মুন্না-নয়নের নেতৃত্বে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হয়েছেন আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্ণাঙ্গ এই কমিটিতে মোট ১৫১ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এর আগে ২০২৪ সালে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার সেই আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছেন-
১. সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না
২. সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল কবীর পল
৩. সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া
৪. সহসভাপতি কামাল আনোয়ার আহাম্মদ
৫. সহসভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ
৬. সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দুলাল
৭. সহসভাপতি শাহ আলম চৌধুরী
৮. সহসভাপতি সাইদুর রহমান
৯. সহসভাপতি সাব্বির আহমেদ দিপু
১০. সহসভাপতি আবদুল জব্বার খান
১১. সহসভাপতি খন্দকার এনামুল হক এনাম
১২. সহসভাপতি শরীফ উদ্দীন জুয়েল
১৩. সহসভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ
১৪. সহসভাপতি রফিক আহমেদ ডলার
১৫. সহসভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু
১৬. সহসভাপতি মোহাম্মদ ফিরোজ আবদুল্লাহ
১৭. সহসভাপতি মাহমুদুস সালেহীন
১৮. সহসভাপতি আতিকুর রহমান আতিক
১৯. সহসভাপতি জাকির হোসেন উজ্জল
২০. সহসভাপতি এইচএম তসলিম উদ্দিন
২১. সহসভাপতি নাজমুল আলম নাজু
২২. সহসভাপতি মো. আনোয়ারুল হক
২৩. সহসভাপতি আবু সাঈদ আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র)
২৪. সহসভাপতি রহিম উদ্দিন (যুক্তরাজ্য)
২৫. সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মুন্না
২৬. সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম টিটু
২৭. সহসভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
২৮. সহসভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন
২৯. সহসভাপতি আজিজুর রহমান আকন্দ
৩০. সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে)
৩১. সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন
৩২. ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক
৩৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
৩৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সোহাগ
৩৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু আতিক আল হাসান মিন্টু
৩৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নাসির উদ্দিন রুমন
৩৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন ভূইয়া
৩৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন রুবেল
৩৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মিলন
৪০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট
৪১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার রহমান কবির
৪২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন
৪৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ
৪৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিঞা মোহাম্মদ রাসেল
৪৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম সরকার
৪৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক
৪৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা
৪৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খান দীপক
৪৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন
৫০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান
৫১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা সুমন
৫২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক উজ জামান তারেক
৫৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়াইব খন্দকার
৫৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর রহমান বাবু
৫৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ
৫৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল ওয়াহাব
৫৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ হিরো (সৌদি আরব)
৫৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম তমাল আহমেদ
৫৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম
৬০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া (দপ্তরের দায়িত্বে)
৬১. সহ সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন লিমন
৬২. সহ সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান পারভেজ
৬৩. সহ সাধারণ সম্পাদক এন এম আব্দুল্লাহ উজ্জল
৬৪. সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ
৬৫. সহ সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মামুন
৬৬. সহ সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন ভূইয়া
৬৭. সহ সাধারণ সম্পাদক রাহাদুল আলম খান
৬৮. সহ সাধারণ সম্পাদক রুহুল ইসলাম মনি
৬৯. সহ সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান
৭০. সহ সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক পাভেল
৭১. সহ সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাইনউদ্দিন খোকন
৭২. সহ সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন চয়ন
৭৩. সহ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ
৭৪. সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক আরিফ
৭৫. সহ সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ: কামরুল হাসান খান সাইফুল
৭৬. সহ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান
৭৭. সহ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির সেলিম
৭৮. সহ সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান ভূইয়া সবুজ
৭৯. সহ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মেহেদী হাসান জুয়েল
৮০. সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদুল হক
৮১. সহ সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন মুন্না
৮২. সহ সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম রানা
৮৩. সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী
৮৪. সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জুয়েল
৮৫. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ গাফফার
৮৬. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ফারুকী হীরা
৮৭. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন
৮৮. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব
৮৯. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আলম
৯০. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার শাওন
৯১. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান শামীম
৯২. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি
৯৩. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান সোহেল
৯৪. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম
৯৫. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রিয়াজ
৯৬. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাশেদুল ইসলাম রিপন
৯৭. প্রচার সম্পাদক আল মেহেদী তালুকদার
৯৮. সহ প্রচার সম্পাদক তারেকুর রহমান
৯৯. সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আশরাফ জালাল খান মনন
১০০. সহ সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল
১০১. তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন
১০২. কোষাধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন
১০৩. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মুর্তজা কামাল মোস্তাক
১০৪. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. ইউনুস আলী রবি
১০৫. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ
১০৬. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. তানভীর হাসান সোহেল
১০৭. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. গাজী মো. মাসকুরুল আলম সৌরভ
১০৮. কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ সানোয়ার আলম
১০৯. সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির লিঙ্কন
১১০. শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পার্থ দেব মন্ডল
১১১. শিল্প বিষয়ক সম্পাদক কারীমুল হাই নাঈম
১১২. যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক সাজিদ হাসান বাবু
১১৩. ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি
১১৪. সহ ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. মেজবাহউদ্দিন মেজু
১১৫. পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম রুমন
১১৬. গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মহিন উদ্দিন রাজু
১১৭. সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান রয়েল
১১৮. বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পী
১১৯. সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম
১২০. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান
১২১. ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান নান্নু
১২২. ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ
১২৩. সহ ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মজুমদার
১২৪. সহ-গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার মাহবুবুর রহমান মাহী
১২৫. সহ জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন
১২৬. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কেএস এম মুসাব্বির শাফী
১২৭. তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইমরান আহমেদ প্রিন্স
১২৮. মৎস্য ও পশুপালন বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান রনি
১২৯. স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. গালিব হাসান
১৩০. স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম
১৩১. সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন
১৩২. সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আল মামুন হাসান খান এমিল
১৩৩. সহ কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান
১৩৪. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খায়রুজ্জামান লিঙ্কন (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা)
১৩৫. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ আর মামুন খান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা)
১৩৬. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা)
১৩৭. মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মাহবুবুল আলম আকতার
১৩৮. প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান
১৩৯. পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক হেদায়েত হোসেন ভূইয়া
১৪০. সহ পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক রাশেদ আল আমিন শুভ
১৪১. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) আমিনুল ইসলাম খান
১৪২. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মাহবুব শিকদার
১৪৩. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মহসীন বিশ্বাস
১৪৪. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) জহিরুল ইসলাম বিপ্লব
১৪৫. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু
১৪৬. সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি শাহেদ
১৪৭. সদস্য নাজিম উদ্দিন মিঠু
১৪৮. সদস্য মাহমুদুল করিম সজল
১৪৯. সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ শাহীন
১৫০. সদস্য মো. এমরান হোসেন শাহীন
১৫১. সদস্য ফখরুল বিন খালেক




পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

 

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

 

সোমবার (১ জুন) সকালে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন এ তথ্য নিাশ্চত করেছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।

প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন দীপেন দেওয়ান। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।




সিংড়ায় শ্রমিক না পাওয়ায় বিধবার ধান কেটে দিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

নাটোরের সিংড়ার শেরকোল ইউনিয়নের সিধাখালী গ্রামের সহায় আয়েশা বেওয়া (৬৫) নামের এক বিধবা নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন শেরকোল ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

রবিবার (১৭ মে) সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রায় ৩০ জনের একটি দল ওই বিধবার ধান কেটে ঘরে তুলে দেন।
শ্রমিক না পেয়ে সিধাখালী গ্রামের মৃত রওশন আলীর বিধবা স্ত্রী আয়েশা বেওয়া (৬৫) তার ২ বিঘা জমির ধান কাটতে পারছিলেন না। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন ওই জমির ধান কেটে দেন।
বিধবা আয়েশা বেওয়া জানান, খুব কষ্টে ২ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। ধান কাটার কামলা পাচ্ছিলাম না। স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা আমার ধান কেটে বাড়িতে পৌছে দিছে। আমি খুশি হয়েছি।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, নাটোর-৩ সিংড়া আসনের এমপি অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু মহোদয় গতকাল রাতে আমাকে বিষয়টা জানালে আমি নেতাকর্মীদের নিয়ে ধান কাটার উদ্যোগ নেই। এমপির নির্দেশনায় আমরা অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতে এ ধরনে কাজ অব্যহত থাকবে।




জামায়াত ছাড়তে ধর্মভিত্তিক ৪ দলকে হেফাজতের চাপ

জামায়াতে ইসলামীর জোট ছাড়তে নির্বাচনের পরও ধর্মভিত্তিক চারটি দলকে চাপ দিচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। এ দলগুলোর শীর্ষ নেতারা হেফাজতের পদেও রয়েছেন। তাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, জামায়াত জোট বা হেফাজত– যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে। তবে তারা জোট ও হেফাজত দুই জায়াগায় থাকতে চান। উদাহরণ দিচ্ছেন, বিএনপির সঙ্গে থাকা কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোর নেতারা দুই জায়গায় থাকতে পারলে, তারা কেন পারবেন না?

