এআই প্রযুক্তিতে বাড়ছে বীমা প্রতারণার ঝুঁকি

বীমা খাতে প্রতারণার নতুন ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে ডিপফেক প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও, অডিও ও নথি এতটাই বাস্তবসম্মত হতে পারে যে আসল ও নকলের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে গ্রাহকের দেওয়া তথ্য ও ক্ষতিপূরণ দাবির সত্যতা যাচাইয়ে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

ডিপফেক এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাস্তবের মতো দেখতে ভুয়া ছবি, ভিডিও, অডিও বা তথ্য তৈরি করা যায়। একইভাবে আসল ছবি, ভিডিও কিংবা নথিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বীমা প্রতারণার নতুন পথ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বীমা খাতে ডিপফেকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেখা দিতে পারে ক্ষতিপূরণ দাবির ক্ষেত্রে। প্রতারকরা দুর্ঘটনার ভুয়া ছবি, সাজানো ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ, পরিবর্তিত পরিচয়পত্র, নকল চিকিৎসা প্রতিবেদন কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও ব্যবহার করে বীমার অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে গাড়ির বীমায় এ ধরনের প্রতারণার আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সতর্কতা বাড়ছে।

বর্তমানে গ্রাহকের তথ্য বিশ্লেষণ, পলিসি অনুমোদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন, ক্ষতিপূরণ দাবি যাচাই, গ্রাহকসেবা ও প্রতারণা শনাক্তকরণসহ বীমা খাতের বিভিন্ন কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ইউরোপীয় বীমা ও পেনশন কর্তৃপক্ষের (EIOPA) ২০২৫ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, ইউরোপের ৬৫ শতাংশ বীমা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আরও ২৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আগামী তিন বছরের মধ্যে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং গ্রাহকদের দ্রুত ও উন্নত সেবা দিতে এআইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। তবে প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এআই সব সময় কোনো তথ্য, ছবি বা নথি আসল নাকি কৃত্রিম—তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারে না।

কারণ এআই সাধারণত পূর্ববর্তী তথ্য ও নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল খুঁজে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কোনো ছবি সত্যিই দুর্ঘটনার সময় তোলা হয়েছে কি না, কোনো নথি আসল কি না কিংবা কোনো ভিডিওতে পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন।

এ কারণে অনেক বীমা প্রতিষ্ঠান এআইয়ের পাশাপাশি মানবিক যাচাই ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে। সাধারণ ক্ষতিপূরণ দাবির ক্ষেত্রে এআই দ্রুত প্রাথমিক যাচাই করতে পারলেও বড় অঙ্কের দাবি, সন্দেহজনক নথি কিংবা জটিল মামলার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চূড়ান্ত যাচাইয়ের গুরুত্ব এখনো রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে বীমা প্রতারণার কারণে প্রতিবছর বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বীমা প্রতারণা প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা কোয়ালিশন এগেইনস্ট ইন্স্যুরেন্স ফ্রডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বীমা প্রতারণার কারণে প্রতিবছর প্রায় ৩০৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। এর সঙ্গে এআই ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও নথির অপব্যবহার যুক্ত হওয়ায় প্রতারণার ধরন আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডিপফেক ব্যবহার করে বীমা প্রতারণার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ এ ধরনের অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। তবে বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্প বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার করে ভুয়া দুর্ঘটনার ছবি, পরিবর্তিত নথি ও কৃত্রিম পরিচয় তৈরির মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি উঠে আসছে।

ডিপফেক শনাক্ত করতে তথ্যের উৎস যাচাই, পরিবর্তিত ছবি ও নথি শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিওর উৎস, সেটিতে পরবর্তীতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না এবং উপস্থাপিত তথ্যের সঙ্গে মূল তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়।

ডিপফেকের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এআই ব্যবহারে নতুন নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইনে ঝুঁকিপূর্ণ এআই ব্যবস্থার জন্য বাড়তি নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও জাপানও এআই ব্যবহারে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও গ্রাহক সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশের বীমা খাতেও ধীরে ধীরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। অনলাইন পলিসি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল গ্রাহকসেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দাবি যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হলেও এআই ব্যবহার করে ডিপফেক শনাক্ত করার সক্ষমতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

দেশের অধিকাংশ বীমা প্রতিষ্ঠানে উন্নত এআইভিত্তিক তথ্য যাচাই ব্যবস্থা এখনো ব্যাপকভাবে চালু হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বীমা খাত আরও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিপফেকভিত্তিক প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত তথ্য যাচাই প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবিক যাচাই ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রমাণের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ের ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

আগামী দিনের বীমা খাতে শুধু দ্রুত ক্ষতিপূরণ দাবি নিষ্পত্তি করাই যথেষ্ট হবে না; বরং আসল ও কৃত্রিম তথ্যের পার্থক্য নির্ভুলভাবে শনাক্ত করাই হয়ে উঠবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা না গেলে ডিপফেক বীমা খাতে নতুন ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।




ব্যবসায়িক অগ্রগতি ও গ্রাহকসেবা নিয়ে পপুলার লাইফের সভা

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবসা পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং বীমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের পিএইচপি টাওয়ারের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির ফাইন্যান্স ডিরেক্টর ও পিপলস ইনস্যুরেন্স পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী হোসেন চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম ইউসুফ আলী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মোস্তফা হেলাল কবির। এছাড়া সিনিয়র ডিএমডি, ডিএমডি, প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আলী হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সততা, পরিশ্রম ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বীমা দাবি দ্রুত ও যথাযথভাবে পরিশোধসহ সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পপুলার লাইফ দেশের বীমা খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।’

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি




অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান

বছরের পর বছর গ্রাহকের কাছ থেকে প্রিমিয়াম নেওয়া হলেও মেয়াদ শেষে কিংবা দুর্ঘটনা-দুর্যোগে বীমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি, নানা অজুহাত ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে। কোথাও আর্থিক অনিয়ম, কোথাও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, আবার কোথাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকির অভাব—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বীমা খাতের প্রতি গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনাস্থা। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বীমা খাতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিতিন বলেছেন, বীমা খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের দীর্ঘদিনের সংশয় দূর করতে বীমা কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, দাবি পরিশোধের সামর্থ্য এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (IDRA) সদস্য (নন-লাইফ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে বীমা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন দৈনিক মাতৃভূমির খবরের সহ-সম্পাদক তুহিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি দল।
আলোচনায় বীমা খাতে বিদ্যমান সংকট, গ্রাহকসেবা, দাবি পরিশোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিসহ খাতটির উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরানো এখন আইডিআরএর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাবি পরিশোধে বিলম্ব, গ্রাহক হয়রানি, অতিরিক্ত ব্যয়, অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাতের সম্প্রসারণও বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আইডিআরএর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও সম্পদের প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই এবং ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হলে শুধু কাগজে-কলমে নির্দেশনা নয়, নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।

বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর প্রিমিয়াম পরিশোধ করেও প্রয়োজনের সময় বীমা দাবি আদায়ে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে একদিকে যেমন গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আস্থাও নষ্ট হয়।

নতুন চেয়ারম্যানের বক্তব্যে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর মতে, গ্রাহকের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো বীমা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। সময়মতো ও ন্যায্যভাবে দাবি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বীমা খাতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, অনিয়মিত কমিশন প্রদান, বিনিয়োগে অসংগতি, আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং গ্রাহকের দাবি নিষ্পত্তিতে গড়িমসির মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সংকটে থাকা বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দায়িত্ব পর্যালোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই পড়ে। তাই বীমা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও গ্রাহকের দাবি পরিশোধের সামর্থ্য নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, কমিশন প্রদান এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

তবে বীমা খাতে দীর্ঘদিনের অনাস্থা একদিনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়মিত তদারকি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি। আইডিআরএর নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর যে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন বীমা খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির মাধ্যমে বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের অনাস্থা কাটিয়ে আবারও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে দেশের বীমা খাত।




সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে উদ্বুদ্ধকরণ সভা

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন পিপিএম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু, সাধারণ সম্পাদক মো. গোলজার হোসেনসহ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও হজযাত্রীরা।

