সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ফ্ল্যাটে মিলল দেড় হাজার বিলাসবহুল পণ্য

 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আলোচিত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে দুই দিনব্যাপী অভিযান শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ টিম।

গুলশানের ৬৬ নম্বর রোডে নর্থওয়েস্ট বি ব্লকের ১১ নম্বর প্লটের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোট ২৬৯ ধরনের পণ্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে দুদকের টিম। সংখ্যা হিসাবে যার পরিমাণ দেড় হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ফ্ল্যাট এ-৭ থেকে প্রায় ১ হাজার ১৩৫টি ও ফ্ল্যাট বি-৭ থেকে প্রায় ৪০০টি পণ্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুদকের প্রাধান কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মেনে গতকাল ও আজ ইনভেন্টরি কাজ করেছে। অভিযানে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ইনভেন্টরি কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২৬৯ আইটেমের পণ্য পাওয়া গেছে।

উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ৮টি ঘড়ির বক্স (এর মধ্যে রোলেক্সের ৪টি), প্রায় ১০০টি কামিজ, মুক্তার (পার্ল) গয়না, ঝাড়বাতি, বেড, সোফা, এসি, সিলিং ফ্যান, ট্রেড মিল, ফ্রিজ, সুটকেস, চেয়ার ও টেবিল ইত্যাদি। বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়ির ক্রয় রসিদ অনুযায়ী, প্রতিটি ঘড়ির দাম হতে পারে ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।

২০২৪ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক। মামলাগুলোতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানকে আসামি করা হয়েছে। যার সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকের অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।

গত ২ জুলাই আদালতের আদেশ দেওয়ার পর সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রণে নেয় দুদক। আদালতের চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামীয় সম্পদ ঢাকার গুলশানের রোড নম্বর-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নম্বর-১১, ফ্ল্যাট নম্বর-এ-৭ এর ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ফ্ল্যাট এবং গুলশানের রোড নম্বর-৬৬, ব্লক-নর্থওয়েস্ট (বি), প্লট নম্বর-১১, ফ্ল্যাট নম্বর-বি-৭ এর ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার হিসেবে দুদক পরিচালককে (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ এবং মালামালের ইনভেন্টরি করার সময় দায়িত্ব পালনের জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।




উৎসে কর মনিটরিংয়ে উদ্যোক্তাদের হয়রানি না করার আহ্বান ঢাকা চেম্বারের

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উৎসে কর কর্তন জমা, মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় উদ্যোক্তাদের অযথা হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই জানায়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারার আওতায় ব্যবসায়িক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উৎসে কর মনিটরিং কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও করজাল সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে কর-অনুগত (কমপ্লায়েন্ট) ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদের প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং করজাল সম্প্রসারণে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এর মাধ্যমে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

ঢাকা চেম্বার বিশ্বাস করে, রাজস্ব আহরণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ-এই দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব, তবে এ ক্ষেত্রে এনবিআরের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের কিভাবে কর ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার-বেসরকারিখাতের একযোগে কাজের বিকল্প নেই।




এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেলো ওয়ালটন

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস এর চতুর্থ সংস্করণেও (২০২৬) তিনটি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট ও সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। টেকসই নেট জিরো ইনিশিয়েটিভ এবং এনার্জি ইফিশিয়েন্সি প্রোগ্রামের জন্য সাশ্রয়ী ও ক্লিন এনার্জি ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন অর্জন করেছে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’।

 

পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় টেকসই সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জলবায়ু সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জলবায়ু ও পরিবেশ ক্যাটাগরিতেও ওয়ালটনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া বর্ষসেরা সবচেয়ে টেকসই ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতেও এই পুরস্কার পেয়েছে ওয়ালটন। গত বছর একই অ্যাওয়ার্ডের তৃতীয় আসরেও তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছিল ওয়ালটন।

১৮ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ওয়ালটনকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ দেওয়া হয়।

পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) মো. ইউসুফ আলী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, শাহজালাল হোসেন লিমন, তানভীর আঞ্জুম ও প্রতীক কুমার মদক, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, ইএইচএস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু প্রমুখ।

 

পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেকের এএমডি মো. ইউসুফ আলী বলেন, তিন ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করায় ওয়ালটন পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ওয়ালটনকে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়নে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি এবং সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির আলোকে ওয়ালটন কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া, কর্মক্ষেত্রসহ সর্বত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ উন্নয়ন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। জিরো কার্বন নিঃসরণ, সাশ্রয়ী জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে নবায়নযোগ্য বিভিন্ন ক্লিন ও গ্রিন এনার্জি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ওয়ালটন। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে নিজস্ব অর্থায়নে ওয়ালটন মোট ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

ইতোমধ্যে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে স্থাপন করা হয়েছে ১৯.২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট। যার মধ্যে রয়েছে রুফটফ সোলার প্ল্যান্ট, গ্রাউন্ড মাউন্টেড সোলার প্ল্যান্ট এবং দেশের সর্ববৃহৎ ফ্লোটিং বা ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট। এসব সোলার প্ল্যান্ট থেকে বছরে প্রায় ২২ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা ওয়ালটনের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১৭ শতাংশ পূরণ করছে।

 

তিনি আরও বলেন, শিল্প প্রক্রিয়ায় পানি সাশ্রয় ও পুনঃব্যবহারে ইটিপির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাতকৃত পানির প্রায় ৭৫ শতাংশ নিরাপদভাবে পুনঃব্যবহার করা হচ্ছে। ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্লাস্টিক পুনঃর্ব্যবহার ও আপসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বর্জ্য কমিয়ে সম্পদের পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করছে ওয়ালটন। ওয়ালটনের এই অগ্রগতি প্রমাণ করে, ওয়ালটন কেবল পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণই করেনি, বরং তা বাস্তবে প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই শিল্প ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি মডেল তৈরি করেছে।

সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া।

এ বছর ১৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। যেখান থেকে কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’সহ ৫৯টি টেকসই উদ্যোগকে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ দেওয়া হয়।