দলগুলোর এবং হেফাজত নেতারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর মতবাদকে ভ্রান্ত আখ্যা দেন কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব সাজিদুর রহমান। জামায়াতকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে ভোট না দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। হেফাজত আমির ফতোয়া দিয়েছিলেন, জামায়াত জোটকে ভোট দেওয়া হারাম।

যদিও হেফাজত ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন এবং নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক। বাংলাদেশ খেলাফতের আমির মামুনুল হক হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব। দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই হেফাজতের বিভিন্ন পদে রয়েছেন।

খেলাফতের অপরাংশের আমির আবদুল বাছিত আজাদ এবং মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল– দুজনেই হেফাজতের নায়েবে আমির। নেজামে ইসলামের মহাসচিব মুসা বিন ইজহার হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব। খেলাফত আন্দোলনের আমিরে শরিয়ত হাবিবুল্লাহ মিয়াজী হেফাজতের নায়েবে আমির।

হেফাজত-সংশ্লিষ্ট জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের দুই অংশ বিএনপির সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ইসলামী ঐক্যজোট নির্বাচনী সমঝোতা না করলেও, বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছে। এই তিনটি দলের নেতাদের বিএনপি ছাড়তে চাপ দিচ্ছে না হেফাজত।

জামায়াত জোটে থাকা হেফাজত-সংশ্লিষ্ট চারটি দলগুলোর একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করে সমকালকে বলেছেন, হেফাজত ও জোট দুই জায়গাতেই থাকবেন তারা। দীর্ঘদিনের সম্পর্কসহ নানা কারণে হেফাজত সংগঠন হিসেবে বিএনপির দিকে বেশি ঝুঁকে গেছে। হেফাজত ছাড়বেন না, তবে এই অবস্থার পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবেন।

এই চারটি দল ছাড়াও জামায়াত, এনসিপিসহ ১১টি দল মিলে নির্বাচনী ঐক্য গঠন করেছিল। নির্বাচনের পর দলগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে সম্মিলিতভাবে বিরোধী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে সংসদে। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদের বাইরে জোটবদ্ধ থাকবে। এই দাবিতে গত শনিবারও রাজশাহীতে সমাবেশ করেছে ১১ দল। আগামী জুলাই পর্যন্ত জোটের কর্মসূচি চলবে।

নির্বাচনের পরও চাপ

জামায়াতের জোটে ছিল চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনও। দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জামায়াতের কড়া সমালোচক ছিল। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দল দুটি প্রকাশ্য সম্পর্কে আসে। সংস্কারের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করে। তবে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন জোট ভাঙে জামায়াত ও চরমোনাই পীরের।

এরপর থেকে আবারও জামায়াতের সমালোচনায় মুখর হয়েছে ইসলামী আন্দোলন। এই দলটি হেফাজতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হলেও, একই ভাষায় সমালোচনা করছে। নির্বাচনের আগে হেফাজতের শীর্ষ ‘মুরব্বিরা’ জামায়াতের বিরুদ্ধে যেমন প্রচার করেছেন, ভোটের পর কওমিভিত্তিক চার দলকে চাপ দিচ্ছেন জামায়াত ছাড়তে।

চারটি দলের সঙ্গে আলোচনা করতে গত ২৮ এপ্রিল কমিটি গঠন করে দেন হেফাজত আমির। এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী নেতৃত্বাধীন এই কমিটি। কমিটি বৈঠকও করে দলগুলোর সঙ্গে। এতে গুঞ্জন ছড়ায় জামায়াত জোট না ছাড়া দলগুলোর নেতাদের হেফাজত থেকে বহিষ্কার করা হবে।

এসব আলোচনার মধ্যেই রোববার মামুনুল হক চট্টগ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা করেছেন হেফাজত আমিরের সঙ্গে। বৈঠকের পর মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী দাবি করেন, হেফাজতের মধ্যে বিভেদ নেই।

মামুনুল হক বলেন, হেফাজতের আমির যে বিশ্বাস ও আকিদার কথা বলেন তা বাংলাদেশ খেলাফতসহ সংগঠনের যুক্ত সব দল তা ধারণ করে। বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মত ও পথের দল নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য গঠিত হয়।  জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আকিদা, বিশ্বাস ও আদর্শিক পার্থক্য আগের মতোই রয়েছে। ১১ দল আদর্শিক নয়, রাজনৈতিক ঐক্য।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন সমকালকে বলেন, হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে রয়েছে, থাকবে। সংগঠনে যুক্ত নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে রয়েছেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তারা রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী নিয়ে থাকেন। এই বক্তব্যই হেফাজত আমিরকে জানানো হয়েছে। তিনি সবার মুরব্বি হিসেবে নিশ্চয় বিষয়টি বুঝেছেন। জোট না ছাড়লে হেফাজত থেকে বহিষ্কারের গুঞ্জন সঠিক নয়।

যদিও এবারের ৫ মে হেফাজত এককভাবে কর্মসূচি করতে পারেনি। ঢাকায় ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারা লালবাগে কর্মসূচি করেন। মাওলানা মামুনুল হক হেফাজতের পরিবর্তে ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’-এর ব্যানারে কর্মসূচি করেন। এতে জামায়াত জোটে থাকা হেফাজত নেতারা আসেন।

বৈঠকে যায়নি বাকি তিন দল 

খেলাফত মজলিসের অপরাংশ, নেজামে ইসলাম এবং খেলাফত আন্দোলনকেও ডাকা হয়েছিল রোববারের বৈঠকে। তবে তাদের সবার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন মামুনুল হক। এই দলগুলোর একাধিক নেতা সমকালকে বলেন, হেফাজত যে জামায়াতকে ছাড়তে চাপ দিচ্ছে তাতে তারা নীতিগতভাবে একমত নন। তারা হেফাজত আমিরের কমিটিকে জানিয়েছেন, একসময় জামায়াতের সঙ্গেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে ছিলেন তারা। তখন যদি প্রশ্ন তোলা না হয়, তবে এখন কেন আপত্তি করা হচ্ছে?

নির্বাচনের আগে হেফাজতের শীর্ষ নেতারা দুই দফা গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করেন। বিএনপিকে নির্বাচনে সমর্থন করেছেন। হেফাজতের পদে থাকা জমিয়ত নেতাদের মধ্যে উবায়দুল্লাহ ফারুক, জুনায়েদ আল হাবিব, মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, মনির হোসেইন কাসেমী নির্বাচন করেন বিএনপির সমর্থনে। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন জমিয়তের অপরাংশের নেতা রশিদ ওয়াক্কাস। এই উদাহরণ দিয়ে জামায়াত জোটে থাকা হেফাজত নেতারা বলেছেন, জমিয়ত যদি বিএনপির জোটে থেকে হেফাজতে থাকতে পারে, তাহলে তারা কেনো পারবেন না?

জামায়াত জোটে থাকা খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ডা. আহমদ আবদুল কাদের সমকালকে বলেন, হেফাজত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনের নেতারা রাজনৈতিকভাবে কে কোন দলে জোটে থাকবে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোন দল কার সঙ্গে জোট করবে, তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। যা সব দল ও নেতার জন্যই প্রযোজ্য।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলের সমন্বয়কারী হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কোনো দলই জোট ছাড়ছে না। বরং জোট দৃঢ় হচ্ছে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংস্কারের জন্য।




বন্ধ কল-কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর নয়াপল্টনে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত সময়ের শাসকগোষ্ঠী শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শ্রমিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং অর্থনীতিকে লুটপাটের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

শ্রমিক কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ড চালুর বিষয়েও কাজ চলছে।

গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে, কিন্তু তারা সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পানি পায় না। এ সমস্যা সমাধানে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু হকার উচ্ছেদ করলেই চলবে না, তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




বাংলাদেশকে এডিবির ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে নতুন উদ্যোগ

দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ সহায়তা সরকারের চলমান সংস্কার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এডিবির ‘সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর সাবপ্রোগ্রাম-২-এর আওতায় এ অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা, আওতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য ও ঝুঁকিপূর্ণতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল রূপে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা বাড়ানো এবং অবদানভিত্তিক স্কিম চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।

কর্মসূচির আওতায় নতুন অবদানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা স্কিম চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারি রাজস্বের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার অতিরিক্ত নারীকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।

এছাড়া জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগ ক্ষুদ্র পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নারীর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।




ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে বাড়ল ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে বেড়েছে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা। নতুন নির্ধারিত দাম ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা। যার পূর্বনির্ধারিত মূল্য ৭০ টাকা ১০ পয়সা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বিকালে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন দাম আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হচ্ছে।

এর আগে ফার্নেস অয়েলের দাম বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নির্ধারণ করত। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেয়ার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথমবারের মতো সংস্থাটি ফার্নেস অয়েলের দাম ঘোষণা করে। আজ দ্বিতীয়বারের মতো দাম সমন্বয় করা হলো।

সরকারের নির্বাহী আদেশে ফার্নেস তেলের দাম সবশেষ নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ২ আগস্ট। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির কাছে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করে বিপিসি। এরপর চারটি জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিও প্রস্তাব পাঠায় বিইআরসিতে। এক বছর পর গত ২৯ জানুয়ারি এ প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।

বিপিসির অধীন থাকা জ্বালানি তেল বিপণন করা সরকারি চার কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল নতুন দামে ফার্নেস তেল বিক্রি করবে। এ তেলের প্রধান ক্রেতা সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।




মার্চে ৬১৬ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬১৯, আহত ১৫৪৮

মার্চ মাসে দেশজুড়ে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৬১৯ জন নিহত এবং ১৫৪৮ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে।

এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ নছিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২ দশমিক ৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২১ দশমিক ৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০ দশমিক ৩২ শতাংশ চলন্ত যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০ দশমিক ৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ০৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে। এছাড়া মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০ দশমিক ৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে— দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং ও সড়কবাতির অভাব এবং রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসা; সড়কে মিডিয়ানে ডিভাইডার না থাকা ও অন্ধ বাঁকে গাছপালার কারণে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা; মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন অমান্য; উল্টো পথে চলাচল, চাঁদাবাজি এবং পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন; বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ও দীর্ঘসময় ধরে চালানো এবং ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনটি সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে। এছাড়া মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ এবং যানবাহনের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। আরও সুপারিশের মধ্যে রয়েছে— বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের ৬০ ঘণ্টার ইনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা; পরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ; গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন চালু; সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ ও চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্ধারণ; মহাসড়কে ফুটপাত, পথচারী পারাপার, রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন; আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি; মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট চালু; সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠন।

একই সঙ্গে সংগঠনটি বলেছে, ঈদযাত্রায় বিপুলসংখ্যক মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানো জরুরি।




দুই প্রতিষ্ঠানের বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন

সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সাজিদা ফাউন্ডেশনের মোট ১ হাজার ৪৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সিকিউরড জিরো কুপন বন্ড এবং সাজিদা ফাউন্ডেশন দেশের প্রথম ‘অরেঞ্জ বন্ড’ হিসেবে ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার বন্ড ইস্যু করার অনুমতি পেয়েছে। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় পরিশোধ এবং নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিসহ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে ১০০৬তম জরুরি কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে এই সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়েছে।

বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানন হয়েছে, কমিশন অদ্যকার সভায় সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের ০৩ বছর মেয়াদী শতভাগ সিকিউরড মর্টগেজ ব্যাকড নন কনভার্টিবল ফুললি রিডিমেবল জিরো কুপন বন্ডের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার ডিসকাউন্ট রেট প্রায় ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি, স্থানীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানির কাছে ইস্যু করা হবে। এই বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১৩ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, বন্ড ইস্যুর অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান দায় পরিশোধে ব্যবহৃত হবে। উক্ত বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। এছাড়া বন্ডটি অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।

