জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে অর্থ পাচারের মতো গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার পূর্ণাঙ্গ কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা সুবিধা দিয়েছে। বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি এসব প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি মূল্যে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গ্যাস সংকট নিরসনে তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, এ উদ্যোগে কোরিয়ান, চাইনিজ ও আমেরিকান বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার গভীরতাসম্পন্ন একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাসের সুবিধাসংবলিত আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে একটি জ্বালানি হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন-এই দু’টি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতি কমবে।

একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠন এবং ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হংকং পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য একটি ডেডিকেটেড ইকুইটি ফান্ড গঠন করা হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ড খাতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে তা স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে এবং পরবর্তী সময়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক।

এ ছাড়া এফআইসিসিআইয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।




কলকাতায় হারানো ফোন চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করলো এপিবিএন

ভারতের কলকাতার টালিগঞ্জ এলাকার এক নাগরিকের হারানো মোবাইল ফোন চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। অন্যদিকে, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে অনলাইন প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উত্তরা এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নূরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এপিবিএন সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাওয়া বার্তার ভিত্তিতে তথ্য যাচাই ও সাইবার সহায়তার মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকের মোবাইল ফোন উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়। হারানো ফোনটি স্যামসাং মডেলের। এর মালিক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সৌরভ মন্ডল।

গত ৩১ আগস্ট ফোনটি হারিয়ে গেলে ভারতের টালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। পরে গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম শহর থেকে ফোনটি উদ্ধার করে এপিবিএন।

অন্যদিকে, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮৮ হাজার ৮৯০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অনলাইন প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এপিবিএনের এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রতারণা সংক্লান্ত ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করা হলে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এপিবিএনকে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ও ১৫টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি নূরুল ইসলাম বলেন, এপিবিএনের অভিযানে গত সেপ্টেম্বর মাসে নিখোঁজ ৬ শিশু উদ্ধার এবং ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকার সোনা ও ৮৬২ মোবাইলসহ বিপুল মালামাল জব্দ করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার ভিত্তিতে বিভিন্ন ইউনিটে মোট ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন, ৩টি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, ২টি হ্যাকড হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট, ৩টি হ্যাকড ই-মেইল অ্যাকাউন্ট এবং ১টি হ্যাকড টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ২ লাখ ২২ হাজার ২৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

সোনা উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৪.৩৪৪ কেজি সোনার বার-অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকা। এ সংক্রান্ত ২২টি মামলা দায়ের এবং ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ৪৪০ কেজি সামুদ্রিক কাঁকড়া, ৮ কেজি ৫০০ গ্রাম তামার উদ্ধার, কসমেটিকস ১০৬২ কেজি, এলইজি মনিটরসহ জিপিএস ট্রেকার-ফ্যান-সোলার প্যানেল ব্যাটারি ৩টি, কারেন্ট জাল ৭৫০ ফুট (১৫ কেজি), মোটর সাইকেল ৩টি, শাড়ি-থ্রি-পিস ২৭৭ পিস, খাদ্যদ্রব্য ৩০৯ কেজি, ফেব্রিক্স ২৬২ কেজি, মেডিসিন ২ কেজি, ইমিটেশন জুয়েলারি ১০ কেজি, চুরাই মালামাল বিক্রির টাকা উদ্ধার ৫২৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ৩২ হাজার ৫৬০ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ ৬ শিশু, ২২ জন ভিকটিম উদ্ধার, ১টি মামলা এবং এই ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অস্ত্র ও মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ১টি ওয়ান শুটার গান, ১ রাউন্ড গুলি এবং ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্তে ১টি মামলা ও ১ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ হাজার ৪৬৮ পিস ইয়াবা, ৬.০৫৮ কেজি গাঁজা, ১৭.২৫ লিটার মদ, ৬৭৩ কার্টন সিগারেট এবং মাদক বিক্রির ৫ হাজার ৩৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।




ফটিকছড়িতে পাঁচ বাসকে জরিমানা, ১০ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শব্দদূষণবিরোধী অভিযান চালিয়ে পাঁচ বাস থেকে ১০টি অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের ফটিকছড়ি উপজেলার গাউছিয়া মার্কেট ও আন্ডা মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। এতে সহযোগিতা করে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। প্রতিটি বাসকে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল।
বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধে এ অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় ১০টি হর্ন জব্দ করা হয়। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উচ্চ শব্দের হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার শব্দদূষণ বাড়ানোর পাশাপাশি পথচারী ও আশপাশের মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় অবৈধ হর্নের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।ৃ




নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না, স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এই সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।

কর্মকর্তাদেরও একইভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমি যখন যেখানে যাই, দেখতে থাকি কোথায় কী সমস্যা আছে। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষাট বা সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও ময়লা-আবর্জনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে।

তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই হয়তো বিদেশের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর দেখেছেন। দেশে ফিরে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, আমাদের শহরটা যদি এমন হতো! কিন্তু সেই আফসোস করে বসে থাকলে হবে না। নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ ব্যক্তি সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, শহরের পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বলেছেন, কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।

নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগরভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও চিত্রও দেখেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।