মার্জিন বিধিমালার খসড়া সংশোধনী প্রকাশ, মতামত আহ্বান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫-এর খসড়া সংশোধনী প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করেছে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (বিএসইসি)।

সোমবার (২০ জুলাই) বিএসইসি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএসইসি কর্তৃক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫-এর খসড়া সংশোধনীর ওপর সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের ওয়েবসাইটেও খসড়া সংশোধনী ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়া সংশোধনীর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কমিশনের কাছে মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিনেন্স, ১৯৬৯ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর বিধান অনুযায়ী যেকোনো বিধিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত গ্রহণ একটি স্বাভাবিক ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। সেই আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই খসড়া সংশোধনীটি জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন বা পরিমার্জনের পর বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। পরবর্তীতে সরকারি গেজেটে প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হবে।

এ পর্যায়ে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বর্তমানে প্রকাশিত খসড়া সংশোধনীটি একটি প্রস্তাবনা মাত্র; এটি কোনো চূড়ান্ত সংশোধনী নয়। ফলে খসড়া সংশোধনী সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের অনুমান, অপব্যাখ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।

বিএসইসি বলেছে, কমিশন সর্বদা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রস্তাবিত সংশোধনীর লক্ষ্য হলো বিদ্যমান বিধিমালাকে আরও সহজ, বাস্তবসম্মত, ব্যবহারবান্ধব ও কার্যকর করা। অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট সবার মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করা হবে। এটি বিনিয়োগকারীবান্ধব এবং পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হবে।

কমিশন আশা করছে, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন গঠনমূলক মতামত প্রদান করবেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যম খসড়া সংশোধনী ও আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন করে গঠনমূলক সমালোচনা করবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি বা উদ্বেগের সৃষ্টি না হয়।




মশা নিধনে দেশীয় উদ্ভাবন পরীক্ষামূলক প্রয়োগের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

মশা নিধনে দেশীয় উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিয়ে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কাজে লাগাতে সিটি করপোরেশনগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইয়ুথ টু ওয়ার্ল্ড আয়োজিত ‘মশা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত যে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খুব একটা কাজে আসছে না। তবে দেশীয় রাসায়নিক ব্যবহার করে যে প্রযুক্তি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি সম্ভাবনাময়।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া বিস্তারের বর্তমান মৌসুমে মশার লার্ভা নিধন করাই প্রধান কাজ। নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কাজ করা গেলে মশা নিধনে সিটি করপোরেশন এবং উদ্ভাবকদের যৌথ কর্মসূচি সফল হবে।




প্রথমার্ধে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস বেড়েছে ৩৮ শতাংশ

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রগতি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ৩৮ শতাংশ বেড়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ১১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ এ সময়ে ইপিএস বেড়েছে ৮৫ পয়সা বা ৩৮ শতাংশ।

এদিকে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা। ফলে প্রান্তিক ভিত্তিতে ইপিএস বেড়েছে ২৯ পয়সা বা প্রায় ২৪ শতাংশ। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ৪৩ পয়সা।

 

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিচালন আয় এবং অন্যান্য আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ইপিএসে এ প্রবৃদ্ধি এসেছে। এছাড়া প্রিমিয়াম সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং অন্যান্য আয় বাড়ার কারণে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় উন্নত হয়েছে।

২০২৫ অর্থবছরে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ছিল ৫ টাকা ৩১ পয়সা। ওই বছরের আর্থিক ফলাফলের ভিত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৭ শতাংশ নগদ এবং ৩ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

 

ঘোষিত লভ্যাংশসহ অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে।




এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে: বাণিজ্য সচিব

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্কের (ইআইএফ) তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রফতানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইআইএফ এর আগের ফেজগুলোয় যে সুপারিশ দিয়ে আসছে, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে সেই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যার প্রতিটিই বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাণিজ্য সচিব বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, এর সফল বাস্তবায়নই মূল বিষয়। তিনি বলেন, স্টাডির পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কীভাবে সংস্কারগুলো কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এসব সংস্কারের সুফল পৌঁছাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ) কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসি দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেয়া হয়। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে থাকে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ইআইএফের আওতায় ইতোমধ্যে দুটি পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে এবং শেষ হয় ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে, যা ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রম চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও ইআইএফের পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতি, কৌশল ও পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিটিআইএস, রফতানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ক উদ্যোগ থেকে প্রাধান্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে।এসব কার্যক্রমের মধ্যে রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।




২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা

বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলওয়ে মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করেছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো অর্থবছরে রেলওয়ের আয় তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমানের পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে গেলো অর্থবছরে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যাত্রী খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা।

তবে ইঞ্জিনের অভাবে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে।

অন্যদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে ভেন্ডিং লাইসেন্স ও বিবিধ আয়সহ মোট আয় কমেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টক রক্ষণাবেক্ষণসহ—মোট ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১। গত অর্থবছরে এ অনুপাত ছিল ২ দশমিক ০৯। অর্থাৎ রেলওয়ের আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য কমেছে।

বার্তায় বলা হয়, তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় করে, যা পরিচালন ব্যয় হিসেবে গণ্য করা সমীচীন নয়। পেনশন ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও বা ব্যয় ও আয়ের অনুপাত দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৩। অর্থাৎ পেনশন ব্যতীত রেলওয়ে আয়ের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা। রেলওয়ের ভাড়া রেয়াতি হারে নির্ধারিত। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। এ সময়ে রেলওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত মালামাল, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য, ডলার রেটের কারণে ব্যয়, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

বর্তমান ভাড়া গত ১০ বছরেও বৃদ্ধি করা হয়নি উল্লেখ করে বলা হয়, অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম ও বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলভাড়া যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য অনেক কমে আসবে।

এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয় বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।




জুলাইয়ের ১৮ দিনে এলো ১৮০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে দেশে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এ সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার বেশি।

রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ (এক দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ১৬ থেকে ১৮ জুলাই— এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। এর আগে চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মাথায় মোট প্রবাসী আয় পৌঁছেছে ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