সভায় বক্তারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রায় আগ্রহী করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় হজযাত্রীদের সঠিক তথ্য প্রদান, হজ পালনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের সুবিধাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী হজযাত্রীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।




বনজমি দখলে নেপথ্যে অর্থ লেনদেন, ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের

> ডিমার্কেশন ছাড়াই বনভূমিতে গোডাউন-বাড়ি, উচ্ছেদের পর ফের ৮৬ ঘর নির্মাণের অভিযোগ

> বনজমি দখলে নেপথ্যে অর্থ লেনদেন, ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের

> ২৪ ঘণ্টায় বাড়ি ভাঙার নির্দেশ, সপ্তাহ পেরোলেও বহাল স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

গাজীপুরে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটে বন বিভাগের জমি দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও সুবিশাল টাইলসের গোডাউন, কোথাও চারতলা ভবন, আবার কোথাও ছয়তলা ভবনের ভিত্তির ওপর নির্মাণকাজ চলছে। অভিযোগের বড় অংশই হলো—বনভূমির সীমানা নির্ধারণ বা ডিমার্কেশন না করেই এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

শুধু নতুন স্থাপনা নির্মাণ নয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে সরিয়ে দেওয়া ঘরও ফের নির্মাণ করা হয়েছে বলে সরেজমিনে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে এই প্রতিবেদক। স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের পর আশ্রমচালা এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া ঘরগুলোর জায়গায় গত দুই মাসে প্রায় ৮৬টি ঘর নতুন করে নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘর নির্মাণে ঘরপ্রতি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এভাবে প্রায় ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া এত ব্যাপকভাবে বনভূমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্য বিদায়ী মনিপুর বিট কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বনভূমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণে সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিটের ক্যাশিয়ার ও বনপ্রহরী মাসুমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

ডিমার্কেশন ছাড়াই টাইলসের বিশাল গোডাউন:

মনিপুর বিটের জেসন গেইটসংলগ্ন নৌলাপাড়া পুরনো মসজিদের বিপরীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ব্রিজের পূর্ব পাশে টাইলস ব্যবসায়ী রওশনের একটি বড় গোডাউন নির্মাণের কাজ চলছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রওশনের আদি বাড়ি সিলেটে এবং তিনি স্থানীয় জিয়াদের পরিবারের ঘরজামাই।

অভিযোগ রয়েছে, এর আগে মনিপুর বিট কর্তৃপক্ষ তাকে ওই স্থানে কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেয়নি। কিন্তু বর্তমানে অর্থের বিনিময়ে বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান তাকে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, বিট কর্মকর্তা মান্নানের পরামর্শেই দিনের বেলা নির্মাণকাজ না করে রাতভর বিপুলসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে গোডাউনটির নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিটের ক্যাশিয়ার ও বনপ্রহরী মাসুমের বিরুদ্ধেও অর্থের বিনিময়ে নির্মাণকাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। গোডাউন নির্মাণে জোতের পাশাপাশি বনেরজমিও যুক্ত করেছেন রওশন,দাবি বিশেষ সূত্রের।

তবে এ অভিযোগের পাশাপাশি জমির সীমানা নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একই দাগের জমির ডিমার্কেশনের জন্য বন বিভাগের কাছে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ হয়নি। অথচ ডিমার্কেশন সম্পন্ন হওয়ার আগেই বনভূমি-সংলগ্ন বনের জমিসহ বিশাল স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।

জমির বিবরণ অনুযায়ী—এসএ দাগ ৫৭৪ ও ৫৭৫; আরএস দাগ ১৬৭৯ ও ১৬৮৩। সরেজমিনে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট জমির দুই পাশেই ভাওয়াল গড়ের বনভূমি রয়েছে। ফলে সীমানা নির্ধারণ না করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে সরকারি বনভূমির অংশ স্থায়ীভাবে দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

সংরক্ষিত বনভূমির মাঝখানে চারতলা ভবন:

মনিপুর বিটের কাতলামারা এলাকার মন্দিরের বিপরীতে দক্ষিণ দিকে মনিপুরমুখী রাস্তার পাশে সংরক্ষিত বনভূমির মাঝখানে চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সরেজমিনে তা প্রত্যক্ষও করা গেছে।

কুমিল্লার সোহেল নামের এক ব্যক্তি জমিটির মালিকানা দাবি করে ভবন নির্মাণ করছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ভবনটির দক্ষিণাংশের কিছু অংশ সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে চলে গেছে।

যথাযথ জরিপ ও ডিমার্কেশন ছাড়া নির্মাণকাজ চলতে থাকলে সরকারি বনভূমি স্থায়ীভাবে দখল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

হোতাপাড়ায় ছয়তলা ফাউন্ডেশন:

হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডের অটোস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে বাক্কির বাড়ি সংলগ্নও একই ধরনের অভিযোগ। চারদিকে ভাওয়াল গড়ের বনভূমি থাকা সত্ত্বেও ডিমার্কেশন ছাড়াই জালাল উদ্দিন মাস্টার নামে এক ব্যক্তির ছয়তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দুইতলা নির্মাণকাজ চলছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। বাড়ি নির্মাণে জোতের পাশাপাশি বনের জমি যুক্ত করেছেন জালালউদ্দিন,দাবি এলাকাবাসীর।

এর আগে হোতাপাড়া থেকে মনিপুরগামী মূল রাস্তার উত্তর পাশে ভাওয়ালগড় কেটে বনের জমিতে রাস্তা নির্মাণ করেছেন জালাল উদ্দিন মাস্টার। রাস্তাটি তাঁর বাড়িতে যাওয়ার জন্য নির্মাণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিট রহস্যময় কারণে বাধা প্রদান করেনি, আইনগত ব্যবস্থাও নেয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনভূমির সীমানা নির্ধারণ না করেই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

প্রায় ৮ কাঠা জমিতে বাউন্ডারি, ডিমার্কেশন নেই:

মনিপুরে প্রয়াত সবুর মাস্টারের বাড়ির বিপরীতে এবং কফি হাউজের পূর্ব পাশে কয়েকদিন আগে প্রায় আট কাঠা জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ প্রত্যক্ষ করেছেন এই প্রতিবেদক। বাউন্ডারির ভেতরে বন বিভাগের জমির অংশও ঢুকে গেছে।

এ ঘটনায় ‘বনের দালাল’ নামে খ্যাত ইদুম আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বনভূমি দখলে মধ্যস্থতা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইদুম আলীর মধ্যস্থতায় জনৈক কহিনুর বেগম বায়নাসূত্রে ওই জমি কিনেছেন।

জমির বিবরণ—পরিমাণ ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ; খতিয়ান: সিএস-১৩১, এসএ-৩৪২, আরএস-১৯০; দাগ: এসএ-৩১০, আরএস-১০৩৮।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, জমির সীমানা নির্ধারণ না করেই কীভাবে এত বড় বাউন্ডারি নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হলো?

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, সপ্তাহ পেরিয়েও বহাল বাড়ি:

বেগমপুর কাজী মার্কেটের পশ্চিম পাশে পল্লী চিকিৎসক ডা. খোরশেদ আলমের একটি সুবিশাল বাড়ি নির্মাণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন ও জমির নথির সূত্রে দেখা গেছে, বাড়িটি বন বিভাগের জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে।

বার্তা পেয়ে মনিপুর বিট কর্মকর্তা ও রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের কর্মকর্তারা বিটের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর বাড়িটি ভেঙে ফেলার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

কিন্তু এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও বাড়িটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। এরপর এ বিষয়ে বন বিভাগের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

 

 

 

উচ্ছেদ হলো, আবারও উঠল ঘর:

মনিপুর বিটের নয়াপাড়ার আশ্রমচালা এলাকায় বনভূমি দখলের চিত্র আরও উদ্বেগজনক।

৫ আগস্টের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে বেশ কিছু ঘর সরিয়ে দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্ছেদের পর গত দুই মাসে একই এলাকায় প্রায় ৮৬টি ঘর নতুন করে নির্মাণ অথবা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিটি ঘর নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণের জন্য ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি বিশেষ চক্রের বিরুদ্ধে বনভূমিতে ঘর নির্মাণে মধ্যস্থতার অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে মনিপুর বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের উচ্ছেদ অভিযানের জন্য বিট কর্মকর্তা মান্নান সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ বাবদ গ্রহণ করেছিলেন।