ব্যবসার লাইসেন্স অনলাইনে, মেয়াদ ৩-৫ বছর: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমানোর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহী করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন লাইসেন্স সেবা সম্পূর্ণ অনলাইনে পাওয়া এবং সেগুলোর মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন-পাঁচ বছর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ইআরএফ এর যৌথভাবে আয়োজিত ‌‌`Bangladesh’s LDC Graduation Trajectory: Critical Challenges and Exploring Policy Options’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, সহজ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া এবং বিরোধের স্বচ্ছ আইনি সমাধান প্রয়োজন। দেশে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং রপ্তানির জন্য বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার—দুটিই নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যবসা শুরুর দীর্ঘসূত্রতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব ও প্রাথমিক ছাড়পত্র নেওয়ার পর আমদানি নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে যন্ত্রপাতির ঋণপত্র খোলা পর্যন্ত গড়ে ৩৫৫ দিন লেগে যায়। এত সময় ব্যয় হলে উদ্যোক্তার উদ্যম ধরে রাখা কঠিন।
বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতি বদলাতে একক অনলাইন পোর্টাল থেকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও ফি পরিশোধ করে দেশ-বিদেশের যে কোনো স্থান থেকে লাইসেন্স নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাছে ফি পৌঁছে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) সেবা পুরোপুরি অনলাইনে আনা এবং বিভিন্ন লাইসেন্সের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের বদলে সমন্বিত পরিদর্শন চালুর কথাও বলেন তিনি।

এসব সংস্কারের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে লাইসেন্স ও অনুমতির জন্য উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় ব্যয়ের পরিস্থিতি থেকে বের করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

জ্বালানি সংকটকে নতুন বিনিয়োগের বড় বাধা উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরবরাহ বাড়াতে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাসকূপ খননে কাজ চলছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতেও সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এলএনজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুতব্যবস্থা না থাকায় আন্তর্জাতিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে বাংলাদেশ চাপে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য কৌশলগত মজুত ও সংরক্ষণসক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো, ব্যবসা সহজ করা এবং বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার তৈরির সমন্বিত লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএসএম মঈনুল হকের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মোস্তফা আবিদ খান।




প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার দুই দিন পর সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইশরাক। এ সময় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আমি ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে শপথ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছি। গত ২ দিন একটি বিষয় নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে। সেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে আজকের সংবাদ সম্মেলন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আজকের দিন হতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। তিনি সেই সুযোগ দিয়েছেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে। আমার কারণে যেন আপনার এবং সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়।

এর আগে গতকাল রাতে ইশরাকের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ-সংক্রান্ত তথ্যকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়।

গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর জেরে রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।




১ জানুয়ারির মধ্যে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন চান প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে ‘প্রাথমিক শিক্ষক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ’ আয়োজিত এক মতবিনিময় ও সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থসচিবের সভাপতিত্বে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের উপস্থিতিতে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিন দফা বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে, প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও এসব দাবির কোনোটি বাস্তবায়িত হয়নি। এতে শিক্ষকরা হতাশ।

তাদের দেওয়া ৩ দফা দাবিগুলো হলো- সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১৩তম বেতন গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের অর্থনৈতিক সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষকরা উদ্বিগ্ন।

বক্তব্যে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষকদের অবদান তুলে ধরে বলা হয়, ভবিষ্যতের আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আগামী বছরের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার সময়ের মধ্যে ১০ম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।




বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্যায়-অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং এসবকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে, জোর গলায় বলতে পারি, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পারছেন—এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

রাষ্ট্রপতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।

তিনি বলেন, এই দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব হয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।

রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে এটাকে ধ্বংস করা হয়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের হাতেই এই অপকর্ম হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এই রমনা কালী মন্দির পুনঃস্থাপিত হয় এবং তখন থেকেই এটাকে আবার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে সবসময় অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, অপপ্রচার করা হয়।

বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি পূজার সফলতা কামনা করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য।

অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিধান করিয়ে দেন।




জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।

তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে; সর্বোপরি চেইন অব কমান্ডের ওপর।’

তিনি বলেন, ‘একটি ইউনিটের পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি ওই ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’

জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়ত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রেজিমেন্টের বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পরদিন ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।’

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বাস্তবতায় দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও তারা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র্যাং ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

 

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের নারীরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে না পারায় অনেক নারী যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্তন ক্যান্সার শুধু নারীর শারীরিক স্বাস্থ্য নয়, তার মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, শুধু সভা-সেমিনার কিংবা টেলিভিশনে প্রচার চালিয়ে প্রকৃত সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান। বছরে অন্তত দুই-তিন দিন নিজের গ্রামে ফিরে যান। স্থানীয় নারীদের একত্র করে স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ এবং স্তন সম্পর্কে কীভাবে সচেতন থাকতে হয়, তা শেখান। এটি মানবতার সেবা এবং মহৎ কাজ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, একসময় দেশে সংক্রামক ব্যাধিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে তারা কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন।’

শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো সরকার ও সমাজের দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের অংশ। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে অতীতে যেসব ঘাটতি ছিল, তা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।’

তিনি এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগাযোগের অসুবিধা দূর করতে হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষা জানা ব্যক্তির ব্যবস্থা করার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একইভাবে প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সঠিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরিতে তাদের প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তারেক রহমান।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘গণপরিবহনে তাদের যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের জন্য পিংক বাসসেবা আরও উপযোগী করার পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশ ও চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি সাংবিধানিক বিবেচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশুবিষয়ক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতে অগ্রগতি হবে।

সরকার সর্বাত্মকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব সমস্যা অনুধাবন করে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে স্বাবলম্বী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

এ সময় মো. মহসিন নামের এক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ক্যাপ উপহার এনেছেন জানালে মঞ্চ থেকে নেমে এসে তা গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এ সময় বিদেশে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তার দলকে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত বক্তাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।




মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের দুর্ভোগ কমাবে ফ্যামিলি কার্ড: তিতুমীর

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী চাপে থাকলেও সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার পাশাপাশি নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আজ ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

