আয়কর রিটার্নে ব্যাংক ও নগদ সঞ্চয় দেখানো বাধ্যতামূলক করেছে সরকার

প্রতিবছর করদাতাদের তাদের আয় ও খরচের পুরো চিত্র আয়কর রিটার্নে দেখানো বাধ্যতামূলক। তবে বছর শেষে কিছু সঞ্চয় থাকলে তা রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই সঞ্চয় ব্যাংক হিসাব ও নগদ—উভয় ক্ষেত্রেই প্রদর্শন করা প্রয়োজন। কারণ পরবর্তী বছর ওই টাকা পুনরায় আয় ও ব্যয়ের হিসাবের অংশ হিসেবে যোগ হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, ব্যাংকে থাকা টাকা ও হাতে থাকা নগদ আলাদা খাত, তাই রিটার্নে দেখানোর সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

ব্যাংক হিসাবের টাকা

ব্যাংক হিসাবের টাকা দেখাতে হলে ৩০ জুন তারিখের স্থিতি অনুযায়ী তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একাধিক ব্যাংক হিসাব থাকলে প্রতিটি হিসাবের স্থিতি আলাদা করে দেখাতে হবে।

অনেকে আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবের টাকা নিজের ব্যাংকে জমা রাখেন। এতে লেনদেনের সংখ্যা বাড়ে এবং ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ব্যাংকে শুধুমাত্র নিজের অর্জিত অর্থ রাখতে হবে। যদি অন্যের টাকা আসে, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ লাখ টাকার যেকোনো লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করা বাধ্যতামূলক।

নগদ টাকা

রিটার্নে অতিরিক্ত নগদ দেখানো বিপজ্জনক হতে পারে। অস্বাভাবিক বেশি নগদ থাকলে কর কর্মকর্তারা সন্দেহ করতে পারেন এবং ফাইল নিরীক্ষায় (অডিটে) পড়তে হতে পারে। অনেক করদাতা আংশিক বোঝাপড়া ছাড়াই রিটার্নে ২০–৩০ লাখ টাকা নগদ দেখান, যা ভুল।

বাসায় নগদ রাখার সীমা সাধারণত সীমিত। তাই ৩০ জুন তারিখে হাতে থাকা প্রকৃত নগদ পরিমাণই রিটার্নে দেখাতে হবে।

আইনের ফাঁকফোকরের কারণে কেউ কেউ নগদ বেশি দেখান। উদাহরণস্বরূপ, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সমবায়মূলকভাবে অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে দলিলাদি না থাকলে রিটার্নে দেখানো যায় না। তবে পরবর্তীতে জমি বা অন্যান্য সম্পদ কিনলে ওই অর্থকে বৈধভাবে বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো যায়। সেক্ষেত্রে নগদ থেকে বিনিয়োগ করা অর্থও বৈধ হিসাবের মধ্যে ধরা হয়।

 




বন্ধ হচ্ছে ১০টির বেশি সিম আজ থেকে

আজ (১ নভেম্বর) থেকে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে ১০টির বেশি সক্রিয় সিম রাখা যাবে না। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, মোবাইল অপারেটররা আজ থেকেই অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করছে।

এর আগে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১৫টি সিম ব্যবহার করতে পারতেন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন একজন ব্যবহারকারী সব অপারেটর মিলিয়ে সর্বাধিক ১০টি সিম রাখতে পারবেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, ‘শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে অপারেটররা অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই নিশ্চিত করা হবে, কোনো এনআইডির নামে ১০টির বেশি সিম সক্রিয় না থাকে।’

বিটিআরসি সূত্র বলছে, সিম ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো ও বিভিন্ন প্রতারণা রোধ করতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। গ্রাহকরা চাইলে অনলাইনে অথবা *১৬০০২# ডায়াল করে নিজেদের এনআইডিতে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা জানতে পারবেন।

সিম বন্ধের প্রক্রিয়ায় ‘দৈবচয়ন’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘দৈবচয়ন অর্থাৎ র‌্যান্ডম সিলেকশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত সিমগুলো বাছাই করা হবে। এতে কোনো মানবিক সিদ্ধান্ত বা প্রভাবের সুযোগ থাকবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি সিম নিবন্ধিত থাকে, তবে অতিরিক্ত সিমগুলোর মধ্যে কোনগুলো নিষ্ক্রিয় হবে তা কম্পিউটারই এলোমেলোভাবে নির্ধারণ করবে।’

