবহার করা হচ্ছে। ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্লাস্টিক পুনঃর্ব্যবহার ও আপসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বর্জ্য কমিয়ে সম্পদের পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করছে ওয়ালটন। ওয়ালটনের এই অগ্রগতি প্রমাণ করে, ওয়ালটন কেবল পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণই করেনি, বরং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই শিল্প ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি মডেল তৈরি করেছে।

সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া।

এ বছর ১৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। যেখান থেকে কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’সহ ৫৯টি টেকসই উদ্যোগকে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ দেওয়া হয়।




এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে: বাণিজ্য সচিব

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্কের (ইআইএফ) তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রফতানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইআইএফ এর আগের ফেজগুলোয় যে সুপারিশ দিয়ে আসছে, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে সেই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যার প্রতিটিই বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাণিজ্য সচিব বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, এর সফল বাস্তবায়নই মূল বিষয়। তিনি বলেন, স্টাডির পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কীভাবে সংস্কারগুলো কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এসব সংস্কারের সুফল পৌঁছাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ) কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসি দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেয়া হয়। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে থাকে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ইআইএফের আওতায় ইতোমধ্যে দুটি পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে এবং শেষ হয় ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে, যা ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রম চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও ইআইএফের পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতি, কৌশল ও পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিটিআইএস, রফতানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ক উদ্যোগ থেকে প্রাধান্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে।এসব কার্যক্রমের মধ্যে রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।




২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা

বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলওয়ে মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করেছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো অর্থবছরে রেলওয়ের আয় তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমানের পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে গেলো অর্থবছরে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যাত্রী খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা।

তবে ইঞ্জিনের অভাবে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে।

অন্যদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে ভেন্ডিং লাইসেন্স ও বিবিধ আয়সহ মোট আয় কমেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টক রক্ষণাবেক্ষণসহ—মোট ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১। গত অর্থবছরে এ অনুপাত ছিল ২ দশমিক ০৯। অর্থাৎ রেলওয়ের আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য কমেছে।

বার্তায় বলা হয়, তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় করে, যা পরিচালন ব্যয় হিসেবে গণ্য করা সমীচীন নয়। পেনশন ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও বা ব্যয় ও আয়ের অনুপাত দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৩। অর্থাৎ পেনশন ব্যতীত রেলওয়ে আয়ের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা। রেলওয়ের ভাড়া রেয়াতি হারে নির্ধারিত। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। এ সময়ে রেলওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত মালামাল, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য, ডলার রেটের কারণে ব্যয়, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

বর্তমান ভাড়া গত ১০ বছরেও বৃদ্ধি করা হয়নি উল্লেখ করে বলা হয়, অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম ও বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলভাড়া যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য অনেক কমে আসবে।

এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয় বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।




জুলাইয়ের ১৮ দিনে এলো ১৮০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে দেশে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এ সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার বেশি।

রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ (এক দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ১৬ থেকে ১৮ জুলাই— এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। এর আগে চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মাথায় মোট প্রবাসী আয় পৌঁছেছে ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস ডিএসসিসি প্রশাসকের

প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করেপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

তিনি বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও মানুষ। এ রাষ্ট্রে তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে। কিন্তু বিভিন্নভাবে তারা বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হন। রাষ্ট্রের উচিত তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুস সালাম বলেন, বিএনপি সবসময় এ বিষয়ে এগিয়ে এসেছে। আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়গুলোতে অত্যন্ত সচেষ্ট। তার সহধর্মিণীও এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, যখনই প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা আসে, তখন তাদের এগিয়ে আনতে তারা সবসময় সচেষ্ট থাকেন। আমাদের সমাজে যেসব প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন ও দেখাশোনার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; আমরা যারা সমাজে বসবাস করি, আমাদের সবারই সমান দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি তাদের পাশে দাঁড়াই, তাহলে এই পিছিয়ে থাকা মানুষগুলো আর পিছিয়ে থাকবে না। কারণ তাদেরও মেধা আছে। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও রাষ্ট্রকে অনেক কিছু দিতে সক্ষম। যদি তারা বেঁচে থাকার সুযোগ পায়, পড়াশোনার সুযোগ পায়, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পায়, চাকরি করার সুযোগ পায়—তাহলে অবশ্যই তারা তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমি অন্তত এটুকু বলতে পারি যে, আমাদের সরকার এ ব্যাপারে সচেষ্ট। ঢাকা মহানগরের প্রশাসক হিসেবে বলতে পারি, আমরাও এ বিষয়ে আন্তরিক। যে কোনো সময়, যে কোনো প্রয়োজনে আপনারা আমাদের কাছে আসবেন। আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করবো।

 




ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সুশাসনের ভিত্তি

বাংলাদেশে ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা নয়, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি মৌলিক পরিবর্তন বলে মন্তব্য করেছেন এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ১২তম আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ১৫ থেকে ১৭ জুলাই তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ইন অ্যাকশন : ক্যাশলেস ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. তৌহিদুল আলম খান।

এছাড়া টেকসই উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. মো. তৌহিদুল আলম খানকে ‘এসডিসি-২০২৬’ এর সায়েন্টিফিক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।

প্রবন্ধে ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অন্যতম কার্যকর উদ্যোগ। নিরাপদ, সহজলভ্য ও দক্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর শুধু প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়, এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং অর্থনীতিতে মানুষের অংশগ্রহণের বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন, সবুজ প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে কলম্বিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, ফিজি, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, নীতিনির্ধারক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।




আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্বে বদিউর রহমান ও সেলিম রহমান

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বদিউর রহমান এবং নির্বাহী কমিটির (ইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে সেলিম রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৪৬৪তম (জরুরি) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারা নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি সফলভাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি, এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড, সেন্ট্রাল হসপিটাল লিমিটেড, হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সল্যুশন লিমিটেড এবং হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ দেশে-বিদেশের বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বদিউর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরবর্তীতে আমার দায়িত্বের ৮ বছরে আমরা এই ব্যাংকটিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হই। বর্তমানে ২০২৬ সালে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে আবারও যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তেমনই কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে আমাকে পুনরায় পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আমার উপরে অর্পিত দায়িত্ব আমি যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করবো। ইনশাল্লাহ, অতীতের মতো অচিরেই আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, নির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সেলিম রহমান দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি।

