৬৪৫ কোটি ক্ষতি মৎস্য খাতে ময়মনসিংহে রেকর্ড বৃষ্টিতে

ময়মনসিংহে এক দিনের বৃষ্টিতে মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে ৬৪৫ টাকা কোটি টাকা। একই সঙ্গে ৩৬ হাজার ৮৫৮ হেক্টর জমিতে ধান ও সবজি ডুবে গেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দিন ও রাতভর রেকর্ড বৃষ্টিতে পুরো জেলাজুড়ে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই দিন ময়মনসিংহ জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় বড় আকারের বাণিজ্যিক খামার রয়েছে অন্তত ৭৪ হাজার। অবাণিজ্যিক ও ছোট আকারের পুকুর আছে এক লাখ ৬৩ হাজার। মাছ চাষি আছে প্রায় এক লাখ ১২ হাজার। চলতি বছর চার লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। যার বাজার মূল্য অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এক দিনের বৃষ্টিতে ৪১ হাজার পুকুর তলিয়ে গেছে। এতে মাছ ও অবকাঠামোসহ মোট ৬৪৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান করা হয়েছে। তবে, এক দিনের বৃষ্টিতে ৩৬ হাজার ১৩৮ হেক্টর জমির চারা ধান নিমজ্জিত হয়েছে। এর মাঝে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত ২০ হাজার ৯৪৫ হেক্টর জমি ও আংশিক নিমজ্জিত ১৫ হাজার ১৯৩ হেক্টর জমির ধান। এদিকে, এই মৌসুমে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ করা হয়েছিল। বৃষ্টিতে প্রায় ৭২০ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীর গাঙ্গিনারপাড়, ধোপাখলা, চরপাড়া, নতুন বাজার, স্টেশন রোড, নয়াপাড়া, ব্রাহ্মপল্লী, কালিবাড়ি, গুলকিবাড়ি, আমলাপাড়া, ভাটিকাশর৷ কালিবাড়িসহ নগরীর অনেক এলাকা হাঁটুপানি ও কোমর সমান পানি জমেছে। এসব এলাকার বাসা বাড়ির দোকানে পানি উঠেছে। অনেক পরিবার নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। নগরীর বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে নিজ ঘরে আটকা পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।

এদিকে, ওই দিন রাত ১০ টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী এলাকার পাওয়ারগ্রিডের কন্টোল রুমে পানি উঠে যায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তিন ঘণ্টা কন্ট্রোল রুমের পানি সেঁচে বের করেন। এ ঘটনায় বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।

সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় অন্তত ৫০০ একর ধান ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ওই এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমি ৮ কাঠা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। গত রাতের বৃষ্টির পানিতে সব ধান ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

সদর উপজেলার চর হরিপুর এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ১০ শতাংশ পুকুর ডুবে ৫০ হাজার টাকার মাছ ভেসে গেছে।

একই এলাকার শামীম আহমেদ বলেন, আমার প্রায় ৩০ কাঠা ধানি জমি তলিয়ে গেছে। তবে, আমার কোন ফিশারি না থাকায় বেঁচে গেছি। এই গ্রামে অন্তত ৩০০ একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। বাড়ি ঘরেও পানি উঠেছে।

চর হরিপুর এলাকার জয়নাল বলেন, ১৭ কাঠা জমি লিজে নিয়ে ফিশারি দিয়েছি। এক রাতের বৃষ্টিতে সব ফিশারি তলিয়ে গেছে। মাছ যেন ফিশারি থেকে না যেতে পারে তাই নেট জাল বাঁধ দিচ্ছি। আমার অন্তত ১৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

চর হরিপুর গ্রামের মজিবুর রহমান বলেন, এমন বৃষ্টি দেখছি বহুবার কিন্তু এভাবে পানি জমতে দেখিনি কখনো। আমার ১০ কাঠা ধান জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ১২ কাঠা জমিতে ফিশারি ছিল। সব ফিশারি তলিয়ে গেছে। আমার অন্তত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ চলে গেছে।

একই এলাকার মরম আলী বলেন, আমার ১৭ কাঠা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ১৫ কাঠা ফিশারির মাছ ভেসে গেছে। চর হরিপুর, বাজিতপুর ও আলালপুর গ্রামে অন্তত হাজার একর ফিশারি তলিয়ে গেছে।

জেলা মৎস্য্য কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা বলেন, এই বৃষ্টিতে অন্তত ২২ হাজার মৎস্য চাষি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি বেশ প্রভাব ফেলবে। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে হিসাব দিয়েছি।

ময়মনসিংহ কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মতিউজ্জামান বলেন, আমন ধানের মাঠ ও সবজি খেত পানিতে নিমজ্জিত আছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ণয় করতে কাজ চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল বলেন, বাঁধের ১৪টি অংশ ধসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির মাত্রা ও মেরামতের জন্য একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

অপরদিকে বৃষ্টিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের কালভার্ট ও রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার ঈশ্বরগঞ্জে এলজিইডি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের অন্তত তিনটি কালভার্ট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে প্রান্তিক এলাকার।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে সব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার তালিকা তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




রাজধানীতে রাস্তা খুঁড়তে গিয়ে ওয়াসার ৫ শ্রমিক দগ্ধ

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট নামপাড়ায় রাস্তা খুঁড়তে গিয়ে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে ওয়াসার ৫ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধ শ্রমিকদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন সিয়াম (২০), মেহেদী (২৩), জুয়েল (২১), মুমিন (২২) ও দেলোয়ার (২৪)। ঘটনার ভয়াবহতা উপলব্ধি না করে গ্যাস লাইটার জ্বালানোর ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ ৫ শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়া সুপারভাইজার আনিসুর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারের মাধ্যমে ওয়াসার কাজ করেন তারা। সকালে ক্যান্টনমেন্ট নামাপাড়া এলাকায় রাস্তা খুঁড়ে ওয়াসার কাজ করছিলেন। সে সময় সেখানে তিতাসের গ্যাস লাইন থেকে গ্যাস বের হতে থাকে। তখন এই পাঁচজনের মধ্যে একজন গ্যাস লাইটার দিয়ে সেখানে আগুন ধরাতেই একটি বিস্ফোরণ হয়। এতে তাদের সবার শরীরই কম-বেশি ঝলসে যায়। এরপর উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক তাদেরকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।

বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, দগ্ধ হওয়া পাঁচজনকে ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করা হয়েছে।




ধার করে চলছে অনেক ব্যাংক

ডলার সংকটের এ সময়ে টাকার টানাটানিতে পড়েছে ব্যাংক খাত। সংকট কাটাতে নিয়মিত ধার করে চলছে অনেক ব্যাংক। এত ধারের পরও এক সময় ভালো অবস্থানে থাকা কয়েকটি ব্যাংক এখন নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সপ্তাহের প্রথম দিন কয়েকটি ব্যাংক ২০ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা ধার করেছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেয় ১৪ হাজার ১৫ কোটি টাকা। কলমানিসহ আন্তঃব্যাংক থেকে নেওয়া হয় ৬ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। আন্তঃব্যাংক লেনদেনে সুদহার বেড়ে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশে ওঠে। এর আগের রোববার ব্যাংকগুলোর ধারের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেয় ১৫ হাজার ৭৪৬ কোটি এবং আন্তঃব্যাংক থেকে ৬ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা নেওয়া হয়। ওই দিন সর্বোচ্চ সুদ ছিল ৯ শতাংশ। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই বড় অঙ্কের ধার করছে ব্যাংকগুলো। এরপরও শরিয়াহভিত্তিক ৫টিসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক অনেক দিন ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিআরআর সংরক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে। এসব ব্যাংকের ওপর আরোপ করা দণ্ডসুদ পরিশোধের মতো অবস্থাও নেই। যে কারণে দণ্ডসুদ পরিশোধে সময় নিয়েছে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইএমএফের পরামর্শে বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপো নিতে গুনতে হচ্ছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ। স্পেশাল রেপোতে তা ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর প্রভাবে ব্যাংকের ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদহার বাড়বে। এর সঙ্গে এখন গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার নির্ধারণ করতে যোগ করা হবে তিন শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে তিন শতাংশ। এতে সুদহার যে আরও বাড়বে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে এমনিতেই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে আগস্ট শেষে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমেছে। বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ সরাসরি কমেছে। ফলে সাধারণভাবে তহবিল চাহিদা কমার কথা। তবে কয়েকটি ব্যাংকের বিতরণ করা বিপুল অঙ্কের বেনামি ও ভুয়া ঋণ আর আদায় হচ্ছে না। আবার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন নীতিসহায়তার কারণে পুরো ঋণ ফেরত না দিলেও খেলাপি হচ্ছে না। এতে করে অর্থপ্রবাহ কমে তারল্য সংকটে পড়েছে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকাররা জানান, বিভিন্ন কারণে একদিকে অর্থ প্রবাহ কমেছে, অন্যদিকে নানা উপায়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পরও বিদেশি উৎস থেকে যে পরিমাণ অর্থ আসছে খরচ হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। আবার বেসরকারি খাতে যে পরিমাণ ঋণ আসছে পরিশোধ করতে হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। যে কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বিপুল অঙ্কের ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে। ডলারের বিপরীতে বাজার থেকে টাকা উঠে আসছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে উঠে এসেছে ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছর বিক্রি করা হয় ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। যেখানে বাজার থেকে উঠে আসে ২ লাখ কোটি টাকার মতো। এভাবে ডলার বিক্রির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে এখন ২১ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৬ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে সর্বোচ্চ রিজার্ভ উঠেছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে।




মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর স্বর্ণের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে চাহিদা বাড়ায় ঊর্ধ্বমুখী ধাতুটির বাজারদর। গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। খবর রয়টার্স।

 

৭ অক্টোবর আকস্মিক হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী একটি যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ কেনায় ঝুঁকছেন। স্পর্ট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪৯ ডলার ৯০ সেন্টে। এক সপ্তাহের মধ্যে এটিই ধাতুটির সর্বোচ্চ দাম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে গেছে। দাম উঠেছে ১ হাজার ৮৬৪ ডলার ৫০ সেন্টে।

সিটি ইনডেক্সের সিনিয়র বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, ‘‌ভূরাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে স্বর্ণ তার “‍সেফ হ্যাভেন’’‌ স্ট্যাটাস ফিরে পেয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার আগেও ধাতুটির বাজার নিম্নমুখী ছিল। আমাদের মনে হচ্ছে, দাম ১ হাজার ৮৮০ ডলারে ওঠার সম্ভাবনা আছে। আর যদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে সুদহার কমে আসে, তাহলে যেকোনো সময় স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯০০ ডলারে উঠে রেকর্ড ভাঙতে পারে।’‌

যুদ্ধ কিংবা অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় ব্যাংক সুদহার দ্রুত ওঠানামা করার ঝুঁকি থাকে। অন্যান্য ব্যবসায়ও অনিশ্চয়তা ভর করে। এমন পরিস্থিতিতে স্বর্ণে নিরাপদ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ওয়ে ওঠে মানুষ। স্বর্ণের দাম ব্যাপক হারে পরিবর্তনশীল না হওয়ায় সংকটকালে বিশ্বজুড়ে মূল্যবান এ ধাতুটিকে বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে মনে করা হয়।

এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নতুন রূপ ধারণ করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ, ট্রেজারি বন্ড, ডলার, জাপানিজ ইয়েনের চাহিদা বেড়ে যাবে।

তবে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির লাগাম কিছুটা টেনে ধরছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য। মূল্যস্ফীতি হার এখনো প্রত্যাশিত ২-এর ঘরে নামেনি। এমন তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, শিগগিরই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উচ্চ সুদহার কমাবে না। বাজারে এমন দৃষ্টিভঙ্গি চাউর থাকায় ডলারের বিনিময় হার বেড়েই চলেছে। উচ্চ সুদহারের কারণে বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ায় স্বর্ণের চাহিদা মন্থর।

গত সপ্তাহের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান হার আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে, যা শক্তিশালী শ্রমবাজারকে নির্দেশ করছে। এ সপ্তাহে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে তা চলতি বছর আরো এক দফা সুদহার বাড়ানোর পথ প্রস্তুত করতে পারে। সুদহার আরো বাড়লে ডলার বাদে ভিন্ন মুদ্রার গ্রাহকদের স্বর্ণ ক্রয় খরচ বেড়ে যাবে, যা ধাতুটির চাহিদা কমিয়ে দেবে।

এদিকে স্পট মার্কেটে অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আউন্সপ্রতি দাম উঠেছে ২১ ডলার ৭৫ সেন্টে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮২ ডলার ১২ সেন্টে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে গেছে। দর নেমেছে ১ হাজার ১৫৪ ডলার ৪৯ সেন্টে।




জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ইসরায়েল-হামাস সংঘর্ষে

ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের সংঘর্ষে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আজ সোমবার (৯ অক্টোবর) জ্বালানিটির দাম ব্যারেলপ্রতি বাড়ে ৩ ডলারেরও বেশি। খবর রয়টার্স।

 

যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরো বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে, যার প্রতিক্রিয়া গড়ায় দাম বৃদ্ধিতে।

আইসিই ফিউচারসে আজ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ বা ৩ ডলার ১০ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৭ ডলার ৬৮ সেন্টে।

অন্যদিকে, নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ ডলার ২৬ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৬ ডলার ৫ সেন্টে। উভয় বাজার আদর্শেই প্রতি ব্যারেলে দাম বেড়েছে ৩ ডলারের বেশি।




এসএমই খাতের উন্নয়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়: সালমান এফ রহমান

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ‘‌সরকার এসএমই খাতের অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। এ খাতে উন্নয়নে আরো অনেক কাজ করা দরকার। সরকারের একার পক্ষে এটি সম্ভব নয়। এফবিসিসিআইসহ বেসরকারি খাতগুলোকে এসএমই উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে এসএমই খাতের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’

গতকাল রাজধানীর গুলশানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) গুলশান শাখা অফিস কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, কাজী আকরাম উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি মাহবুবুল আলম।

 

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘‌শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআই দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এফবিসিসিআইয়ের যেকোনো প্রস্তাব বা দাবিকে সরকারও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখতে ব্যবসায়ীদের আউট অব দ্য বক্স চিন্তা করতে হবে। এছাড়া উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে এফবিসিসিআইকে ভূমিকা পালন করতে হবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘‌গুলশানে শাখা অফিস চালুর মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের কার্যক্রম আরো বেগবান হবে। ফলে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশী বিনিয়োগকারী ও অতিথিদের সঙ্গে বৈঠক অনেক সাশ্রয়ী ও সহজতর হবে। পাশাপাশি এফবিসিসিআইয়ের অনুষ্ঠান ও ছোট পরিসরের সভা করার ক্ষেত্রে এ অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গুলশান শাখা অফিসের পাশাপাশি পুরান ঢাকা ও চট্টগ্রামে শাখা অফিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এরই মধ্যে রাজধানীর হাটখোলায় এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, টেকসই শিল্পায়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জনে এফবিসিসিআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, শমী কায়সার, মো. মুনির হোসেন, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকরাসহ ব্যবসায়ী নেতারা।




পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের

গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পর্ষদ সভা ১২ অক্টোবর বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ২০২৩ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের ঘোষণা আসতে পারে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৬০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৫ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা।




লাভেলোর ঋণমান এ ও এসটি-২

পুঁজিবাবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসির ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘‌এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-২’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন, ২০২৩ হিসাব বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন ও রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণ ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে আরগুস ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেস লিমিটেড (এসিআরএসএল)। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ১৩ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১২ টাকা ৮৩ পয়সা।

 

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৯০ পয়সায়।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা। সেই হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ১০ পয়সা বা ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৫৭ পয়সায়, আগের হিসাব বছরে শেষে যা ছিল ১২ টাকা ৭৫ পয়সা।

২০২১ সালে পুঁজিবাজারে তাওফিকা ফুডসের লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৮৫ কোটি টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৮ কোটি ৫০ লাখ। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৪৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ারের মধ্যে ১৯ দশমিক ২২ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও ৩৬ দশমিক ১৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

