দোকানদারদের জন্য সহজ ফ্ল্যাট ট্যাক্স চালুর পরিকল্পনা।

সাধারণ হোটেল, রেস্তোরাঁ আর ক্ষুদ্র দোকানও করের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, এসব দোকানদারদের করের আওতায় আনতে এবং কর কর্মকর্তাদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে বছরে একটি সহজ ‘ফ্ল্যাট রেট’ চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শিরোনোমে গোলটেবিল আলোচনায় মন্ত্রী এ কথা বলেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে।




রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার চার্জশিট দ্রুত দাখিলের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজধানীর মিরপুরে চাঞ্চল্যকর রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রীকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে এ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের (Heinous Crime) ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি ঘটনার আসামিদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

মন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই ধরনের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ (Pro-active) ও ‘রি-অ্যাক্টিভ’ (Re-active) উভয় পদ্ধতিতে কাজ করছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানগুলো মূলত ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যেন অপরাধ সংঘটিত হতে না পারে। আর ধর্ষণ বা হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধের ক্ষেত্রে ‘রি-অ্যাক্টিভ’ ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেফতার ও তদন্ত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে তালিকাভুক্ত করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা মামলা। এ মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে আরও একজন আসামিকে শনাক্ত করা গেছে। এছাড়া কুমিল্লায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ, কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন এবং ঢাকার মান্ডায় প্রবাসী হত্যাকাণ্ডের মতো প্রতিটি ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ চিরুনি অভিযান ও ব্লক রেইডের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর ও আদাবর এলাকায় নিশ্ছিদ্র তল্লাশি ও ব্লক রেইড চলছে। এছাড়া গত ১৮ ও ১৯ মে যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে যথাক্রমে ৪১ জন এবং ৬৩ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলেও র‍্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি গ্রেফতার হয়েছে।

আইন সংস্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সকল আইনকে যুগোপযোগী করা হবে।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো সাময়িক ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে চটজলদি আইন প্রণয়ন বা বিশেষ আদালত গঠন করা সমীচীন নয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন কোনো ‘অবিচার’ না হয় বা কঠোর আইনের অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। নতুন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল সৃষ্টির চেয়ে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সংখ্যা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে বেশি যৌক্তিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ (সিএএ) কার্যকর এবং পুশব্যাকের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের ‘সিএএ’ বা আসামের ‘এনআরসি’ তাদের নাগরিকদের জন্য নিজস্ব আইন-কানুন। সেখানে আমাদের কোনো বক্তব্য থাকার অবকাশ নেই। তবে বাংলাদেশের সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে যেন কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ (Push-in) না ঘটে।’

বিগত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরে আসার গুঞ্জন ও আইনি অবস্থান সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি বাংলাদেশে মামলার মুখোমুখি হন।




শিশু রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুরে বিক্ষোভ

স্কুলছাত্রী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় রাজধানীর মিরপুরে আবারও রাস্তা অবরোধ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর থেকে মিরপুর ১০ গোল চত্বরে জমায়েত হওয়া শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে তারা ধর্ষণে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ধর্ষণের ঘটনায় বিচারের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১০ থেকে ১২ নম্বর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। তখন ওই সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় রামিসার বাসায় গিয়ে তার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুর-১১ নম্বরের বি ব্লকের একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শিশুটিকে ধর্ষণ শেষে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পর মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে।




সিংড়ায় শ্রমিক না পাওয়ায় বিধবার ধান কেটে দিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা

নাটোরের সিংড়ার শেরকোল ইউনিয়নের সিধাখালী গ্রামের সহায় আয়েশা বেওয়া (৬৫) নামের এক বিধবা নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন শেরকোল ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

রবিবার (১৭ মে) সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রায় ৩০ জনের একটি দল ওই বিধবার ধান কেটে ঘরে তুলে দেন।
শ্রমিক না পেয়ে সিধাখালী গ্রামের মৃত রওশন আলীর বিধবা স্ত্রী আয়েশা বেওয়া (৬৫) তার ২ বিঘা জমির ধান কাটতে পারছিলেন না। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন ওই জমির ধান কেটে দেন।
বিধবা আয়েশা বেওয়া জানান, খুব কষ্টে ২ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। ধান কাটার কামলা পাচ্ছিলাম না। স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা আমার ধান কেটে বাড়িতে পৌছে দিছে। আমি খুশি হয়েছি।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, নাটোর-৩ সিংড়া আসনের এমপি অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু মহোদয় গতকাল রাতে আমাকে বিষয়টা জানালে আমি নেতাকর্মীদের নিয়ে ধান কাটার উদ্যোগ নেই। এমপির নির্দেশনায় আমরা অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতে এ ধরনে কাজ অব্যহত থাকবে।




ঈদ যাত্রা নিশ্চিন্ত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আশাবাদী সড়কমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেড়কোটি মানুষ ও ১ কোটি কোরবানীযোগ্য পশুকে মাত্র ৩দিনে নির্বিঘ্নে, আরামদায়ক ও স্বস্তিতে পরিবহন করা একটি চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জগুলোকে সমাধানের চেষ্টা করবো।

সবাই সহযোগিতা করলে, জনগন সচেতন হলে এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ যদি না হয় তাহলে আশা করা যায় এবার ঈদ যাত্রা নিশ্চিন্ত করতে পারবো।

শুক্রবার কুমিল্লায় বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক কুমিল্লা জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চেক বিতরন ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক। ৪লেনের মহাসড়কে যে পরিমান গাড়ির চাপ তা ১০ লেন হওয়া বাঞ্চনীয়। সে লক্ষে কাজ হচ্ছে। ৮লেন সড়ক ও ২লেন সার্ভিস লেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখবেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও কুমিল্লা ৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে কুমিল্লায় দূর্ঘটনায় নিহত ৮৬জনের পরিবারের নিকট ৪কোটি ৩০লাখ টাকা ও আহত ৩৩জনকে ৫৯লাখ টাকার চেক বিতরন করা হয়।




২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে দেড় কোটি টাকার বেশি আয়ে ৩৫% কর আরোপের চিন্তা সরকারের

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এটি কার্যকর হতে পারে এবং পরবর্তী তিন বছর তা বলবৎ থাকবে।

দেশে বাড়তে থাকা আয় বৈষম্য কমাতে আগামী জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ আয়কারীদের জন্য সরকার আয়করের সর্বোচ্চ হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বছরে দেড় কোটি টাকার বেশি আয় করেন—অর্থাৎ মাসে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আয়—এমন করদাতারা নতুন এই উচ্চ করহারের আওতায় পড়বেন। বর্তমানে বছরে ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ করহার প্রযোজ্য রয়েছে।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এটি কার্যকর হতে পারে এবং পরবর্তী তিন বছর তা বলবৎ থাকবে। আগামী জুনে অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো অতি ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করা। এর উদ্দেশ্য ধনী-দরিদ্রের বিদ্যমান বৈষম্য কমানো।”

তিনি বলেন, বছরে দেড় কোটি টাকার বেশি আয় করেন এমন ব্যক্তিরা ‘সুপার রিচ’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই তাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, এ শ্রেণিতে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি করদাতা রয়েছেন। নতুন করহার কার্যকর হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত মার্চে বাজেটসংক্রান্ত আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান অতি ধনীদের ওপর ৩৫ শতাংশ করহার আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “অতি ধনীদের ওপর করহার বাড়ানো সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। যাদের আয় বেশি, তাদের করও বেশি দেওয়া উচিত।”

তবে তিনি বলেন, শুধু করহার বাড়ালেই হবে না, কর ফাঁকি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থাও নিতে হবে। তা না হলে শুধু করহার বাড়িয়ে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে না এবং ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাতও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে, সরকারের এ উদ্যোগ কেবল নিয়মিত করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ানো টেকসই হবে না।”

তিনি বলেন, “এনবিআরের উচিত করের আওতা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি বন্ধ করা, যাতে বড় পরিসরে রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়। তা না করে বছরের পর বছর নিয়মিত করদাতাদের ওপরই চাপ বাড়ানো হচ্ছে।




বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক আজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) গুরুত্বপূর্ণ ৯০তম বৈঠক। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত চলবে।

বৈঠকে অংশ নিতে গত বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশের একটি ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কলকাতায় পৌঁছেছেন

বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মো. আবু সৈয়দ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান।

এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে যোগ দেবেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।

ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের এক প্রধান প্রকৌশলীর।

এবারের বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটিই দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক।

বৃহস্পতিবার বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল মুর্শিদাবাদে যাবেন

সেখানে বৈঠকের ফাঁকে ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ পরিমাপ করবেন তারা। পরে প্রতিনিধিদল কলকাতায় ফিরে একটি অভিজাত হোটেলে মূল বৈঠকে অংশ নেবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে, এই শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি বণ্টনের বিধান রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গায় পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পাবে বাংলাদেশ।

পানির প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ পাবে ভারত। আর পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেবে।




বাড্ডায় নকশাবহির্ভূত ভবনে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান

রাজধানীর বাড্ডার এলাকায় নকশাবহির্ভূত ভবনে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজউক। অভিযানের সময় কয়েকটি ঘরের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় ভবনের বিদ্যুতের লাইনও কাটা হয়।

বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান চলে।

অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভিন বিথী জানান, নাগরিক জীবন ও সুপরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট অভিযান চলমান থাকবে।




১০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সোনারগাঁয়ে অটোচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ; প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজি চালক মুমিন হত্যা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় সিএনজি চালক ও এলাকাবাসী।

বুধবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাবাজার টু দড়িকান্দি সিএনজি স্ট্যান্ডে ১০ টাকা চাঁদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সিএনজি চালক মুমিন (৪০) ও দড়িকান্দি এলাকার মিলন (৪৫)-এর মধ্যে তর্কাতর্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের একপর্যায়ে মুমিনের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

মুমিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত চালক ও এলাকাবাসী দড়িকান্দি টু বাংলাবাজার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তারা অভিযুক্ত মিলনসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামগামী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।




ঈদে ‘নগদ’ কেনাকাটায় আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গ্রাহকদের উৎসবের কেনাকাটা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে রিটেল, লাইফস্টাইল এবং ই-কমার্সসহ বিভিন্ন খাতে আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক অফার নিয়ে এসেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ।

কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলমান এই ক্যাম্পেইনের আওতায় নগদ অ্যাপ অথবা কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা ই-কম গেটওয়ে ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট করলেই গ্রাহকেরা পাচ্ছেন চমৎকার সব ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক সুবিধা।

ইলেকট্রনিক্স পণ্যের কেনাকাটায় গ্রাহকেরা পাবেন ৫০০ টাকা ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক। এই সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট ১৫টি শীর্ষ ব্র্যান্ড থেকে ন্যূনতম ২০,০০০ টাকার পণ্য কিনতে হবে। শীর্ষস্থানীয় এসব ব্র্যান্ডের তালিকায় রয়েছে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটারফ্লাই, ট্রান্সকম ডিজিটাল, র্যাংস, হাইয়ার, ভিশন, মিনিস্টার, এস্কয়ার ইলেকট্রনিক্স, গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার, অ্যাপল গ্যাজেটস এবং স্টার টেক-এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান।

ঈদের পোশাক ও জুতো কেনাকাটায় নগদ দিচ্ছে সর্বমোট ৪০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ। নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড থেকে ন্যূনতম ২,৫০০ টাকার কেনাকাটায় গ্রাহকেরা পোশাকের জন্য ২০০ টাকা এবং জুতোর জন্য আরও ২০০ টাকা ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক পাবেন। উৎসবের এই লাইফস্টাইল ক্যাম্পেইনে পোশাকের জন্য থাকছে ইনফিনিটি, টুয়েলভ ক্লোথিং, সারা লাইফস্টাইল, জেন্টল পার্ক, আর্টিসান, সেঁলর ও লে রিভ এবং জুতোর জন্য থাকছে এপেক্স, বে এম্পোরিয়াম ও বাটা-র মতো খ্যাতনামা সব ব্র্যান্ড।

নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি কেনাকাটার জন্য সুপারস্টোরগুলোতে থাকছে বিশেষ অফার। যেকোনো অনুমোদিত সুপারস্টোরে ন্যূনতম ২,৫০০ টাকার কেনাকাটা করে নগদে পেমেন্ট করলেই প্রতি লেনদেনে ১০০ টাকা করে দুইবারে মোট ২০০ টাকা ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক উপভোগ করা যাবে।

এছাড়া উৎসবের আমেজে রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া ও পারিবারিক বিনোদনকেও এই ক্যাম্পেইনের আওতাভুক্ত করেছে নগদ। নির্বাচিত রেস্তোরাঁগুলোতে ন্যূনতম ৫০০ টাকার বিল পেমেন্টে গ্রাহকেরা দুইবারে মোট ১০০ টাকা ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক পাবেন।

এর পাশাপাশি অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডি থেকে সর্বনিম্ন ৪৯৯ টাকার খাবার অর্ডার করলে মিলবে ১০ শতাংশ (সর্বোচ্চ ১০০ টাকা) ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক। পাশাপাশি, টগি ফান ওয়ার্ল্ড এবং হাইপার প্লেগ্রাউন্ডস-এর মতো জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ৫০০ টাকা বা তার বেশি পেমেন্টে দুইবার ৫০ টাকা করে মোট ১০০ টাকা ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে।

এবারের ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের যাতায়াত এবং ঘরে বসে অনলাইন কেনাকাটা সহজ করতে ই-কমার্স ও ট্রাভেল খাতেও নিজেদের সেবার পরিধি বাড়িয়েছে নগদ। নির্দিষ্ট অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমন, দারাজ ও অথবা-তে সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকার কেনাকাটায় দুইবারে মোট ২০০ টাকা (প্রতিবার ১০০ টাকা) ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছে।

অপরদিকে ঈদযাত্রায় টিকিটের চাপ সামলাতে টিকিট বুকিং পোর্টাল বিডিটিকেট এবং সহজ বাস-এর সঙ্গে পার্টনারশিপ করেছে নগদ। এই অফারে ৫০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের টিকিট কাটলেই প্রতি লেনদেনে ৫০ টাকা করে দুইবারে মোট ১০০ টাকা ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকেরা।

ঈদ ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে নগদের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরের ঈদুল আজহায় আমরা নিশ্চিত করতে চেয়েছি যেন আমাদের গ্রাহকেরা ডিজিটাল পেমেন্টের সর্বোচ্চ সুবিধা পান। ইলেকট্রনিক্স, লাইফস্টাইল, সুপারস্টোর এবং ই-কমার্সের মতো খাতগুলোতে, যেখানে উৎসবের সময়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি খরচ করেন, এখানেই আমরা দারুণ ক্যাশব্যাক অফার সাজিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার বাড়ানো নয়, বরং দেশের কোটি নগদ গ্রাহকের জন্য ঈদের কেনাকাটাকে আরও সাশ্রয়ী, সহজ ও আনন্দময় করে তোলা।




যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশন: ডিএমপি কমিশনার

মব কালচারের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশনে যাবে পুলিশ।’

আজ বুধবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, অনলাইন জুয়া এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছিনতাই এবং যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। অপরাধী যেই হোক, তার কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।’

এ সময় বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০৬ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, তালিকা ধরে ধরে গ্যাং লিডারদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামিনে বের হয়ে অনেকেই অপরাধে জড়াচ্ছে। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘থানা হবে জনবান্ধব, সেবা বান্ধব। থানায় কোনো দালালের অস্তিত্ব থাকবে না। থানায় কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানা এবং ফাঁড়ির মান উন্নয়ন করা হবে।’

এ সময় যানবাহনের সংকট দূর করা হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে ব্যাটারিচালিত রিকশার একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। পুলিশের একারপক্ষে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না।

ঈদে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় উগ্রবাদ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই পুলিশের কাছে। নিরাপদ নগরী গড়ে তোলাই সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ অন্যতম চ্যালেঞ্জ। নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

ঈদযাত্রা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এআইয়ের মতো প্রযুক্তি সুফল বয়ে আনছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সহজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




লন্ডনে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত কুইন এলিজাবেথ-২ সেন্টারে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত শিক্ষা সম্মেলন ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম-২০২৬’-এর সাইড লাইনে মঙ্গলবার (১৯ মে) এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে গুগলের পক্ষে ‘গুগল ফর এডুকেশন’ প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কলিন মারসন এবং সলিউশনস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অলি ট্রাসেল অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠককালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক করার লক্ষ্যে গুগল কীভাবে বৈশ্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তা শিক্ষামন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন গুগলের কর্মকর্তারা।

এ সময় বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির বৈপ্লবিক ব্যবহারে বর্তমান সরকার গৃহীত বিভিন্ন দূরদর্শী পরিকল্পনা ও মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গুগল কীভাবে কৌশলগত ও কারিগরি সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বিশেষ করে, দেশের শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের চলমান ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে গুগলের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে বৈঠকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। গুগলের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের এই রূপান্তরে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।




আনসার ও ভিডিপির ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২০ মে) সকালে গাজীপুরের সফিপুরস্থ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী সফিপুরের সমাবেশস্থলে পৌঁছালে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

অনুষ্ঠানের সূচনাতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুসজ্জিত প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত আকর্ষণীয় ও সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় বাহিনীর চৌকস দলগুলো  প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।

সমাবেশ উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপি একাডেমি বর্ণিল সাজে সেজেছে। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মনোনীত কর্মকর্তাদের পদক প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।




পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

বিশ্বরেকর্ড গড়ে জয়ের হাতছানি ছিল পাকিস্তানের সামনে। গোটা দুই দিন আর ১০ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ছোঁটা পাকিস্তান সেপথে এগুচ্ছিলোও। তবে সেই স্বপ্নে ধাক্কা দিয়ে উল্টো ইতিহাসের হাতছানি পাচ্ছে বাংলাদেশই। প্রথম দুই সেশনে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার পর তৃতীয় সেশনে বাংলাদেশের বোলারদের ভোগাচ্ছিলেন সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এমন সময় ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন তাইজুল ইসলাম। শেষবেলায় নতুন বল হাতে নিয়ে সালমানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের শতরানের জুটি ভাঙার পর হাসান আলীকেও সাজঘরে ফেরালেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙাই শুধু নয়, পরের ওভারে তাইজুল এনে দিলেন আরও একটি উইকেট। শেষ বিকেলের মরে আসা আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা। পাকিস্তানের সান্ত¡না বলা চলে, ম্যাচ পঞ্চম দিনে নিতে পারা।

