নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে, এর সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না :  প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আপনারা যেভাবে সবাই মিলে জাতীয় সনদ তৈরি করেছেন। সরকারের দায়িত্ব হলো উৎসবমুখর নির্বাচন করে দেওয়া।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবেই। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। তার জন্য যা যা করতে হয়, সাধ্য অনুযায়ী আমরা সব কিছু করব। এর সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না।

তিনি বলেন, আপনারা যেভাবে সবাই মিলে জাতীয় সনদ তৈরি করেছেন। সরকারের দায়িত্ব হলো উৎসবমুখর নির্বাচন করে দেওয়া।

ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে জুলাই সনদ সই হবে ১৭ অক্টোবর। জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে।
উৎসবমুখরভাবে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) আমরা সেখানে যাবো এবং দলিলে (জুলাই সনদ) সই করবো।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদ সই হয়ে গেলেই শেষ হয়ে যাবে না। এটা মস্ত বড় একটা অধ্যায় শেষ হলো। কিন্তু আরও বহু অধ্যায়ের সূত্রপাত শুরু করবে। কাজেই সেইভাবে আমরা আগাবো, যাতে এটা কোথাও হারিয়ে না যায়। পাঠ্যবইসহ নান জায়গায় এটাকে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করতে হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, যে দলিলগুলো আপনারা তৈরি করেছেন সেগুলো হারিয়ে যাবে না। আমি যতদিন পারি চেষ্টা করবো এগুলো যেন প্রত্যেকের কাছে যায়। যেন সবার মনের মধ্যে থাকতে পারে কেন আমরা একমত হতে পেরেছি। একমত হওয়া এক জিনিস, এটাকে সঞ্চারিত করা এক জিনিস। এই সঞ্চারণের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে সরকার হিসেবে, আমরা প্রক্রিয়া শুরু করবো। বিষয়গুলো জনগণের কাছে প্রচার করার মতো ভাষায় প্রচার করতে হবে। আমি বলে রেখেছি, আপনারা যে বিতর্কগুলো করেছেন এগুলো অমুল্য সম্পদ। এইগুলোকে বিষয়ভিত্তিকভাবে ভিডিও করে, বই করে আমাদের কাছে থাকবে, যাতে হারিয়ে না যায়। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রচার করলে সবার কাছে পরিষ্কার হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যে অসম্ভবকে আপনারা সম্ভব করেছেন সেটা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে না পৃথিবীর রাজনৈতিক ব্যবস্থার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে। আপনারা কঠিন কঠিন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সমাধানে এসেছেন। নিজেরা সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছেন, একটা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। এজন্য আজকে জুলাই সনদ রচনা হয়েছে। সেজন্য আমি একা নই, জাতির সবাই অভিভূত হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে যেই পয়েন্টে এসেছি, সেটা একটা অবিশ্বাস্য কাণ্ড। মানুষ চিরদিন স্মরণ করবে, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে গর্ববোধ করছে। আমি একজন ব্যক্তি হিসেবে গর্ববোধ করছি, যে এই কাজের সঙ্গে আমি শরিক ছিলাম, অংশীদার ছিলাম। যেই অসম্ভব কাজ আপনারা করলেন এটা যুগযুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতিহাসের স্বর্ণ অক্ষরে লিখে রাখার মতো একটা দিন।

বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।




প্রখ্যাত চিন্তাবিদ বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন

দেশের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ, প্রবীণ রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আজ অসুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে স্পেশালাইজড হাসপাতালে আনার পর সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বিস্তারিত আমরা পরে জানাতে পারবো।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করা বদরুদ্দীন উমর পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারীও ছিলেন তিনি।

একসময় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন বদরুদ্দীন উমর। ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে সেটির সভাপতির দায়িত্ব নেন।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বদরুদ্দীন উমর একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি শুধু একজন লেখক নন, ছিলেন একজন তাত্ত্বিক চিন্তাবিদ, যিনি ষাটের দশকে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে গভীর চিন্তা ও বিশ্লেষণমূলক লেখা উপহার দিয়েছেন।

১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বদরুদ্দীন উমর। তার পিতা আবুল হাশিম ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ, যিনি মুসলিম লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পারিবারিক পরিমণ্ডলেই তিনি রাজনীতি ও সমাজ বিশ্লেষণের বীজ বপন করেন, যা পরবর্তী সময়ে তার লেখনীতে প্রতিফলিত হয়।

ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় চেতনার উন্মেষ এবং বাঙালি সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলনে বদরুদ্দীন উমরের লেখা বইগুলো—বিশেষ করে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৬), ‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭) এবং ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৯)—গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তার লেখায় ধর্ম ও রাজনীতির দ্বন্দ্ব, উপনিবেশিক উত্তরাধিকার এবং সাংস্কৃতিক বিভাজন নিয়ে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে।

গত ২২ জুলাই শ্বাসকষ্ট ও নিম্ন রক্তচাপজনিত সমস্যায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘ ১০ দিন চিকিৎসা শেষে তিনি বাসায় ফেরেন। বয়সের ভার ও শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তার বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ।

বদরুদ্দীন উমর শুধুই একজন লেখক নন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধির, ধর্মনিরপেক্ষতার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এক অনন্য প্রবক্তা।

বদরুদ্দীন ওমর ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। যদিও তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।




অর্ধবার্ষিকে বিআইএফসির লোকসান বেড়েছে ১০১.২৯ শতাংশ

পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল থেকে জুন, ২০২৫) ও অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকের (জানুয়ারি থেকে জুন, ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) বেড়েছে ১০১.২৯ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে (১.৪৭) টাকা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (০.৬১) টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে (০.৮৬) টাকা বা ১৪০.৯৮ শতাংশ।

চলতি হিসাববছরের অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে (৩.১২) টাকা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল (১.৫৫) টাকা। সে হিসাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে (১.৫৭) টাকা বা ১০১.২৯ শতাংশ।

২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে (১২৯.২৩) টাকা।




অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও সংকট পেরিয়ে সামনে এগিয়ে চলার প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বর্তমানে এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের সম্মানিত গ্রাহক, কর্মী ও স্টাফদের শ্রম ও অবদানে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি আজ অপপ্রচার, বিভ্রান্তি, প্রশাসনিক চক্রান্ত এবং মিডিয়া বিভ্রান্তির শিকার। অথচ, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ আজও বাংলাদেশে ইসলামী জীবন বীমার পথিকৃৎ হিসেবে আলো ছড়ায়।

এই সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সিইও মোঃ শহিদুল ইসলাম এক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। দেশের প্রতিটি থানা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে তিনি সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন এবং সরাসরি সাক্ষাৎ করে বাস্তব চিত্র উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র ও মিডিয়া অপপ্রচার:

গত এক বছর ধরে কিছু হলুদ সাংবাদিক এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত ইনহাউজ স্টাফরা এক ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে তাঁরা সাধারণ বীমা গ্রাহকদের মধ্যে ভয়ভীতি ও অনাস্থা সৃষ্টি করছে। মিডিয়ার অপব্যাখ্যা এবং অতিরঞ্জিত প্রতিবেদনগুলোর কারণে বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এছাড়া, বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক পক্ষ ফারইষ্ট ইসলামী লাইফকে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। ফলস্বরূপ, কোম্পানির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং বীমা কর্মীদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অব্যাহত কর্মবিচ্যুতি ও কর্মী অসন্তোষ:

একটি বড় সংকট তৈরি হয়েছে ইনহাউজ স্টাফদের চাকুরি হারানো নিয়ে। বহু অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মী হঠাৎ অব্যহতি পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষোভকে পুঁজি করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কোম্পানির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ম্যানেজমেন্ট ইতোমধ্যেই পুনর্গঠন এবং কর্মী পুনর্বহাল ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সঠিক চিত্র তুলে ধরার প্রয়াস: খোলা চিঠির মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন:

এই পরিপ্রেক্ষিতে, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও মোঃ শহিদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে একখানা খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন দেশের সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও বিভাগীয় কমিশনারদের নিকট। উক্ত চিঠিতে তিনি ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের প্রকৃত অবস্থা, চলমান মামলা-মোকাদ্দমার বিবরণ, গ্রাহকদের অধিকার ও কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

চিঠিটি শুধু প্রেরণ নয়; তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে রিসিভ করানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে কোম্পানিটি এই সংকট থেকে বের হয়ে আসতে প্রস্তুত এবং সচেষ্ট।

প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ:

শুধু চিঠির মাধ্যমে নয়, তিনি নিজেই সরাসরি প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে তিনি কোম্পানির পক্ষে থেকে প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ ও মামলা সংক্রান্ত ডকুমেন্টস নিয়ে বসবেন। লক্ষ্য, সকল বিভ্রান্তি দূর করে বাস্তবতা তুলে ধরা।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনের ভুল ধারণা দূর করা গেলে কোম্পানির বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার অনেকটাই স্তিমিত হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

একটি সাহসী নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি:

সিইও (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম নিজের কর্মজীবনের বাকি ১২ বছর ফারইষ্ট ইসলামী লাইফকে একটি সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, যদি পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে সহযোগিতা করে, তবে আগামী ৩ বছরের মধ্যেই কোম্পানিটি তার পুরনো ঐতিহ্য ও আস্থা ফিরে পাবে।

তিনি বলেন— “আমার জন্য এটি শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি একটি স্বপ্ন। আমি চাই এই কোম্পানি দেশের বীমা খাতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করুক। আমার অভিজ্ঞতা, নীতি ও স্বচ্ছতায় বিশ্বাস থাকলে ফারইষ্ট আবার গর্বিত ঐতিহ্যে ফিরবেই—ইনশাআল্লাহ।”

পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা ও অঙ্গীকার:

পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যেই কোম্পানির সংকট কাটিয়ে উঠতে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • বকেয়া কমিশন পরিশোধ,
  • গ্রাহকের বীমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি,
  • চাকুরি হারানো কর্মীদের পুনর্বহাল বা বিকল্প কর্মসংস্থান,
  • সংস্থার শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার,
  • ইক্যুইটি ও ট্রাস্ট ফান্ড পুনর্গঠন,
  • অবৈধ হস্তক্ষেপ ও চক্রান্ত প্রতিরোধ।
  • গ্রাহক-কর্মী-সংস্থার ত্রিমাত্রিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন:

ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ মনে করে, একটি বীমা কোম্পানির মূল শক্তি হলো তার গ্রাহক ও কর্মীবাহিনী। এই ত্রিমাত্রিক সম্পর্ক—গ্রাহক, কর্মী এবং কোম্পানি—যতই দৃঢ় হবে, কোম্পানির অবস্থান ততই শক্তিশালী হবে।

এ কারণেই সিইও এর এই প্রত্যয়গ্রহণ নিছক দায়িত্ব পালনের চেয়েও বড় কিছু—এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার, যা জীবন বীমা খাতকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।

বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র ও সংকটের মাঝেও ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ এক নতুন সূচনার পথে। যে সাহস, বিচক্ষণতা ও পরিকল্পনার আলোকে সিইও মোঃ শহিদুল ইসলাম কোম্পানিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। যদি এই প্রয়াসে সকল পক্ষ আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসে, তবে আগামী দিনের ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ হবে আরো শক্তিশালী, বিশ্বস্ত ও ইরষণীয়।

দেশের জীবন বীমা খাতের ইতিহাসে ফারইষ্টের এই সংগ্রাম, সচেতনতা এবং সাহসিকতা এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে—ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, বীমা ব্যক্তিত্ব মো. শহিদুল ইসলাম বীমা সেক্টরে একজন সৎ দক্ষ ও বীমাবিদ হিসাবে অধিক পরিচিত। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে যোগদান করার পূর্বে তিনি বেসরকারি খাতের আরও কয়েকটি বীমা কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এর আগে চাটার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি সর্বশেষ ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। । ২০২৩ সালের ২রা এপ্রিল অনুষ্ঠিত ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২৫৫তম পর্ষদ সভায় কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী পদে তার নিয়োগ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ও অনুমোদিত হয়েছিল । পর্ষদ সভার রেজুলেশনসহ তার নিয়োগ প্রস্তাব আইডিআরএ’র অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। একটি মহল থেকে তার শিক্ষা সনদ সম্পর্কে একটি ভুল তথ্য দেয়ায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ডেল্টা লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে তার নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করে নাই। মো. শহিদুল ইসলাম ইড্রার এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান। আদালত দীর্ঘ শুনানির পর তার শিক্ষা সনদ বৈধ ঘোষণা করে তার পক্ষে রায়। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তার শিক্ষা সনদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটে। কিন্তু এর আগেই মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কোম্পানি একজনকে নিয়োগ দেয়ায় এবং ইড্রা অনুমোদন করায় তিনি আর ডেল্টা লাইফে যোগদান করার সুযোগ পাননি। অবশেষে তিনি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে যোগদান করলেন।




লালমনিরহাটে নার্সারী বাগান করে তরুণ উদ্যোক্তারা স্বাবলম্বী

লালমনিরহাটের কোদালখাতা, ভাটিবাড়ী, কাকেয়া টেপা, ফুলগাছ গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তারা নার্সারী বাগান করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা সদর থেকে উত্তর দিকে এ গ্রামগুলো অবস্থিত। উক্ত গ্রামগুলো ১নং মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভূক্ত। কয়েক হাজার পরিবারের লোকজন গ্রামগুলোতে বসবাস করে। সেখানকার অনেকেই নার্সারী বাগান করেছে।
ওই সব গ্রামগুলোতে গিয়ে লক্ষ্য করা গেছে, অনেক নার্সারী বাগান। প্রায় প্রতিটি বাগানের মালিক ও শ্রমিকরা ঘাস নিড়ানী ও গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত আছেন। নার্সারী বাগান করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।
উক্ত গ্রামের লোকজন জানান, যে জমিতে নার্সারী বাগান দেখা যাচ্ছে, সেই জমিতে আগে ফসল করা হতো। ফসল উৎপাদনের চেয়ে নার্সারী বাগানে বেশি লাভ। তাই গ্রামের উদ্যোক্তা ফসলের পরিবর্তন করে নার্সারীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। বিভিন্ন ফলজ, সুপারি, নারিকেল ও কাঠ এবং ঔষুধী জাতীয় ছাড়া অনেক ধরনের বাহারি গাছ নার্সারী বাগানে পাওয়া যায়।
তাদের দাবী নার্সারী বাগান করার ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সামাজিক বনায়ন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর লালমনিরহাটের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সাইফুল নার্সারীর প্রোঃ মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, গাছ লাগিয়ে গড়ুন দেশ, সুন্দর করুন পরিবেশ।
তারা আরও বলেন, আমার নার্সারীতে বিভিন্ন প্রকার দেশি-বিদেশি ফুল-ফল, হাইব্রীড কলম, ফলজ, বনজ, ঔষধী চারা গাছ পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় করে থাকি।
বিসমিল্লাহ নার্সারীর প্রোঃ মোঃ ইসরাইল হোসেন বলেন, আমি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে এক সপ্তাহ ব্যাপি নার্সারীর প্রশিক্ষন গ্রহণ করি। এতে করে আধুনিক নার্সারী ব্যবসায় উক্ত প্রশিক্ষণ আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। আমি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কাছে কৃতজ্ঞ।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব বলেন, আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সাধ্যমত সহায়তা করা চেষ্টা করি। তারা যখনই আমাদের ডাকেন আমরা সরেজমিনে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এতে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান হয়।



নওহাটা পৌরসভায় প্রায় ৬১ কোটি ১৬ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৬১ কোটি ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ৯০৯ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২৯ জুন) বিকেলে পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত এক উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে এই বাজেট ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত বাজেটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি এবং পৌরসভার আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আরাফাত আমান আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করেন পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌরসভার কার্যক্রম তুলে ধরে একটি স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নওহাটা পৌরসভার মোট আয় ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ৯০৯ টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার ২০৭ টাকা এবং উন্নয়ন খাত থেকে আয় ধরা হয়েছে ৫৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ৭০২ টাকা। আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে মোট ব্যয়ও একই পরিমাণ ধরা হয়েছে, যা একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট।

সভাপতির বক্তব্যে পৌর প্রশাসক আরাফাত আমান আজিজ বলেন, “বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়, এটি জনগণের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতির দলিল। এই বাজেট প্রণয়নে আমরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, বাজেট তৈরির প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণ, নারী ও যুব প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমাজ এবং নাগরিক সমাজের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণমুখী বাজেট হয়। এবারের বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পৌরসভার আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের প্রচেষ্টা। হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বাজার ইজারা ইত্যাদি নিজস্ব উৎস থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর মাধ্যমে পৌরসভাকে স্বাবলম্বী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাজেটে অগ্রাধিকার পাওয়া খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পৌর এলাকায় আলোকায়ন ও স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতের উন্নয়ন।

পৌর প্রশাসক আরাফাত আমান আজিজ আরও উল্লেখ করেন, সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৌরসভার নিজস্ব আয়ের উৎস, যেমন- হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বাজার ইজারা ইত্যাদি থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর মাধ্যমে পৌরসভাকে স্বাবলম্বী করে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ গৌতম কুমার রায়ের সঞ্চালনায় বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন- নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, পৌর জামায়াতের আমির সুজা উদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আবু বক্কর সিদ্দিক, নওহাটা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওয়ালিউল ইসলাম খান, প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।

এছাড়াও নওহাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান ও মিজানুর রহমান, জামায়াতের নেতা অ্যাডভোকেট মসিউর রহমান সহ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




রেললাইন নির্মাণে ৭ হাজার কোটি টাকা দেবে জাইকা

জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঋণচুক্তি সই করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

শুক্রবার (২৭ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইকোনমিক রিলেশনস ডিভিশনে এই চুক্তি সই অনুষ্ঠিত হয়।​

চুক্তির আওতায় জাপানি ওডিএ সহায়তায় প্রায় ৭ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা ঋণ দিবে জাইকা।

চুক্তিতে সই করেন জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইচিগুচি তোমোহিদে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।​

১৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে রেল সংযোগ ও পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে। এটি জাইকার অর্থায়নে নির্মিত যমুনা রেলসেতুর পূর্ণ সুবিধা কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।​

ইচিগুচি তোমোহিদে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের পথে জাইকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এসময় শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী জাপানের জনগণকে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।




নতুন করে বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা

নিজেদের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের বোনা কাপড়, পাট ও সুতা পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত।

শুক্রবার (২৭ জুন) ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি হবে না। শুধু নাহভা শেভা সমুদ্রবন্দর দিয়ে নির্দিষ্ট এসব পণ্য আমদানি করা যাবে। যারমধ্যে রয়েছে পাটজাত পণ্য, একাধিক ভাঁজের বোনা কাপড়, একক শণ সুতা, পাটের একক সুতা, ব্লিচ না করা পাটের বোনা কাপড়।

এর আগে গত মে মাসে নিজেদের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ভারত। ওই সময় এই পণ্য শুধু মহারাষ্ট্রের নহভা শেভা এবং কলকাতা বন্দর দিয়ে আমদানির সুযোগ রেখেছিল দেশটি। বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করে। স্থলবন্দর দিয়ে এই পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এই খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতর জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে যেসব পণ্য যাবে সেগুলোর ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। কিন্তু এসব পণ্য পুনরায় রফতানি করা যাবে না।

সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুথানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই দেশটি বাংলাদেশের সঙ্গে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ আচরণ শুরু করে। এছাড়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ ছাড়াও অন্যান্য আরও অভিযোগ আনেন তারা।




টিম গ্রুপের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা শাহীন

টিম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হিল রাকিবের স্ত্রী আফরোজা শাহীনকে গ্রুপের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাকিবের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ৮ জুন আবদুল্লাহ হিল রাকিব ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন মো. সাইফুজ্জামান গুড্ডু কানাডায় নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান।

রোববার (২২ জুন) পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার (২৩ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আফরোজা শাহীনের দৃঢ়তা, নিষ্ঠা এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও দর্শনের সঙ্গে তার মেলবন্ধন টিম গ্রুপকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

পরিচালনা পর্ষদ সকল স্টেকহোল্ডারকে তার নেতৃত্বে কোম্পানির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আফরোজা শাহীন ২০০১ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন।

তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। এরপর ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সালে যথাক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে।

আফরোজা শাহীন ১৯৯৯ সালে আবদুল্লাহ হিল রাকিবকে বিয়ে করেন এবং টিম গ্রুপের জন্মলগ্ন থেকেই তার পাশে ছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গ্রুপের লাইফস্টাইল ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘টুয়েলভ ক্লোথিং’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে তাদের দুই সন্তান মাহির দায়ান ও লামিয়া তাবাসসুমকেও পর্ষদ সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাহির দায়ান বর্তমানে সেনেকা পলিটেকনিক কলেজে অধ্যয়নরত এবং লামিয়া তাবাসসুম টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে অধ্যয়নরত।




কালোটাকা সাদা করার সুবিধা তুলে দেওয়া হবে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুবিধা তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তবে অপ্রদর্শিত অর্থ হিসেবে বাজেটে কিছু সুযোগ থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

শনিবার (২১ জুন) দুপুরে গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিড আয়োজিত বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা জানান।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ খুব একটা কাজে আসে না। পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে কিনে কেউ যদি এক কোটিও দেখাতে না পারে, তাহলে এটা থাকার তো কোনো দরকার নেই। এতই যখন আলোচনা হয়েছে, তা তুলে দেওয়া হোক।

এ সময় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকরা বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়টি একটি প্রস্তুতিহীন পরিকল্পনা। তারা এজন্য প্রস্তুত নন।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি রুবানা হক বলেন, এটি একটি প্রস্তুতিহীন পরিকল্পনা, আমরা কোনোমতেই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য প্রস্তুত নই।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী প্রযুক্তির ব্যবহারে শিল্পখাতে কর্মসংস্থান কমার শঙ্কা আছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বাড়াতে হবে।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্র্যাজুয়েশন আমাদের হয়ে গেছে ২০২১ সালে। এখন আমরা প্রথম তিন বছরের পর দুই বছর এক ধরনের গ্রেস পিরিয়ডে আছি। এখন নতুন করে যদি তিন বা পাঁচ বছর চাওয়া হয়–এটা এক ধরনের আবদার হতে পারে।




বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে পিটিএ স্বাক্ষরের আহ্বান

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বাড়াতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় ‘হিলটন কলম্বো রেসিডেন্স’ হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং সিলন চেম্বার অব কমার্স-এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কার শিল্প ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন মন্ত্রী সুনীল হন্দুন্নেত্তি।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যা এখনও পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো যায়নি।

তিনি শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের লজিস্টিক, পর্যটন, স্বাস্থ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইটি এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ঔষধ, পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, পাটজাত পণ্য আমদানিতে শ্রীলঙ্কার ব্যবসায়ীদের প্রতি আগ্রহী হওয়ার অনুরোধ জানান।

ডিসিসিআই সভাপতি দ্রুত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং সমুদ্র অর্থনীতি ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে বলে মত দেন।

সিলন চেম্বারের চেয়ারম্যান ডুমিন্ডা হুলানগামুয়া বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীলঙ্কার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের শ্রীলঙ্কার পর্যটন ও লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।

মন্ত্রী সুনীল হন্দুন্নেত্তি বলেন, আঞ্চলিক অগ্রগতির স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ অপরিহার্য। তিনি টেক্সটাইল, ঔষধ, জাহাজ নির্মাণ, ডিজিটাল সেবা খাতকে সম্ভাবনাময় বলে অভিহিত করেন এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল বীরাক্কোদি, শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস এবং শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি ড. আসাঙ্কা রত্নায়েক।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিশাল সুযোগ তৈরি করছে।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই ও সিলন চেম্বারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং সিলন চেম্বারের চেয়ারম্যান ডুমিন্ডা হুলানগামুয়া নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন।

আলোচনা সভার অংশ হিসেবে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল ও শ্রীলঙ্কার ৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০০টি বিটুবি ম্যাচমেকিং বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী অরুন হেমাচন্দ্রের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




জ্বালানির দাম বাড়বে কি না, জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

ইরান ও ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও দেশে এখনো দাম বাড়ানোর চিন্তাভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সার ও জ্বালানির দামসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আমদানিকৃত মালামাল হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কোনো প্রভাব নেই বাণিজ্যে। আপাতত আগের দামেই জ্বালানিসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হচ্ছে; তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী হলে বাংলাদেশেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থ উপদেষ্টা।

যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে দেশের প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে এখনই প্রস্তুত থাকতে হবে বলে মনে করছে না উপদেষ্টা পরিষদ। ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চায়।

এছাড়াও হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, তবে সরকার আশা করে এ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে না বলেও জানান অর্থ উপদেষ্টা।




১৪ দিনে এলো ১১৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয়

চলতি জুন মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ১১৫ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। রোববার (১৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি জুন মাসের ১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১১৪৯ মিলিয়ন বা ১১৪ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে (১-১৪ জুন ২০২৪) রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ হিসেবে জুনের অর্ধেক মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে প্রায় ৩০ দশমিক ১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত ঈদ শেষ হওয়ার পরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদের সময় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে পরবর্তী মাসে তা আবার হ্রাস পায়। এটাই স্বাভাবিক প্রবণতা, যা অনেক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে।

সবশেষ মে মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়িছিলেন ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি ছিল।

দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড হয় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠান ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার, আগস্টে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বরে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার এবং মে মাসে ২৯৭ কোটি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। অর্থাৎ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা ৮ মাস দুই বিলিয়ন এবং মার্চে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ৮৬৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল দুই হাজার ৩০২ কোটি মার্কিন ডলার।

রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি আয় ইতিবাচক থাকায় বাড়ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট মজুত বা রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী (১৫ জুন) পর্যন্ত দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট বা গ্রোস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ২০ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারে। তবে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ এখনো ১৬ বিলিয়নের ঘরে রয়েছে।




বাজেটে যেসব ত্রুটি রয়েছে, তা সংশোধন করা হোক : আনু মুহাম্মদ

আগামী ২২ জুন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাসের আগে বাজেটে যেসব ত্রুটি রয়েছে, তা সংশোধন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

শনিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি কর্তৃক আয়োজিত ‘বাজেট : দেড় দশকের অভিজ্ঞতা ও অর্থনীতির গতিপথ ‘ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন লেখক কল্লোল মোস্তফা, গবেষক মাহা মির্জা প্রমুখ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, এবারের বাজেটে দেখা যাচ্ছে যে, সুদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। এটা যদিও বর্তমান সরকারের দোষ না। এটার জন্য আগের সরকারই দায়ী।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন যেসব সংস্কার কমিটিগুলো রয়েছে, তারা যেসব সুপারিশ দিয়েছে, সেগুলো অল্প করেও যদি বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলেও বাজেটে কিছুটা নতুনত্ব আসতো। সংস্কার কমিশনগুলো কি স্রেফ অলংকার হিসেবে রয়েছে নাকি, আমার জানা নেই। আমি চাই, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হোক।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার মেগা প্রকল্প থেকে বের হতে চায়, এটা তাদের প্রত্যাশা। কিন্তু যেসব মেগা প্রকল্প এখন চলমান রয়েছে, সেগুলোরও একটি পর্যালোচনা করতে হবে। উন্নয়ন নাম দিয়ে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা বিলাসী ও জনগণের জন্য বিপদজনক। যেমন— রূপপুর, মাতাবাড়ি, রামপাল, এসব প্রকল্প থেকে সরকারের বের হয়ে আসার কোনো উদ্যোগ আমরা দেখিনি। এখন থেকে বের হওয়ার জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিতে পারতো, তা হলো জাতীয় সক্ষমতার উন্নয়নের বিকাশ ঘটানো। আর এই বিকাশ ঘটানো হলে অনেক কম দামে আমরা গ্যাস পাবো, বিদ্যুৎ খাতে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি রয়েছে তা আর দিতে হবে না। পরিবেশ বিনাশী কোনো প্রকল্পেও যেতে হবে না সরকারের।

তিনি আরও বলেন, তবে দুঃখজনক যে, বর্তমান সরকার যে বাজেট উপস্থাপন করেছে, তাতে এই ধরনের পরিকল্পনা নেই। বাজেটে আগের ধারাবাহিকতাই দেখা যাচ্ছে, ধারাবাহিকতায় উন্নয়ন শুধু শিরোনামে দেখা যায়, বাস্তবতায় তা হলো জনগণের জীবন বিপন্নকারী। আমরা চাই ২২ তারিখের আগে বাজেটে যেসব ত্রুটি রয়েছে, তা সংশোধন করা হোক।




