দুবাই থেকে আসা নিষিদ্ধ প্রসাধনী ও ই-সিগারেটের চালান জব্দ

দুবাই থেকে আসা এক টন আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি প্রসাধনী ও ই-সিগারেটের লিকুইড জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর ফকিরহাটের বৈদেশিক ডাকঘর থেকে চালানটি জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, চালানটিতে বিপুল পরিমাণ ত্বক ফর্সাকারী বিউটি ক্রিম ও ই-সিগারেটের লিকুইড রয়েছে, যা দেশে আমদানি নিষিদ্ধ। আকাশপথে পণ্যগুলো দেশে আসার পর রেলপথে চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল। এরপর বৈদেশিক ডাকঘর থেকে খালাসের আগেই তা জব্দ করা হয়।

তবে চালানটি কোন বিমানবন্দর হয়ে এসেছে বা এর আমদানিকারক কে—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি কাস্টম হাউসের এই কর্মকর্তা।




১১ দিনে এলো ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনে দেশে প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১১৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। যা দেশীয় মুদ্রায় ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত রবিবার প্রবাস আয় এসেছে দুই হাজার ১৭৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৯৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাস আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।




ফ্রান্সে সাইবার হামলার কবলে শত শত সুপারমার্কেট

ফ্রান্সের শত শত সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন সিস্টেমে এক নজিরবিহীন সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সুপারমার্কেটগুলোর ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২২ ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এতে বিপুল পরিমাণের খাদ্যসামগ্রী পচে নষ্ট হয়ে গেছে এবং একাধিক দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ফরাসি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইন্টারমার্শে, কোঅপারেটিভ ইউ এবং ই ল্যকের্ক-সহ শীর্ষ কয়েকটি সংস্থা এই সাইবার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ফরাসি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইন্টারমার্শে বা তার নেটো ব্র্যান্ডের অন্তত ৩০০টি, কোঅপারেটিভ ইউ-এর ১০০টির বেশি, ক্যারেফোরের ৮০টি, মনোপ্রিক্সের প্রায় পাঁচ শতাংশ শাখা এবং ই লেক্লার্কের একাধিক সুপারমার্কেট এই দূরবর্তী হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, এই হামলার ফলে সংযোজিত রেফ্রিজারেটরগুলোতে জোরপূর্বক বরফ গলানোর প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়ে যায়, যার ফলে তাজা ও হিমায়িত সব পণ্য ফেলে দিতে হচ্ছে।

ইন্টারমার্শের প্রধান নির্বাহী থিয়েরি কটিলার্ড জানান, এই নজিরবিহীন ঘটনার ফলে এক দিনেই দেশজুড়ে কয়েক কোটি ইউরোর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ফরাসী প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকরনু জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে (এএনএসএসআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ আক্রান্ত হয়েছে কি না তা সমন্বয় করে দেখা হচ্ছে।

‘কোঅপারেটিভ ইউ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডোমিনিক শেলশার জানিয়েছেন, তাদের সুপারমার্কেট গ্রুপটিকেও একইভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, ‘ফরাসি জনগণের তাজা পণ্য সংরক্ষণ এবং খাদ্য সরবরাহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত গুরুতর একটি ঘটনা এবং এটি নজিরবিহীন।’

ফরাসি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এএনএসএসআই জানিয়েছে, ডেনিশ প্রতিষ্ঠান ডেনফসের তৈরি করা সফটওয়্যারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা দূরনিয়ন্ত্রিত উপায়ে এই হামলা চালিয়েছে। তবে ডেনফস জানিয়েছে, যেসব দোকানে পুরনো সংস্করণ বা ফার্মওয়্যার চালানো হচ্ছিল কেবল সেগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা গ্রাহকদের হালনাগাদ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ আগেই দিয়েছিল।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, জার্মানি এবং বেলজিয়ামও এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে এটি একটি বৈশ্বিক সতর্কবার্তা এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি খাত বা হাসপাতালে এই ধরনের হামলা রোধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।




পেশাগত স্বার্থরক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রবিবার ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা-এর সভাপতি মানিক মুনতাসির ও সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সংগঠনটির ৪৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতনকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা কঠিন।

তিনি সাংবাদিকদের যথাযথ কল্যাণ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে না পারা সমাজের জন্য দুর্ভাগ্যজনক এ কথা উল্লেখ করে পেশাগত স্বার্থরক্ষায় সকল বিভাজন ভুলে গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের নির্ভীক ও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায় জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।

