চট্টগ্রামে অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কা, বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি

আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে আগামী তিন দিন রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং এসব অঞ্চলের উজানে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বেড়েছে। আগামী পাঁচ দিনও এ নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মার পানি সমতল বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, গঙ্গার পানি আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এরপর চার দিন পানি বাড়তে পারে। পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। তবে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। গোমতী, ফেনী, সেলোনিয়া, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে মুহুরী নদীর পানি কমেছে।

আগামী এক দিনে চট্টগ্রাম বিভাগের এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। পরবর্তী দুই দিন পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী তিন দিনও এ দুই নদীর পানি বাড়তে পারে।




১৫ হাজার শিশু নিখোঁজের কারণ জানালো পুলিশ, এখনো উদ্ধার হয়নি ২ হাজার

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬৮ জন এখনো নিখোঁজ।

এছাড়া, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪৩। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জন উদ্ধার হয়েছে এবং এক হাজার ৯৭০ জন এখনো নিখোঁজ।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বলছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে তা উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রতিফলিত হয়নি। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে পুলিশ বলছে, সাত মাসে নিখোঁজ হওয়া মোট ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জন এখনো উদ্ধার হয়নি।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়।

১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জায় পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবকে নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু হওয়ায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে তা কমে ১৬ হাজার ৪১৪ হলেও ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।




নাম বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের, সংসদে বিল

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভাপতিত্ব করেন স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইনের বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কামিটিকে যাচাই-বাছাই শেষে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংসদে ফেরত পাঠাতে বলা হয়।

বিলে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

পুলিশের আওতায় বিশেষায়িত ইউনিট

বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’

সরকার প্রয়োজনের নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের সদর দফতর থাকবে ঢাকায়।

এসআরবি’র একজন মহাপরিচালক থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

যেসব দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি

বিলের ১০ ধারায় এসআর-এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

“জননিরাপত্তা রক্ষা’, ‘সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন’, ‘বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার’ এবং ‘মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।”

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।

তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা

বিলের ১২ ধারায় এসআরবি-কে কোনও স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রয়োগ করতে হবে।

১৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার যে ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি রয়েছে, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন ইউনিটের কর্মকর্তা তা প্রয়োগ করতে পারবেন।’

তবে গ্রেফতার বা আলামত জব্দ করার পর তা এসআরবি-এর কাছে আটকে রাখা যাবে না। বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, “গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করবেন।” একই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

ফৌজদারি মামলার তদন্ত করতে পারবে

আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনও সময় এসআরবি মহাপরিচালককে কোনও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কোনও সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন।

তদন্তের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এসআরবি-এর হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার কথাও বিলে বলা হয়েছে।

সদস্যদের যেসব কাজ শৃঙ্খলা লঙ্ঘন

বিলের ১৭ ধারায় এসআরবি সদস্যদের বিভিন্ন শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ করা, অনুমতি ছাড়া গার্ড, চৌকি বা পেট্রোল ত্যাগ করা, আটক বা গ্রেফতার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করা রয়েছে।

এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বা সরঞ্জাম ক্ষতি বা হারানো, অসুস্থতার ভান করা, বলপূর্বক অর্থ আদায়, বেআইনিভাবে জমি দখল, সম্পদ চুরি বা ধ্বংস, অপরাধীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকাকেও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি ৭ দিনে প্রতিবেদন

কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ বা আশঙ্কার যৌক্তিক কারণ থাকলে তাকে আটক করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে আটকাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আটক সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।

কোনও সদস্য ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। আর “আটককৃত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনও প্রমাণ না থাকিলে তাহাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হইবে।”

শাস্তি হিসেবে বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর ও পদাবনতি

এসআরবি সদস্যদের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অব্যাহতি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধ, সর্বোচ্চ এক বছরের জ্যেষ্ঠতা বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার বিধান রয়েছে।

লঘুদণ্ড হিসেবে অনূর্ধ্ব এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ জরিমানা, তিরস্কার, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য কোয়ার্টার গার্ডে আটক, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য ব্যাটালিয়নে আটক রেখে অতিরিক্ত ড্রিল, গার্ড বা অন্য দায়িত্ব এবং দৈনিক দুই ঘণ্টা করে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের জন্য শাস্তিমূলক ড্রিলের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনও সদস্যকে এসব শাস্তি দেওয়া যাবে না।

শাস্তির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল

বিভাগীয় কার্যধারায় দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের আদেশের বিরুদ্ধে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালকের কাছে এবং মহাপরিচালকের আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আপিল করা যাবে। আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

অভিযোগ প্রতিকার কমিটিতে মানবাধিকারকর্মী

এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ এবং বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিরসনে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

কমিটিতে এসআরবি-এর একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দফতরের অন্যূন এআইজি পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, আইন বা বিচার প্রশাসনে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞ একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তি এবং ইউনিটের পরিচালক (লিগ্যাল ও মিডিয়া) থাকবেন।

কমিটি অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে পারবে এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যায্য আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সদস্যদের সংক্ষোভও কমিটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে পারবে।

এ ছাড়া অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় সাক্ষী ও দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কমিটির দেওয়ানি আদালতের অনুরূপ এখতিয়ার থাকবে।

যোগদানের পর বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ

বিলে এসআরবি-এর সব সদস্যের জন্য ইউনিটে যোগদানের পর নির্ধারিত মেয়াদে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। সদর দফতরে একটি গবেষণা সেল থাকবে, যা অপারেশনাল ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করবে।

র‌্যাবের জনবল-সম্পদ এসআরবিতে স্থানান্তর

আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব গঠনসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিধান রহিত হবে। তবে নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা বিধিমালা, ২০০৫ প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ এসআরবি’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।

একই সঙ্গে র‌্যাব-সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাববহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট দলিল এসআরবি’র অনুকূলে “তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত বা অর্পিত” হবে।

আইন প্রণয়নের কারণ

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতির পরিবর্তন এবং জাতীয় ও জননিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতার প্রয়োজন বাড়ছে।

এতে সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ, চরমপন্থা, মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধসহ গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে একটি আধুনিক বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, এই ইউনিটের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে “আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা” নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই র‌্যাব-এর পরিবর্তে এসআরবি প্রতিষ্ঠার জন্য এই বিল আনা হয়েছে।




সাত লাইফ বীমা কোম্পানির ২,৫৪৯ গ্রাহকের ১৪ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি

সাতটি লাইফ বীমা কোম্পানির ২ হাজার ৫৪৯ জন গ্রাহকের ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আইডিআরএ’র উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন থাকা এসব দাবির অর্থ চেকের মাধ্যমে গ্রাহকদের দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আইডিআরএ’র সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্রাহকদের হাতে বীমা দাবির চেক তুলে দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

এসব দাবি সাতটি লাইফ বীমা কোম্পানির পলিসিধারীদের দেয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো- বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

এর মধ্যে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৮ জন গ্রাহকের ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৫২৮ জন গ্রাহকের ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪ জন গ্রাহকের ২ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৫ জন গ্রাহকের ১০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে।

 

এ ছাড়া পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৬২৪ জন গ্রাহকের ১ কোটি ৯৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১ হাজার ৩৫০ জন গ্রাহকের ৬ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০ জন গ্রাহকের ৫ লাখ ২১ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে।

আইডিআরএ জানিয়েছে, এই সাতটি কোম্পানির মাধ্যমে ৯৪টি চেকের বিপরীতে মোট ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার বীমা দাবির অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করা আইডিআরএ’র প্রধান অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বীমা দাবির অর্থ পরিশোধের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সম্পদ তরলীকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও পর্যায়ক্রমে আরও বীমা দাবি পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে বীমা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গ্রাহকসেবা উন্নয়নে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং ডিজিটাল সেবা চালুর কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই সাতটি লাইফ বীমা কোম্পানির বীমা দাবি অনিষ্পন্ন ছিল। এর মধ্যে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৭ জন গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি, ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩৩ হাজার ১৩১ জন গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ছিল ৭৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৮ হাজার ৩৩১ জন গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবি ছিল ৪৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৫ হাজার ২৬৭ জন গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৭ জন গ্রাহকের অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ছিল ২৬৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪২ হাজার ১৬২ জন গ্রাহকের ১৬২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮৪ হাজার ৯৪৩ জন গ্রাহকের ২২৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার দাবি অনিষ্পন্ন ছিল।