সিলেট টেস্ট জিতে প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৩ উইকেট। অবিশ্বাস্য কিছু ঘটিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিতলে হলে সফরকারীদের প্রয়োজন আরও ১২১ রান। ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ছুটে পাকিস্তান চতুর্থ দিন শেষ করে রানে ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে। অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজমের ৯২ এবং রিজওয়ান ও সালমানের ১৩৪ রানের দুটি জুটির সৌজন্যে লড়াইয়ে টিকে আছে। শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মাদ রিজওয়ান দিন শেষে অপরাজিত ৭৫ রানে। সাজিদ আছেন ৮ রানে। শান মাসুদ ও সালমান আগা দুজনেই আউট হন ৭১ রান করে। এদিন স্বাগতিকদের বোলিংয়ের মূল নায়ক টেস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তাইজুল। ৩১ ওভারে তিনটি মেডেনসহ ১১৩ রানে তার শিকার ৪ উইকেট। গতিময় তরুণ পেসার নাহিদ রানা ১৪ ওভারে দুটি মেডেনসহ ৫৮ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাকিটি গেছে মেহেদী হাসান মিরাজের ঝুলিতে।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার দ্বিতীয় ওভারেই আসে সাফল্য। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে দলকে কাক্সিক্ষত ব্রেক থ্রু পাইয়ে দেন তাইজুল। তার আর্ম বল সালমানের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে আঘাত হানে স্টাম্পে। ভাঙে ২২৪ বল স্থায়ী পাকিস্তানের ১৩৪ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। সালমান ১০২ বলে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৭১ রানে আউট হন। তেতে ওঠা তাইজুল নিজের পরের ওভারেই ধরেন আরেক শিকার। তার অফ স্টাম্পের বাইরের বল হাসানের ব্যাট ছুঁয়ে যায় সিøপে। সেখানে ক্যাচ লুফে নিতে কোনো ভুল হয়নি শান্তর। ৬ বল খেলে হাসান রানের খাতা খুলতে পারেননি। দিনের বাকি ওভারগুলো কাটিয়ে দেন রিজওয়ান ও সাজিদ।
এর আগে দ্বিতীয় সেশনে ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তানের হয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়েন সালমান ও রিজওয়ান। ৭০ বলে এই জুটির রান স্পর্শ করে পঞ্চাশ। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে রিজওয়ানের পর সালমানও পৌঁছে যান ফিফটিতে। মাঝে দুজনের জুটির শতরান পূর্ণ হয় ১৬৭ বলে। এরপর যখন তারা ক্রিজে অটল দুর্গ গড়ে তুলেছেন বলে মনে হচ্ছিল, তখনই তাইজুল উইকেট শিকারে নেমে উল্লাসে মাতান বাংলাদেশকে।
জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দিয়েছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। টেস্টের দেড়শ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের কীর্তি টিকে আছে দুই দশকের বেশি সময় ধরে। এ ছাড়া যে তিনবার টেস্টে চার শর বেশি রান তাড়া হয়েছে, সেগুলোর সর্বশেষ ঘটনাটিও ১৮ বছর আগের। সাদা পোশাকের সংস্করণে পাকিস্তানের চারশর বেশি রান তাড়ায় সফলতার কোনো নজির নেই। সর্বোচ্চ ৩৭৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে দলটি জিতেছিল ২০১৫ সালে, পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। টেস্টে বাংলাদেশের মাটিতেও চারশ ছাড়ানো লক্ষ্যের পেছনে ছুটে জয়ের ঘটনা কখনও ঘটেনি। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯৫ রান করে জয়ী হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আর বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৬১ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে পাকিস্তানের। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে ইনজামাম-উল-হকের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান সেই রান তাড়া করেছিল। পাশাপাশি এই পাকিস্তান দেশের বাইরে জিততেও ভুলে গেছে। সর্বশেষ দেশের বাইরে পাকিস্তান জিতেছে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, কলম্বোয়। এরপর হেরেছে টানা ৬ ম্যাচে।




গণপূর্তে আবু তালেবের শতকোটির হরিলুট

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ-জালিয়াতির এমন কোনো স্তর নেই যেখানে হাত দেননি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেব। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও ক্যাডার পরিচয় ধারণ, জ্যেষ্ঠতা জালিয়াতি এবং কাজ না করেই কোটি কোটি টাকার বিল তুলে নেওয়ার এক ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া এক সাম্প্রতিক অভিযোগে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি একাধিক খাতের অন্তত ১৬টি প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই ৫ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরাসরি আত্মসাৎ করেছেন। কেবল তাই নয়, প্রতিটি প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই ১০ শতাংশ কমিশন নিশ্চিত করা এবং নিজস্ব সিন্ডিকেটের বাইরে কাউকে কাজ না দেওয়ার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছেন।
নিয়োগ জালিয়াতি: ক্যাডার না হয়েও নির্বাহী প্রকৌশলী ঃ আবু তালেবের উত্থানের গল্পটি সিনেমাটিক হলেও এর পরতে পরতে রয়েছে জালিয়াতির ছাপ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কোনো বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে অবৈধভাবে ক্যাডার পদে নিয়োগ পান। এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি; ২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা অর্জন করেন এবং দ্রুততম সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। একজন নন-ক্যাডারের এভাবে ক্যাডার পরিচয়ে পদোন্নতি পাওয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থের ১৬টি উন্নয়ন ও মেরামত কাজে আবু তালেবের দুর্নীতির সবচেয়ে নগ্ন চিত্র ফুটে ওঠে। নিয়ম অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে বিল পরিশোধের কথা থাকলেও তিনি কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদারদের যোগসাজশে পুরো বিল তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৫৬.৩ লাখ টাকা এবং ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৩৬.১২ লাখ টাকার মেরামত কাজ। সরেজমিনে এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, নথিপত্রে কাজ সমাপ্ত দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো সংস্কার কাজই করা হয়নি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মেরামত কাজের সম্পূর্ণ অর্থই এভাবে হরিলুট করা হয়েছে।
ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ও নথির কারসাজি : কাজ না করে বিল উত্তোলনের বিষয়টি গোপন করতে আবু তালেব আশ্রয় নিয়েছেন নথিপত্র জালিয়াতির। কাজ শেষ হয়েছে এমন মর্মে ‘ব্যাকডেটেড’ বা পূর্ববর্তী তারিখের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নথিতে যুক্ত করেছেন তিনি। এটি সরকারি ক্রয় আইন এবং দণ্ডবিধির চরম লঙ্ঘন। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি অংশকে ম্যানেজ করে তিনি দিনের পর দিন এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো ঠিকাদার এর প্রতিবাদ করলে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গণপূর্তের ই/এম বিভাগ-৮ এ আবু তালেব কায়েম করেছেন ‘কমিশন রাজ’। প্রতিটি প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই তাকে ১০ শতাংশ নগদ কমিশন দিতে হয়। তার নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট রয়েছে, যার বাইরে কোনো সাধারণ ঠিকাদারের পক্ষে কাজ পাওয়া অসম্ভব। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি গত কয়েক বছরে রাষ্ট্রের শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, আবু তালেবের দুর্নীতির কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা আজ ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
অবৈধ সম্পদের পাহাড় : একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আবু তালেবের জীবনযাপন অত্যন্ত বিলাসবহুল। অবৈধ নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি তার বৈধ আয়ের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও এর আশপাশে তার নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার এই সম্পদের উৎস খুঁজতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থা।




কাওরান বাজারে ৩ কোটি চাঁদাবাজি নিয়ে মুখোমুখি দুই এমপি

রাজধানীর কাওরান বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি দাবি করেন, কাওরান বাজারের কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

অন্যদিকে সরকারি দল বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা জামায়াতের এমপির এ বক্তব্যকে ‘ঢালাও অভিযোগ’ বলে মন্তব্য করেন এবং তাকে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় চাঁদাবাজি ইস্যুতে দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে সংক্ষিপ্ত বাকবিতণ্ডাও হয়।

গতকাল রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক একে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি এবং বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের কষ্ট বাড়ছে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো উচিত। পাশাপাশি জ্বালানির দাম আর না বাড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি।

তার বক্তব্যের সূত্র ধরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে চাঁদাবাজির প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, “আমি তো আসলে চাঁদাবাজি এলাকার এমপি। আমাদের কাওরান বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা কালেকশন হয়। কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ে বলতে গেলে একদিন সময় লাগবে।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এই চাঁদাবাজি করে, বাইরে তারা রাজনৈতিক নেতা, ভেতরে তারা চাঁদাবাজ। আগে আগের সরকারের লোকজন করত, এখন কারা করছে তা এখানে বলছি না।”

জামায়াতের এমপির বক্তব্যের জবাবে বিএনপির এমপি মাহমুদা হাবীবা বলেন, “এমপি সাহেব বলছেন, তার এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে অথচ তিনি জানেন না কারা করছে। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। তার কাছে সুনির্দিষ্ট তালিকা থাকা উচিত এবং আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “গোলটেবিল বা টকশোতে এমন কথা বলা যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট নাম বলতে না পারলে তা ঢালাও অভিযোগ হয়ে যায়। আমার এলাকায় যে-ই চাঁদাবাজি করুক, সে সরকারি দলের হোক বা বাইরের, আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”

এর জবাবে সাইফুল আলম খান বলেন, “আগেও সরকারি দলের লোকেরা চাঁদাবাজি করত, এখনো সরকারি দলের লোকেরাই করছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আমার এলাকার সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজির জায়গা হলো কাওরান বাজার। আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি কেন্দ্র করে যুবদলের নেতা মুসাব্বির নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ সরকারি দলের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা নেয় না।”

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান সাইফুল আলম খান। তিনি বলেন, “আমি তার সহযোগিতা চেয়েছি। একজন মন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন। আমি চাই কাওরান বাজার, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও তেজগাঁও অঞ্চলের চাঁদাবাজি বন্ধ হোক।




৯% সুদে অন্য ব্যাংকের বাড়ি–গাড়ির ঋণ কিনবে ব্যাংক এশিয়া

যাঁরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে গত তিন বছরে ব্যক্তিগত, আবাসন ও গাড়ি কিনতে ঋণ করেছেন, তাঁদের সবারই সুদের হার ৯ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া এসব ঋণে কারও কারও সুদহার ১৪-১৫ শতাংশ। তাঁদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া।