একদিকে উচ্ছেদ অভিযান, অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে একই এলাকায় ফের ঘর নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

উচ্ছেদের পর ফের নির্মাণের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে

স্থানীয়দের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, উচ্ছেদ অভিযানে ঘর সরিয়ে নেওয়ার পর পুনরায় ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে—উজ্জল, শ্রী সুবল, মো. সাদ্দাম, শ্রী সত্যেন, বলাই চন্দ্র বর্মন, জিয়া, সত্যেন্দ্র, কিবরিয়া, তোফাজ্জল হোসেন মন্টে, মো. হেলাল ও আবু তালেব।

এ ছাড়া উচ্ছেদের সময় ঘর খুলে রাখার পর একই এলাকায় পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে মো. আসাদ মাঝি, মো. সুমন, মো. হামিদ, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. শেফালী রানী, মো. সাদেক, শ্রী গোবিন্দ দেবনাথ, রতন রাজশাহী, শ্রী নিরঞ্জন ও লিপির বিরুদ্ধে। এদের ঘরবাড়ি আশ্রমচালা এলাকায়।

বনভূমিতে ঘরবাড়ির দীর্ঘ তালিকা:

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে আশ্রমচালা এলাকায় আরও যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বনভূমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে (এবং সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করা গেছে)  তারা হলেন—হারুন, আল আমিন, শুকুর আলী, বিল্লাল (তালা মেকার), মিজান, নজরুল, ইসলাম উদ্দিন, মনির, ফখরুদ্দিন, রুবেল, রাজশাহী জহির, জহির, নিত্য, লিটন রাজশাহী, অর্জুন, সমরঞ্জন, বোঝ, মর্জিনা, সুজন বংশী, আনন্দ, রঞ্জিত বংশী, রিপন বংশী, নিতাই, ফাতেমা, বিল্লাল, হানিফা, সাগর রাজশাহী, সুবল চন্দ্র বর্মন, নবী হোসেন, হযরত, যতীন বংশী, রিয়াজ, সুলতান, শরিফ, ফরিদ, মারফতের স্ত্রী, মহি, আব্দুর রহিম, নিতাই বংশী, স্বপন, রবীন্দ্র, সবিতা, চৈতি, লুৎফর বেপারী, ফরহাদ, ফওসিউল, রিয়াজুল, আব্দুল আউয়াল, খুশি, গৌরাঙ্গ, ইউনুস, লায়লা, ববিতা, রোকেয়া, হামিদ, ইসমাইল, গিয়াস উদ্দিন, শেফালী রানী, ফরিদ, জামির হোসেন, আশিক ও তাইজুল ইসলাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘর নির্মাণ-পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে ঘরপ্রতি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এসব টাকা স্থানীয় চিহ্নিত দালাল ও বিট কর্মকর্তা মান্নান এবং বিট ক্যাশিয়ার মাসুমের পকেটে গেছে বলে সূত্রের দাবি।

আইন কী বলছে:

বনভূমি নিয়ে এমন অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় বিদ্যমান আইনি কাঠামোর কারণে। বন আইন, ১৯২৭-এর ২৬ ধারায় সংরক্ষিত বনে অনুমতি ছাড়া ভূমি পরিষ্কার, চাষাবাদ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জমি ব্যবহারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে। একই আইনের ২৩ ধারায় লিখিত সরকারি অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনে কোনো নতুন অধিকার অর্জনের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

বন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনে জমি জরিপ, ডিমার্কেশন ও মানচিত্র তৈরির ক্ষমতাও আইনে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বনভূমির সীমানা নিয়ে বিরোধ বা অনিশ্চয়তা থাকলে যথাযথ জরিপ ও সীমানা নির্ধারণের গুরুত্ব রয়েছে। নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ডিমার্কেশনের বিধানও আইনে রয়েছে।

বনভূমি কমলে শুধু গাছ নয়, বিপন্ন হয় পুরো প্রতিবেশ:

পরিবেশবিদদের মতে, বনভূমির প্রান্তে একের পর এক বসতি, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও পাকা ভবন গড়ে উঠলে ক্ষতি শুধু জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বনভূমির খণ্ডীকরণে বন্যপ্রাণীর চলাচল ও আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মানুষের প্রবেশ বাড়ে এবং ভবিষ্যতে আরও দখলের পথ তৈরি হয়।

ভাওয়াল গড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলের ক্ষেত্রে তাই কোনো জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি দাগ, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ, আরএস/এসএ রেকর্ড এবং বন বিভাগের নিজস্ব সীমানা—সবকিছু মিলিয়ে যৌথ জরিপ করা জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশসংশ্লিষ্টরা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

অভিযোগের বিষয়ে সদ্য বিদায়ী মনিপুর বিট কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল বারী বলেন, ‘এতদিন বিট কর্মকর্তা বিটে ছিলেন, তখন আপনারা কেন কিছু জানাননি? এখন বদলি হয়ে যাওয়ার পর কেন বলছেন?’

অনুসন্ধান চলাকালে কোনো কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আগের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান বা ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না—এমন কোনো সরকারি বিধান আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি থাকাকালীন অভিযোগগুলো করলে ভালো হতো, তাই বললাম।’

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারপরও যদি এ ধরনের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল মামুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

একই বিষয়ে ঢাকা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ শামসুল আরেফীনের সঙ্গেও একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়ে তাঁর বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তিনিও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।




আলফা ইসলামী লাইফের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সভা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আলফা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির সেপ্টেম্বর মাসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন মাসের ব্যবসায়িক লক্ষ্য নির্ধারণ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলফা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম ছিদ্দিকী অভি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএমডি (ট্রেনিং) সাজেদুল বারী এবং ডিএমডি (অপারেশন) মোহাম্মদ শাহ আলম মামুন। এতে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

প্রশিক্ষণ পর্বে ব্যবসা সম্প্রসারণ, কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি, গ্রাহকসেবার উন্নয়ন এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এসইভিপি ও হেড অব ট্রেনিং মুত্তাকিন ইসলাম মুক্তা।

সভায় সেপ্টেম্বর মাসের ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি শাখার ব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা ও সদস্যকে আরও দায়িত্বশীল, সৎ, নিষ্ঠাবান ও পেশাদারভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় নতুন মাসকে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করে গ্রাহকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।




বৃক্ষরোপণকে টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান

বৃক্ষরোপণকে টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সহায়ক টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। শুধু চারা রোপণের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, রোপণের পর প্রতিটি চারার পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং টিকে থাকার হার নিশ্চিত করাও জরুরি।

সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালে সারাদেশে মোট ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্বভাবে উৎপাদিত চারা দিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ এবং নিজস্ব অর্থায়নে সংগৃহীত চারা দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ চারা রোপণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা নিজ নিজ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর বাইরে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এনজিও ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণ করেছে। এসব চারার স্থানিক তথ্য পাওয়া গেলে তা মূল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে সভায় জানানো হয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণের মাধ্যমে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ ও প্রতিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নদী, খাল, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও রেলপথের পাশের উপযোগী জমিতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পাশাপাশি রোপিত চারার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনো কারণে কোনো চারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত তা প্রতিস্থাপন করতে হবে। বৃক্ষরোপণের পরবর্তী চার বছর কীভাবে এসব চারার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে পরিকল্পনা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগমসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ ও বন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো. জামাইল বশীর জেবি, প্রকৌশলী শাহ আদনান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।




প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে ৩৫৭ গাড়ি নিয়ে লংমার্চ হবে: পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে ঘোষিত লংমার্চ ও শান্তিপূর্ণ শোডাউনে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ৩৫৭টি গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান। পাটওয়ারীর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তর থেকে ছড়ানো কথিত গুজবের প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতি প্রতীকী সম্মান জানিয়ে ৩৫০টি গাড়ি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে লংমার্চের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত হওয়ায় নতুন করে কোনো গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।

এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা ও সংহতি প্রকাশকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, যারা শুরু থেকেই পাশে ছিলেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

উল্লেখ্য, এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চেও ছাদখোলা গাড়িতে অংশ নিতে দেখা যায় এনসিপির এই নেতাকে।




ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত বলেছেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে এবং সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের টানেলে এক ব্রিফিংয়ে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য ও ডাটার ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর এখনো ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. এ এম এ মুহিত বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাসপাতালসহ সব জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।




আইপিএলের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে জানুয়ারিতে হতে পারে পিএসএল

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সূচি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সূচির সঙ্গে সংঘাত এড়াতে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে পিসিবি ও আট ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকেরা আলোচনা করেছেন।

ক্রিকইনফো জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে পিএসএল পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। পিএসএলের সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্বধারী ওয়ালি টেকনোলজিস জানুয়ারিতে আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।

তাদের যুক্তি, এপ্রিল-মে মাসে পিএসএল আয়োজন করা হয় রমজানের পর। তখন অনেক প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের বাজেটের বড় অংশই খরচ হয়ে যায়।

ফলে বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশিত আয় পাওয়া কঠিন হয়। তা ছাড়া আইপিএলও চলে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত।

তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো শঙ্কামুক্ত নয়। তারা জানতে চায়, সময় বদলালেও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে তাদের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি নিশ্চিত থাকবে কি না।

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় রাজস্ব তহবিলের সম্প্রচার আয়ের ৯৫ শতাংশ পায় আট ফ্র্যাঞ্চাইজি।

২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পিএসএল ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে তা এপ্রিল-মে মাসে চলে যায়।

আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল হলে আইপিএলের সঙ্গে সূচির সংঘাত এড়ানো যাবে। সে ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রিকেটার পেতে পিএসএলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০-এর সঙ্গে।

আবহাওয়াও বড় বাধা হতে পারে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা থাকে। লাহোর, মুলতান ও রাওয়ালপিন্ডি—তিনটি ভেন্যুই পাঞ্জাবে।

তাই প্রস্তাব এসেছে সিন্ধু প্রদেশের করাচিতে শুরু করে পরে পাঞ্জাব হয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে টুর্নামেন্ট নেওয়ার।




নেপালে দুর্ঘটনাকবলিতদের পাশে বাংলাদেশ, সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রী-রাষ্ট্রদূত বৈঠক

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান সুদীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘানশ্যাম ভান্ডারী (H.E. Mr. Ghanshyam Bhandari)।

আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো প্রধান প্রাধান্য পায়।

বৈঠকে মন্ত্রী নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিপুল প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপালের পাশে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি যেকোনো প্রয়োজনে মানবিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “বাংলাদেশ ও নেপাল ভৌগোলিকভাবে ভিন্ন পরিবেশের হলেও দুই দেশের প্রতিবেশব্যবস্থা নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। হিমালয়ের বরফ গলা, নদী অববাহিকার ভারসাম্যহীনতা ও জলবায়ুজনিত নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবিকাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।” আসন্ন কপ-৩১ (COP-31) সম্মেলনকে সামনে রেখে আঞ্চলিক সহযোগিতা, যৌথ অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।

সাক্ষাৎকালে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘানশ্যাম ভান্ডারী জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একসাথে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। সংকটকালে নেপালের পাশে দাঁড়ানো এবং সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পরিবেশগত আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সড়ক ও আকাশপথে যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের দ্বিপাক্ষিক সম্ভাবনা নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই মনে করেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সবুজ অংশীদারত্ব দক্ষিণ এশিয়ার টেকসই উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।




কুকুর নিখোঁজের পর বিড়ালপ্রেমীদের ওপর হামলা: বিচার দাবিতে মানববন্ধন

রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে বেওয়ারিশ বিড়ালকে খাবার দিতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের হামলার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও প্রাণীপ্রেমীরা। শনিবার তারা হামলায় জড়িতদের বিচার, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এ সময় ডিওএইচএস পরিষদের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এম আব্দুল হাইয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

গত ২৭ আগস্ট দিবাগত রাতে ডিওএইচএস পার্কসংলগ্ন এলাকায় বেওয়ারিশ বিড়ালকে খাবার দিতে গেলে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে পরিষদের নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরিষদের প্রায় ২০ জন নিরাপত্তারক্ষী তাদের ওপর হামলা চালান। এতে এক নারীসহ অন্তত চারজন আহত হন।

ভুক্তভোগী আকিবুর রহমান খান অভিযোগ করেন, নিরাপত্তারক্ষীরা তার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করেন এবং তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। বুট দিয়ে পা মাড়িয়ে দেওয়ায় তার পায়ের একটি আঙুল ফ্র্যাকচার হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার সময় কয়েকজনের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরদিন ফোনগুলো ফেরত দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলার পর পরিষদ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বললেও এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়নি। তাদের প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ থাকলে ঘটনার ভিডিওচিত্র জনসমক্ষে আনতে বাধা কোথায়।

সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন বারিধারা ডিওএইচএস থেকে ১২টি কুকুর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। পরিষদের পক্ষ থেকে কুকুরগুলো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিয়ে গেছে বলে দাবি করা হলেও ডিএনসিসি লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা ওই এলাকা থেকে কোনো কুকুর অপসারণ করেনি।

কুকুর নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক ইকবাল খন্দকারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, যার নম্বর ৩৭৭। সাংবাদিকের দাবি, পরিষদ সভাপতি এম আব্দুল হাইয়ের নম্বর থেকে তার ব্যক্তিগত তথ্য উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠানো হয়, যা তিনি হুমকি হিসেবে দেখছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, কুকুর নিখোঁজ, সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ এবং সর্বশেষ প্রাণীদের খাবার দিতে গিয়ে বাসিন্দাদের ওপর হামলা—এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, বারিধারা ডিওএইচএসে প্রাণী ও প্রাণীপ্রেমীদের ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এখন সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে এনেছে।

এ বিষয়ে বারিধারা ডিওএইচএস পরিষদের সভাপতি কর্নেল (অব.) এম আব্দুল হাইয়ের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে পুলিশকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।

এসব বিষয়ে জনগণকে নিয়মিত অবহিত করা এবং ব্যাপক প্রচারণা চালানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশনা দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে আইজিপি পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখা এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি পুলিশ বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।




কুড়িগ্রামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু

​কুড়িগ্রামে আগামী ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা পর্যায়ে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন (মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি) জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বছর প্রতিযোগিতায় কাবাডি, হ্যান্ডবল, দাবা ও সাঁতার—এই চার টি ইভেন্টে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে।
​প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আজ বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
​সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়া চর্চার কোনো বিকল্প নেই। গ্রীষ্মকালীন এই জাতীয় প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং তাদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।” তিনি প্রতিযোগিতাটি সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
​অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) মোঃ নাজির হোসেনের পরিচালনায় সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার আশ্বাস দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান।
​সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নূর বখত।
​এ সময় জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তুতি সভায় খেলার ভেন্যু নির্বাচন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




দখলচেষ্টা ও কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ: জমির মালিককে ফাঁসানোর দাবি

নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী শেখের চর (বাবুরহাট) কাপড়ের বাজারে প্রতারণামূলক পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলকে কেন্দ্র করে জমি দখলচেষ্টা ও প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুটপাটের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্ত ও বিচার চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের মামলা গ্রহণ না করে উল্টো জমির মালিককে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
​আজ সকালে নরসিংদীর ভগীরথপুরস্থ নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন জমির মালিক শাহীন ভূইয়ার মেয়ে সাদিকা আক্তার সাথী।
​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, বিতর্কিত ওই ভূমির ওপর দেওয়ানী আদালত থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে। তবে আদালতের স্পষ্ট আদেশ অমান্য করে বিবাদী শহীদুল্লাহ বাহার ও তার সহযোগীরা স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বুরহানকে সঙ্গে নিয়ে অন্যায্যভাবে জমি দখলের পাঁয়তারা চালায়। দখলের একপর্যায়ে ভাড়াটিয়াদের একাধিক দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা প্রায় ১ কোটি টাকার মালামাল ও কাপড় লুট করে নিয়ে যায় দখলকারীরা।
​সাদিকা আক্তার সাথী অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনার পর আমরা ন্যায়বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। উল্টো বিবাদীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমার নিরীহ বাবা (জমির মালিক)-এর বিরুদ্ধেই মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার ও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সায়মা আক্তার, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান-ভাড়াটিয়া গোলাপ মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা অবিলম্বে মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জমির মালিক শাহীন ভূইয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোড় দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।




জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে: পরিবেশমন্ত্রী

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারলেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একবিংশ শতাব্দীর টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সর্বনিম্ন কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, দূষণমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপদাহ ও খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলীয় দেশের জন্য এসব ঝুঁকি গভীর উদ্বেগের বিষয়।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP) ২০২৩-২০৫০ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC 3.0) প্রণয়ন করে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-নিঃসরণ উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারত্ব জোরদারেও সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, পলিথিন ব্যবহার পরিহার, শব্দদূষণ রোধ, বিদ্যুৎ ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতন করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন চরম বাস্তবতা। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ গলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশেও ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা বেড়েছে। এখন শুধু হাওর বা নিচু অঞ্চলেই নয়, পাহাড়ি এলাকাতেও বন্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অগ্রিম সতর্কতা জারি করলে কৃষির ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং পরিবেশ মেলায় অংশগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ স্টলের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে পুরস্কার, ক্রেস্ট, সনদ ও প্রাইজমানি বিতরণ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও তাঁদের অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




আগস্টে এলো ৩৬ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

সদ্য সমাপ্ত আগস্টে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে দেশে এসেছে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রেমিট্যান্স এসেছে ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।




শরীয়তপুরে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ণবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৮,৫০০ টাকা

শরীয়তপুর: অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার বন্ধে শরীয়তপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সদর উপজেলার মনোহর বাজার মোড় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে চারটি মামলায় মোট ৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ব্যবহৃত আটটি হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, শরীয়তপুরের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল নোমান।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ণের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।




কালকিনিতে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

মাদারীপুর: মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি বাসায় চুরির ঘটনায় চোরাইকৃত স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, চুরি কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি জুয়েলারি দোকান থেকে বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ২৮ আগস্ট সকাল ৯টার মধ্যে কোনো এক সময় কালকিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকায় জান্নাতুল হুসনার স্বামীর তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা ব্যালকনি ও জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার ও রুপার নুপুর নিয়ে যায়।

চুরির ঘটনায় কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মো. সুজন সরদার (৩৪)-কে শনাক্ত করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালকিনি উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বসতঘর থেকে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং চুরি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে সুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালকিনি বাজারের বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে দোকানের মালিক এনামুল হক (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি স্বর্ণের গলার হার, এক জোড়া কানের দুল, একটি টিকলি, একটি ব্রেসলেট এবং একটি গলিত স্বর্ণের টুকরাসহ বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কালকিনি থানায় ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এফআইআর নং-২৩, জিআর নং-১৫৪ এবং দণ্ডবিধির ৪৫৪/৩৮০/৪১১ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তারে সাফল্য, এএসআই তৌহিদুল ইসলামকে সম্মাননা

নওগাঁ: সাজাপ্রাপ্ত একাধিক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় পোরশা থানায় কর্মরত এএসআই (নিরস্ত্র) মো. তৌহিদুল ইসলামকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাকে এ সম্মাননা প্রদান করেন।

পুলিশের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে এ ধরনের সম্মাননা অন্যান্য পুলিশ সদস্যদেরও আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




ফরিদপুরে হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন অপু, তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মতবিনিময়

ফরিদপুর, ৩১ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এমপি ফরিদপুর জেলা সফর করেছেন। এ সময় ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী ফরিদপুরে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী হুইপকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

পরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

সভায় তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।May be an image of dais and text

এ সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট নাগরিক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।




হবিগঞ্জে বিজিবির পৃথক অভিযান, কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ও গাঁজা জব্দ

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস ও গাঁজাসহ একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা এসব ভারতীয় পণ্য ও মাদক জব্দ করা হয়। অভিযানে জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।

চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।




লিংক রোডে বাড়ছে নজরদারি, বসছে সিসি ক্যামেরা

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMEA) ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (NCCI)-এর পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশকে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে লিংক রোডে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিল্পাঞ্চল ও ব্যস্ততম এই সড়কে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গতি আসবে এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে।




সততা ও দক্ষতার স্বীকৃতি, দ্বিতীয়বার পুরস্কৃত হুমায়ুন কবির

নারায়ণগঞ্জ: সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দ্বিতীয়বারের মতো পুরস্কার পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ডিএসবি ফতুল্লা জোনের সদস্য হুমায়ুন কবির।

দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, পেশাগত দক্ষতা এবং ভালো কাজের ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর আগে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি প্রথমবারও পুরস্কৃত হয়েছিলেন।

দ্বিতীয়বারের মতো পুরস্কার অর্জন করায় হুমায়ুন কবিরের সহকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার এ অর্জন দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা অন্য সদস্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।




৮ শ্রেণির মানুষ পাবে না ফ্যামিলি কার্ড

দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এ নীতিমালার মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে সারা দেশে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হলো।

কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রায় ২ কোটি নারী পরিবারপ্রধানকে সরাসরি জিটুপি (Government to Person) পদ্ধতিতে মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে লক্ষ্যভুক্ত দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। কর্মসূচিটির মূল দর্শন—‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’।

এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে একটি একক ও ডিজিটাল পরিচিতির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, ‘ওয়ান-আইডি’ হবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল ভিত্তি। এটি শুধু একটি পরিচিতি নম্বর হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো হিসেবেও কাজ করবে।

যেসব পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না

নীতিমালায় ফ্যামিলি কার্ডের নগদ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচের যেকোনো একটি শর্ত প্রযোজ্য হলে ব্যক্তি বা পরিবার এ সুবিধার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবে—

সরকার নির্ধারিত পিএমটি (Proxy Means Test) স্কোরের সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া পরিবার।

পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীরাও এ সুবিধার বাইরে থাকবেন।

মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অনুরূপ অবসর সুবিধা গ্রহণ করলে। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

পরিবারের কোনো সদস্যের নামে ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের জাতীয় সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলে।

পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে। এর মধ্যে সিএনজি বা পেট্রলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস রয়েছে।

পরিবারের কোনো সদস্যের বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ লাইসেন্সধারী ব্যবসা থাকলে।

পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে।

বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে। এছাড়া কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।

একই সঙ্গে একাধিক সরকারি সুবিধা নয়

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের মনোনীত নারী পরিবারপ্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে আর্থিক, খাদ্য বা অন্য কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না।

কোনো নারীপ্রধান আগে থেকেই টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির সুবিধা পেয়ে থাকলে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে আগের সুবিধা বাতিল বা স্থগিত করা হবে।

একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা সমজাতীয় সরকারি নগদ সহায়তার ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ, ফ্যামিলি কার্ড চালু হওয়ার পর মনোনীত নারীপ্রধান একই সময়ে এসব কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারবেন না।

তবে মনোনীত নারীপ্রধান ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।




বীমা কোম্পানির দেওয়া তথ্যই সঠিক নয়

বীমা কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) যে তথ্য দেয়, তা সব সময় প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। একাধিক বা গোপন সার্ভার ব্যবহারের কারণে কোম্পানির ব্যবসা ও আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও নিয়ন্ত্রকের হাতে থাকে না বলে জানিয়েছেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বসে ২০২৫ সালের অডিট প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও তা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি কার্যকরভাবে তদারকি করা কঠিন। এর ওপর কোম্পানিগুলো যে তথ্য দিচ্ছে, সেটিই যদি সঠিক না হয়, তাহলে দেড় বছর আগের তথ্য দেখে বর্তমান ঝুঁকি শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

শুক্রবার ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত এক আবাসিক কর্মশালায় এসব কথা বলেন মীর নাদিয়া নিভিন। বীমা খাতের তথ্যের স্বচ্ছতা, ডিজিটাল রূপান্তর, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, গ্রাহকের দাবি পরিশোধ এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, শুধু আর্থিক প্রতিবেদন দেখে বীমা খাতের প্রকৃত চিত্র বোঝা সম্ভব নয়। কোম্পানিগুলোকে প্রকৃত তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে আইডিআরএকে তথ্য সরবরাহের বিষয়ে আরও শক্তিশালী বিধান করতে হবে।