চামড়া শিল্প পুনরুজ্জীবনে সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা সরকারের

দেশের চামড়া শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে ট্যানারি খাতে সংস্কার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘অ্যাডভান্সিং বাংলাদেশ’স লেদার সেক্টর: চ্যালেঞ্জেস, অপরচুনিটিজ অ্যান্ড রিফর্ম’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে দেশের চামড়া শিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করেও যারা বর্তমানে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী বা সক্ষম নন, তাদের জন্য ‘গ্রেসফুল এক্সিট’-এর সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য খাতে জায়গা তৈরি হবে।

মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ট্যানারি ব্যবসায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডাব্লিউজি) সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করা হবে।

তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে প্রক্রিয়াজাত করে জুতা, ব্যাগ ও উচ্চমূল্যের চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

চামড়া শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন বিশ্বমানের সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সিইটিপি সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রকল্পিত ২৫ হাজার ঘনমিটার সক্ষমতার বিপরীতে কার্যকরভাবে ১৪ থেকে ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা সম্ভব হচ্ছে। বড় ট্যানারিগুলোর জন্য নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ট্যানারিগুলো কেন্দ্রীয় সিইটিপি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করবে।

এ ছাড়া ট্যানারির কঠিন বর্জ্য থেকে ট্যালো, হাড়ের গুঁড়া ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরির জন্য কয়েকটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকাকে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পেন ও ইতালির বড় চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সাভারে চামড়া ও অন্যান্য শিল্পের জন্য দক্ষতা ও ডিজাইন উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, বিনিয়োগ সুবিধা, ইটিপি স্থাপন ও বন্ডসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের মাধ্যমে চামড়া শিল্পকে আবারও বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার বা ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লিনটন পবকে। এছাড়া আলোচনায় আরও অংশ নেন ফ্ল্যাক্সার (এফএলএএক্সএ) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ট্যানারি ও পাদুকা উদ্যোক্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা।




পুলিশকে দুষ্ট দমনে কঠোর, শিষ্টের পালনে মানবিক হওয়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সাক্ষাৎকালে

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

 

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

 

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, পুলিশকে দুষ্টের দমনে অত্যন্ত কঠোর ও শিষ্টের পালনে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক আচরণ করতে হবে। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেন। এছাড়া অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব প্রচারসহ সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিস্তার দমন এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে জনগণকে নিয়মিত অবহিত রাখা ও ব্যাপক প্রচারণার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বিচার বহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাৎকালে আইজিপি রাষ্ট্রপতিকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখতে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় রাষ্ট্রপতি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 




রাজনীতি-সংসদে নারীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে : শামা ওবায়েদ

ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ- দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে এসে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সামাজিক পরিবর্তনও প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের চিন্তাভাবনায় নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। রাষ্ট্রের পক্ষে একা এই সামাজিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সিডও দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে নারীদের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও রাজনীতি জড়িয়ে আছে। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত নারীদের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের সরাসরি অংশগ্রহণ এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের রাজনীতিতে জায়গা দিতে হবে। নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে আসছে- এটি ইতিবাচক। কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে থাকা তরুণীদের সংখ্যা এখনো খুব কম। একই সঙ্গে নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও আরও সচেতনতা প্রয়োজন।

শামা ওবায়েদ বলেন, এটি শুধু রাষ্ট্র বা সরকারের সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক সমস্যা। একটি সরকার একা এ সমস্যার সমাধান করতে পারে না। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী-পুরুষের সমতার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

ডিজিটাল পরিসরে নারীদের হয়রানি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মূলধারার গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মানুষ অনেক সময় প্রচলিত গণমাধ্যমের চেয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি মনোযোগ দেয়। এর পাশাপাশি ডিজিটাল হয়রানিও ব্যাপক বেড়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল হয়রানির বিষয়টি এখন শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনেক সময় দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য দেশেও এ ধরনের হয়রানি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এটি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

ডিজিটাল পরিসরে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি এ উদ্যোগে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট নারী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। নারীর নিরাপদ চলাচল ও জীবনযাপনও নিশ্চিত করতে হবে। নারীর উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তারা নিরাপদে বাঁচতে পারবেন এবং অন্যায়ের শিকার হলে দ্রুত ন্যায়সংগত বিচার পাবেন।

নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি শিশু রানিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ১৯ দিনের মাথায় রায় দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায়ও আট কর্মদিবসে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। তবে শুধু আলোচিত কয়েকটি মামলায় দ্রুত বিচার নয়, প্রতিটি নারী ও শিশুর জন্য দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের জেন্ডার বাজেটে ৩ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের প্রায় ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ। নারী শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান এবং নারীদের জন্য সহায়ক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এতে গুরুত্ব পাবে।

ফ্যামিলি কার্ডের প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, গ্রামীণ নারীরা কৃষিকাজসহ পরিবারের নানা কাজে যুক্ত থাকলেও অনেক সময় তাদের হাতে সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা থাকে না। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সহায়তা সরাসরি নারীর হাতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তারা পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বিপদের সময় অর্থটি ব্যবহার করতে পারবেন।

নারীর নিরাপত্তায় আলাদা বাস চালুর উদ্যোগের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নারীদের নিরাপত্তার জন্য সরকারকে নতুন নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে। শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাই যথেষ্ট নয়; নিরাপদ পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রবাসী নারীদের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল টিম গঠন করা হয়েছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি নিবেদিত অভিবাসন শাখাও খোলা হয়েছে।

বিদেশে নারীদের ক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নার্সিং, পরিচর্যাসহ বিভিন্ন পেশায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, নারীরা যেন সম্মানের সঙ্গে ও মর্যাদা নিয়ে বিদেশে গিয়ে কাজ করতে পারেন।

সিডও সনদের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, এ সনদের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার দীর্ঘদিনের। আগামী বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন পর্যালোচনা হবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের স্বাধীন ও গঠনমূলক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও নাগরিক সমাজের অংশীদারিত্বমূলক প্রচেষ্টায় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সিডও সনদের বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

সভায় উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি ও দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর চন্দন লাহিড়ী এবং উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুন নাহার মিষ্টি বক্তব্য দেন।




২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে ইজতেমা ময়দানে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন করা হবে। প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি। এরপর দ্বিতীয় পর্ব হবে ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি।

তিনি জানান, বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নেবে।

প্রতি বছর টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমায় দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিদের অংশগ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে সাধারণত তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের ব্যবস্থাপনায় ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

আগামী বছরের ইজতেমাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা আগেভাগেই নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ইজতেমা’ আরবি শব্দ যার অর্থ সম্মেলন, সভা বা সমাবেশ। ‘বিশ্ব ইজতেমা’ শব্দটি বাংলা ও আরবি শব্দের সম্মিলনে সৃষ্ট। দিল্লীর নিজামুদ্দিন মসজিদের কাছে নূহ মাদ্রাসায় ১৯৪১ সালে সর্বপ্রথম তাবলিগ জামায়াতের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে প্রায় ২৫ হাজার মুসল্লি অংশ নেন। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রতি বছর এই সমাবেশ নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছে।

বিশ্ব ইজতেমার মূল কাজ বা উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের ঈমান ও আমল ঠিক করা এবং আল্লাহর পথে মানুষকে দাওয়াত দেওয়া। দেশি-বিদেশি প্রখ্যাত ইসলামি গবেষক ও ওলামায়ে কেরাম কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামের মৌলিক বিধিবিধান ও জীবনপদ্ধতি সম্পর্কে বয়ান বা আলোচনা করেন। জাগতিক মোহ ও গোনাহের পথ ছেড়ে মানুষকে একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) প্রদর্শিত পথে চলার উদ্বুদ্ধ করা হয়। এই ইজতেমা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক একটি ধর্মীয় সমাবেশ।