 

ড. তিতুমীর বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার এসব চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ যতটা সম্ভব সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অতীতের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এ

ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় দুর্বলতা ছিল উপকারভোগী বাছাইয়ে ত্রুটি। যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা, তাদের অনেকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। অন্যদিকে, যাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা নয়, তারাও তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ডিজিটাল জনপরিকাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়।

তিনি বলেন, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে। সরকারের এসব কর্মসূচি কোনো কল্পনাপ্রসূত পরিকল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কারও জরুরি। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা। এ লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা কাজের ফলাফলের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে।

আইএমএফের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন পূর্বাভাসের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শর্ত ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সেই প্রেক্ষাপটেও দেখতে হবে। অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার সংস্কারের মাধ্যমে তা দূর করতে চায়।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তুলতে পারছেন। আমানত উত্তোলনের পাশাপাশি অনেকেই অর্থ জমা রাখছেন, যা আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাও আর্থিক খাতে পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সংকটের কারণে সৃষ্ট বাড়তি ব্যয়ের হিসাব করলেই অর্থনীতির ওপর এর পূর্ণ প্রভাব বোঝা যাবে না। কৃষকদের ওপর চাপ কমাতে ডিজেলের দাম না বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের ভূমিকা না থাকলেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরকার এর প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করছে।

তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করা।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, উন্নয়ন অর্থায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও আর্থিক খাতের সংস্কার সভার আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ সভা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন ও নিজস্ব অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।




দুদকে আবেদন : পূর্বাচলে গোলাম দস্তগীরের বিরুদ্ধে ৫০০ প্লট আত্মসাতের অভিযোগ 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে রূপগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ শতাধিক প্লট আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, তাদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ এবং বিদেশযাত্রা বন্ধের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা নিজেদের, পরিবারের সদস্যদের ও আত্মীয়স্বজনের নামে পূর্বাচল প্রকল্পের সরকারি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এতে প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের প্রাথমিক তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, তার এপিএস এমদাদুল হক দাদুল, আনছার আলী, সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান, ফেরদৌসী আলম নীলা, ইমন হাসান খোকন ও আরমান মোল্লার নাম রয়েছে।

আবেদনে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া প্লট বাতিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও পাসপোর্ট জব্দের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিদেশযাত্রা বন্ধের ব্যবস্থাও চাওয়া হয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে রূপগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের শত শত প্লট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন। এ বিষয়ে দুদকে আবেদন করা হয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভরসা হলো দুর্নীতি দমন কমিশন। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলো বাতিল করা হোক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ, বিদেশযাত্রা বন্ধ ও পাসপোর্ট জব্দ করার জন্যও আবেদন জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে যেসব প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলো উদ্ধার করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও এখনো প্লট না পাওয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর) আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, রূপগঞ্জে সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ শতাধিক প্লট নিজেদের ও অন্যদের নামে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে আসার পর তার নির্দেশনা ও পরামর্শে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে দুর্নীতি ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, তাদের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।




যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: এনবিআরের ২ কর্মী বরখাস্ত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে পৃথক পৃথক অফিস আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে।

তারা হলেন এনবিআরের কেন্দ্রীয় কর জরীপ অঞ্চলের অধীনে কর্মরত অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটে কর্মরত অফিস সহায়ক মো. নুর মোহাম্মদ।

গতকাল শুক্রবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেফতারের কথা বলা হয়। সেখানে এই দুইজন এনবিআরের কর্মী ছিলেন।

গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে।




ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে।’

শনিবার রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। এত মানুষের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা যখন কোনো কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজ করো, তখন খুব দ্রুত একটি জায়গা পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে এই কাজ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নিজেদের উদ্যোগেও কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।’

পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পরিবার ও তার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে সেই পরিবারের সদস্যদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ায়।

তিনি বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা করা কঠিন। তাই আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষকে সুস্থ রাখা। আর মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হচ্ছে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা।

তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, কর্মস্থল কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

রাস্তা, খাল, নদী ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ময়লা জমে পরিবেশ দূষিত হয় এবং রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

এ ক্ষেত্রে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে তাকে সহযোগিতা করবে, যাতে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। মনে রাখতে হবে, তোমরা শুধু নিজের জন্য নয়, সবার স্বার্থে কাজ করছো।’

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

বৃক্ষরোপণে নিজের অতীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন তোমাদের আমাকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। তোমরা আরও বেশি গাছ লাগাবে। ইনশাআল্লাহ, তোমরা পারবে।’

এ সময় সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের ইতিহাসও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একসময় আরাফাতের ময়দান ছিল প্রায় বৃক্ষশূন্য। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেখানে নিমগাছের চারা পাঠান। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সৌদি আরবের আবহাওয়ার উপযোগী হিসেবে নিমগাছ নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিমগাছের বিস্তার ঘটে। সেটি এখন ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।

পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের রাস্তাঘাটে খুব কম ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়। এর পেছনে শুধু পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নয়, বরং মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও পানির দূষণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ভবিষ্যৎ তোমাদের। এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন প্রমুখ।

ডেঙ্গু ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনে যান তিনি।




লাইসেন্স ছাড়া চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট, ঝুঁকিপূর্ণ বলে নোটিশ করেছিল ফায়ার

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল। রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সও ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

তিনি বলেন, গত জুনে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করে নোটিশ করেছিল ফায়ার সার্ভিস। এরপরও রিসোর্টটির অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আজ রিসোর্টটিতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহত হন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক’ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক বলেন, তিনতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ। সেখানে খাবার তৈরি করা হতো। দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের তদারকির আওতায় প্রয়োজনীয় সনদ ছিল না।

