১৩ জুলাই বরিশাল সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের ৪ মাসের মাথায় প্রথমবারের মত বরিশাল বিভাগীয় সদরে সরকারি সফরে আসছেন ১৩ জুলাই।

ঐদিন বরিশাল পৌঁছে মহানগরীর পাশে বহমান কির্তনখোলা নদীর অপর পাড়ে চরকাউয়া এলাকায় সদ্য পুণঃ খননকৃত একটি খালের দু ধারে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরেই বরিশালের বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে সরকারী নির্দেশনা এসেছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দুপুরের পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে পূর্ব নির্ধারিত এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় সদ্য যোগদানকৃত জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন খন্দকার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পরে রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করে প্রথমবারের মত তারেক রহমান বরিশাল বিভাগীয় সদরে আসছেন। এর আগে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি গত ফ্রেুব্রয়ারির প্রথম সপ্তাহে বরিশালের বেলপার্ক ময়দানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন।

. ১৯৭৮ সালে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে চরকাউয়া এলাকার এখালটি খনন করেছিলেন। এরপরে দীর্ঘদিন কোন ধরনের সংস্কার না হওয়ায় খালটি মজে গিয়ে এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি করছিল।

গত অক্টোবরে বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পরে বরিশালের তৎকালীন জেলার প্রশাসক মোঃ দেলওয়ার হোসেন সরেজমিনে মজে যাওয়া খালটি পরিদর্শন করে বিএডিসি’র একটি প্রকল্পের আওতায় পুণঃ খননের নির্দেশ দেন। প্রায় ২ হাজার ৭শ মিটার দৈর্ঘ এবং ১০ মিটার প্রস্থ ও ৩ মিটার গভীর এ খালটি খনন করতে গিয়ে প্রায় ১২ লাখ ঘন মিটার পলি ও মাটি অপসারন করতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ জুলাই বরিশাল সফরকালে সদ্য পুণঃ খননকৃত খালটি পরিদর্শন সহ এর দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।




প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল এবং তাঁর টিমের সঙ্গে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকেছিলেন, আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জেনেছেন। কিছু বিষয়ে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রী কোনো বিশেষ বার্তা দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, কিছু বলেছেন। তবে এখন এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। তিনি আমাদের পুরো টিমের কাজের প্রশংসা করেছেন।”

এদিকে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজালবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, সিটি করপোরেশন এবং মাঠপর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী কমিটিকে এক মাসের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিন সদস্যের এ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জেলা পর্যায়ে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন, উন্নত সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা আরও কার্যকর করার দাবিও জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমস্যা থাকবেই। কিন্তু সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না। পৃথিবীর অনেক দেশ একসময় আমাদের চেয়েও পিছিয়ে ছিল, অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভেজালবিরোধী অভিযান এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে তিনি অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং আইন প্রয়োগে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তাঁর শান্ত, ধৈর্যশীল ও পেশাদার আচরণ মাঠপর্যায়ের অভিযানে ইতিবাচকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।




লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ও সিইওদের নিয়ে সভা ডেকেছে বিআইএ

দেশের বীমা শিল্পের চলমান সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং করণীয় নির্ধারণে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) নিয়ে উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)।

আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিআইএর সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক (এনডিসি) স্বাক্ষরিত ৫ জুলাইয়ের এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বীমা শিল্পের চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ।

বিআইএ সভাটিকে বীমা খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে কোনো কারণে চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকতে অপারগ হলে কোম্পানির ভাইস-চেয়ারম্যান অথবা পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যকে অবশ্যই সভায় অংশ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির চেয়ারম্যানকে যথাযথভাবে অবহিত করার জন্যও সিইওদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বীমা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, অনিষ্পন্ন দাবি নিষ্পত্তি, নিয়ন্ত্রক সংস্কার এবং শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে বিআইএর এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নতুন কমিটি

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ-এর ৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। আগামী দুই বছরের জন্য গঠিত এই কমিটি দেশের গণপরিবহনে যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠা, হয়রানি প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের অঙ্গীকার করেছে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন ২০২৬ সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গঠিত নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। পরে ২৫ জুন ঢাকা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ও নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষ আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান কমিটিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন। কমিটির মেয়াদ ২০ জুন ২০২৬ থেকে ১৯ জুন ২০২৮ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নতুন কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কামারুন নাহার, সাধারণ সম্পাদক সায়মুন নাহার জিদনী, অর্থ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল যুবায়ের, দপ্তর সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়া, প্রচার সম্পাদক মোক্তার হোসেন এবং দুর্ঘটনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. আবদুল মতিন চৌধুরী।
নবনির্বাচিত নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সংগঠনের সাধারণ পরিষদের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ ও বৈষম্যহীন যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণে নতুন কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে যাত্রী হয়রানি রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণেরও ঘোষণা দেন তারা।
সংগঠনের নেতাদের মতে, যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করাই হবে নতুন কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।