এর আগে তিনি ২০২১ এবং ২০২৪ সালে দুই মেয়াদে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।




নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী হবে সংস্কারের ধারাবাহিকতা : অর্থমন্ত্রী

নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচির (প্রোগ্রাম) ভিত্তি কী হবে, তা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আগে যেসব নীতিগত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর ওপরই এই কর্মসূচির ভিত্তি দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মান (রেসপেক্ট টু দ্য ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট) বজায় রেখেই সংস্কারের কাজ পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে (সিকোয়েন্সিং) পরিবর্তন আনা হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যখন যেটা প্রয়োজন হবে, তখন সেটাই করা হবে। এরই মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বাকি পরিবর্তনগুলোও সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, অর্থনৈতিক সংস্কার একবারে নয় বরং পরিস্থিতি, অগ্রাধিকার এবং নির্বাচিত সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।




ছয় মাসে সেনা ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা কমেছে

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সেনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানিটির চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৩৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৪৭ পয়সা। ফলে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৮ পয়সা বা প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ৫৫ পয়সা। আগের বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। সে হিসাবে প্রান্তিকভিত্তিক মুনাফা ২ পয়সা বা প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।

চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৪৩ পয়সা।

এর আগে ২০২৫ সালের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওইবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছিল ২৮ টাকা ৫৮ পয়সা।




বন্যাকবলিত‌দের জন‌্য যুক্তরাজ্যের ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা সহায়তা ঘোষণা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৩৫৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা) মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

এই সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৫ হাজারের বেশি মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

হাইক‌মিশনার জানায়, আন্তর্জাতিক সংস্থা স্টার্ট নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনায় এবং স্থানীয় ও জাতীয় বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ছয়টি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলায়– কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

আগে চলতি বছরের মে মাসে সিলেট অঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার ২ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা) জরুরি সহায়তা দিয়েছিল। নতুন সহায়তা মিলিয়ে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি (প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা)।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া জরুরি তহবিলের (ডিআরইএফ) মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১০টি জেলার মানুষের জন্য আরও ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৮ পাউন্ড (প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা) সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ হাইড্রো-মেট পার্টনারশিপের আওতায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের তথ্য ব্যবহারে সহায়তা করছে।




আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ফিরলেন পুরোনো উদ্যোক্তারা

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদ্যমান পর্ষদ বিলুপ্ত করে ব্যাংকটির পুরোনো উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে ১৪ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এটি আবারও পুরোনো উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, যেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই মূল উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। মূল উদ্যোক্তারা সক্রিয় থাকায় তাদের সমন্বয়েই নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

 

নতুন ১৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন— বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী, এনায়েত উল্লাহ, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কে ওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।




বড় লোকসানের আশঙ্কায় অতিরিক্ত চার্জ মওকুফসহ ৯ দাবি ব্যবসায়ীদের

টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরসহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভয়াবহ স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্য খালাস ও পরিবহনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।

সংকটময় এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত চার্জ মওকুফ এবং জরুরি সহায়তা চেয়ে ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন পোশাক ও শিল্প খাতের শীর্ষ নেতারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পাঠানো এক যৌথ স্মারকলিপিতে ওই দাবিগুলো জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন– বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমইএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বন্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না, আবার তৈরি পণ্যও বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। একদিকে শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে জাহাজ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কন্টেইনার ডেমারেজ ও অতিরিক্ত চার্জের বোঝা চাপানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় এভাবে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

বর্তমান এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শিল্প খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংগঠনগুলোর নেতারা। তাই জাতীয় স্বার্থে বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা ও ব্যবসায়ীদের ওপর আরোপিত বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ কমানোর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা

ব্যবসায়ীদের ৯ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– চট্টগ্রাম বন্দর এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও রেলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান; ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা, যারা ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবে; পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে উদ্ভূত কন্টেইনার ডেমারেজ, পোর্ট রেট, শিপিং চার্জ এবং অন্যান্য সব ধরনের বাড়তি চার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ করা; পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো চার্জ আরোপ থেকে বিরত থাকা; দ্রুত পণ্য খালাসে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ও তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করা; কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা।

এছাড়া, বন্যা ও দুর্যোগজনিত কারণে এলসি, ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো এবং বিলম্বজনিত জরিমানা মওকুফ করা; ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পখাত পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনা বা সরকারি সহায়তা তহবিল গঠন করা এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্য খালাসে কাস্টমস এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সার্বক্ষণিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবিও জানান।




অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইএমএফের সঙ্গে নতুন প্রোগ্রাম হবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনস্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইএমএফের সঙ্গে নতুন প্রোগ্রাম হবে। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের নেওয়া আইএমএফ-এর আগের প্রোগ্রামটি ছিল সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী। সেই কর্মসূচিতে এমন অনেকগুলো শর্ত ছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। এই কারণেই বর্তমান সরকার পূর্বের প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসেছে।

রোববার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের চলমান রাজনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের মূল চিন্তা টাকা পাওয়া নিয়ে নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করে, এমন একটি নতুন প্রোগ্রামে আমরা যাচ্ছি। যে কর্মসূচিতেই আমরা যাই না কেন, সেখানে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।

প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ, প্রবীণ আইনজীবী, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার একজন অত্যন্ত সৎ ও যোগ্য মানুষ ছিলেন। আমাদের রাজনীতিতে তাঁর অবদান অপরিসীম। তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই চলে যাওয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা বাড়াতে বর্তমান ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনা হবে। তিনি বলেন, একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের বর্তমান ভিসা নীতি রিভাইজ বা সংশোধন করা দরকার। এই নীতিকে আরও সহজ ও আধুনিক করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভিসা নীতি আধুনিকীকরণের ফলে দেশে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হবে।