তিনি জানান, আজ সকালে সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থল থেকে নিকটতম ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। এরইমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রিসোর্টটির লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং সতর্ক করার পরও কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রিসোর্টটি চালাচ্ছিল না।

কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা এবং অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নোটিশের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

সামনে শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, এমন প্রশ্নে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে আগুনের কারণ নির্ধারণ করা সঠিক হবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে জানা যাবে।

নোটিশ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকা এবং সারা দেশে এ ধরনের রিসোর্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের করণীয় পর্যালোচনা করা হবে। বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পুরান ঢাকায় ঘনঘন অগ্নিকাণ্ড, অনুমোদনহীন কারখানা ও গুদাম এবং বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু রাস্তা ও ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকা। এসব কারণে অগ্নিনির্বাপণকারী যানবাহন ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা জরুরি। তবে পুরোনো বসতি ও স্থাপনাগুলোতে একসঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাস্তবিক অর্থেই কঠিন। এ জন্য সময় প্রয়োজন। নতুন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে চলতে বারবার সচেতন করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু রাস্তার এলাকায় দ্রুত পৌঁছানোর জন্য বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে হোস পাইপ নিয়ে গিয়ে আশপাশের ভবনের পানির রিজার্ভারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে আগুন নেভানো যায় কি না, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।




বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সংস্কার কার্যক্রম ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট। দুই সংস্থার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে আজ আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল গত কয়েক দিনে তথ্য আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। এসব আলোচনার ভিত্তিতে আজকের বৈঠকেও বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে, তা বিবেচনায় নিয়ে দেশের অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তবে ব্যাংকিং খাত, কর-জিডিপি অনুপাতসহ কিছু বিষয়ে সংস্থাটির যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেটা থাকা স্বাভাবিক। বাংলাদেশেরও কিছু বিষয়ে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয় সমাধান হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আগামী কয়েক মাস ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে পারে।

আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনা ভালো হয়েছে এবং তা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আলোচনা অব্যাহত রেখে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের পুনঃমূলধনীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগ্রহী।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে আমির খসরু বলেন, এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করা হবে।

কর্মসূচির শর্ত ও মতপার্থক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, শর্ত থাকবে। কোনো কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা ধৈর্য ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি বিশ্বাসযোগ্য কৌশল রয়েছে বলেই আলোচনা এত দূর এগিয়েছে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ অক্টোবর ব্যাংককে শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ সভা চলবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন।




পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই সঙ্গে দেশের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, কাজ তত সহজ হবে। পরিবেশ ও বন রক্ষায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার যেটা ডিউটি, তারচেয়ে কিন্তু একটু বেশি করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এদেশের জন্য, এদেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপর যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।

তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন চাইলে নিজের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান এসব তথ্য জানান।




দেশে অফশোর ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড চালু করল পূবালী ব্যাংক ও মাস্টারকার্ড

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন মাইলফলক হিসেবে দেশের প্রথম অফশোর ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড চালু করেছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি ও মাস্টারকার্ড।

পূবালী ব্যাংক মাস্টারকার্ড অফশোর ব্যাংকিং ওয়ার্ল্ড ডেবিট কার্ড-এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) ও বিদেশি নাগরিকেরা এখন তাদের অফশোর ব্যাংকিং হিসাবের অর্থ আরও সহজ, নিরাপদ ও সুবিধাজনকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে, অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় আন্তর্জাতিক লেনদেন, কেনাকাটা ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধাও পাবেন।

বাংলাদেশে অফশোর ব্যাংকিং সেবায় প্রথমবারের মতো এমন একটি আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড যুক্ত হওয়ায়, গ্রাহকেরা তাদের অফশোর হিসাবের অর্থ সরাসরি দৈনন্দিন আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে অফশোর ব্যাংকিং সেবা আরও ডিজিটাল, ব্যবহারবান্ধব ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের পরিবর্তিত আর্থিক চাহিদা পূরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

পূবালী ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে চালু করা হয়েছে ওয়ার্ল্ড মাস্টারকার্ড ডেবিট কার্ড। এটি মার্কিন ডলারসহ অন্যান্য অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রায় পরিচালিত অফশোর সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। কার্ডটি দিয়ে নিরাপদে অনলাইন কেনাকাটা, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনে পেমেন্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক লেনদেন করা যাবে।

কার্ডহোল্ডাররা আন্তর্জাতিক ভ্রমণেও বিশেষ সুবিধা পাবেন। মাস্টারকার্ডের ‘লাউঞ্জ কী’ প্রোগ্রামের আওতায় একজন অতিথিসহ বছরে তিনবার বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ব্যবহার করতে পারবেন।

এ ছাড়া ঢাকার বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জে একজন অতিথিসহ বছরে দুবার বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর লাউঞ্জে সারা বছর একজন অতিথিসহ বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।

কার্ডটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে আমরা অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছি। বাংলাদেশের প্রথম অফশোর ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড চালু হওয়া এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পূবালী ব্যাংক মাস্টারকার্ড, অফশোর ব্যাংকিং ওয়ার্ল্ড ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকেরা বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা, সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। এর ফলে, অফশোর ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব হবে।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, ভ্রমণ ও আর্থিক যোগাযোগ ক্রমেই আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে গ্রাহকেরাও এমন ব্যাংকিং সেবা চান, যার মাধ্যমে সহজে এক দেশ থেকে অন্য দেশে লেনদেন করা যায়। বাংলাদেশের প্রথম অফশোর ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড চালু করতে সহযোগিতা করা আরও সহজ, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার প্রতি মাস্টারকার্ডের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। মাস্টারকার্ডের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, আধুনিক প্রযুক্তি ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্ডহোল্ডাররা বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন, আরও সহজে তাদের অর্থ ব্যবহার ও পরিচালনা করতে পারবেন।