একই সভায় কমিশন বাংলাদেশের প্রথম অরেঞ্জ বন্ড হিসেবে সাজিদা ফাউন্ডেশনের ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ থেকে ৩ বছর মেয়াদী নন কনভার্টিবল ফুললি রিডিমেবল আনসিকিউরড অরেঞ্জ জিরো কুপন বন্ডের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার ডিসকাউন্ট রেট ৭ দশমিক ০ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বন্ড প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকা।

উল্লেখ্য, বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ সাজিদা ফাউন্ডেশন তাদের মাইক্রোফাইন্যান্স পোর্টফোলিও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণে ব্যবহার করবে। অরেঞ্জ বন্ডের অর্থ বিশেষভাবে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং নারী ক্ষমতায়নে ব্যবহৃত হবে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ সেকেন্ড পার্টি মতামত প্রদান করেছে। উক্ত বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। বন্ডটি অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে।

 




জ্বালানি আমদানির অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলাপ চলছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে সংস্থাটির স্প্রিং মিটিং, যেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে।”

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “আইএমএফ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে এক দশমিক তিন বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার বিষয়ে এপ্রিলে বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। ধারণা করছি, জুলাইয়ে ঋণের কিস্তি পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “চলমান প্রোগ্রাম পুনর্মূল্যায়ন হবে। তবে, সব শর্ত একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়। প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অনুযায়ী শর্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে সরকার একা এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। দেশবাসীকে সংযমী ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। দেশের পরিবহন ও গার্মেন্টস খাতে কোনও সমস্যা হয়নি। তেলের অভাবে কোনও পরিবহন বন্ধ হয়নি।”

বৈঠকের পর কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, “ঋণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করছে।”

 




সেবাখাতে জাপানের ভালো বিনিয়োগ প্রত্যাশা বাংলাদেশের

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) আওতায় জাপানকে ৯৮টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে বাংলাদেশ। বিপরীতে বাংলাদেশকে ১২০টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে জাপান। এতে বাংলাদেশের সেবাখাতে জাপানের ভালো বিনিয়োগ আসবে বলে প্রত্যাশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে জাপানের সঙ্গে সই হওয়া ইপিএ চুক্তি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। এসময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব বলেন, জাপান আমাদের জন্য ১২০টি সেবাখাত উন্মুক্ত করেছে। আমরা ৯৮টি সেবাখাত উন্মুক্ত করতে পেরেছি। আগে যেখানে শুধু পাঁচ তারকা হোটেল ও মোবাইল ফোনের দুটি খাত উন্মুক্ত ছিল। আশা করছি জাপানের ভালো বিনিয়োগ পাবো আমরা।

তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে এটি বাংলাদেশের প্রথম অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি। এ চুক্তির মাধ্যমে ১ হাজার ৩৯টি পণ্য চুক্তি সইয়ের প্রথমদিন থেকেই উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। জাপান আমাদের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। আমরা আরও কিছু পণ্যে তাদের প্রবেশাধিকার দেবো। এই প্রবেশাধিকারেগুলো ধাপে ধাপে ৫ থেকে ১৫ বছরে হবে। এটি হচ্ছে ট্রেডিং অংশ।

মাহবুবুর রহমান বলেন, চুক্তির একটি বিশেষ দিক আছে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে। গার্মেন্টেসের ক্ষেত্রে আমরা এখনো শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই। এ চুক্তির পরও আমরা এক ধাপ মূল্য সংযোজন করে রপ্তানি করতে পারবো, যেটা আগেও পেয়েছি। কাপড় আমদানি করে পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করা যাবে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, উন্নত কোনো দেশের সঙ্গে প্রথম কোনো ইপিএ এবং এটি সুবিধাজনক একটি চুক্তি হয়েছে। অনেকগুলো বিষয়ে আমরা সহজ শর্তে সুবিধা নিতে পেরেছি। এতে দুদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে এবং জাপানের বিনিয়োগ বাড়বে।

তিনি জানান, জাপানের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনেই এটি ওঠার কথা এবং সেখানে অনুমোদিত হলেই এটি কার্যকর হয়ে যাবে। আমাদের দিক থেকে তাড়াহুড়ো নেই এই কারণে যে, আমরা এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে এখনই এ সুবিধা পাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হতে হয়। এ উদ্দেশে ২০২৬ সালের নভেম্বরে (এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর) মার্কেট প্রবেশাধিকারে যে ব্যত্যয়গুলো তৈরি হতে পারে সেগুলোকে আমলে নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সবাই মিলে একটি চুক্তি করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, (চুক্তিতে) বাণিজ্য সচিব এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেগোসিয়েশনে বড় একটি টিম কাজ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক একসঙ্গে কাজ করেছেন। আমরা ২১টি উপখাত নিয়ে আলোচনা করেছি।

উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্যকে উদার করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা যদি সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, তাহলে সেটা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এই উদার বাণিজ্য থেকে দেশের ভোক্তারা সুবিধাভোগী হবেন।

তিনি বলেন, জাপান পৃথিবীর পাঁচটি বড় অর্থনীতির একটি এবং আমরা পৃথিবীর এত বড় একটি অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি। ভারত এটি নিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর চেষ্টা করে একটা পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট করতে পেরেছে। সেটা আমরা এক বছরের মধ্যে করেছি। এ চুক্তির ফলে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এতে আমাদের একটি অর্থনীতির উদারীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হলো।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, আজ (সোমবার) রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শুল্কচুক্তি সই হতে যাচ্ছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যদি ধর্মঘট অব্যাহত থাকে, তবে রমজানে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে আশা করছি, নির্বাচিত সরকার বন্দর সচল রাখতে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।




‘এ’ ক্যাটাগরিতে খান ব্রাদার্স ও জিকিউ বলপেন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুইটি কোম্পানির ক্যাটাগরি উন্নতি হয়েছে। কোম্পানি দুইটি সমাপ্ত হিসাববছরের ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন করায় ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হয়েছে।

কোম্পানি দুইটি হলো- খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্টিজ লিমিটেড ও জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। এরইমধ্যে কোম্পানিটির ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে। ফলে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ কোম্পানি দুইটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছে।

তবে ক্যাটাগরি পরিবর্তনের কারণে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানি দুইটি দুটিকে ঋণ সুবিধা দিতে ব্রোকার হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংককে নিষেধ করেছে ডিএসই ও সিএসই।




জাপানি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ড. ইউনূসের

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণ এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানের জন্য অধিকসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের সাবেক ফার্স্ট লেডি আকিয়ে আবে ও জাপানি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধান উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সাক্ষাৎকালে আকিয়ে আবে বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

বিনিয়োগ, গবেষণা ও জনশক্তি রপ্তানি
বৈঠকে উভয় পক্ষ বিনিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা এবং জাপানে কেয়ারগিভার (সেবাকারী) ও নার্স নিয়োগের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের জন্য এই খাতগুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

আকিয়ে আবে সামুদ্রিক দূষণ রোধে সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে যেন কোনোভাবেই আবর্জনা ফেলা না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আশা করি ভবিষ্যতে এ নিয়ে কার্যকর কিছু করতে পারবো।’

এছাড়া তিনি সমুদ্র দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।

টোকিও সফর ও মৎস্যগ্রাম স্থাপন
প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব শেষ করার পর তিনি আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে টোকিও সফরে যাবেন। সেখানে তিনি জাপানের মর্যাদাপূর্ণ সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা উদ্যোগে অংশ নেবেন।

তার আমন্ত্রণে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম উপকূলে নবগঠিত মহেশখালী-মাতারবাড়ী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করেছে। এই চুক্তির আওতায় উপকূলীয় এলাকায় তিনটি মডেল মৎস্যগ্রাম স্থাপন করা হবে।

জাপানে কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, জাপানে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকার এরই মধ্যে হাজার হাজার নার্স ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী জাপানে পাঠাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়াতে আকিয়ে আবে ও জাপানি প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে জাপানের শীর্ষস্থানীয় জৈবজ্বালানি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ইউগ্লেনার প্রতিষ্ঠাতা মিতসুরু ইজুমোও অংশ নেন। তিনি সামাজিক ব্যবসাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে বাংলাদেশে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন শেষে তিনি তার পূর্ববর্তী কাজে ফিরে যাবেন।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া কিংবা কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণের তার কোনো ইচ্ছা নেই। বরং তিনি মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং তার ‘থ্রি-জিরো বিশ্ব’ ধারণা- শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ এবং শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়নে কাজ করতে চান।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।




বাজুসের প্রধান উপদেষ্টা আনভীর, সভাপতি দোলন

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সংগঠনটির সদ্যবিদায়ী সভাপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর।

পাশাপাশি দ্বিতীয়বারের মতো বাজুসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডায়মন্ড অ্যান্ড ডিভাসের কর্ণধার এনামুল হক খান দোলন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাজুস কার্যালয়ে সংগঠনের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সভায় সবার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সায়েম সোবহান আনভীরকে প্রধান উপদেষ্টা ও সংগঠনের সব সাবেক সভাপতিকে উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন বাজুসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রনজিত ঘোষ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবাল হোসেন চৌধুরী জুয়েল, আজাদ আহমেদ ও অভি রায়।




দুই ব্যাক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা জরিমানা

মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসির শেয়ারদর কারসাজির দায়ে দুই ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ গত মাসে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।

 

বিএসইসির তথ্যানুসারে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদন্ত করে। তদন্তে দেখা যায়, ওই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি লেনদেনের শুরুতে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১২ টাকা ৪০ পয়সা, যা ২৩ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ টাকা ৬০ পয়সায়। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৫ টাকা ২০ পয়সা বা ১২২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, উল্লিখিত সময়ে কুয়েস্ট এশিয়া ওভারসিজ, প্রতিষ্ঠানটির মালিক আনিছুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাহার-ই-জান্নাত মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ার লেনদেনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন। তাদের অতিরিক্ত লেনদেনের কারণে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয় ও শেয়ারদর বাড়তে থাকে, যা সিকিউরিটিজ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েস্ট এশিয়া ওভারসিজকে ৩ কোটি ৭০ লাখ, আনিছুল ইসলামকে ৮০ লাখ এবং নাহার-ই-জান্নাতকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে কমিশন।