শিগগিরই বন্ধ কোম্পানি তালিকাচ্যুত হচ্ছে না : বিএসইসি

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বন্ধ কোম্পানিগুলোকে ডিলিস্টিং (তালিকাচ্যুত) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে সেটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে এসব কোম্পানিকে এক বছরের মধ্যে কার্যক্রমে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।

রোববার (১২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের বিষয়ে কমিশনের স্পষ্টীকরণ করা হয়।

এতে দাবি করা হয়, সম্প্রতি শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে বন্ধ কোম্পানি ডিলিস্টিংয়ের বিষয়ে যে বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন এবং চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সঠিক প্রতিফলন নয়।

স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যান তার বলেন যে, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন বন্ধ বা কার্যক্রমহীন কোম্পানিগুলোকে অনির্দিষ্টকাল তালিকাভুক্ত অবস্থায় রাখা হয় না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রম, যেখানে দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকা কিছু কোম্পানি এখনও তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে সাধারণ ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিতে পড়ছেন।

চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে এ ধরনের কোম্পানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে একটি যৌক্তিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আলোচনার অংশ হিসেবে কার্যক্রমহীন কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময়, যেমন- এক বছরের মধ্যে কার্যক্রমে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে; অন্যথায় বিদ্যমান আইন, বিধি, লিস্টিং রেগুলেশনস ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করা হতে পারে।

তবে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও কল্যাণ বিবেচনায় কমিশন মনে করে, দীর্ঘদিন বন্ধ বা কার্যক্রমহীন বা গোয়িং কনসার্ন থ্রেট রয়েছে কিংবা নিয়মিত এজিএম করে না কিংবা লভ্যাংশ দেয় না, এমন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগে অধিকতর সতর্ক হওয়া উচিত।




ব্যবসা পরিচালনা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে

বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এ অবস্থা উত্তরণে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাস, ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য সরকারি সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া অটোমেশন প্রবর্তন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাস ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণ করাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সার্বিক স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সমস্যা চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে ধানমন্ডি কনভেনশন হলে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ওই এলাকার ১৫টি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও প্রায় শতাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ নীতি বিভাগ) মাহমুদুন নবী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (রাজস্ব নীতি) নুসরাত ফারজানা, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (পশ্চিম) অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম বিভাগ) মো. তারেক জুবায়ের এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখলেও প্রশাসনিক জটিলতা, কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলো তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং শপিং মল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীদের বিক্রয় বা টার্নওভার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। যা সামগ্রিক ব্যবসা প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় বাজেটে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর হ্রাস, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল কর কাঠামো ঘোষণা ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তবে, রাজস্ব আহরণে বড় লক্ষ্যমাত্রা এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করছে যা বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে জানান তাসকীন আহমেদ।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বলেন, ট্যাক্স লাইসেন্সসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য সেবা প্রাপ্তিতে জনগণের হয়রানি কমাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, ফলে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় রোধ হবে।

তিনি জানান, ডিসিসিআই’র প্রস্তাবের ভিত্তিতে শিগগিরই দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সপ্তাহ ঢাকা চেম্বারে আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যা উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা কার্যক্রম আরও সহজতর হবে। তবে হোল্ডিং ট্যাক্সসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য ফি সময়মতো পরিশোধে নগরবাসীকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

 

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তারেক জুবায়ের বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকাকে চলমান রাখতে উদ্যোক্তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। চাঁদাবাজির হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ হতে চিহ্নিত চাঁদাবাজদের গ্রেফতার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যানজট নিরসনে রাজধানীর বেশকয়েকটি সড়কে এরই মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নগরবাসীকে স্বস্তি দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সারা ঢাকা শহরে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিতে ‘স্মার্ট পুলিশিং-স্মার্ট সিটি’ বিষয়ক একটি প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে।

ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার নির্ঝর আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক সাপ্লাইচেইনে অস্থিরতা ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার ঘাটতির কারণে দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে কিছুটা মন্থর গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে ৩ মাস অন্তর অন্তর ভ্যাট রিটার্ন প্রদানের গৃহীত উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনায় মূলধন বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে তিনি মত প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে এগিয়ে আসার ওপর তিনি জোরারোপ করেন।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (রাজস্ব নীতি) নুসরাত ফারজানা বলেন, কর আহরণ ও কর বিষয়ক প্রণোদনা প্রদান দুটোই সরকারের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও এনবিআর দুটোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণের জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছে| সম্প্রতি পাস হওয়া অর্থ আইন ২০২৬-এ ব্যবসা পরিচালন প্রক্রিয়া সহজীকরণে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার সুফল দেশের উদ্যোক্তারা অতিদ্রুত লাভ করতে পারবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে শর্তসাপেক্ষে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভার মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা চশমা খাতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানি সহজীকরণে নীতিমালা প্রণয়ন, রিয়েল এস্টেট খাতে সাইনিং মানির ওপর আরোপিত কর হার হ্রাস, ফ্রিলেন্সার প্রমোটার এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন, ঢাকা আইডিসি কনটেইনার ডিপোতে নিয়মিত ভিত্তিতে বন্দর থেকে কনটেইনার ওয়াগন আনা ও দ্রুততার সঙ্গে খালাস প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নতুন উদ্যোক্তাদের এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও সহযোগিতা মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা, নারী উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে প্রণোদনা প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং নবায়নের সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে ডিসিসিআই’র সদস্যপদ প্রদান করা হয় ও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির হাতে ডিসিসিআই’র মেম্বারশিপ সার্টিফিকেট হস্তান্তর করেন। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মো. সালেম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে কার্যকর নীতি ও মানসিকতার পরিবর্তনের তাগিদ

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে সৃজনশীল অর্থনীতিকে (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) গড়ে তুলতে শুধু বাজেট বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি মানসিকতার পরিবর্তন, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১১ জুলাই) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ফেসবুক লাইভে অনুষ্ঠিত ‘আজকের অ্যাজেন্ডা’ শীর্ষক আলোচনায় এ কথা বলেন তারা। ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: স্লোগান অর আনট্যাপড পটেনশিয়াল’ শীর্ষক এ আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