বিশ্বের ১০ জনবহুল দেশের ৮টিই নেই বিশ্বকাপে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ১৭ জুনের এক ম্যাচে যখন আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোলটি করেন, তখন ঢাকার এক জনাকীর্ণ উন্মুক্ত দর্শক সমাবেশে শুরু হয় উন্মাতাল উদযাপন। কিন্তু সেখানে একজনও আর্জেন্টাইন ছিলেন না। আকাশি-সাদা বিখ্যাত আলবিসেলেস্তে জার্সি পরে লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে উদযাপন করা হাজারো সমর্থক ছিলেন বাংলাদেশের মানুষ। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরেও একই রকম পথের ধারে আবেগঘন দর্শক সমাবেশ দেখা গেছে। মেসি ও তার সতীর্থদের এসব দেশের সমর্থকরা যেন নিজেদের দল হিসেবেই গ্রহণ করেছেন। এর একটি বড় কারণ হলো, তাদের নিজ নিজ দেশ বারবারই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ১০টি দেশের মধ্যে বর্তমান বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পেরেছে মাত্র দুটি। তারা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল। অন্য দুটি দেশ রাশিয়া ও নাইজেরিয়া আগের একাধিক বিশ্বকাপে খেলেছে। চীন ও ইন্দোনেশিয়া ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই বৈশ্বিক আসরে অংশ নিয়েছে মাত্র একবার করে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত, পাশাপাশি বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও পাকিস্তান এখনো বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নই দেখে। যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল, তবে টুর্নামেন্ট শুরুর এক মাসেরও কম সময় আগে তারা নাম প্রত্যাহার করে নেয়। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি দীর্ঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বাংলাদেশের ফুটবলের দৈন্যদশাও তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের খ্যাতিমান অভিনেতা, লেখক ও ফুটবলপ্রেমী অদিতি করিম বলেন, লাখো-লাখো ফুটবল সমর্থকের একটি দেশ ফুটবলে এতটা পিছিয়ে থাকবে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাহলে জনসংখ্যা কেন ফুটবল সাফল্যের নির্ভরযোগ্য নির্দেশক নয়? তাত্ত্বিকভাবে কোনো দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, সম্ভাব্য খেলোয়াড়ের সংখ্যাও তত বেশি হওয়ার কথা। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতা আটটি দেশের মধ্যে সাতটি হলো আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেন। তারা তুলনামূলকভাবে বড় জনসংখ্যার দেশ। একমাত্র ব্যতিক্রম উরুগুয়ে। যদিও তার ব্যাখ্যা পরে আসছে।

তবে বৃটিশ শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ স্টেফান সিজমানস্কির মতে, জনসংখ্যা ফুটবল সাফল্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাত্র একটি। বেস্টসেলার বই ‘সকারনমিকস’-এর সহ-লেখক সিজমানস্কি বলেন, ফুটবল অনেকটা জাতীয় অর্থনীতির মতো। উন্নতি করতে মানুষের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাশাপাশি মূলধন ও অবকাঠামোও দরকার। তিনি বলেন, ফুটবলের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং প্রতিভা খুঁজে বের করার সক্ষমতা। সিজমানস্কির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ সফল ফুটবল দেশের আরেকটি মিল হলো তারা ধনী দেশ। ‘সকারনমিকস’ বইয়ে সিজমানস্কি ও তার সহ-লেখক সাইমন কুপার দেখিয়েছেন, কোনো দেশের বড় শিরোপা জিততে সাধারণত মাথাপিছু বার্ষিক গড় আয় কমপক্ষে ১৫ হাজার ডলার হওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মাথাপিছু আয় এই সীমার অনেক নিচে হলেও তারা দু’দেশ মিলিয়ে আটটি বিশ্বকাপ জিতেছে। সিজমানস্কির মতে, এটিই তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটির গুরুত্ব প্রমাণ করে- অভিজ্ঞতা ও ফুটবল-জ্ঞান। তিনি বলেন, এটি আসে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে। যেসব দেশ আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছে, তারা প্রায় ১০০ বছর আগেই ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, যখন উপনিবেশবাদ শেষ হয়নি।

অন্যদের জন্য দীর্ঘ পথ
সহজভাবে বললে, যেসব দেশ নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নেয় এবং সফল হয়, তারা ইতিহাসজুড়ে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ অঞ্চলে। এ কারণেই মাত্র ৩৫ লাখ জনসংখ্যার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে দুটি বিশ্বকাপ জিততে পেরেছিল। উরুগুয়ের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ১৯০২ সালে, যেখানে তারা আর্জেন্টিনার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছিল। সেটি ছিল ব্রাজিলের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেরও ১২ বছর আগে। অন্যদিকে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অনেক পরে আত্মপ্রকাশ করেছে, অথবা সেখানে ফুটবলের বিকাশ হয়েছে আরও পরে। ফলে তাদের অনেক বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কিছু দেশ অবশ্য ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে।

১৯৫৬ সালে স্পেন ও ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়া মরক্কো ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান দেশ হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত শীর্ষ চারে থাকা একমাত্র এশীয় দেশ। কিন্তু সিজমানস্কি বলেন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশসহ আরও কিছু দেশকে আমরা এখনো এগিয়ে আসতে দেখছি না। তার মতে, এসব দেশ সম্পদ ও দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এমনকি বিনিয়োগ বাড়লেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ঘাটতি তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে থাকবে।

ইথিওপিয়া কখনোই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তারা ১৯৬২ সালে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস জিতেছিল। তবে বিশ্বকাপে ওঠার সবচেয়ে বড় সুযোগ এসেছিল ২০১৪ সালের বাছাইপর্বে। শেষ ধাপে উঠলেও দুই লেগ মিলিয়ে নাইজেরিয়ার কাছে হেরে যায়। বর্তমানে দেশটির ফুটবল স্থানীয় গণমাধ্যমের ভাষায় তীব্র বিনিয়োগ সংকটে ভুগছে। এর একটি উদাহরণ হলো, চলমান পেশাদার লিগে উপযুক্ত স্টেডিয়ামের অভাবে ৩৮০টিরও বেশি ম্যাচ মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। ইথিওপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিফলে সাইফে ২৭ জুন দ্য রিপোর্টার পত্রিকাকে বলেন, এই মৌসুমে আমরা মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়াম ব্যবহার করে ৩৮০টির বেশি ম্যাচ আয়োজন করেছি। স্টেডিয়ামের এই সংকটের কারণে জাতীয় দলকেও আফ্রিকান বাছাইপর্বে নিজেদের হোম ম্যাচ মরক্কোতে খেলতে হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেট-বাধা, নাকি অজুহাত?

কিছু দেশ অন্য খেলায় সাফল্যের কারণেও ফুটবলে পিছিয়ে পড়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্রিকেট দেশ এবং তাদের পেশাদার লিগ আইপিএল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট লিগ। ভারতের সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার শ্যাম থাপার মতে, এর ফলে ফুটবলে খেলোয়াড় সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আইপিএলের সাফল্যের কারণে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা সন্তানদের ফুটবলের বদলে ক্রিকেটের দিকে বেশি উৎসাহিত করছেন। থাপা বলেন, তাদের বোঝা উচিত, ফুটবলেও সফল ক্যারিয়ার গড়ে ভালো অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। তবে অদিতি করিম মনে করেন, ক্রিকেটকে দায়ী করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ক্রিকেটের শক্তিধর দেশ হয়েও ফুটবলে উন্নতি করছে এবং বিশ্বকাপে খেলছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে দায়ী করা নিছক অজুহাত। তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপে খেলার মতো প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত প্রণালি আমাদের নেই।News

চীন কি ঘুমন্ত দৈত্য?