বিএসইসি জানিয়েছে, উল্লেখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেননেদ চিত্র বিশ্লেষণে তাদের কর্মকাণ্ড সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিনেন্স, ১৯৯৬ এর সেকশন ১৭ (ই) (ভি) অনুযায়ী সিকিউরিজি আইনের লঙ্ঘন এবং একই অর্ডিনেন্সের সেকশন ২২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই, কমিশন উল্লেখিত অর্ডিনেন্সের ক্ষমতাবলে তাদের অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।

আদেশে বলা হয়, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে কমিশনের অনুকূলে ইস্যুকৃত ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। অন্যথায় কমিশন সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী তাদের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।




শিল্পখাতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে

‘বাংলাদেশের শিল্পখাতে জ্বালানি সক্ষমতা নীতিমালা, টেকসই উন্নয়নের পথ-নির্দেশনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় আগত আলোচকরা

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) ডিসিসিআই মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের শিল্পখাতে জ্বালানি সক্ষমতা নীতিমালা, টেকসই উন্নয়নের পথ-নির্দেশনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমাদের জিডিপিতে শিল্পখাত ৩৫ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের মোট গ্যাসের ১৯ শতাংশের ব্যবহারকারী এই বিশাল খাতটি বর্তমানে এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হয়ে দাড়িঁয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩-২৪ সালে গ্যাসের দাম রেকর্ড ১৭৮ শতাংশ বাড়ানোর পর, সম্প্রতি শিল্পখাতে আরও ৩৩ শতাংশ বাড়ানোর ফলে টেক্সটাইল, স্টিল ও সারের মতো সেক্টরগুলোর উৎপাদন ৩০-৫০ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষ করে এসএমই খাতের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ অবস্থায় শিল্পখাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্বালানির নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা কেবল নীতিগত অগ্রাধিকারই নয়, বরং টেকসই শিল্পায়নের পূর্বশর্ত।

দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং টেকসই জ্বালানি কাঠামো গঠন ও অপচয় রোধের উপর জোরারোপ করেন তাসকীন আহমেদ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ২০৩০ সালের পর দেশীয় গ্যাসের মজুদ কমার বিষয়টি বলা হলেও অফশোর-অনশোরে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে তেমন উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি, তাই আমরা নিজস্ব উৎপাদিত গ্যাস ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের আমদানিনির্ভর গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতে সরকার ক্রামগত ভর্তুকি দিচ্ছে। কারণ, এর সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।

তিনি জানান, জ্বালানি খাতে বর্তমানে দক্ষতার হার ৩০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। এ দক্ষতা আরও বাড়নো সম্ভব হলে বিশেষ করে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে। এছাড়া, দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিলে এ অবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে বলে তিনি অভিমত জ্ঞাপন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে মাষ্টারপ্ল্যান থাকলেও সহায়ক নীতিমালার অনুপস্থিতির বিষয়টি শিল্পখাতকে বেশ ভোগাচ্ছে। তিনি জানান, শিল্পে জ্বালানি সক্ষমতার বিষয়ে যেম

তিনি জানান, ঢাকা চেম্বার ও সানেম যৌথভাবে পরিচালিত ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় তৈরি পোষাক, সিমেন্ট, স্টিল ও বাণিজ্যিক খাতের শিল্প উদ্যোক্তা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়েছে, যেখানে জ্বালানি দক্ষতা বিষয়ে সচেতনতা, জ্বালানি নিরীক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয়, অর্থায়ন ও প্রণোদনা, গ্রিড আধুনিকায়ন, বাস্তবায়ন ও যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। যেখানে অংশগ্রহণকারীরা এনার্জি অডিট, লজিস্টিক সেবা সম্প্রসারণ, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশ দেন। এছাড়া, কাঠামোগত স্ট্র্যাটেজি, সরবরাহগত স্ট্রাটেজি এবং পলিসি ও রেগুলেটরি স্ট্র্যাটেজি এখাতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি)-এর সদস্য ড. মো. রফিকুল ইসলাম, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যান ড. এম. রেজওয়ান খান, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ডিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক মনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)-এর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স আসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জি. মো. সিরাজুল মাওলা, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি বিদিয়া অমৃত খান এবং ইডকলের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মনিরুল ইসলামসহ আরও অনেকে অংশ নেন।

বিইপিআরসি-এর সদস্য ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তার পরই জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ, তাই এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতা প্রয়োজন। জ্বালানি উৎপাদনে আমদানির ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল হলে ব্যবসায়িক খরচ ক্রমাগত বাড়বে, তাই দেশীয় উৎসের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, গত অর্থবছরে জ্বালানি খাতে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি হয়েছে। তাই এ খাতে দেশীয় বেসরকারিখাতের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান ড. এম. রেজওয়ান খান বলেন, বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পরিবর্তন না হলে এ খাতের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। এছাড়াও পিক ও অফ-পিক সময়ে বিদ্যুতের দামের পাথর্ক্য নির্ধারণ করতে হবে। সরকারের তেল ক্রয়ের যথাযথ টাকার অভাবেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় বিদুতের সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন করে শিল্প-কারখানা পর্যন্ত পৌঁছানোর বিষয়টিকে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ার কারণে প্রায়শই শিল্পখাতে ৫০ শতাংশ পণ্য উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে, বিষয়টি মোটেও কাম্য নয়। তাই এ খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে অতিদ্রুত নিরসনের ওপর তিনি জোরারোপ করেন।

বিসিএমএ-র সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, এলপিজি শিল্পখাতের জ্বালানি নিরপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তবে কোনো আর্থিক প্রণোদনা নেই বরং প্রায় ১০ শতাংশ করারোপ করা রয়েছে, বিষয়টি সমাধানে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।

বিএসআরইএ-র সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, প্রতিনিয়ত গ্যাস উত্তোলন কমলেও চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে এবং প্রতিবছর দেশে জ্বালানি চাহিদা ২০ শতাংশ বাড়ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি বিষয়ক ভালো নীতিমালা থাকলেও বাস্তবায়ন অবস্থা মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়। আমাদের উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫০ শতাংশ শিল্পখাতে ব্যবহৃত হয়, তাই এনার্জি অডিট বাধ্যতামূলক করার বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জি. মো. সিরাজুল মাওলা বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ২৩০০টি এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন রয়েছে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগ নিলে প্রায় ৭০০-৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এর জন্য একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ণের কোনো বিকল্প নেই। জ্বালানি খাতের বেশ কিছু সরকারি সংস্থা থেকে লাইসেন্স নিতে গিয়ে হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এর নিরসনে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।

বিজিএমইএ সহ-সভাপতি বিদিয়া অমৃত খান বলেন, আমাদের জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের অবদান মাত্র ৪ শতাংশ, যদিও বৈশ্বিক ক্রেতারা বিষয়টিতে বেশ প্রাধান্য দিচ্ছেন, এক্ষেত্রে নীতিসহায়তার বেশ অভাব রয়েছে। তবে, ভবন স্থাপনে গ্রিন ফান্ড থাকলেও বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে সেটার অনুপস্থিতি রয়েছে।

জ্বালানি খাতে অর্থায়ন অত্যন্ত কষ্টকর বিষয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ইডকলের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি খাতের বিদ্যমান নীতিমালাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নে গ্যাপ রয়েছে, যা শিল্পখাতের সমস্যাকে ক্রমশ প্রকট করছে। এ খাতে অর্থায়ন নিশ্চিতকল্পে গ্রিন বন্ড প্রবর্তনের ওপর তিনি জোরারোপ করেন।

মুক্ত অলোচনায় ঢাকা চেম্বারের সাবেক ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি মালিক তালহা ইসমাইল বারী, প্রাক্তন পরিচালক এম বশিরউল্ল্যাহ ভূইয়্যা এবং সদস্য এম এস সিদ্দিকী অংশ নেন।

ডিসিসিআই সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এবং সরকারি-বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টার বৈঠক

বাংলাদেশ সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার একটি হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়ন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।

বানিজ্য মন্ত্রনালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুবই চমৎকার। বাণিজ্য বৃদ্ধি দুদেশের বিদ্যমান সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে “

ভুটানের সঙ্গে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে উল্লেখ করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভুটান বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহী।”

কুড়িগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ভুটানের জন্য বরাদ্দ করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেরিং তোবগে। তিনি বলেন, “কুড়িগ্রামের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ভুটান সরকার বায়োডাইভারসিটি নগর গেলেফু নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত এই নগরটি ভুটানের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যকে রক্ষা করে তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত ও টেকসই অবকাঠামো তৈরি করা হবে।”

গেলেফু নগর নির্মাণে প্রচুর নির্মাণ উপকরণ প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে তিনি এগুলো বাংলাদেশ হতে আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ থেকে ঔষধ, সিরামিক পণ্য , তৈরি পোশাক ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী আমদানিতে ভুটান সরকারের আগ্রহের কথা জানান।

বাংলাদেশী পর্যটকদের ভুটানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পর্যটকদের জন্য যেখানে ভুটান সরকার প্রতিরাত অবস্থানের জন্য সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি (এসডিএফ) একশত ডলার নির্ধারণ করেছে সেখানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটকদের জন্য তা মাত্র পনের ডলার।” এ সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশিদের ভুটান ভ্রমণে আগ্রহী করতে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ভুটানের স্বীকৃতি দানের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাণিজ্য বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত ভিত্তি পাবে।”

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “আসন্ন বাংলাদেশ – ভুটান সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”

এ সময় তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরো বেশি বাণিজ্য সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশে এখন বিশ্বমানের ঔষধ, সিরামিক পণ্য ,তৈরি পোষাক, নির্মান উপকরণ তৈরি হচ্ছে।” এসব পণ্য আমদানির মাধ্যমে বাণিজ্য আকার বৃদ্ধির সুযোগ নেওয়ার জন্য ভুটান সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

বৈঠকে ভুটানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স ও এক্সটার্নাল ট্রেড মিনিস্টার ডি এন ধুনগায়েল, ইন্ডাস্ট্রি,কমার্স এন্ড এমপ্লয়মেন্ট মিনিস্টার লায়েন পো নামগায়েল দর্জি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।




কমলো সোনার দাম

দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৩৬৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এতে করে ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৭ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এ দাম আগামীকাল বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমায় সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
তবে মূল কারণ হচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম চার হাজার ৬০ ডলারে নেমে এসেছে।

 

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৬ হাজার ৯০৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৬৯ হাজার ২৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৪০ হাজার ৭৬১ টাকা।

সোনার দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৪৬ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা।