মানি ট্রান্সফার কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক

বৈধ পথে রেমিটেন্স বাড়াতে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত মানি ট্রান্সফার কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ জুন) দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশ ইকোনোমিক কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে এ বৈঠকে বৈধ পথে আরও বেশি রেমিট্যান্স কীভাবে পাঠানো যায় তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনায় নেক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশি এনআরবি মানি ট্রান্সফার কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ইকরাম ফরাজী, ব্র্যাক সাজনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুস সালামসহ বিভিন্ন মানি ট্রান্সফার কোম্পানির প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাসহ অনেক প্রবাসী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নেক গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকরাম ফরাজী বলেন, বিভিন্ন দেশে অবস্থিত প্রবাসীদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মহোদয়ের এই ধরনের আলোচনা সভা বৈধ পথে রেমিটেন্স বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।

তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘হটাব হুন্ডি, বাঁচাব দেশ, গড়ব সোনার বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আমরা প্রবাসীদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চাই। দেশের অর্থনীতির চাকাকে শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করতে চাই।




১১ মাসে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ

নানা অভ্যন্তরীণ সংকট ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও পণ্য রপ্তানিতে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে— এই ১১ মাসে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৯৫ কোটি মার্কিন ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার (৩ জুন) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ রিপোর্ট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত মে মাসেই পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৭৪ কোটি ডলারের, যা গত বছরের মে মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। এটি চলতি অর্থবছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চ রপ্তানির রেকর্ড। এর মধ্যে, সবচেয়ে বড় সুখবর এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। মে মাসে এককভাবে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯২ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাস মিলিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ডলারে— পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১০ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

মূলত, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। শিল্প মালিকরা বলছেন, নতুন বাজার খোঁজা, অর্ডার পণ্যের বৈচিত্র্য এবং উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, ইপিবির বিশ্লেষণ বলছে, তৈরি পোশাক ছাড়াও মে মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা, প্রকৌশল পণ্য এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর রপ্তানি বেড়েছে। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 




নওগাঁয় ভিজিডি কর্মসূচির কার্ড-ধারীদের কাছে থেকে টাকা নিয়ে চাল বিতরণ করার অভিযোগ

নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নে দুস্থ নারীদের উন্নয়নের জন্য ভালনারেবল গ্রুপ ডেভলপমেন্ট বা ভিজিডি কর্মসূচির কার্ডধারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাল বিতরণ করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার দুপুরে তিলকপুর ইউনিয়নের রাইঝোর সেতু মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও উপকারভোগী সূত্রে জানা যায়, ভিজিডির অধীনে দুস্থ নারীদের জন্য ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই বছর মেয়াদে তিলকপুর ইউনিয়নে ২৮১টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ কার্ডধারীদের প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ জন্য কার্ডধারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন তালিকা না হওয়ায় পুরোনো তালিকা অনুযায়ী ভিজিডির চাল বিতরণ হওয়ার কথা।

কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ মাসের চাল বিতরণ বন্ধ ছিল। প্রত্যেক কার্ডধারীকে ৫ মাসের মোট ১৫০ কেজি ভিজিডির চাল বিতরণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ২০ মে থেকে বিতরণ করা শুরু হয়। সেই চাল পেতে গিয়ে উপকারভোগীদের গুনতে হবে ১ হাজার টাকা করে।

কারণ হিসেবে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা পরিবহন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেন। তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক থাকায় ওই ইউনিয়ন পরিষদে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি সদস্য সোহেল রানা।

আজ সোমবার দুপুরে তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন রাইঝোর ব্রিজ মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুই শতাধিক মানুষ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ভুক্তভোগীরা তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও অন্যান্য ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী আঙ্গুরী আক্তার বলেন, ‘চাল দেওয়ার আগে খরচের কথা বলে গ্রাম পুলিশ আলামিন এক হাজার টাকা নিয়ে গেছে। প্যানেল চেয়ারম্যান সোহেল রানার নাম করে টাকা আদায় করেছে গ্রাম পুলিশ আলামিন। তখন মনে করেছিলাম, এবার ভিজিডি চাল বিতরণে হয়তো নতুন নিয়ম করেছে। সে জন্য টাকা নিচ্ছে। কিন্তু এখন লোকজনের কাছ থেকে শুনতেছি আগের নিয়মই নাকি আছে।

চাল নিতে কোনো টাকা দেওয়া লাগবে না। আমাদের কাছ থেকে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা অন্যায়ভাবে টাকা নিয়েছে। এটার একটা বিচার হওয়া উচিত।’

রাইঝোড় গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘মেম্বার (ইউপি সদস্য) জাহিদুল ইসলাম আমার কাছে থেকে চেয়ারম্যানের কথা বলে চাল দেওয়ার জন্য এক হাজার টাকা নিয়েছে।

প্রথমে যখন টাকা চাইল তখন দিতে চাইনি। তখন মেম্বার বলে, “একসঙ্গে ১৫০ কেজি চাল পাচ্ছিস। প্রায় ৮ হাজার টাকার চাল পাচ্ছিস আর ১ হাজার টাকা দিবি না?” খোঁজ নিয়ে দেখলাম, সবার কাছে এভাবে টাকা নিছে। তাই আমিও দিয়েছি।’




কুরবানির হাটে অনিয়ম: ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে কুরবানির হাটে পশু বিক্রির খাজনা আদায়ের রশিদে নির্ধারিত ফি উল্লেখ না করায় মাসুদ রানা (৩৬) নামের এক ইজারাদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর পশুর হাটে উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, “সরকারি নির্ধারিত ফি রশিদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছিলেন ইজারাদার। এটি আইন লঙ্ঘনের শামিল হওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।”
তিনি আরও জানান, জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে নগদ পরিশোধ করেন মাসুদ রানা। পরে তিনি মুচলেখা দিয়ে ছাড়া পান।
অভিযানে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর টহলরত টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।”
এদিকে, স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর কুরবানির মৌসুমে হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এবার প্রশাসনের তৎপরতায় অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও গরু বিক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ী পশুর হাট বসে। এসব হাটে নির্ধারিত সরকারি ফি অনুযায়ী খাজনা আদায়ের নিয়ম থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কুরবানির ঈদের আগ পর্যন্ত হাটে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।




প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ায় অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ফিরেছে : বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য, বিমান, বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, সিন্ডিকেটনির্ভর বাজার ভেঙে একটি মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ফেরানো সম্ভব হয়েছে। এতে ভোক্তা স্বার্থ যেমন রক্ষা পেয়েছে, তেমনি সামগ্রিকভাবে বাজার ব্যবস্থাপনায় এসেছে জবাবদিহিতা ও ভারসাম্য।

মঙ্গলবার (৩ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, একসময় দেশের অর্থনীতি খাদের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছিলেন—দেশে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা ছিল। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আমরা সিন্ডিকেট ভেঙে প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটপ্লেস তৈরি করেছি, যা অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়েছে।

তিনি বলেন, বাজার ব্যবস্থার ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ নয়, বরং নীতি সহায়তা ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা বজায় রেখে কাজ করা হচ্ছে। এতে করে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন গতি পেয়েছে, তেমনি মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

প্রস্তাবিত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, এবার একটি বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই বাজেটে কোনো বিশেষ শ্রেণিকে কর সুবিধা দিয়ে বৈষম্য তৈরি করা হয়নি। কর কাঠামো সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট একটি কাগুজে পরিকল্পনা নয়, এটি একটি রূপরেখা—যার মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়। আমরা সেই দিকেই অগ্রসর হয়েছি।

প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, একসময় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলো চূড়ান্তভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমরা সেখান থেকে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছি। এখন এসব প্রতিষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করছে।

অর্থনৈতিক নীতির পরবর্তী ধাপ হিসেবে ঋণ পরিশোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার—বলে জানান শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় ধরনের ঋণ দ্রুত পরিশোধে অঙ্গীকারবদ্ধ। এতে দেশের সার্বভৌম আর্থিক সক্ষমতা আরও দৃঢ় হবে।

তিনি মনে করেন, এখন থেকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ তৈরি হবে, যেখানে বাজেট ব্যবস্থাপনা ও বাজার সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক ও রেল উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ বিভিন্ন আর্থিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত এই বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের বাজেটের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার হ্রাস পাওয়ার নজির।




বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরাম জোটের জয়

দেশের পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ২০২৫-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে ভূমিধস সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করেছে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট ‘ফোরাম’।

ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকায় ২৬টি পরিচালক পদের মধ্যে ২৫টিতে জয়ী হয়েছেন ফোরামের প্রার্থীরা। আর চট্টগ্রামে ৯টি পরিচালক পদের মধ্যে ফোরাম থেকে জয়ী হয়েছেন ৬ জন। অর্থাৎ জয় পাওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ৩১ জনই ফোরামের। বিপরীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মিলিয়ে সম্মিলিত পরিষদ থেকে জিতেছেন মাত্র ৪ জন।

 

শনিবার (৩১ মে) ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগামী ২ জুন এই পরিচালকরা ভোট দিয়ে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন।