ডিএসইতে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ৩৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।




ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩২ শতাংশই ব্লক মার্কেটে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ৪২৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে ১৩৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩২ শতাংশ। তবে ডিএসইতে গতকাল আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বাড়লেও সূচক কমেছে।

ডিএসই সূত্র অনুযায়ী, গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের। কোম্পানিটির ৩৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার এদিন ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে। এর পরই রয়েছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট। গতকাল কোম্পানিটির ২৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির ১৮ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে।

 

তথ্য অনুসারে, গতকাল দিন শেষে আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ২৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬ হাজার ২৩৭ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ গতকাল দশমিক ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৩০ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, আলহাজ টেক্সটাইল মিলস, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, বসুন্ধরা পেপার মিলস ও প্রাইম ব্যাংকের শেয়ারের।

ডিএসইতে গতকাল ৪২৬ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেনের বিপরীতে আগের কার্যদিবসে ছিল ৩৬৭ কোটি টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৮৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ২৯টির, কমেছে ১০৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৪৭টির।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়েছে ভ্রমণ খাত। ১১ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সাধারণ বীমা খাত। মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ৩ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল খাদ্য খাত। আর ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে ইতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ ও পাট খাত। আর নেতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল কাগজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও সাধারণ বীমা খাত।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল সাড়ে ৪ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১১ হাজার ৪৬ পয়েন্টে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ৭ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ৪৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ১৮ হাজার ৪৭৮ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১২৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৫টির, কমেছে ৫৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৫টির। গতকাল সিএসইতে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে।




চার কোম্পানির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪ কোম্পানির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানি ৪টি হলো- আরগন ডেনিমস, ইভিন্স টেক্সটাইল, বিডি ল্যাম্পস এবং জেএমআই হসপিটাল লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, আগামী ১৮ অক্টোবর বিকাল ৩টায় বিডি ল্যাম্পস ও আরগন ডেনিমস, ৪টায় ইভিন্স টেক্সটাইল এবং ৫টায় জেএমআই হসপিটালের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় এসব কোম্পানির ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরের সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে।




আগের ১০ কোটির একটিও আসেনি; ডিম আমদানি

তৃতীয় দফায় আরও ৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিমের সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি করে মোট ৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়দার আলী এ তথ্য জানান। এ নিয়ে মোট ১৫ প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো। যদিও প্রথম দু’দফা অনুমতি দেওয়া ১০ কোটি ডিম আমদানির একটিও এখন পর্যন্ত দেশে আসেনি।

আমদানিকারকরা বলেছেন, ইতোমধ্যে এলসি খোলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ডিম আসতে পারে। আমদানির পরিমাণ কম হলেও বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
তৃতীয় দফায় গতকাল ১ কোটি করে ডিম আমদানির অনুমতি পেয়েছে ইউনিয়ন ভেনচার লিমিটেড, জে এফ জে প্যারাডাইস কানেকশন, লায়েক এন্টারপ্রাইজ, লাকি এন্টারপ্রাইজ ও পিংকি ট্রেডার্স।

গত আগস্টে ডিমের দাম বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছে যায়। প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দর ওঠে ১৭০ টাকায়। এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিটি ডিমের খুচরা দর ১২ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। তারপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর সরকার প্রথমবারের মতো চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেয়। দ্বিতীয় দফায় ২১ সেপ্টেম্বর ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৬ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। গতকাল তৃতীয় দফায় নতুন করে আরও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন ৪ কোটি ডিমের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে ১৫ কোটি ডিম দিয়ে ৪ দিনের মতো চলতে পারে।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া দর ২৪ দিনেও কার্যকর হয়নি। ঢাকার খুচরা বাজারে এখনও প্রতিটি ডিম ১২ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রথম দফায় অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠান টাইগার ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী সাইফুর রহমান বলেন, এলসি খোলার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডিম পাঠানোর ওপর নির্ভর করছে কখন তা দেশে আসবে। তবে চলতি সপ্তাহে না হলেও আগামী সপ্তাহে ভারতীয় ডিম দেশে আসতে পারে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেন, আমদানি করা ডিম দেশের বাজারে ঢুকলে দাম কিছুটা কমতে পারে।

তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ বলেন, ‘শুধু শুনি ৫ কোটি, ১০ কোটি ডিম আমদানি হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাজারে আমদানি করা ডিমের চেহারা দেখা যায়নি। প্রতিদিনই চাহিদা বাড়ছে ডিমের। কিন্তু এই ১০-১৫ কোটি ডিম দিয়ে তো চাহিদা মিটবে না। তারপরও সংখ্যা যাই হোক আমদানি হলে কিছুটা প্রভাব পড়বে বাজারে।
তিনি বলেন, গতকাল ঢাকার কাপ্তান বাজার, বাড্ডা, মিরপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে প্রতি পিস ডিম পাইকারিতে ১২ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। শুধু তেজগাঁওয়ে বিক্রি হয়েছে ১১ টাকা ৫০ পয়সা করে। সরকারকে সম্মান করতে গিয়ে তেজগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা লোকসান দিচ্ছেন।
এদিকে ডিম আমদানি করার ক্ষেত্রে পাঁচটি শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সেগুলো হলো– এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ডফ্লুমুক্ত দেশ হতে ডিম আমদানি করতে হবে; আমদানি করা ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য রপ্তানিকারক দেশের সরকারের মাধ্যমে নির্ধারিত কিংবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ডফ্লুর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ামুক্ত সনদ দাখিল করতে হবে; সরকার নির্ধারিত শুল্ক বা কর পরিশোধ করতে হবে; নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি করা যাবে না এবং সরকারের অন্যান্য বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।




আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও বাড়ল সুদহার

ব্যাংকের পর এবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও সুদহার বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদের সঙ্গে ৫ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৫ শতাংশ যোগ করে সুদহার নির্ধারণ হবে। আর আমানতে যোগ করা যাবে ২ শতাংশের পরিবর্তে আড়াই শতাংশ। গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে।

বিভিন্ন শর্ত পূরণ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির পরামর্শে এরই মধ্যে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে স্মার্ট বা সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিলের সুদহার বাড়বে। গত সেপ্টেম্বর মাসে স্মার্ট ছিল ৭ দশমিক ২০ শতাংশ। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণে সুদহার হবে ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর আমানতে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।




৩৪ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি ১৫ ব্যাংকে 

ঋণ আদায়ে বিভিন্ন শিথিলতার মধ্যেও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ। এর প্রভাবে বেড়েছে মূলধন ঘাটতিও। গত জুন শেষে ১৫টি ব্যাংকে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি হয়েছে। ঘাটতির তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে চারটি ব্যাংক। অবশ্য বিভিন্ন ছাড় দিয়ে পুনঃতপশিল, আদায় না করেও নিয়মিত দেখানোর সুযোগসহ বিভিন্ন শিথিলতার মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হচ্ছে। তা না হলে মূলধন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ঋণের শ্রেণিমান বিবেচনায় প্রতিটি ব্যাংকের নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হয়। প্রভিশন ঘাটতি বাড়লে স্বাভাবিকভাবে মূলধন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। গত জুন পর্যন্ত বিতরণ হওয়া ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকার, যা ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। তিন মাস আগে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২১ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ছিল ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর মানে তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। এর বাইরে অবলোপন ও পুনঃতপশিলের পর আদায় না হওয়া ঋণ রয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ঋণকেও দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং পদ্ধতি ব্যাসেল-৩ নীতিমালার আলোকে একটি ব্যাংকের মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ অথবা ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে যা বেশি, ন্যূনতম সেই পরিমাণ মূলধন রাখতে হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি ব্যাংককে আপৎকালীন সুরক্ষা সঞ্চয় হিসেবে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ হারে মূলধন রাখার নির্দেশনা রয়েছে। তবে নিয়ম মেনে ১৫টি ব্যাংক গত জুন শেষে মূলধন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেক ব্যাংক আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মূলধন রেখেছে।