ব্যাংকটি তাদের ভোক্তা ঋণ কার্যক্রম পুনর্গঠন করছে। এর অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার ঋণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ, এসব ঋণখেলাপির হার কম। এ ছাড়া জামানত থাকায় এসব ঋণ তুলনামূলক নিরাপদ। এ জন্য ব্যাংকটি তুলনামুলক কম সুদে এই ঋণে ঝুঁকছে।

ব্যাংকটি ঘোষণা দিয়েছে, অন্য ব্যাংকে থাকা ব্যক্তিগত, ফ্ল্যাট ও গাড়ি ঋণ ৯ শতাংশ সুদে টেকওভার বা কিনে নেবে ব্যাংকটি। এসব ক্ষেত্রে নতুন ঋণে সুদহার হবে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

এর ফলে এখন যাঁদের ৯ শতাংশের বেশি সুদে অন্য ব্যাংকে ঋণ রয়েছে, তাঁরা ৯ শতাংশ সুদে তাঁদের ঋণ ব্যাংক এশিয়ায় নিতে পারবে। ব্যাংকটির যেকোনো শাখায় যোগাযোগ করলে দ্রুত সময়ে এই ঋণ স্থানান্তর করা যাবে। এ জন্য আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এই সুবিধা কার্যকর হলে গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি কমে আসবে।

জানা যায়, ব্যাংকটি সামনে আরও বড় আকারে এই সেবায় ঝুঁকবে। ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় শীর্ষে। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহক ৭২ লাখ। এসব গ্রাহকের সরকারের স্বল্প সুদে আবাসন ঋণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে ব্যাংকটি।

জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের ঋণ আমরা ৯ শতাংশ সুদে টেকওভার শুরু করেছি। এর ফলে যাঁদের ঋণে এর চেয়ে বেশি সুদ দিতে হচ্ছে, তাঁদের ওপর সুদের চাপ কিছুটা কমে আসবে। সামনে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকদের জন্য আমরা এই সেবা চালু করব। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকেরা সরকারের স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাবেন। নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ সহায়তা করবে।’

ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৩৩ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৪১ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা।

সেই হিসাবে এক বছরে আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে ব্যাংকটি ঋণ আদায়ে জোর দেয়, ফলে ঋণ খুব বেশি বাড়েনি। ২০২৩ সালে ব্যাংকটি পরিচালন মুনাফা করেছিল ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে যা বেড়ে হয় ১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। বিদায়ী বছরে পরিচালন মুনাফা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। তবে নিট মুনাফা হয়েছে ৪৪৪ কোটি টাকা।

এদিকে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ২০২৩ সালে ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ থাকলেও ২০২৪ সাল শেষে বেড়ে হয় ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত বছরের মাঝামাঝি তা বেড়ে ১৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে গত বছর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।




এপ্রিলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের কম, ১০ মাসে ঘাটতি ১.০৪ লাখ কোটি টাকা

সূত্র বলছে, এ ঘাটতি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থবছরের শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি বাড়লেও সব মিলিয়ে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়তে পারে সরকার।

 

একদিকে রাজস্ব আদায়ে গতি মন্থরতা, অন্যদিকে বড় লক্ষ্যমাত্রা—সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, এ ঘাটতি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থবছরের শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি বাড়লেও সব মিলিয়ে অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়তে পারে সরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “সর্বশেষ এপ্রিল মাসে রাজস্ব আদায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। অথচ আগের বছরগুলোতে মাসভিত্তিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ।”

অর্থবছরের শুরুর মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি ভালো থাকলেও শেষ দিকে এসে তা কমে যায়। এর প্রভাব পড়েছে গত ১০ মাসের সার্বিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধিতেও।

এনবিআরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “গত সরকারের সময়ে সক্ষমতার তুলনায় বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং অর্থনীতিতে গতিমন্থরতার কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়েছে।”

তিনি বলেন, সরকারের রাজস্বের বড় অংশ আসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন থেকে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে এ খাত থেকে ভ্যাটসহ অন্যান্য রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। এতে রাজস্ব আদায়ের গতিও কমেছে।

তবে তার মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শেষ দুই মাসে আদায়ে কিছুটা গতি আসতে পারে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যে বিশাল ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা কিছুটা কমতে পারে।

তিনি বলেন, “তারপরও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অন্তত ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে।”

ভ্যাট আদায়ে পতন

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ এপ্রিল মাসে আমদানি শুল্ক ও আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১৮ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ থাকলেও ভ্যাট আদায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে।

এনবিআরের আদায়কৃত ভ্যাটের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে এডিপি বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি খাতের উৎসে কর আদায় কমে যাওয়ায় ভ্যাট আদায়ও কমেছে।

এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়ন শাখার সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “এডিপি বাস্তবায়ন কমে গেছে, যার কারণে ভ্যাট আদায়ও কমছে।”

তিনি বলেন, “মাঠপর্যায় থেকে আমরা যে তথ্য পাচ্ছি, তাতে দেখা যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভ্যাট আসছে না। তবে অন্য কোন কোন খাত থেকে আদায় কমছে, পুরো চিত্র পাওয়া গেলে তা বোঝা যাবে।”

আগামী বছরও বড় লক্ষ্যমাত্রা

সরকার আগামী অর্থবছরে এনবিআর ও নন-এনবিআর মিলিয়ে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।

সিপিডির এক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের প্রাক্কলন করা হচ্ছে, সে বিবেচনায় আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়াবে প্রায় ৪২ শতাংশ।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, “এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব হবে না।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০০৭-০৮ অর্থবছরে, যা ছিল ২৭ শতাংশ। কিন্তু আগামী অর্থবছরে সেই হারে প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিতে পারে।”




বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ের কলমিলতা বাজারে লাগা আগুন প্রায় দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে দুইতলা মার্কেটটির নিচতলায় আগুন লাগে। সকাল ৭টায় যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, সকাল ৭টায় কলমিলতা বাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত নেই বলেও জানান তিনি।

এর আগে ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে ওই মার্কেটে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে ৫টা ২০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের মোট ১০টি ইউনিট কাজ করে।




ফ্রান্সে পাঠানোর নামে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ, যুবক নিখোঁজ

 

নরসিংদীর বেলাব ও রায়পুরা এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে এক পরিবার। উন্নত জীবনের আশায় ফ্রান্সে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গত প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন সজিব মিয়া (২৮) নামে এক যুবক। ফ্রান্সে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ২৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
​এই ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের স্ত্রী সুমিতা বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিলে রায়পুরা থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৫/৬/৭/৮ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয় (মামলা নং-২৪(৪)/২৬)। তবে মামলার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিসহ কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
​প্রলোভন ও নিখোঁজের ঘটনা
​মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলাব উপজেলার চরলক্ষীপুর (মধ্যপাড়া) এলাকার হযরত আলীর ছেলে পাভেল (৪০) নিজেকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছোট ভাই ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মানবপাচারের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।
​গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে রায়পুরা উপজেলার মামুদপুর এলাকার সজিব মিয়াকে ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যান পাভেল ও তার সহযোগীরা। কিন্তু সজিবকে ফ্রান্সে না পাঠিয়ে কৌশলে মালদ্বীপে পাচার করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপর থেকেই সজিবের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
​চক্রের কার্যপদ্ধতি ও নির্যাতনের অভিযোগ
​স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পাভেল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকার সরল-সোজা যুবকদের টার্গেট করে আসছিল। ইউরোপের ফ্রান্স, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
​ভুক্তভোগীদের একাংশের অভিযোগ, চক্রটি অনেক সময় যুবকদের ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়া বা মালদ্বীপের মতো দেশগুলোতে আটকে রাখে। সেখানে গোপন ক্যাম্পে বন্দি রেখে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা আদায়ের জন্য তাদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। এমনকি নির্যাতনের শিকার হয়ে এর আগে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
​”আমার স্বামীকে ফ্রান্সে পাঠানোর কথা বলে ওরা ২৯ লাখ টাকা নিয়েছে। এখন আমার স্বামী নিখোঁজ। মামলা করার পর থেকে পাভেল ও তার লোকজনেরা আমাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
— সুমিতা বেগম, নিখোঁজ সজিবের স্ত্রী
​প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
​মামলার আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। উল্টো আসামিদের হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। নিখোঁজ সজিব মিয়াকে উদ্ধার এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
​এই বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন,
​”আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।”
​”অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”




নরসিংদীতে চিংড়িতে জেলি পুশ: পাইকারি ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড, ১২৩ কেজি মাছ ধ্বংস

ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও মৎস্য পণ্যে ভেজাল রোধে নরসিংদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) ভোর ৬টায় নরসিংদী সদর উপজেলার বৌয়াকুড় এলাকার এমপি মার্কেটে অবস্থিত মাছের পাইকারি আড়তে এ অভিযান চালানো হয়।

​অভিযানকালে চিংড়ি মাছে ক্ষতিকর ও অবৈধ জেলি পুশ করার অপরাধ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় পরিমল দাস নামের এক পাইকারি ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত পরিমল দাস বৌয়াকুড় এলাকার ভরকা কান্ত দাসের ছেলে।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র চিংড়ির ওজন বাড়াতে কৃত্রিম জেলি পুশ করে বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোরে সেখানে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন নরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান।

​অভিযানকালে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০-এর ৩১(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে উক্ত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাথে জেলিযুক্ত প্রায় ১২৩ কেজি বিষাক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ করে জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানে প্রসিকিউশন কর্মকর্তা হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

​আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ১৩ মে নরসিংদী সদর উপজেলার বড়বাজার এলাকায় জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির দায়ে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছিল। নিবিড় অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মূলত আজকের দণ্ডপ্রাপ্ত পাইকারি ব্যবসায়ী পরিমল দাসের কাছ থেকেই উক্ত ভেজাল মৎস্য পণ্য সংগ্রহ করেছিলেন। ভেজালের মূল উৎস চিহ্নিত করেই আজ এই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

​অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এ ধরনের যেকোনো জালিয়াতি ও খাদ্যে ভেজালকরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।




জামায়াত ছাড়তে ধর্মভিত্তিক ৪ দলকে হেফাজতের চাপ

জামায়াতে ইসলামীর জোট ছাড়তে নির্বাচনের পরও ধর্মভিত্তিক চারটি দলকে চাপ দিচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। এ দলগুলোর শীর্ষ নেতারা হেফাজতের পদেও রয়েছেন। তাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, জামায়াত জোট বা হেফাজত– যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে। তবে তারা জোট ও হেফাজত দুই জায়াগায় থাকতে চান। উদাহরণ দিচ্ছেন, বিএনপির সঙ্গে থাকা কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোর নেতারা দুই জায়গায় থাকতে পারলে, তারা কেন পারবেন না?