দেশে সারের কোনো সংকট নেই: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। বিগত সরকারের মতো কেউ কারসাজির চেষ্টা করলে সে যে দলেরই হোক তাকে আইনের হাতে তুলে দিন।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষি ঋণ মওকুফের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে কিনা, বিষয়টি খতিয়ে দেখুন। কৃষিকাজ ছাড়া আমাদের কিছুই নাই। বর্তমান সরকার প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ১০ হাজার করে কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে কৃষকদের জন্য কাজ শুরু করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া পাঁচ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিলেন। কিন্তু বিগত দিনের সরকার গুলো কৃষকের কথা চিন্তা করেনি। শুধু নিজেদের এবং দলের স্বার্থের কথা চিন্তা করেছে। আমরা ঋণ মওকুফের ক্ষেত্রে দল মত দেখিনি। এই ঋণ নিয়ে অনেক কৃষক হয়রানির স্বীকার হয়েছেন, মামলার স্বীকার হয়েছেন আজ তারা ঋণমুক্ত হলেন।

পরে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ মওকুফ সনদ বিতরণ করেন। সঙ্গে প্রতি কৃষককে তুলে দেওয়া হয় পাঁচটি করে গাছের চারা। উপজেলার পাঁচ হাজার ৮৯২ জন কৃষককে এই ঋণ মওকুফ সনদ দেওয়া হয়। জেলার ২০ হাজার ৬৭১ জন পাবেন এই সুবিধা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, পুলিশ সুপার আবু সাইম, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধি, সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




বক্সখাটের ভেতর লুকানো খাদ্য অধিদফতরের চাল, ৯৯৯ ফোনকলে উদ্ধার

পাচারের উদ্দেশ্যে ভোলার লালমোহনের কিশোরগঞ্জে জসিম সর্দার নামের একজনের বাড়িতে বক্সখাটের ভেতর লুকানো চাল ৯৯৯ নম্বরে ফোনকলে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সোয়া ১টার দিকে ভোলার লালমোহন থানাধীন কিশোরগঞ্জ থেকে একজন কলার ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে জানান, তাদের গ্রামে জসিম সর্দারের বাড়িতে খাদ্য অধিদফতরের সরকারি চাল আত্মসাৎ করে পাচারের উদ্দেশ্যে বক্সখাটের ভেতর লুকিয়ে রেখেছে।

আনোয়ার সাত্তার বলেন, ৯৯৯ থেকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লালমোহন থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে লালমোহন থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জসিম সর্দারের বাড়ি থেকে ৩০ কেজির ২৪ বস্তা চাল এবং ৫০ কেজির ৯ বস্তা চালসহ মোট ১১৭০ কেজি চাল উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থল থেকে রোকেয়া বেগম (৩৫) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত জসিম সর্দার পলাতক রয়েছেন। এ সংক্রান্তে একটি মামলা করা হয়েছে।




বিশ্বকাপ দেখানোর নামে ২০২২ সালে লুটপাট, এবার ঘাটতি মাত্র ৪-৫ কোটি টাকা

২০২২ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট হয়েছে। অথচ এবার সরকার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে সম্প্রচার স্বত্ব কিনে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় পুরো খরচই তুলে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

এবার স্বত্ব কিনে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানোর ক্ষেত্রে সরকারের ঘাটতি মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা, সেটিও আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

 

রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মিডিয়া রাইটস ফিফার কাছ থেকে সরাসরি ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে কিনেছে। পরে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে অধিকাংশ অর্থ আদায় করা হয়েছে। ফলে, সরকারের প্রকৃত ঘাটতি মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। এই ঘাটতিও রাজস্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে পূরণ করার চেষ্টা চলছে।

 

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ ছিল দেশের মানুষকে বিশ্বকাপের খেলা দেখাতে হবে, তবে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো যাবে না। সে লক্ষ্যেই ফিফার সঙ্গে সরাসরি দরকষাকষি করে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা হয়েছে।

২০২২ সালের বিশ্বকাপের সঙ্গে এবারের ব্যবস্থার তুলনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সে সময় ফিফার কাছ থেকে একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি সম্প্রচার স্বত্ব কেনে। পরে বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান সেই স্বত্ব কিনে বিটিভির কাছে ৯৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট সম্প্রচার স্বত্ব ২২ কোটি টাকা এবং ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।

তিনি বলেন, ফিফা পেয়েছিল মাত্র ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। বাকি অর্থ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে গেছে। জনগণের করের ৯৮ কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার সেই সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল। এটি ছিল বিশ্বকাপ দেখানোর নামে দুর্নীতির একটি উদাহরণ।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচার এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যয়ের তুলনা করলেই বোঝা যাবে আগের সরকারের সময়ে কীভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হয়েছে। আর বর্তমান সরকার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কিনে নামমাত্র ব্যয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করেছে। ২০২২ সালের এই তুলনাটা সামনে আনলেই বোঝা যাবে যে, শেখ হাসিনার আমলের কীভাবে বিশ্বকাপ দেখানোর নামে দুর্নীতি হয়েছে, টাকা লুটপাট হয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা ব্যবহার করেছে, রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রে যেভাবে লুটপাট হয়েছে, এখানেও কীভাবে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিটিভি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এ প্রক্রিয়া সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনকভাবে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বিটিভির ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রায় নামমাত্র ব্যয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে। এখনও রাজস্ব ভাগাভাগির কিছু বিষয় বাকি রয়েছে। সেগুলো সম্পন্ন হলে সরকারের আর কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, সম্প্রচারকালীন বিটিভির নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার না হওয়ায় যে সময় ব্যয় হয়েছে, সেটির অর্থমূল্য হিসাব করলে পুরো আয়োজন লাভজনক অবস্থানে চলে যাবে। বিটিভির প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা সফলভাবে সম্প্রচার পরিচালনা করেছেন এবং বিটিভির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, সেটিও ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