কোন ব্যাংকের কত ঘাটতি

আগে থেকেই সরকারি-বেসরকারি খাতের ১১টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে ছিল। নতুনভাবে যুক্ত হওয়া বেসরকারি খাতের সিটিজেন ব্যাংকের ঘাটতি ৯৭ কোটি এবং বেঙ্গল ব্যাংকের ৮৮ কোটি টাকা। আর বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৪২ কোটি এবং হাবিব ব্যাংকের ৩৬ কোটি টাকা ঘাটতি।

বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। গত জুন শেষে ব্যাংকটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অগ্রণীর ৩ হাজার ৭৬৮ কোটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ২ হাজার ৩৮৬ কোটি, রূপালীর ২ হাজার ২৩০ কোটি, জনতার ২ হাজার ১৮৯ কোটি এবং সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি ১১ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে– আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকে ১ হাজার ৮১২ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ১ হাজার ৩৮০ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১ হাজার ৩১৪ কোটি ও পদ্মা ব্যাংকের ৮৯৭ কোটি টাকা ঘাটতি। সব মিলিয়ে ১৫ ব্যাংকের ঘাটতি ৩৩ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ব্যাংক খাতে মূলধন রাখার কথা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। তবে সামগ্রিক ব্যাংক খাত রাখতে পেরেছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। এর মানে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন ছিল ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। এর মানে আপৎকালীন সুরক্ষা হিসেবে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ বিবেচনায় নিলে বেশির ভাগ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে।

আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্তের আলোকে সর্বশেষ ২০২২ সালের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশ বাড়লে মূলধন ঘাটতিতে পড়বে আরও ২১টি ব্যাংক। আর শীর্ষ তিনজন করে গ্রাহক খেলাপি হলে চারটি ব্যাংক নতুন করে মূলধন ঘাটতিতে পড়বে। আর যদি খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশ বাড়ে এবং একই সময়ে শীর্ষ তিনজন ঋণগ্রহীতা খেলাপি হন তখন বেশির ভাগ ব্যাংক ন্যূনতম মূলধন রাখতে পারবে না।




এমটিবি উদ্যোক্তার শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) লিমিটেডের উদ্যোক্তা অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স করপোরেশন লিমিটেড ব্যাংকটির ২১ লাখ ৩৬ হাজার ৩০০ শেয়ার বিক্রি করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিদ্যমান বাজারদর অনুসারে এ শেয়ার কিনেছেন ব্যাংকটির পরিচালক রাশেদ আহমেদ চৌধুরী। গত ৪ অক্টোবর ডিএসইতে এ শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৩৬ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৭৫ পয়সায়। সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য ঘোষিত ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষণা করেছিল এমটিবি পর্ষদ।

 

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৬৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৩৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৮৭ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২১ টাকা ৯৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। ২০২০ হিসাব বছরেও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি। আগের হিসাব বছরে মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা। এর মধ্যে ৫ শতাংশ স্টক ও ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।

গত এক বছরে এমটিবির শেয়ারের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ১৫ টাকা ৫০ ও ১৭ টাকা ৩০ পয়সা।




ডরিন পাওয়ারের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সভা ১২ অক্টোবর বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভা থেকে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিটির সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি লভ্যাংশের ঘোষণা আসতে পারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ডরিন পাওয়ারের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১ টাকা ৭৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭ টাকা ৩৬ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৭১ পয়সায়। সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ স্টকের পাশাপাশি উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে বাকি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছিল ডরিন পাওয়ারের পর্ষদ।

 




লভ্যাংশ পাঠিয়েছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছিল ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। ঘোষিত এ লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে কোম্পানিটি। গতকাল ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৪০ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে পুনর্মূল্যায়নসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৭১ পয়সায়।

 

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে পুনর্মূল্যায়নসহ কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৩ টাকা ৯৯ পয়সায়, পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া যা হয়েছিল ২৩ টাকা ৩৬ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৬৪ পয়সা।




১০৯ কোটি টাকার লেনদেন সোনালী পেপারের

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ২ হাজার ৩৩৫ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ১৫ শতাংশ বা ৭০৪ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন ছিল ১০ কোম্পানির দখলে। এসব কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে কাগজ ও প্রকাশনা খাতের কোম্পানি সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুসারে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলসের ১৭ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ১০৯ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ডিএসইর মোট লেনদেনে কোম্পানিটির অবদান ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময় শেয়ারটির দাম কমেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

 

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সোনালী পেপারের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭১ টাকা ২৩ পয়সায়।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের জন্য ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৭ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৪১ টাকা ৩০ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২৮৪ টাকা ৩৩ পয়সা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডারদের ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২০ শতাংশ নগদ এবং ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৪৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৮৪ টাকা ৩৩ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩০৭ টাকা ৮৮ পয়সা।

২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালী পেপারের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩২ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫০৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ২৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৯০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৬৭ দশমিক ৫১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮ দশমিক ২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




স্টোরেজ সুবিধা বাড়াবে পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাহজিবাজার পাওয়ারের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি একটি লিজ চুক্তি হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুসারে, কোম্পানিটি মোংলা বন্দরে ১৩ একর জমি ৩০ বছরের জন্য লিজ নেবে। পেট্রোম্যাক্স ওই জমিতে স্টোরেজ ট্যাংক স্থাপন করে বিদ্যমান স্টোরেজ সুবিধা বাড়াবে। এছাড়া কোম্পানিটি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াবে বলে জানিয়েছে।

 

অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ টাকা ৪৮ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৬৭ পয়সা।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ২০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছিল কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১৬ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।

সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং অনুসারে, কোম্পানিটির ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ ওয়ান’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ ও রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত কোম্পানিটির অন্যান্য প্রাসঙ্গিক গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)।

সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটি মোট ৩২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২৮ শতাংশ নগদ ও বাকি ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৩০ শতাংশ দিয়েছিল শাহজিবাজার পাওয়ার। এর মধ্যে ২৮ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৪৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ২৩ পয়সা। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডরাদের ২৮ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল শাহজিবাজার পাওয়ার। আগের হিসাব বছরে ২৫ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৮৬ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪০৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ কোটি ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৬২৯। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৬ দশমিক ২৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




স্পট মার্কেটে শেয়ার লেনদেন করবে ফিনিক্স ফাইন্যান্স

রেকর্ড ডেটের আগে আগামীকাল ও ১১ অক্টোবর স্পট মার্কেটে শেয়ার লেনদেন করবে ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। রেকর্ড ডেটের কারণে আগামী ১২ অক্টোবর এই কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত থাকবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানিটি লিমিটেড ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, কোম্পানিটি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরে ৬ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৮ টাকা ৩৬ পয়সা। আগের অর্থবছরে শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ১১ পয়সা।

 

৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ৯ টাকা ১৮ পয়সা।

আগামী ৭ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।




৩ কোম্পানির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩ কোম্পানির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানি ২টি হলো- গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, রহিমা ফুড এবং পেনিনসুলা। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, আগামী ১২ অক্টোবর বিকাল ৩টায় গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স এবং সাড়ে ৪টায় পেনিনসুলার বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে, সভায় পেনিনসুলার ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরের সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে।

 

এদিকে, আগামী ২২ অক্টোবর বিকাল ৪টায় রহিমা ফুডরে বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কোম্পানিটির ৩০ জুন ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকাশ করা হবে।

 




ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন লাভেলো আইস্ক্রিমের

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত লাভেলো আইসক্রিম পিএলসির ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন করে প্রকাশ করা হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, কোম্পানিটির ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন করেছে আর্গুস ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেস লিমিটেড। কোম্পানিটির দীর্ঘমমেয়াদি রেটিং হয়েছে ‘এ’ এবং স্বল্পমেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-২।’

কোম্পানিটির ৩০ জুন ২০২২ ও ৩১ মার্চ ২০২৩ সমাপ্ত সময়ের আর্থিক প্রতিবেদেন এবং অন্যান্য তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির এ রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