দলগুলোর এবং হেফাজত নেতারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর মতবাদকে ভ্রান্ত আখ্যা দেন কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব সাজিদুর রহমান। জামায়াতকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে ভোট না দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। হেফাজত আমির ফতোয়া দিয়েছিলেন, জামায়াত জোটকে ভোট দেওয়া হারাম।

যদিও হেফাজত ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন এবং নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক। বাংলাদেশ খেলাফতের আমির মামুনুল হক হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব। দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই হেফাজতের বিভিন্ন পদে রয়েছেন।

খেলাফতের অপরাংশের আমির আবদুল বাছিত আজাদ এবং মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল– দুজনেই হেফাজতের নায়েবে আমির। নেজামে ইসলামের মহাসচিব মুসা বিন ইজহার হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব। খেলাফত আন্দোলনের আমিরে শরিয়ত হাবিবুল্লাহ মিয়াজী হেফাজতের নায়েবে আমির।

হেফাজত-সংশ্লিষ্ট জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের দুই অংশ বিএনপির সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ইসলামী ঐক্যজোট নির্বাচনী সমঝোতা না করলেও, বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছে। এই তিনটি দলের নেতাদের বিএনপি ছাড়তে চাপ দিচ্ছে না হেফাজত।

জামায়াত জোটে থাকা হেফাজত-সংশ্লিষ্ট চারটি দলগুলোর একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করে সমকালকে বলেছেন, হেফাজত ও জোট দুই জায়গাতেই থাকবেন তারা। দীর্ঘদিনের সম্পর্কসহ নানা কারণে হেফাজত সংগঠন হিসেবে বিএনপির দিকে বেশি ঝুঁকে গেছে। হেফাজত ছাড়বেন না, তবে এই অবস্থার পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবেন।

এই চারটি দল ছাড়াও জামায়াত, এনসিপিসহ ১১টি দল মিলে নির্বাচনী ঐক্য গঠন করেছিল। নির্বাচনের পর দলগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে সম্মিলিতভাবে বিরোধী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে সংসদে। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদের বাইরে জোটবদ্ধ থাকবে। এই দাবিতে গত শনিবারও রাজশাহীতে সমাবেশ করেছে ১১ দল। আগামী জুলাই পর্যন্ত জোটের কর্মসূচি চলবে।

নির্বাচনের পরও চাপ

জামায়াতের জোটে ছিল চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনও। দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জামায়াতের কড়া সমালোচক ছিল। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দল দুটি প্রকাশ্য সম্পর্কে আসে। সংস্কারের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করে। তবে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন জোট ভাঙে জামায়াত ও চরমোনাই পীরের।

এরপর থেকে আবারও জামায়াতের সমালোচনায় মুখর হয়েছে ইসলামী আন্দোলন। এই দলটি হেফাজতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হলেও, একই ভাষায় সমালোচনা করছে। নির্বাচনের আগে হেফাজতের শীর্ষ ‘মুরব্বিরা’ জামায়াতের বিরুদ্ধে যেমন প্রচার করেছেন, ভোটের পর কওমিভিত্তিক চার দলকে চাপ দিচ্ছেন জামায়াত ছাড়তে।

চারটি দলের সঙ্গে আলোচনা করতে গত ২৮ এপ্রিল কমিটি গঠন করে দেন হেফাজত আমির। এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী নেতৃত্বাধীন এই কমিটি। কমিটি বৈঠকও করে দলগুলোর সঙ্গে। এতে গুঞ্জন ছড়ায় জামায়াত জোট না ছাড়া দলগুলোর নেতাদের হেফাজত থেকে বহিষ্কার করা হবে।

এসব আলোচনার মধ্যেই রোববার মামুনুল হক চট্টগ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা করেছেন হেফাজত আমিরের সঙ্গে। বৈঠকের পর মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী দাবি করেন, হেফাজতের মধ্যে বিভেদ নেই।

মামুনুল হক বলেন, হেফাজতের আমির যে বিশ্বাস ও আকিদার কথা বলেন তা বাংলাদেশ খেলাফতসহ সংগঠনের যুক্ত সব দল তা ধারণ করে। বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন মত ও পথের দল নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য গঠিত হয়।  জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আকিদা, বিশ্বাস ও আদর্শিক পার্থক্য আগের মতোই রয়েছে। ১১ দল আদর্শিক নয়, রাজনৈতিক ঐক্য।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন সমকালকে বলেন, হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে রয়েছে, থাকবে। সংগঠনে যুক্ত নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে রয়েছেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তারা রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী নিয়ে থাকেন। এই বক্তব্যই হেফাজত আমিরকে জানানো হয়েছে। তিনি সবার মুরব্বি হিসেবে নিশ্চয় বিষয়টি বুঝেছেন। জোট না ছাড়লে হেফাজত থেকে বহিষ্কারের গুঞ্জন সঠিক নয়।

যদিও এবারের ৫ মে হেফাজত এককভাবে কর্মসূচি করতে পারেনি। ঢাকায় ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারা লালবাগে কর্মসূচি করেন। মাওলানা মামুনুল হক হেফাজতের পরিবর্তে ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’-এর ব্যানারে কর্মসূচি করেন। এতে জামায়াত জোটে থাকা হেফাজত নেতারা আসেন।

বৈঠকে যায়নি বাকি তিন দল 

খেলাফত মজলিসের অপরাংশ, নেজামে ইসলাম এবং খেলাফত আন্দোলনকেও ডাকা হয়েছিল রোববারের বৈঠকে। তবে তাদের সবার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন মামুনুল হক। এই দলগুলোর একাধিক নেতা সমকালকে বলেন, হেফাজত যে জামায়াতকে ছাড়তে চাপ দিচ্ছে তাতে তারা নীতিগতভাবে একমত নন। তারা হেফাজত আমিরের কমিটিকে জানিয়েছেন, একসময় জামায়াতের সঙ্গেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে ছিলেন তারা। তখন যদি প্রশ্ন তোলা না হয়, তবে এখন কেন আপত্তি করা হচ্ছে?

নির্বাচনের আগে হেফাজতের শীর্ষ নেতারা দুই দফা গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করেন। বিএনপিকে নির্বাচনে সমর্থন করেছেন। হেফাজতের পদে থাকা জমিয়ত নেতাদের মধ্যে উবায়দুল্লাহ ফারুক, জুনায়েদ আল হাবিব, মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, মনির হোসেইন কাসেমী নির্বাচন করেন বিএনপির সমর্থনে। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন জমিয়তের অপরাংশের নেতা রশিদ ওয়াক্কাস। এই উদাহরণ দিয়ে জামায়াত জোটে থাকা হেফাজত নেতারা বলেছেন, জমিয়ত যদি বিএনপির জোটে থেকে হেফাজতে থাকতে পারে, তাহলে তারা কেনো পারবেন না?

জামায়াত জোটে থাকা খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ডা. আহমদ আবদুল কাদের সমকালকে বলেন, হেফাজত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন। এই সংগঠনের নেতারা রাজনৈতিকভাবে কে কোন দলে জোটে থাকবে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোন দল কার সঙ্গে জোট করবে, তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। যা সব দল ও নেতার জন্যই প্রযোজ্য।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলের সমন্বয়কারী হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কোনো দলই জোট ছাড়ছে না। বরং জোট দৃঢ় হচ্ছে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংস্কারের জন্য।




টেলিভিশন মালিকদের নতুন শর্তে ক্ষোভ সাংবাদিকদের

টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত সংবাদকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান কর্মস্থল থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বা ছাড়পত্র ছাড়া অন্য কোনো টিভি চ্যানেলে চাকরি নেওয়া যাবে না। অ্যাটকোর এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

অ্যাটকোর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন চ্যানেলে যোগদানের আগে বর্তমান বা সর্বশেষ কর্মস্থল থেকে এনওসি নেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্দেশনা না মানলে তা প্রতিষ্ঠানের নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টির সমালোচনা করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতারা।

রাজনীতি ডট কমের সম্পাদক শরিফুজ্জামান পিন্টু বলেন, এই নির্দেশনা প্রত্যাহার করা উচিত। তার মতে, এটি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং কার্যত তাদের চলাচলের স্বাধীনতাকে সীমিত করবে।

নতুন নির্দেশনার কড়া সমালোচনা করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন বা কাজের পরিবেশ উন্নয়নের বদলে এমন নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অযৌক্তিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, চাকরিচ্যুত বা কম বেতনে কাজ করা সাংবাদিকদের সুরক্ষায় মালিকদের সংগঠনের ভূমিকা কোথায়?

সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বলেন, এই বিজ্ঞপ্তি সরাসরি শ্রম আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর মতে, একজন কর্মীর চাকরি পরিবর্তনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং পদত্যাগের পর অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে এনওসি বাধ্যতামূলক করা বেআইনি ও শোষণমূলক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী সাংবাদিকরা নিয়ম মেনে পদত্যাগ করলেই অন্য হাউসে চাকরি নিতে পারেন, আলাদা কোনো ছাড়পত্রের প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, চাকরি হারানো সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে না।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা ও ইনক্রিমেন্ট পান না, আবার চাকরি পরিবর্তনেও বাধা দেওয়া হলে তা চরম অবিচার। তার মতে, মালিকদের উচিত শ্রম আইন অনুযায়ী সব সুবিধা নিশ্চিত করা, বাধা তৈরি করা নয়।




ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে

ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দখল, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সুশাসনের অভাব এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি করেছে। এসব কারণে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা আস্থার প্রতীক থেকে এখন বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের যে সংকট চলছে, তার সমাধান না হলে অর্থনীতির ধস ঠেকানোর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

‘দেশের ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়: প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং খাত: জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ’ শিরোনামের এক সেমিনারে গতকাল শনিবার এমন মত দিয়েছেন বিশিষ্ট জন। তারা জাতীয় অর্থনীতির বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যাংক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর জোর তাগিদ দিয়েছেন। ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮ (ক) ধারা বাতিলের সুপারিশ করেছেন তারা। এই ধারায় একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডার, যাদের কারণে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল, তাদের আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বক্তারা।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে সংগঠনের ব্যানারে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। আরও বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি ফারুক মঈনউদ্দীন, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি আবুল কাসেম হায়দার প্রমুখ।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, যারা ব্যাংক খাতে সমস্যা তৈরি করেছে, তাদের ফেরত আনতে আইনে নতুন ধারা কেন? ব্যাংক রেজল্যুশন আইনটির পুনর্বিবেচনা করতে সরকারকে অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমানতকারীসহ সব ধরনের গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তার সংস্থান করতে হবে। অনেক আমানতকারী ব্যাংক থেকে তাদের জমানো টাকা তুলতে পারছেন না। এর সমাধান দরকার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নৈতিকতার মানদণ্ডে দাঁড়াতে পারছে কিনা, তাও দেখতে হবে। সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন অত্যন্ত জরুরি।
হোসেন জিল্লুর বলেন, অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত রয়েছে। তবে কয়েকটি বিষয়ে সবাই একমত। এগুলো হচ্ছে– অর্থনীতিতে বিপর্যয় হয়েছে এবং কলুষিত নীতি প্রক্রিয়া অর্থনীতির সংকট ত্বরান্বিত করেছে, যা এখনও চলছে। আমানতকারীরা নীরবে দুঃখকষ্ট ভোগ করছেন। অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় আছে। বিনিয়োগ নেই, বেকারত্ব বাড়ছে। দেশের বড় পরিবর্তন সংকট সমাধানের সুযোগ হিসেবে এসেছে। সব সংকটের টেকসই সমাধান প্রয়োজন।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাত অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। এ খাতে লুট হলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসে। ব্যাংক দখল নিয়ে যেসব খবর বেরোচ্ছে, তা দিয়ে থ্রিলার সিনেমা হতে পারে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি দখল করা ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ব্যাংকটি থেকে টাকা তোলার লাইন পড়েছে। তিনিও ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের নতুন ধারা বাতিল করার দাবি জানান।
ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। ব্যাংক খাতে বিগত দিনে যে লুটপাট হয়েছে, তা মন্দ ঋণ হিসেবে মূল ব্যালান্সশিট থেকে আলাদা হিসাব অর্থাৎ ঋণ অবলোপনের পরামর্শ দেন তিনি।




দেশের অধিকাংশ ব্যাংকে টাকা রাখলে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা কম

সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের জন্য লিজিং কোম্পানি, শেয়ারবাজার, বিমা ও সমবায়ের মতো ব্যাংক খাতও এখন অনিরাপদ। বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নেই। হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বেশিরভাগে টাকা রাখলে মুনাফা তো দূরের কথা, আসলই ফেরত পাওয়া নিয়ে বেড়েছে শঙ্কা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ।

বহু ব্যাংক বছরের পর বছর প্রকৃত তথ্য গোপন করেছে। হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বাকিগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। ১২টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৭০ শতাংশের উপরে উঠে গেছে। অনেক ব্যাংকে আমানতকারীরা টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। ৬২টি ব্যাংকের মধ্যে ৬৬ শতাংশই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ২৩টি ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। ফলে ব্যাংক খাতে আমানতকারী কিংবা ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের আস্থা নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. এমকে মুজেরী বুধবার বলেন— ব্যাংক, এনবিএফআই, শেয়ারবাজার এবং বিমাসহ আর্থিক খাতের সবই এখন আস্থার সংকটে। এসব খাতে মানুষ টাকা রাখতে ভয় পায়। ব্যাংকগুলোতে লুটপাট এবং ব্যাপক জালজালিয়াতি হয়েছে। ফলে কোনো কোনো ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর ফলে কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বাকিগুলোর অবস্থা খারাপ। এখানে মানুষ টাকা রাখতে সাহস পান না। এটি অর্থনীতির জন্য ভালো সংকেত নয়।

তিনি বলেন, চিহ্নিত কিছু গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারাই আবার ব্যাংকের মালিক। আবার ব্যাংক থেকে টাকা লুটের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থারও যোগসাজশ রয়েছে। তিনি বলেন, এনবিএফআইর অবস্থা আরও খারাপ। একই অবস্থা শেয়ারবাজার এবং বিমা খাতে। ফলে সামগ্রিকভাবে পুরো আর্থিক খাতের ওপর বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

আস্থার সংকট দূর করার দুটি করণীয় সম্পর্কে বলেছেন মুজেরী। প্রথমত, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, তারা যেসব অর্থ লুট করেছে, তা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আর্থিক খাতের এই আস্থা সংকট সাধারণ বিষয় নয়। এই সংকট অনেক গভীরে। পুরো খাতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এখান থেকে সহজে উত্তরণ সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থেই দেশের আর্থিক খাতে ভালো চর্চা না হলে সমস্যা আরও বাড়বে। ড. মইনুল ইসলাম বলেন, আগামীতে ভালো নীতির চর্চা হবে, সেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে যেভাবে সরানো হলো, তা শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, সাধারণ মানুষও এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। আমি মনে করি এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা আরও নষ্ট করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আর্থিক খাতের সমস্যা সমাধানে গ্রাহকের আস্থা ফেরানো জরুরি। আর এই আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। যেমন বড় অঙ্কের যেসব অর্থ পাচারের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো উদ্ধারে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি’ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি কাজ করছে। এছাড়াও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। পর্ষদে পর্যবেক্ষক দেওয়া হয়েছে।

নতুন করে আর যাতে বেনামি ঋণ তৈরি না হয়, সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু বড় গ্রাহক নয়, ছোট গ্রাহকদের মধ্যেও অনেকে খেলাপি হয়েছে। খেলাপি হওয়ার পেছনে তারা বিভিন্ন কারণ বলছেন। কিন্তু তাদের এই খেলাপি ঋণ যৌক্তিক কিনা সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক তার সাধ্য অনুসারে চেষ্টা করছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। ২০টি প্রতিষ্ঠান রেড জোনে আছে। এর মধ্যে ৯টির অবস্থা এতই খারাপ, যা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দেওয়া হয়েছে। ৬টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের ঘোষণা আসতে পারে।

আমানতের অর্থ ফিরে পেতে এ ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১২ হাজারের বেশি আমানতকারী আন্দোলনে নেমেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-এফএএস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। সূত্র বলছে, বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৬ শতাংশ খেলাপি।




ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা শান্তির পথ খুলতে পারে: শাহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে বলে।

দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য-বিবৃতি বাড়লেও পাকিস্তান এখনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান, মার্কিন প্রশাসন থেকে শুরু করে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো—সব পক্ষেরই আস্থা পাকিস্তানের ওপর রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘শান্তি সহজে অর্জিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।’

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দুই দেশের চলমান আলোচনা মূলত ‘বিশ্বাস সংকটে’ ভুগছে।  ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস না করার সব কারণই ইরানের আছে। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আমেরিকানদের রয়েছে।’

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের চলমান আলোচনা মূলত ‘বিশ্বাস সংকটে’ ভুগছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই




দুর্নীতির আখড়া ঢাকা ট্রেড সেন্টার মার্কেট

রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর-দক্ষিণ) মার্কেট ঘিরে চলছে দুর্নীতির উৎসব। অনুমোদিত নকশা নীতিমালা অমান্য করে মার্কেটের ছাদজুড়ে ১৭০টির বেশি অবৈধ দোকান ও গুদামঘর তৈরি করেছে দোকান মালিক সমিতির প্রভাবশালীরা। এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে ভাড়া ও জামানতের নামে বছরে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। শুধু তাই নয়, প্রভাবশালীদের ক্ষমতার অপব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে মার্কেটের ব্যবসায়িক পরিবেশ। তাদের ‘ছাদ বাণিজ্য’ রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। যদিও মার্কেট সমিতির প্রভাবশালী নেতারা বলছেন, অনুমোদিত নকশার বাইরে ছাদে কোনো দোকান-গুদাম নির্মাণ করা হয়নি।