সচিবের দায়িত্বে থাকা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম বলেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সময় বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিটিভি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা তা সফলভাবে প্রতিরোধ করেছেন। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছিল, তারাই কেবল সম্প্রচার করতে পেরেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারে অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং চলবে। সরকার আইনি প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করবে।

 

বিটিভির মহাপরিচালক বলেন, এ বিষয়ে বিটিভির অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দুদকেও একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে বলে তার জানা আছে।

পরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজন হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বা বিটিভির পক্ষ থেকে দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে বাংলাদেশে এনে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি ভালো প্রস্তাব। বিষয়টি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।

 

খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্রীড়াকে পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ছোটবেলা থেকেই চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে কৃতী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা এবং স্পোর্টস কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিটিভির ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনমত গঠন এবং ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিষয়গুলো নিয়ে বিটিভিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।




প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস ডিএসসিসি প্রশাসকের

প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করেপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

তিনি বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও মানুষ। এ রাষ্ট্রে তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে। কিন্তু বিভিন্নভাবে তারা বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত হন। রাষ্ট্রের উচিত তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

রোববার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুস সালাম বলেন, বিএনপি সবসময় এ বিষয়ে এগিয়ে এসেছে। আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়গুলোতে অত্যন্ত সচেষ্ট। তার সহধর্মিণীও এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, যখনই প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কথা আসে, তখন তাদের এগিয়ে আনতে তারা সবসময় সচেষ্ট থাকেন। আমাদের সমাজে যেসব প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন ও দেখাশোনার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; আমরা যারা সমাজে বসবাস করি, আমাদের সবারই সমান দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি তাদের পাশে দাঁড়াই, তাহলে এই পিছিয়ে থাকা মানুষগুলো আর পিছিয়ে থাকবে না। কারণ তাদেরও মেধা আছে। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও রাষ্ট্রকে অনেক কিছু দিতে সক্ষম। যদি তারা বেঁচে থাকার সুযোগ পায়, পড়াশোনার সুযোগ পায়, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পায়, চাকরি করার সুযোগ পায়—তাহলে অবশ্যই তারা তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আমি অন্তত এটুকু বলতে পারি যে, আমাদের সরকার এ ব্যাপারে সচেষ্ট। ঢাকা মহানগরের প্রশাসক হিসেবে বলতে পারি, আমরাও এ বিষয়ে আন্তরিক। যে কোনো সময়, যে কোনো প্রয়োজনে আপনারা আমাদের কাছে আসবেন। আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করবো।

 




শ্রমিক অসন্তোষ কাটিয়ে উৎপাদনে ফিরেছে তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের কারখানা শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। এই সংকট কাটিয়ে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমঝোতার পর শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে কোম্পানিটির কারখানায় আবারও উৎপাদন শুরু হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি।

ডিএসই জানায়, গত ১৫ জুলাই একটি ফেসবুক প্রোফাইলে ‘পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তমিজ কারখানা বন্ধ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি পোস্টের বিষয়ে ১৬ জুলাই কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এর জবাবে তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল জানায়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ১৩ জুলাই ২০২৬ থেকে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

কোম্পানিটি আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও গঠনমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ১৮ জুলাই ২০২৬ থেকে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে।

তবে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে কোম্পানির আর্থিক কার্যক্রমে কী পরিমাণ প্রভাব পড়েছে, তা এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলসের বর্তমানে ৩৩ কোটি ৭ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৩৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকায়।




ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সুশাসনের ভিত্তি

বাংলাদেশে ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা নয়, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি মৌলিক পরিবর্তন বলে মন্তব্য করেছেন এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ১২তম আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত ১৫ থেকে ১৭ জুলাই তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ইন অ্যাকশন : ক্যাশলেস ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. তৌহিদুল আলম খান।

এছাড়া টেকসই উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. মো. তৌহিদুল আলম খানকে ‘এসডিসি-২০২৬’ এর সায়েন্টিফিক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।

প্রবন্ধে ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অন্যতম কার্যকর উদ্যোগ। নিরাপদ, সহজলভ্য ও দক্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর শুধু প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়, এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং অর্থনীতিতে মানুষের অংশগ্রহণের বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন, সবুজ প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে কলম্বিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, ফিজি, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, নীতিনির্ধারক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।




ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতিই বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিসিএফএ আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস
ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভূ-রাজনীতি নয়, বরং আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও জনশক্তি রপ্তানির মতো অর্থনৈতিক নিয়ামকগুলোই বাংলাদেশের বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতির মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে চীন।’

আজ (শনিবার) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

বাংলাদেশ-চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি মূলত অর্থনীতিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। সংগত কারণেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বহুলাংশে চীন নির্ভর। আমাদের মোট এফডিআই (সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ) স্টকের মধ্যে চীনের অবস্থান দ্বিতীয়।’

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই আমদানি নির্ভর। বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ এখনও ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। তবে বাংলাদেশের এই রপ্তানি সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য চীন সরকারের আগ্রহ রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আমাদের অর্থনীতির গতিকে আরও বেগবান করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী চিন্তার আলোকে চীন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হতে পারে।

যোগাযোগ ছাড়া কোনো অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সফর সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহাসিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে একমত হয়েছে।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরও জানান, দীর্ঘদিনের কিছু জটিলতা কাটিয়ে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থে এই উদ্যোগে ভারতসহ অন্য যেকোনো দেশকে স্বাগত জানানো হবে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক বিশাল কৌশলগত বিজয় হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সমস্যাকে একটি অন্যতম বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী উত্তরণে চীনের পক্ষ থেকে শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা আমাদের সরকার প্রত্যাশা করে।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি স্পষ্ট করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি বাস্তবসম্মত নীতিতে বিশ্বাসী। ভূ-রাজনীতি আমাদের প্রধান লক্ষ্য নয়, আমাদের অগ্রাধিকার হলো অর্থনীতি। আমরা চীন ও ভারত থেকে আমদানি করি, আমেরিকা ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স আয় করি। এই অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয়। চীন আমাদের এই অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে।’

তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই মৈত্রী ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেমকে আরও ফলপ্রসূ ও গতিশীল করতে চীনা রাষ্ট্রদূতকে এই সম্পর্কের অন্যতম রূপকার বলেও মন্তব্য করেন।




আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্বে বদিউর রহমান ও সেলিম রহমান

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বদিউর রহমান এবং নির্বাহী কমিটির (ইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে সেলিম রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৪৬৪তম (জরুরি) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারা নির্বাচিত হন।

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি সফলভাবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি, এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড, সেন্ট্রাল হসপিটাল লিমিটেড, হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সল্যুশন লিমিটেড এবং হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ দেশে-বিদেশের বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বদিউর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরবর্তীতে আমার দায়িত্বের ৮ বছরে আমরা এই ব্যাংকটিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হই। বর্তমানে ২০২৬ সালে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে আবারও যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তেমনই কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে আমাকে পুনরায় পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আমার উপরে অর্পিত দায়িত্ব আমি যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করবো। ইনশাল্লাহ, অতীতের মতো অচিরেই আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, নির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সেলিম রহমান দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি।

এর আগে তিনি ২০২১ এবং ২০২৪ সালে দুই মেয়াদে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।




নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী হবে সংস্কারের ধারাবাহিকতা : অর্থমন্ত্রী

নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচির (প্রোগ্রাম) ভিত্তি কী হবে, তা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আগে যেসব নীতিগত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর ওপরই এই কর্মসূচির ভিত্তি দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মান (রেসপেক্ট টু দ্য ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট) বজায় রেখেই সংস্কারের কাজ পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে (সিকোয়েন্সিং) পরিবর্তন আনা হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যখন যেটা প্রয়োজন হবে, তখন সেটাই করা হবে। এরই মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বাকি পরিবর্তনগুলোও সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, অর্থনৈতিক সংস্কার একবারে নয় বরং পরিস্থিতি, অগ্রাধিকার এবং নির্বাচিত সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।




ছয় মাসে সেনা ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা কমেছে

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সেনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানিটির চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৩৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৪৭ পয়সা। ফলে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৮ পয়সা বা প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ৫৫ পয়সা। আগের বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। সে হিসাবে প্রান্তিকভিত্তিক মুনাফা ২ পয়সা বা প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।

চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৪৩ পয়সা।

এর আগে ২০২৫ সালের জন্য কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওইবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছিল ২৮ টাকা ৫৮ পয়সা।




শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কিছু শিক্ষার্থীর আন্দোলনের পেছনে সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে কিছু মহল সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

তিনি বলেন, যারা আন্দোলন করছে তাদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থী নন। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন ইস্যুতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারকে বিব্রত করতে চায় এমন কিছু মহল তো আছেই। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন ইস্যুতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বা ব্যর্থ হয়েছে, তাদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় তদন্ত করবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুল হওয়া দুটি প্রশ্নের নম্বর পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী সংসদে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে আর বেশি কিছু বলার নেই।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সরকার কীভাবে দেখছে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো আমরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। দুই-একটি জেলা এবং ঢাকার কয়েকটি স্পটে সীমিতসংখ্যক মানুষকে এ বিষয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। মিডিয়ায় আসায় বিষয়টি বেশি আলোচনায় এসেছে।

শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে জনভোগান্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সচিবালয়ে গিয়ে দাবি আদায়, পরীক্ষা স্থগিত বা বিনা পরীক্ষায় পাসের মতো একটি অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। সেই প্রবণতার ধারাবাহিকতাই এখনো কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হতে দেব না। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে চাই। বাংলাদেশের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করে জ্ঞানসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক একটি জাতি গড়ে তুলতে চাই।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অটোপাস, অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া এবং ঢালাওভাবে জিপিএ-৫ দেওয়ার সংস্কৃতির সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এসবের কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে।

সম্প্রতি আন্দোলনে পুলিশের হামলার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো ডিসইনফরমেশন। প্রকৃত ঘটনা, ছবি ও ভিডিও সবার সামনে রয়েছে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।

আন্দোলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পেছনে যেই থাকুক, সামনে তো আমরা আছি।




বন্যাকবলিত‌দের জন‌্য যুক্তরাজ্যের ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা সহায়তা ঘোষণা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৩৫৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা) মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

এই সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৫ হাজারের বেশি মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

হাইক‌মিশনার জানায়, আন্তর্জাতিক সংস্থা স্টার্ট নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনায় এবং স্থানীয় ও জাতীয় বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ছয়টি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলায়– কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

আগে চলতি বছরের মে মাসে সিলেট অঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার ২ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা) জরুরি সহায়তা দিয়েছিল। নতুন সহায়তা মিলিয়ে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি (প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা)।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া জরুরি তহবিলের (ডিআরইএফ) মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১০টি জেলার মানুষের জন্য আরও ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩৪৮ পাউন্ড (প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা) সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ হাইড্রো-মেট পার্টনারশিপের আওতায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের তথ্য ব্যবহারে সহায়তা করছে।




আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ফিরলেন পুরোনো উদ্যোক্তারা

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদ্যমান পর্ষদ বিলুপ্ত করে ব্যাংকটির পুরোনো উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে ১৪ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এটি আবারও পুরোনো উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, যেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আগে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই মূল উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। মূল উদ্যোক্তারা সক্রিয় থাকায় তাদের সমন্বয়েই নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

 

নতুন ১৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন— বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী, এনায়েত উল্লাহ, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কে ওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।




শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের ফের বিক্ষোভ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে নেমেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ’দফা এক, দাবি এক-শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’ স্লোগান দেন।

তারা বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। এ কারণে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।

 