রেকর্ড ডেট নির্ধারণ ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের

বন্ডে আবেদনের জন্য ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে। আগামী ১ নভেম্বর বন্ড আবেদনের জন্য কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, “ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং কনভার্টেবল বন্ড” ইস্যু করবে কোম্পানিটি। বন্ড ছেড়ে কোম্পানিটি ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। রোববার (০১ অক্টোবর) বন্ড ইস্যুর বিষয়ে কোম্পানিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছ থেকে অনুমোদনপত্র পেয়েছে।

বন্ডের এর মেয়াদ হবে ৭ বছর। এর সুদের হার ৭ শতাংশ। এটি হবে আনসিকিউরড এবং কানভার্টিবল। এই বন্ডের পুরোটাই চাইলে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের শেয়ারে রূপান্ত করা যাবে। আলোচিত বন্ডের ২০ কোটি টাকার ইউনিট বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বরাদ্দ করা হবে। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বরাদ্দ করা হবে ১৫ কোটি টাকার বন্ড।

বন্ডের অবশিষ্ট ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে। বন্ড ইস্যুর মঅধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ ৩টি নতুন সিএনজি স্টেশন স্থাপন, ৫টি এলপিজি স্টেশন স্থাপন এবং ৫টি মাদার-ডটার সিএনজি স্টেশন স্থাপনে ব্যয় করা হবে।




দামে পেঁয়াজের আবার সেঞ্চুরি

এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে আরও পাঁচ টাকা বেড়ে সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। খুচরা ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। তাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে তিন-চার দিন ধরে দাম বেড়েছে।

গত ১৯ আগস্ট পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ভারত সরকারের ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপের খবরে হু হু করে দাম বাড়ে এই নিত্যপণ্যের। অস্বাভাবিক দর বেড়ে শতক ছুঁয়েছিল দেশি পেঁয়াজ।

ভারতীয় পেঁয়াজের কেজিও ৮০ টাকায় পৌঁছায়। ১৩ সেপ্টেম্বর দেশি পেঁয়াজের দর ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা বেঁধে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই সময় পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ৩৩ থেকে ৪১ টাকা বিবেচনায় পাইকারিতে ৫৩ টাকা এবং খুচরায় সর্বোচ্চ ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ দর কার্যকর করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিদিনই বাজারে অভিযান চালাচ্ছে। জরিমানা করছে লাখ লাখ টাকা। তবুও নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না পেঁয়াজ।

শুক্রবার মগবাজার, মোহাম্মদপুর, বনানী ডিএনসিসি কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে জানা যায়, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়; যা সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে ৩১ থেকে ৩৫ টাকা বেশি। গত বৃহস্পতিবার এই পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজের দামও চড়া। আমদানি করা এ পেঁয়াজের কেজি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, এক বছরের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১১৩ শতাংশ, আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১১৪ শতাংশ।

এদিকে, বেঁধে দেওয়া পেঁয়াজের দাম কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শুক্রবার রংপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘আমরা যে টার্গেট নির্ধারণ করেছিলাম, তা অ্যাচিভ (অর্জন) করা যায়নি। তারপরও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে মন্ত্রণালয় থেকে বেঁধে দেওয়া পণ্যের দাম কার্যকর করা যায়।’




শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা সিলেটে

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সিলেট নগরীতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলবদ্ধতা। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা।

 

আজ শনিবার (৭ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের মতো সিলেটে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তিনদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ৩৫৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। সড়ক উপচে পানি ঢুকেছে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া নগরীর নিচু এলাকার প্রায় সব সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

শুধু শুক্রবার দিবাগত রাতের বৃষ্টিতে বিভাগের সবচেয়ে ব্যস্ততম চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

নগরীর আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া মেজরটিলা এলাকায় বৃষ্টির পানিতে অনেকটাই গৃহবন্দি হয়ে আছেন বাসিন্দারা।

নগরীর খাসদবির, চৌকিদেখি, কাজল শাহ, উপশহর, দরগাহ মহল্লা, বাগবাড়ি, কানিশাইল, লামাপাড়া, লালা দিঘিরপাড়, মাছুদিঘির পাড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকার দোকানপাট ও বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। শুধু এসব এলাকা নয়, নগরীর প্রায় সব এলাকার চিত্রই ছিল একইরকম। জলাবদ্ধ-কর্দমাক্ত সড়কে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথ চলা মানুষদের।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন জানান, আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৩৫৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় যার পরিমাণ ছিল ৫০ দশমিক ৮ মিলিমিটার। আগামীকাল রোববার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।




আফগানদের ১৫৬ রানেই গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং ইবরাহিম জাদরান যেভাবে শুরু করেছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল আজ বাংলাদেশের সামনে অনেক বড় লক্ষ্য দাঁড় করাবে আফগানিস্তান। কিন্তু এদিন বল হাতে আলো ছড়ালেন সাকিব-মিরাজ। দারুণ সঙ্গ দিলেন বাকিরাও। শুরুতে ভুগতে থাকলেও বিশ্বকাপ আসরে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাড়িয়ে আফগানিস্তানকে ১৫৬ রানে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ। ধর্মশালায় বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৫৭ রান।

 

শনিবার ধর্মশালায় টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৭ ওভার ২ বলে ১৫৬ রান তুলে অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান এসেছে রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাট থেকে। ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান। দুই উইকেট নেন শরিফুল। একটি করে শিকার ধরেন তাসকিন ও মুস্তাফিজ।

এদিন ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিং নেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সকালের হালকা ভেজা আবহাওয়ায় পেসাররা সুবিধা নিতে পারবেন বলেই ভেবেছিলেন তিনি। যদিও শুরুটা ছিল হতাশার। আফগানিস্তানের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার রান করছিলেন।

সবকিছুই বদলে যায় সাকিবের এনে দেওয়া প্রথম উইকেটের পর, ইব্রাহিম জাদরানকে আউট করেন তিনি। ২৫ বলে ২২ রান করে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। পরের উইকেটও সাকিবের। এবার রহমত শাহ লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ২৫ বলে ১৮ রান করে। এরপর আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদিকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৮ রান করতে তিনি খেলেন ৩৮ বল।

ইনিংসের বাকি গল্পটুকু টাইগার বোলারদের। এক প্রান্ত আগলে রাখা রহমানউল্লাহ গুরবাজও খুব বেশি দূর এগোতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৪৭ রানে তাকে শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ব্যাটিং ধসের সেই শুরু। যে কারণে ৩ উইকেটে ১১২ রান থেকে আর মাত্র ৪৪ রানই যোগ করতে পারে আফগানরা। ৩৭.২ ওভার ১৫৬ রানে অলআউট। বাংলাদেশের হয়ে সাকিব ও মিরাজ দুজনেই ঝুলিতে পুড়েন তিন উইকেট। এছাড়া শরিফুল দুটি, তাসকিন ও মোস্তাফিজ নেন একটি করে উইকেট। জিততে হলে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৫৭ রান।




১৩ বছরের সর্বোচ্চে চিনির দাম

আবহাওয়ায় এল নিনোর বিরূপ প্রভাবে চিনি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে সেপ্টেম্বরে ১৩ বছরের সর্বোচ্চে উঠেছে চিনির দাম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ভারত ও থাইল্যান্ডে আখের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক চিনি সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দাম বেড়েছে ভোগ্যপণ্যটির। খবর বিজেনস রেকর্ডার।

 

বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য স্থিতিশীল থাকলেও গত মাসে চিনির বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে বলে দাবি করেছে এফএও। চিনির মূল্য সূচক আগস্টের তুলনায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে বলে সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০১০ সালের নভেম্বরের পর এটিই পণ্যটির সর্বোচ্চ মূল্য।

জলবায়ুতে গড়ে দুই-সাত বছরের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে এল নিনো প্যাটার্ন, যার কারণে মধ্য ও পূর্ব গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে কোথাও অনাবৃষ্টি এবং কোথাও অতিবৃষ্টির ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, গত জুলাই থেকে এল নিনোর প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে। এটি ৯-১২ মাস স্থায়ী হতে পারে। ফলে এ সময় খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০২৩-২৪ বিপণন বছরে চিনির বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায় দুই মাস ধরেই পণ্যটির মূল্য বেড়েই চলছে। এজন্য ভারত ও থাইল্যান্ডে ভোগ্যপণ্যটির উৎপাদন কমার আগাম পূর্বাভাসের তথ্যকে দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকেও দায়ী করছেন অনেকে।




পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করল বিএসআরএমের দুই কোম্পানির

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের দুই কোম্পানি বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) লিমিটেড ও বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেডের পর্ষদ সভা ১২ অক্টোবর যথাক্রমে বিকাল ৫টা ও ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের ঘোষণা আসতে পারে। স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসআরএম লিমিটেড: অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৬৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২ টাকা ১ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএ=স) দাঁড়িয়েছে ১৩২ টাকা ২৫ পয়সায়।

 

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১০ টাকা ৩৪ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৩৪ টাকা ২৯ পয়সায়।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য ৪০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএসআরএম লিমিটেড। এর বাইরে আলোচ্য হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। সেই হিসাবে ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য মোট ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১৮ টাকা ৯৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৯০ পয়সা। ওই বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১২৭ টাকা ৫৬ পয়সায়। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেষে যা ছিল ৯৯ টাকা ৮৯ পয়সা। এর আগে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল বিএসআরএম লিমিটেড। ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার বিএসআরএম লিমিটেডের শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৯০ টাকা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৯০ ও ৯৭ টাকা।

বিএসআরএম স্টিলস: সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ২২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮ টাকা ৮ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ৬২ পয়সায়।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৭২ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ৯৯ পয়সায়।

এর আগের ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ নগদ চূড়ান্ত লভ্যাংশ দিয়েছে বিএসআরএম স্টিলস। আলোচ্য হিসাব বছরে ১০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। সব মিলিয়ে ওই হিসাব বছরে মোট ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ১০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৩৮ পয়সায়।

এর আগে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল বিএসআরএম স্টিলস। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৯৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ৬০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২০ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৫৬ টাকা ৮৪ পয়সা।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিএসআরএম স্টিলসের শেয়ার সর্বশেষ ৬৩ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৬৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৭০ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।




২৯% বে‌ড়ে‌ছে ডিএসইর লেন‌দেন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে। স্টক এক্সচেঞ্জের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ৬ হাজার ২৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬ হাজার ২৮৫ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ১৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৪০ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৩৬০ পয়েন্টে। ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪০৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ১২০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২০৫টির। এছাড়া লেনদেন হয়নি ৪১টির।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ২ হাজার ৩৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ১ হাজার ৮১৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক্সচেঞ্জটিতে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ২৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৪৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৪৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ৮ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিবিধ খাত। মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল কাগজ খাত। আর প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইর ইতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল, পাট ও সিমেন্ট খাত। এ তিন খাতে যথাক্রমে ১ দশমিক ৯ শতাংশ, দশমিক ৬ ও দশমিক ১ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল সাধারণ বীমা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কাগজ খাত। এ তিন খাতে রিটার্ন কমেছে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, ৩ দশমিক ১ শতাংশ ও ৩ শতাংশ।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১৮ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৮ হাজার ৫৮১ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ১১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে। সিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ সময়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ৮২টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ১২৯টির।




সপ্তাহজুড়ে ৪ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা

সপ্তাহজুড়ে ৪ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো- এডিএন টেলিকম, অ্যাপেক্স ফুডস, অ্যাপেক্স স্পিনিং এবং দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেড। ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে এই ৪ কোম্পানি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এডিএন টেলিকম: কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৫৯ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য হয়েছে ৩০ টাকা ৬৪ পয়সা।

আগামী ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ অক্টোবর।

অ্যাপেক্স স্পিনিং: কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৫১ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৪৫ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য হয়েছে ৬৪ টাকা ৩৭ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫৮ টাকা ৩৮ পয়সা।

 

আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৩ কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ অক্টোবর।

অ্যাপেক্স ফুড: কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৯১ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ১৪ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য হয়েছে ১৩৬ টাকা ২০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১২৬ টাকা ১৮ পয়সা।

আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৩ কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ অক্টোবর।

দেশবন্ধু পলিমার: কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২.৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৯ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪৭ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য হয়েছে ১৯ টাকা ২০ পয়সা।

আগামী ২৭ নভেম্বর ২০২৩ কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ অক্টোবর।




মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা

শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ২ উদ্যোক্তা পরিচালক অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স কর্পোরেশন ও রাশেদ আহমেদ চৌধুরী । কোম্পানিটির কর্পোরেট উদ্যোক্তা পরিচালক অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স কর্পোরেশন কোম্পানির ২১ লাখ ৩৬ হাজার ৩০০ শেয়ার বেচবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, এই কর্পোরেট উদ্যোক্তার কাছে কোম্পানির মোট ১ কোটি ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪১০টি শেয়ার আছে। কোম্পানির আরেক পরিচালক রাশেদ আহমেদ চৌধুরী ২১ লাখ ৩৬ হাজার ৩০০ শেয়ার কিনবে।

আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ডিএসইর পাবলিক মার্কেটে উল্লেখিত পরিমাণ শেয়ার কেনা-বেচা করতে পারবে এই উদ্যোক্তা পরিচালকেরা।




মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. মিজানুর রহমান বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে শেয়ারবাজারে এই খাতের অংশগ্রহণ খুবই কম। যেটা ১৬ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু এটা হওয়া উচিত ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। তবে আগামি ১০ বছরে এই খাত অনেক এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষে এসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) আয়োজিত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে ‘রোল অব এসডিজি অ্যানালিটিক্স ইন ক্যাপিটাল মার্কেট-বেজড ডেভেলোপমেন্ট ফাইন্যান্সিং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. মিজানুর রহমান। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন আরেক কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এএএমসিএমএফ এর সভপাতি ড. হাসান ইমাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহি পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের কোঅর্ডিনেটর অ্যান্ড ইকোনোমিস্ট জুবায়ের হোসেন।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া হিসাব মান পরিপালনে কঠোর কমিশন। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে মিউউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নিরসন করে। যা ব্যক্তিগতভাবে করা কঠিন। এজন্য বিনিয়োগকারীদেরকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার আহবান করেন তিনি। এসময় তিনি ভালো কোম্পানি বাজারে না আনলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভালো করবে না বলে যোগ করেন।

রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এএএমসিএমএফ এর সভপাতি ড. হাসান ইমাম বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। এই খাতটি অনেক বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ভালো করছে। শেয়ারবাজার যেখানে নেতিবাচক, সেখানে এই খাতের উন্নতি হয়েছে।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে শেয়ারবাজার নেতিবাচক ছিল। যেই ব্লু চিপস কোম্পানিতে মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা হয়, সেই ব্লু চিপস-৩০ সূচকও নেতিবাচক ছিল। এই অবস্থার মধ্যেও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ২০২২-২৩ অর্থবছরের ব্যবসায় ২৮৩ কোটি টাকার নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এমনকি গত ১০ বছরের মধ্যে ৭ বছরই সূচক বৃদ্ধির তুলনায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভালো করেছে বলে যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আয়ের প্রধান উৎস বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলো থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ এবং ক্যাপিটাল গেইন। কিন্তু গত অর্থবছরে দুই খাতই ছিল মন্দা।

এরমধ্য দিয়েও লভ্যাংশ দিয়ে অ্যাসেট ম্যানেজজাররা দক্ষতার প্রমাণ রেখেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত ভালো করছে বলে তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কম নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেন উল্লেখ করে হাসান ইমাম বলেন, এই যে কোন কোন ইউনিট দর ৪-৫ টাকা, এটা কিন্তু অ্যাসেট ম্যানেজারদের পারফরমেন্স না। আপনাকে দেখতে হবে ওই ইউনিটের অ্যাসেট কত আছে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশে সম্পদের তুলনায় অনেক কমে বা ডিসকাউন্টে ইউনিট লেনদেন হয়। যেটা আমেরিকায় সর্বোচ্চ ২০% হয়।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর ডিভিডেন্ড ইল্ড বা প্রকৃত লভ্যাংশ ১৫-২০%। যা অন্যসব খাতের শেয়ারে সম্ভব না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করিম বলেন, বন্ডের কূপণ রেট থেকে কর অব্যাহতি দেওয়া দরকার। তাহলে ইউনিটহোল্ডাররা ভালো লভ্যাংশ পাবে।