বিজিএমইএ ঢাকা অঞ্চলের ২৬ পদের ২৫টিতে জয়ী ফোরামের প্রার্থীরা হলেন- মাহমুদ হাসান খান, রেজওয়ান সেলিম, ফয়সাল সামাদ, মজুমদার আরিফুর রহমান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, রুমানা রশীদ, মোহাম্মদ সোহেল, কাজী মিজানুর রহমান, সামিহা আজিম, ইনামুল হক খান, শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ, এ বি এম শামছুদ্দিন, আসেফ কামাল পাশা, মো. হাসিব উদ্দিন, জোয়াদ্দার মোহাম্মদ হোসনে কামার আলম, নাফিস-উদ-দৌলা, শাহ রাঈদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, সুমাইয়া ইসলাম, ফাহিমা আক্তার, রশীদ আহমেদ হোসাইনী, এম এ রহিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান এবং আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। ঢাকায় একটি পদে সম্মিলিত পরিষদের ফারুক হাসান জয়ী হয়েছেন।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৯ পদের ৬টিতে জয়ী ফোরাম প্রার্থীরা হলেন, সেলিম রহমান, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, সাকিফ আহমেদ সালাম, এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, এনামুল আজিজ চৌধুরী এবং মো. শরীফ উল্লাহ। বাকি তিনটি পদে জয়ী হয়েছেন সম্মিলিত পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, রাকিবুল আলম চৌধুরী ও এস এম তৈয়ব।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের সময় ২০২৪ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত বিজিএমইএর সর্বশেষ নির্বাচনে ৩৫ পরিচালক পদের বিপরীতে সবকটিতে জিতে যান সম্মিলিত পরিষদের নেতারা। এবার ফোরাম সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিজিএমইএর পরবর্তী সভাপতি হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন জোটের প্যানেল লিডার রাইজিং ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান (বাবু)।

৩৫ পরিচালক পদে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ৭৬ জন। নির্বাচনে এক হাজার ৮৬৪ জন গার্মেন্ট মালিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এবারের নির্বাচনে ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদ ৩৫টি পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থী দিয়েছে। বাকি ৬ জন ঐক্য পরিষদের ব্যানারে স্বতন্ত্রভাবে ভোট করছেন। এবারের নির্বাচনে প্যানেল লিডার হিসেবে ফোরাম জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাইজিং ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান (বাবু)। পাশাপাশি সম্মিলিত পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চৈতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম।

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিজিএমইএর সভাপতি আব্দুল মান্নান কচি দেশ ছাড়েন। পরে অজ্ঞাত স্থান থেকে পদত্যাগ পাঠান তিনি। এরপর বিজিএমইএর দায়িত্ব নেন ডিজাইনটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

খন্দকার রফিকের নেত্বত্বে পুনর্গঠিত বোর্ড পোশাক খাতের অস্থিতিশীলতা সামাল দিতে না পারায় ২০ অক্টোবর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।




এখনো বোনাস পরিশোধ করেনি ৭৩ শতাংশ কারখানা

আগামী ৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে পোশাকশ্রমিকদের বোনাস মে মাসের মধ্যে এবং মে মাসের বেতন ১ থেকে ৩ জুনের মধ্যে পরিশোধ করার কথা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশের মোট ৯ হাজার ৬৮৩ টি কারখানার মধ্যে মে মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ৮ দশমিক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বা ৭৮১টি কারখানা। ৯১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বা ৮ হাজার ৯০২ টি প্রতিষ্ঠান বেতন পরিশোধ করতে পারেনি।

অন্যদিকে, এখনো ঈদুল আজহার বোনাসও পরিশোধ করতে পারেনি ৭৩ শতাংশ কারখানা। মাত্র দুই হাজার ৫৭৮ টি বা (২৬ দশমিক ৬২ শতাংশ) কারখানা বোনাস পরিশোধ করেছে। বোনাস পরিশোধ করতে পারেনি ৭ হাজার ১০৫টি কারখানা বা ৭৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ কারখানা।

শনিবার (৩১ মে) এ তথ্য জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। গ্যাস সংকট, এনবিআরে কলমবিরতসহ নানান সংকটে ঈদুল আজহা সামনে রেখে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়ার চাপ বেড়েই চলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত ২২ মে হুঁশিয়ারি দিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ২৮ মে’র মধ্যে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট কারখানা মালিকদের জেলেও যেতে হতে পারে।




ব্যবসায়ীদের বিশাল বহর নিয়ে ঢাকায় এলেন চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী

চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওয়ের নেতৃত্বে ২০০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শনিবার (৩১ মে) ঢাকায় এসেছে।

শনিবার (৩১ মে) বিকেলে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিনিধিদলটি আগামীকাল রবিবার (১ জুন) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত সেমিনারে অংশ নেবে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এছাড়াও, চীনা প্রতিনিধিদল জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির বৈঠকে অংশ নেবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবে।

চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঢাকা সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।




বিজিএমইএ ভোট: ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ’ করার প্রতিশ্রুতি সম্মিলিত পরিষদের

 

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নির্বাচনে জয়ী হলে শিল্প রক্ষায় এ খাতের ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সম্মিলিত পরিষদ।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে প্যানেল পরিচিতির শেষ দিনে এমন প্রতিশ্রুতি দেন প্যানেলের প্রার্থীরা।

৩১ মে বিজিএমইএ নির্বাচন হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ভোট চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে তিনটি প্যানেলে ৭৬ জন প্রতিদ্বন্দিতা করবেন।

বিজিএমইএ নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সাবেক চেয়ারম্যান।

শনিবার থেকে শুরু হয় পাঁচ দিনের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান। প্রথম তিন দিন হল ঢাকায়; পরের দুদিন হবে চট্টগ্রামে।

প্যানেল লিডার ও চৈতি গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম বলেন, “বছরে ১২ হাজার ডলার রপ্তানি করা পোশাক খাত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় রপ্তানিকারক দেশ। ভোটে জিতলে ক্রেতাদের আস্থা ফেরাতে কাজ করব।

“পোশাক খাত এখন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।”

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “নির্বাচনের পর গ্রুপ ভুলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

বিদেশিদের নিয়ে বিনিয়োগ সম্মেলন করার পর সরকারের কাছে দেশিয় উদ্যোক্তাদের নিয়ে ‘কিছু একটা করার’ আহ্বান করেন বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন।

ভোটের মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল মিলিয়ে ৩৫ পরিচালক নির্বাচিত হবেন। তারা আগামী ২০২৫-২৭ মেয়াদে বিজিএমইএ পর্ষদের দায়িত্ব ঠিক করবেন।




প্রকল্পে বিনিয়োগের তুলনায় রিটার্ন নিয়ে প্রশ্ন আছে: অর্থ উপদেষ্টা

আমাদের অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের তুলনায় রিটার্ন নিয়ে প্রশ্ন আছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (২৬ মে) নগরীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) আয়োজিত এক সেমিনার তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সেমিনারে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধানদের মধ্যে জবাবদিহিতা মূল্যায়ন এবং সততা, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের মূল স্তম্ভের ওপর আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকারি বিনিয়োগে শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য বাংলাদেশ বৈদেশিক প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দিয়েছে। টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং নীতিগত শাসনব্যবস্থা, এগুলোর ব্যবহার জরুরি। মূল্যায়ন, নিরীক্ষা এবং সম্মতি হলো সেই হাতিয়ার যা আমাদের এই স্তম্ভগুলো তৈরি করতে সহায়তা করে। এগুলো নিশ্চিত করে যে আমাদের নীতি এবং প্রকল্পগুলো কেবল কাগজে কলমে বিদ্যমান নয় বরং আমাদের নাগরিকদের জন্য বাস্তব সুবিধা দিয়ে থাকে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি মনে করি প্রকল্পে অডিট দরকার। সবার অংশগ্রহণে এগুলো মূল্যায়ন করা দরকার। আমাদের সামগ্রিক উন্নয়নে ডোনার গুরুত্বপূর্ণ। তার আগে ডোনারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে সোশ্যাল অডিট দরকার। সোশ্যাল অডিটি বলতে যেখানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে সেই স্থানীয় লোকজন যেন এটা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে পারে। যেমন প্রকল্পের নাম, প্রকল্পের কাজ কি, প্রকল্পের ব্যয় কত এবং কোন সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া যদি সড়ক নির্মাণ করা হয় সড়কটি কত কিলোমিটার হবে, এটার বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে জানাতে হবে। এটা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের টাকা কি হচ্ছে এটা সবার জানা দরকার। অডিটরদের প্রিপার হতে হবে। ম্যানিপুলেট যেন না হয়। আমাদের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী দরকার।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং বিশ্বব্যাপী সেরা অনুশীলনগুলোকে আমাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং অংশীদারদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং সংস্থাগুলোর উপস্থিতি সংলাপ এবং জ্ঞান বিনিময়ের জন্য একটি মূল্যবান সুযোগ।

এডিবির প্রিন্সিপাল প্রফেশনাল স্পেশালিস্ট হেনরিক পিসাইয়া বলেন এই সেমিনারটি দেখিয়েছে যে জবাবদিহিতা এবং মূল্যায়ন প্রকল্পে ভালো ফলাফলের জন্য অন্যতম। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চলমান প্রকল্পে আরও নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে। ফলে প্রকল্পে ভালো রিটার্ন মিলবে।

এনডিবি এবং বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেলো এই সেমিনারে। ২০২১ সালে ব্রিকস-বহির্ভূত প্রথম দেশ হিসেবে ব্যাংকে যোগদান করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকার তার অবকাঠামোগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পে সুশাসন, মূল্যায়ন যোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা, অবকাঠামো এবং টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করার জন্য এনডিবি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যা জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যকে সমর্থন করে।




দুই প্রকল্পে ৬ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা ঋণ দিলো বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশকে দুই প্রকল্পে ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ৬ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২১.৬০ টাকা ধরে)।

রোববার (২৫ মে) বাংলাদেশ সরকারের সাথে ঋণচুক্তি করে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ঋণ চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সই করেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (অন্তর্বর্তীকালীন) মিস গেয়েল এইচ. মার্টিন।