বাংলাদেশে ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার রমনা পার্ক সংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বা ইজতেমা প্রথম অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামে তৎকালীন হাজি ক্যাম্পে ইজতেমা হয়, ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তখন এটা কেবল ইজতেমা হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রতিবছর ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে রমনা ‍উদ্যানের স্থলে টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে ইজতেমার আয়োজন করা হয়। ওই বছর স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নেওয়ায় ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান অবধি ‘বিশ্ব ইজতেমা’ টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের উত্তর-পূর্ব তীরসংলগ্ন ডোবা-নালা, উঁচু-নিচু মিলিয়ে রাজউকের হুকুমদখলকৃত ১৬০ একর জায়গার বিশাল খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।




উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে ঋণ দেবে ৩৮ ব্যাংক

উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে কৃষক ও কৃষিভিত্তিক শিল্প উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ বা মুনাফায় ঋণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য ৩৮টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার(২ সে‌প্টেমবার) বাংলা‌দেশ ব্যাংক এ তথ্য জান‌য়ি।

গত ৬ জুলাই জারি করা সার্কুলারের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমাদ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি—পুরো মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করাই এ তহবিলের লক্ষ্য।

তহবিলের আওতায় একজন গ্রাহক কৃষি উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা এবং কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতেও সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা ঋণের সুযোগ থাকবে। রপ্তানি খাতে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ, আধুনিক সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা না থাকায় উত্তরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের একটি অংশ নষ্ট হয় অথবা কৃষকেরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। নতুন তহবিলের অর্থায়নের মাধ্যমে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এই তহবিলের অর্থে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিমাগার, বীজ সংরক্ষণাগার, গুদাম, খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার বা সাইলো, কোল্ড চেইন লজিস্টিকস এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে অর্থায়ন করা যাবে। পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিমুখী কার্যক্রমেও ঋণ দেওয়া হবে।

তহবিলটির মেয়াদ সার্কুলার জারির তারিখ থেকে তিন বছর। এর কার্যক্রম রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় সীমাবদ্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এ উদ্যোগের ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়বে, কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের রপ্তানি সক্ষমতাও বাড়বে।




ভবিষ্যতে বাংলাদেশই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের বিশাল বিপুল জনসংখ্যাকে সঠিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশই বিশ্ব দরবারে নেতৃত্বের আসনে আসীন হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, আমাদের মূল শক্তি ও প্রধানতম সম্পদ হলো এদেশের অদম্য মেধাবী তরুণ সমাজ। তাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে তরুণ ও মেধাবীদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন ও গুরুত্ব প্রদান করা আবশ্যক।

বুধবার ( ২ সেপ্টেম্বর ) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এসব মূল্যবান কথা তুলে ধরেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বমোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের সম্মাননা প্রদানের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল।

শিক্ষার্থী ও স্কাউটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কাউটিং মূলত নিঃস্বার্থ জনসেবার মানসিকতা ও সঠিক নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের মাধ্যমে দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করতে শেখায়। তিনি আরও বলেন, স্কাউটিং এর মাধ্যমে কীভাবে সাধারণ মানুষের সেবা করতে হয়, নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে হয় এবং দেশকে ভালোবাসতে হয় তা গভীরভাবে অনুধাবন করা যায়। বর্তমান স্কাউটিং কার্যক্রমের সাথে যুক্ত তরুণেরাই আগামী দিনে দেশের চালিকাশক্তি হিসেবে নেতৃত্বের মূল আসনে বসবে ।

শিক্ষার পরিবেশ ও নতুন নীতিমালার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার একটি সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত এবং উন্নত নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন সুশিক্ষিত জাতি গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি প্রাথমিকে মিডডে মিল চালু, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান এবং পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা ও কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ বাজেট ও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। স্কাউটিং আন্দোলনের বিস্তারে বিশেষ স্কিম গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এদেশের নতুন প্রজন্মের প্রতিভা ও অদম্য মেধার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের বৈশ্বিক নেতৃত্বের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও অতিথিদের উপস্থিতির কথা জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি আরও জানান, আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের শীর্ষ সচিববৃন্দ। উপস্থিত সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও অতিথিরা তরুণ মেধাবীদের অভিনন্দন জানিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।




ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করতে ৪৪৫ কোটি টাকার তেল-ডাল কিনছে সরকার

নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন ও ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৪৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কেনা হবে। প্রতি লিটার ১৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা দরে এ তেল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরিবহন খরচসহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত তেল সরবরাহ করবে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ঢাকা।

টিসিবির কার্ডধারী এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এ তেল কেনা হচ্ছে। ক্রয়ের অর্থের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাল্টা নিশ্চয়তা রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে টিসিবির ভোজ্যতেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ কোটি লিটার। এরই মধ্যে ৮৪ লাখ ১ হাজার ৮০২ লিটার ভোজ্যতেল কেনা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই বৈঠকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা দরে এ ডাল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মসুর ডাল কেনার জন্য চারটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। সবগুলো দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ মিলার্স লিমিটেডের কাছ থেকে পরিবহন খরচসহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এরই মধ্যে ৮ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে টিসিবির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল সরবরাহের কার্যক্রমে নতুন করে মজুত যুক্ত হবে।




রাষ্ট্রপতির কাছে পোশাকশিল্পের সমস্যা তুলে ধরলো বিজিএমইএ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এই সাক্ষাৎ হয়। বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

এসময় প্রতিনিধিদল দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বিদ্যমান সমস্যাগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরে তা সমাধানে তার সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে রাষ্ট্রপতি তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যপারে আশ্বস্ত করেন। রাষ্ট্রপতি এ প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক শিল্পে যে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম চলে আসছে তা সমাধানে সরকার কাজ করছে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে।

সাক্ষাতকালে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আগামী ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় ২৫তম বাটেক্সপো ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশাাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।




হাটহাজারীতে সিএনজি-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৫ এইচএসসি পরীক্ষার্থী আহত

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার ও নোহা মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে পাঁচ এইচএসসি পরীক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার নাজিরহাট সড়কে চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে চলাচলের সময় মাইক্রোবাসের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিতে থাকা পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৌসিফ আহমেদ রাফি ও এরফানুল আনোয়ার ফাহিমের পরিচয় পাওয়া গেছে। আহত অন্য শিক্ষার্থীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তারা সবাই এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই পরীক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।




যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বর্তমানে চালু ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। সেই সঙ্গে এ খাতে অধিকতর মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিনিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন এবং এ খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি নানা খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং আসিয়ান দেশগুলোর সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব আরোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রপতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাসী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।

এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে তার দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