এলআর গ্লোবালের সিআইও রিয়াজ ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়েছে, সেভাবে শেয়ারবাজার এগোয়নি। এটা শেয়ারবাজারের জন্য খারাপ খবর। এটা সমাধান করা সম্ভব। যার অনেক সুযোগ রয়েছে।




বোর্ড সভার তারিখ নির্ধারণ পেনিনসুলার

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দ্য পেনিনসুলার বোর্ড সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিটির বোর্ড সভা আগামী ১২ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩টায় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, সভায় ৩০ জুন ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকাশ করা হবে।

আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ২ দশমিক ৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।




এজিএমের নতুন তারিখ নির্ধারণ ন্যাশনাল ব্যাংকের

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্যাংকের এজিএমের (বার্ষিক সাধারণ সভা) নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংকটির স্থগিত হওয়া ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য গত ২৬ জুলাই ৪০তম এজিএম করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। কিন্তু অনিবার্য কারণে এজিএম স্থগিত করা হলে পুনরায় সভার সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

আগামী ২১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আলোচ্য বাংকটির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে।




ডিভিডেন্ড প্রেরণ দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের

সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ডিভিডেন্ড প্রেরণ করা হয়েছে। কোম্পানিটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সমাপ্ত সময়ের জন্য ঘোষিত ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, কোম্পানিটি ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিইএফটিএন সিস্টেমসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি ৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।




২ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা

শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত ২ কোম্পাানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো- অ্যাপেক্স স্পিনিং মিলস লিমিটেড এবং অ্যাপেক্স ফুড লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, অ্যাপেক্স স্পিনিং মিলস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৫১ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৪৫ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য হয়েছে ৬৪ টাকা ৩৭ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫৮ টাকা ৩৮ পয়সা।

আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৩ কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ অক্টোবর।

 

এদিকে, অ্যাপেক্স ফুড লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

৩০ জুন ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৯১ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ১৪ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য হয়েছে ১৩৬ টাকা ২০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১২৬ টাকা ১৮ পয়সা।

আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৩ কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ অক্টোবর। উল্লেখ্য, আগের বছরও কোম্পানিটি ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।




শেয়ার লেনদেন শুরু ইউনিয়ন ক্যাপিটালের

রেকর্ড ডেটের পর আগামীকাল ইউনিয়ন ক্যাপিটালের শেয়ার লেনদেন শুরু হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানিটি লিমিটেড ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১১ টাকা ৯৫ পয়সা। আগের বছর শেয়ার প্রতি লোকসান ৮ টাকা ৩ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দায় দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৮৬ পয়সা।

 

আগামী ২৮ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।




দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানা গেছে।

 

আজকের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আজ সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামীকালের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

আগামী ৫ অক্টোবর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

এছাড়া বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, এ সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৪৪ মিনিট। আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে।




সাত মাসের সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো স্বর্ণের দরপতন ঘটেছে। গতকাল ধাতুটির দাম সাত মাসের সর্বনিম্নে ঠেকেছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি হার ও বেকারত্ব তথ্যের প্রভাবে ডলারের দাম বেড়েছে। এতে স্বর্ণের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। খবর রয়টার্স।

স্পট মার্কেটে গতকাল ধাতুটির দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ১ হাজার ৮৪০ ডলার ৪৯ সেন্টে। গত ১০ মার্চের পর এটি সর্বনিম্ন দর। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) স্বর্ণের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ১ হাজার ৮৫৬ ডলার ২০ সেন্টে।

স্বর্ণের বাজারে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় দরপতন ঘটেছে গত সপ্তাহে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের শেষ সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, যা ২০২১ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক পতনের রেকর্ড।

এদিকে রুপার দাম ছয় মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। আউন্সপ্রতি মূল্য কমেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ২১ ডলার ৬৯ সেন্টে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৯০০ ডলার ৭১ সেন্টে ঠেকেছে। প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৩২ ডলার ১১ সেন্টে স্থির হয়েছে।




হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন বাড়ায় কমেছে রেমিট্যান্স

রিজার্ভ সংকট চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই রিজার্ভ সংকটের জন্য টাকা পাচারই একমাত্র কারণ নয়, হুন্ডি ব্যবসা ও এই সংকটের জন্য একটা প্রধান কারণ। হুন্ডি বলতে প্রধানত আমরা নন-ব্যাংকিং চ্যানেলে কিংবা অননুমোদিত চ্যানেলে, অর্থাৎ ব্যক্তিগত বিভিন্ন কৌশল ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অর্থ আনয়ন বা প্রেরণকে বোঝায়। এটি দেশের প্রচলিত ব্যাংকিং পদ্ধতির বাইরে অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের উপায়। এটি নীতিবহির্ভূত ও দেশের আইন দ্বারা নিষিদ্ধ। বর্তমানে দেশীয় অর্থ পাচার ও বিদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে অর্থ আনার প্রধান একটি হাতিয়ার হচ্ছে হুন্ডি। হুন্ডি একটি দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিমাণে ক্ষতিসাধন করে থাকে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই দেশ থেকে অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। প্রবাসীদের আয় ব্যাংকিং নিয়ম অনুসারে দেশে প্রবেশ করলে তা বাংলাদেশের রিজার্ভে জমা হয়, যার ফলে দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধ সাধিত হয়। হুন্ডির ফলে বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডি ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যায়। সেটি আর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে না।

করোনা মহামারির পর রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। একদিকে ডলারের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমে যাওয়া এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থপাচার। হুন্ডি মূলত ব্যাংকিং নিয়ম অনুসরণ করে না বলে বৈধ উপার্জন অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়। একটি দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন বা ২ হাজার ১৬১ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার বা ২ হাজার ১০৩ কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসেবে সদ্য সমাপ্ত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

উদাহরণস্বরূপ হুন্ডি বিষয়টি পরিষ্কার করা যায় এভাবে। ধরা যাক, বাংলাদেশের ‘ক’ নামের এক ব্যক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মাস শেষে তার পরিবারকে টাকা পাঠাতে হয়। তিনি একটি ব্যাংকে গিয়ে বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে চাইলে, সেখানে দেখলেন ব্যাংককে বিভিন্ন কাগজ ও প্রমাণপত্র প্রদান করতে হচ্ছে। তিনি তখন ব্যাংক থেকে ফিরে এসেছে ‘খ’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে টাকা দিলেন। ‘খ’ হুন্ডি নেটওয়ার্কের সৌদি প্রতিনিধিকে টাকা দিলে হুন্ডি নেটওয়ার্ক উক্ত টাকা বাংলাদেশে তার প্রতিনিধির নিকট হস্তান্তর করে। এদিকে হুন্ডি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের প্রতিনিধি ‘ক’ সাহেবের পরিবারের কাছে টাকা পৌঁছে দেয়। এখানে লক্ষণীয় যে, হুন্ডি থেকে টাকা পাওয়ার জন্য গ্রামের ওই ব্যক্তিকে কোথাও যেতে হচ্ছে না। হুন্ডি নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিই তার বাড়িতে এসে টাকা দিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে তাকে কোনো কাগজপত্রের ঝামেলার মধ্য দিয়েও যেতে হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকের তুলনায় হুন্ডি নেটওয়ার্ক বেশি এক্সচেঞ্জ রেট বা বিনিময় হার দিয়ে থাকে।

দেশে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের জন্য দেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক, দেশের মানি এক্সচেঞ্জ, বিদেশি ব্যাংক ও হুন্ডির রেট ভিন্ন ভিন্ন। ব্যাংকের বিনিময় হারের তুলনায় হুন্ডিতে ভালো বিনিময় মূল্য পায় তাই প্রবাসীরা হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর দিকে আগ্রহী হন। এমনকি সরকার ঘোষিত প্রনোদনার পরও হুন্ডিতে অনেক বেশি বিনিময় মূল্য পায় প্রবাসীরা। এজন্যই ব্যাংকের বদলে হুন্ডির দিকে ঝুঁকছেন প্রবাসীরা। হুন্ডির সবচেয়ে বড় চাহিদা আসে আমদানিকৃত পণ্যের দাম কমিয়ে দেখানো বা আন্ডার ইনভয়েসিং এর জন্য। আন্ডার ইনভয়েসিং করা হয় মূলত আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য উচ্চ শুল্ক ফাঁকি দিতে যার মধ্যে সাধারণ আমদানির শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অ্যাডভান্সড ইনকাম ট্যাক্স ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। ভোগ্যপণ্য আমদানিতে এই শুল্কের হার ৪০ শতাংশ এই বিরাট শুল্কের বোঝা এড়াতে আমদানিকারকরা পণ্যের দাম কমিয়ে দেখান।