প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চায় জামায়াত

নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজন ও দ্রুত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে জামায়াতে ইসলামী। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দলটি মাঠের কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

দলটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির বিষয়ে কথা বলার জন্য গত বৃহস্পতিবার জামায়াত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ চেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সময় দেওয়া হয়নি।

জামায়াতের অবস্থান, নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের জন্য এখনই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি জরুরি। কিন্তু সরকার সময়ক্ষেপণ করছে, যা গণভোট অনিশ্চিত করে তুলছে। ফলে দলটির নেতারা এখন সরকারের অবস্থান বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন।

দলটির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হয় যে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়, তবে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব।’

জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, লন্ডন বৈঠকের পর থেকে সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার প্রভাবে সরকারপ্রধান বিএনপির প্রতি ঝুঁকেছেন। তাদের মতে, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনসহ সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো বিএনপির দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গণভোটের ক্ষেত্রেও সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা বিএনপির অবস্থানকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে তারা মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক নেতা বলেন, ‘সরকার এখন একটি দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, এতে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা হারাচ্ছে।’

গণভোটের সময় ও ধরন নিয়েও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিএনপি বলছে, জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে—দুটি ব্যালটে। অন্যদিকে জামায়াতের দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর আলাদা সময়ে গণভোট আয়োজন করতে হবে, তারপর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন।

গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘একটি মহল নির্বাচন বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্র করছে।’

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন সংস্কার বাস্তবায়নকে গুরুত্বহীন করে দেবে, এতে কার্যত সংস্কার প্রক্রিয়া ভণ্ডুল হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নজরে রাখছি। সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করছি। জামায়াত রাষ্ট্রসংস্কারে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়। এ পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে আমরা মাঠে থাকব।’

 




হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান চুক্তি

 

হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশের জাতীয় মান প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-বিএসটিআই’র সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে পাকিস্তানের হালাল বিষয়ক সংস্থা পাকিস্তান হালাল অথরিটি (পিএইচএ)। জাতীয় মান প্রণয়নে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে এ সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পাকিস্তানের যৌথ অর্থনেতিক কমিশনের ৯ম বৈঠকে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক।

বাংলাদেশের পক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নূর ও পাকিস্তানের পক্ষে বাংলাদেশে নিয়োজিত পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান হায়দার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে বিএসটিআই অনুমোদিত হালাল পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি করা যাবে। বিএসটিআইয়ের হালাল সনদ থাকলে তা পাকিস্তানে বিনা পরীক্ষণে প্রবেশ করবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের হালাল অথরিটি (পিএইচএ) এর সনদ থাকলে তা বাংলাদেশেও বিনা পরীক্ষণে প্রবেশ করবে। এটি উভয় দেশের মধ্য বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার একটি প্রচেষ্টা। এর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে হালাল পণ্যের রপ্তানি বাণিজ্যের পথ সুগম করবে এবং দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।

অনুষ্ঠানে সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া সার্ককে আরো পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। এই বৈঠকে দুই দেশের জনগণের সম্পর্কেরও উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশা করেন।।

আলী পারভেজ মালিক বলেন, বিএসটিআইয়ের সঙ্গে হালাল পণ্য বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। যেখানে বলা হয় বিএসটিআই অনুমোদিত যেকোনো হালাল পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি করা যাবে এবং পাকিস্তান তা গ্রহণ করবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পিএইচএ যে হালাল সনদ প্রদান করবে তা বাংলাদেশ গ্রহণ করবে।




প্রতীকের তালিকায় শাপলা না থাকায় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না: ইসি

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, সাংবিধানিক আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রতীকের তালিকায় শাপলা না থাকায় তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে সিলেট পুলিশ লাইনসে নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতীক বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী যে প্রতীকগুলো থাকে সেখান থেকে একটি প্রতীক দিতে হয়। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তাই আইনগতভাবে কাজ করে। আইনের বাইরে নির্বাচন কমিশন কোনো কাজ করে না। আইন ও বিধি অনুযায়ী তারা (এনসিপি) যে প্রতীক চাচ্ছে সেটি দিতে পারছে না নির্বাচন কমিশন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে না হওয়ার মতো কোনো কাজ বা কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনেক কিছুই মিডিয়াতে এসেছে। এতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না। আমরা আশা করি, রমজানের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব বাহিনী প্রস্তুত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি বিতর্কিত কেউ আগামী নির্বাচনী দায়িত্বে থাকতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।

পিআর পদ্ধতির দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি রাজনৈতিক বিষয়, এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।




জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে ১৫ অক্টোবর

আগামী ১৫ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে। ঐতিহাসিক এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ঐকমত্য কমিশন কার্যালয়ের সভাকক্ষে কমিশনের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

পবন চৌধুরী জানান, ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের পাঁচটি বৈঠকে প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ করা হয়।

বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয় যে, বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে এবং রাজনৈতিক দলগুলো থেকে প্রাপ্ত অভিমত বিশ্লেষণ করে খুব শিগগিরই বাস্তবায়নের উপায় সংক্রান্ত সুপারিশ এবং চূড়ান্তকৃত জুলাই সনদ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।

বৈঠকে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও সভায় অংশ নেন।




দলগুলো একমত না হলে জুলাই সন‌দের বাস্তবায়ন পদ্ধ‌তি ঠিক করবে কমিশন: আলী রীয়াজ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এক জায়গায় না আসলে বাস্তবায়নের একাধিক প্রস্তাব সরকারকে দেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আয়োজিত সংলাপের চতুর্থ দিনে এ কথা বলেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, ‘বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ছয়টি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা বলেছিলাম, এই ছয়টি প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে যদি এটাকে একটি জায়গায় আনা যায়। উপস্থিত ৩০টি রাজনৈতিক দল যদি একটি প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সানন্দে সেই প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারবো। আমরা বলবো, একটি প্রস্তাব আছে, এটা বাস্তবায়নের পথ এভাবে আপনারা (অন্তবর্তীকালীন সরকার) বিবেচনা করতে পারেন।’

কমিশনের সহ সভাপতি বলেন, ‘১৬ সেপ্টেম্বরের আলোচনায় যে সমস্ত বিষয় উঠে এসেছিল, সেগুলোকে আমরা বিশেষজ্ঞদের কাছে অবহিত করেছি। তারই ভিত্তিতে তারা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের আগের অবস্থানকে ব্যাখ্যাও করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে যদি একমত হওয়ার জায়গা তৈরি হয় তাহলে এটা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। দ্রুততার সঙ্গে করা সম্ভব হবে। এই সমস্ত বিবেচনার কথায় আজকে কমিশন সকালে প্রধান উপদেষ্টা এবং কমিশনের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তিনি সবসময় এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন।’

প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াসহ বিশেষত সনদের জায়গাতে সনদকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে সকলের স্বাক্ষরিত একটি রাজনৈতিক দলিলে পরিণত করা যায় কিনা, সে বিষয়ে আমাদের তাগিদ দিয়েছেন।’

আলী রীয়াজ বলেন, ‘আজকে আপনাদের কাছে আমরা এসেছি একটিমাত্র কারণে। সেটি হচ্ছে আপনাদের পক্ষ থেকে যদি আরও সুনির্দিষ্ট সুস্পষ্ট এবং স্বল্প প্রস্তাব থাকে বাস্তবায়নের তাহলে আমাদের পক্ষে সেটাকে সমন্বিত করে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন উপায় উপস্থাপন করব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, অবশ্যই ১৫ অক্টোবরের আগে এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক ব্যস্ততা আছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি আছে। আপনারা বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন, সেগুলো যেন বাধাবিঘ্ন না হয়, সেটা আমরা করতে চাই। তাছাড়া মেয়াদের দিক থেকে ১৫ অক্টোবরই মেয়াদ শেষ হবে। তারও আগে আমরা এটা শেষ করতে চাই।’

তিনি বলেছেন, ‘আজকে আমরা প্রত্যাশা করছি, আপনারা সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করবেন। আপনারা যদি দলগত বিবেচনার বাইরে গিয়ে সম্মিলিতভাবে কোনো প্রস্তাব দিতে পারেন, সেটা নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করব। তারই প্রেক্ষাপটে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, যদি আজকে ৩০টি রাজনৈতিক দল এক জায়গায় আসেন, তাহলে আমরা আর বিশেষজ্ঞদের সাথে বসবোই না। কিন্তু যদি প্রয়োজন হয়, বিশেষজ্ঞতার সাথে আবার বসার তাহলে সেটা আমরা বসব।’

আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রাণ দিয়ে, রক্ত দিয়ে আমাদের একটা দায়িত্ব দিয়েছে। আপনারা তার অংশীদার। ১৬ বছর আপনাদের কর্মীরা জেল- জুলুম, অত্যাচার, নিপীড়ন সহ্য করেছে। আপনাদের কর্মীরা প্রাণ দিয়েছেন। নাগরিকরা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের একটা স্বপ্ন আছে, একটা জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র, যেখানে আমাদের নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত হবে। সে রকম একটি রাষ্ট্রের জায়গায় যাওয়ার জন্য যে সংস্কার সেই দায়িত্ব আপনাদের উপর অর্পিত হয়েছে। আমাদের উপর অর্পিত হয়েছে। এটা দায়িত্ব নয় এটা আমাদের দায়। সেই দায় আমাদের পালন করতে হবে। কেবলমাত্র সনদ স্বাক্ষর করাই সে দায়ের শেষ নয়। আমাদের সকলে মিলে এই প্রচেষ্টা এই রাষ্ট্রের সংস্কার, কাঠামোগত সংস্কারের জায়গাটা তৈরি করতে হবে।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বলেন, প্রাণের বিনিময়ে আমরা এখানে এসেছি। আমরা যেন বিস্মৃত না হই। দলের চেয়ে সবচেয়ে বড় হচ্ছে নাগরিকদের অধিকারের প্রশ্ন। নাগরিকদের অবদান, আপনাদের দলের কর্মীদের অবদান, যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা আমাদের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, যারা বেঁচে আছেন, আহত অবস্থায়, তারা আমাদের কাছে প্রত্যাশা করছেন। আসুন আমরা সকলে মিলে সেই প্রত্যাশার জায়গাটায় যাতে যেতে পারি।’

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দারের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. আইয়ুব মিয়া।




নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান নাবিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল,নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সাত সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।উক্ত কমিটিতে এম. পরাণ ফয়সালকে সভাপতি এবং ওয়াহিদ হাসান নাবিলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া ওয়াহিদ হাসান নাবিল টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের কৃতি সন্তান।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এই কমিটি অনুমোদন পায়।