জ্বালানি খাত এখন আর চ্যালেঞ্জ নয়, বড় সমস্যা

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে এখন আর শুধু ‘চ্যালেঞ্জ’ বলার সুযোগ নেই, বরং এটি ক্রমেই বড় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ড. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এই সংকট সমাধান কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়; সরকার, শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের প্রমাণভিত্তিক পথ : নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ ও ইনভেন্টরি স্টাডির ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের অতীতে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সীমাবদ্ধতা ধরে রাখার সুযোগ নেই। প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের দেশের বিপুল জ্বালানি বাজার এখন আমদানিনির্ভর। ২০২৪ সালে দেশের মোট আমদানির একটি বড় অংশ ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য। পেট্রোলিয়ামের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসেরও উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ ২০১৫ সালে প্রাথমিক জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ১০ শতাংশেরও কম ছিল, যা বর্তমানে প্রায় ৬৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এই নির্ভরতা কমাতে দেশীয় সম্পদ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কৃষি খাত বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। স্বাধীনতার সময় প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। গবেষণা, প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ে কৃষিবিদদের কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই ধরনের গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী মডেল জ্বালানি খাতেও প্রয়োজন। দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি রয়েছে বিশাল মানবসম্পদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা। তবে শিল্প, একাডেমিয়া ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের বড় ঘাটতি রয়েছে। নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যের অভাবও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা তৈরি করছে। এ কারণে একটি আন্তর্জাতিক মানের সমন্বিত কেন্দ্রীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ডেটা সেন্টার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে খাতসংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একক উৎস থেকে মানসম্মত তথ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিইপিআরসির এই সদস্য বলেন, জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে গবেষণা ও স্টাডিভিত্তিক নীতি গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারে না কিংবা প্রয়োজনীয় গাইডলাইনের অভাবে তহবিল ফেরত যায়। অথচ দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় স্থানীয় গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তুলনামূলক কম ব্যয়ে কার্যকর গবেষণা করতে পারে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গবেষণা করানোর পরিবর্তে দেশীয় গবেষকদের সক্ষমতা আরও বেশি কাজে লাগানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও স্টাডি পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণার ফলাফল ও বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে নীতি তৈরি করা গেলে তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত, সমন্বয়হীনতা এবং বাস্তবায়নগত সমস্যাও কমানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, একাডেমিক গবেষণাকে শুধু আন্তর্জাতিক প্রকাশনা বা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও শিল্পখাতের প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে সেই সমস্যার সমাধানে যুক্ত করা গেলে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। গবেষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ল্যাব সুবিধা, বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ একটি কার্যকর গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সরকারের প্রয়োজন, শিল্পখাতের বাস্তবতা এবং একাডেমিয়ার গবেষণা সক্ষমতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলেই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি খাতকে বর্তমান সংকট থেকে বের করে একটি টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক এম তামিম। অনুষ্ঠানে ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইনভেন্টরি অব বাংলাদেশ’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন আইউবির লেকচারার মোহাম্মদ রেজওয়ান উদ্দিন এবং ‘রিনিউয়েবল এনার্জি এক্সপেনশন স্টাডি’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন প্রফেসর খসরু মোহাম্মদ সেলিম। এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি, জলবায়ু ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী, একাডেমিক, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।




বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

আন্দা ফিলিপ আরো বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।

সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।




সরকারি অর্থের অপচয় মেনে নেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

সরকারি অর্থের অপচয় মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে করদাতার টাকার সঠিক ব্যবহার ও প্রতিদান নিশ্চিত করতে হবে। চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্পই অনুমোদন দেওয়া হবে না ।’

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস (প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী) উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাণিজ্যমন্ত্রী থাকার সময়, আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগে ঢাকায় প্রথম একটি আইটি ইনকিউবেটর করেছিলাম। তবে পরবর্তী সময়ে সরকারগুলোর ধারাবাহিক উদ্যোগ ও তদারকির অভাবে তা থেকে পুরোপুরি সুবিধা নেওয়া যায়নি। চুয়েটেও আইটি ইনকিউবেটরে একটি বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু এই বিনিয়োগ থেকে আমরা আদৌ কোনো ভালো ফলাফল পাচ্ছি কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চার শর্তের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রজেক্ট পাস করার আগে আমি চারটি বিষয় নিশ্চিত করি। প্রথমত সেখানে অর্থের সঠিক মূল্য আছে কিনা; দ্বিতীয়ত এই বিনিয়োগ থেকে কী রিটার্ন বা প্রতিদান আসছে; তৃতীয়ত এটি কর্মসংস্থান তৈরি করছে কিনা এবং চতুর্থত পরিবেশগত দিক রক্ষা করা হচ্ছে কিনা। এই চার শর্ত পূরণ না করলে আমার কাছে কোনো প্রজেক্ট আনবেন না, আমি ফেরত পাঠিয়ে দেব। কারণ এগুলো বাংলাদেশের সাধারণ করদাতাদের টাকা, কোনো অবস্থাতেই এই টাকার অপচয় মেনে নেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি- এই তিনটির নিয়ন্ত্রণ থাকলে সেখানে কাজ হয় না। এটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরের বিষয়, তাই এটি চুয়েটের নিজেরই পরিচালনা করা উচিত এবং এখান থেকে কী আউটপুট আসবে, তার পরিকল্পনাও চুয়েটকেই করতে হবে। ঢাকায় ফিরে আমি আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে কথা বলব এবং চুয়েট ভিসিকেও ঢাকায় এসে বৈঠক করে এই জটিলতার স্থায়ী সমাধান করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতার প্রশংসা করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য চুয়েট উপাচার্যের বেশ কিছু ভালো ধারণা রয়েছে এবং তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আশা করি বিজনেস-অ্যাজ-ইউজুয়াল ধারার বাইরে গিয়ে অল্প সময়ে চুয়েটকে তারা আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’




জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদন : সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা আরও যৌক্তিক ও যুগোপযোগী করতে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আজ সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ এবং এর সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ ও সশস্ত্রবাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেগুলোর ভিত্তিতে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করে সরকার। ওই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রিসভা নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করেছে।

 

অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুননির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ন্যায্যতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার এক গ্রেড এক পেনশন বা ‘ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ (ওআরওপি) পদ্ধতি প্রবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ পদ্ধতি সামরিক ও অসামরিক—সব ক্ষেত্রে একই সঙ্গে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

তবে এ মুহূর্তে ওআরওপি পদ্ধতি বাস্তবায়নে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ থাকায় এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের কোনো তথ্য না থাকায় সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অবসরভোগী পেনশনধারীদের জীবনযাত্রার মান ও বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের নিট পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের নিট পেনশন বাড়বে ৭৫ শতাংশ। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বাড়বে।

এর ফলে যেসব পেনশনভোগী দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাঁদের নিট পেনশন বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি হবে।

সরকার প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এত দিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য ছিল। জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ সব কর্মচারীর জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বেতনস্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় সরকার পুরো বেতনস্কেল একযোগে বাস্তবায়ন না করে চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮—এই দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এর আওতায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে।

পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ধাপে ধাপে নিট পেনশন বৃদ্ধি কার্যকর হবে।

জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল অনুমোদন করা হবে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এর মতো একইভাবে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।

সরকার মনে করছে, এভাবে পর্যায়ক্রমে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমিত করা সম্ভব হবে।

নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এ অর্থের সংস্থান মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে রাখা হয়েছে।

সরকার মনে করে, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। সেখানে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিধান থাকবে।

অনুমোদিত বেতনস্কেল যথাযথভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।




বাংলাদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচার সমর্থন করেনি : স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রকামী এবং তারা গণতন্ত্রের মহান আদর্শ রক্ষায় বারবার জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করতে পিছপা হননি। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে স্পিকার আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের পর দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম সত্ত্বেও গণতন্ত্রের মূল চেতনা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা পায়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়, যিনি স্বাধীনতার ঘোষক এবং এদেশের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিত।

২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো ছিল প্রহসনের শামিল, যার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই স্বৈরাচারের অবসান ঘটে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে স্পিকার বলেন, বর্তমানে এই সংসদ জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

বৈঠকে আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি শক্তিশালী ও কার্যকারী সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও সাধারণ পরিষদে বাংদেশেলার ইতিবাচক ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধের সফল নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইপিইউ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




চলতি বছরেই স্ক্রিপ নেটিং চালুর লক্ষ্য : ডিএসই চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। বাজারের দৈনন্দিন ওঠানামার চেয়ে কাঠামোগত সংস্কার ও দক্ষতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

 

চলতি বছরের মধ্যেই পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের দাবির স্ক্রিপ নেটিং (ইন্ট্রাডে ট্রেডিং) চালু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য ডিএসইর ম্যাচিং ইঞ্জিন ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (ওএমএস) প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কাজ চলছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ডিএসই টাওয়ারে ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনায় এ কথা বলেন ডিএসই চেয়ারম্যান। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এ আলোচনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত রয়েছেন বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক ও হোসাইন সাদাত এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।

মোমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও ডিরেগুলেশনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএসই দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দেশের পুঁজিবাজার অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত বা ‘ওভার-রেগুলেটেড’। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে বাজার তার স্বাভাবিক নিয়মে ও নিজস্ব গতিতে বিকশিত হতে পারে না।