 

সরকার কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিয়ে রফতানি আয় দেশে ফেরা মাত্রই অগ্রিম আয়কর বা এআইটি কেটে রাখে। ফলে রফতানি আয়ের একটা অংশ বিদেশে রাখতে কিংবা পরবর্তী আমদানির জন্য ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা না ভাঙানোর ঝোঁক দেখান ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ আছে, এআইটি থেকে বাঁচতে ব্যবসায়ীরা বিদেশি ক্রেতাদের যোগসাজশে রফতানির এলসি মূল্যায়ন কম দেখিয়ে বাকি টাকাটা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে আনেন। শুল্কায়নের জন্য শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। নিয়মানুযায়ী কোনো পণ্য বিদেশ থেকে আমদানির পরবর্তী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান তা খালাসের জন্য কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি করে। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, পণ্য আমদানি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যদি মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির চালানের সঙ্গে পণ্যের মিল না পায়, তাহলে আমদানিকারক লাভবান হয়। সরকার বঞ্চিত হয় রাজস্ব আয় থেকে। ফলে এক পণ্যের ঘোষণায় অন্য পণ্য এনে খালাস করে কতিপয় আমদানিকারক। যার মাধ্যমে মূলত শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

রফতানি আয়ের পাশাপাশি ডলার আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে প্রবাসী আয়। সম্প্রতি মার্কিন ডলারের সংকটে ভুগছে দেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত ছয় মাসের মধ্যে চলতি বছরের আগস্টে প্রবাসী আয় এসেছে সবচেয়ে কম। ডলার ক্রেতারা অনেক ব্যাংক ঘুরেও ডলার ক্রয় করতে পারছে না। ডলারের সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোকে ডলার সরবরাহ করা ছাড়াও বিলাসী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা, কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। নির্ধারণ করে দিয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স হিসেবে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী আমদানির ঋণপত্রের ন্যূনতম নগদ মার্জিনের পরিমাণ। এছাড়া সরকার ও কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এরপরও ডলার সংকট থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। ডলার সংকটের সময় প্রবাসীর আয় কমে যাওয়াও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। বাজারে দেখা দিচ্ছে মূল্যস্ফীতি। ফলে শোচনীয় হতে পারে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি বা জিএফআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সোয়া ৪ লাখ কোটি টাকার মতো। গত ২০২২ সালে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরি নিয়ে গেলেও দেশের প্রবাসী আয় রেমিট্যান্স অর্জনের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন হয়নি। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে ২০২২ সালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে ২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চাকরি নিয়ে গেছেন ১১ লাখ কর্মী, যা ২০১৩ সাল থেকে সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালে ৪ লাখ ৯ হাজার, ২০১৪ সালে ৪ লাখ ৭৬ হাজার, ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৫৬ হাজার, ২০১৬ সালে ৭ লাখ ৫৭ হাজার, ২০১৭ সালে ১০ লাখ ৬৮ হাজার, ২০১৮ সালে ৭ লাখ ৩৪ হাজার, ২০১৯ সালে ৭ লাখ, ২০২০ সালে ২ লাখ ১৭ হাজার এবং ২০২১ সালে ৬ লাখ কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। কর্মী প্রেরণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পরও রেমিট্যান্সে তার প্রভাব পড়েনি।

তাহলে কারণটা কি? অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত অবৈধ পথে অর্থ পাঠানোর কারণে রেমিট্যান্সে তার প্রভাব পড়েনি। ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠালে প্রবাসীরা মার্কিন ডলারের যে বিনিময় হার পেয়ে থাকেন হুন্ডির মাধ্যমে পাঠালে তারা ব্যাংকের চেয়ে বেশি অর্থ পান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুটি মাধ্যমে অন্তত তিন থেকে চার টাকা তারতম্য থাকে। তাছাড়া প্রবাসীরা অবৈধ পথে অর্থ পাঠালে নানা সুবিধা পেয়ে থাকেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের তারতম্য তো আছেই। এছাড়া হুন্ডিওয়ালারা শ্রমিকদের কর্মস্থলে গিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ব্যাংকে যেতে হয় না। যিনি দেশে অর্থ গ্রহণ করেন, তার কষ্টও কম। বাড়িতে বসেই সপ্তাহের যে কোনো দিন তিনি টাকা পেয়ে থাকেন। এটি অনেককে হুন্ডিতে অর্থ প্রেরণে উৎসাহিত করে।

প্রবাসীরা হুন্ডিতে ডলার পাঠালে ব্যাংকের চেয়ে বেশি দাম পায় এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত পৌঁছে যায় সুবিধাভোগীর কাছে। তাই দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে খোলাবাজারে ডলারের দামের ব্যবধান যখন বেশি হয় তখন হুন্ডি বেড়ে যায়। আর হুন্ডির চাহিদা বাড়লে রেমিট্যান্স কমে। পাশাপাশি বিনিময় হারের অস্থিরতা তো আছেই। এসব কারণেই প্রবাসী আয় কমেছে, যা একধরনের অশনিসংকেত। ২০২১ সালে প্রকাশিত ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাচার হয়। এই হার ২০১৫ সালে ছিল ১ হাজার ১৫১ কোটি ৩০ লাখ, ২০১৪ সালে ৯১১ কোটি, ২০১৩ সালে ৮৮২ কোটি, ২০১২ সালে ৭১২ কোটি, ২০১১ সালে ৮০০ কোটি, ২০১০ সালে ৭০৯ কোটি, ২০০৯ সালে ৪৯০ কোটি, ২০০৮ সালে ছিল ৫২৮ কোটি, ২০০৭ সালে ৩৩৪ কোটি ২০ লাখ, ২০০৬ সালে ২৭৩ কোটি, ২০০৫ সালে ৩৪৯ কোটি ৪০ লাখ এবং ২০০৪ সালে ৩৩৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। জিএফআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে পাচার হচ্ছে ৪৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যা দেশের মোট জাতীয় বাজেটের দেড়গুণ। রেমিট্যান্সের ওপর সরকারের দেওয়া ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা সত্ত্বেও এই হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। আগস্ট ২০২৩ সালে রেমিট্যান্স প্রায় ১৬০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ দেশে প্রবেশ করায় রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমছে।

প্রতি বছর প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের ওপর নির্ভর করে সরকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে (সিআইপি) কমার্শিয়াল ইম্পরট্যান্ট পারফর্ম মর্যাদা দিয়ে থাকেন। তবে বিভিন্ন দেশ থেকে সরকার যদি ন্যূনতম পাঁচ জন করে রেমিট্যান্স-যোদ্ধা নির্বাচিত করে তাদের পুরস্কৃত কওে, তাহলে তাদের মধ্যে উৎসাহ আরো বাড়বে। রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার পেছনে আরেকটি কারণ থাকতে পারে, তা হলো করোনাকালীন বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসী বাংলাদেশে চলে এসেছেন। আসার সময় অনেকে তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থও নিয়ে এসেছেন।

বাংলাদেশের অধিকাংশ অভিবাসী থাকেন মধ্যপ্রাচ্যে। এখানের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় রেমিট্যান্সের ওপর তা চাপ বাড়াচ্ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ। এর ফলে সেখানকার শ্রমিকদের দৈনন্দিন খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। এর ফলে একজন অভিবাসী আগে যে পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠাতেন সেটি এখন কমে গেছে। অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া, বৈধপথে অর্থ পাঠাতে নিরুৎসাহিত হওয়াসহ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে তারতম্যের কারণে রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়েছে।