নব-দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ হাসান নাবিল নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের মোঃ মাহমুদুল হাসানের পুত্র। তাঁর পিতা নাগরপুর উপজেলার যমুনা এলপি গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচিত। নাবিল বর্তমানে নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিভাগে স্নাতক (সম্মান) করছেন।
ওয়াহিদ হাসান নাবিলের পরিবারে ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির এক দীর্ঘ ঐতিহ্য বিদ্যমান। তাঁর প্রয়াত বড় মামা মো. হারুন অর রশিদ হারুন নাগরপুর উপজেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এবং একসময় উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্বও পালন করেছেন।
তার আরেক মামা, অ্যাড. মো: আব্দুল আলীম মিয়া,সরাসরি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন।এছাড়াও, তাঁর মামাতো ভাই সাব্বির হাসান সূর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখার সাবেক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
নাবিল মনে করেন, পরিবারের এই সমৃদ্ধ ও সংগ্রামী রাজনৈতিক পটভূমি তাঁকে ছাত্রদলের সাংগঠনিক দায়িত্ব সফলভাবে পালনে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে অদম্য সাহস ও প্রেরণা যোগাবে।

নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ায় ওয়াহিদ হাসান নাবিলকে তাঁর নিজ এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষানুরাগী এবং সহপাঠীরা আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।




ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় ফিরছে খাগড়াছড়ি

সড়ক অবরোধ কর্মসূচি আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় ফিরছে খাগড়াছড়ি। সকাল থেকেই দূরপাল্লার কিছু কিছু গাড়ি চলাচল করলেও পুরোদমে শুরু হয়নি।

বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি বেড়েছে।

শহর, শহরতলীতে যানবাহন চলাচলও সীমিতভাবে শুরু হয়েছে। চারদিন পর শহরের দোকানপাটগুলো খুলতে শুরু করেছে। স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ডেকেছিল জুম্ম ছাত্র-জনতা নামে একটি সংগঠন।

মঙ্গলবার রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে দেওয়া ঘোষণায় জানানো হয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, জেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বহাল আছে। অবশ্য অবরোধ স্থগিত হলেও এখনো জনমনে আতঙ্ক রয়েছে।

অবরোধ না থাকলেও খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। সেনা টহলের পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে।

এদিকে খাগড়াছড়ি ও গুইমারার সাম্প্রতিক ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. ছাবের এখনো নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেছেন, রিপোর্টটি পুলিশের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

অবরোধ চলাকালে ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সহিংসতার ঘটনায় তিনজন নিহত ও অনেকে আহত হন। গুইমারায় রামসু বাজারসহ বহু দোকানপাট, বসতবাড়ি ও অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, জনজীবন স্বাভাবিক হচ্ছে। গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।




তারেক রহমানের শুভেচ্ছা ও অনুদান পৌঁছে দিলেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার অমি

কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার বাস্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গা পূজা মণ্ডপে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি। এ সময় তিনি বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের হাতে।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজাবাড়ি এলাকার শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন শেষে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার ইরফান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি কাউকে আলাদা চোখে দেখে না। হিন্দু-মুসলিম সবাইকে সমান চোখে দেখে। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করা হলে আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিটি মন্দিরে দিন-রাত পাহারা দেবে।’

তিনি আরও জানান, পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন। ‘আপনারা যেন সুন্দরভাবে পূজা উদযাপন করতে পারেন সেজন্য আমাদের দল সর্বদা আপনাদের পাশে আছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জকে একটি আদর্শ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তরুণ এই নেতা বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমানের সন্তান। তরুণ এ নেতা ধীরে ধীরে কেরানীগঞ্জে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলছেন।




এশিয়া কাপ জিতে শিরোপা নিল না ভারত

মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন কর্মকর্তারা। কিন্তু ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব শিরোপা নিতে এগিয়ে এলেন না। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল; কোনো দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অথচ শিরোপা নিতে মঞ্চে ওঠেনি! এশিয়া কাপে ভারত শিরোপা জেতার পর সেই দৃশ্যটাই দেখা গেল।

টুর্নামেন্টজুড়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথে ছিল যুদ্ধের ছায়া। ফাইনালই বা বাদ যাবে কেন। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। এরপর শুরু হয় আরেক নাটক। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মহসিন নাকভি পিসিবির চেয়ারম্যান হওয়ায় ভারতীয় দল তাঁর কাছ থেকে শিরোপা নিতে চায়নি৷ এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল সূর্য-বুমরাদের বোঝানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি। পরে বলা হয়, মঞ্চে থাকা আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের সহসভাপতি খালিদ আল জারোনির কাছ থেকে ট্রফি নিতে।

ভারত তাতে রাজি হলেও জুড়ে দেয় এক শর্ত। মঞ্চে কোনোভাবেই থাকতে পারবেন না নাকভি৷ তা শুনে নাকভি রীতিমত ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ম্যাচসেরা, সিরিজসেরা ও রানার্সআপের পুরস্কার দেওয়ার পর উপস্থাপক সাইমন ডুল বলেন, ‘আমাকে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল থেকে জানানো হয়েছে যে ভারতীয় ক্রিকেট দল আজ রাতে কোনো পুরস্কার গ্রহণ করবে না। সুতরাং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষ হলো।’

ভারতীয় দল পরে কোনো ট্রফি ছাড়াই ফটোসেশন করে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির মতো ধীরে ধীরে হেঁটে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার ভঙ্গিমায় ভারতীয় অধিনায়ক অদৃশ্য ট্রফি নিয়ে উদযাপন করেন সতীর্থদের সামনে।

শিরোপা কীভাবে ভারতকে বুঝিয়ে দেওয়া যায়, সেই ব্যাপারে এক জরুরি বৈঠকে ডেকেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দুবাইয়ে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতিও।




কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান: ডা. জাহিদ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ বলেন, ১৮ মাস আগ থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এখন পর্যন্ত কাউকে মনোনয়নের বিষয়ে সবুজ বা লাল সংকেত দেওয়া হয়নি। তবে খুব দ্রুতই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।

নিউইয়র্কে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলার বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই ঘটনা আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। তারা মাঠে এলে জনগণ হামলাকারীদের প্রতিহত করবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা দেখতে পাবেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারেক রহমান এসে কেবল বিএনপির নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ লগ্নের নেতৃত্ব দেবেন।

ডা. জাহিদ আরও বলেন, জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শুধু বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন না, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদেরও সবার নেতা তারেক রহমান।




জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করা হবে: ড. হেলাল উদ্দিন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর, ঢাকা-৮ আসনে মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, আগামীতে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়ে দেশ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে ঢাকা-৮ আসনের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের কোনো সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নে মনোযোগী হয়নি; তারা শুধুমাত্র নিজেদের উন্নয়নে ব্যস্ত ছিল।

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শাসক গোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াত কখনো কোনো পরাশক্তির কাছে মাথানত করবে না। তিনি কর্মীদের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি ঢাকা-৮ এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে জানান, শাহবাগ-রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। যানজট নিরসনে হকারদের উচ্ছেদ করা হবে না, বরং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে এবং বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হবে।

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ফুটপাতের একজন দোকানদার থেকে শুরু করে সুপারশপের মালিক পর্যন্ত কাউকে চাঁদা দিতে হবে না। তিনি জানান, দলটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য তিনি ঢাকার জনগণের কাছে আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে সমর্থন ও সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মো. শামছুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমীর শাহীন আহমেদ খানসহ ঢাকা-৮ আসনের সকল থানার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।




সরকার ঘোষিত সঠিক সময়ে নির্বাচন এখন সময়ের দাবি : সাবেক মন্ত্রী এম. নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ

বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী এম. নাজিম উদ্দিন আল-আজাদ বলেছেন, বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের ভিত্তি ও স্থিতিকে মজবুত করার লক্ষে সরকার গৃহিত জুলাই ঘোষণা পত্র, বিচার কার্য অতি দ্রুত সম্পন্ন করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে সকল দলকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধান অতিথি আরো বলেন সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করেই জাতীয় নির্বাচনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রেক্ষিত বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় মধ্য-ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর জোট- ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন-এনডিইউ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন জটিল এক সমীকরণের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে দেশের রাজনীতি। নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে বাড়ছে অনৈক্য, সংশয় ও সন্দেহ। নানা বিষয়ে রাজনীতির মাঠে অনৈক্যের সুর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ভোটের হিসাব-নিকাশ যত এগিয়ে আসছে বিরোধ ততই প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে। তবে সরকার ঘোষিত ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন এখন সময়ের দাবি । প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান, জাতীয় ঐক্য সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়কারী ও মিডিয়া উইং চীপ শেখ মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, খাদের কিনারে গণতন্ত্র। দেশের বৃহত্তর বর্তমান তিনটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত ইসলাম ও এনসিপির মধ্যে সংস্কার করেই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ধুম্রজাল। এই কিনার থেকে গণতন্ত্র উত্তরনে সকল অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে একিভুত হতে হবে। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন’র কোন বিকল্প নেই । বাংলাদেশ সিটিজেন পার্টির চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন-এনডিইউ’র আহবায়ক প্রফেসর ড. আসলাম আল মেহেদী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিটিজেন পার্টির উপদেষ্টা, বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংস্কার পার্টির আহবায়ক মেজর (অবঃ) আমীন আহমেদ আফসারী, জাতীয় মুক্তি দল পার্টির চেয়ারম্যান এটিএম বীরমুক্তিযোদ্ধা মমতাজুল করিম, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।

আরও বক্তব্য রাখেন ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান প্রফেসর এ আর খান, বাংলাদেশ জনতা পর্টির চেয়ারম্যান এস এম মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক সরকার), বাংলাদেশ নতুনধারা জনতার পার্টি-বিএনজিপি’র চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ আব্দুল আহামদ নূর, জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান আবুল কাসেম মজুমদার, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী সাম্যবাদী দল পার্টির চেয়ারম্যান মুফতি নুরুল আমিন, বি.আর.পি পার্টির চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ হিরু, স্বদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মোঃ আনিছুর রহমান দেশ, বিএলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আমান উল্লাহ, বিএনডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব হারুনুর রশীদ দুলাল, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন-এনডিইউ’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. সানজির হাওলাদার, নিজেপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিজ মাহবুব প্রমুখ।