পূবালী ব্যাংক ও মাস্টারকার্ডের এই যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের অফশোর ব্যাংকিং সেবায় কার্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক লেনদেনের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য আধুনিক, সহজ ও বিশ্বব্যাপী ব্যবহারযোগ্য ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে নতুন মাত্রা যোগ হলো।




৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি

 

চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১-এ দ্বিতীয় উৎপাদন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৭ দশমিক ০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।

এ লক্ষ্যে বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকায় বেপজা কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) একটি ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড নামের নতুন প্রকল্পটি বেপজার প্রতি প্রতিষ্ঠানটির অব্যাহত আস্থা এবং বেপজার বিনিয়োগবান্ধব সেবা ও সহযোগিতার প্রতিফলন। নতুন এই কারখানায় ফুটওয়্যার এক্সেসরিজ, ব্যাগ ও লাগেজ কম্পোনেন্টস, পেপার প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্রিন্টেড ম্যাটেরিয়ালসসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্য তৈরি করা হবে, যেখানে প্রায় ২০০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ঝ্যাং ইউগিউ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন

কেপিএসটি বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ এ সাত হাজার ২০০ বর্গমিটার জমিতে কারখানা নির্মাণ করবে। নতুন কারখানাটি বার্ষিক ১১ মিলিয়ন জোড়া ফুটওয়্যার অ্যাক্সেসরিজ, ২৪ হাজার ঘনমিটার ফোম, ব্যাগ ও লাগেজ কম্পোনেন্টস, দুই লাখ পিস কাটিং বোর্ড এবং দুই লাখ ৫০ হাজার পিস কাটিং ডাইস/মোল্ড তৈরি করবে। এখানে উৎপাদিত পণ্য ভারত ও কম্বোডিয়ার জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী জুতা কারখানাগুলোতে সরবরাহ করা হবে।

একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কেপিএসটি স্যুজ (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ থেকে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করা প্রথম প্রতিষ্ঠান। তারা ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদন চালু করেছে। একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দ্বিতীয় প্রকল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বেপজার প্রতি বিনিয়োগকারীর আস্থার প্রতিফলন।

এ বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বেপজার ওপর অব্যাহত আস্থা রাখার জন্য কেপিএসটিকে ধন্যবাদ জানান।

কেপিএসটি নিউ ম্যাটেরিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ঝ্যাং ইউগিউ বলেন, ‘আমাদের প্রথম কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা ও ক্রয়াদেশ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা নতুন আরেকটি কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সার্বিক বিনিয়োগ পরিবেশ বিবেচনায় আমরা এ সম্প্রসারণের জন্য বেপজাকে বেছে নিয়েছি। আমরা আশাবাদী, এ নতুন উদ্যোগ আমাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে আরও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।’ তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনায় ধারাবাহিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বেপজাকে ধন্যবাদ জানান।

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে পরবর্তীতে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ নামে দুটি পৃথক জোনে বিভক্ত করা হয়। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১-এ ১৪টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে এবং ৩৩টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন। এ পর্যন্ত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ থেকে মোট রপ্তানি হয়েছে ৬৮ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য, মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৯৮ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কর্মসংস্থান হয়েছে চার হাজার ৪২৮ জন বাংলাদেশির।




সোনালী ব্যাংকের সব সেবা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে

কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের (সিবিএস) আপগ্রেডেশন কার্যক্রমের কারণে টানা দুই দিন বা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা। এ সময়ে ব্যাংকটির নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটবে। আগামী ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টা থেকে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) রাত ১১টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ব্যাংকটির কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের ডেটাবেজ সংস্করণ উন্নীত করার কাজ করা হবে। এ জন্য সফটওয়্যারের ডেটাবেজ সংস্করণ ‘ওরাকল ১১জি’ থেকে ‘ওরাকল ১৯সি’-তে উন্নীত করা হবে।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় আপগ্রেডেশন কার্যক্রম শুরু হবে। শনিবার রাত ১১টায় এ কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় ব্যাংকটির সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম ও সেবা বন্ধ থাকবে।

ফলে এ সময়ে ব্যাংকিং সেবা নিতে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। এ কারণে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাজ আগেই সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি : আয়াস ও রিমি রিমান্ড শেষে কারাগারে

শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি নষ্ট ও বিকৃত করার চেষ্টা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ধর্মীয় সম্প্রীতিতে আঘাতের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস ও মার্জিয়া খন্দকার রিমিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসান এ আদেশ দেন।

গত রোববার আয়াসের তিন দিনের ও রিমির দুই দিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড শেষে আজ তাদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।

আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে আরও গভীর ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে আসামিদের পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন সুমন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। এদিকে, জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীর মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় অবস্থান নেন। ছয় মিনিট পরে আবারও বিচারক এজলাসে ওঠে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গতকাল ১৩ অক্টোবর একই মামলায় গ্রেপ্তার সাকিব ও সুজন নামে দুই আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগার পাঠানো হয়।

গত শনিবার দুপুরে সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি বিকৃত ও নষ্ট করার চেষ্টাকালে এক নারীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক মামলা করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।