চীনের পরিস্থিতি আরও রহস্যময়। কয়েক দশকে অলিম্পিকে তারা বিশ্বের অন্যতম সফল দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু পুরুষ ফুটবলে সেই সাফল্যের প্রতিফলন ঘটেনি। বেইজিংভিত্তিক চীনা ফুটবল বিশেষজ্ঞ মার্ক ড্রেয়ার বলেন, তাত্ত্বিকভাবে বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরি করতে না পারার কোনো কারণ চীনের নেই। তার মতে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ। তিনি বলেন, চীনে সবকিছু রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে এবং সিদ্ধান্ত আসে ওপর থেকে। ফুটবল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ফুটবল বোঝেন এমন মানুষের, কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনেক বেশি। ২০১০-এর দশক থেকে বিপুল বিনিয়োগ করা হলেও চীন ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি। সেই বিনিয়োগের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের বহু খ্যাতনামা খেলোয়াড়কে চীনা লিগে আনা হয়েছিল, যাতে স্থানীয় ফুটবলের মান উন্নত হয়। চীনের মতো ইন্দোনেশিয়াও একবার বিশ্বকাপে খেলেছিল ১৯৩৮ সালে। তখন দেশটি নেদারল্যান্ডসের উপনিবেশ ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ নামে অংশ নিয়েছিল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তারা শেষ রাউন্ড পর্যন্ত উঠেছিল। বিবিসির ইন্দোনেশিয়ান বিভাগের নিউজ এডিটর জেরোম উইরাওয়ানের মতে, এর পেছনে মূল কারণ ছিল স্থানীয় খেলোয়াড় নয়, বরং ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্ত করা। তিনি বলেন, অনেক সময় ইন্দোনেশিয়ার শুরুর একাদশে আট কিংবা নয়জনই ইউরোপে জন্ম নেয়া খেলোয়াড় ছিলেন।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এশিয়ান বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচে কোনো জয় ছাড়াই গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এদিকে পাকিস্তানের ফুটবল ফেডারেশনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তিনবার দেশটিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

তবুও উৎসবের আনন্দ

তাই বহু দেশের ফুটবল সমর্থকের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনো অনেক দূরের।
তবে অদিতি করিমের মতে, আপাতত সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো এই বৈশ্বিক উৎসবের আনন্দ উপভোগ করা। তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখার কোনো সম্ভাবনা আমি দেখি না। তবুও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্তের আনন্দ উপভোগ করতে চাইবেন। উৎস: মানবজমিন।




বিশ্বমানের হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়তে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটির সভা

দেশে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, আধুনিক ট্রেনিং সেন্টার এবং বিশেষায়িত মোটিভেশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেছে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ।

গত রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এ সভায় দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবির। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির প্রকল্প উপদেষ্টা এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই নিউজ (DUAN 1986)-এর সম্পাদক মো. নিয়ামত আলী।

বক্তারা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েকটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আধুনিক ক্যান্সার ও জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য স্পেশালাইজড হাসপাতাল, আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক ও নার্স তৈরির লক্ষ্যে মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্যসেবা, ইতিবাচক মানসিকতা ও সামাজিক দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষায়িত মোটিভেশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দারুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়ার উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস মিজান, ছাতক সিমেন্ট কারখানার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু সাঈদ, বিটাক (BITAC)-এর সাবেক পরিচালক মো. শফিকুর রহমান, আইএমইডি (IMED)-এর কনসালটেন্ট প্রকৌশলী ইলিয়াস আহমেদ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসাইন তালুকদার।

এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন খাতের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদরা সভায় অংশ নেন।

আলোচনা শেষে উপস্থিত অতিথিরা এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক উল্লেখ করে প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।




ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে দেশ, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী

দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রণীত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে বের করে সম্ভাবনার নতুন পথে এগিয়ে নেবে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সেসব সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো যায়।
তিনি বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ-সবই বাংলাদেশে আসছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, কারণ এখানে সমুদ্রবন্দর রয়েছে এবং এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বও অনেক বেশি। এ কারণেই সরকারের পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের হাবে পরিণত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে এবং বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।

মাতারবাড়িতেও বড় ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং সরকার যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করছে।

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সহজ কাজ নয়। আগের সরকারগুলোর রেখে যাওয়া পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তাই প্রথমে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, এরপর সম্ভাবনার পথে এগোতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয় বা চতুর্থ বছর থেকে দেশের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধির পথচলা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হবে। সরকার যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, দেশ ধীরে ধীরে সেদিকেই এগিয়ে যাবে। নতুন নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগও বাড়ছে। তাই বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য এবং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।




জাদুর নামে প্রতারণা ও পকেটমারের অভয়ারণ্য, দেখার কি কেউ নেই?

দেশের প্রধান এবং সবচেয়ে ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার কমলাপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে জাদুর নামে প্রতারণা, জুয়া এবং পকেটমারদের দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে করে এই স্টেশনে যাতায়াত করেন। সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় কেপিআই (KPI) এলাকা হলেও এখানে এসে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন যাত্রীরা।

​সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও প্রবেশমুখের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে একদল চক্র তথাকথিত ‘জাদুর খেলা’র আসর বসিয়েছে। আসলে জাদুর নামে সেখানে যা চলছে, তা মূলত এক ধরণের সুকৌশলী প্রতারণা ও জুয়া। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ কৌতুহলবশত সেখানে দাঁড়ালেই এই চক্রটি তাদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করে এবং একপর্যায়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।

​অভিযোগ রয়েছে, এই জাদুর আসরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ভিড়ের মধ্যে তীব্রভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পকেটমার ও ছিনতাইকারী চক্র। প্রতিদিন অসংখ্য অসচেতন যাত্রী এখানে পকেট কাটা পড়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

​ভুক্তভোগী যাত্রীদের মতে, প্ল্যাটফর্মের মতো জনাকীর্ণ জায়গায় এভাবে জাদুর আসর বসিয়ে জটলা তৈরি করার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই জাতীয় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের, তাদের এমন নীরব ভূমিকা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— “এখানে কি দেখার কেউ নেই?”

​ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অনতিবিলম্বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এই ধরনের প্রতারণামূলক জাদুর আসর উচ্ছেদ এবং পকেটমার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।




এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরকার ৩০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  তিনি বলেছেন, পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।

ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নজরদারি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও কার্যকর করা যায়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

এআই-ভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।

ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেও বলে জানান তিনি।

পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।

এলপিজির মূল্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও কোথাও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গণমাধ্যমে বিষয়টি আরও কিছুদিন গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম কমিয়ে আনবেন।

রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি কমেছে। জ্বালানি-সংক্রান্ত কারণে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে।

 

মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেসব পথ বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।




সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ইতিহাস

রেকর্ড দিয়ে শেষ হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছর। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স এর আগে কখনো আসেনি।

আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এদিকে অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগের বছরের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠান। ঈদ-পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে যাওয়ায় জুন মাসে রেমিট্যান্সেও কিছুটা স্বাভাবিক নিম্নগতি দেখা দিয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।




জন্মহার বাড়াতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স

দেশের ক্রমাগত হ্রাস পাওয়া জন্মহার বাড়াতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ‘জনসংখ্যাগত পুনর্গঠন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১ জুন থেকে নতুন এই অতিরিক্ত বেতনসহ অভিভাবকত্ব ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী সন্তানের মা এবং বাবা—উভয়ই এই ছুটির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

এর আগে ফ্রান্সে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েদের জন্য প্রায় চার মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং বাবাদের জন্য ২৮ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান ছিল। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পূর্বের বিদ্যমান ছুটির পাশাপাশি বাবা-মা চাইলে অতিরিক্ত আরও এক বা দুই মাসের ছুটি ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন।

এই অতিরিক্ত ছুটির প্রথম মাসে অভিভাবকেরা তাদের মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় মাসে ৬০ শতাংশ অর্থ ভাতা হিসেবে পাবেন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের মা-বাবা এবং দত্তক গ্রহণকারী অভিভাবকেরা এই নতুন সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।

পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুড়েই বর্তমানে জন্মহার কমছে। ফ্রান্সের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, গত বছর দেশটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার মানুষের মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে শিশুর জন্মহার কম রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৪ সালেই প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ দেশের এই নিম্নমুখী জন্মহার এবং বন্ধ্যাত্ব সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা উন্মোচন করেছিলেন, যারই ধারাবাহিকতায় এই নতুন নীতি বাস্তবায়ন করা হলো।

তবে সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগকে পুরোপুরি স্বাগত জানাতে পারছে না দেশটির নারী অধিকারবাদী সংগঠনগুলো। ফেমিনিস্ট গ্রুপগুলোর মতে, এই সংস্কার লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খুব একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে না।

তাদের দাবি, সাধারণত পরিবারগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীদের আয় কম থাকে। ফলে অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে এই অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীরাই বেশি এগিয়ে থাকবেন, যা কর্মক্ষেত্রে তাদের আরও পিছিয়ে দিতে পারে।

সূত্র: জিও নিউজ।




পলাতক থেকেও ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে সাঈদ খোকনের দাপট

ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে করপোরেট গভর্ন্যান্স লঙ্ঘন, বোর্ড পরিচালনায় অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পৃথক তদন্ত শেষ হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পক্ষ থেকে দীর্ঘ দিনেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বীমা খাতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন সাঈদ খোকন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে না গেলেও অজ্ঞাত স্থান থেকে কোম্পানির কার্যক্রমে তার প্রভাব বজায় রেখেছেন। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনি অনলাইনে যুক্ত হয়ে অংশ নেন। ওই সভায় ১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইডিআরএ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালকদের সভায় সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক হওয়ায়, সাঈদ খোকনের ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ এবং ওই সভার সিদ্ধান্তগুলোর আইনি বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় সাঈদ খোকনের হয়ে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন তার চাচা ও কোম্পানিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ঈসমাইল নওয়াব।

এই অনিয়মের সূত্র ধরে কোম্পানির সাতজন উদ্যোক্তা পরিচালকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ নভেম্বর বিএসইসি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তদন্ত শেষ হওয়ার পরও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তে চেয়ারম্যান হিসেবে সাঈদ খোকনের দীর্ঘ ১৩ বছরের একছত্র দায়িত্ব পালন, বোর্ড অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্যোক্তা পরিচালক অপসারণ করে নিজের পরিবারের সদস্যদের পরিচালক নিয়োগ, কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিমতো নিয়োগ ও অপসারণ এবং আইন লঙ্ঘন করে আত্মগোপনে থেকে কোম্পানি পরিচালনার মতো গুরুতর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়।

একই বিষয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর আইডিআরএ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানিকে বিশেষ তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও এখন পর্যন্ত সেই তদন্তের ফলাফল বা পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের কথা অন্ধকারেই রয়ে গেছে। বিএসইসিতে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিচালকেরা দাবি করেন, ২০১২ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর সাঈদ খোকন কোম্পানিতে একক রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সাতজন স্পন্সর পরিচালককে অন্যায়ভাবে অপসারণ করে নিজের পরিবারের সদস্য ও নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বসিয়েছেন, যারা বর্তমানে প্রায় ৩০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন, যা সম্পূর্ণ প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। এছাড়া নিজের সিদ্ধান্তে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিব নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রে কোম্পানির সচিব ও পরিচালক নুর মোহাম্মদ মামুন তাকে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অপসারিত উদ্যোক্তা পরিচালকদের পুনর্বহাল এবং পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আইডিআরএ-এর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এবং বিএসইসি-এর চেয়ারম্যান মাসুদ খানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী পরিচালকেরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএ-এর উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন শীর্ষ পদ খালি থাকায় অনেক বিষয়েই এতদিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যেহেতু সম্প্রতি নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়েছে, তাই কর্তৃপক্ষ এখন এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।