নেপালের অস্থিরতা ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

তিন বছরের ব্যবধানে তিন প্রতিবেশী দেশের সরকার পতন দেখল ভারত। সবশেষ নেপালে যা হলো এর সঙ্গে গত বছর বাংলাদেশে এবং ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার কিছু ঘটনার মিল আছে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ভারতের নিকটতম প্রতিবেশী হলেও নেপালের সঙ্গে সম্পর্কটা ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে নেপালের সীমান্ত ১ হাজার ৭৫০ কিলোমিটারের বেশি। যা যুক্ত উত্তরাখাণ্ড, উত্তর প্রদেশ, সিকিম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। ফলে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে বিশেষভাবে নজর রাখছে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসন।

গত মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেন, ‘নেপালের ঘটনা হৃদয়বিদারক। অনেক তরুণের প্রাণহানির ঘটনায় আমি মানসিক পীড়া বোধ করছি।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, নেপালে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবারই নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকও করেন মোদি। ২০২২ সালে বিক্ষোভের মুখে শ্রীলঙ্কার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আর দিল্লি সফরের এক সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। দুটি ঘটনাই ভারতকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।

ভারতের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অশোক মেহতা নেপাল সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা রাখেন। তিনি বলেন, কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশটির অস্থিতিশীলতা ভারতের জন্য উদ্বেগের। চীনের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড নেপালের ওপারে অবস্থিত। ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমিতে যাওয়ার পথও সরাসরি নেপালের ভেতর দিয়ে গেছে।

অনেক নেপালি নাগরিক কাজের সূত্রে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন। এ সংখ্যা তিন দশমিক ৬ মিলিয়ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যাটা আরও বেশি। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির অনেকের সঙ্গে ভারতীয়দের গভীর পারিবারিক বন্ধন আছে। তারা পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই দুই দেশে যাতায়াত করতে পারেন। এ ছাড়া, ১৯৫০ সালে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় নেপালিরা ভারতে বিনা বাধায় কাজ করতে পারেন। নেপাল ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সঙ্গে এমন চুক্তি আছে শুধু ভুটানের।

এ ছাড়া, বহু বছরের পুরনো একটি চুক্তির আওতায় নেপালের ৩২ হাজার গোরখা সৈন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করে। নেপালের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থস্থানে প্রতিবছর হাজারো ভারতীয় হিন্দু প্রার্থনার জন্য যান। অন্যদিকে, কাঠমান্ডু ভারত থেকে প্রচুর তেল ও খাদ্যপণ্য আমদানি করে। ভারত-নেপাল বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

গতকাল বুধবার থেকে নেপালের পরিস্থিতি কিছু শান্ত হতে শুরু করলেও বিশেষজ্ঞরা ভারতকে কূটনৈতিকভাবে সতর্কতার সঙ্গে আগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ, নেপালের বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ মূলত দেশটির তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে। যাদের সঙ্গে ভারত এতদিন ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছে।

এই তিনটি দল হলো- কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএন–ইউএমএল), শের বাহাদুর দেউবার নেপালি কংগ্রেস এবং পুষ্পকমল দাহালের নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী কেন্দ্র)। হিমালয়ের কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারত ও চীন দুই দেশই নেপালে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এ কারণে এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির বিরুদ্ধে নেপালের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠছে।

কে পি শর্মার পরিবর্তে নেপালে কী ধরনের সরকার বা প্রশাসন গঠিত হবে সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঙ্গীতা থাপলিয়াল বলছেন, নতুন সরকার বা নেতৃত্বের রূপ অনিশ্চিত থাকায় ভারতকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ। কিন্তু ভারতে তাঁকে আশ্রয় দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। নেপাল ও ভারতের মধ্যেও কিছু বিষয়ে বিরোধ আছে। অধ্যাপক সঙ্গীতা বলছেন, সেগুলোকে এখন অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিতে হবে। নেপালে অনেক তরুণের কাজের ক্ষেত্র নেই। ভারত চাইলে তাদের কাজের সুযোগ ও শিক্ষার্থীদের ফেলোশিপ দিতে পারে।




গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে নতুন বার্তা দিল ডাকসু নির্বাচন

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা একদিনে সম্ভব নয়। এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সাহস, সহনশীলতা ও জয় পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সেই ধারাবাহিকতাকেই সামনে এনেছে। যেখানে বিগত ১৫ বছর ধরে দেশের জনসাধারন গনতন্ত্রের নির্বাচন দেখেনাই সেখানে ডাকসুর নির্বাচনের উৎসব মূখর পরিবেশ দেখে দেশবাসী কিছুটা হলেও সস্তি পেয়েছে। যেখানে নির্বাচন মানে মারামারি হানাহানি এমনও কি জীবনকে বলিদান দিতে হয়,সেখানে একেবারে কোন সমস্যা ছাড়ায় ডাকসু নির্বাচন আমাদের অনেক কিছু শিক্ষা দেয়। যদিও পরস্পর বিরোধী নানা বিতর্ক, কারচুপির অভিযোগ এবং উত্তেজনার মাঝেও এই নির্বাচন ছাত্র রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় একাধিক কেন্দ্রে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে। বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো বা প্রতিদন্দী প্রার্থীরা অভিযোগ করেছে, ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ মদদে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। যে খানে কলকাটি নেড়েছে ছাত্র শিবির। আর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ভোট শুরুর কিছুক্ষন পর থেকে। সে যাই হোক চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে বিজয়ী হয়। বাকি ৫টি পদে অন্য প্যানেল জয়ী হলেও বিএনপি-সমর্থিত ছাত্রদল একটি পদেও জয়লাভ করতে পারেনি। এটা মেনে নিতে হয়তো অনেকে পারছেন না। তবুও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে ছাত্রদল ফলাফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ প্রতিক্রিয়ায় বলেন— “ ডাকসুর প্রার্থীরা যে ফলাফল পেয়েছে তা আমাদের জন্য হতাশাজনক হলেও গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে আমরা এ ফলাফল মেনে নিচ্ছি। বিজয়ীদের আমরা অভিনন্দন জানাই। এই উদারতা জাতীঁ আগে কখনো দেখেছে কিনা তা আমার জানা নাই। অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না মন্তব্য করেন—“ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যত আলোচনা হোক না কেন, এর কোনো প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে না। ছাত্ররাজনীতির বাস্তবতা আর জাতীয় রাজনীতির বাস্তবতা এক নয়। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তার ফেসবুক পোস্টে মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম লিখেছেন, ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী ও বিজিত সবাইকে অভিনন্দন । জয়-পরাজয় মূখ‍্য নয়, ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে আসাটা গুরুত্বপূর্ণ ।এটা গণতন্ত্রের বিজয়, বর্ষা বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশের বিজয়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে ডাকসু নির্বাচন সবসময় আলোচিত ও বিতর্কিত। এবারের নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে একটি বড় দিক হলো—পরাজিত পক্ষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফলাফল মেনে নেওয়া। এটিকে তারা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়, বরং ভিন্নমত মেনে নেওয়া, পরাজয় স্বীকার করার সাহস এবং প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার মানসিকতা। ডাকসু নির্বাচন সেই বার্তাই দিয়েছে—সব মতবিরোধের ঊর্ধ্বে থেকেও গণতান্ত্রিক ধারা টিকিয়ে রাখা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, ছাত্রশিবিরের এ বিজয় ছাত্র রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করবে। অন্যদিকে ছাত্রদলের শূন্য ফলাফল তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন পর হলেও একটি নির্বাচনী সংস্কৃতি ফিরে এসেছে—যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ৮০ শতাংশ ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগই প্রমাণ করেছে ফ্যাসিবাদী ও তাদের দোসররা আজ জাতীয় রাজনীতিতে অগ্রহণযোগ্য। উৎসবমুখর পরিবেশে ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে, ভারতীয় তাবেদার শ্রেণির অংশগ্রহণ ছাড়াও বাংলাদেশের রাজনীতি তার স্বকীয়তা ও গতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম। আগ্রাসনবাদী ভারত ও তাদের স্বার্থ রক্ষাকারী বিভিন্ন সংগঠনের অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দিয়ে ভোটাররা ফলাফলের মাধ্যমে বার্তা দিয়েছে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সাথে সাথে এদেশে চেতনা ব্যবসারও সলিল সমাধি ঘটেছে। একই সাথে তারা ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রতি আস্থা রেখেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাবি ৪৭,৫২,৬৯,৭১,৯০,২৪ এর মতো বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে জাতির দিশারী হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। বঙ্গভঙ্গ রদের মতো অপূরণীয় রাজনৈতিক ক্ষতি মেনে নিয়ে বিনিময়ে তুলনামূলকভাবে অতি সাধারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয় দাবির সুদূরপ্রসারী ব্যাপকতা ও গুরুত্ব, ডাকসু নির্বাচন’২৫ এর মাধ্যমে নতুন করে আবারও প্রমাণিত হলো যে গনতন্ত্র এ দেশে এখনো প্রতিষ্টা করা সম্ভাব।

লেখক ও গবেষক
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি, ঢাকা প্রেসক্লাব




শ্রীবরদীতে মেধাবী শিক্ষার্থী সুবর্ণার পাশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

শেরপুরের শ্রীবরদীতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থী কামরুন নাহার সুবর্ণার পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
অতি সম্প্রতি দেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিকে অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারছে না মেধাবী শিক্ষার্থী সুবর্ণা শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। খবরটি নজরে আসে শেরপুর ৩ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলের। শ্রীবরদী পৌর এলাকার খামারিয়াপাড়া গ্রামের মৃত সোহেল মিয়ার মেধাবী কন্যা কামরুন নাহার সুবর্ণা চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় শ্রীবরদী এমএনবিপি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ উত্তীর্ণ হয়। বাবা হারা সংসারে অভাব অনটন তাদের নিত্য সঙ্গী।
২০১৯ সালে দুটি কন্যা সন্তান রেখে মারা যান সুবর্ণার বাবা সোহেল মিয়া। পারিবারিক আর্থিক অবস্থা তেমনটা ভালো না হওয়ায় অনেক কষ্টে চলছিল তাদের সংসার। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরেন তার মা কনিকা বেগম। মেয়েকে অনেক কষ্টে খেলাপড়া করান। মায়ের বুকে একটাই আশা কন্যাকে লেখাপড়া শিখিয়ে উচ্চশিক্ষিত
গড়ে তুলবেন। তবে আর্থিকভাবে তেমন স্বচ্ছল না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কনিকা বেগম। মেধাবী শিক্ষার্থী হওয়ায় কনিকার পাশে এসে দাড়ায় ড্রপস নামের একটি সামাজিক সংগঠন। বর্তমানে সংগঠনটির হোস্টেলে থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে কোচিং করছেন সুবর্ণা।
৫ ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলের নির্দেশে মেধাবী শিক্ষার্থী সুবর্ণার বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বলেন শ্রীবরদী পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সুবর্ণার মা কনিকা বেগমের হাতে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলের উদ্যোগে আর্থিক সহায়তার নগদ অর্থ তুলে দেন শ্রীবরদী পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মো ফজলুল হক চৌধুরী অকুল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয় সুবর্ণার পরিবারকে। তৎক্ষণিক ব্যক্তিগতভাবে নতুন বই কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়
বিএনপি নেতা অকুল চৌধুরী।
এসময় পৌর যুব দলের আহবায়ক আমিরুল তানজিন মিস্টার, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান রুকন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহব্বায়ক চঞ্চল হাসান, স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মণ্ডল সহ পৌর বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।