একইসাথে তিনি অপসাংবাদিকতা, অপতথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার প্রতিরোধেও মূলধারার গণমাধ্যম ও পেশাদার সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মমত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি যে শিকড় থেকে এসেছি, যে শিকড় থেকে আমার বেড়ে ওঠা, সেই শিকড়কে আমি ধরে রাখতে চাই।’

ঠাকুরগাঁওকে সাম্প্রদায়িকতা ও মাদকমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য ফোরামের সদস্যদের অভিনন্দন জানান  এসবং দেশ ও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পাশে থাকার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম এসময় সংগঠনটির সদস্যদেরকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলায় গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে সজাগ থাকা এবং জেলার সাফল্য ও অর্জনগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান।

তারা পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয় এবং গুরুতর অসুস্থ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সংগঠনটির সমৃদ্ধি ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।

এসময় ফোরামের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ঢাকা স্ট্রিমের সিইও সোহেল রানা, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মানিকুল আজাদ, প্রথম আলোর সাংবাদিক তুহিন সাইফুল্লাহ, বাসসের সাংবাদিক মাহাবুর আলম সোহাগ, স্টার নিউজের সিনিয়র প্রডিউসার মাহবুব আলম রাজ, কালবেলার সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম ও চ্যানেল-২৪ এর সাংবাদিক মাসউদুর রহমান রানা।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




সরকারি উদ্যোগে বাড়বে ইলিশের উৎপাদন

জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, জাটকা নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান জোরদার, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, গবেষণা বৃদ্ধি, সরকারিভাবে জেলেদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ)-এর পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

পাশাপাশি ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত ও নাব্যতা বজায় রাখা, ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ, মোহনা ও উপকূলীয় পরিবেশের সুরক্ষা, বৈজ্ঞানিকভাবে মৎস্য আহরণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন,  এসবের পাশাপাশি জেলেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তাদের জীবিকা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলেই বাড়বে ইলিশের উৎপাদন।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের মতো বিভিন্ন প্রাণিজ ও উদ্ভিদ উৎপাদনে উত্থান-পতন হতে পারে। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। এতে আইনের প্রয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব শিগ্গিরই প্রকল্পটি চালু হবে। একই সাথে সরকার এবার ভিজিএফ কার্ড বা জেলেদের জন্য বরাদ্দের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।

ইলিশ গবেষকরা বলছেন, ভারতের গুজরাটের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণে আরও গবেষণা এবং বাংলাদেশ-গুজরাটের নদী ও মোহনা পরিবেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণও প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক প্রজনন ও চলাচলের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে নানান উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে’র মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, খুব শিগগিরই নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হলে এর কাজ শুরু হবে। ‘মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণে এবার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দেওয়া এবং ভিজিএফ এর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ভিজিএফ সুবিধা প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৬ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার করা হয়েছে।

চলতি বছরও ইলিশ আহরণ কমের দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের উৎপাদন এবারও নিচের দিকে। তবে সরকারি নানা উদ্যোগের কারণে আগামী বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবে।

তিনি বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো মূল্যেই হোক নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ করতে হবে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদ রানা ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ দায়ী নয় বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জাটকা আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা, ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার, নদীর নাব্য হ্রাস, পানি দূষণ, পানি প্রবাহের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং সমুদ্রে অতিরিক্ত মাছ ধরার চাপ সব মিলিয়েই ইলিশসম্পদের ওপর চাপ তৈরি করছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরাতে তিনি বলেন, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫.২৯ লাখ টন, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে প্রায় ৫ লাখ টন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম, কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়ার পর সর্বশেষ হিসাবে তা কমে যাওয়ায় ইলিশসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সরকারি নথিতে শিল্প ট্রলারের জন্য ৪০ মিটার গভীরতার বাইরে মাছ ধরার বিধান রয়েছে উল্লখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় নির্ধারিত গভীরতা অঞ্চলের ভেতরে ট্রলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল বা অনুপযুক্ত জাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মাছ ধরা পড়তে পারে। এতে ইলিশের ছোট বয়সের মাছসহ অন্যান্য মাছও প্রজননক্ষম হওয়ার আগেই আহরিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মা ইলিশ রক্ষায় কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন ড. মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একটি প্রজননক্ষম মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে তার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক ইলিশ জন্ম নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় টহল, নৌযান পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। নদীতে পানি দূষণ, বর্জ্য ফেলা, নাব্য হ্রাস এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