কোম্পানিগুলোর একাধিক বা গোপন সার্ভার ব্যবহারের অভিযোগ তুলে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, জীবনবীমা ও সাধারণ বীমা—দুই খাতের কোম্পানির ক্ষেত্রেই এ ধরনের তথ্য ব্যবস্থাপনার বিষয় সামনে এসেছে। এর ফলে কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে যে তথ্য দেয়, তার সঙ্গে প্রকৃত ব্যবসার তথ্যের মিল আছে কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে যেসব কোম্পানির একাধিক বা গোপন সার্ভার রয়েছে, সেগুলো শনাক্ত করে একীভূত করতে ছয় সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, নির্দেশনা না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথায় সার্ভার লুকানো হয়েছে, তা শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা করা আইডিআরের জন্য কঠিন নয়। প্রয়োজনে গ্যারেজ, বিছানার নিচে বা দেশের অন্য যেকোনো জায়গা থেকেও সার্ভার শনাক্ত করা হবে।

বীমা কোম্পানিগুলোর দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বা রিস্ক বেজড সুপারভিশন (আরবিএস) চালুর কথা জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো বীমা খাতে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোন কোম্পানি কী ধরনের তথ্য দিচ্ছে, কোথায় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং কোন প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে আইডিআরএ এ ধরনের ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে।

বীমা খাতের তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ করতে পুরো খাতের জন্য একটি অভিন্ন ‘ইউনিক পলিসি আইডি’ চালুর কথাও জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ব্যাংক হিসাব নম্বরের মতো পুরো বীমা খাতের জন্য একটি ইউনিক পলিসি আইডি চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি কোম্পানির নিজস্ব পলিসি নম্বর রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পুরো খাতে এ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইডিআরের দলগুলো বিভিন্ন কোম্পানিতে গিয়ে আরবিএস ব্যবস্থা স্থাপন, প্রশিক্ষণ এবং ইউনিক পলিসি আইডি চালুর কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মীর নাদিয়া নিভিনের মতে, এ ব্যবস্থা চালু হলে ভুয়া প্রিমিয়াম দেখানো, ব্যবসার তথ্য আংশিকভাবে প্রকাশ করা কিংবা একই ব্যবসার তথ্য গোপন করার সুযোগ কমবে।

বীমা কোম্পানিগুলোর তথ্য গোপনের সুযোগ বন্ধ করতে অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংক হিসাব শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে যৌথ অডিটের পরিকল্পনা চলছে।

বর্তমানে কোনো কোম্পানির তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আলাদাভাবে চিঠি দেওয়া ও জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এতে কোনো একটি সংস্থার চেয়ারম্যান বা কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।

Space for ads

নন-লাইফ বীমা খাতে এলসি ব্যবস্থায়ও ডিজিটাল নজরদারি চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মীর নাদিয়া নিভিন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আইডিআরএ থেকে দেওয়া ইউনিক কভার নোট আইডি ছাড়া কোনো ব্যাংক এলসি খুলতে পারবে না। এলসি খোলার আগে বাংলাদেশ ব্যাংক আইডিআরের সিস্টেম থেকে কভার নোট যাচাই করবে।

এর ফলে প্রতিটি এলসির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বীমা ব্যবসার তথ্য আইডিআরের কাছে থাকবে। এতে ব্যবসার প্রকৃত পরিমাণ গোপন করার সুযোগ কমবে।

বকেয়া দাবি পরিশোধে সংকটে থাকা কয়েকটি বীমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি ও অন্যান্য সম্পদ নগদায়ন করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বলে জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে সাত-আটটি কোম্পানিকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এসব কোম্পানির জমি, ট্রেজারি বন্ড, এফডিআরসহ বিভিন্ন সম্পদ নগদায়নের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ আইডিআরের তদারকিতে পৃথক ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ করা হবে।

দাবি পরিশোধে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ (এফআইএফও) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ যে গ্রাহকের দাবি আগে এসেছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাঁর দাবি আগে পরিশোধ করা হবে।

কোম্পানিগুলোর ব্যাংক হিসাবে আইডিআরের তদারকি ও নিরীক্ষকের উপস্থিতি থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোর সরাসরি ওই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। গ্রাহকদের দাবির তালিকাও নিরীক্ষকদের দিয়ে যাচাই করা হয়েছে।

বকেয়া দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কথা উল্লেখ করে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার দাবি পরিশোধ না করার বিষয় রয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটির নতুন প্রথমবর্ষের প্রিমিয়াম নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে নবায়ন প্রিমিয়াম নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, ফারইস্টের ফেনীতে থাকা একটি জমি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ এবং কিছু বন্ড নগদায়নের অর্থ গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েক শ কোটি টাকা দিয়ে পরিশোধ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। আরও কয়েকটি সম্পত্তি বিক্রির জন্য দরপত্র দেওয়া হচ্ছে।

ফারইস্টের সব সম্পদ ও বন্ড নগদায়ন করা হলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে বলে জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান। ওই অর্থ দিয়ে বড় একটি অংশের দাবি নিষ্পত্তির পর কোম্পানিটির ব্যবসার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে।

আইডিআরের জনবল সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যেখানে প্রায় ৭ হাজার কর্মী দিয়ে ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে আইডিআরএকে প্রায় ১৫০ জন জনবল দিয়ে ৮২টি বীমা কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।

আইডিআরের আইনগত দুর্বলতাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, ২০১০ সালের বীমা আইন বর্তমান আর্থিক খাতের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সময়ের সঙ্গে আইন হালনাগাদ ও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারের মতো কাজ করতে চান জানিয়ে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, নিয়ন্ত্রক হিসেবে কোম্পানিগুলোকে আইডিআরের নির্দেশনা মানতে হবে।

কোনো কোম্পানি নিয়ন্ত্রকের নির্দেশনা না মানলে তাদের জন্য ব্যবসা করা কঠিন করে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। সামনে আইডিআরএকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, তার মূল দায়িত্ব পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করা। বীমা খাতকে শক্তিশালী আর্থিক খাতে পরিণত করতে হলে প্রথমে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, বীমা খাতের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণের পাশাপাশি সেগুলো প্রকৃত তথ্য কি না, সেই প্রশ্নও করতে হবে। জনগণের কাছ থেকে পাওয়া বাস্তব চিত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তুলে ধরলে সংস্কার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইআরএফ সভাপতি গোলাম মাওলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাজিম উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইআরএফ সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন।




স্বদেশ লাইফের সিইও পদে নিয়োগ নামঞ্জুর

শিক্ষাগত যোগ্যতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করায় স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সাজিদ হোসেনের নিয়োগ প্রস্তাব বাতিল করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। একই সঙ্গে বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তার নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর কারণ জানতে চেয়ে কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আইডিআরএর পরিচালক (লাইফ) ও উপসচিব দেবপ্রসাদ পাল স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। চিঠি দুটির স্মারক নম্বর যথাক্রমে ৮২ ও ৮৩।

আইডিআরএর চিঠিতে বলা হয়, স্বদেশ ইসলামী লাইফ তাদের সিইও হিসেবে মো. সাজিদ হোসেনের নিয়োগ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিল। আবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণির (থার্ড ক্লাস)। ‘বীমা কোম্পানি (মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ) প্রবিধানমালা, ২০১২ (সংশোধিতসহ)’ অনুযায়ী এ ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা সিইও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

Space for ads
আইডিআরএর ২০০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না হওয়ায় সাজিদ হোসেনের নিয়োগ প্রস্তাব নামঞ্জুর করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবিধানমালা অনুযায়ী যোগ্য একজন প্রার্থীকে সিইও পদে নিয়োগের জন্য দ্রুত আবেদন করতে কোম্পানিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্য চিঠিতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কেন সাজিদ হোসেনের নিয়োগের প্রস্তাব কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ জন্য কোম্পানিটির চেয়ারম্যানকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে আইডিআরের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ২৮ জুন সাজিদ হোসেনকে সিইও পদে নিয়োগের অনুমোদন চেয়ে আইডিআরে আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনটি পর্যালোচনার পর তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিধিমালার শর্ত পূরণ না করায় নিয়োগ প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।