৫৪৬ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনছে ভারত

সামরিক বাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৫৪৬ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫২০ বিলিয়ন রুপি) মূল্যের বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই বিশাল চুক্তির আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র, কামিকাজে ড্রোন, ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি) এই ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে এই সরঞ্জামগুলো কতদিনের মধ্যে কেনা হবে কিংবা এগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে নাকি ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তৈরি করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এই চুক্তির আওতায় ড্রোন বিধ্বংসী ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, মাঝারি পাল্লার ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি অত্যাধুনিক জেট-ভিত্তিক কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম কেনা হবে।
সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রসীমার নজরদারি জোরদার করতে নতুন নৌ-মাইন ও যুদ্ধজাহাজে ব্যবহারযোগ্য ড্রোন ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এছাড়া দেশটির বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং রিমোট সেন্সিংয়ের কাজের জন্য একটি উচ্চ-উচ্চতার চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) প্ল্যাটফর্ম কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে এই তালিকায়।

গত এক দশক ধরে ভারত তার ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি একদিকে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ব্যাপক জোর দিচ্ছে।

বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ৮৫ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বরে ভারত অন্তত ৭৫টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের অর্ডার দেওয়া শুরু করে, যার বেশিরভাগই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে শীর্ষ কর্মকর্তারা ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানসহ ৩৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছিলেন।

সূত্র: জিও নিউজ।




৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে শেষ হলো অর্থবছর

শেষ মুহূর্তের জোরালো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।

যদিও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা ছিল, চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে কঠোর নজরদারি, কর ফাঁকি রোধে অভিযান, উন্নত পরিকল্পনা এবং কর পরিপালন (কমপ্লায়েন্স) জোরদারের ফলে সম্ভাব্য ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।

গত বুধবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণে এনবিআরের আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের টাস্কফোর্সগুলোর সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী তিন বছরের জন্য একটি মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশল প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী তিন বছরের জন্য এমন একটি রাজস্ব কৌশল তৈরি করা হবে, যেখানে রাজস্ব আহরণের সম্ভাব্য উৎস এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে।

নবনিযুক্ত এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, বুধবার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষ দিনের হিসাব সমন্বয়ের পর আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হবে। ফলে মোট রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই এনবিআর কাজ শুরু করেছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লিখিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং গত তিন মাসে টাস্কফোর্সগুলোর কার্যক্রম ইতিবাচক ফল দিয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগ ইতোমধ্যে তাদের রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আয়কর বিভাগও শিগগিরই তাদের কৌশল চূড়ান্ত করবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, নতুন বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি রাজস্ব বাড়াতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টার্নওভারভিত্তিক ভ্যাটব্যবস্থা, খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর ০.২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




ইরানের বিদায়ের ঘটনায় ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবির ১০০ কোটি ডলারের মামলা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাভেহ লতফোল্লাহ আফরাসিয়াবি এ মামলা করেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আফরাসিয়াবি দাবি করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মিশরের বিপক্ষে ইরানের শেষ মুহূর্তের একটি গোল বিতর্কিতভাবে বাতিল করে দলটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে শেষ ৩২ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তিনি কোটি কোটি ইরানি নাগরিক ও ইরানি-আমেরিকান সমর্থকের পক্ষে ক্লাস-অ্যাকশন মামলা করার অনুমতিও চেয়েছেন। তার অভিযোগ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ব্যবহার করে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে জয় ও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা।

ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে শোজা খলিলজাদেহ ইরানের হয়ে যে গোলটি করেছিলেন, তা ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের পরই ইরানের বিশ্বকাপে টিকে থাকার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। সে সময় বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছিল, ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতে গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফিফা ইরানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে এবং দলটির জন্য ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে এ মামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।




ঈশ্বরদীতে অগ্রদূত সংস্থার নতুন অফিসে প্রশিক্ষণ (TOT) কার্যক্রমের উদ্বোধন

পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অগ্রদূত সংস্থা’-এর নতুন অফিস এবং প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (TOT) কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ দুপুর ১২টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন অফিস ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন অগ্রদূত সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা এবং ‘আধুনিক বাংলাদেশ’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মো. নিয়ামত আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে সংস্থার ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং সংস্থার সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করেন।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অগ্রদূত সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির চৌধুরী। তিনি সংস্থার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং ঈশ্বরদীতে নতুন অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে TOT (Training of Trainers) প্রশিক্ষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। উদ্বোধন শেষে নির্বাহী পরিচালক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও উপস্থিত সকলের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিগত ১৯ বছর ধরে অগ্রদূত সংস্থা মানবকল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঈশ্বরদীতে এই নতুন শাখা ও প্রশিক্ষক তৈরি কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার বেকার যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী ও মতবিনিময় সভায় সংস্থার কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ অনলাইনে ও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।



যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিবের খোঁজ নিলেন যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা

হৃদরোগে আক্রান্ত বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক যুবায়ের সিকদার, দপ্তর সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়াসহ অন্যান্য নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে তার আশু রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, যাত্রী অধিকার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর দীর্ঘদিনের অবদান অনস্বীকার্য। তারা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং দেশবাসী, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী, সমর্থক ও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন করা হয়েছে হয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়।




কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।

তিনি বলেন,  ‘প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন,  যারা আমাদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক জীবন কিংবা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ,  সামাজিক দর্শন  ও আমাদের মনোজগতে প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। কবি নজরুল তেমনই একজন ক্ষণজন্মা  ব্যক্তিত্ব। কৈশোর থেকে পরিণত বয়স, আমাদের  জীবনের সকল পর্যায়েই তাঁর প্রভাব অপরিসীম।’

আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কক্ষে আয়োজিত এক সভায় (জুম প্ল্যাটফর্ম) বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ছবি : পিএমও

ছবি : পিএমও

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে  তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।’