জানা গেছে, মার্কেটের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক মজুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক আরিফ আহম্মদ যুগান্তরকে বলেন, মোজাম্মেল হক মজুর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় সত্য। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর-দক্ষিণ) মার্কেটের ছাদে অস্থায়ী দোকান-গুদাম নির্মাণ করে মার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ করা হয় ১৭০টির বেশি দোকান-গুদামঘর। এসব ঘর নির্মাণে নেতৃত্ব দেন ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর) মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক মজু, সাধারণ সম্পাদক বাসেত মাস্টার, দক্ষিণের সভাপতি মীর আল মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন রানা। কেবল ছাদে ঘর নির্মাণই নয়; মার্কেটের ভেতরে অবৈধ দোকান নির্মাণ ও ভাড়াসহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোট অঙ্কের টাকা। আর এসব কাজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোজাম্মেল হক মজু-এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তরের সভাপতি মোজাম্মেল হক মজু যুগান্তরকে বলেন, ছাদের ওপরে অবৈধ কোনো গোডাউন বা দোকান তৈরি করা হয়নি। মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ডদের (নিরাপত্তাকর্মী) সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করে টিনের কিছু ঘর তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, ছাদে যেসব ঘর তৈরি করা হয়েছে সেগুলো মূলত গোডাউন ও দোকান। সেখান থেকে তারা মাত্র দুটি রুম ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের দাবি, দোকান-গুদাম তৈরির পরিকল্পনায় এসব ঘর তৈরি করা হয়েছে। তাদের বিশ্রাম ও ঘুমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র দুটি রুম। দায়িত্বপালন শেষে সেখানেই বিশ্রাম, ঘুম, খাওয়া, গোসলসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করেন তারা। বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর-দক্ষিণ) মার্কেটের ছাদে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলো দোকান ও গোডাউন হিসাবে ব্যবহার করতে ভাড়া নিয়েছে মার্কেটের বেশকিছু ব্যবসায়ী। ভাড়ার এসব গোডাউনে জুতা, জামা, প্যান্ট, কম্বলসহ দোকানের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীও রাখছেন তারা। তাদের এসব ঘর ভাড়া নিতে জামানত হিসাবে দিতে হয়েছে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা। এছাড়া মাসিক ভাড়া হিসাবে দিতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেজমেন্টসহ ছয়তলা পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের বরাদ্দকৃত স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। অথচ মার্কেটে ছোট-বড় সব মিলিয়ে দোকান সংখ্যা প্রায় তিন হাজারের বেশি। এর মধ্যে ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণে ৯৫১টি স্থায়ী ও ২১০ অস্থায়ীসহ মোট ১১৬১টি দোকান। আর উত্তরে ৯৭১টি স্থায়ী ও ২৩৭টি অস্থায়ীসহ মোট ১১০৮টি দোকান। এছাড়া মার্কেটের অতিরিক্ত দোকান সংখ্যা প্রায় ৭০০। অনুমোদনের বাইরে এসব অতিরিক্ত দোকান নিয়ন্ত্রণ করে মার্কেট কমিটির নেতারা। তারা সিটি করপোরেশনকে ফাঁকি দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে মার্কেট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাদের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। যদিও মার্কেটে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন তারা। তাদের এসব অভিযান অল্পকিছু বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে মার্কেটের ছাদে অবৈধ দোকান-গুদামঘর নির্মাণ হলেও তার বিরুদ্ধে এখনো অভিযান করা হয়নি বলে দাবি সাধারণ ব্যবসায়ীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কেট কমিটির দায়িত্বশীল এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, ছাদে অবৈধ দোকান তৈরির ঘটনা সত্য। নিরাপত্তাকর্মীদের বিশ্রমের জন্য ঘর তৈরির নাম করে সেখানে অনেকগুলো অবৈধ ঘর তৈরি করা হয়। পরে সেখান থেকে দুটি রুম দেওয়া হয় নিরাপত্তাকর্মীদের।

ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর) মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক বাসেত মাস্টার যুগান্তরকে বলেন, সিকিউরিটিদের সুবিধার জন্য ছাদের ওপর ঘর তৈরি করা হয়েছে। আর বক্তব্য নেওয়ার জন্য মার্কেট দক্ষিণ অংশের সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন রানার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।




মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ কবে, জানা যাবে আজ

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহা কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা আজ রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় জানা যাবে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আগেই জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় ১৪৪৭ হিজরির ২৯ জিলকদ অর্থাৎ জিলহজ মাসের চাঁদ অনুসন্ধান করা হবে।

গত শুক্রবার (১৫ মে) সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালতন রোববার সাধারণ মানুষকে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদির সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যদি কেউ চাঁদ দেখতে পান তাহলে দেশে গঠিত চাঁদ দেখা কমিটিকে যেন অবহিত করেন।

গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সৌদি আরবে জিলকদ মাসের ২৯তম দিন। যদি এদিন সন্ধ্যায় দেশটির আকাশে চাঁদ দেখা যায় তাহলে সোমবার (১৮ মে) থেকে জিলহজ মাস শুরু হবে। সে হিসেবে আগামী ২৭ মে হবে ঈদুল আজহা। তবে ১৭ মে সৌদির আকাশে চাঁদ দেখা না গেলে একদিন পিছিয়ে ঈদুল আজহা হবে ২৮ মে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ অধিকাংশ ইসলামি দেশগুলোয় রোববার যুলহিজ্জাহ বা জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে এবং মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং আমেরিকার বেশিরভাগ অংশে খালি চোখেই চাঁদ দেখা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শওকত ওদেহ বলেছেন, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী আগামী সোমবার (১৮ মে) যুলহিজ্জাহ বা জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে। এই হিসেবে আগামী বুধবার (২৭ মে) সৌদি আরবসহ বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশে ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




অনলাইন জুয়ার ফাঁদ: ‎৬ চীনা নাগরিকসহ ৮ জন রিমান্ডে

‎অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা চীনে পাচারের মামলায় ৬ চীনা নাগরিকসহ ৮ জনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।‎অপর আসামি রোকন উদ্দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।

‎‎রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন-এমএ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), জেমস ঝু (৪৩), মো. কাউসার হোসেন (২৪) ও মো. আব্দুল-কারিম (২৮)। ‎রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার টিম দক্ষিণের এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

‎ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ‎গত ১ মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। এরই অংশ হিসেবে আমাদের সাইবার টিম রাজধানী উত্তরা এলাকা অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ছয় চীনা সদস্য সহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

‎‎তিনি বলেন, গতকাল বুধবার সকালে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমটি নিয়মিত সাইবার মনিটরিংকালে ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ/নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত হয়। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নং সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউসার, করিম ও রোকনকে এবং তুরাগ থানাধীন রুপায়ন হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে চীনা নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়।

‎‎গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিকট থেকে এই অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনেক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এসময় তাদের নিকট থেকে ৩টি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, ১টি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, ১টি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট এবং এনআইডি ও ১টি টয়োটা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

‎‎এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের সাইবার টিমের এসআই সুব্রত দাশ রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।




২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি থেকে। আর পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭।

এ দিকে আগামী বছরের (২০২৭) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৬ জুন ২০২৭ থেকে শুরু হবে। এ পরীক্ষা চলবে ১৩ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী বছরের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেন। বিস্তারিত আসছে…




রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসনে গুরুত্ব দিয়ে নরসিংদী জেলা তথ্য অফিসের বিশেষ প্রচারণা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নরসিংদীতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
​বুধবার (১৩ মে ২০২৬) দুপুর ১২টায় নরসিংদী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​ইশতেহার বাস্তবায়নে বিশেষ রূপরেখা
​সভায় জানানো হয়, রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে নরসিংদী জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘গণতন্ত্র সংলাপ’ ও ‘ইশতেহার আলাপ’ শীর্ষক বিশেষ ব্রিফিং সেশন এবং সিনেমা প্রদর্শনীর মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হবে।
​বক্তব্য ও উপস্থিতি
​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান। তিনি বলেন, “সরকারের এই মহাপরিকল্পনা তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অপরিসীম। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে আমরা কাজ করছি।”
​নরসিংদী জেলা তথ্য অফিসার মোঃ ওবাইদুল কবির মোল্লা বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, “আগামী ১৮০ দিনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং জলবায়ু সুরক্ষা নিয়ে উঠান বৈঠক ও কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।”
​সাংবাদিকদের সরব অংশগ্রহণ
​ব্রিফিংয়ে নরসিংদী জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় শতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন:
​এম এ আউয়াল, সভাপতি, নরসিংদী জেলা প্রেস ক্লাব।
​সফিকুল ইসলাম মতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, নরসিংদী জেলা প্রেস ক্লাব ও প্রতিনিধি, গ্লোবাল টেলিভিশন।
​মহাপরিকল্পনার মূল দিকসমূহ:
​সভায় ১৮০ দিনের কর্মসূচির পাঁচটি মূল স্তম্ভ নিয়ে আলোচনা করা হয়:
১. রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতন্ত্র: জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গঠনে স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ প্রচারণা।
২. সামাজিক সুরক্ষা: ফ্যামিলি কার্ড ও নারী ক্ষমতায়নে অনলাইন ও অফলাইন ক্যাম্পেইন।
৩. পরিবেশ রক্ষা: ‘সবুজের অভিযান’ শীর্ষক বৃক্ষরোপণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সচেতনতা।
৪. ধর্মীয় সম্প্রীতি: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিউনিটি সভা।
৫. সাংস্কৃতিক সুরক্ষা: দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষায় ‘আমার সংস্কৃতি, আমার পরিচয়’ কর্মসূচি।
​উপস্থিত সাংবাদিকরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর সঠিক বাস্তবায়নে তথ্য ও প্রচারণায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।




কুরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করল সরকার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে কুরবানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ঘোষিত দর অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার ভেতরে গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার দাম রাখা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।

এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, কুরবানির পশুর চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য সরকারিভাবে সারা দেশে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হবে। এজন্য ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কেনা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরের পর চামড়া খাতে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। সাভারের সব কারখানা পুরোপুরি চালু না হওয়ায় চামড়ার বাজার প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে চামড়া শিল্পকে সম্ভাবনাময় খাতে রূপ দিতে সাভারের সিইটিপি সংস্কার করা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে, তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইটিপি স্থাপন করবে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রুপভিত্তিক আর্থিক সহায়তা দিয়ে সিইটিপির আওতায় আনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