বিটিআরসি জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে সিম ও মোবাইল ডিভাইস একত্রে ট্র্যাকিংয়ের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে, যাতে অবৈধ বা নিবন্ধনবিহীন সিম ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যায়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে সক্রিয় মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬২ লাখ। অথচ প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা মাত্র ৬ কোটি ৭৫ লাখ। এর মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি গ্রাহকের নামে ৫টির কম সিম রয়েছে, ৬ থেকে ১০টি সিম আছে প্রায় ১৬ শতাংশের, আর ১১টির বেশি সিম ব্যবহার করেন মাত্র ৩ শতাংশ গ্রাহক।




প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চায় জামায়াত

নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজন ও দ্রুত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে জামায়াতে ইসলামী। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দলটি মাঠের কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

দলটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির বিষয়ে কথা বলার জন্য গত বৃহস্পতিবার জামায়াত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ চেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সময় দেওয়া হয়নি।

জামায়াতের অবস্থান, নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের জন্য এখনই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি জরুরি। কিন্তু সরকার সময়ক্ষেপণ করছে, যা গণভোট অনিশ্চিত করে তুলছে। ফলে দলটির নেতারা এখন সরকারের অবস্থান বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন।

দলটির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হয় যে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়, তবে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব।’

জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, লন্ডন বৈঠকের পর থেকে সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার প্রভাবে সরকারপ্রধান বিএনপির প্রতি ঝুঁকেছেন। তাদের মতে, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনসহ সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো বিএনপির দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গণভোটের ক্ষেত্রেও সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা বিএনপির অবস্থানকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে তারা মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক নেতা বলেন, ‘সরকার এখন একটি দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, এতে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা হারাচ্ছে।’

গণভোটের সময় ও ধরন নিয়েও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিএনপি বলছে, জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে—দুটি ব্যালটে। অন্যদিকে জামায়াতের দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর আলাদা সময়ে গণভোট আয়োজন করতে হবে, তারপর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন।

গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘একটি মহল নির্বাচন বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্র করছে।’

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন সংস্কার বাস্তবায়নকে গুরুত্বহীন করে দেবে, এতে কার্যত সংস্কার প্রক্রিয়া ভণ্ডুল হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নজরে রাখছি। সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করছি। জামায়াত রাষ্ট্রসংস্কারে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়। এ পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে আমরা মাঠে থাকব।’

 




শেয়ারবাজারে আজীবন নিষিদ্ধ রিয়াজ ইসলাম

ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ বিনিয়োগের অভিযোগে শেয়ারবাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ওই ছয় মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একই ঘটনায় যোগসাজশের দায়ে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামকেও পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

যদিও এর আগে বেক্সিমকোর বন্ডের অনিয়মের দায়ে শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এখন আরেকটি অনিয়মের ঘটনায় তাঁকে পুনরায় শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিএসইসি।
সভা শেষে বিএসইসির দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অনিয়মের ঘটনায় ছয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে, তাঁরা হলেন এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশে প্রধান নির্বাহী রিয়াজ ইসলাম, রেজাউর রহমান সোহাগ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) শরীফ আহসান, মদিনা আলী, সৈয়দ কামরুল হুদা, ওমর শোয়েব চৌধুরী ও বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয় বিজিআইসিকে। আর ছয় ব্যক্তিকে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই ১ কোটি টাকার বাইরে রেজাউর রহমান সোহাগকে আরো ১০ লাখ টাকা এবং শরীফ আহসানকে আরো ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
বিএসইসি জানিয়েছে, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের হাতে থাকা ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে শেয়ারবাজারে ওটিসি বাজারে থাকা বন্ধ কোম্পানি পদ্মা প্রিন্টার্সের শেয়ারে দুই দফায় প্রায় ৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়।