আলোচনায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য জিডিপিতে এ খাতের অবদান বাড়ানো, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চলচ্চিত্র, সংগীত, প্রকাশনা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ডিজাইনসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সৃজনশীল খাতগুলো প্রতিভানির্ভর হলেও এগুলোকে অর্থনৈতিক খাত হিসেবে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নীতিগত সহায়তার পরিবর্তে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ভালোবাসার ওপর নির্ভর করেই অধিকাংশ ক্ষেত্র এগিয়েছে। একই সঙ্গে করনীতি, কপিরাইট, প্রকাশনা ও ওটিটি-সংক্রান্ত নীতিমালার সীমাবদ্ধতাও এ খাতের বিকাশে বাধা হয়ে রয়েছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও উদ্যোক্তা তানিম নূর বলেন, সৃজনশীল শিল্পের জন্য পৃথক করনীতি প্রণয়ন করা হলে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র শিল্পে কর অব্যাহতি দিলে দেশীয় সিনেমায় নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে সাধারণ করপোরেট কাঠামোর আওতায় কর দিচ্ছে, অথচ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো একই ধরনের কর কাঠামোর মধ্যে নেই। এতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। তিনি অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর ও লাইসেন্সিং নীতির সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, দেশে সৃজনশীল প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু সেই প্রতিভাকে বিকাশ ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠেনি। এ জন্য সরকারকে কাঠামোগত সংস্কার এবং শিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীবাহিনীর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

নাট্যকার ও তারুয়ার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বাকার বকুল বলেন, নাটক ও শিল্পকলাকে এখনো অর্থনৈতিক মূল্যসম্পন্ন খাত হিসেবে দেখা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ব্যক্তিগত ভালোবাসার জায়গা থেকে পরিচালিত হয়। বিনা পারিশ্রমিকের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় একটি পেশাদার ও টেকসই শিল্পখাত গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, প্রকাশনা শিল্প দেশের অন্যতম অবহেলিত খাত। জাতীয় গ্রন্থনীতি হালনাগাদ না হওয়া এবং কপিরাইট আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে প্রকাশনা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডিজিটাল ও মুদ্রণ পাইরেসিকেও তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের (সিএইচপি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম বলেন, হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে মান সনদ, কমপ্লায়েন্স এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমাপনী বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কার্যকর নীতি, টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব। করনীতি, রয়্যালটি বণ্টন, কপিরাইট সুরক্ষা ও লাইসেন্সিংকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের আগ্রহ ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। এখন টেকসই ফলাফল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করে সৃজনশীল অর্থনীতির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।




উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল এডিবি

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি কর্মক্ষমতা, শ্লথ বেসরকারি বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থার সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া আগামী ২০২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থার বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের অফিসার-ইন-চার্জ আকিরা মাতসুনাগা বলেন, প্রতিকূল বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং স্থিতিশীল সেবা খাতের ওপর ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখেছে। তবে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পুনরুদ্ধারের জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সংকট দূরীকরণে ধারাবাহিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। এই সংস্কারগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতির বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে, যা গত এপ্রিলের পূর্বাভাসের সমান। সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের কারণে পরিবহন, ইউটিলিটি এবং অন্যান্য ভোক্তা পণ্যের ওপর এর প্রভাব অব্যাহত থাকবে। ২০২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নামতে পারে, যা এপ্রিলের প্রাক্কলিত ৮ দশমিক ৫ শতাংশের চেয়ে বেশি। উচ্চ জ্বালানি ও পরিবহন খরচ, বিনিময় হারের প্রভাব এবং খাদ্য ও সেবা খাতের ক্রমাগত মূল্যস্ফীতির কারণে বাজারে স্বস্তি ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের ইতিবাচক ধারা প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং ব্যক্তিগত ভোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। রপ্তানিতে দুর্বলতা এবং আমদানির ধীর গতি দেশের দুর্বল বাহ্যিক চাহিদা ও শ্লথ বেসরকারি বিনিয়োগের দিকেই ইঙ্গিত করছে। উৎপাদন খাতের ওপর উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও কাঠামোগত সমস্যার চাপ রয়েছে এবং কৃষি খাত সার সংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে ২০২৭ অর্থবছরে গিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা সহজীকরণ, সুশাসন নিশ্চিত এবং কর প্রশাসনের সংস্কারের ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। অবশ্য ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং জ্বালানি সংকট দূর না হলে এই প্রবৃদ্ধির গতি খুব বেশি শক্তিশালী হবে না।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ কিছু বড় ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে এডিবি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে জ্বালানি ও শিপিং খরচ বেড়ে যেতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে।

এছাড়া, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়বে। বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে শুল্ক বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য বিধিনিষেধের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি চাহিদা আরও কমতে পারে। পাশাপাশি মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর ক্রমাগত চাপ, বৈশ্বিক অর্থায়নের কঠিন শর্তাবলি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে বহাল রয়েছে।




তাজিকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ই-ভিসা ও সরাসরি ফ্লাইট চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে ই-ভিসা সুবিধা, ব্যাংকিং সংযোগ সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বিমান চলাচল চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিআইএস-বিসিসিআই)।

বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশে সফররত তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার ও তার সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সিআইএস-বিসিসিআইয়ের সভাপতি যাদব দেবনাথ ও তার পরিচালনা পর্ষদের ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে এক বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকে দুদেশের চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যও হয়েছে।

সিআইএস-বিসিসিআই সভাপতি যাদব দেবনাথের নেতৃত্বে চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এতে অংশ নেন।

সিআইএস-বিসিসিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সিআইএস-বিসিসিআই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ, দ্রুত এবং ব্যবসাবান্ধব ই-ভিসা সুবিধা চালুর জন্য তাজিকিস্তান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে আরও সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে তাজিকিস্তানের ব্যাংকসমূহের শাখা বা প্রতিনিধি কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাংকিং সংযোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া সিআইএস-বিসিসিআই তাজিকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুরও প্রস্তাব দেয়। এতে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মতপ্রকাশ করা হয়।

পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়, বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সিআইএস-বিসিসিআই এবং তাজিকিস্তানের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয়পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হন।

যাদব দেবনাথ বলেন, বাংলাদেশে সিআইএসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করা একমাত্র চেম্বার হলো সিআইএস-বিসিসিআই।

তিনি পর্যটন, ওষুধ শিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, হসপিটালিটি, জ্বালানি, তুলা এবং কৃষিজাত প্রক্রিয়াজাত পণ্যের খাতে তাজিকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণে চেম্বারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে তাজিকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাজিকিস্তানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস. এম. মাহবুবুল আলম, সিআইএস-বিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি তৌহিদা সুলতানা, উপদেষ্টা মাহবুব ইসলাম রুনু ও এম. এস. সিদ্দিকীসহ সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বেড়েছে পোশাক রপ্তানি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের (আরএমজি) প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে দেশের পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে ২০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।

 

একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এই তিনটি বাজারে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশের বেশি গেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব আংশিকভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে ইইউর অংশীদারিত্ব আগের অর্থবছরের ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

 

অন্যদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশসহ অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি কমেছে। এসব বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে মোট রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও টানা সংকোচন দেখা গেছে।

পণ্যের ধরন অনুযায়ীও রপ্তানিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নিটওয়্যার রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমলেও ওভেন পোশাক তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল। এ খাতে রপ্তানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ, যা পুরো অর্থবছর জুড়েই নিটওয়্যারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভালো প্রবণতা ধরে রেখেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন ক্রেতা আকর্ষণ এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 




জুলাইয়ের  প্রথম ছয় দিনে এলো ৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ছয় দিনে দেশে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৫৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই এক দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫৮৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৬২ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে।




বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে নাহিদ রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন নাহিদ রহমান। সম্প্রতি তিনি এ পদে পদোন্নতি পান।

এর আগে তিনি প্রেষণে দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডে মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

নাহিদ রহমান ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে এমকম (ফাইন্যান্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে প্রেষণে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) থেকে এমবিএম ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া জাপান সরকারের জেডিএস স্কলারশিপের আওতায় জাপানের রিৎসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি থেকে ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তামাদি হিসাব নিয়ে নতুন নির্দেশনা

নাহিদ রহমান ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের একজন ডিপ্লোমেইড অ্যাসোসিয়েট। পাশাপাশি ডিএফআই ও দ্য ফ্লেচার স্কুল অ্যাট টাফটস ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সিডিএফপি বিষয়ে উচ্চতর পেশাগত সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেছেন। ব্যাংক খাতের বিভিন্ন বিষয়ে তার একাধিক গবেষণাপত্র ও প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি পেশাগত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

খুলনা জেলায় জন্ম নেওয়া নাহিদ রহমানের বাবা আতিকুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার এবং মা সেলিমা রহমান গৃহিণী। তার স্বামী মো. আলমগীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যাসন্তানের জননী।




এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতি প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের রাজনীতিকে যদি অর্থনীতি-বান্ধব কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বাণিজ্যের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কেবল তাত্ত্বিক তর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে। যেকোনো তাত্ত্বিক আলোচনাকে জনগণের কল্যাণে রূপান্তর করতে হলে একটি রাজনৈতিক শক্তির কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন।

আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ (র‌্যাপিড) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর দেশের সামনে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, তা কমবে না; বরং বাড়বে। সরকার ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এই উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে নেওয়ার যে অনুরোধ জানিয়েছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো এই বর্ধিত সময়কে নিজেদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে আমাদের বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ হয়তো কম, কিন্তু অন্যান্য রফতানি গন্তব্যে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই বর্ধিত তিন বছরের মধ্যে আমাদের নীতি সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বা পথনকশা তৈরি করতে হবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরো বলেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’র ১৫৭টি পদক্ষেপের মধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে দেশের মানবসম্পদকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দক্ষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের কল্যাণে রাজনীতির অবকাঠামোগত সংস্কার ও মেরামত করা।

র‌্যাপিডের এই কর্মশালার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামতসমূহ সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী।

র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ।

কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা অংশগ্রহণ করেন।




শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, সেবা পৌঁছাতে বাড়াতে হবে জনসচেতনতা: অর্থমন্ত্রী

বর্তমানে অনেক সরকারি ও আর্থিক সেবা ঘরে বসেই পাওয়া সম্ভব জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এসব সেবা সম্পর্কে জনগণকে জানাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেসব সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগও নিতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে সময়ের সদ্ব্যবহার এবং জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। তাই দেশের সব শ্রেণির মানুষকে ধীরে ধীরে ডিজিটাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঘরে বসে সেবা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের সময় ও অর্থ; দুই-ই সাশ্রয় হবে। শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেসব সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগও নিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন খাতে সরাসরি গিয়ে সেবা নেয়ার পরিবর্তে মানুষ যাতে অনলাইনে সহজেই সেবা পেতে পারে, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।




বাংলাদেশ ও জাইকার সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও জনসেবামূলক বিভিন্ন খাতে জাইকার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যকার সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

রবিবার (৫ জুলাই) সচিবালয়ে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাইকার চলমান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে চান। আমরা সবাই তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে জাইকার অভিজ্ঞতা, কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, এনডিসি এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও জাইকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্বকে আরও সুসংহত করবে এবং স্থানীয় সরকার খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।




নির্ভরযোগ্য ডাটা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি: অর্থমন্ত্রী

নির্ভরযোগ্য ডাটা সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ, ল্যাব গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গভীরতর বিশ্লেষণের সুযোগ থাকবে, যা গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সরকারি ডাটা নতুন নতুন আঙ্গিকে গবেষণা বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

রোববার (৫ জুলাই) আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিবিএস নিয়মিতভাবে জাতীয় শুমারি ও জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাইক্রোডাটা উৎপাদন করে। এই ল্যাবের মাধ্যমে সেই ডাটা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও গবেষণাবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা যাবে। ডাটা থেকে জ্ঞান, জ্ঞান থেকে উন্নয়ন—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিবিএস মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব উপাত্ত-ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে জনসাধারণকে সরকারি ডাটা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য মন্ত্রী বিবিএসকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বিবিএসে মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় ডাটার ব্যবহার আরও কার্যকর হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