বিএসইসির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি হলো স্ক্রিপ নেটিং চালু করা। সম্প্রতি বিএসইসি এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়নের জন্য ডিএসইর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বিশেষ করে এক্সচেঞ্জের ম্যাচিং ইঞ্জিন ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে পরিবর্তন করতে হবে। ডিএসই এরইমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এর বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে স্ক্রিপ নেটিং চালুর ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত (অপারেশনাল) চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান মোমিনুল ইসলাম। এসব সমস্যা সমাধানে ট্রেকহোল্ডারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে চলতি বছরের মধ্যেই স্ক্রিপ নেটিং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ডিএসইর ওয়েবসাইট আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডিএসই চেয়ারম্যান।

মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি একজন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইট গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস। অনেক ক্ষেত্রে একটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীর প্রথম ধারণা তৈরি হয় ওয়েবসাইট থেকেই।

চলতি কোয়ার্টারের মধ্যেই ডিএসইর নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নতুন ওয়েবসাইটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাবেন বলে জানান তিনি।

বাজারে বড় অঙ্কের ‘বাই অর্ডার’ দিলেই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে কোয়েরি করা হয়-এমন একটি ধারণা রয়েছে উল্লেখ করে মোমিনুল ইসলাম বলেন, কোয়েরি করা মানেই কোনো বিনিয়োগকারী ভুল করেছেন, এমন নয়। এটি মূলত সম্ভাবনাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাইয়ের জন্য যেকোনো বিনিয়োগকারীকে কোয়েরি করা হতে পারে।

তবে কোয়েরির বর্তমান প্রক্রিয়া কখনো কখনো বাজারে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

এ জন্য সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ নিয়ে কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বাজার পর্যবেক্ষণ এবং বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতা-দুই ক্ষেত্রেই আরও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন নতুন পণ্য চালু, বাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং সামগ্রিক দক্ষতা উন্নয়নে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন মোমিনুল ইসলাম।

এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু পুনর্গঠন প্রয়োজন বলে জানান তিনি। আগামী সেপ্টেম্বরে সিডিবিএলে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বোর্ড পুনর্গঠনসহ পরবর্তী ধাপে প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারসহ বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা না গেলে বাজারের ছোটখাটো ওঠানামা নিয়েই আরও দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকতে হবে।




জ্বালানি সংকটে ইন্টারনেট সেবায় বিপর্যয় নামার শঙ্কা

দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর বিরূপ প্রভাব শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও ইন্টারনেট সেবাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ইন্টারনেট এখন আর মানুষের বিলাসিতা নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং, সরকারি সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণমাধ্যম, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো এটি। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ডেটা সেন্টার, আইআইজি, আইএসপি, মোবাইল টাওয়ার ও অন্যান্য ডিজিটাল অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

তিনি বলেন, একটি মোবাইল টাওয়ার বা ইন্টারনেট অবকাঠামো বিদ্যুৎ ছাড়া দীর্ঘ সময় সচল রাখা কঠিন। অনেক স্থানে বিকল্প হিসেবে ব্যাটারি ও জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিভ্রাটে এসব ব্যবস্থার সক্ষমতা সীমিত। জেনারেটর চালাতে ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি প্রয়োজন হয়। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট একসঙ্গে চললে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে।

সংগঠনটির সভাপতি আরও বলেন, এরইমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে শুধু বাসাবাড়ির রাউটার বন্ধ হয় না, স্থানীয় নেটওয়ার্ক, অপটিক্যাল ফাইবারের সক্রিয় যন্ত্রপাতি, মোবাইল টাওয়ার, ব্যাকহল নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অবকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়ে। ফলে গ্রাহক সংযোগ পেলেও কাঙ্ক্ষিত গতি ও স্থিতিশীলতা পাচ্ছেন না।

ইন্টারনেটের ধীরগতির জন্য শুধু মোবাইল অপারেটর বা আইএসপির ওপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতার সঙ্গে ইন্টারনেট সেবার মান সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ইন্টারনেট অবকাঠামোকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের প্রায় সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং, রাইড শেয়ারিং, অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন থেকে শুরু করে সরকারি ডিজিটাল সেবা-সবকিছুই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হলে এর অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে ‘ডিজিটাল সংকট’ও যুক্ত হতে পারে। তখন মোবাইল ফোনে কল করা, মোবাইল ডেটা ব্যবহার কিংবা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের মতো সাধারণ সেবাও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতি, জনজীবন ও ডিজিটাল নিরাপত্তায়।

 

যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিসমূহ হলো,

১। ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

২। মোবাইল টাওয়ার, আইআইজি, আইএসপি, ডেটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ব্যাকআপ পাওয়ার সক্ষমতা পর্যালোচনা করা।

বিজ্ঞাপন

৩। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টেলিযোগাযোগ খাতে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।

৪। জেনারেটর ও ডিজেলনির্ভর ব্যাকআপ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমানো।

৫। বিটিআরসি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ এবং টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের সমন্বয়ে ‘টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট জরুরি অবকাঠামো সুরক্ষা পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা।

৬। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কোন কোন এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হতে পারে, সে বিষয়ে গ্রাহকদের আগাম তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

৭। জ্বালানি সংকটের কারণে ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটলে গ্রাহকের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবেচনায় নেওয়া।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা চাই না বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশকে আবার ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে হোক। বর্তমানে ইন্টারনেট একটি মৌলিক নাগরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো। তাই জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনায় ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ খাতকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বা শিল্পের সমস্যা হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে যুক্ত পুরো ডিজিটাল অর্থনীতির ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হবে। কারণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর পরবর্তী ভুক্তভোগী হতে পারে দেশের ইন্টারনেট সেবা এবং এর সঙ্গে যুক্ত কোটি কোটি গ্রাহক।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।




কখন লোডশেডিং হবে, জানানোর দাবি শিল্প উদ্যোক্তাদের

দেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি, পূর্বানুমানযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকরা। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল ও রপ্তানিমুখী কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং আগাম লোডশেডিং সূচি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানান তারা।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও এমসিসিআই ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চ্যালেঞ্জ: উন্নত ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে। এতে সহায়তা করে অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ।

বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন এমসিসিআইয়ের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ। এরপর পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট হাসিব হাসান ‘বিজনেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার—পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব এবং অঞ্চলভিত্তিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ বিজনেস ইনডেক্সের (বিবিএক্স) তথ্য তুলে ধরা হয়।

পরে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম. মাসরুর রিয়াজের সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, লাফার্জহোলসিমের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, ইএসটেক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ইজাজ হোসেন এবং বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম।

আলোচনায় বাংলাদেশ বিজনেস ইনডেক্স (বিবিএক্স) ২০২৪-২৫-এর তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, ব্যবসায়িক অবকাঠামোর স্কোর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৭১ দশমিক ১ থেকে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৮ দশমিক ৮ পয়েন্টে নেমেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তারা কখনো কখনো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখোমুখি হন। মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ ব্যবসায়ী অবকাঠামো উন্নয়নে কাঠামোগত বা নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ দেখতে পেয়েছেন।

এ সময় বলা হয়, চলমান গ্যাস সংকট, কম গ্যাসের চাপ, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের ঘাটতি এবং বাড়তি জ্বালানি ব্যয় শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আগস্টের শুরুতে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। পাশাপাশি গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানাকে উৎপাদন কমানো বা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

প্যানেল আলোচনায় বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জ্বালানি সংগ্রহের দুর্বলতার প্রতিফলন। রপ্তানিমুখী ও জ্বালানি-নির্ভর শিল্পকে সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি একটি পৃথক শিল্প জ্বালানি নীতি প্রয়োজন।

মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান শিল্প বিনিয়োগ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা জরুরি। আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের জন্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়নকে সামনে রেখে জ্বালানি কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

সিরামিক শিল্পের জন্য গ্যাসকে শুধু জ্বালানি নয়, উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হিসেবে উল্লেখ করেন মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সরবরাহ অনিশ্চয়তা উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগকে হুমকির মুখে ফেলছে।

ইজাজ হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকট এখন শুধু সরবরাহের সমস্যা নয়; এটি অর্থনীতি ও পরিকল্পনারও বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাস্তবসম্মত জ্বালানি মিশ্রণের দিকে নজর দিতে হবে।