প্রথম দফায় বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানি পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালারের ৫১ শতাংশ শেয়ার চড়া মূল্যে অধিগ্রহণের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এই শেয়ার অধিগ্রহণের পর কোম্পানিটির নাম বদলে করা হয় কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড। নামবদলের পর কোয়েস্ট বিডিসির মূলধন বাড়াতে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে নতুন শেয়ার ইস্যু করে ছয়টি ফান্ড থেকে দ্বিতীয় দফায় ৪৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়।
বিএসইসি বলছে, বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ার চড়া মূল্যে কিনে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে এই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলত ফান্ডগুলোর ইউনিটধারীদের অর্থেরই অপচয় করা হয়েছে। এ কারণে সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানটি ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি।

সেই সঙ্গে ছয়টি ফান্ড থেকে বিনিয়োগ করা অর্থ–সুদসহ ৯০ কোটি টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় থাকা যে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ নিয়ে এই অনিয়ম ও অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো হলো এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও গ্রিন ডেলটা মিউচুয়াল ফান্ড।




রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে: পিআরআই

বিগত সরকারগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে– এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, শুধু আইনি বা কাঠামোগত স্বাধীনতা নয়, রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে, না হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের হোটেল আমারিতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপরিহার্য স্বাধীনতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব মতামত উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ, ড. আশিকুর রহমান। সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান, ড. সাদিক আহমেদ এবং সমাপনী বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান, ড. জাইদি সাত্তার।

ড. আশিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কখনো প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি। আমলাদের গভর্নর করা হয়েছে, ব্যাংকগুলো কয়েকটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সুদহার ও ডলারের দাম নির্ধারিত হয়েছে। ওই সময়ে ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ হলো দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা দেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। বাজার যদি মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আসে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক, ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাংক খাতের সব সূচকই এখন খারাপ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব প্রকাশ্যে এসেছে, তবে আমরা আগেই তা জানতাম। বাংলাদেশ ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফল এখন স্পষ্ট। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকৃত স্বাধীনতা দিতে হবে।

তিনি মনে করেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগ (এফআইডি) বিলুপ্ত করতে হবে, কারণ এক খাতে দ্বৈত শাসন চলতে পারে না। তার ভাষায়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা কার্যকর হবে না। পরবর্তী সরকারকে এই স্বাধীনতা স্বীকৃতি দিতে হবে।

ড. ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রাণশক্তি হলো আর্থিক খাত। এটিকে পুনরুদ্ধার না করলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে না। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে হলে এই খাতকে আগে সুস্থ করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ২০০৩ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় আমরা বড় অর্থনৈতিক সংস্কার করেছিলাম, যার সুফল দেশ এখনো পাচ্ছে। তবে সেগুলো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না দেওয়ায় পূর্ণ সুফল আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সময়ে ব্যাংকিং বিভাগ বিলুপ্ত করা হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় গেলে আবারও সেটি বিলুপ্ত করব। বাংলাদেশ ব্যাংককে শুধু স্বায়ত্তশাসন নয়, প্রকৃত স্বাধীনতা দিতে হবে।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নাসিম মঞ্জুর বলেন, ২০১৯ সাল থেকেই আমরা ডলারের দাম বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম কিন্তু সেটা করা হয়নি। পরে হঠাৎ করে ২০২২ সালে ৪১ শতাংশ বাড়ানো হয়, যার প্রভাব সবার ওপর পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিতে ধারাবাহিকতা থাকা দরকার। ব্যাংকিং বিভাগ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আইন যতই করা হোক, কাকে গভর্নর করা হচ্ছে সেটাই আসল বিষয়।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদের সময়ে আমরা একটি ভালো পরিবেশ দেখেছিলাম। আইন যেমনই হোক, ব্যাংক খাতের উন্নয়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি, শওকত আজিজ রাসেল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ, আখতার হোসেন প্রমুখ।




বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত আজীবন নিষিদ্ধ

পুঁজিবাজারের সব কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে । একই সঙ্গে একই শাস্তি দেওয়া হয়েছে এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সিইও ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকেও।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৯৭৮তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে সংস্থার পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিএসইসি জানায়, পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডে বিনিয়োগ ও কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেডের মূলধন ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রক্রিয়ায় অনৈতিক যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়ায় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ও রিয়াজ ইসলামকে পুঁজিবাজারের সব কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।




সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতি স্থগিত

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বন্দরে ৪১ শতাংশ বর্ধিত মাশুল প্রত্যাহারের দাবিতে সপ্তাহব্যাপী কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে সোমবার ( ২০ অক্টোবর ) এ কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এতে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