তারা আরও বলেন, এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ও নগরীর ২ নম্বর গেট থেকে। এর ন্যায্য সমাপ্তিও এখানেই হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায় করুন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে নগরীর মুরাদপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরা। তারা বন্যাকবলিত এলাকায় অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও পুনর্নির্ধারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে বিকেল ৩টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক খুলে ফেলেন। এ সময় ফটকের সামনে থাকা কয়েকটি ব্যারিকেড ও স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে শিক্ষা বোর্ড এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।




ঢাকাকে রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল

বিশ্বের তৃতীয় বসবাস অযোগ্য শহর হিসেবে পরিচিত ঢাকাকে রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আপনার-আমার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, নগরের মেয়র বা প্রশাসক অনেক ক্ষেত্রেই অসহায় অবস্থায় থাকেন। কারণ, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এই সমন্বয়হীনতার কারণে নগরবাসীকে নানান ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

রাজধানী ঢাকার পুঞ্জীভূত নাগরিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গভর্নমেন্টে’ রূপান্তর করা প্রয়োজন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোকে যদি একটি স্বশাসিত সরকারে পরিণত করা না যায়— যা ঢাকা শহরের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়, অন্যান্য বিভাগ ও সেবা সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করবে, তাহলে এই মেগাসিটির দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ সব ধরনের নাগরিক সেবায় গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এজন্য সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।




উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে এনভয় টেক্সটাইল

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এনভয় টেক্সটাইল লিমিটেড তাদের বার্ষিক ডেনিম ফেব্রিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন ও কারখানার বিভিন্ন ইউনিট উন্নয়নের মাধ্যমে কোম্পানিটি বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৫২ মিলিয়ন গজ থেকে ৬০ মিলিয়ন গজে উন্নীত করেছে। বাড়তি সক্ষমতায় ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনও শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এনভয় টেক্সটাইল এই তথ্য জানায়।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত তাদের পরিচালনা পর্ষদের সভায় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্ষদকে অবহিত করা হয়। নতুন কোনো বড় উৎপাদন ইউনিট স্থাপন না করে বিদ্যমান অবকাঠামোর দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ সক্ষমতা অর্জন করা হয়।

জানা যায়, উৎপাদনের প্রাথমিক বা আপস্ট্রিম পর্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আধুনিকায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন ধাপে অটোমেশন প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়। এর ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘদিনের একটি বড় বটলনেক দূর হয়। একইসঙ্গে বিদ্যমান ব্যাক-প্রসেসিং সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন কার্যক্রম আরও গতিশীল ও দক্ষ হয়।

কোম্পানির মতে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে একই অবকাঠামো ব্যবহার করেই বেশি পরিমাণ ডেনিম ফেব্রিক উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের চাহিদা দ্রুত পূরণের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ গ্রহণ ও সরবরাহ সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ডেনিম ফেব্রিকের অন্যতম উৎপাদক এনভয় টেক্সটাইল লিমিটেড। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

সর্বশেষ এ সক্ষমতা বৃদ্ধি ভবিষ্যতে কোম্পানির উৎপাদন, বিক্রি ও আয় বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।




 ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে গ্রামীণফোন

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো প্রকার লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্মা ইসলামী লাইফ।

আজ (বুধবার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে পৃথকভাবে এই লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কোম্পানি দুটি। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কোম্পানি দুটির পৃথক পরিচালনা পর্ষদের সভায় নির্ধারিত সময়ের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডিএসইর মাধ্যমে গ্রামীণফোন জানিয়েছে, তাদের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) আর্থিক ফলাফলের ভিত্তিতে ১০৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য আগামী ১২ আগস্ট রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোম্পানিটির ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৫২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ টাকা ২১ পয়সা। সে হিসাবে ইপিএস কমেছে ৬৯ পয়সা বা প্রায় ৬ শতাংশ। আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ টাকা ৫১ পয়সা। ফলে প্রান্তিকভিত্তিক মুনাফা কমেছে ৮৯ পয়সা বা প্রায় ১৪ শতাংশ। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৫১ পয়সা।

 

অন্যদিকে, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোম্পানিটির ‘নো ডিভিডেন্ড’সহ অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে ৬ আগস্ট রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।




সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এসিআই

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) এর পরিচালনা পর্ষদ তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডে (স্বপ্ন) ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যমতে, এসিআই লজিস্টিকস ইস্যুকৃত ৭০ লাখ (৭ মিলিয়ন) কনভার্টিবল প্রেফারেন্স শেয়ার সাবস্ক্রাইব করবে এসিআই। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা, ফলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭০০ কোটি টাকা।

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেড দেশের খুচরা বিক্রয় চেইন ‘স্বপ্ন’ পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি সারা দেশে সুপারশপ, এক্সপ্রেস আউটলেট এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিপণন করে।




বড় লোকসানের আশঙ্কায় অতিরিক্ত চার্জ মওকুফসহ ৯ দাবি ব্যবসায়ীদের

টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরসহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভয়াবহ স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্য খালাস ও পরিবহনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।

সংকটময় এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বন্দর সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত চার্জ মওকুফ এবং জরুরি সহায়তা চেয়ে ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন পোশাক ও শিল্প খাতের শীর্ষ নেতারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পাঠানো এক যৌথ স্মারকলিপিতে ওই দাবিগুলো জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন– বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমইএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বন্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না, আবার তৈরি পণ্যও বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। একদিকে শিপমেন্ট বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে জাহাজ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কন্টেইনার ডেমারেজ ও অতিরিক্ত চার্জের বোঝা চাপানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সময়মতো পণ্য পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় এভাবে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

বর্তমান এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই শিল্প খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংগঠনগুলোর নেতারা। তাই জাতীয় স্বার্থে বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা ও ব্যবসায়ীদের ওপর আরোপিত বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ কমানোর জোর দাবি জানিয়েছেন তারা