তিনি বলেন,  ‘পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য,  বৈষম্য, কুসংস্কার, তথা যা কিছু অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দর, তার বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। বিপ্লব, বিদ্রোহ কিংবা রণ-সঙ্গীত,  ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান  অথবা ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামা সংগীত,  প্রেম, প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ,  কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উন্মাদনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল প্রকাশ ছিল শুদ্ধ ।’

মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম প্রধান দিশারি এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সকল কালের, সকল মানুষের।’

তিনি বলেন, ‘অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা।  তাঁর প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন ফুরানোর নয়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,  ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনি আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মূল ভাষা।’

তিনি বলেন, ‘শুধু অতীত ইতিহাস নয়, বর্তমান প্রজন্মের জন্য, এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই আমাদের জাতীয় কবির জীবন ও কর্মের সঙ্গে, গণমানুষ বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক আরো গভীর ও নিবিড় করার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ’ শুরু হয়েছে।’

তিনি ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনে উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,’ আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাগণ, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পীগণ যারা  অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন।’

তিনি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে নজরুল গবেষক ও নজরুলপ্রেমীদের প্রাধান্য দেয়ার ইঙ্গিত করে বলেন,  ‘ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠানে যেমন নজরুল গবেষকদের উপস্থিতি মানায় না, তেমনি নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠানেও আমলাদের চেয়ে নজরুল অনুরাগীদের অংশগ্রহণই বেশি কাম্য।’

নতুন প্রজন্মের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান জটিল বাস্তবতায় আমাদের উদীয়মান প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখী’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘর’-এর মতো নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কবিতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’

তিনি বলেন, নজরুল আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। নজরুল কেবল অতীত ইতিহাস নন, তিনি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলেন  ‘বাংলাদেশের মন’। তিনি আজীবন সাম্যের গান গেয়েছেন, যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টানের কোনো ভেদাভেদ নেই। বর্তমান সরকারও এমন এক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ এবং এমনকি প্রতিটি প্রাণীও নিরাপদে থাকবে।’

এ সময় সারাদেশে নজরুল বিশেষজ্ঞ ও নজরুল প্রেমীদের নিয়ে গঠিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুল সংগীতের আসর, নাট্যোৎসব এবং চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন সফল করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে বর্তমান জটিল বৈশ্বিক বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে কবির নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সাহিত্যকে আলোকবর্তিকা হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি।

পরিশেষে, জাতীয় কবির জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও মানবিক চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-ু২০২৭’ এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পী যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।

ছবি: পিএমও

ছবি: পিএমও

সংস্কৃতি মন্ত্রী  নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,  তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।




গোপন কায়দায় আনা ১৮ কেজিরও বেশি স্বর্ণ জব্দ শাহজালালে

আবারও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার, এভসেক ও কাস্টমস হাউসসহ বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে প্রায় ১৯ কেজি স্বর্ণের চালান জব্দ করা হয়েছে।

দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইট থেকে এই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, ডিজি এফ আই য়ের একটি চৌকস দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানের কার্গো হোল্ডে তল্লাশি চালায়। এসময় এভসেকের সহায়তায় ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই ধরনের একটি ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছিল।




নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জুটের গুদামে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি জুটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় অবস্থিত মা মারজান এন্টারপ্রাইজ নামের একটি জুটের গুদামে আগুন লাগে। খবর পেয়ে শিবু মার্কেট মডার্ন ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ জুটের গুদামটি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনের তাপ ও বিস্তারের কারণে আশপাশের কয়েকটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আগুনের ভয়াবহতা দেখে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। এ সময় আশপাশের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।




ডেমরার বড় ভাঙায় রুবেলের বিরুদ্ধে মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

রাজধানীর ডেমরা থানাধীন বড় ভাঙা ও মহাকাশ রোড এলাকায় রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, হামলা এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, স্থানীয় ছাত্র দলের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মুক্তার ও তার ছোট ভাই রুবেল ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভাসমান ভ্যানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণকারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

মুক্তার

এলাকাবাসীর ভাষ্য, কিছুদিন আগে এক ভ্যানচালকের কাছে চাঁদা দাবি করা হলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। এছাড়া পাচ্চি রুবেল কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা আরও দাবি করেন, তিনি নিজেকে মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের এক নেতার ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পাচ্চি রুবেল আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে রাখেন। ফলে অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, রুবেলের বিরুদ্ধে ডেমরাসহ বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের আশ্রয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি অন্য রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুবেলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর একাংশ তাকে গণপিটুনি দেয়।

এলাকাবাসীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনার কারণে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা শিথিলতা দেখা দিয়েছে। সেই সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে রুবেল বা তার সহযোগীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।




সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগে চলা দুই চুনা কারখানা উচ্ছেদ ও জরিমানা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত দুটি চুনা কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে কারখানা দুটির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি স্থাপনাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সোনারগাঁ পৌরসভার টিপুরদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনিম সোহানা। এ সময় অবৈধ সংযোগে ব্যবহৃত পাইপ, বার্নারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

তিতাস গ্যাসের মেঘনাঘাট অঞ্চলের ব্যবস্থাপক সুরজিত কুমার জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে এলাকায় চুন কারখানা পরিচালনা করছিল। এর ফলে সরকার প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুটি কারখানার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং কারখানার স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয়।

অভিযান চলাকালে কারখানার মালিককে সহযোগিতা করার অভিযোগে কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে তিতাসের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অভিযানে তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান, জহুরুল ইসলাম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




মাধবদীতে প্রবাসীর বাড়িতে তাণ্ডব: চাঁদাবাজ ‘বোমা সেলিম’ ও তার বাহিনীর বিচারের দাবিতে উত্তাল নরসিংদী

​নরসিংদীর মাধবদীতে এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং নারীসহ ১২ জনকে গুরুতর আহত করার ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ‘বোমা সেলিম’ এবং তার বাহিনীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রোববার (২৮ জুন) সকালের দিকে আয়োজিত এই মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় শতশত এলাকাবাসী অংশ নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সন্ত্রাসী সেলিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।