আলোচনায় শিল্প ও রপ্তানিমুখী কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি আগাম ও নির্ভরযোগ্য লোডশেডিং সূচি প্রকাশের দাবি ওঠে। এতে কারখানাগুলো উৎপাদন পরিকল্পনা করতে পারবে বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।

গোলটেবিলের সুপারিশের ভিত্তিতে বিবিএক্সের তথ্য ও তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রস্তাব সমন্বয় করে একটি নীতিপত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।




উন্নয়নের নামে কক্সবাজারের ‘বালিয়াড়ি ধ্বংস’, প্রকল্প পুনর্বিবেচনার দাবি : টিআইবি

কক্সবাজারের সুগন্ধা-কলাতলী সৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার বালিয়াড়ি ভরাট করে সড়ক ও শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একইসঙ্গে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ বিবৃতিতে এমন আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, উন্নয়ন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি, উপকূলীয় উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জলবায়ু ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় উদ্ভিদ শুধু পরিবেশগত সম্পদ নয়; এগুলো ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রের ঢেউ ও উপকূলীয় ক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাব্যূহ হিসেবে কাজ করে। গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কোনোভাবেই টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না।

তিনি বলেন, প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের আগে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। চলমান প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ ধরনের মূল্যায়ন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

টিআইবি বলছে, প্রকল্পটির অর্থায়নকারী সংস্থা হিসেবে জাইকার নিজস্ব ‘এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড সোশ্যাল কনসিডারেশনস’ গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংস্থাটির মতে, জাইকার গাইডলাইনে প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিবেশগত ও সামাজিক ক্ষতি এড়িয়ে চলা বা কমিয়ে আনা, বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ এবং অংশীজনদের অর্থবহ অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ কারণে সুগন্ধা-কলাতলী বালিয়াড়ির মতো পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এসব সুরক্ষাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা জাইকা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

বিবৃতিতে টিআইবি আরও বলেছে, বিষয়টি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রশ্নও জড়িত।

দুই দেশই কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটি (সিবিডি)-এর রাষ্ট্রপক্ষ এবং কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক (কেএমজিবিএফ) বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

এ ছাড়া জাপানের জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ‘নেচার পজিটিভ’ অর্থনীতিভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি জাপান তার উন্নয়ন সহযোগিতাকে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এমন প্রেক্ষাপটে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল উপকূলীয় এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান সরকার ও জাইকার ঘোষিত পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ অবস্থায় জাইকা ও জাপান সরকারের প্রতি প্রকল্পটির পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে জনসমক্ষে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রকল্পটির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পরিবেশগত ও কারিগরি পর্যালোচনা প্রয়োজন।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ইতোমধ্যে কোনো পরিবেশগত ক্ষতি হয়ে থাকলে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ও স্থানীয় উপকূলীয় উদ্ভিদ পুনরুদ্ধারসহ একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।




কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে, ৩ ফুট খোলা হয়েছে ১৬ জলকপাট

কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাটের খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) গেটগুলোর ওপেনিং ২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৩ ফুট করা হয়। বর্তমানে এসব গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

‎কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় রোববার ভোর ৬টার দিকে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ২ ফুট করে খোলা হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় সকালে গেটগুলোর ওপেনিং আরও ১ ফুট বাড়িয়ে ৩ ফুট করা হয়েছে।

‎কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়। তখন গেটগুলো দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছিল। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রতিটি গেটের ওপেনিং আরও ৬ ইঞ্চি বাড়িয়ে ১ ফুট করা হয়। রোববার ভোরে তা বাড়িয়ে ২ ফুট এবং সকাল ১০টার দিকে ৩ ফুট করা হয়েছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৬টি জলকপাটের ওপেনিং ৩ ফুটই রয়েছে।

‎হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বাঁধের ওপর চাপ কমানো এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেটগুলোর ওপেনিং বাড়ানো হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

‎‎এদিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট বর্তমানে চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হওয়ায় বর্তমানে হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে মোট প্রায় ৯০ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে নিষ্কাশিত হচ্ছে।

‎ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানির পরিমাণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ আরও বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‎‎স্পিলওয়ের গেট দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন হওয়ায় কর্ণফুলী নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এ কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়নি: অর্থমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে না।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ডেলিভারির পাইলট প্রকল্পে ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি বা ভুল হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ত্রুটির হার অত্যন্ত নগণ্য এবং প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণে দুর্নীতি ও অপচয় রোধে দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে সঠিক উপায়ে এবং দক্ষতার সঙ্গে ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে বিতরণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অপচয় ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে।

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর যৌথ অংশীদারত্বে নতুন অর্থনৈতিক মডেলেও কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিকভাবে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা ও অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে এনজিও ও বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হচ্ছে। সরকারি সম্পদের সঙ্গে তাদের সম্পদ যুক্ত করে সার্বিক পুনর্বাসনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের একার পক্ষে সবকিছু সঠিকভাবে বিতরণ করা বড় একটি সমস্যা। এতে দুর্নীতি ও অপচয় হয়। তবে ডেলিভারি ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত ও এনজিও যুক্ত থাকলে কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয় এবং অপচয় ও দুর্নীতি কমে আসে বা বন্ধ হয়।

বন্যা-পরবর্তী কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাননি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আনন্দিত যে, আজকের এই বন্যা-পরবর্তী সময়ে এখন পর্যন্ত আমার জানা মতে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। পত্র-পত্রিকায় বা কোথাও আমি এমন কোনো অভিযোগ দেখিনি।

ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দক্ষ ডেলিভারি সিস্টেম কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা সরকারের অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধে তদারকির ভূমিকা পালন করছে। ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থা এ উদ্যোগে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের সঠিক পুনর্বাসন না হলে প্রকৃত সহায়তা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিরুল হক চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।




নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪

চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় নেপালে অন্তত ৭৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো ২ হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। রোববার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে উদ্ধার তৎপরতা পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এর আগে জানায়, বুধবারের দুর্যোগে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছে।

এ হিসাবে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ এবং নিখোঁজ ৩ হাজার ৪৪ জন।

নেপালে নিখোঁজের সংখ্যা শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবের ২ হাজার ৪২৬ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

নিখোঁজদের তালিকায় ৫৮৯ জন বিদেশি রয়েছে। আগের তালিকায় এ সংখ্যা ছিল ৫১৭ জন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ তালিকায় নদীর তীরে অবস্থিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ৯৩৩ জন শ্রমিকও রয়েছেন। ওই নদীপথেই বন্যার প্রবল স্রোত ধেয়ে যায় বলে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ১৮৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২২৭ জন বিদেশি।

ভারতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপাল থেকে প্রবাহিত নদীগুলো থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো বন্যায় মৃতদের মরদেহ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই সংখ্যা মোট মৃতের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।




গুমের সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গুমের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের তা সে যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে।’

আজ সকাল ১১টায় ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সকল পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্রের আরেকটা পবিত্র দায়িত্ব, গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো। আমি বিশ্বাস করি, সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই গুম, গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যখনই আন্দোলন করেছেন, তখনই তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম-খুন করা হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধকে সর্বদা অস্বীকার করে গেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সেই ফ্যাসিবাদ বশংবদ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, গুম শুধু একটা মানুষকে কেড়ে নেয় না। কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক-সামাজিক স্বস্তি। এ এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-খুনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সবকয়টিকেই একসঙ্গে ভুলুষ্ঠিত করা হয়।

দেশে গুম-খুনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে ভয়ানক ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল সেটিকে রাষ্ট্রপতি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এ এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অপমানজনক অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।

এসময় তিনি, বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে গুমের শিকার ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিকদের স্মরণ করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন, একদিন এই গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।

এসময় তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে, যাঁদের অনেকে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন তাদের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না।

এসময় তিনি গুমের শিকার পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।

একইসাথে তিনি ফ্যাসিবাদী আমলে গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা সানজিদা ইসলাম তুলির কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ।

তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী, কতটা ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং তার নাগরিক কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করে সেটি একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। আর এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ইশরাক হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং গুমের ঘটনাসমূহের যথাযথ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।




বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগে আগ্রহী মারস্ক লাইন

বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পে সরাসরি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডেনিশ শিপিং ও লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান মারস্ক লাইন (Maersk Line)। একই সঙ্গে জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এবং এপি মোলার সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেনে পিল পেডারসেন।

বৈঠকে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত জানান, মারস্ক লাইন বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণশিল্পে সরাসরি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে সুনামের সঙ্গে জাহাজ পরিচালনা এবং শিপিং ও লজিস্টিকস ব্যবসা করে আসছে।

আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পেও মারস্ককে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, মারস্ক লাইনের বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক বড় আকারের জাহাজ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত পুরোনো জাহাজের পরিবেশসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পুনর্ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

বৈঠকে বলা হয়, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার—দুই খাতেই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতে আন্তর্জাতিক মানের বড় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা গেলে দেশের শিল্পায়নের পাশাপাশি ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন, যুগ্মসচিব (এফটিএ ২) মাহবুবা খাতুন মিনু, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব খায়রুজ্জামান; এপি মোলার মারস্ক গ্রুপের ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ব্যবসা উন্নয়ন, পাবলিক পলিসি ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের প্রধান বিবেক শর্মা; মারস্ক বাংলাদেশ লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর (পাবলিক অ্যাফেয়ার্স) খালিদ মুস্তাফিজ গাফফার এবং রয়েল ডেনিশ দূতাবাসের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ডানিডা বিজনেসবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা সামিনা আহসান শাহরুখ।




অপপ্রচার ও গুজব সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তাদের যে নির্দেশ দিলেন আইজিপি

পুলিশ কর্মকর্তাদের সব ধরনের অপপ্রচার ও গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘ত্রৈমাসিক সম্মেলন’ অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

আইজিপি বলেন, সব ধরনের অপপ্রচার ও গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটার আগেই সে সম্পর্কে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ দেশের জন্য, জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম এপ্রিল-জুন ২০২৬ কোয়ার্টারে দেশের সার্বিক অপরাধ চিত্র সভায় উপস্থাপন করেন।

 

সভায় আলোচ্য সময়ে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলা, মুলতবি গ্রেফতারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচারের ফলাফল, সাজার হার ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় ডাকাতি মামলা, ধর্ষণ মামলার তদন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশ আক্রান্ত মামলার তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মুলতবি মামলা কমিয়ে সাজার হার বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়। এছাড়া, নিখোঁজ জিডি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলন উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় পিবিআই প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. মোস্তফা কামাল, সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, এটিইউ প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. রেজাউল করিম, র‍্যাব মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) সরদার নুরুল আমিন প্রমুখ স্ব স্ব ইউনিট সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ পালনকালে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২৬ জন পুলিশ সদস্যকে আইজিপি ব্যাজ দেওয়া হয়। আইজিপি তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন।

 




‘সারের সংকট নেই, এটি দুষ্কৃতকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের প্রোপাগান্ডা’

কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো ক্রাইসিস (সংকট) নেই। এটি কিছু দুষ্কৃতিকারী, ষড়যন্ত্রকারী ও দুষ্টু লোকদের প্রোপাগান্ডা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাজারে সরকারি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না, আবার বেশি টাকা দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে এর পিছনে কিছু লোভী লোকের কারসাজি চলছে।

দেশে সারা বছর যে পরিমাণ সার প্রয়োজন তার চেয়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টন সার বেশি মজুত আছে মন্তব্য করে ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সারের কোনো সংকট নেই দেশে। আপনাদের বলছি ষড়যন্ত্র কইরেন না। বিরত থাকুন। আগামী নির্বাচনে ভোট পেলে আসবেন, কোনো সমস্যা নেই।

মতবিনিময় সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তথ্য যা আছে, যা জানেন তা দিন। জোড়াতালি দিয়া বুঝাইতে আইসেন না। ওই বুঝানোর মানুষ আমি না। আমাকে বুঝাইতে আসবেন আর আমি এমন সব প্রশ্ন করব তার উত্তর দিতে পারবেন না, বিপদে পড়ে যাবেন।

তিনি বলেন, আমি যা বলব, যা সত্য, যা আমি দেখি তাই বলব। এভাবে কর্মকর্তাদের চলতে হবে। ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা সত্য বলবে, সত্য বললে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রেরণা দিতে এখানে এসছি। এদেশ কৃষিপ্রধান, কৃষিই আমাদের প্রাণ। কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া আমাদের টার্গেট। আগামীতে বিদেশ থেকে আমরা কৃষিপণ্য আমদানি করতে চাই না, চাই রপ্তানি করতে।

তিনি তাহেরপুর জাতের পেঁয়াজ চাষের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এ পেঁয়াজ আট মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। যা হাইব্রিড পেঁয়াজে সম্ভব না। এ পেঁয়াজের স্বাদ ভালো, পান্তা ভাতে খেয়েও মজা। পেঁয়াজের পাশাপাশি আদা, কাঁচামরিচ, হলুদ, টমেটো উৎপাদনে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। পাশাপাশি জিরা ও মসুরির ডালের উৎপাদন বাড়াতে হবে, বিদেশ নির্ভরতা কমানোর জন্য।
ফরিদপুরে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চাষ ও চর এলাকায় পাটের বীজ করার উদ্যোগ নেওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ফরিদপুরের মাটি দেশের অন্যতম সেরা মাটি। এ মাটিতে পিএইচ মান সাড়ে সাত থেকে সাড়ে ৮ পর্যন্ত, যা দেশের অন্য জায়গার মাটিতে দেখা যায় না।

অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, মৃত্তিকা বিভাগের মো. তানভির হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এস এম আসজাদ প্রমুখ।

এরপর দুপুর ১টার দিকে কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ফরিদপুরের পেঁয়াজ ও পাট চাষীদের সাথে মতবিনিময় করেন। সদর উপজেলা পরিষদে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম ও ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা বক্তব্য দেন।




অপরাধ দমনে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর রাজারবাগস্থ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়াম পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে (এপ্রিল-জুন ২০২৬: দ্বিতীয় কোয়ার্টার) প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এরই মধ্যেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যাদি দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য সরকার পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা ভারী অস্ত্র (হেভি ওয়েপনস) উদ্ধারের জন্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করা হবে। পিস্তল, রিভলবার বা শটগান জাতীয় অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে খবর দিয়ে যারা সহায়তা করবেন, তাদেরও ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হবে।

তথ্য প্রদানকারীদের সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করে বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে এরই মধ্যেই অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ও মতবিনিময় করেন।




ভেজাল সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ভেজাল ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় তার দোকান থেকে ৫ বস্তা ভেজাল সার জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টা ১৫মিনিটের দিকে সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের জান্না বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভেজাল সারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।

অভিযানে ভেজাল সার বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ব্যবসায়ী সানোয়ারকে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ধারা ১৭ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, জান্না বাজারের ওই সারের দোকানে ভেজাল ডিএপি সার বিক্রি হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানে দোকানে থাকা সার পরীক্ষা ও অভিযোগ যাচাইয়ের পর ভেজাল সারের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ ভেজাল সার জব্দ করা হয়।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে সারের মান নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি অব্যাহত থাকবে। ভেজাল সার বা বীজ বিক্রি করে কৃষকদের প্রতারিত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম, ফুকুরহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, সাটুরিয়া থানা-পুলিশের একটি দল এবং সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই : এলজিআরডি মন্ত্রী

বাংলাদেশে অবকাঠামো, বন্দর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন, আবাসনসহ বাংলাদেশের শিক্ষা কারিকুলামে ম্যান্ডারিন তথা চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তকরণ, দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

রাজধানীর কড়াইল, গুলশান ও মহাখালী বস্তির উন্নয়নে আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রস্তাবটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে চীন প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার ও সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নগর উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি আরও বৃদ্ধি করতে চীন আগ্রহী।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে তার চীন সফরের সময় এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ রয়েছে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালন ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাবো।’

বঙ্গভবনের দরবার হলে আজ বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর কারো প্রতি তাঁর কোনো রাগ-অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

তিনি যে কোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জন, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য রাখতে হবে।’

এসময় তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

তিনি বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, বঙ্গভবন হলো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এর মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত সকল বিষয় অত্যন্ত কঠোরভাবে গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিচালনা করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।