শনিবার ( ১৮ অক্টোবর ) সপ্তাহব্যাপী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চার ঘণ্টা কর্মবিরতি কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। রোববার ( ১৯ অক্টোবর ) তারা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন। এতে দেশের ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দরটিতে নতুন চালান খালাস কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম কর্মসূচি স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেহেতু বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্ধিত মাশুল প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে, তাই আমরাও কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষ সকালে আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কর্মীদের কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

ব্যবসায়ীদের আপত্তি উপেক্ষা করে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বন্দরের নতুন মাশুলের গেজেট প্রকাশ করা হয়। ১৫ অক্টোবর থেকে এই নতুন মাশুল কার্যকর হয়। আগের তুলনায় গড়ে প্রায় ৪১ শতাংশ মাশুল বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন।

যদিও কর্মবিরতির ফলে সোমবার (২০ অক্টোবর) কন্টেইনার সরবরাহ কার্যক্রমে তেমন কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি, তবে বন্দর কর্মকর্তারা ও শিপিং এজেন্টরা সতর্ক করে বলেছেন, এ কর্মসূচি চলতে থাকলে আগামী দিনগুলোতে বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিতে পারে।




শুল্কছাড়া বিদেশ থেকে কতটুকু স্বর্ণের গয়না আনা যাবে

স্বর্ণের দাম দিন দিন বেড়ে চলেছে। এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন দুই লাখ টাকাও ছাড়িয়ে গেছে। বিদেশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণের গয়না আনলে আপনাকে কোনো শুল্ক-কর দিতে হয় না।

ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্য দেশ থেকে দেশে ফেরার সময় আপনি শুল্কমুক্ত সুবিধায় স্বর্ণের গয়না আনতে পারবেন। আবার নির্দিষ্ট পরিমাণ শুল্ক দিয়ে স্বর্ণের বার দেশে আনার সুযোগ আছে।

অপর্যটক যাত্রীদের ব্যাগেজ রুলসের আওতায় চলতি অর্থবছর থেকে স্বর্ণের অলংকার ও স্বর্ণের বার ও মুঠোফোন আনার সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বাজেটের সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই বিধিমালা জারি করেছে।

কতটুকু স্বর্ণের গয়না শুল্কমুক্ত
নতুন ব্যাগেজ বিধিমালা (অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫) অনুসারে, বিদেশফেরত একজন যাত্রী কোনো শুল্ক ছাড়াই বছরে একবার সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম স্বর্ণের অলংকার আনতে পারবেন। এর মানে, প্রায় আট ভরি ১০ আনার স্বর্ণের গয়না আনলেও কোনো শুল্ক নেই।

অন্যদিকে রুপার অলংকার আনতে পারবেন ২০০ গ্রাম। তবে সোনা বা রুপা যা–ই হোক না কেন, একই ধরনের গয়না ১২ পিসের বেশি আনা যাবে না।

এ ছাড়া নতুন বিধিমালার আওতায় তোলাপ্রতি ৫ হাজার টাকা শুল্ক দিয়ে একজন যাত্রী বছরে একবার সর্বোচ্চ ১০ তোলা ওজনের একটি সোনার বার আনতে পারবেন।

কীভাবে আনবেন
যাত্রীরা বাংলাদেশের বিমানবন্দরে নামার পর একটি ফরম পূরণ করতে হয়। ফরমটির নাম ব্যাগেজ ঘোষণা ফরম। সেখানে নিজের নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ফ্লাইট নম্বর, জাতীয়তা, কোন দেশ থেকে এসেছেন—এসব তথ্য দিতে হয়। সেখানে জানাতে হয়, শুল্ক দিতে এমন এমন আনা কোনো পণ্য আছে কি না, থাকলে বিবরণী লিখতে হয়।

তবে ১০০ গ্রাম স্বর্ণের অলংকার ও ২০০ গ্রাম রুপার অলংকারের কম থাকলে এসব ফরম পূরণ করতে হবে না। এর বেশি থাকলে বাড়তি অংশের জন্য শুল্ক বসবে।