​চাঁদা না পেয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরতা

​মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয়ভাবে ‘বোমা সেলিম’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভূমি দস্যুতা ও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (২৬ জুন) মাধবদীর ছোট মাধবদী এলাকায় এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে গিয়ে সেলিম ও তার দলবল পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবাসীর বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায় সন্ত্রাসী বাহিনী।

​লুটপাটের বিবরণ:

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং একটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​থানায় বাধা, অতঃপর আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগীরা

​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—

​ঘটনার পর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তারা মাধবদী থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন।

​কিন্তু থানা চত্বরের বাইরে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ‘বোমা সেলিম’-এর ক্যাডার বাহিনী তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং থানায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

​স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা না পেয়ে পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে নরসিংদী আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন ভুক্তভোগীরা।

​প্রশাসনের প্রতি আলটিমেটাম

​মানববন্ধন শেষে বক্তারা নরসিংদীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “একটি স্বাধীন দেশে একজন কুখ্যাত অপরাধীর ভয়ে পুরো এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।” তারা এই মামলার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে মূল হোতা সেলিমসহ হামলার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান। অন্যথায় পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।




জাপানের বিপক্ষে আরও বেশি সময় খেলতে পারেন নেইমার

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৫ মিনিটের পর মাঠে নেমে প্রায় ১৫ মিনিট খেলেছিলেন নেইমার। এবার জাপানের বিপক্ষে তিনি আগের ম্যাচের চেয়ে বেশি সময় খেলতে পারেন বলে জানিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

আনচেলত্তির ভাষ্য, নেইমারের ফিটনেস অনেক উন্নতি করেছে। তবে তিনি শুরুর একাদশে খেলবেন কি না, কিংবা কতক্ষণ মাঠে থাকবেন, তা ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১১টায় জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।




গাজীপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলার পর অভিযুক্ত রাসেলকে ঘিরে বন দখল ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ

গাজীপুরে সরকারি খাসজমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর জয়দেবপুর প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ চিকিৎসা শেষে গত শনিবার (২৭ জুন) রাতে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় যুবদল নেতা আরাফাত রহমান রাসেলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া তার সহযোগী হিসেবে ৮-১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের পরও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরে ২৯ জুন (সোমবার) আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আরাফাত রহমান রাসেল পুনরায় সাংবাদিক আব্দুল আজিজকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
এর আগে জেলা প্রশাসকের খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন আব্দুল আজিজ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

বনভূমি দখল, অবৈধ বসতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
মামলার পর স্থানীয় বাসিন্দা, বন বিভাগের একাধিক সূত্র এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরাফাত রহমান রাসেলের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনভূমি দখল, সরকারি জমি জবরদখল, অবৈধ বসতি স্থাপন, চাঁদাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বারুইপাড়া বিটের বারুইপাড়া মৌজার এসএ ১৭১১ ও আরএস ৩৭৪৯ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ছয় একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে সেখানে ‘খাসপাড়া’ নামে একটি অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় অপরাধচক্রের সদস্যদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসে।


এছাড়া বারুইপাড়া মৌজার এক নম্বর খাস খতিয়ানের আরএস ৪২৯৮ নম্বর দাগের প্রায় ১২৫ শতাংশ সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজেন্দ্রপুর পশ্চিম বিটের আওতায় আল-আকসা মসজিদসংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল করে ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও বন বিভাগের ডিমারকেশনকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে রাসেলের বিরুদ্ধে।


‘রাজনৈতিক প্রভাবে গড়ে উঠেছে দখলচক্র’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করা হয়। সেই অর্থের প্রভাবে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং জমি দখলের একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে ওঠে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আরাফাত রহমান রাসেল একসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
বন বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অতীতেও বন আইনে রাসেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারুইপাড়া ও রাজেন্দ্রপুর পশ্চিম বিটের কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং অর্থ লেনদেনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে।

সরকারি খাসজমি দখলের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সোহেল রানা বলেন, সম্প্রতি দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক অবগত আছেন এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংরক্ষিত বনভূমি দখলের অভিযোগ সম্পর্কে ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তারা তথ্য পেয়েছেন। শিগগিরই সরেজমিন তদন্ত করে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তদন্তে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে আরাফাত রহমান রাসেলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলা, হত্যার হুমকি এবং সরকারি খাসজমি ও সংরক্ষিত বনভূমি দখলের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।




পরকীয়ার জেরে ফতুল্লায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক বিরোধ ও স্বামীর পরকীয়ার জের ধরে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেলপাড়া মির্জাবাড়ি মোড় (চানাচুর ফ্যাক্টরি সংলগ্ন) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি জাহাঙ্গীর আলম জনি (৪২)। অভিযুক্ত তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার আগে জনিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা, হাতের রগসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার মুন্নি নিজেই আশপাশের লোকজনকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানিয়েছেন বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন।

খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার মুন্নিকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধ ও স্বামীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।




বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে: বিএফইউজে মহাসচিব

দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকট চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

এ সময় তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সাংবাদিকতা হবে পুরোপুরি সত্যনিষ্ঠ। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই। আপসেরও কোনো সুযোগ নেই।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,আগ্রাসনরোধ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ টেনে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘বগল সম্পাদক’ এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছেন। পত্রিকা ছাপিয়ে সেটি বগলে নিয়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছেন। এসব বগল সম্পাদক ও হলুদ সাংবাদিকতার কারণে মানুষ অতিষ্ঠ।

তিনি আরও বলেন, যা ইচ্ছা তা লিখে দেওয়া সাংবাদিকতা নয়। সত্য লিখবেন, রাষ্ট্র আপনাকে নিরাপত্তা দেবে। সাংবাদিকদের বিবেকসম্পন্ন হতে হয়। দাস-সাংবাদিকদের মানুষ ঘৃণা করে।

ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএফইউজের এই মহাসচিব। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি। ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে ১৪০টি ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তারা দেশে দাঙ্গা বাধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাছির জামাল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমেই বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও জনমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ অন্য বক্তারা বক্তব্য রাখেন।