ব্যবসায়ীদের ৯ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– চট্টগ্রাম বন্দর এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও রেলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান; ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা, যারা ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবে; পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে উদ্ভূত কন্টেইনার ডেমারেজ, পোর্ট রেট, শিপিং চার্জ এবং অন্যান্য সব ধরনের বাড়তি চার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ করা; পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো চার্জ আরোপ থেকে বিরত থাকা; দ্রুত পণ্য খালাসে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ও তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করা; কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা।

এছাড়া, বন্যা ও দুর্যোগজনিত কারণে এলসি, ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো এবং বিলম্বজনিত জরিমানা মওকুফ করা; ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পখাত পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনা বা সরকারি সহায়তা তহবিল গঠন করা এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্য খালাসে কাস্টমস এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সার্বক্ষণিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবিও জানান।




মার্জিন বিধিমালা ২০২৫ সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫ এর সংশোধন প্রস্তাব (খসড়া) অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১০২০তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্জিন বিধিমালার সংশোধনী খসড়াটি খুব শিগগিরই জনমত যাচাইয়ের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।

বর্তমান মার্জিন বিধিমালাটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে কার্যকর হয়েছিল এবং পরে এর বাস্তবায়ন নিয়ে বাজারের অংশীজনদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি পুনরায় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলো।




জানুয়ারিতে এসএসসি ও জুনে এইচএসসি পরীক্ষা : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

আগামী ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক সময় সাশ্রয় এবং শিক্ষাবর্ষকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টা থেকে সংসদের এই বৈঠক শুরু হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবর্ষকে সময়োপযোগী করতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্গঠনের কাজ করছে। এই নতুন পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার মধ্যকার সামঞ্জস্য ফিরবে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। সরকার পর্যায়ক্রমে পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও আগাম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সংসদের একই অধিবেশনে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক পদগুলো খুব শিগগিরই পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

খায়রুল কবির খোকন তার প্রশ্নে জানতে চান, বর্তমানে দেশের ৩৪ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে কিনা এবং এই শূন্য পদগুলো কবে নাগাদ পূরণ হবে।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে। আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ায় এখন খুব দ্রুতই যোগ্য শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদগুলো পূরণ হয়ে যাবে।

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, আগের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী এখন থেকে ৮০ শতাংশ পদই পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। নতুন এই বিধিমালা তৈরির পর মামলাজনিত কারণে এতদিন পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এখন যেহেতু মামলার রায় চলে এসেছে, তাই সম্পূর্ণ নীতিমালা মেনে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে ৮০ শতাংশ পদেই দ্রুত পদোন্নতি দেওয়া হবে।




একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত সেই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে একজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিত ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন। তিনি বলেন, মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন। রায়ে সাইফুর রহমানকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের মো. তাহিদ মিয়ার ছেলে।

এ ছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অপর একটি ধারায় তাদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রবিউল হাসান ওরফে ইসলাম, মাহফুজ রহমান মাসুম, মো. আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল এবং মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার আগে বিচারক ৯১ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ পড়ে শোনান।

এর আগে গত ৮ জুলাই আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন নির্যাতিত তরুণী ও তার স্বামী, আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের এক অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববিবাহিত এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে কয়েকজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ডিএনএ পরীক্ষায় ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।




৩ দাবিতে চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নগরের ষোলশহর শিক্ষাবোর্ডের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

এসময় তারা দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি জানান।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের দাবি শুধু চট্টগ্রামের নয়, দেশের সব এইচএসসি পরীক্ষার্থীর স্বার্থে উত্থাপন করা হয়েছে। চলমান বন্যা, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ সংকটের কারণে অনেক জেলার শিক্ষার্থীর পক্ষে নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা স্থগিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব পরীক্ষার্থী ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে তার দায় শিক্ষার্থীর ওপর বর্তায় না।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে অনেকেই চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কোথাও হাঁটু কিংবা কোমরসমান পানি, কোথাও তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থীরা আরও বেশি সংকটে রয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন।

সমাবেশে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা পরীক্ষার বিরোধিতা করছি না। আমরা চাই দুর্যোগকালীন সময়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হোক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে পরীক্ষা নিলে অনেক শিক্ষার্থী অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, বন্যা, জলাবদ্ধতা কিংবা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে কোনো পরীক্ষার্থী যেন ভবিষ্যতে পিছিয়ে না পড়ে। দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরীক্ষা নেওয়াই যৌক্তিক হবে।

বিক্ষোভ মিছিলে ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভে শিক্ষামন্ত্রী মিলনের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

বিক্ষোভ শেষে দাবি পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।




এসকে ট্রিমসের লোকসান কমেছে ৩৮ শতাংশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫) শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) ৩৮ শতাংশ কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩৩ পয়সা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৩ পয়সা। সে হিসাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ২০ পয়সা বা প্রায় ৩৮ শতাংশ।

এদিকে, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৯৩ পয়সায়।

প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলের বিষয়ে কোম্পানিটি জানিয়েছে, উৎপাদন ব্যয় ও পরিচালন ব্যয় কমে যাওয়ায় কর-পরবর্তী নিট লোকসান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব শেয়ারপ্রতি লোকসানের ওপরও পড়েছে।

২০১৮ সালে শেয়ারবাজারে আসা এসকে ট্রিমসের ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও লোকসান হয়। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ৩৩ পয়সা লোকসান হয়।

উল্লেখ্য, ৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এসকে ট্রিমসে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সোমবার (১৩ জুলাই) লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৪০ পয়সায়।




ছয় বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ঢাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের ছয় বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৩ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সোমবার সকাল ১১টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) এবং অতি ভারী (১৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকা ও নগরীর স্বাভাবিক জনজীবনেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

সতর্কবার্তাটি আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক পরিচালকের পক্ষে স্বাক্ষর করে প্রকাশ করেন।




জনগণ পাশে থাকলে দেশ পুনর্গঠনে সরকার কোনো বাধাই মানবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকারের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

আজ সকালে গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নারীদের ডেকে জানতে চান, ‘আপনি ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন? এই কার্ড নিয়ে কী কী উপকার পেয়েছেন?’