তার মতে, কোথায় ইলিশ বেশি ডিম ছাড়ছে, কোন সময় বেশি আসে এবং কোন পরিবেশগত পরিবর্তন তার প্রজননে প্রভাব ফেলছে এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা উচিত।

স্যাটেলাইট ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের বিচরণ, প্রজনন ও নার্সারি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, নদীর প্রবাহ, ক্লোরোফিল ও অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ইলিশের গতিবিধি ও সম্ভাব্য সমাগমের পূর্বাভাস দেয়া, নদী ও মোহনায় ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) সেন্সরের মাধ্যমে পানির গুণাগুণ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, ডিএনএ ও হাইড্রোএকাউট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের উপস্থিতি ও মজুত নির্ণয় এবং ড্রোন ও এআই-ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

পাশাপাশি জিপিএস-ভিত্তিক নৌযান পর্যবেক্ষণ, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় স্মার্ট ফিশিং গিয়ার, ডিজিটাল ক্যাচ ডেটাবেজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করা হলে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। এসব প্রযুক্তিকে সমন্বিত করে একটি ‘স্মার্ট হিলসা ম্যানেজমেন্ট’ গড়ে তুলতে পারলে ইলিশের প্রাকৃতিক মজুত সংরক্ষণ, অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের নর্মদা নদীর মোহনা ও ভরুচ অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে, যা বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। গুজরাটে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অতিবৃষ্টির ফলে নর্মদা নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধি, মোহনা অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিবর্তন, ইলিশের চলাচল অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মৌসুমি মাছের প্রাপ্যতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গুজরাটের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পদ্মা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদী অববাহিকার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ এবং মোহনার পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন ড. মাসুদ রানা।

বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন দুই বছর ধরে কমছে। ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টন ইলিশ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে উত্থান শুরু হয়। এরপর প্রতি অর্থবছরে উৎপাদন ১০ থেকে ২০ হাজার টন করে বাড়ে। গত দু’বছর ধরে উৎপাদন কমের দিকে। দেশে টেকসই উৎপাদন প্রতিবছর সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টন ইলিশ আহরণ করলে সেটি টেকসই উৎপাদনের সীমার মধ্যে থাকবে।

তার বিবেচনায় ইলিশের উৎপাদন কমার পেছনে সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হলো প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা এবং নির্বিচার জাটকা নিধন। মা ইলিশ রক্ষার জন্য অক্টোবরে যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটি এখনো ঠিক আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সময়টা কিছুটা পিছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা গবেষণা করে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, অতীতে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছিল কয়েকটি উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে। এর মধ্যে ছিল ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষা, ৮ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ রাখা, মার্চ ও এপ্রিলে অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা, সাড়ে ৬ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ করা এবং বন্ধের সময়ে জেলেদের চালসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া। এছাড়া পাঁচটি অভয়াশ্রম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। অভয়াশ্রমগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ এখন জরুরি।

অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ইলিশ ডিম ছাড়ার পর মার্চ-এপ্রিলে জাটকা ঝাঁকে ঝাঁকে সাগরের দিকে যেতে থাকে। এ সময় নদ-নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে এবং উপকূলীয় সাগরে আর্টিসানাল ট্রলারের (যেগুলো ৪০ মিটারের কম গভীরতায় মাছ ধরে) মাধ্যমে ব্যাপক হারে জাটকা নিধন করা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। জাটকা নিধনে ‘জিরো টলারেন্স’ এর পরামর্শ দেন সরকারকে। পাশাপাশি দখলদূষণের ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট এবং নাব্যতা সংকটের কারণেও ইলিশ ঠিকমতো বড় হচ্ছে না।

মৎস্যবিজ্ঞানীদের বক্তব্যের প্রতিফলন পাওয়া যায় উপকূলের জেলেদের মুখ থেকেও। বিষখালী নদীতে ইলিশ মাছ ধরা কয়েকজন জেলের নাম হলো মো. লিটন হোসেন, মো. কাইয়ুম এবং নিরু খান।