পুনঃবীমা নিয়ে আইডিআরএ-বিআইএর বৈঠক

দেশের বীমা খাতে পুনঃবীমা ব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সঙ্গে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আইডিআরের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিআইএর সভাপতি সাঈদ আহমেদ এমপির নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। আইডিআরের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের পুনঃবীমা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে সম্ভাব্য করণীয় এবং বীমা খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।

এ সময় দেশের বীমা খাতের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে আইডিআরের পক্ষ থেকে বীমা খাতকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় রেগু‌লেট‌রি উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়।

বিআইএর প্রতিনিধি দল পুনঃবীমা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিল্পসংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন বিষয় ও উদ্বেগ তুলে ধরে। এসব বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।




শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।’

সরকারের পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার।

যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবু আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাঁদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত তারা কোথায় কী অবস্থায় আছে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্যে দোয়া করা, যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সব কিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই।

যারা আছেন, তাদের বলব, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।’
সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলব—আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণোদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’

শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের উৎসাহ দেবেন। যাতে আমরা শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের যে প্রত্যাশা, দেশ ও জাতিকে নিয়ে সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি। আপনার সর্বাত্মক সমর্থন যেন আমরা পাই।’

অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।




এজি পাম্পের ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ডিলারদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দিয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্যানটেক লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিটিএল ইন্টারন্যাশনালের এজি পাম্প। ঢাকার হোটেল লেকশোর হাইটসের বলরুমে প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এজি পাম্পের চেয়ারম্যান মো. আমীর হুসাইন। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সাকিব জুবায়ের, পরিচালক জাকারিয়া আহমেদ ও পরিচালক রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের হেড অব সেলস (ডিজিএম) হুমায়ূন কবির। কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ডিলার ও পরিবেশকেরা তাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ তুলে ধরেন।ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুস সাকিব জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এজি পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।’প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. আমীর হুসাইন বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক মন্দার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’নতুন নতুন পণ্য ও সেবা কীভাবে গ্রাহকদের কাছে আরও সহজলভ্য করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকারিয়া আহমেদ।অনুষ্ঠানে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিক্রয় লক্ষ্য অর্জনকারী ডিলারদের সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়। বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় সেরা ডিলারকে একটি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ শেষে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এজি পাম্পের পঞ্চম ডিলার কনফারেন্সের সমাপ্তি হয়।




থানায় এসে সেই রাতের ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন তরুণী নিজেই

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে বসা যে তরুণীকে ‘নিথর’ অবস্থায় দেখা যায়, তিনি নিজেই মদ্যপ অবস্থায় থাকার কথা জানিয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ওই তরুণী বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিজেই মদ খেয়েছি। কেউ তো খাওয়ায় দেয় নাই। ওই লোকগুলো (বাইকের) আসছে আমাকে সাহায্য করতে।’

এ দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই তরুণীকে তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলের দুই আরোহীকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আমরা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যায় মানসিক চাপে ছিল। সে নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে মদ্যপ অবস্থায় ওই তরুণদের সঙ্গে যায়। আমরা মোটরসাইকেলে থাকা দুইজনকে খুঁজছি। তারা হয়তো ভয়ে সামনে আসছে না। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

ডিসি শফিকুল ইসলাম আরও জানান, তরুণীটিকে আপাতত তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তার দাবি, তিনি পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার কারণে মানসিক চাপে ছিলেন। সেই মানসিক অশান্তি থেকেই তিনি নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করেন। পরে মদ্যপ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে তিনি তার চাচা হিসেবে চিনতেন। অচেতন হয়ে পড়ার পর তাদের দেখতে পেয়ে তিনি তাদের ফোন করেন। ফোন পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বর্তমানে টঙ্গীতে থাকেন বলেও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া তার একাধিক বিয়ের তথ্যকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

তরুণীর দাবি, তার সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে অশান্তিতে ছিলেন বলেও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলের মাঝখানে এক তরুণীকে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ওই তরুণীকে মৃত কিংবা গুরুতর অসুস্থ বলে ধারণা করে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করেন। পরে জানা যায়, তরুণীটি জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সবকটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে তরুণীকে কেন ওই অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি কারা, তারা কোথা থেকে তাকে নিয়ে যাত্রা করেছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তরুণীটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলটির নম্বর শনাক্ত করেছে। মোটরসাইকেলটির মালিক ও দুই আরোহীর পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, মোটরসাইকেলের মালিকানা, ভিডিওর উৎস, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং অন্যান্য বিষয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণীটি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে তদন্তে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির বক্তব্য। তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ওই রাতের ঘটনার বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

এদিকে তরুণীটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং তাকে তার বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে কোনো অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, নাকি এটি অসুস্থ অবস্থায় একজন তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনা- তা নিশ্চিত হতে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।




৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন মন্ত্রী-হুইপরা

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ বিষয়ে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দ থাকলেও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। লুটপাটের অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

সরকার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমের জন্য জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর এবং নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন হবিগঞ্জ, আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার, মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি চট্টগ্রাম এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার দায়িত্ব পেয়েছেন।

আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর, মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট, জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী এবং সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সাচিং প্রু পেয়েছেন কক্সবাজার, মো. শরীফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী, শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ এবং আব্দুল বারী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়িত্ব পেয়েছেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি; হাবিবুর রশিদ গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব পেয়েছেন।

ফারজানা শারমিনকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল, ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ, আহম্মদ সোহেল মনজুরকে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ পেয়েছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের দায়িত্ব। মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব পেয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনে তারা তদারকি করবেন।

একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাদের ওপর থাকবে।

প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।




নেপালের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর তীর ও ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাশুয়া ও এর আশপাশের এলাকায় বন্যার পানির প্রবল স্রোত ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে যায় এবং অনেক এলাকা দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন জেলার হতাহত ও নিখোঁজদের তথ্য সমন্বয় করছে কর্তৃপক্ষ। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ট্রেকার রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনো নিখোঁজ। তাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক।

রাশুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় বন্যার সময় অবস্থানরত বা ওই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ করছে ট্যুরিজম বোর্ড। ট্রাভেল এজেন্সি, ট্রেকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৩১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। বাকি ১৮ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর তীর ও ভাটির বিভিন্ন বসতিতে স্থলপথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ভয়াবহ বন্যায় ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

হঠাৎ এই ভয়াবহ বন্যার কারণ এখনো তদন্তাধীন। হিমালয়ের পাদদেশে বুধবার সকালে প্রায় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই প্রবল পানির ঢল নামে। মুহূর্তের মধ্যে ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও ধ্বংসাবশেষ ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট




কদমতলী থানা প্রেসক্লাবে, ঢাকার উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেহানা প্লাজায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দৈনিক দিন প্রতিদিনের সহকারী সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান পিন্টুর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক প্রতিদিনের খবরের সম্পাদক সরকার জামাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশের আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ও কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার প্রধান উপদেষ্টা সুমন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাইম ২৪-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং দৈনিক দিন প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি আয়শা আক্তার জেসিকা, শনিআখড়া পপুলার হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হুদা শামীম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হালিম শিকদার ও হাজী মো. নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়-নীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের একপর্যায়ে স্থানীয় মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও পবিত্র কুরআনের হাফেজদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মিলাদ শেষে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনের সদস্যদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
প্রস্তুতি কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—
সভাপতি: সরকার জামাল, দৈনিক প্রতিদিনের খবর
সাধারণ সম্পাদক: মো. জাহিদ হাসান পিন্টু, দৈনিক দিন প্রতিদিন
সাংগঠনিক সম্পাদক: আশিকুর রহমান, দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকা
সিনিয়র সহসভাপতি: কবির হোসেন মঞ্জু, দৈনিক প্রতিদিনের খবর
সহসভাপতি: হালিম শিকদার, দৈনিক বাংলা ভূমি; এস কে সবুজ আহমেদ, দৈনিক মুক্তির লড়াই; মাকসুদুর রহমান, টাইম ২৪
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শামীম হোসেন অর্নব, প্রথম আলো; নাছির সরদার, দৈনিক রূপবানী
সহসাধারণ সম্পাদক: সামাদ সরওয়ার, নাগরিক টিভি; সোহেল আহমেদ, চ্যানেল এস
দপ্তর সম্পাদক: এস এম সোহাগ রানা, টাইম ২৪
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: ইভা রহমান, দৈনিক বাংলা ভূমি
অর্থ সম্পাদক: তাহের শেখ, প্রতিদিনের খবর
প্রচার সম্পাদক: লিটন গাজী, সাহারা টিভি
সাংস্কৃতিক সম্পাদক: এম এ এইচ মাসুদ, বার্তা বিচিত্রা
তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক: মো. শাওন, দৈনিক আলোর সময়
সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: মো. মাইনুদ্দিন, বাংলাদেশের আলো
ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক: দিপু ভূঁইয়া, আওয়ার বাংলাদেশ
পাঠাগার সম্পাদক: রুহুল আমীন হাওলাদার, দৈনিক সবার আগে
কার্যকরী সদস্য: মো. জসিমউদ্দিন, সাহারা টিভি; নাছির মোল্লা, দৈনিক মাতৃভূমি; চৌধুরী ওহেদুন্নবী সানী, দৈনিক স্বাধীন কাগজ; শরিফুল হক, তথ্যবাণী; মো. হাকিম, দৈনিক ভোরের কথা; বাদল, রাজধানী টিভি; শাওন, প্রতিদিনের আলো এবং শাহারীয়া ইসলাম বাপ্পি।


আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তুতি কমিটির মূল লক্ষ্য হলো সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা এবং সকল সদস্যের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা।
অনুষ্ঠানের পরিশেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং সর্বস্তরের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




চট্টগ্রামে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রাম, ২১ আগস্ট ২০২৬: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএমের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন সাইজের ১৩ টন লোহার রড ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানোর সময় চালানটি চুরি হয়। ঘটনার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিমের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, এসআই (নিঃ) মোঃ সাদ্দাম হোসেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ ইসমাইলসহ পুলিশের একটি দল আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট বারইয়ারহাট এলাকা থেকে মোঃ রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকের হেলপার মোঃ হাদিছ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার মহম্মদপুর থানাধীন জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল বাশার ওরফে বাঁশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশারের দেওয়া তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই চক্রের মূলহোতা জাহাঙ্গীরের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মহম্মদপুর বাজারের ‘আয়ান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ফরিদপুরের মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ট্রাকটিও খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আন্তঃজেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।




‘ভুল চিকিৎসায়’ মৃত্যু: সেই নারীর বা‌ড়ি‌তে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এক নারীর পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির কনিকা মণ্ডল।

নিহত কনিকা উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী। 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

নিহত কনিকা মণ্ডলের স্বামী অশান্ত মণ্ডল বলেন, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার পেটে গজ রেখেই সেলাই করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ১৯ আগস্ট দিনগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

ছেলে পার্থ মণ্ডল বলেন, আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।আর যেন কোনো মা মারা না যায়, সেজন্য ওই হাসপাতাল বন্ধসহ ডাক্তারের শাস্তির দাবি জানাই।

 

স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণেই কনিকার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার তদন্তে গত রাতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। এগুলো এখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলো একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে

গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর কনিকার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ আগস্ট রাতে তার মৃত্যু হয়।




টঙ্গীতে ডিএমপি, নৌ পুলিশ ও জিএমপির যৌথ মাদকবিরোধী অভিযান

টঙ্গী, ২০ আগস্ট ২০২৬: রাজধানীর তুরাগ নদীর তীরবর্তী টঙ্গী এলাকায় মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), নৌ পুলিশ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আনুমানিক বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নৌ পুলিশের দুটি দল অংশ নেয়। নৌ পুলিশ, ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে চারটি নৌ থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর, উপপরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবলরা অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যরা সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম—উভয়ভাবেই মাঠে ছিলেন।

যৌথ অভিযানে তুরাগ নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




হবিগঞ্জে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কাটা-বিক্রি: বিএনপি নেতাসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা, চুরি ও বিক্রির অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চুনারুঘাট থানায় সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে ১৯২৭ সালের বন আইনের (২০০০ সালে সংশোধিত) ২৬(১ক)-এর (খ) ও (ঘ) ধারায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৩৪।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে তা চুরি ও কেনাবেচা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বন বিভাগের অনুসন্ধানে এ ঘটনায় ২০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

সাতছড়ির মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ মিয়াকে। অন্য আসামিরা হলেন- মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম আবুল, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, চুনারুঘাট উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান, চুনারুঘাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার এবং মিরাশী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ।

এ ছাড়া সাতছড়ির মামলায় আরও যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ গ্রামের মনান মিয়ার পুত্র কালা মিয়া; কাঠালবাড়ি গ্রামের আরজু মিয়ার পুত্র আব্দুল কুদ্দুস; মাবিস্তাপুর গ্রামের মোস্তফার পুত্র জসিম; গাজীপুর গ্রামের ওযায়ছ উল্লাহর পুত্র তাহির মিয়া; বদরগাজী গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর পুত্র আঃ জলিল মিয়া; করমপুর গ্রামের মৃত মকছুদ আলীর পুত্র রফিক মিয়া; করমপুর গ্রামের মৃত মকছুদ আলীর পুত্র হেলাল মিয়া; করমপুর গ্রামের মৃত মকছুদ আলীর পুত্র মকবুল মিয়া; এবং মাধবপুর উপজেলার ইটখোলা গ্রামের মৃত সানা উল্লাহর পুত্র মাসুম বিল্লাহ।

অন্যদিকে, একই দিনে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে গাছ কাটা, চুরি ও বিক্রির অভিযোগে বন কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় ৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ৪২ জনের মধ্যে প্রথমে মূল হোতা হিসেবে সুমনের নাম রয়েছে। তিনি চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের পীরেরগাঁও (পীরপুর) গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। অন্য আসামিরা হলেন—রুবেল মিয়া, আব্দুর রহিমের ছেলে শাহীন, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কাছম আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫), সাহিদ মিয়া (৩০), সফিক মিয়া (২৭), তৈয়ব আলীর ছেলে রুবেল মিয়া (৩৫), মিশন মিয়া (২৫), আক্তার মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (২৮), আবু তাহেরের ছেলে পারভেজ মিয়া (২৪), অলি মিয়ার ছেলে সামিল মিয়া (২৫), ছলিম মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া (২৪), তোলারজুম গ্রামের আব্দুল নুরের ছেলে আব্দুল করিম, মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে তাজুল ইসলাম আঞ্জাস (৩৫), মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে সিদ্দিক মিয়া (৩৮), মনাই মিয়ার ছেলে আরজু মিয়া (৩৫), সামসু মিয়ার ছেলে জাবির মিয়া (৩২), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে কাজল মিয়া (৩২), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে তাজুল মিয়া (৩০), জসিম আলীর ছেলে নূর আলী (২৬), আলপি মিয়ার ছেলে তৌকির মিয়া (৩২), মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে মিজানুর রহমান কয়াল (৩২), লুতু মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া (২৭), আব্দুল মালেকের ছেলে বিল্লাল মিয়া (৩৩), মৃত সুগা মিয়ার ছেলে আক্তার মিয়া (৩৫), মৃত আব্দুল জাহিরের ছেলে আব্দুল খালেক (৪০), ছাদু মিয়ার ছেলে মোশাহিদ মিয়া ওরফে কালে, মৃত আলতা মিয়ার ছেলে ফয়সাল আহমেদ তুহিন, লাল মিয়ার ছেলে মোতাব্বির, জাহাঙ্গীরের ছেলে আজাদ, আফছিরের ছেলে রুবেল, মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে একলাছ মিয়া, লাল মিয়ার ছেলে মাসুক এবং জানু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন ও চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, ‘গাছ চুরির বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

এদিকে স্থানীয় এক বন্যপ্রাণী ও পরিবেশকর্মীরা সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি। তবে তদন্তের সময় কোনো নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

তবে মামলার আসামি করিম সরকার, শফিক মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইমজা নিউজকে তারা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে তাদের মামলায় জড়িয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




নরসিংদীর শ্রেষ্ঠ ওসি এ আর এম আল-মামুন

নরসিংদী প্রতিনিধি: মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল-মামুনকে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখায় তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ওসি এ আর এম আল-মামুন।

এ সম্মাননা তার দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশের চলমান অপরাধবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।