থাইল্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি সমুদ্রপথ চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ও থাইল্যান্ডের রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে দুই দেশ। এ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিটিপর্ন চিরাসাওয়াদির সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ জানান, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেই নয়, বরং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে সমুদ্রবন্দর ও নৌপরিবহন খাতের আধুনিকায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়িয়ে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমাতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম ও রানং বন্দরের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। পাশাপাশি বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কমিটি চান রাষ্ট্রপতি

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের মহাধ্যক্ষ শ্রীসদ্ধম্মসাসনধ্বজ বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ পরামর্শ দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে, যেন তারা কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে। এক্ষেত্রে সম্প্রদায়ের শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সব সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা গেলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া যথাযথভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা সহজ হবে।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। এসময় তারা আগামী নভেম্বরে কমলাপুরের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে অনুষ্ঠেয় কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়া, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পার্থ প্রতিম বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ-সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সচিব রণজিৎ কুমার বড়ুয়া, জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরামের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য দিলীপ কুমার বড়ুয়া, বাসাবো ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ সুমিত্তানন্দ ভিক্ষু (অনুপম বড়ুয়া) ও রীটন কান্তি বড়ুয়া (স্বরূপানন্দ ভিক্ষু)-সহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।




পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো এবং দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেল্লি। এসময় বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে এমওইউ স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিমান চলাচল, এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগ, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) সুবিধা উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইতালি সরকারের ঢাকা–রোম ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির আগ্রহের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইউরোপে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনায় নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের পরে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ইতালীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল হাব তৈরিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে ইতালির সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও উদ্বোধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোতে যাতায়াত আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ ‘রেড জোন’ গঠনের বিষয়টি উঠে আসে, যার উদ্দেশ্য হবে পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও উন্নত পর্যটন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশে ইতালীয় পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে পর্যটন বিনিময় সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। পর্যটন আকর্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে এ সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে মত প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিমান চলাচল, এভিয়েশন বিনিয়োগ এবং পর্যটন উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।




এলপিজি নিয়ে কারসাজি করলে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এ পণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কেউ যদি বাজার কারসাজি, বাজারব্যবস্থার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কোনো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন, সরকার তা কঠোর হাতে দমন করবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকার সহ্য করবে না উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কারণ, এলপিজির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত।

কবে নাগাদ এলপিজি সমস্যার সমাধান হবে, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলপিজি বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য নয়, এটি আমদানি নির্ভর। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা যেসব উৎস থেকে সাধারণত এলপিজি আমদানি করেন, সেসব অঞ্চলে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ কারণে আমদানিকারকদেরও বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি না হওয়া, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং আগামী বছরজুড়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশল প্রণয়ন করতেই আজকে বৈঠক হয়েছে।

এর সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের ধর্মঘটের হুমকির বিষয়টি যুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। বিইআরসির সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যকে কেন্দ্র করে দেশকে জিম্মি করার কোনো প্রচেষ্টা সরকার মেনে নেবে না বলেও এসময় সতর্ক করে দেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলার মাধ্যমে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। এলপিজি ডিলাররা তাদের কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরে এলপিজির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে সেই কৌশল বিস্তারিত জানানোর সময় এখনো আসেনি।

তিনি বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হতে পারে। লাভ-লোকসানের হিসাব কিংবা কমিশন কমবেশি হওয়া নিয়ে বিরোধও দেখা দিতে পারে। তবে এ ধরনের বাণিজ্যিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধৈর্যের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কথা শুনতে এবং তাদের সমস্যার সমাধানে প্রস্তুত রয়েছে।




টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে বিজিবি

গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, টঙ্গীর চেরাগ আলীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানায় আগুনে উদ্ধার সহায়তায় যোগ দিয়েছে বিজিবি।

এদিকে আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ও ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতায় যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম এক বার্তায় জানান, বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগার খবর পান তারা।

সর্বশেষ পাওয়া খবরে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট সেখানে গেছে। তারা আগুন নেভাতে কাজ করেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।




বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: তিতুমীর

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় (ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট)। এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে সরকার। এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব। তবে এ সংকট মোকাবিলা ও সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা জানান।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছে। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে এসব সহযোগিতার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সহযোগিতার বিষয়ে তিতুমীর বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ তেমন কিছু পায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দু’দেশের সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশিত। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষও একমত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ঋণ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, সহায়তার ধরন কিংবা পরিমাণ সম্পর্কে বৈঠক-পরবর্তী বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এদিকে, আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের তৃতীয় দিনে গ্লোবাল পলিসি এজেন্ডা প্রেস ব্রিফিংয়ে আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থাটির কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে সহায়তা তিন গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারির পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় সংকটের মুখে পড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি নতুন করে সংকট তৈরি করেছে জ্বালানির অনিশ্চয়তা। অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আগেই রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি।

এ ছাড়া জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সুনির্দিষ্ট ও সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইএমএফ প্রধান।




নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত ফেরাতে সৌদির সহযোগিতা চাইলো ঢাকা

সৌদি আরবে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে দেশটির সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাতে এ সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এ তথ্য জানান।

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও সংহতি প্রকাশ করে উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া আহত বাংলাদেশিদের যত্ন নেওয়ায় সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বাংলাদেশের সংহতি ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত।




জ্বালানি-খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-আলজেরিয়া

জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলজেরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ, কৃষি ও জাহাজ নির্মাণ খাতেও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি। এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার খাতেও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধশিল্প, কৃষি, জাহাজ নির্মাণ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

জবাবে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত জ্বালানি, ওষুধ, সার, জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক নৌপরিবহন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।