তাদের বক্তব্য, ইলিশের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পরই ছাঁকনির মতো সূক্ষ্ম জাল দিয়ে সেগুলো ধরে ফেলা হয়। জাটকানিধনের প্রথম ধাপে একেবারে ছোট বাচ্চা, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাপিলা মাছ’ নামে বাজারে বিক্রি হয়, পরে ধাপে তুলনামূলক বড় ফাঁসের কারেন্ট জালে নির্বিচারে ধরা হয়। শেষের ধাপে বড় ট্রলিং ট্রলার এবং কাঠের রূপান্তরিত ট্রলিং ট্রলারে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগই পাচ্ছে না। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ছাড়াও নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে জেলেরা ছোট ইলিশ ধরে আনছেন।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ইলিশের খাদ্যতালিকায় ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদকণা (জুপ্ল্যাংকটন) ও ১২ প্রজাতির প্রাণিকণা (ফাইটোপ্ল্যাংটন) রয়েছে। এসব প্ল্যাংকটনের পরিমাণ মেঘনা নদীতে ৬৮ শতাংশ কমেছে। এর বড় কারণ নদীদূষণ। ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এক গবেষণা করে দেখিয়েছেন, পদ্মা ও মেঘনার মোহনায় ইলিশের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্ল্যাংকটন আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে, যার প্রভাব পড়ছে ইলিশের আকৃতিতেও।

উল্লেখ্য, ইলিশ শুধু জাতীয় অর্থনীতির জন্য নয়, উপকূলীয় জেলে, মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠী এবং উপকূলের সাধারণ মানুষের জীবিকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে নিয়োজিত, আর পরিবহন, বাজারজাতকরণ, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা কার্যক্রমে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।

ইলিশে উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে এবং  ইলিশ আহরণে প্রথম স্থান দখল করে আছে। এছাড়া ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট ইলিশ মাছকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।




একদিনেই ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ ও আইফোন আটক, মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা!

ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একই দিনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (CIID) পৃথক দুটি সফল অভিযানে ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ, যার মধ্যে রয়েছে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি আইফোন আটক করা হয়েছে। আটককৃত পণ্যের শুল্ককরাদিসহ প্রদত্ত আনুমানিক মোট মূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ১৬৭ টাকা।

গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামে পরিচালিত পৃথক অভিযানে এসব পণ্য আটক করা হয়। চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার অব্যাহত নজরদারি ও তৎপরতায় একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

শাহজালালে গ্রিন চ্যানেলে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: ৬১ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও আইফোন আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের বি-শিফটের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।

এ সময় কুয়ালালামপুর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর BS-0316 যোগে আগত যাত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে তাঁর ব্যাগেজ সন্দেহজনক মনে হলে কর্মকর্তারা বিধি মোতাবেক ইনভেন্টরি ও পরীক্ষা করেন।

পরীক্ষাকালে ২৯৯ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি iPhone 18 Pro Max আটক করা হয়। আটককৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা।

চট্টগ্রামে জুতার ভেতরে স্বর্ণ লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না: দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ আটক

অন্যদিকে, একই দিনে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেলে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেন।

সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে দুবাই থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের BG-148 ফ্লাইটের যাত্রী তানবীর হাসান রিফাত শুল্ক ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বর্ণ বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

পরবর্তীতে অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে তল্লাশিকালে তাঁর জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং দেহ তল্লাশিতে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার পাওয়া যায়।

একই ফ্লাইটে আগত অপর যাত্রী মো. হাবিবুর রহমানের ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করে আরও ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট যাত্রীর পাসপোর্টে ২০২৬ সালে পূর্বে ব্যাগেজ সুবিধায় স্বর্ণ আনার তথ্যও লিপিবদ্ধ রয়েছে।

এ অভিযানে মোট ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়, যার শুল্ককরাদিসহ আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৮ লাখ ১২ হাজার টাকা।

এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ আটক: চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক সাফল্য

উল্লেখ্য, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক নজরদারির ফলে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে ৭০২ গ্রাম স্বর্ণবার এবং ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ ডি.এম. মূলে আটক করা হয়েছে।

চোরাচালানের বিরুদ্ধে কাস্টমস গোয়েন্দার কঠোর অবস্থান

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মনে করে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ ও উচ্চমূল্যের পণ্যের অবৈধ প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি, ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী শনাক্তকরণ এবং তাৎক্ষণিক অভিযানের গুরুত্ব অপরিসীম।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একই দিনে পরিচালিত এই দুটি সফল অভিযান কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তাদের সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও দক্ষতার প্রতিফলন।

রাজস্ব সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তকরণে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।