সভা শেষে মন্ত্রী বিবিএসের প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব বিবিএসের একটি নিরাপদ অনসাইট গবেষণা সুবিধা, যার মাধ্যমে অনুমোদিত শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং অন্যান্য ব্যবহারকারী জাতীয় শুমারি ও জরিপসমূহের নাম-পরিচয়বিহীন মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন। ল্যাবটি গবেষণা, থিসিস, নীতি বিশ্লেষণ, কর্মসূচি মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর প্রক্রিয়াগত অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জুলফিকার হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন।

সভায় জানানো হয়, এসব কলকারখানায় বিনিয়োগে অনেক বেসরকারি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কোম্পানিগুলো যে ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলোর সম্ভাব্যতা এখন যাচাই করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ এড়িয়ে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




স্বাস্থ্যসেবার গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী

শুধু বাজেট বরাদ্দ বা বিনিয়োগ বাড়ালেই স্বাস্থ্যসেবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে এবং গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। এ জন্য চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজেদের দায়িত্ব ও পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয়তা, অগ্রাধিকার, কার্যকারিতা ও পরিবেশগত বিবেচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অতীতের মতো দুর্নীতি বা ব্যক্তিস্বার্থের ভিত্তিতে নয়, বরং যেসব প্রকল্প থেকে জনগণ সর্বোচ্চ উপকৃত হবে, সেসব প্রকল্পেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সরকার এক লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমে আসবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে কিছু খারাপ চর্চা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। কীভাবে স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনা যায়, সে বিষয়ে চিকিৎসক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিজস্ব পরিকল্পনা সরকারের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত। স্বাস্থ্যখাতে এবার অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বৈশ্বিক সেরা চর্চা অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রশাসনিক ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন দায়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও সরকার সাহসী বাজেট দিয়েছে। বাজেট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকার তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।

 

মতবিনিময় সভায় চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন চাহিদা নিয়েও আলোচনা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ইতিবাচক বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থাপিত ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ব্লকের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী।




২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় কমেছে দশমিক ৫৮ শতাংশ

২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, চলমান যুদ্ধ ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ব্যাহত করায় রপ্তানিতে এ পতন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের পণ্য রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। আয় হয়েছেল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগে ছিল ৪৮.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য সরকার ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে ইপিবি।




আতিউরসহ ১৫ বছরের বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্যদের নথি তলব

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ গত ১৫ বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়মের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসব নথি চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো আকতারুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব নথি পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছে দুদক টিম।

তলব করা নথিপত্র বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদসহ পরবর্তী অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ অনুসন্ধানে উপ-পরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার ও উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লার সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়।

দুদকের তলবকৃত চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিতে নীতিমালা প্রণয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম ও জালিয়াতির সুযোগ সৃষ্টি করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নাম, ঠিকানা, দায়িত্বকালসহ বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে দুদক। পাশাপাশি ওই সময়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথিও তলব করা হয়েছে।

চাওয়া নথির মধ্যে আরও রয়েছে, ২০১৬ এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন (ডিওএস) ও ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) থেকে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট এবং বড় ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনসংক্রান্ত জারি করা সব অনাপত্তিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।

এ ছাড়া ২০২০ সালের বিআরপিডি সার্কুলার-৮ অনুযায়ী শিল্প ও সেবা খাতে বিতরণ করা প্রণোদনা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও প্রণোদনার পরিমাণ চাওয়া হয়েছে।

কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা দেওয়ার অনুমোদনপত্র, এ-সংক্রান্ত নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপি এবং সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময় বিশেষ গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত নথিও




২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করলো চসিক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে এই বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বাজেট বক্তৃতায় চসিক মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বাজেটে আগামী অর্থবছরে ১০ লাখ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হকার সমস্যা সমাধানে ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এ বিষয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মেয়র।

নগরবাসীর অভিযোগ জানতে ও সেবা সহজ করতে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে একটি ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ চালুর কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরা হয়। অ্যাপের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।

মেয়র বলেন, বিএফআইডিসি রোডে চসিকের ৮ একর জমিতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়াতে ৪৪টি আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে চসিকের অনুমোদিত জনবল ৪ হাজার ২২৬ জন, যা প্রায় ৭০ লাখ নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত নয়। এজন্য নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদনের উদ্যোগ চলছে। ইতোমধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ১২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। মেয়রের ভাষ্য, এতে অনিয়ম কমবে এবং নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে কর পরিশোধ করতে পারবেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, চট্টগ্রামে প্রায় ১০ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে দেড় লাখেরও কম। এ সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে চসিক।

নগরীর স্মার্ট সিটি উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১৩৫ কিলোমিটার সড়কে ৫ হাজার ৫০০টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন, ৫৩টি মোড়ে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সোলার স্ট্রিট লাইট ও ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

পরিচ্ছন্নতা খাতে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং মশক নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম জোরদারের কথা উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি বলেন, প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের ৮১ শতাংশ বর্তমানে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় চসিকের আর্থিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় করপোরেশনের দেনা ছিল ৫৯৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ৩৮০ কোটিতে নেমে এসেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ এবং অবসরপ্রাপ্তদের আনুতোষিক নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।




শিল্প-উৎপাদন চাঙা করতে বড় উদ্যোগ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিসুদ ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে অর্থনীতির গতি ফেরাতে শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে। শিল্প, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এসময় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতিসুদ (পলিসি রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।

 

গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭ শতাংশে ওঠা মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে তা এখরো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারের কাঠামোগত সমস্যা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট ব্যয়জনিত মূল্যস্ফীতিও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

মুদ্রানীতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি ও সারের সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নিরীক্ষা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আইএফআরএস-৯ ভিত্তিক এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস (ইসিএল) কাঠামো বাস্তবায়ন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (আরবিএস) জোরদার এবং নতুন ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ ও ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন-২০২৬ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরা হয়।