বিশ্বব্যাংক জানায়, চট্টগ্রামের পানি সরবরাহ প্রকল্পে ২৮ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চট্টগ্রামের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ২৮ কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও উন্নত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা নগরীর সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পুনরুদ্ধারের আলাদা আরেকটি প্রকল্পে ২৭ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দুর্যোগ মোকাবিলা এবং টেকসই পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে এই ২৭ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া যাবে। এই অর্থ বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে দুর্যোগের পর দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়নেও এটি সহায়ক হবে। যা দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা প্রদানে কার্যকর অবদান রাখবে।




২৪ দিনে এলো ২২৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয়

সামনে কোরবানির ঈদ ঈদুল আজহা। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় এই উৎসবকে ঘিরে দেশের বাজারে জমে উঠেছে প্রস্তুতি, আর পরিবার-পরিজনের জন্য বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বাড়িয়ে দিয়েছেন রেমিট্যান্স পাঠানো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে রোববার (২৫ মে) দেখা যাচ্ছে, চলতি মে মাসের প্রথম ২৪ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২২৫ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) এ অংক বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। গত বছর মে মাসে (৩১ দিনে) ২২৫ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে সাধারণত গরু, ছাগল ও অন্যান্য কোরবানির পশু কেনা, নতুন পোশাক, উপহার, এবং পারিবারিক ব্যয়ের জন্য প্রবাসীরা দেশে বেশি অর্থ পাঠান। ফলে এ সময় রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ব্যাংক কর্মকর্তাদের আশা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মে মাস শেষে প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ শুধু প্রবাসী পরিবারের আয় বাড়ায় না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতি যেমন চাঙা হয়, তেমনি নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি।

এদিকে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে। ডিজিটাল চ্যানেলে অর্থ পাঠানো সহজ হওয়ায় এখন অনেকেই হুন্ডি এড়িয়ে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল বেছে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম ২৪ দিনে ২২৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৩৭ কোটি ডলার আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

অন্যদিকের কোনও রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা ৮টি। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেন্স ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক এবং পদ্মা ব্যাংক। বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে- হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে এবং আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার এবং নভেম্বর মাসে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়া‌রি‌তে ২১৯ কোটি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার এবং এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পা‌ঠি‌য়েছেন প্রবাসীরা।

অর্থাৎ বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার দা‌য়িত্ব নেওয়ার পর টানা ৮ মাস দুই বিলিয়ন এবং মার্চে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসে‌ছে বাংলাদেশে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ৪৫৪ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৯১২ কোটি মার্কিন ডলার।




পাচারকৃত অর্থ আনতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অব্যাহত থাকতে হবে: গভর্নর

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার দাবি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা অব্যাহত থাকতে হবে, অন্যথায় এসব সম্পদ ফেরত আসবে না।

শনিবার (২৪ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফ এর ক্রেডিট এনহান্সমেন্ট স্কিম-সিইএস-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গভর্নর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ায় তা ফেরত পাঠাতে চাপ তৈরি হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফ্রিজ করায় অর্থ ফেরত আনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। পাচার করা অর্থে বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদ জব্দে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা ইতিবাচক। এসব সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি অন্যান্য রাষ্ট্রেও এসব সম্পদ যেন বিক্রি করতে না পারে সে ব্যাপারে কাজ চলছে।

ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যাংকের পূর্বের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না। আগের লাইসেন্স বাতিলে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন ব্যাংক নোট প্রসঙ্গে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ঈদের আগেই ১০০০, ৫০ এবং ২০ টাকার নোট বাজারে আসবে, এসব নোটে কোনো ব্যক্তির ছবি থাকবে না। দেশে সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থাপনা থাকবে। এখানে মসজিদ না মন্দির সেটা বিষয় না। বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়গুলো আমাদের সংস্কৃতিরই অংশ।

পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান-এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাংলাদেশ মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জং ও পিকেএসএফ-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিয়ার রহমান।




জাতীয় চা পুরস্কার পেলো ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

জাতীয় চা দিবসে পুরস্কার পেয়েছে ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান। বুধবার (২১ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় চা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

৮টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্তদের তালিকা:

প্রথম ক্যাটাগরিতে একর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগানের পুরস্কার পেয়েছে ডিনস্টন চা বাগান। সর্বোচ্চ গুণগতমান সম্পন্ন উৎপাদনকারী বাগান হয়েছে মধুপুর চা বাগান। শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক হয়েছে দি কনসোলিডেটেড টি এন্ড ল্যান্ডস কো. বাংলাদেশ লিমেটেড। শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী হয়েছেন পঞ্চগড়ের এ.বি.এম. আখতারুজ্জামান। শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান হয়েছে মির্জাপুর চা বাগান।

বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণের সেরা প্রতিষ্ঠান হয়েছে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড।

দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা মোড়কেরভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা প্রতিষ্ঠান/কোম্পানির পুরস্কারও জিতেছে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড।

শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী (শ্রমিক সম্পর্কিত পুরস্কার) পেয়েছেন নেপচুন চা বাগানের চা শ্রমিক জেসমিন আক্তার।

এদিকে, এ বছর সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরি এবং সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে ২টি বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

ওই দুটি প্রতিষ্ঠান হলো সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে সুপ্রিম টি লিমিটেড ও সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে মরগেন টি ইন্ডাস্ট্রিজ।




নগদের ২০০০ কোটি আত্মসাৎ, পুরোনো ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

 

নগদের সাবেক ম্যানেজমেন্ট প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বাংলা‌দেশ ব‌্যাং‌কের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে কোর্টে আপিল করা হয়েছে এবং শিগগিরই শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে। ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে যেন নতুন করে বড় ক্ষতির সুযোগ না থাকে।

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে পাচার টাকা ফেরত আনার বিষ‌য়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক নগদে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আগের যারা ম্যানেজমেন্টে ছিল সম্প্রতি তারা সেটা আবার দখল করেছে। এ প্রক্রিয়াটা এখন কোন পর্যায়ে আছে?

আহসান এইচ মনসুর বলেন, নগদের বিষয়ে আমাদের পজিশন সুস্পষ্ট। আমরা মনে করি নগদের যারা অরিজিনাল ম্যানেজমেন্ট ছিল, বোর্ড ছিল তারা অর্থনৈতিক দুর্নীতি করে টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমরা জানি ৬৫০ কোটি টাকা তারা ই-মানি ক্রিয়েট করেছে। যেটা আসলে প্রকৃত অর্থ ছিল না। সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির আওতায় যেসব টাকা ট্রান্সফার করা হতো সেগুলো নগদের মাধ্যমে করা হতো। সেখানে তারা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে আত্মসাৎ করেছে। এটা আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটেও ধরা পড়েছে এবং আমরা যে ইন্টারন্যাশনাল অডিট ফার্ম দিয়ে অডিট করেছিলাম সেখানেও ধরা পড়েছে। আমরা মনে করি তাদের হাতে নগদের কার্যক্রম আবার ফেরত যাওয়াটা উচিত নয়। যেহেতু কোর্টের একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা এটাকে আপিল করেছি। শিগগিরই শুনানির ডেট দেওয়া হবে। আমরা মনে করি আমাদের পক্ষে রায় পাব। কিন্তু আমরা শঙ্কিত। এই সময়ের মধ্যে তারা তাদের পুরো কন্ট্রোল কিন্তু নিয়ে নিয়েছে সিস্টেমের, যেটার ওপর আমাদের কোনো হাত থাকবে না। কারণ আইনগতভাবে আমরা একটু অসুবিধাজনক অবস্থায় আছি।

তিনি বলেন, তারা এই সময় বড় কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ, আমরা ব্যাংকগুলোকে বলে দিয়েছি তারা শুধুমাত্র ক্যাশ ইন ও সেন্ড মানি করতে পারবে। তারা তাদের ডাটাবেজ মুছে ফেলার চেষ্টা করতে পারে। তারা ডাটাবেজ মুছে ফেলতে পারে। যেটা আমাদের কাজ আরও কঠিন করে তুলবে।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম।




পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নিতে পারবে ব্যাংক

বিদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্টে ডলার সংযুক্তি (এনডোর্সমেন্ট) করতে চাইলে এখন থেকে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি নিতে পারবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার ((১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এই ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর বাইরে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি বাবদ বাড়তি কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তফসিলি ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির সময় বিভিন্ন হারে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি ও চার্জ এবং অতিরিক্ত সার্ভিস ফি বা কমিশন নিচ্ছে। অতিরিক্ত ফি আদায় করায় ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে নিরুৎসাহিত হন গ্রাহকরা।

এ কারণে বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।




বাংলাদেশকে ৩২৮০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ২৭ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা) ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস জানায়, বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের বোর্ড এই ঋণ অনুমোদন করেছে। অর্থায়নটি ২০২৪ সালের আগস্টে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনরুদ্ধার, অবকাঠামো নির্মাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানুষের জীবিকার সুরক্ষায় ব্যয় করা হবে।

এই প্রকল্পের নাম- বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভার, ইমারজেন্সি প্রিপারিডনেস এন্ড রেসপন্স (বি-স্ট্রং)। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের গ্রামীণ এবং বন্যা সুরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ ও পুনর্গঠন করা হবে। এতে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাবে।

বিশ্বব্যাংকের অন্তর্বর্তীকালীন কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে অগ্রণী দেশ। তবে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