ব্যাগেজ রুলসের আওতায় শুল্ক বসবে না, এমন কোনো পণ্য থাকলে গ্রিন চ্যানেল দিয়ে সরাসরি বের হয়ে যেতে পারবেন।

দেশে এখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।

সরাসরি আমদানি না হওয়া কিংবা কমোডিটি এক্সচেঞ্জে বেচাকেনা না হলেও বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়ে। বৈধ পথে আমদানি না হওয়ার কারণে ব্যাগজ রুলসে আসা স্বর্ণ জোগানের বড় উৎস হয়ে উঠেছে। সে জন্য বিশ্ববাজারের তুলনায় দাম ভরিপ্রতি কয়েক হাজার টাকা বেশি হয়। আবার করোনার পর ডলারের বিপরীতে টাকা দুর্বল হওয়ার কারণেও স্বর্ণের দাম তুলনামূলক বেশি হারে বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস এক পূর্বাভাসে বলেছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এদিকে ব্যাংক অব আমেরিকা গ্লোবাল রিসার্চ পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছর প্রতি আউন্স সোনার দাম পাঁচ হাজার ডলারে পৌঁছাবে।

 




মার্চে শেষ হচ্ছে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি)। এর মধ্যে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের মার্চে।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি)। এর মধ্যে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের মার্চে। বিপিডিবির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের জন্য এরই মধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছে ভারতীয় কোম্পানি বিদ্যুৎ ভ্যাপর নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন)।

ভারতীয় গণমাধ্যম পিটিআই (প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া) ও ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, এনভিভিএন ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নেয়া বিদ্যুতের ক্রয় চুক্তি নবায়নে কাজ শুরু করেছে। কোম্পানির কর্মকর্তারা ১৮ অক্টোবর পিটিআইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভারতের ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন লিমিটেডের (টিএসইসিএল) সঙ্গে বিপিডিবির ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি রয়েছে। মূলত টিএসইসিএল এ বিদ্যুৎ এনভিভিএনের পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশকে সরবরাহ করছে। আগামী বছরের মার্চে এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এ হিসেবে চুক্তির মেয়াদ রয়েছে পাঁচ মাসের বেশি কিছু সময়।

এনভিভিএনের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে টিএসইসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ বোসের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি পিটিআইকে বলেন, ‘আমরা বিপিডিবির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে প্রস্তুত। টিএসইসিএল বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে, যা নভেম্বর থেকে ১০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে।’

টিএসইসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, ‘এনভিভিএন বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের (বিপিডিবি) সঙ্গে আলোচনা করবে। যদি তারা একমত হয় তাহলে আমরা প্রতিবেশী দেশটিতে (বাংলাদেশ) বিদ্যুৎ সরবরাহ চালিয়ে যাব।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১০ সালে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর আওতায় ২০১৭ সালের এপ্রিলে বিপিডিবি ও এনভিভিএনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর হয়, যার মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে আরেক দফা চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যা শেষ হচ্ছে আগামী বছরের মার্চে।

এনভিভিএনের পক্ষ থেকে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে তোড়জোড় শুরু হলেও বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত বিপিডিবি তেমন কিছুই জানে না বলে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন দুজন কর্মকর্তা। তারা জানান, এ বিষয়ে এনভিভিএন বা টিএসইসিএলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চিঠি তারা পাননি। তবে চিঠি পেলে বিপিডিবি বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিডিবির শীর্ষ এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এনভিভিএনের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আগে বিপিডিবি বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা সভা করবে, তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তাছাড়া চুক্তি নবায়নের বিষয়টি নিয়ে এনভিভিএনের পক্ষ থেকেও কোনো চিঠি পাইনি আমরা। যদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নবায়নের পরিকল্পনা করা হয়, তাহলে দাম কমানোর বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হবে।’

তিনি আরো জানান, আগামী জানুয়ারি থেকে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিপিডিবির। তখন ত্রিপুরা থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা সে বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের ত্রিপুরা থেকে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তার হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে বিপিডিবির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এনভিভিএন ইন্ডিয়া (ত্রিপুরা) ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় ৯৭ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১০৭ কোটি ৩৮ লাখ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।

পিজিসিবির তথ্য থেকে জানা গেছে, ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় বিপিডিবি বর্তমানে কোনো কোনো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানি করছে।