এছাড়া খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (ডামা) প্রণয়ন এবং অর্থঋণ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে আন্তঃপরিচালনযোগ্য ‌‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর মাধ্যমে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহজ ও নির্বিঘ্ন ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ এবং নতুন প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাড়বে। তবে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, আর্থিক খাতের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে।




কাল ব্যাংক হলিডে, বন্ধ থাকবে সব ধরনের লেনদেন

আগামীকাল বুধবার (১ জুলাই) ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে দেশের সব ব্যাংকে গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে দেশের দুই শেয়ারবাজারের লেনদেনও।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক, তফশিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এসব কার্যালয়ে শুধুমাত্র প্রশাসনিক ও হিসাবসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গ্রাহকদের কোনো ধরনের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ১ জুলাই অর্ধবার্ষিক সমাপনী উপলক্ষে ব্যাংক হলিডে পালন করা হয়। এ সময় ব্যাংকগুলো জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করে এবং অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করে।

ফলে এদিন কোনো ব্যাংক শাখা থেকে টাকা জমা বা উত্তোলন করা যাবে না। এছাড়া চেক নিষ্পত্তি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডারসহ শাখাভিত্তিক সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে গ্রাহকরা এটিএম বুথ, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডভিত্তিক লেনদেন এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) সেবা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। যদিও আন্তঃব্যাংক নিষ্পত্তিনির্ভর কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর ‘ব্যাংক হলিডে’ পালন করা হয়। ব্যাংকগুলো এ দুই দিনে গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন বন্ধ রেখে অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে।




নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার কমায় আয় বৈষম্য বেড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে গত ১২-১৫ বছরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে নতুন উদ্যোক্তা খুব কম তৈরি হয়েছে। যারা আগে থেকেই শিল্প-কারখানার মালিক ছিলেন, তারাই মূলত আরও বড় হয়েছেন। আর এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল গ্যাসের অপ্রতুলতা।

রোববার (২৭ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এসএমই ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০-১৫ বছরে সেই অনুপাত ড্রাস্টিক্যালি (তীব্রভাবে) কমে এসেছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবাহ নির্দিষ্ট কিছু হাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এটি আয় বৈষম্য বাড়ার একটি প্রধান রেসিপি এবং আমরা সেটিই অনুসরণ করেছি। যার ফলে ১৫-২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে আয় বৈষম্য অনেক বেড়েছে।

আয় বৈষম্যের বৈশ্বিক সূচকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনকাম ডিসপারিটির স্কেল শূন্য থেকে এক পর্যন্ত। সূচক যত ওপরের দিকে যায়, বৈষম্য তত বাড়ে। আমাদের এখানে এই বৈষম্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এমনকি ভারত-পাকিস্তানের জিডিপিতে এমএসএমই খাতের অবদান আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের জিডিপিতে এই খাতের অবদান মাত্র ২০ শতাংশ। আমরা এটাকে আরও বাড়াতে চাই। কারণ অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ গতিশীল রাখতে এমএসএমই খাতকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি ব্রড-বেইজড (সুদূরপ্রসারী) প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব শিল্প পার্কে প্লট শেষ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে আরও পার্ক করা হবে।’

গ্যাস সংকট ও শিল্পায়ন নিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমরা কম জ্বালানি কনজিউম করা শিল্পের দিকে বেশি নজর দেব। আর বর্তমানে যেসব কল-কারখানা গ্যাস সংকটে ভুগছে, সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে সংকট সমাধানে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।

এ বছরের আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘এআইনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষমুখী অন্তর্ভুক্তি : আগামী প্রজন্মের এমএসএমই খাতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ বিষয়ে মন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উইম্যান অন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশের প্রধান ম্যাক্স টুনন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের নাজিম আহমেদ সাত্তার ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম।




শাহবাগে বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ গ্রেফতার ৪

রাজধানীর শাহবাগ থেকে ৪০ লাখ জাল টাকাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির শাহবাগ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো-নাফিজ আহম্মেদ (২৬), মো. রহমত উল্লাহ (২৬), ইয়াকুব আলী চৌধুরী (৩৯) ও রুবেল (৪২)।

রোববার (২৮ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিয়াজ মেহেদী বলেন, শনিবার (২৭ জুন) রাত ৭টার পর শাহবাগ থানাধীন মোতালিব প্লাজায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শাহবাগ থানার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শনিবার রাতে শাহবাগ থানাধীন মোতালিব প্লাজা ৫ তলায় একটি দোকানে কতিপয় ব্যক্তিরা বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেই স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তাদের হেফাজত হতে ৪০ লাখ টাকার জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকার ব্যবসার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




দুই প্রকল্পে বাংলাদেশকে ১.১ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বিশ্ব বাজারে সার ও জ্বালানির দামের অস্থিরতা মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশকে ১১০ কোটি (১.১ বিলিয়ন) ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

শনিবার (২৭ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংক জানাল, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে খাদ্য, সার এবং জ্বালানির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি এবং সংকুচিত রাজস্ব ব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। এর বড় প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র চাষি এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ওপর। এই পরিস্থিতিতে চাল উৎপাদন সচল রাখতে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষের খানা বা পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং কর্মসংস্থান ও জরুরি সেবা চালু রাখতে বিশ্ব ব্যাংক এই জরুরি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।

অনুমোদিত তহবিলের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’ বা খাদ্য নিরাপত্তা জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় মিলবে ৩০ কোটি ডলার। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। বাংলাদেশ তার চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি সার আমদানি করে থাকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ লাখ মেট্রিক টন জরুরি সার আমদানি করা সম্ভব হবে, যার অর্ধেকই হবে ইউরিয়া সার। এর ফলে ক্ষুদ্র কৃষকদের অধীনে থাকা প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমির ধান চাষ নিশ্চিত হবে।

 

বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা মূলত আমন ও বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ। এছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সারের সরবরাহে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা কেবল খাদ্য নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং দারিদ্র্য বাড়িয়ে তুলবে এবং বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেবে।