অনুমোদিত মাধ্যম ছাড়া ট্রেনের টিকিট কিনলে দায় নেবে না রেলওয়ে

বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট, অ্যাপ, ফেসবুক পেজ, ব্যক্তি বা তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে ট্রেনের টিকিট কিনে প্রতারণা বা আর্থিক ক্ষতির শিকার হলে এর দায়ভার নেবে না বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

রেলওয়ের পক্ষ থেকে যাত্রীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, টিকিট কিনতে হবে শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট (https://eticket.railway.gov.bd), ‘রেল সেবা’ অ্যাপ অথবা অনুমোদিত টিকিট কাউন্টার থেকে। অনুমোদিত মাধ্যমের বাইরে টিকিট কেনা বা কেনার চেষ্টা করতে গিয়ে কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতি, প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার কিংবা অ্যাকাউন্ট ব্লক হলে এর দায়ভার বাংলাদেশ রেলওয়ে বহন করবে না।

এ ছাড়া যাত্রীদের পাসওয়ার্ড, ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি), জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যসহ অন্যান্য গোপনীয় তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদে টিকিট কেনার জন্য যাত্রীদের সব সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত মাধ্যম ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।




ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মানুষ বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি এবং জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।




কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

বাংলাদেশের লবণাক্ত পানিকে সুপেয় পানিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

একই সঙ্গে, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএইর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী খাসিফ আবদুল্লাহ আলহামুদী-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

বৈঠকে দেশের ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের লবণাক্ত পানিকে সুপেয় পানিতে রূপান্তরের জন্য ইউএইর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ লক্ষ্যে কক্সবাজারে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বড় অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগ করা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা কঠিন। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এলে এবং বিনিয়োগের অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধের সুযোগ থাকলে তা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক হবে।

এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএইর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রী।

রাষ্ট্রদূত জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশটির শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।

এছাড়া, ইউএই থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা উন্নতমানের লাইমস্টোনের ওপর কর কমিয়ে আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইকোনমিস্ট অ্যানালিস্ট শাহমিনা ইশা মান্নান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




দুই বিষয়ে ফেল করলে ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসিতে সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে ব্যর্থতার এ ধারা দীর্ঘ না করে শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। একটি জেনারেশন থেকে শুরু করতে হবে, যেন পরবর্তীতে এই অবক্ষয় রোধ হয়। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী এবার চতুর্থ শ্রেণি থেকে কালচার, স্পোর্টস ও নৈতিকতা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা পাস করেছে তারা তো করেছেই, কিন্তু ঝরে পড়া ও ফেল করা শিক্ষার্থীদের আগে অ্যাড্রেস করতে হবে। তাদেরকে কীভাবে রিভাইটালাইজ বা পুনরুজ্জীবিত করতে পারি, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

এসএসসি পরীক্ষার নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এসএসসিতে আমরা যেটা করব, তা হচ্ছে সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে যারা ফেল করবে, ফলাফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে তাদের পরীক্ষা আবার নেব। ফেইলের এ লিগ্যাসি আমরা বছরের পর বছর টেনে নিয়ে যাব না। ১৫ দিনের মধ্যে নেওয়া পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে তারা সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকবে নাকি থাকবে না। সেখানে না পারলে তাদেরকে আমরা কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষায় নিয়ে যাব।

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. সরদার কেরামত আলী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনউদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নায়েমের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক এবং আরডিএ বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।




চামড়াশিল্পের সংকট কাটাতে আর সময় নষ্ট করতে চাই না : বিসিক চেয়ারম্যান

বিগত সরকারের আমলে দেশের চামড়াশিল্পের অধঃপতন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেছেন, সরকার চামড়াশিল্পকে আবার জাগিয়ে তুলতে চায়। এ খাতের সমস্যা সমাধানে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এখন আর সময় নষ্ট করতে চায় না বিসিক।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিসিক আয়োজিত জব অ্যান্ড ক্যারিয়ার ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, দেশে শিল্পায়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে বিসিক কাজ করছে। সারা দেশে সংস্থাটির ৮৪টি শিল্পনগরী রয়েছে। এসব শিল্পনগরীতে উদ্যোক্তাদের কারখানা স্থাপনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ বাড়াতে প্রতি মাসে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে বড় পরিসরে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে বেনজীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ একসময় কৃষিনির্ভর দেশ ছিল। ঘরে ঘরে কুটিরশিল্প গড়ে উঠেছিল। ১৯৫৭ সালে ইপসিক প্রতিষ্ঠিত হয়, যা স্বাধীনতার পর বিসিকে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিল্পায়নে ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, আগে দেশে কম দামের শ্রমিক ও গ্যাসের সুবিধা ছিল। এখন গ্যাসের সংকট রয়েছে। তাই নিজস্ব কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন এবং দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। বিসিকও দেশীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিসিক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ঢাকার চামড়া, প্লাস্টিক ও মুদ্রণশিল্পের কারখানাগুলো বিসিকের শিল্প পার্কে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম নগরকে আরও বাসযোগ্য ও যানজটমুক্ত করতে নগরের বিভিন্ন কারখানা পরিকল্পিত শিল্পনগরে স্থানান্তর করা যেতে পারে।

চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিসিক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখতে চায়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্টলে চাকরিপ্রার্থীরা জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগপত্রও পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, দেশে বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে বিসিকের এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিসিকও কাজ করছে। তরুণদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরিতে তিনি নিজ অবস্থান থেকে বিসিককে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বেলায়েত হোসেন বলেন, বিগত সরকারের আমলে একটি নান্দনিক শহর জলাবদ্ধতার শহরে পরিণত হয়েছে। আগ্রাবাদ এলাকায় ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেরও বড় অংশ হকারদের দখলে চলে গেছে। সড়কের দুই পাশে গাড়ি রাখার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যানজটের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। নগরের এসব সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পের বিকাশে সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় প্রয়োজন। বিসিকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও চাকরি মেলায় চিটাগং চেম্বার যুক্ত থাকতে চায়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনা করে। দেশের অর্থনীতিতে এ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বেকারত্ব বাড়তে থাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।