অনলাইনে চাকরি ও ব্যবসার প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল তারা

অনলাইনে চাকরির প্রলোভন ও টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণা চালানো সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি সাইবার ক্রাইম অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন অপারেশনের একটি বিশেষ টিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন চক্রের মূলহোতা আকাশ (২২), রাশাদ (২৮) ও সহযোগী আসাদ (৩০)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও ছদ্মনামে ব্যবহৃত একাধিক সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনলাইনে গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ঢাকার ধানমন্ডি, ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তঘেঁষা গ্রাম এবং দিনাজপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এই চক্র ভুয়া খণ্ডকালীন চাকরি ও বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। টেলিগ্রাম অ্যাপে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকগুণ মুনাফার আশ্বাস দিত তারা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে জসীম উদ্দিন খান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এ চক্রের সঙ্গে দেশি-বিদেশি আরও অনেকে জড়িত রয়েছে। তদন্তে প্রতারণা চক্রের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে এবং জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।




মাদক-চাঁদাবাজি থেকে খুনী ঢাকার ‘লেডি ডন’ গ্রেপ্তার

মাদক সম্রাজ্ঞী ও জুলাই আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলার আসামি স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মাটিকাটা এলাকার ৫৯৭ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতেই গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) তারিক লতিফ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জুলাই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি স্বপ্না আক্তারকে যৌথ বাহিনী গ্রেপ্তার করে গুলশান থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

জানা গেছে, গুলশান থানার একটি জুলাই হত্যা মামলার ৬২ নম্বর আসামি স্বপ্না। আওয়ামী লীগের পতনের পরও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতেন স্বপ্না।

স্বপ্না আক্তার ক্যান্টনমেন্ট থানার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় সে মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে বহুল পরিচিত। আওয়ামী লীগ আমলে অবৈধ পথে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নারী ও পুরুষদের নিয়ে তার দুটি বাহিনী রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে শিল্পপতিদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে পরিচিত এই স্বপ্না আক্তার। রাজধানীর মাটিকাটা এলাকায় ফখরুলের সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ফখরুলের মালিকানাধীন জায়গায় একটি হোটেলও বানিয়েছেন স্বপ্না। গত ১৬ বছরে ফখরুলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে লেডি ডন হয়ে ওঠে স্বপ্না আক্তার। জমি দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে মাটিকাটা এলাকায় স্বপ্নার আছে নিজস্ব অস্ত্রধারী গ্যাং।




১০% নগদ লভ্যাংশ দেবে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে কোম্পানির চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম (জানুয়ারি-মার্চ) ও দ্বিতীয় (এপ্রিল-জুন) প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জনু পর্যন্ত কোম্পানির জীবন বিমা তহবিলের আকার বেড়েছে।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানির এ লভ্যাংশ ঘোষণার তথ্য জানানোর পাশাপাশি চলতি হিসাব বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে।

কোম্পানিটি জানায়, সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ এবং চলতি বছরের অন্যান্য এজেন্ডাসমূহে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ৩ নভেম্বর সকাল ১০টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করেছে তারা। এ সংক্রান্ত রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর।

লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে আজ স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার দর উত্থান-পতনের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার থাকছে না। অর্থাৎ আজ কোম্পানির শেয়ারের দর যতটা সম্ভব বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস পেতে পারবে।

কোম্পানিটি ২০২৩ হিসাব বছরের জন্য ১২ শতাংশ নগদ, ২০২২ হিসাব বছরের জন্য ১১ শতাংশ নগদ এবং ২০২১ হিসাব বছরের জন্য ১৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারহোল্ডারদের।

এদিকে, চলতি বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানির জীবন বিমা তহবিলের আকার বেড়ে হয়েছে ৪৭৯ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে যা ছিল ৪৭৬ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানির জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা।




আহত নুরের খোঁজ নিলেন খালেদা জিয়া

কাকরাইলে হামলার ঘটনায় আহত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের খোঁজ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

 

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

 

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, হামলায় আহত নুরুল হক নুরের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়া। তিনি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে নুরের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

তিনি আরও বলেন, নুরের দ্রুত আরোগ্য ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে খালেদা জিয়া তার জন্য দোয়া করেছেন।




লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।

অপর আসামিরা হলেন, আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন (৫৫), মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), জাকির হোসেন (৭৪), তৌছিফুল বারী খাঁন (৭২), আমির হোসেন সুমন (৩৭), আল আমিন (৪০), নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০) ও আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শাহবাগ থানার এসআই আমিরুল ইসলাম ২৯ আগস্ট মামলাটি করেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২৮ আগস্টে সকাল ১১টার দিকে মামলার বাদী দেখতে পান, বেশকিছু লোকজন রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটোরিয়ামে কিছু লোককে ঘেরাও করে আওয়ামী ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বক্তব্য দিচ্ছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ওই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে তারা।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, এ গোলটেবিল বৈঠকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরাসহ আরও ৭০-৮০ জন অংশগ্রহণ করে। পরে পুলিশ আসামিদের হেফাজতে নেন।

উপস্থিত লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (৭৫) ‘মঞ্চ ৭১’ এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিল। তার এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদেরকে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছিল। পরস্পর সহায়তাকারী হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অপরাধ করেছে।




অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে একমত বাংলাদেশ-পাকিস্তান

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একমত হয়েছে। উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।

রোববার (২৪ আগস্ট) ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তৌহিদ হোসেন বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই প্রত্যাশা করেন না যে ৫৪ বছরের সমস্যা আজকের এক দিনের মিটিংয়ে… যে মিটিংটা গত ১২ থেকে ১৩ বছর পর, তাও আবার হিনা রব্বানির দাওয়াত দেওয়ার জন্য এসেছিলেন, দ্বিপাক্ষিক সফর ছিল না… এখানে বসে আমরা এক ঘণ্টায় সমাধান করে ফেলতে পারব; এটা নিশ্চয়ই কেউ আশা করবেন না। আমরা পরস্পরের অবস্থান তুলে ধরেছি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, একটি বিষয়ে শুধু কথা হয়েছে যেটাকে খানিকটা অগ্রগতি হিসেবে ধরে নিতে পারেন। আমরা তিনটি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছি। দুই পক্ষ একটি বিষয় ঠিক করেছি, যেটা আমাদের সমাধান করতে হবে, সেটি হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যাতে খুব স্মুথলি এগোতে পারি। এজন্য এগুলো পেছনে ফেলতে হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুই পক্ষ এ নিয়ে সম্মত হয়েছে। আমরা এ নিয়ে কথা বলব এবং চেষ্টা করব, এই ইস্যুগুলো যেন আগামীতে বা কোনো এক পর্যায়ে সমাধান করা যায়। আমরা এটা নিয়ে আলাদা করে এমনভাবে কথা বলব যাতে করে এই জিনিসগুলোকে পেছনে ফেলতে পারি। এ ছাড়া, আমরা পরস্পর নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছি।

অমীমাংসিত বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান একই কি না, জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, অমীমাংসিত বিষয়ে দুই দেশ নিজেদের অবস্থান পুর্নব্যক্ত করেছে। একটি শুধু অগ্রগতি মনে করি, আমরা দুই পক্ষ একমত হয়েছি যে, এই বিষয়গুলো আলোচনা করে সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে করে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এগুলো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বক্তব্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপদেষ্টার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইসহাক দার বলেছেন একাত্তর ইস্যুতে এর আগে দুইবার সমাধান হয়েছে- ১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং ২০০২ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মোশাররফের দুঃখ প্রকাশ- এ বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত কি না?

জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমি অবশ্যই একমত না। একমত হলে তো সমস্যাটার সমাধান হয়ে যেত তাদের মতো করে। আমি তো বলেছি, আমরা আমাদের অবস্থান বলেছি, ওনারা ওনাদের অবস্থান বলেছে।

বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা চাই হিসাবপত্র হোক, যেটা টাকা-পয়সার ব্যাপার, সমাধান হোক। আমরা চাই, এখানে যে গণহত্যা হয়েছে সেটার ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করুক, মাফ চাক। আমরা চাই, আটকেপড়া মানুষগুলোকে তারা ফেরত নেবে। আমি বাংলাদেশের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরেছি।

পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক হচ্ছে। এটা তৃতীয় দেশ বিশেষ করে চীনের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের কারণে কি না- জানতে চাইলে তা নাকচ করে তিনি বলেন, ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থাটাতে চীনের উৎসাহ আছে, পাকিস্তানেরও উৎসাহ আছে। আমরা তো বলেছি, আপনারা আরও দেশকে নিয়ে আসেন, আমরা একসঙ্গে বসি। আমাদের অবস্থান সেই একই আছে। এটার কারণে আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করছি তা নয়।

বিগত সরকারের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক গত সরকারের আমলে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল। আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই এবং অন্যান্য বন্ধু দেশের সঙ্গেও চাই; এর চেয়ে বেশি কিছু না।

এর আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও পা‌কিস্তান এক‌টি চু‌ক্তি এবং ৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে।

একমাত্র যে চুক্তিটি সই হয়েছে সেটি হলো- দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ চুক্তি। আর যেসব বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে সেগুলো হলো- দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংস্কৃতি বিনিময়, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদের (আইএসএসআই) সহযোগিতা।