অন্যদিকে, ‘কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ বা আপদকালীন জরুরি সাড়াদান প্রকল্পের আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো সংকটকালীন সময়ে মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখা এবং চাকরি টিকিয়ে রাখা। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর জন্য দ্রুত নগদ অর্থ স্থানান্তর ও জীবিকা নির্বাহের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ এবং পানির মতো জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে জ্বালানি ও শক্তি সরবরাহের পেছনেও এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যেই এই প্রকল্পের অর্থ ছাড় করার কথা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, তাদের ক্রাইসিস প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স টুলকিট বা সংকটকালীন প্রস্তুতি তহবিলের আওতায় এই অর্থ দ্রুত ছাড় করা হচ্ছে। মূলত চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ দিয়ে এই নতুন তহবিলের সংস্থান করা হয়েছে, যাতে সংকটের মুহূর্তে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে সরাসরি সম্পদ বণ্টন করা যায় এবং মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বড় ধরনের ধাক্কা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।




সেবা খাতে ২০২৫-এ ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা : টিআইবি

২০২৫ সালে সেবা খাতে জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কালিক (আনুমানিক হিসাব) মোট ঘুষের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ দশমিক ২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি : জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’-এর তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, ভূমি সেবায় ৩০৮১.২ কোটি টাকা, বিচারসংশ্লিষ্ট সেবায় ২০১২.৮ কোটি টাকা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় ১৫৯৯ কোটি টাকা, পাসপোর্ট সেবায় ১০৮৩.২ কোটি টাকা, কৃষি সেবায় ৯১৮.৯ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ৮০৪.৪ কোটি টাকা, ব্যাংকিং সেবায় ৬৭১.৯ কোটি টাকা, বিআরটিএ সেবায় ৬০৪.৬ কোটি টাকা, শিক্ষা (সরকারি ও এমপিওভুক্ত) সেবায় ৫২৫.৯ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ সেবায় ৪৩৫.৬ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য (সরকারি) সেবায় ১৮১.৭ কোটি টাকা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহায়তায় ১৭.১ কোটি টাকা, এনজিও (প্রধানত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ) সেবায় ৩.১ কোটি টাকা ও অন্যান্য (বিমা, কর ও শুল্ক, গ্যাস, এনআইডি, এমএফএস ইত্যাদি) সেবায় ১৬৭.৯ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি আরও জানায়, ২০২৩ সালের প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণের তুলনায় ২০২৫ সালে প্রায় ১৫.৯ শতাংশ (১,৭২৯.৯ কোটি টাকা) ঘুষ লেনদেন বেশি হয়েছে। প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির ০.২৩ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) ১.৫৮ শতাংশ। ২০২২ সালের বিবিএসের জনশুমারি অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মোট প্রাক্কলিত খানার সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এ সময় প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (আইএসআরটি) প্রাক্তন অধ্যাপক সেকেন্দার হায়াত খান, প্রাক্তন অধ্যাপক পিকে মো. মতিউর রহমান, প্রাক্তন অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়ায়েব, অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের(বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।




মোংলা ও আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে বাংলাদেশ-চীন চুক্তি

চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ও চীন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে নতুন করে শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউসে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সেমিনারে এ চুক্তি সই ও বিনিয়োগ আগ্রহের ঘোষণা আসে। যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), চীনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি)।

 

সেমিনারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মধ্যে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে চীন-বাংলাদেশ মোংলা পোর্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) সঙ্গে একটি চুক্তি সই ও বিনিময় করা হয়।

বিডা জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং চীনের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।

 

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও সুশাসনভিত্তিক রূপান্তরের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য দেশটি উন্মুক্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত। বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে চীন আরও উচ্চপর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ নতুন ও প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্য খুঁজবে, আর বাংলাদেশ সেই সম্ভাবনাময় গন্তব্যগুলোর একটি হতে পারে।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণারও কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, চীনে বিডার প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ অফিস স্থাপন, বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত ‘চায়না রিলেশনশিপ ডেস্ক’ এবং চীনা ভাষাভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘চায়না ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশকে উচ্চ আয়ের, রপ্তানিমুখী, শিল্পায়িত ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

 

সিসিপিআইটির চেয়ারম্যান রেন হংবিন বলেন, চীন টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭০০টি চীনা অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত রয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে এবং আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সিসিপিআইটি কাজ করে যাবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি অনিশ্চিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশেও বাংলাদেশ তার স্থিতিশীলতা, বৃহৎ বাজার এবং প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। নির্বাচনের পর সরকার নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানো, দ্রুত অনুমোদন এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কার্যরত চীনা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে একটি ফায়ারসাইড আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিফেং ঝুয়াং (লিও) এবং কেএমকে গ্রুপের প্রতিনিধি উ ফুহং কেভিন বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

 

বিডা জানায়, কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের জন্য জমির প্রভিশনাল বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ২২ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে একটি কারখানা স্থাপন করবে। এ প্রকল্পে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি হবে বাংলাদেশে হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বিতীয় কারখানা। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে একটি কারখানা স্থাপন করে, যেখানে প্রায় ১২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

সেমিনারের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেএমকে গ্রুপ, হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন শীর্ষ চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।




ইসলামী ব্যাংকের এমডি নিয়োগে মনোনয়ন চূড়ান্ত: সংসদে অর্থমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে মনোনয়ন চূড়ান্ত, দ্রুতই এই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর এবং সচল করতে আপনার (অর্থমন্ত্রী) মন্ত্রণালয়ের কী কী পরিকল্পনা রয়েছে।

জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫ অনুসারে রেজল্যুশনের আওতাধীন পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকরা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারছেন। এরই মধ্যে সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়েছে এবং তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া পর্ষদে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। নতুনভাবে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ এ বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ব্যাংকটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যকর ও পূর্ণ লেনদেন চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামো এবং চাকরি প্রবিধানমালা প্রস্তুতকরণ, আইটি, সিবিএস, জনবল এবং শাখাসমূহ একীভূতকরণ, কোম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। এসব সম্পন্ন করার মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।