এসময় তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল এবং অপচয় রোধের আহবান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের জীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসাথে তিনি যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্রগঠনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও কৃতিত্ব শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

একইসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সকল রাষ্ট্রপতির কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা এখানে একটা পরিবার। সবাই একই জায়গায় কাজ করি। আমরা যখন সুযোগ পাবো, সেই সময় পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।’

তিনি ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার আশা প্রকাশ করেন।




নারী উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতে ব্র্যাক ব্যাংককে ৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে আইএফসি

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে ব্র্যাক ব্যাংককে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন সুবিধা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)। নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত ব্যবসা এবং কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিতে এই অর্থ ব্যবহার করবে ব্র্যাক ব্যাংক।দক্ষিণ এশীয় কালচারাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইএফসি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক শাখা। ব্র্যাক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এই অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য এটি আইএফসি থেকে ধারাবাহিকভাবে পাওয়া চতুর্থ অর্থায়ন সুবিধা।
নতুন এই অর্থায়ন ব্র্যাক ব্যাংক ও আইএফসির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ভূমিকা রাখবে। এই তহবিলের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক মাঝারি মেয়াদে মার্কিন ডলারের অর্থ পাবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিসহ বৈদেশিক মুদ্রার বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গ্রাহকদের আরও বেশি সহায়তা দিতে পারবে ব্যাংকটি।

এক বছর মেয়াদের এই অর্থায়ন সুবিধা দুবার নবায়নের সুযোগসহ সর্বোচ্চ তিন বছর ব্যবহার করা যাবে। তহবিলের অন্তত ৫০ শতাংশ বা সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা নারী-নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের জন্য বরাদ্দ করা হবে। আর কমপক্ষে ২৫ শতাংশ দেওয়া হবে কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে।অনলাইন ব্যাঙ্কিং অ্যাকাউন্ট খোলা

এর ফলে নারী উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগও সহজ হবে।

আইএফসির ‘এমএসএমই ফাইন্যান্স প্ল্যাটফর্ম’-এর ‘এসএমই এনভেলাপ’-এর আওতায় এই অর্থায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো উদীয়মান বাজারের সুবিধাবঞ্চিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঋণ পাওয়ার সুযোগ সহজ করা।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক ও গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সহজ করছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতকে সহায়তা করছে।

এই অর্থায়নের বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “আইএফসির এই বিনিয়োগ ব্র্যাক ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, সুশাসন কাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে আমাদের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের প্রতিফলন। এই অর্থায়ন সুবিধাটি বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ এবং কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করার ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তাদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন পাওয়ার সুবিধাও আরও জোরদার করবে।”

আইএফসির বাংলাদেশ ও নেপালের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ম্যানেজার উইলফ্রিড টামেগ্নন বলেন, “বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাত। নারী-নেতৃত্বাধীন এবং কৃষি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এই সুবিধাটি আরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ করতে, ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এবং দেশজুড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। এই খাতগুলোর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জোরদার করতে ব্র্যাক ব্যাংককে সহায়তা করতে পেরে আমরা গর্বিত।”দক্ষিণ এশীয় কালচারাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া

এই অর্থায়ন সুবিধা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর কাছে শীর্ষস্থানীয় অংশীদার হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যের প্রসার ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈশ্বিক অর্থায়ন সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাংকটির প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করেছে।




রাষ্ট্র সংস্কারে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া জরুরি: জহির উদ্দিন

রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম সফল করতে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সরকার নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে দৈনিক জনতার ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দৈনিক জনতার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি সৈয়দ এম আলতাফ হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহসিন হোসেন, সাবেক সভাপতি বুলবুল আহমেদসহ অনেকে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে। রাষ্ট্র মেরামতের যে লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার কাজ করছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা জরুরি।

তিনি বলেন, সংবাদপত্রের মালিকরা যাতে নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারেন এবং সেই বিনিয়োগ লাভজনক প্রক্রিয়ায় যেতে পারে, সে জন্য সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে। পাশাপাশি সম্পাদক, সাংবাদিক, ছাপাখানার কর্মীসহ গণমাধ্যম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সবার স্বার্থ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকতার প্রধান কাজই হচ্ছে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রশ্নকে সম্পদ মনে করে। যত বেশি প্রশ্ন করা হবে, সরকার তত বেশি জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা ও কাজ পরিষ্কার করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের ১৭ বছরের ভুল জ্বালানি নীতি, অপরিকল্পিত প্রকল্প ও ব্যাপক লুটপাটের কারণে দেশ আজ ভঙ্গুর অর্থনীতির মুখোমুখি। সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সংকট সমাধান এবং ধ্বংসাত্মক শাসনব্যবস্থার বিষাক্ত প্রভাব থেকে জনগণকে মুক্ত করার যোগ্যতা ও সততা ধানের শীষ, বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রয়েছে বলেই জনগণ তাদের ওপর আস্থা রেখেছে।




সিটি ব্যাংকের পরিচালক বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার

পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় আগামী ৪ অক্টোবরের বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) উপস্থাপনের জন্য নির্ধারিত ব্যবসায়িক প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ তথ্য জানিয়েছে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো নিয়ে আইনগত, নিয়ন্ত্রক, সুশাসন, শেয়ারহোল্ডার ও চুক্তিগত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার পর পরিচালনা পর্ষদ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর ফলে স্বতন্ত্র পরিচালক বাদে ব্যাংকের পরিচালকের সর্বোচ্চ সংখ্যা ৮ জন থেকে বাড়িয়ে ১০ জন করার প্রস্তাবটি আগামী ইজিএমে উপস্থাপন করা হবে না। প্রস্তাবটি ইজিএমের আলোচ্যসূচি থেকে প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে উপযুক্ত সময়ে পুনর্বিবেচনার জন্য রাখা হয়েছে।

তবে ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন (অথরাইজড ক্যাপিটাল) ২ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাবটি ইজিএমে বহাল থাকছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩০০ কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত হবে ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধন।

এ জন্য ব্যাংকের মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাবও শেয়ারহোল্ডারদের বিবেচনার জন্য রাখা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব কার্যকর করতে প্রযোজ্য শেয়ারহোল্ডার, নিয়ন্ত্রক ও আইনগত অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

ব্যাংক জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ইজিএমের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাধারণ সভা।




সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে হেয়ারকাট বা‌তিল

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে আমানতকারীদের আমানত ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বাড়াতে ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

এ বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর-ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আমিনুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিকে আমানতকারীদের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দিলেও এ বিষয়ে অনেক আমানতকারীর মধ্যে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। এ কারণে ব্যাংকটির সব আমানতকারীকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গভর্নরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কোনো আমানতকারীর মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট বা কর্তন করা হবে না—বিষয়টি তাদের পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে।

এছাড়া, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা যাতে তাদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ ফেরতের নির্ধারিত সীমার বাইরে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, নির্ধারিত অর্থ ফেরতের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আমানতকারীদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আরও অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংককে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, পিএলসি। ব্যাংকটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

ব্যাংকটির সেবা ও কার্যক্রম যাতে দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সাক্ষাতে গভর্নর ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত, অর্থ উত্তোলনের সুযোগ এবং ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে চেয়ারম্যান ও এমডির সঙ্গে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার ফলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট না থাকার বিষয়টি আমানতকারীদের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডি গভর্নরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।




বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার আশ্বাস ইউএনডিপির

আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা।

বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই। তিনি মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আপনি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন জেনে আমরা আনন্দিত। আপনি চাইলে আমরা এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আগ্রহী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ইউএনডিপি’র সহায়তার কথা উল্লেখ করে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা (যেমন- পাহাড় ধস প্রতিরোধ) এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চাই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চাই না।

আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ইউএনডিপি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তি-সহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। মন্ত্রীও এ সময় পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি’র সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কার্যকরভাবে রোধে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে চাই, যাতে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়। মন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন।

প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আইনটি প্রণয়নে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, এটি একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এ সময় নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সবসময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ এবং ইউএনডিপি এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাস্তবায়নেও কাজ করতে আগ্রহী।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।