বিসিকের পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বিসিক একটি সুপ্রাচীন প্রতিষ্ঠান। দেশের শিল্পায়নে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎমিলা ফরিদ বলেন, জব ফেয়ার শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করছে। চাকরিপ্রার্থীরা এ আয়োজনের মাধ্যমে চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে জানতে পারছেন। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। মেলা থেকে পাওয়া মতামত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছানো গেলে পাঠ্যক্রম যুগোপযোগী করা এবং দক্ষতার ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

বিসিক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক খালেদ মাহমুদ বলেন, বিসিকের মূল কাজ উদ্যোক্তা তৈরি করা। এ মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের সাফল্য দেখে তরুণরা চাকরির পাশাপাশি নিজের উদ্যোগ গড়ে তোলার ব্যাপারেও উৎসাহিত হবেন। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলে আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক এস এম আলকাদেরী।




বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরে গুরুত্ব

ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ওমান বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওমানে কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এফবিসিসিআই ও ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ভার্চুয়াল বৈঠক এবং পরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ওমানের সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। এসব অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

এছাড়া ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের অবদানের প্রশংসা করেন ওমানের রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




চুয়েটের ভিসি নিয়োগ নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়ছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। চুয়েটের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইউএসটি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তিও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

চুয়েটে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলোও কর্মসূচি পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন।

শাহবাগে সমাবেশ ও মানববন্ধন

চুয়েটের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

বুয়েট ও আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংহতি

চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ১২ অক্টোবর দেওয়া বিবৃতিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।

এদিকে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে চুয়েটের চলমান পরিস্থিতি ও উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং স্বাধীন চিন্তা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ চর্চার ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

চুয়েটের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আসছেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিবৃতিতে বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা কেবল আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ওপর নির্ভর করে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের আস্থা অর্জনের ওপরও নির্ভরশীল। তারা চুয়েটের শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে নিয়োগ দেওয়া উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যানের অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বক্তব্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে স্বচ্ছ, যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিবাদ

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তালা ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক সরদার নাদিম মাহফুজ শুভ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক অসহযোগ

চুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলো। ১২ অক্টোবর চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

সংগঠনগুলোর দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে এবং চলমান সংকটের সমাধান করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

চুয়েটে অচলাবস্থা

এর আগে, ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

১২ অক্টোবর (সোমবার) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের ফটকে আবার তালা দেন। তারা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান নেন। মঙ্গলবারও উপাচার্যকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা। এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন ভিসি শরীফুল।




হুথি হামলার পর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৬০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল

শনি ও রোববার পর পর দু’দিন হুথি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আজ সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ৬০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কিরিয়ামের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে এ তথ্য। কিরিয়ামের তথ্য বলছে, রোববার হুথি-হামলার পর সেদিন নির্ধারিত (শিডিউলড) ফ্লাইটগুলোর ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাতিল করেছিল কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

সেই ধারাবাহিকতা মেনেই আজ সোমবার ৬০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুথিদের শনিবারের হামলায় নিহত হয়েছেন ১২ জন আহত হয়েছেন ৩ শতাধিক। রোববারের হামলায় নিহত হয়েছেন ১ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।

রোববার সৌদির দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা করেছে হুথি বাহিনী। তবে সেই হামলার জেরে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি সৌদির বেসামরিক বিমন চলাচল কর্তৃপক্ষ।

হুথি বিদ্রোহীরা অবশ্য এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে রিয়াদ ও দাম্মামে হামলার তথ্য স্বীকার করে হুথি গোষ্ঠীর শীর্ষ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী বলেছেন, “সামনের দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আরও কঠিন হামলা করা হবে। বিমান পরিষেবা সংস্থা সংস্থা, বিমানবন্দরের কর্মী এবং ভ্রমণকারীরা যেন ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে সতর্ক থাকেন।”

সূত্র : এএফপি, জিও নিউজ




মোংলা ইপিজেডে ১৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (মোংলা ইপিজেড) তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনে ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।

আজ ঢাকায় এ লক্ষ্যে বেপজা কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটির একটি ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।

বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান লি কিয়াংকিয়াং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চীনা প্রতিষ্ঠানটি মোংলা ইপিজেডে ১৬ হাজার ৪২৬ দশমিক ৩৭ বর্গমিটার জমিতে কারখানা স্থাপন করবে। কারখানাটিতে বছরে ৬০ লাখ পিস অন্তর্বাস ও ব্রা উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদিত পণ্যগুলো এয়ারি, ক্যালভিন ক্লেইন, জারা, ফ্লোরেন্স অ্যান্ড ফ্রেড (টেসকো), এএসওএস এবং প্রাইমার্কের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের জন্য রপ্তানির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে এইচঅ্যান্ডএম, ওয়ালমার্ট, এমঅ্যান্ডএস ও গ্যাপ।

প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, আলজেরিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, মেক্সিকো, ইরাক, জাপান ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা করছে।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ও বেপজার ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মসিহউদ্দিন বিন মেসবাহ, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজ, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) ফজলুল হক মজুমদারসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোংলা ইপিজেডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে এবং ১০টি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ইপিজেডটি থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এখানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭১ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং কর্মসংস্থান হয়েছে ১৬ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশির।