বিজিএমইএ ভোট: ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ’ করার প্রতিশ্রুতি সম্মিলিত পরিষদের

 

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নির্বাচনে জয়ী হলে শিল্প রক্ষায় এ খাতের ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সম্মিলিত পরিষদ।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে প্যানেল পরিচিতির শেষ দিনে এমন প্রতিশ্রুতি দেন প্যানেলের প্রার্থীরা।

৩১ মে বিজিএমইএ নির্বাচন হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ভোট চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে তিনটি প্যানেলে ৭৬ জন প্রতিদ্বন্দিতা করবেন।

বিজিএমইএ নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সাবেক চেয়ারম্যান।

শনিবার থেকে শুরু হয় পাঁচ দিনের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান। প্রথম তিন দিন হল ঢাকায়; পরের দুদিন হবে চট্টগ্রামে।

প্যানেল লিডার ও চৈতি গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম বলেন, “বছরে ১২ হাজার ডলার রপ্তানি করা পোশাক খাত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় রপ্তানিকারক দেশ। ভোটে জিতলে ক্রেতাদের আস্থা ফেরাতে কাজ করব।

“পোশাক খাত এখন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।”

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “নির্বাচনের পর গ্রুপ ভুলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

বিদেশিদের নিয়ে বিনিয়োগ সম্মেলন করার পর সরকারের কাছে দেশিয় উদ্যোক্তাদের নিয়ে ‘কিছু একটা করার’ আহ্বান করেন বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন।

ভোটের মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল মিলিয়ে ৩৫ পরিচালক নির্বাচিত হবেন। তারা আগামী ২০২৫-২৭ মেয়াদে বিজিএমইএ পর্ষদের দায়িত্ব ঠিক করবেন।




জাতীয় চা পুরস্কার পেলো ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

জাতীয় চা দিবসে পুরস্কার পেয়েছে ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান। বুধবার (২১ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় চা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

৮টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৫ প্রাপ্তদের তালিকা:

প্রথম ক্যাটাগরিতে একর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগানের পুরস্কার পেয়েছে ডিনস্টন চা বাগান। সর্বোচ্চ গুণগতমান সম্পন্ন উৎপাদনকারী বাগান হয়েছে মধুপুর চা বাগান। শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক হয়েছে দি কনসোলিডেটেড টি এন্ড ল্যান্ডস কো. বাংলাদেশ লিমেটেড। শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী হয়েছেন পঞ্চগড়ের এ.বি.এম. আখতারুজ্জামান। শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান হয়েছে মির্জাপুর চা বাগান।

বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণের সেরা প্রতিষ্ঠান হয়েছে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড।

দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা মোড়কেরভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা প্রতিষ্ঠান/কোম্পানির পুরস্কারও জিতেছে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড।

শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী (শ্রমিক সম্পর্কিত পুরস্কার) পেয়েছেন নেপচুন চা বাগানের চা শ্রমিক জেসমিন আক্তার।

এদিকে, এ বছর সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরি এবং সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে ২টি বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

ওই দুটি প্রতিষ্ঠান হলো সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে সুপ্রিম টি লিমিটেড ও সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে মরগেন টি ইন্ডাস্ট্রিজ।




কোস্ট গার্ডের অভিযানে সোয়া ৪ কোটি টাকার বিদেশি মদ ও বিয়ারের চালান জব্দ

 

নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে প্রায় সোয়া ৪ কোটি টাকা মূল্যের বিদেশি মদ ও বিয়ারের চালান আটক করেছে কোস্ট গার্ডের পূর্ব জোন। গতকাল হালিশহরের ডগির খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব বিদেশি মদ ও বিয়ার আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল শনিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল নগরীর হালিশহরের ডগির খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে একটি ডেনিশ বোট থেকে সন্দেহজনক কিছু বস্তা নামাতে দেখা যায়। এ সময় তাদের থামার সংকেত দিলে তারা বোট এবং বস্তাগুলো জঙ্গলে ফেলে প্যারাবন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বোট এবং খালের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আনুমানিক ৪ কোটি ১৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা মূল্যের ৩৩০ এমএল সাইজের হাইনিকেন অরিজিনাল বিয়ার ১ হাজার ৫৬ পিস, ১ হাজার এমএল সাইজের পাসপোর্ট স্কচ ৩০০ পিচ, ১ হাজার এমএল সাইজের রেড লেভেল ২৫০ পিস, ১ হাজার এমএল সাইজের হান্ড্রেড পাইপার্স ৩৪৭ পিস মদ এবং ৪ বোতল টুইন ভ্যালি অলিভ ওয়েল উদ্ধার করা হয়। মাদক পাচার রোধকল্পে কোস্ট গার্ডের এরূপ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।




বিমা কেন করবেন

বিমা বলতে সাধারণত ধারণা করা হয়, মানুষের মৃত্যুর পর বিমার টাকা পাওয়া যায়। জীবিত মানুষের সঙ্গে এর তেমন সম্পর্ক নেই। ফলে বিমা মানে মৃত্যুর পর সুবিধা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সমাজে প্রচলিত ছিল। কিন্তু সেই দিন আর নেই। বিমা কোম্পানিগুলো নতুন নতুন অনেক ধরনের পণ্য নিয়ে আসছে। এসব পণ্যের সঙ্গে সহযোগী বিভিন্ন বিমাও আছে।

মূল বিমার সঙ্গে স্বাস্থ্য, দুর্ঘটনা, শিক্ষাবিমা নেওয়া যায়। শুধু মূল বিমার সঙ্গে সহযোগী বিমা হিসেবেই নয়; এখন স্বাস্থ্য ও শিক্ষাবিমা আলাদা বা পৃথকভাবেও নেওয়া যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যয়ের চিন্তা করে এসব বিমা নিচ্ছেন। এ ছাড়া এককভাবে স্বাস্থ্যবিমাও বিক্রি করছে দেশের বেশ কয়েকটি বিমা কোম্পানি। সামগ্রিকভাবে দেশের বিমাপণ্যের বৈচিত্র্য এসেছে। সেই সঙ্গে এসেছে ব্যাংকাস্যুরেন্স। অর্থাৎ ব্যাংক ও বিমা কোম্পানি যৌথভাবে এই সেবা দিচ্ছে।

বিমা করার আগে মনে রাখা দরকার, বিমা সাধারণ সঞ্চয় নয়, বরং বিমা হলো একধরনের নিরাপত্তা। মানুষকে নির্দিষ্ট কিছু অনিশ্চয়তার বিপরীতে নিশ্চয়তা দেয় বিমা। সেই সঙ্গে আছে সঞ্চয়। অর্থাৎ এটি কার্যত নিরাপত্তা ও সঞ্চয়ের মিশ্রণ। সেই সঙ্গে বাড়তি সুবিধা হলো, বিমা আয়করমুক্ত।

মানুষের জীবনের বৈচিত্র্যপূর্ণ চাহিদা পূরণে জীবনবিমা কোম্পানিগুলোও উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে আসছে। সেই সঙ্গে জীবনবিমা পলিসি গ্রহণ ও প্রিমিয়াম দেওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। এমনকি প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার জন্যও এখন আর অফিস যেতে হয় না। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দেওয়া যাচ্ছে। আছে পলিসিসংক্রান্ত এসএমএস সেবা ও হটলাইন। যদিও সব কোম্পানি এই সেবা দিচ্ছে না।

বিমা খাতের ডিজিটালাইজেশন কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলালিংক মোবাইল ফোনের গ্রাহকেরা পছন্দের বান্ডিল প্যাক রিচার্জ করে জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমা পলিসি গ্রহণ করতে পারছেন। গার্ডিয়ান লাইফ এই সেবা দিচ্ছে। এ ছাড়া জীবনবিমা পলিসিতে ভ্রমণবিমাকে সহযোগী বিমা হিসেবে যোগ করা যেতে পারে। এই সহযোগী বিমা গ্রাহকদের ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত বিমাসেবা দেবে। সেই সঙ্গে মূল বিমার সঙ্গে হাসপাতাল, দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন খাতে কয়েক বছরে বেশ কিছু উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে এসেছে দেশের বিমা কোম্পানিগুলো। সেই সঙ্গে প্রথাগত বেশ কিছু বিমাপণ্যও বেশ কার্যকর। তার মধ্য থেকে কয়েকটি বিমাপণ্যের বিবরণ দেওয়া হলো:

স্বাস্থ্যবিমা

বাংলাদেশে চিকিৎসা বাবদ ব্যক্তির পকেট থেকে ব্যয় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ—৭২ শতাংশ। এর অর্থ হলো, চিকিৎসা বাবদ গড়ে ১০০ টাকা ব্যয় হলে তার ৭২ শতাংশই খরচ করছেন ব্যক্তি। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এই খরচ মালদ্বীপে ১৮, ভুটানে ২৫, শ্রীলঙ্কায় ৪২, নেপালে ৪৭, পাকিস্তানে ৫৬ ও ভারতে ৬২ শতাংশ। বিগত প্রায় দেড় যুগের বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্বাস্থ্য খাত বরাবরই অবহেলার শিকার। এই বাস্তবতায় স্বাস্থ্যবিমা বেশ কার্যকর হতে পারে বলেই মনে করেন বিমা খাত বিশেষজ্ঞরা।

দেশে গুরুতর রোগে যাঁরা আক্রান্ত হন, তাঁদের সিংহভাগই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সরকারি হাসপাতালে গুরুতর রোগের চিকিৎসা মেলে না বললেই চলে। বাস্তবতা হলো, বড় কোনো অসুখে পরিবার পথে বসে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দেশে স্বাস্থ্যবিমার ব্যাপক প্রসারের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। স্বাস্থ্যবিমা যেমন মূল বিমা পলিসির সঙ্গে নেওয়া যায়, তেমনি পৃথক বিমা পলিসি হিসেবেও নেওয়া যায়। ডেলটা লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ, মেটলাইফসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় জীবনবিমা কোম্পানিগুলো এই বিমাপণ্য দিয়ে থাকে।

শিক্ষাবিমা

প্রত্যেক মা–বাবাই চান, সন্তান উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, যেন তাঁরা জীবনে সফলতা অর্জন করে নিশ্চিন্ত জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু সঠিক আর্থিক পরিকল্পনার অভাবে অথবা আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে অনেকেই সন্তানের জন্য উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন। মেটলাইফসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি এই বিমাসুবিধা নিয়ে এসেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পলিসিগ্রহীতার মৃত্যু হলে দায় বাদ দিয়ে এককালীন প্রদেয় হিসেবে পুরো বিমা অঙ্কে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিমাগ্রহীতার মৃত্যু না হলে সন্তানের শিক্ষালাভ সহজতর করতে নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্দিষ্ট হারে বিমা অঙ্ক ফেরত দেওয়া হয়।

পেনশন বিমা

আপনার অবসরজীবনের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে দেশের বিমা কোম্পানিগুলো পেনশন বিমাসেবাও দিচ্ছে। কর্মজীবনে নির্দিষ্ট সময় প্রিমিয়াম প্রদানের মাধ্যমে অবসরকালে নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা দেয় এই বিমা। এই পলিসির প্রধান সুবিধাগুলো হলো সরকারের পেনশন স্কিমের মতো নির্দিষ্ট অঙ্কের পেনশন–সেবা নেওয়া যায়। প্রিমিয়াম দেওয়ার সময় প্রয়োজনে ঋণসুবিধা পাওয়া যায়। অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের মাধ্যমে দুর্ঘটনাজনিত বিমাসেবা নেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের মাধ্যমে জীবনকালে বিমাসুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা যোগ করা যায়। অর্থাৎ নিয়মিত পেনশনের সঙ্গে বিমাসুবিধার সংমিশ্রণ ঘটেছে এই বিমায়।