চলতি বছর কুরবানির চামড়ার যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক তদারকি দল এবং সংসদ সদস্যরাও সমন্বিতভাবে কাজ করবেন বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।




শিক্ষিত বেকার কমাতে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বেকারত্ব নিরসন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন খুব সম্ভবত সম্ভব হবে না।

সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ হাতে নিয়েছে।
উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজার সংকুচিত করছে, অন্যদিকে নিত্যনতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।

এ সময় তিনি উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, এদের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি, কন্টেন্ট, পণ্য বা রিয়েল এস্টেট নেই। শুধুমাত্র একটি স্মার্ট ইন্টারফেস ও উদ্ভাবনী আইডিয়া দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করছে। আমাদের প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন, সুযোগ পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়।

ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করতে চায়। যেখানে মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি দেশজ মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে হাঁটব, তবে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে না ফেলি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।




আগামী ৫ বছরে ১ কোটি বেকারের কর্মসংস্থান হবে: ত্রাণমন্ত্রী

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী।

সোমবার (১১ মে) সকালে লালমনিরহাট স্টেডিয়ামে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আয়োজনে এক বিশাল চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় অভিশাপ এবং এটি দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ​সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

​দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়া খাল খনন কর্মসূচির মতো প্রকল্পে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দরিদ্র মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জনগণ বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

​চাকরি মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন সুমা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন।




‘এসআইবিএলকে একীভূত নয়, প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিন’

‘সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) মারাত্মক ক্ষতি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর’-এমন অভিযোগ ঢাকা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের। তার মতে, প্রায় দেড় বছর ধরে অনভিজ্ঞ পর্ষদ দিয়ে এসআইবিএল পরিচালনা করা হয়। এতে গ্রাহক অনাস্থায় প্রায় অর্থশূন্য হয়ে পড়ে ব্যাংকটি। সে কারণে এসআইবিএলকে একীভূত না করে দখলের আগে যাদের হাতে ছিল সেই মূল মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানান। চিঠির একটি অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সংসদ-সদস্য চিঠিতে দাবি করেন, ২০১৭ সালে শেখ হাসিনার নির্দেশে একটি সরকারি গোয়েন্দা বাহিনীর সহায়তায় অস্ত্রের মুখে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সাইফুল আলম (এস আলম)। এর আগে ধারাবাহিকভাবে ভালো আর্থিক পারফরম্যান্স ছিল এবং শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি বছর ২০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দেওয়া হতো। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এস আলম নিয়ন্ত্রিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি প্রকৃত মালিকদের হাতে ব্যাংক ফেরত না দিয়ে কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং মাত্র একজন উদ্যোক্তা পরিচালকের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। যা ছিল ব্যাংকটিতে আর্থিক দুরবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অনেক উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারের পরিচালক হওয়ার যাবতীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পরিচালনা পর্ষদে তাদের যুক্ত করা হয়নি। তাদের যুক্ত করতে বারবার অনুরোধ করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বিষয়টি আমলে নেননি। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করলেও প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের অন্তর্ভুক্ত না করায় গ্রাহকদের আস্থা কমে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়ায় আরও অনাস্থা সৃষ্টি হয়। এতে জমানো টাকা তুলতে শুরু করেন আমানতকারীরা। ফলে গভীর সংকটে পড়ে ব্যাংকটি। বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট অর্থের জোগান দিলেও ব্যাংকটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

চিঠিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যাদেরকে পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছে, তারা কেউ এর আগে কোনো ব্যাংক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। প্রায় দেড় বছরে ধরে অনভিজ্ঞ পর্ষদ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ব্যাংকটি পরিচালনা করেছেন। এতে ব্যাংকটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংসদ-সদস্য অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাংকটিকে অকার্যকর ঘোষণা করে ব্যাংক রেজ্যুলেশন স্কিমের আওতায় নেওয়া হয়। যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। আদালত রুল জারি করলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষ তার জবাব না দিয়েই একতরফাভাবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ব্যাংকটির প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে দিলে এবং নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত করা হলে এসআইবিএল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এবং আবারও একটি লাভজনক ব্যাংকে পরিণত হবে। এসআইবিএলকে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর শরিয়াহভিত্তিক দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে এসআইবিএল কার্যক্রম শুরু করে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস ব্যাংকটি উদ্বোধন করেন। যা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। ব্যাংকটি মূলত যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে অন্যতম হলেন-সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান; নাইজারের সাবেক অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং ওআইসির সাবেক মহাসচিব ড. হামিদ আল গাবিদ; সৌদি পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার এবং ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগের মহাসচিব ড. আব্দুল্লাহ ওমর নাসিফ। আরও যুক্ত ছিলেন সৌদি আরবের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আহমেদ এম সালাহ জামজুম। যুক্ত ছিল সৌদি আরবের রিলিফ ফান্ড- ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ড, ইসলামিক চ্যারিটেবল সোসাইটি এবং হামদর্দ ল্যাবরেটেরিজ বাংলাদেশসহ দেশি-বিদেশি নামি দামি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান। ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ব্যাংকটি। বর্তমানে এই ব্যাংকের ১৮১টি শাখা, ২৪০টি উপশাখা এবং ৩৭০টি এজেন্ট আউটলেট রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং দক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত না হলে এমন সংকট আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।




আসছে ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’

নরসিংদীর মনোহরদীতে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থান বজায় রাখার লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি আদর্শ উপজেলা গড়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
​গত শনিবার (৯ মে) সকালে মনোহরদী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) আয়োজিত ত্রৈমাসিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পিস অ্যাম্বাসেডর ও বিএনপি নেতা মো. আরিফুল ইসলাম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং কোঅর্ডিনেটর সাংবাদিক নেতা কাজী আনোয়ার কামালের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর রিপন আচার্য।
​ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান: সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী জুন মাসে মনোহরদীর সর্বস্তরের অংশীজনদের নিয়ে একটি ‘আন্তঃধর্মীয় নাগরিক সংলাপ’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সংলাপের মাধ্যমেই শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় শক্তিশালী ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে।
​আলোচনায় অংশগ্রহণকারীগণ: সভায় বক্তব্য রাখেন পিস অ্যাম্বাসেডর ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইদুর রহমান তসলিম, রাজনীতিবিদ এমদাদুল হক টিটো, পিস অ্যাম্বাসেডর নারগিছ সুলতানা, জনপ্রতিনিধি এম সুলতান উদ্দিন এবং শিক্ষক নেতা এ. টি. এম. আশ্রাফুল আলম।
​এছাড়াও আলোচনায় মতামত তুলে ধরেন আতাহার আলী, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, সনজন কুমার রায়, মো. বোরহান উদ্দিন, সরকার মো. ফারুক হোসেন, সাংবাদিক মীর ছালেহা (কাঞ্চি) এবং মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
একই দিনে পৃথক অধিবেশনে ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি) এবং ওমেন এগেইনস্ট ভায়োলেন্স অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম (ওয়েভ)-এর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শান্তি ও অহিংসা প্রসারে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই নাগরিক প্ল্যাটফর্ম মনোহরদীর সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।




সাড়ে ১৩ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করে নিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুদিন ধরে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত তাতে সফল হননি। তবে শেষ পর্যন্ত ইরান থেকে না পারলেও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে ইউরেনিয়াম জব্দ করতে পেরেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, শুক্রবার (৮ মে) যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানায়, ভেনেজুয়েলার একটি পুরনো গবেষণা চুল্লি থেকে ১৩ দশমিক ৫ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়ার যৌথ অভিযানে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের অধীন জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রধান ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে অপসারণ বিশ্বকে নতুন বার্তা দিয়েছে—দেশটি আবারও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ফিরে আসছে।’

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি জানিয়েছে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অভিযানে ইউরেনিয়াম স্থল ও সমুদ্রপথে নিরাপদে উত্তর আমেরিকায় আনা হয়। পরে তা যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের জ্বালানি বিভাগের একটি স্থাপনায় নেওয়া হয়।

এদিকে চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় পরিবর্তন আসে।

পরে ওয়াশিংটন কারাকাসের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন শুরু করে।

এরই মধ্যে কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ভেনেজুয়েলা সফর করেছেন। সাত বছরের বেশি সময় পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইটও চালু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাসও পুনরায় খুলেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানের।




কুরবানির পশুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রী

আসন্ন কুরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর গাবতলি পশুর হাট পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, পশু পরিবহন ও হাট ব্যবস্থাপনায় চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “কুরবানির পশু আনা-নেয়ার সময় সড়কে চাঁদাবাজি রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগেভাগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রেললাইন ও সড়কের পাশে পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবে।

হাট ব্যবস্থাপনায় ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে বলেও জানান তিনি। এসব ভলেন্টিয়ার হাটে শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসাধারণের সহযোগিতায় কাজ করবে।

মীর শাহে আলম বলেন, বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হাট এলাকায় ওয়াচটাওয়ার স্থাপন এবং নকল টাকা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি জলিল

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর-এ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হতে আবেদন করেছেন সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হয়। শুনানিতে তার পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ আলী হায়দার জামিন আবেদন করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ রাতে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে আবদুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। বর্তমানে তিনি শাপলা চত্বর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাবন্দি আছেন।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ মে শাপলা চত্বর ঘটনায় আবদুল জলিল মণ্ডলসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তিনি এ মামলার দ্বিতীয় আসামি।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, আবদুল জলিল মণ্ডল দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একসময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় অন্তত ৫৮ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তবে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।