এ সময় পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে গিয়ে বলেন, ‘এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। আমি আশা করি, আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী আমাদের এরকম সহযোগিতা করে যাবেন। বিপদে-আপদে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে ৬০০-এর মতো পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। আমি জানি, আরও অনেক পরিবার আছে, যারা এখনও কার্ড পায়নি। তবে আগামীতে তারাও পাবে। সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে সকল পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ মা-বোনদের কাছে শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে সংসারের কাজগুলো গুছানোর জন্য একটু হলেও তাদের সুবিধা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দেশের প্রত্যেক মা ও প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সকলের সাহায্য, সমর্থন ও সহযোগিতা বর্তমান সরকারের প্রয়োজন।’

বিএনপি সরকারকে পাশে থাকতে দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সকলে যদি সরকারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশেই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা সমাজে বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হব। ধীরে ধীরে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও তারা শক্তিশালী হবে।’

দেশের সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে ভালো থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সকল নাগরিক এবং সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। আমরা ধৈর্যশীল হলে এই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ধর্মের অনুসারীই হই, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সকল ধর্মের মানুষ মিলে শান্তিতে বসবাস করার। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ভেদাভেদ না করেই চলতে চাই। সবাইকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই আমরা।’

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি কথা বলে থাকি, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। এবার আরেকটি কথা বলতে চাই, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”। আগামী দিনে সবাই যাতে একটু ভালো থাকতে পারি, সবাই যাতে একটু ভালোভাবে চলতে পারি সেটিই হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি এবং আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।

এরপর প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি সেখানে ত্রিশ গোডাউনের বধ্যভূমি-সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।




সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেন তদন্তের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ তদন্ত পরিচালনা করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৩ জুলাই) বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।কমিশন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের আচরণ লক্ষ করেছে কমিশন। এর পরিপ্রক্ষিতে ডিএসইকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের জন্য বিএসইসি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত বা টার্মস অব রেফারেন্স নির্ধারণ করে দিয়েছে। এগুলো হলো সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে কোনো ধরনের সমন্বিত, কারসাজিমূলক বা কৃত্রিম লেনদেন হয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করা। পাশাপাশি অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ ইনসাইডার ট্রেডিং বা ভেতরের কেউ সুবিধা নিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে মার্জিন রুলস এবং কমিশনের অন্যান্য নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন সঠিকভাবে পরিপালন করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করেও দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার হাউজ ও তাদের প্রতিনিধিদের ভূমিকা বা দায়িত্ব নিরূপণ করা এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অন্য কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

 

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে গত ২২ জুন সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ছিল ৬৫ টাকা ৮০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটির দর ৭৯ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। শেয়ারদরের পাশাপাশি এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চিঠিতে বিএসইসি আরও উল্লেখ করেছে, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন রোধে ব্রোকার হাউজের প্রধান নির্বাহী, কমপ্লায়েন্স অফিসার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। তদন্তকাজে প্রয়োজনীয় লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করে ডিএসইকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকেও এ চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।




এনসিটি-সিসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। সংগঠনটির দাবি, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দেশের অন্যতম কৌশলগত এই দুটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ উদ্বেগজনক এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংসদে আলোচনা, বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা উচিত।

সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন।

নেতারা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চাইলেও দেশব্যাপী গণপ্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে তা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। কিন্তু বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনমতের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে শুধু এনসিটি নয়, সিসিটিও ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এতদিন আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। তবে এখন এনসিটির পাশাপাশি সিসিটিও ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের খবর জনমনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একটি নবনির্বাচিত সরকারের সামনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক কাজ থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ দুটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট একটি কৌশলগত অবকাঠামো। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল কয়েকজন মন্ত্রী বা আমলার অনুমোদনের বিষয় হতে পারে না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা, বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ এবং সর্বোপরি জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নেতারা অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দেশের কৌশলগত সম্পদ নিয়ে কোনো চুক্তি সম্পাদিত হলে দেশপ্রেমিক জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং ইতিহাসে এমন চুক্তি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, কমরেড মো. শাহ আলম, বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু, অ্যাডভোকেট মনিরুল আলম, অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, শ্রমিকনেতা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ অন্যান্য নেতারা।




কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ২শ’ মেগাওয়াট

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধিতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২শ’ মেগাওয়াট।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সোমবার বেলা ১১ টায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বাসস’কে বলেন, গতকাল রোববার পর্যন্ত লেকের পানি ১শ’ ফুট মিন সি লেভেল এর নীচে থাকলেও আজ সোমবার সকাল হতে লেকের পানি ১শ’ ফুট মিন সি লেভেল অতিক্রম করেছে। সেই সাথে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২শ’ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।

 

তিনি জানান, আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল ছিল ১০০.৬০ ফুট মিন সি লেভেল। যেখানে গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত পানির লেভেল ছিল ৯৯.১৫ ফুট মিন সি লেভেল।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২শ’ ৬ মেগাওয়াট। যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন।

এদিকে, কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বাসস’কে জানান, আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের ১ নং, ৩ নং, ৪ নং এবং ৫ নং ইউনিট হতে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে ১শ’ ৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নং ইউনিট হতে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ৫টি ইউনিট এর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই লেকে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রে উৎপাদন বেড়েছে। পানি সংকটের কারণে দীর্ঘ ৩ মাস ধরে সচল থাকার পরও কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট এক সাথে চালু করা সম্ভব হয়নি।

তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই লেকের পানি বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন আরও বাড়বে।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এসময় রুলকার্ভ অনুযায়ী লেকে পানি থাকার কথা ৯০ দশমিক ৩১ ফুট মীন সী লেভেল (এমএসএল)। বর্তমানে পানি আছে ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট এমএসএল। লেকে সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

উল্রেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ প্রকৃতির উপর নির্ভর। কাপ্তাই লেকে পানি বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট এক সাথে চালু থাকলে ২৩০ থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে।




সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।

সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।

একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।