এই প্রকল্পের অধীনে ৭৯টি বহুমুখী বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও পুনর্বাসন করা হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো স্বাভাবিক সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। জলবায়ু সহিষ্ণু রাস্তা ও সেতু তৈরি এবং বন্যা সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, মেরামত ও পুনর্বাসনও এর অন্তর্ভুক্ত। বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়নেও সহায়তা করা হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগের জন্য প্রস্তুত করতে নৌকা, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও মহড়ার ব্যবস্থা করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট স্বর্ণা কাজী এই অর্থায়ন প্রসঙ্গে বলেন, এই প্রকল্প পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি অ-ভৌত কার্যক্রমের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা তৈরির একটি সামগ্রিক পদ্ধতি নিশ্চিত করা যাবে এবং ভবিষ্যতে বন্যার ঝুঁকি কমিয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, প্রকল্পটি বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়াতে আর্থিক সহায়তা ও বাজার-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। পাশাপাশি অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে অন্তত ৬৫ হাজার কৃষি পরিবারকে উচ্চ ফলনশীল, জলবায়ু সহিষ্ণু ও টেকসই ফসল উৎপাদন প্রযুক্তি, কৃষি যন্ত্রপাতি ও উন্নত সেচ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহের জন্য বীজ গ্রাম স্থাপন করা হবে এবং নারীদের বসতবাড়ি ও কমিউনিটি বাগানে উৎসাহিত করা হবে। টেকসই কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার জন্য কৃষক দলও গঠন করা হবে। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।




রাজধানীর যেসব স্থানে বসবে কোরবানির পশুর হাট

রাজধানীতে এবার কোরবানির পশুর হাট বসবে ১৯টি। এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯টি এবং উত্তর সিটির ১০টি স্থান নির্ধারণ করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

ঈদের আগের তিনদিনসহ ৫ দিন চলবে পশু বেচাকেনা। থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাট পরিচালনায় নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোরবানির ঈদের বাকি এক মাসেরও কম। এরই মধ্যে রাজধানীতে পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। হাট ইজারা দিতে আহ্বান করা হয়েছে উন্মুক্ত দরপত্র।

এদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় এবার হাটের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে আফতাবনগর এবং মেরাদিয়া পশুর হাট।

গাবতলী স্থায়ী পশুর হাট এবং বসিলা, মিরপুর, খিলক্ষেত, বাড্ডাসহ উত্তর সিটিতে হাট বসবে ১০টি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে হাট চলবে। হাটের ইজারা দিতে নিরপেক্ষ থাকবে সিটি করপোরেশন।

তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়াতেই নিলাম হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাই ইজারা পাবেন। তাদের ওপর কড়া নির্দেশ থাকবে, যাতে রাস্তা নোংরা না করা হয়।

অন্যদিকে উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের খালি জায়গাসহ দক্ষিণ সিটিতে ৯টি হাট বসবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ৯টি হাটের বিষয়ে এরই মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের টেন্ডার কার্যক্রম হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মেনেই ইজারা দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ের দরপত্রের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২৭ মে পর্যন্ত। এরপর সর্বোচ্চ দরদাতাদের চূড়ান্ত করা হবে। নিয়ম মেনে হাট পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকবে সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে হাট পরিচালনা ছাড়াও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোর তদারকি করবে নগর কর্তৃপক্ষ।




ভিয়েতনাম-বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি চান ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা দূরীকরণসহ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সই এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং।

বুধবার (১৪ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ভিয়েতনাম-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম ২০২৫ –এ তিনি এসব কথা বলেন।

ফোরামে ভিয়েতনামের ১৬ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং।

কৃষি, পর্যটন, ওষুধ, মৎস্য আইসিটিসহ বেশকিছু শিল্পের বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার ফ্যান থি থ্যাং জানান, উভয় দেশ একে অপরের পণ্যে উচ্চ ট্যারিফ আরোপ করে রেখেছে। ট্যারিফ, নন-ট্যারিফ বাধা দূর করাসহ পরিবহন, যোগাযোগ ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা সহজ করা গেলে অনাবিষ্কৃত খাতগুলোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা দৃঢ় করার পরামর্শ দেন তিনি।

উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের কথা বলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহিম খানও। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে লেনদেন ব্যবস্থা আরও সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মধ্যে বিপুল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে, যার একটি বড় অংশই অনাবিষ্কৃত থেকে গেছে। এ সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জয়েন্ট ভেঞ্চার উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন ঢাকায় নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন মান কোং। প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশে শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুফল পেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য-ভিসা সহজীকরণের আহ্বান জানান ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন ভিয়েতনাম বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডো ভ্যান থ্রং।




ডলার রেট বাজারভিত্তিক করার ঘোষণা দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাজার স্থিতিশীল দা‌বি ক‌রে ডলারের বিনিময় হার (ডলার-টাকার মূল্য) বাজারভিত্তিক করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

বুধবার (১৪ মে) বাংলা‌দেশ ব্যাংকের এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নি‌য়ে এ ঘোষণা দেন তি‌নি। এসময় তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে আগামী জুন নাগাদ কি‌স্তির ১৩৩ কে‌টি ডলার দেবে।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, গত ৯ মাসে রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বি‌ক্রি ক‌রা হয়‌নি। তারপরও বিনিময় হার গত কয়েক মাস স্থি‌তি‌শীল অবস্থায় আছে কো‌নো হস্ত‌ক্ষেপ ছাড়াই। এমন প‌রি‌স্থি‌তিতে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। ব্যাংকারদের বিষয়‌টি বলা হ‌য়ে‌ছে।

বাজারভি‌ত্তিক করায় হঠাৎ রেট অনেক বে‌শি বেড়ে যাবে না জা‌নিয়ে গভর্নর বলেন, ডলার রেট অনেক দিন এক জায়গায় অর্থাৎ ১২২ টাকায় আছে। তার আশেপাশেই থাকবে। হঠাৎ ক‌রে ১৪০-১৫০ হবে এটার যুক্তি নেই। বাংলাদেশের ডলার রেট এদেশের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক হবে, অন্যদেশের কথায় এখানে ডলার রেট ঠিক হবে না। বাজারে ডলারের যথেষ্ট সরবরাহ আছে।

কেউ কেউ বাজার অস্থি‌তি‌শীল করার চেষ্টা করবে এমন শঙ্কা ক‌রে গভর্নর জানান, কিছু সিন্ডিকেট কোম্পা‌নি আছে যারা বাজার অস্থি‌তি‌শীল করার চেষ্টা কর‌বে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স‌চেতন থাক‌বে এবং সার্বক্ষণিক তদার‌কি করা হ‌বে। য‌দি কেউ অ‌নৈ‌তিক উপায়ে অ‌স্থি‌তিশীল করার চেষ্টা ক‌রে তা‌দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে।

সংবাদ সম্মেলনে উপ‌স্থিত ছি‌লেন ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ড. মো. হাবিবুর রহমান ও ক‌বির আহ‌মেদ, বাংলা‌দেশ ব্যাংকের উপ‌দেষ্টা আহসান উল্লাহ এবং নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রমুখ।

এদিকে আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা থেকে আগামী জু‌নের ম‌ধ্যে বাংলা‌দেশ সা‌ড়ে তিন বি‌লিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




বিরাট একটা গ্যাপ নিয়ে বাজেট করব না : অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিরাট একটা গ্যাপ নিয়ে বাজেট করব না। বড় বড় মেগা প্রজেক্ট নিয়ে ধার করে ডেফিসিট (ঘাটতি) দিয়ে এগুলো করব না। ব্যাংক থেকে বড় ঋণ করে, টাকা ছাপিয়ে আমরা এসব করব না।

মঙ্গলবার (১৩ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন ভবনে ক্রয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের তেলের একটু ঘাটতি আছে। আমরা রাইস ব্রান অয়েল আনার বিষয় কথা বলেছি। বেশিরভাগ প্রস্তাব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। আমাদের নদীর পাড়গুলো ভেঙে গেছে, সেখানে আমরা প্রজেক্ট এপ্রুভ করলাম। নদীগুলো যদি আমরা সংরক্ষণ না করি তাহলে বর্ষা মৌসুমে দেখা যাবে পাড় ভাঙতে থাকবে। এ জন্য ৬টি প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। আর বাকিগুলো খাদ্য গুদাম নিয়ে। এছাড়া এলএনজি আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে এনবিআরের অর্ডিন্যান্স করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা এ ব্যাপারে কিছুই বলতে চাই না। তারা যা বলার বলবে। আপনারা বিষয়টা ভালো করে পড়বেন। দেখবেন তাদের স্বার্থ সংরক্ষিত আছে। সুতরাং তাদের দুশ্চিন্তা করার কিছুই নেই। এনবিআর যেভাবে আছে তাদের টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী একটা ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিস। পলিসি ডিভিশন আর ইমপ্লিমেন্টেশন ডিভিশন এক থাকে না। সব দেশেই আলাদা থাকে। পলিসি ডিভিশনটা একটু প্রফেশনাল লোক দিয়ে কাজ করতে হয়। অর্থনৈতিক পরিসংখান এবং জিডিপি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়। আর এনবিআর করবে এটা ইমপ্লিমেন্ট।

‘এনবিআর যদি এটা পলিসিও করে (যাদের কাজ হলো কালেক্ট করা) তাদের একটা ইন্টারেস্ট থাকে। আমি একটা পলিসি করলাম আবার আমি আদায়ও করলাম। আমি বলবো অধ্যাদেশ অন্তত চিন্তা করেই করা হয়েছে। ওদের সঙ্গে যে আলাপ করা হয়নি তা না। এনবিআর-এর হাজার হাজার লোকের সঙ্গে তো আলোচনা করা যায় না। যারা মেম্বার বা সদস্য অবশ্যই তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আবার প্রশাসনের লোকের কিছু মন্তব্য আছে। তাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।’

রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অলরেডি গতবারের তুলনায় রাজস্ব আদায় ২ শতাংশ বেশি হয়েছে। এটা হতাশাব্যাঞ্জক না। ফলে আমি আশা করছি অন্তত গতবারের চেয়ে কম হবে না। আমরা মোটামুটিভাবে বাজেটটাকে বাস্তবায়ন করবো৷ বিরাট একটা গ্যাপ নিয়ে বাজেট করব না। বড় বড় মেগা প্রজেক্ট নিয়ে ধার করে ডেফিসিট দিয়ে এগুলো করব না। ব্যাংক থেকে বড় ঋণ করে, টাকা ছাপিয়ে আমরা এসব করব না। কিছুটা তো ডেফিসিট থাকবে। সেটা আমরা আইএমএফ ও ওয়ার্ড ব্যাংকের সঙ্গে বসে প্রজেক্টের ব্যাপারে নেগোশিয়েট করবো।

গতবারের চেয়ে বাজেট ছোট হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা সময় হলেই জানতে পারবেন।




এস আলম গ্রুপের ৩১ একর সম্পদ নিলামে তুলেছে ইসলামী ব্যাংক 

এবার এস আলম গ্রুপের বেনামি প্রতিষ্ঠানের ১৭৮৩ কোটি টাকা ঋণ আদায়ে ৩১ একর সম্পদ নিলামে তুলেছে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। খেলাপি প্রতিষ্ঠানটির নাম কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড।

চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা বিসিক শিল্প এলাকার প্লট-সি ২৬/২৭ সরকারি শিল্প প্লটের ঠিকানায় ওই ঋণ দেয় ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

সোমবার (১২ মে) স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ নিলাম ডাকে ব্যাংকটির জুবিলী রোড শাখা।

চট্টগ্রামের স্থানীয় এক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি জুবিলী রোড শাখার বিনিয়োগ গ্রাহক কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের কেলিশহর কাশেম চৌধুরী বাড়ির নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও নুর নাহার দম্পতির ছেলে মো. রহিম উদ্দিন চৌধুরী এবং চেয়ারম্যান নগরীর বাকলিয়া থানাধীন পশ্চিম বাকলিয়া খালপাড় মক্কা আবাসিক এলাকার ইসলামীয়া ম্যানসনের মুনীর আহমেদ ও হালিমা বেগম দম্পতির ছেলে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লভ্যাংশসহ ব্যাংকের খেলাপি বিনিয়োগ বাবদ ১ হাজার ৭৮৩ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৩১ টাকা এবং আদায়কাল পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য খরচ আদায়ের নিমিত্তে অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩ এর ১২ (৩) ধারা মোতাবেক বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে বিক্রির জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ৪৩টি আলাদা তপসিলে ৩০ একর ৬০ শতক জমিসহ কারখানা রয়েছে। এ জমির মধ্যে নালা, পুকুর, খাস প্রকৃতির জমিও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকটির জুবিলী রোড শাখার কর্মকর্তারা খেলাপি ঋণটি এস আলমের গ্রুপের বলে জানিয়েছে। ওই ঋণ অনুমোদনের সময় ফাইলে স্বাক্ষর দিতে অনীহা প্রকাশের কারণে দুই কর্মকর্তাকে বদলি ও চাকুরিচ্যুত হতে হয়েছে বলেও জানান তারা।

এর আগে, ৮২ কোটি টাকা আদায়ে আদায়ে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এস আলম স্টিলস, এস আলম ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, ২৭ এপ্রিল ২১৮০ কোটি টাকা আদায়ে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন স্টিল মিল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভোজ্যতেল কারখানাসহ ১১৪৯ শতাংশ জমি এবং এর আগে ২০ এপ্রিল ৯৯৪৮ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে এস আলম গ্রুপের চিনিকলসহ প্রায় ১১ একর সম্পত্তিসহ আরও বেশ কয়েকটি নিলাম ডাকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।




৭ দিনে ৯ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

দেশ থেকে অর্থপাচার কমেছে। কমেছে হুন্ডির দৌরাত্মও। আর এসব কারণে বৈধপথে বাড়ছে রেমিট্যান্স। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেড়ে গেছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের গতিপ্রবাহ। দেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স আসায় একের পর এক রেকর্ড হতে থাকে। সর্বোচ্চ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যথাক্রমে মার্চ ও এপ্রিলে।

রেমিট্যান্স আসার সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। চলমি মাস মে’র প্রথম সাত দিনেই ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি (৮ হাজার ৯৬৭ কোটি) টাকা। আর প্রতিদিন আসছে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১২৮১ কোটি টাকা। এভাবে রেমিট্যান্স এলে চলতি মাসে আবারও রেকর্ড হতে যাচ্ছে অর্থাৎ তিন বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মে মাসের প্রথম সাত দিনে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা তার আগের বছরের একই সময়ে (মে, ২০২৪) সাড়ে ১৩ কোটি ডলার বেশি। ২০২৪ সালের মে মাসের প্রথম সাত দিনে এসেছিল ৬০ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে মে মাসের সাতদিন পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৫২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসের সাতদিন পর্যন্ত এসেছিল এক হাজার ৯৭২ কোটি ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি এসেছে। অর্থবছরের হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স আসার প্রবৃদ্ধি ২৮.২ শতাংশ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে এসেছে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে এসেছে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার এবং সবশেষ এপ্রিলে আসে ২৭৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।

 




স্যানিটেশন-সুপেয় পানির জন্য ৩৪০০ কোটি দেবে বিশ্বব্যাংক

চট্টগ্রামে উন্নত স্যানিটেশন ও সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থার জন্য ৩ হাজার ৪০০ কোটি দেবে বিশ্বব্যাংক। চট্টগ্রাম ওয়াটার সাপ্লাই ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে ২৮ কোটি ডলার দেবে সংস্থাটি। প্রতি ডলার সমান ১২১ দশমিক ৪৩ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

শনিবার (১০ মে) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ঋণচুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রধান গেইল এইচ মার্টিন চুক্তিতে সই করেন।

প্রকল্পটি ৩১ ডিসেম্বর ২০৩০ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং জলবায়ু সহনশীল পানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার পরিচালন দক্ষতা উন্নয়ন এবং আর্থিক ক্ষমতা টেকসইকরণ করা হবে।

ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৬ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১২ বছর। এ ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর কোনো সার্ভিস চার্জ বা সুদ দিতে হবে না। তবে বিশ্বব্যাংকের স্কেল আপ উইন্ড থেকে ১৪ কোটি ডলারে ফ্রন্ট ইন্ড ফি বাবদ শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ দিতে হবে। এ ঋণ পরিশোধের মেয়াদকাল ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৫ বছর।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের জন্য ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যা বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা দৃঢ় করেছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাংক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে ৪৭টি চলমান প্রকল্পের জন্য ১৩ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে।




বিকেএমইএ নির্বাচন: হাতেমের নেতৃত্বাধীন পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী

বিকেএমইএ (বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন) পরিচালনা পর্ষদের ২০২৫-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বাধীন প্রগ্রেসিভ নিট অ্যালায়েন্সের পূর্ণাঙ্গ বিজয়ী হয়েছে। জোটটি ৩৫টি পদের প্রতিটিতেই বিজয়ী হয়েছে।

শনিবার (১০ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া বিকেএমইএ ভবনের ষষ্ঠ তলায় এবং ঢাকার বাংলামোটরে অবস্থিত বিকেএমইএ ঢাকা কার্যালয়ে। ভোটগ্রহণ শেষে দুই কেন্দ্রেই শুরু হয় ভোট গণনা।

মোট ভোটার ছিল ৫৭২ জন, এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৪৩১ জন; যা ভোটারদের ৭৫.৩৫ শতাংশ।

ঢাকা কেন্দ্রে ভোট পড়ে ২৩১টি, যার মধ্যে ১২টি ভোট বাতিল হয়। নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রে ভোট পড়ে ২০০টি, বাতিল হয় ১১টি ভোট। সবমিলিয়ে ৪০৮টি বৈধ ভোট গণনা করা হয়।

নির্বাচন পরিচালনায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান সফিউল্লা চৌধুরী, সদস্য ওবায়দুর রহমান এবং নির্বাচন আপিল বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ আইয়ুব। অন্যদিকে ঢাকা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন বোর্ড সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান সিদ্দিকী এবং আপিল বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন। নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন মোট ৩৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ৩৫ জনকে প্রাথমিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন : মোহাম্মদ হাতেম, বেলায়েত হোসেন রিপন, ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ, আশিকুর রহমান, এম ইসফাক আহসান, আহমেদ নূর ফয়সাল, আহসান খান চৌধুরী, মো. আব্দুল হান্নান, মহসিন রাব্বানি, শাহরিয়ার সাইদ, ইমরান কাদের তূর্য, মোহাম্মদ শামসুল আজম, গাওহার সিরাজ জামিল, আব্দুল বারেক, মো. জামাল উদ্দিন মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান, মো. সামসুজ্জামান, মোহাম্মদ রাশেদ, ফজলে শামীম এহসান, মনসুর আহমেদ, মামুনুর রশিদ, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মো. ইয়াসিন, রাজীব চৌধুরী, ফওজুল ইমরান খান, মোহাম্মদ জাকারিয়া ওয়াহিদ, মো. মোরশেদ সারোয়ার, মোহাম্মদ সেলিম, মিনহাজুল হক, অমল পোদ্দার, রাকিব সোবহান মিয়া, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, নন্দ দুলার সাহা, রতন কুমার সাহা।

বিকেএমইএ নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান সফিউল্লা চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ এক যুগ পর দেশের নিট গার্মেন্টস মালিকদের জাতীয় সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হ‌লো। এর আগে ২০১২ সালে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে এমন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের আয়োজন হয়ে‌ছিল।