সীমান্তে ২.২১ কোটি টাকার স্বর্ণসহ চোরাকারবারি আটক

গত ২৬ জুন ২০২৬: যশোর–বেনাপোল মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের ১৩টি স্বর্ণবারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণবারগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।

আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।




র‍্যালি ও আলোচনা সভায় কুমিল্লায় মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি

গত ২৬ জুন ২০২৬ বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান

জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইউমুল হক রিঙ্কু, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাফর সাদিক চৌধুরী, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, অজিতগুহ কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বজলুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুধীজন।




ভোলায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালিত, সচেতনতার আহ্বান

গত ২৬ জুন ২০২৬ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং উপস্থিত অতিথিরা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার, মাদকমুক্ত পরিবার”—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবাই মাদককে ‘না’ বলার এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




যাত্রাবাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

গত ২৬ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যাত্রাবাড়ী দক্ষিণ থানার উদ্যোগে এবং ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

থানা আমীর নওশেদ আলম ফারুক-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও কদমতলী জোনের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহিম জীবন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে এবং জনগণের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, জনসেবামূলক এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।




অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত, জরিমানা ১ লাখ টাকা

গত ২৫ জুন ২০২৬ শরীয়তপুর সদর উপজেলার কোটাপাড়া খিলগাঁও এলাকায় অবস্থিত মেসার্স খান ব্রিকস ফিল্ড-০১ নামের একটি অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আংশিকভাবে ভেঙে অকার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ইটভাটাটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুর রহমান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে ইটভাটার অংশবিশেষ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, শরীয়তপুরের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল নোমান

অভিযান পরিচালনায় জেলা পুলিশ, শরীয়তপুর, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




তাজিয়া মিছিলে লাঠি-সোটা ও আতশবাজি নিষিদ্ধ: আরপিএমপি

রংপুর, গত ২১ জুন ২০২৬ পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাজিয়া মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছে।

রোববার দুপুরে আরপিএমপি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা। সভায় পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাজিয়া মিছিল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মিছিল চলাকালে কোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র, লাঠি-সোটা বহন, পটকা বা আতশবাজি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করা হবে।

সভায় বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিরা নিজ নিজ কর্মসূচির সময়সূচি ও রুট সম্পর্কে অবহিত করেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাজিয়া মিছিল আয়োজনের আশ্বাস দেন। পুলিশ জানায়, নির্ধারিত নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সমন্বয়ের অভাব বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে রুট পারমিট দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মিছিল শুরু ও শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় বক্তারা পবিত্র আশুরা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে পালনের আহ্বান জানান। আরপিএমপি জানায়, মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের সকল ইউনিট সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।




মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, আসছে নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গত ২৬ জুন ২০২৬ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে। সংশোধিত আইনে অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো, কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র প্রদান, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক কেমিক্যাল ল্যাব স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইন জুয়া, সাইবারভিত্তিক মাদক পাচার এবং অর্থপাচার রোধে আইন আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধানও নতুন আইনে যুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অপরাধী নয়, বরং রোগী হিসেবে বিবেচনা করে বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা সম্প্রসারণ এবং কাউন্সেলিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শন, বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও স্মারক উন্মোচন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।




খাগড়াছড়িতে মাদকবিরোধী দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

গত ২৬ জুন ২০২৬, ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান সমস্যা, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী সমাধান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বর্ণাঢ্য মানববন্ধন ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান, পিপিএম (সেবা)

কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সচেতনতামূলক চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। তারা যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।




নিজস্ব বাগানের কাঁঠাল বিতরণ করল দিনাজপুর জেলা কারাগার

দিনাজপুর জেলা কারাগারের নিজস্ব বাগানে উৎপাদিত মৌসুমি কাঁঠাল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

আত্মনির্ভরশীলতা, সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।




মাদকবিরোধী দিবসে নোয়াখালীতে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

গত ২৬ জুন ২০২৬ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগই নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার মতো সৃজনশীল উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদকের ভয়াবহতা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাদকমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।




৯ম জাতীয় বেসবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর পর্দা উঠল আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে

গত ২৬ জুন ২০২৬ দেশের বেসবল অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ৯ম জাতীয় বেসবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। বাংলাদেশ বেসবল ফেডারেশনের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ

“বেসবলের শক্তি, তারুণ্যের অঙ্গীকার; ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ১৪টি দল অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশ বেসবল ফেডারেশনের নিজস্ব মাঠ না থাকায় প্রতিযোগিতাটি বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, দেশের যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে বেসবলের মতো আধুনিক ও সম্ভাবনাময় খেলাধুলার আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির তৃণমূলভিত্তিক সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বেসবলের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং এটি যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ক্রীড়ার উন্নয়নে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সম্পৃক্ততা তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং ক্রীড়াবান্ধব অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই খেলাটি বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, সম্মিলিত উদ্যোগে ভবিষ্যতে এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ এবং বাংলাদেশ বেসবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। এ সময় বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে বেসবলের বিকাশ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে খেলাটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।




আপিল মঞ্জুর, ডেন্টাল ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না

ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন সনদ ইস্যু ও তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালিয়ে যাওয়ার অনুমতির নির্দেশ–সংবলিত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

১০ বছর আগে হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুধবার এ রায় দেন। ফলে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, রেজিস্ট্রেশন সনদ ইস্যুসহ ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি প্রদানে পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের পক্ষে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৩ জুন হাইকোর্ট রায় দেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ২০১৭ সালে আপিল করে। এই আপিল সমর্থন করে বিডিএস পাস করা ডেন্টিস্টদের পক্ষে একজন চিকিৎসক বিবাদী হিসেবে যুক্ত হন। শুনানি শেষে আপিল মঞ্জুর করে বুধবার রায় দেওয়া হয়।

আদালতে মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল আলম। বিডিএস পাস করা ডেন্টিস্টদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) দিতে বিএমডিসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতির নির্দেশ ছিল। আপিল বিভাগ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন। হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়েছে। ফলে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।